বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তদ্ধিত প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন৫৬০এই পাতা৫৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তদ্ধিত প্রত্যয়

PrepBank · পাতা / · ৫০১৫৫৪ / ৫৬০

৫০১.
'মনুষ্যত্ব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনুষ + ত্ব
  2. মানুষ + ত্ব
  3. মনুষ্য + ত্ব
  4. মানুষ + ত্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
ঈয় (ষ্ণীয়, ছ): 
- জল + ঈয় = জলীয়, 
- আত্মন্ + ঈয় = আত্মীয়, 
- মানব + ঈয় = মানবীয়, 
- রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয়। 

ত্ব: 
- মাতৃ + ত্ব = মাতৃত্ব, 
- মনুষ্য + ত্ব = মনুষ্যত্ব
- ভ্রাতৃ + ত্ব = ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫০২.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ডুবন্ত
  2. লাজুক
  3. মোড়ক
  4. ঝলক
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

অন্যদিকে,
 • কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত।
- মুড়্ + অক=মোড়ক।
- ঝিল্ + অক ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৩.
'গ্রামীণ' শব্দে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ইন
  2. ঈন
  3. ঈণ
  4. মীণ
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- যেমন - বাঘ + আ =বাঘা; দিন + ইক = দৈনিক।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোন অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

• ঈন প্রত্যয়যোগে :
- গ্রাম + ঈন = গ্রামীণ। (এখানে তদ্ধিত প্রত্যয় - 'ঈন' যুক্ত হয়েছে)
- সর্বজন +ঈন = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৫০৪.
'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পানা + সে
  2. পান + এসে
  3. পানি + সে
  4. পানি + এ
ব্যাখ্যা
• 'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: পানি + সে।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৫০৫.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. পঠিত
  2. খণ্ডিত
  3. শিক্ষিত
  4. তরঙ্গিত
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে- কুসুম + ইত = কুসুমিত, তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত, কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

অন্যদিকে,
----------------
• বিশেষ নিয়মে ‘ক্ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
ক্ত- প্রত্যয় যুক্ত হলে নিন্মলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর ‘ই’-কার হয়। 
যেমন:
• √পঠ + ক্ত; √পঠ +ই + ত্ = পঠিত।

এরূপ-
• √ক্ষুধ্ + ত = ক্ষুধিত।
• √খণ্ড্ + ত্ = খণ্ডিত।
• √ব্যাথ্ + ত্ = ব্যথিত।
• √শিক্ষ্ + ত = শিক্ষিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫০৬.
'কেষ্টা' কী অর্থে ব্যবহৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) সদৃশ অর্থে
  2. খ) বৃহদার্থে
  3. গ) অবজ্ঞার্থে
  4. ঘ) সমষ্টি অর্থে
ব্যাখ্যা
শব্দে সঙ্গে যে সব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

আ- প্রত্যয়:

ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা
খ) বৃহদার্থে: ডিঙ্গি + আ = ডিঙ্গা
গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা হাত + আ = হাতা।
ঘ) সমষ্টি অর্থে : বিশ + আ = বিশা বাইশ + আ = বাইশা
ঙ স্বার্থে : জট + আ = জটা চোখ + আ = চোখা চাক + আ = চাকা
চ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে:  হাজির + আ = হাজিরা চাষ + আ = চাষা


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯সংস্করণ]
৫০৭.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ঈশ্বর
  2. তেজস্বী
  3. ক্ষয়িষ্ণু
  4. ভাস্বর
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৮.
কোন শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বোনাই
  2. ঢোলক
  3. নিমাই
  4. দ্বৈপায়ন
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
আয়ন (ষ্ণায়ন, ফক্):
- নর + আয়ন = নারায়ণ,
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
- রাম + আয়ন = রামায়ণ।

অ (ষ্ণ, অণু):
- মনু + অ = মানব,
- দনু + অ = দানব,
- মধু + অ = মাধব।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অক:
ঢোল + অক = ঢোলক
নোল + অক = নোলক,
গোল + অক = গোলক।

আই:
নিম + আই = নিমাই
কানু + আই = কানাই, 
বোন + আই = বোনাই

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫০৯.
বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ক) দেনাদার
  2. খ) ধোঁকাবাজ
  3. গ) জবানবন্দি
  4. ঘ) বাহাদুরি
ব্যাখ্যা
বাহাদুর + ই = বাহাদুরি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় ই রোগে গঠিত হয়। বাকিগুলো বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫১০.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ছাপা + খানা
  2. জন + অক
  3. রাঁধ + উনি
  4. কাঁদ + না
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫১১.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ নয়-
  1. পল্লবিত
  2. কুসুমিত
  3. লতানো
  4. নীলিমা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫১২.
'বৈদিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. ক) বিদ + ষ্ণিক
  2. খ) বেদ + ষ্ণেক
  3. গ) বিদ + ইক
  4. ঘ) বেদ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়যােগে সম্বন্ধ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়। যেমন- বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক, সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক, সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।
৫১৩.
'দৈব' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নিচের কোনটি?
  1. ক) দেব + ষ্ণ্য
  2. খ) দিব + ষ্ণ্য
  3. গ) দেব + ষ্ণ
  4. ঘ) দেব + ষ্ণি
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে 'দেব + ষ্ণ'।
- এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- এখানে সম্পর্ক বোঝাতে 'ষ্ণ' (অ) প্রত্যয় ব্যবহার করা হয়েছে।

-আরও কিছু উদাহরণ হলো:
•পৃথিবী + ষ্ণ= পার্থিব
•চিত্র + ষ্ণ = চৈত্র

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৪.
নিচের কোনটি জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে ই/ঈ প্রত্যয় যুক্ত শব্দ নয়?
  1. ক) সরকারি
  2. খ) রেশমি
  3. গ) ভাগলপুরি
  4. ঘ) মাদ্রাজি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ প্রত্যয়ান্ত শব্দ (তদ্ধিত প্রত্যয়):
১. ভাব অর্থে - বাহাদুর - বাহাদুরি, উমেদার - উমেদারি।
২. বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে - মোক্তার - মোক্তারি, ডাক্তার - ডাক্তারি, পোদ্দার - পোদ্দারি।
৩. মালিক অর্থে - জমিদার - জমিদারি, দোকান - দোকানি।
৪. জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে - রেশম - রেশমি, ভাগলপুর - ভাগলপুরি, মাদ্রাজ - মাদ্রাজি।
অন্যদিকে, সরকার - সরকারি = সমন্ধবাচক শব্দ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৫.
'পয়সা' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পয় + সা
  2. খ) পদ + সা
  3. গ) পই + সা
  4. ঘ) পাদ + সা
ব্যাখ্যা
সা প্রত্যয় যোগে ঘটিত হয় পয়সা। পাদ + সা = পয়সা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫১৬.
কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ?
  1. বকলম
  2. ভাইবোন
  3. রাজপথ
  4. পারলৌকিক
ব্যাখ্যা
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

অন্যদিকে,
- রাজপথ সমাস সাধিত শব্দ। রাজার পথ = রাজপথ।
- ‘ভাইবোন’ দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ। ভাই ও বোন = ভাইবোন।
- ‘বকলম’ শব্দটি ‘ব’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫১৭.
‘প্রেম’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) প্রে+ম
  2. খ) প্রিয়+এম
  3. গ) প্রিয়+ইমন
  4. ঘ) প্রেম+অ+ব
ব্যাখ্যা
‘প্রেম’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হবে প্রিয় + ইমন৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান৷
৫১৮.
সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. মেধা + বিন = মেধাবী
  2. যশ + বিন = যশস্বী
  3. মায়া + বিন = মায়াবী
  4. দয়া + বতুপ = দয়াবান
ব্যাখ্যা

• 'যশস্বী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - 'যশঃ + বিন'। 
- এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্গত।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- দয়া + বতুপ = দয়াবান, 
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।

৫১৯.
বৃহদার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশা
  2. বাঘা
  3. চোরা
  4. ডিঙা
ব্যাখ্যা

• 'ডিঙা'- শব্দে বৃহদার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
বিশা = বিশ + আ; 'সমষ্টি' অর্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।  
বাঘা= বাঘ + আ; সদৃশ অর্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।  
চোরা = চোর + আ; অবজ্ঞার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 

৫২০.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বিবিয়ানা
  2. কণ্টকিত
  3. সুখিন
  4. বাতুয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে। যথা:

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
পাগল + আমি = পাগলামি;
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই;
বাত + উয়া = বাতুয়া;
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

-------------------
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
ফেন + ইল্ = ফনিল;
সুখ + ইন্ = সুখিন;
নীল + ইমন = নীলিমা।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
দুধ+ ওয়ালা = দুধওয়ালা;
গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫২১.
'আকস্মিক' শব্দের ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়টি কোন শব্দ শ্রেণিকে নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) - প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।
(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর - নাগরিক, মাস - মাসিক, ধর্ম - ধার্মিক, সমর - সামরিক, সমাজ - সামাজিক।
(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক, সংস্কৃত + ষ্ণিক = সাংস্কৃতিক।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২২.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. চোরামি
  2. গৌরব
  3. বাহাদুরি
  4. কেষ্টা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন,
মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য। 
গৌরব + ষ্ণ = গৌরব। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।
--------------------------------
অন্যদিকে, 
চোর + আমি = চোরামি , এটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
বাহাদুরি + ই = বাহাদুরি; এটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
এবং কেষ্ট + আ = কেষ্টা; বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) । 
৫২৩.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. থালা
  2. পুষ্পিত
  3. বিবিয়ানা
  4. চোরাই
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প ইত= পুষ্পিত

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
থাল + আ = থালা; চোর আই = চোরাই

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২৪.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) অম্‌+ল
  2. খ) মেঘ+লা
  3. গ) নম্‌+র
  4. ঘ) হাম্‌+লা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে মেঘ+লা = মেঘলা। যা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• অন্যান্য অপশন:
অম্‌+ল = অম্ল।
নম্‌+র = নম্র।
হাম্‌+লা = হামলা।
উপরের সবগুলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫২৫.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মানব
  2. লৌকিক
  3. ঘরামি
  4. ধড়িবাজ
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা,
ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় - মনু + ষ্ণ = মানব; লোক + ষ্ণিক = লৌকিক।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - ঘর + আমি = ঘরামি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫২৬.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) বখাটে
  2. খ) মতি
  3. গ) সাঁতারু
  4. ঘ) মানব
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: মতি= √মন্‌+ ক্তি
নিয়ম: ক্তি- প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। 

তাছাড়া,
বখাটে, সাঁতারু, মানব শব্দ গুলো তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
- বখাটিয়া> বখাটে= বখা+ টিয়া 
- সাঁতার+উ= সাঁতারু 
- অপত্য অর্থে- ষ্ণ (অ) প্রত্যয়: মনু+ ষ্ণ= মানব ।


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫২৭.
'শৈশব' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. শিশু + ইমন
  2. শিশু + ষ্ণ্য
  3. শিশু + অ
  4. শৈব + শব
ব্যাখ্যা

- শৈশব' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - 'শিশু+অ'।

শৈশব (বিশেষ্য):
- এটির সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শোই্শ‌ব্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে বাল্যাবস্থা, শিশুকাল।
- 'শৈশব' -এর সঠিক প্রকতি ও প্রত্যয় শিশু+অ।
- 'শৈশব' একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস:
১. আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫২৮.
'গৌরব' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. গুরু + ষ্ণ
  2. গুরু + ষ্ণ্য
  3. গৌর + ষ্ণ
  4. গৌর + ষ্ণ্য
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ (অ) প্রত্যয়:
(ক) অপত্য অর্থে: মনু + ষ্ণ = মানব, যদু + ষ্ণ = যাদব।
(খ) উপাসক অর্থে: শিব + ষ্ণ = শৈব, জিন + ষ্ণ = জৈন।
এরূপ,  শক্তি-শাক্ত, বুদ্ধ-বৌদ্ধ, বিষ্ণু-বৈষ্ণব।
(গ) ভাব অর্থে: শিশু + ষ্ণ = শৈশব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব (অভিধান আনুসারে প্রকৃতি-প্রত্যয়: গুরু + অ), কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর।
(ঘ) সম্পর্ক বোঝাতে: পৃথিবী + ষ্ণ = পার্থিব, দেব + ষ্ণ = দৈব, চিত্র (একটি নক্ষত্রের নাম) + ষ্ণ = চৈত্র।

• নিপাতনে সিদ্ধ: সূর্য + ষ্ণ = সৌর (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২৯.
'ঘর + আমি = ঘরামি' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  3. তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩০.
কোন শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. বাঘা
  3. মানব
  4. ঘরামি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
মনু + ষ্ণ = মানব;
লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫৩১.
'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নম্র
  2. খ) স্থাবর
  3. গ) মধুর
  4. ঘ) চত্বর
ব্যাখ্যা
মধুর = মধু + র;  'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ

অন্যদিকে, 
নম্র = নম্‌ + র ; 'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
স্থাবর = স্থা + বর্‌ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
চত্বর = চত্‌ + বর্‌ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫৩২.
"মেধাবী" শব্দটি কী উপায় গঠিত হয়েছে?
  1. সমাস
  2. প্রত্যয়
  3. সন্ধি
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি-প্রত্যয়: 
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী,
- মায়া + বিন্‌ = মায়াবী,
- যশঃ + বিন্‌ = যশস্বী,
- নীল + ইমন = নীলিমা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৩.
'গিন্নীপনা’ শব্দে ‘পনা’ কী ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা;
- হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা। (এখানে 'পনা' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় এর উদাহরণ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩৪.
'বুদ্ধিমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বুদ্ধি + মতুপ্
  2. বুদ্ধি + মান
  3. বুদ্ধি+বধুপ
  4. বুদ্ধি + ইমন
ব্যাখ্যা
• বতুপ্ (বৎ) এবং মতুপ্ (মৎ)-প্রত্যয় [প্রথমার এক বচনে যথাক্রমে ‘বান্ এবং ‘মান্’ হয়।
যেমন: 
- দয়া + বতুপ্ = দয়াবান ৷
- বুদ্ধি + মতুপ্ = বুদ্ধিমান।
- গুণ + বতুপ্ = গুণবান।
- শ্ৰী + মতুপ্ = শ্রীমান।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'বুদ্ধিমান' এর প্রকৃতি প্রত্যয়, 'বুদ্ধি + মৎ'। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫৩৫.
নিচের কোন শব্দে নিন্দা জ্ঞাপনে আমি বা আমো প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ঠকামো
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) চোরামি
  4. ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
• 'জেঠা + আমি = জেঠামি' শব্দে নিন্দা জ্ঞাপনে আমি প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

• আমি/ আম/ আমো/ মি- প্রত্যয়: 
(ক) ভাব অর্থে: ইতর + আমি= ইতরামি, চোর + আমি = চোরামি। 
(খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ঠক + আমো = ঠকামো, ঘর +  আমি = ঘরামি। 
(ঘ) নিন্দা জ্ঞাপনে: জেঠা + আমি = জেঠামি, ছেলে + আমি = ছেলেমি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৩৬.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চোরামি 
  2. কেষ্টা
  3. তেজস্বী
  4. নিমাই
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, ইষ্ঠ, ঈন্, বতু্প্, নীন, নীয়, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: আরু, ইয়া, অট, লা, আটিয়া, উক, উয়া, আই, আ, উরিয়া ইত্যাদি।
যেমন:
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি
- ভরা + অট = ভরাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৩৭.
'ণিন' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) সর্বজনীন
  2. খ) গ্রাহী
  3. গ) নবীন
  4. ঘ) কুলীন
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে 'ঈ' থাকলে 'ণিন' হবে। 'ণিন' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে √গ্রহ + ণিন = গ্রাহী৷ এরূপ- √পা + ণিন = পায়ী৷
'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে সর্বজন + নীন = সর্বজনীন।
নব + নীন = নবীন, কুল + নীন = কুল ইত্যাদি আরো কিছু 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
৫৩৮.
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লালপেড়ে
  2. ভরপেট
  3. প্রাচুর্য
  4. শীতার্ত
ব্যাখ্যা
• 'য' প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি লোপ পায়।

যেমন:
- কবি + য = কাব্য, 
- মধুর + য = মাধুর্য, 
- প্রাচী + য = প্রাচ্য, 
- প্রচুর + য = প্রাচুর্য

অন্যদিকে,
- 'ভর' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - ভরপেট।
- 'শীতার্ত' শব্দটি সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ। শীত + ঋত = শীতার্ত।
- সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস - লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৯.
'বায়বীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বায়ু + ষ্ণীয়
  2. বায়ু + ইয়
  3. বায়ু + ঈয়
  4. বায়ু + বীয়
ব্যাখ্যা
• বায়বীয়  (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় — বায়ু + ঈয়।

• শব্দের অর্থ: 
- বায়ু সংক্রান্ত, 
- বায়ুর মতো, 
- বায়ুজাত, 
- আকাশ পথে বিচরণকারী, 
- বাষ্পীভূত, 
- কল্পিত, অলিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৪০.
কোন শব্দটিতে 'বৃত্তি' অর্থে ''ই'' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. মাদ্রাজি
  2. ব্যাপারি
  3. বাহাদুরি
  4. জমিদারি
ব্যাখ্যা
• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে - 'ব্যাপার-ব্যাপারি' শব্দে।

• বিভিন্ন অর্থে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার:
• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে:
ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার-ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

• ভাব অর্থে:
বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার-উমেদারি।

• মালিক অর্থে:
জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।

• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে:
ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪১.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা
  2. ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ
  3. ঘর + আমি = ঘরামি
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫৪২.
নিচের কোন শব্দটি 'উয়া' প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ক) লাগোয়া
  2. খ) ঘরোয়া
  3. গ) মাছুয়া
  4. ঘ) রিকশাওয়ালা
ব্যাখ্যা
• ‘উয়া’ প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃৎপ্রত্যয়:
- পড়ুয়া = পড়ু + উয়া (কৃৎপ্রত্যয়)।
- মাছুয়া = মাছ + উয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।

• বাকি অপশনগুলো হচ্ছে:
- লাগোয়া = লাগ্‌ + ওয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- ঘরোয়া = ঘর + ওয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- রিক্সাওয়ালা = রিকশা + ওয়ালা (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪৩.
‘মাধব’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1.  মধু + ইমন্‌ 
  2. মধু + ঈমন্‌
  3. মাধ + ব্‌ 
  4. মধু + ব্‌  
ব্যাখ্যা

‘মাধব’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: মধু + ইমন্‌।
- ‘মাধব’ শব্দটি 'মধু’ বিশেষণের সাথে সংস্কৃত তদ্ধিত ‘ইমন’ প্রত্যয়ের সংযুক্তিতে গঠিত। 
- এখানে ‘মধু’ হলো মূল শব্দ বা প্রকৃতি।
---------------------------
সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয় হলো এমন একটি সংস্কৃত প্রত্যয় যা মূল শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এটি মূলত ‘ইমন্’ শব্দাংশের রূপান্তর।
- এই প্রত্যয় শব্দের মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গতা’, ‘নিকটবর্তীতা’ বোঝাতে সাহায্য করে। 
- এই প্রত্যয় মূল শব্দকে বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে রূপান্তরিত করে এবং গুণ বা ভাব প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

- উদাহরণস্বরূপ:
• মধু + ইমন্‌ = মাধব (মধুর বা মধুময়),
• গুরু + ইমন্‌ = গৌরব (গুরুত্ব),
• লঘু + ইমন্‌ = লাঘব (হালকা বা লঘুতা), 
• মহৎ + ইমন্‌ = মহিমা (মহত্ত্ব)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪৪.
'সৌন্দর্য' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• ষ্ণ্য (ষ)সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
(ক) অপত্যার্থে: মনুঃ + ষ্ণ্য = মনুষ্য, জমদগ্নি+ ষ্ণ্য = জামদগ্ন্য।
(খ) ভাবার্থে: সুন্দর+ ষ্ণ্য = সৌন্দর্য, শূর+ ষ্ণ্য = শৌর্য। ধীর+ ষ্ণ্য= ধৈর্য।
(গ) বিশেষণ গঠনে: পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য, বেদ+ ষ্ণ্য = বৈদ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৫৪৫.
'ঊর্মিল' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
-ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
ফেন + ইল্ = ফেনিল।

ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- কুসুম+ ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে-
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৪৬.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. সর্বজনীন
  2. মিশাল
  3. তেজস্বী
  4. নীলিমা
ব্যাখ্যা
- 'মিশাল' হচ্ছে আল-প্রত্যয় যোগে কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- √মিশ্ + আল = মিশাল।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৭.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় -
  1. ছাপাখানা
  2. গোলক
  3. নেশাখোর
  4. বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

আনা, আনি:
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা,
নজর + আনা = নজরানা।

খানা:
মুদি + খানা = মুদিখানা,
ছাপা খানা = ছাপাখানা

খোর:
ঘুষ + খোর = ঘুষখোর,
নেশা + খোর = নেশাখোর,
হারাম + খোর = হারামখোর।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অক:
ঢোল + অক = ঢোলক,
নোল + অক = নোলক,
গোল + অক = গোলক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫৪৮.
কোন শব্দটিতে বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বেতানো
  2. ধুনাচি
  3. নজরানা
  4. কানাই
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

আনা, আনি:
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা,
নজর + আনা = নজরানা।

খানা:
মুদি + খানা = মুদিখানা,
ছাপা খানা = ছাপাখানা।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - কানু + আই = কানাই, ধুনা + আচি = ধুনাচি, বেত + আন্ = বেতান > বেতানো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫৪৯.
প্রত্যয়যুক্ত কোন শব্দটি অবজ্ঞা অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
  1. চোরা
  2. বেতো
  3. কানাই
  4. গেঁয়ো
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ বদলে যায়।

অবজ্ঞা অর্থে: চোর - চোরা।
আদর অর্থে: কানু - কানাই।
সদৃশ অর্থে: বাঘ- বাঘা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি- ডিঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৫০.
'সমষ্টি' অর্থে প্রত্যয়গত শব্দ কোনটি?
  1. জলা
  2. বাইশা
  3. বাঘা
  4. হাজিরা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দে সঙ্গে যে সব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

• আ- প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
খ) বৃহদার্থে: ডিঙ্গি + আ = ডিঙ্গা।
গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
ঘ) সমষ্টি অর্থে : বিশ + আ = বিশা; বাইশ + আ = বাইশা।
ঙ স্বার্থে : জট + আ = জটা চোখ + আ = চোখা চাক + আ = চাকা।
চ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা; চাষ + আ = চাষা।
ছ) তার আছে বা তাতে আছে অর্থে: জল + আ = জলা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ।
৫৫১.
‘নীন’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. গুণী
  2. নবীন
  3. সর্বজনীন
  4. কুলীন
ব্যাখ্যা
⇒ ইন্ (ঈ)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
• গুণী।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [গুণ + ইন্]
অর্থ: গুণ আছে এমন, কালাবিদ, মন্ত্রদ্বারা বশ করতে পারে এমন।

অন্যদিকে,
⇒ নীন (ঈন্)- প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
• কুল + ঈন্ = কুলীন।
• নব + ঈন্ = নবীন।
• সর্বজ + ঈন্ = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫২.
'নজরানা" শব্দটি কোন প্রকার প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বিদেশি কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

আনা, আনি:

- বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
- সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা,
- নজর + আনা = নজরানা ইত্যাদি।

খানা:
- মুদি + খানা = মুদিখানা, 
- ছাপা + খানা = ছাপাখানা।

খোর:
- ঘুষ খোর = ঘুষখোর,
- নেশা খোর = নেশাখোর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৫৩.
'জলুয়া' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয় 
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• উয়া/ওয়া>ও- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: সম্পর্কিত অর্থে-
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া,
- জল + উয়া = জলুয়া > জলো (দুধ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৪.
নিম্নের কোনটিতে বৃত্তি অর্থে ‘ঈ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) জমিদারী
  2. খ) পোদ্দারী
  3. গ) উমেদারী
  4. ঘ) সরকারী
ব্যাখ্যা
- বৃত্তি বা পেশা অর্থে 'পোদ্দারী' শব্দটিতে 'ঈ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।
- এছাড়াও আরও কিছু ক্ষেত্রে ই/ঈ প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে।

সেগুলো হলো- 

(ক) ভাব অর্থে: বাহাদুর ই বাহাদুরি, উমেদার-উমেদারি।

(খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার ডাক্তারি, মোরার-মোরারি, গোদার পোমারি, ব্যাপার- 1 ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

(গ) মালিক অর্থে: জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।

(ঘ) জাত, আগত বা সম্বন্ধ বোঝাতে: ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মন্ত্রাঙ্গ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার সরকারি (সম্বন্ধ বাচক).

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।