বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কৃৎ-প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন৬৩৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কৃৎ-প্রত্যয়

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৩৪

২০১.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চোরা
  2. চড়াই
  3. লাজুক
  4. নাচন্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√নাচ্ + অন্ত = নাচন্ত;
√ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত;
√চল্ + অন্ত = চলন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• আ-প্রত্যয় (অবজ্ঞার্থে): চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• আই-প্রত্যয় ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে: বড় + আই = বড়াই, চড়া + আই = চড়াই
• উক-প্রত্যয় বিশেষণ গঠনে: লাজ + উক = লাজুক, মিশ + উক = মিশুক, মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২০২.
কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. মেঘলা
  2. চারিত্রিক
  3. দাতব্য
  4. পানসে
ব্যাখ্যা

• 'দাতব্য' - কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- দা + তব্য।

অন্যান্য অপশন:
- 'মেঘলা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- মেঘ + লা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
- 'পানসে' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- পানি + সে (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
- চারিত্রিক (তদ্ধিতান্ত শব্দ); 'চারিত্রিক' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-চরিত্র + ইক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২০৩.
'নেত্র' - এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ নে + ত্র
  2. √ নী + ত্র
  3. √ নেত্‌ + র
  4. √ নী + তা 
ব্যাখ্যা

• 'নেত্র' শব্দটি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

• নেত্র (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ নী + ত্র।
অর্থ: চোখ, নয়ন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২০৪.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পাগলামি
  2. বিবিয়ানা
  3. ফনিল
  4. কণ্টকিত
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।

যেমন:
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ভরা + অট = ভরাট;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: - কণ্টক + ইত = কণ্টকিত; ফেন + ইল্ = ফনিল। 
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ -  বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
'কার্য' এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. কৃ + য
  2. কৃৎ + অর্য
  3. কৃৎ + য
  4. কার + য
ব্যাখ্যা
• কার্য  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √কৃ+য;
- এটি কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত।।
অর্থ: 
- কাজকর্ম, 
- প্রয়োজন, নিমিত্ত, 

• 'য' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
- সুন্দর+য = সৌন্দর্য;
- কৃ+য = কার্য; 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।।
২০৬.
‘পাঞ্চভৌতিক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পঞ্চভূত + ইক
  2. পঞ্চভূত + ইত
  3. পঞ্চভূত + ষ্ণিক 
  4. পাঁচভূত + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা (ইমন্‌  প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২০৭.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. মিশুক
  2. মায়াবী
  3. নিন্দক
  4. চড়ক
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √চড়্‌ + ক = চড়ক,
- √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক,
- √মিশ + উক = মিশুক।

অন্যদিকে,
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মায়া + বইন = মায়াবী। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৮.
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) গীতি
  2. খ) বুদ্ধি
  3. গ) শক্তি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো- গীতি = √গৈ + ক্তি, বুদ্ধি = √বুদ্ + ক্তি, সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি, শক্তি = √শক্ + ক্তি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২০৯.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গ্রাহী
  2. বেড়ি
  3. মিশাল
  4. ভাজি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
• ক্ত-প্রত্যয়:
- √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত।
- √গম্ + ক্ত (গম্ + ত) = গত।
- √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা + ত) = জ্ঞাত।

• ণিন-প্রত্যয়:
(ণ ইৎ, ইন্‌ থাকে, ইন্ 'ঈ'-কার হয়):
- √গ্রহ + ণিন = গ্রাহী,
- √পা + ণিন = পায়ী।

এরূপ-কারী, দ্রোহী, সত্যবাদী, ভাবী, স্থায়ী, গামী। কিন্তু 'ণিন' যুক্ত হলে 'হন' ধাতুর স্থলে 'ঘাত' হয়। যথা

অন্যদিকে,
-----------------
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
• আল-প্রত্যয়:
- মাত্ + আল = মাতাল,
- মিশ্ + আল = মিশাল।

• ই-প্রত্যয়:
বিশেষ্য গঠনে 'ই' প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়।
যথা-
- ভাজ্ + ই = ভাজি,
- বেড় + ই = বেড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২১০.
'মরমর' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মর + মর
  2. খ) √মর + মর
  3. গ) √মর্ + অ
  4. ঘ) √মর্ + মর
ব্যাখ্যা
কোন কোন সময় অ-প্রত্যয়যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত প্রয়োগ হয় (আসন্ন সম্ভাব্যতা অর্থে)৷
যেমন- √পড় + অ = পড়পড়, √মর্ + অ = মরমর (অবস্থা), √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
২১১.
'কাঁদন' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কাঁদ্ + অ
  2. √কাঁদ্ + অন
  3. √কাদ্ + ইক
  4. √কাঁদ্ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
কৃৎপ্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন্):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।

যেমন:-
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √বাঁধ + অন = বাঁধন, 
- √চল্ + অন = চলন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
২১২.
‘পাঠক’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় নিচের কোনটি?
  1. ক) পাঠ + অনক
  2. খ) পঠ + ণক
  3. গ) পাঠ্য + ণক
  4. ঘ) পাঠ + আক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
পাঠক’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √পাঠি + অক 
পাঠক’ শব্দটির অর্থ
১.পাঠকারী 
২.ছাত্র
৩.কথক
৪.শিক্ষক, অধ্যাপক 
পাঠক’ শব্দটির স্ত্রীরূপ হলো: পাঠিকা 

ণক—প্রত্যয় ('ণ' ইৎ ‘অক’ থাকে) :
√পঠ+ণক=√পঠ+অক=পাঠক। মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে ‘অ’ স্থানে ‘আ’ হয়েছে।
যেমন-√নী + ণক=(নৈ+অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক, √গৈ + ণক=গায়ক,√লিখ + ণক= লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ
২১৩.
"ভ্রাম্যমাণ" শব্দটিতে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. মাণ
  2. ষ্ণ
  3. শানচ্‌
ব্যাখ্যা

• 'ভ্রাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ ভ্রাম্য + শানচ্‌।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৪.
'সুপ্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সু + অপ্ত 
  2. √সু + ক্ত
  3. √স্বপ্ + ক্ত
  4. √সুপ্‌  + ক্ত
ব্যাখ্যা

কৃৎ-প্রত্যয়ের বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৫.
কোনটি 'করপাল' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. কর + √পাল + অ
  2. কর + √পালা + অ
  3. কর + √পালি + অ
  4. কর + √পালী + অ
ব্যাখ্যা
করপাল:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = কর + √পালি + অ
- অর্থ: তরবারি, অসি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১৬.
'ক্ষয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. √ক্ষী + অল্‌
  2. √ক্ষ + অল্‌
  3. √ক্ষি + অল্‌
  4. √ক্ষৃ্ + অল্‌
ব্যাখ্যা
'ক্ষয়' শব্দটি সংস্কৃত 'অল'-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে) যোগে গঠিত শব্দ। এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে-
- √ক্ষি + অল্‌ = ক্ষয়,
- √জি + অল্‌ = জয়,
- √ভি + অল্‌ = ভয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৭.
'স্মৃতি' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সৃৎ +তি
  2. √স্মৃ + তি
  3. √শ্রী +তি
  4. √স্মৃৎ + তি
ব্যাখ্যা
• স্মৃতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (√স্মৃ+তি),
অর্থ:
- অতীত বিষয় স্মরণ।
- মনে রাখার ক্ষমতা

• কৃৎ প্রত্যয় এর নিয়ম:
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- তি প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √বৃষ + তি = বৃষ্টি;
- √স্মৃ + তি = স্মৃতি;
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
-√বাড় + তি = বাড়তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৮.
'রক্ষণীয়' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √রক্ষ + নীয়
  2. √রক্ষ্ + অনয়
  3. √রক্ষ্ + অনীয়
  4. √রক + অনীয়
ব্যাখ্যা
• 'রক্ষণীয়' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √রক্ষ্ + অনীয়। 
-------------------- 
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ।
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন -
→ √গম্ + অন = গমন,
→ √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়:
কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়।
(ক) তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য, √দা + তব্য = দাতব্য, √পঠ্‌ + তব্য = পঠিতব্য।
(খ) অনীয়: √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ্‌ + অনীয় = রক্ষণীয়, √দৃশ্‌ + অনীয় = দর্শনীয়।
এরূপ - পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৯.
’পঠিতব্য’-শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পঠি + তব্য
  2. √পট্ + তব্য
  3. √পঠ্ + তব্য
  4. √পাঠ্য + তব্য
ব্যাখ্যা
• ’তব্য’ ও ’অনীয়’ কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়।
 √কৃ + তব্য = কর্তব্য,
√দা + তব্য = দাতব্য,
√পঠ্ + তব্য = পঠিতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২২০.
'গম্য' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ গৈ + য
  2. √ গৈম্‌ + য
  3. √ গম্‌ + য
  4. √ গম্‌ + অ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'গম্য' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - '√ গম্‌ + য'। 

• 'গম্য' (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
অর্থ: 
- গমনীয়, 
- গন্তব্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২২১.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দ নয়?
  1. চলন্ত
  2. দোলনা
  3. মুখর
  4. লিখিত
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়: 
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন-
দিন+ইক = দৈনিক;
দুল্+অনা = দোলনা;

তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন,
মুখ+র = মুখর,
মধু+র = মধুর। 
উপরের উদাহরণে ‘র’ তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ‘মুখর’ ও মধুর' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ। 

--------------------
কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন,
√ দুল্+অনা = দোলনা;
√ চল্‌ + অন্ত = চলন্ত;
√ লিখ +ত=লিখিত;
√ কৃ+তব্য = কর্তব্য।

উপরের উদাহরণে, ‘অনা’, 'অন্ত', 'ত' ও ‘তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং ‘দোলনা, 'চলন্ত', 'লিখিত' ও ‘কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২২২.
'ক্রেতা' শব্দটির ধাতু কোনটি?
  1. তৃচ
  2. ক্রী
  3. তা 
  4. ক্রয় 
ব্যাখ্যা

• 'ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √ক্রী + তৃচ। অর্থ্যাৎ, এর ধাতু হলো - ক্রী।

• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ=√দা + তৃ=√দা + তা= দাতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃঢ় = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২২৩.
'ভাব' অর্থে কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ঢাকাই
  2. খ) ইতরামি
  3. গ) জমিদারি
  4. ঘ) কানাই
ব্যাখ্যা
• 'ভাব' অর্থে ব্যবহৃত প্রত্যয়জাত শব্দ ইতরামি
- প্রত্যয় যোগ করলে অনেক সময় অর্থ বদলে যায়।
- বিভিন্ন অর্থে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
আদর অর্থে: কানু→ কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা→ ঢাকাই।
মালিক অর্থে: জমিদার→ জমিদারি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৪.
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গত
  2. শৈশব
  3. মানানসই
  4. ছাপাখানা
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ: '√গম্‌ + ত = গত'।  

অন্যদিকে,
• 'শৈশব'= শিশু + অ'; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• 'মানানসই = মানান + সই'; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• 'ছাপাখানা = ছাপা + খানা'; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৫.
'কর্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কর+ তব্য
  2. খ) √কৃ+ তব্য
  3. গ) কৃৎ + তব্য
  4. ঘ) কৃ+ অব্য
ব্যাখ্যা
'কর্তব্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় -√কৃ+ তব্য
- এটি একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এর শুদ্ধ উচ্চারণ: কর্‌তোব্‌বো।
- 'কর্তব্য' অর্থ: করণীয় বা উচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৬.
তদ্ধিত প্রত্যেয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. হাতল
  2. ফুলেল
  3. মুখর
  4. লিখিত
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) হাতল → তদ্ধিত প্রত্যয় (হাত + ল → যন্ত্র/অঙ্গ নির্দেশক)।
খ) ফুলেল → তদ্ধিত প্রত্যয় (ফুল + এল → সুশোভিত)।
গ) মুখর → তদ্ধিত প্রত্যয় (মুখ + র → ধ্বনিসম্পন্ন)।
ঘ) লিখিত → কৃদন্ত শব্দ (√ লিখ্ + ত = লিখিত → ক্রিয়াধাতু থেকে কৃত প্রত্যয়ে গঠিত)

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ঘ) লিখিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২৭.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দীপ্য + মান = দীপ্যমান
  2. √বিদ্য + মান = বিদ্যমান
  3. √বর্ত + মান = বর্তমান
  4. √যজ্ + মান = যজমান
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -মান (শানচ্)
ঘটমান অর্থে-
- √বৃৎ + মান = বর্তমান,
- √যজ্ + মান = যজমান,
- √বিদ্‌ + মান বিদ্যমান,
- √দীপ্ + মান = - দীপ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৮.
অশুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নাচ্ + অন = নাচন
  2. √দুল্ + অনা = দোলনা
  3. √খেল্ + অনা = খেলনা
  4. √কৃ + অন = করণীয়
ব্যাখ্যা
• 'করণীয়' শব্দটির শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় — √কৃ + অনীয়। 
------------------- 
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে।
যথা:
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: 
√নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৯.
'জাগরূক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃত প্রত্যয় কোনটি?
  1. জাগৃ + ঊক 
  2. জাগর + উক
  3. জাগৃ + উক
  4. জাগ্র + ঊক
ব্যাখ্যা

• উক/ঊক- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- ভু + উক = (ভৌ + উক) ভাবুক,
- জাগৃ + ঊক = (জাগর + ঊক) জাগরূক।

এরূপ কিছু সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো-
• ক্ত-প্রত্যয় ('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।
• তব্য: √কৃ + তব্য =  কর্তব্য, দা + তব্য = দাতব্য, পঠ + তব্য = পঠিতব্য।
• ইন্ প্রত্যয় (ইন)-ঈ-কার হয়): √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
• অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে): জি + অল্ = জয়, ক্ষি + অল্ = ক্ষয়। এরূপ-ভয়, নিচয়, বিনয়, ভেদ,বিলয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৩০.
'√চল্ + অন = চলন' এখানে 'অন' হচ্ছে- 
  1. ক্রিয়া প্রকৃতি
  2. কৃৎ-প্রত্যয়
  3. ধাতু 
  4. কৃদন্ত পদ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ। ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন-
- √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ) । চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন্ত (বিশেষণ পদ)৷

‘প্রকৃতি’ কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ প্রকৃতি চিহ্নটি ব্যবহার করলে ‘প্রকৃতি’ শব্দটি লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন –√পড়+ উয়া =পড়ুয়া। √নাচ্+উনে = নাচুনে।

- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। যেমন– ওপরের উদাহরণে ‘পড়ুয়া’ ও ‘নাচুনে’ কৃদন্ত পদ
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়। যেমন √গম্+অন=গমন, √কৃ+তব্য=কর্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২৩১.
‘চূর্ণ’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চুর্ণ + ষ্ণিক
  2. √চুর্ + ক্ত
  3. √চুর + না
  4. √চূর্ণ + ই
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩২.
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বচ্‌ + ক্ত
  2. বপ্‌ + ক্ত
  3. উপ্‌ + ক্ত
  4. উ + ক্ত
ব্যাখ্যা
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় বপ্‌ + ক্ত।

• সূত্র:

- ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- √গম্+ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ+ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্+ক্ত = চূর্ণ,
- √দা+ক্ত = দত্ত,
- √দহ্+ক্ত = দগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩৩.
কোনটি ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ ?
  1. শৈব
  2. সৌর
  3. দৈব
  4. চৈত্র
ব্যাখ্যা
- 'সৌর': ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয় যুক্ত শব্দ। 
নিপাতনে সিদ্ধ: সূর্য + ষ্ণ= সৌর (সাধারণ নিয়মে- সুর+ ষ্ণ (অ)= সৌর হত)। 

- 'শৈব'- শিব+ ষ্ণ (অ)  নিয়মে হয়েছে।
- 'দৈব'- দেব+ ষ্ণ (অ) নিয়মে হয়েছে।
- চৈত্র' শব্দটি -'চিত্র ( একটি নক্ষত্রের নাম) + ষ্ণ নিয়মে হয়েছে।

নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো-

গীতি = √গৈ + ক্তি,
বুদ্ধি = √বুধ্‌ + ক্তি, 
সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি,
শক্তি = √শক্ + ক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৪.
'পালনীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পাল্‌ + নীয়
  2. √পালন্‌ + নীয়
  3. √পাল্‌ + অনীয়
  4. √পালি্ + নীয়
ব্যাখ্যা



• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয়: যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √পাল্‌ + অনীয় = পালনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়।

এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩৫.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বিবিয়ানা
  2. বেতানো
  3. চালানো
  4. মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বিবিয়ানা (বিবি + আনা)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মুনশিয়ানা (মুনশি + আনা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩৬.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চামার
  2. ধারালো
  3. মোড়ক
  4. পোষ্টাই
ব্যাখ্যা
• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

অন্যদিকে,
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- ধার + আল্ = ধারাল/ ধারালো।
- চাম (চর্ম) + আর = চামার।
- পোষ্টা + আই = পোষ্টাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৭.
‘প্রচলিত’ শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ই প্রত্যয়
  2. ত প্রত্যয়
  3. ঈয় প্রত্যয়
  4. ইত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'প্রচলিত' শব্দ। 
- ইত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: প্র + √ চল্‌ + ইত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২৩৮.
'বর্ধন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বর্ধ+অন
  2. √বৃদ্ধি+অন
  3. √বৃধ্‌+অন
  4. √বর্ধি+অন
ব্যাখ্যা
বর্ধন (বর্‌ধোন্‌)
সংস্কৃত শব্দ
সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় =  √বর্ধি+অন
- বিশেষ্য 
অর্থ - বৃদ্ধি, উন্নতি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৩৯.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি
  2. লতা + আনো = লতানো
  3. পো + আত = পোয়াত
  4. পল্লব + ইত = পল্লবিত
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

----------------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪০.
কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) জমক+আলো= জমকালো
  2. খ) চরিত্র+ইক=চারিত্রিক
  3. গ) ভাজ্‌+ই = ভাজি
  4. ঘ) সর্বজন+ঈন=সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
- কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ ভাজ্‌+ই = ভাজি

• অন্যান্য অপশন:
- জমক+আলো= জমকালো
- চরিত্র+ইক=চারিত্রিক
- সর্বজন+ঈন=সর্বজনীন
উপরের তিনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
২৪১.
’উপ্ত’ শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √উপ+ক্ত
  2. √বিপ্+ক্
  3. √বিপ্+ক্ত
  4. √বপ্+ক্ত
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ’উপ্ত’ শব্দের সঠিক প্রকৃত প্রত্যয় = √বিপ্+ক্ত।

• কোন শব্দে ’ক্ত’ প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
√গম্ + ক্ত = গত,
√গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
√চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
√ছিদ্‌+ক্ত = ছিন্ন,
√জন্+ক্ত = জাত,
√দা + ক্ত = দত্ত,
√দহ্ + ক্ত = দগ্ধ,
√বচ্ + ক্ত = উক্ত,
√বপ্+ক্ত = উপ্ত,
√মুহ্ + ক্ত = মুগ্ধ,
√যুধ + ক্ত = যুদ্ধ,
√সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট,
√হন্ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৪২.
'দাতা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. √ দৃ + তৃচ
  2. √ দাতৃ+ আ
  3. √ দা + তা
  4. √দান + তৃচ
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়: উৎস অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কৃৎ প্রত্যয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। 

• সংস্কৃৃৃত তৃচ্‌-প্রত্যয়: তৃচ্‌-প্রত্যয়ে চ্ লোপ পেয়ে প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' এর স্থলে 'তা'  হয়।
যেমন-
√ দা + তৃচ = √ দা + তা = দাতা।
√মা+তৃচ = √মা+তা = মাতা।

তবে প্রকৃত-প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির অভিধান অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায়। অধিক গ্রহণযোগ্য সঠিক উত্তর অপশন ‘গ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪৩.
'মানান' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি -প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মান্ + অন
  2. √মান্ + আন
  3. √মান্ + নান
  4. √মান্ + ওন
ব্যাখ্যা
• ‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √চাল্ + আন = চালান/চালানো।

এরূপ,
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘আ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ‘অন্’ স্থলে ‘ওন’ হয়। কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

• ‘অন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
- √নাচ্ + অন = নাচন।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৪.
‘ভোজন’ এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ভুজ + অনট
  2. √ভোজ + অনট
  3. √ভু + অনট
  4. √ভূজ + অনট
ব্যাখ্যা
• 'অনট': ('ট' ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে) প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √নন্দি + অনট = নন্দন।
- √ভুজ্‌ + অনট = ভোজন।  
- √শ্রু+অনট = শ্রবণ।
- √স্থা+অনট = স্থান।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'ভোজন'- শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় '√ ভুজ্‌ + অন; যার অর্থ- 'আহার গ্রহণকারী। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪৫.
কৃষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়-
  1. কৃ্ষ্ + তি
  2. কৃষ্ + টি
  3. কৃ + ইষ্টি
  4. কৃষ্ + ইষ্টি
ব্যাখ্যা
• ‘কৃষ্টি’ এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়- √কৃষ্ + তি।

• কৃষ্টি (বিশেষ্য পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (√কৃষ্‌ + তি),
অর্থ:
- হালচাষ;
- কর্ষণ;
- কৃষিকার্য।

• নিয়ম:
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- তি প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি;
- √স্মৃ + তি = স্মৃতি;
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
-√বাড় + তি = বাড়তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৬.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. √দা+তৃ = দাতা
  2. √মা + তৃচ্ = মাতা
  3. √ক্রী + তৃচ্  = ক্রেতা
  4. √কৃ + তৃচ = ক্রেতা
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- তৃচ্- প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।

যেমন-
- √দা + তৃচ্ =√দা+তৃ = দা+তা = দাতা।
- √ মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্  = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪৭.
ধাতুর সঙ্গে কোন প্রত্যয় যুক্ত হলে সেটিকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলা হয়?
  1. কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত-প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. সমাস
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হলে সেটিকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলা হয়।
যেমন: খেল্ + অন = খেলন
এখানে,
'খেল্' হচ্ছে ধাতু এবং 'অন' হচ্ছে কৃৎ-প্রত্যয়।

• প্রাতিপদিকের ক্ষেত্রে তদ্ধিত-প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং তখন সেটিকে নাম-প্রকৃতি বলা হয়।


প্রাতিপদিক:

- লাঙ্গল- এর সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। 
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।

- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৮.
"জানানি" - শব্দটি কোন প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।

আনি-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √জান্ + আনি = জানানি,
- √শুন্ + আনি = শুনানি, 
- √উড় + আনি = উড়ানি,
- √উড় + উনি = উড়ুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৯.
'দাতব্য' শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি রয়েছে?
  1. অ 
  2. অব্য
  3. তব্য
  4. ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• 'দাতব্য' এর  সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √ দা + তব্য। এখানে, 'দা' এর সাথে - 'তব্য' প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে।

• দাতব্য (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ দা + তব্য।
অর্থ: বিনা মূল্যে বিররণ করা হয় এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২৫০.
বিশেষণ পদ এর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চলন্ত
  2. খেলোয়াড়
  3. পানসে
  4. লিখিত
ব্যাখ্যা



এখানে 'চল' বিশেষণ পদ। 'চল' শব্দের সাথে 'অন্ত' বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ চলন্ত। 

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত; 
- √চল্‌ + অন্ত = চলন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
√লিখ্‌ + ত = লিখিত; এখানে 'লিখ্‌' ধাতুর সঙ্গে 'ত' প্রত্যয় যোগে লিখিত শব্দটি গঠিত হয়েছে।

এবং, খেলোয়াড় ও পানসে প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫১.
‘পাঠক’ শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়?
  1. ক) ইল
  2. খ) ণক
  3. গ) উক
  4. ঘ) ষ্ণ্যিক
ব্যাখ্যা
গায়ক, পাঠক, নায়ক, লেখক এই শব্দগুলো ণক-প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫২.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. জ্ঞাত
  2. হার
  3. গত
  4. খ্যাত
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - হার (√হার্ + অ)।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ।
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন -
- √গম্ + অন = গমন,
- √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
• অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন -
- √ধর্ + অ = ধর,
- √মার + অ = মার।
- আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন -
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ: √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত, √গম্‌ + ক্ত (গম্‌ + ত) = গত, √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা + ত) = জ্ঞাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়?
  1. সিদ্ধি
  2. দাতব্য
  3. মাতা
  4. রক্ষণীয়
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধু + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ+ ক্তি = বুদ্ধি,
- √শক্ + ক্তি = শক্তি।

অন্যদিকে,
-------------
• তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য, √দা + তব্য = দাতব্য, √পট্ + তব্য = পঠিতব্য।
• অনীয়: √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ + অনীয় = রক্ষণীয়। এরূপ-দর্শনীয়, পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে): প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়। যেমন-√দা + তৃচ্ =√দা + তৃ; দা+তা = দাতা; মা + তৃচ্ = মাতা, ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫৪.
'গায়ক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ গায় + অক
  2. √গৈ + ণক
  3. √ গৈঃ + নক
  4. √গৈ + নক
ব্যাখ্যা

ণক- কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে): যেমন:
- √গৈ + ণক (অক) = গায়ক
- [মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।]

• আরও কিছু উদাহরন-
- √নী + ণক = (নৈ + অক- প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক।
- √পঠ্‌+ণক =√পট্ + অক = পাঠক।
- √লিখ্ + ণক (অক) = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫৫.
প্রকৃতি কয় প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু,
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।

ক্রিয়া-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি অবস্থান, গতি বা অন্য কোনো প্রকারের ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলে।

যেমন:
- √চল্, √পড়, √রাখ, √দৃশ্, √কৃ প্রভৃতি ক্রিয়া-প্রকৃতি।

নাম-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি কোনো দ্রব্য, জাতি, গুণ বা কোনো পদার্থকে বোঝায়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।

যেমন:
- মা, চাঁদ, গাছ, প্রভৃতি নাম-প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৫৬.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় নয়?
  1. √পড়্‌ + অ = পড়
  2. √কাঁদ্ + অন = কাঁদন
  3. √কৃ + তব্য = কর্তব্য
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়্‌ + অ = পড়

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন
 
অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ(অচ্)
√পট্ + অ = পাঠ,
√জি + অ = জয়,
√কৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৫৭.
‘চড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চর + আও
  2. √চড়া + অও
  3. √চড়া + আও
  4. √চড় + আও
ব্যাখ্যা
⇒ আও-প্রত্যয়:
ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আও’ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √পাকড় + আও = পাকড়াও।
- √চড় + আও = চড়াও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৮.
’শান্তি’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শম্ + ক্তি
  2. √শান + ক্তি
  3. √শাম্ + ক্তি
  4. √শম্ + ন্তি
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত প্রকৃতি-প্রত্যয় :

• কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।

যেমন
√শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),
√শম্ + ক্তি = শান্তি। (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),

• নিপাতনে সিদ্ধ:
√গৈ + ক্তি = গীতি,
√সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
√বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
√শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
২৫৯.
ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে যে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে কী বলে?
  1. কৃদন্ত শব্দ
  2. তদ্ধিতান্ত শব্দ
  3. প্রাতিপদিক শব্দ
  4. শব্দ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
- বাঘ + আ = বাঘা,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- দুল্ + অনা = দোলনা,
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

কৃৎ-প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৬০.
'জাগরূক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- 
  1. √জাগৃ + ওক
  2. √জাগরু + অক
  3. √জাগৃ + ঊক
  4. √জাগরণ + উক
  5. √জাগরু + উক
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-উক (ঊক):
- স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

যেমন:
- √কম্ + উক = কামুক;
- √ভূ + উক = ভাবুক (ভূ > ভৌ + উক = ভাবুক, বৃদ্ধি উ > ঔ)
- √জাগৃ + ঊক = জাগরূক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬১.
'ছিন্ন' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ছিদ্ + ক্ত
  2. √ছিন্ + ন
  3. √ছিদ্ + ন
  4. √ছিদ্ + ন্ন
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয়:
- ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

২৬২.
কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়?
  1. ঝলক
  2. মোড়ক
  3. ডুবন্ত
  4. শ্রবণ
ব্যাখ্যা

• কিছু বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হচ্ছেঃ
- কাঁদন,
- দোলন,
- ভাসানো,
- ডুবন্ত,
- উড়ন্ত,
- মোড়ক,
- ঝলক,
- শুনানি,
- ডুবুরী,
- ঘাটতি,
- কান্না,
- রান্না ইত্যাদি।
• অপরদিকে, শ্রবণ হচ্ছে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
যেমন- √শ্রু + অনট্ = শ্রবণ।

২৬৩.
'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বক্‌ + অব্য
  2. √বক্‌ +তব্য
  3. √বচ্‌ + তব্য
  4. √বচ্‌ +অব্য
ব্যাখ্যা
'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ বচ্‌ + তব্য।
এখানে,
- '√ বচ' সংস্কৃত ক্রিয়াপ্রকৃতি এবং 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।

- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬৪.
'কর্দম' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কাদা+ম
  2. খ) √কর্দ্‌+অম
  3. গ) কাদা+অম
  4. ঘ) √কর্দ্‌+ম
ব্যাখ্যা
কর্দম (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √কর্দ্‌+অম
অর্থ: 
- কাঁদা, পাঁক
- পাপ, কলুষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৬৫.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়?
  1. ক) মাঝি
  2. খ) পঙ্কিল
  3. গ) দুল
  4. ঘ) নীলিমা
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।

মনে রাখতে হবে: 
কৃৎ প্রত্যয়ে প্রদত্ত শব্দ দ্বারা কাজ বোঝাবে। কারণ কৃৎ প্রত্যয়ের শব্দটি গঠিত হয় ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগে, আর ধাতু হলো ক্রিয়ার মূল। ‘ক্রিয়া’ দ্বারা কোন কাজ করাকে বোঝায়। যেমন: ‘করা’, চলা, দিয়ে।

কৃৎ প্রত্যয়:
• √ডাক+অ = ডাক
• √ডাক্+আইত = ডাকাইত>ডাকাত
√দুল্+অ = দুল
• √ফির্+অত = ফিরত>ফেরত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৬.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. খ্যাত
  2. গ্রাহী
  3. জিত
  4. দ্রোহী
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
• অ-প্রত্যয়:
কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √ধর্ + অ = ধর,
- √মার + অ = মার।

আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
• ক্ত-প্রত্যয়:
- √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত। 
- √গম্ + ক্ত (গম্ + ত) = গত। 
- √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা + ত) = জ্ঞাত।

• ণিন-প্রত্যয়:
(ণ ইৎ, ইন্ থাকে, ইন্ 'ঈ'-কার হয়):
- √গ্রহ + ণিন = গ্রাহী,
- √পা + ণিন = পায়ী।

এরূপ-কারী, দ্রোহী, সত্যবাদী, ভাবী, স্থায়ী, গামী। কিন্তু 'ণিন' যুক্ত হলে 'হন' ধাতুর স্থলে 'ঘাত' হয়। যথা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৬৭.
'ত্যাগ' এর ধাতু অংশ হলো-
  1. √ত্যয্‌
  2. √ত্যজ্
  3. √ত্যগ্‌
  4. √ত্যঞ্‌
ব্যাখ্যা
• ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, 'অ' থাকে]:
- √বস্ + ঘঞ্‌ = বাস,
- √যুজ্ + ঘঞ্‌ = যোগ,
- √ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌ = ক্রোধ,
- √খুদ্‌ + ঘঞ্‌ = খেদ,
- √ভিদ্‌ + ঘঞ্‌ = ভেদ।

বিশেষ নিয়ম: √ত্যজ্ + ঘঞ্‌ = ত্যাগ, √পচ্ + ঘঞ্‌ = পাক, শুচ্ + ঘঞ্‌ = শোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৬৮.
'গৌরব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √গুর্‌ + ব
  2. খ) √গুর্‌ + অ
  3. গ) গুরু + ব
  4. ঘ) গুরু + অ
ব্যাখ্যা
গৌরব (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = গুরু+অ 
অর্থ: 
- গর্ব 
- অহংকার
- মহিমা, কৃপা, করুণা। 
- মর্যাদা, সম্মান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৬৯.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) মিঠাই
  2. খ) সৌভাগ্য
  3. গ) গণক
  4. ঘ) ঘরোয়া
ব্যাখ্যা
• গণক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√গণ্+অক]
অর্থ: গনতকার।

অন্যদিকে,
‘ওয়া’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।
‘ষ্ণ্য’ সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
‘আই’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ- মিঠা + আই = মিঠাই।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭০.
'ক্রেতা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ক্রী + তৃ
  2. খ) √ক্রী + তব্য
  3. গ) √ক্রী + তচ
  4. ঘ) √ক্রী + তৃচ
ব্যাখ্যা
'ক্রেতা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- √ক্রী + তৃ
- এটি হচ্ছে কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত সেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন-
√চল + অন্ত = চলন্ত।
√পড়ু + আ = পড়ুয়া।
√কৃ + তব্য = কর্তব্য।

উৎস:
১। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৭১.
‘মুক্তি‘- এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √মুচ্ + ক্তি
  2. খ) √মুচ্ + তি
  3. গ) √মুক্ + ক্তি
  4. ঘ) √মুক্ + তি
ব্যাখ্যা
‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।


*** আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য বলে সেটি সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
২৭২.
'জিত' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. জী + ইত
  2. জ + ইত
  3. জিত্‌ +অ
  4. জি + ইত
ব্যাখ্যা
• অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √ধর্+অ=ধর,
- √মার+অ=মার।
- আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন:
- √হার্ + অ = হার,
- √জিত্ + অ = জিত।
- কোনো কোনো সময় অ-প্রত্যয়যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
- যেমন: (আসন্ন সম্ভাব্যতা অর্থে দ্বিত্বপ্রাপ্ত) √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা)।
- এরূপ পড়্‌ + অ =পড়পড়,
- মর্ + অ = মরমর (অবস্থা) ইত্যাদি। কখনো কখনো দ্বিত্বপ্রাপ্ত কৃদন্ত পদে উ-প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- ডুব্‌ + উ= ডুবুডুবু।
- উড়্‌ + উ = উড়ুউডু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭৩.
সংস্কৃত ‘তৃচ্’-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কর্তব্য
  2. মাতা
  3. রতি
  4. উক্তি
ব্যাখ্যা
• তৃচ্-প্রত্যয় ( ‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।

অন্যদিকে,
• ক্তি - প্রত্যয় যোগ করলে কোন কোন ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
- √মন্‌ + ক্তি = মতি;
- √রম্‌ + ক্তি = রতি;
- √বচ্ + ক্তি = উক্তি;
- √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি।

• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়:
যেমন:
- √কৃ + তব্য = কর্তব্য;
- √দা + তব্য = দাতব্য;
- √পঠ্ + তব্য = পঠিতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৪.
’পড়পড়’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি
  1. √ পড়্‌ + পড়
  2. √ পড়্‌ + অ
  3. √ পড়্‌ + পড়া
  4. √ পড়্‌ + ড়
ব্যাখ্যা
•কৃৎ-প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন: 
-  অ-প্রত্যয় যুক্ত কৃদন্ত শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়।
যেমন
-  √কাঁদ্ + অ = কাঁদকাঁদ (চেহারা)।
- √পড় + অ=পড়পড়,
- √মর্ + অ = মরমর (অবস্থা) ইত্যাদি।

• কখনো কখনো দ্বিত্বপ্রাপ্ত কৃদন্ত পদে উ-প্রত্যয় হয়।
যেমন
√ডুব্‌ + উ = ডুবুডুবু।
√ উড়+উ = উড়ুউড়ু।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৭৫.
'জাগরিত' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাগ্ + ত
  2. √জাগ + রিত
  3. √জাগৃ + ইত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জাগরিত (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - [√জাগৃ + ত] 
অর্থ: ঘুম থেকে জেগেছে এমন, জাগ্রত, চেতনাপ্রাপ্ত।

অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ঘ) কোনোটিই নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭৬.
'মোড়ক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. √মুড়্ + অক
  2. √মোড + অক
  3. √মুড়্ + ওক
  4. √মোড + ওক
  5. √মোড় + অক
ব্যাখ্যা

- 'মোড়ক' শব্দটি বাংলা 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
- যার সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে √মুড়্ + অক = মোড়ক।
- এরূপঃ √ঝল্ + অক = ঝলক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৭.
'উক্তি' -এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ উচ্ + ক্তি
  2. √ বচ্ + উক্তি
  3. √ বচ্ + ক্তি
  4. √ উচ্ + তি
ব্যাখ্যা
• 'উক্তি' - এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: √ বচ্ + ক্তি।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ‘ক্তি' যোগে শব্দ গঠনে চ এবং জ এর স্থলে 'ক' হয়।

যেমন:
- বচ+ক্তি = উক্তি,
- মুচ+ক্তি = মুক্তি,
- ভজ+ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৮.
'গ্রাহী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রতয় নির্ণয় করুন-
  1. √গ্রহ + ণিন
  2. √গ্রা + হী
  3. √গৃ + হীণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
- ণিন-প্রত্যয় (ণ ইৎ, ইণ থাকে, ইন্ 'ঈ'-কার হয়):
- √গ্রহ+ ণিন = গ্রাহী, √পা + ণিন =পায়ী।
- এরূপ-কারী, দ্রোহী, সত্যবাদী, ভাবী, স্থায়ী, গামী।
- কিন্তু 'ণিন' যুক্ত হলে 'হন' ধাতুর স্থলে 'ঘাত' হয়।
- যথা: আত্ম-√হণ্‌+ণিন = আত্মঘাতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭৯.
'কর্তা' - শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ক্রী + তা
  2. √কৃ + তৃ
  3. √ক্রী + তৃ
  4. √কৃ + তচ্‌
ব্যাখ্যা

• 'কর্তা' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √কৃ + তৃ।

সূত্র:
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
√দা + তৃচ্=√দা+তৃ=√দা+তা= দাতা
√মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।
√কৃ + তৃ = কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৮০.
‘বাস’ কৃদন্ত পদের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বস্ + অ
  2. √বস্ + বর
  3. √বস্ + ঘঞ্
  4. √বস্ + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

ঘঞ্ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের উদাহরণ সীমিত।
আরও উদাহরণ :
ক্রোধ = √ক্রুধ্ + ঘঞ্
ভেদ = √ভিদ্ + ঘঞ্
যোগ = √যুজ্ + ঘঞ্
খেদ = √খুদ্ + ঘঞ্
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ

২৮১.
'মুক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুক + তি
  2. √মুক্ত + ই
  3. √মুক্‌ +ক্তি
  4. √মুচ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
• 'মুক্তি' - এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: √মুচ্‌ + ক্তি।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'ক্তি' যোগে শব্দ গঠনে,
'চ' এবং 'জ' এর স্থলে 'ক' হয়।
যেমন -
- √বচ্‌ + ক্তি = উক্তি।
- √মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি।
- √ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৮২.
লুপ্ত প্রত্যয় কোনটি?
  1. তা
ব্যাখ্যা
• '-অ' প্রত্যয়:
'-অ' এটি লুপ্ত প্রত্যয়। ধাতুর পরে এই প্রত্যয় যোগে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- ঝুল্ + অ = ঝুল,
- দুল্ + অ = দুল,
- বাঁধ + অ = বাঁধ,
- ডাক্ + অ = ডাক,
- খেল্ + অ = খেল।

এরকম- ধরপাকড়, কাটছাঁট, মারপিট ইত্যাদি।

• এই অ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে কখনো ধাতুর আদ্য-স্বরের পরিবর্তন হয়।
যেমন: খুঁজ্ + অ = খোঁজ, ঘির্ + অ = ঘের, ফুঁডু + অ = ফোঁড় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৩.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঝলক
  2. বড়াই
  3. লাজুক
  4. ঘরামি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখনক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)। 

• কৎ ’অক’ প্রত্যয় যোগে সাধিত শব্দ:

√মুড় + অক = মোড়ক।
√ঝল্ + অক = ঝলক।

অন্যদিকে, 
---------------
• শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন:
লাজুক =  লাজ + উক;
বড়াই = বড়+আই;
ঘরামি = ঘর+আমি।

'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর' শব্দগুলোর পরে যথাক্রমে 'উক', 'আই' ও 'আমি' (প্রত্যয়) যোগ করে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
২৮৪.
'চালান' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চাল্‌ + আন
  2. √চালা্‌ + আন
  3. √চাল্‌ + অন
  4. √চালো + আন
ব্যাখ্যা
• 'আন'-কৃৎ প্রত্যয়: 
(-আন্) ণিজন্ত ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √জানা + আন = জানান,
- √মানা + আন = মানান,
- √চালা্‌ + আন = চালান ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৫.
'দীপ্যমান' শব্দের প্রকতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দীপ্য + মান
  2. √দিপ্য + মান
  3. √দীপ + শামচ্
  4. √দীপ্ + শানচ্
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

যেমন-
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)=চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

• শানচ্-প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ, 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান।
এরূপ – √চল্ + শানচ্ = চলমান। 

• ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, ‘অ' থাকে]।
যেমন:
- √বস্ + ঘঞ্‌ = বাস,
- √যুজ্ + ঘঞ্‌ = যোগ, 
- √খুদ্ + ঘঞ্‌ = খেদ, 
- √ভিদ্ + ঘঞ্‌ = ভেদ। 

• বিশেষ নিয়ম:
- √পচ্ +ঘঞ্‌ = পাক,
- √শুচ্+ঘঞ্‌ = শোক। 

কিন্তু,
- √নন্দি + অন = নন্দন। এক্ষেত্রে আ যোগে ‘নন্দনা’ হয় না। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯)।
২৮৬.
প্রত্যয় প্রধানত কয় প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়ের শ্রেণিবিভাগ: প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা: 
১. কৃৎ প্রত্যয় ও 
২. তদ্ধিত প্রত্যয়। 

কৃৎ প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। 

যেমন: 
- √ধর্ + আ = ধরা, 
- √ডুব্‌ + উরী = ডুবুরী 
- √দৃশ্ + য = দৃশ্য ইত্যাদি।

তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 

যেমন: 
- বাঘ + আ = বাঘা, 
- সোনা + আলি = সোনালি, 
- সপ্তাহ + ইক = সাপ্তাহিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২৮৭.
'ঘাতক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ঘাত + অক
  2. √ ঘাত্‌ + ক
  3. √ হন্‌ + অক
  4. √হন্‌ + অফ
ব্যাখ্যা
• ‘ঘাতক’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - √ হন্‌ + অক = ঘাতক।

• বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়।
- ধাতুর সঙ্গে অক - প্রত্যয় যোগে কর্তৃবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন -  
√নী + অক = নায়ক;
√পাল্ + অক =পালক;
√নিন্দ + অক = নিন্দক;
√গৈ + অক = গায়ক;
√পচ্+ অক = পাচক;
√হিনস্ + অক = হিংসক;
√সেব্‌ + অক = সেবক;
√খাদ্‌ + অক = খাদক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৮৮.
'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ব্রতী + ইন্‌
  2. ব্রত + ইন্‌
  3. ব্রত + ঈ
  4. ব্রতী+ ষ্ণ্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে — ব্রত + ইন।

• ব্রতী (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে ব্রোতি।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে ব্রত+ইন।
- এর অর্থ হচ্ছে ব্রতপালনকারী, ব্রতধারী, পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠাতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৯.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ভাজি
  2. বিবাহিত
  3. দৈনিক
  4. পাগলামি
ব্যাখ্যা

• কৃদন্ত শব্দ হলো যেসব শব্দ ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।

অপশন বিশ্লেষণ:

ক) ভাজি-
- √ ভাজ্ (ধাতু) + ই (কৃৎ প্রত্যয়) = ভাজি।
অর্থ: ভাজা জিনিস, শাকসবজি।
এটি কৃদন্ত শব্দ।

খ) বিবাহিত-
- বিবাহ (বিশেষ্য) + ইত (তদ্ধিত প্রত্যয়) = বিবাহিত।
এটি তদ্ধিতান্ত শব্দ (বিশেষ্য থেকে গঠিত)।

গ) দৈনিক-
- দিন (বিশেষ্য) + ইক (তদ্ধিত প্রত্যয়) = দৈনিক।
এটি তদ্ধিতান্ত শব্দ (বিশেষ্য থেকে গঠিত)।

ঘ) পাগলামি-
- পাগল (বিশেষ্য/বিশেষণ) + আমি (তদ্ধিত প্রত্যয়) = পাগলামি।
এটি তদ্ধিতান্ত শব্দ (বিশেষ্য থেকে গঠিত)।

সঠিক উত্তর: ক) ভাজি।

'ভাজি' শব্দটি √ভাজ্ ধাতুর সাথে 'ই' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯০.
”রতি” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √রজ্+ক্তি
  2. √রম্+ক্তি
  3. √রন্+ক্তি
  4. √রস্+ক্তি
ব্যাখ্যা

• ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যথা-
√মন্+ক্তি = মতি,
√রম্+ক্তি = রতি।

• কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন
√শ্রম্+ক্তি=শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),
√শম্+ক্তি = শান্তি।

• নিপাতনে সিদ্ধ:
√গৈ + ক্তি = গীতি,
√সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
√বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
√শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯১.
কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সৌভাগ্য
  2. শ্রবণীয়
  3. বাগ্মী
  4. নীলিমা
ব্যাখ্যা
√দুল + অনা = দোলনা; √রক্ষ্‌ + অনীয় = রক্ষনীয়; √শ্রব্‌ + অনীয় = শ্রবণীয় কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত। অন্যদিকে, সুভগ+ষ্ণ্য > অ = সৌভাগ্য, নীল+ইমন > ইমা = নীলিমা এবং বাচ্ + মিন = বাগ্মী 'তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে' গঠিত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
২৯২.
“ব্যাথা” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ব্যথ্‌ + অ
  2. খ) √ব্যথ্‌ + আ
  3. গ) √ব্যথ্‌ + অ + আ
  4. ঘ) √বি + থ + অ + আ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ঃ
অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় যোগ -
শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা
√ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা
√কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা
সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯৩.
'ঘাতক' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ঘাত্ + অক
  2. √ হন্ + অক
  3. √ ঘাত্ + ণক
  4. √ ঘৃত +অ
ব্যাখ্যা
• ‘ঘাতক’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - √ হন্‌ + অক = ঘাতক।

ধাতুর সঙ্গে অক - প্রত্যয় যোগে কর্তৃবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন -  
• √নী + অক = নায়ক, 
• √পাল্ + অক =পালক,
• √নিন্দ + অক = নিন্দক, 
• √গৈ + অক = গায়ক, 
• √পচ্+ অক = পাচক, 
• √হিনস্ + অক = হিংসক, 
• √সেব্‌ + অক = সেবক, 
• √খাদ্‌ + অক = খাদক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৯৪.
‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কাঁদন
  2. খাওন
  3. দোলনা
  4. মানান
ব্যাখ্যা
• ‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √চাল্ + আন = চালান/চালানো।


এরূপ,
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘আ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ‘অন্’ স্থলে ‘ওন’ হয়। কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

• ‘অন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
- √নাচ্ + অন = নাচন।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৫.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মিঠাই
  2. চলন
  3. ছেলেমি
  4. ব্যাঙাচি
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন;  ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি। আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

- 'প্রকৃতি' কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে ✓ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন:
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
------------------
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• মিঠা + আই = মিঠাই।
• ছেলে + আমি = ছেলেমি।
• ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-২০২২ সংস্করণ)।
২৯৬.
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃৎ প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ প্রকৃতির আদি স্বর পরিবর্তিত হয়-এই পরিবর্তনকে বলে-
  1. ক) উপধা
  2. খ) ইৎ
  3. গ) টি
  4. ঘ) গুণ ও বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

উপধাঃ শব্দে অন্ত্য বর্ণের পূর্ব বর্ণকে উপধা বলে।
ইৎঃ প্রত্যয় প্রাতিপদিক বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় প্রায়ই সম্পূর্ণ বা অখণ্ড অবস্থায় যুক্ত হয় না; এর কিছু অংশ লোপ পায়। যুক্ত হওয়ার সময় প্রত্যয়ের কিছু অংশ লোপ পাওয়াকে বলা হয় ইৎ।
টিঃ ধাতুর আদিস্বরের পরবর্তী সমুদয় ধ্বনিকে ’টি’ বলে। ‘পঠ’ ধাতু ভাঙলে পাই প + অ + ঠ এইখানে ‘অঠ’ হচ্ছে টি।
গুণ ও বৃদ্ধিঃ অনেক সময় কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর আদিস্বর অনেক সময় পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন যথেচ্ছভাবে হয় না, কিছু নিয়ম অনুসরণ করে হয়। কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ :
ই/ঈ-স্থলে এ ; √চিন + আ = চেনা, √নী + আ = নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও ; √ধু + আ = ধোয়া
ঋ-স্থলে অর ; √কৃ + তা = করতা ˃ ক্রেতা

বৃদ্ধি:
অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক(অ = পাচক
ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য

যেমন: রাজা > রাজ + আ এখানে জ উপধা

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ

২৯৭.
'শুনানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) শোন্‌+আনি
  2. খ) শুন্‌+আনি
  3. গ) শুন্‌+নি
  4. ঘ) শুন্‌+এনি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- শুন্‌+আনি

- আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে-
• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- জ্বাল্‌+আনি।
- ঝাঁকানি --- ঝাঁক্‌+আনি।
- শুনানি ---- শুন্‌+আনি।
- বাবু+আনি --- বাবুয়ানি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৮.
'ডুবুরি' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ঊরি
  2. ওরি
  3. আরি
  4. অরি
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয় এর নিয়ম:
আরি বা আরী বিকল্পে রি/উরি-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন হয়। এরূপ কিছু শব্দ হলো- 
যেমন:
- √ডুব্‌ + আরি/উরি = ডুবুরি।

এরূপ- ধুনারি, পূজারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৯.
শানচ্‌ - কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ভাস্বর
  2. ক্রোধ
  3. জাগরূক
  4. চলমান
ব্যাখ্যা


উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

৩০০.
"চলমান" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চলো + মান
  2. √চল্ + বতুপ
  3. √চল্ + শানচ্
  4. √চল্ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

• শানচ্-প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ, 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):

যেমন:
- √দীপ্+ শানচ্ = দীপ্যমান,
- √চল্ + শানচ্ = চলমান,
- √বৃধূ + শানচ্ = বর্ধমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।