বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ

মোট প্রশ্ন৭১০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৭১০

৪০১.
লিঙ্গ কত প্রকার?
  1. চার
  2. দুই
  3. তিন
  4. পাঁচ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪০২.
জাতিবাচক অর্থে 'ঈ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) রজকী
  2. খ) নিশাচরী
  3. গ) কুমারী
  4. ঘ) সুন্দরী
ব্যাখ্যা
ঈ - প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: 
১. সাধারণ অর্থে:-
- নিশাচর - নিশাচরী,
- ভয়ংকর - ভয়ংকরী,
- রজক - রজকী, 
- সুন্দর - সুন্দরী, 
- কিশোর - কিশোরী ইত্যাদি।

২. জাতিবাচক অর্থে:-
- সিংহ - সিংহী,
- ব্রাহ্মণ - ব্রাহ্মণী,
- মানব - মানবী,
- কুমার - কুমারী, 
- বৈষ্ণব - বৈষ্ণবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৩.
কোনটি আ- প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সেবিকা
  2. গায়িকা
  3. প্রথমা
  4. অধ্যাপিকা
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• আ-  প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মৃত-মৃতা,
-বিবাহিত-বিবাহিতা,
- মাননীয়-মাননীয়া,
- বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
- প্রিয়-প্রিয়া,
- প্রথম-প্রথমা,
- চতুর-চতুরা,
- চপল-চপলা,
- নবীন-নবীনা,
- কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা,
- মলিন-মলিনা ইত্যাদি।

• ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
বালক- বালিকা,
নায়ক- নায়িকা,
গায়ক- গায়িকা,
সেবক-সেবিকা,
অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪০৪.
ই প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ-
  1. জেলেনি
  2. ধোপানি
  3. বাঘিনি
  4. পাগলি
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় যোগে নরবাচক শব্দ থেকে নারীবাচক শব্দগঠন-
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।

এরূপ-
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪০৫.
কোনটি নিত্য স্ত্রী লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. বর্ষিয়সী
  2. গর্ভবতী
  3. শূদ্রাণী
  4. কল্যাণীয়া
ব্যাখ্যা
নিত্য পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ: 
কোনো কোনো জীবিকার ক্ষেত্রে যেগুলি নিছক পুরুষদের সেগুলির নাম-শব্দটি নিত্য পুংলিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়, যেমন: পুরোহিত, মোল্লা, জল্লাদ, গুণ্ডা, লম্পট, সন্তান ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ: বারননিতা(অন্যান্য প্রতিশব্দ), অসতী, কুলটা, গর্ভবতী, রজঃস্বলা।
 অন্যদিকে - বর্ষীয়ান-বর্ষিয়সী
                    শূদ্র - শূদ্রাণী
                   কিল্যাণীয় - কল্যাণীয়া 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৪০৬.
কোন পুরুষবাচক - নারীবাচক শব্দজোড় অশুদ্ধ?
  1. ক) কোকিল - কোকিলা
  2. খ) অসীম - অসীমা
  3. গ) ভাই - বোনাই
  4. ঘ) শারদীয় - শারদীয়া
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ পুরুষবাচক - নারীবাচক শব্দজোড় হচ্ছে: ভাই - বোনাই

শুদ্ধ পুরুষবাচক - নারীবাচক শব্দজোড় হলো:
কোকিল - কোকিলা
অসীম - অসীমা
শারদীয় - শারদীয়া
ভাই - বোন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৭.
কোনটি শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বিজয়
  2. বিজয়ানী
  3. বিজয়ী
  4. বিজয়িনী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।

যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৪০৮.
আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. বেঙ্গমী
  2. ক্ষত্রিয়ানী
  3. বালিকা
  4. যোগিনী
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।
 
• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো
- ভাগনে-ভাগনী,
- বেঙ্গমা-বেঙ্গমী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী।

অন্যদিকে:
- সাধারণ স্ত্রীবাচক শব্দ, বালক-বালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৯.
নিচের কোনটি পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সৎমা
  2. ছাত্রী
  3. আয়া
  4. গুরুপত্নী
ব্যাখ্যা
•'গুরুপত্নী'- পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।
এর পুরুষবাচক শব্দ- গুরু।
-------------- 
 সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক, 
- অপত্নীবাচক। 

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।  

অন্যদিকে,
• খানসামা এর স্ত্রীবাচক শব্দ-আয়া,
• ছাত্র- ছাত্রী- অপত্নীবাচক শব্দ।
• সৎমা- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১০.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. অরক্ষণীয়া
  2. শূদ্র
  3. শিষ্য
  4. অভিসারী
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- অভিসারী-অভিসারিণী,
- শিষ্য-শিষ্যা,
- শূদ্র-শূদ্রা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১১.
কোনটি ক্ষুদ্রার্থে ইকা- প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বালিকা
  2. নায়িকা
  3. নাটিকা
  4. গায়িকা
ব্যাখ্যা
• ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অক্' রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ রপান্তর করতে হয়।
যেমন:
বালক-বালিকা,
নায়ক-নায়িকা,
গায়ক-গায়িকা,
সেবক-সেবিকা,
অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি। 

• ক্ষুদ্রার্থে ইকা যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
যেমন:
নাটক-নাটিকা,
মালা-মালিকা,
গীত-গীতিকা,
পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৪১২.
'গণক' শব্দের স্ত্রী লিজ্ঞ হলো-
  1. ক) গণকীনি
  2. খ) গণকা
  3. গ) গণকী
  4. ঘ) মহিলা গণক
ব্যাখ্যা
-  প্রশ্নে প্রদত্ত 'গণক' এর স্ত্রী লিজ্ঞ হলো গণকী
- এটি ইকা-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রী লিজ্ঞ

ইকা-প্রত্যয় যোগে

(ক) যেসব শব্দের শেষে ‘অক্’ রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়।
যেমন: বালক-বালিকা, নায়ক- নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, সেবক-সেবিকা, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি।
কিন্তু গণক গণকী, নর্তক-নর্তকী, চাতক-চাতকী, রজক-রজকী (বাংলায়) রজকিনী।

(খ) ক্ষুদ্রার্থে ইকা যোগ হয়। যেমন : নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা, গীত-গীতিকা, পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।) 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৩.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কর্তা
  2. চৌকিদার
  3. তেজস্বী
  4. সভাপতি
  5. ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

----------------------
অন্যদিকে,
• কর্তা - গিন্নী।
• সভাপতি - সভানেত্রী।
• ঠাকুর - ঠাকুরাইন।
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৪.
“মজুর” শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মজুরী
  2. খ) মজুরিনী
  3. গ) মজুরনী
  4. ঘ) মজুরানী
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নী-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দঃ
- মজুর - মজুরনী,
- কামার - কামারনী,
- জেলে - জেলেনী,
- কুমার - কুমারনী,
- ধোপা - ধোপানী।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৫.
'মজুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মজুরিনী
  2. মজুরী
  3. মজুরানী
  4. মজুরনী
ব্যাখ্যা
• নী-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মজুর - মজুরনী,
- কামার - কামারনী,
- জেলে - জেলেনী,
- কুমার - কুমারনী,
- ধোপা - ধোপানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৬.
‘-অক’ প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে ‘-অক’ এর জায়গায় কী হয়?
  1. –আকা
  2. – ওকা
  3. – ইকা
  4. – একা
ব্যাখ্যা
• '-অক’ প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে ‘অক’-এর জায়গায় ‘-ইকা’ হয়।
যেমন:
- পাঠক-পাঠিকা,
- লেখক-লেখিকা,
- গায়ক-গায়িকা।

নরবাচক শব্দ থেকে নারীবাচক শব্দগঠন:
-আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
-ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
-ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
-ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
-ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
-নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
-বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
-মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্ৰীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১৭.
"গুণবান" - এর স্ত্রীলিঙ্গ কী?
  1. গুণীয়সী
  2. গুণবতী
  3. গুণমতী
  4. গুণবন্ত
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

লিঙ্গ:

- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৮.
কোনটি ভিন্নার্থক স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) নাটিকা
  2. খ) পুস্তিকা
  3. গ) বনানী
  4. ঘ) কাঠি
ব্যাখ্যা
আনী প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ 
বন = বনানী।

ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
নাটক - নাটিকা, 
মালা - মালিকা, 
গীত - গীতিকা, 
পুস্তক - পুস্তিকা।

অন্যদিকে,
- ক্লীব লিঙ্গ: যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ কিছুই বোঝায় না । যেমন - কলম , চেয়ার , হাত , গাছ ইত্যাদি।
সে হিসেবে কাঠি ক্লীব লিঙ্গ।

অতএব, আনী প্রত্যয়যোগে ভিন্নার্থক স্ত্রীবাচক শব্দ হলো ‘বনানী’

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৯.
'শ্রোতা' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রোতী
  2. শ্রুত্রী
  3. শ্রোত্রীকা
  4. শ্রোত্রী
ব্যাখ্যা
পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' থাকলে 'ত্রী' হয়:
যেমন:
→ নেতা-নেত্রী, 
→ কর্তা-কর্ত্রী, 
→ শ্রোতা-শ্রোত্রী, 
→ ধাতা-ধাত্রী ইত্যাদি।

লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪২০.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) অরক্ষণীয়া
  2. খ) কুলটা
  3. গ) অর্ধাঙ্গিনী
  4. ঘ) কনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
'কনিষ্ঠ' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ = 'কনিষ্ঠা' 

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২১.
কোনটি 'ইনী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কামারনী
  2. নাপিতানী
  3. ধোপানী
  4. গোয়ালিনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয়:
কামার - কামারনী
জেলে - জেলেনী
কুমার কুমারনী
ধোপা- ধোপানী
মজুর - মজুরনী ইত্যাদি

আনী- প্রত্যয়:
ঠাকুর - ঠাকুরানী
নাপিত- নাপিতানী
মেথর- মেথরানী
চাকর- চাকরানী ইত্যাদি

ইনী- প্রত্যয়:
কাঙাল- কাঙালিনী
গোয়ালা - গোয়ালিনী
বাঘ - বাঘিনী

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
৪২২.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. বিধবা
  2. সধবা
  3. এয়ো
  4. জেনানা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- জেনানা।

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ- জেনানা।
মরদ - জেনানা।

---------------------
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪২৩.
'সধবা'- কোন ধরনের শব্দ?
  1. পুরুষবাচক শব্দ
  2. নিত্য পুরুষবাচক শব্দ
  3. নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
  4. স্ত্রীবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন,
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।

• 'সধবা' শব্দের অর্থ:
- যে নারীর স্বামীর জীবিত আছে।

অন্যদিকে,
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন,
- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪২৪.
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কর্তা-কর্ত্রী,
  2. গুণবান-গুণবতী
  3. ধাতা-ধাত্রী
  4. কুহক - কুহকিনী
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় - কুহক - কুহকিনী।
- এটি ইনী প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৫.
'তুমি' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. উভয় লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. স্ত্রী লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• তুমি- উভয়লিঙ্গ।
-------------------- 
• উভয়লিঙ্গ: 
- যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ।
- বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না।
- আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
-------------------------- 
• লিঙ্গ:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 

লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি ।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।।
৪২৬.
'মায়াবী' কী ধরনের শব্দ?
  1. স্ত্রীবাচক
  2. পুরুষবাচক
  3. উভয়লিঙ্গ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তৎসম পুরুষবাচক শব্দের পরে আ, ঈ, আনী, নী, ইকা প্রভৃতি প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।

• 'ঈনী, নী' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী,
- মেধাবী - মেধাবিনী,
- দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪২৭.
‘যোগিনী’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত হয়েছে?
  1. ঈনী
  2. নী
  3. ইনী
  4. নীন
ব্যাখ্যা
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন:
⇒ ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

⇒ ‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

⇒ ‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

⇒ ‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;
• জেঠা - জেঠি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪২৮.
নিচের কোনটি বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. গরিয়সী
  2. সুলতানা
  3. জা
  4. ধাত্রী
ব্যাখ্যা
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম- মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা

অন্যদিকে,
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৯.
নিচের কোনটি 'ঈ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হয়েছে?
  1. সুন্দরী
  2. যোগিনী
  3. শ্রীমতি
  4. তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা
'সুন্দরী' শব্দটি 'ঈ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হয়েছে।

- 'ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : কিশোর - কিশোরী, নর - নারী, সুন্দর - সুন্দরী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: বিজয়ী - বিজয়িনী, যোগী - যোগিনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী ইত্যাদি।
- 'মতী'প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪৩০.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক শব্দ আছে?
  1. সধবা
  2. দাই
  3. মৎসী
  4. এয়ো
ব্যাখ্যা
• 'মৎস্য' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - মৎসী।

তাছাড়া, 
উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষ বাচক শব্দ নেই।
 যেমন:
- সতীন,
- সৎমা,
- এয়ো,
- দাই এবং
- সধবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩১.
'গরীয়ান' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরিয়সিনী
  2. গরিয়ানী
  3. গরিয়াসী
  4. গরীয়সী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু স্ত্রীবাচক শব্দ:
• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
নেতা - নেত্রী, কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী, ধাতা - ধাত্রী।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যেমন:
সৎ - সতী, মহৎ - মহতী, গুণবান - গুণবতী, রূপবান - রূপবতী, শ্রীমান - শ্রীমতী, বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, গরীয়ান - গরীয়সী।

• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী, রাজা - রানি, যুবক - যুবতী, শ্বশুর - শ্বশ্রু, নর - নারী, বন্ধু - বান্ধবী, দেবর - জা, শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী, স্বামী - স্ত্রী , পতি - পত্নী, সভাপতি - সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৩২.
'ইন্দ্রানী' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. নী
  2. আনী
  3. ঈনী
  4. অনী
ব্যাখ্যা
• আনী-যোগ করে লিঙ্গান্তরিত কিছু শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- আচার্য - আচার্যানী (কিন্তু আচার্যের কর্মে নিয়োজিত অর্থে আচার্য)।

এরূপ: শূদ্র - শূদ্রা (শূদ্র জাতীয় স্ত্রীলোক), শূদ্রানী (শূদ্রের স্ত্রী), ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া/ক্ষত্রিয়ানী ইত্যাদি।

• আনী-প্রত্যয় যোগে কোনো কোনো সময় অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন-
- অরণ্য - অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য),
- হিম - হিমানী (জমানো বরফ)।

অন্যদিকে, 
• ঈনী, নী, যোগে: মায়াবী - মায়াবিনী, কুহক - কুহকিনী, যোগী - যোগিনী, মেধাবী - মেধাবিনী, দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪৩৩.
'মজুর' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মজুরানী
  2. মজুরনি
  3. মজুরাইন
  4. মজুরনী
ব্যাখ্যা

• বাংলা  নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কামার-কামারনী,
- জেলে-জেলেনী,
- কুমার-কুমারনী,
- ধোপা-ধোপানী,
- মজুর-মজুরনী। 

-------------------
বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয় : বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন : ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয় : কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয় : নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৩৪.
"কামারনী" কী প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ই-প্রত্যয়
  2. আনী-প্রত্যয়
  3. ঈ-প্রত্যয়
  4. নী-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-নি,-নী' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ কামার-কামারনী,
→ কুমার-কুমারনী,
→ জেলে-জেলেনি,
→ ধোপা-ধোপানি ইত্যাদি।

লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৩৫.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কৃতদার
  2. বামন
  3. মজুর
  4. বেঙ্গমা
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বামন - বামনী,
- মজুর - মজুরনী,
- বেঙ্গমা - বেঙ্গমী। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৩৬.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. শ্বশ্রূ
  2. শাাঁখিনী
  3. ধাত্রী
  4. রাজ্ঞী
ব্যাখ্যা

⇒ কতগুলো শব্দের পুরুষবাচক হয় না। এদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলা হয়।
• নিত্য স্ত্রী-বাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
সতিন, ডাইনি, বাইজি, শাঁখচুন্নি, শাঁখিনী, সত্মা, এয়ো, দাই, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, কলঙ্কিনী, অন্তঃসত্ত্বা, সপত্নী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সধবা, রূপসী, সজনী, ধনি ইত্যাদি ।

⇒ কতগুলো শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না। এদের নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
• নিত্য পুরুষবাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
কবিরাজ, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, কৃতদার, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শ্বশুর - শ্বশ্রূ (শাশুড়ি);
ধাতা - ধাত্রী;
রাজা - রাজ্ঞী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩৭.
নিচের কোনটি পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. জেলেনি
  2. সতীন
  3. তেজস্বিনী
  4. বিধবা
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের:
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক।

পত্নীবাচক:
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
​যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

অপত্নীবাচক:
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন:
খোকা - খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব - তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সতীন, বিধবা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪৩৮.
'এয়ো' কোন ধরনের শব্দ?
  1. নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
  2. সাধারণ স্ত্রীবাচক শব্দ
  3. নিত্য পুরুষবাচক শব্দ
  4. পুরুষবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।

'এয়ো' শব্দের অর্থ-
সধবা নারী, স্বামী জীবিত আছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৩৯.
'বেঙ্গমা' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেঙ্গমী
  2. বেঙ্গমানী
  3. বেঙামি
  4. বেঙ্গী
ব্যাখ্যা
'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো
- ভাগনে-ভাগনী,
- বেঙ্গমা-বেঙ্গমী ইত্যাদি।

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪০.
নাটক থেকে নাটিকা কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. পুরুষবাচক অর্থে
  2. স্ত্রীবাচক অর্থে
  3. বৃহদার্থে
  4. ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে শব্দ: 
যেমন: 
- নাটক- নাটিকা, 
- মালিক- মালিকা, 
- গীত - গীতিকা, 
- পুস্তক - পুস্তিকা, 
 (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়)। 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪৪১.
’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রদ্ধেয়া
  2. শিক্ষিকা
  3. গায়িকা
  4. বাহিকা
ব্যাখ্যা

- ’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ- শ্রদ্ধেয়া। 
----------------------------- 
• লিঙ্গ পরিবর্তন:
- তৎসম পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'আ' সংস্কৃত নারীবাচক প্রত্যয়যোগে শব্দটি নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করা হয়।
- যেমন- শ্রদ্ধেয় - শ্রদ্ধেয়া; 
- শ্রদ্ধেয় শব্দের শেষে 'আ' প্রত্যয়যোগে শ্রদ্ধেয়া শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

• ’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত কিছু  স্ত্রীবাচক শব্দ:

• পুরুষবাচক – স্ত্রীবাচক:
- কল্যাণীয় - কল্যাণীয়া; 
- পূজনীয় – পূজনীয়া; 
- মাননীয় - মাননীয়া; 
- বয়স্ক - বয়স্কা; 
- চপল – চপলা;
- অগ্রজ – অগ্রজা;
- বৃদ্ধ – বৃদ্ধা;
- অনাথ – অনাথা;
- মহাশয় – মহাশয়া;
- কুটিল – কুটিলা;
- শিষ্য – শিষ্যা;
- মনোহর – মনোহরা;
- মূর্খ – মূর্খা;
- কৃপণ – কৃপণা;
- জীবিত – জীবিতা;
- কোকিল – কোকিলা;
- প্রিয় – প্রিয়া;
- সুনয়ন – সুনয়না;
- জটিল – জটিলা;
- প্রবীণ  – প্রবীণা;
- সেবক  –  সেবিকা;
- সুনীল – সুনীলা, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক' বা 'অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়, যেমন:
- বাহক - বাহিকা;
- গায়ক - গায়িকা;
- শিক্ষক - শিক্ষিকা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৪২.
'ঢাকী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঢাকিনী
  2. ঢাকীণী
  3. ঢাকিণী
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকী' নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কতগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায়।
যেমন-
- কবিরাজ,
- ঢাকী,
- কৃতদার,
- অকৃতদার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৪৩.
নিত্য নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গুরুপত্নী
  2. এয়ো
  3. পাগলি 
  4. জেলেনি
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নরবাচক ও নিত্য নারীবাচক।
- কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক, এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
- যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।

এছাড়াও,
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।
 - স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
 যেমন – পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪৪.
'দৌবারিক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দারী
  2. দ্বারী
  3. দৌবারিকী
  4. দৌবারীকি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'দৌবারিক' শব্দের অর্থ: 
- দ্বাররক্ষক,
- দ্বারী।

• 'দৌবারিক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ:
- দৌবারিকী। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪৫.
কোনটি পুংলিঙ্গ?
  1. বিদুষী
  2. সন্তান
  3. শিশু
  4. সুন্দর
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে ।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন : বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন : মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন : মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি ৷ 
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন : বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- অষ্টম শ্রেণি।
৪৪৬.
বচন ও লিঙ্গ ব্যাকরণের কোন অংশের আলােচ্য বিষয়?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বঃ ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলোঃ
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস,
- কারক।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪৭.
ভিন্ন শব্দযোগে পুরুষবাচক শব্দ স্ত্রীবাচক শব্দে পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. সৈন্য > নারী সৈন্য
  2. ঠাকুরপো > ঠাকুরঝি
  3. গয়লা > গয়লা বউ
  4. বর > কনে
ব্যাখ্যা
• কখনো কখনো ভিন্ন শব্দযোগেও পুংলিঙ্গ শব্দ স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- বাবা > মা,
- ছেলে > মেয়ে,
- পুরুষ > নারী,
- কর্তা > গিন্নি,
- পুত্র > কন্যা,
- বর > কনে।

অন্যদিকে,
• কতকগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে মহিলা, নারী ইত্যাদি স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে শব্দের লিঙ্গান্তর হয়।
যেমন:
- কবি > মহিলা কবি, ডাক্তার > মহিলা ডাক্তার, সভ্য > নারী সভ্য, সৈন্য > নারী সৈন্য।

কোনো কোনো শব্দের শেষে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে পুংলিঙ্গবাচক শব্দ স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে পরিবর্তন হয়।
যেমন: গয়লা > গয়লা বউ, বোন পো > বোন ঝি, ঠাকুরপো > ঠাকুর ঝি

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৪৮.
সাধারণত কোন কোন পদের ক্ষেত্রে 'লিঙ্গ' হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ ও অব্যয়
  3. গ) অব্যয় ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
‘লিঙ্গ' শব্দের অর্থ চিহ্ন। - এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণিবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে— যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য - ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায় তাকে লিঙ্গ বলে ।
এছাড়াও-
 
- সব ভাষায় লিঙ্গভেদে শব্দভেদ আছে, বাংলা ভাষায়ও আছে।
- ব্যাকরণে সাধারণত 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' পদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে থাকে।
• তবে তৎসম পুরুষবাচক বিশেষ্যের সাথে পুরুষবাচক বিশেষণ পদ ব্যবহৃত হয়ে থাকে আবার,
- স্ত্রীবাচক বিশেষ্যের সাথে স্ত্রীবাচক বিশেষণ পদ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন- বিদ্বান — বিদুষী।
• কিন্তু বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের এই নিয়ম মানা হয় না।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ) ।
৪৪৯.
নারীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. দীর্ঘাঙ্গী
  2. মহতী
  3. মানসী
  4. যশস্বী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে ইনী প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
 যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- মহৎ - মহতী,
- দীর্ঘাঙ্গ - দীর্ঘাঙ্গী,
- মানস - মানসী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -৩৫।
৩) বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান। 
৪৫০.
'রজক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. রজকী
  2. রজকিনী
  3. রজকনী
  4. রজকাইন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'রজক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ- রজকিনি। 

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই অনুসারে, 
• 'রজক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ- রজকী। 

---------------------------
ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ-
• সাধারণ অর্থে:
 নিশাচর-নিশাচরী, ভয়ংকর-ভয়ংকরী, রজক-রজকী, কিশোর-কিশোরী, সুন্দর-সুন্দরী, চতুর্দশ-চতুর্দশী, ষোড়শ-ষোড়শী ইত্যাদি।

• জাতি বা শ্রেণিবাচক:
সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৫১.
নিচের কোনটি নিত্য নরবাচক শব্দ?
  1. খোকা
  2. ধোপা
  3. কৃতদার
  4. নেতা
ব্যাখ্যা
• যে-সব শব্দের নর বা নারীবাচক শব্দ নেই সেগুলো নিত্য নরবাচক ও নিত্য নারীবাচক।
- নিত্য নরবাচকের উদাহরণ: কৃতদার, অকৃতদার।
- নিত্য নারীবাচকের উদাহরণ: সতীন, বিধবা।

অন্যদিকে,
খোকা - খুকি;
ধোপা - ধোপানি;
নেতা - নেত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪৫২.
'বিদ্বান' - এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বিদূষিণী
  2. বিদ্বানী
  3. বিদুষী
  4. বিদূষী
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্বান' এর সঠিক স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - ‘বিদুষী’।

• অন্য অপশনের শব্দগুলোর বানান ভুল রয়েছে।

• তৎসম পুরুষবাচক শব্দের পরে আ, ঈ, আনী, নী, ইকা প্রভৃতি প্রত্যযোগে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। 
যেমন,
বিবাহিত- বিবাহিতা,
মাননীয়- মাননীয়া,
বৃদ্ধ- বৃদ্ধা,
প্রথম- প্রথমা,
কনিষ্ঠ- কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৩.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুকেশ
  2. বিদ্বান
  3. যোদ্ধা
  4. কাঙাল
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচককের উদাহরণ: 
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কবিরাজ, যোদ্ধা, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানী।

• নিত্য স্ত্রীবাচকের উদাহরণ:
সতীন, সপত্নী, সধবা, সত্মা, ডাইনি, অর্ধাঙ্গিনী, বাইজী, কুলটা, এয়ো, দাই ইত্যাদি।

অন্য অপশনের পুরুষ-স্ত্রীবাচক শব্দ- 
- সুকেশ - সুকেশা;
- বিদ্বান- বিদুষী;
- কাঙাল - কাঙালিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪৫৪.
'হিম - হিমানী' স্ত্রীবাচক শব্দ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. বৃহৎ
  3. কঠিন
  4. জমানো
ব্যাখ্যা

আনী প্রত্যয় যোগে কখনো কখনো পুরুষবাচক থেকে স্ত্রীবাচকে রূপান্তর করলে অর্থের পার্থক্য ঘটে।
যেমন :
- অরণ্য - অরণ্যানী (বৃহৎ অর্থে)
- হিম- হিমানী (জমানো অর্থে)

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (২০১৯)

৪৫৫.
'ব্যাঙ্গমা' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেঙ্গামি 
  2. বেঙ্গমি 
  3. বেঙ্গইন 
  4. ব্যাঙ্গমি
ব্যাখ্যা


• 'ব্যাঙ্গমা' অর্থ- রূপকথায় বর্ণিত পাখিবিশেষ যা মানুষের মতো কথা বলতে পারে। 
স্ত্রীবাচক শব্দ- ব্যাঙ্গমি।

ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ: 
• ব্যাঙ্গমা - ব্যাঙ্গমি, 
• ভাগনা/ভাগনে - ভাগনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৫৬.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কাঙালিনী
  2. সপত্নী
  3. ঢাকী
  4. গৃহী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - সপত্নী।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:

- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।

যেমন:
- এয়ো,
- সতীন,
- সৎমা,
- সধবা,
- কুলটা,
- বিধবা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কাঙাল-কাঙালিনী।
- নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - ঢাকী।
- গৃহী - গৃহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৭.
'মালিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ভিন্নার্থে
  2. ক্ষুদ্রার্থে
  3. সমার্থে
  4. বৃহদার্থে
ব্যাখ্যা
• 'মালিকা' শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ।

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- নাটক - নাটিকা,
- মালা - মালিকা,
- গীত - গীতিকা,
- পুস্তক - পুস্তিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৫৮.
নিত্য নারীবাচক শব্দের উদাহরণ-
  1. সতীন
  2. ভাইঝি
  3. যোগিনী
  4. বেগম
ব্যাখ্যা

• নিত্য নারীবাচকের উদাহরণ: 
- সতীন, বিধবা।

অন্যদিকে,
- যোগী - যোগিনী, 
- ভাইপো - ভাইঝি।
- বাদশা - বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

৪৫৯.
ক্ষুদ্রার্থে ’ইকা’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বালিকা
  2. নায়িকা
  3. নাটিকা
  4. অধ্যাপিকা
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্রার্থে ইকা প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
যেমন
নাটক - নাটিকা,
মালা - মালিকা,
গীত - গীতিকা,
পুস্তক - পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো সত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)

• যেসব শব্দের শেষে 'অক্' রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়।
যেমন:
বালক - বালিকা,
নায়ক - নায়িকা,
সেবক - সেবিকা,
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি. ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪৬০.
‘বিদ্বান’ কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. উভয়লিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. ক্লীবলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৬১.
উভয় লিঙ্গবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ছেলে
  2. মেয়ে
  3. মানুষ
  4. বিদুষী
ব্যাখ্যা
• পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ।
যেমন:
বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।

• স্ত্রীলিঙ্গ বাসীবাচক শব্দ।
যেমন:
মা, মেয়ে,বিদুষী, সুন্দরী।

• উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ।
যেমন:
মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।

• ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ।
যেমন:
বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- অষ্টম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪৬২.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কবিরাজ
  2. অকৃতদার
  3. ঢাকী
  4. অধ্যাপক
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়- অধ্যাপক।
- অধ্যাপক - অধ্যাপিকা।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:

কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৩.
'গুলবদন' এর স্ত্রীবাচক রূপ কোনটি?
  1. গুলবদনী
  2. গুলবানু
  3. গুলমোহর
  4. গুলবদনি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গুলবদন' অর্থ- কোমল অঙ্গবিশিষ্ট।
- এর স্ত্রীবাচক শব্দ - গুলবদনি।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬৪.
'সাথী' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে, 
উভয়লিঙ্গের উদাহরণ-  শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি ইত্যাদি। 
'সাথী' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তাই 'সাথী' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৫.
কোনটি পুরুষ ও স্ত্রীবাচক উভয়ই বোঝায়?
  1. পাখি
  2. বাঘ
  3. মোরগ
  4. মরদ
ব্যাখ্যা
• পাখি -পুরুষ ও স্ত্রীবাচক উভয়ই বোঝায়।

• কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন-
- জন,
- পাখি,
- শিশু,
- সন্তান,
- শিক্ষিত,
- গুরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বাঘ - বাঘিনী;
- মোরগ - মুরগী;
- মরদ - জেনানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৬৬.
কোন শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. মালী
  2. নেতা
  3. পতি
  4. কৃতদার
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:  
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে
যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন - সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, ইত্যাদি।  

অন্যান্য অপশন গুলো:
‘পতি’ এর স্ত্রীবাচক শব্দ - পত্নী।
‘নেতা’ এর স্ত্রীবাচক শব্দ - নেত্রী।
‘মালী’ এর স্ত্রীবাচক শব্দ -  মালিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৭.
"হিম" শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. হিমিনী
  2. হিমানী
  3. হিমাদ্রি
  4. হিমী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক করা হয়:
যেমন:
→ ঠাকুর-ঠাকুরানি,
→ নাপিত-নাপিতানি,
→ অরণ্য-অরণ্যানী,
→ হিম-হিমানী,
→ ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
→ শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৬৮.
কোনটি আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বাঘিনী
  2. গোয়ালিনী
  3. কাঙালিনী
  4. মেথরানী
ব্যাখ্যা

আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
চাকর - চাকরানী,
মেথর - মেথরানী

• কিছু শব্দ 'ইনী' প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যথা:
কাঙাল - কাঙালিনী,
গোয়ালা - গোয়ালিনী,
বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬৯.
"ঈ-প্রত্যয়" -যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কিশোরী
  2. নারী
  3. সুন্দরী
  4. বুদ্ধিমতী
ব্যাখ্যা

• 'মতী প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
শ্রীমান - শ্রীমতী।

• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিশোর - কিশোরী,
নর - নারী,
সুন্দর - সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সালের সংস্করণ)।

৪৭০.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. রানি
  2. শ্রীমতী
  3. কুহকিনী
  4. মালেকা
ব্যাখ্যা
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
• খান - খানম,
• মরদ - জেনানা,
• মালেক - মালেকা,
• মুহতারিম - মুহতারিমা,
• সুলতান - সুলতানা।

অন্যদিকে, 
• ঈনী, নী, যোগে: মায়াবী - মায়াবিনী, কুহক - কুহকিনী, যোগী - যোগিনী, মেধাবী - মেধাবিনী, দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যথা: সৎ - সতী, মহৎ - মহতী, গুণবান - গুণবতী, রূপবান - রূপবতী, শ্রীমান - শ্রীমতী, বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, গরীয়ান - গরিয়সী।

• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সম্রাট - সম্রাজ্ঞী, রাজা - রানি, যুবক - যুবতী, শ্বশুর - শ্বশ্রু, নর - নারী, বন্ধু - বান্ধবী, দেবর - জা, শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী, স্বামী - স্ত্রী, পতি - পত্নী, সভাপতি - সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৭১.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. এয়ো
  2. তেজস্বিনী
  3. দাই
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়: তেজস্বী - তেজস্বিনী।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন: সতীন, সৎমা, কুলটা, সধবা, এয়ো, দাই, অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭২.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দুঃখিনী
  2. মায়াবিনী
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. মেধাবিনী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ = 
সতীন,
অর্ধাঙ্গিনী,
কুলটা,
বিধবা,
অসূর্যম্পশ্যা,
অরক্ষণীয়া,
সপত্নী ইত্যাদি।

 ’ঈনী, নী,’ প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
মায়াবী - মায়াবিনী,
কুহক - কুহকিনী,
যোগী - যোগিনী,
মেধাবী - মেধাবিনী,
দুঃখী - দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি. ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪৭৩.
নিচের কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ?
  1. শূদ্র
  2. সেনাপতি
  3. শিষ্য
  4. মরদ 
ব্যাখ্যা

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:

যেমন:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মরদ - জেনানা। 
- শিষ্য-শিষ্যা।
- শূদ্র-শূদ্রা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭৪.
'ঠাকুর' এর স্ত্রীলিঙ্গ -
  1. ঠাকুরন
  2. ঠাকুরে
  3. ঠাকুরী
  4. ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- 'ঠাকুর' এর স্ত্রীলিঙ্গ হচ্ছে ঠাকুরন

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গান্তর:
ঠাকুর - ঠাকুরন/ ঠাকরুন/ ঠাকুরানী।
হুজুর - হুজুরাইন।
মৎস্য - মৎসী।
মনুষ্য - মনুষী।
মানুষ - মানুষী।
গো - গবী।
বিধাতা - বিধাত্রী।
মদ্দা ঘোড়া - মাদি ঘোড়া।
শুক - শারি।
দুলহা - দুলাইন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৫.
কোন পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়?
  1. চাকর
  2. নাপিত
  3. কবি
  4. গোয়ালা
ব্যাখ্যা
• কতগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
• কবি - মহিলা কবি,
• ডাক্তার - মহিলা ডাক্তার,
• সভ্য - মহিলা সভ্য,
• কর্মী - মহিলা কর্মী,
• শিল্পী - মহিলা বা নারী শিল্পী,
• সৈন্য - নারী / মহিলা সৈন্য,
• পুলিশ -মহিলা পুলিশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
•আনী-প্রত্যয়: ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনী,গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭৬.
"অনাথ" এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অনাথীনী
  2. অনাথি
  3. অনাথিনী
  4. অনাথী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক করা হয়:
যেমন:
অনাথ-অনাথিনী, 
→ নাগ-নাগিনী, 
→ মানী-মানিনী, 
→ তপস্বী-তপস্বিনী,
→ কাঙাল-কাঙালিনী, 
→ শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৭৭.
'ইন্দ্র' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ইন্দ্রি
  2. ইন্দ্রানী
  3. ইন্দ্রাণী
  4. ইন্দ্রানি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'ইন্দ্র' এর স্ত্রীবাচক শব্দ 'ইন্দ্রাণী'।

- ইন্দ্র অর্থ: দেবরাজ, সুরপতি
- ইন্দ্রাণী অর্থ: ইন্দ্রপত্নী, শচীদেবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪৭৮.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. হরিণী
  2. সুন্দরী
  3. ধনিনী
  4. সিংহী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ বাঘ-বাঘিনী, 
→ বিদেশি-বিদেশিনী, 
→ গুণী-গুণিনী, 
ধনী-ধনিনী
→ সুকেশ-সুকেশিনী।

অন্যদিকে,
শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ সিংহ-সিংহী, 
→ সুন্দর-সুন্দরী, 
→ হরিণ-হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৭৯.
‘কাঙাল’ শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কাঙালিনি
  2. কাঙালি
  3. কাঙলইনী
  4. কাঙালনি
ব্যাখ্যা
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-
• আ প্রত্যয় যোগে:
- বৃদ্ধ - বৃদ্ধা;
- প্রিয় - প্রিয়া।

• ই প্রত্যয় যোগে:
- দাদা - দাদি,
- জেঠা - জেঠি।

• ইনি প্রত্যয় যোগে:
- কাঙাল - কাঙালিনি,
- বাঘ - বাঘিনি।

• ইনী প্রত্যয় যোগে:
- বিজয় - বিজয়িনী,
- তেজস্বী - তেজস্বিনী।

• ঈ প্রত্যয় যোগে:
- নার - নারী,
- কিশোর - কিশোরী।

• নি প্রত্যয় যোগে:
- জেলে - জেলেনি,
- বেদে - বেদেনি।

• বতী প্রত্যয় যোগে:
- গুণবান - গুণবতী,
- পূণ্যবান - পূণ্যবতী।

• মতী প্রত্যয় যোগে:
- বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী,
- শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮০.
কোন শব্দটির কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ হয় না?
  1. ক) অজ
  2. খ) নর
  3. গ) কবিরাজ
  4. ঘ) কবি
ব্যাখ্যা
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে
যেমন - কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে
যেমন - সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮১.
পুরুষবাচক রূপ নেই কোনটির ?
  1. ক) বেয়াইন
  2. খ) এয়ো
  3. গ) মেধাবিনী
  4. ঘ) যোগিনী
ব্যাখ্যা
পুরুষবাচক রূপ নেই- এয়ো 
- এটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

তাছাড়া, 
বেয়াই - বেয়াইন।
মেধাবী- মেধাবিনী। 
যোগী- যোগিনী। 

নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দঃ কুলটা, সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু
৪৮২.
নিচের কোনটি বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কর্ত্রী
  2. শ্বশ্রূ
  3. মালেকা
  4. মহতী
ব্যাখ্যা

• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম- মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা।

অন্যদিকে,
- বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ - কর্তা-কর্ত্রী। 
- পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ - শ্বশুর- শ্বশ্রূ।
- পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যেমন: মহৎ-মহতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৮৩.
'তেজস্বিনী' কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. নী
  2. আনী
  3. ইনী
  4. বিনী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৪.
কোনটির দুটি স্ত্রী বাচক শব্দ আছে?
  1. ক) শূক
  2. খ) খোকা
  3. গ) বর
  4. ঘ) গায়ক
ব্যাখ্যা
⇒ বর এর দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে: 'বধু' ও 'কনে'।

এছাড়া অপশনের অন্যান্য শব্দ -
• শূক এর স্ত্রীবাচক শব্দ - সারী।
• খোকা এর স্ত্রীবাচক শব্দ - খুকি।
• গায়ক এর স্ত্রীবাচক শব্দ - গায়িকা।
৪৮৫.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না?
  1. ছেলে বউ
  2. স্ত্রীলোক
  3. বেগম
  4. ভাইঝি
  5. কনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
স্বতন্ত্র শব্দে কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন – ভাই-বােন, পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, বর-কনে, বাদশা-বেগম।

কিছু ক্ষেত্রে নারী-নির্দেশক শব্দ যােগ করে নারীবাচক শব্দ তৈরি করা হয়। 
যেমন - লোক-স্ত্রীলোক, শ্রমিক-নারী শ্রমিক, ছেলে-ছেলে বউ। 

কিছু ক্ষেত্রে নর-নির্দেশক শব্দের বদলে নারী-নির্দেশক শব্দ যােগ করে নারীবাচক শব্দ তৈরি করা হয়।
যেমন - মদ্দা বিড়াল - মাদি বিড়াল, ভাইপাে-ভাইঝি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
৪৮৬.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) সতীন
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) এয়ো
  4. ঘ) কুলটা
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- কুহকিনী। 
 - ঈনী প্রত্যয়যোগে পুরুষবাচক কুহক শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কুহকিনী হয়েছে। 

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ: কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮৭.
‘মালী’ শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ কোনটি?
  1. ক) মালিকা
  2. খ) মালী
  3. গ) মালীনী
  4. ঘ) মালিনী
ব্যাখ্যা
মালী [মালি] (বিশেষ্য)
-  সংস্কৃত শব্দ।  
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মাল্য+ইন্‌।

অর্থ: 
- মাল্যরচনাকারী; মালাকর।
- জাতি। 

স্ত্রীলিঙ্গ
- মালিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৮৮.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ঢাকী
  2. কবিরাজ
  3. কৃতদার
  4. মানী
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ইন্ ভাগান্ত লিঙ্গান্তরে গঠিত শব্দ:
• মানী-মানিনী।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন: এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, বারবনিতা ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ডি. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৯.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. এয়ো
  2. বেঙ্গমী
  3. সধবা
  4. ললনা
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- বেঙ্গমী।
• ‘বেঙ্গমা’ শব্দের নারীবাচক শব্দ - বেঙ্গমী।

--------------------------- 
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

•  নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন: রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯০.
পুংলিঙ্গের সাথে কী যোগ করে লিঙ্গান্তর করা যায়-
  1. উপসর্গ
  2. প্রকৃতি
  3. অনুসর্গ
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
⇒ লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ। লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণিবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায় তাকে লিঙ্গ বলে ।

• লিঙ্গ পরিবর্তন বা লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
বাংলা ভাষার লিঙ্গান্তর নিম্নলিখিতভাবে হয়ে থাকে-
১) পুংলিঙ্গবাচক শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে।
২) স্ত্রীবাচক শব্দ আগে বা পরে বসিয়ে এবং
৩) ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯১.
'মানী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মানিতা
  2. মানিনী
  3. মানিকা
  4. মানিয়ানী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
→ বাঘ-বাঘিনী,
→ বিদেশি-বিদেশিনী,
→ গুণী-গুণিনী,
→ ধনী-ধনিনী,
→ সুকেশ-সুকেশিনী,
মানী-মানিনী

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৯২.
‘পুস্তিকা’ কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সমার্থে
  2. বৃহদার্থে
  3. ক্ষুদ্রার্থে
  4. বিপরীতার্থে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে - পুস্তিকা।

• স্ত্রীলিঙ্গান্তর করলে ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশ পায়, এমন কয়েকটি শব্দ:
• একাঙ্ক - একাঙ্কিকা,
 • নাটক - নাটিকা,
• মালা - মালিকা,
• গীত - গীতিকা,
• পুস্তক - পুস্তিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯৩.
নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. কনিষ্ঠা
  2. শ্রীমতী
  3. গরিয়সী
  4. সভানেত্রী
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- জেলে-জেলেনি,
- বেদে-বেদেনি,
- ধােপা-ধােপানি,
- কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
 
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- সম্রাট- সম্রাজ্ঞী, রাজা-রাণী, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর- জা, শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী, শ্রীমান-শ্রীমতী, গরীয়ান-গরিয়সী
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯৪.
নিচের কোন শব্দটি শুধুমাত্র স্ত্রীবাচক নির্দেশ করে?
  1. সপত্নী
  2. বিপত্নীক
  3. ধাত্রী
  4. ঢাকী
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 

যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ধাতা - ধাত্রী।
- বিধবা - বিপত্মীক।
- নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - ঢাকী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।

৪৯৫.
'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বেদেনি
  2. বাঘিনি
  3. দাদি
  4. কাঙালিনি
ব্যাখ্যা
• 'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - বেদেনি

• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। 
যেমন- 
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ - বৃদ্ধা, প্রিয় - প্রিয়া।
- ই প্রত্যয়: দাদা - দাদি, জেঠা - জেঠি। 
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনি, বাঘ - বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয় - বিজয়িনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: নার - নারী, কিশোর - কিশোরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে - জেলেনি, বেদে - বেদেনি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান - গুণবতী, পূণ্যবান - পূণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৯৬.
নিচের কোন পরুষবাচক শব্দের দুটি স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. খোকা
  2. বন্ধু
  3. ছাত্র
  4. বালক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন:
- দেবর - ননদ/জা,
- ভাই - বোন/ভাবী,
- শিক্ষক - শিক্ষিকা/শিক্ষক পত্নী,
- বন্ধু - বান্ধবী/বন্ধু পত্নী,
- দাদা - দিদি/বৌদি।

অনদিকে, 
• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা - খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব - তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৯৭.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. মহতী
  2. শ্বশ্রূ
  3. গরিয়সী
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- মহৎ-মহতী,
- শ্বশুর- শ্বশ্রূ,
- গরীয়ান-গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৮.
কোনটি অপত্নীবাচক শব্দ নয়?
  1. জেলেনি
  2. পাগলি
  3. খুকি
  4. শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা

• অপত্নীবাচক শব্দ নয় - জেলেনি। এটি পত্নীবাচক শব্দ।

অপত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। যেমন: খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি

অন্যদিকে,
পত্নীবাচক:
- স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন – পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৯৯.
‘চঞ্চল’ - এর স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ কোনটি?
  1. চঞ্চলা
  2. চঞ্চলমতি
  3. চঞ্চলময়ী
  4. চঞ্চলী
ব্যাখ্যা

• চঞ্চল  (বিশেষণ):
অর্থ: 
- অস্থির; চলনশীল; চলমান।
- ছটফটে, চপল; অশান্ত।
- চ্যাকুল; উৎকণ্ঠিত; ব্যগ্র।

• 'চঞ্চল' এর স্ত্রীলিঙ্গ: চঞ্চলা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান।

৫০০.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. শ্রীমতী
  2. যোগিনী
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. গণকী
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- যোগী-যোগিনী,
- গণক-গণকী,
- শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।