বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বহুব্রীহি সমাস

মোট প্রশ্ন৪৪০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বহুব্রীহি সমাস

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৪০

২০১.
’নদীমাতৃক’ কোন প্রকার সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা-
বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার বহুব্রীহি।
এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে 'ক' যুক্ত হয়।
যেমন:
নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার =  বিপত্নীক।
এরূপ-
- সস্ত্রীক, অপুত্রক ইত্যাদি।

• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
নীল যে পদ্ম =  নীলপদ্ম।
শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
কাঁচা অথচ মিঠা =  কাঁচামিঠা।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়। যেমন বিপদকে আপন্ন বিপদাপন্ন।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২০২.
কোনটি বহুব্রীহি সমাস?
  1. মাথায়পাগড়ি
  2. প্রতিদিন
  3. খেয়াঘাট
  4. চন্দ্রমুখ
ব্যাখ্যা
• 'মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি' - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
-------------------- 
• অলুক বহুব্রীহি: 
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয়না তাই অলুক বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
গায়ে এসে পড়ে যে - গায়ে পড়া। 
মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি। 

অন্যদিকে, 
• দিন দিন = প্রতিদিন; অব্যয়ীভাব সমাস।
• খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট; তৎপুরুষ সমাস।
• চন্দ্রমুখ; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৩.
“অন্তরীপ” - শব্দটি কোন ধরনের সমাসের মাধ্যমে গঠিত?
  1. ক) প্রাদি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ। এটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। এরকম আরো উদাহরণঃ দু দিকে অপ যার = দ্বীপ, পন্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পন্ডিতমূর্খ, নরাকারের পশু যে = নরপশু, জীবিত থেকেও মৃত যে = জীবন্মৃত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২০৪.
‘চতুষ্পদ’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• "চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী"; বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার,
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।
---------------------
অন্যদিকে,
• দ্বিগু সমাস:
যে-সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বােঝায় তাকে ‘দ্বিগু সমাস' বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়।
যেমন :
সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।

• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

• নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য হলে কোন বহুব্রীহি সমাস হয়?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  3. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  4. নঞ্‌ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০৬.
'হাতেখড়ি' কোন ধরনের সমাস?
  1. অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. উপমিত কর্মধারায়
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্ত পদে লোপ পায়, তবে তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
• গজের ন্যায় আনন যার - গজানন। 
• মৃগের ন্যায় লোচন যার- মৃগলোচনা
• বিড়ালের ন্যায় চোখ যে নারীর - বিড়ালচোখী। 
• হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে - হাতেখড়ি। 
• গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে - গায়েহলুদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২০৭.
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কথাসর্বস্ব
  2. খ) হৃতসর্বস্ব
  3. গ) হতশ্রী
  4. ঘ) নীলকণ্ঠ
  5. ঙ) গালাগালি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্ব বা পর পদ কোনটিই বিশেষণ নয় তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব। হৃতসর্বস্ব, নীলকন্ঠ ও হতশ্রী সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। গালাগালি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২০৮.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অনুগমন
  2. খ) সাহিত্যসভা
  3. গ) পীতাম্বর
  4. ঘ) রাতকানা
ব্যাখ্যা
- পীতাম্বর (পীত অম্বর যার) অর্থ শ্রীকৃষ্ণ।
- এটি সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• সমানাধিকার বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন: এক গোঁ যার = একগুঁয়ে, লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে ।

এছাড়াও,
• পদলোপী বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন: চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

• অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। 
যেমন – কানে খাটো যে = কানেখাটো। 

• বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাস যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন: গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে ।

 • ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন: হাতে হাতে যে যুদ্ধ হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ।

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন – চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২০৯.
‘সেতার’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. দ্বিগু
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন – চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২১০.
‘শশাঙ্ক’ শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. ক) শশের অঙ্ক
  2. খ) অঙ্কের শশ
  3. গ) অঙ্কে শশ যার
  4. ঘ) শশ অঙ্কে যার
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- শশাঙ্ক একটি বহুব্রীহি সমাস।
- যার ব্যাসবাক্য হলো - শশ অঙ্ক যার

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১১.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস কোনটি?
  1. ক) খোশমেজাজ
  2. খ) কানাকানি
  3. গ) কথাসর্বস্ব
  4. ঘ) অজ্ঞান
ব্যাখ্যা
কানে কানে যে কথা = কানাকানি হলো ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস। যে বহুব্রীহি সমাসে পরস্পর একই ক্রিয়া বুঝায় এবং যেখানে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি। এরূপ- গালাগালি, দেখাদেখি, চুলাচুলি ইত্যাদি। অন্যদিকে, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ হলো সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব হলো ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান হলো নঞ্ বহুব্রীহি সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২১২.
'কানে-কলম' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. অলুক দ্বিগু
ব্যাখ্যা

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদটি বিশেষণ হয়।
যথাঃ
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- এরূপ- হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৩.
'কমলাক্ষ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• 'কমলের মতো অক্ষি যার- কমলাক্ষ' মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
--------------------- 
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত কোনো পদকে লোপ করে বা গ্রহণ না করেই তৈরি হয়।
- বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দের স্থলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের মতো অক্ষি যার- কমলাক্ষ। 

------------------------
অন্যদিকে,
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার। 

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন: এক দিকে চোখ যার= একচোখা, ঘরের দিকে মুখ যার= ঘরমুখো।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- অন্য দিকে মন যার = অন্যমনা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
২১৪.
কোনটি বহুব্রীহি সমাস?
  1. ক) সুপুরুষ
  2. খ) দশানন
  3. গ) সাদাকালো
  4. ঘ) চৌরাস্তা
ব্যাখ্যা
• দশ আনন যার = দশানন; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ- 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- সুন্দর যে পুরুষ = সুপুরুষ
• চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা - দ্বিগু সমাস [পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]
• সাদা ও কালাে = সাদাকালাে
বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদান, ধনীগরিব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ এবং ২০২২ সংস্করণ)।
২১৫.
সমাস সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুকম্পা
  2. মানব
  3. ভাদরিয়া
  4. সস্ত্রীক
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- মনু + ষ্ণ = মানব, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'অনুকম্পা' শব্দটি উপরসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৬.
কোনটি নঞ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?   
  1. অচেনা
  2. অসীম
  3. অব্যক্ত
  4. অসময় 
ব্যাখ্যা

নঞ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ- অসীম। 
-----------------------
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ:
- নদী মাতা যার = নদীমাতৃক, 
- বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব, 
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক, 
- নীল বসন যার = নীলবসনা। 
------------------------------ 
নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- নঞ বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের বহুব্রীহি সমাস, যেখানে ‘ন’, ‘না’, ‘নয়’ ইত্যাদি না-বাচক অব্যয় পূর্বপদ হিসেবে থাকে 
- এখানে পূর্বপদের অর্থের কোনো প্রাধান্য থাকে না, বরং ‘নেই’ বা ‘নয়’ অর্থ প্রকাশিত হয়।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
- এই সমাসে সমস্যমান পদের অর্থ নয়, বরং একটি নতুন অর্থ মুখ্য হয়।
- যেমন- অসীম (সীমা নেই যার)→ অসীম আকাশ।

- আরও কিছু উদাহরণ:
- অজ্ঞান (ন জ্ঞান যার) : জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি।
- আচার = নয় আচার (আচারহীন/অসৎ)।
- অনাচার (ন আচার) : যে আচার মেনে চলে না।
- বেহায়া (বে হায়া যার) : যার লজ্জা নেই।
- নির্দয় (নাই দয়া যার) : যার দয়া নেই।
- অজানা (ন জানা যা) : যা জানা নেই।
- অসুখ (ন সুখ) : যা সুখকর নয় (রোগ)।
- অনর্থ (ন অর্থ) : যার কোনো অর্থ নেই বা যা অর্থহীন। 
-------------------------
অন্যদিকে, 
- অচেনা, অব্যক্ত, অসময়-  নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• নঞ তৎপুরুষ সমাস-
- নঞ তৎপুরুষ সমাস
হলো সেই তৎপুরুষ সমাস যেখানে পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় (যেমন: না, নেই, নাই, নয়) ব্যবহৃত হয়, এবং সমাসের মাধ্যমে একটি নতুন পদ বা অর্থ প্রকাশ পায়।
- যেমন- 
- আলুনি, আগাছা, নিখুঁত, অকপট, অকেজো, অনিবার্য, গরমিল, বেকায়দা, অচল, অভদ্র ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১৭.
'সুশ্রী' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী,
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর,
- নীল বসন যার = নীলবসনা (স্ত্রী),
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী,
- পুণ্য আত্মা যার = পুণ্যাত্মা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১৮.
‘দ্বীপ’ শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) দুই দিকে উচুঁ যার
  2. খ) অপ দুই দিক
  3. গ) দুটি অপ ন্যায় দিক
  4. ঘ) দুই দিকে অপ যার
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বীপ
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) নরপশু
  4. ঘ) জীবন্মৃত
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ কথাটির অর্থ কোন নিয়মের অধীনে নয়। যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে, যে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের কিছু উদাহরণঃ দু দিকে অপ যার = দ্বীপ,
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ,
নরাকারে পশু যে = নরপশু,
জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
পণ্ডিত হওয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিত্মূর্খ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, চতুরঙ্গ দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২২০.
'কালােবরণ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: 
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয়, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ,
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে,
- হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী।

অভিসম্বন্ধ: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২১.
‘লাঠালাঠি’ শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বিগু
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
২২২.
'পণ্ডিতমূর্খ' কোন সমাস?
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।

যেমন:
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ,
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
ব্যাসবাক্য অনুসারে বহুব্রীহি ও কর্মধারয় উভয় সমাস হয় কোনটি?
  1. দশানন
  2. গরমিল
  3. নীলকণ্ঠ
  4. পীতাম্বর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পীতাম্বর (কৃষ্ণ অর্থে) > পীত অম্বর যাঁর (বহুব্রীহি সমাস)। 

কিন্তু,
• পীতাম্বর (পীতবর্ণ বস্ত্র অর্থে) > পীত যে অম্বর (কর্মধারয় সমাস)।

অন্যদিকে, 
• গরমিল > মিল নেই যাতে (বহুব্রীহি সমাস)। 
• কিন্তু গরমিল > মিলের অভাব (নঞ তৎপুরুষ/অব্যয়ীভাব)।

• দশ আনন যার = দশানন (বহুব্রীহি সমাস)। 
• নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৪.
অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. হাতঘরি
  2. আলুসিদ্ধ
  3. মাথায়পাগড়ি
  4. চতুর্ভুজ
ব্যাখ্যা

• 'মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি' - অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 
--------------------
অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তির লোপ হয়না তাই অলুক বহুব্রীহি সমাস।
যেমন:
গায়ে এসে পড়ে যে - গায়ে পড়া।
মাথায় পাগড়ি যার - মাথায়পাগড়ি।

অন্যদিকে,
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘরি; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; কর্মধারয় সমাস।
​সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

২২৫.
‘দিগম্বর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার,
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৬.
"মৃগনয়না" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় নয়ন যার = মৃগনয়না,
- গজের ন্যায় আনন যার = গজানন। 
এরকম - ক্ষুরধার, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৭.
'আশীবিষ' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২২৮.
'নির্ধন' শব্দটি কোন ধরণের সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নির্ধন (বিশেষণ)
অর্থ:
- ধনশূন্য;
- ধনহীন;
- বিত্তহীন;
- দরিদ্র;
- গরিব।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) নিঃ+ধন; বহুব্রীহি সমাস}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
২২৯.
'দু কানকাটা' কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. খ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ এবং পরপদ কোনটিই সাধারণত বিশেষণ না হয় (অন্যপদ) তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি বলে।
যেমন: বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি, শূল পাণিতে যার= শূলপাণি। 

পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন: দুই কান কাটা যার= দু কানকাটা, বোঁটা খসেছে যার= বোঁটাখসা।
অনুরুপভাবে,ছা পোষা যার = ছা পোষা; পা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি। 

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ। এছাড়া হতশ্রী, হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, নীলকন্ঠ ইত্যাদি।
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি: যে বহব্রীহি সমাস কোন নিয়মের অধীনে নয়।
যেমন: দু দিকে অপ যার= দ্বীপ, জীবিত থেকেও যে মৃত= জীবন্মৃত ইত্যাদি। 
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন: এক দিকে চোখ যার= একচোখা, ঘরের দিকে মুখ যার= ঘরমুখো। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
২৩০.
নিচের কোনটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. নদীমাতৃক
  2. খোশমেজাজ
  3. নীলকণ্ঠ
  4. পদ্মগন্ধি
ব্যাখ্যা
• নদীমাতৃক= নদী মাতা যার। এখানে নদী ও মাতা উভয়ই বিশেষ্য। তাই এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:

- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা: আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।
- পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন: দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
- অনুরূপভাবে ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পদ্মগন্ধি= পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার; খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার এবং নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩১.
'বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা' এটি কোন সামস?
  1. ব্যতিহার সমাস
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২৩২.
কোনটি নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস?
  1. বেহেড
  2. অকাতর
  3. অনাচার
  4. বেতাল
ব্যাখ্যা

নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।

অন্যদিকে,
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২৩৩.
'মৎস্যগন্ধা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'গন্ধ' শব্দ স্থানে 'গন্ধি' বা গন্ধা' শব্দ যুক্ত হয়। 
যেমন: 
সুগন্ধ যার - সুগন্ধি।
পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার - পদ্মগন্ধি।
মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার - মৎস্যগন্ধা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২৩৪.
বহুব্রীহি সমাসে কোনপদ প্রাধান্য পায়?
  1. পর পদ 
  2. উভয় পদ
  3. পূর্বপদ 
  4. তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে।
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বা অর্থ বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- ব্রীহি মানে হচ্ছে ধান। 
- বহুব্রীহি সমাস আট প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা:
- সমানাধিকরণ,
- ব্যাধিকরণ,
- মধ্যপদলোপী,
- প্রত্যয়ান্ত,
- ব্যতিহার,
- নঞর্থক,
- সংখ্যাবাচক এবং
- অলুক। 

এ ধরণের সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে, অন্য কোন তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩৫.
'বেতার' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ্‌ তৎপুরুষ
  2. নঞ্‌ বহুব্রীহি
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
→ ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
→ বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
→ না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
→ নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,

এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৬.
'ঘরমুখো' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।

যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
- এরকম: দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৭.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
  1. অজানা
  2. দোতলা
  3. আশীবিষ
  4. কানাকানি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।

ব্যতিহার বহুব্রীহি:
পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনাে অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
• হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি।
• কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
• গলায় গলায় যে মিলন = গলাগলি।
• লাঠিতে লাঠিতে যে সংঘর্ষ = লাঠালাঠি।
• হাসতে হাসতে যে ক্রিয়া = হাসাহাসি।

অন্যদিকে,
- না (নয়) জানা যা = অজানা; এটি নঞবহুব্রীহি সমাস।
- দোতলা শব্দটি প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস -আশীতে বিষ যার = আশীবিষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৮.
বহুব্রীহি সমাসের ক্ষেত্রে-
  1. পরপদ প্রধান
  2. পূর্বপদ প্রধান
  3. উভয়পদ প্রধান
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বা অর্থ বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- ব্রীহি মানে হচ্ছে ধান। 
- বহুব্রীহি সমাস আট প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা:
- সমানাধিকরণ,
- ব্যাধিকরণ,
- মধ্যপদলোপী,
- প্রত্যয়ান্ত,
- ব্যতিহার,
- নঞর্থক,
- সংখ্যাবাচক এবং
- অলুক। 

এ ধরণের সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে, অন্য কোন তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩৯.
‘সুগন্ধি’ কি ধরনের সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'গন্ধ' শব্দ স্থানে 'গন্ধি' বা গন্ধা' শব্দ যুক্ত হয়। 
যেমন: 
সুগন্ধ যার - সুগন্ধি।
পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার - পদ্মগন্ধি।
মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার - মৎস্যগন্ধা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪০.
'অল্পবুদ্ধি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- অল্প বুদ্ধি যার = অল্পবুদ্ধি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪১.
'আয়তলোচনা' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. দিগু সমাস
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

যথা:
- আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪২.
কোনটি 'মৃগনয়না' শব্দের ব্যাসবাক্য?
  1. নয়ন মৃগের ন্যায়
  2. নয়ন মৃগীর ন্যায়
  3. মৃগের ন্যায় নয়ন যার
  4. মৃগীর ন্যায় নয়ন যার
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় নয়ন যার = মৃগনয়না

এরকম - ক্ষুরধার, গজানন, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৩.
ব্যাসবাক্য এর শেষ পদ লোপ পায় কোন বহুব্রীহি সমাসে?
  1. ক) নিপাতনে সিদ্ধ
  2. খ) সহার্থক
  3. গ) অন্ত্যপদলোপী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ব্যাসবাক্য এর শেষ পদ লোপ পায় অন্ত্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসে। 

- অন্ত্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস : ব্যাসবাক্যের শেষপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে অন্ত্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন : দশবছুরে (দশ বছর বয়স যার)। 
- যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে সহাৰ্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান= সস্ত্রীক। 
- নিপাতনে সিদ্ধ সমাস : যে বহুব্রীহি সমাস কোন নিয়মের অধীন নয়, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সমাস বলে। যেমন- নরাকার পশু যে= নরপশু। 
- বহুব্রীহি সমাস ৮ প্রকার। যথা- 
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয়।
২. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হয়।
ব্যতিহার বহুব্রীহি : একই কার্য বোঝাতে একই পদের দ্বিত্ব হয়। অন্যভাবে, যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি সমরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
৪. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি : ব্যাসবাক্যের ব্যাখ্যামূলক যে-কোন পদের লোপ পায়।
৫. অলুক বহুব্রীহি : পূর্বপদের বিভক্তির লোপ হয় না। 
৬. নঞ বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বে নঞ পদ থাকে অর্থাৎ নঞর্থক অব্যয় পদের সাথে বিশেষ্য পদের যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
৭. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি : সমস্ত পদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়।
৮. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : পূর্বপদে সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হয়।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 
২৪৪.
‘নিশ্চিহ্ন’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. নঞ্ বহুব্রীহি
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

• নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই চিহ্ন যার = নিশ্চিহ্ন;
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৪৫.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. কলে ছাঁটা
  2. কলের গান
  3. কানাকানি
  4. কানে-খাটো
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - কানাকানি

ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যথা:
• হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
• কানে কানে যে কথা = কানাকানি

এমনি ভাবে - চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ - কলে ছাঁটা, কলের গান।
• অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - কানে-খাটো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৬.
কোনটি ব্যতিক্রমী সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস?
  1. নাচার
  2. বেতাল
  3. বেতার
  4. সেতার
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়।
- এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যথা -
• দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
• চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা।

এরূপ - চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

কিন্তু, সে (তিন) তার (যে যন্ত্রের) = সেতার (বিশেষ্য)।

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি = নাচার, বেতার।
• নঞ্‌ তৎপুরুষ = বেতাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪৭.
“অন্তরীপ” - শব্দটি কোন ধরনের সমাসের মাধ্যমে গঠিত?
  1. প্রাদি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ। এটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
এরকম আরো উদাহরণঃ দু দিকে অপ যার = দ্বীপ, পন্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পন্ডিতমূর্খ, নরাকারের পশু যে = নরপশু, জীবিত থেকেও মৃত যে = জীবন্মৃত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৪৮.
'বিড়ালচোখী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: 
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।

যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৯.
‘চতুষ্পদ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বিগু
  4. কর্মধারয়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার,
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫০.
‘পঙ্কজ’ কোন সমাস?
  1. ক) নঞ্ তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ, জলে চরে যা = জলচর।
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে সমাস হয় তাকে বলে, নঞ্ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন: ন কাল = অকাল বা আকাল, ন আচার = অনাচার।
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৫১.
'আশীবিষ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- বীণা পানিতে যার = বীণাপাণি।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন -
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
অনুরূপভাবে - ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫২.
'সবান্ধব' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

• ‘সহ' কিংবা ‘সহিত' শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ' ও 'সহিত' এর স্থলে ‘স’ হয়। যেমনঃ
- বান্ধবসহ বর্তমান; বান্ধবদের সঙ্গে = সবান্ধব,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা ,
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী,
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৫৩.
কোনটি বহুব্রীহি সমাস?
  1. ক) প্রবচন
  2. খ) অন্তরীপ
  3. গ) অনুতাপ
  4. ঘ) পরিভ্রমন
ব্যাখ্যা

অনুতাপ, প্রবচন, পরিভ্রমন ইত্যাদি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
অপয়া, অন্তরীপ, দ্বীপ এগুলো বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
২৫৪.
'সহকর্মী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- অল্প (হাল্কা) প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ; 
- বান্ধবসহ বর্তমান; বান্ধবদের সঙ্গে = সবান্ধব,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী,
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ.
২৫৫.
‘নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি’ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. আশীবিষ
  2. অন্তরীপ
  3. জবরদস্তি
  4. অকেজো
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = 'আশীবিষ' ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। 
- ন কেজো = ‘অকেজো’ নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস।
- জবরদস্তি সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
'বিপত্নীক' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

সূত্র:
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৫৭.
"হাতেখড়ি" শব্দটি কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন-
বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

পদলোপী বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।

যেমন-
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫৮.
‘বিনয়ের সঙ্গে বর্তমান = সবিনয়’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চার পা বিশিষ্ট প্রাণী = চতুষ্পদ;
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ ইত্যাদি।

-----------------------
• সহার্থক বহুব্রীহি সমাস:
সহার্থক পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বান্ধবের সহিত বর্তমান = সবান্ধব,
- বিনয়ের সঙ্গে বর্তমান = সবিনয়,
- স্ত্রীর সহিত বর্তমান = সস্ত্রীক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৯.
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায় তাকে কোন সমাস বলে?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
 যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি।

কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬০.
'যুবজানি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
যেমন:
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী।
- সমান বর্ণ যার = সবর্ণ।
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬১.
"বর্ণ চুরি করে যে" - ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• 'বর্ণচোরা' শব্দের বিশ্লেষণ:
"বর্ণচোরা" শব্দে প্রথম পদ "বর্ণ" হলো উপপদ, যা ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় পদ "চোরা" হলো কৃদন্ত পদ, যা "চুরি করা" ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন। এই দুটি পদ মিলে সমাসবদ্ধ হয়ে একটি নতুন অর্থ প্রকাশ করে: বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা।

কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
সুতরাং,
'বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা' উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

---------------------------
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
জলে চরে যা = জলচর;
বাস্তু হারিয়েছে যে = বাস্তুহারা;
বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা;
বহুকিছু দর্শন করেছে যে = বহুদর্শী;
বিঘ্ন হনন করে যে = বিঘ্নহস্তা;
জল দেয় যে = জলদ;
পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬২.
নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) আশীবিষ
  2. খ) হাতেনাতে
  3. গ) কানাকানি
  4. ঘ) হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনাে অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন –
হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি
কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৩.
'পদ্মনাভ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ; বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
পাপে মতি যার = পাপমতি,
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি,
দুষ্টু মতি যার = দুষ্টমতি,
নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি ইত্যাদি।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষ্য হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন-
দুই কান কাটা যার = দুকানকাটা,
ধামা ধরে যে = ধামাধরা,
বোটা খসেছে যার = বোঁটাখসা,
পা চাটে যে = পা-চাটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
'হাতেখড়ি' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) হাতে যে খড়ি রাখা হয়।
  2. খ) হাতে খড়ি রেখে যে অনুষ্ঠান হয়।
  3. গ) হাতে খড়ি রেখে যে অনুষ্ঠান।
  4. ঘ) হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।
ব্যাখ্যা
- 'হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।' এর সমস্তপদ হচ্ছে 'হাতেখড়ি'।
- এটি পদলোপী বহুব্রীহির উদাহরণ।

• পদলোপী বহুব্রীহি: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি।
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৬৫.
‘ঊনপাঁজুরে’ কোন সমাস উদাহরণ ?
  1. ক) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. ঘ) অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস। ঊন পাঁজর যার= ঊনপাঁজুরে। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ -নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২৬৬.
‘গোঁফ খেজুরে’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। 
যেমন :
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
২৬৭.
নিচের কোনটি সহার্থক বহুব্রীহির উদাহরণ নয়?
  1. ক) সস্ত্রীক
  2. খ) সধর্ম
  3. গ) সফল
  4. ঘ) সকল
ব্যাখ্যা
সহার্থক নামে আরেক প্রকার বহুব্রীহি সমাস পাওয়া যায়। সহার্থক পূর্বপদের সঙ্গে বিশেষ্য পরপদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন :
- সশিষ্য = শিষ্যের সহিত বর্তমান,
- সকর্দম = কর্দমের সহিত বর্তমান,
- সবান্ধব = বান্ধবের সহিত বর্তমান,
- সক্রিয় = ক্রিয়ার সহিত বর্তমান,
- সজল = জলের সহিত বর্তমান।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৬৮.
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস কোনটি?
  1. হতশ্রী
  2. খোশমেজাজ
  3. পীতাম্বর
  4. বোঁটাখসা
ব্যাখ্যা

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা: আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন: দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা। অনুরূপভাবে– ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি ।

অন্যদিকে, 
---------------------
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:

পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ
এরকম : হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবখ্ত, কমবখ্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬৯.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দম্পতি
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) সিংহাসন
  4. ঘ) পােড়াকপাল
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল
- এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

 অন্যদিকে, 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা - তৎপুরুষ সমাস
- জায়া ও পতি = দম্পতি - দ্বন্দ্ব সমাস 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন - কর্মধারয় সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭০.
'উকিল' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭১.
‘বেহিসাবি’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. নেই হিসাব যার
  2. যার হিসাব নেই
  3. নয় হিসাবে যা
  4. হিসাব যার নেই
ব্যাখ্যা
⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
যেমন:
- দশ হাত যার = দশহাতি; এখানে দশহাতি বলতে দশ হাত বিশিষ্ট কাউকে বোঝায় না। বরং ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন দেবীকে বোঝায়।

⇒ নঞ্ বহুব্রীহি:
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নেই হিসাব যার = বেহিসাবি;
- নয় সামাল যে = বেসামাল;
- নেই দোষ যার = নির্দোষ;
- নেই হিংসা যার = অহিংস;
- নেই যার হায়া = বেহায়া;
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল।

উৎস ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৭২.
নিচের কোনটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস?
  1. ক) হেড মাস্টার
  2. খ) ত্রিফলা
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) অনমনীয়
ব্যাখ্যা
না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন : নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকোজো, বেতার, বেপরোয়া, অভদ্র, নির্লোভ, নির্দোষ, নিঃসন্তান, বেহায়া, অহিংস, অপুত্রক, আনাড়ি, বেয়াদব ইত্যাদি। 

সমস্তপদ    ব্যাসবাক্য 
অজ্ঞান  --  নেই জ্ঞান যার    
নির্ভুল  --  নেই ভুল যার
নির্দোষ  --  নেই দোষ যার   
অভদ্র  --  নেই ভদ্রতা যার
নির্ঝঞ্ঝাট   --  নেই ঝঞ্ঝাট যার   
অবুঝ  --  নেই বুঝ যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
২৭৩.
‘অপয়া' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
না- বোধক অব্যয় পদের সাথে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- নেই পয় (ভাগ্য) যার= অপয়া, 
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ ও ড. মোহাম্মাদ আমীন; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৭৪.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজ-কর্ম
  2. খাসমহল
  3. মুখোমুখি
  4. উপকূল
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস - মুখোমুখি

ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- এ সমাসে পূর্বপদে ‘আ’ এবং উত্তরপদে ‘ই’ যুক্ত হয়।
যথা:
→ হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
→ কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
এমনি ভাবে - চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস - কাজ-কর্ম।
• কর্মধারয় সমাস - খাসমহল।
• অব্যয়ীভাব সমাস - উপকূল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৫.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহারণ নয়?
  1. ক) বিড়ালচোখী
  2. খ) মেনিমুখো
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) বেতার
ব্যাখ্যা

সমাসে ব্যাখ্যামূলক যে কোন পদ যদি সমস্তপদে লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন- বিড়ালচোখী, হাতেখড়ি, গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যাদি। 'বেতার' নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২৭৬.
'অন্তরীপ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নঞ বহুব্রীহি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• 'অন্তরীপ' এর সমস্তপদ = অন্তর্গত অপ (জল) যার নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত।

• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ,
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ,
- নরাকারের পশু যে = নরপশু,
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্ত,
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূৰ্থ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবােধক) অব্যয়যােগে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- বে (নাই) ঈমান যার = বেঈমান,
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার।

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
- যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
'বিচিত্রকর্মা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার- কমলাক্ষ, 
- পদ্ম নাভিতে যার পদ্মনাভ। এরূপ— ঊর্ণনাভ।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার - চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার - বিচিত্রকর্মা।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
- যেমন:
- সমান কর্মী যে - সহকর্মী,
- সমান বর্ণ যার - সবর্ণ,
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ। 
২৭৮.
আশীবিষ কোন সমাস ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

আশিতে বিষ যার = আশীবিষ; বহুব্রীহি সমাস।
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন: বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার= বহুব্রীহি। এখানের 'বহু' কিংবা 'ধান' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]

২৭৯.
'কানে খাটো যে = কানেখাটো' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. নিত্য
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২৮০.
‘বহুব্রীহি’ শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) বহুগম
  2. খ) বহুধান
  3. গ) বহুবলে
  4. ঘ) বহুধন
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসঃ

- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা-
- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি' কোনােটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লােককে বােঝাচ্ছে।

সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮১.
বহুব্রীহি সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?
  1. খেয়াঘাট
  2. খোশমেজাজ
  3. সিংহাসন
  4. অরুণরাঙা
ব্যাখ্যা
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

অন্যদিকে,
- খেয়াঘাট = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- সিংহাসন = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- অরুণরাঙা = উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮২.
"বোঁটা খসেছে যার" এই ব্যাসবাক্যটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত?
  1. প্রত্যয়ান্ত
  2. মধ্যপদলোপী
  3. ব্যাধিকরণ
  4. সমানাধিকরণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৩.
'কালােবরণ' — কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস 
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ;
- সমান উদর যার = সহোদর,
- বদ রাগ যার = বদরাগী,
- সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮৪.
কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয়? 
  1. গায়ে হলুদ 
  2. হাতেখড়ি
  3. বিড়ালচোখী
  4. গলায় গামছা 
ব্যাখ্যা

অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয়- বিড়ালচোখী।
-----------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি বজায় থাকলে এবং কোনো পদের পরিবর্তন না হলে অলুক বহুব্রীহি সমাস হয়।
- যেমন: 
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি। 
গলায় গামছা যার = গলায় গামছা। 
মুখে ভাত দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত। 
হাতেখড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। 
গায়েহলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ। 
------------------------
বিড়ালচোখী- মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস-
- যে বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত কোনো পদকে লোপ করে বা গ্রহণ না করেই তৈরি হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। 
- যেমন: 
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী।
- কাঞ্চন বা সোনার মত প্রভা যার = কাঞ্চনপ্রভ।
- দশ বছর বয়স যার = দশবছুরে।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।

২৮৫.
‘বিড়ালাক্ষী’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন : 
সমস্তপদ   --  ব্যাসবাক্য
বিড়ালচোখী  --  বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর  
বিড়ালাক্ষী  --  বিড়ালের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যে নারীর
সোনামুখী  --  সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার    
শূর্পণখা  --  শূর্পের (কুলা) ন্যায় নখ যে নারীর
কাঞ্চনপ্রভা  --  কাঞ্চনের (সোনার) ন্যায় প্রভা যার    
কমলাক্ষ  --  কমলের ন্যায় অক্ষি যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
২৮৬.
'মৌমাছি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মৌ-সঞ্চয়কারী মাছি = মৌমাছি,
- আত্মলিখিত জীবনী = আত্মজীবনী।

অন্যদিকে:
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন:
- গৃহান্তর,
- গ্রামান্তর।

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও) ইত্যাদি।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ,
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৭.
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কানে-খাটো  
  2. খ) নরপশু
  3. গ) ঘরমুখো
  4. ঘ) তেপায়া
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।

সমস্তপদ  --  ব্যাসবাক্য
একচোখা  --  এক দিকে চোখ যার
একরোখা  --  এক দিকে রোখ যার
ঘরমুখো  --  ঘরের দিকে মুখ যার
নি-খরচে  --  নি (নেই) খরচ যার

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
২৮৮.
'চৌচালা' শব্দের ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. চার চাল যার
  2. চার চালের সমাহার
  3. চার চাল যে ঘরের
  4. চার চালা বিশিষ্ট ঘর
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ আনন যার = দশানন।
- সমান বর্ণ যার = সমবর্ণ।
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি।

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য, সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা।
- দুটি নল যার = দোনলা।
- চার চাল যে ঘরের = চৌচালা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৯.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলবসনা
  2. খ) মাছিমারা
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) প্রতিকূল
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ নীল বসন যার = নীলবসনা,
আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা,
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৯০.
'নির্ভুল' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• 'নির্ভুল' - নি (নাই) ভুল যার - নঞ্‌ বহুব্রীহি।

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্জ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার - অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার - বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার - নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার - নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা - নাজানা, অজানা ইত্যাদি।
এরকম-নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে-পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৯১.
কোনটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বকাবকি
  2. সুবুদ্ধি
  3. বীণাপাণি
  4. ঘরমুখো
ব্যাখ্যা
⇒ ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য সংগঠিত হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক প্রকাশ করলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্বপদ বিশেষণ না হয়ে অন্যপদ হলে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বীণা পাণিতে যার= বীণাপাণি।
[এখানে বীণা (বাদ্যযন্ত্র) বা পাণি (হাত) উভয়ই বিশেষ্যপদ।]


অন্যদিকে,
⇒ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সুন্দর হৃদয় যার = সুহৃদ;
- সু বুদ্ধি যার = সুবুদ্ধি;
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী ইত্যাদি।

[এখানে সুন্দর ও ‘সু’ পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য। উভয়ে মিলে এই সমাস গঠিত হয়েছে বলেই একে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।]

⇒ ব্যতিহার বহুব্রীহি:
একই জাতীয় বিশেষ্যপদ পরপর বসে একই কাজের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি;
[হাত শব্দের পুনঃ ব্যবহার করে একটি কর্মপ্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়েছে।]

তেমনই- কোলাকুলি, চোখাচোখি, ফাটাফাটি, টানাটানি, বকাবকি, হাসাহাসি, লাঠালাঠি, গালাগালি, চুলাচুলি, কানাকানি ইত্যাদি।

⇒ প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পরে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস তৈরি হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- এক দিকে চোখ যার = একচোখ + আ = একচোখা,
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখ + ও = ঘরমুখো,
- দুই দিকে যার মন = দো + মন + আ = দোমনা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৯২.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. আলুসিদ্ধ
  2. শান্তশিষ্ট
  3. হাতঘরি
  4. চতুর্ভুজ
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ;
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

অন্যদিকে,
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘরি; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; কর্মধারয় সমাস।
• যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২৯৩.
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয়।
যেমন-
হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি 
চুলে চুলে যে লড়াই = চুলাচুলি
গালে গালে যে লড়াই = গালাগালি
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি
ঘুষিতে ঘুষিতে যে লড়াই = ঘুষাঘুষি
কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৪.
'গায়ে - হলুদ' কোন সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক বহুব্রীহি
  3. গ) অলুক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'গায়ে - হলুদ' হলো অলুক বহুব্রীহি সমাস৷
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়৷
যথা - মাথায়পাগড়ি, হাতে - খড়ি, গায়ে - পড়া, মাথায় - ছাতা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
২৯৫.
নিচের কোনটি নিপাতনে বহুব্রীহি সমাস?
  1. মাথায়পাগড়ি
  2. পন্ডিতমূর্খ
  3. অজ্ঞান
  4. কানাকানি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ।
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ।
- নরাকারের পশু যে = নরপশু।
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত।
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মাথায়পাগড়ি যার= মাথায়পাগড়ি। এটি অলুক বহুব্রীহি।
• নেই জ্ঞান যার - অজ্ঞান। এটি ন্ঞ বহুব্রীহি সমাস। 
• কানে কানে যে কথা= কানাকানি। ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তেপায়া
  2. খ) গায়ে-পড়া
  3. গ) গায়ে হলুদ
  4. ঘ) একচোখা
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনাে পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
- কানে কলম যার = কানে-কলম,
- গায়ে পড়ে যে = গায়ে-পড়া,
- হাতে বেড়ি যার = হাতে-বেড়ি,
- মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
- কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি। 

তিন পায়া যার = তেপায়া - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
এক দিকে চোখ বা দৃষ্টি যার = একচোখা - প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে হলুদ - মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৭.
'হাতে-বেড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. নিত্য সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়। যথা-
মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
গলায় গামছা যার = গলায়গামছা।
এরূপ-
হাতে-ছড়ি,
কানে-কলম,
হাতে-বেড়ি,
গায়ে-পড়া,
মাথায়-ছাতা,
মুখে-ভাত,
কানে-খাটো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৮.
'মৃগলোচনা' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. লোচন মৃগের ন্যায়
  2. লোচন মৃগীর ন্যায়
  3. মৃগের ন্যায় লোচন যার
  4. মৃগীর ন্যায় লোচন যার
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় লোচন যার = মৃগলোচনা

এরকম - ক্ষুরধার, গজানন, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৯.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি এর উদাহরণ?
  1. অজানা
  2. দোতলা
  3. আশীবিষ
  4. কানাকানি
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - কানাকানি।

• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
- এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যথা:
• হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
• কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

এমনি ভাবে - চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস।
যেমন -
- ঊন পাঁজর যার= ঊনপাঁজরে। 
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা (চোখ + আ)।
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ + ও)।
- দুই তলবিশিষ্ট বাড়ি = দোতলা।
এরকম,
- নি-খরচে, দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা ইত্যাদি।

• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় হাজির = গরহাজির;
- নয় হিসাব = বেহিসাবি;
- নয় কাতর = অকাতর;
- ন অশন = অনশন;
- নয় বুঝ = অবুঝ;
- নাই জানা = অজানা।
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০০.
নিচের কোন শব্দটি বহুব্রীহি সমাস সাধিত?
  1. ক) দ্বিচক্র
  2. খ) চৌরাস্তা
  3. গ) ধোয়ামোছা
  4. ঘ) বুদ্ধিজীবী
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : 
পূর্বপদে সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে । 
যেমন দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজী;
চার পায়া যার = চারপেয়ে ।
চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, 
সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।
 
সংজ্ঞা অনুসারে,
দুইটি চক্র (চাকা) আছে যার = দ্বিচক্র (যান বোঝাচ্ছে); এটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। 
 
অপরদিকে, 
চৌরাস্তা - দ্বিগু সমাস, 
ধোয়ামোছা - কর্মধারয় সমাস, 
বুদ্ধিজীবী - উপপদ তৎপুরুষ সমাস
 
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।