বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Muslim Law

মোট প্রশ্ন৪৮৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Muslim Law

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৮৬

২০১.
The Waqfs Ordinance, 1962 অনুসারে Administrator of Waqfs-এর মেয়াদ কত বছর?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(৩) অনুসারে, ওয়াকফ প্রশাসক (Administrator of Waqfs) সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিযুক্ত হন এবং তার মেয়াদ শেষে পুনর্নিযুক্তির যোগ্যতা রাখেন। এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রশাসকের নিয়োগ সরকার করে। মেয়াদের এই নির্ধারণটি প্রশাসকের স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

অর্থাৎ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(৩) স্পষ্টভাবে ৫ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করেছে, যা ওয়াকফ সম্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।
----------
⇒ The Waqfs Ordinance, 1962 Section-7. Appointment of the Administrator:
(1) The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.
(2) No person shall be appointed as Administrator unless he is a Muslim and possesses such qualifications as may be prescribed by the rules. 
(3) The Administrator shall ordinarily be appointed for five years, and shall be eligible for re appointment.

২০২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪(১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলে, আদালত-
  1. পুনরায় সাক্ষ্য নেবে
  2. রায় ঘোষণা করবে
  3. মোকদ্দমা অন্য আদালতে পাঠাবে
  4. মোকদ্দমা স্থগিত রাখবে
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪ (বিচারের সমাপ্তি):
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

২০৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারায় পারিবারিক আদালত অবমাননার শাস্তি উল্লেখ আছে?
  1. ২১ ধারায়
  2. ২৫ ধারায়
  3. ২৩ ধারায়
  4. ২০ ধারায়
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
২০৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. ঋণ → ওয়ারিসদের অংশ → অসিয়াত
  2. ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ
  3. অসিয়াত → ঋণ → ওয়ারিসদের অংশ
  4. ওয়ারিসদের অংশ → ঋণ → অসিয়াত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ।
⇒ প্রথমে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তারপর অসিয়াত (যা সর্বোচ্চ ১/৩ পর্যন্ত) কার্যকর করতে হবে, তারপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের সঠিক ক্রম নিম্নরূপ:
১) প্রথমে ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির সকল ঋণ (দেনা) প্রথমে পরিশোধ করতে হবে। এতে ব্যক্তিগত ঋণ, দেনমোহর ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
২) তারপর অসিয়ত (উইল) কার্যকর: ঋণ পরিশোধের পর অসিয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১/৩ সম্পত্তি বণ্টন করা যায় (শর্তসাপেক্ষে)। অসিয়ত শুধুমাত্র অ-ওয়ারিসদের জন্য প্রযোজ্য।
৩) সর্বশেষ ওয়ারিসদের অংশ: অবশিষ্ট সম্পত্তি কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টিত হবে।

উল্লেখ্য যে, অসিয়ত ওয়ারিসদের ক্ষতি করে না (অসিয়তের মাধ্যমে ওয়ারিসদের বঞ্চিত করা নিষিদ্ধ)। যদি ঋণ বা অসিয়ত সম্পত্তির সমস্ত অংশ নিয়ে যায়, তবে ওয়ারিসরা কিছুই পাবেন না।

উদাহরণ:
মৃত ব্যক্তির ১ লক্ষ টাকা সম্পত্তি, ২০,০০০ টাকা ঋণ ও ১০,০০০ টাকা অসিয়ত থাকলে:
- প্রথমে ২০,০০০ টাকা ঋণ পরিশোধ → অবশিষ্ট ৮০,০০০ টাকা।
- তারপর ১০,০০০ টাকা অসিয়ত দেওয়া → অবশিষ্ট ৭০,০০০ টাকা।
- শেষে ৭০,০০০ টাকা ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ।

২০৫.
জারজ সন্তান মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কী অবস্থায় থাকে?
  1. বৈধ উত্তরাধিকারী 
  2. আংশিক উত্তরাধিকারী
  3. উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত
  4. আদালতের অনুমতির উপর নির্ভর করে 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফিকহ) অনুযায়ী, জারজ সন্তান বা অবৈধ সম্পর্ক থেকে জন্মগ্রহণকারী সন্তান তার পিতা বা পিতার আত্মীয়দের কাছ থেকে কোন উত্তরাধিকার পায় না। এর প্রধান কারণ হলো:
১. বংশধারা স্বীকৃতি: মুসলিম আইনে বংশধারা কেবল বৈধ বিবাহের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। জারজ সন্তানের সাথে তার জৈবিক পিতার কোনো আইনি পিতৃত্বের সম্পর্ক থাকে না।
২. হাদিসের নির্দেশনা: ইসলামি শরিয়তে জারজ সন্তানের উত্তরাধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।
৩. মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার: তবে উল্লেখ্য, কিছু ফিকহি মতে জারজ সন্তান তার মাতা এবং মাতার আত্মীয়দের কাছ থেকে উত্তরাধিকার পেতে পারে, কারণ মাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় জন্মের মাধ্যমে। কিন্তু পৈতৃক দিক থেকে সে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত।
৪. শাস্তিমূলক দিক: এই বিধান অবৈধ যৌন সম্পর্ক নিরুৎসাহিত করার একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
- অতএব, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে "উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত"-ই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর।

২০৬.
‘ইজমা’ শব্দের অর্থ কী?
  1. মতভেদ
  2. যুক্তি প্রদান
  3. চুক্তি ভঙ্গ
  4. ঐকমত্যে পৌঁছা
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

⇒ অন্যান্য উৎসগুলো হলো-
ক. ইসতিহসান [Istihsan];
খ. ইসতিসলাহ [Istislah];
গ. ইসতিদলাল;
ঘ. ইজতিহাদ;
ঙ. তকলিদ।

ইজমা:
‘ইজমা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ ঐকমত্যে পৌঁছা। কোরআন হাদিসের মৌলিক বিষয়কে সামনে রেখে নতুন কোনো বিষয়ের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছার নাম ইজমা। সুতরাং রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম সমাজে শরিয়াহর কোনো বিধান সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মুজতাহিদদের মধ্যে সম্পাদিত সর্বসম্মত চুক্তির নাম ইজমা। উদাহরণস্বরূপ ‘নবী করিম (সা.) আমল অনুসরণে স্থিরীকৃত ইজমার ভিত্তিতে বাই আল-মুজাইয়াদাহ বৈধ বলে স্বীকৃত। বাই আল-মুজাইয়াদাহ হলো পণ্যের বিক্রেতা কর্তৃক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ, যা ক্রেতা প্রতিযোগিতামূলক সর্বোচ্চ মূল্যে ক্রয় করবে। যে ক্রেতা সর্বোচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হয়, বিক্রেতা তার কাছে পণ্য হস্তান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।’
২০৭.
কোরানিক অংশীদার কত জন?
  1. ৭ জন
  2. ১০ জন
  3. ১৫ জন
  4. ১২ জন
ব্যাখ্যা
⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
যথা- অংশীদার বলতে কোরানিক অংশীদারদেরকে বুঝানো হয়।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদী (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)
২০৮.
স্বামী কত বছর যাবত কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
২০৯.
মোহরানা আদায়ের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ কত বছর?
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর  ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে। উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
মুয়াজ্জল মোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী দাবী করে ব্যার্থ হওয়ার ০৩ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

অর্থাৎ মুসলিম আইন অনুযায়ী মোহরানা আদায়ের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর 
২১০.
Mutah under Mohammedan law means-
  1. a temporary marriage
  2. a permanent marriage
  3. a joint venture marriage
  4. an illegal marriage.
ব্যাখ্যা
- Mutah Marriage is a kind of marriage among the Muslims recognized only by Ithna Asharia Shias.
- Mutah in general sense can be defined as a temporary union of male and female for a specific time period after payment of certain consideration.
- The literal meaning of word ‘Mutah’ is ‘enjoyment’.
- Therefore, Mutah Marriage may also be regarded as marriage for the purpose of pleasure. In earlier days of Islam, when the Arabs had to live away from their homes for a considerably longer period of time either on account of wars or on trade-journeys, they used to satisfy their sexual desires through prostitutes.
- However, in order to avoid the growth of prostitution in society and to confer legitimacy upon children of such unions, temporary marriage was recognized and permitted by Prophet for some time.
২১১.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমার শুনানি কখন রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে পারে?
  1. সর্বদা
  2. শুধুমাত্র বাদীর অনুরোধে
  3. শুধুমাত্র বিবাদীর অনুরোধে
  4. আদালত উপযুক্ত মনে করলে
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১২(১) অনুসারে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত যখন উপযুক্ত মনে করবে, তখন মোকদ্দমার শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে (In Camera) অনুষ্ঠিত করতে পারবে।
- এছাড়াও, যদি উভয় পক্ষ (বাদী ও বিবাদী) রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানির জন্য অনুরোধ করেন, তাহলে আদালত সেটি মেনে নিতে পারে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক বিরোধের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং পক্ষগণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা বজায় রাখা।
এটি বিশেষ করে সংবেদনশীল পারিবারিক বিষয়ে প্রযোজ্য, যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ বা শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত মামলা।
--------- 
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
২১২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মা কোন শ্রেণির উত্তরাধিকারী?
  1. দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham)
  2. নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)
  3. অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং সন্তান থাকলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

২১৩.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. জারজ সন্তান
  2. নাবালক বৈধ সন্তান
  3. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান
  4. উল্লিখিত সকলেই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
- অর্থাৎ জারজ সন্তান - এটি সঠিক উত্তর। অবৈধ সম্পর্কে জন্মগ্রহণকারী সন্তান তার পিতা-মাতা কারো কাছ থেকেই উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না।
অন্যদিকে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন না:
- নাবালক বৈধ সন্তান - বৈধ বিবাহে জন্মগ্রহণকারী নাবালক সন্তান পূর্ণ উত্তরাধিকারের অধিকারী। শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পত্তি অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে।
- তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান - তালাকের পর গর্ভজাত সন্তানও বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হয় এবং পিতার সম্পত্তিতে পূর্ণ উত্তরাধিকার লাভ করে।

২১৪.
মুসলিম আইনে বিবাহ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)-
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil)-
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)-
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
২১৫.
কোন পরিস্থিতিতে মৃত মুসলিম ব্যক্তির স্ত্রী ১/৪ অংশ সম্পত্তি পাবেন?
  1. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান রেখে যান
  2. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো পুত্রের সন্তান রেখে যান
  3. যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে যান
  4. যদি মৃত ব্যক্তি শুধু কন্যা সন্তান রেখে যান
ব্যাখ্যা
• স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়-
i) ১/৪ অংশ;
ii)  ১/৮ অংশ।
 
ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
২১৬.
'ক' তার স্বামী ও ২ বোনকে রেখে মারা যায়। 'ক' এর সম্পত্তি স্বামীকে ৩/৭ অংশে ও ২ বোনকে ৪/৭ অংশ বণ্টন করে দেয়া হয়।এরুপ বণ্টনে কোন নীতি অনুসৃত হয়েছে?
  1. Aul (increase)
  2. Radd (return)
  3. Residuaries
  4. Sharers
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইন: Inheritance

স্বামী = ১/২ (সন্তান বা সন্তানের সন্তান নেই)
২ বোন = ২/৩ [সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), পিতা, পিতার পিতা (যত উর্ধ্বে হোক) নেই]

স্বামীর অংশ = ১/২ = ৩/৬,
২ বোনের অংশ = ২/৩ = ৪/৬

মোট সম্পত্তি = ৩/৬ + ৪/৬ = ৭/৬,
যা সম্পূর্ণ সম্পত্তি বা ১-এর চেয়ে বেশি। তাই আউলের নীতি প্রয়োগ করে অংশীদারদের অংশ তাদের অংশ অনুপাতে কমাতে হবে।

আউলের নীতি Aul (increase) প্রয়োগ করে:

স্বামী = ৩/৬ অংশ,
২ বোন = ৪/৬ অংশ।
এক্ষেত্রে ভগ্নাংশদ্বয়ের লবের যোগফল (৩+৪)=৭-কে হরের স্থানে প্রতিস্থাপন করে পাই:

স্বামী = ৩/৭,
২ বোন = ৪/৭,

: মোট সম্পত্তি = ৩/৭ + ৪/৭ = ৭/৭ = ১ বা সম্পূর্ণ অংশ।
২১৭.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারা রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) বিচার সংক্রান্ত বিধান করে?
  1. ধারা ১২
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৪
  4. ধারা ১১ 
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২ রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) বিচার পরিচালনার বিধান করে। আদালত স্বেচ্ছায় বা উভয়পক্ষের অনুরোধে মামলার সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যধারা রুদ্ধদ্বার কক্ষে পরিচালনা করতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে  বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।

২১৮.
নিচের কোন ব্যক্তি মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারবে না?
  1. বৈধ সন্তান
  2. হত্যাকারী
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো-
কেউ যেন উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য কাউকে হত্যা করতে প্ররোচিত না হয় (ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়)।
এটি একটি নৈতিক ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা যা ইসলামি শরিয়া ও বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে স্বীকৃত।

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।)
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

২১৯.
'ক', 'খ' -এর বরাবরে প্রদত্ত একটি হেবানামায় উল্লেখ করেন যে, "আমি যতদিন বেঁচে আছি সম্পত্তি ভোগ করবো এবং বিক্রয় বা দান করবো না, আমার মৃত্যুর পর তুমি মালিক হবে" দানটি-
  1. বৈধ
  2. অবৈধ
  3. অনিয়মিত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শর্তসাপেক্ষে দান:
- যদি কেউ কোনো সম্পত্তি, এমন শর্তে দান করে যার মাধ্যমে দান গ্রহীতাকে সম্পত্তিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বাধা নিষেধ দেয়া হয়, যেমন গ্রহীতা সেটি বিক্রি করতে পারবে না, তাহলে দানটি বৈধ হবে কিন্তু শর্তটি অবৈধ হবে।
- কেউ যদি ঘটনা সাপেক্ষে কোনো দান করে তাহলে দানটি অবৈধ হবে।
- কেউ যদি ভবিষ্যৎ সম্পত্তি দান করে তাহলেও দানটি অবৈধ হবে।
 -হেবা বা দান সাধারণত The Transfer of Property Act, 1882 অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
-মুসলিম আইন অনুসারে দান বা হেবার কোনো আইন বাংলাদেশে নেই। কিন্তু মুসলিম আইনের হেবার বিধানটি The Transfer of Property Act, 1882 তে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
- The Transfer of Property Act, 1882 এর ১২৩ নং ধারায় বলা হয়েছে। অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন মুসলিম আইনের দান অত্র আইনের অধীন কোনো দান বলে গণ্য হবে।
- The Registration Act, 1908 এর ১৭(১) (AA) ধারায় বলা হয়েছে- মুসলিম আইনের অধীন প্রত্যেকটি দান অবশ্যই নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে।

বর্ণিত দানটি ঘটনাসাপেক্ষ দান (Contingent Gift) তাই এটি অবৈধ হবে।
সম্ভাব্য কোনো ঘটনাসাপেক্ষে কিছু দান করা হলে এমন দান বৈধ হবে না। আলোচ্য প্রশ্নের দানটি দাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হবে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো একটি ঘটনা ঘটার শর্তে দান। ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটা সাপেক্ষে কিছু দান করা হলে তা অবৈধ হবে। পাশাপাশি হেবার ক্ষেত্রে-সম্পত্তি তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করতে হয়।
২২০.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা কোন শ্রেণির উত্তরাধিকারী?
  1. দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham)
  2. নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)
  3. অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং কোরআনে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত -
- নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) → যাদের অংশ কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) → যারা নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
- দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) → যারা নির্দিষ্ট অংশীদার বা আসাবা না হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে উত্তরাধিকার পায়।

⇒ পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, এবং তার জন্য কোরআনে নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১/৬) বর্ণিত আছে, এজন্য তিনি Zawil Furud শ্রেণিতে পড়েন।
তবে পিতা অনেক ক্ষেত্রে Asaba হিসেবেও সম্পত্তি পান (যেমন সন্তান না থাকলে অবশিষ্টাংশ পাওয়া), কিন্তু তার মূল পরিচয় Zawil Furud হিসেবে।
অতএব, পিতা মূলত নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু পরিস্থিতিতে তিনি আসাবা হিসেবেও লাভবান হন।

২২১.
মুসলিম আইনের অধীন কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে, পারিবারিক আদালত কত দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে ডিক্রির প্রতিলিপি প্রেরণ করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।

(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।
২২২.
'ক' একজন হানাফী মুসলিম। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী 'খ' কে একমাত্র উত্তরাধিকারী রেখে যায়। এক্ষেত্রে 'খ' এর সম্পত্তির সঠিক বণ্টণ কীভাবে হবে?
  1. শুধু ওয়ারিশ হিসেবে 'খ' সকল সম্পত্তি পাবে
  2. 'খ' ১/২ অংশ পাবে এবং বাকি সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হবে
  3. 'খ' ১/৪ অংশ পাবে এবং বাকি সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হবে
  4. ওয়ারিশ হিসেবে এবং রদের নীতি অনুযায়ী 'খ' সমুদয় সম্পত্তি পাবে
ব্যাখ্যা

উল্লিখিত প্রশ্নে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী। তাই, প্রথমে অংশীদার হিসেবে ১/৪ অংশ পাবে (যেহেতু সন্তান নেই, সন্তান থাকলে ১/৮ অংশ)। এখন স্ত্রীকে ১/৪ অংশ দেওয়ার পরও, ৩/৪ অংশ সম্পত্তি অবশিষ্ট থেকে যাচ্ছে। তাই রদের নীতি প্রযোজ্য হবে।

সাধারণ নীতি অনুসারে, স্ত্রী রদে ফেরত সম্পত্তি না পেলেও যেহেতু এখানে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী, সেহেতু (রদে ফেরত) বাকি ৩/৪ অংশ সম্পত্তি স্ত্রী পাবে। 

রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি-
মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

• রদের নীতি-
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়। তাহলে সে রদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।

২২৩.
তালাক-ই-আহসান (Ahsan) কখন কার্যকর হয়?
  1. তৃতীয় তুহর শেষে
  2. তৃতীয় তালাক উচ্চারণের পর
  3. ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পর
  4. তালাক দেওয়ার সাথে সাথে
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;
ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan):
স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan):
স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
২২৪.
স্বামী কর্তৃক দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রতিকার চেয়ে সেই পারিবারিক আদলতে মামলা দায়ের করা যাবে না, যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে -
  1. স্ত্রী সচরাচর বসবাস করেন না
  2. মামলা দায়েরের কারণ উদ্ভব হয়েছে
  3. মামলা দায়েরের আংশিক কারণ উদ্ভব হয়েছে
  4. মামলার পক্ষগণ একত্রে বসবাস করে বা সর্বশেষ বসবাস করেছেন
ব্যাখ্যা
⇒ Section 6. Institution of suit:
(1) Every suit under this Ordinance shall be instituted by the presentation of a plaint to the Family Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the cause of action has wholly or partly arisen; or 
(b) the parties reside or last resided together: 
Provided that in suits for dissolution of marriage, dower or maintenance, the Court within the local limits of whose jurisdiction the wife ordinarily resides shall also have jurisdiction.

অর্থাৎ স্বামী কর্তৃক দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রতিকার চেয়ে সেই পারিবারিক আদলতে মামলা দায়ের করা যাবে না, যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে স্ত্রী সচরাচর বসবাস করেন না।
২২৫.
বিলম্বিত দেনমোহরের অপর নাম কী?
  1. আশু দেনমোহর
  2. মুয়াজ্জল দেনমোহর
  3. মুঅজ্জল দেনমোহর
  4. জরুরি দেনমোহর
ব্যাখ্যা

দেনমোহর:
দেনমোহর হচ্ছে প্রত্যেক বিবাহিত মুসলিম নারীর আইনগত অধিকার যা পুরুষ কর্তৃক পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। অন্য ভাষায় বলা যায়, দেনমোহর হচ্ছে স্ত্রীর নিকট স্বামীর জামানতবিহীন ঋণ যা পরিশোধ করা শুধু কর্তব্যই না বরং বাধ্যতামূলক।

দেনমোহরের প্রকারভেদ:
মুসলিম শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে মুয়াজ্জল বা আশু দেনমোহর যা স্ত্রী দাবী করা মাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। মুয়াজ্জল দেনমোহর আবার তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবেও পরিচিত।

আরেক ধরনের দেনমোহর হচ্ছে মুঅজ্জল বা বিলম্বিত দেনমোহর। এ দেনমোহর শুধুমাত্র তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে দাবী করা যায়। অন্যথায়, মুঅজ্জল দেনমোহর দাবী করা যায় না।

দেনমোহর কখন নির্ধারণ করতে হয়:
দেনমোহর বিবাহের সময়, পূর্বে বা পরে যে কোন সময় নির্ধারণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। তবে দেনমোহর ব্যতীত কোন বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে না। স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় দেনমোহর মাফ করে দেন তবে সেটা ব্যতিক্রম বিষয়। অন্যথায়, দেনমোহরের অস্তিত্ব বাধ্যতামূলক।

২২৬.
একজন হানাফি মুসলিম ২০২১ সালে ৪ স্ত্রী ও পিতাকে রেখে মারা যান। তার সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন হিসাবটি সঠিক?
  1. পিতা ৫/৫, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৬
  2. পিতা ২/৩৪ স্ত্রী একত্রে ১/৩
  3. পিতা ৭/৮, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৮
  4. পিতা ৩/৪, ৪ স্ত্রী একত্রে ১/৪
ব্যাখ্যা
⇒ স্ত্রীর অংশ:
স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
ক) ১/৪ অংশ; ও খ) ১/৮ অংশ;

ক. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। 

খ. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।

♦ যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে সব স্ত্রী মিলে ১/৪ অংশ বা ক্ষেত্র বিশেষে ১/৮ অংশ সম্পত্তি পাবে যেন একজন স্ত্রী বিদ্যমান আছে।

⇒ সন্তান না থাকলে স্ত্রীর অংশ- ১/৪ অংশ, অর্থাৎ স্ত্রী ১/৪ অংশ অনুপাতে সম্পত্তি পায়।
- এখানে এই ব্যক্তির যেহেতু সন্তান নেই ৪ জন স্ত্রী একই সাথে ১/৪ অংশ হারে সম্পতি পাবে।
- বাকি (১-১/৪ অংশ) অর্থাৎ ৩/৪ অংশ পিতা- আসাবা হিসাবে পাবে।
২২৭.
পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িককে অনধিক কত মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া যায়?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ২ মাস
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িক (judgement debtor)-কে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যায়।
 
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।
 
ধারা ১৭- ডিক্রি বলবৎকরণ:
 
(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।
 
(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
 
(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা :
 
(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা
 
(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।
 
(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
 
(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
 
(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
 
(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।
 
(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
২২৮.
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম (১৯৯৫) মামলার রায় অনুযায়ী, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভরণপোষণ কতদিন পর্যন্ত চলবে?
  1. আজীবন
  2. স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী
  3. শুধুমাত্র ইদ্দতকাল পর্যন্ত
  4. ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ না পুনরায় বিয়ে হয়
ব্যাখ্যা

'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”

২২৯.
Where no details about the mode of payment of dower are specified in the nikah nama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be _________.
  1. not payable
  2. payable on demand
  3. payable after specified time
  4. None of above
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961: Section 10- Dower:
Where no details about the mode of payment of dower are specified in the nikah nama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be payable on demand.

ধারা ১০- দেনমোহর:
যেক্ষেত্রে দেনমোহরের টাকা পরিশোধের পন্থা কাবিননামায় অথবা বিবাহের চুক্তিতে বিস্তারিতভাবে নির্দিষ্ট করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে দেনমোহরের মোট পরিমানই চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য বলে ধরে নেয়া হবে।
২৩০.
মোহরানা বা দেনমোহরের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বৎসর
  2. ২ বৎসর
  3. ৩ বৎসর
  4. ৪ বৎসর
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর  ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে। উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
২৩১.
হানাফী আইন অনুযায়ী মোট কত শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে?
  1. ২ শ্রেণি
  2. ৩ শ্রেণি
  3. ৪ শ্রেণি
  4. ৫ শ্রেণি
ব্যাখ্যা

⇒ হানাফী আইন অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) প্রয়োগের অধিকার মোট ৩ শ্রেণির ব্যক্তির আছে। এরা হলো: (১) শাফি-ই-শরিক (সহ-অংশীদার বা যৌথ মালিক), (২) শাফি-ই-খালিত (সুবিধাসমূহের অংশগ্রহণকারী, যেমন পথ চলাচলের অধিকারী), এবং (৩) শাফি-ই-জার (সংলগ্ন বা পার্শ্বর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক)। এই শ্রেণিগুলো অগ্রক্রয়ের অধিকারের ক্রমানুসারে প্রয়োগ হয়।

⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

২৩২.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, স্বামী একাধারে কয় বছর নিরুদ্দেশ থাকলে স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে?
  1. ৪ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

২৩৩.
পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের পর বিবাদীর উপস্থিতির জন্য সাধারণত কত দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়? 
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭(১)(ক) অনুসারে, আদালতে আরজি (আবেদন) দাখিলের পর আদালত সাধারণভাবে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করে বিবাদীকে হাজির হওয়ার ও লিখিত জবাব দাখিলের জন্য।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭: সমন ও নোটিশ জারিকরণ:
(১) পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করিবার পর আদালত নিম্নরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করিবে, যথা:-
(ক) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য সাধারণভাবে অনধিক ৩০(ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্যকরণ;
(খ) বিবাদীর প্রতি নির্ধারিত তারিখে হাজির হইবার এবং জবাব প্রদানের জন্য সমন জারি;
(গ) বিবাদীর নিকট প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংবলিত রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোকদ্দমার নোটিশ প্রেরণ; এবং
(ঘ) উপরিউক্ত দফা (খ) ও (গ) এর অধীন সমন জারি ও নোটিশ প্রেরণের পাশাপাশি আদালত, বাদী কর্তৃক খরচ বহন করিবার শর্তে, আরজিতে উল্লিখিত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাদী কর্তৃক সরবরাহকৃত বিবাদীর ইমেইল ঠিকানায় সমন জারি করিবেন, তবে ইমেইল ঠিকানার সঠিকতা সম্পর্কে আদালত সন্তুষ্ট হইলে উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রত্যেকটি সমন এবং প্রেরিত নোটিশের সহিত আরজির নকল এবং ধারা ৬ এর উপধারা (৫) ও (৬) এ উল্লিখিত দলিলসমূহের তালিকার অনুলিপি সংযুক্ত করিতে হইবে।
(৩) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ নং আদেশের বিধি ৯(১), ৯(২), ৯(৪), ৯(৫), ৯এ, ১০, ১১, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯এ, ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৫(১), ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করিতে হইবে এবং উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশ বিবাদীর উপর তখনই যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যখন বিবাদী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয় অথবা আদালত নোটিশ বহনকারী ডাকটি ডাক কর্মচারীর এই মর্মে লিখিত মন্তব্যসহ ফেরত পান যে, নোটিশ বহনকারী ডাক বিবাদীকে প্রদানে যাচনা করিবার পর তিনি উহা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়াছেন:
তবে শর্ত থাকে যে, নোটিশ যথাযথভাবে ঠিকানাযুক্ত অগ্রিম প্রদত্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে যথাযথভাবে প্রেরিত হইয়া থাকিলে নোটিশ ডাকে দেওয়ার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর যদি প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি হারাইয়া যায় বা ভুল ঠিকানায় চলিয়া যায় বা অন্য কোনো কারণে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত না হয় তাহা হইলে বিবাদীর উপর উহা যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন প্রেরণ সংক্রান্ত খরচ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন সমন জারির খরচের ন্যায় হইবে এবং উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশের ডাক খরচ আরজি দাখিলের সময় বাদী কর্তৃক প্রদেয় হইবে।

২৩৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি কখন পাস করা যাবে?
  1. রায় হওয়ার পর
  2. রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
  3. ২ বছর কারাবাসের পর
  4. ৫ বছর কারাবাসের পর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাস করা যাবে। 
- এই ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

প্রদত্ত অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
ক) রায় হওয়ার পর : এটি সঠিক নয়, কারণ রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিক্রি পাস করা যায় না।
খ) রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর: এটি সঠিক উত্তর। রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল ডিক্রি পাস করা যাবে।
গ) ২ বছর কারাবাসের পর: এটি ভুল, কারণ কারাবাসের সময় নয়, রায়ের চূড়ান্ততা বিবেচ্য।
ঘ) ৫ বছর কারাবাসের পর: এটি ভুল, কারণ কারাবাসের সময় নয়, রায়ের চূড়ান্ততা বিবেচ্য।

সঠিক উত্তর: খ) রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর। কারণ, এই আইন অনুযায়ী, ডিক্রি পাস করার আগে রায় চূড়ান্ত হওয়া আবশ্যক।
২৩৫.
নিম্নোক্তদের মধ্যে কে অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত?
  1. শাফি-ই-খালিত
  2. শাফি-ই-জার
  3. শাফি-ই-শরিক
  4. সম্পত্তির উত্তরাধিকারী
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ
এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।
২৩৬.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েরা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য কত বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারে?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ধারা ২(৭) অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের আগে বিবাহিত মেয়েরা ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিবাহ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

২৩৭.
মোট সম্পত্তির কত অংশের বেশি উইল করা যাবে না?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

• আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

• যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না।

- উইল করার ক্ষমতা অসীম নয়। কোনো উইল এর মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি উইল করা যাবে না। কোনো মুসলিম তার মৃত্যুর পর কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচাদি এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না।

- কোনো ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের অধিক উইল করলে তা কার্যকর হবে না। তবে তার উত্তরাধিকারীগণ উক্ত উইলো সম্মতি দিলে তা কার্যকর হবে।
২৩৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর আদালত কত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে প্রতিলিপি প্রেরণ করবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীন সংঘটিত বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার/সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে ডিক্রির প্রত্যায়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করতে বাধ্য। 

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।
(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।

২৩৯.
পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য
  2. বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য
  3. ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ বলবৎ হওয়ার পর একটি বিতর্ক দেখা দেয়। বলা হয় যে, পারিবারিক আদালত কি মুসলমানদের জন্য একটি আদালত। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এখানে মামলা করতে পারবে না।

সর্বপ্রথম Krishnapada Talukdar V Geetasree Talukdar 14 (1994) BLD 415 নামক মামলায় এরকম প্রশ্ন দেখা দেয়। এই মামলায় প্রশ্ন উঠে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবে কিনা। এই মামলার রায়ে বলা হয়- এই আইনের বিধান শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য। এই সংকটটি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।

Pochon Rikssi Das Vs Khuku Rani Dasi and others 50 (1998) DLR(HCD) 47 মামলায় এই সংকটটি চূড়ান্ত ভাবে দূর করা হয়। তিন জন বিচারকের সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ এটা বহাল রাখে যে, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের জন্য।

এই আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। তাছাড়া, এই আইনে শুধুমাত্র 'পারিবারিক' কথাটি উল্লেখ রয়েছে এবং ধারা ১ এ বলা হয়েছে-  ইহা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশে প্রয়োগ হইবে। অর্থাৎ এই পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
২৪০.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুসারে কত বছর যাবৎ স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবে?
  1. চার বছর
  2. তিন বছর
  3. দুই বছর
  4. এক বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(১)(ii)অনুযায়ী, যদি স্বামী দুই বছর যাবত স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হন বা অবহেলা করেন, তবে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবেন।
- সঠিক উত্তর: গ) দুই বছর।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারার বিধান: বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদ:
নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথা:

i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;
ii) স্বামী দুই বছর যাবত স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;
ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
iii) স্বামী সাত বছর বা তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে;
iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;
v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;
vi) দুই বছর  যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;
vii) আঠার বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেতাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বছর বয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐসময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;
viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাৎ
ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বানিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবনশোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.
খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা
গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা
ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা
ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা
চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;
ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ
তবে অবশ্য-
ক) কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,
খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহারপ্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়ের মধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এইমর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুতরহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং
গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বছরের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতাহইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মেআদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদিসে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্তহেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।

২৪১.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

২৪২.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করালে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে?
  1. ১ হাজার টাকা
  2. ২ হাজার টাকা
  3. ৩ হাজার টাকা
  4. ৫ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ যে আইনি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বামী ও স্ত্রীর আইনগত মর্যাদা সৃষ্টি এবং সে মর্যাদা হতে উদ্ভুত আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ সৃষ্টি করে তাকে বিবাহ বলে।

মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

⇒ বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
- মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
- The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
- এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)
------------------------ 
⇒Section-5: Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
২৪৩.
উইল কার্যকর হওয়ার আগে কোন খরচগুলো আগে মেটানো হয়?
  1. দান-খয়রাত
  2. আদালতের ফি
  3. উত্তরাধিকারীদের ভরণ-পোষণ
  4. দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, উইল (অসিয়ত) কার্যকর হওয়ার আগে নিম্নলিখিত খরচগুলো পরিশোধ করতে হয় অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্রমে:
১. দাফন-কাফনের যাবতীয় খরচ (মৃত্যু পরবর্তী দাফন, কাফন, জানাজার ব্যবস্থা ইত্যাদি)
২. মৃত ব্যক্তির বৈধ ঋণ পরিশোধ (যদি কোনো ঋণ থাকে)
৩. উইল কার্যকর (শুধুমাত্র অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত)
৪. অবশিষ্ট সম্পত্তি উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বণ্টন
- অর্থাৎ, উইল কার্যকর করার আগে প্রথমেই দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এরপরই উইলের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
- সুতরাং, উইল কার্যকর হওয়ার আগে দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ প্রথমেই করতে হয়।

২৪৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান আছে?
  1. ৯ ও ১০ ধারা
  2. ১০ ও ১৩ ধারা
  3. ১১ ও ১৪ ধারা
  4. ২১ ও ২৪ ধারা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ও ১৪ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরনের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)।

ধারা ১১- বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।ণ(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

ধারা ১৪- বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।
২৪৫.
যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে সে মোট সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ২/৩
  2. ১/২
  3. ১/৬
  4. ১/৪
ব্যাখ্যা
ছেলে-কন্যা: স্বামী/স্ত্রী এবং বা-মার অংশ দেওয়ার পর যা থাকবে তা সম্পূর্ণ মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে।
- ছেলের সঙ্গে মেয়ে থাকলে প্রত্যেক কন্যা প্রত্যেক ছেলের (১/২) অর্ধেক হারে পাবে।
- যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে।
- আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে। 

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন।
২৪৬.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধনের জন্য যে ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয় তাদের কী বলা হয়?
  1. কাজি
  2. বিবাহ অফিসার
  3. নিকাহ রেজিস্ট্রার
  4. নিকাহ অফিসার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার এই আইনের অধীনে নিকাহ রেজিস্ট্রার (Nikah Registrar) লাইসেন্স প্রদান করে থাকেন।
এদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
অর্থাৎ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিকাহ রেজিস্ট্রার বলা হয়।
তাদের মূল দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রমাণ হিসেবে সরকারি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা।
"কাজি" শব্দটি প্রচলিত ও ধর্মীয়ভাবে ব্যবহৃত হলেও, আইনের ভাষায় এবং সরকারি নথিতে তাদের আনুষ্ঠানিক পদবী হলো নিকাহ রেজিস্ট্রার।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 Section 4: Nikah Registrars: 
- For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licences to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify:
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area.
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.

২৪৭.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুসারে মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আরজিতে নিম্নবর্ণিত কোন বিষয়টি উল্লেখ থাকিবে না?
  1. বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
  2. যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি
  3. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হইবে উহার নাম
  4. বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে তৎসংশ্লিষ্ট একটি বিবরণী
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুসারে মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আরজিতে "যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি" বিষয়টি উল্লেখ থাকিবে না

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৬ ধারার বিধান: মোকদ্দমা দায়ের:
(১) এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে-
(ক) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা
(খ) পক্ষগণ একত্রে বসবাস করেন বা সর্বশেষ বসবাস করিয়াছিলেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় সেই আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে, যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী সাধারণত বসবাস করেন।
 
(২) যে-ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ারবিহীন আদালতে কোনো আরজি দাখিল করা হয় সেইক্ষেত্রে-
(ক) আরজিটি যে আদালতে দাখিল করা সমীচীন ছিল সেই আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়া হইবে; এবং
(খ) আরজি ফেরত প্রদানকারী আদালত ইহার নিকট আরজি দাখিলের ও ফেরত প্রদানের তারিখ, দাখিলকারীর নাম ও ফেরত প্রদানের কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ আরজির উপর লিপিবদ্ধ করিবেন।
 
(৩) আরজিতে বিরোধ সম্পর্কিত সকল অত্যাবশ্যকীয় তথ্যাদির উল্লেখ থাকিবে এবং উহার একটি তপশিল থাকিবে, যাহাতে আরজির সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার উল্লেখ থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, বাদী পরবর্তী যেকোনো সময়, যেকোনো সাক্ষীকে আদালতে হাজির করিতে পারিবেন।
 
(৪) আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহেরও উল্লেখ থাকিবে, যথা:-
(ক) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হইবে উহার নাম;
(খ) বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান;
(গ) বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান;
(ঘ) বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে তৎসংশ্লিষ্ট একটি বিবরণী;
(ঙ) মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্যাবলি এবং তাহা যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হইয়াছে;
(চ) আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্যাবলি; এবং
(ছ) বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার।
 
(৫) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন, সেইক্ষেত্রে তিনি আরজি দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি আরজির সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্তরূপ দলিল আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায়ও উহা অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
 
(৬) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন, যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলটি আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া সংশ্লিষ্ট দলিলটি যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
 
(৭) উপধারা (৫) ও (৬) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাটিতে যতসংখ্যক বিবাদী রহিয়াছেন তাহার দ্বিগুণসংখ্যক আরজির অবিকল নকল উক্ত বিবাদীগণের উপর জারির জন্য আরজির সহিত দাখিল করিতে হইবে।
 
(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।
 
(৯) যেক্ষেত্রে আরজি দাখিল করিবার সময় বাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল, তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা তাহার পক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না:
 
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত এইরূপ অনুমতি প্রদান করিবে না।
২৪৮.
An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called-
  1. Imam
  2. Mujtahid
  3. Mujahideen
  4. Muslim
ব্যাখ্যা
⇒ An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called mujtahid (Arabic: مُجْتَهِد, "diligent"). an authoritative interpreter of the religious law of Islame specially : a living religious teacher that is recognized by the Shiʽa as competent to exercise private judgment in formulating authoritative answers to legal questions.

⇒ There are some specific criteria that must be satisfied for a person to be eligible to make an ijtihad. The person who can make an ijtihad is known as 'Mujtahid' who must have, inter alia, an in depth knowledge and understanding of Islam.

⇒ Ijtihad is one of the dependent sources of Islamic law. If a matter not resolved expressly in a Quran, Sunnah and by way of Ijma the jurist must not leave the matter unresolved rather he should strive hard to find out the solution under the light of Quran and Sunnah.

⇒ In Islamic law the use of individual reasoning in general is called Ijtihad or Ijtihad al-ra'y, and Mujtahid is the qualified lawyer who uses it. "Exertion" is the literal meaning of Ijtihad. In general usage, this Arabic word denotes the utmost effort, physical or mental, expended in a particular activity. In its Islamic and technical legal connotation, it denotes the thorough exertion of the jurist's mental faculty in finding a solution for a case of law. Ijtihad therefore is 'the logical deduction on a legal or theological question by a Mujtahid or learned and enlightened doctor, as distinguished from Ijma, which is the collective opinion of a council of divines.'
২৪৯.
আকরাম ৪০ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। রেখে গেল বাবা, স্ত্রী রেহানা, দুই ভাই ও এক মেয়ে মিতা। এক্ষেত্রে তার সম্পত্তিতে বাবা কত অংশ পাবে?
  1. ১২/২৪ অংশ
  2. ৪/২৪ অংশ
  3. ৯/২৪ অংশ
  4. ৩/২৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার:

স্ত্রী: বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

কন্যা: যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে। আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে।

বাবার অংশ: বাবা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যতই নিচের হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ।

যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।

• উল্লিখিত প্রশ্নে,

⇒ স্ত্রী রেহেনা পাবে সম্পত্তির ১/৮ বা ৩/২৪ অংশ [যেহেতু সন্তান আছে];
⇒ মিতা পাবে সম্পত্তির ১/২ বা ১২/২৪ অংশ [যেহেতু একমাত্র কন্যা] এবং
⇒ বাবা অংশীদার হিসেবে ১/৬ বা ৪/২৪ অংশ [ যেহেতু মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান আছে];

মোট= ১/৮ + ১/২ + ১/৬ অংশ
= ১৯/২৪ অংশ।

অবশিষ্ট= ১ - ১৯/২৪ অংশ
= ৫/২৪ অংশ।

অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাবা বাকি ৫/২৪ অংশ পাবে।
অর্থাৎ বাবা মোট পায়= ৯/২৪ অংশ।

উল্লেখ্য, বাবা জীবিত থাকায় এক্ষেত্রে ভাইয়েরা কোন সম্পত্তি পাবে না।
২৫০.
ওয়াকফের উদ্দেশ্য হতে হবে-
  1. ধর্মীয়
  2. দাতব্য
  3. ব্যক্তিগত
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
ওয়াকফ আরবি শব্দ, এর অর্থ ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত কোনো সম্পত্তির হেফাজত করা। ১৯১৩ সালের ওয়াকফ বৈধকরণ আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, 
“ওয়াকফ” বলতে বোঝায়:
- একজন মুসলমান ব্যক্তি কর্তৃক
- যেকোনো সম্পত্তিকে
- স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা,
- এমন উদ্দেশ্যে যা মুসলিম আইনে ধর্মীয়, পুণ্য বা দাতব্য হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়াকফ সৃষ্টি করার মুসলমানের ক্ষমতা (ধারা ৩)
যে ব্যক্তি মুসলমান ধর্মে বিশ্বাসী, তিনি মুসলিম আইনের বিধান অনুযায়ী ওয়াকফ তৈরি করতে পারেন এবং তা নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য বৈধ উদ্দেশ্যের জন্য হতে পারে:
(ক) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিজের পরিবার, সন্তান বা উত্তরসূরিদের ভরণপোষণ ও সহায়তার জন্য।
(খ) যদি ওয়াকফকারী ব্যক্তি হানাফি মুসলমান হন, তাহলে তিনি ওয়াকফের সম্পত্তি থেকে পাওয়া ভাড়া ও মুনাফা থেকে— নিজের জীবদ্দশায় ভরণপোষণের জন্য, অথবা নিজের দেনা পরিশোধের জন্য ওয়াকফ করতে পারেন।

তবে শর্ত হচ্ছে: এই ক্ষেত্রে ওয়াকফে যেসব সুবিধা রাখা হবে, তার চূড়ান্ত উপকারভোগী হতে হবে গরিবরা, অথবা ইসলামী আইনে ধর্মীয়, পুণ্য বা দাতব্য স্থায়ী উদ্দেশ্যে যেসব বিষয় স্বীকৃত, সেসব উদ্দেশ্যে তা ব্যয়যোগ্য হতে হবে।
২৫১.
Shayara Bano Vs. Union of India (2017) case is related with-
  1. Mahr
  2. Divorce
  3. Triple Talaq
  4. Muta marriage
ব্যাখ্যা

তিন তালাক মামলা (Shayara Bano v. Union of India, 2017):
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে ঘোষণা করে যে, তিন তালাক (Triple Talaq বা Talaq-e-Biddat) অসাংবিধানিক ও স্বেচ্ছাচারী। 

ঘটনাপ্রবাহ (Facts of the Case):
আবেদনকারী শায়ারা বানু (Shayara Bano) ও তার স্বামী রিজওয়ান আহমদ (Rizwan Ahmad)-এর বিবাহ ১১ এপ্রিল ২০০১ সালে শরিয়ত মোতাবেক সম্পন্ন হয়। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০১৫ সালে রিজওয়ান আহমদ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনবার “তালাক, তালাক, তালাক” উচ্চারণ করে ত্রিপল তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শায়ারা বানু সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন এবং তিন তালাকের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।

সিদ্ধান্ত (Conclusion):
- আদালত ঘোষণা করে, তিন তালাক অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
- আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয়, যেন মুসলিম বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত প্রথা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২৫২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, আরজি খারিজ হওয়ার কারণ কোনটি হতে পারে?
  1. আরজির সাথে তপশিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে
  2. সমন জারির খরচ বা নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ না হলে
  3. ধারা ২৫ অনুযায়ী ফি পরিশোধ না হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) অনুযায়ী, আরজি নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে খারিজ হতে পারে-
(ক) আরজির সাথে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে,
(খ) সমন জারির খরচ ও নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ করা না হলে,
(গ) ধারা ২৫ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা না হলে।
- এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে আদালত আরজি গ্রহণ করবে না বা তা খারিজ করে দিতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর “উপরে সকল কারণ” অর্থাৎ ঘ)।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

২৫৩.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি স্বামীর অবস্থান অজানা থাকে:
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(১) অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি তার স্বামীর অবস্থান ৪ বছর ধরে অজানা থাকে। অর্থাৎ, যদি স্বামী ৪ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকেন এবং তার কোনো খোঁজ না পাওয়া যায়, তাহলে মহিলা আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

- এই বিধানটি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন স্বামী দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কোনো সংবাদ বা অবস্থান জানা যায় না।
- এই সময়সীমা (৪ বছর) আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহিলাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে যাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকেন।
- এই ভিত্তিতে ডিক্রি পাস হওয়ার পর, যদি স্বামী ৬ মাসের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হন, তাহলে আদালত ডিক্রি বাতিল করতে পারেন।
২৫৪.
'ক' এর পুত্র 'খ' ১৯৬০ সনে মারা যান। ১৯৬২ সনে 'ক' ১ পুত্র এবং মৃত পুত্রের ১ পুত্র রেখে মারা যান। The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুযায়ী মৃত পুত্র 'খ' এর পুত্রের অংশ হবে-
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১৯৬১ সনের অধ্যাদেশ জারীর আগে 'খ' এর মৃত্যু হওয়ায় তার পুত্র সম্পত্তি পাবে না।
ব্যাখ্যা
Doctrine of Representation: MFLO, 1961 এর 4 ধারা মোতাবেক:

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, Section 4 অনুযায়ী 'খ' বেঁচে থাকলে যে অংশ পেত, 'খ' এর পুত্র তা পাবে। সুতরাং, মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ 'ক' এর জীবিত পুত্র এবং বাকি ১/২ অংশ 'খ' - এর পুত্র পাবে।

উল্লেখ্য:
যেহেতু MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'ক' ১৯৬২ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'খ'-এর ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।
২৫৫.
মুসলিম আইনানুযায়ী কোনটি ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য নয়?
  1. মসজিদে আলোর ব্যবস্থা করা
  2. পয়ঃপ্রণালি নির্মাণ
  3. ভিক্ষুককে অর্থ দান
  4. ২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
- মালিকানার দাবি না রেখে ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তি উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলা হয়৷ ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ অনুসারে কোন মুসলমান দ্বারা ধর্মীয় , পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা কে ওয়াকফ বলা হয়। যিনি ওয়াকফ করে তাকে ওয়াকিফ বলে।
-১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে যে:
কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ী ভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়।

ওয়াকফ দুই প্রকারঃ-
১- ওয়াকফ লিল্লাহ (ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা) এবং 
২- ওয়াকফ আল-আওলাদ ( সম্পত্তি ওয়াকফ করে তার আয় হতে নিজের সন্তান সন্ততি বা তার বংশধর বা নিজের ভারণ পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে বংশধরদের মৃত্যুর পরে ওয়াকফ সম্পত্তির আয় দাতব্য বা ধর্মীয় কাজে ব্যয়িত হবে।

প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী, ওয়াকফ চিরস্থায়ী হতে এবং চিরতরে স্থায়ী উদ্দেশ্যে করা হয়। অর্থাৎ উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে ‘২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান’ যা চিরস্থায়ী নয়, তা ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে না।
২৫৬.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন সালিশী কাউন্সিল কোন মর্মে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারে?
  1. তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  2. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  3. বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা ৯- ভরণপোষণ

১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

Section 9- Maintenance
(1) If any husband fails to maintain his wife adequately, or where there are more wives than one, fails to maintain them equitably, the wife, or all or any of the wives, may in addition to seeking, any other legal remedy available apply to the Chairman who shall constitute an Arbitration Council to determine the matter, and the Arbitration Council may issue a certificate specifying the amount which shall be paid as maintenance by the husband. 
 
(2) A husband or wife may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision of the certificate to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 
 
(3) Any amount payable under sub-section (1) or (2), if not paid in due time, shall be recoverable as arrears of land revenue.
২৫৭.
"হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ" এর বৈশিষ্ট্য কোনটির সাথে তুলনীয়?
  1. যৌথ খরচ
  2. নিঃস্বার্থ দান
  3. বিক্রয় চুক্তি
  4. ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব
ব্যাখ্যা
হেবা:
কোন একজন মুসলিম অন্য কোন একজন মুসলমানকে কোন প্রকার বিনিময় ব্যাতিত সম্পত্তি হস্তান্তর করাকে হেবা বলে। দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। হেবার মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তার ওয়ারিশদের বা অন্য কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতেপারেন। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন- ১৮৮২ অনুযায়ী কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিস্বেচ্ছায় কোনো বিনিময় ব্যাতিত অন্য কার কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করে দেওয়াকে হেবা বলে।

কোন হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরন করতে হবে
- হেবার ঘোষনা বা প্রস্তাব।
- দান গ্রহীতা কতৃক হেবা গ্রহন।
- দাতা কতৃক হেবা গ্রহীতাকে হেবার বিষয় বস্তুর দখল প্রদান।

হেবার প্রকারভেদসমূহ:

হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ:
হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ হলো সম্পত্তির মূল্যের পরিশধের বিনিময়ে হেবা। হেবা বা দানের ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ ব্যতিক্রম । প্রকৃ্ত পক্ষে এটি বিক্রয়ের সমতুল্য। এতে ক্রয় চুক্তির যাবতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে। হেবা-বিল-অ্যাওয়াজর বিনিময়ের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে মুসলিম জুরিস্টদের মত হলো বিনিময়ে প্রাপ্ত মূল্যের মান প্রদত্ত সম্পত্তির সাথে সঙ্গে তুলনামূলক ভাবে কম হলেও অ্যাওয়াজটি বে-আইনি হবে না। এই হেবাকে বৈধ করতে হলে দুটি শর্ত অবশ্যই পালন করতে হবে-
১। দান গ্রহিতা কর্তৃক হেবা-বিল-অ্যাওয়াজ এর বিনিময় মূল্যে প্রকৃ্ত অর্থেয় দিতে হবে ।
২। দাতার মালিকানা পরিত্যাগকরত দান করার আন্তরিক অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে হবে।

হেবা বা শর্ত-উল-এওয়াজ:
আরেক রকম হেবা আছে, যাকে হেবা বা শর্ত-উল এওয়াজ বলা হয়। কোন একজন মুসলিমঅন্য কোন একজন মুসলমানকে কোন প্রকার বিনিময় প্রদানের শর্তযুক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করাকে হেবা বা শর্ত-উল-এওয়াজ বলে। হেবা বা শর্ত-উল-এওয়াজ মূলত দান। এটা সম্পাদন হওয়ার জন্য দখল হস্তান্তর আবশ্যক। বিনিময় প্রদানের পূর্বে হেবা বা শর্ত-উল এওয়াজ বাতিলও করা যায়।
২৫৮.
মুসলিম আইনের অধীনে অগ্রক্রয়ের দ্বিতীয় দাবী কোনটি?
  1. তলব-ই-মৌসিবত
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-ইশাদ
  4. তলব-ই-মুকরর
ব্যাখ্যা

শুফা বা অগ্রক্রয়:
অগ্রক্রয়কে আরবীতে ‘শুফা’ বলা হয়। কোন সম্পত্তি বিক্রয় হয়ে গেলে তা পুনরায় ক্রয় করার অধিকারকে শুফা বা অগ্রক্রয় বলে। ইহা স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। অগ্রক্রয়ের অধিকার ব্যক্তিগত অধিকার। অগ্রক্রয়ের এই অধিকার প্রয়োগ করে কোন স্থাবর সম্পত্তির মালিক অন্য একজনের বিক্রিত অপর একটি স্থাবর সম্পত্তি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রয় করার সুযোগ লাভ করে। এভাবে কোন স্থাবর সম্পত্তির মালিক কর্তৃক অন্য কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় মূল্য প্রদান করে ক্রেতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অধিকারকে ‘অগ্রাধিকার’ [Right of Pre-emption] বলে।

মুসলিম আইনের অধীনে তিন শ্রেণীর ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারেন। এরা হলেন-
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার।
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা।
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

প্রথম শ্রেণীর অধিকার দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকারকে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকার তৃতীয় শ্রেণীর অধিকারকে বহির্ভূত করে। কিন্তু যখন একই শ্রেণীভূক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকবে,তখন যে সম্পত্তির ক্ষেত্রে উক্ত অধিকারটির দাবী জানানো হয়েছে, তাতে তারা প্রত্যেকেই সমান দাবী করতে পারবেন।

মুসলিম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দাবী উত্থাপনের পদ্ধতি:
(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত): শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। তলব-ই-ইশাদ ঘোষণা আকারে ও হতে পারে, লিখিত আকারেও হতে পারে। আবার মৌখিক আকারেও হতে পারে। ইতিপূর্বে প্রথম দাবী করা না হয়ে থাকলে তলব-ই-ইশাদ অকার্যকর হবে। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।

২৫৯.
মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে-
  1. তালাক অকার্যকর হবে
  2. স্বামী শাস্তি পাবে
  3. তালাক বাতিল হবে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারায় বলা হয়ে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকে (স্থানীয় ইউনিয়ন/পৌর চেয়ারম্যান/প্রশাসক) লিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল) প্রদান করবেন।
একই আইনের ৭ (২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি নোটিশ প্রদানের এই বিধান লংঘন করেন তবে তিনি এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকারে দণ্ডনীয় হবেন।

৭ (৪) ধারা অনুযায়ী, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসী পরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৭ (৩) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না। কিন্তু, তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকে, তাহলে ৭(৫) ধারা অনুযায়ী গর্ভাবস্থা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।

উল্লেখ্য যে, মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ -এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে ৭ (২) ধারা অনুযায়ী স্বামী শাস্তি পাবে ঠিকই, কিন্তু তালাক বাতিল হবে না। উক্ত তালাক কার্যকর হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে অধ্যাদেশের কোথাও নোটিশ প্রধান না করলে তালাক হবে না এই বিধান উল্লেখ নাই। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি সীদ্ধান্ত রয়েছে। সিভিল রিভিশন নং ৬৯৮, ১৯৯২, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বনাম মোছা:হেলেনা বেগম ও অন্যান্য।
২৬০.
উমরিয়াতান নীতি (Doctrine of Umariyatan) কোন খলিফার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. হজরত আবু বকর (রা.)
  2. হজরত উমর (রা.)
  3. হজরত ওসমান (রা.)
  4. হজরত আলী (রা.)
ব্যাখ্যা

⇒ উমরিয়াতিন নীতি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এই নীতি প্রণয়ন করেন বিশেষ দুই পরিস্থিতিতে (যাকে "আল-ঘররাওয়ানি" বা "দুই প্রতারক" বলা হয়) মায়ের অংশ পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।
এই নীতি পরবর্তীতে ইজমা (আলেমদের ঐকমত্য) দ্বারা ইসলামী উত্তরাধিকার আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

২৬১.
Marz-ul-Maut বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা
  3. মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া হুকুম
  4. মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে রোগ
ব্যাখ্যা

⇒ "মরজ-উল-মউত" (Marz-ul-Maut) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "মৃত্যুর অসুস্থতা" (death illness)। এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম এবং মৃত্যু নিকটবর্তী। এই অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যে হিবা (গিফট) বা উইল করে, তা মৃত্যুশয্যা লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শরিয়া আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বিতরণ করা হয়। এই সংজ্ঞাটি Fatima Bibee v. Ahmad Baksh (1904) মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে মরজ-উল-মউত হলো এমন রোগ যা ব্যক্তির মনে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
⇒ Fatima Bibee v. Ahmad Baksh, (1904):
-The Calcutta High Court held in this case that Marz-ul-Maut is death illness, or the patient is suffering from such disease which induces in the person suffering and a belief that death would be caused thereby.

⇒ অর্থাৎ মরজ-উল-মউত শব্দের অর্থ হলো মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থতা।

২৬২.
মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার মতবাদ কোনটি?
  1. মালিকি
  2. হানাফি
  3. শাফেয়ি
  4. হাম্বলি
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)

- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।
২৬৩.
নিম্নলিখিত কোনটি তালাক-উস-সুন্নাহ এর প্রকার নয়?
  1. তালাক আহসান (Ahsan)
  2. তালাক হাসান (Hasan)
  3. তালাক-মুখতার (Mukhtar)
  4. উপরোক্ত কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ তালাক-উস-সুন্নাহ হলো ইসলামী শরিয়া আইনের অধীনে হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিস অনুযায়ী প্রদত্ত তালাকের পদ্ধতি। এটি দুটি প্রকারে বিভক্ত:
তালাক-ই-আহসান (Ahsan): এটি সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক। এই পদ্ধতিতে স্বামী স্ত্রীর তুহরের (পবিত্র সময়) সময় একবার তালাক উচ্চারণ করে এবং ইদ্দতকাল (তিনটি ঋতুকাল) শেষ না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে। ইদ্দতকাল শেষ হলে তালাক কার্যকর এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়।
তালাক-ই-হাসান (Hasan): এটি অনুমোদিত তালাক। এই পদ্ধতিতে স্বামী পরপর তিনটি তুহরে প্রতিটি তুহরে একবার করে তালাক উচ্চারণ করে এবং তুহরকালে শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে। তৃতীয় উচ্চারণের পর তালাক কার্যকর এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়।

তালাক-মুখতার (Mukhtar) তালাক-উস-সুন্নাহ-এর প্রকার নয়:
"তালাক-মুখতার" নামে কোনো তালাক ইসলামী শরিয়া আইনে তালাক-উস-সুন্নাহ-এর অধীনে স্বীকৃত নয়। তালাক-উস-সুন্নাহ শুধুমাত্র তালাক-ই-আহসান এবং তালাক-ই-হাসান নিয়ে গঠিত। অন্যান্য তালাকের পদ্ধতি, যেমন তালাক-ই-বিদআত (অননুমোদিত তালাক) বা তালাক-ই-মুবারাত (পারস্পরিক সম্মতিতে তালাক), তালাক-উস-সুন্নাহ-এর অংশ নয়। "তালাক-মুখতার" নামে কোনো স্বীকৃত পদ্ধতি শরিয়া আইনে উল্লেখ নেই, তাই এটি তালাক-উস-সুন্নাহ-এর প্রকার নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো তালাক-মুখতার।

২৬৪.
Mahr-I-Misl অর্থ কী?
  1. নির্ধারিত দেনমোহর
  2. উপযুক্ত দেনমোহর
  3. বিলম্বিত দেনমোহর
  4. তাৎক্ষণিক দেনমোহর
ব্যাখ্যা

দেনমোহরের সংজ্ঞা (Definitions of dower)
মুসলিম আইনে দেনমোহর [Dower (MAHR)] হলো অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তি যেটা বিবাহের প্রতিদান হিসাবে স্বামী স্ত্রীকে পরিশোধ
করবে বা অর্পণ করবে- মর্মে প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে। দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য এবং স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়।
দেনমোহর বিবাহিত মুসলিম নারীর জন্য পবিত্র কোরআন স্বীকৃত একটি বিশেষ অধিকার যা স্বামীর উপর আরোপিত একটি দায়। বিবাহের অন্যতম শর্ত মোহর বা মোহরানা যা ব্যতীত কোন বিবাহ বৈধ হতে পারে না।

দেনমোহরের শ্রেণীবিভাগ (Kinds of Dower)
১. নির্ধারিত দেনমোহর (Specified dower/Mahr-I-Muazzama): 
স্বামী স্ত্রীকে কত পরিমাণ দেনমোহর দিবে তা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে উক্ত দেনমোহর হলো নির্ধারিত দেনমোহর।

২. উপযুক্ত দেনমোহর (Unspecified/proper dower/Mahr-I-Misl):
যদি দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকে, তাহলে যে পরিমাণ দেনমোহর দেওয়া হয়, তাহলো যথার্থ বা উপযুক্ত দেনমোহর। তবে এই পরিমাণটি যুক্তিযুক্ত হবে।

৩. তলবী বা চাহিদামাত্র বা তাৎক্ষনিক দেনমোহর (Prompt Dower/Mahr-I-Muajjal):
যে কোন সময় স্ত্রী চাওয়া মাত্রই যে দেনমোহর স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য, তাকে আশু বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower) বলে। অর্থাৎ স্ত্রী যে কোন সময় তাৎক্ষণিক (Prompt Dower) দাবী করতে পারে। যদি স্ত্রী চাই তবে বিবাহের পরপরই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। 

৪. স্থগিত বা বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower/Mahr -I-Muwajjal):
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় বা কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সাপেক্ষে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) পরিশোধযোগ্য। Maina Bibi v Chowdhury Wakil Ahmed 52 I.A (1924) p.521 মামলার রায়ে বলা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য কোন সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারে এবং এই দখল চালিয়ে যেতে পারে যতদিন পর্যন্ত না দেনমোহরের টাকা পরিশোধিত হয়।

২৬৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে, তবে মৃত ব্যক্তির দাদা কত অংশ সম্পত্তি পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কিছুই পাবেন না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) কিছুই পাবেন না। 
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুসারে, দাদা শুধুমাত্র তখনই সম্পত্তি পাবেন যখন মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকবেন না। অর্থাৎ:
→ যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে, তাহলে দাদা কোনো অংশ পাবেন না।
→ যদি মৃত ব্যক্তির পিতা মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং পিতার মতোই ১/৬ অংশ পাবেন (যদি মৃতের সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে)।

প্রশ্নের শর্ত:
প্রশ্নে বলা হয়েছে, "মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত আছে", তাই দাদা কোনো অংশ পাবেন না।

অর্থাৎ যখন মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে, তখন মৃত ব্যক্তির দাদা কোন সম্পত্তি পাবেন না। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির পিতা সম্পত্তি পাবেন।
২৬৬.
নিম্নের কোনটি তিন তালাক নামে পরিচিত?
  1. তালাক আহসান (ahsan)
  2. তালাক হাসান (hasan)
  3. তালাক-উল-বিদাত (talak al-bid'a)
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ তালাক-উল-বিদাত ‘তিন তালাক’ নামে পরিচিত।

তালাক আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা ত্যাগ করা। ইসলাম ধর্মে তালাক বলতে স্বামী ও স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক হইতে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে বুঝায়। তালাক প্রধানত দুই ধরনের:

১। তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক): 
তালাক-উস-সুন্নাহ হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে; 

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক। 

 - তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।

২। তালাক-উল-বিদাত বা অননুমোদিত তালাক:
তালাক-ই-আহসান ও তালাক-ই-হাসান পদ্ধতি ছাড়া অন্য সকল পদ্ধতির তালাককে তালাক-উল-বিদাত বলা হয়। স্বামী পর পর তিন তালাক উচ্চারণ করে অথবা এক বাক্যে তিন তালাক উচ্চারণ করে স্ত্রীর পবিত্র অবস্থায় অথবা অপবিত্র অবস্থায় এই তালাক প্রদান করা হয়।
যেমন- স্ত্রীর পবিত্র বা অপবিত্র অবস্থায় স্বামী স্ত্রীকে বলে, "আমি তোমাকে তালাক দিলাম, তালাক দিলাম, তালাক দিলাম" অথবা "আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম" অথবা "আমি তোমাকে বাইন তালাক দিলাম" ইত্যাদি। এই ধরনের তালাক প্রত্যাহার করা যায় না। 

২৬৭.
ভরণপোষণ এবং দেনমোহর সংক্রান্ত মামলার বিচার কোন আদালতে করা হয়?
  1. দেওয়ানি আদালতে
  2. পারিবারিক আদালতে
  3. ফৌজদারি আদালতে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
২৬৮.
Shafi-e- Jar হলো-
  1. সহ অংশীদার
  2. সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
  3. সম্পত্তির সুবিধাদিতে অংশীদার
  4. স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে ৩ শ্রেণির ব্যক্তি আছে যারা অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তারা হলো-
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার;
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা;
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
 
Shafi sharik বা সহ অংশীদার:
Shafi Sharik শব্দের অর্থ হল সহ-অংশীদার। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ক্রয় সূত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক হয়, তাদের যে কারো অন্যজন বা অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।
 
Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক:
Shafi Khalit অর্থ হল কোনো সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে সুবিধাদির শরিক হয়, তাহলে যেকোনো ব্যক্তি যার সেরকম সুবিধা রয়েছে, অন্যান্য ব্যক্তি যারা সেরকম সুবিধাদি ভোগ করে এর বিরূদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ যারা সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক তারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক:
Shafi Jar অর্থ হল সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক। হানাফি আইন অনুসারে বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
২৬৯.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুসারে, স্ত্রী কোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন?
  1. স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে
  3. স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে
  4. স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এর ধারা ২(iii)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards” অর্থাৎ স্বামীকে ৭ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে। তবে প্রভাইডেড ক্লজে বলা আছে যে, সাজা চূড়ান্ত (final) না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি পাস করা যাবে না।
অন্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) স্বামী এক বছর নিরুদ্দেশ থাকলে → ভুল। নিরুদ্দেশ হতে হবে ৪ বছর (ধারা ২(i))
খ) স্বামী তিন বছর ভরণপোষণ না দিলে → ভুল। ভরণপোষণ না দেওয়া হতে হবে ২ বছর (ধারা ২(ii))
গ) স্বামী এক বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে → ভুল। দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হতে হবে ৩ বছর (ধারা ২(iv))
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: ঘ) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কুরআনে নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
------------
⇒ The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939- Section-2. Grounds for decree for dissolution of marriage:
A woman married under Muslim law shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any one or more of the following grounds, namely:- 
(i) that the whereabouts of the husband have not been known for a period of four years; 
(ii) that the husband has neglected or has failed to provide for her maintenance for a period of two years; 
(iia) that the husband has taken an additional wife in contravention of the provisions of the Muslim Family Laws Ordinance, 1961;
(iii) that the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards; 
(iv) that the husband has failed to perform, without reasonable cause, his marital obligations for a period of three years; 
(v) that the husband was impotent at the time of the marriage and continues to be so; 
(vi) that the husband has been insane for a period of two years or is suffering from leprosy or a virulent venereal disease; 
(vii) that she, having been given in marriage by her father or other guardian before she attained the age of [eighteen years], repudiated the marriage before attaining the age of [nineteen years]: 
Provided that the marriage has not been consummated; 
(viii) that the husband treats her with cruelty, that is to say,- 
(a) habitually assaults her or makes her life miserable by cruelty of conduct even if such conduct does not amount to physical ill-treatment, or 
(b) associates with women of evil repute or leads an infamous life, or  
(c) attempts to force her to lead an immoral life, or 
(d) disposes of her property or prevents her exercising her legal rights over it, or 
(e) obstructs her in the observance of her religious profession or practice, or 
(f) if he has more wives than one, does not treat her equitably in accordance with the injunctions of the Qoran; 
(ix) on any other ground which is recognised as valid for the dissolution of marriage under Muslim law:
Provided that- 
(a) no decree shall be passed on ground (iii) until the sentence has become final; 
(b) a decree passed on ground (i) shall not take effect for a period of six months from the date of such decree, and if the husband appears either in person or through an authorised agent within that period and satisfies the Court that he is prepared to perform his conjugal duties, the Court shall set aside the said decree; and 
(c) before passing a decree on ground (v) the Court shall, on application by the husband, make an order requiring the husband to satisfy the Court within a period of one year from the date of such order that he has ceased to be impotent, and if the husband so satisfies the Court within such period, no decree shall be passed on the said ground.

২৭০.
'Mahr-i-Misl' হলো ______ দেহমোহর।
  1. সুনির্দিষ্ট
  2. উপযুক্ত
  3. আশু
  4. বিলম্বিত
ব্যাখ্যা
⇒ দেনমোহরের প্রকারভেদ: দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-
i) নির্ধারিত দেনমোহর বা (Mahr-i-Musamma) (fixed/specified dower)
ii) যথার্থ দেনমোহর বা (Mahr-i-Misl) (Proper dower)

i) নির্ধারিত দেনমোহর বা (Mahr-i-Musamma): বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর হণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

ii) যথার্থ দেনমোহর বা (Mahr-i-Misl): বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।
২৭১.
স্বামী সর্বনিম্ন কত বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে, স্ত্রী মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর অধীন বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

২৭২.
যেক্ষেত্রে বিরোধীয় মোকদ্দমা আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, সেক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত-
  1. মোকদ্দমা স্থগিত করবে
  2. পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করবে
  3. সমস্ত পক্ষের পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করবে
  4. আপোষ চুক্তির ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করবে
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১১ অনুযায়ী,
আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে। বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে এবং আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।

ধারা ১৪ অনুযায়ী-
পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।

ধারা ১৫- আপোষ ডিক্রি:
যেক্ষেত্রে বিরোধীয় মোকদ্দমা আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, সেই ক্ষেত্রে আদালত উক্ত আপোষ বা মীমাংসা চুক্তির ভিত্তিতে মোকদ্দমার ডিক্রি বা সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।
২৭৩.
Widow's Right to Retention কী বোঝায়?
  1. স্বামীর সম্পত্তি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করা
  2. স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের অংশ নিতে বাধ্য করা
  3. দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তিতে দখল রাখা
  4. স্বামীর সম্পত্তি কেবল উত্তরাধিকারীদের জন্য সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা

⇒ দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর নিকট অনিরাপদ ঋণ [Unsecured debt]। তালাকের পরবর্তী সময়ে যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তবে স্বামীর রেখে যাও প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায়, তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হতে নিজে ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারে। স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তিতে দখল বহাল রাখতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। এটাকে স্ত্রীর The Widow's Right to Retention বলে।

উল্লেখ্য,
দেনমোহর হচ্ছে প্রত্যেক বিবাহিত মুসলিম নারীর আইনগত অধিকার যা পুরুষ কর্তৃক পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে মুয়াজ্জল বা আশু দেনমোহর যা স্ত্রী দাবী করা মাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। মুয়াজ্জল দেনমোহর আবার তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবেও পরিচিত।

আরেক ধরনের দেনমোহর হচ্ছে মুঅজ্জল বা বিলম্বিত দেনমোহর। এ দেনমোহর শুধুমাত্র তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে দাবী করা যায়।

২৭৪.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর কত ধারায় 'বিচারের স্থান' সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১১ক
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ১১ক- বিচারের স্থান:
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial:
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.

২৭৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কখন কোন মৃতব্যক্তির পিতা কেবল 'আসাবা' হিসেবে সম্পত্তি পাবে?
  1. যখন একজন ছেলে সন্তান থাকবে
  2. যখন কোনো ভাই বা ভাইয়ের সন্তান থাকবে না
  3. যখন কোনো সন্তান বা ছেলের সন্তান থাকবে না
  4. যখন কোনো সন্তান থাকবে না, কিন্তু এক বা একাধিক কন্যা থাকবে
ব্যাখ্যা
মৃত ব্যক্তির বাবা সর্বদাই ওয়ারিশ হবেন। তবে অবস্থাভেদে এর পরিমাণে তারতম্য হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা পাবে ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ। যদি মৃত ব্যক্তির শুধু কন্যা বা ছেলের কন্যা এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে বাবা সেই অংশও অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোনো ছেলে-কন্যা বা ছেলের সন্তান কিছুই না থাকে তবে বাকি ওয়ারিশদের মধ্যে বিতরণ শেষে যা থাকবে তা সম্পূর্ণ পাবেন বাবা।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী "যখন কোনো সন্তান থাকবে না বা ছেলের সন্তান থাকবে না" এই দুই ক্ষেতেই মৃতব্যক্তির পিতা 'আসাবা' হিসেবে সম্পত্তি পাবে।
২৭৬.
'Tawazhi' শব্দটি নিম্নের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ওয়াকফ
  2. হিবা
  3. এওয়াজ
  4. ওয়াসিয়ত
ব্যাখ্যা
- তাওয়াজির অর্থ হলো মাতা এবং তার সকল সন্তান এবং নারীকুলের যাবতীয় বংশধর।  নারী সূত্রে বংশধারা অনুসরণকারী মা, সন্তান-সন্ততি এবং অধস্তন নারী বংশধরদের নিয়ে যে পরিবার গঠিত হয় তা তাওয়াযী (Tawazhi) নামে পরিচিত।

- যেখানে মারুমাক্কাতিয়াম আইনের অনুসারী কোন মুসলমান তার স্ত্রী ও তাওয়াজি গঠনকারী সকল ছেলেমেয়েকে কোন সম্পত্তি দান করেছে এবং কিভাবে উক্ত সম্পত্তি দখল করতে হবে মর্মে কোন সুস্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ করেনি, সেক্ষেত্রে হেবাটি একটি তাওয়াজিকে প্রদত্ত হেবা বা দান হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

- দানগ্রহীতারা সম্পত্তিটি একটি সাধারণ তরওয়াদ বা তাওয়াজি সম্পত্তির আনুসঙ্গিক বিষয়সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। তবে দানটি যদি হয় শুধু তার স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততিদের প্রতি, স্ত্রীর পূর্বের স্বামীর সন্তান-সন্ততিদেরকে বঞ্চিত করে, দানটি তাওয়াজির দান বলে গণ্য হয় না।
২৭৭.
The Waqfs Ordinance, 1962 অনুসারে ওয়াকফ প্রশাসক (Administrator of Waqfs) কে নিয়োগ করেন? 
  1. সরকার
  2. জেলা জজ
  3. হাইকোর্ট
  4. ওয়াকফ কমিটি
ব্যাখ্যা

⇒ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.”
- অর্থাৎ ওয়াকফ প্রশাসককে শুধুমাত্র সরকার (বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে) নিয়োগ করে।

- জেলা জজ, হাইকোর্ট বা ওয়াকফ কমিটির এই নিয়োগের কোনো ক্ষমতা নেই।
ধারা ৭(২)-এ বলা হয়েছে যে প্রশাসককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং রুলসে নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে।
আর ধারা ৭(৩)-এ বলা হয়েছে যে সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিয়োগ করা হয় এবং পুনর্নিয়োগযোগ্য (eligible for re-appointment)।

----------
⇒ The Waqfs Ordinance, 1962 Section-7. Appointment of the Administrator:
(1) The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.
(2) No person shall be appointed as Administrator unless he is a Muslim and possesses such qualifications as may be prescribed by the rules. 
(3) The Administrator shall ordinarily be appointed for five years, and shall be eligible for re appointment.

২৭৮.
কোন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাতা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হবে?
  1. যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
  2. যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই/বোন না থাকে।
  3. যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ দুটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাতা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।

• যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
• যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই/বোন না থাকে।
২৭৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা বা পুত্রের সন্তানাদি (যত নিম্নেরই হউক) না থাকে এবং একজনের বেশি ভাই-বোন না থাকে, মাতার অংশ কত হবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা

• শরীয়া আইন অনুযায়ী মাতা একজন কোরানিক অংশীদার।  উত্তরাধিকার লাভের ক্ষেত্রে মাতার তিন অবস্থা হতে পারে:
ক) যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, অথবা যদি পূর্ণ বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় দুই বা ততোধিক ভাই কিংবা বোন, এমনকি একজন ভাই এবং একজন বোন থাকে, তাহলে ও ১/৬ অংশ পাবেন।

খ) কিন্তু যেসকল ক্ষেত্রে মাতা ১/৩ অংশ পায় সেক্ষেত্র গুলো নীচে দেওয়া হলো:
- যখন মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান অথবা পুত্রের সন্তান (যতই নিম্নগামী হোক না কেন) না থাকে, অথবা, 
- যখন মৃত ব্যক্তির এক ভাই অথবা এক বোন এর বেশী না থাকে।

গ) কিন্তু বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, যদি মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর অথবা স্বামীর সাথে মাতা এবং পিতা থাকে, তবে সেক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাদ দেবার পর যে অংশ বাকি থাকে, মাতা তার ১/৩ অংশ পাবে। 

২৮০.
হেবার জন্য প্রথম আবশ্যক শর্ত কী?
  1. সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ
  2. বিষয়বস্তুর দখল প্রদান 
  3. দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা
  4. দানগ্রহীতা কর্তৃক গ্রহণ
ব্যাখ্যা

হেবা:
এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।

মুসলিম আইনে বৈধ দানের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer).
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance).
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। 

২৮১.
উইল কখন কার্যকর হয়?
  1. উইলকারীর মৃত্যুর পর
  2. যখন করা হয় তখনই
  3. উইলের সম্পত্তি দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  4. উইল নিবন্ধনের সাথে সাথে
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

⇒ আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

⇒ যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-

ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।

খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।

গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।
২৮২.
মুসলিম আইনজ্ঞরা দেনমোহরকে বিবেচনা করেছে-
  1. বিক্রয় মূল্য হিসাবে
  2. প্রতিদান হিসাবে
  3. উপহার হিসাবে
  4. সম্মানের প্রতীক হিসাবে
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইন মোতাবেক দেনমোহর স্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ স্বামীর প্রতি অর্পিত একটি গুরু দায়িত্ব।  আসাদ বনাম সালমা মামলায় বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন যে, দেনমোহরকে বিক্রয় চুক্তির মূল্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি এবং বিক্রয় হলো একটি রূপক বা প্রতিরূপ চুক্তি, যা সেলমান আইনবিদ কর্তৃক সমতা বা সদৃশ্য হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।
দেনমোহরটি যদি স্ত্রীর মূল্য হয়, তা হলে এটি পরিশোধের বিষয়ে বিবাহোত্তর চুক্তিটি অবৈধ কারণ, এতে প্রতিদানের অভাব রয়েছে; কিন্তু এই জাতীয় চুক্তি বৈধ ও আইনে বলবৎযোগ্য বলে ঘাষণা করা হয়েছে।
২৮৩.
স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত কত বছর যাবত্‍ তার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কোন মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারী হবেন?
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারার বিধান: বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদ:
নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথা:

i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;
ii) স্বামী দুই বত্সছর যাবত্‍ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;
ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্খন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
iii) স্বামী সাত বত্সার বা তদুর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হইলে;
iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;
v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;
vi) দুই বছর  যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;
vii) আঠার বত্সরর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেতাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বত্সiরবয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐসময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;
viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাত্
ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বানিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবনশোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.
খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা
গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা
ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা
ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা
চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়নতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;
ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ
তবে অবশ্য-
ক) কারাদন্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,
খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহারপ্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়েরমধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এইমর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুতরহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং
গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বত্স রের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতাহইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মেআদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদিসে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্তহেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।
২৮৪.
অগ্রক্রয় অধিকারের মধ্যে কার দাবী অগ্রগণ্য?
  1. শাফি-ই-জার
  2. মুকাররারীদার
  3. শাফি-ই-শরিক
  4. শাফি-ই-খালিত
ব্যাখ্যা
⇒ যে ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে:
- ৩ শ্রেণির ব্যক্তি আছে যারা অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তারা হলো
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার।
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা।
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

- Shafi sharik বা সহ অংশীদার: Shafi Sharik শব্দের অর্থ হল সহ-অংশীদার। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ক্রয় সূত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক হয়, তাদের যে কারো অন্যজন বা অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।

- Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক: Shafi Khalit অর্থ হল কোনো সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে সুবিধাদির শরিক হয়, তাহলে যেকোনো ব্যক্তি যার সেরকম সুবিধা রয়েছে, অন্যান্য ব্যক্তি যারা সেরকম সুবিধাদি ভোগ করে এর বিরূদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ যারা সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক তারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক: Shafi Jar অর্থ হল সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক। হানাফি আইন অনুসারে বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের জন্য শর্ত:
১) অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে, ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে।
২) ক্রমিকানুসারে একশ্রেণির বর্তমানে পরের শ্রেণিগুলো এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
৩) একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে- প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন বা সমান ভাগ পাবে।
৪) এই ৩ শ্রেণীর ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়াধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।

অর্থাৎ- উক্ত ৩ শ্রেণির মধ্যে ১ম শ্রেণির কেউ থাকলে ২য় শ্রেণির দাবি থাকবে না। আবার, ২য় শ্রেণির কেউ থাকলে ৩য় শ্রেণির দাবী থাকবে না। কিন্তু যে ক্ষেত্রে একই শ্রেণিভুক্ত একাধিক দাবিদার থাকে সে ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান অংশে অগ্রক্রয় করতে পারবে।
২৮৫.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি কী?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ২,০০০ টাকা জরিমানা
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৩,০০০ টাকা জরিমানা
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  4. কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(৪) অনুসারে যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধন না করেন বা নির্দিষ্ট সময়ে (৩০ দিনের মধ্যে) নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানান না, তাহলে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- এর শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা ৩,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে।
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
----------------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once.
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization.
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once.
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.

২৮৬.
উইলের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. মৃত্যুর পর কার্যকর হয়
  2. সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করা যায় না
  3. উইলকারী মৃত্যুর আগে উইল প্রত্যাহার করতে পারে
  4. সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালতের সম্মতি লাগবে
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।
আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না। অর্থাৎ সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
২৮৭.
নিম্নের কোনটি বৈধ দানের অত্যাবশ্যক শর্ত নয়?
  1. দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা প্রদান
  2. গ্রহীতা কর্তৃক দান গ্রহণ
  3. দানকৃত সম্পত্তির দখল হস্তান্তর
  4. দাতার ওয়ারিশগনের সম্মতি
ব্যাখ্যা
• দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। সাধারণত দানের মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তাঁর ওয়ারিশ কিংবা অন্য যে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। এটি আইন স্বীকৃত। দান করতে হলে দাতার এবং গ্রহীতার সম্পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হয়।
 
দান বৈধ হতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয় –
> দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
> গ্রহীতা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ করা বা স্বীকার করা।
> দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান।

উল্লেখ্য,
দানের ক্ষেত্রে ওয়ারিশগনের সম্মতি আবশ্যক নয়। একজন তার সম্পত্তি যাকে ইচ্ছা এবং যতটুকু পরিমাণ ইচ্ছা জীবদ্দশায় দান করে যেতে পারে। কিন্তু উইলের ক্ষেত্রে ১/৩ অংশের বেশি হস্তান্তর করতে চাইলে, ওয়ারিশগনের সম্মতি নিতে হয়।
২৮৮.
যখন ইসলামি আইনের প্রথম তিনটি উৎস অর্থাৎ কুরআন, হাদিস এবং ইজমা কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না তখন ঐগুলি হতে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত যে সাদৃশ্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে বলা হয়-
  1. ইসতিহসান
  2. ইসতিসলাহ
  3. কিয়াস
  4. তকলিদ 
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ 

ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্মের দূত বা বার্তা বাহক হিসেবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), তার জীবদ্দশায় কোরআন এর প্রতিটি নীতি ও বিধান অনুসারে যেভাবে জীবন যাপন করতেন এবং জীবন-যাত্রায় কোরআনের ব্যাখ্যাগুলোর সংকলনই হলো আল-হাদিস। এছাড়া, কোন প্রশ্নের উত্তর যদি সরাসরি পবিত্র কোরআন বা সুন্নাহ তে না পাওয়া গেলে তার মীমাংসার জন্য মহানবী (সাঃ) এর সঙ্গী ও শিষ্যদের মধ্যে ঐক্য মৈত্যের ভিত্তিতে যে সকল সমাধান দেয়া আছে তার সংকলনকে ইজমা বলা হয়। এবং আলোচ্য এই তিনটি উৎসের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনায় সাদৃশ্য মূলক সিদ্ধান্তগুলোই কিয়াস।
এরপরও অনেক অমিমাংসিত প্রশ্নের সমাধান বা সন্দেহ দূর করণ কিংবা স্পষ্টতা আনয়নের জন্য যুগ যুগ ধরে ইসতিহসান , ইসতিসলাহ এবং ইসতিহাদ বা যৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই আইনটিকে সমৃদ্ধ করা হয়ে থকে।

পৃথিবীতে ইসলামিক আইন অনুসারে পরিচালিত কিছু রাষ্ট্রের সকল আইনই শরীয়া আইন অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে যদিও ইসলামিক শরীয়া আইনের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়ে থাকে কিন্তু পশ্চিম বিশ্বেও এখন ইসলামিক আইনের অনেক ব্যবহার দেখা।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ এর বিভিন্ন রায়ের পর্যালোচনায় ইসলামিক আইনের নানা দিকের উপর আলোক পাত করা হয়েছে।

মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হলেও এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তত্কালীন বৃহৎ সমগ্র ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার কয়েক শতকের সমৃদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। এর ধারাবাহিকতা হিসেবে এদেশের আইন ব্যবস্থায় পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শরীয়া আইনের প্রতিফলন ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অন্যতম।
২৮৯.
মৃত্যুর পর কার্যকর হয়-
  1. অসিয়ত
  2. দান
  3. ওয়াক্‌ফ
  4. উত্তরাধিকার বন্টন
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

⇒ আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

⇒ যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-

ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।

খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।

গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।
২৯০.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
 
i) ১/৪ অংশ।
 
ii)  ১/৮ অংশ।
 
ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
 
খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
২৯১.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর অধীন আরজি দাখিল করার তারিখে স্বামী জীবিত না থাকলে, মামলার-
  1. গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
  2. নোটিশ জারি করতে হবে না।
  3. কার্যক্রমে উত্তরাধীকারীর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে না।
  4. স্বামীর কোন চাচা বা ভাই থাকলে, উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।
ব্যাখ্যা
ধারা ৩- নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধীকারদের উপর নোটিশ প্রদান

২নং ধারার ১নং উপ ধারার প্রয়োগযোগ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর মৃত্যু ঘটলে তবে মুসলিম আইন অনুসারে যারা তার উত্তরাধীকারী হতো তাদের নাম, ঠিকানা, আরজিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করতে হবে; এবং
গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাদের বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোন চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তার উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।

Section 3- Notice to be served on heirs of the husband when the husband’s whereabouts are not known

In a suit to which clause (i) of section 2 applies- 
(a) the names and address of the persons who would have been the heirs of the husband under Muslim law if he had died on the date of the filing of the plaint shall be stated in the plaint, 
(b) notice of the suit shall be served on such persons, and
(c) such person shall have the right to be heard in the suit: 
 Provided that paternal uncle and brother of the husband, if any, shall be cited as party even if he or they are not heirs.
২৯২.
কোনটি 'Doctrine of Juristic Preference'?
  1. ইসতিসলাহ
  2. ইজতিহাদ
  3. ইসতিহসান
  4. ইসতিদলাল
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস
⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ

ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।
অর্থাৎ 'Doctrine of Juristic Preference' হল ইসতিহসান [Istihsan]।
২৯৩.
পারিবারিক আদালতের প্রাধান্য সম্পর্কিত বিধান পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারা দ্বারা নির্ধারিত?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৪
  4. ধারা ৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আইনের বিধানাবলি অন্য যেকোনো আইনের উপর প্রাধান্য পাবে। ধারা ৩-এ বলা হয়েছে: “আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।”
এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে নির্ধারিত বিষয়ে (যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ইত্যাদি) এই আইনের বিধানগুলো অন্য কোনো আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলেও প্রাধান্য পাবে। এটি পারিবারিক আদালতের আইনি ক্ষমতা ও এখতিয়ারকে শক্তিশালী করে এবং বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
অর্থাৎ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩ এই আইনের প্রাধান্য সুনিশ্চিত করে, যা অন্যান্য আইনের উপর এর বিধানাবলির প্রাধান্য নির্ধারণ করে। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) ধারা ৩।

২৯৪.
In the event of the death of any son or daughter of the porosities before the opening of successions, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stripes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be would have received if alive'- বিধানটি কোন আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. The Family Courts Ordinance, 1985
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. Mohammedan law
  4. The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১) উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন। এ আইনের ৪নং ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে লা-ওয়ারিশ প্রথাকে বাতিল করা হয়। এ আইনে বলা হয়-

Section 4: Succession

In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
 
অর্থাৎ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে।
যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।
২৯৫.
'ক' মারা গেলেন। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা রেখে গেছেন। কোনো পুত্র নেই। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কন্যাদের জন্য নির্ধারিত অংশ কত হবে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ২/৩
  4. ১/৬
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) ২/৩ অংশ।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, কন্যার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে– ১/২, ২/৩ এবং অবশিষ্টাংশভোগী।

যখন ১/২ অংশ পাবে: দুটি শর্ত পূরণ করলে এই অংশ পাবে। তা হলো-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। একমাত্র কন্যা হিসেবে অংশীদার হলে

যখন ২/৩ অংশ পাবে: দুটি শর্তে এই অংশ পাবে-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। দুই বা তার অধিক কন্যা থাকলে।

যখন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পাবে:
কন্যার সাথে যদি পুত্র ও থাকে তবে কন্যা আর অংশীদার হিসেবে অংশ পায় না। তখন সে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পুত্রের সাথে ২:১ অনুপাতে অংশ পাবে। যাকে Tasib Rule বলা হয়।

২৯৬.
'Khiyar al-bulugh' নীতি কোন অধিকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত?
  1. বিবাহ বাতিলের
  2. উত্তরাধিকার বাতিলের
  3. হেবা বাতিলের
  4. ওসিয়ত বাতিলের
ব্যাখ্যা
সাবালকত্বের ইচ্ছা [Option of Puberty or Khiyar al-bulugh]:

নাবালক তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তিতে উপনীত হতে পারে। যদি কোন নাবালক তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিবাহে আবদ্ধ হয়, উক্ত নাবালক সাবালক হওয়ার পর উক্ত বিবাহ বাতিল করতে পারে। এটাকে Khiyar al-bulugh or Option of Puberty। সাবালকত্বের ইচ্ছা বা Option of Puberty বিধানটি The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২(৭) ধারায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে,
কোন মেয়েকে তার বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তার পিতা বা অন্য কোন অভিভাবক তাকে বিয়ে দেয়, তাহলে তার বয়স ১৯ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সে বিবাহটি বাতিল করতে পারে শর্ত হলো বিবাহটি যৌনমিলনের মাধ্যমে আইনসিদ্ধ করা হয় নি। এক্ষেত্রে, উক্ত মেয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী।
 
উল্লেখ্য যে,
শরীয়াহ আইনে ছেলে এবং মেয়ে উভয় এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারলেও, The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২(৭) ধারায় Option of Puberty যে বিধান রয়েছে তা শুধুমাত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২৯৭.
'আরিয়াত' শব্দের অর্থ কী?
  1. সম্পত্তির আংশিক বিক্রি
  2. সম্পত্তির পূর্ণ বিক্রি
  3. সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর
  4. সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগের অস্থায়ী অনুমতি
ব্যাখ্যা
আরিয়াত (Areeat): 
আরিয়াত (Areeat) শব্দটি ইসলামী আইন (ফিকাহ) থেকে উদ্ভূত একটি শব্দ, যা মূলত দান বা অস্থায়ী অনুমতি বোঝায়। এটি এমন এক ধরনের দান যেখানে সম্পত্তির মালিকানা দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হয় না, তবে গ্রহীতা সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতি পায়।

এটি মূলত এমন ধরনের দান বা অস্থায়ী সুবিধা, যেখানে সম্পত্তির মালিকানা কেউ পায় না, বরং একে কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায়, সম্পত্তির মালিক ব্যক্তি যে কোনো সময় তার অনুমতি ফিরিয়ে নিতে পারেন, অর্থাৎ এটি এক ধরনের অস্থায়ী দান।

আরিয়াতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর নয়:
আরিয়াতের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা কখনোই দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তরিত হয় না। দাতা কেবল অনুমতি দেন যে, গ্রহীতা সম্পত্তির আয় বা লভ্যাংশ কিছু সময়ের জন্য ভোগ করবে। মালিকানা দাতারই থাকে।

অস্থায়ী অনুমতি:
আরিয়াতের অধীনে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এর মানে হলো, এক ব্যক্তি আরেককে সম্পত্তির আয় বা লভ্যাংশ ভোগ করার জন্য কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিতে পারে, কিন্তু কখনোই পুরোপুরি মালিকানা হস্তান্তর করা হয় না।

দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল:
দাতা যে কোনো সময় তার অনুমতি পরিবর্তন বা রদ করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে দাতার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। যদি দাতা চায়, তবে আরিয়াতের সময়কাল পরিবর্তন বা বাতিল করা যেতে পারে।

রদযোগ্যতা:
আরিয়াতের মাধ্যমে দাতা যে অনুমতি দেন, তা চাইলে দাতা রদ (বাতিল) করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে দাতার ইচ্ছাধীন, এবং তিনি যখন চান তখন এটি বাতিল করতে পারেন।
২৯৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে নিম্নলিখিত কোন বিষয়ে মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না?
  1. দেনমোহর
  2. ভরণপোষণ
  3. বিবাহ বিচ্ছেদ
  4. ফৌজদারি মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুসারে, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার শুধুমাত্র পারিবারিক বিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে: বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান ইত্যাদি।

উল্লিখিত প্রশ্নের ফৌজদারি মামলা পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের বাইরে, কারণ এটি ফৌজদারি আইনের অধীন পড়ে।

- ফৌজদারি মামলা সাধারণত ফৌজদারি আদালতে নিষ্পত্তি করা হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
২৯৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায় কোথায়?
  1. সুপ্রিম কোর্টে
  2. হাইকোর্টে
  3. জেলা জজের কাছে
  4. সহকারী জজের কাছে
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৯ অনুসারে, ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সালিসি পরিষদ (Arbitration Council) যখন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই রিভিশনটি সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ (Assistant Judge) এর কাছে করা হয়। সহকারী জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে রিভিশন বা আপিল করা যায় না।
অর্থাৎ, ভরণপোষণ বিষয়ে সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা জেলা জজের কাছে রিভিশন করার সুযোগ নেই।
এ কারণে, সঠিক অপশন হলো সহকারী জজের কাছে রিভিশন করা।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী ভরণপোষণ সংক্রান্ত সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে। এই ধারা বিশেষভাবে সহকারী জজের আদালতকে এখতিয়ার প্রদান করেছে।
-কোন পক্ষ সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত ফি প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের আদালতে রিভিশন করতে পারে। রিভিশন দায়েরের জন্য সাধারণত ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- সহকারী জজ এখানে মূলত রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তিনি শুধুমাত্র আইনগত ভুল বা পদ্ধতিগত ত্রুটির বিষয়ে বিবেচনা করেন, নতুন করে মামলার মূল্যায়ন করেন না। তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়।

৩০০.
একজন হানাফী মুসলিম মৃত্যুকালে ত্যাজ্যবিত্তে স্ত্রীকে একমাত্র উত্তরাধিকারী রেখে যায় স্ত্রী ওয়ারিশ হিসাবে ১/৪ অংশ প্রাপ্তির পর মৃতের অবশিষ্ট সম্পত্তি অর্থাৎ ৩/৪ অংশ-
  1. রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হবে
  2. অবশিষ্টভোগী হিসাবে স্ত্রী পাবে
  3. স্ত্রীর নিকট ফেরত যাবে
  4. বায়তুল মাল হিসাবে সরকারের নিকট অর্পিত হবে
ব্যাখ্যা
রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি

মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

রদের নীতি
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়। তাহলে সে রদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।

উল্লিখিত প্রশ্নে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী। তাই, প্রথমে অংশীদার হিসেবে ১/৪ অংশ পাবে (যেহেতু সন্তান নেই, সন্তান থাকলে ১/৮ অংশ)। এখন স্ত্রীকে ১/৪ অংশ দেওয়ার পরও ৩/৪ অংশ সম্পত্তি অবশিষ্ট থেকে যাচ্ছে। তাই রদের নীতি প্রযোজ্য হবে। সাধারণ নীতি অনুসারে স্ত্রী রদে ফেরত সম্পত্তি না পেলেও, যেহেতু এখানে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী, সেহেতু (রদে ফেরত) বাকি ৩/৪ অংশ সম্পত্তি স্ত্রী পাবে।