বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন

মোট প্রশ্ন৯২০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি ও সম্মেলন

PrepBank · পাতা / ১০ · ৪০১৫০০ / ৯২০

৪০১.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল লক্ষ্য কী ছিল?
  1. বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখা
  2. কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নিয়ে আসা
  3. জলাভূমি সংরক্ষণ করা
  4. বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখা
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে ১৯৫টি দেশ।

⇒ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম অর্থাৎ ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
৪০২.
বিশ্ব প্রাণী দিবস-
  1. ক) ৪ অক্টোবর
  2. খ) ২২ মে
  3. গ) ৫ জুন
  4. ঘ) ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
বিশ্ব প্রাণী দিবস ৪ অক্টোবর। বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দিবস ২২ মে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন। বিশ্ব আবহাওয়া দিবস ২৩ মার্চ।
৪০৩.
মন্ট্রিল প্রটোকল কোন বিষয়ে গৃহীত হয়েছে?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. ওজোনস্তর সংরক্ষণ
  3. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  4. সমুদ্র দূষণ
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪০৪.
২০২৫ সালের জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. পর্তুগাল
  2. ইতালি
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

২০২৫ সালের জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলন:
- ২০২৫ সালের জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলন ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

• এটি ছিল জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসাগর সম্মেলন।
- স্থান: নিস, ফ্রান্স (Port Lympia)।
- সময়: ৯–১৩ জুন, ২০২৫।
- আয়োজক দেশ: ফ্রান্স ও কোস্টারিকা।
- মূল সিদ্ধান্ত: Nice Ocean Action Plan /মহাসাগর সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের রূপরেখা।
- সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ (SDG-14) বাস্তবায়নে সহায়তা করা যা মহাসাগর, সাগর এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারের জোড় দেয়।
- সম্মেলনে বিশ্বের ১৭৫টি দেশ অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৭৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৪০৫.
কপ-২১ সম্মেলনে কোন বিখ্যাত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. Rio Declaration
  2. Kyoto Protocol
  3. Paris Agreement
  4. Montreal Protocol
ব্যাখ্যা

কপ-২১ সম্মেলনে Paris Agreement স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement):
- প্যারিস চুক্তি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

⇒ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে। 
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পর পর তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। প্যারিস চুক্তির অধীনে, দেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন করে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জমা দেয়।

⇒ চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

৪০৬.
মন্ট্রিল প্রটোকল-এর কিগালী সংশোধনের আওতায় কোন গ্যাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂)
  2. হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)
  3. নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O)
  4. মিথেন (CH₄)
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাসের প্রভাবে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে এই ওজোন স্তর। যার ফলে তৈরি হচ্ছে ওজোন হোল বা গর্ত। প্রায় সকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (ওডিএস) ই অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য ও এর বিকল্পসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ গ্যাসগুলো সাধারণতঃ রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমে, এ্যাজমা চিকিৎসায় উৎপাদিত ইনহেলারে, ফ্যান, প্লাস্টিক ফোম তৈরি ও মাইক্রোইলেকট্রিক সার্কিট পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য ওজোনস্তর রক্ষায় কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

⇒ কিগালি সংশোধনী:
- কিগালি সংশোধনী গৃহীত হয়: ১৫ অক্টোবর, ২০১৬। 
- কিগালি সংশোধনী কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ২০১৯।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত হয়ছিল।
- এর লক্ষ্য হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার কমিয়ে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমানো এবং পৃথিবীকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে HFCs এর উৎপাদন এবং ব্যবহার ৮০%-৮৫% কমিয়ে আনবে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

৪০৭.
বিপদজনক বর্জ্য দেশের সীমান্তের বাইরে চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন কোনটি?
  1. কিয়োেটা প্রটোকল
  2. ভিয়েনা কনভেনশন
  3. বাসেল কনভেনশন
  4. মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা
বাসেল কনভেনশন:
- 'বাসেল কনভেনশন' হলো বিপদজনক বর্জ্য দেশের সীমান্তের বাইরে চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন।
- বাসেল কনভেনশনের পুরো নাম- The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- বাসেল কনভেনশন গৃহীত হয় ২২ মার্চ, ১৯৮৯ সালে।
- এটি গৃহীত হয় সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে।
- 'বাসেল কনভেনশন'-এর কার্যক্রম শুরু হয় ৫ মে, ১৯৯২ সালে।
- বাংলাদেশকে 'বাসেল কনভেনশন' অনুমোদন করে ১৯৯৩ সালে।

তথ্যসূত্র - বাসেল কনভেনশন ওয়েবসাইট।
৪০৮.
'টেকসই উন্নয়ন' ধারণার সাথে নিম্নের কোনটি সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) Reparation Commission
  2. খ) Brundtland's Commission
  3. গ) Palgrave Commission
  4. ঘ) Global Ocean Commission
ব্যাখ্যা
- Sustainable Development এর 'Sustainability' শব্দ দিয়ে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে। 
- মূলত ১৯৭০ এবং ১৯৮০ এর দশকে ‘Sustainability' শব্দটির প্রচলন ঘটে। 
- পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মেলন যেমন- মানব পরিবেশ সম্পর্কিত জাতিসংঘের সম্মেলন (১৯৭২), পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্পর্কিত কমিশন (১৯৮৭), পরিবেশ ও উন্নয়ন শীর্ষক সম্মেলন (১৯৯২), পরিবেশ ও উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশন (১৯৯৭), এবং বিশ্ব পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলন (২০০২) ইত্যাদির মাধ্যমে Sustainable Development ধারণার অবস্থান পোক্ত হয়। 
- Brundtland's Commission কার্যকরণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
-  এই কমিশনের লক্ষ্য ছিল:
ক) পরিবেশ এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত জটিল বিষয়গুলি বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রদান করা এবং
খ) গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যাতে ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী, সংস্থা, ব্যবসা, এবং সরকারগুলি আরও নিবিড়ভাবে কাজ করে ।
 
উৎস: বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪০৯.
প্রথম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-১) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. জার্মানির বার্লিনে 
  2. ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে 
  3. দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে
  4. সুইডেনের স্টকহোমে
ব্যাখ্যা

কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

⇒ প্রথম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-১):
- প্রথম কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিন শহরে।
- ১৯৯৫ সালের ২ মার্চ - ৭ এপ্রিল জার্মানির বার্লিনে প্রথম কপ-১ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ওই সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

এছাড়াও,
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- কপ- ৩০ (COP-30) সম্মেলন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেম ডো প্যারাকে অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৪১০.
২০২৫ সালের কপ-৩০ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. মিশর 
  2. কেনিয়া
  3. ব্রাজিল
  4. আজারবাইজান
ব্যাখ্যা

- ২০২৫ সালের কপ-৩০, ব্রাজিল আয়োজন করবে। 

COP:
- COP এর পূর্ণরূপ হলো Conference of the Parties.
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে এবং
- ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- 'কপ-২৯' আগামীতে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হয়।
- ২০২৫ সালের কপ-৩০, ব্রাজিল আয়োজন করবে এবং আমাজনীয়ান শহর বেলেম ডো প্যারাকে কপ-৩০ সম্মেলনের জন্য নির্বাচন করেছে জাতিসংঘ।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং সময়নিউজ, ব্রাজিলের সরকারি ওয়েবসাইট।

৪১১.
ঝুকিপূর্ণ বর্জ্যের আন্ত:রাষ্ট্রীয় চলাচল ও অপসারণ উদ্দেশ্য নিচের কোন সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. রামসার কনভেনশন
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. কার্টাগোনা প্রটোকল
  4. কিয়োটো প্রটোকল
ব্যাখ্যা
• বাসেল কনভেনশন (Basel Convention): 
- বাসেল কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি ।
- যা বিপজ্জনক বর্জ্য (hazardous waste) এবং অন্যান্য ধরনের বর্জ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে,
- বিশেষ করে উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে, স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সম্পূর্ণ নাম: Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and Their Disposal
- চুক্তি তারিখ: ২২ মার্চ ১৯৮৯।
- কার্যকর হয়: ৫ মে ১৯৯২।
- স্থান: বাসেল, সুইজারল্যান্ড ।

• উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালে বাসেল কনভেনশনে যোগ দেয়।
- এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি প্রতিশ্রুতিশীল অবস্থান গ্রহণ করে।

উৎস: Basel Convention ওয়েবসাইট।
 
৪১২.
সম্প্রতি ব্রাজিলের বেলেম শহরে কততম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ২৯তম
  2. ৩০তম
  3. ৩১তম
  4. ৩৩তম
ব্যাখ্যা

৩০তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-30):
- সম্প্রতি ব্রাজিলের বেলেম শহরে ৩০তম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

⇒ কপ- ৩০ জলবায়ু সম্মেলন ১০ - ২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ব্রাজিলের আমাজনের রেইনফরেস্ট এলাকায় বেলেমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
-  কপ৩০-এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ রোধ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিদ্যমান কাঠামোকে শক্তিশালী করা।
- এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছেন ব্রাজিলীয় কূটনীতিক আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো।
- জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখা না থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তহবিল বাড়ানোর ঘোষণা কপ৩০–এর সবচেয়ে বড় অর্জন। জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা ধনী দেশগুলোকে ২০৩৫ সালের মধ্যে তিন গুণ বাড়াতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৪১৩.
IPCC-এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. International Panel on Climate Change
  2. Intergovernmental Panel on Climate Change
  3. International Programme on Climate Change
  4. Intercontinental Panel on Climate Change
ব্যাখ্যা

IPCC: 
- IPCC এর পূর্ণরূপ: Intergovernmental Panel on Climate Change.
- এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৮৮ সালে।
- ধরন: জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল।
- WMO (World Meteorological Organization) ও UNEP (United Nations Environment Programme)-এর সম্মিলিত উদ্যোগে IPCC গঠিত হয়।
- এই সংস্থাটি (আইপিসিসি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক চুক্তির শক্তি চিহ্নিত করে এবং নিজস্ব গবেষণা পরিচালনা করে না।
- বিশেষ সম্মাননা: ২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ।
- উদ্দেশ্য: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, এর প্রভাব ও সমাধান নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন তৈরি ও নীতি নির্ধারণে সরকারগুলোর সহায়তা।

উৎস: IPCC ওয়েবসাইট।

৪১৪.
ভূমির বিনিময়ে চুক্তি বলা হয় কোন চুক্তিকে?
  1. ক) উই রিভার চুক্তি
  2. খ) অসলো চুক্তি
  3. গ) ভিয়েনা চুক্তি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
উই রিভার চুক্তি, ১৯৯৮:
- উই রিভার চুক্তিকে বলা হচ্ছে ভূমির বিনিময়ে চুক্তি।
- ১৯৯৮ সালে দীর্ঘ ১৯ মাসের অচলাবস্থার অবসান করে ওয়াশিংটনের অদূরে একটি স্থানে ওই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্দানের প্রয়াত বাদশা হোসেনও ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

• চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে—
(১) ইসরাইল অধিকৃত আরব এলাকা পশ্চিম তীরের ১৩ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের হাতে অর্পণ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মাঝে ৩ শতাংশ এলাকা ‘সবুজ বেষ্টনী' অথবা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করবে। ওই সবুজ বেষ্টনীতে বসবাসকারী ইসরাইলিদের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়টি ইসরাইল কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত থাকবে;
(২) সন্ত্রাস দমনের ব্যপারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে এবং নিজ নিজ বিচারব্যবস্থা অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের বিচার করা হবে এবং ইহুদি ও ফিলিস্তিনিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি দুই সপ্তাহ অন্তর সন্ত্রাস দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবে;
(৩) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সকল প্রকার সহিংসতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি ডিগ্রি জারি করবে;
(৪) 'নিরাপত্তা সহযোগিতা' প্রশ্নে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষক বিনিময়সহ অব্যাহতভাবে উভয়পক্ষ ব্যাপক দ্বি-পাক্ষিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
৪১৫.
APEC সদরদপ্তর অবস্থিত-
  1. ক) টোকিও
  2. খ) ব্যাংকক
  3. গ) সিঙ্গাপুর সিটি
  4. ঘ) সিডনী
ব্যাখ্যা
APEC (Asia Pacific Economic Co-operation) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বাণিজ্য জোট। এটি ১৯৮৯ সালের ৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদরদপ্তর সিঙ্গাপুর সিটিতে অবস্থিত। এর সদস্য ২১ টি। এপেকের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ৬-৭ নভেম্বর ১৯৮৯। সর্বশেষ সম্মেলন ২০১৯ সালে চিলির সান্তিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত হয়। (সূত্রঃ এপেক ওয়েবসাইট)
৪১৬.
Green Climate Fund এর প্রধান কার্যালয় কোন শহরে অবস্থিত?
  1. ক) জেনেভা
  2. খ) বন
  3. গ) ইনচেন
  4. ঘ) লুক্সেমবার্গ
ব্যাখ্যা
UNFCCC এর উদ্যোগে ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে Green Climate Fund গঠিত হয়।
এর প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন শহরে অবস্থিত।
এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া উন্নয়নশীল বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশের জন্যেও GCF ফান্ড থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
উন্নত দেশসমূহ এ ফান্ডে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।
(সূত্রঃ Green Climate Fund ওয়েবসাইট)
৪১৭.
Kigali Amendment পরিবেশ বিষয়ক কোন চুক্তির অংশ?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. কার্টাগেনা প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল
  4. রামসার কনভেনশন
ব্যাখ্যা

Kigali Amendment (কিগালি সংশোধনী):
- Kigali Amendment পরিবেশ বিষয়ক মন্ট্রিল প্রটোকলের অংশ।

• এটি একটি আন্তর্জাতিক সংশোধনী যা রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত হয়ছিল।
- কিগালি সংশোধনী গৃহীত হয়: ১৫ অক্টোবর, ২০১৬। 
- কিগালি সংশোধনী কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ২০১৯।
- এর লক্ষ্য হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার কমিয়ে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমানো এবং পৃথিবীকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে HFCs এর উৎপাদন এবং ব্যবহার ৮০%-৮৫% কমিয়ে আনবে।

উল্লেখ্য,
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হলো ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।

৪১৮.
জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. জার্মানি
  2. সুইডেন
  3. ডেনমার্ক
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলন বা স্টকহোম সম্মেলন:
- পুর্ণ নাম- United Nations Conference on the Human Environment.
- এটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
- সম্মেলনের সময়কাল: ৫-১৬ জুন, ১৯৭২।
- স্থান: স্টকহোম, সুইডেন।
- অন্য নাম: স্টকহোম সম্মেলন।
- মূল উদ্যোগ: পরিবেশ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ নীতি স্থাপন।
- এতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের সূচনা হয়েছিল।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৪১৯.
কিয়োটো প্রটোকল এর বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. কূটনৈতিক নিরাপত্তা
  2. ওজোন স্তর রক্ষা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রোটোকল: 
- গ্রহণের সময়: ডিসেম্বর ১৯৯৭,
- স্থান: জাপানের কিয়োটো শহরে।
- লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখা গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো।
- কার্যকর: ২০০৫ সাল থেকে।
- এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চুক্তি হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল।
- তবে অনেক সমালোচক এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
- কিয়োটো প্রোটোকল পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়, যা পরবর্তী জলবায়ু চুক্তিগুলোর জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
- মূল লক্ষ্য ছিল ৪১টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ৫.২ শতাংশ কমানো।

৬টি গ্যাস:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)
- মিথেন (CH₄)
- নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O)
- হাইড্রোফ্লোরোকার্বনস (HFCs)
- পারফ্লোরোকার্বনস (PFCs)
- সালফার হেক্সাফ্লোরাইড (SF₆)

উৎস: Britannica.
৪২০.
২০২৩ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলন (CoP)- এর কততম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ২৯তম
  2. ২৬তম
  3. ২৭তম
  4. ২৮তম
ব্যাখ্যা
COP- Conferences of the Parties.
- ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) এর উদ্যোগে Conference of Parties (CoP) বা জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- COP সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন UNFCC এর দেশগুলো।
- প্রথম COP সম্মেলন হয় ২৮ মার্চ - ৭ এপ্রিল, ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিনে।
- সর্বশেষ COP অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালে। এটি ছিল ২৮তম সম্মেলন।

 COP- ২৮
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
-
৩০ নভেম্বর শুরু হওয়া এবারের সম্মেলনের শেষ দিন ছিল ১২ ডিসেম্বর। কিন্তু সবগুলো দেশ চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা একদিন বাড়িয়ে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
- এই সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের প্রায় ৭০ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
- এই সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় ।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট, প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪২১.
স্টকহোম ঘোষণাপত্রে মোট কতটি নীতি অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ২০টি
  2. ২৪টি
  3. ২৫টি
  4. ২৬টি 
ব্যাখ্যা

• পরিবেশ বিষয়ক প্রথম বিশ্ব সম্মেলন:
- ১৯৭২ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের মানব পরিবেশ বিষয়ক প্রথম বিশ্ব সম্মেলন।
- অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কয়েকটি নীতি গ্রহণ করে, যার মধ্যে রয়েছে স্টকহোম ঘোষণাপত্র এবং মানব পরিবেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা এবং বেশ কয়েকটি প্রস্তাব।

- স্টকহোম ঘোষণাপত্র, যার মধ্যে ২৬টি নীতি ছিল, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের শীর্ষে পরিবেশগত বিষয়গুলিকে স্থান দেয়।
- এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বায়ু, জল এবং মহাসাগরের দূষণ এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণের মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে শিল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে একটি সংলাপের সূচনা করে।

- কর্মপরিকল্পনাটিতে তিনটি প্রধান বিভাগ ছিল:
ক) বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত মূল্যায়ন কর্মসূচি (পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা);
খ) পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম;
(গ) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।

- স্টকহোম-১৯৭২ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) তৈরি করা।

উৎস: United Nations website.

৪২২.
Where will the 28th sesssion of the Conference of the Parties (COP-28) take place?
  1. Australia
  2. The United Arab Emirates
  3. Mexico
  4. Qatar
ব্যাখ্যা
 কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৩ সালের নভেম্বরে এক্সপো সিটি দুবাইতে ২০২৩ সালের UN ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (COP-28) ২৮তম সম্মেলনের আয়োজন করবে।

অন্যদিকে -
- কপ - ২৯ আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হবে।
- কপ -১৬ মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- কপ - ১৮ কাতারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

 উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪২৩.
কানাডার মন্ট্রিল শহরে নিম্নের কোন পরিবেশ বিষয়ক চুক্তি অনুমোদন হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. রামসার কনভেনশন
  4. কার্টাগেনা প্রটোকল
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol)
কার্টাগেনা প্রোটকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity।
- জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- ১৩৫টি দেশ কর্তৃক চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদন হয় কানাডার মন্ট্রিলে।

এক নজরে কার্টাগেনা প্রটোকল:
চুক্তি অনুমোদন -- ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল
চুক্তি কার্যকর -- ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল
চুক্তির পক্ষ -- স্বাক্ষরকারী - ১০৩টি
অনুমোদনকারী -- ১৭৩টি

বাংলাদেশ ও কার্টাগেনা প্রটোকল:
চুক্তি স্বাক্ষর -- ২৪ মে, ২০০০ সাল
চুক্তি অনুমোদন -- ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সাল
চুক্তি কার্যকর -- ৫ মে, ২০০৪ সাল

উৎস: কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট
৪২৪.
স্টকহোম কনভেনশন (২০০১) মূলত কোন ধরনের দূষণকারীর সাথে সম্পর্কিত?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. স্থায়ী জৈব দূষণকারী (POPs)
  4. প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা

• স্টকহোম কনভেনশন:
- লক্ষ্য: এই আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী জৈব দূষণকারী বা Persistent Organic Pollutants (POPs) থেকে মানবস্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে রক্ষা করা।
- স্বাক্ষর: এটি ২০০১ সালে সুইডেনের স্টকহোমে গৃহীত হয় এবং ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর হয়।
- POPs : এমন কিছু ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে দীর্ঘকাল টিকে থাকে, বাতাসের মাধ্যমে বহুদূর ছড়িয়ে যেতে পারে এবং জীবদেহের চর্বিতে জমা হয়ে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি (যেমন ক্যান্সার বা প্রজনন সমস্যা) করে।
- ডার্টি ডজন (Dirty Dozen): শুরুতে ১২টি ক্ষতিকারক রাসায়নিককে (যেমন- ডিডিটি, পিসিবি) এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

উৎস: স্টকহোম কনভেনশন ওয়েবসাইট।

৪২৫.
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ কোন শহরে অনুষ্ঠিত হবে? 
  1. ইস্তানবুল
  2. আঙ্কারা
  3. অ্যান্টালিয়া
  4. ইজমির
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১:
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।
- তুরস্কের পর্যটননগরী অ্যান্টালিয়া কপ-৩১-এর আয়োজক শহর হবে এবং তুরস্কই আনুষ্ঠানিকভাবে কপ-৩১-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।
- অস্ট্রেলিয়া চাইছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অ্যাডিলেডে সম্মেলন আয়োজন করতে। 
- অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে এ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তুরস্ক এ দায়িত্ব পেয়েছে।
- ব্রাজিলে আয়োজিত কপ৩০-এ সমঝোতার মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- সমঝোতা অনুযায়ী প্রাক-কপ একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে হবে।
- মূল সম্মেলন হবে তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে। সভাপতি থাকবেন ক্রিস বোয়েন। 

উল্লেখ্য,
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the parties. 
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  
- ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর আয়োজন করেছে ব্রাজিল।

তথ্যসূত্র: UN-Habitat অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বনিক বার্তা।

৪২৬.
রামসার কনভেনশন (১৯৭১)-উদ্দেশ্য হলো-
  1. জলাভূমি সংরক্ষণ
  2. পানিসম্পদ রক্ষা
  3. মরুভূমি সংরক্ষণ
  4. পরিবেশ দূষণ রোধ
ব্যাখ্যা
• রামসার কনভেনশন (১৯৭১):
- পূর্ণনাম Ramsar Convention on Wetlands.
- এই কনভেনশনটি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে গৃহীত হয় এবং ১৯৭৫ সালে কার্যকর হয়।
- তারপর থেকে, বিশ্বের সমস্ত ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে প্রায় ৯০% জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র "চুক্তিকারী পক্ষ" হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

• এর উদ্দেশ্য:
- আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণ করা।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি (Wetlands) তালিকাভুক্ত করতে বলা হয়, যা রামসার সাইট নামে পরিচিত।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৭৩টি দেশ (২০২৪ সাল পর্যন্ত)।
- ২রা এপ্রিল ২০২৫ তারিখে, সৌদি আরব ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের কাছে কনভেনশনে তাদের যোগদানের দলিল জমা দেয়।
- এই কনভেনশনটি দেশের জন্য ২রা আগস্ট ২০২৫ তারিখে কার্যকর হবে, যা এটিকে জলাভূমি সংরক্ষণ এবং বিজ্ঞতার সাথে ব্যবহারের জন্য নিবেদিত চুক্তির ১৭৩তম চুক্তিকারী পক্ষ করে তুলবে।

উৎস: Ramsar Convention Official Website.
৪২৭.
গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট:
- গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট কেনিয়ার নাইরোবি ভিত্তিক একটি পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলন।
- এর মাধ্যমে গ্রাম্য অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
- শুরুর হয়: ১৯৭৭ সালে।
- শুরুর স্থান নাইরোবি, কেনিয়া।
- গ্রিন বেল্ট মুভমেন্টের উদ্যোক্তা ছিলেন প্রফেসর ওয়াঙ্গেরি মাথাই।
- প্রফেসর ওয়াঙ্গেরি মাথাই কেনিয়ার নাগরিক।
- তিনি ২০০৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ২০০৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট ওয়েবসাইট।

৪২৮.
প্রথম বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. রিও ডি জেনিরো
  2. জোহান্সবার্গ
  3. রোম
  4. জেনেভা
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়- রিও ডি জেনিরোতে।

Earth Summit:

- ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে ১৯৯২ সালের ৩ - ১৪ জুন প্রথম পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
- এটি রিও সামিট, রিও-কনফারেন্স বা ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।
- এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন (Climate Change Convention) বিষয়ক চুক্তি হয় যা পরবর্তীতে কিয়েটো প্রোটকল (Kyoto-Protocol) নামে পরিচিত হয়।
- এর উল্লেখযোগ্য একটি নীতি হচ্ছে Polluter pays principle.
- ধরিত্রী সম্মেলনের ফলাফল: পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক রিও ঘোষণা ও এজেন্ডা ২১। 

উল্লেখ্য,
- এই বিশ্বব্যাপী সম্মেলনে ১৭৯টি দেশের রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, বিজ্ঞানী, মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) একত্রিত হয়েছিল।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৪২৯.
বিশ্বের কোন দেশে সাগরতলে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. জাপানে
  2. মালদ্বীপে
  3. শ্রীলঙ্কায়
  4. আইসল্যান্ডে
ব্যাখ্যা
- জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে এক অভিনব কাজ করেছে মালদ্বীপের সরকার।
- ২০০৯ সালের ১৭ অক্টোবর মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মােহাম্মদ নাশিদের সভাপতিত্বে তার দেশের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক সাগরতলে অনুষ্ঠিত হয়।
- বৈঠকের সময় তারা হাতের ইশারায় কথা বলেন এবং পরে জলের উপরিভাগে উঠে এসে দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- ২১০০ সালের মধ্যেই মালদ্বীপের দ্বীপগুলাে সাগরগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে ঐ অভিনব বৈঠকের আয়ােজন করেছিল।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।
৪৩০.
'মন্ট্রিল প্রটোকল' এর বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. ওজোন স্তরের সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক
  2. জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত
  3. টেকসই বন ব্যবস্থাপনা
  4. জলাভূমি সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৩১.
বেলেম সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর জলবায়ু রক্ষায় কত ডলার অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে? 
  1. ১ ট্রিলিয়ন ডলার
  2. ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার
  3. ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার
  4. ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

• COP:
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the Parties.
- জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের রূপরেখা।
- COP সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন UNFCCC এর দেশগুলো।
- COP-28 অনুষ্ঠিত হয় ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এ ।
- সর্বশেষ COP-29 অনুষ্ঠিত হয় আজারবাইজানের বাকু তে ১১ নভেম্বর - ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ।
- COP-30 অনুষ্ঠিত হয়েছে বেলেম, ব্রাজিল(১০-২১ নভেম্বর, ২০২৫ সাল)।
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।

• জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর অর্জন ও লক্ষ্যমাত্রা:
- বৃহৎ অর্থায়ন: জলবায়ু রক্ষায় ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জোগাড় করা।
- অভিযোজন খাতে সহায়তা: জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য অর্থায়ন ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তিনগুণ করা।
- ক্ষয়ক্ষতি তহবিল: জলবায়ুজনিত ক্ষতি ও ক্ষয় মোকাবিলার তহবিল কার্যকর করা এবং নিয়মিত নতুন অর্থ যোগ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- নতুন উদ্যোগ: জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নে গতি আনতে Global Implementation Accelerator এবং Belém Mission to 1.5°C নামে নতুন উদ্যোগ শুরু করা।
- জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্যগত ভুল:  তথ্যের অখণ্ডতা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু বিষয়ক ভ্রান্ত তথ্যের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার।
- Belém Gender Action Plan গৃহীত: জলবায়ু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
- Tropical Forests Forever Fund: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, ৫৩টি দেশ এতে যুক্ত হয়েছে, এবং মোট তহবিলের ২০ শতাংশেরও বেশি সরাসরি আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটির জন্য বরাদ্দ।


তথ্যসূত্র:
i) UN News. 
ii) UNFCCC website.

৪৩২.
কিয়োটো প্রটোকল কোন বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি?
  1. বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস
  2. পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ
  3. সমুদ্র নিরাপত্তা
  4. টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রোটোকল (Kyoto Protocol): 
- প্রতিষ্ঠিত: ডিসেম্বর ১৯৯৭
- কার্যকর: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫
- অংশগ্রহণকারী: ১৯২টি দেশ
- মূল কার্যালয়: বন, জার্মানি (UNFCCC সদর দপ্তর)
- উদ্দেশ্য: বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস করতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো।
- নির্দিষ্ট ৬টি গ্যাস কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), হাইড্রোফ্লুরোকার্বনস (HFCs), পারফ্লুরোকার্বনস (PFCs), সালফার হেক্সাফ্লুরাইড (SF₆) । 
- বাধ্যতামূলক লক্ষ্য: ৪১টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ২০০৮-২০১২ সময়কালে ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ৫.২% কম নির্গমন নিশ্চিত করতে হবে।
- কার্বন ট্রেডিং: উন্নত দেশগুলো তাদের নির্ধারিত সীমার বেশি নির্গমন করলে, কম নির্গমনকারী দেশগুলোর কাছ থেকে কার্বন ক্রেডিট কিনতে পারবে।
- এটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
- কিয়োটো প্রোটোকলের ভিত্তিতেই ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি গৃহীত হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য আরও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

দ্বিতীয় পর্যায় – দোহা সংশোধনী (Doha Amendment, ২০১২): 
- মেয়াদ: ২০১৩-২০২০
- নতুন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ
- ২০২০ সালের পর কিয়োটো প্রোটোকলের পরিবর্তে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কার্যকর হয়।

উৎস: UNFCC ওয়েবসাইট।
BRitannica.
৪৩৩.
'জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য ব্যবহার সম্পর্কিত প্রটোকল কোনটি?
  1. কার্টাগেনা প্রটোকল
  2. নাগোয়া প্রটোকল
  3. কিয়োটো প্রটোকল
  4. বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা

• নাগোয়া প্রটোকল:
- নাগোয়া প্রটোকল হল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য ব্যবহার সম্পর্কিত ন্যায্য সুবিধা বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যের প্রবাহ (Convention on Biological Diversity CBD) এর আওতায় জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে গৃহীত হয়।
- নাগোয়া প্রটোকল মূলত জীববৈচিত্র্যের সম্পদ ব্যবহার এবং এর থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা, বিশেষ করে জেনেটিক রিসোর্সের ব্যবহার সম্পর্কিত।
- এই প্রটোকলের প্রধান উদ্দেশ্য হল বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা।
- ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সালে নাগোয়া প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

উৎস: নাগোয়া প্রটোকল ওয়েবসাইট।

৪৩৪.
’নাগোয়া প্রটোকল’ স্বাক্ষরিত হয় কোথায়? 
  1. জাপান
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. রাশিয়া 
ব্যাখ্যা

নাগোয়া প্রটোকল:
- পূর্ণ নাম: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing.
- নাগোয়া প্রোটোকল হল জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সাল।
- কার্যকর: ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।
- এর উদ্দেশ্য হল জিনগত সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধাগুলির ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন, যার ফলে জীববৈচিত্র্যের  সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারে অবদান রাখা যায়।

উৎস: Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট। 

৪৩৫.
মন্ট্রিল প্রটোকল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. জাপান
  2. কানাডা
  3. কেনিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল (Montreal Protocol):

- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোন স্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল, কানাডায় স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে কার্যকর হয়।
- বিশ্বের ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চল চুক্তিটির অংশীদার।
- এই চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে ওজোন স্তরের ক্ষতি রোধে ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFCs) এবং অন্যান্য ওজোন ধ্বংসকারী পদার্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।

উল্লেখ্য,
- এটি সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ওজোন স্তরের পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৩৬.
কোনটি ওজনস্তর ক্ষয়কারী উপাদান সমূহের উৎপাদন ও বিপণন হ্রাস সংক্রান্ত?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কার্টাগেনা প্রটোকল
  3. বাসেল কনভেনশন
  4. ভিয়েনা কনভেনশন
ব্যাখ্যা
 মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ১৬ সেপ্টেম্বর,১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয়।
- ১ জনুয়ারি, ১৯৮৯ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিল প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল পরিবেশ রক্ষা করা।
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজনস্তর ক্ষয়কারী উপাদান সমূহের উৎপাদন ও বিপণন হ্রাস সংক্রান্ত
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

অন্যদিকে,
- কার্টাগেনা প্রটোকল: কার্টাগেনা প্রটোকল হচ্ছে জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি।
- বাসেল কনভেনশন: বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন সংক্রান্ত কনভেনশন।
- ভিয়েনা কনভেনশন: ওজোন স্তর সুরক্ষা ও সংরক্ষণ।

উৎস: UNEP website ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৩৭.
'নাগোয়া প্রটোকল' কার্যকর হয় কবে?
  1. ১০ অক্টোবর, ২০১৩ সালে
  2. ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সালে
  3. ১৭ অক্টোবর, ২০১৫ সালে
  4. ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা
নাগোয়া প্রটোকল:
- নাগোয়া প্রটোকল হল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য ব্যবহার সম্পর্কিত ন্যায্য সুবিধা বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যের প্রবাহ (Convention on Biological Diversity CBD) এর আওতায় জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে গৃহীত হয়।
- নাগোয়া প্রটোকল মূলত জীববৈচিত্র্যের সম্পদ ব্যবহার এবং এর থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা, বিশেষ করে জেনেটিক রিসোর্সের ব্যবহার সম্পর্কিত।
- এই প্রটোকলের প্রধান উদ্দেশ্য হল বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা।
- ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সালে নাগোয়া প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

তথ্যসূত্র - নাগোয়া প্রটোকল ওয়েবসাইট।
৪৩৮.
ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি কোনটি?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. কিয়োটো প্রটোকল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪৩৯.
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস পালিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ২২ মার্চ
  2. খ) ২২ এপ্রিল
  3. গ) ২২ মে
  4. ঘ) ২১ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
- ২২ এপ্রিল : বিশ্ব ধরিত্রী দিবস
- ২২ মার্চ : বিশ্ব পানি দিবস
- ২২ মে : আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস
- ২১ সেপ্টেম্বর : বিশ্ব শান্তি দিবস।
(সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৪৪০.
ভিয়েনা কনভেনশন চুক্তি কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
ভিয়েনা কনভেনশন:
- Vienna Convention-এর পূর্ণরূপ: The Vienna Convention for the Protection of the Ozone Layer.
- এটি জাতিসংঘের 'ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ' বিষয়ক চুক্তি।
- জাতিসংঘ কর্তৃক চুক্তি গৃহীত হয়: ২২ মার্চ, ১৯৮৫।
- চুক্তি কার্যকর হয়: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২৮টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।
- বৈশ্বিক অনুমোদন লাভ: ২০০৯ সাল।
- চুক্তি সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমূহ ৩ বছর পর পর চুক্তির অগ্রগতি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসে থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অনুমোদন: ২ আগস্ট, ১৯৯০ সাল।

উৎস: i) UNTC ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat.
৪৪১.
পরিবেশ বিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৮৮ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
ভিয়েনা কনভেনশন: 
- এর পুরো নাম Vienna Convention for the Protection of the Ozone Layer. 
- জাতিসংঘের ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি। 
- ১৯৮৫ সালের ২২ মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত ও গৃহীত হয়। 
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৮৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। 
- এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষ হলো ২৮টি। 
- অনুমোদনকারী পক্ষ হলো ১৯৮টি। 
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ এই চুক্তি সমর্থন করে।

উৎস: UNEP এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৪২.
জাতিসংঘের প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP-1) কোথায় ও কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. প্যারিস, ১৯৯২ সালে
  2. রিও ডি জেনিরো, ১৯৯২ সালে
  3. বার্লিন, ১৯৯৫ সালে
  4. স্টকহোম, ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম জলবায়ু সম্মেলন (COP-1):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জাতিসংঘের প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP-1) অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিন শহরে।
- ১৯৯৫ সালের ২ মার্চ - ৭ এপ্রিল জার্মানির বার্লিনে প্রথম কপ-১ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- এই সম্মেলনে ১১৭টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে 'বার্লিন ম্যান্ডেট; গৃহীত হয় যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য আন্তর্জাতিক আইনত বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৪৪৩.
মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪৪৪.
বিশ্বব্যাপী জলাভূমি সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিটি কী নামে পরিচিত?
  1. রামসার কনভেনশন
  2. ভিয়েনা কনভেনশন
  3. বার্লিন কনভেনশন
  4. প্যারিস কনভেনশন
ব্যাখ্যা

- রামসার কনভেনশনের পূর্ণনাম - The Ramsar Convention on Wetlands।
- এটি জলাভূমি ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- চুক্তিটি ইরানের রামসারে স্বাক্ষরিত ও অনুমোদিত হয়।
- চুক্তি অনুমোদন: ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সাল।
- চুক্তির পক্ষ (অনুমোদন ও কার্যকর) - ১৭১টি দেশ। (সর্বশেষ দেশ - ভানুয়াতু)
- চুক্তি কার্যকর - ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সাল।
- বাংলাদেশ রামসার সনদ অনুমোদন ও কার্যকর করে - ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর।
- বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার চুক্তির অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। যথা -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট: ২১ মে, ১৯৯২ সাল ও টাঙ্গুয়ার হাওর: ১০ জুলাই, ২০০০ সাল

উৎসঃ রামসার ওয়েবসাইট ।

৪৪৫.
'নাগোয়া প্রটোকল' কোন কনভেনশনের অধীনে তৈরি হয়?
  1. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কনভেনশন
  2. প্যারিস চুক্তি
  3. স্টকহোম কনভেনশন
  4. রামসার কনভেনশন
ব্যাখ্যা
• নাগোয়া প্রটোকল:
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত কনভেনশনের (CBD) অধীন
'জেনেটিক সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং সেগুলোর ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুফলের ন্যায্য ও সমানভাবে বণ্টন বিষয়ক নাগোয়া প্রটোকল (ABS)' হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কনভেনশনের একটি সম্পূরক চুক্তি।
- পূর্ণ নাম: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing
- গৃহীত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সাল।
- কার্যকর: ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

উৎস: Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট।
৪৪৬.
‘Tropical Forests Forever Fund’ নামে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছে কোন দেশ? 
  1. দক্ষিন আফ্রিকা 
  2. ব্রাজিল
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ভুটান
ব্যাখ্যা

• Tropical Forests Forever Fund (TFFF): 
- পরিবেশ সংরক্ষণে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্রাজিল Tropical Forests Forever Fund (TFFF) নামক একটি তহবিল চালু করেছে। 
- এই তহবিল উষ্ণমণ্ডলীয় বন সংরক্ষণের COP30 সম্মেলনের সময় পরিকল্পনা করা হয়। 
- উষ্ণমণ্ডলীয় বনসম্পন্ন ৭০টিরও বেশি উন্নয়নশীল দেশ এই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করবে। যাতে তারা  বন নিধন বা deforestation হার ০.৫% এর নিচে রাখতে পারে।
এটি শুধু বনভূমি সংরক্ষণ করে না, বরং স্থানীয় সম্প্রদায় এবং আদিবাসীদের (Indigenous Peoples) জন্য অন্তত ২০% তহবিল সংরক্ষিত রাখে, যাতে তারা তাদের ভূমি অধিকার এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে পারে।

- ব্রাজিল COP28 সম্মেলন (২০২৩, দুবাই) থেকে TFFF গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
 - ওই সম্মেলনে দেশটির রাষ্ট্রপতি লুলা দা সিলভা প্রথমবার প্রকাশ্যে এই প্রকল্পের বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন।
- এপর্যন্ত আরও পাঁচটি উষ্ণমণ্ডলীয় বনসম্পন্ন দেশ এই উদ্যোগে অংশ গ্রহণ করেছে, যেগুলি হলো – কলম্বিয়া, ঘানা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া।
- তাছাড়া, তহবিল ব্যবস্থাপনার কাঠামো গঠন ও বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করছে জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্য এই পাঁচটি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী দেশ।

- ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, ৫৩টি দেশ এতে যুক্ত হয়েছে, এবং মোট তহবিলের ২০ শতাংশেরও বেশি সরাসরি আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ।

তথ্যসূত্র:
 i) COP30 Brasil Amazônia ওয়েবসাইট।  
ii) কালের কণ্ঠ। 
iii) Tropical Forests Forever Fund ওয়েবসাইট।

৪৪৭.
গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বিষয়টি প্রথম কে তোলে ধরেন?
  1. ক) পিয়েরি কুরি
  2. খ) বেনঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) সুভনটে আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা
১৮৯৬ সালে সুইডিশ পদার্থবিদ সুভনটে আরহেনিয়াস সর্বপ্রথম পৃথিবীর ট্রপোস্ফিয়ার তথা বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি বা গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। আরহেনিয়াস তার Worlds in the Making বইয়ে গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলো কীভাবে সূর্যরশ্মি শোষণের মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ুণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে তা ব্যাখ্যা করেন। (সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪৪৮.
নিচের কোনটি নেদারল্যান্ডস্‌ ভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা?
  1. ক) Green Peace
  2. খ) Sierra Club
  3. গ) Marine Club
  4. ঘ) Brundland
ব্যাখ্যা
Greenpeace নেদারল্যান্ডভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা, যা ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। Sierra club যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা। এটি ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৪৪৯.
কোন দেশ প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন করে?
  1. ভারত
  2. মালদ্বীপ
  3. বাংলাদেশ
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন করে। গত অর্থবছর পর্যন্ত এ তহবিলে সর্বমোট বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা।
(সূত্রঃ বিসিসিটি ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো)
৪৫০.
মন্ট্রিল প্রটোকল কয়টি দেশ অনুমোদন করেছে?
  1. ক) ১৮৯
  2. খ) ১৯৪
  3. গ) ১৯৬
  4. ঘ) ১৯৭
ব্যাখ্যা
Montreal Protocol adopted on 15 September 1987, the Protocol is to date the only UN treaty ever that has been ratified every country on Earth - all 197 UN Member States. Source: unenvironment.org
৪৫১.
বাসেল কনভেনশন কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

বাসেল কনভেনশন: 
- এর পূর্ণ নাম: The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- 'বাসেল কনভেনশন' হলো বিপদজনক বর্জ্য দেশের সীমান্তের বাইরে চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন।
- বাসেল কনভেনশন সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে গৃহীত হয়।
- ২২ মার্চ, ১৯৮৯ সালে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯২ সালে। 
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালে এই কনভেনশন অনুমোদন করে।

উৎস: বাসেল কনভেনশন ওয়েবসাইট।

৪৫২.
রামসার কনভেনশনের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা
  2. বনাঞ্চল সংরক্ষণ করা
  3. জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা
  4. জলাভূমি সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা

রামসার কনভেনশন:
- এর পূর্ণনাম Ramsar Convention on Wetlands.
- কনভেনশনটি গৃহীত হয়: ১৯৭১ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৭৫ সালে।
- স্থান: রামসার, ইরান।
- রামসার কনভেনশনের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণ করা।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি তালিকাভুক্ত করতে বলা হয় যা রামসার সাইট নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - Ramsar Convention Official Website.

৪৫৩.
‘ইকোলজি' শব্দটি সর্বপ্রথম কত সালে ব্যবহৃত হয়েছিলো?
  1. ক) ১৮৫৯
  2. খ) ১৮৬৭
  3. গ) ১৮৬৯
  4. ঘ) ১৮৯৬
ব্যাখ্যা
ইকোলজি মানব বিজ্ঞান, জনসংখ্যা, সম্প্রদায়, বাস্তুতন্ত্র এবং জীবমণ্ডল সহ বিজ্ঞানের একটি শাখা। ইকোলজি হ'ল জীব, পরিবেশ এবং জীবগুলি একে অপরের সাথে এবং তাদের পরিবেশের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করে সে সম্পর্কে অধ্যয়ন। এটি জীব, জনসংখ্যা, সম্প্রদায়, জীবজগৎ এবং বাস্তুতন্ত্রের মতো বিভিন্ন স্তরে অধ্যয়ন করা হয়।
৪৫৪.
মন্ট্রিল প্রটোকলের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ 
  2. ওজোনস্তর-ক্ষয়কারী পদার্থের নিয়ন্ত্রণ
  3. জলাভূমি সংরক্ষণ
  4. বন্যপ্রাণী রক্ষা
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ সুরক্ষা চুক্তি,
- এটি ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয় এবং ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য :পরিবেশ রক্ষা এবং ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সীমিত করা।
- পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় "The Kigali Amendment" কার্যকর হয়।
- ১৯৮৫: ভিয়েনা কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অফ দ্য ওজোন লেয়ার স্বাক্ষরিত (মন্ট্রিল প্রটোকলের ভিত্তি)।
- ১৯৮৭: মন্ট্রিলে ২৪টি দেশ স্বাক্ষর করে; ODS-এর ৫০% হ্রাসের লক্ষ্য।
- ২০১৬: কিগালি সংশোধনী; HFC-এর ৮০-৮৫% হ্রাসের লক্ষ্য (জলবায়ু প্রভাব)।

উৎস: UNEP website & Britannica.com

৪৫৫.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি SDG এর কত নং লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ৭ নং
  2. খ) ৯ নং
  3. গ) ১১ নং
  4. ঘ) ১৩ নং
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২০১৬ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্যে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যা টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট বা SDG নামে পরিচিত।
এসডিজির ১৩ নং লক্ষ্যমাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতি হ্রাস করা, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিষয়গুলো বাস্তবায়ন প্রভৃতি বিষয়ে বলা হয়েছে।
(সূত্রঃ জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৪৫৬.
কিয়োটো প্রোটকলের বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রোটকল
  2. স্ট্যাটোস্ফিয়ার স্তরের সংরক্ষণ বিষয়ক
  3. ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক
  4. গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস
ব্যাখ্যা
কিয়েটো প্রোটকল:
- কিয়োটো প্রোটোকল একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
- এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে।
- ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে এই চুক্তি প্রথম গৃহীত হয়।
- ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কার্যকরী হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪৫৭.
WMO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫০ সালে
  2. খ) ১৯৫৭ সালে
  3. গ) ১৯৫৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
WMO originated from the International Meteorological Organization (IMO), which was founded in 1873 to facilitate the exchange of weather information across national borders. Established in 1950, the WMO became a specialized agency of the United Nations in 1951. [source: wmo website]
৪৫৮.
‘জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কাঠামো সনদ (UNFCCC)’ গৃহীত হয় কোন সম্মেলনে?
  1. ক) Rio + 5
  2. খ) Rio + 10
  3. গ) Rio + 20
  4. ঘ) Rio Summit
ব্যাখ্যা
১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) বা United Nations Conference on Environment and Development অনুষ্ঠিত হয়।
এই সম্মেলনের অন্য নাম- Rio Summit।
এই সম্মেলনে গৃহীত হওয়া বিষয়গুলো হচ্ছেঃ
- জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কাঠামো সনদ United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) গৃহিত হয়।
এটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ২১ মার্চ।
এতে ১৯৭ টি দেশ ও সংস্থা স্বাক্ষর করে।
- এজেন্ডা-২১
- জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত সনদ এবং
- পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্পর্কিত রিও ঘোষণা।
উৎসঃ UNFCCC এর ওয়েবসাইট।
৪৫৯.
কোন জলবায়ু সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠন করা হয়?
  1. কপ-১৫
  2. কপ-১৬
  3. কপ-১৭
  4. কপ-১৮
ব্যাখ্যা
Green Climate Fund:  
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল।
- শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হবে।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সাল। 
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো। 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: কপ-১৬।
- সদর দপ্তর: ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া। 
- No. of projects: ২৫৩টি।
- এর মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে সহায়তা করা ও কার্বন নির্গমন কমানো।
 
উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট। 
৪৬০.
প্রথম জলবায়ু সম্মেলন (cop-1) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. জোহানেসবার্গ
  2. নাইরোবি
  3. স্টকহোম
  4. বার্লিন
ব্যাখ্যা
কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

⇒ প্রথম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-১):
- ১৯৯৫ সালের ২ মার্চ - ৭ এপ্রিল জার্মানির বার্লিনে প্রথম কপ-১ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ওই সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪৬১.
জাতিসংঘ জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল- 
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. বর্ণিত কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

কার্টাগেনা প্রটোকল:
- পূর্ণরূপ: Cartagena Protocol on Biosafety to the convention on Biological Diversity।
- এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- এর উদ্দেশ্য হলো জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।
- অনুমোদন: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯, কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে,
- তাই শহরের নামানুসারে এর নাম কার্টাগেনা প্রটোকল।
- গৃহীত ও কার্যকর: কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত ও কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সালে।
- কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে।
- চুক্তির পক্ষে স্বাক্ষরকারী দেশ: ১০৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৭৩টি।

উল্লেখ্য,
- কিয়োটো প্রটোকল: এটি জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি চুক্তি, জৈব নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত নয়. 
- মন্ট্রিল প্রটোকল: এটি ওজোন স্তরের ক্ষয়কারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত. 
- বাংলাদেশ কার্টাগেনা প্রটোকল স্বাক্ষর করে ২০০০ সালে।
- অনুমোদন হয় ২০০৪ সালে।

উৎস: UNTC ওয়েবসাইট।

৪৬২.
ওজোন স্তর সুরক্ষার উদ্দেশ্যে কোন চুক্তিটি করা হয়?
  1. নাগোয়া প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. বাসেল কনভেনশন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- গৃহীত হয়: ১৯৮৭ সালে।
- উদ্দেশ্য: ওজোন স্তর সুরক্ষা।
- চুক্তির স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১ জানুয়ারি, ১৯৮৯ সাল।
- এটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন রসায়নবিদ রোল্যান্ড ও মোলিনা আবিষ্কার করেন CFC (chlorofluorocarbon) জাতীয় যৌগ সূর্য রশ্মির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ওজোন ধ্বংসকারী ক্লোরিন মুক্ত করে।
- ১৯৮৫ সালে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে ওজোন স্তরে "গহ্বর" (ozone hole) চিহ্নিত করে।
- ওজোন স্তর রক্ষায় সবচেয়ে সফল বৈশ্বিক পরিবেশ চুক্তি। 
- ওজোন স্তরের প্রথম পুনরুদ্ধারের লক্ষণ ২০১৮ সালে দেখা যায়। 
- পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধার: আর্কটিক অঞ্চলে: ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি, অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে: ২০৬০-এর দশকে। 

উৎস: Britannica.
৪৬৩.
কত সালে পরিবেশ বিষয়ক 'স্টকহোম সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম পরিবেশ সম্মেলন:
- জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন সুইডেনের স্টকহোম শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন।
- জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলন (United Nations Conference on the Human Environment) স্টকহোম সম্মেলন নামে পরিচিত।

⇒  স্টকহোম সম্মেলনে জাতিসংঘ পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচী বা United Nations Environment Programme (UNEP) গঠিত হয়।
- এই সম্মেলনটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছিল এবং এতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের সূচনা হয়েছিল।
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৪৬৪.
কোন চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শুরু হয়েছিল?
  1. মন্ট্রিল প্রোটোকল
  2. কিয়োটো প্রোটোকল
  3. নাগোয়া প্রোটোকল
  4. কার্টাগেনা প্রোটোকল
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রটোকল:
- গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য প্রথম আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করে কিয়োটো প্রোটোকল।
- এই প্রোটোকলটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (UNFCCC) অধীনে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- কিয়োটো প্রোটোকল শিল্পোন্নত দেশগুলোকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়।

⇒ স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।
- ২০২০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কিয়োটা প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রথম মেয়াদ (২০০৫-২০১২): কিয়োটা প্রটোকল ২০০৫ সালে কার্যকর হয় এবং ২০১২ সালে তার প্রথম মেয়াদ শেষ হয়।
- দোহা সংশোধনী: ২০১২ সালে কিয়োটা প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, দোহা সংশোধনী গৃহীত হয়, যা ২০১৩-২০২০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
- প্যারিস চুক্তি ২০১৬ সালে কার্যকর হওয়ায় কিয়োটা প্রটোকল কার্যকরভাবে বাতিল হয়ে যায়। যদিও কিয়োটা প্রটোকল ছিল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, প্যারিস চুক্তি বর্তমানে বিশ্বের প্রাথমিক আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে জলবায়ু কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪৬৫.
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এর সদরদপ্তর কোথায়?
  1. ক) বান্দুং
  2. খ) বন
  3. গ) ইনচন
  4. ঘ) ওয়াশিংটন
ব্যাখ্যা
- ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।
- এর প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন শহরে অবস্থিত।
- এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল গুলোকে সহায়তা করা হয়।
- এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রদান করা হয়। উন্নত দেশসমূহ এ ফান্ডে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র:- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ওয়েবসাইট।
৪৬৬.
কততম জলবায়ু সম্মেলনে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল গঠিত হয়েছে?
  1. ২৫ তম
  2. ২৬ তম
  3. ২৭ তম
  4. ২৮ তম
ব্যাখ্যা
'লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড':
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূল থেকে অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত পৈতৃক ভিটে মাটি ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
- বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের কারণে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
- কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে একটি ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে বিশ্ব।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের উপকূলের যে মানুষেরা উদ্বাস্তু হচ্ছেন বা ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন তাদের সহায়তা এবং পুনর্বাসনে এই তহবিল কাজ করবে বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪৬৭.
বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন চুক্তিটি গৃহীত হয়?
  1. রামসার কনভেনশন
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. কিয়োটো প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• বাসেল কনভেনশন:
- বাসেল কনভেনশন হলো বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল এবং তাদের নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি
- পূর্ণরূপ: Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- স্বাক্ষরকারী: ৫৩টি। 
- এটি ১৯৮৯ সালে গৃহীত হয় এবং ১৯৯২ সালে কার্যকর হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কনভেনশনটি অনুমোদন করেনি কারণ এর সমস্ত বিধান বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত দেশীয় সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ নেই। 
- বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল বাসেল কনভেনশনে যোগ দেয়।

» মূল উদ্দেশ্য:
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ।
- বর্জ্যের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে অবৈধ বর্জ্য রপ্তানি প্রতিরোধ।

তথ্যসূত্র: i) United Nations Environment Programme. 
ii) Basel Convention Official Website.
iii) U.S. DEPARTMENT of STATE

৪৬৮.
বাংলাদেশ কবে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষর করে?
  1. ক) ১৯৮৮
  2. খ) ১৯৯০
  3. গ) ১৯৯২
  4. ঘ) ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষর করে। ১৯৯৬ সালে ‘ওজোন সেল’ গঠন করে। এই সেল মন্ট্রিল প্রটোকল মাল্টিলেটারেল ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯
৪৬৯.
কোন সম্মেলনে Green Climate Fund গঠিত হয়?
  1. কানকুন
  2. কোপেনহেগেন
  3. স্টকহোম
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা

Green Climate Fund:
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) কর্তৃক গঠিত একটি গঠিত তহবিল।
- শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হবে।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: কানকুন, মেক্সিকো।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১০ সাল।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: কপ-১৬।
- সদর দপ্তর: ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া।
- No. of projects: ২৫৩টি।

⇒ ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে ১৫তম কপ সমেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয় এবং ২০১০ সালে কানকুনে ১৬তম কপ সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
- এর মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে সহায়তা করা ও কার্বন নির্গমন কমানো।
- সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে সীমিত রাখতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত প্রকাশ করে।
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

উৎস: Green Climate Fund ওয়েবসাইট।

৪৭০.
বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. নিউইয়র্ক
  2. জেনেভা
  3. দোহা
  4. লন্ডন
ব্যাখ্যা

- দ্বিতীয় বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৪–৬ নভেম্বর ২০২৫, দোহা, কাতারে।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (রেজুলেশন ৭৮/২৬১ ও ৭৮/৩১৮) এটি আহ্বান করেছে।
- ১৯৯৫ সালের কোপেনহেগেন শীর্ষ সম্মেলনের ৩০ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- লক্ষ্য: দারিদ্র্য বিমোচন, পূর্ণ কর্মসংস্থান, উপযুক্ত কাজ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।
- অংশগ্রহণকারী: সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি খাত ও বিশেষজ্ঞরা।
- উদ্দেশ্য: সামাজিক অগ্রগতির কৌশল পুনর্নির্ধারণ, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রচার করা।
- লক্ষ্য: স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েব সাইট।

৪৭১.
জাতিসংঘের মানব পরিবেশ বিষয়ক প্রথম বিশ্ব সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• পরিবেশ বিষয়ক প্রথম বিশ্ব সম্মেলন:
- ১৯৭২ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের মানব পরিবেশ বিষয়ক প্রথম বিশ্ব সম্মেলন।
- অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কয়েকটি নীতি গ্রহণ করে, যার মধ্যে রয়েছে স্টকহোম ঘোষণাপত্র এবং মানব পরিবেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা এবং বেশ কয়েকটি প্রস্তাব।

- স্টকহোম ঘোষণাপত্র, যার মধ্যে ২৬টি নীতি ছিল, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের শীর্ষে পরিবেশগত বিষয়গুলিকে স্থান দেয়।
- এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বায়ু, জল এবং মহাসাগরের দূষণ এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণের মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে শিল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে একটি সংলাপের সূচনা করে। 

- কর্মপরিকল্পনাটিতে  তিনটি প্রধান বিভাগ ছিল:
ক) বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত মূল্যায়ন কর্মসূচি (পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা);
খ) পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম;
(গ) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা। 

- স্টকহোম-১৯৭২ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) তৈরি করা।

উৎস: United Nations website.

৪৭২.
আর্কটিক অঞ্চলের দেশ কতটি?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
সুমেরু অঞ্চল বা আর্কটিক পৃথিবীর সর্ব উত্তরের অঞ্চলটির নাম। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আটটি সুমেরু আঞ্চলিক রাষ্ট্রের (কানাডা, রাশিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড) সর্বউত্তরের সব স্থানগুলোকেই সুমেরু অঞ্চলের ভেতর ফেলা হয়, যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের অনেকগুলোই সুমেরু বৃত্তের দক্ষিণে। সুমেরু অঞ্চলে সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা ও পরিবেশের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। অঞ্চলটির উত্তরাংশ পুরো বছর বরফাচ্ছাদিত থাকে, এবং দক্ষিণাংশে ঘাস, হোগলা ও গুল্মজাতীয় গাছ দেখা যায়। চিরহিমায়িত ভূমির পৃষ্ঠ অবশ্য গ্রীষ্মকালে সকল বরফ ঝেড়ে ফেলে সজীব হয়ে ওঠে। এখানকার তিন-পঞ্চমাংশ জায়গাই আসলে চিরহিমায়িত অঞ্চলের বাইরে। গ্রীষ্মকাল সংক্ষিপ্ত হলেও তখন সূর্য দীর্ঘক্ষণ ধরে আলো ও তাপ দিতে পারে।
৪৭৩.
১৯৪৩ সালে অনুষ্ঠিত কাসাব্লাঙ্কা সম্মেলনের উদ্দেশ্য কি ছিলো?
  1. ক) জাতিসংঘ গঠন
  2. খ) ব্রেটন উডস সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন
  3. গ) জার্মানি, ইতালি ও জাপানের বিনা শর্তে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব
  4. ঘ) হিটলারকে গুপ্তহত্যার প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
কাসাব্লাংকা সম্মেলন (Casablanca Conference):
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মরোক্কোর কাসাব্লাংকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন - যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিনের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত শেষ করে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসাবে সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্মেলনে জার্মানি, জাপান ও ইতালিকে বিনা শর্তে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা ও Live MCQ content (upcoming).
৪৭৪.
কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর হয় কোন সালে?
  1. ২০০০ সাল
  2. ২০০৫ সাল
  3. ২০০৩ সাল
  4. ২০০৭ সাল
ব্যাখ্যা

• কিয়োটো প্রটোকল:
- পূর্ণরূপ: Kyoto Protocol to the United Nations Framework Convention on Climate Change.
- কিয়োটো প্রোটোকলটি ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর গৃহীত হয়।
- এটি ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- বর্তমানে, কিয়োটো প্রোটোকলের ১৯২টি পক্ষ রয়েছে।
- স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- উদ্দেশ্য: গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ১৯৯০ সালের স্তরের তুলনায় ৫.২% কমানো।
- বৈশিষ্ট্য: ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM) এবং ইমিশন ট্রেডিং অন্তর্ভুক্ত।

 উৎস: UNFCCC.

৪৭৫.
গ্রেটা থানবার্গ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে-
  1. ক) ২০ আগস্ট, ২০১৯
  2. খ) ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  3. গ) ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
  4. ঘ) ২০ অক্টোবর, ২০১৯
ব্যাখ্যা
১৬ বছরের সুইডিশ কিশােরী গ্রেটা থানবার্গ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্দোলনে সােচ্চার এক পরিবেশকন্যা। ২০ আগস্ট ২০১৮ সুইডেনে নিজের মতাে করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে সে। সুইডেনের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে তার School Strike for Climate শীর্ষক প্ল্যাকার্ড নিয়ে Fridays for Future আন্দোলনে অনেক স্কুলশিক্ষার্থী অনুপ্রাণিত হয়। এরপর এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে অনেক দেশে। নজর কাড়ে বিশ্বের। সে সময় জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি উপেক্ষা না করতে সরকার প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানায় সে ১৬ মে ২০১৯ টাইম ম্যাগাজিন তাকে আগামী প্রজন্মের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। জলবায়ু‌ পরিবর্তন নিয়ে জনমত তৈরি করতে পারায় গ্রেটা থুনবার্গ এখন পুরাে বিশ্বের কাছে এক নামে পরিচিত।
৪৭৬.
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) ১৯৭৯
  2. খ) ১৯৭০
  3. গ) ১৯৬৮
  4. ঘ) ১৯৯১
ব্যাখ্যা
- Non-Proliferation of Nuclear Weapons (NPT) বা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ থেকে।

- রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তুরস্ক, ইরানসহ চুক্তিটির মোট অংশীদার ১৯১টি দেশ।
- ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল, দক্ষিণ সুদান ও উত্তর কোরিয়া (প্রত্যাহারকারী) NPT চুক্তিতে স্বাক্ষর বা অনুমোদন করেনি।
- বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট ১৯৭৯ চুক্তিটি অনুমোদন করে।

তথ্যসূত্র:- জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৭৭.
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি -
  1. ক) স্টার্ট - ১
  2. খ) নিউ স্টার্ট
  3. গ) মিশন -২
  4. ঘ) নিউ স্টার্ট ক্রেঞ্জি
ব্যাখ্যা
- রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিউ স্টার্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

• নিউ স্টার্ট চুক্তি:

- যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নিউ স্টার্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১০ সালে।
- স্বাক্ষর করেছিলেন দুই দেশের সে সময়ের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ।
- মস্কো ও ওয়াশিংটন মোট কতসংখ্যক কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে, তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত করে দিয়েছিল এই চুক্তি।
- চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ ছিল।
- নিউ স্টার্ট চুক্তি কার্যকর হয় ২০১১ সালে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্প্রতি নিজেদের মধ্যকার চুক্তির মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রন চু্ক্তি, ‘নিউ স্টার্ট’ স্থগিতের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 
- একই সঙ্গে চুক্তির শর্তগুলো দুই পক্ষই মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরিদর্শকেরা।

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]
৪৭৮.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে-
  1. ক) বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে
  2. খ) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা হ্রাস পাবে
  3. গ) মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে
  4. ঘ) নদীর নাব্যতা হ্রাস পাবে
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে। (সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪৭৯.
বিপদজনক বর্জ্য সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনটি?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. মন্ট্রিল প্রোটকল
  3. বাসেল কনভেনশন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাসেল কনভেনশন:
- 'বাসেল কনভেনশন' হলো বিপদজনক বর্জ্য দেশের সীমান্তের বাইরে চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন।
- বাসেল কনভেনশনের পুরো নাম- The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- বাসেল কনভেনশন গৃহীত হয় ২২ মার্চ, ১৯৮৯ সালে।
- এটি গৃহীত হয় সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে।
- 'বাসেল কনভেনশন'-এর কার্যক্রম শুরু হয় ৫ মে, ১৯৯২ সালে।
- বাংলাদেশকে 'বাসেল কনভেনশন' অনুমোদন করে ১৯৯৩ সালে।

তথ্যসূত্র - বাসেল কনভেনশন ওয়েবসাইট।
৪৮০.
'Rio+20' সম্মেলনের অপর নাম কী?
  1. বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলন
  2. জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  3. টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন
  4. ধরিত্রী সম্মেলন ২০১২
ব্যাখ্যা

ধরিত্রী সম্মেলন:

• পূর্ণ্নাম: The United Nations Conference on Environment and Development.
• তারিখ: ১৯৯২ সালে ৩ - ১৪ জুন।
• পৃথিবীর জলবায়ু রক্ষার্থে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও-তে ধরিত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
• এটি প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

এছাড়াও,
• 'রিও বা ধরিত্রী সম্মেলন + ৫' অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।
- এটি ১৯৯৭ সালে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি বিশেষ ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

• 'রিও বা ধরিত্রী সম্মেলন + ১০' অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ২০০২ সালে।
- এটি দ্বিতীয় ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

• 'রিও বা ধরিত্রী সম্মেলন + ২০' অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও-তে ২০১২ সালে।
- এটি তৃতীয় ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা & UN website.

৪৮১.
৩০তম জলবায়ু সম্মেলনে 'ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফান্ড' (TFFF) কোন উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে?
  1. উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শক্তি সহায়তা
  2. গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন সংরক্ষণে
  3. জলবায়ু স্বাস্থ্য অ্যাকশন প্ল্যান
  4. ট্রানজিশনের জন্য শ্রমিক প্রশিক্ষণ
ব্যাখ্যা

- ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফান্ড' (TFFF) কপ-৩০-এ উদ্দেশ্যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন সংরক্ষণের জন্য।

• কপ-৩০ সম্মেলন: 

- কপ-৩০ হলো জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন,
- এটি ২০২৫ সালের ১০-২১ নভেম্বর ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত হয়।
- যা প্যারিস চুক্তির অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

• মূল অর্জনসমূহ:
- কপ-৩০-এ 'বেলেম প্যাকেজ' গৃহীত হয়, যা জলবায়ু অভিযোজনের জন্য অর্থায়নকে ২০৩৫ সালের মধ্যে তিনগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে (প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার অভিযোজনের জন্য বরাদ্দ)।
- ব্রাজিলের নেতৃত্বে জীবাশ্ম জ্বালানি-মুক্ত অর্থনীতিতে ন্যায়সঙ্গত স্থানান্তরের জন্য দুটি রোডম্যাপ চালু করা হয়েছে, যা কপের বাইরে কাজ করবে।
- 'ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফান্ড' (TFFF) চালু, যাতে ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে (লক্ষ্য ২৫ বিলিয়ন ডলার)। এছাড়া বন এবং ভূমি অধিকারের জন্য ১.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি।
- জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্য প্রভাবকে প্রধান থিম করা হয়েছে; 'বেলেম হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান' চালু।
-  মহিলা, আদিবাসী এবং আফ্রো-বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জলবায়ুর উপর ডায়লগ চালু; গ্লোবাল ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাক্সিলারেটর লঞ্চ।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট। 

৪৮২.
United Nations Framework Convention on Climate Change-এর মূল আলােচ্য বিষয়-
  1. ক) জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ
  2. খ) গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ ও প্রশমন
  3. গ) সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. ঘ) বৈশ্বিক মরুকরণ প্রক্রিয়া এবং বনায়ন
ব্যাখ্যা
- ১৯৯২ সালের ৯ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) গৃহীত হয়।
- একই বছরের ৪ থেকে ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে এটি স্বাক্ষরের জন্যে উন্মুক্ত করা হয় যা ২১ মার্চ ১৯৯৪ কার্যকর হয়।
- UNFCCC তে ১৯৭ টি দেশ ও সংস্থা স্বাক্ষর করে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কনভেনশনটির মূল আলোচ্য বিষয় - গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ ও প্রশমন।
- উক্ত বিষয়টি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্যে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর UNFCCC তার উদ্যোগে Conference of Parties (CoP) এর আয়োজন করে আসছে। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে জার্মানির বার্লিনে প্রথম Conference of Parties (CoP) এর আয়োজন করা হয়। এতে UNFCCC তে স্বাক্ষরকারী পক্ষসমূহ অংশ নেয়।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘের পরবর্তী UNFCCC (CoP-26) সম্মেলন ২০২১ সালের ১ - ১২ নভেম্বর ব্রিটেনের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এতে পার্টনার হিসেবে ইতালিও থাকবে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪৮৩.
"Clean Development Mechanism" নিম্নের কোন চুক্তির অংশ?
  1. প্যারিস জলবায়ু চুক্তি
  2. কিয়োটো প্রোটোকল
  3. রটারডাম কনভেনশন
  4. কার্টাগেনা প্রোটোকল
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।
 
⇒ Clean Development Mechanism (CDM):
- Clean Development Mechanism কিয়োটো প্রটোকলের অংশ।
- প্রোটোকলের ১২ অনুচ্ছেদে অনুসারে, ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) এর আওতায় কোন উন্নত দেশ অন্য উন্নয়নশীলদেশে  গ্রীনহাউস গ্যাসের নি:সরণ কমানোর জন্য কোন প্রকল্প নির্মানের  প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা বিনিয়োগের মাধ্যমে  চুক্তি  খেলাপের হাত থেকে বাঁচতে পারে।

- কিয়োটো প্রোটোকলের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের তালিকা (Annex) ভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করে গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা।
- এই প্রোটোকল শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলিকে উদ্দেশ্য করে গ্রহন করা হয়েছে যা “common but differentiated responsibility and respective capabilities” নীতির অধীনে পরিচালিত।
- এখানে শিল্পোন্নোত দেশগুলিকে উপর অধিক দায়িত্ব আরোপ হয়েছে, কারণ এই দেশগুলি বায়ুমণ্ডলে উচ্চ মাত্রায় GHG নির্গমনের জন্য দায়ী।
 
উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪৮৪.
জীববৈচিত্র্য রক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির জন্য আলোচিত কার্টাগেনা শহরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) কলম্বিয়া
  3. গ) মেক্সিকো
  4. ঘ) ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol)
কার্টাগেনা প্রটোকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity।
- জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- ১৩৫টি দেশ কর্তৃক চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদন হয় কানাডার মন্ট্রিলে।

এক নজরে কার্টাগেনা প্রটোকল:
চুক্তি অনুমোদন -- ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল
চুক্তি কার্যকর -- ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল
চুক্তির পক্ষ -- স্বাক্ষরকারী - ১০৩টি
অনুমোদনকারী -- ১৭৩টি

বাংলাদেশ ও কার্টাগেনা প্রটোকল:
চুক্তি স্বাক্ষর -- ২৪ মে, ২০০০ সাল
চুক্তি অনুমোদন -- ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সাল
চুক্তি কার্যকর -- ৫ মে, ২০০৪ সাল

উৎস: কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট
৪৮৫.
নাগোয়া প্রটোকল কবে গৃহীত হয়েছিল?
  1. ২৯ অক্টোবর ২০১০
  2. ১২ অক্টোবর ২০১৪
  3. ১৫ নভেম্বর ২০১২
  4. ১ জানুয়ারি ২০১১
ব্যাখ্যা

নাগোয়া প্রটোকল:
- পূর্ণ নাম: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing.
- নাগোয়া প্রোটোকল হল জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি। 
- ABS সংক্রান্ত নাগোয়া প্রোটোকলটি ২৯ অক্টোবর ২০১০ তারিখে জাপানের নাগোয়ায় গৃহীত হয়।
- প্রটোকলটি ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে কার্যকর হয়।
- এর উদ্দেশ্য হল জিনগত সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধাগুলির ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন, যার ফলে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারে অবদান রাখা যায়।
- স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।

উৎস: Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট।

৪৮৬.
রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় কবে?
  1. ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭৯ সালের ১১ জানুয়ারি
  3. ১৯৭১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ৫ জুন
ব্যাখ্যা
• ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জলাভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ক রামসার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- রামসারের ডকুমেন্ট অনুসারে - Number of Contracting Parties: 172. 

বাংলাদেশ ও রামসার: 
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে - সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওর।

উৎস: রামসার ওয়েবসাইট।
৪৮৭.
'ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' আন্দোলনের সাথে জড়িত কে?
  1. ওয়াংগেরি মাথাই
  2. হিলডা হাইন
  3. দিলমা রউসেফ
  4. গ্রেটা থুনবার্গ
ব্যাখ্যা
• Fridays for future 
- ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলন হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের একটি বৈশ্বিক মুভমেন্ট।
- ২০১৮ সালে সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গ নামের ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী এই আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
- থুনবার্গ স্কুল বর্জন করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে সুইডিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
- তার এই কর্মসূচি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার স্কুল ধর্মঘট করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান করতে শুরু করে।
- ফ্রাইডেস ফর ফিউচার মুভমেন্টের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারগুলোর উপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

উৎস: Fridays For Future এর ওয়েবসাইট।
৪৮৮.
মন্ট্রিল প্রটোকলের সর্বশেষ সংশোধনী কোনটি?
  1. কিগালি সংশোধনী
  2. ভিয়েনা সংশোধনী
  3. বেইজিং সংশোধনী
  4. কোপেনহেগেন সংশোধনী
ব্যাখ্যা
মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।
- বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত ওজোন স্তর।
- এই প্রটোকলে ওজোন স্তরের ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরণ বন্ধ বা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

এছাড়াও,
⇒ ১৯৮৯ সাল থেকে মন্ট্রিল প্রটোকল ৬ বার সংশোধন করা হয়। এগুলো হলো:
- London amendment 1990,
- Copenhagen amendment 1992,
- Vienna amendment 1995,
- Montreal amendment 1997,
- Beijing amendment 1999,
- Kigali amendment 2016.

উল্লেখ্য,
• কিগালি সংশোধনী:
- মন্ট্রিল প্রোটোকলের কিগালি সংশোধনী হলো হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার এবং উৎপাদন ধীরে ধীরে হ্রাস করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর রুয়ান্ডার কিগালিতে মন্ট্রিল প্রটোকলের ২৮তম সভায় শক্তিশালী গ্রিন হাউজ গ্যাস-হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধিত হয়।
- সংশোধনীটি বাস্তবায়িত হলে এই শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কমানো সম্ভব হবে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট। [link]
ii) Ozone Secretariat। [link]
৪৮৯.
বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমানা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. বাসেল কনভেনশন
  2. ভিয়েনা কনভেনশন
  3. স্টকহোম কনভেনশন
  4. রামসার কনভেনশন
ব্যাখ্যা

বাসেল কনভেনশন:
- 'বাসেল কনভেনশন' হলো বিপদজনক বর্জ্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন।
- বাসেল কনভেনশনের পুরো নাম- The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- বাসেল কনভেনশন গৃহীত হয় ২২ মার্চ, ১৯৮৯ সালে।
- এটি গৃহীত হয় সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে।
- 'বাসেল কনভেনশন'-এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯২ সালে।
- বাংলাদেশকে 'বাসেল কনভেনশন' অনুমোদন করে ১৯৯৩ সালে।

অন্যদিকে,
- ভিয়েনা কনভেনশন: ১৯৮৫ সালে স্বাক্ষরিত, অজোন লেয়ার ধ্বংসকারী পদার্থ (যেমন CFC) নিয়ন্ত্রণের জন্য।
- স্টকহোম কনভেনশন: ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত, স্থায়ী জৈব দূষণকারী পদার্থ (POPs যেমন DDT) উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য।
- রামসার কনভেনশন: ১৯৭১ সালে স্বাক্ষরিত, জলাভূমি (ওয়েটল্যান্ডস) সংরক্ষণ ও বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য।

উৎস: বাসেল কনভেনশন ওয়েবসাইট।

৪৯০.
জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি নিচের কোনটি?
  1. জেনেভা চুক্তি
  2. কিয়োটো চুক্তি
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. শেনজেন চুক্তি
ব্যাখ্যা
কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol):
- কার্টাগেনা প্রোটকলের পূর্ণনাম - The Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity.
- কার্টাগেনা প্রটোকল জৈব-নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এই চুক্তিটি কলম্বিয়ার কার্টাগেনাতে আলোচিত হয়।
- চুক্তি অনুমোদন - ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সাল।
- চুক্তি কার্যকর - ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল।

তথ্যসূত্র - কনভেনশন অন বায়ো-ডাইভার্সিটি (CBD) ওয়েবসাইট।
৪৯১.
মন্ট্রিয়াল প্রটোকল কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিলো?
  1. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ
  2. ওজোস্তরের ক্ষয় সাধন রোধ করা
  3. জীবাণুঘটিত অস্ত্র নিষিদ্ধ করা
  4. ক্ষতিকর বর্জ্যের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক মন্ট্রিয়াল প্রটোকল গৃহীত হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই প্রটোকল গৃহীত হয়।

চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৮৯ সালে। এতে মোট ১৯৭ টি দেশ স্বাক্ষর করেছে এবং স্বাক্ষরকারী সবগুলো দেশই চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ওয়েবসাইট)
৪৯২.
গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত প্রটোকল কোনটি?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. কার্টাগোনা প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

• গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত প্রটোকল হলো- কিয়োটো প্রটোকল।

• কিয়ােটো প্রটোকল:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানাের উদ্দেশ্যে জাপানের কিয়ােটো শহরে কিয়ােটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানের কিয়োটো শহরে অনুষ্ঠেয় ৩য় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন বা Conference of Parties (CoP)-3 এ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- ‘কার্বন ক্রেডিট’ কিয়ােটো প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত। 
- এর অংশীদার মােট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- প্রথম স্তরের মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালে।
- মেয়াদ বাড়ানোর পরে সর্বশেষ এটির মেয়াদ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সালে।
- বাংলাদেশ কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয় ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর এবং
- ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে অনুমোদন দেয়।  
- কিয়োটো প্রটোকল প্রত্যাহারকারী প্রথম দেশ - কানাডা।
 
অন্যদিকে,
- 'মন্ট্রিল প্রটোকল' ওজোনস্তর ক্ষয়কারী বস্তু-সামগ্রীর উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকল।
- 'কার্টাগেনা প্রটোকল' জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- 'নাগোয়া প্রটোকল' বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য স্বাক্ষরিত প্রটোকল।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং রয়টার্স।

৪৯৩.
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) -এর সদস্য সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৮০
  2. খ) ১৮৫
  3. গ) ১৯০
  4. ঘ) ১৯৩
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জাতিসংঘের বিশেষায়িত একটি সংস্থা। 
- (WMO) এর পূর্ণরূপ The World Meteorological Organization (WMO)।
- (WMO) প্রতিষ্ঠা লাভ করে ২৩মার্চ, ১৯৫০ সালে।
- এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের  জেনেভায় অবস্থিত।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বর্তমান সদস্য সংখ্যা মোট  ১৯৩টি। 
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বর্তমান সদস্য -১৮৭টি  দেশ এবং ৬টি টেরিটরি নিয়ে গঠিত। 

উৎস : (WMO) ওয়েবসাইট।
৪৯৪.
ভিয়েনা কনভেনশনের মূল লক্ষ্য কী?
  1. ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ
  2. গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ
  3. ক্ষতিকর বর্জ্য চলাচল বিষয়ক
  4. জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা

ভিয়েনা কনভেনশন:
- Vienna Convention for the Protection of the Ozone Layer (ভিয়েনা কনভেনশন)- হলো জাতিসংঘের ওজোন স্তরের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি।
- স্বাক্ষর ও গৃহীত - ১৯৮৫ সালের ২২ মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়।
- কার্যকর ১৯৮৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর।
- স্বাক্ষরকারী পক্ষ - ২৮টি।
- অনুমোদনকারী পক্ষ - ১৯৮টি।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।

৪৯৫.
'ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সীমিতকরণ' কোন প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল? 
  1. কার্টাগেনা প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. কিয়েটো প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা
পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন চুক্তির বিষয়বস্তু:

• মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষর হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিলে।
• ১ জানুয়ারি ১৯৮৯ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
• বিষয়বস্তু: ওজোন স্তরের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সীমিতকরণ।
• বাংলাদেশ সমর্থন করে: ২ আগস্ট, ১৯৯০ 
- অপরদিকে, 
• কার্টাগেনা প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল- জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।
• কিয়েটো প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল- গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ।
• নাগোয়া প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল- বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ। 

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৪৯৬.
পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ‘রিও ডিক্লারেশন’ কবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯২ সালের রিও সম্মেলন: 
- ১৯৯২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ‘রিও ডিক্লারেশন’ গৃহীত হয়। 

- জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCED), যা ‘Earth Summit’ নামে পরিচিত, ৩-১৪ জুন ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত প্রথম মানব পরিবেশ সম্মেলনের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এটি আয়োজন করা হয়।
- এই সম্মেলনে ১৭৯টি দেশের রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, বিজ্ঞানী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও এনজিও অংশগ্রহণ করে।
- এজেন্ডা ২১: ২১তম শতাব্দীতে টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা।
- রিও ডিক্লারেশন (১৯৯২ সাল): ২৭টি সার্বজনীন নীতি, যা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গঠন করে।
- জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC): বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রথম উদ্যোগ।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কনভেনশন: বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- রিও সম্মেলন টেকসই উন্নয়নের ধারণাকে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: United Nations ওয়েবসাইট।
৪৯৭.
দোহা সংশোধনী কোন প্রটোকলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা

দোহা সংশোধনী:
- ২০১২ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে অনুষ্ঠিত হয় কপ - ১৮ সম্মেলন।
- এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য ছিল কিয়োটো প্রটোকলের দ্বিতীয় পর্ব (২০১৩-২০২০) এবং কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য গৃহীত হয়েছিল।
- একে বলা হয় দোহা সংশোধনী।

উল্লেখ্য,
- কিয়োটো প্রটোকল হল United Nations Framworks Convention on Climate Change (UNFCCC) একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কার্বনের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়ে পৃথিবীকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া থেকে উদ্ধার করার জন্যেই মূলত এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।‍
- প্রথম পর্বের পর কিয়োটো প্রটোকলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দ্বিতীয় পর্বের জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, এবং সেগুলোই দোহা সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৪৯৮.
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কত সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার টার্গেট স্থির করেছে?
  1. ২০৩০ সাল
  2. ২০৪১ সাল
  3. ২০৫০ সাল
  4. ২১০০ সাল
ব্যাখ্যা
দ্য গ্রিন নিউ ডিল ফর ইউরোপ: 

• বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের প্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কার্বন প্রভাবমুক্ত ইউরোপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে 'দ্য গ্রিন নিউ ডিল ফর ইউরোপ' গ্রহণ করেছে।
• এর অংশ হিসেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২০৫০ সালের মধ্যে তার অঞ্চলে ১৯৯০ সালের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যস্থির করেছে।
• ২০৩০ সালের অন্তত ৫৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে।

উৎস: ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ওয়েবসাইট। 
৪৯৯.
জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ চুক্তি কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
ICAN: 
- পূর্ণরূপ International Campaign to Abolish Nuclear Weapons. 
- ICAN একটি বিস্তৃত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচারণা, যা সারা বিশ্বে নাগরিক সমাজকে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ ও বিলুপ্তির লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় করতে কাজ করে।
- এটি একশটিরও বেশি দেশের বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।
- ICAN -এর প্রধান কার্যালয় জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে।
- ICAN ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এপ্রিল ২০০৭-এ অস্ট্রিয়ায় উদ্বোধন করা হয়।
- এর প্রেরণা আসে আন্তর্জাতিক ল্যান্ডমাইন নিষিদ্ধ প্রচারণার সাফল্য থেকে, যা অটোয়া চুক্তি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিল।
- ২০১৭ সালের ৭ জুলাই, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ চুক্তি গৃহীত হয়।
- ২০১৭ সালে নরওয়ের অসলোতে এক অনুষ্ঠানে ICAN-কে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- এটি পারমাণবিক অস্ত্রের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ এবং চুক্তি-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা প্রতিষ্ঠার জন্য অগ্রণী প্রচেষ্টা স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
- বর্তমানে ১১০টি দেশে আইসিএএন-এর সক্রিয় অংশীদার রয়েছে।

উৎস: ICAN ওয়েবসাইট।
৫০০.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা কত ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিলো?
  1. ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-২০১৫:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ–২১ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।

⇒ চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম করা।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।