বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নিরাপত্তা ও অন্যান্য চুক্তি এবং চুক্তি সংক্রান্ত সনদ

মোট প্রশ্ন১,৩৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নিরাপত্তা ও অন্যান্য চুক্তি এবং চুক্তি সংক্রান্ত সনদ

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৩০১৪০০ / ১,৩৬৬

৩০১.
’Five Eyes’ জোটের মূল চুক্তির নাম কী?
  1. NATO Treaty
  2. Five Nations Accord
  3. UKUSA Agreement
  4. Warsaw Pact 
ব্যাখ্যা

• Five Eyes (FVEY): 
- আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা চুক্তি/সহযোগিতা।
- সদস্য দেশ: যুক্তরাষ্ট্র , যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড।
 - প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৪৬-এ “UKUSA Agreement” থেকে শুরু,
- আধুনিক Five Eyes আকারে বিকাশ পায় ১৯৫০-এর দশকেঅ
- সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কঠোর তথ্য বিনিময় ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করে। 
 • প্রধান সংস্থা সমূহ: NSA (USA), GCHQ (UK), CSE (Canada), ASD (Australia), GCSB (New Zealand).

• মূল কার্যক্রম: 
- সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স (SIGINT) আদান-প্রদান।
- আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী গোয়েন্দা।
- সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি শেয়ারিং।
- বিশ্বব্যাপী নজরদারি ও তথ্য বিনিময় ।

উৎস: Encyclopaedia Britannica – Five Eyes. 

৩০২.
QUAD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Quadrilateral Security Dialogue
  2. Quadrilateral Security Download
  3. Quadrilateral Security Development
  4. Quadrilateral Security Description
ব্যাখ্যা
কোয়াড (QUAD):
- QUAD-এর পূর্ণরূপ: Quadrilateral Security Dialogue.
- এর অর্থ হলো ‘চতুর্পক্ষীয় নিরাপত্তা সংলাপ’।
- এটি একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত নিরাপত্তা ফোরাম।
- কোয়াডের সদস্য দেশ মোট চারটি।
- যথা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান।
- ২০০৭ সালে এ চারটি দেশ নিয়ে QUAD গঠিত হয়।
- কোয়াডের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একটি উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য কাজ করা।
- কোয়াড এর মূল উদ্দেশ্য চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্ৰযাত্রা প্রতিহত করা।

উৎস: The Guardian।
৩০৩.
START-2 কী? 
  1. টিভিতে সম্প্রচারিত একটি সিরিয়াল
  2. বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি চুক্তি
  3. কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি
  4. এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
START চুক্তি:
- START এর পূর্ণরূপ: Strategic Arms Reduction Treaty।
- এটি হলো কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি।
- চুক্তি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু: কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস।
- START-1 স্বাক্ষরিত হয়: ৩১ শে জুলাই ১৯৯১।
- START-2 স্বাক্ষরিত হয়: ৩ জানুয়ারি ১৯৯৩।

উৎস: U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।
৩০৪.
কোন চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি
  2. সেভার্স চুক্তি
  3. ভার্সাই চুক্তি
  4. ভিয়েনা চুক্তি
ব্যাখ্যা
ভার্সাই চুক্তি:
- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- এই চুক্তির জন্য জার্মানি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- এই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- চুক্তির খসড়ার মূল নকশা করেন চারজন নেতা যারা ইতিহাসে বিগ ফোর হিসেবে খ্যাত। তারা হলেন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট - উড্রো উইলসন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী - ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী - জর্জ ক্লেমেনসো ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী - ভিটোরিও অরল্যান্ডো।

⇒ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে - আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

উৎস: History.com
৩০৫.
'ডেটন শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষরকারী পক্ষ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ডেটন শান্তি চুক্তি:
- ডেটন শান্তি চুক্তির পূর্ণনাম - General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina।
- বসনিয়া সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো অঙ্গরাজ্যের ডেটনে অবস্থিত বিমানঘাটিতে এই চুক্তির খসড়া প্রণীত হয়। এই জন্য এই চুক্তিকে ডেটন শান্তি চুক্তি বলা হয়।
- ডেটন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট - বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ওয়ারেন ক্রিস্টোফার।
- চুক্তিটির প্রধান শান্তি আলোচক - রিচার্ড হলব্রোক।
- চুক্তির খসড়া প্রস্তুত - ২১ নভেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সাল
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান - প্যারিস, ফ্রান্স।
- 'ডেটন শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষরকারী পক্ষ ৩টি।
- চুক্তির পক্ষ সমূহ - বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী -
১. বসনিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজটবেগোভিচ।
২. ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে - প্রেসিডেন্ট ফ্রাঞ্জো টুডম্যান।
৩. সার্বিয়ার পক্ষে - স্লোভাদান মিলোসোভিচ।

তথ্যসূত্র: হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।
৩০৬.
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে 'তাসখন্দ চুক্তি' কত সালে স্বাক্ষরিত হয়? 
  1. ১৯৬৩ সালে 
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা

তাসখন্দ চুক্তি:
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে চিরবৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটে।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত উজবেকিস্তানের তাসখন্দে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বিধায় ইতিহাসে এটি তাসখন্দ চুক্তি নামেই বহুল পরিচিত।
- তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী এ্যালেক্সি কোসিজিনের মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান দুই দেশের পক্ষে  চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি.কম।

৩০৭.
ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো হয় কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. ওয়াশিংটন চুক্তি
  2. বার্লিন শান্তি চুক্তি
  3. টোকিও শান্তি চুক্তি
  4. প্যারিস শান্তি চুক্তি
ব্যাখ্যা
• প্যারিস শান্তি চুক্তি:
- প্যারিস শান্তি চুক্তি ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- এটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সম্পাদিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি,
- এটি ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় এবং উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
- ১৯৭৫ সালে উত্তর ভিয়েতনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে।
- ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান প্যারিস শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ঘটে। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডট কম।
৩০৮.
রামসার কনভেনশন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) রাশিয়ায়
  2. খ) ভারতে
  3. গ) ইরাকে
  4. ঘ) ইরানে
ব্যাখ্যা
• রামসার কনভেনশন ইরানে অনুষ্ঠিত হয়। 

ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জলাভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ক রামসার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- বাংলাদেশ ও রামসার: বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে৷
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও - টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: রামসার ওয়েবসাইট। 
৩০৯.
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) -এ স্বাক্ষরিত দেশ কতটি? (ফেব্রুয়ারি-২০২৬)
  1. ১৯৩টি
  2. ১৯০টি
  3. ১৯২টি
  4. ১৯১টি
ব্যাখ্যা

 পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) :
- NPT-এর পূর্ণরূপ: Nuclear Non- Proliferation Treaty.
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি।
- ১৯৯৫ সালের ১১ মে চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়। 
- পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের লক্ষ্য অর্জন এবং রাষ্ট্রপক্ষগুলির মধ্যে আস্থা তৈরির ব্যবস্থা হিসেবে, চুক্তিটি  আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা  (IAEA) এর দায়িত্বে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৩১০.
ক্যাম্প ডেভিড (Camp David) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কারা?
  1. ক) গামাল আব্দেল নাসের ও ইথজ্যাক বেঞ্জবি
  2. খ) আনোয়ার সাদাত ও ইথজ্যাক নেভন
  3. গ) ইথজ্যাক নেভন ও গামাল আব্দেল নাসের
  4. ঘ) মিনাচেম বেগিন ও আনোয়ার সাদাত
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ‍যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার চুক্তিটি স্বাক্ষরে মধ্যস্থতা করেন।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী - মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট - আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী - মিনাচেম বেগিন
- এই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম আরব দেশ হিসেবে মিশর ইসরাইলকে স্বীকৃতি প্রদান করে। বিনিময়ে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে এবং সেখানে মিশরের অধিকার পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে মিশরকে ওআইসি ও আরবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।

ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তির আওতায় স্বাক্ষরিত পৃথক চুক্তি দুটি হচ্ছে -
1. A Framework for Peace in the Middle East ও
2. A Framework for the Conclusion of a Peace Treaty between Egypt and Israel

- এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে মিশর ছাড়াও আরেকটি আরব দেশ—জর্ডানের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে দ্বিতীয় আরবদেশ হিসেবে জর্ডান ইসরায়েলের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম
৩১১.
Anti Ballistic Missile Treaty কোন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও চীন
  2. রাশিয়া ও ভারত
  3. যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

ABM Treaty:
- ABM-এর পূর্ণরূপ: Anti Ballistic Missile Treaty।
- এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti-Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- স্বাক্ষরিত হয় ২৬ মে ১৯৭২ সালে।
- কার্যকর হয় ৩ অক্টোবর ১৯৭২ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- চুক্তির বিষয়: দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।
- চুক্তিটি বাতিল হয় ১৩ জুন ২০০২ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ৬ মাস পরে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৩ ডিসেম্বর ২০০১-এ চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট।

৩১২.
কোন দুই নেতা ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন?
  1. গামাল আবদেল নাসের ও গোল্ডা মেয়ার
  2. আনোয়ার সাদাত ও মেনাচেম বেগিন
  3. ইয়াসির আরাফাত ও ইয়িতজাক রবিন
  4. হোসনি মুবারক ও শিমন পেরেজ
ব্যাখ্যা

◉ ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন। এই চুক্তি ১৯৭৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত হয়।

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি: 
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির ফলে মিশর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সাথে প্রথম শান্তিচুক্তি করে।
- ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে সম্মত হয় এবং মিশর আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়।
- এর ফলে ১৯৭৯ সালে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তবে, এই চুক্তির জন্য মিশরকে আরব লীগ ও ওআইসি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং অনেক আরব দেশ এর বিরোধিতা করে।
 
সূত্র - History.com ও ব্রিটানিকা। 

৩১৩.
নিচের কোন দেশ NPT চুক্তিতে কখনও স্বাক্ষর করেনি?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা

• NPT চুক্তি (Nuclear Non-Proliferation Treaty):
- চুক্তির পূর্ণ নাম: Treaty on the Non-Proliferation of Nuclear Weapons (NPT).
- বাংলায়: পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।

• চুক্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা।
- পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ (nuclear disarmament) নিশ্চিত করা।
- খসড়া গৃহীত: ১ জুলাই ১৯৬৮।
- কার্যকর: ৫ মার্চ ১৯৭০।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর ও অনুমোদন করে: ৩১ আগস্ট, ১৯৭৯
- প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষক দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া)।
- নজরদারি সংস্থা: IAEA (International Atomic Energy Agency).
- বর্তমানে প্রায় ১৯১টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
- ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল – চুক্তিতে কখনও স্বাক্ষর করেনি
- উত্তর কোরিয়া – ২০০৩ সালে NPT থেকে বেরিয়ে যায়।

• চুক্তির মেয়াদ:
- প্রথমে এটি ২৫ বছরের জন্য কার্যকর ছিল।
- পরে, ১৯৯৫ সালে এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্প্রসারিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৩১৪.
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ফারাক্কা পানি চুক্তির মেয়াদ কত বছর?
  1. ২০ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা বাঁধ:
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- এর অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।

উল্লেখ্য,
- ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা করে ১৯৫১ সালে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে।
- তবে ব্যবহার উপযোগী করতে পুরোপুরিভাবে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে।
- ২১ এপ্রিল, ১৯৭৫ থেকে এই বাঁধ চালু হয়।
- বাঁধটিতে মোট ১০৯টি গেট রয়েছে।

⇒ ফারাক্কা পানি চুক্তি:
- ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমতে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়।
- চুক্তি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি - ৩১শে মে পর্যন্ত দুই দেশ চুক্তিতে উল্লেখিত ফর্মুলা অনুযায়ী পানি ভাগাভাগি করে নেবে।
- চুক্তিতে বলা হয়েছে, নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে দুই দেশ সমান সমান পানি ভাগ করে নেবে।
- পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেক থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে ৪০ হাজার কিউসেক পাবে বাংলাদেশ, অবশিষ্ট প্রবাহিত হবে ভারতে।
- আবার নদীর পানির প্রবাহ যদি ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হয় তাহলে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবে ভারত, অবশিষ্ট পানি প্রবাহিত হবে বাংলাদেশে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা।
৩১৫.
ভার্সাই সন্ধি অনুযায়ী কোন বন্দরকে মুক্ত বা আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ডানজিগ
  2. খ) আকাবা
  3. গ) ওডেসা
  4. ঘ) কায়রো
ব্যাখ্যা
- ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। 
- ভার্সাই প্যারিসের অদূরে অবস্থিত। সন্ধির খসড়া জার্মান প্রতিনিধিবর্গকে দেখানো হয় ও মন্তব্য করতে খসড়ার বিভিন্ন শর্ত তাঁরা আপত্তি জানান, কিন্ত সেগুলো গ্রাহ্য হয়নি। 
- একতরফা ভাবে ইউরোপের আঞ্চলিক পুনর্গঠন, সাময়িক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শর্তাবলী জার্মানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
- ভার্সাই সন্ধির শর্ত অনুসারে জার্মানি ফ্রান্সকে আলসাস-লোরেন, বেলজিয়ামকে মরেসনেট, ইউপেন, মালমেডি, লিথুয়ানিকে মেমেল, পোল্যান্ডকে পোজেন ও পশ্চিম প্রুশিয়ার অংশ বিশেষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। 
- ডানজিগ উন্মুক্ত বন্দর হিসেবে ঘোষিত হয়। 
- উপনিবেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অর্জিত বিশেষ অধিকারগুলো জার্মানিকে প্রত্যার্পন করতে বলা হয়। 
- উত্তর সাইলেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার অধিবাসীগণ গণভোটের মাধ্যমে স্থির করবে তারা পোল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্তির পক্ষপাতি কিনা। 
- জার্মানির শিল্প ও খনিজ প্রধান সার (Saar) অঞ্চলে ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সের কর্তৃত্ব স্থাপিত হয় ।
 
উৎস: এসএসএইচএল, আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস - ২; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১৬.
বসনিয়া সংকট সমাধানের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তি-
  1. ডেটন চুক্তি
  2. ভার্সাই চুক্তি
  3. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  4. প্যারিস শান্তি চুক্তি
ব্যাখ্যা
• ডেটন চুক্তি:
• ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে বসনিয়া সংকট সমাধানের জন্য বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার প্যারিসে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরের প্যাটারসন বিমানঘাটিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায়। যার কারণে চুক্তিটি 'ডেটন চুক্তি' নামে পরিচিত।
• মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি 'ডেটন চুক্তি' নামে পরিচিত।
• এই চুক্তি স্বাক্ষরে মধ্যস্থতা করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩১৭.
রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত কনভেনশন (CWC) কোন দেশ অনুমোদন করেনি? 
  1. মিশর 
  2. কানাডা
  3. জাপান
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

• CWC চুক্তি:
- CWC এর পূর্ণরূপ Chemical Weapons Convention.
- এটি রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ বিষয়ক চুক্তি।
- CWC চুক্তি জাতিসংঘের অনুমোদনক্রমে স্বাক্ষরিত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- চুক্তির বিষয়: রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন, মজুদ ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
- জাতিসংঘের দপ্তরে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সম্মেলন (Conference on Disarmament) অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনটি ১৯৯২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন বন্ধের চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৩ সালে।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৩টি দেশ।
- স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেনি: মিশর, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ সুদান।

উল্লেখ্য,
- ইসরায়েল স্বাক্ষর করেছে কিন্তু অনুমোদন করেনি।

•  চুক্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার, উন্নয়ন, উৎপাদন, মজুত ও স্থানান্তর নিষিদ্ধ করা।
- রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন সুবিধাসমূহ ধ্বংস করা।
- রাসায়নিক অস্ত্রের অস্তিত্ব সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা।
- শান্তিপূর্ণ রাসায়নিক প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও Chemical Weapons Convention ওয়েবসাইট। (Link)

৩১৮.
নিচের কোন চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি?
  1. ক) সিটিবিটি চুক্তি
  2. খ) এনপিটি চুক্তি
  3. গ) অটোয়া চুক্তি
  4. ঘ) বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা
• CTBT - এর পূর্ণরূপ - Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধের একটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি। অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবক্রমে জাতিসংঘের উদ্যোগে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
• জাতিসংঘের অনুমোদন - ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ সাল।
• স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্তের তারিখ - ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ সাল।
• স্বাক্ষরের স্থান - জাতিসংঘের সদরদপ্তর, নিউইয়র্ক।
• স্বাক্ষরকারী দেশ - ১৮৬টি।
• অনুমোদনকারী দেশ - ১৭৬টি।
• চুক্তির বিষয় -নিরস্ত্রীকরণ।
• চুক্তির অবস্থা - এখনো কার্যকর হয় নি। 
• সিটিবিটি চুক্তির সর্বশেষ স্বাক্ষরকারী দেশ - ডমিনিকা (২৫ মে, ২০২২)।
• সর্বশেষ অনুমোদনকারী দেশ - Sao Tome and Principe (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২)।
• বাংলাদেশ ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে সিটিবিটি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ৮ মার্চ, ২০০০ সালে চুক্তিটি অনুমোদন করে।

অন্যদিকে,
• এনপিটি চুক্তি কার্যকর হয় : ৫ মার্চ ১৯৭০
• অটোয়া চুক্তি কার্যকর হয় : ৬ সেপ্টেম্বর ২০০০
• বাসেল কনভেনশন কার্যকর হয় : ৫ মে ১৯৯২।

তথ্যসূত্র: সিটিবিটিও এবং জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩১৯.
সম্প্রতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার 'যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি' কত তারিখে স্বাক্ষরিত হয়? (নভেম্বর, ২০২৫)
  1. ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ০৩ অক্টোবর, ২০২৫
  4. ১২ অক্টোবর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

'যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি':
- পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য একটি 'যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি'-তে স্বাক্ষর করেছে।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, 'কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে'।
- পাকিস্তান ও সৌদি আরবের নেতারা এই চুক্তিকে 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করছেন।
- ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বুধবার) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: বিবিসি নিউজ।

৩২০.
লিসবন চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? 
  1. ইউরো মুদ্রা চালু করা
  2. ভিসামুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংস্কার করা
  4. ন্যাটো সম্প্রসারণ করা
ব্যাখ্যা

লিসবন চুক্তি:
​- স্বাক্ষরের তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৭।
​- স্বাক্ষরের স্থান: লিসবন, পর্তুগাল।
​- কার্যকর: ১ ডিসেম্বর, ২০০৯।
​- বিষয়বস্তু: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সংস্কার।

​​মূল উদ্দেশ্য:
​- পূর্বের চুক্তিগুলোর জটিলতা কমিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোকে সহজ করা।
​- সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর এবং কার্যকর করা।
​- ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতিকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করা।

তথ্যসূত্র: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ওয়েবসাইট।

৩২১.
বেলফাস্ট চুক্তির অপর নাম কী?
  1. ক) First Peace of Thorn Agreement
  2. খ) The Eternal Peace Agreement
  3. গ) Good Friday Agreement
  4. ঘ) The Fifty-Year Peace Agreement
ব্যাখ্যা
বেলফাস্ট চুক্তি (Belfast Agreement):
উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফাস্ট চুক্তিটি একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়।
উত্তর আয়ারল্যান্ড - এর শাসনতন্ত্র কিরকম হবে তা এই চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। “বেলফাস্ট চুক্তি”র অপর নাম - Good Friday Agreement
চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮ সাল।
চুক্তি কার্যকরের তারিখ - ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সাল।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষ - ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

উৎসঃ History.com 
৩২২.
'North Atlantic Treaty'- এর ৫নং অনুচ্ছেদে এ কী বলা হয়েছে?
  1. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা
  2. সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান
  3. যৌথ নিরাপত্তা
  4. অর্থনৈতিক সহযোগিতা
ব্যাখ্যা
North Atlantic Treaty:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সোভিয়েত প্রভাব ও সমাজতন্ত্রকে প্রতিহত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি সামরিক বা নিরাপত্তা জোট গঠন করা হয় যা North Atlantic Treaty Organization বা ন্যাটো নামে পরিচিত।
- ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১২টি দেশের মধ্যে NATO চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি Washington Treaty নামেও পরিচিত।
- NATO চুক্তিপত্রে মোট ১৪টি অনুচ্ছেদ (Article) রয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ হলো 'আর্টিকেল - ৫'।

• অনুচ্ছেদ/আর্টিকেল - ৫: Collective Security বা যৌথ নিরাপত্তা:
➝ অনুচ্ছেদ- ৫ এ বলা হয়েছে -
যদি জোটভুক্ত কোন সদস্য দেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে এই জোটের সকল সদস্য দেশ আক্রান্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং সকল সদস্য দেশ আক্রান্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এগিয়ে আসবে।

তথ্যসূত্র: NATO ওয়েবসাইট।
৩২৩.
ABM ট্রিটি কোন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র
  4. যুক্তরাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

Anti-Ballistic Missile Treaty:
- ABM - এর পূর্ণরূপ Anti Ballistic Missile Treaty (ABM Treaty)।
- এটি একটি ক্ষেপনাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti- Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- স্বাক্ষরের তারিখ ২৬ মে, ১৯৭২ সাল।
- কার্যকরের তারিখ- ৩ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান মস্কো, রাশিয়া।
- বিষয় - দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।
- চুক্তি বাতিল- ২০০২ সাল।

উৎস:  ব্রিটানিকা ও হিস্টরি ডট কম।

৩২৪.
ব্রিটেনের প্রশাসনিক সদর দপ্তরকে কী বলা হয়?
  1. ক) ৯ নং ডাউনিং স্ট্রিট
  2. খ) ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট
  3. গ) বাকিংহাম প্যালেস
  4. ঘ) হোয়াইট  হল
ব্যাখ্যা
- ব্রিটেনের প্রশাসনিক সদর দপ্তরকে বলা হয় 'হোয়াইট  হল'।
- যুক্তরাজ্যের রানীর বাসভবন হচ্ছে বাকিংহাম প্যালেস/উইন্ডসর ক্যাসেল।
- ৯ নং ডাউনিং স্ট্রিট: বৃটেনের আইনসভার চিফ হুইপ এর কার্যালয়।
- ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়।
- যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে 'Chancellor of Ex-chequer' বলা হয়।
- ১১ নং ডাউনিং স্ট্রিট: ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়।
- ১২ নং ডাউনিং স্ট্রিট: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস অফিস।

তথ্যসূত্র:- যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট।
৩২৫.
১৯৪৯ সালের যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘর্ষ বিষয়ে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত 'চারটি রেডক্রস কনভেনশন' কী নামে অভিহিত?
  1. ক) জাতিসংঘ কনভেনশন
  2. খ) ইউএনএইচসিআর কনভেনশন
  3. গ) জেনেভা কনভেনশন
  4. ঘ) ইউএনএইচআরসি কনভেনশন
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন - ১৯৪৯ (Geneva Convention):
১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় 'জেনেভা কনভেনশন' স্বাক্ষর হয়।
এর আওতায় স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা - ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল (যুদ্ধকালীন সামরিক, বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ষার জন্য এতে চারটি রক্ষাকবচ/চুক্তি থাকায় এই চুক্তিকে “চারটি রেডক্রস কনভেনশন” বলা হয়।)
স্বাক্ষরিত চারটি চুক্তি হচ্ছে-
১. প্রথম জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - জেনেভা কনভেনশনের প্রথম চুক্তিটি যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।
২. দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - দ্বিতীয় চুক্তিটি সমুদ্রে বা জলের যুদ্ধে আহত, অসুস্থ ও জাহাজডুবির স্বীকার সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালের “হেগ চুক্তি সংশােধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি – জেনেভা কনভেনশনের তৃতীয় চুক্তিটি হচ্ছে যুদ্ধ-বন্দিদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত।
৪. চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - চতুর্থ চুক্তিটি যুদ্ধক্ষেত্র বা অবরুদ্ধ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং history.com।
৩২৬.
ABM Treaty was signed between which two countries?
  1. Germany and France
  2. United States and Soviet Union
  3. France and United States
  4. Soviet Union and Germany
ব্যাখ্যা
Anti-Ballistic Missile Treaty:

- ABM - এর পূর্ণরূপ Anti Ballistic Missile Treaty (ABM Treaty)।
- এটি একটি ক্ষেপনাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti- Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ- ২৬ মে, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি কার্যকরের তারিখ ৩ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান মস্কো, রাশিয়া।
- চুক্তির বিষয় দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।
- চুক্তি বাতিল ২০০২ সাল।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও হিস্টরি কম।
৩২৭.
বসনিয়া যুদ্ধ অবসানে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. প্যারিস শান্তি চুক্তি
  2. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  3. অসলো চুক্তি
  4. ডেটন চুক্তি
ব্যাখ্যা

বসনিয়া যুদ্ধ:
- বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের প্রেক্ষাপটে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সংঘটিত এক ভয়াবহ জাতিগত ও গৃহযুদ্ধ।
- সংঘটনের সময়কাল: ১৯৯২-১৯৯৫ সাল।
- ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে, বসনীয় সার্বরা তা প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল এবং একটি পৃথক সার্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু করে, যা মূলত মুসলিম নিধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ছিল।
- এই যুদ্ধে সার্বদের জাতিগত নিধনযজ্ঞে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ নিহত এবং ২০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
- ন্যাটো (NATO) বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাহায্য করে।
- ১৯৯৫ সালে ডেটন চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে দুটি ফেডারেশনে ভাগ করা হয়।

• ডেটন চুক্তি:
- চুক্তির প্রাথমিক স্বাক্ষর: ২১ নভেম্বর, ১৯৯৫ (স্থান: ডেটন, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র)।
- চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ (স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স)।
- পক্ষসমূহ: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রানজো তুজমান, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যাঁকে পরে হেগে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট এলিজা আইজেবগোভিচ।
- মধ্যস্থতাকারী: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

অন্যদিকে,
- ১৯৭৩ সালের ২৭ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত প্যারিস শান্তি চুক্তি ভিয়েতনাম যুদ্ধ অবসান হয়।
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি যার উদ্দেশ্য মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
- অসলো চুক্তি হলো ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (PLO) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পায় এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) OSCE.org.
ii) Britannica.

৩২৮.
পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (CTBT) অনুমোদনকারী দেশ কতটি? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৭০টি 
  2. ১৭৮টি 
  3. ১৮০টি 
  4. ১৯২টি 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (CTBT): 
- পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৯৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৮৭টি দেশ,
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৭৮টি দেশ,
- স্বাক্ষর করেনি: ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া।
- স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেয়নি: চীন, মিশর, ইরান, ইসরায়েল, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষরকরে: ১৯৯৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর।

উল্লেখ্য:
- চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে Annex 2 দেশগুলোর মধ্যে ৪৪টি দেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদন দিতে হবে।
- এই দেশগুলোর মধ্যে ৯টি দেশ এখনও চুক্তি অনুমোদন করেনি।
- যার মধ্যে রাশিয়া ২০২৩ সালে তার অনুমোদন প্রত্যাহার করেছে।
- বর্তমানে, চুক্তিটি কার্যকর হয়নি কারণ প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশ অনুমোদন দেয়নি।

উৎস: CTBTO ওয়েবসাইট।

৩২৯.
সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ১৯৬৯ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

সিমলা চুক্তি:
- ১৯৭১ সালে ভারত - পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে) পরবর্তী সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ২ জুলাই, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান - সিমলা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষ - ভারত ও পাকিস্তান।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী - ভারতের পক্ষে - প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো।
- চুক্তির লক্ষ্য - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়াবলীর শান্তিপূর্ণ সমাধান, বন্ধুত্বপূর্ণ পারস্পারিক সহাবস্তান, যুদ্ধবন্দী বিনিময়, লাইন অব কন্ট্রোলকে বিরোধপূর্ণ কাস্মীরের সীমানা হিসাবে পুনঃনির্ধারণ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং হিস্টরি.কম।

৩৩০.
‘ওয়েটাঙ্গি চুক্তি’ (Treaty of Waitangi) কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?
  1. রাখাইন
  2. মাওরি
  3. হুনজা
  4. মুন্ডা
ব্যাখ্যা
ওয়েটাঙ্গি চুক্তি:  
- ওয়েটাঙ্গি চুক্তি ১৮৪০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেট ব্রিটেন এবং মাওরি উপজাতিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি।
- এর উদ্দেশ্য ছিল মাওরিদের অধিকার রক্ষা করা এবং নিউজিল্যান্ডের ব্রিটিশ অধিভুক্তির ভিত্তি স্থাপন করা।
- চুক্তিটি ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব, মাওরি সম্পত্তির সুরক্ষা, এবং ব্রিটিশ প্রজাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করে।
- তবে জমি ক্রয় সংক্রান্ত ত্রুটি এবং ঔপনিবেশিক সরকারের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি অসন্তোষ ও সংঘর্ষের কারণ হয়।
- ওয়েটাঙ্গি চুক্তির স্মরণে, ৬ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়। 

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৩১.
কোন ঘটনার মাধ্যমে মলোটভ–রিবেনট্রপ চুক্তি কার্যত বাতিল হয়ে যায়?
  1. অপারেশন বারবারোসা
  2. পার্ল হারবার আক্রমণ
  3. নরম্যান্ডি অভিযান
  4. অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম
ব্যাখ্যা

মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি (১৯৩৯) ছিল নাৎসি জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অ-আক্রমণ চুক্তি। এটি কার্যত বাতিল হয় ১৯৪১ সালের ২২ জুন জার্মানির 'অপারেশন বারবারোসা' দ্বারা সোভিয়েত ভূখণ্ড আক্রমণের মাধ্যমে। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না হলেও এই আক্রমণ এর অস্তিত্ব শেষ করে। 

'মোলোটভ-রিবেনট্রপ' চুক্তি:
- মোলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তিটি ছিল নাৎসি জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি অ-আগ্রাসন চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৩ আগস্ট ১৯৩৯।
- স্বাক্ষরকারী: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোয়াকিম ভন রিবেনট্রপ ও সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্যাচেস্লাভ মোলোটভ।
- স্থান: মস্কো, ক্রেমলিন। 
- মেয়াদ: ১০ বছর (তবে ১৯৪১ সালেই ভেঙে যায়)। 

• এই চুক্তিতে দেশ দুটি অঙ্গীকার করে তারা একে অপরকে আক্রমণ করবে না।
- এই চুক্তির মাধ্যমে পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং রোমানিয়াকে জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য ভাগ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- এই চুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। 
- এর কিছুদিন পরে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে সোভিয়েত ইউনিয়নও পূর্ব দিক থেকে পোল্যান্ড আক্রমণ করে।
- ১৯৩৯–১৯৪০ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাল্টিক রাষ্ট্র (এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া) ও বেসারাবিয়া দখল করে।
- ২২ জুন, ১৯৪১ তারিখে জার্মানির নাৎসি হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের মাধ্যমে অপারেশন বারবারোসা শুরু করে, ফলে 'মোলোটভ-রিবেনট্রপ' চুক্তি কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে,
- '১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ' অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম নামে পরিচিত।
- পার্ল হারবার আক্রমণ ছিল ইতিহাসের একটি অপ্রত্যাশিত সামরিক অভিযান যা জাপান কর্তৃক ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ তারিখে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌ-ঘাঁটিতে আক্রমণ পরিচালিত হয়। উল্লেখ্য, মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তির সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
- নরম্যান্ডি অভিযান (D-Day) ৬ জুন, ১৯৪৪ সালে শুরু হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতিহাসের বৃহত্তম উভচর বা সমুদ্র-বাহিত আক্রমণ ছিল। অপারেশন ওভারলর্ড নামে পরিচিত এই অভিযানের মাধ্যমে মিত্রবাহিনী জার্মান-অধিকৃত ফ্রান্সে অবতরণ করে এবং পশ্চিম ইউরোপে নাৎসি শাসন দূর করতে একটি প্রধান ফ্রন্ট তৈরি করে। এই সফল অভিযানটি ইউরোপে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং জার্মানির পরাজয় ত্বরান্বিত করে। উল্লেখ্য, মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি ততদিনে অনেক আগেই ভেঙে গিয়েছিল।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

৩৩২.
রাফাল যুদ্ধবিমান কোন দেশের তৈরি?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
রাফাল যুদ্ধবিমান:
- রাফাল যুদ্ধবিমান ফ্রান্সের তৈরি।

⇒ রাফাল যুদ্ধবিমানগুলো তৈরি করেছে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ডাসোঁ এভিয়েশন।
- এটি আধুনিক ও বিধ্বংসী ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান।
- এই যুদ্ধবিমানটি ১ দশমিক ৮ মাক গতি অর্জন করতে পারে (ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ২২৩ কিমি) এবং এর কমব্যাট রেঞ্জ ১ হাজার ৮৫০ কিমি।
- প্রধান ব্যবহার: এয়ার সুপারিওরিটি, আকাশ প্রতিরক্ষা, নিকটবর্তী আক্রমণ, দূরপাল্লার আক্রমণ, গোয়েন্দাগিরি, নৌযান বিধ্বংসী আক্রমণ, পারমাণবিক প্রতিরক্ষা।

উল্লেখ্য,
- ভারতের বিমানবাহিনীর বহরে সবচেয়ে বড় সংযোজন ফ্রান্স থেকে আনা রাফাল যুদ্ধবিমান।
- সম্প্রতি, ৭ মে ২০২৫ ভারত রাফাল যুদ্ধবিমান দিয়ে পাকিস্তানে হামলা করে।
- ২০২৫ সালে ভারত ২৬টি রাফাল এম (নৌবাহিনীর জন্য) কেনার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে, যার ফলে ভারতের জন্য প্রতিটি বিমানের গড় দাম প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে । এর আগে ভারত ৩৬টি 'রাফাল' যুদ্ধবিমান অর্ডার দিয়েছিল বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাসো অ্যাভিয়াসিওঁ (দাসো এভিয়েশন)।

উৎস: i) Dassault Aviation.
ii) The Business Standard.
৩৩৩.
কোথায় ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. যুক্তরাজ্যে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. মিশরে
  4. ইসরাইলে
ব্যাখ্যা

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ১৯৭৮ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। 
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি হলো ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি।
- এই চুক্তি পরবর্তী বছরে এই দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে পরিণত হয়।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এতে অংশগ্রহণ করেন।
- চুক্তিটি “মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য কাঠামো” নামে পরিচিত ছিল।
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি অবকাশকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিড, মেরিল্যান্ডে আলোচনা হওয়ায় এটি “ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি” নামে পরিচিত হয়।
- এই চুক্তির কারণে সাদাত ও বেগিন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং আরব-ইসরায়েল বিরোধ নিরসনে প্রথম সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৩৪.
কোন দেশের মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জার্মানি
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান:
- স্বাক্ষর: ৯ নভেম্বর, ২০২০।
- স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- মধ্যস্থতাকারী: রাশিয়া। 
- যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ১০ নভেম্বর, ২০২০।
- 'নাগার্নো কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এর বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।

উৎস: Britannica এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৩৫.
Camp David চুক্তির ফলে ইসরাইলের সাথে কোন দুটি আরব রাষ্ট্র পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে?
  1. জর্ডান ও মিশর
  2. কুয়েত ও বাহরাইন
  3. সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন
  4. মিশর ও মরক্কো
ব্যাখ্যা
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি (Camp David Accords) একটি ঐতিহাসিক চুক্তি, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পক্ষসমূহ: মিশর ও ইসরাইল।
- স্বাক্ষরকারী: মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট।
- মধ্যস্থতাকারী: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

⇒ ফলাফল: মিশর ইসরাইলের স্বীকৃতি দেয়, সিনাই উপদ্বীপ মিশরের কাছে ফিরে আসে, সাদাত ও বেগিন নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- Camp David চুক্তি ও ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী আরব রাষ্ট্র জর্ডান ও মিশর।
- ১৯৯৪ সালে Israel-Jordan Peace Treaty স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বিতীয় আরব রাষ্ট্র হিসেবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে (Camp David চুক্তির পরোক্ষ ফলাফল হিসেবে)।
- ১৯৯৪ সালের চুক্তির মাধ্যমে জর্ডান ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

এছাড়াও,
- সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, সুদান ২০২০ সালে Abraham Accords-এর মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে (Camp David চুক্তির সরাসরি ফল নয়)।

উৎস: i) Middle East Forum.
ii) Britannica.
৩৩৬.
নারীর প্রতি সকল রকম বৈষম্য নির্মূল কনভেনশন (UN Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women) স্বাক্ষরিত হয় -
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
CEDAW:
- CEDAW-এর পূর্ণরূপ: Convention on the Elimination of Discrimination against Women.
- নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য প্রতিরোধ কনভেনশন বা CEDAW।
- জাতিসংঘ নারীদের অধিকার রক্ষায় ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে CEDAW কনভেনশন গ্রহণ করে।
- এই কনভেনশন গৃহ নির্যাতন, প্রজনন, আইনগত, রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে নারীদের সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।
- কার্যকর হয়: ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১।
- CEDAW সনদে পরিচ্ছদ আছ: -৬ টি, ধারা আছে: ৩০ টি।
- CEDAW কমিটিতে সারা বিশ্ব থেকে নারী অধিকার সংক্রান্ত ২৩ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ CEDAW অনুমোদন করে ৪ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালে।

এছাড়াও,
- কনভেনশনের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষসমূহের প্রতি নারীর মৌলিক মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; নারী পাচার ও পতিতাবৃত্তিতে নারীর শোষণ রোধ নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক ও লোকজীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান; জাতীয়তা অর্জন, পরিবর্তন বা বহাল রাখার সমান অধিকার নিশ্চিত করা; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ও সমাজ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্যের অবসান ঘটানোর জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- অন্যান্য ধারায় গ্রামীণ নারীর সমস্যা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়েছে।
- কনভেনশনে নারীর নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক ও লোকজীবনে অংশগ্রহণ এবং সরকারের সকল পর্যায়ে সকল কাজ করার অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৩৩৭.
উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৪৭
  3. গ) ১৯৪৯
  4. ঘ) ১৯৫৯
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষরিত হয় উত্তর আটলান্টিক চুক্তি যার মাধ্যমে ন্যাটো গঠিত হয়।
• এতে প্রথমে ১২ টি দেশ স্বাক্ষর করে।
এগুলো হলোঃ
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- ব্রিটেন, ইতালি,
- ফ্রান্স,
- কানাডা,
- নরওয়ে,
- বেলজিয়াম,
- নেদারল্যান্ড,
- ডেনমার্ক,
- লুক্সেমবার্গ,
- পর্তুগাল,
- আইসল্যান্ড।

 • বর্তমানে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ৩০ টি।

(সূত্রঃ ন্যাটো ওয়েবসাইট)
৩৩৮.
ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২
  2. ১ নভেম্বর, ১৯৯২
  3. ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩
  4. ১ নভেম্বর, ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি:
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি।
- স্বাক্ষরিত হয়: নেদারল্যান্ডের ম্যাসট্রিক্ট শহরে।
- চুক্তিটি ১৯৯৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষর করে ১২টি ইউরোপীয় দেশ।
- উদ্দেশ্য অভিন্ন ইউরো মুদ্রা প্রচলন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতা।
- ম্যাসট্রিক্ট চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপিয়ান কমিউনিটির স্থলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গঠিত হয়।
- যার কারণে চুক্তিটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চুক্তি নামে পরিচিত।
- ম্যাসট্রিক্ট চুক্তির ফলে ইউরো মুদ্রার চালুর পথ সুগম হয়।

উৎস: EU ওয়েবসাইট।
৩৩৯.
যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে পেট্রো ডলার চুক্তি সাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1.  ১৯৭২ সালে
  2.  ১৯৭৪ সালে
  3.  ১৯৭৩ সালে
  4.  ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে পেট্রো ডলার চুক্তি ১৯৭৪ সালের ৮ জুন স্বাক্ষরিত।
- ৮০ বছর মেয়াদি এ চুক্তি ৯ জুন ২০২৬ সালে শেষ হয়।
- এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর একটি দুটি যৌথ কমিশন গঠন করা হয়—একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে, অপরটি সৌদি আরবের সামরিক চাহিদার ভিত্তিতে। 
-  ১৯৭৩ সালে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একমাত্র ডলারেই তেল বিক্রি করতে সম্মত হয়, যা ১৯৭৫ সালের মধ্যে অন্যান্য ওপেক দেশও মেনে নেয়। ফলে বৈশ্বিক তেল আমদানি রপ্তানি হয়ে পড়ে পেট্রোডলারনির্ভর।

উৎস: বিবিসি।

৩৪০.
স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. অটোয়া
  2. মন্ট্রিল
  3. লন্ডন
  4. নিউ ইয়র্ক
ব্যাখ্যা

স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (Anti-Personnel Landmines Convention):
- এর আরেক নাম অটোয়া চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ মার্চ, ১৯৯৯ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান: অটোয়া, কানাডা।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৬৪টি।
⇒ এর উদ্দেশ্য হলো Anti-Personnel Landmines বা স্থলমাইন ব্যবহার, মজুদ, উৎপাদন ও পরিবহন নিষিদ্ধ।

⇒ বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করে: ৭ মে, ১৯৯৮ সালে।

- চুক্তি অনুমোদন করে: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে।

উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট।

৩৪১.
কোন চুক্তিটি বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধকল্পে স্বাক্ষরিত হয় হয়?
  1. ডেটন চুক্তি
  2. দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি
  3. প্রথম ভার্সাই চুক্তি
  4. কিয়োটো চুক্তি
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো চুক্তি:
- বিশ্বের উষ্ণতা রোধকল্পে জাপানের কিয়োটোতে (১৯৯৭) একটি চুক্তি হয়েছিল।
- তাতে বলা হয়েছিল, শিল্পোন্নত দেশগুলো সামগ্রিকভাবে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ২ ভাগ হারে হ্রাস করবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
- কিন্তু বুশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।
- ফলে কিয়োটো চুক্তি অকার্যকর হয়ে যায়।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
৩৪২.
TPNW-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Treaty on the Protection of Nuclear Weapons
  2. Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons
  3. Treaty on the Promotion of Nuclear Weapons
  4. Treaty on the Prevention of Nuclear War
ব্যাখ্যা

TPNW:
- TPNW-এর পূর্ণরূপ: The Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons.
- এটি পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি।
- এই চুক্তিতে যেকোনো পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ, পরীক্ষা, উৎপাদন, অর্জন, অধিকার, মজুদ, ব্যবহার বা হুমকি না দেওয়ার অঙ্গীকার।

⇒ পরমাণু অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৭ জুলাই পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক চুক্তি গৃহিত হয়।
- চুক্তির পক্ষে ভোট দেয়: ১২২টি দেশ।
- চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেয়: ১টি দেশ (নেদারল্যান্ডস)।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭।
- কার্যকর হয়: ২২ জানুয়ারি, ২০২১।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৯৪টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এটিতে স্বাক্ষর করে এবং ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করে।

উৎস: United Nations Treaty Collection ওয়েবসাইট।

৩৪৩.
নিচের কোন চুক্তিটি 'চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন' এর মধ্যে ছিল?
  1. যুদ্ধ-বন্দিদের আবাসন সুরক্ষা সংক্রান্ত
  2. যুদ্ধকালীন বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত
  3. যুদ্ধে আহত, অসুস্থ ও জাহাজডুবির স্বীকার সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত
  4. যুদ্ধকালীন সময়ে নিহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
• জেনেভা কনভেনশন-১৯৪৯ (Geneva Convention):
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-১২ আগস্ট, ১৯৪৯ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান- জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- জেনেভা কনভেনশনে ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

• স্বাক্ষরিত চারটি চুক্তি হচ্ছে:
১. যুদ্ধক্ষেত্রে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের জীবনের নিরাপত্তা এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২. সমুদ্রস্থ যুদ্ধক্ষেত্রে আহত অসুস্থ সৈন্যদের জীবনের নিরাপত্তা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের সৈন্যদের অবস্থার সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
৪. যুদ্ধকালীন বেসামরিক জনগণকে রক্ষার জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৪৪.
'Extradition Treaty' কী?
  1. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি
  2. সামরিক সহযোগিত চুক্তি
  3. অপরাধী প্রত্যাবর্তন চুক্তি
  4. সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান চুক্তি
ব্যাখ্যা
Extradition Treaty (প্রত্যর্পণ চুক্তি):
- প্রত্যর্পণ চুক্তি হলো দুটি বা একাধিক দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি, যার মাধ্যমে এক দেশ (অনুরোধকারী দেশ) অপর দেশে (অনুরোধ প্রাপ্ত দেশ) অবস্থানরত একটি অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানায়।
- এই চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে করা হয়।
- সাধারণত গুরুতর অপরাধ (যেমন হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, মাদক চোরাচালান, অর্থনৈতিক অপরাধ) এই চুক্তির আওতায় আসে।
- প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে চুক্তির দুই পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন।
- চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যর্পণ কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ:
- প্রত্যর্পণের জন্য অপরাধটি উভয় দেশে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।
- রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে করা অপরাধ বা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সাধারণত প্রত্যর্পণ করা হয় না।
- যদি অনুরোধকারী দেশে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি অমানবিক আচরণ বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকে, তবে সাধারণত প্রত্যর্পণ করা হয় না।
- অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৪৫.
মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কোনটি?
  1. ক) ICBM
  2. খ) ABM
  3. গ) NTBT
  4. ঘ) INF
ব্যাখ্যা
Intermediate-Range Nuclear Force (INF) হচ্ছে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
Anti-Ballistic Missile (ABM) হচ্ছে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
Inter-Continental Ballistic Missile (ICBM) হচ্ছে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র।
৩৪৬.
সামরিক ভাষায় 'WMD' অর্থ কী?
  1. Weapons of Missile Defence
  2. Weapons of Mass Destruction
  3. Worldwide Mass Destruction
  4. Weapons for Massive Destruction
ব্যাখ্যা

WMD:
- WMD-এর পূর্ণরূপ: Weapons of Mass Destruction.
- WMD বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
- ২০০৩ সালে WMD আছে এমন আশঙ্কায় মার্কিন জোট ইরাকে আক্রমণ করেছিল।
- বোমারু বিমানের ব্যাপক ধ্বংসের ক্ষমতা বর্ণনা করতে ১৯৩৭ সালে এই শব্দের প্রথম ব্যবহার করা হয়।

- Weapons of mass destruction অন্তর্ভুক্ত অস্ত্রগুলো হলো:
- Nuclear Weapon,
- Chemical Weapon,
০ Biological weapon.

উৎস: Britannica.

৩৪৭.
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের মেধাস্বত্ব বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি নিচের কোনটি?
  1. GATT
  2. TRIMS
  3. TRIPS
  4. WIPO
ব্যাখ্যা
- TRIPS (Trade-Related Aspects of Intellectual Property Rights) হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গৃহিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের মেধাস্বত্ব বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- ১৯৯৪ সালের ১৫ এপ্রিল মরক্কো মারাক্কাশে এটি গৃহিত হয়।
- ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
- তবে উন্নযনশীল ও এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যে TRIPS চুক্তি কার্যকরের রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়।
- স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব (TRIPS) চুক্তি রহিতের সুবিধা আরও ১৩ বছর (১ জুলাই, ২০৩৪ পর্যন্ত) বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় WTO'র TRIPS কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: WTO ওয়েবসাইট)
৩৪৮.
নিচের কোনটি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি নয়?
  1. NAFTA
  2. CENTO
  3. APTA
  4. CPTPP
ব্যাখ্যা
CPTPP:
- CPTPP এর পূর্ণরূপ: The Comprehensive and Progressive Agreement for Trans Pacific Partnership.
- এটি হলো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

NAFTA:
- NAFTA এর পূর্ণরূপ: The North American Free Trade Agreement.
- এটি হলো উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের তিনটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

APTA:
- APTA-এর পূর্ণরূপ: Asia Pacific Trade Agreement.
- এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বাণিজ্য চুক্তি।

অন্যদিকে,
CENTO:
- CENTO-এর পূর্ণরূপ: Central Treaty Organization.
- CENTO একটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চুক্তি, যা বাগদাদ চুক্তি (Baghdad Pact) নামেও পরিচিত।

উৎস: i) Britannica.
ii) U.S. Department of State (.gov).
৩৪৯.
অক্টোবর ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সিআইসিএ (CICA) সামিট-এ কোন্ দেশকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়?
  1. আরব আমিরাত (UAE)
  2. কুয়েত
  3. আফগানিস্তান
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
CICA:
- কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়া (সিআইসিএ) এশিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি বহু-জাতীয় ফোরাম।
- কাজাখস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি নুরসুলতান নাজারবায়েভ, ৫ অক্টোবর ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৭ তম অধিবেশনে সিআইসিএ আহ্বানের প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন।
- CICA প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ৪ জুন ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
- সদস্য দেশ -২৮টি।
- ৬ষ্ঠ সিআইসিএ (CICA) সম্মেলনে কুয়েতকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

এছাড়াও,
- কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে ষষ্ঠ সিআইসিএ শীর্ষ সম্মেলন ১২-১৩ অক্টোবর ২০২২ সালে আস্তানায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- এর মধ্যে ১৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রধান, পর্যবেক্ষক এবং অংশীদার সংস্থাগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- সিআইসিএ-কে ধীরে ধীরে, ক্রমবর্ধমান এবং ঐকমত্য-ভিত্তিক রূপান্তরের জন্য কাঠামোগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া কৌশলগত দিক গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: s-cica.org.[Link]
৩৫০.
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সূচকে শীর্ষ দেশ কোনটি?
  1. ক) আইসল্যান্ড
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) কানাডা
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ, জন হপকিন্স বিশ্বাবিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি এবং ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট যৌথভাবে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো সার্বিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সূচক প্রকাশ করে।
এতে ১৯৫টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সূচকে শীর্ষ তিন দেশ:
- প্রথম : যুক্তরাষ্ট্র
- দ্বিতীয় : যুক্তরাজ্য
- তৃতীয় : নেদারল্যান্ডস।
- বাংলাদেশের অবস্থান : ১১৩তম
- ১৯৫তম : নিরক্ষীয় গিনি।
(সূত্র: ghsindex ওয়েবসাইট)
৩৫১.
'উই রিভার চুক্তির' মধ্যস্থতাকারী কে ছিলেন?
  1. বিল ক্লিন্টন
  2. জন এফ কেনেডি
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. জন টাইলার
ব্যাখ্যা
উই রিভার চুক্তি:
- উই রিভার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে।
- ইসরাইল ও পিএলও এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- বিল ক্লিন্টনের মধ্যস্থতায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৫২.
কোন চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে?
  1. CTBT
  2. NPT
  3. SALT I
  4. ABM Treaty
ব্যাখ্যা
Comprehensive Test Ban Treaty - CTBT:
- কম্প্রিহেনসিভ টেস্ট ব্যান ট্রিটি (CTBT) হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা বা যে কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণের ওপর একটি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
- এটি ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
- চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য CTBTO (Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty Organization) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে, যা গ্লোবাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিরীক্ষা চালায়।
- বাংলাদেশ CTBT-তে স্বাক্ষর করেছে এবং অনুমোদন দিয়েছে, যা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে দেশের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত: ১৮৫টি দেশ।
- চুক্তি অনুমোদন: ১৭১টি দেশ।
- আটটি দেশ এখনও চুক্তি অনুমোদন করেনি (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, পাকিস্তান)।
- চুক্তি কার্যকর হতে হলে P5 (পাঁচটি স্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ সদস্য) সহ ৪৪টি নির্দিষ্ট দেশের অনুমোদন প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,
- নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি (NPT) একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে।
- SALT I কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন এবং স্থাপনা সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তি। 
- ABM Treaty মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ইউনিয়নের মধ্যে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কিত চুক্তি। 

উৎস: CTBTO Official Website
United Nations Overview of CTBT
Arms Control Association
৩৫৩.
'জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন' চুক্তির মেয়াদ কত বছর?
  1. ৫ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১৫ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা

• Joint Comprehensive Plan Of Action (JCPOA):
- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন এবং জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি হলো Joint Comprehensive Plan Of Action (JCPOA)।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারী।
- ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত তেহরান পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও চীন।
- এতে ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
- গত শনিবার দেশ তিনটি একযোগে জাতিসংঘকে এসব তথ্য দিয়েছে।

-  ইরান, রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে।
- চিঠিতে বলা হয়, রেজল্যুশন ২২৩১-এর আওতাধীন বিধিনিষেধগুলোর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে।
- এর মধ্য দিয়ে রেজল্যুশনটির ১০ বছরের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে।
রেজল্যুশন ২২৩১-এর মধ্য দিয়ে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) তথা ইরান পারমাণবিক চুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

৩৫৪.
OSCE (Organization for Security and Cooperation in Europe)-এর সূচনা হয় কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. হেলসিঙ্কি চুক্তি
  2. প্যারিস চুক্তি
  3. ব্রাসেলস চুক্তি
  4. বুদাপেস্ট চুক্তি
ব্যাখ্যা

OSCE:
- OSCE-এর পূর্ণরূপ: The Organisation for Security and Co-Operation in Europe.
- এটি হলো ইউরোপের বৃহত্তম আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন। 
- সদস্য: ৫৭টি দেশ।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৫ সালে (হেলসিঙ্কি চুক্তির মাধ্যমে)।
- সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- বর্তমান মহাসচিব: ফেরিদুন এইচ. সিনিরলিওগলু  (তুর্কিয়ে)।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০-এর দশকের ডিটেনটে পর্বে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংলাপের জন্য Conference on Security and Cooperation in Europe (CSCE) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চুক্তি CSCE-কে একটি বহুপাক্ষিক ফোরাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যা রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল।
- ১৯৯০ সালের প্যারিস শীর্ষ সম্মেলনে CSCE নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- এরপর, ১৯৯৪ সালে বুদাপেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে CSCE এর নাম পরিবর্তন করে OSCE রাখা হয়।

উৎস: OSCE ওয়েবসাইট। [link]

৩৫৫.
‘অটোয়া কনভেনশন’ এর অন্য নাম কী?
  1. ক) পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি
  2. খ) জীবাণু অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তি
  3. গ) রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত কনভেনশন
  4. ঘ) স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি
ব্যাখ্যা
স্থলমাইনের উৎপাদন, ব্যবহার ও মজুদ নিষিদ্ধকরণের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘অটোয়া চুক্তি’ বা স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি গৃহিত হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ মার্চ ১৯৯৯ সালে।
- এটির বর্তমান অংশীদার ১৬৪টি দেশ।
- বাংলাদেশ এটিতে স্বাক্ষর করে ৭ মে ১৯৯৮ এবং কার্যকর করে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে।
উৎসঃ জাতিসংঘ এর ওয়েবসাইট।
৩৫৬.
কোন স্থানে রোনাল্ড রিগ্যান ও মিখাইল গর্বাচেভ অস্ত্র সীমিতকরণ ‘নক্ষত্র যুদ্ধ’ বিষয়ে আলোচনায় বসেন?
  1. ওয়াশিংটন 
  2. মস্কো 
  3. রিকজাভিক
  4. জেনেভা 
ব্যাখ্যা

তারকা যুদ্ধ:
- Strategic Defense Initiative এর প্রস্তাবক ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান।
- রোনাল্ড রিগ্যান ১৯৮৩ সালের ২৩ মার্চ ভূমি ও মহাকাশে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেন যা SDI (Strategic Defense Initiative) নামে পরিচিত।
- একে সমালোচকরা নক্ষত্র যুদ্ধ (Star War) এর পরিকল্পনা হিসেবেও অভিহিত করেন।
- এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল, পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে মহাকাশে বা পৃথিবীতে ধ্বংস করার মাধ্যমে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করা।
- তাই, একে সমালোচকরা 'নক্ষত্র যুদ্ধ' (Star Wars) হিসেবেও অভিহিত করেন।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ও সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিকে (Reykjavík) এক শীর্ষ বৈঠকে বসেছিলেন।
- এটি ইতিহাসে “Reykjavik Summit” নামে পরিচিত।
- এই বৈঠকটি ইতিহাসে “Reykjavik Summit” নামে পরিচিত।
- এই বৈঠকে তারা পরমাণু অস্ত্র সীমিতকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের “Strategic Defense Initiative (SDI)” বা ‘তারকাযুদ্ধ’ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

উলেখ্য, 
- বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি কারণ রোনাল্ড রিগ্যান SDI বা ‘তারকাযুদ্ধ’ প্রকল্প পরিত্যাগ করতে রাজি হননি।
- তবে, এর সরাসরি ফলশ্রুতিতে ১৯৮৭ সালে INF Treaty (Intermediate-Range Nuclear Forces Treaty) স্বাক্ষরিত হয় যা ইউরোপ থেকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

উৎস: Britannica.

৩৫৭.
ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৬৪৮ সালে
  2. ১৬৫৬ সালে
  3. ১৬৬৪ সালে
  4. ১৬৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
Thirty years war:
- ইউরোপে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ ছিলো ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধ।
- প্রোটেস্টান্ট জার্মানির উপর অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গের-এর প্রভাব অক্ষুন্ন রাখা, ডেনমার্কের রাজার উচ্চভিলাষ, বাল্টিক অঞ্চলে সুইডেনের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং হ্যাপসবার্গকে পরাজিত করে ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা এসব নিয়েই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকে।
- ধর্মান্ধতা, স্বার্থপরতা, নিজেদের উচ্চাকাংক্ষা এবং প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সকল দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

⇒ ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ত্রিশ বছরব্যাপী অবিরামভাবে যুদ্ধ করার পর বিপর্যস্ত ইউরোপের সকল দেশের প্রতিনিধিরা ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়াতে মিলিত হয়ে দুটি ভিন্ন শান্তিচুক্তি পাস করে।
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টাফেলিয়া চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘ ত্রিশ বছরব্যাপী ধর্মজনিত এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি ইউরোপের শান্তির স্বপক্ষে প্রথম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- এটি ইউরোপকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
- এই সন্ধির ভূ-খন্ডগত সীমানা নেপোলিয়নের যুগ পর্যন্ত বহাল থাকে।

উৎস: i) Britannica.
         ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৮.
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির ব্যাপকতা তুলে ধরার জন্য কোন দেশটি পাহাড়ের চূড়ায় মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছে?
  1. ক) ফিজি
  2. খ) মালদ্বীপ
  3. গ) ভুটান
  4. ঘ) নেপাল
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার ও অন্য ২২ জন মন্ত্রী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭ হাজার ১৯২ ফুট ওপরে কালাপাথর শৃঙ্গে বৈঠকে বসেন৷
প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার ক্ষতিকারক প্রভাব যেসব দেশের উপর পড়ছে তার মধ্যে নেপাল অন্যতম৷
হিমালয়ের বরফ বিপজ্জনক মাত্রায় গলছে৷ গ্রীষ্মের যে সময়টায় কালাপাথরের পুরোটায় তুষার থাকে, ঠিক সেই সময়ে শুধু সর্বোচ্চ চূড়ায় দেখা মেলে কিছুটা তুষারের৷ তিনি বলেন, আমরা তুষার দেখতে চাই৷ দেখতে চাই তুষার ঝড়, যা স্বাভাবিক৷
আবার, ২০০৯ সালেই মালদ্বীপ জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমুদ্রের তলদেশে মন্ত্রীসভার বৈঠক করেন।
উৎসঃ নেপালের সরকারি ওয়েবসাইট।
৩৫৯.
পিস অব প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি কোন দেশ?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) স্পেন
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৩৬০.
'মারাকেশ চুক্তি' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. WHO
  2. WTO
  3. UNDP
  4. IMF
ব্যাখ্যা

WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).

• মারাকেশ চুক্তি:
- মারাকেশ চুক্তি WTO প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে মরক্কোর মারাকেশ চুক্তির মাধ্যমে WTO প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর মাধ্যমে GATT-এর উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।

৩৬১.
'সেনকাকু দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. জাপান সাগর
  2. দক্ষিণ চীন সাগর
  3. পূর্ব চীন সাগর
  4. কোরিয়ান উপসাগর
ব্যাখ্যা
সেনকাকু দ্বীপ
- চীন, জাপান ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ: সেনকাকু দ্বীপ।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত। 
- দ্বীপটি জাপানের কাছে পরিচিত সেনকাকু দ্বীপ নামে।
- চীনের কাছে ‘দিয়াওউ’ এবং তাইওয়ানের কাছে ‘তিয়াওউতাই’ নামে পরিচিত।
- তবে সেনকাকু নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৩৬২.
'ডেটন চুক্তি' আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. তুরস্ক
  2. যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4.  ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

ডেটন চুক্তি (Dayton Agreement):
- এই চুক্তির পূর্ণরূপ: The General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina.
- এটি একটি শান্তিচুক্তি।
- প্রক্রিয়াটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান মার্কিন শান্তি আলোচনাকারী রিচার্ড হলব্রুক।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৫।
- আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ: বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া।
- স্বাক্ষরকারী: ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রানজো তুজমান, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যাঁকে পরে হেগে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল) এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট এলিজা আইজেবগোভিচ।
- মধ্যস্থতাকারী: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
- উদ্দেশ্য: সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা সমস্যার সমাধান।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৬৩.
CTBT চুক্তি স্বাক্ষরিত দেশ কয়টি? [জানুয়ারি - ২০২৫]
  1. ১৮০টি
  2. ১৮২টি
  3. ১৮৭টি
  4. ১৯০টি
ব্যাখ্যা
CTBT:
- CTBT-এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty.
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।
- বাংলাদেশ CTBT স্বাক্ষর করে ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে।
- CTBT অনুমোদন করে- ৮ মার্চ, ২০০০ সালে।
- বাংলাদেশ CTBT অনুমোদনকারী ৫৪ তম দেশ।

তথ্যসূত্র - Arms Control Association ওয়েবসাইট।
৩৬৪.
আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৮৭
  2. খ) ১৯৭৫
  3. গ) ১৯৮১
  4. ঘ) ১৯৭৯
ব্যাখ্যা
আলজিয়ার্স চুক্তি:
- ইরাক এবং ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৩ই জুন ১৯৭৫ সালে এটি স্বাক্ষরিত হয়। 
- চুক্তির বিষয় হলো শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মীমাংসা। 

উৎস: Britannica
৩৬৫.
সম্প্রতি, পাকিস্তান কোন দেশের সাথে ‘কৌশলগত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. তুরস্ক
  2. কাতার
  3. সৌদি আরব
  4. সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

কৌশলগত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি:
- গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি 'যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি'-তে স্বাক্ষর করেছে।
- সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, 'কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে'।
- সৌদি আরব ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর আরব ন্যাটো বা মুসলিম ন্যাটোর ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন।

৩৬৬.
কোন চুক্তির সূত্র ধরে Anti-Ballistic Missile Treaty স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. SALT-I
  2. TPNW
  3. START
  4. CPNW
ব্যাখ্যা
SALT:
- SALT-এর পূর্ণরূপ: Strategic Arms Limitation Talks।
- আলোচ্য বিষয়: কৌশলগত অস্ত্র সীমাবদ্ধতা।
- এই আলোচনা শুরু হয়েছিল ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে।
- আলোচনার সময়: ১৯৬৯ সাল।
- পক্ষ: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- দুইটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা SALT-I ও SALT-II নামে পরিচিত।

⇒ SALT-I চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল: ২৬ মে, ১৯৭২ সালে।

উল্লেখ্য,
- SALT-I চুক্তি আলোচনার সূত্র ধরেই Anti-Ballistic Missile Treaty স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- এই চুক্তি অনুযায়ী কৌশলগত যত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র আছে, তা 'ফ্রিজ' করা হয়।
- এতে করে কোনো পক্ষ আর তার সংখ্যা বাড়াতে পারে না।
- এর মাধ্যমে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

⇒ ABM Treaty:
- ABM-এর পূর্ণরূপ: Anti Ballistic Missile Treaty.
- এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti- Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ মে, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি কার্যকর হয়: ৩ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- চুক্তির বিষয়: দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।

⇒ চুক্তি বাতিল: ১৩ জুন, ২০০২ সাল।

উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট।
৩৬৭.
কোয়াড ভুক্ত দেশ নয় কোনটি?
  1. ভারত
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. কানাডা
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
কোয়াড:

- কোয়াড (দ্য কোয়াড্রিল্যাটারেল সিকিউরিটি ডায়ালগ) হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চারটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত চীনবিরোধী একটি সামরিক জোট।
- ‘কোয়াড’ চতুষ্পক্ষীয় (চার দেশীয়) নিরাপত্তা সংলাপের সূচনা করেন জাপানের সাবেক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
- কোয়াডের সদস্য দেশ মোট চারটি। কোয়াডভুক্ত দেশগুলো হলো:
- যুক্তরাষ্ট্র,
- ভার্‌
- অস্ট্রেলিয়া এবং,
- জাপান।
- ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উত্থান রোধের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে এই জোট গঠিত হয়।
- এটিকে ‘এশিয়ান ন্যাটো’ জোট নামেও অভিহিত করা হচ্ছে।
- ২০০৭ সালে কোয়াড গঠনের পর দীর্ঘদিন এর কোন তৎপরতা না থাকলেও ১২ নভেম্বর ২০১৭ এক বৈঠকের মাধ্যমে কোয়াড আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে।


ছবি: এপি

উৎস: The Guardian, আল জাজিরা এবং দৈনিক ইত্তেফাক। 
৩৬৮.
শেনজেন চুক্তি কোথায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ইংল্যান্ড
  2. ইতালি
  3. লুক্সেমবার্গ
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

শেনজেন চুক্তি (Schengen Agreement):
- শেনজেন চুক্তি হলো ইউরোপীয় অঞ্চলে ভিসামুক্ত চলাচলের একটি ঐতিহাসিক চুক্তি।
​- এটি স্বাক্ষরিত হয় ১৪ জুন ১৯৮৫ সালে লুক্সেমবার্গের শেনজেন শহরে।
​- প্রথমে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডস এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
​- এর মূল লক্ষ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা।
​- এ জন্য ভিসা ও আশ্রয় নীতিমালা সমন্বিত করা হয় এবং তথ্য ভাগাভাগির জন্য শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেম (SIS) চালু করা হয়।
- শেনজেন চুক্তি কার্যকর হয় ১৯৯৫ সালে, তখন ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিস এতে যুক্ত হয়। 
​- পরবর্তী সময়ে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন যুক্ত হয়। 
​- প্রথমে এটি EU-এর বাইরে শুরু হলেও, ১৯৯৯ সালের আমস্টারডাম চুক্তি শেনজেন চুক্তিকে EU আইনের অংশ করে নেয়।
​- পরবর্তীতে আরও দেশ যুক্ত হয়—সুইজারল্যান্ড (২০০৮), লিচেনস্টাইন (২০১১) এবং সর্বশেষ ক্রোয়েশিয়া (২০২৩)।
​- বর্তমানে শেনজেনভুক্ত দেশ সংখ্যা ২৯টি।

​উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৬৯.
দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1.  সুইজারল্যান্ড
  2.  বেলজিয়াম
  3.  কানাডা
  4.  ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• ভার্সাই চুক্তি:
-  দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি ১৯১৯ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তিটি ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে স্বাক্ষরিত হয়,
- এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটায়।
- চুক্তিটি ১০ জানুয়ারি ১৯২০ সালে কার্যকর হয়।
- চুক্তিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানির মধ্যে শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়।
- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জার্মানিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের উপর বিপুল পরিমাণ আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়।

উৎস: Britannica এবং প্রথম আলো।
৩৭০.
ওয়ারশ প্যাক্ট কী ধরনের চুক্তি?
  1. ক) সামরিক
  2. খ) পরিবেশ
  3. গ) মুক্ত বাণিজ্য
  4. ঘ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
- ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact-Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance) হলো স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে ১৯৫৫ সালের ১৪ মে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সামরিক চুক্তি।
- ন্যাটো জোটের পাল্টা জোট হিসেবে এটি গঠিত হয়।
এই চুক্তির অংশীদার দেশগুলো ছিলো:
- সোভিয়েত ইউনিয়ন
- আলবেনিয়া
- বুলগেরিয়া
- পূর্ব জার্মানি
- হাঙ্গেরি
- পোল্যান্ড
- রোমানিয়া এবং
- চেকোশ্লোভাকিয়া।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে ওয়ারশ প্যাক্টেরও বিলুপ্তি ঘটে।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৩৭১.
AUKUS কয়টি দেশের মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
AUKUS চুক্তি:
- AUKUS চুক্তি হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ সালে।
- ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন অর্জনে সহায়তা করবে।
- এই চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'সাইবার সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অতিরিক্ত জলসীমার ক্ষমতা' বিষয়ে সহযোগিতা।

উৎস: U.S. Department of Defense (.gov).
৩৭২.
বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত সংক্রান্ত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি‌।
- ৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে।
- এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।

উৎস: Live MCQ Lecture।
৩৭৩.
২০১৫ সালে ইরানের সাথে মােট কয়টি দেশের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
১৪ জুলাই ২০১৫ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরানের সাথে আর ছয়টি দেশের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দেশগুলাে p5 + 1 নামে খ্যাত, তারা হলাে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স এবং জার্মানি। এছাড়া ইউরােপিয়ান ইউনিয়নও ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিজেকে ৮ মে ২০১৮ এ চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া।
৩৭৪.
ICAN কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করে?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
ICAN:

- 'ICAN' এর পূর্ণরূপ - International Campaign to Abolish Nuclear Weapons.
- এটি একটি পরিবেশবাদী সংস্থা‌।
- এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- সংস্থাটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে ২০১৭ সালে।
- ICAN হল এক শতাধিক দেশের বেসরকারী সংস্থাগুলির একটি জোট যা পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের জাতিসংঘের চুক্তি মেনে চলা এবং বাস্তবায়নে কাজ করে।

তথ্যসূত্র - ICAN এর ওয়েবসাইট। 
৩৭৫.
Which two countries are involved in Sunshine policy?
  1. United States and China
  2. Russia and Ukraine
  3. United States and North Korea
  4. North Korea and South Korea
ব্যাখ্যা
Sunshine Policy:

- Sunshine Policy- এর সাথে জড়িত- উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।
- দুই কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া এক নীতি গ্রহন করে যা ‘সানসাইন পলিসি’ (Sunshine Policy) নামে পরিচিত।
- এই পলিসির আওতায় দুই কোরীয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়।
- Sunshine Policy-র প্রবক্তা দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম দায়ে জং।
- এই পলিসির মেয়াদ ছিলো ১৯৯৮-২০০৮ সাল পর্যন্ত।

- Sunshine Policy- তিনটি নীতির উপর ভিত্তি করে ছিল। যথা:
→ উত্তরের কোনো সশস্ত্র উস্কানি বরদাস্ত করা হবে না,
→ দক্ষিণ কোনোভাবেই উত্তরকে শুষে নেওয়ার চেষ্টা করবে না,
→ দক্ষিণ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা চায়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা.কম।
৩৭৬.
জেনেভা কনভেনশনের আওতায় কয়টি চুক্তি রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন সম্পাদিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও এর ফলাফল হিসেবে।
- যুদ্ধপরাধকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে জেনেভা কনভেনশনকে মান্য করা হয়।
- মূলত এটি যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- যুদ্ধকালীন সামরিক, বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ষার জন্য এতে চারটি চুক্তি থাকায় এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

কনভেনশনসমূহ:
• ১ম জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।

• ২য় জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; সমুদ্রস্থ যুদ্ধক্ষেত্রে আহত, অসুস্থ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।

• ৩য় জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে; যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত।

• ৪র্থ জেনেভা কনভেনশন:
- ১৯৪৯ সালে, যুদ্ধাবস্থায় বেসামরিক জনগণ রক্ষার্থে ও তাদের সুরক্ষা সংক্রান্ত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com
৩৭৭.
কোন চুক্তির কারণে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন?
  1. ডেটন চুক্তি
  2. অসলো চুক্তি
  3. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  4. ভার্সাই চুক্তি
ব্যাখ্যা
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি (Camp David Accords): 
- স্বাক্ষরিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮
- চুক্তির পক্ষ: মিশর  ও ইসরায়েল
- মধ্যস্থতাকারী: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার 
- স্থান: ক্যাম্প ডেভিড, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র
- ১৯৭৯ সালে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো কোনো আরব দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি স্থাপন করে।
- ইসরায়েল সম্মত হয় যে তারা ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের পর দখল করা সিনাই উপদ্বীপ মিশরকে ফিরিয়ে দেবে।
- পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসনের পথ উন্মুক্ত করা হয়।
- মিশর আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ও পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- ১৯৭৮ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও ফিলিস্তিনি ইস্যু ও আঞ্চলিক সংঘাত এখনো সমাধান হয়নি। 

উৎস: Britannica.
৩৭৮.
Biological Weapons Convention এর সদস্য দেশ কয়টি?
  1. ১৮৯ টি
  2. ১৮৭ টি
  3. ১৮৫ টি
  4. ১৮৩ টি
ব্যাখ্যা
Biological Weapons Convention:
- জৈবিক অস্ত্র কনভেনশন বা Biological Weapons Convention (BWC) হলো একটি আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি যা জৈব অস্ত্র নিষিদ্ধ করে। 
- ১৯৬৯ সালে শুরু হওয়া জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ ফোরামে আলোচনা ও সমঝোতার পর ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়।
- কার্যকর হয়: ২৬মার্চ, ১৯৭৫ সালে।
- সদস্য দেশ: ১৮৫টি।

উৎস: Biological Weapons Convention ওয়েবসাইট, UN ওয়েবসাইট (লিঙ্ক)।
৩৭৯.
'Vienna Convention on Diplomatic Relations, 1961' কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
• ভিয়েনা কনভেনশন, ১৯৬১ (Vienna Convention):
⤇ পূর্ণনাম: Vienna Convention on Diplomatic Relations.
⤇ উদ্দেশ্য: কূটনীতিকদের অধিকার, নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা।
⤇ স্বাক্ষর: ১৮ এপ্রিল, ১৯৬১ সাল।
⤇ স্থান: অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা।
⤇ চুক্তি কার্যকর: ২৪ এপ্রিল, ১৯৬৪ সাল।
⤇ অনুচ্ছেদ: ৫৩টি।
⤇ বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ১৯৭৮ সালে।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৮০.
আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত অবসানে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ২৭ জুলাই, ২০২৫
  2. ৩১ জুলাই, ২০২৫
  3. ৫ আগস্ট, ২০২৫
  4. ৮ আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তি:
- ৮ আগস্ট, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। 
- অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ান।
- এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- শান্তিচুক্তির পাশাপাশি উভয় দেশের সাথে করিডোর ও বাণিজ্য ইস্যুতে পৃথক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
 
উল্লেখ্য,
- বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত।
- অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
- আর্মেনিয়া নাগোর্নো কারাবাখের দখল নেয়ার পর কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয় দুই দেশের মধ্যে।
- ২০২৩ সালে পুনরায় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আজারবাইজান।

তথ্যসূত্র- নিউজ প্রতিবেদন। [Link]
৩৮১.
প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ৪ জুলাই ১৭৭৬
  2. ১৯ অক্টোবর ১৭৮১
  3. ৩ সেপ্টেম্বর ১৭৮৩
  4. ১৪ জানুয়ারি ১৭৮৪
ব্যাখ্যা

প্যারিস চুক্তি:
- ১৭৮৩ সালের প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকান বিপ্লবী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- আমেরিকান রাজনীতিবিদ বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, জন অ্যাডামস এবং জন জে গ্রেট ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের প্রতিনিধিদের সাথে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।
- প্যারিস চুক্তিতে, ব্রিটিশ ক্রাউন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং মিসিসিপি নদীর পূর্ব দিকের বেশিরভাগ অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করে, নতুন জাতির আকার দ্বিগুণ করে এবং পশ্চিম দিকে সম্প্রসারণের পথ প্রশস্ত করে।
- প্যারিসের হোটেল ডি'ইয়র্কে ফ্র্যাঙ্কলিন, অ্যাডামস এবং জে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ১৭৮৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত হয়।
- ১৪ জানুয়ারী, ১৭৮৪ সালে কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

• প্যারিস চুক্তির মূল শর্তাবলী:
- গ্রেট ব্রিটেন অবশেষে তার প্রাক্তন উপনিবেশগুলিকে নতুন এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়: যুক্তরাষ্ট্র।
- মার্কিন সীমান্ত নির্ধারণ করে, গ্রেট ব্রিটেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল প্রদান করে।
- আমেরিকান নৌকাগুলির জন্য গ্র্যান্ড ব্যাংকস এবং ব্রিটিশ-কানাডিয়ান উপকূলরেখার অন্যান্য জলসীমায় মাছ ধরার অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গ্রেট ব্রিটেন উভয়ের নাগরিকদের জন্য মিসিসিপি নদীকে নৌযানের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।
- ব্রিটিশ ঋণদাতাদের কাছে আমেরিকান ঋণের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
- যুদ্ধের সময় গ্রেট ব্রিটেনের প্রতি অনুগত থাকা আমেরিকান নাগরিকদের সাথে ন্যায্য আচরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

উৎস: হিস্টরি.কম (লিঙ্ক)।

৩৮২.
OPCW এর অফিসিয়াল ভাষা কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
•OPCW (Organization for the Prohibition of Chemical Weapons)
- প্রতিষ্ঠা ২৯ এপ্রিল, ১৯৯৭ সালে।
- লক্ষ্য : রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ করা।
- উদ্দেশ্য :  রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সনদ Chemical Weapons Convention (CWC) বাস্তবায়নের জন্য OPCW প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদরদপ্তর : হেগ, নেদারল্যান্ডস।
-  স্বাক্ষরকারী : ১৯৩টি দেশ এ কনভেনশনে সমর্থন দিয়েছে। দক্ষিণ সুদান, মিশর ও উত্তর কোরিয়া স্বাক্ষর করেনি। ইসরাইল স্বাক্ষর করলেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।
- বাংলাদেশ এর অবস্থান :  ১৪ জানুয়ারি, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে এবং ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৭ সালে অনুমোদন করে।
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯৭ সালে কার্যকর করে।
- সদস্য : ১৯৩টি (সর্বশেষ সদস্য- ফিলিস্তিন)।
- মহাপরিচালক : ফার্নান্দো আরিয়াজ গঞ্জালেজ (স্পেন)।
- ভাষা : ৬টি (আরবি, চাইনিজ, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, রাশিয়ান ও স্পেনিশ)।
- পুরস্কার:  ২০১৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ।

উৎস: OPCW ওয়েবসাইট।  
৩৮৩.
কত সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় New International Economic Order (NIEO) গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭৪
  2. ১৯৭৫
  3. ১৯৮১
  4. ১৯৮৫
ব্যাখ্যা
New International Economic Order (NIEO):
- ১৯৭৪ সালে New International Economic Order (NIEO) নামে একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ সভায় গৃহীত হয়। 
- মূলত স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত দেশসমূহের আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন এবং ধনী দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য এই প্রস্তাব পাশ হয়। 
- “বাণিজ্য নয় সাহায্য" এই চেতনায় New International Economic Order (NIEO) আহ্বান জানায়। 
- NIEO বা নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালনকারী গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গুলো হল: 
• বিশ্বব্যাংক
• IMF
• WTO
• European Union
• ASEAN
• BRICS

তথ্যসূত্র: United Nations_ Economic and Social Commission for Western Asia ওয়েবসাইট ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৮৪.
The Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP) চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) দক্ষিণ কোরিয়া
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
• The Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP) হলো বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- এটি ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর  চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়।

• RCEP চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী মোট দেশ ১৫টি। যথা:
- চীন
- জাপান
- দক্ষিণ কোরিয়া
- অস্ট্রেলিয়া
- নিউজিল্যান্ড
- ইন্দোনেশিয়া 
- মালয়েশিয়া
- ভিয়েতনাম
- থাইল্যান্ড
- ফিলিপাইন
- ব্রুনাই
- সিঙ্গাপুর
- কম্বোডিয়া
- লাওস ও
- মিয়ানমার।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড
৩৮৫.
'শিনবেত' কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা?
  1. ইসরায়েল
  2. জাপান
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
'শিনবেত':

• 'শিনবেত' ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা।
• ইসরাইলের অপর দুটি গোয়েন্দা সংস্থা হলো মোসাদ এবং আমান।
• মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে 'শিনবেত' অনেক পুরোনো সংস্থা।

অপরদিকে, 
• CIA এবং FBI যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
• M16 যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা।
• জাপানের গোয়েন্দা সংস্থার নাম নাইচো।
• ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার নাম RAW
• পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নাম ISI

উৎস: ব্রিটানিকা, আইডিএফ ওয়েবসাইট। 
৩৮৬.
২০০৩ সালে উত্তর কোরিয়া কোন চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে?
  1. ক) NPT
  2. খ) CTBT
  3. গ) GATT
  4. ঘ) JCPOA
ব্যাখ্যা
২০০৩ সালে উত্তর কোরিয়া NTP থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। 
- পারমানবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (Nuclear Non-Proliferation Treaty) 
- এই চুক্তিকে সংক্ষেপে বলা হয় NTP ।
- ১ জুলাই ১৯৬৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়। 
- কার্যকর হয় ৫ই মার্চ ১৯৭০।
- ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল চুক্তিটি স্বাক্ষর করেনি। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার। 
৩৮৭.
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে? 
  1. ১৯৭৪
  2. ১৯৭৩
  3. ১৯৭৫
  4. ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সিমলা চুক্তি:
- ১৯৭১ সালে ভারত - পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে) পরবর্তী সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ - ২ জুলাই, ১৯৭২ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান - সিমলা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষ - ভারত ও পাকিস্তান।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী - ভারতের পক্ষে - প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো।
- চুক্তির লক্ষ্য - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়াবলীর শান্তিপূর্ণ সমাধান, বন্ধুত্বপূর্ণ পারস্পারিক সহাবস্তান, যুদ্ধবন্দী বিনিময়, লাইন অব কন্ট্রোলকে বিরোধপূর্ণ কাস্মীরের সীমানা হিসাবে পুনঃনির্ধারণ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং হিস্টরি.কম।

৩৮৮.
সেইন্ট জেমস্‌ প্যালেস ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী দেশ কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ১৪টি
  3. ৯টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
লন্ডন ঘোষণা বা সেইন্ট জেমস প্যালেস ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ:
লন্ডন ঘোষণা বা সেইন্ট জেমস প্যালেস ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী দেশ মোট ১৪টি।
দেশগুলোর মধ্যে -
➤ ইউরোপের দেশ - ১০টি। যথা - গ্রেট ব্রিটেন, বেলজিয়াম, চেকোস্লোভাকিয়া, গ্রিস, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস্‌, নরওয়ে, পোল্যান্ড, যুগোস্লাভিয়া ও ফ্রান্স।
➤ উত্তর আমেরিকার দেশ - ১টি। যথা - কানাডা।
➤  আফ্রিকা দেশ - ১টি। যথা - দক্ষিণ আফ্রিকা।
➤ ওশেনিয়ার দেশ - ২টি। যথা - অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
উল্লেখ্য, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশ এই ঘোষণায় স্বাক্ষর করে নি। 

রেফারেন্স: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট, Jewish Virtual Library,  হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা
৩৮৯.
পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষারোধ (CTBT) চুক্তিতে নিচের কোন দেশটি স্বাক্ষর করেনি?
  1. ভারত
  2. পাকিস্তান
  3. উত্তর কোরিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
•পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (CTBT)
- পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৯৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৮৭টি দেশ,
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৭৮টি দেশ,
- স্বাক্ষর করেনি: ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া।
- স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেয়নি: চীন, মিশর, ইরান, ইসরায়েল, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষরকরে: ১৯৯৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর।

উল্লেখ্য:
- চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে Annex 2 দেশগুলোর মধ্যে ৪৪টি দেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদন দিতে হবে।
- এই দেশগুলোর মধ্যে ৯টি দেশ এখনও চুক্তি অনুমোদন করেনি।
- যার মধ্যে রাশিয়া ২০২৩ সালে তার অনুমোদন প্রত্যাহার করেছে।
- বর্তমানে, চুক্তিটি কার্যকর হয়নি কারণ প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশ অনুমোদন দেয়নি।

উৎস: CTBTO ওয়েবসাইট।
৩৯০.
'ওয়ারশ চুক্তি' কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) পোল্যান্ড
  2. খ) রোমানিয়া
  3. গ) বসনিয়া
  4. ঘ) হাঙ্গেরি
ব্যাখ্যা
- ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact-Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance) হলো স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে ১৯৫৫ সালের ১৪ মে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সামরিক চুক্তি।
- ওয়ার'শ চুক্তি সংক্ষেপে ওয়ারশ প্যাক্ট  হিসেবে পরিচিত।
- প্রতিষ্ঠার তারিখ ও স্থান: ১৪ মে, ১৯৫৫, ওয়ারশো্, পোল্যান্ড
- চিফ অব কম্বাইন্ড স্টাফ: ভলাদিমির লোবোভ (প্রথম)।
- ধরন: সামরিক মৈত্রী।
- বিলুপ্ত: ১ জুলাই ১৯৯১

উৎস: Britannica.
৩৯১.
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৬৩ সালে
  2. ১৯৬৭ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
'NPT' চুক্তি:
- NPT-এর পূর্ণরূপ: Nuclear Non- Proliferation Treaty.
- এটি হলো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৬৮।
- কার্যকর হয়: ৫ই মার্চ, ১৯৭০।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৯১টি।

⇒ এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে NPT দ্বারা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হিসাবে স্বীকৃত রাষ্ট্র (NWS) হলো ৫টি।
- চুক্তিটি এই দেশগুলির পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে স্বীকৃতি দেয়।
- কিন্তু NPT-এর ৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের চিরস্থায়ীভাবে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি এবং বজায় রাখার উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে,
- ভারত, পাকিস্তান এবং ইসরায়েল কখনই NPT-এ যোগ দেয়নি। কিন্তু দেশগুলি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বলে পরিচিত।
- উত্তর কোরিয়া একটি অ-পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে NPT-এ যোগদান করেছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে NPT থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল।

উৎস: i) Arms Control Association ওয়েবসাইট।
ii) UNODA ওয়েবসাইট।
৩৯২.
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার রূপরেখা নিরুপণ এবং শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ভার্সাই চুক্তি
  2. ডেটন চুক্তি
  3. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি
  4. প্যারিস চুক্তি
ব্যাখ্যা
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট।
- পক্ষসমূহ: মিসর - ইসরাইল।
- স্বাক্ষরকারী: মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন।
- মধ্যস্থতাকারী: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
- উদ্দেশ্য: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার রূপরেখা নিরুপণ এবং শান্তি স্থাপন।

 উৎস: Britannica.
৩৯৩.
‘অরবিস’ একটি-
  1. ক) বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন
  2. খ) উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল
  3. গ) পরিবেশবাদী সংগঠন
  4. ঘ) ভ্যাকসিন কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
অরবিস ইন্টারন্যাশনাল হলো একটি উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল। এটি ১৯৮২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। অরবিস ১৯৮৫ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসে এবং ১৯৯৯ সালে ঢাকায় স্থায়ী শাখা চালু করে। বর্তমানে অরবিস বিশ্বের ৯০টি দেশে কাজ করছে। (সূত্রঃ অরবিস ইন্টারন্যাশনাল)
৩৯৪.
ক্ষেপনাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি কোনটি?
  1. ABM
  2. NPT
  3. New START
  4. CTBT
ব্যাখ্যা
Anti-Ballistic Missile Treaty:
- ABM - এর পূর্ণরূপ Anti Ballistic Missile Treaty (ABM Treaty)।
- এটি একটি ক্ষেপনাস্ত্র সীমিতকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি Treaty on the Limitation of Anti- Ballistic Missile Systems নামেও পরিচিত।
- স্বাক্ষরের তারিখ - ২৬ মে, ১৯৭২ সাল।
- কার্যকরের তারিখ - ৩ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান - মস্কো, রাশিয়া।
- বিষয় - দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র সীমিতকরণ।
- চুক্তি বাতিল - ২০০২ সাল।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও হিস্টরি কম।
৩৯৫.
‘যুদ্ধাবস্থায় বেসামরিক জনগণ রক্ষার্থে চুক্তি’- জেনেভা কনভেনশন এর কোন চুক্তির বিষয়বস্তু?
  1. ক) ১ম চুক্তি
  2. খ) ২য় চুক্তি
  3. গ) ৩য় চুক্তি
  4. ঘ) ৪র্থ চুক্তি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক আইন যা যুদ্ধকালীন মানবাধিকার এবং মানবিক আচরণ সংক্রান্ত কিছু মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে।
- এই কনভেনশনগুলি মূলত যুদ্ধবন্দী, আহত বা অসুস্থ সেনা সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১২ আগস্ট, ১৯৪৯ সালে।
- এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

⇒ মূল জেনেভা কনভেনশনগুলো:
১. প্রথম কনভেনশন (১৮৬৪): আহত ও অসুস্থ সেনা সদস্যদের সুরক্ষা এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে।
২. দ্বিতীয় কনভেনশন (১৯০৬): সমুদ্রে যুদ্ধরত সেনাদের সুরক্ষা ও তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় কনভেনশন (১৯২৯): যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা এবং তাদের প্রতি মানবিক আচরণ।
৪. চতুর্থ কনভেনশন (১৯৪৯): সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা, বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্র বা দখলদারিত্বের সময়।

উল্লেখ্য,
• কনভেনশনের সংশোধন ও আধুনিকায়ন:
- ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কনভেনশনগুলোর সংস্করণ আরো উন্নত ও আধুনিক করা হয় এবং ১৯৭৭ ও ২০০৫ সালে আরও প্রোটোকল যুক্ত করা হয়।
- এর মাধ্যমে যুদ্ধের সময় মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

⇒ প্রটোকলসমূহ:
• প্রটোকল:
- ১৯৭৭ সালে; ১; আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি রক্ষার্থে গৃহীত হয়।
• প্রটোকল: ২;
- ১৯৭৭ সালে; অ-আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গকে রক্ষার সাথে সম্পর্ক।
• প্রটোকল: ৩;
- ২০০৫ সালে; অতিরিক্ত স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রতীক পরিগ্রহ করা সংক্রান্ত বিষয়ে গৃহীত হয়।

উৎস: INTERNATIONAL COMMITTEE OF THE RED CROSS.
৩৯৬.
সামন্তদের চাপে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো?
  1. ক) প্যারিস শান্তি চুক্তি
  2. খ) ভেলভেট চুক্তি
  3. গ) ম্যাগনাকার্টা চুক্তি
  4. ঘ) জেনেভা কনভেনশন
ব্যাখ্যা

ম্যাগনাকার্টা বা মহাসনদ ১২১৫ সালে সামন্তদের চাপে পড়ে ইংল্যান্ডের রাজা জন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ।
- 'ম্যাগনাকার্টা হল রাজার ক্ষমতা খর্ব করার একটি ঐতিহাসিক দলিল।
- একে ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের বাইবেল বলা হয়।

সূত্র:Britannica.com

৩৯৭.
'স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম' কোন বিষয়ের সাথে জড়িত?
  1. ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ
  2. অভিবাসন সংকট
  3. ইরান ও ছয়জাতি মধ্যকার পরমাণু চুক্তি
  4. হংকং ইস্যুতে চীনের উপর মার্কিন অবরোধ
ব্যাখ্যা
- স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম হলো আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।
- সম্প্রতি ইরানের সাথে ছয়জাতির স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা চুক্তি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম প্রয়োগের চেষ্টা চালায়।
- স্ন্যাপব্যাক ইরানের পরমাণু চুক্তি বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহিত ২২৩১ রেজ্যুলিউশনের একটি অংশ। যেখানে বলা হয়, ইরান ব্যতীত অন্য ছয়টি দেশের কোনটি যদি মনে করে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছে না তাহলে সেই দেশ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের উপর পুনরায় সকল নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব পেশ করতে পারবে।
- এক্ষেত্রে এই প্রস্তাবে অন্যকোন দেশ ভেটো প্রয়োগ করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের মে মাসে নিজেকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার নেয়। ফলে চুক্তির অন্যগুলোর বক্তব্য ছিলো যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে নেই, তাই দেশটির স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম চালুর অধিকার নেই।
- যার কারণে নিরাপত্তা পরিষদে ডমিনিকান রিপাবলিক ব্যতীত বাকি ১৩টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম প্রয়োগের বৈধতার প্রস্তাবে ভেটো দেয়।
- পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী ইরানের উপর থেকে ২০২০ সালের অক্টোবরে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
(সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস এবং আল জাজিরা)
৩৯৮.
কোন রাষ্ট্রটি পরমানু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি স্বাক্ষর করেনি?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) চীন
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা

পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধকল্পে ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই NPT বা Non-Proliferation Treaty চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ তা কার্যকর হয়।
ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল এবং দক্ষিণ সুদান এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
উল্লেখ্য যে, ২০০৩ সালে উত্তর কোরিয়া নিজেকে নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রন চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
উৎসঃ জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

৩৯৯.
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কবে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
সিন্ধু পানি চুক্তি:
- ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হচ্ছে সিন্ধু পানি চুক্তি।
- ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় এ চুক্তি হয় এবং ভারত ও পাকিস্তান তাতে স্বাক্ষর করে।
- সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়।
- চুক্তিটির মাধ্যমে সিন্ধু ও এর উপনদীগুলোর পানিকে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় এবং পানিবণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
- সিন্ধু অববাহিকার পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি নদী ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রুর পানি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয় ভারতকে।
- আর পাকিস্তানকে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদ-নদী সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ২২ এপ্রিল, ২০২৫ কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করে ভারত।
- প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কমানোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা, পত্রিকা রিপোর্ট।
৪০০.
কোন দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য 'গুড ফ্রাইডে' চুক্তি হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. উত্তর আয়ারল্যান্ড
  3. জার্মানি
  4. স্কটল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বেলফাস্ট চুক্তি:
- 'বেলফাস্ট চুক্তির' অপর নাম গুড ফ্রাইডে' চুক্তি বা Good Friday Agreement.
- গুড ফ্রাইডে' চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা।
- চুক্তি স্বাক্ষর: ১০ এপ্রিল, ১৯৯৮।
- চুক্তি কার্যকর: ডিসেম্বর, ১৯৯৯।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড।
- চুক্তির পক্ষ: ব্রিটিশ সরকার, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
- চুক্তির মধ্যস্থতাকারী: লর্ড ট্রিম্বল (যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার)।

⇒ শুক্রবারে সই হওয়ায় এটি গুড ফ্রাইডে চুক্তি (জিএফএ) নামেই বেশি পরিচিতি।
- এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকার পরিচালনায় প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠনের বিধান গৃহীত হয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি অংশ হিসেবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক মর্যাদা স্বীকার করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আয়ারল্যান্ড গঠন করার একটি নীতিও গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯২১ সালে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় আয়ারল্যান্ডের বাকি অংশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে অঞ্চলটির জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক দল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একত্রিত হতে চেয়েছিল, আরেক দল চেয়েছিল যুক্তরাজ্যের অংশ হয়েই থাকতে। বিষয়টি নিয়ে প্রায় ৩০ বছরের সহিংস সংঘর্ষের অবসান ঘটেছিল গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে। এই সংঘর্ষে প্রাণ হারায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ।

উৎস: Britannica.