বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ

মোট প্রশ্ন৭১০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৭১০

৬০১.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অর্ধাঙ্গিনী
  2. ঢাকী
  3. মহতী
  4. শ্বশ্রূ
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মহৎ-মহতী,
- শ্বশুর- শ্বশ্রূ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬০২.
কোনটি স্ত্রী লিঙ্গ?
  1. কামিন
  2. বৈরাগী
  3. ওজস্বী
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কামিন:
অর্থ: নারী শ্রমিক।
- স্ত্রীবাচক শব্দ।
- পুরুষবাচক শব্দ: কুলি।

অন্যদিকে,
• বৈরাগী:
সংসারের প্রতি অনাসক্ত;
- উভয়লিঙ্গ।

• ওজস্বী:
- ১)ওজোগুণসম্পন্ন। ২) উদ্দীপনাপূর্ণ। ৩) তেজোদীপ্ত। 
- পুরুষবাচক।
- স্ত্রীবাচক: ওজস্বিনী/ওজোশশিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬০৩.
আ- প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মালিকা
  2. নাটিকা
  3. বিবাহিতা
  4. গীতিকা
ব্যাখ্যা
• আ- প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
সাধারণ অর্থে:
- মৃত - মৃতা,
- বিবাহিত -বিবাহিতা,
- মাননীয় - মাননীয়া,
- বৃদ্ধ - বৃদ্ধা,
- প্রিয় - প্রিয়া,
- প্রথম - প্রথমা,
- চতুর - চতুরা,
- চপল - চপলা,
- নবীন - নবীনা,
- কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা,
 -মলিন - মলিনা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• '-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে 'অক'-এর জায়গায় '-ইকা' হয়। ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগ নারীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা, গীত-গীতিকা, পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-২০২১ সংস্করণ)।
৬০৪.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অসূর্যস্পশ্যা
  2. কুমার
  3. কোকিল
  4. ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যস্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কুমার - কুমারী।
• কোকিল - কোকিলা।
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬০৫.
ক্লীবলিঙ্গ বাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিদুষী
  2. মানুষ
  3. বাঙালি
  4. বই
ব্যাখ্যা

• লিঙ্গ চার প্রকার। 

যথা: 
১.  পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর। 
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী। 
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি। 
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬০৬.
নারীবাচক শব্দের জন্য কোন কথাটি যথার্থ?
  1. সব পুরুষবাচক শব্দের নারীবাচক রূপ আছে
  2. নারীবাচক শব্দের বিশেষণও নারীবাচক হবে
  3. কিছু শব্দের পুরুষ ও নারীবাচক ভিন্নতা নেই
  4. কেবল প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ তৈরি হয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো গ) কিছু শব্দের পুরুষ ও নারীবাচক ভিন্নতা নেই।

ব্যাখ্যা:
বাংলায় কিছু শব্দ লিঙ্গ-নিরপেক্ষ, অর্থাৎ এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য একই রূপে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: ‘শিক্ষক’, ‘ডাক্তার’, ‘বন্ধু’, ‘মানুষ’। এই শব্দগুলোর পুরুষ বা নারীবাচক আলাদা রূপ নেই, এবং এটি বাংলা ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য।

অন্য অপশনগুলো ভুল হওয়ার কারণ:
ক) সব পুরুষবাচক শব্দের নারীবাচক রূপ আছে - ভুল।
- অনেক শব্দের আলাদা নারীবাচক রূপ নেই।

খ) নারীবাচক শব্দের বিশেষণও নারীবাচক হবে - ভুল।
- বাংলায় বিশেষণ লিঙ্গ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় না
উদাহরণ: ভালো ছেলে, ভালো মেয়ে (বিশেষণ একই)।

ঘ) কেবল প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ তৈরি হয় - ভুল।
- প্রত্যয়: বালক → বালিকা।
- সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ: বাবা → মা, ছেলে → মেয়ে।

তাই সঠিক উত্তর গ) কিছু শব্দের পুরুষ ও নারীবাচক ভিন্নতা নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬০৭.
'ধনী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ধান্য
  2. ধনবতী
  3. ধনিনী
  4. ধনিকা
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
গোয়ালা-গোয়ালিনী, 
বাঘ-বাঘিনী, 
বিদেশি-বিদেশিনী, 
গুণী-গুণিনী, 
ধনী- ধনিনী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬০৮.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুলটা
  2. কুমারী
  3. বিধবা
  4. এয়ো
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• জাতি বা শ্রেণিবাচক: সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬০৯.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) সতীন
  2. খ) এয়ো
  3. গ) সধবা
  4. ঘ) সভানেত্রী
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক।
- এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
- যেমন— সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।

• 'সভানেত্রী' এর পুরুষবাচক শব্দ 'সভাপতি'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১০.
লিঙ্গের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আঁখি খুবই বুদ্ধিমান মেয়ে।
  2. খ) সে আমার কনিষ্ঠ বোন
  3. গ) নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক।
  4. ঘ) বর্তমান কিশোর মেয়েদের স্বাস্থ্যজ্ঞান প্রয়োজন।
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদাকে নারীবাচক করা হয় না।
- যেমন
- নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক। 
- নমিতা রায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি।

অন্যান্য বাক্যের সঠিক প্রয়োগ- 
আঁখি খুবই বুদ্ধিমতী মেয়ে। 
সে আমার কনিষ্ঠা বোন। 
বর্তমান কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্যজ্ঞান প্রয়োজন। 

 উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১১.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ?
  1. হিম
  2. স্ত্রৈণ
  3. ধোপা
  4. কামার
ব্যাখ্যা
• কতকগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায়।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, বিপত্নীক, স্ত্রৈণ

• কতকগুলো শব্দ শুধু স্ত্রীবাচক হয়।
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই।

অন্যদিকে,
- কামার-কামারনী,
- ধোপা-ধোপানি,
- হিম-হিমানী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬১২.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রী বাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) বালক-বালিকা
  2. খ) দু:খী- দু:খিনী
  3. গ) খান-খানম
  4. ঘ) নর-নারী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমনঃ কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি।

পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্‌, বান্‌, মান্‌, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা: সৎ - সতী, মহৎ - মহতী ইত্যাদি।

কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: রাজা - রানী, নর - নারী ইত্যাদি।

সংস্কৃত স্ত্রী প্রত্যয়:
ঈ - প্রত্যয় যোগে জাতি বা শ্রেণীবাচক উদাহরঃ সিংহ - সিংহী, ময়ুর - ময়ুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৩.
'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহীয়সী
  2. মহীয়ানী
  3. মহীয়াসী
  4. মহীইন
ব্যাখ্যা
• 'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - মহীয়সী। 

• মহীয়ান (বিশেষণ পদ),
এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতি মহান, মহত্তর।

স্ত্রীবাচক শব্দ- মহীয়সী/মোহিয়োশি।।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১৪.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সম্রাজ্ঞী
  2. খানম
  3. রানি
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম - মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকে,
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী,
রাজা - রানি

• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ: অরক্ষণীয়া, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
৬১৫.
কোনটি 'আনী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ধোপানী
  2. নাপিতানী
  3. কুমারনী
  4. ভাগনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয়:
কামার - কামারনী
জেলে - জেলেনী
কুমার - কুমারনী
ধোপা - ধোপানী
মজুর - মজুরনী ইত্যাদি

আনী - প্রত্যয়:
ঠাকুর - ঠাকুরানী
নাপিত - নাপিতানী
মেথর - মেথরানী
চাকর - চাকরানী ইত্যাদি

ঈ- প্রত্যয়:
বেঙ্গমা - বেঙ্গমী
ভাগনে - ভাগনী

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
৬১৬.
'মেথর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মেথরাইন
  2. মেথরনি
  3. মেথরানী
  4. মেথরিন
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দগুলো হলো:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী,
- নাপিত - নাপিতানী,
- মেথর- মেথরানী,
- চাকর- চাকরানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬১৭.
নিচের কোনটি ‘ইনী'- প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. চাকরানি
  2. ধোপানি
  3. বিহঙ্গিনী
  4. নাপিতানী
ব্যাখ্যা

- ‘বিহঙ্গিনী’ শব্দটি মূল পুরুষবাচক শব্দ ‘বিহঙ্গ’ থেকে গঠিত।

ইনী’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ: 
- বাংলা ব্যাকরণে কিছু পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করতে নির্দিষ্ট প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- কিছু পুরুষবাচক শব্দকে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করা হয়। যেমন- 
• পুরুষবাচক + স্ত্রীবাচক ('ইনী'প্রত্যয় যোগে):
- বিহঙ্গ + ইনী = বিহঙ্গিনী;
- যোগী + ইনী = যোগিনী;
- গৃহী + ইনী = গৃহিণী;
- রজক (পুংলিঙ্গ) + ইনী = রজকিনি;
- যোগী + ইনী = যোগিনী;
- হিম + ইনী = হিমানী।

অন্যদিকে, 
- চাকর শব্দের শেষে ‘আনী’ যোগ করে গঠিত হয়েছে চাকরানি।
- ধোপা শব্দের শেষে ‘নি’ যোগ করে হয়েছে ধোপানি।
- নাপিত শব্দের শেষে ‘আনী’ যোগ করে হয়েছে নাপিতানী।

উৎস: ব্যাকরণ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬১৮.
কোন শব্দটি অপত্নীবাচক?
  1. দাদি
  2. চাচি
  3. নেত্রী
  4. জেলেনি
ব্যাখ্যা
• নারীবাচক শব্দ দুই প্রকার।
যথা :
- পত্নীবাচক ও অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক বুঝালে পত্নীবাচক হয়।
 - যেমন: পিতা- মাথা,
- দাদা- দাদি,
- চাচা- চাচি,
- জেলে- জেলেনি,
- গুরু- গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক না বুঝালে অপত্নীবাচক হয়।
- যেমন:  ছাত্র- ছাত্রী,
- শিক্ষক- শিক্ষিকা,
- নেতা- নেত্রী।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত,  নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১৯.
কোনটি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) মায়াবী
  2. খ) যোগী
  3. গ) দুঃখী
  4. ঘ) বৈষ্ণবী
ব্যাখ্যা

মায়াবী-মায়াবিনী,
কুহক-কুহকিনী,
যোগী-যোগিনী,
দুঃখী-দুঃখিনী শব্দগুলো হলো ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত শব্দ।

বৈষ্ণব (বিশেষ্য) বিষ্ণুর উপাসক; ধর্মসম্প্রদায়বিশেষ।
- বৈষ্ণবী (স্ত্রীলিঙ্গ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা একাডেমি অভিধান

৬২০.
আ-প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কনিষ্ঠা
  2. পাঠিকা
  3. লেখিকা
  4. গায়িকা
ব্যাখ্যা
• আ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
বৃদ্ধ - বৃদ্ধা,
প্রিয় - প্রিয়া,
কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে 'অক'-এর জায়গায় '-ইকা' হয়।
যেমন –
পাঠক-পাঠিকা,
লেখক-লেখিকা,
গায়ক-গায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি. ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬২১.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? 
  1. জল্লাদ 
  2. সন্তান
  3. কুলটা 
  4. কবিরাজ
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ- কুলটা। 
--------------------- 
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হলো সেইসব শব্দ যেগুলো সবসময় বা নিত্যই স্ত্রীলিঙ্গ বোঝায় এবং যাদের সাধারণত কোনো পুরুষবাচক প্রতিশব্দ নেই।  - নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দের কিছু উদাহরণ:
- সতীন,
- ডাইনি,
- আয়া,
- দাই,
- সদবা
- সপত্নী,
- বিধবা,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া।
--------------------------- 
অন্যদিকে,
- কবিরাজ, জল্লাদ, সন্তান- নিত্য পুরুষবাচক শব্দ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬২২.
'বিদ্বান' শব্দের সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিদূষী
  2. বিদ্বানী
  3. বিদূষিণী
  4. বিদুষী
ব্যাখ্যা
- বিদ্বান এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ হলো ‘বিদুষী’।
অপশনের অন্য শব্দগুলো ভুল।

• তৎসম পুরুষবাচক শব্দের পরে আ, ঈ, আনী, নী, ইকা প্রভৃতি প্রত্যযোগে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। 
যেমন,
বিবাহিত- বিবাহিতা,
মাননীয়- মাননীয়া,
বৃদ্ধ- বৃদ্ধা,
প্রথম- প্রথমা,
কনিষ্ঠ- কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬২৩.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক রূপ নেই?
  1. ক) বেহান
  2. খ) কুলটা
  3. গ) ঠাকুরঝি
  4. ঘ) ননদ
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক সংস্কৃত তৎসম শব্দঃ
- সতীন
- অর্ধাঙ্গিনী,
- কুলটা,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়,
- সপত্নী ইত্যাদি


[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯-সংস্করণ]
৬২৪.
'বিদুষী' কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. ক্লীবলিঙ্গ
  2. উভয়লিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. পুংলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয় লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬২৫.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. সাহেব
  2. বেয়াই
  3. সঙ্গী
  4. কবিরাজ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সঙ্গী - ঙ্গিনী। 
• সাহেব - বিবি।
• বেয়াই - বেয়াইন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬২৬.
’মহিমময়’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহিমময়ি
  2. মহীয়সী
  3. মহিমান্বিতী
  4. মহিমময়ী
ব্যাখ্যা
• ’মহিমময়’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ = মহিমময়ী।
- ’মহিমময়’ শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• ’মহীয়ান’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ = মহীয়সী।
• ’মহিমান্বিত’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ = মহিমান্বিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২৭.
"গরীয়ান" শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরীয়সী
  2. গড়িয়সী
  3. গরীয়ানী
  4. গরীয়ানি
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।

যেমন:
সৎ-সতী,
মহৎ-মহতী,
গুণবান-গুণবতী,
রূপবান-রূপবতী,
শ্রীমান-শ্রীমতী,
বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী,
গরীয়ান-গরীয়সী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬২৮.
অবজ্ঞাসূচক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? 
  1. ডাক্তারনি 
  2. বৌদি
  3. বান্ধবী
  4. শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা

ডাক্তারনি একটি অবজ্ঞাসূচক স্ত্রীবাচক শব্দ। 

অবজ্ঞাসূচক কয়েকটি স্ত্রী-বাচক শব্দ হচ্ছে:
- ডাক্তার - ডাক্তারনি, 
- দারোগা - দারোগানি, 
- জমিদার - জমিদারনি, 
- মাস্টার - মাস্টারনি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন:
- দেবর - ননদ/জা,
- ভাই - বোন/ভাবী,
- শিক্ষক - শিক্ষিকা/শিক্ষক পত্নী,
- বন্ধু - বান্ধবী/বন্ধু পত্নী, 
- দাদা - দিদি/বৌদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৬২৯.
কোন পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক বা অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা যায় না?
  1. বাহক 
  2. সাধক
  3. চালক 
  4. চাতক
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক বা অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা যায়- 
ক) বাহক - বাহিকা;
খ) সাধক - সাধিকা;
গ) চালক - চালিকা।

অন্যদিকে,
• 'চাতক' শব্দটি একটি বিশেষ পাখির নাম। এর স্ত্রীবাচক রূপ "চাতকী" - যেখানে 'ইকা' নয়, বরং শুধু 'ঈ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৩০.
নিচের কোনটি অপত্নীবাচক শব্দ?
  1. জেলেনি
  2. ননদ
  3. তেজস্বিনী
  4. গুরুপত্নী
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩১.
'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানি
  2. ঠাকরুন
  3. ঠাকুরনি
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

 • 'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুরানি; ঠাকরুন।

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দগুলো হলো:
ঠাকুর - ঠাকুরানি, নাপিত - নাপিতানী, মেথর - মেথরানী, চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'ঠাকুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ:
• উন-প্রত্যয় যোগে: ঠাকুর - ঠাকরুন। 
• আইন-প্রত্যয় যোগে: ঠাকুর - ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৬৩২.
কোন শব্দটি অপত্নীবাচক?
  1. দাদি
  2. মাতা
  3. শিক্ষিকা
  4. জেলেনি
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।

• স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন -
পিতা - মাতা,
চাচা - চাচি,
দাদা - দাদি,
জেলে - জেলেনি,
গুরু - গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন
খোকা-খুকি,
ছাত্র - ছাত্রী,
শিক্ষক - শিক্ষিকা,
নেতা - নেত্রী,
পাগল - পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি. ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬৩৩.
'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. নাগিনী
  2. বাঘিনী
  3. চাকরানি
  4. মানিনী
ব্যাখ্যা

'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হল চাকরানি।
- চাকরানি =  'চাকর' শব্দের সাথে 'আনি' প্রত্যয় যোগে 'চাকরানি' গঠিত হয়েছে।

•'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• ঠাকুর > ঠাকুরাণী,
• বামন > বামনী,
• চাকর > চাকরানী।
- বাংলা ভাষায় ‘আনী’ প্রত্যয় যুক্ত হলে পুরুষবাচক শব্দ স্ত্রীবাচক অর্থ প্রকাশ করলেও কখনও কখনও অবজ্ঞার ভাবও যুক্ত হয়।
- যেমন: ঠাকুর > ঠাকুরাণী।
- এছাড়াও দেওর > দেওরানী, ননদ > ননদিনী - এমন শব্দও 'আনী' যোগে গঠিত হয়।
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে ঠাকুরানি, নাপিতানি, ধোপানি ইত্যাদি শব্দও তৈরি হয়।
- এগুলো মূলত পেশা বা পদবাচক পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ নির্দেশ করে।
• নাপিত → নাপিতানি;
• ধোপ → ধোপানি;
• ভৃত্য → ভৃত্যানী;
• মেথর → মেথরানি;
• চৌধুরী → চৌধুরানী।

অন্যদিকে,
- নাগিনী: 'নাগ' শব্দের সাথে 'ইনী' প্রত্যয় যোগে 'নাগিনী' গঠিত হয়েছে;
- বাঘিনী: 'বাঘ' শব্দের সাথে 'ইনী' প্রত্যয় যোগে 'বাঘিনী' গঠিত হয়েছে;
- মানিনী: 'মানী' শব্দের সাথে 'ঈ' প্রত্যয় যোগে 'মানিনী' গঠিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬৩৪.
'ঈনী, নী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) মেধাবিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
ব্যাখ্যা
'অরণ্যানী'- 'ঈনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়। 
- 'আনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ 'অরণ্যানী' যা বৃহৎ অরণ্য বোঝায়। 

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী
- হিম- হিমানী ( জমানো বরফ) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩৫.
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ 
খ) স্ত্রীলিঙ্গ 
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৬.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দাত্রী
  2. দুঃখিনী
  3. নেত্রী
  4. লক্ষ্মী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই। যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• পুরুষবাচক তা-এর জায়গায় নারীবাচক স্ত্রী: কর্তা-কর্ত্রী, দাতা-দাত্রী, ধাতা-ধাত্রী, নেতা-নেত্রী, প্রণেতা-প্রণেত্রী, রচয়িতা-রচয়িত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী।
• ইনী, -নী প্রত্যয় যোগ করে: দুঃখী-দুঃখিনী, শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৭.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রোতা
  2. শিষ্য
  3. বিচারপতি
  4. ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না। এদের নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
কবিরাজ, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, লম্পট, কৃতদার, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শ্রোতা - শ্রোত্রী,
• শিষ্য - শিষ্যা,
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৩৮.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. কুলটা
  2. অসূর্যম্পশ্যা
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. মায়াবী
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মায়াবী - মায়াবিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।

৬৩৯.
শব্দের শেষে আনি/আনী প্রত্যয় যোগ করে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ভাগনা > ভাগনী
  2. ধোপা > ধোপানী
  3. ঠাকুর > ঠাকুরানী
  4. কুমার > কুমারনী
ব্যাখ্যা
‘আনী/ আনি’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কুমার > কুমারনী' এবং 'ধোপা > ধোপানী' হচ্ছে নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- 'ভাগনা > ভাগনী' হচ্ছে ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪০.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. জল্লাদ
  2. মহৎ
  3. পুরোহিত
  4. গুন্ডা
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়- মহৎ।
- মহৎ - মহতী।

--------------------
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: গুন্ডা, জল্লাদ, লম্পট, পুরোহিত, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, অসতী, গর্ববতী ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
৬৪১.
'সাধারণ স্ত্রী জাতীয় অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. খালা
  2. জা
  3. মামী
  4. পাগলী
ব্যাখ্যা

অর্থের দিকে থেকে পুরুষবাচক ও নারীবাচক শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
অর্থের দিক থেকে বাংলা পুরুষবাচক ও নারীবাচক শব্দ দু-ভাগে বিভক্ত:
১.পতি ও পত্নীবাচক:
কাকা-কাকি, চাচা- চাচি, ভাই-ভাবি, মামা-মামি, জেল-জেলেনি, দেওর-জা , খালা - খালু ইত্যাদি। 

২. সাধারণভাবে পুরুষ ও নারী অর্থে :
- পাগল-পাগলি, বালক-বালিকা, ভাই-বোন, দেওর- ননদ, শিষ্য-শিষ্যা, গায়ক-গায়িকা ইত্যাদি।
- এ দুটি দিক থেকে কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে নারীবাচক শব্দ পাওয়া যায়।
যেমন:
- দাদা-দিদি (বড়ো বোনা, বউদি (দাদার স্ত্রী)।
- দেবর-ননদ (দেবরের বোন), জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই-বোন, ভাবি, ভাইবট (ভাইয়ের স্ত্রী।
- বন্ধু-বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু), বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৪২.
'ধনী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ধনীনি
  2. ধনিনি
  3. ধনিনী
  4. ধনীনী
ব্যাখ্যা
• 'ধনী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - ধনিনী।

• 'ধনী' অর্থ:
- ধনবান, বিত্তশালী; মহাজন। দক্ষ, কুশল।

• শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগ গঠিত আরো কিছু স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ বাঘ-বাঘিনী, 
→ বিদেশি-বিদেশিনী, 
→ গুণী-গুণিনী, 
→ ধনী-ধনিনী, 
→ সুকেশ-সুকেশিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৬৪৩.
'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানি
  2. কামারনি 
  3. গয়লানি
  4. জেলেনি 
ব্যাখ্যা

'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হল- ঠাকুরানি।
- ঠাকুরানি =  'ঠাকুর' শব্দের সাথে 'আনি' প্রত্যয় যোগে 'ঠাকুরানি' গঠিত হয়েছে।

•'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• ঠাকুর > ঠাকুরানি,
• নাপিতা > নাপিতানি,
• মেথর > মেথরানি।
----------------
অন্যদিকে,
- কামারনি, গয়লানি, জেলেনি- 'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- কামার = কামারনি।
- গয়লা = গয়লানি।
- জেলে = জেলেনি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৪৪.
কোনটি '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. মালিকা
  2. মাননীয়া
  3. অধ্যাপিকা
  4. সেবিকা
ব্যাখ্যা

শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
• কোকিল - কোকিলা,
মাননীয় - মাননীয়া,
• চতুর - চতুরা,
• চঞ্চল - চঞ্চলা, 
• নবীন - নবীনা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'ইকা' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: মালা - মালিকা, অধ্যাপক - অধ্যাপিকা, সেবক - সেবিকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬৪৫.
'আচার্য' এর শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. আচার্যিনী
  2. আচার্যি
  3. আচার্যানী
  4. আচার্যাইন 
ব্যাখ্যা

• আনী-প্রত্যয় যোগ করে: 
ইন্দ্র - ইন্দ্রানী, মাতুল - মাতুলানী, আচার্য - আচার্যানী (কিন্তু আচার্যের কর্মে নিয়োজিত অর্থে আচার্য)। 

এরূপ: শূদ্র-শূদ্রা (শূদ্র জাতীয় স্ত্রীলোক), শূদ্রানী (শূদ্রের স্ত্রী), ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া/ক্ষত্রিয়ানী ইত্যাদি।

আনী-প্রত্যয় যোগে কোনো কোনো সময় অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন-
অরণ্য-অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য), হিম- হিমানী (জমানো বরফ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬৪৬.
নিচের কোন শব্দ দ্বারা স্ত্রী ও পুরুষ দুটোই বোঝায়?
  1. কর্তা
  2. শিক্ষিত
  3. মহৎ
  4. ধাতা
ব্যাখ্যা
• কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন- জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------
• মহৎ - মহতী। 

যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
• কর্তা - কর্ত্রী,
• ধাতা - ধাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৬৪৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অরক্ষণীয়া
  2. ধাত্রী
  3. এয়ো
  4. দাই
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়: ধাত্রী।
- 'ধাতা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- ধাত্রী।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
সতীন, সৎমা, কুলটা, সধবা, এয়ো, দাই, অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪৮.
'বেদে' এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেদইনি
  2. বেদিনী
  3. বেদেনি
  4. বেদীনি
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:

- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৪৯.
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনগুলো?
  1. কূল, সমূহ, বৃন্দ
  2. পুঞ্জ, নিকর, আবলি
  3. বর্গ, রাজি, মালা
  4. গণ, নিচয়, সকল
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
৬৫০.
'বিদ্বান' এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিদ্বানী
  2. বিদুয়িণী
  3. বিদুষী
  4. বিদ্যানী
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- লিঙ্গ চার প্রকার।

যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৫১.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক রূপ নেই?
  1. ক) ননদ
  2. খ) বেয়াইন
  3. গ) ঠাকুরঝি
  4. ঘ) সতীন
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দঃ কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।
স্বামী ও পত্নীবাচক অর্থেঃ নন্দাই - ননদ
অনেক সময় আলাদা আলাদা শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়ঃ বেয়াই - বেয়াইন।
কতগুলো শব্দের শেষে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে শব্দ গঠন করা হয়ঃ ঠাকুরপো - ঠাকুরঝি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)।

৬৫২.
লিঙ্গান্তর হয়না কোন শব্দটির?
  1. ক) মন্ত্রী
  2. খ) শুক
  3. গ) বেয়াই
  4. ঘ) নর
ব্যাখ্যা
'মন্ত্রী' শব্দের লিঙ্গান্তর হয়না।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার, পুলিশ, সিপাহি ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন: সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, সত্মা, ত্রয়ো, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৫৩.
'ঘোষজায়া' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কন্যা অর্থে
  2. বৃহাদার্থে
  3. পত্নী অর্থে
  4. ক্ষুদ্র অর্থে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) পত্নী অর্থে।

ব্যাখ্যা:
‘ঘোষজায়া’ শব্দটি ‘ঘোষ’ বংশের বা ব্যক্তির পত্নীকে নির্দেশ করে, এবং ‘জায়া’ স্পষ্টভাবে ‘পত্নী’ বা ‘স্ত্রী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• ‘জায়া’ শব্দটি সংস্কৃত ও তৎসম শব্দ হিসেবে ‘পত্নী’ বা ‘স্ত্রী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘ঘোষজায়া’ মানে ‘ঘোষ বংশের স্ত্রী’ বা ‘ঘোষের পত্নী’।

তাই এটি পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৫৪.
কোনটি ক্লীবলিঙ্গ?
  1. প্রবীণ
  2. মানুষ
  3. ফুল
  4. কিশাের
ব্যাখ্যা

ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
- এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ, সুন্দর ইত্যাদি।

• স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

• উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিশু, মানুষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৫.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) চাতকী
  2. খ) কুলটা
  3. গ) সৎমা
  4. ঘ) অর্ধাঙ্গিনী
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
- যেমন - সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, অরক্ষণীয়া, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।  

• আবার কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে
- যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
চাতক শব্দের স্ত্রীবাচক হলো: চাতক - চাতকী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫৬.
'সৎ' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সাত্যকি
  2. সতী
  3. মহতী
  4. লিঙ্গান্তর হয়না
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
কর্তা – কর্ত্রী,
শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
সৎ - সতী,
মহৎ - মহতী ইত্যাদি।

• কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
রাজা - রানী,
নর - নারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৬৫৭.
নিচের কোনটির স্ত্রীবাচক শব্দ নেই?
  1. রজকী
  2. ক্ষত্রিয়
  3. মহৎ
  4. কৃতদার
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি,
- স্ত্রৈণ ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রজকী - রজকিনী,
- মহৎ - মহতী,
- ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়ানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৮.
'মানুষ মরণশীল' বাক্যে 'মানুষ' শব্দটি -
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ মরণশীল' বাক্যে 'মানুষ' শব্দটি - উভয়লিঙ্গ। 

উভয়লিঙ্গ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ। 
যেমন - মানুষ ,জন, সন্তান, পাখি, শিশু, মন্ত্রী, শিক্ষিত, কবি ইত্যাদি। 

• 'মানুষ' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়। তাই 'মানুষ' শব্দটি উভয়লিঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৫৯.
‘যোগী’ কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. উভয়লিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. পুংলিঙ্গ
  4. ক্লীবলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ‘যোগী’ পুংলিঙ্গ।
- এর স্ত্রীবাচক শব্দ - যোগিনী।

• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন-
‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;

‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।

‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৬০.
'গুণবান' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ কী হবে?
  1. গুণবতী
  2. গুণবতি
  3. গুণবতীকা
  4. গুণমতী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়াসী হয়।
যথা:
• সৎ - সতী।
• মহৎ - মহতী।
• গুণবান -গুণবতী।
• শ্রীমান - শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬১.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সতীন
  2. এয়ো
  3. শ্রীমতী
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- শ্রীমতি।
- মান এর যায়গায় মতি বসিয়ে প্রত্যয়যোগে পুরুষবাচক 'শ্রীমন' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ শ্রীমতী হয়েছে।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬২.
উভয়লিঙ্গ নয় কোনটি?
  1. কবি
  2. মন্ত্রী
  3. শিক্ষক
  4. শিক্ষিত
ব্যাখ্যা
• উভয়লিঙ্গ নয় - শিক্ষক। 

উভয়লিঙ্গ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ। 
যেমন - জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, মন্ত্রী, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬৩.
সাধারণ নারীবাচক শব্দ কয় ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক। 

পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন:
- পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন:
- খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬৬৪.
আ-প্রত্যয় যােগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. নবীনা
  2. বালিকা
  3. ক্ষত্রিয়া
  4. কোকিলা
ব্যাখ্যা
আ-যােগে:
 (ক) সাধারণ অর্থে :
মৃত-মৃতা,
বিবাহিত-বিবাহিতা,
মাননীয়-মাননীয়া,
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
প্রিয়-প্রিয়া,
প্রথম প্রথমা,
চতুর-চতুরা,
চপল-চপলা,
নবীন-নবীনা,
কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা,
মলিন-মলিনা ইত্যাদি।
 
(খ) জাতি বা শ্রেণিবাচক :
অজ-অজা,
কোকিল-কোকিলা,
শিষ্য-শিষ্যা,
ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়া,
শূদ্র-শূদ্রা ইত্যাদি।

ইকা - প্রত্যয়:
ক. যে সব শব্দের শেষে অক্ রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়।
যেমন-
বালক - বালিকা
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা

কিন্তু
নর্তক- নর্তকী
চাতক- চাতকী
রজক- রজকী

ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' যোগ হয়
যেমনঃ
- নাটক- নাটিকা
- মালিকা- মালিকা
- গীত - গীতিকা
- পুস্তক - পুস্তিকা
 (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়)

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
৬৬৫.
‘পুস্তিকা’ শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক?
  1. ক্ষুদ্রার্থে
  2. সমার্থে
  3. বিপরীতার্থে
  4. বৃহদার্থে
ব্যাখ্যা
- ‘নাটিকা’ শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ।  

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
- নাটক - নাটিকা,
- মালা - মালিকা,
- গীত - গীতিকা,
- পুস্তক - পুস্তিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬৬.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. ছেলে
  2. বর
  3. বাবা
  4. ভাই
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যথা-
• দেবর - ননদ (দেবরের বোন)/জা (দেবরের সত্রী),
• ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী ),
• শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) (পেশা অর্থে) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী),
• বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী),
• দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী)।

অন্যদিকে,
• অনেক সময় আলাদা আলাদা শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক বোঝায়।
যেমন: বাবা - মা, ভাই - বোন, কর্তা - গিন্নী, ছেলে - মেয়ে, সাহেব - বিবি, জামাই - মেয়ে, বর - কনে, দুলহা - দুলাইন/দুলহিন, বেয়াই - বেয়াইন, তাঐ - মাঐ, বাদশা - বেগম, শুক - সারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৬৬৭.
পুরুষবাচক রূপ নেই কোনটির?
  1. ক) সপত্নী
  2. খ) ননদ
  3. গ) বেয়াইন
  4. ঘ) ঠাকুরঝি
ব্যাখ্যা
• 'সপত্নী' - এর পুরুষবাচক রূপ নেই।
সপত্নী অর্থ - সতিন; এক স্বামীর দুই স্ত্রী পরস্পর সপত্নী।

• কতগুলো শব্দের শেষে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে শব্দ গঠন করা হয় : ঠাকুরপো - ঠাকুরঝি।
•  অনেক সময় আলাদা আলাদা শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়: বেয়াই - বেয়াইন। 
• স্বামী ও পত্নীবাচক অর্থে: নন্দাই - ননদ।
• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ: কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ও অভিগম্য অভিধান।
৬৬৮.
কোন শব্দটি দ্বারা স্ত্রী ও পুরুষ দুটোই বোঝায়?
  1. কর্তা
  2. শূদ্র
  3. পুস্তিকা
  4. গুরু
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• কতগুলো বাংলা শব্দ পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়:
যেমন-
- জন,
- পাখি,
- শিশু,
- সন্তান,
- শিক্ষিত,
- গুরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কর্তা- কর্ত্রী,
- শূদ্র - শূদ্রানী,
- পুস্তক - পুস্তিকা।

উভয়বাচক শব্দ:
- যে শব্দ দ্বারা পুরুষ বা স্ত্রী উভয়কে বা উভয় জাতিকে প্রকাশ করে তাকে উভয়বাচক শব্দ বলে।
যেমন - 'মানুষ'।
- 'জনতা' শব্দ দ্বারা স্ত্রী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝাতে পারে।
- জনতা স্ত্রীলোকও হতে পারেন আবার পুরুষলোকও হতে পারেন।
- তেমনই গুরুজন, সন্তান, শিশু, গোরু, হাতি, পাখি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৬৬৯.
পত্নীবাচক শব্দযুগল নয় কোনটি?
  1. পাগল-পাগলি
  2. পিতা-মাতা
  3. জেলে-জেলেনি
  4. দাদা-দাদি
ব্যাখ্যা
• পত্নীবাচক শব্দযুগল নয়- পাগল-পাগলি। 

--------------
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক: স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন- পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে
• অপত্নীবাচক: স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৭০.
'আমি' - কোন লিঙ্গবাচক শব্দ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. উভয় লিঙ্গ
  4. ক্লীব লিঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'আমি' - উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ।
-------------------- 
• উভয়লিঙ্গ: 
- যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ।
বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
-------------------------- 
• লিঙ্গ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 

লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি ।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।

৬৭১.
"নেতা" এর স্ত্রীলিঙ্গ কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ত্রি
  2. তৃ
  3. ত্রী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭২.
কোনটি ভিন্নার্থক প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. মালিকা
  2. নাটিকা
  3. গীতিকা
  4. সেবিকা
ব্যাখ্যা
⋅ ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
যথা- 
• নাটক - নাটিকা, 
• মালা - মালিকা, 
• গীত - গীতিকা,
• পুস্তক - পুস্তিকা।

অন্যদিকে,
• 'সেবিকা' শব্দটি স্ত্রীবাচক, যার পুরুষবাচক রূপ হলো 'সেবক'। এখানে 'ক্ষুদ্রার্থে' - 'ইকা' প্রত্যয়টি যুক্ত হয়নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭৩.
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অধ্যাপিকা
  2. পুস্তিকা
  3. মালিকা
  4. নাটিকা
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
- নাটক - নাটিকা;
- মালা - মালিকা; 
- গীত - গীতিকা;
- পুস্তক - পুস্তিকা। 
(এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)

অন্যদিকে,
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা; ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭৪.
'অরণ্য' শব্দের লিঙ্গান্তর কোনটি?
  1. অরণ্যানি
  2. অরণ্যানী
  3. অরণ্যনি
  4. অরন্যাণী
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্য' শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ — অরণ্যানি।

• অরণ্যানি (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অরণ্য+আন+ই।
অর্থ: বিশাল অরণ্য, মহাবন।



উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৭৫.
'মজুর' শব্দের সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?   
  1. মজুরানী 
  2. মজুরনী
  3. মজুরিনি 
  4. মজুরিণী
ব্যাখ্যা

• বাংলা  নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কামার-কামারনী, 
- জেলে-জেলেনী, 
- কুমার-কুমারনী, 
- ধোপা-ধোপানী, 
- মজুর-মজুরনী।

• বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয় : বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন : ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয় : কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয় : নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬৭৬.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বেঙ্গমী
  2. লক্ষী
  3. কলুনি
  4. বেদেনি
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
যেমন- এয়ো, ললনা, সতীন, সৎমা, সধবা, বিমাতা, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, লক্ষী, ডাইনি, গর্ভিণী ইত্যাদি। 

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকি, ঢুলি, রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক,  ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশনগুলোর পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
• বেঙ্গমা = বেঙ্গমী;
• কলু = কলুনি;
• বেদে = বেদেনি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৭৭.
পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. তেজস্বিনী
  2. ননদ 
  3. জেলেনি
  4. মাতা
ব্যাখ্যা

• পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- তেজস্বিনী। 

------------------
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের:
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৭৮.
নিচের কোনটি পুরুষবাচক শব্দ?
  1. ক) বেহান
  2. খ) ঠাকুরঝি
  3. গ) শঙ্খী
  4. ঘ) দীর্ঘঙ্গী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে শঙ্খী পুরুষবাচক শব্দ যার অর্থ বিষ্ণু।
শঙ্খীর স্ত্রীবাচক শব্দ শঙ্খীনি।
৬৭৯.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সপত্নী
  2. ঢাকী
  3. অভিসারিণী
  4. বেঙ্গমী
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
- কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বেঙ্গমা - বেঙ্গমী। 
অভিসারী - অভিসারিণী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬৮০.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়? 
  1. কবিরাজ
  2. কৃতদার
  3. অকৃতদার
  4. কুলটা
  5. ঢাকী 
ব্যাখ্যা

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৮১.
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে -
  1. ক) সুচরিতেষু
  2. খ) স্নেহাশিস
  3. গ) শ্রদ্ধাভাজনেষু
  4. ঘ) শ্রদ্ধাভাজনাসু
ব্যাখ্যা
• পত্রের শুরুতে নারীকে লিখিত কয়েকটি সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি।

• স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের সম্বোধন:
- সুচরিতেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, প্রীতিভাজন, স্নেহার্দ্র, স্নেহাশিস - ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮২.
"পয়স্বী" শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পস্বিনী
  2. পয়স্বনী
  3. পয়স্বিনি
  4. পয়স্বিনী
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
 
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৬৮৩.
নিচের কোনটি পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. আয়া
  2. ছাত্রী
  3. সৎমা
  4. দাদী
ব্যাখ্যা
•'দাদী'- পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।
এর পুরুষবাচক শব্দ- দাদা।
-------------- 
 সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক, 
- অপত্নীবাচক। 

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।  

অন্যদিকে,
• খানসামা এর স্ত্রীবাচক শব্দ-আয়া,
• ছাত্র- ছাত্রী- অপত্নীবাচক শব্দ।
• সৎমা- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
---------------- 
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি  করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন- 
- দেবর - ননদ/জা, 
- ভাই - বোন/ভাবী, 
- শিক্ষক - শিক্ষিকা/শিক্ষক পত্নী, 
- বন্ধু - বান্ধবী/বন্ধু পত্নী, 
- দাদা - দিদি/ বৌদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮৪.
'গরীয়ান' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ কী?
  1. গরীয়ানী
  2. গরীয়সী
  3. গরীয়া
  4. গরীয়াসীনি
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অত', 'বান', 'মান', 'ঈয়ান' থাকলে 'অতী', 'বতী', 'মতী', 'ঈয়সী' হয়:

যেমন:
→ সৎ-সতী, 
→ গুণবান-গুণবতী, 
→ শ্রীমান-শ্রীমতী, 
গরীয়ান-গরীয়সী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৮৫.
নিম্নের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বকনা
  2. আয়া
  3. বাদী
  4. অধীরা
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: কিছু কিছু স্ত্রীবাচক শব্দের পুরুষবাচক শব্দ নেই, তাদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ শব্দ বলে।
যেমন - সধবা, বধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, পেত্নী, ডাইনী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৬.
'কাঙাল' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কাঙালনী
  2. কাঙালিনি
  3. কাঙালইনী
  4. কাঙালনি 
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দ 'ইনী' প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যথা:
কাঙাল - কাঙালিনী/কাঙালিনি,
গোয়ালা - গোয়ালিনী,
বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৮৭.
কোন শব্দটির পুরুষবাচক রূপ নেই?
  1. ঠাকুরন
  2. ষোড়শী
  3. সতীন
  4. বামনী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- সতীন, সৎমা, কুলটা, সধবা, এয়ো, দাই, ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
অপশনের অন্য শব্দগুলোর পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ,
• ঠাকুর- ঠাকুরন;
• বামন- বামনী; 
• ষোড়শ- ষোড়শী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৮.
লিঙ্গান্তর হয়না কোন শব্দটির?
  1. ক) বেয়াই
  2. খ) সাহেব
  3. গ) বিধবা
  4. ঘ) সঙ্গী
ব্যাখ্যা
'বিধবা' শব্দের লিঙ্গান্তর হয়না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ : যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন— রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার, পুলিশ, সিপাহি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ : বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না। যেমন– সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, সত্মা, ত্রয়ো, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

এছাড়া,
বেয়াই - বেয়াইন,
সাহেব - সাহেবান,
সঙ্গী -সঙ্গিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৮৯.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. কুলটা
  2. অর্ধাঙ্গিনী
  3. সপত্নী
  4. কৃতদার
ব্যাখ্যা
সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
অপরদিকে, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯০.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ?
  1. ব্যাঙ্গমা
  2. ঢুলি
  3. কলু
  4. বেদে
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকি, ঢুলি, রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
যেমন- এয়ো, ললনা, সতীন, সৎমা, সধবা, বিমাতা, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, লক্ষী, ডাইনি, গর্ভিণী ইত্যাদি। 

অন্যান্য অপশনগুলোর পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
• ব্যাঙ্গমা = বেঙ্গমি; (ব্যাঙ্গমা অর্থ: রূপকথায় বর্ণিত পাখিবিশেষ যা মানুষের মতো কথা বলতে পারে।)
• কলু = কলুনি; ( কলু অর্থ: তৈল উৎপাদনকারী ব্যক্তি বা তৈলকার জাতিবিশেষ।)
• বেদে = বেদেনি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৯১.
নিচের কোন শব্দটির পুরুষবাচক শব্দ নেই?
  1. শুক
  2. সধবা
  3. কর্মী
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
 যেমন:
- সতীন, 
- সৎমা, 
- এয়ো, 
- দাই এবং
- সধবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
• কর্মী এটি পুরুষবাচক শব্দ; যার স্ত্রীবাচক শব্দ - মহিলা কর্মী।
• শুক এটি পুরুষবাচক শব্দ; যার স্ত্রীবাচক শব্দ - শারি।
• কর্তা এটি পুরুষবাচক শব্দ; যার স্ত্রীবাচক শব্দ - গিন্নী।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯২.
কোনটি বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সভানেত্রী
  2. সম্রাজ্ঞী
  3. পত্নী
  4. মালেকা
ব্যাখ্যা
• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম - মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকর,
কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী, রাজা - রানি, যুবক - যুবতী, শ্বশুর - শ্বশ্রু, নর - নারী, বন্ধু - বান্ধবী, দেবর - জা, শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী, স্বামী - স্ত্রী, পতি - পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৯৩.
কোনটির স্ত্রীবাচক শব্দ নেই?
  1. স্ত্রৈণ
  2. গয়লা
  3. সভ্য
  4. রজক
ব্যাখ্যা
• কতকগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায়।
যেমন:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- বিপত্নীক,
- স্ত্রৈণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কোনো কোনো শব্দের শেষে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে পুংলিঙ্গবাচক শব্দ স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে পরিবর্তন হয়।
যেমন: গয়লা > গয়লা বউ, বোন পো> বোন ঝি, ঠাকুর পো > ঠাকুর ঝি।

• রজকী-রজকিনী।

• কতকগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে মহিলা, নারী ইত্যাদি স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে শব্দের লিঙ্গান্তর হয়।
যেমন: কবি > মহিলা কবি, ডাক্তার> মহিলা ডাক্তার, সভ্য নারী সভ্য, সৈন্য > নারী সৈন্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৯৪.
'আনী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কামারনী
  2. নাপিতানী
  3. ধোপানী
  4. মজুরনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
• কামার - কামারনী,
• জেলে - জেলেনী,
• কুমার - কুমারনী,
• ধোপা - ধোপানী,
• মজুর - মজুরনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আনী-প্রত্যয়:
ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৯৫.
‘তারা’ শব্দটি কোন লিঙ্গ ?
  1. স্ত্রীলিঙ্গ
  2. পুংলিঙ্গ
  3. উভয়লিঙ্গ
  4. ক্লীব লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ: লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 

লিঙ্গ চার প্রকার। যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি ।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল ।

⇒ উভয়লিঙ্গ: যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ।
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।।
৬৯৬.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?    
  1. শূদ্রাণী
  2. দুঃখিনী
  3. বৈশ্যানী 
  4. ক্ষত্রিয়াণী 
ব্যাখ্যা

• 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো- দুঃখিনী।
- দুঃখিনী =  'দুঃখী' শব্দের সাথে 'ইনী' প্রত্যয় যোগে 'দুঃখিনী' গঠিত হয়েছে।

•'ইনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'ইনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• দুঃখী > দুঃখিনী, 
• শ্বেতাঙ্গ > শেতাঙ্গিনী। 
----------
অন্যদিকে,
- শূদ্রাণী- শূদ্র পুংলিঙ্গের স্ত্রীবাচক রূপ ('আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত)। 
- বৈশ্যানী- বৈশ্যা পুংলিঙ্গের স্ত্রীবাচক রূপ ('আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত)। 
- ক্ষত্রিয়াণী- ক্ষত্রিয় পুংলিঙ্গের স্ত্রীবাচক রূপ ('আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬৯৭.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. অঙ্গনা
  2. পুণ্যবতী
  3. তেজস্বিনী
  4. শারি
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন- সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

•  নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন— রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার, পুলিশ, সিপাহি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-  শুক শব্দের নারীবাচক শব্দ শারি।
- ‘বতী’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ পুণ্যবান- পুণ্যবতী।
- ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ তেজস্বি - তেজস্বিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৯৮.
'কুলি' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কুলিন
  2. কামিন
  3. কুলীনি
  4. কুলিনী
ব্যাখ্যা

• 'কুলি' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ — 'কামিন'। যার অর্থ: নারী শ্রমিক।

• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়।
যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
দেবর - ননদ/জা,
শূক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৯৯.
কোন শব্দের পুরুষবাচক শব্দ নেই?
  1. গুরুজন
  2. অরক্ষণীয়া
  3. পুণ্যবতী
  4. অভাগিনী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন- সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।
 
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার, পুলিশ, সিপাহি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- ‘গুরুজন’ উভয়লিঙ্গের উদাহরণ।
- ‘বতী’ প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ পুণ্যবান- পুণ্যবতী।
- অভাগা - অভাগিনী।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭০০.
'শূদ্র' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. শূদ্রানি
  2. শূদ্রীনি
  3. শূদ্রি
  4. শূদ্রানী
ব্যাখ্যা
লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

• শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়:
যেমন:
• মেথর - মেথরানি,
• নাপিত - নাপিতানি,
• হিম - হিমানী,
• শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।