বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নিরাপত্তা ও অন্যান্য চুক্তি এবং চুক্তি সংক্রান্ত সনদ

মোট প্রশ্ন১,৩৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নিরাপত্তা ও অন্যান্য চুক্তি এবং চুক্তি সংক্রান্ত সনদ

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৪০১৫০০ / ১,৩৬৬

৪০১.
ডেটন শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেন কে?
  1. রোনাল্ড রিগান
  2. রিচার্ড নিক্সন
  3. জর্জ ডব্লিউ বুশ
  4. বিল ক্লিনটন
ব্যাখ্যা

ডেটন শান্তি চুক্তি (Dayton Peace Agreement):
- ডেটন শান্তি চুক্তির পূর্ণনাম - General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina।
- বসনিয়া সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো অঙ্গরাজ্যের ডেটনে অবস্থিত বিমানঘাটিতে এই চুক্তির খসড়া প্রণীত হয়। এই জন্য এই চুক্তিকে ডেটন শান্তি চুক্তি বলা হয়।
- ডেটন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্ত রাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট - বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ওয়ারেন ক্রিস্টোফার।
- চুক্তিটির প্রধান শান্তি আলোচক - রিচার্ড হলব্রোক।
- চুক্তির খসড়া প্রস্তুত - ২১ নভেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান - প্যারিস, ফ্রান্স
- চুক্তির পক্ষ সমূহ - বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া

• চুক্তি স্বাক্ষরকারী -
১. বসনিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজটবেগোভিচ।
২. ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জো টুডম্যান।
৩. সার্বিয়ার পক্ষে - স্লোভাদান মিলোসোভিচ।

উৎস: হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।

৪০২.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সিটিবিটি (CTBT) চুক্তিটি গ্রহণ করে ১৯৯৬ সালের কত তারিখে?
  1. ২ সেপ্টেম্বর
  2. ১ সেপ্টেম্বর
  3. ১২ সেপ্টেম্বর
  4. ১০ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
CTBT:
- CTBT এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty.
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।

CTBTO:
- পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ সংস্থা CTBTO।
- এর সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।

উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট।
৪০৩.
কোন চুক্তির জন্য ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইতজাক রাবিন নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন?
  1. মিনস্ক চুক্তি
  2. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  3. ডেটন চুক্তি
  4. অসলো চুক্তি
ব্যাখ্যা
অসলো চুক্তি:
- শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন।
- এটি অসলো চুক্তি নামে পরিচিত।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্র।
- স্বাক্ষরকারী: ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন।
- উদ্দেশ্য: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ।
- মধ্যস্থতাকারী: যুক্তরাষ্ট্রেরর প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

⇒ নরওয়ের রাজধানী অসলোতে শুরু হওয়া আলোচনার পথ ধরে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) প্রধান ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিনিদের পক্ষ হয়ে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
- এই চুক্তির জন্য ইয়াসের আরাফাত এবং তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইতজাক রাবিন নোবেল শান্তি পুরষ্কারও পেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- চুক্তিটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশ গাজা উপত্যকার মানুষ।
- শান্তি চুক্তিতে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলো প্রয়াত ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন পিএলও পার্টি।
- কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করে আসছে কট্টরপন্থী ফিলিস্তিনি দল হামাস।
- ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের অনেকবার যুদ্ধ হয়েছে।
- আবার গাজার সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল এবং মিশর, যাতে হামাসের কাছে কোন অস্ত্র পৌঁছাতে না পারে।

উৎস: i) BBC।
ii) U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।
৪০৪.
জেনেভা কনভেনশন কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
  2. শান্তি ও সংঘাত
  3. নারীর অধিকার
  4. যুদ্ধ পরিচালনা
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধ পরিচালনার সাথে সম্পর্কিত। 
- জেনেভা কনভেনশনে ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- জেনেভা কনভেনশন হলো ১৮৬৪ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে জেনেভাতে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের একটি সিরিজ, যা যুদ্ধের সময় সৈন্য ও বেসামরিক জনগণের মানবিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে গৃহীত হয়।
- এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন সময়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা যুদ্ধের সময় মানবাধিকারের সুরক্ষায় সহায়ক।
- জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধকালীন মানবাধিকারের সুরক্ষায় একটি বৈশ্বিক মাইলফলক এবং এটি আজও আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
i) জেনেভা কনভেনশন প্রথমবার গৃহীত হয় ১৮৬৪ সালে, যা রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠাতা অঁরি দুঁনার-এর উদ্যোগে।
- আহত সৈন্যদের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা।
- সকল যোদ্ধার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ।
- আহতদের সহায়তায় নিয়োজিত বেসামরিক ব্যক্তিদের সুরক্ষা।
- রেড ক্রস প্রতীককে সুরক্ষা ও শনাক্তকরণের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ।
ii) ১৯০৬: প্রথম চুক্তি সংশোধন ও সম্প্রসারণ।
iii) ১৯২৯: তৃতীয় চুক্তি, যেখানে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং তাদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
iv) ১৯৪৯: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে চারটি নতুন কনভেনশন গৃহীত হয়:
- স্থলযুদ্ধে আহতদের জন্য।
- সমুদ্রে আহত এবং উদ্ধারকৃতদের জন্য।
- যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা।
- যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা।

উৎস: Britannica.
icrc.org
৪০৫.
আলজিয়ার্স চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় দুই দেশের মধ্যে?
  1. ইরান ও সিরিয়া
  2. ইরান ও আলজেরিয়া
  3. আলজেরিয়া ও সৌদি আরব
  4. ইরান ও ইরাক
ব্যাখ্যা

আলজিয়ার্স চুক্তি:
- এটি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- আলজিয়ার্স চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ইরাক-ইরান দুই দেশের মধ্যে।
- এটি স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ জুন,১৯৭৫ সালে।
- অনুমোদিত হয়: ১৯৭৬ সালে।
- মধ্যস্থতাকারী দেশ: আলজেরিয়া।
- স্বাক্ষরের স্থান: আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী (ইরান) ও সাদ্দাম হোসেন (ইরাক)।
- ১৭ সেপ্টেম্বর,১৯৮০ সালে চুক্তিটি অকার্যকর হয় ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমনের মধ্য দিয়ে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৪০৬.
লস্কর-ই-তৈইয়্যেবার প্রতিষ্ঠাতা-
  1. ক) হাফিজ সাঈদ
  2. খ) কাশেম বিন ওয়ালিদ
  3. গ) ওসামা বিন লাদেন
  4. ঘ) কাশেম সুলাইমানি
ব্যাখ্যা
- লস্কর-ই-তৈইয়্যেবা ভারতের কাশ্মির উপত্যকায় তৎপর একটি জঙ্গি সংগঠন।
- এটি কাশ্মীর উপত্যকায় তৎপর হলেও পরিচালিত হয় পাকিস্তান থেকে।
- হাফিজ সাঈদ ১৯৮০ সালের দিকে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২০০১ সালে ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনে হামলা ও ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার জন্যে ভারত সরকার লস্কর-ই-তৈইয়েবাকে দায়ী করে থাকে।
- ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত খলিফা ছিলেন আবু বকর আল বাগদাদি।

তথ্যসূত্র:- বিবিসি ওয়ার্ল্ড।
৪০৭.
কোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বোফোর্স কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. অতল বিহারী বাজপেয়ী
  2. রাজীব গান্ধী
  3. ইন্দিরা গান্ধী
  4. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
বোফোর্স কেলেঙ্কারি:
- বোফোর্স কেলেঙ্কারির সাথে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নাম জড়িত।
- বোফোর্স হলো সুইডেনের একটি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৮৬ সালে ভারত সরকার এই কোম্পানির সাথে অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করে।
- এই চুক্তি সম্পাদনে গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠে।
- আর এটিই বোফোর্স কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত।
- এই ঘটনায় রাজীব গান্ধীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ধ্বস নামে।

তথ্যসূত্র - ইন্ডিয়া টাইমস।
৪০৮.
TIFA এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Trade for International Finance Agreement
  2. খ) Trade and Investment Framework Agreement
  3. গ) Treaty for International Free Area
  4. ঘ) Trade and Investment form America
ব্যাখ্যা
• TIFA এর পূর্ণরুপ হচ্ছে Trade and Investment Framework Agreement.
- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বিনিয়োগের পথ সুগম করতে - Trade and Investment Framework Agreement (TIFA) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সে দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী ডান টিহান এবং বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ ২০০৩ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ডিউটি এবং কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে।

সূত্র:
১. Office of the United States Trade Representative [Link]
২. Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার: এপ্রিল, ২০২১ – এপ্রিল, ২০২২।
৪০৯.
সম্প্রতি কোন দুটি দেশের মধ্যে ‘Trinity House Agreement’ নামের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাজ্য-জার্মানি
  4. রাশিয়া-ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
Trinity House Agreement:
- যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মধ্যে Trinity House Agreement’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- জার্মানি ও যুক্তরাজ্য দুই দেশই ন্যাটোর সদস্য।
- দুই দেশই প্রতিরক্ষাখাতে প্রচুর অর্থ খরচ করে।
- তাদের মধ্যে নতুন ‘ট্রিনিটি হাউস চুক্তি’ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরো বাড়াবে।
- জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস ও এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি গত জুলাইতে বার্লিনে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
- এবার তারা সেই চুক্তিতে সই করবেন।

⇒ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের দুই বছর পর এবং যুক্তরাজ্যে সরকার পরিবর্তনের কয়েক মাসের মধ্যে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই এই চুক্তি সেরে ফেলছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

উৎস: GOV.UK
৪১০.
রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিষয়ক চুক্তি (CWC) কার্যকর হয় কবে?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
Chemical Weapons Convention (CWC):
- রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিষয়ক চুক্তির নাম - Chemical Weapons Convention (CWC)।
- এটি জাতিসংঘের অনুমোদনক্রমে স্বাক্ষরিত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- এই চুক্তি অনুসারে রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন, মজুদ ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
- যে সকল দেশের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে তাদেরকে এই অস্ত্র ধ্বংস করার কথাও বলা হয়েছে।
- ১৯৯২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের দপ্তরে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সম্মেলন (Conference on Disarmament) অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন বন্ধের চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়।
- চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত ও স্বাক্ষরিত হয় ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৩ সালে।
- কার্যকর হয় - ২৯ এপ্রিল, ১৯৯৭ সালে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ - ১৯৩টি।
- ইসরায়েল স্বাক্ষর করেছে কিন্তু অনুমোদন করেনি।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ও OPCW ওয়েবসাইট।
৪১১.
OSCE নিম্নের কোন অঞ্চলের নিরাপত্তা সংগঠন?
  1. লাতিন আমেরিকা
  2. দক্ষিণ এশিয়া
  3. ইউরোপ
  4. পূর্ব আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
OSCE:
- OSCE-এর পূর্ণরূপ: The Organisation for Security and Co-Operation in Europe.
- এটি হলো ইউরোপের বৃহত্তম আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন। 
- সদস্য: ৫৭টি দেশ।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৫ সালে (হেলসিঙ্কি চুক্তির মাধ্যমে)।
- সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- বর্তমান মহাসচিব: ফেরিদুন এইচ. সিনিরলিওগলু  (তুর্কিয়ে)।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০-এর দশকের ডিটেনটে পর্বে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংলাপের জন্য Conference on Security and Cooperation in Europe (CSCE) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চুক্তি CSCE-কে একটি বহুপাক্ষিক ফোরাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যা রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল।
- ১৯৯০ সালের প্যারিস শীর্ষ সম্মেলনে CSCE নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- এরপর, ১৯৯৪ সালে বুদাপেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে CSCE এর নাম পরিবর্তন করে OSCE রাখা হয়।

উৎস: OSCE ওয়েবসাইট।
৪১২.
কোন চুক্তি ইউরোপে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব ঘটায়?
  1. ক) আগসবার্গের চুক্তি
  2. খ) ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি
  3. গ) বার্লিন চুক্তি
  4. ঘ) হিডেনবার্গ চুক্তি
ব্যাখ্যা
- ত্রিশবছরব্যাপী অবিরামভাবে যুদ্ধ করার পর ঘটে ক্লান্ত বিপর্যস্ত ইউরোপ ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়। 
এই চুক্তি ইউরোপে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব ঘটায় এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির গোড়াপত্তন ঘটায়। 
- পূর্বে ইউরোপীয় রাজন্যবর্গ পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে মিলিত হবার আদর্শে বিশ্বাসী ছিল তবে এই যুদ্ধের ফলে সেই কাঠামো ভেঙ্গে যায় এবং শক্তিশালী রাজতন্ত্রের উদ্ভব ঘটিযে দ্রুত ইউরোপে রাজরা তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্য এক নতুন দ্বন্দ্ব শুরু করেন। 
- জার্মানি তথা ইউরোপে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধের প্রভাব ছিলো ভয়াবহ। 
সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে। 
 
উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪১৩.
'ওয়েস্টফালিয়া শান্তিচুক্তি' এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. রাজার ক্ষমতা হ্রাস করা
  2. জনগণকে সরকারের অন্তর্গত করা
  3. ইউরোপে ধর্মযুদ্ধ বন্ধ করা
  4. ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদের বৈধতা দান করা
ব্যাখ্যা

• ওয়েস্টফালিয়া শান্তিচুক্তি:
-ষোড়শ শতকে খ্রিষ্টন  ধর্ম সংস্কার আন্দেলনের ফলে, সপ্তদশ শতকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ধর্মযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ১৬১৮ সাল থেকে ১৬৪৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী  (Thirty Years War) এ যুদ্ধ ১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফালিয়া শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়।
- ওয়েস্টফালিয়া শান্তিচুক্তি- ১৬৪৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির উদ্দেশ্য- ৩০ বছর ব্যাপী যুদ্ধের অবসান।
- ফলাফল- যুদ্ধের অবসান এবং আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সূচনা।

উৎস: Britannica

৪১৪.
Chemical Weapons Convention কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

Chemical Weapons Convention:
- Chemical Weapons Convention হলো আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৩ (প্যারিসে)।
- কার্যকর হয়: ২৯ এপ্রিল, ১৯৯৭।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি দেশ।
- নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা: Organisation for the Prohibition of Chemical Weapons (OPCW)।
- সদর দপ্তর: দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস।

⇒ মূল উদ্দেশ্য:
- রাসায়নিক অস্ত্র নির্মাণ ও মজুদ নিষিদ্ধকরণ। 
- বিদ্যমান রাসায়নিক অস্ত্রের ধ্বংস নিশ্চিত করা। 
- রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ। 
- শিল্পখাতে রাসায়নিকের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
- CWC-এর আওতায় রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের হার ৯৮%।
- রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি (Chemical Weapons Convention - CWC) অনুযায়ী, সব ঘোষিত রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ ধ্বংসের কাজ ৭ জুলাই ২০২৩-এ সম্পন্ন হয়।
- এই দিনে যুক্তরাষ্ট্র, শেষ ঘোষক রাষ্ট্র হিসেবে তার ঘোষিত রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে, যা OPCW দ্বারা যাচাই করা হয়।
- এটি CWC-এর অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল যা বিশ্বের সমস্ত ঘোষিত রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ অপসারণের সূচনা করে।
- তবে অঘোষিত মজুদ এবং অ-সদস্য রাষ্ট্রের (যেমন, মিশর, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ সুদান) সম্ভাব্য মজুদ নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে।

উৎস: i) OPCW ওয়েবসাইট।
ii) Arms Control Association ওয়েবসাইট।

৪১৫.
বেলফাস্ট চুক্তির বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা
  2. উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রতিষ্ঠা
  3. অটোমান সাম্রাজ্যের দেশগুলো ভাগ করে নেয়া
  4. নিরাপদ করিডর প্রদান
ব্যাখ্যা
বেলফাস্ট চুক্তি: 
- বেলফাস্ট চুক্তি, যা গুড ফ্রাইডে চুক্তি নামেও পরিচিত, ১৯৯৮ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তিটি উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি, সাংবিধানিক কাঠামো এবং এর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এই চুক্তি ২২ মে ১৯৯৮ তারিখে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড উভয় জায়গায় গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়।
- চুক্তির মূল বিষয় ছিল উত্তর আয়ারল্যান্ডে একটি বিকেন্দ্রীকৃত সরকার গঠন করা।
- ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, উত্তর আয়ারল্যান্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রোটেস্টান্ট সম্প্রদায় রাজ্য পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- অনেক সময় এই ক্ষমতা রোমান ক্যাথলিক সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—যদিও সেই বৈষম্যের প্রকৃতি ও মাত্রা নিয়ে এখনো তর্ক চলমান।
- গুড ফ্রাইডে চুক্তিটি এই দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্ব ও সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: Britannica.
Gov.uk
৪১৬.
শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে নিম্নের কোন চুক্তি গৃহীত হয়?
  1. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  2. আলজিয়ার্স চুক্তি
  3. অসলো চুক্তি
  4. সেভ্রেস চুক্তি
ব্যাখ্যা

শাত-ইল-আরব:
- এটি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ হয়েছিল।
- শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

⇒ আলজিয়ার্স চুক্তি:
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ইরাক এবং ইরান।
- চুক্তির বিষয়: শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মীমাংসা।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ই জুন, ১৯৭৫।
- চুক্তি অনুমোদন হয়: ১৯৭৬ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: আলজির্য়াস, আলজেরিয়া।
- স্বাক্ষরকারী: ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। 

উল্লেখ্য,
- আলজিয়ার্স চুক্তি অকার্যকর হয় ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ সালে ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমনের মধ্য দিয়ে।

উৎস: Britannica.

৪১৭.
AFTA কোন অঞ্চলের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি?
  1. দক্ষিণ আমেরিকা
  2. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
  3. পশ্চিম আফ্রিকা
  4. মধ্য এশিয়া
ব্যাখ্যা
AFTA:
- AFTA পূর্ণরূপ ASEAN Free Trade Area.
- AFTA হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- ১৯৯২ সালের ২৮ জানুয়ারি চতুর্থ আসিয়ান সামিটে AFTA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি ছয়টি দেশের সমন্বয়ে AFTA যাত্রা শুরু করে।
- AFTA এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো,
- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই এবং মায়ানমার।

তথ্যসূত্র - আসিয়ান অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪১৮.
ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয় কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. প্যারিস শান্তি চুক্তি
  2. উত্তর আটলান্টিক চুক্তি
  3. লন্ডন চুক্তি
  4. শেনজেন চুক্তি
ব্যাখ্যা
ন্যাটো
- উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা North Atlantic Treaty Organisation (NATO) ন্যাটো।
- ন্যাটোর বিস্তারিত অর্থ—শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিষ্ঠিত একটি অনাক্রমনাত্মক জোট।
- স্নায়ুযুদ্ধের প্রাক্বালে ন্যাটোর জন্ম।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং আরো ৮টি ইউরোপীয় দেশসহ ১২ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একে অপরকে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে উত্তর আটলান্টিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- পরে কয়েক দশক ধরে জোটটি বড় হতে থাকে। বর্তমানে ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা ৩২।
- ন্যাটো হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক সংগঠন।

ন্যাটোর উদ্দেশ্য
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা।
- ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
- যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো তাদের রক্ষায় মাঠে নামে।
- এর প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর।

ন্যাটোর ৩২ সদস্য রাষ্ট্র
- ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশ হলো— আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মন্টিনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। 

উৎস: ন্যাটোর ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।  
৪১৯.
কোন চুক্তির ফলশ্রুতিতে OSCE জন্মলাভ করে?
  1. Minsk
  2. CSCE
  3. Maastricht
  4. Berlin
ব্যাখ্যা
- ৩০ জুলাই- ১ আগস্ট, ১৯৭৫ ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে Conference on Security & Co-operation in Europe (CSCE) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ সময় ৩৫ টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা Organisation for Security and Cooperation in Europe(OSCE) জন্মলাভ করে ।
- এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ভিত্তিক আন্তঃসরকার প্রতিষ্ঠান ।

সূত্র: ব্রিটানিকা
৪২০.
তাসখন্দ চুক্তিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন কে?
  1. অ্যালেক্সি কোসিগিন
  2. জোসেফ স্টালিন
  3. দিমিত্রি মেদভেদেভ
  4. মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা

• তাসখন্দ চুক্তি:
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে চিরবৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটে।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত উজবেকিস্তানের তাসখন্দে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বিধায় ইতিহাসে এটি তাসখন্দ চুক্তি নামেই বহুল পরিচিত।
- তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী 'অ্যালেক্সি কোসিগিনের' মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান দুই দেশের পক্ষে  চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি.কম।

৪২১.
 ’তাসখন্দ চুক্তিতে‘ পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
  2. মোহাম্মদ আইয়ুব খান
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

• তাসখন্দ চুক্তি: 
- তাসখন্দ চুক্তি ছিল একটি দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি।
- যা ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
• স্বাক্ষরের তারিখ ও স্থান:
- তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ১৯৬৬ সালে।
- স্থান: তাসখন্দ, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান উজবেকিস্তান)।

• প্রধান অংশগ্রহণকারীরা:
- ভারতের পক্ষে: প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী।
- পাকিস্তানের পক্ষে: প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আয়ুব খান।
- মধ্যস্থতাকারী: সোভিয়েত নেতা আলেক্সি কোসিগিন।
- ১৯৬৫ সালের আগস্ট মাসে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরু হয়।

 উৎস:  Britannica.com ও WorldAtlas.com.

৪২২.
NATO প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তি কোনটি?
  1. ক) The Washington Treaty
  2. খ) The North Treaty
  3. গ) The Brussels Treaty
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ন্যাটো

- প্রতিষ্ঠা: ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তি: The North Atlantic Treaty বা The Washington Treaty
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩০টি।
- সর্বশেষ সদস্য: উত্তর মেসিডোনিয়া (২৭ মার্চ, ২০২০)।
- মুসলিম সদস্য দেশ: তুরস্ক ও আলবেনিয়া।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- অফিসিয়াল স্লোগান/Motto: "Animus in consulendo liber (A mind unfettered in deliberation)"।
- ন্যাটো সামরিক সহযোগিতার জোট।
- ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ন্যাটোর  

উল্লেখ্য,
- ২০০২ সালে ন্যাটো-রাশিয়া সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- রাশিয়া ন্যাটোর সদস্য না হয়েও সহযোগী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। আর তাই, রাশিয়াকে ন্যাটো-২০ বলা হয়।
- ১ এপ্রিল, ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের জের ধরে রাশিয়ার ন্যাটোর অংশীদারিত্ব স্থগিত করা হয়।


তথ্যসূত্র: ন্যাটো ওয়েবসাইট।
৪২৩.
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. জার্মানি
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত, ক্যাম্পডেভিড অবকাশযাপন কেন্দ্রে স্বাক্ষরিত ইসরাঈল ও মিশরের মধ্যকার ১৯৭৮ সালে সম্পাদিত চুক্তিকে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি বলে
- মধ্যস্থতাকারী- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
- স্বাক্ষর করে- মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী মেনামে বেগিন ।
- উদ্দেশ্য- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন।
- ফলাফল- সাময়িকভাবে মিশরকে OIC ও আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উল্লেখ্য: 
​ক্যাম্পডেভিড, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে। এখানে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে বলে চুক্তিটি ক্যাম্পডেভিড নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica

৪২৪.
ইরানের সাথে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কত সালে?
  1. ক) ২০১৫ সালে
  2. খ) ২০১৪ সালে
  3. গ) ২০১৬ সালে
  4. ঘ) ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
২০১৫ সালের ১৩ জুলাই সোমবার রাতে ইরানের সাথে আইএইএ’র একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৪ জুলাই ভিয়েনায় ছয় বিশ্বশক্তির [যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানি] সাথে পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান। সূত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম।
৪২৫.
'কোয়াড' এর সদস্য দেশ কয়টি? (মে, ২০২৫)
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
কোয়াড (QUAD):
- QUAD-এর পূর্ণরূপ: Quadrilateral Security Dialogue.
- কোয়াড হল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কূটনৈতিক জোট।
- এটি একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত নিরাপত্তা ফোরাম।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০০৭ সালে।
- সদস্য দেশ: ৪টি। (মে, ২০২৫)
• যুক্তরাষ্ট্র,
• অস্ট্রেলিয়া,
• ভারত,
• জাপান।
- কোয়াডের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য কাজ করা।

তথ্যসূত্র - অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ওয়েবসাইট।
৪২৬.
ভিয়েনা কনভেনশনে মোট কতটি ধারা রয়েছে?
  1. ৫১টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫৫টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা

ভিয়েনা কনভেনশন-১৯৬১:
ভিয়েনা কনভেনশন- ১৯৬১ হল : কূটনৈতিক আচরণ সংক্রান্ত বিধি।
- চুক্তি অনুযায়ী, কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় স্বাগতিক দেশকে।
- চািক্তটি গৃহীত হয়: ১৮ এপ্রিল ১৯৬১,
- চুক্তিটি কার্যকর হয়: ২৪ এপ্রিল ১৯৬৪,
- স্বাক্ষরিত হওয়ার স্থান: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া,
- ভিয়েনা কনভেনশনে মোট ৫৩টি ধারা রয়েছে।
- কোনো দেশ ওইসব ধারার পরিপন্থী কাজ করলে সেটাকে 'চুক্তির বরখেলাপ' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৬৫ সালে ভারত 'ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস' চুক্তিতে সাক্ষর করে।
- বাংলাদেশ ওই চুক্তিতে সই করে ১৯৭৮ সালে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪২৭.
NAFTA এর স্থলাভিষিক্ত যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. USMCA
  2. NAPTA
  3. USTPPC
  4. SAFTA
ব্যাখ্যা

- NAFTA এর পূর্ণরূপ North American Free Trade Agreement.
- এই চুক্তি পাস হয় ১৭ নভেম্বর, ১৯৯২ সালে।
- এই চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি, ১৯৯৪ সালে।
- নাফটার সদস্য দেশ ৩টি। যথাঃ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা।
- বর্তমানে NAFTA এর স্থলাভিষিক্ত USMCA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তিনটি দেশের মধ্যে।

৪২৮.
AFTA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
AFTA:
- AFTA পূর্ণরূপ ASEAN Free Trade Area.
- AFTA হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- ১৯৯২ সালের ২৮ জানুয়ারি চতুর্থ আসিয়ান সামিটে AFTA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি ছয়টি দেশের সমন্বয়ে AFTA যাত্রা শুরু করে।
- AFTA এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো,
- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই এবং মায়ানমার।

তথ্যসূত্র - আসিয়ান অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪২৯.
চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন মূলত কাদের সুরক্ষা সংক্রান্ত?
  1. সামরিক সৈন্যদের
  2. যুদ্ধবন্দিদের
  3. স্বেচ্ছাসেবীদের
  4. বেসামরিক জনগণের
ব্যাখ্যা

জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন সম্পাদিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও এর ফলাফল হিসেবে।
- যুদ্ধপরাধকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে জেনেভা কনভেনশনকে মান্য করা হয়।
- মূলত এটি যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- যুদ্ধকালীন সামরিক, বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ষার জন্য এতে চারটি চুক্তি থাকায় এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

কনভেনশনসমূহ:
• ১ম জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।

• ২য় জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; সমুদ্রস্থ যুদ্ধক্ষেত্রে আহত, অসুস্থ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।

• ৩য় জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত।

• ৪র্থ জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে, যুদ্ধাবস্থায় বেসামরিক জনগণ রক্ষার্থে ও তাদের সুরক্ষা সংক্রান্ত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com

৪৩০.
ATT চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
ATT চুক্তি:
- ATT-এর পূর্ণরূপ হলো: Arms Trade Treaty.
- এটি প্রচলিত অস্ত্রের বিশ্ববাণিজ্য নিয়ন্ত্রণমূলক একটি চুক্তি।
- এটির প্রস্তাবক জাতিসংঘ।
- স্বাক্ষরিত হয়: ৩ জুন, ২০১৩।
- কার্যকর হয়: ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৪১টি।

তথ্যসূত্র - Arms Trade Treaty ওয়েবসাইট।
৪৩১.
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কোন যুদ্ধের পর?
  1. ১৯৪৭ সালের যুদ্ধ
  2. ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ
  3. ১৯৭১ সালের যুদ্ধ
  4. ১৯৯৯ সালের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
তাসখন্দ ঘোষণা (Tashkent Declaration): 
- স্বাক্ষরের তারিখ: ১০ জানুয়ারি ১৯৬৬
- স্থান: তাসখন্দ, উজবেকিস্তান (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)
-  ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (আগস্ট – সেপ্টেম্বর ১৯৬৫): কাশ্মীর ইস্যুতে উভয় দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
- জাতিসংঘের ভূমিকা: ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে।
- সোভিয়েত মধ্যস্থতা: সোভিয়েত নেতা অ্যালেক্সি কসিগিন উভয় দেশের নেতাদের তাসখন্দে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
- প্রধান স্বাক্ষরকারী: ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান ও সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী (মধ্যস্থতাকারী) অ্যালেক্সি কসিগিন। - তাসখন্দ ঘোষণা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হলেও এটি কাশ্মীর সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়।

উৎস: Britannica.
৪৩২.
ভূমি মাইন চুক্তি কোথায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. অটোয়া, কানাডা 
  2. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  3. হেগ, নেদারল্যান্ড
  4. প্যারিস, ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

অটোয়া কনভেনশন:
- অটোয়া কনভেনশন, যা "স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি" নামেও পরিচিত,।
- অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ডমাইন (ভূ-মাইন) ব্যবহার, মজুদ, উৎপাদন এবং স্থানান্তরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 
- এই চুক্তিটি ১৯৯৭ সালে অটোয়ায, কানাডায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- এবং ১৯৯৯ সালের মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। 
- উদ্দেশ্য: বিশ্বব্যাপী স্থলমাইন অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করা।
- বর্তমানে ১৬৪টি দেশ এই চুক্তির অংশীদার রয়েছে।
- স্বাক্ষরকারী কিন্তু অননুমোদিত: মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ।
- অ-স্বাক্ষরকারী: ৩৪টি দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনসহ)।

উৎস: Arms Control Association.

৪৩৩.
নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে গৃহীত CEDAW সনদটি কার্যকর হয় কখন?
  1.  ১৯৭৯ সালে
  2.  ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা

• CEDAW:
- CEDAW-এর পূর্ণরূপ: Convention on the Elimination of Discrimination against Women.
- জাতিসংঘ নারীদের অধিকার রক্ষায় ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য প্রতিরোধ কনভেনশন বা CEDAW গ্রহণ করে।
- এই কনভেনশন গৃহ নির্যাতন, প্রজনন, আইনগত, রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে নারীদের সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।
- কার্যকর হয়: ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১।
- CEDAW সনদে পরিচ্ছদ আছ: -৬ টি, ধারা আছে: ৩০ টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ CEDAW অনুমোদন করে ৪ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালে। 

তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট।

৪৩৪.
সব ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ নিষিদ্ধ করে কোন চুক্তি?
  1. NPT
  2. ABM
  3. CTBT
  4. Ottawa
ব্যাখ্যা
Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty (CTBT): 
- CTBT হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা সামরিক বা শান্তিপূর্ণ যেকোনো উদ্দেশ্যে সব ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ নিষিদ্ধ করে।
- এই চুক্তিতে একটি ভূমিকা অংশ (preamble), ১৭টি অনুচ্ছেদ, দুটি সংযুক্তি (annexes), এবং একটি প্রোটোকল রয়েছে, যার সাথেও দুটি সংযুক্তি যুক্ত রয়েছে।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ নভেম্বর চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব (Resolution) গ্রহণ করে যার মাধ্যমে Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty Organization (CTBTO) গঠনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (Verification Regime):
- চুক্তির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে, CTBT-এর একটি অনন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে সংঘটিত পারমাণবিক বিস্ফোরণ—সে ভূগর্ভে, পানির নিচে অথবা বায়ুমণ্ডলে হোক না কেন—সনাক্ত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য,
- NPT (পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি) পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা প্রচারের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল (ABM) চুক্তিটি ছিলমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ABM) স্থাপন সীমিত করে।
- অটোয়া চুক্তি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনের ব্যবহার, মজুদ, উৎপাদন এবং স্থানান্তর নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের ধ্বংস সম্পর্কিত কনভেনশনকে বোঝায়।

উৎস: CTBTO ওয়েবসাইট।
৪৩৫.
কোন চুক্তির ফলে ইউরোপে ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে?
  1. মিনস্ক চুক্তি
  2. আলজিয়ার্স চুক্তি
  3. ডেটন চুক্তি
  4. ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি
ব্যাখ্যা
ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ত্রিশ বছরব্যাপী অবিরামভাবে যুদ্ধ করার পর বিপর্যস্ত ইউরোপের সকল দেশের প্রতিনিধিরা ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়াতে মিলিত হয়ে দুটি ভিন্ন শান্তিচুক্তি পাস করে।
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টাফেলিয়া চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘ ত্রিশ বছরব্যাপী ধর্মজনিত এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- এটি ইউরোপকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য,
ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধ:
- ইউরোপে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ ছিলো ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধ।
- প্রোটেস্টান্ট জার্মানির উপর অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গের-এর প্রভাব অক্ষুন্ন রাখা, ডেনমার্কের রাজার উচ্চভিলাষ, বাল্টিক অঞ্চলে সুইডেনের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং হ্যাপসবার্গকে পরাজিত করে ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা এসব নিয়েই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকে।
- ধর্মান্ধতা, স্বার্থপরতা, নিজেদের উচ্চাকাংক্ষা এবং প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সকল দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
সম্প্রতি কোন দুটি দেশ 'তেলের বিনিময়ে পানি' সংক্রান্ত চুক্তি করেছে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. সৌদি আরব ও তুরস্ক
  2. ইরাক ও তুরস্ক 
  3. তুরস্ক ও ওমান
  4. রাশিয়া ও ইরান
ব্যাখ্যা

• তেলের বিনিময়ে পানি চুক্তি:
- সম্প্রতি ইরাক ও তুরস্ক 'তেলের বিনিময়ে পানি চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে।
- নভেম্বর, ২০২৫-এ দুই দেশের মধ্যে কয়েক শ কোটি ডলারের 'ওয়াটার কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট' চূড়ান্ত হয়। 
- এই চুক্তির আওতায় তুর্কি কোম্পানিগুলো ইরাকের পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করবে।
- বিষয়টি অনেকটা তেলের বিনিময়ে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টার মতো।

উল্লেখ্য, 
- ইরাকের পানির উৎসের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক থেকে। 
- তবে উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে আগের চেয়ে অনেক কম পানি পাচ্ছে দেশটি। 
- এই সংকট কাটাতে এবার তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত একটি সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে বাগদাদ। 
- এই চুক্তির মূল বিষয় হলো – ইরাকের তেল আয়ের বিনিময়ে দেশটির পানি অবকাঠামো উন্নয়ন করে দেবে তুরস্ক।

তথ্যসূত্র: The Business Standards.

৪৩৭.
উরুগুয়ে রাউন্ডের ব্যাপ্তিকাল কত বছর?
  1. ৮ বছর
  2. ৯ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১১ বছর
ব্যাখ্যা
GATT চুক্তির রাউন্ড:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT চুক্তির দুর্বলতা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মোট ৮টি রাউন্ড সম্পন্ন হয়।
- সেগুলো হলো:
1. Geneva Round,
2. Annecy Round,
3. Torquay Round,
4. Geneva II Round,
5. Dillon Round,
6. Kennedy Round,
7. Tokyo Round,
8. Uruguay Round.

উরুগুয়ে রাউন্ড:
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- এই রাউন্ড শুরু হয় ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তির সময়ে GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এই রাউন্ডের সংলাপ চলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে।
- এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে জন্ম হয় World Trade Organization (WTO)-এর।

তথ্যসূত্র - WTO ওয়েবসাইট।
৪৩৮.
সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা সংক্রান্ত জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের বিশেষ অধিবেশনটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ক) জেনেভা
  2. খ) লন্ডন
  3. গ) প্যারিস
  4. ঘ) নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা - ১৯৪৮
• মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের প্রথম উদ্যোগ হচ্ছে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা - ১৯৪৮ বা Universal Declaration of Human Rights।
• বিশ্বব্যাপী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণা গৃহীত হয়।
• স্বাক্ষরের সময়কাল - ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ সাল।
• জাতিসংঘের প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক নাম - General Assembly resolution 217 (A)
• সাধারণ পরিষদের অধিবেশন স্থল - প্যারিস, ফ্রান্স (সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন)
• সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণা গৃহীত হওয়ার দিন - ১০ ডিসেম্বরকে “মানবাধিকার দিবস” হিসাবে পালন করা হয়।
• যুক্তরাষ্ট্রের এলিনর রুজভেল্ট - মানবাধিকারের খসড়া দলিল প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন।
• ফরাসি নোবেলজয়ী আইনজীবী রেনে ক্যাসিন চুক্তিটি প্রস্তুত করেন।
• মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা - এর ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ওয়েবসাইট।
৪৩৯.
NATO গঠনের প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন কোন সামরিক জোট গঠন করে?
  1. ওয়ারশ প্যাক্ট
  2. বার্লিন প্যাক্ট
  3. ব্রাসেলস প্যাক্ট
  4. ওয়াশিংটন প্যাক্ট
ব্যাখ্যা
Warsaw Pact:
- Warsaw Pact-এর পূর্ণরূপ: Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance.
- NATO গঠনের প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সামরিক জোট ওয়ারশ প্যাক্ট গঠন করে।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ মে, ১৯৫৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: ওয়ারশ, পোল্যান্ড।
- সদস্য সংখ্যা ছিলো: ৮টি (সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লাভিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙেরি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া।
- উদ্দেশ্য: পশ্চিমা দেশের (বিশেষত ন্যাটো) বিরুদ্ধে সামরিক সুরক্ষা এবং পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধি।
- মূলত ন্যাটো জোটের বিপরীত জোট হিসেবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ওয়ারশ প্যাক্ট নামে সামরিক জোট গঠন করে।
- ১ জুলাই, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির সাথে সাথে Warsaw Pact বিলুপ্ত হয়।

⇒ NATO:
- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।

উৎস: i) Britannica.
ii) NATO ওয়েবসাইট।
৪৪০.
রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (CWC) কার্যকর হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯৩
  2. ১৯৯৭
  3. ১৯৯৫
  4. ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
• রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (CWC): 
- রাসায়নিক অস্ত্রের উন্নয়ন, উৎপাদন, মজুদ এবং ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের ধ্বংস সংক্রান্ত কনভেনশন (রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন বা CWC),
-  কনভেনশনটি একটি প্রস্তাবনা, 24টি অনুচ্ছেদ এবং 3টি পরিশিষ্ট নিয়ে গঠিত - রাসায়নিক দ্রব্যের পরিশিষ্ট, যাচাইকরণ পরিশিষ্ট এবং গোপনীয়তা পরিশিষ্ট।
• কনভেনশনটি ১৯৯৩ সালে প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয়।
• কার্যকর হওয়ার তারিখ ২৯ এপ্রিল ১৯৯৭।
- এটি প্রথম আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ শ্রেণির গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করে

উল্লেখ্য,
• রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত করার প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তিটি ১৬৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন ফ্রান্স এবং জার্মানি স্ট্রাসবার্গে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যেখানে বিষ বুলেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: opcw website.
৪৪১.
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক  প্রটোকল কোনটি?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. নাগোয়া প্রটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রটোকল
  4. মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা
নাগোয়া প্রোটোকল:
- প্রোটোকল টি জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি যাজেনেটিক রিসোর্সেস অ্যাক্সেস এবং তাদের ব্যবহার থেকে উদ্ভত  সুবিধার ন্যায্য ও ন্যায্য বণ্টন সম্পর্কিত।
- প্রটোকলটি  ১৯৯২ সালের  Convention on Biological Diversity বাস্তবায়নে স্বাক্ষরিত হয়।
-  নাগোয়া প্রোটোকলটি ২৯ অক্টোবর ২০১০ তারিখে জাপানের নাগোয়ায় গৃহীত হয়।
 - ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে কার্যকর হয়।
- প্রটোকলটির লক্ষ- বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- ওজনস্তর ক্ষয়কারী বস্তু সামগ্রী উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবহার বন্ধ বিষয়ক প্রটোকল।
- কানাডার মন্ট্রিলে স্বাক্ষরিত হয়।
- স্বাক্ষর ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭।
- কার্যকর ০১ জানুয়ারি ১৯৮৯।
 
কিয়োটো প্রটোকল:
 - বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ বিষয়ক প্রটোকল।
- জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটোতে স্বাক্ষরিত হয়।
- গৃহীত হয় ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭

কার্টাগেনা  প্রটোকল:

- জৈব জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয় কানাডার মন্ট্রিল।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে ২০০০ সালে।
- বাংলাদেশ অনুমোদন করে ২০০৪ সালে। 
- সদস্য সংখ্যা: ১৭৩টি ।
- সর্বশেষ অনুমোদন কারী দেশ- সিয়েরা লিওন ( ১৫ জুন ২০২০)

উৎস
: CBD. UNFCC. Britannica.
৪৪২.
'Strategic Arms Limitations Talk-1' চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৭১ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
• SALT: 
- SALT বা Strategic Arms Limitation Talks বা আলোচনা শুরু হয়েছিল ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে ১৯৬৯ সালে।
- আলোচনা ও চুক্তি সীমাবদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে।
- এই আলোচনার সূত্র ধরেই Anti-Ballistii Missile Treaty স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- SALT I চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের ২৬ মে।
- এই চুক্তি অনুযায়ী কৌশলগত যত ব্যালিস্টিক মিসাইল লাঞ্চার, অর্থাৎ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র আছে, তা “ফ্রিজ করা হয়।
- যাতে করে কোনো পক্ষ আর তার সংখ্যা বাড়াতে না পারে।
- আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান।
৪৪৩.
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
  1. রিচার্ড নিক্সন
  2. জিমি কার্টার
  3. রোনাল্ড রিগান
  4. বারাক ওবামা
ব্যাখ্যা

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ইসরাইল ও মিশরের মধ্যে।
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে।
- এই চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: ক্যাম্প ডেভিড, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত অবকাশ যাপন কেন্দ্র।
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
- এই চুক্তির ফলে মিশরকে আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৪৪.
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা কোন সংস্থার মূল কাজ?
  1. CTBTO
  2. OPCW
  3. IAEA
  4. OSCE
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA):
- পূর্ণ নাম: International Atomic Energy Agency
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২৯ জুলাই, ১৯৫৭
- সদর দপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার প্রচার করা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে কাজ করে।

মূল কাজ:
- পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা।
- পারমাণবিক শক্তির চিকিৎসা, কৃষি এবং শিল্পে শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি:NPT (Non-Proliferation Treaty) বাস্তবায়নে সহায়তা।
- পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ।

উৎস: i) IAEA অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
ii) Britannica
৪৪৫.
GATT চুক্তির সর্বশেষ রাউন্ড কোনটি?
  1. Annecy Round
  2. Uruguay Round
  3. Dillon Round
  4. Tokyo Round
ব্যাখ্যা

GATT চুক্তির রাউন্ড:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT চুক্তির দুর্বলতা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মোট ৮টি রাউন্ড সম্পন্ন হয়।
- সেগুলো হলো:
1. Geneva Round,
2. Annecy Round,
3. Torquay Round,
4. Geneva II Round,
5. Dillon Round,
6. Kennedy Round,
7. Tokyo Round,
8. Uruguay Round.

উরুগুয়ে রাউন্ড:
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- এই রাউন্ড শুরু হয় ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তির সময়ে GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এই রাউন্ডের সংলাপ চলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে।
- এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে জন্ম হয় World Trade Organization (WTO)-এর।

তথ্যসূত্র - WTO ওয়েবসাইট।

৪৪৬.
'বেলফাস্ট চুক্তির' অপর নাম কী?
  1. First Peace of Thorn Agreement.
  2. The Eternal Peace Agreement.
  3. Good Friday Agreement.
  4. The Fifty-Year Peace Agreement.
ব্যাখ্যা

বেলফাস্ট চুক্তি:
- 'বেলফাস্ট চুক্তির' অপর নাম: Good Friday Agreement.
- উত্তর আয়ারল্যান্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফাস্ট চুক্তিটি একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ড - এর শাসনতন্ত্র কিরকম হবে তা এই চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষর: ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮ সাল।
- চুক্তি কার্যকর: ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড।
- চুক্তির পক্ষ: ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৪৭.
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয় কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. AFTA
  2. NAFTA
  3. SAFTA
  4. APTA
ব্যাখ্যা

• ASEAN Free Trade Area (AFTA ).
- AFTA হলো আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- ১৯৯২ সালের ২৮ জানুয়ারি চতুর্থ আসিয়ান সামিটে AFTA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হয়।
- AFTA এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১টি। 
এগুলো হলো:
- মালয়েশিয়া;
- ইন্দোনেশিয়া;
- ফিলিপাইন;
- সিঙ্গাপুর;
- ভিয়েতনাম;
- কম্বোডিয়া;
- লাওস;
- থাইল্যান্ড;
- ব্রুনাই এবং;
- মায়ানমার।
- পূর্ব তিমুর।

অন্যদিকে,
- SAFTA (South Asian Free Trade Area) হলো সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- APTA হলো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৭টি দেশের একটি অগ্রাধিকারমূলক আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি।
- ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (NAFTA) ছিল একটি বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মধ্যে।

উৎস: আসিয়ান ওয়েবসাইট।

৪৪৮.
সিমলা চুক্তিতে ভারতের পক্ষ থেকে কোন রাষ্ট্রনায়ক স্বাক্ষর করেছিলেন?
  1. রাজীব গান্ধী
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. মনমোহন সিং
  4. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

- সিমলা চুক্তিতে ভারতের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরকারী: ইন্দিরা গান্ধী (ভারতের প্রধানমন্ত্রী)।

• সিমলা চুক্তি: 
- এটি ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি।
- ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তানের পরাজয়-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়াস

- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ২ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরস্থল: Barnes Court (বর্তমানে রাজভবন), সিমলা, ভারত।
- আলোচনার সময়কাল: ২৮ জুন – ২ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- স্বাক্ষরকারী: ইন্দিরা গান্ধী (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) ও জুলফিকার আলি ভুট্টো (পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৪৪৯.
ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান কোনটি?
  1. ডেটন, যুক্তরাষ্ট্র
  2. লন্ডন, যুক্তরাজ্য
  3. প্যারিস, ফ্রান্স
  4. রোম, ইতালি
ব্যাখ্যা

ডেটন শান্তি চুক্তি:
- পূর্ণনাম: General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina.
- উদ্দেশ্য: বসনিয়া সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান।
- অন্য নাম: প্যারিস প্রোটোকল / ডেটন-প্যারিস চুক্তি।
- খসড়া প্রণয়নের স্থান: ডেটন, ওহায়ো অঙ্গরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র (বিমানঘাঁটি)।
- খসড়া প্রস্তুতের তারিখ: ২১ নভেম্বর ১৯৯৫।
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- মধ্যস্থতাকারী দেশ: যুক্তরাষ্ট্র।
- মধ্যস্থতাকারী নেতৃবৃন্দ: সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট-বিল ক্লিন্টন ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী-ওয়ারেন ক্রিস্টোফার। 
- চুক্তির পক্ষসমূহ: বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া।

• স্বাক্ষরকারীগণ:
- বসনিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজটবেগোভিচ।
- ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জো টুডম্যান।
- সার্বিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট স্লোভাদান মিলোসোভিচ।

উৎস: হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।

৪৫০.
উত্তর আটলান্টিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত তারিখে?
  1. ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯
  2. ৪ জানুয়ারি, ১৯৫৪
  3. ৬ জুন, ১৯৫৭
  4. ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯
ব্যাখ্যা

৪ এপ্রিল, ১৯৪৯ তারিখে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

• ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (NATO):
- ন্যাটো (NATO) বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা একটি রাজনৈতিক ও সামরিক জোট।
- এটি সদস্য দেশগুলোর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৪ এপ্রিল ১৯৪৯ সালে।
- ন্যাটোর ভিত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপিত হয় উত্তর আটলান্টিক চুক্তি (ওয়াশিংটন চুক্তি) স্বাক্ষরের মাধ্যমে।
- বর্তমানে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশ রয়েছে।
- Article 5: একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা।
- সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যে কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিরোধ।
- ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলায় প্রথমবার Article 5 প্রয়োগ করা হয়।
- ন্যাটোর প্রতিটি সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে গৃহীত হয়।
- কসোভো, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মতো অঞ্চলে ন্যাটো মিশন পরিচালনা করে।
- ন্যাটো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট।

উৎস: ন্যাটো ওয়েবসাইট।

৪৫১.
ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ডে পালিত হয়-
  1. ক) ৩ মার্চ
  2. খ) ২২ মার্চ
  3. গ) ২০ জুন
  4. ঘ) ২৭ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
৩ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ডে
২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস
২০ জুন বিশ্ব শরনার্থী দিবস
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস।
(সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৪৫২.
নিম্নের কোনটি জাতিসংঘের অস্ত্রবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তি?
  1. ATT
  2. NPT
  3. CWC
  4. CTBT
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের অস্ত্রবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হলো Arms Trade Treaty (ATT)।

ATT চুক্তি:
- জাতিসংঘের অস্ত্রবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ATT-এর পূর্ণরূপ হলো: Arms Trade Treaty.
- স্বাক্ষরিত হয়: ২ এপ্রিল, ২০১৩  (জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে)।
- কার্যকর হয়: ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪।
- চুক্তিটি অনুমোদনকারী দেশ: ১১৭টি।
- স্বাক্ষর করেছে কিন্তু এখনও অনুমোদন করেনি: ২৫টি।
- উদ্দেশ্য: প্রচলিত অস্ত্রের অবৈধ বাণিজ্য রোধ ও মানবাধিকার রক্ষা।

উল্লেখ্য,
- নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কোস্টারিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অস্কার অ্যারিয়াস (Oscar Arias) ATT ধারণার মূল প্রবক্তা ছিলেন।
- যুক্তরাজ্য ২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ATT প্রস্তাব জাতিসংঘে উত্থাপন করে।

অন্যদিকে,
- NPT (Nuclear Non-Proliferation Treaty): পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ।
- CWC (Chemical Weapons Convention): রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ।
- CTBT (Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty): পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Arms Trade Treaty ওয়েবসাইট।

৪৫৩.
সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ কোনগুলো?
  1. ভারত ও বাংলাদেশ
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. ভারত ও নেপাল
  4. পাকিস্তান ও বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

সিমলা চুক্তি (Simla Agreement)
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে ভারত - পাকিস্তানের মধ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২ জুলাই, ১৯৭২।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: সিমলা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ভারত ও পাকিস্তান।
- ভারতের পক্ষে স্বাক্ষরকারী: প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
- পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষরকারী: প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো।
- চুক্তির লক্ষ্য: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়াবলীর শান্তিপূর্ণ সমাধান, বন্ধুত্বপূর্ণ পারস্পারিক সহাবস্তান, যুদ্ধবন্দী বিনিময়, লাইন অব কন্ট্রোলকে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের সীমানা হিসাবে পুনঃনির্ধারণ ইত্যাদি।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।

৪৫৪.
'গুড ফ্রাইডে ট্রিটি' কোন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত?
  1. ক) বসনিয়া
  2. খ) আইসল্যান্ড
  3. গ) কসোভো
  4. ঘ) উত্তর আয়ারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বেলফাস্ট চুক্তি (Belfast Agreement):
উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফাস্ট চুক্তিটি একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়।
উত্তর আয়ারল্যান্ড - এর শাসনতন্ত্র কিরকম হবে তা এই চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। “বেলফাস্ট চুক্তি”র অপর নাম - Good Friday Agreement।
চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮ সাল।
চুক্তি কার্যকরের তারিখ - ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সাল।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষ - ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
উৎসঃ History.com ও Live MCQ Content (Upcoming)
৪৫৫.
Nuclear Non-Proliferation Treaty চুক্তিটি অনুমোদন করেনি -
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. ইয়েমেন
  3. দক্ষিণ সুদান
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ সুদান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

• এনপিটি চুক্তি (NPT):
- NPT বা Nuclear Non-Proliferation Treaty হচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।
- এর উদ্দেশ্য ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা ও পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার।
- ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই।
- এবং কার্যকরী হয় ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ থেকে।
- চুক্তিটি ২৫ বছর মেয়াদি ছিল।
- উত্তর কোরিয়া ২০০৩ সালে এনপিটি চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
- ভারত, ইসরাইল ও দক্ষিণ সুদান এনপিটি চুক্তিটি অনুমোদন করেনি।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান ও International Atomic Energy Agency.
৪৫৬.
তাসখন্দ চুক্তি কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. উজবেকিস্তান 
  2. ভারত
  3. আফগানিস্তান
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

তাসখন্দ চুক্তি 
▪ ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
▪ এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে চিরবৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটে।
▪ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত উজবেকিস্তানের তাসখন্দে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বিধায় ইতিহাসে এটি তাসখন্দ চুক্তি নামেই বহুল পরিচিত।
▪ তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী এ্যালেক্সি কোসিজিনের মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান দুই দেশের পক্ষে  চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি.কম।

৪৫৭.
ওয়াখান করিডোর কোন দুটি দেশকে যুক্ত করেছে?
  1. ইরাক ও কুয়েত
  2. ইরান ও চীন
  3. চীন ও ভারত
  4. আফগানিস্তান ও চীন
ব্যাখ্যা
ওয়াখান করিডোর: 
- চীন এবং আফগানিস্তান কে ওয়াখান করিডোর যুক্ত করেছে। 
- এটি আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে 'ওয়াখান করিডোর' বা 'প্যানহ্যান্ডেল' নামে পরিচিত।
- করিডোরের দৈর্ঘ্য ৫৭ কিলোমিটার। 
- করিডোরটি বাদাখশান প্রদেশ থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে চীন-আফগান সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
 
সূত্র: BEIJING'S POWER and CHINA'S BORDERS বই, [লিঙ্ক]। 
৪৫৮.
ভারত নিম্নের কোন দেশের সাথে '১২৩ চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে?
  1. রাশিয়া
  2. চীন
  3. পাকিস্তান
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে '১২৩ চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে।

ধারা ১২৩ চুক্তি (Section 123 Agreement):

- ধারা ১২৩ চুক্তি হলো মার্কিন পরমাণু শক্তি আইনের একটি অংশ যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কিত সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রদান করে।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি আইন ১৯৫৪-এর ধারা 123 এর অধীনে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। 
- এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক উপাদান, প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম স্থানান্তর এবং অন্যান্য দেশগুলোর সাথে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
- ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৫টি ১২৩ চুক্তি কার্যকর রয়েছে।
- এই চুক্তিগুলি ৪৯টি দেশ, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA), এবং তাইওয়ানের গভর্নিং কর্তৃপক্ষের সাথে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা পরিচালনা করে।

⇒ ভারত-মার্কিন অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি (Indo-US Civilian Nuclear Agreement):
- ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ১২৩ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা ভারত-মার্কিন অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি (Indo-Us Nuclear Agreement) নামে পরিচিত।
- এই চুক্তির খসড়া ২০০৫ সালে ১৮ জুলাই শুরু হয়। 
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশের যৌথ বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়।
- এই চুক্তিটির কার্যকারিতার জন্যে প্রায় তিন বছরের উর্দ্ধে সময় লাগে কারণ বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এটি অতিক্রান্ত হয়, এমনকি মার্কিন জাতীয় আইন এবং ১৯৫৪ সালের পারমাণবিক শক্তি আইনের (Atomic Energy Act of 1954) সংশোধন করতে হয়।
- ভারত- মার্কিন পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তি বিদ্যার সহযোগিতায় এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির অধীনে, আমেরিকা ভারতের সাথে সম্পূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় সম্মত হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০০৮ সালে।

উৎস: i) Department of Energy (.gov) ওয়েবসাইট।
ii) Raja Narendra Lal Khan Women's College।
৪৫৯.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. জেনেভা চুক্তি
  2. ওয়াশিংটন চুক্তি
  3. ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি
  4. ভার্সাই চুক্তি
ব্যাখ্যা

• ভার্সাই চুক্তি :
- ১৯১৯ সালে ভার্সাই প্রাসাদে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ,যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়।
- যুদ্ধে পরাজিতদের অংশগ্রহণ ছাড়াই মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স এটি নিয়ে আলোচনা করেছিল। 
- জার্মানি মিত্রশক্তির ক্ষতির জন্য দোষ স্বীকার করতে এবং বড় ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছিল।
- এর ইউরোপীয় অঞ্চল প্রায় ১০% হ্রাস করা হয়েছিল, এর বিদেশী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং এর সামরিক স্থাপনা হ্রাস করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৬০.
এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যে TRIPS চুক্তি কার্যকরের সময়সীমা কত সাল পর্যন্ত ‍বৃদ্ধি করা হয়েছে?
  1. ২০২৬ সাল
  2. ২০২৯ সাল
  3. ২০৩৪ সাল
  4. ২০৩৬ সাল
ব্যাখ্যা
- এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যে TRIPS চুক্তি কার্যকরের সময়সীমা ২০৩৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ‍বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ২৯ জুন ২০২১ TRIPS Council এর সভায় এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়।
- ২০২১ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যে TRIPS চুক্তি কার্যকরের বাধ্যবাধকতা ছিলো।
- Trade-Related Aspects of Intellectual Property Rights (TRIPS) চুক্তি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের মেধাস্বত্ব অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক একটি চুক্তি যা ১৯৯৪ সালের ১৫ এপ্রিল মরক্কোর মারাক্কাশে স্বাক্ষরিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ওয়েবসাইট)
৪৬১.
কোন চুক্তিতে International Emissions Trading অনুমোদন দেয়া হয়?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল
  4. বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা
কিয়োটো প্রোটোকল:
- কিয়োটো প্রোটোকল একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- এটি ভূমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন রোধ বিষয়ক প্রটোকল।
- কিয়োটো প্রটোকল প্রথম কার্যকর হয় ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।
- কিয়োটো প্রোটোকল চুক্তিতে International Emissions Trading অনুমোদন দেয়া হয়।
- কিয়োটো প্রটোকল প্রথম স্বাক্ষরিত হয় হয় ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর।
- বাংলাদেশ কিয়োটো প্রটোকল অনুমোদন করে ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর।
- কিয়োটো প্রোটোকলের লক্ষ্য বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি হ্রাস করা।
 
উৎস: UNFCCC & Kyoto Protocol অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]
৪৬২.
CTBT এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Chronic Nuclear Test Ban Treaty
  2. Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty
  3. Chemical Nuclear Test Ban Treaty
  4. Complete Nuclear Test Ban Treat
ব্যাখ্যা
CTBT:
- CTBT এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty.
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।

CTBTO:
- পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ সংস্থা CTBTO।
- এর সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।

তথ্যসূত্র - Arms Control Association ওয়েবসাইট।
৪৬৩.
GATT চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৪ সালে
  2. খ) ১৯৪৬ সালে
  3. গ) ১৯৪৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
- GATT (The General Agreement on Tariffs and Trade) হলো WTO এর পূর্বসূরী।
- ১৯৪৭ সালের ৩০ অক্টোবর জেনেভায় ২৩টি দেশ GATT চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- ১৯৮৬ সালে সূত্রপাত হওয়া উরুগুয়ে রাউন্ডের আটবছরব্যাপী আলোচনার পর ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি GATT এর স্থলে WTO (World Trade Organization) আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর GATT এর সদস্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ WTO ওয়েবসাইট)
৪৬৪.
কোন চুক্তিতে পারমাণবিক পরিক্ষা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) UNDP
  2. খ) UNEP
  3. গ) CTBTO
  4. ঘ) IAEA
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক অস্ত্রের পরিক্ষা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক সংস্থা (CTBTO):

- CTBTO এর পূর্ণরুপ-Nuclear-Test-Ban Treaty Organization. 
- পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধাজ্ঞা চুক্তি, আনুষ্ঠানিকভাবে বায়ুমণ্ডলে, মহাকাশে এবং পানির নিচে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার চুক্তি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের দ্বারা ৫ আগস্ট, ১৯৬৩ সালে মস্কোতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- সদর দপ্তর- ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
-  বাংলাদেশ CTBTO স্বাক্ষর করে- ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে ( এশিয়ার ১ম)।
- অনুমোদন করে- ৮ মার্চ, ২০০০ সালে।
- বাংলাদেশ CTBTO স্বাক্ষরকারী- ৫৪ তম দেশ।
- বর্তমান নির্বাহী প্রধান- রবার্ট ফ্লয়েড।

তথ্যসূত্র - অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (CTBTO).
৪৬৫.
AUKUS জোটের সদস্য কারা?
  1. জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া
  2. রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য
  3. অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র
  4. অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত 
ব্যাখ্যা
AUKUS চুক্তি:
- AUKUS চুক্তি হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি।
- ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয়: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সালে।

উল্লেখ্য, 
- এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন অর্জনে সহায়তা করবে।
- অকাস হলো ২০৩০-এর শেষে বা ২০৪০-এর গোড়ার দিকে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার নতুন উচ্চপ্রযুক্তির সাবমেরিন তৈরি ও মোতায়েনের পরিকল্পনা।
- এই উন্নত প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
- এই চুক্তি অনুসারে ব্রিটিশ ও অ্যামেরিকার সাবমেরিন অস্ট্রেলিয়ায় মোতায়েন করা হবে।
- অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

উৎস: U.S. Department of Defense (.gov).
৪৬৬.
অটোয়া চুক্তি মূলত কোন অস্ত্র নিষিদ্ধ করার জন্য গৃহীত হয়েছিল?
  1. পারমাণবিক অস্ত্র
  2. রাসায়নিক অস্ত্র
  3. স্থলমাইন
  4. জৈব অস্ত্র
ব্যাখ্যা
অটোয়া চুক্তি:
- অটোয়া চুক্তি ১৯৯৭ সালে স্থলমাইনের উৎপাদন, ব্যবহার ও মজুদ নিষিদ্ধকরণের লক্ষ্যে গৃহীত হয়।
- ১৯৯৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নরওয়ের অসলোতে এই চুক্তিটি গৃহীত হয় এবং ১ মার্চ ১৯৯৯ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
- এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্থলমাইন ব্যবহারের বিরুদ্ধে একমত হয় এবং মানবিক নিরাপত্তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেয়।
- বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালের ৭ মে অটোয়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং ২০০০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এটি কার্যকর করে।
- বর্তমানে বিশ্বের ১৬৪টি দেশ এই চুক্তির অংশীদার। 

সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৬৭.
ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬৫ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৭ সালে
  4. ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
তাসখন্দ চুক্তি:
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে চিরবৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটে।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত উজবেকিস্তানের তাসখন্দে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বিধায় ইতিহাসে এটি তাসখন্দ চুক্তি নামেই বহুল পরিচিত।
- তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী এ্যালেক্সি কোসিজিনের মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান দুই দেশের পক্ষে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি.কম।
৪৬৮.
মিনস্ক চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ কারা ছিল?
  1. চীন ও জাপান
  2. জার্মানি ও ফ্রান্স
  3. রাশিয়া ও ইউক্রেন
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

মিনস্ক চুক্তি:
- স্বাক্ষরিত: ২০১৪
- স্থান: মিনস্ক, বেলারুশ।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: রাশিয়া ও ইউক্রেন।
- মধ্যস্থতাকারী: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- উদ্দেশ্য: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা।
- পূর্ব ইউক্রেন থেকে সব সামরিক স্থাপনা ও ভাড়াটে সেনা সরানো।
- বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান।
- চুক্তির ফলে প্রায় ৮ বছরের জন্য যুদ্ধ স্থগিত ছিল।
- রাশিয়া ২০২২ সালে চুক্তি বাতিল করে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৬৯.
IMO এর সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কোপেনহেগেন
  2. খ) লন্ডন
  3. গ) ভিয়েনা
  4. ঘ) গ্ল্যান্ড
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক উপকূল সম্পর্কিত সংগঠন (IMO)
IMO এর পূর্ণরূপ International Maritime Organization বা আন্তর্জাতিক উপকূল সম্পর্কিত সংগঠন। 

এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা যা সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও এর দ্বারা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। 
⤇ IMO - এর প্রধান কাজ হলো, আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচলের জন্য একটি সার্বজনীন নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং শিপিং শিল্পের উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহনযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহন করা।
⤇ ১৯৪৮ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে Inter-Governmental Maritime Consultative Organization বা IMCO গঠিত হয়; যা ১৯৮২ সালে নাম পরিবর্তন করে বর্তমান International Maritime Organization বা IMO নাম ধারন করে।
⤇ আইএমও অ্যাসেমব্লি, যা প্রতি দু'বছরে একবার মিলিত হয়, সংগঠনের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যা ছয় বছরের মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত করে।
⤇ "আইএমও শিপিংয়ের গ্লোবাল নিয়ন্ত্রক হিসাবে তার নেতৃত্বের ভূমিকাটি বহন করবে, সেক্টরের গুরুত্বকে আরও বেশি স্বীকৃতি দেবে এবং শিপিংয়ের অগ্রগতি সক্ষম করবে, যখন প্রযুক্তি ও বিশ্ব বাণিজ্যে অব্যাহত বিকাশের চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই করার জন্য ২০৩০ এর এজেন্ডা পূরণের প্রয়োজনকে মোকাবেলা করবে।

➧ এক নজরে IMO:

প্রতিষ্ঠাকাল : ১৭ মার্চ, ১৯৪৮ সাল
প্রতিষ্ঠার স্থান : জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
সদস্য সংখ্যা : ১৭৪টি দেশ (পূর্ণাঙ্গ সদস্য) ও ৩টি সহযোগী সদস্য
সদরদপ্তর : লন্ডন, যুক্তরাজ্য 
 
(সূত্রঃ IMO ওয়েবসাইট)
৪৭০.
'অপারেশন ব্লু স্টার' কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. খালিস্তান আন্দোলন
  2. কুর্দিস্তান দেশ গঠন
  3. তালেবান বিরোধী অভিযান
  4. ফিলিস্তিন বিরোধী অভিযা।
ব্যাখ্যা
• অপারেশন ব্লু স্টার:
- ১৯৮৪ সালের ১-৮ জুন ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে অবস্থিত শিখ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র উপাসনালয় স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত অভিযান হলো অপারেশন ব্লু স্টার।
- ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শিখ অধ্যুষিত এলাকায় খালিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তৎপর শিখ মিলিশিয়ারা স্বর্ণমন্দিরে অস্ত্র মজুদ ও অবস্থান নেয়।
- এই প্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করে।
- এ অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী মারা যান।

উৎস: ইন্ডিয়া টুডে।
৪৭১.
সম্প্রতি থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার 'শান্তিচুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছে কোথায়?[ অক্টোবর, ২০২৫]
  1. মালয়েশিয়া
  2. চীন
  3. থাইল্যান্ড
  4. লাওস
ব্যাখ্যা

• থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া শান্তিচুক্তি:
- থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া আজ রোববার শান্তিচুক্তির একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেছে।
- এটিকে দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে শত্রুতা বন্ধ এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
- চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত।
- মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা এ চুক্তি সই করেন।

উৎস: প্রথম আলো।

৪৭২.
জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে কয়টি ধারা রয়েছে?
  1. ২৮টি
  2. ৩০টি
  3. ২৬টি
  4. ৩৫টি
ব্যাখ্যা

International Bill of Human Rights: 
- এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত একটি ঘোষণা।
- ও দুটি আর্ন্তজাতিক চুক্তিকে গঠিত International Bill of Human Rights.
- মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা করা হয় ১৯৪৮ সালে
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ১৯৪৬ সালে ঘোষণা করে।।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গৃহীত।
- মোট ধারা ৩০ টি।
- আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সম্মেলন ১৯৬৮- তেহরান ইরান, ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে।
- দ্বিতীয় বৈশ্বিক মানবাধিকার সম্মেলন ১৯৯৩ অনুষ্ঠিত হয়  ভিয়েনা।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসািইট।

৪৭৩.
"ভার্সাই চুক্তি- ১৯১৯" স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. যুক্তরাজ্য
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• ভার্সাই চুক্তি:
-  দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি ১৯১৯ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তিটি ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে স্বাক্ষরিত হয়,
- এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটায়।
- চুক্তিটি ১০ জানুয়ারি ১৯২০ সালে কার্যকর হয়।
- চুক্তিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানির মধ্যে শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়।
- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জার্মানিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের উপর বিপুল পরিমাণ আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়।

উৎস: Britannica এবং প্রথম আলো।

৪৭৪.
নিউইয়র্কে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমি-
  1. ক) ওয়েস্ট পয়েন্ট
  2. খ) স্যান্ডহার্স্ট
  3. গ) ইউকুসোক
  4. ঘ) সুবিক বে
ব্যাখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমী ওয়েস্ট পয়েন্ট।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন নৌঘাঁটি ছিল ফিলিপাইনের 'সুবিক বে'। ১৯৯১ সালে এই নৌঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রাথমিক অফিসার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্যান্ডহার্স্ট।
প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের সদরদপ্তর জাপানের ইউকোসুকে অবস্থিত।
উৎসঃ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট।
৪৭৫.
অকাস চুক্তি কোন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে?
  1. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  2. ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা
  3. আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
অকাস চুক্তি: 
- অকাস চুক্তি হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সালে।
- ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ অকাস চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উত্থান ও তৎপরতাকে ব্যাহত করা।
- এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন অর্জনে সহায়তা করবে।
- এই চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'সাইবার সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অতিরিক্ত জলসীমার ক্ষমতা' বিষয়ে সহযোগিতা।

⇒ এই চুক্তির ফলে ফ্রান্সের সাথে অস্ট্রেলিয়ার করা ১২টি সাবমেরিন তৈরির চুক্তি অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় ফ্রান্স অকাস চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
- অকাস চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত কোয়াডের গুরুত্বও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

উৎস: U.S. Department of Defense (.gov).
৪৭৬.
পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি এনপিটি এর স্বাক্ষরকারী নয়
  1. ক) চীন
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) বাংলাদেশ
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
এনপিটি হ'ল একটি যুগান্তকারী আন্তর্জাতিক চুক্তি যার উদ্দেশ্য হ'ল পারমাণবিক অস্ত্র ও অস্ত্র প্রযুক্তির বিস্তার রোধ করা, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা প্রচার করা এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অর্জনের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়া। এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র দেশগুলির নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে বহুপাক্ষিক চুক্তিতে একমাত্র বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৬৮ সালে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত, চুক্তিটি ১৯৭০ সালে কার্যকর হয়। ১১ ই মে ১৯৯৫-এ চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্র সহ মোট ১৯১ টি রাষ্ট্র এই চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। অন্যান্য দেশগুলি অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির চেয়ে এনপিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। রেফারেন্সঃ UNO
৪৭৭.
বাংলাদেশ কতসালে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়?
  1. ক) ২০০৯
  2. খ) ২০১২
  3. গ) ২০০৭
  4. ঘ) ২০১৫
ব্যাখ্যা
- ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ার ৩২টি দেশকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করা। 
- নেটওয়ার্কটি তৈরির জন্য ২০০৩ সালে ব্যাংককে একটি আন্তঃসরকার চুক্তি গৃহীত হয়েছিল। 
- বাংলাদেশ ২০০৯ সালে আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে হাইওয়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়।
 
উৎস: দ্য  বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
৪৭৮.
‘দাঁতাত’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
  1. অর্থনৈতিক সহায়তা
  2. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
  3. রাজনৈতিক সমঝোতা
  4. উত্তেজনা প্রশমন ও বন্ধুত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

দাঁতাত (Detente)
- ‘দাঁতাত’ একটি ফরাসি শব্দ।
- দাঁতাতের অর্থ হলো উত্তেজনা প্রশমন ও বন্ধুত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
- এটি সাধারণত দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা বা শত্রুতা কমিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়।
- শীতল যুদ্ধের সময় দাঁতাতের উদাহরণ হলো: SALT চুক্তি এবং হেলসিংকি চুক্তি।
- দাঁতাতের মাধ্যমে দেশগুলো সম্পর্ক উন্নয়ন, সামরিক উত্তেজনা হ্রাস, এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৭৯.
IPCC শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে কত সালে?
  1. ক) ২০০৫
  2. খ) ২০০৬
  3. গ) ২০০৭
  4. ঘ) ২০০৮
ব্যাখ্যা
- IPCC (The Intergovernmental Panel on Climate Change) হলো UNEP এবং WMO এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা।
- এটি ১৯৮৮ সালে প্র্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষকে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা।
- IPCC ২০০৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে
(তথ্যসূত্র: IPCC ওয়েবসাইট)
৪৮০.
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় মোট কতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে?
  1. ২৫টি
  2. ২৮টি
  3. ৩০টি 
  4. ৩২টি
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন:
- ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়।
- কমিশন ‘মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা' এর খসড়া প্রস্তুতের জন্য একটি কমিটি গঠন করে।
- কমিটির প্রস্তুতকৃত খসড়া ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গৃহীত হয়।
- মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় মোট ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বরকে বিশ্বব্যাপী 'আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) গৃহীত ও ঘোষিত হয়।
- এদিন ঘোষিত মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, 'অধিকারের প্রশ্নে মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং সবসময় সেভাবেই থাকতে চায় (Men are born and always continue free and equal in respect to their rights).
- জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, মানবাধিকার ভোগের বেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব যে ধরনের নাগরিকই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক মতামত ও পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, সে যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য বা পার্থক্য করা হবে না।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

৪৮১.
পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. CTBT
  2. NPT
  3. CWC
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT): 
-  NPT হলো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- স্বাক্ষর: ১৯৬৮ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 
- কার্যকর হয়: ১৯৭০ সালে।
- ১১ মে ১৯৯৫ সালে চুক্তিটি অনির্দিষ্ট মেয়াদে সম্প্রসারিত করা হয়।
- বর্তমানে ১৯১টি দেশ এই চুক্তিতে যুক্ত, যা এটিকে বিশ্বের সর্বাধিক স্বীকৃত নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে পরিণত করেছে।
- NPT বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

- CTBT চুক্তি পৃথিবীতে সমস্ত পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা নিষিদ্ধ করে ।
- CWC এর লক্ষ্য হচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্র উন্নয়ন, উৎপাদন, অধিগ্রহণ, মজুদ প্রভৃতি নিষিদ্ধ করে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের একটি সম্পূর্ণ শ্রেণী নির্মূল করা। 

উৎস: United Nations Office for Disarmament Affairs
৪৮২.
শেনজেন চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৮৮৫ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা

- শেনজেন চুক্তি:

- ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভিসামুক্ত প্রবেশের চুক্তি শেনজেন চুক্তি।
- এ চুক্তিতে ১৯৮৫ সালের ১৪ জুন লুক্সেমবার্গের শেনজেনে, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডস স্বাক্ষর করে,
- যার মূল লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। 
- এ লক্ষ্যে ভিসা ও আশ্রয় নীতিমালা সমন্বিত করা হয় এবং তথ্য ভাগাভাগির জন্য শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেম (SIS) চালু করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে চুক্তি কার্যকর হলে ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিস যোগ দেয় এবং পরবর্তীতে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। - যদিও এটি প্রথমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে শুরু হয়েছিল, আমস্টারডাম চুক্তি ১৯৯৯ সালে শেনজেন চুক্তিকে ইইউ আইনের অংশ করে।
- এরপর ২০০৭ সালে চেক প্রজাতন্ত্রসহ একাধিক দেশ যুক্ত হয়, আর পরবর্তী সময়ে সুইজারল্যান্ড (২০০৮), লিচেনস্টাইন (২০১১) ও ক্রোয়েশিয়া (২০২৩) অন্তর্ভুক্ত হয়ে শেনজেন অঞ্চল আরও সম্প্রসারিত হয়।

- শেনজেন ভুক্ত দেশ- ২৯ টি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৮৩.
ডেটন শান্তিচুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
'ডেটন শান্তিচুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- ডেটন চুক্তি (Dayton Agreement):
- এই চুক্তির পূর্ণরূপ: The General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina.
- এটি একটি শান্তিচুক্তি।
- প্রক্রিয়াটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান মার্কিন শান্তি আলোচনাকারী রিচার্ড হলব্রুক।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫।
-  চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া।
- স্বাক্ষরকারী: ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রানজো তুজমান, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যাঁকে পরে হেগে 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট এলিজা আইজেবগোভিচ।
- মধ্যস্থতাকারী: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
- উদ্দেশ্য: সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা সমস্যার সমাধান।

উৎস: Britannica.
৪৮৪.
Good Friday Agreement কোথায় সম্পাদিত হয়?
  1. গ্লাসগো
  2. ডাবলিন
  3. বেলফাস্ট
  4. লন্ডন
ব্যাখ্যা
বেলফাস্ট চুক্তি:
- 'বেলফাস্ট চুক্তির' অপর নাম - Good Friday Agreement.
- উত্তর আয়ারল্যান্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফাস্ট চুক্তিটি একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়।
- উত্তর আয়ারল্যান্ডের শাসনতন্ত্র কিরকম হবে তা এই চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
- চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮ সালে।
- চুক্তি কার্যকর হয় ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড।
- চুক্তির পক্ষ ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৮৫.
জেনেভা কনভেনশনে কয়টি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন: 
- জেনেভা কনভেনশন হলো ১৮৬৪ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে জেনেভাতে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের একটি সিরিজ, যা যুদ্ধের সময় সৈন্য ও বেসামরিক জনগণের মানবিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে গৃহীত হয়।
- এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন সময়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা যুদ্ধের সময় মানবাধিকারের সুরক্ষায় সহায়ক।
- জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধকালীন মানবাধিকারের সুরক্ষায় একটি বৈশ্বিক মাইলফলক এবং এটি আজও আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- এতে ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে। 
i) জেনেভা কনভেনশন প্রথমবার গৃহীত হয় ১৮৬৪ সালে, যা রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠাতা অঁরি দুঁনার-এর উদ্যোগে।
- আহত সৈন্যদের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা।
- সকল যোদ্ধার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ।
- আহতদের সহায়তায় নিয়োজিত বেসামরিক ব্যক্তিদের সুরক্ষা।
- রেড ক্রস প্রতীককে সুরক্ষা ও শনাক্তকরণের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ।
ii) ১৯০৬: প্রথম চুক্তি সংশোধন ও সম্প্রসারণ।
iii) ১৯২৯: তৃতীয় চুক্তি, যেখানে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং তাদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
iv) ১৯৪৯: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে চারটি নতুন কনভেনশন গৃহীত হয়:
- স্থলযুদ্ধে আহতদের জন্য।
- সমুদ্রে আহত এবং উদ্ধারকৃতদের জন্য।
- যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা।
- যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা।

অতিরিক্ত প্রটোকল:
- ১৯৭৭ সালে দুটি প্রটোকল সংযোজন করা হয়, যা যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনগণ এবং অ-সশস্ত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলোর সুরক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেয়।
- ২০০৫ সালে তৃতীয় প্রটোকল যুক্ত হয়।

উৎস: Britannica.
ICRC ওয়েবসাইট। 
৪৮৬.
ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  2. প্যারিস শান্তি চুক্তি
  3. ডেটন চুক্তি
  4. লুজান চুক্তি
ব্যাখ্যা
• প্যারিস শান্তি চুক্তি:
- স্বাক্ষরিত হয়- ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ: ভিয়েতনাম-যুক্তরাষ্ট্র।
- এই চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।

অন্যদিকে,
• ডেটন চুক্তি:
- আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- উদ্যোক্তা: সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
- পক্ষসমূহ: সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
- উদ্দেশ্য: সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা সমস্যার সমাধান।

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি ১৯৭৮:
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭ সেপ্টেম্ব, ১৯৭৮ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট।
- পক্ষসমূহ-মিসর ইসরাইল।

• লুজান চুক্তি:
 ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজানে স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তিটি অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে যাওয়ার পর তুরস্কের আধিকারিক সীমারেখা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তার অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৮৭.
আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
আলজিয়ার্স চুক্তি:
- এই চুক্তিটি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- ইরাক-ইরান দুই দেশের মধ্যে আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৭৫ সালে।
- অনুমোদিত হয়: ১৯৭৬ সালে।
- মধ্যস্থতাকারী দেশ: আলজেরিয়া।
- স্বাক্ষরের স্থান: আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া।
- ইরানের পক্ষে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী এবং ইরাকের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমনের মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর,১৯৮০ সালে চুক্তিটি অকার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com
৪৮৮.
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিষয়ক আইন কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

UNCLOS:
- UNCLOS-এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention on the Law of the Sea.
- UNCLOS জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিষয়ক আইন।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৮২ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মৎস্য শিকার, নৌচলাচল, মহীসােপান, গভীর সমুদ্রতল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমুদ্র দূষণের মত বিষয়গুলাে এ চুক্তির মূল বিষয়।

⇒ আঞ্চলিক সমুদ্র অঞ্চল (Territorial sea):
- তটরেখা হতে একটি নির্দিষ্ট দ রত্বে সমুদ্রের উপর উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে।
- এ সমুদ্র অঞ্চলকেই আঞ্চলিক সমুদ্র অঞ্চল বলে।
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন কনভেনশনে এ দ রত্ব ১২ নটিক্যাল মাইল নির্ধারণ করা হয়।

⇒ সংরক্ষিত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone):
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন কনভেনশনে উপকূলীয় রাষ্ট্র সমুহকে সংরক্ষিত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অধিকার প্রদান করা হয়।
- এখানে উপকূলীয় রাষ্ট্রের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অধিকার থাকে।
- এটি তটরেখা হতে সমুদ্রে সর্বোচ ২০০ নটিক্যাল মাইল বিস্তৃত হবে।

⇒ মহীসোপান (Continental shelf):
- মহাদেশের কিছু অংশে সমুদ্রের পানির মধ্যে বিস্তৃত থাকে।
- এখানে সমুদ্রের গভীরতা কম থাকে।
- মহাদেশের এ স্বল্প গভীর নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন কনভেনশনে সাধারণভাবে কোন কোন দেশ তটরেখা হতে সমুদ্র বক্ষে ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ২৫০০ মিটার গভীর সমুদ্র তলদেশ হতে ১০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত তার মহীসোপান কি বিস্তৃত করতে পারবে।

উৎস: UNCLOS ওয়েবসাইট।

৪৮৯.
কোন দুইটি দেশের মধ্যে START চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
  3. রাশিয়া- চীন
  4. ফ্রান্স-জার্মানি
ব্যাখ্যা
START চুক্তি:
- START-এর পূর্ণরূপ: Strategic Arms Reduction Treaty।
- এটি হলো কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি।
- চুক্তি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু: কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস।
- START-1 স্বাক্ষরিত হয়: ৩১ শে জুলাই ১৯৯১।
- START-2 স্বাক্ষরিত হয়: ৩ জানুয়ারি ১৯৯৩।
 
উৎস: U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।
৪৯০.
সমন্বিত পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি কোনটি?
  1. Tashkent Declaration
  2. CEDAW
  3. СТВТ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦СТВТ:
- সমন্বিত পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি CTBT.
- এর পূর্ণরূপ Comprehensive Nuclear Test Ban - Treaty.
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হল সামরিক বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- ১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ - সভায় এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষর করে ২০০০ সালের ৮ মার্চ।

তথ্যসূত্র - CTBTO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৯১.
কোন চুক্তি অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়?
  1. Treaty of Tlatelolco
  2. Treaty of Rarotonga
  3. SEANWFZ Treaty
  4. Pelindaba Treaty
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর, আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত অঞ্চল চুক্তি (SEANWFZ Treaty) স্বাক্ষর করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পারমাণবিক এবং অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে সংরক্ষণের অঙ্গীকার হিসেবে।
- এই চুক্তিটি ব্যাংকক চুক্তি নামেও পরিচিত।
- এই চুক্তির মাধ্যমে, আসিয়ান পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখার ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) এর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত অঞ্চল (NWFZ) প্রতিষ্ঠাকেও চিহ্নিত করে - যা বিশ্বের পাঁচটি NWFZ-এর মধ্যে একটি।
- অন্য চারটি NWFZ ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয়, আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- SEANWFZ চুক্তির প্রোটোকল পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্রগুলির (NWS) স্বাক্ষর এবং প্রাথমিক অনুমোদনকে স্বাগত জানায়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।
- প্রোটোকলে NWS-এর অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য,
- Treaty of Tlatelolco একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে।
- Treaty of Rarotonga দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে।
- Pelindaba Treaty আফ্রিকা মহাদেশে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চুক্তি।

উৎস: ASEAN ওয়েবসাইট।
৪৯২.
কোন চুক্তির মাধ্যমে হংকংকে ব্রিটিশ কলোনি ঘোষণা করা হয়?
  1. ওয়েন্টফেলিয়া চুক্তি
  2. লুজান চুক্তি
  3. বেলফাস্ট চুক্তি
  4. নানকিং চুক্তি
ব্যাখ্যা
নানকিং চুক্তি:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রথম আফিম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয়।
- যুদ্ধে পরাজয়ের পর চীনের শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের সাথে একটি অপমানজনক 'অসম চুক্তি' স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- এই চুক্তির নাম নানকিং চুক্তি।
- এই চুক্তি প্রথম আফিম যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- চিনা কমিশনার চিইং (Chiying) এবং নব নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি পট্টিনগার (Sir Henry Pottinger) -এর উদ্যোগে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ আগস্ট, ১৮৪২ সালে।

⇒ এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।
- এছাড়া চীন কর্তৃক ব্রিটেনকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বাধ্য হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে চীন সরকার ৯৯ বছরের জন্যে হংকংকে ব্রিটেনের নিকট লিজ দেয় এবং ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজের মেয়াদ শেষে ব্রিটেন পুনরায় চীনের নিকট হংকং কে হস্তান্তর করে।

অন্যদিকে,
- বেলফাস্ট চুক্তি: উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি স্থাপন।
- ওয়েন্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি, ১৬৪৮: ইউরোপের দেশগুলো ১৬১৮-১৬৪৮ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলো। এই যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে ১৬৪৮ সালের ২৪ অক্টোবর জার্মানির ওয়েস্টফেলিয়া নামক স্থানে একটি চুক্তি স্বাক্ষরত হয়। এটিই ওয়েন্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি, ১৬৪৮ নামে পরিচিত।
- লুজান চুক্তি:  ১৯২৩ সালের লুজান চুক্তিতে একদিকে অটোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি তুরস্কের প্রতিনিধিরা এবং অন্য দিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, পিস, রোমানিয়া এবং যুগোশ্লাভিয়ার প্রতিনিধিরা ছিলেন সাত মাসের সম্মেলনের পরে ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত লুজানে স্বাক্ষরিত হয় বলেই এর নাম লুজান চুক্তি তবে এ চুক্তিকে 'শতাব্দী চুক্তি' বলা যায়।

উৎস: Britannica.
৪৯৩.
The Paris Peace Treaty was signed between which countries?
  1. ক) France-German
  2. খ) Vietnam-United States
  3. গ) United kingdom-France
  4. ঘ) Vietnam-United kingdom
ব্যাখ্যা
• প্যারিস শান্তি চুক্তি:
- প্যারিস শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়- ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান-প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ- ভিয়েতনাম-যুক্তরাষ্ট্র
- এই চক্তির ফলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica ও History.com
৪৯৪.
তাসখন্দ চুক্তি কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ১৯৬২
  2. ১৯৭১
  3. ১৯৬৫
  4. ১৯৬৬
ব্যাখ্যা

• তাসখন্দ চুক্তি (Tashkent Agreement):
- তাসখন্দ চুক্তি ছিল একটি দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি।
- যা ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
• স্বাক্ষরের তারিখ ও স্থান:
- তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ১৯৬৬
- স্থান: তাসখন্দ, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান উজবেকিস্তান)।

•  অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব:
- ভারতের পক্ষে: প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী।
- পাকিস্তানের পক্ষে: প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আয়ুব খান।
- মধ্যস্থতাকারী: সোভিয়েত নেতা আলেক্সি কোসিগিন।
- ১৯৬৫ সালের আগস্ট মাসে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে (১১ জানুয়ারি, ১৯৬৬)।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৪৯৫.
ডেটন চুক্তি কোন অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. মধ্যপ্রাচ্য
  2. বলকান অঞ্চল
  3. আফ্রিকা
  4. দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
- ডেটন চুক্তি বলকান অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- বলকান অঞ্চল দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, এটি বলকান উপদ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে অবস্থিত দেশসমূহ হলো আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস, কসোভো, মন্টেনেগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া এবং তুরস্কের ইউরোপীয় অংশ। 
- ডেটন চুক্তির পক্ষসমূহ - সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। 

• ডেটন চুক্তি:
- ডেটন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্যারিস, ফ্রান্সে স্বাক্ষরিত হয়।
- এই ঐতিহাসিক চুক্তি বসনিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রানজো তুজমান, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যাঁকে পরে হেগে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়), এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট এলিজা আইজেবগোভিচ।
- এই চুক্তি স্বাক্ষরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মধ্যস্থতা করেন। ডেটন চুক্তির প্রধান পক্ষ ছিল সার্বিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
- চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল সার্বিয়া এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করা। 

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৯৬.
নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান অস্থায়ী এশীয় দেশ-
  1. ফিলিপাইন
  2. জাপান
  3. কম্বোডিয়া
  4. ভারত
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১৫টি।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি সদস্য দেশঃ China, France, Russia, United Kingdom এবং United States।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী ১০টি সদস্য দেশঃ Estonia, India, Ireland, Kenya, Mexico, Niger, Norway, Saint Vincent and the Grenadines, Tunisia এবং Vietnam।

৪৯৭.
'NPT' চুক্তি অনুসারে, নিম্নের কোনটি পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদক রাষ্ট্র নয়?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. উত্তর কোরিয়া
  3. ফ্রান্স
  4. চীন
ব্যাখ্যা
'NPT' চুক্তি:
- NPT-এর পূর্ণরূপ: Nuclear Non- Proliferation Treaty.
- এটি হলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি।
 
'NPT' চুক্তি অনুসারে, 
- আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদক রাষ্ট্র (NWS) হলো ৫টি।
- রাষ্ট্রগুলো হলো: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- চুক্তিটি এই দেশগুলির পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে স্বীকৃতি দেয়।
- কিন্তু NPT-এর ৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের চিরস্থায়ীভাবে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখার উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য,
- ভারত, পাকিস্তান এবং ইসরায়েল কখনই NPT-এ যোগ দেয়নি। কিন্তু দেশগুলি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বলে পরিচিত।
- উত্তর কোরিয়া একটি অ-পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে NPT-এ যোগদান করেছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে NPT থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল।

এছাড়াও, 
- বাংলাদেশ পারমানবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (NPT) স্বাক্ষর করে: ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ সালে।

উৎস: i) Arms Control Association ওয়েবসাইট।
ii) UNODA ওয়েবসাইট।
৪৯৮.
২০২৩ সালে নিম্নের কোন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে?
  1. ক) সেভার্স চুক্তি
  2. খ) বেলফাস্ট চুক্তি
  3. গ) লুজান চুক্তি
  4. ঘ) নানকিং চুক্তি
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির সাথে অটোমান সাম্রাজ্য তথা বর্তমান তুরস্কের প্রথমে সেভার্স চুক্তি (১০ আগস্ট ১৯২০) সম্পাদিত হয়। কিন্তু তৎকালীন নব্য প্রতিষ্ঠিত তুর্কি জাতীয়তাবাদী সরকার সেভার্স চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে।
১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সেভার্স চুক্তির স্থলে লুজান চুক্তি সম্পাদিত হয়। সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
লুজান চুক্তির ফলে-
- বর্তমান তুরস্কের সীমানা নির্ধারিত হয়।
- অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন আরব প্রদেশ, আর্মেনিয়া, সাইপ্রাস, ঈজিয়ান সাগরের দ্বীপসমূহের উপর থেকে তুরস্ক তার অধিকার তুলে নেয়।
- এছাড়া আরাে কতিপয় বিধি নিষেধ আরােপিত হয়।

আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে ২০২৩ সালে লুজান চুক্তির মেয়াদ অবসান হবে।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং history.com
৪৯৯.
ANZUS কোন ধরনের সংগঠন?
  1. অর্থনৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আঞ্চলিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ANZUS: 

• এটি একটি সামরিক চুক্তি, জোট বা সংগঠন।
• এই সামরিক চুক্তি গঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫১।
• প্রাথমিকভাবে তিনটি দেশ নিয়ে হয়েছিল। দেশগুলো হলো: 
- অস্ট্রেলিয়া,
- নিউজিল্যান্ড, এবং
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 
• উদ্দেশ্য: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্যবাধের প্রসার রোধ। 

উৎস: ব্রিটিনিকা এবং ANZUS ওয়েবসাইট।
৫০০.
ABM Treaty কোন দুটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স ও ইতালি
  3. যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. জার্মানি ও জাপান
ব্যাখ্যা

Anti-Ballistic Missile Treaty:
- ABM - এর পূর্ণরূপ Anti Ballistic Missile Treaty (ABM Treaty)।
- এটি একটি ক্ষেপনাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti- Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- স্বাক্ষরের তারিখ - ২৬ মে, ১৯৭২ সাল।
- কার্যকরের তারিখ - ৩ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান - মস্কো, রাশিয়া।
- বিষয় - দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।
- চুক্তি বাতিল - ২০০২ সাল।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও হিস্টরি ডট কম।