বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৬০১৭০০ / ১,০৩৯

৬০১.
'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই'- কোন কবির পদ?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) কুক্কুরীপা
  4. ঘ) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরি পাদ ৩টি পদ রচনা করেছেন।
- তিনি ২, ২০ ও ৪৮ নং পদ রচনা করেন।
- এগুলোর মধ্যে ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্কুরী পা।
পদটি হলো:
“দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।”

অর্থ্যাৎ, "মাদী কাছিম দোহন করে দুধ পাত্রে রাখা যাচ্ছে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।"
সুতুরাং, 'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই' অর্থ - গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।
==========
• চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা কাহ্নপা।
- পদ রচনার সংখ্যাধিক্যের কারণে তাকে চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।
- তিনি রচনা করেছেন ১৩টি পদ।
- তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদরচয়িতা ভুসুকুপা।
- তিনি ৮টি পদ রচনা করেছেন।

• চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা সরহপা।
- তিনি মোট ৪টি পদ রচনা করেন - ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯ সংখ্যাক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৬০২.
"সোনে ভরিতী করুণা নাবী। রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।" - চর্যাপদের এই পদটির রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. কম্বলাম্বরপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
• সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।-  চর্যাপদের ৮ নং পদ এটি। 

- '৮ নং' পদ এর রচয়িতা কম্বলাম্বরপা। 
- ৮ নং চর্যায় লোকজীবনের একটি সাধারণ চিত্র সমৃদ্ধিময় আলঙ্কারিক মণ্ডলে একবিস্ময়কর শিল্পসুষমা লাভ করেছে।
- মণীন্দ্রমোহন বসু চর্যাপদের '৮ নং' পদের সাথে রবীন্দ্রনাথের 'সোনার তরী' কবিতার সাদৃশ্য খুজে পেয়েছেন।

মূল পদটি নিম্নরূপ:
সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।
গেলী জাম বাহুড়ই কইসে
ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাচ্ছি।
বাহতু কামলি সদৃগুরু পুচ্ছি
মাঙ্গত চড়হিলে চউদিস চাহ ।
কেড়ুআল নাহি কে কি বাহবকে পারঅ
বাম দাহিণ চাপী মিলি মিলি মাঙ্গা।
বাচত মিলিল মহাসুহ সাঙ্গা

• আধুনিক বাংলা অনুসারে পদটি নিম্নরূপ:
'আমার করুণা- নৌকা সোনায় ভর্তি রয়েছে; তাতে রূপা রাখার ঠাঁই নেই। 
ওরে কম্বলি পা, গগনের (নির্বাণের) উদ্দেশ্যে তুমি বেয়ে চলো; যে জন্ম গেছে সে ফিরবে কি করে? (নৌকা বাইতে গিয়ে) খুঁটি উপড়ে ফেলো, কাছি মেলে দাও। সদগুরুকে জিজ্ঞেস করো, হে কম্বলি পা, তুমি বেয়ে যাও। পথে বেরিয়ে চারদিকে চেয়ে এগিইয়ো; কেড়ুয়াল ছাড়া কেউ কি বাইতে পারে? বামে- ডানে চেপে পথ বেয়ে গেলে ঐ পথেই মহাসুখের সঙ্গে মিলে যাবে।' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৬০৩.
কোনটি বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. রামায়ণ 
  2. চর্যাপদ 
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৪.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান বলে গণ্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৫.
চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। 
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬০৬.
'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে পরিচিত ছিলেন চর্যাপদের কোন কবি?
  1. কাহ্নপা
  2. কুক্কুরিপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন শজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী। তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণাচার্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৭.
চর্যাপদের কোন কবি নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬০৮.
চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. নেপালের রাজ দরবার
  3. বাংলা একাডেমি
  4. ব্রিটিশ মিউজিয়াম
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৬০৯.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬১০.
ডাকের বচনে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা
  2. মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা
  3. কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই।
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে।
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৬১১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের প্রাচীন কবি‌ কে?
  1. কাহ্নপা
  2. শবরপা
  3. ঢেণ্ডনপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

- শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৬১২.
'কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল'- পদটির রচয়িতা কে? 
  1. লুইপা
  2. ভুসুরুপা
  3. শবরপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

--------------------
• চর্যার কবি 'লুইপা':
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

বাংলা অর্থ: 
দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬১৩.
চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. শবরপা
  3. লুইপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন - লুইপা।

লুইপা:

- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ অনুমান করেন ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

লুইপা রচিত ১নং পদ

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৪.
চর্যাপদের কবিরা ছিলেন -
  1. মহাঘানী বৌদ্ধ
  2. বজ্রঘানী বৌদ্ধ
  3. বাউল
  4. সহজঘানী বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদসংখ্যা ও মোট কবির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সকল লেখক ও গবেষকগণ চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়াগণ বা সহযানী বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ রচনা করেছেন - এই ব্যাপারে একমত ছিলেন।
-  তাই চর্যাপদ সহজযানী বৌদ্ধ কবিগণ রচনা করেছেন, এই ব্যাপারে দ্বিমত করার সুযোগ নেই।
-  প্রশ্নের অপশনে- সহজঘানী বৌদ্ধ মূলত টাইপিং-এর ভুলে লেখা হয়ে থাকতে পারে। এটা মূলত সহজযানী বৌদ্ধ হবে। [উল্লেখ্য, প্রশ্নে আরো বেশ কয়েকটি বানান ভুল রয়েছে।]

অন্যদিকে, 
• লাল নীল দীপাবলিতে ড. হুমায়ুন আজাদ সহজে বুঝিয়ে বলার জন্য চর্যাপদের রচয়িতা হিসাবে বাউল বৌদ্ধের কথা বলেছেন। তবে বাউলতত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে চর্যাপদ রচনার অনেক পরে। চর্যাপদের কবিদের জীবন ধারণ বর্তমান বাউল সম্প্রদায়ের সাথে কিছুটা মিল থাকায় এই যুক্তি উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে।

------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ⎯ চর্যাপদ। এটি মূলত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিল বৌদ্ধ ধর্মমতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।

সহজিয়া বলতে বোঝায়-
-  সহজিয়া একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়, যারা সহজপথে সাধনা করে। ‘সহজ’ শব্দের অর্থ যা সঙ্গে সঙ্গেই জন্মায়। জীব বা জড়ের বাহ্য রূপের সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরেও একটি শাশ্বত স্বরূপ জন্মলাভ করে। এই শাশ্বত স্বরূপই ‘সহজ’। এর উপলব্ধির মধ্য দিয়েই যাবতীয় প্রাণী ও বস্ত্তর উপলব্ধি হয়। আর এই উপলব্ধির প্রণালীই হলো সহজপথ।

- সহজিয়ারা দুই ভাগে বিভক্ত বৌদ্ধ সহজিয়া ও বৈষ্ণব সহজিয়া। বৌদ্ধ সহজিয়াদের উদ্ভব বজ্রযানী বৌদ্ধদের থেকে এবং তাদেরই অনুকরণে বৈষ্ণবদের একটি অংশ বৈষ্ণব সহজিয়া নামে পরিচিত হয়।

- বৌদ্ধ সহজিয়া মতবাদ সহজযান নামে পরিচিত। বজ্রযানী বৌদ্ধদের মধ্যে মন্ত্র-তন্ত্র, পূজার্চনা, ব্রত-নিয়ম, শাস্ত্রপাঠ ইত্যাদির প্রাবল্য দেখা দিলে তাদেরই একটি অংশ উপলব্ধি করে যে, এসব শাস্ত্রাচার পালন নিরর্থক; প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই বোধি বা বুদ্ধ আছেন এবং কেবল সহজ-সাধনায় তাঁকে উপলব্ধি করতে পারলেই মোক্ষলাভ করা যায়। এভাবেই পাল রাজাদের আমলে বাংলায় বৌদ্ধ সহজিয়া মতের উদ্ভব হয়।

- বৃহত্তর অর্থে বৌদ্ধধর্মের যে মহাযান ধর্মমত, তাই পরে বজ্রযান, কালচক্রযান, মন্ত্রযান, সহজযান ইত্যাদি উপবিভাগে বিভক্ত হয়।
- চর্যাপদের রচয়িতাগণ বৌদ্ধধর্মের সহজযান মতের অনুসারী ছিলেন।

• সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে ‘বৌদ্ধ সহজিয়াগণ’ বা সহজযান বৌদ্ধরা ছিলেন চর্যাপদের কবি। সুতরাং অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ ‘সহজঘানী বৌদ্ধ’ গ্রহণ করা হলো।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (১ম খন্ড), গোপাল হালদার ও বাংলাপিডিয়া।
৬১৫.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম কী?
  1. খনাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. পদ্মাবতী
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম - লীলাবতী

খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- বাংলায়  ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; 'লীলাবতী' আর্যার প্রণেতা ও 'খনা' একই ব্যক্তি।
- খনার বচনের বর্তমান ভাষা তার মূল ভাষা নয়, তবে লীলাবতী আর্যার ভাষা অনেকটা মূল ভাষার কাছাকাছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬১৬.
ড. সুকুমার সেনের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে কতজন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র। 
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- এর সংস্কৃত টীকাকার হলেন মুনি দত্ত।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৬১৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত ‘Buddhist Mystic Songs’ নিচের কোন গ্রন্থের অনুবাদ ও সম্পাদনা?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে  চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাংলা বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে চর্যাপদ ছাড়াও ছিল, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডার্কাণব।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। চর্যাপদ এর ধর্মতত্ত্ব নিয়ে তিনি প্রথম আলোচনা করেন।
-  ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬১৮.
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত কয়টি যুগে ভাগ করা হয়?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
- আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে।
- সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা।
- স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৯.
চর্যার খণ্ডিত পদটি কার রচনা?
  1. ভাদেপা 
  2. শান্তিপা 
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবি 'ভুসুকুপা':
• ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা। তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
চর্যার খণ্ডিত ২৩নং পদটি তারই রচনা। চর্যার ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়। ২৩নং পদের ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি। 
• ভুসুকুপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো: ৬নং, ২১নং, ২৩নং, ২৭নং, ৩০ নং, ৪১নং, ৪৩ নং, ৪৯নং।
• তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসুকু ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬২০.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - এটি চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ৫০নং
  2. ২৪নং
  3. ২৮নং
  4. ২৭নং
ব্যাখ্যা
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।
" - এটি  চর্যাপদের শবরপা রচিত কত ২৮নং পদ। 
 
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে চর্যাপদের রচনা কাল -
  1. ৮৫০-১২০০ সাল
  2. ৬৫০-১২০০ সাল
  3. ৯৫০-১২০০ সাল
  4. ৬৫০-১২৫০ সাল
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবিদের মধ্যে কোন কবি বাংলাদেশের লোক?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি - শবরপা (৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।
- শবরপা চর্যাপদে ২টি (২৮, ৫০) পদ রচনা করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, তিনি বাংলাদেশের লোক

অন্যদিকে,
• চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা - কাহ্নপা (১৩টি)।
• চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা - লুইপা।
- এছাড়াও তিনি ২৯নং পদটিও রচনা করেন।
• চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনযুগের ব্যপ্তি ছিল-    
  1. ১৫০ বছর
  2. ২৫০ বছর
  3. ৫৫০ বছর
  4. ৬০০ বছর
  5. কোনটি নয়  
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- ড. শহীদুল্লাহ ধারনা করেন, বাংলা সাহিত্য সুদীর্ঘ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে।
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:

• প্রাচীন যুগ (৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) – 
- এই যুগে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে এবং সাহিত্য নিদর্শন হিসেবে মূলত চর্যাপদ পাওয়া যায়।

• মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) –
- তুর্কি আক্রমণের পর থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে গণ্য।

• আধুনিক যুগ (১৮০১–বর্তমান) –
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কাল আধুনিক যুগ হিসেবে বিবেচিত।

• ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৫০ বছর।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ চলেছিল ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- এই প্রায় ১৫০ বছরের সময়কালকে তুর্কি আক্রমণের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির অভাবের কারণে এই যুগকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬২৪.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কী নামে?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাগীতিকোষ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'
- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'।
- আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬২৫.
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।- চর্যার এই পদ কে রচনা করছেন?
  1. ভুসুকপা
  2. কাহ্নপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যার এই পদ  রচনা করছেন ঢেণ্ডণপা।

• ঢেণ্ডণপা:

- ঢেণ্ডণপা ছিলেন নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি। তিনি চর্যার ৩৩নং পদের রচয়িতা।
- এই একটিমাত্র পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- পদটি হলো-
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"
• অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৬.
চর্যাপদের বাঙ্গালী কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. লুইপা
  3. শবরপা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা এবং শবরপা দুইজনই বাঙালি কবি ছিলেন।

"আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চন্ডালে লেলী।" -
ভুসুকুপার এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

সূত্রঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

অন্যদিকে,
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা বাঙ্গালি কবি ছিলেন ও তার জন্ম এই অঞ্চলে হয়েছিলো।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৭.
চর্যাপদে তন্ত্রীপা রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ২৫ নং
  2. ২৯ নং
  3. ২৪ নং
  4. ৪৬ নং
ব্যাখ্যা
তন্ত্রীপা:
- চর্যাপদে তন্ত্রীপা রচিত ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

- তন্ত্রীপা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ তাঁর বাংলা সাহিত্যের কথা'য় (১৯৬৩) তস্ত্রীপা সম্পর্কে এক বাক্যে লিখেছেন: 'তন্ত্রীপা পদটি বৌদ্ধগানের খণ্ডিত অংশ থাকায় তাহা আমরা পাই নাই।
- তিনি buddist Mystic Songs' গ্রন্থে লিখেছেন এইটুকু:
- Tantripa is the author of the song no. 25. He was a disciple of jalandharia and afterwards of Kanhapa. In the ms. he is missing.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৮.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কত সালে?
  1. ১৯৩৮ সালে 
  2. ১৮৪১ সালে 
  3. ১৯৪৬ সালে 
  4. ১৯৪৭ সালে 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬২৯.
ভুসুকুপা রচিত কোন পদে ‘বঙ্গাল দেশ’ ও 'বঙ্গালী'র কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৪৩নং
  2. ৬নং
  3. ৪৯নং
  4. ৩০নং
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

--------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

• চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪ পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা ভুসুকুপা।
• কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি।
• তন্ত্রীপা রচিত ২৫নং পদটি পাওয়া যায়নি।
• কুক্কুরীপা রচিত ৪৮নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩০.
সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম-
  1. Origin and Development of Bengali Language
  2. হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  3. চর্যাগীতি পদাবলী
  4. Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম Buddhist Mystic Songs
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। 
- গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী' 

 [উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৬৩১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থের নাম কী?
  1. Ancient Bengali Verses
  2. Mystic Verses of India
  3. Buddhist Mystic Songs
  4. Sacred Songs of Bengal
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম - Buddhist Mystic Songs.
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। 
- গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী' 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩২.
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী, হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী’ পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

• ‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।’ - পদটির রচয়িতা ঢেণ্ডণপা। 

পদটির অর্থ:
- শহর থেকে দূরবর্তী টিলায় স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি।
হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে। 

- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে ।
-ঢেণ্ডণপা রচিত ৩৩ নং পদ এটি। 

• 'ঢেণ্ডণপা':
- 'ঢেণ্ডণপা' একটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ছিলেন নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার 'ঢেণ্ডণপা' রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৩৩.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদকর্তা-
  1. ২০ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৬৩৪.
চর্যাপদের আবিষ্কারকের উপাধি কী ছিল?
  1. ক) ভাষাচার্য
  2. খ) ভাষাবীদ
  3. গ) মহামহোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিদ্বদ্বল্লভ
ব্যাখ্যা
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক
-  তিনি ১৮৯৮ সালে ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট লাভ করেন।  
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাল্মীকির জয় 
- বৌদ্ধধর্ম 
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস)
- বেণের মেয়ে ( উপন্যাস) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩৫.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. জয়নন্দীপা
  3. কুগুরীপা
  4. চাটিল্লপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- কুগুরীপা।

-------------------
• চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৩৬.
মুনি দত্তের টীকায় উল্লেখিত হলেও চর্যার কোন কবির গান পাওয়া যায় নি?
  1. তাড়কপা
  2. সবরপা
  3. বিরুআপা
  4. লাড়ী ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

চর্যাগীতির রচয়িতা:
চর্যাগানের রচয়িতারা ছিলেন যোগপন্থার সাধক তথা সিদ্ধাচার্য। চর্যাগীতির ভণিতা থেকে চর্যাগীতি-রচয়িতা বিভিন্ন বৌদ্ধ আচার্য ও কবির নাম পাওয়া যায়। চর্যাগীতিতে মোট ২৩ জন সিদ্ধাচার্যের রচনা সন্নিবেশিত হয়েছে। তবে পুথিতে ২৪ জন কবির নাম ছিল অনুমান করা হয়। লাড়ী ডোম্বীপা নামে একজন কবির কথা মুনি দত্তের টীকায় উল্লেখিত হলেও তাঁর গান পাওয়া যায় নি। তিব্বতি অনুবাদে তন্ত্রীপাদের নাম আছে। কিন্তু গান নেই।

প্রধান কয়েকজন চর্যা রচয়িতা হলেন : লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, সরহপা, শান্তিপা, শবরপা । এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদের রচয়িতা কাহ্নপা। তাঁর রচিত গীতির সংখ্যা ১৩টি। চর্যাগীতিকারদের মধ্যে লুইপা হলেন সবচেয়ে প্রাচীন।

বৌদ্ধ ধর্মে স্বীকৃত ৮৪ জন সিদ্ধাচার্যের মধ্যে তিনিই আদিসিদ্ধা। জন্মস্থান বিচারে চর্যাগীতিকারদের অনেকে ছিলেন বাংলা, মিথিলা, উড়িষ্যা ও কামরূপের অধিবাসী। সেকালে এসব জায়গা একই ভৌগোলিক সীমানার তথা বৃহৎ বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল। চর্যাগানের রচয়িতাদের অনেকেই প্রকৃত নাম পরিহার করে ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। বিরুআ পা, কুক্কুরীপা, সবরপা, তাড়ক পা ইত্যাদি ছদ্মনাম হতে পারে।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহাবুবুল হক। 

৬৩৭.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় চর্যাপদ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৩৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ সম্পর্কিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থের নাম- Buddhist Mystic Songs.
- তার মতে চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো - ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্য।
- এই গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
- এছাড়া তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

----------------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৬৩৯.
প্রথম সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. মুনিদত্ত
  4. মীননাথ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

• চর্যাপদের টিকা ও তিব্বতী অনুবাদ:
নেপালে প্রাপ্ত পুথির শেষের কয়েকখানা পাতা পাওয়া যায়নি বলে চর্যাগুলির টীকাকার কে তা জানা যায়না। তিব্বতী অনুবাদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর জানা গেল, ঐ টীকা-রচয়িতার নাম মুনি দত্ত এবং তিব্বতী অনুবাদকের নাম কীতিচন্দ্র। তিব্বতী অনুবাদের সংবাদ প্রথম দিয়েছিলেন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। তেঙ্গুর-তালিকা অনুধাবন করেই তিনি এই অনুবাদ-গ্রন্থের আভাস পান। ড. চট্টোপাধ্যায়ের ইঙ্গিত অনুসারে অনুসন্ধান চালিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী এই তিব্বতী অনুবাদ গ্রন্থখানি সংগ্রহ করেন। নেপালী পুথিতে কয়েকটি পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে সাড়ে তিনটি চর্যা (যথা:-২৩ সংখ্যক চর্যার অর্ধেক, ২টি ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক চর্যা) পাওয়া যায়নি। কিন্তু তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গেল।

- সেই অনুবাদ অনুসারে সুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। সংস্কৃত ভাষায় প্রথম মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। আলোচনা অংশে সুকুমার সেনের বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং 'চর্যাগীতিকা' মুহম্মদ আবদুল হাই।
৬৪০.
চর্যাপদ মূলত -
  1. ক) জীবনাচরণ পদ্ধতি
  2. খ) একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ
  3. গ) সাধন সংগীত
  4. ঘ) দেবী বন্দনা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ মূলত গানের সংকলন।
- বৌদ্ধধর্মমতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- বৌদ্ধ সহজিয়াগন এই চর্যাগুলো রচনা করেন।

• চর্যাপদ বাংলাসাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন।
- চর্যাপদে পদ আছে ৫১ টি। তার মধ্যে সাড়ে ছেচল্লিশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
- মোট পদকর্তা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- গ্রন্থভুক্ত প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- তিনি দুটি পদ রচনা করেছেন। ১ ও ২৯ নম্বর পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪১.
চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে?
  1. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
  2. আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
  3. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
  4. সুদূর চীন দেশ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪২.
কোনটি প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়? 
  1. শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  2. ডাকার্ণব
  3. কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. সহরপাদের দোহা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁরই সম্পাদনায় পুঁথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক চারটি পুঁথি একত্রে প্রকাশিত হয়। 
যেমন- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সহরপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব। 
- এইগুলোর মধ্যে একমাত্র 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'ই প্রাচীন বাংলায় লেখা আর অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 
- তিনি পুঁথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। 
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৩.
গুণ্ডরীপা চর্যাগীতির কোন সংখ্যক গানের রচয়িতা?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• 'গুণ্ডরীপা': 
- গুণ্ডরীপা চর্যাগীতির চার সংখ্যক গানের রচয়িতা। পুথিতে চর্যার শীর্ষে কবিনাম গুণ্ডরী। কিন্তু টীকায় গুড্ডরী আছে। রাজা দেবপালের রাজত্বকালে (৮০৯-৮৪১ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি বর্তমান ছিলেন বলে জানা যায়।

- বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, গুণ্ডরীপা কবির ব্যক্তিনাম নয়; বৃত্তিবাচক (মশলা গুঁড়ো করার বৃত্তি) অথবা জাতিবাচক নাম। কেউ কেউ মনে করেন, গুণ্ডরীপা বঙ্গের পশ্চিম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। হিন্দিভাষী পণ্ডিতদের মতে, গুণ্ডরীপ! বিহার অঞ্চলের লোক ও হিন্দি কবি।

চর্যা-৪ গুণ্ডরীপা
রাগ: অরু
১. তিয়ড়া' চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী । কমলকুলিশ ঘাণ্টে' করহু বিআলী॥ 
২. জোইনি তঁই বিণু খনহি ন জীবমি। তো মুহ চুম্বী কমলরস পিবমিত॥
৩. খেপহুঁ জোইনি লেপন' জাই'। মণিমূলে বহিআ ওড়িআণে সমাই”॥
৪. সাসু ঘরে ঘালি কোঞ্চা তাল । চান্দসূজ” বেণি পাখা” ফাল॥
৫. ভণই গুণ্ডরী” আম্‌হে কুন্দুরে বীরা। নরঅ নারী মাঝে  উভিল" চীরা॥

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৬৪৪.
ভাদেপা চর্যার কততম পদের রচয়িতা?
  1. ২৯নং
  2. ৩৩নং
  3. ৩৫নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা
• ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো। এবং তাঁর অবস্থান ছিলো শ্রাবন্তী এলাকায়।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫নং পদ রচনা করেন।

এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্‌ গুরু বোহেঁ।।- ভাদেপা রচিত চর্যার ৩৫নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৫.
ভুসুকুপা কোন শাসকের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন?
  1. রামপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৪৬.
পদকর্তা 'কাহ্নপা' কতটি পদ রচনা করেন?
  1. দুইটি
  2. বারোটি
  3. তেরোটি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৭.
চর্যাপদের মোট ৫১টি পদের মধ্যে কতটি পদ পাওয়া গেছে?
  1. ৪৬টি
  2. সাড়ে ৪৬টি
  3. ৪৮টি
  4. ৫০টি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। 
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪৮.
লােক সাহিত্যের প্রাচীনতম নির্দশন কোনটি?
  1. ক) ধাঁধাঁ
  2. খ) ছড়া
  3. গ) প্রবাদ
  4. ঘ) গাথা কাহিনী
ব্যাখ্যা
লােকসাহিত্যের নিদর্শন হলাে- গাঁথা, কাহিনি, গান, ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন, ধাঁধা ইত্যাদি। ছড়া লােক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৯.
কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন -
  1. ডোম্বীপা
  2. ধর্মপা
  3. বিরুপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
ধর্মপা:
- খ্রিষ্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় তাঁর অবস্থান ছিল।
- তিনি কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ৪৭নং পদ তাঁর রচনা।
- এই পদের বিশেষত্ব - এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।

অন্যদিকে,
- বিরুপার শিষ্য ছিলেন - ডোম্বীপা।
- জালন্ধরীপার শিষ্য ছিলেন - বিরুপা।
- ভাদেপার শিষ্য ছিলেন - বীণাপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫০.
চর্যাপদের অধিকাংশ পদ কোথায় বসে লেখা হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) নওগাঁ
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
চর্যার অধিকাংশ পদ নওগাঁর পাহাড়পুর তথা সোমপুর বিহারে রচিত হয়েছে।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৬৫১.
চর্যাপদের ৪৬ং পদ রচনা করেন কে?
  1. ভাদেপা
  2. ডোম্বীপা
  3. তাড়কপা
  4. জয়নন্দীপা
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
জয়নন্দীপা:
- অনেকে মনে করেন তাঁর নাম জয়ানন্দ।
- জয়নন্দীপা জাতিতে ব্রাহ্মণ এবং কোনো রাজার মন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের কবিদের মধ্যে একজন ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৪৬ সংখ্যক পদটি রচনা করেন।
- তাঁর ভাষা ছিল গৌড় অপভ্রংশের পরবর্তী আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ।
- জয়নন্দীপা'র ভাষার সঙ্গে মৈথিলী, উড়িয়া, অহমিয়া ভাষার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- 'তাড়কপা' ৩৭ং পদ রচনা করেন।
- 'ডোম্বীপা' ১৪ং পদ রচনা করেন।
- 'ভাদেপা' ৩৫ং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল-
  1. ২৫০ বছর
  2. ৩৫০ বছর
  3. ৪৫০ বছর
  4. ৫৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

• দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগ সমর্থন করেন।
• তবে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগের মধ্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সময়সীমা মেনে নিলেও তাঁর মতে প্রাচীনযুগের সময়সীমা- ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (মোট ৫৫০ বছর)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৩.
'দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামায়?' চর্যাপদের প্রবাদ বাক্যটি কার রচনা?
  1. ভুসুকুপা
  2. সরহপা
  3. কঙ্কনপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া গেছে।এগুলো হলো: 

• অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী। (ভুসুকুপা, ৬ নম্বর পদ)। 
আধুনিক বাংলা : হরিণ তার নিজের মাংসের জন্যই সকলের শত্রু।

• হাথেরে কাঙ্কণ মা লোউ দাপণ। (সরহপা, ৩২ নম্বর পদ)। 
আধুনিক বাংলা : হাতের কঙ্কন দেখতে আয়নার দরকার নেই। নিজেই তুমি নিজের মন বোঝ।

• হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী। (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)। 
আধুনিক বাংলা : হাঁড়িতে ভাত নেই কিন্তু নিত্য প্রেমিক আসে।

• দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামায়? (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?

• বর সুণ গোহালী কি মো দুঠ বলন্দে (সরহপা, ৩৯ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : বরং শূন্য গোয়াল ভালো, কি করব আমি দুষ্ট বলদে।

• আণ চাহন্তে আণ বিনঠা (কঙ্কনপা, ৪৪ নম্বর পদ)।
আধুনিক  বাংলা : এক চাইতে অন্য বিনষ্ট হলো।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

৬৫৪.
তারানাথের মতে, বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন কোন চর্যাকার?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ডোম্বীপা
  3. লুইপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
- লুইপা বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদের দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

অন্যদিকে, 
--------------------
• কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।
• চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।

• ঢেণ্ডণপার জন্মস্থান অবন্তিনগর-উজ্জয়িনী, তিনি ছিলেন বর্ণে তাঁতি এবং সিদ্ধা। তিনি দেবপাল-বিগ্রহ পালের সময়ে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪৫ সাল।

উল্লেখ্য, 
ড. আনিসুজ্জামান লিখেছেন, 'তিব্বতী ঐতিহ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিদ্ধাদের পূর্বজীবনের বর্ণ বা বৃত্তির উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, আর্যদেব, কঙ্কণ, ডোম্বী ও দারিক রাজা ছিলেন, কম্বলাম্বর ও ভুসুকু ছিলেন রাজপুত্র। জয়নন্দী ছিলেন রাজমন্ত্রী, লুইপাদ ছিলেন রাজসভার লেখক। জয়নন্দী, ধাম ও সরহ ব্রাহ্মণ ছিলেন, কুকুরীও সম্ভবত তাই। কাহ্ন সম্ভবত কায়স্থ ছিলেন, বীণা ছিলেন ক্ষত্রিয়। মহীধর শূদ্র ছিলেন, শরবী ছিলেন ব্যাধ। ডোম্বী বিয়ে করেছিলেন ডোমকন্যা, কুকুরীর সহচরী পূর্বজন্মে ছিলেন কুকুরী। অনাচারের দায়ে বিহার থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বিরুআ, বিহারের দ্বারপণ্ডিত হয়ে বাকি জীবন কাটিয়েছিলেন শান্তি।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৬৫৫.
চর্যাপদে লুইপা কতটি পদ রচনা করেছেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

পদ - ১
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা, মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।
৬৫৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের রচনা শুরু হয়-
  1. ৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  2. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  3. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  4. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কিত আলোচনা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৬৫৭.
কত সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:

- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৫৮.
ভুসুকুপা কতটি পদ রচনা করেন?
  1. পাঁচটি
  2. আটটি
  3. দশটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৫৯.
চর্যাপদ প্রধানত কোন ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. ইসলাম ধর্ম
  3. বৌদ্ধধর্ম 
  4. শিখধর্ম
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ প্রধানত - বৌদ্ধধর্মের  সাথে সম্পৃক্ত।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৬০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২৫ জন
  2. ২৪ জন
  3. ২৩ জন
  4. ২৬ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
‘কৃষ্ণচর্য’ নামে চর্যার পদ রচনা করেছেন কোন কবি?
  1. কাহ্নপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. লুইপা
  4. কঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাধিক পদের রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এরমধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গিয়েছে এবং তাঁর রচিত ২৪ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- কাহ্নপা আরো বিভিন্ন নামে চর্যার পদ রচনা করেছেন। এগুলো হলো- কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬২.
নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে চর্যাপদের নাম কী ছিল?
  1. আশ্চর্যচর্যাপদ
  2. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  3. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬৬৩.
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।" - চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই পঙ্‌ক্তিটিতে “পাঞ্চ বি ডাল” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. পাঁচটি ধর্মীয় পথ 
  2. পাঁচটি গুণ
  3. পাঁচটি ইন্দ্রিয়
  4. পাঁচটি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' — পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
 — এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

• পদটির আধুনিক বাংলায় রূপান্তর এরকম — 
''কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।''

অন্তর্নিহিত ভাব:
মানুষের দেহকে একটি গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে , যার পাঁচটি শাখা হল পঞ্চ ইন্দ্রিয়। শরীরের পাঁচ ইন্দ্রিয় পাঁচটি ডালস্বরূপ। এই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা বাইরের বস্তুজগতের সঙ্গে মানুষের নিত্য জানাশোনার পালা চলছে।য় (চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক)।
অর্থ্যাৎ, 
চর্যাপদের গূঢ়/রহস্যমূলক ভাষায় “তরু”= দেহ, “ডাল/শাখা”= ইন্দ্রিয়। চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুসারে “পাঞ্চ বি ডাল” বলতে দেহ-তরুর — পাঁচটি ইন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, ঘ্রাণ, জিহ্বা, ত্বক) বোঝানো হয়েছে।
--------------------
'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদে — দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের — ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা; চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক।

৬৬৪.
বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদের টীকাকার - মুনিদত্ত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন - প্রবোধচন্দ্র বাগচী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৬৫.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা কোন অঞ্চলের লোক ছিলেন?
  1. বরেন্দ্র
  2. রাঢ়
  3. কামরূপ
  4. মিথিলা
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ:
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬৬.
চর্যাপদের ১নং পদ কোনটি?
  1. ক) আপণা মাংসে হরিণা বৈরী
  2. খ) কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল
  3. গ) দুহিল দুধু কি বেন্টে যামায়
  4. ঘ) হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।

এই পদের প্রথম দুইটি চরণ -
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।"

অর্থাৎ, দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে৷
----------------
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে যামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।

৩৩ নং পদটি হলো -


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৬৭.
আধুনিক লিপিতে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়-
  1. ভুটান রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  2. রাঙ্গুনিয়া সাহিত্য পরিষদ থেকে
  3. নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

- তাঁরই সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে' প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৬৮.
চর্যাপদের কতটি পদের রচয়িতা সরহপা?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ৪টি পদের রচয়িতা সরহপা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৯.
চর্যার কবি ধর্মপার কাব্য গুরু ছিলেন কে?
  1. কাহ্নপা
  2. বিরুপা
  3. ভাদেপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
• ধর্মপা:
- খ্রিষ্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় তাঁর অবস্থান ছিল।
- কাহ্নপা ছিলেন তাঁর কাব্য গুরু।
- চর্যাপদের ৪৭নং পদ তাঁর রচনা।
- এই পদের বিশেষত্ব- এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।

অন্যদিকে,
- ডোম্বীপার কাব্য গুরু ছিলেন - বিরুপা।
- বিরুপা কাব্য গুরু ছিলেন - জালন্ধরীপা।
- বীণাপার কাব্য গুরু ছিলেন - ভাদেপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭০.
'চর্যাপদ' কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. নেপাল
  2. তিব্বত
  3. মিয়ানমার
  4. শ্রীলঙ্কা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭১.
“হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” গ্রন্থে চর্যাপদের সাথে কোন দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়?
  1. ক) দোহাকোষ ও নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. খ) ডাকার্ণব ও দোহাকোষ
  3. গ) ডাকার্ণব ও শূন্যপূরাণ
  4. ঘ) দোহাকোষ ও খনার বচন
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭২.
'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
• চর্যার কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৭৩.
'বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা' নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে গবেষণা করেন কে?
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  3. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  4. ড. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭৪.
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন- 
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. মুনিদত্ত
  4. শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদ ভাষা আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিলো তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টিকা রচনা করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৭৫.
আর্যদেব কোন ধরণের সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. বৈষ্ণবপদ
  2. চর্যাপদ
  3. মঙ্গল কাব্য
  4. শাক্তপদ
ব্যাখ্যা
• কবি-পরিচিতি "আর্যদেবপা" (আজদেব পা):
চর্যাগীতির ৩১ সংখ্যক পদটির রচয়িতা আর্যদেবপা বা আজদেব। তিনি বেশ কটি সংস্কৃত গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। এসব সংস্কৃত গ্রন্থে তিব্বতি ঐতিহ্যের ছাপ সুস্পষ্ট।

• আজদেবের জীবন সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে অনুমান করা হয়, দ্বাদশ শতকের কাছাকাছি সময়ে তিনি বর্তমান ছিলেন। কোনো কোনো পণ্ডিত মনে করেন, আজদেব জীবিত ছিলেন অষ্টম শতকের শেষ ভাগ পর্যন্ত।

• প্রথম জীবনে আজদেব ব্রাহ্মণ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীকালে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে সিদ্ধাচার্য হন। ভণিতায় রচয়িতার নাম আজদেব থাকলেও টীকায় আর্যদেব বলে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর লেখা 'চর্যামেলায়ন প্রদীপ' সম্ভবত চর্যাগীতির টীকা।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহাবুবুল হক। 
৬৭৬.
ভুসুকুপা রচিত কতটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে?
  1. নয়টি
  2. আঁটটি
  3. এগারোটি
  4. দশটি
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭৭.
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন পদকর্তার নাম পাওয়ার যায়?
  1. ২৩ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২১ জন
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৮.
চর্যাপদে কিসের উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. ধর্মীয় তত্ত্ব
  2. বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ
  3. সমাজের আচার-আচরণ
  4. সবকিছু
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে ধর্মীয় তত্ত্ব, বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ এবং সমাজের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী চিত্রের উল্লেখ রয়েছে।

চর্যাপদের মধ্যে উল্লেখিত বিষয়গুলি নিম্নরূপ:

১. ধর্মীয় তত্ত্ব:
চর্যাপদে তান্ত্রিক ও সহজযান ধর্মের বিভিন্ন তত্ত্বের আলোচনা রয়েছে। পদগুলোতে সাধনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্মীয় দর্শনকে তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধকদের আত্মিক উন্নতির দিকে নির্দেশ করে।

২. বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ: 
চর্যাপদে বাঙালি জীবনের বিভিন্ন আচার-আচরণের চিত্র পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, বিয়ে, শিকার, নৌকা চালনা, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে অনুষ্ঠান ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে।

৩. সমাজের আচার-আচরণ: 
চর্যাপদে তৎকালীন বাঙালি সমাজের সামাজিক আচরণের চিত্রও প্রতিফলিত হয়েছে। এতে স্থানীয় রীতি-নীতি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবনধারার বর্ণনা রয়েছে, যেমন মেয়েদের পরিধানে ময়ূরপুচ্ছের ব্যবহার।

----------------------------
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রথম আবিষ্কার করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে। শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে এটি "বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

চর্যাপদের মূল বৈশিষ্ট্য:
সংকলন ও নাম: এই গ্রন্থটি ৪৭টি পদ নিয়ে গঠিত এবং এর পদগুলোকে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’ নামেও ডাকা হয়। তবে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই বেশি পরিচিত।
পদকর্তারা: ২৩ জন সিদ্ধাচার্য (পদকর্তা) চর্যাপদ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সরহপা, শবরপা, লুইপা, কাহ্নপা, ডোম্বীপা প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিষয়বস্তু ও ভাষার বৈশিষ্ট্য:
সহজযান ও তন্ত্রবাদ: চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ছিলেন, যা তান্ত্রিক যোগসাধনার একটি বিশেষ শাখা। তাঁদের পদগুলোতে সাধনামূলক তত্ত্ব ও ধর্মীয় দর্শন হেঁয়ালিপূর্ণ ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। পণ্ডিতরা এই ভাষাকে ‘আলো-আঁধারি’ বা ‘সন্ধ্যা ভাষা’ নামে অভিহিত করেছেন।
ভাষা: চর্যাপদের ভাষা অবিমিশ্র বাংলা নয়। এতে বাংলা, উড়িয়া, অসমিয়া ভাষার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপের নিদর্শন হলেও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার মিশ্রণ রয়েছে।

সাহিত্য ও সঙ্গীতমূল্য:
গান ও সুর: প্রতিটি পদ রাগ ও তাল অনুসারে গাওয়া হতো, যা থেকে বোঝা যায় এটি প্রাচীন বাংলা গানের একটি নিদর্শন। পদের শেষে ‘ধ্রুব’ শব্দের উল্লেখ আছে, যা পদগুলির গীতধর্মিতার প্রমাণ দেয়।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চিত্র:
চর্যাপদে তৎকালীন বাঙালি সমাজের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী চিত্রও পাওয়া যায়। হরিণ শিকার, নৌকা চালনা, শুঁড়ির কাজ, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিয়ে, এবং মেয়েদের পরিধানে ময়ূরপুচ্ছের ব্যবহার ইত্যাদি সমাজের আচার-আচরণের পরিচয় বহন করে।
এ ছাড়া পদগুলি থেকে তৎকালীন বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ ও সমাজের বাস্তবঘন পরিচয়ও পাওয়া যায়।

চর্যাপদ তাই কেবল আধ্যাত্মিক সাধনা ও তত্ত্বের গ্রন্থ নয়, এটি প্রাচীন বাংলার সাহিত্য, সংগীত ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৯.
ভাষা আলোচনা ক্রমে কে প্রথম স্বীকৃতি দেন চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৮০.
'চর্যাপদ' সম্পর্কে কোনটি মিথ্যা?
  1. ড. সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
  2. ২৪নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
  3. চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
ব্যাখ্যা

"২৪নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।" - তথ্যটি মিথ্যা। এখানে, ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। 
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৮১.
চর্যাপদের কোন রসের সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) শান্ত
  2. খ) বাৎসল্য
  3. গ) শৃঙ্গার
  4. ঘ) বীর
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের শৃঙ্গার আছে।
উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৬৮২.
চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
  1. রিয়্যাল লাইব্রেরি, নেপাল
  2. Lumbini Buddhist University, Nepal
  3. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
  4. রয়্যাল লাইব্রেরি, নেপাল
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি, নেপাল) থেকে এটি আবিষ্কার করেন। 
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৬৮৩.
"পরিহর বিনা কড়িতে হাট পরিহর বিনা লড়িতে বাট" - কিসের নিদর্শন?
  1. ক) সরোজবজ্রের দোহাকোষ
  2. খ) কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ
  3. গ) ডাকের বচন
  4. ঘ) খনার বচন
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ডাকের বচনের নমুনা - 
"পরিহর বিনা কড়িতে হাট
পরিহর বিনা লড়িতে বাট 
পরিহর নদীর তীরেতে গাছা 
পরিহর মায়ের বিহনে বাছা" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৬৮৪.
কোনটি খনার বচন?
  1. আগে খাবে মায়ে,
    তবে পাবে পোয়ে।
  2. গাঁ গড়নে ঘন পা।
    যেমন মা তেমন ছা।
  3. ততো তিতা চুকা ঝাল।
    এই চার পুরুষের কাল।
  4. সবকয়টি
ব্যাখ্যা
খনার বচন: 
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত।
- এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।

কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু ও যাত্রা নিয়ে খনার বচন:
- আকাশে কোদালির বাউ।
ওগো স্বশুর? মাঠে যাও।।
মাঠে গিয়া বাঁধো আলি।
বৃষ্টি হবে আজি কালি।।
- গাঁ গড়নে ঘন পা।
যেমন মা তেমন ছা।

স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন:
- আগে খাবে মায়ে,
তবে পাবে পোয়ে।
- ততো তিতা চুকা ঝাল।
এই চার পুরুষের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮৫.
চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত এটি প্রথম প্রমাণ করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।  ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৮৬.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকোষ
  2. চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়
  3. আশ্চর্য চর্যাচয়
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
- কারো মতে চর্যাপদ গ্রন্থটির নাম, 'আশ্চর্য চর্যাচয়।
- সুকুমার সেনের মতে 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়, আধুনিক পণ্ডিতদের মতে এর নাম 'চর্যাগীতিকোষ' আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।
- তবে 'চর্যাপদ' সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাম।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৮৭.
সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা কয়টি?
  1. ৫২টি
  2. ৫১টি
  3. ৫০টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা
• সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে — ৫১টি।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌’র মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। 

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচ্ছে বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতাবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৬৮৮.
চর্যাপদে মোট ৫১টি পদ থাকা সত্ত্বেও কোন সিদ্ধাচার্যের কোনো পদই উল্লেখ নেই?
  1. সরহপা
  2. গুণ্ডরি পা
  3. লাড়িডোম্বী পা
  4. ঢেণ্ডোণ পা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদে মোট ৫১টি পদ থাকা সত্ত্বেও লাড়িডোম্বী পা'র কোনো পদই উল্লেখ নেই।
------------------------------------------- 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন।
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি গানের সংকলন এবং একে সাধন-সংগীতও বলা হয়।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এবং একে চর্চাগীতিকোষ বলা হয়।
- পাল শাসন আমলে এটি রচিত হয়।
- চর্যাপদকে বলা হয় সহজিয়া বা বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বনকারীদের সাহিত্য।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।
--------------------------------------------------- 
লাড়িডোম্বী পা:
- চর্যার তিব্বতি অনুবাদে লাড়িডোম্বী পা'র নাম ২৪, ২৫ ও ৪৮ নম্বর পদের রচয়িতা হিসেবে পাওয়া যায়।
- কিন্তু মূল পুথিতে তাঁর কোনো পদ নেই।
- তাই চর্যাপদের পদ মোট ৫১টি হলেও মোট পদ ৫০ টি ধরা হয়। 
----------------------------------
অন্যদিকে,
• সরোহপা - তাঁকে চর্যার শেষ পদরচয়িতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

• ঢেণ্ঢণ পা ছিলেন চর্যাপদের একজন কবি, যাঁর একটি পদ (পদ ৩৩) পাওয়া গেছে।

• গুণ্ডরি পা চর্যাপদের একজন কবি।
- তিনি ৪ নং পদটি রচনা করেছেন।  
- তিনি ২৪ জন সিদ্ধাচার্যের মধ্যে অন্যতম, এবং তার পদটি "তিঅড্ডা চাপী যোইনি দে অঙ্কবালী" শিরোনামে সংকলিত হয়েছে। 

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম;  
লাল নীল দীপাবলি (চর্যাপদ অধ্যায়)।

৬৮৯.
‘হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন।’- প্রবাদ বাক্যটি কার রচনা?
  1. সরহপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. কাঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:

- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯০.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদ কোনটি?
  1. ৫ নং পদ
  2. ১৪ নং পদ
  3. ১৬ নং পদ
  4. ২৩ নং পদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

অন্যদিকে,
ডোম্বীপা - চার্যাপদের ১৪নং, চাটিল্লপা - ৫নং ও জয়নন্দী পা - ৪৬ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯১.
চর্যাপদের টীকাকার মুনিদত্ত কোন পদের ব্যাখ্যা করেননি?
  1. ৩৩নং পদের 
  2. ১১নং পদের
  3. ২২নং পদের
  4. ২৩নং পদের 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে - পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৯২.
চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  2. ড. এনামুল হক 
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৯৩.
নিচের কোন পদকর্তা চর্যাপদের প্রথম পদটির রচিয়তা?
  1. কাহ্নপা 
  2. ভুসুকুপা 
  3. শবরপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

• 'লুইপা' — চর্যাপদের প্রথম পদের রচিয়তা।

• লুইপা:
- চর্যাপদে লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তিনি চর্যাপদের — প্রথম ও ঊনত্রিশতম পদের রচয়িতা।
- এছাড়াও সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর একটি গ্রন্থের নাম অভিসময়বিভঙ্গ’।

• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৬৯৪.
চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ভূযুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• 'লুইপা' — হচ্ছে চর্যাপদের প্রথম পদের রচিয়তা।

• লুইপা:
- চর্যাপদে লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তিনি চর্যাপদের প্রথম ও ঊনত্রিশতম পদের রচয়িতা।
- এছাড়াও সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর একটি গ্রন্থের নাম অভিসময়বিভঙ্গ’।

• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'। এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৬৯৫.
কাহ্নপা রচিত কত নং পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৩৬নং
  2. ২৪নং
  3. ১৯নং
  4. ১৩নং
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৬.
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন কোন কবি?
  1. ঢেগুনপা
  2. ধর্মপা
  3. ডোম্বীপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা। তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৯৭.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১৭ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়।

চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চন্ডীমঙ্গল
  3. চর্যাপদ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৯৯.
সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদকর্তা কজন?
  1. ক) ২২
  2. খ) ২৩
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড.সৌমিত্র শেখর।
৭০০.
মুনিদত্ত চর্যাপদের কোন পদটির ব্যাখ্যা করেননি?
  1. ২৪নং পদ
  2. ১০নং পদ
  3. ১১নং পদ
  4. ৫০ নং পদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।