বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৮০১৯০০ / ১,০৩৯

৮০১.
ভুসুকুপা মোট কতটি পদ রচনা করেন?
  1. পাঁচটি
  2. আটটি
  3. দশটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮০২.
চর্যাপদের কবি কুক্কুরীপা কোন অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলো?
  1. নেপাল
  2. উড়িষ্যা
  3. তিব্বত
  4. মগধ
ব্যাখ্যা
কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙক্তি হলো:
“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।” - চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৩.
শবরপা'র গুরু ছিলেন-
  1. লুইপা
  2. নাগার্জুন
  3. কাহ্নপা
  4. মীননাথ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি - শবরপা। তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি- 
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহি সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৪.
চর্যাপদের কোন পদকর্তা ত্রিপুরা’র রাজা ছিলেন?
  1. ডোম্বীপা
  2. কাহ্নপা
  3. সরহপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮০৫.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা মতে চর্যার কোন কবি বাঙালি ছিলেন?
  1. লুইপা
  2. সরহপা 
  3. ভাদেপা 
  4. বীণাপা 
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। তিনি চর্যার ১ ও ২৯নং পদের রচয়িতা।
- অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন। যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে।

- তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত ১৮ চর্যাগীতি পাঠ লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

- এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা। লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

- চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।

- তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'।

চর্যার ১নং পদ-
কাআ তরুবার পঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৮০৬.
'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’--এর অর্থ কী?
  1. তেজি কুমিরকে রুখে দিই
  2. বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
  3. গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
  4. ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
ব্যাখ্যা
• দুলি দুহি পীঢ়া' ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই'।

বাংলা অর্থ: 
মাদি কচ্ছপ দোহন করে  দুগ্ধ-পাত্রে, দুধ ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।

------------------------
• কুক্কুরীপা:

- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা (২, ২০ ও ৪৮)।
- এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল। তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে।
- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন।

- তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুক্কুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুকুরীপা।
- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহর মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুকুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে
- যোগভাবনাপ্রদেশ,
- স্রবপরিচ্ছদ।

কুক্কুরীপা রচিত চর্যারপদগুলো হলো:
১. দুলি দুহি পীঢ়া' ধরণ ন জাই। রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই'।
২. আঙ্গন ঘরপণ সুন ভো বিআতী। কানেট চোরে নিল অধরাতী।
৩. সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগই'। কানেট চোরে নিল কা গই মাগই 1
৪. দিবসহি' বহুড়ী কাউহি' ডর' ভাই'। রাতি ভইলে কামরু জাই"।
৫. অইসনী” চর্যা কুকুরীপাত্র গাইল"। কোড়ি মাঝে একু হিঅহি" সমাইল।

আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
১. মাদি কচ্ছপ দোহন করে  দুগ্ধ-পাত্রে, দুধ ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।
২. ওগো প্রসূতি, ঘরের কাছে আঙিনা। অর্ধরাতে চোর কানপাশা নিয়ে গেল।
৩. শ্বশুর নিদ্রা গেল, বধূ রইল জেগে। কানপাশা চোরে নিলে কার কাছে মাগা যায়?
৪. দিনে বধূ কাকের ভয়ে ভীত হয়। রাত হলে কামরাজ্যে [বা কামরূপ) যায়।
৫. এমন চর্যা কুক্করীপা গাইলেন। কোটির মধ্যে একের চিত্তে তা প্রবেশ করল।

উৎস: ‘চর্যাগীতি পাঠ’ ড. মাহবুবুল হক।
৮০৭.
চর্যাপদে কোন অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত?
  1. চণ্ডাল
  2. ডোম
  3. শবর
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' এর জনগোষ্ঠী ও তাদের জীবনচিত্র: 
- ডোম, চণ্ডাল, শবর ইত্যাদি অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত।
- ব্রাহ্মণরা এদের স্পর্শ এড়িয়ে চলতেন এবং নিজেদের সমাজকে নিষ্কলুষ রাখতে সচেষ্ট থাকতেন।

• এ বৈষম্য ও বিভেদের ভাবটি একটি চর্যাগানে অভিব্যক্তি পেয়েছে:
'নগর বাহিরি রে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ।
ছোই ছোই জাসি বাম্‌হণ নাড়িআ ॥' [চর্যাপদের ১০ নং পদ]।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক। 

৮০৮.
চর্যাপদের কবি ডোম্বীপা'র গুরু ছিলেন কে?
  1. কাহ্নপা
  2. বিরূপা
  3. জালন্ধরীপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, ডোম্বীপা ত্রিপুরা বা মগধের রাজা ছিলেন। 
- তাঁর গুরু ছিলেন বিরূপা।
- ডোম্বী পার জীবৎকাল ৭৯০ থেকে ৮৯০ সাল। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, ডোম্বী পার জীবৎকালের শেষ সীমা দেবপালের রাজত্বকালে (৮০৬-৪৯ সাল) ৮৪০ সাল অবধি। 
- তিনি বর্ণে ক্ষত্রিয়, নিবাস মগধ এবং চুরাশি সিদ্ধার একজন।

অন্যদিকে,
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- দারিকপা ছিলেন লুইপার শিষ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৮০৯.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের কোন কবি পূর্ব বঙ্গের মানুষ ছিলেন ?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. বীণাপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
- কুক্কুরীপা তিব্বতের কাছাকাছি কোনো অঞ্চলেন।
- বীণাপা অবস্থান ছিল গৌড়ে।
- লুইপা পঞ্চিমবঙ্গের গঙ্গার ধারে বা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১০.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কোনটি?
  1. ছোটগল্প
  2. কাব্য
  3. নাটক
  4. প্রহসন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য।
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

• বাংলা 'কাব্য' সাহিত্যের ইতিহাস: 
- বাংলা কাব্যের ঐতিহ্য হাজার বছরের।
- খ্রিস্টীয় নয় থেকে বারো শতকের মধ্যে রচিত চর্যাপদ বাংলা কাব্য তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন।
- ১৩৫০-এর পরবর্তী সময়ে  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে মধ্যযুগের বাংলা কাব্যধারার সূচনা হয়। বড়ুু চণ্ডীদাস রচিত এ কাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম কাহিনিকাব্য হিসেবে স্বীকৃত।
-প্রাচীনতম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে ইউসুফ জোলেখা নামে একটি কাব্য রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগে মুসলমান রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যধারা হচ্ছে রোমান্সমূলক কাব্য।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা কাব্যে ইউরোপীয় রোমান্টিক বৈশিষ্ট্যের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮১১.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কোন নামে?
  1. ক) চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. খ) চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  3. গ) দোহাকোষ
  4. ঘ) সরহপাদের দোহা
ব্যাখ্যা
• কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন চর্যাগীতিকোষবৃত্তি নামে।

চর্যাপদ 

• বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। তাতে টিকাকার হিসেবে মুনিদত্তের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়।
• তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮১২.
খনার বচনে কী প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. আবহাওয়া
  2. ব্যবসা
  3. বিজ্ঞান
  4. শিল্প
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

• খনার বচনের একটি উদাহরণ নিম্নরূপ - 
'খাটে খাটায় লাভের গাঁতি।
তার অর্ধেক কাঁধে ছাতি।।
ঘরে বসে পুছে বাত।
তার ভাগ্যে হাভাত।।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮১৩.
কাহ্নপা রচিত কয়টি পদ খুঁজে পাওয়া গেছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাধিক পদের রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এরমধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গিয়েছে এবং তাঁর রচিত ২৪নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- কাহ্নপা আরো বিভিন্ন নামে চর্যার পদ রচনা করেছেন। এগুলো হলো- কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
• ভুসুকুপা চর্যার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১৪.
চর্যাপদে কতটি প্রবাদবাক্য পাওয়া যায়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।

এগুলো হলো:
- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১৫.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দের বাংলা সাহিত্যকে কী নামে চিহ্নিত করা হয়েছে?
  1. তুর্কি যুগ
  2. মুসলমান পূর্ব যুগ 
  3. মধ্যযুগ
  4. রবীন্দ্র পূর্ব যুগ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুনীতিকুমার বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০-এর বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো Origin and Development of the Bengali Language।
- তিনি ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিল।
- তাঁর গ্রন্থ Origin and Development of Bengali Language (ODBL)-এ এই সময়কালকে মুসলমান পূর্ব যুগ বা প্রাচীন যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এই সময়ের প্রধান সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

- যদিও কিছু গবেষক, যেমন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে প্রাচীন যুগের বিস্তারকাল ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে ধরা হয়েছে। 
- তবু ড. সুনীতিকুমারের মতটি ৯৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দকে অধিক স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট মনে করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৮১৬.
সুকুমার সেনের 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে চর্যাপদের কয়টি পদসংখ্যার কথা উল্লেখ্য আছে?
  1. ৪৯টি
  2. ৫১টি
  3. ৪৬টি
  4. ৫০টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তাঁর 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮১৭.
"দশে মিলে করি কাজ হারি যিতি নাহি লাজ"- এটি হলো - 
  1. ডাকের বচন
  2. ভারতচন্দ্র রায়ের উক্তি
  3. চর্যাপদে ব্যবহৃত প্রবাধ
  4. খনার বচন
ব্যাখ্যা

• "দশে মিলে করি কাজ হারি যিতি নাহি লাজ"- এটি হলো - খনার বচন।
----------------
• খনার বচন এর মূলভাব- শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি।

• খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- খনার বচনের উদাহরণ:
• 'কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত'।
• 'নারিকেল গাছে নুনে মাটি, শীঘ্র শীঘ্র বাধে গুটি'।
• না পাইয়া পাইছে ধন, বাপে পুতে কীর্তন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮১৮.
চর্যার কোন পদের ৪টি পঙ্‌ক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1.  ২৪নং পদের
  2. ২৩নং পদের
  3. ২৫নং পদের
  4. ৪৮নং পদের
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের মোট পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮১৯.
প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি হলেন-
  1. বীণাপা 
  2. ভুসুকুপা 
  3.  কাহ্নপা
  4. লুইপা 
ব্যাখ্যা

• চর্যার কবি 'লুইপা':
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

বাংলা অর্থ: 
দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২০.
চর্যার কোন কবির পদে ‘পদ্মা নদী ও বঙ্গাল দেশ’ এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. বীণাপা
  2. ধর্মপা
  3. ভাদেপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।
 
অন্যদিকে,
• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদের রচয়িতা। এই পদের মূলকথা ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।
• বীণাপা চর্যার ১৭নং পদের রচয়িতা। এই পদে সূর্য-চন্দ্রকে চমৎকার উপমায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
• ধর্মপা চর্যার ৪৭নং পদের রচয়িতা। এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের কোন কবিকে বাংলাদেশের মানুষ বলে মনে করেন?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) ভুসুকপা
  4. ঘ) তাড়কপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদ কর্তারা হলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের।  
- পদকর্তারা একত্রে বসে এই চর্যা সমূহ রচনা করেননি।
- এই পদকর্তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করতেন , কেউ কেউ আজকের বাংলাদেশেও ছিলেন।  
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের কবি ভুসুকুপাকে বাংলাদেশের মানুষ বলে মনে করেন।
-  ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- ভুসুকুপা রচিত উল্লেখযোগ্য পংক্তি  'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২২.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ শুরু হয়—
  1. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ৯০০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ৯৫০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১১০০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ : '৯৫০-১২০০ খ্রি:'। অর্থ্যাৎ, ৯৫০ খ্রি: থেকে শুরু হয়।

• বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: 
- গবেষকগণ সময়ের প্রবণতা ও সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন।
- একেই সাহিত্যের যুগবিভাগ বলে।
- বাংলার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ এরকম:
- প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০ খ্রি.;
- মধ্যযুগ ১২০১- ১৮০০ খ্রি.;
- আধুনিক যুগ ১৮০০ খ্রি.- বর্তমান. 

• বি.দ্র. দীনেশচন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ সম্পর্কিত
অভিমত উল্লিখিত যুগ বিভাগকে সমর্থন করে।

• তবে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মধ্য ও আধুনিক যুগের এই সময় মেনে নিলেও, তাঁর মতে, প্রাচীন যুগের সময়সীমা : ৬৫০ খ্রি: থেকে ১২০০ খ্রি: পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২৩.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।" চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ৬ নং
  2. ১৩ নং
  3. ৩২ নং
  4. ৩৩ নং
ব্যাখ্যা
•  'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পদটি ঢেণ্ডণপা রচিত চর্যাপদের ৩৩ নং পদ ।

• পদটির অর্থ:
- লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• 'ঢেণ্ডণপা':
- 'ঢেণ্ডণপা' একটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ছিলেন নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার 'ঢেণ্ডণপা' রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
এগুলো হল-
১. আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
২. দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
৩. হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২ নং পদ)।
৪. হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
৫. বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা, ৩৯ নং পদ)।
৬. আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা, ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮২৪.
চর্যাপদের কত নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?
  1. ২৪ নং 
  2. ২৩ নং
  3. ১৮ নং 
  4. ১৫ নং
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৮২৫.
২৪নং বিলুপ্ত পদটি কার রচনা?
  1. তন্ত্রীপা 
  2. শবরপা 
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা 
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
-বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২৬.
‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে চর্যাপদের সংগৃহীত পুঁথিগুলো প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৯ সালে 
  2. ১৯১৬ সালে 
  3. ১৯২৩ সালে 
  4. ১৯২০ সালে 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ ও তিব্বতি অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনা:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় এশিয়াটিক সোসাইটির পুথিসংগ্রহ কার্যে নিযুক্ত হয়ে তিনবার নেপালে গিয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ খ্রিস্টাব্দে দুবার ও ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে আরেকবার নেপাল যান। শাস্ত্রীর প্রথমবার নেপাল যাওয়ার আগেই তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধিৎসা দেখা দিয়েছিল। বেন্ডাল, কাওয়েল ও রাজেন্দ্রলাল মিত্রের তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের পুথির বিবরণ এবং তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর দ্বিতীয়বার নেপার যাওয়ার আগে বেন্ডাল-এর সুভাষিত সংগ্রহও হাতে এসেছিল।

- শাস্ত্রীমশাইয়ের তৃতীয়বার (১৯০৭) নেপালযাত্রা অবশ্য বিশেষ ফলপ্রসূ হয়। এইবারে তিনি ‘চর্যাচর্য্যবিনিশ্চয়'-এর সন্ধান পান ও নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে তিনি প্রাপ্ত পুথির নকল তৈরি করে আনেন। শাস্ত্রীমশাই অন্যান্য সংগ্রহগ্রন্থও পেয়েছিলেন। এগুলি হল যথাক্রমে- ১. সরোজব্রজের সটীক ‘দোহাকোষ’, ২. মেখলা টীকাসহ কাহ্নপাদের ‘দোহাকোষ’, ৩. বৌদ্ধতন্ত্রের পুথি ‘ডাকার্ণব’।

- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে সংগৃহীত পুঁথিগুলি প্রকাশ লাভ করে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পরেও চর্যা সংক্রান্ত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বহু তথ্য আবিষ্কৃত হয়। শাস্ত্রীমশাই এই গানগুলির তিব্বতি অনুবাদের কথা জানতেন কিন্তু সেই অনুবাদ তিনি ব্যবহার করতে পারেননি।

- তিব্বতি অনুবাদটির প্রথম সন্ধান করেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। ‘Indian Historical Quarterly' (Vol. III, 1972 ) পত্রিকায় এই তিব্বতি অনুবাদ সম্বন্ধে আলোচনা প্রকাশিত হয়। পুথিখানির তিব্বতি অনুবাদ প্রথম প্রকাশ করেন প্রবোধচন্দ্র বাগচী।

- পরে প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তি ভিক্ষুর যুগ্ম সম্পাদনায় ‘চর্যাগীতিকোষ' নামে প্রকাশিত হয়। তিব্বতি অনুবাদ থেকে জানা গেল মূলে একশোটি চর্যার একটি সংকলন ছিল। শাস্ত্রীমশাই এর প্রাপ্ত পুথিটে ৫০টি পদ সংকলিত হয়েছে।

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক। 

৮২৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের কোন তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন?
  1. বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যতত্ত্ব
  2. ধর্মতত্ত্ব
  3. সহজযান অন্তর্নিহিততত্ত্ব
  4. ছন্দতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৮২৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?
  1. ময়নামতির গান  
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা 
  3. শূন্যপুরাণ 
  4. সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ
ব্যাখ্যা

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত।
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

অন্য অপশনগুলো:
• ময়নামতির গান - মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত
• নিরঞ্জনের রুষ্মা - রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণ এর অংশবিশেষ; যা মধ্যযুগে রচিত।
• শূন্যপুরাণ - রামাই পণ্ডিতের রচিত মধ্যযুগীয় ধর্মীয় কাব্য

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮২৯.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী' প্রবাদ বাক্যটি চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ৬নং পদ
  2. ৩২নং পদ
  3. ৩৩নং পদ
  4. ৩৯নং পদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
- 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী' এটি একটি চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য।
- এটি চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- এই পদটির রচয়িতা ঢেণ্ডণপা। 

• অন্যান্য প্রবাদ বাক্যগুলো হলো-
- 'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী'। যার রচয়িতা ভুসুকুপা। এটি চর্যাপদের ৬নং পদ।
- 'দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায়' - এর রচয়িতা ঢেণ্ডণপা, চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- 'হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন' - এর রচয়িতা সরহপা, চর্যাপদের ৩২নং পদ।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৩০.
চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. কুক্কুরীপা
  2. সরহপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী। তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
- সরহপা চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত পদগুলো হলো- (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা (৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৩১.
চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদকর্তা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- তবে তাঁর ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- অর্থাৎ তাঁর মোট ১২টি পদ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন ভুসুকুপা।
- চর্যাপদের ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৩১, ৪১, ৪৩ ও ৪৯ নং পদগুলোর রচয়িতা ভুসুকুপা।
- তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩২.
'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে চর্যাপদের কতজন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়?
  1. ২৬ জন
  2. ২৫ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৩ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র। 
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- এর সংস্কৃত টীকাকার হলেন মুনি দত্ত।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৮৩৩.
কোথায় থেকে প্রথম চর্যাপদ প্রকাশিত হয়?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৩৪.
'দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায়' চর্যাপদের প্রবাদ বাক্যটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা
  2. সরহপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. কাঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:

- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩৫.
সরহপা মোট কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ৪টি
  2. ২টি
  3. ৮টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩৬.
'Sanskrit Buddhist Literature in Nepal' গ্রন্থে কে সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা

• বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর তৃতীয়বার নেপাল সফরকালে (১৯০৭ সালে) নেপালের রাজগ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি) থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।

• ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতগুলো পদ আবিষ্কার করেন।

• তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব', 'সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' —এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

• এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
• ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৮৩৭.
চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন কে? 
  1. লুইপা 
  2. কাহ্নপা
  3. তন্ত্রীপা 
  4. ভুসুকুপা 
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
-  চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা। সেহিসেবে বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩৮.
ভুসুকুপা'র কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. আঁটটি 
  2. নয়টি
  3. দশটি
  4. এগারটি
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৩৯.
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন চর্যার কোন কবি?
  1. ভাদেপা 
  2. তন্ত্রীপা 
  3. ডোম্বীপা
  4. গুণ্ডরীপা  
ব্যাখ্যা

• ডোম্বীপা:
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন। পরে বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করেন। তার অলৌকিক ক্ষমতা ছিল বলে মনে করা হয়।
- তিনি দীর্ঘজীবী পুরুষ ছিলেন। ৭৯০ থেকে ৮৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর জীবনকাল ছিল।
- ডোম্বীপার শুরু ছিলেন বিরুপা।
- ডোম্বীপা চর্যার ১৪ সংখ্যক পদ রচনা করেছেন। 
- তাঁর রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র। কড়ি ছাড়াই এখানে নদী পার হওয়ার চিত্র ফুটে ওঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮৪০.
চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা কতটি?
  1. ক) সাড়ে ৪৬
  2. খ) সাড়ে ৪৭
  3. গ) ৫০
  4. ঘ) ৫১
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১ টি। 
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 

- চর্যাপদের মোট ৩ টি পদ পাওয়া যায়নি এবং ১ টি পদ খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- কাহ্নপার ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- তন্ত্রীপার ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

- ভুসুকুপার ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ
৮৪১.
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে চর্যাপদ বিষয়ক কোন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি আবিষ্কার করেন?
  1. মূল পুঁথি
  2. চর্যাপদের নেপালি সংস্করণ
  3. তিব্বতি ভাষার অনুবাদ
  4. মুনিদত্তের টীকা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।এবং ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুকুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৪২.
'সন্ধ্যাভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত?
  1. শূন্যপুরাণ 
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. চর্যাপদ
  4. পুথি
ব্যাখ্যা
• সন্ধ্যাভাষা: 
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' –এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।
- তবে তত্ত্বজ্ঞানীদের কাছে এ ভাষা অবোধ্য নয় বলে এই অর্থ সমর্থনযোগ্য নয়।
- মুনিদত্ত তাঁর টীকায় সন্ধাভাষ, সন্ধাভাষা, সন্ধ্যাবচন, সন্ধ্যাসংকেত, সন্ধ্যা ও ব্যাজ প্রভৃতি শব্দ চর্যার রূপকাশ্রিত দুর্বোধ্য অংশের বা প্রতীকী শব্দের ভাষ্য ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বারবার প্রয়োগ করেছেন।
- কারও মতে 'সন্ধ্যাদেশ' নামে বিশেষ অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে চর্যাপদের ভাষার মিল আছে বলে এ নাম হয়েছে।
- তিব্বতি ভাষায় সন্ধ্যাভাষার অর্থ প্রহেলিকাচ্ছলে উক্ত দুরূহ তত্ত্বের ব্যাখ্যা।
- ম্যাক্সমুলর 'সন্ধ্যা' কথাটিকে প্রচ্ছন্ন অর্থে গ্রহণ করেছেন।
- আসলে কথাটির সঙ্গে একটা রহস্য বা দুর্বোধ্যতার ইঙ্গিত আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম। 
৮৪৩.
‘অভিসময়বিভঙ্গ’ কার লেখা গ্রন্থ?
  1. ক) শবরপা
  2. খ) লুইপা
  3. গ) ধাম বা ধর্মপা
  4. ঘ) সরহপা 
ব্যাখ্যা
- ‘অভিসময়বিভঙ্গ’ গ্রন্থের রচয়িতা লুইপা

• লুইপা:
- চর্যাপদে লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তিনি চর্যাপদের প্রথম ও ঊনত্রিশতম পদের রচয়িতা।
- এছাড়াও সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ’। 

বাকি অপশনগুলো: 
 • শবরপা:
- শবরপা ছিলেন বাঙালি এবং তিনি ছিলেন ব্যাধ।
- ড.সুকুমার সেনের মতে,লুইপার গুরু শবরপা'র জীবৎকাল আট শতকের প্রথমার্ধ।

• ধাম বা ধর্মপা:
- তিনি কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন।
- তাঁর জন্ম বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণবংশে। তাঁর পদের ভাষা বাংলা।
- তিনি ভিক্ষু ও সিদ্ধা ছিলেন।

• সরহপা:
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষায় রচিত 'বঙ্গ-কামরূপী'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৮৪৪.
শবরপা কোন সিদ্ধাচার্যের শিষ্য ছিলেন?
  1. মীননাথ
  2. কাহ্নপা
  3. নাগার্জুন
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৪৫.
চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন -
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৪৬.
চর্যাপদের কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. বীরূপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছদ্ম নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

• “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী/ নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী” - ভুসুকুপার এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
• তার কবিতার লাইনের আধুনিক রূপ - আজ ভুসুকু বাঙ্গালি হইলো।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা:
কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৪৭.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ কোনটি?
  1. ৬৫০-১০০০ খ্রি:
  2. ৬৫০-৯৫০ খ্রি:
  3. ৯৫০-১৩৫০ খ্রি:
  4. ৯৫০-১২০০ খ্রি:
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ : '৯৫০-১২০০ খ্রি:'।

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: 
- গবেষকগণ সময়ের প্রবণতা ও সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। একেই সাহিত্যের যুগবিভাগ বলে।

বাংলার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ এরকম:
প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০ খ্রি.;
মধ্যযুগ ১২০১- ১৮০০ খ্রি.;
আধুনিক যুগ ১৮০০ খ্রি.- বর্তমান. 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৪৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যার আদি পদকর্তা হিসেবে কোন কবির নাম উল্লেখ করেছেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা 
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ। লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না।

তবে,  অন্যবিধ প্রমাণের সাহায্যে- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

-----------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: ‘চর্যািগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৪৯.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।'' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ধর্মপা
  3. শান্তিপা
  4. ঢেণ্ডণপা
  5. বীণাপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- ঢেণ্ডণপা চর্যাপদের ৩৩নং পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যায় বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যাপদে 'ঢেণ্ডণপা' রচিত পদ,

''টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫০.
কুক্কুরীপা রচিত কোন পদটি লুপ্ত?
  1. ৩৩নং 
  2. ২৫নং 
  3. ৪৮নং
  4. ২৩নং
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" - চর্যাপদের ২নং পদ।

এর চলিত বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৮৫১.
নবচর্যাপদ কত খ্রিষ্টাব্দে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯০৭
  2. খ) ১৯৪৭
  3. গ) ১৯৬১
  4. ঘ) ১৯৬৩
ব্যাখ্যা
নবচর্যাপদ চর্যাপদের মতো রচনা। শশীভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল ও তরাইভূমি থেকে ২৫০টি পদ আবিষ্কার ও সংগ্রহ করেন। 

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৮৫২.
চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. সরহপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে- 
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।
- পঞ্চম সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - লুইপা, শবরপা, শান্তিপা (২টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫৩.
চর্যাপদ কোথা হতে আবিষ্কৃত হয়?
  1. নেপালের রাজগ্রন্থশালা
  2. নেপালের বৌদ্ধবিহার
  3. তিব্বতের রাজগ্রন্থশালা
  4. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫৪.
রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম কোন গ্রন্থে নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন?
  1. Origin and Development of the Bengali Language
  2. Origin and Growth of Pali Literature
  3. Sanskrit Buddhist Literature in Nepal
  4. The Buddhist Tantra in Nepal
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের প্রায় সমসাময়িক কালে বাংলাদেশে যে সব সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না।
- ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৮৫৫.
নিচের কোন জন চর্যাপদের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. তাড়কপা
  3. জ্ঞানদাস
  4. জয়নন্দী
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস- মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
---------------- 
• চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন : 
লুই, কুক্কুরী, বিরুপা, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।

- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

• জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
• তাড়কপা ৩৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
• মহীধরপা ১৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।।
৮৫৬.
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী। হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’— এই পদটি চর্যাপদের কত নম্বর পদ?
  1. ১নং
  2. ১০নং
  3. ৩৩নং
  4. ৫০নং
ব্যাখ্যা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যার ৩৩নং পদটি হলো:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৫৭.
চর্যাপদের টিকাকার 'কাহ্নপা' রচিত প্রাপ্ত পদসংখ্যা কত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৯
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৩
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা (আনু. ১০ম শতক) বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন। কাহ্নপা- চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কবি।
- চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- তার রচিত পদের সংখ্যা ১৩ টি।
- তবে ১২ টি পদ পাওয়া গেছে।
- কাহ্নপা রচিত চর্যাপদের ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫৮.
"হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।" - পদটি কে লিখেছেন?
  1. লুইপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া গেছে।
এগুলো হলো: 

• অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী। (ভুসুকুপা, ৬ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হরিণ তার নিজের মাংসের জন্যই সকলের শত্রু।

• হাথেরে কাঙ্কণ মা লোউ দাপণ। (সরহপা, ৩২ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাতের কঙ্কন দেখতে আয়নার দরকার নেই। নিজেই তুমি নিজের মন বোঝ।

• হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী। (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাঁড়িতে ভাত নেই কিন্তু নিত্য প্রেমিক আসে।

• দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামায়? (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?

• বর সুণ গোহালী কি মো দুঠ বলন্দে (সরহপা, ৩৯ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : বরং শূন্য গোয়াল ভালো, কি করব আমি দুষ্ট বলদে।

• আণ চাহন্তে আণ বিনঠা (কঙ্কনপা, ৪৪ নম্বর পদ)।
আধুনিক  বাংলা : এক চাইতে অন্য বিনষ্ট হলো।

উৎস:
চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

৮৫৯.
কোথায় থেকে প্রথম চর্যাপদ প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. বাকুড়ার এক গোয়াল ঘর থেকে
  3. নেপালের রাজ গ্রন্থশালা
  4. মুসলিম সাহিত্য কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৬০.
পাণিনি কে ছিলেন?
  1. ক) ভাষাবিদ
  2. খ) ঋগ্বেদবিদ
  3. গ) বৈয়াকরণিক
  4. ঘ) ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা

- বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ। তিনি 'অষ্টাধ্যায়ী' নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত ।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে; খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা। এখানে পাণিনির (আনু. খ্রি.পূ পঞ্চম শতক) অষ্টাধ্যায়ীর সূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপান্তরই বেশি জনপ্রিয় ছিল।

সোর্স: বাংলাপিডিয়া।

৮৬১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের মোট পদ সংখ্যা কত?
  1. সাড়ে ৪৬টি
  2. ১১টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তবে তিনি ১১ নং পদ ব্যাখ্যা করননি।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন। তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র। আদি সিদ্ধাচার্য লুইপাকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের আদি কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৬২.
ভুসুকুপা কোথাকার রাজপুত্র ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. মগধ
  3. সৌরাষ্ট্র 
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৬৩.
কাহ্নপা কোন রাজার রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন?
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. মহীপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৬৪.
'সন্ধ্যাভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?
  1. চর্যাপদ
  2. পদাবলি
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. রোমান্সকাব্য
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৬৫.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২১ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবিগণ:
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে
 
এরা হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৬৬.
কে সম্প্রতি ‘নতুন চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন?
  1. জগন্নাথ উপাধ্যায়
  2. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
  3. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• নতুন চর্যাপদ:
⇒ শতবর্ষ আগে (১৯১৬) হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর চর্যাপদ-প্রকাশ আমূল বদলে দিয়েছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস। পাশাপাশি এসেছিল মৈথিলি, উড়িয়া ও অসমীয়া সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্বিবেচনার প্রসঙ্গ।

⇒ তিন দশক পরে রাহুল সাংকৃত্যায়ন তিব্বতে পাওয়া ২০টি চর্যা প্রকাশ করেন (১৯৫৪) এলাহাবাদ থেকে। পরের দশকে শশিভূষণ দাশগুপ্ত সন্ধান পান (১৯৬৩) আর এক গুচ্ছ চর্যার, যার ৯৮টি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় নব চর্যাপদ (১৯৮৮) গ্রন্থে। আশির দশকে জগন্নাথ উপাধ্যায় নেপাল থেকে সংগ্রহ করেন চর্যার তিনটি নতুন পুথি; যার থেকে ১৬৫টি গান বারাণসী থেকে দেবনাগরী অক্ষরে প্রকাশিত হয় চর্যাসংগ্রহ (২০১২) নামে। নেপাল-তিব্বত অঞ্চলে তন্দ্রচর্চা ও বজ্রযানী-আরাধনায় দীর্ঘকাল ধরে যে মন্ত্রগান ব্যবহার হয় তা চর্যারই অনুবৃত্তি।

⇒ সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এর আবিষ্কৃত ‘নতুন চর্যাপদে’ সংকলিত হয়েছে মূলত বজ্রযানী দেবদেবীর আরাধনার গীত।
⇒ বর্তমান সংকলনে উপস্থাপিত ৩৩৫টি নতুন চর্যা সে-ধারারই অন্তর্গত। এতে সরহ, শবর, ডোম্বী, দারক, গোদারি, কাহ্ন, ভুসুকুর মতো পরিচিত চর্যাকারদের পদ রয়েছে।

⇒ আবার শাস্ত্রীর সংকলনে পদ নেই এমন প্রাচীন চর্যাকার- জালন্ধরী নাগার্জন, তিলোপা, নারোপা, লীলাবজ্র, অদ্বয়বজ্রের পদও স্থান পেয়েছে। এই তিন শতাধিক পদ আনুমানিক ১০০ কবির রচনা, যার ৮০ জন চিহ্নিত।

⇒ বর্তমান সংকলনে নব-সংগৃহীত ৩৩৫টি পদের সঙ্গে রাহুলের বর্তমান সংকলনে নব-সংগৃহীত ৩৩৫টি পদের সঙ্গে রাহুলের ২০টি, শশিভূষণের ২১টি এবং জগন্নাথের ৩৭টি পদ পরিশিষ্টরূপে যুক্ত হয়েছে।

⇒ অষ্টম থেকে বিশ শতকের মধ্যে রচিত এই চার শতাধিক চর্যা বাংলা সাহিত্যের নতুন উপকরণ। সংকলিত হওয়ার পূর্বে দীর্ঘকাল মুখে মুখে প্রচলিত থাকার সময়ে এর পাঠে পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভাষার রূপ হিসেবে এর গুরুত্ব অনন্য। আবার বৌদ্ধধর্ম, বিশেষত তন্ত্রযান, বজ্রযান ও বৌদ্ধ দেবদেবীর বিকাশ অধ্যয়নের ক্ষেত্রেও পদগুলো গুরুত্বপূর্ণ।


 
উৎস: ‘নতুন চর্যাপদ’ সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
৮৬৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌'র মতে, চর্যাপদের পদ কয়টি?
  1. ক) ৪৯
  2. খ) ৫০
  3. গ) ৫১
  4. ঘ) ৫২
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।

• চর্যাপদ 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮৬৮.
খনার বচনে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জ্যোতিষশাস্ত্র
  2. ধাধা
  3. আবহাওয়া
  4. ঋতু
ব্যাখ্যা
খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৬৯.
চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৮৭০.
চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কতো বঙ্গাব্দে?
  1. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ঢণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮৭১.
'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না।' চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৭২.
আলো আঁধারি ভাষার প্রয়োগ আছে কোন সাহিত্যে?
  1. চৈতন্যজীবনী
  2. গীতগোবিন্দ
  3. চর্যাপদ
  4. পদাবলি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৭৩.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - এটি চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ১নং 
  2. ৩৩নং 
  3. ২৪নং 
  4. ২৩নং 
ব্যাখ্যা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেগুণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত পদ:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - এটি চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭৪.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

• 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা - ঢেণ্ডণপা।

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।। (পদ: ৩৩)

• চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে।
এগুলো হলো:
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২৩ জন
  2. ২৪ জন
  3. ২২ জন
  4. ২৬ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৭৬.
চর্যাপদে কোন কবি নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা - চর্যাপদে নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিছেন। 
------------- 
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছদ্ম নাম বলে মনে করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। 
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

• “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভাইলী/ নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী” - ভুসুকুপার এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
• তার কবিতার লাইনের আধুনিক রূপ - আজ ভুসুকু বাঙ্গালি হইলো। 

- ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা:
কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৭৭.
'খনার বচন' - এর মূলভাব কী?
  1. লৌকিক প্রণয়সঙ্গীত
  2. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  3. সামাজিক মঙ্গলবোধ
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
ব্যাখ্যা

• ‘খনার বচন’ একটি প্রসিদ্ধ বাংলা সাহিত্যকর্ম, যা মানুষের জন্য শুদ্ধ ও সঠিক জীবনযাপনের গুরুত্বকে উজ্জীবিত করে।

খনার বচন:
- খনার বচন হলো মূলত কৃষি, জ্যোতিষ, এবং জীবনযাপন সম্পর্কিত উপদেশমূলক ছড়া বা উক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে একজন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী বাঙালি নারী খনা এই বচনগুলো রচনা করেন।
- খনার বচন রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী। 
- 'খনার বচন'- এর মূলভাব: শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি।
- ইংরেজির saying বা proverb এবং বাংলার প্রবাদর সঙ্গে এর মিল থাকলেও, খনার বচনের তাৎপর্য আরও বিস্তৃত ও ভিন্ন।
- সাধারণত বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশমূলক বাক্যকে বচন বলা হয়। যেমন: গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনের উদাহরণ:
• 'কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত' বা 
• 'নারিকেল গাছে নুনে মাটি, শীঘ্র শীঘ্র বাধে গুটি'।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৮৭৮.
চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিল-
  1. খ্রিস্ট সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ
  2. জৈন ধর্মের তত্ত্ব প্রকাশ
  3. হিন্দু ধর্মের প্রচার
  4. বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। অপরদিকে ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৯.
"আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী" চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ৩৩ নং
  2. ৩১ নং
  3. ৬ নং
  4. ৩৯ নং
ব্যাখ্যা
"আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী" চর্যাপদের  ৬ নংপদ।

- ৬নং পদের রচয়িতা ভুসুকুপা।
- এটি চর্যাপদের একটি প্রবাদ বাক্য।

• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
এগুলো হলো:
- আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী ( ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
- দুহিলা দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২ নং পদ)।
- হাড়িতে ভাত নাহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলন্দেঁ (সরহপা,৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮০.
"অপণা মাংসে হরিণা বৈরী।" - লাইনটি চর্যাপদের কত নং পদে উল্লেখ আছে?
  1. ১ নং 
  2. ৬ নং 
  3. ৩৩ নং 
  4. ২৯ নং 
ব্যাখ্যা

• ‘অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী’- ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ৬নং পদ এর অন্তর্গত।

• চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন — ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে রচিত।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

• তাঁর রচিত চর্যাপদের নমুনা-
"কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস।।
অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু আহেরী।।"

অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী: 
হরিণের মাংস সুস্বাদু বলে শিকারি তার পেছনে তীর হাতে ছোটে। হরিণের মাংস বিস্বাদ হলে শিকারি হরিণের দিকে চোখ তুলে চেয়েও দেখত না। কাজেই হরিণ নিজেই নিজের শত্রু। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের কবি শিকারির ওপর দোষ না রেখে ভিকটিম হরিণের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন। কবির কথার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি থাকতে পারে, তবে কবির কথাটা রূঢ় বাস্তব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।

৮৮১.
কোন সাহিত্যকর্ম ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে অভিহিত হয়ে থাকে?
  1. চর্যাপদ
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮২.
'এক সো পদমা চউসট্‌ঠী পাখুড়ি।
তাহিঁ চড়ি নাচই ডোম্বি বাপুড়ি।। - পদটি রচয়িতা কে?
  1. ডোম্বীপা
  2. সরহপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• 'এক সো পদমা চউসট্‌ঠী পাখুড়ি।
তাহিঁ চড়ি নাচই ডোম্বি বাপুড়ি।।

- এই পদটির রচয়িতা - কাহ্নপা
- এটি কাহ্নপা রচিত ১০নং পদ।

কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৮৩.
চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ-
  1. ক) শান্তি পা 
  2. খ) সরহ পা 
  3. গ) ভাদ্র পা
  4. ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ। পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে তিনি বর্তমান ছিলেন।
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা। প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি। 
- কাহ্নপা সম্প্রদায়গতভাবে ছিলেন ব্রাহ্মণ, পরে সহজিয়া মতে দীক্ষা নিয়ে সিদ্ধাচার্য, মন্ডলাচার্য ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত হন।
- পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারে তিনি অবস্থান করতেন। তিনি বৌদ্ধ সহজিয়া মতের অনুসারী ছিলেন জলন্ধরী পা ছিলেন তাঁর গুরু। চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। এ পর্যন্ত কাহ্নপার ভণিতায় ৭৪খানি গ্রন্থের নাম জানা গেছে।

অন্যদিকে,
 - শবর পা সহ জিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা। চর্যাপদ সঙ্কলনে শবর পা দুটি পদ আছে।
- শান্তি পা বিক্রম শিলা বিহারের দ্বার পণ্ডিত ছিলেন।
- দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান অতীশ তাঁর শিষ্য।

উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
৮৮৪.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কবে গ্রন্থাকারে চর্যাপদ প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮৫.
'দুলি দুহি পীড়া' ধরণ ন জাই। রুখের তেগুলি কুম্ভীরে খাই।' চর্যার পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা 
  2. শবরপা 
  3. কুক্কুরীপা
  4. শান্তিপা 
ব্যাখ্যা

•  কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা (২, ২০ ও ৪৮)। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল]। তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে।

 - কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন।

- তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুক্কুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুকুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।
- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুকুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে
- যোগভাবনাপ্রদেশ,
- স্রবপরিচ্ছদ।

কুকুরীপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো:
১. দুলি দুহি পীড়া' ধরণ ন জাই। রুখের তেগুলি কুম্ভীরে খাই'।
২. আঙ্গন ঘরপণ সুন ভো বিআতী। কানেট চোরে নিল অধরাতী।
৩. সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগই'। কানেট চোরে নিল কা গই মাগই 1
৪. দিবসহি' বহুড়ী কাউহি' ডর' ভাই'। রাতি ভইলে কামরু জাই"।
৫. অইসনী" চর্যা কুকুরীপাত্র গাইল"। কোড়ি মাঝে একু হিঅহি" সমাইল।

আধুনিক বাংলায় রূপান্তর:
১. মাদি কচ্ছপ দোহন করে দুগ্ধ-পাত্রে, দুধ ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।
২. ওগো প্রসূতি, ঘরের কাছে আঙিনা। অর্ধরাতে চোর কানপাশা নিয়ে গেল।
৩. স্বশুর নিদ্রা গেল, বধূ রইল জেগে। কানপাশা চোরে নিলে কার কাছে মাগা যায়?
৪. দিনে বধূ কাকের ভয়ে ভীত হয়। রাত হলে কামরাজ্যে [বা কামরূপ) যায়।
৫. এমন চর্যা কুক্করীপা গাইলেন। কোটির মধ্যে একের চিত্তে তা প্রবেশ করল।

উৎস: 'চর্যাগীতি পাঠ' ড. মাহবুবুল হক।

৮৮৬.
ডোম্বীপার গুরু ছিলেন-
  1. শবরপা
  2. বিরূপা
  3.  কাহ্নপা
  4. ভাদেপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• ধর্মপার গুরু ছিলেন - কাহ্নপা।
• বীণাপার গুরু ছিলেন - ভাদেপা।
• শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮৭.
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।" সম্পর্কে কোনটি ভুল?
  1. পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
  2. এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
  3. এর অর্থ- দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
  4. পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা চর্যাপদে ২টি পদ রচনা করেছেন।
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 "কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।" সম্পর্কে অপশনের কোনো তথ্য ভুল নয়।

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল/ চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- এর অর্থ- দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
- অর্থ্যাৎ, এটি প্রাচীন যুগের রচনা।

পদ - ১ - 
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চর্যাগীতিকা, মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।

৮৮৮.
ডাকের বচনে প্রাধান্য পেয়েছে-
  1. ক) জ্যোতিষশাস্ত্র
  2. খ) কৃষিতত্ত্ব বিষয়ক কথা
  3. গ) আবহাওয়া সংক্রান্ত কথা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য  পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮৮৯.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা ”(১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৯০.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. ধর্মপা
  2. দারিকপা
  3. শরবপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - শরবপা। তবে, শবরপা নামে একজন কবি আছেন।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৯১.
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাক ও খনার বচনের রচনাকাল কোনটি?
  1. সপ্তম থেকে একাদশ শতক
  2. সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক
  3. অষ্টম থেকে একাদশ শতক
  4. অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক
ব্যাখ্যা
• ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাক ও খনার বচনের রচনাকাল - অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক

ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

• খনার বচনের একটি উদাহরণ নিম্নরূপ - 
'খাটে খাটায় লাভের গাঁতি।
তার অর্ধেক কাঁধে ছাতি।।
ঘরে বসে পুছে বাত।
তার ভাগ্যে হাভাত।।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৯২.
নিচের কোন জন চর্যাপদের পদকর্তা নয়?
  1. টেণ্ডণপা
  2. ভাদেপা
  3. ধর্মপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• 'টেণ্ডণপা' - নামে চর্যাপদের কোন পদকর্তা ছিলো না। 

• চর্যাপদের কিছু প্রধান কবির নাম:
- কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, ভাদেপা, ধর্মপা, মহীধরপা, ঢেণ্ডণপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা।
----------------------------
• চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।
--------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড.সৌমিত্র শেখর।
৮৯৩.
চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা 
  3. শবরপা 
  4. লুইপা 
ব্যাখ্যা

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।সেগুলো হলো: ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯।

- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন। কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ।

- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৯৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের ব্যাপ্তিকাল ছিল-
  1. ২০০ বছর
  2. ৩৫০ বছর
  3. ১৫০ বছর
  4. ২৫০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

⇒ মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) ছিল অন্ধকার যুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯৫.
বঙ্গ-কামরূপী ভাষায় পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. সরহপা
  2. বীণাপা
  3. শান্তিপা
  4. জয়নন্দীপা
ব্যাখ্যা
• সরহ পা: 
- সরহ পা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা ছিল বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা।তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
• বীণাপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল বাংলা।
• শান্তিপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল প্রাচীন মৈথিলি।
• জয়নন্দীপা রচিত পদের ভাষা ছিল আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ তথা প্রত্ন-মৈথিলি-উড়িয়া-বাংলা-আসামি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৮৯৬.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. আর্যদেবপা
  2. তাড়নপা
  3. দারিকপা
  4. মহীধরপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - তাড়নপা

উল্লেখ্য, 'তাড়কপা' নামে চর্যাপদের কবি রয়েছে, 'তাড়নপা' নামে নয়।

চর্যাপদ:
- 'চর্যাপদ' বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- 'চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) এবং ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে -
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
সে বিচারে এককথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।

এরা হলেন -
- লুইপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, ধর্মপা, ঢেণ্ডণপা, বিরুপা, বীণাপা, ভাদেপা, ভুসুকুপা, মহীধরপা, শবরপা, শান্তিপা, সরহপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা, চাটিল্লপা, আর্যদেবপা, দারিকপা, তাড়কপা, কঙ্কণপা, জয়নন্দীপা, তন্ত্রীপা, লাড়ীডোম্বীপা। 
- লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৯৭.
বাংলা লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি কোনটি?
  1. ছড়া
  2. পদাবলি 
  3. রূপকথা
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি - ছড়া।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৮৯৮.
চর্যাপদে কতজন কবির পদ রয়েছে? 
  1. ২১ জন
  2. ২২ জন 
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়। তবে এঁদের মধ্যে লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি। সুতরাং চর্যাপদে ২৩ জন কবির পদ রয়েছে। 

যদিও প্রশ্নটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে তবে অপশন অনুসারে 'গ' সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। 

-----------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে * (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবি:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়। গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন। তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে। নামের শেষে গৌরবসূচক 'পা' যোগ করা হয়েছে।

 চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন-
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ঢণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা; মহীধরপা; লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; ধর্ম্মপা; তন্ত্রীপা। লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮৯৯.
আধুনিক ছন্দের বিবেচনায় চর্যাপদের পদগুলো কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দ 
  2. মহাকাব্যিক ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. পদাবলীর ছন্দ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।

- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯০০.
চর্যার কোন পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. ৩৩নং 
  2. ৪৯নং 
  3. ২৬নং 
  4. ৪৮নং
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

-------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহববল আলম।