বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৩০১৪০০ / ১,০৩৯

৩০১.
চর্যাপদের অনুদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা কয়টি?
  1. সাড়ে ২টি
  2. সাড়ে ৩টি
  3. সাড়ে ৪টি
  4. সাড়ে ৫টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন চর্যাগীতিকোষবৃত্তি নামে।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩০২.
চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন কারা?
  1. খ্রিষ্ট সহজিয়াগণ
  2. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  3. হিন্দু বজ্রযানীগণ
  4. বৈষ্ণব সহজিয়া
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপডিয়া।

৩০৩.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাপদের রচনা শুরু হয়-
  1. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  2. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  3. ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  4. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কিত আলোচনা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চর্যাপদের রচনা কাল ধরেছেন।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৪.
বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভাজনের তত্ত্ব প্রকাশ কোন গ্রন্থের বিষয়বস্তু?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. হানিফা কয়রাপরী
  3. চর্যাপদ
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
• চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
• চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
• চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচেছ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌'র মতে চর্যাপদের পদ কয়টি?
  1. ৫০টি
  2. ৪৬টি
  3. ৫১টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের সংখ্যা নিয়ে মতান্তর আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন ৫০টি।
- চর্যাপদ ছিন্নাবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।
- সুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাগীতি পদাবলী (প্রথম প্রকাশ: ১৯৫৬) গ্রন্থেও ৫০জন কবির পদ উল্লেখ করেছেন। তবে আলোচনা অংশে তাঁর বক্তব্য: "[...] মুনি দত্ত পঞ্চাশটি চর্যার ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (একাদশ ও দ্বাদশ চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকর উদ্ধৃত করেন নাই, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।" এটা ধরলে পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩০৬.
কাহ্নপার রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৪৮ নং
  2. ২৪ নং
  3. ৪১ নং
  4. ১৯ নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের মোট ৩ টি পদ পাওয়া যায়নি এবং ১ টি পদ খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

এগুলো হলো - 
- কাহ্নপার ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- তন্ত্রীপার ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- ভুসুকুপার ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
----------- 
• কাহ্নপা:
- তিনি চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন। তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 
৩০৭.
কাহ্নপা কোন রাজার রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৮.
চর্যাপদের ১নং পদ রচনা করেন -
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
লুইপা: 
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। 

• তাঁর রচিত চর্যার প্রথম পদটি হলো-

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩০৯.
চর্যাপদের ২৮ ও ৫০নং পদের রচয়িতা -
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. লুইপা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা।
- চর্যাপদ সঙ্কলনে শবর পা’র দুটি পদ (২৮, ৫০) আছে। উভয় পদে অরণ্যবাসী শবর-শবরী দম্পতির সাজসজ্জা, প্রেম-মিলন, মদ্যপান, পানোন্মত্ত নৃত্য, মৃত্যুজনিত বিরহ ইত্যাদির চিত্র আছে।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- তাঁর জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১০.
"ডাক ও খনার বচন" কোন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়?
  1. উত্তর আধুনিক যুগ
  2. প্রাচীন যুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১১.
চর্যাপদের রচয়িতা কারা ছিলেন?
  1. শৈব সাধকগণ
  2. বৈষ্ণব কবিগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. সুফি সাধকগণ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৩১২.
কোন রাজাদের সময়কালে চর্যাপদের টীকাকাররা এ দেশ থেকে বিতাড়িত হন?
  1. ক) পাল
  2. খ) গুপ্ত
  3. গ) সেন
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন, তাদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। 
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পৌরাণিক হিন্দুধুর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
- পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়
- সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল।  
- তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলার বাইরে নেপালে পাওয়া গিয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩১৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবিতা সংকলন কোনটি?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. নিরঞ্জনের উষ্মা
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ এর পদকর্তার সংখ্যা -
  1. ক) একুশ জন
  2. খ) তেইশ জন
  3. গ) ছয়ত্রিশ জন
  4. ঘ) ত্রিশ জন
ব্যাখ্যা
‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়।
- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। 
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়।
- অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাব কাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক। 
- চর্যাকাররা  সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন: সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩১৫.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কত সালে স্বীকৃতি দেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৩৮ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

- ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৬.
'চর্যাপদ' প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩১৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাকে চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি হিসেবে মনে করেন?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৮.
'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল'— এখানে 'চীএ' শব্দের অর্থ কী?
  1. চোখে
  2. চরিত্রে
  3. মনে
  4. চুলে
ব্যাখ্যা

• চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল' এখানে 'চীএ' শব্দের অর্থ - মনে।

লুইপা রচিত প্রথম পদ:
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

বাংলা অর্থ: 
দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে।

লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১৯.
"এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।" - পদটি রচয়িতা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভাদেপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

ভাদেপা রচিত চর্যাপদের ৩৫ নম্বর পদ।
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে। 
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২০.
চর্যাপদ প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  4. এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা

 • চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২১.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
• 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা - ঢেণ্ডণপা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।। (পদ: ৩৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২২.
বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায়-
  1. মঙ্গলকাব্যে
  2. মর্সিয়া সাহিত্যে
  3. চর্যাপদে
  4. বৈষ্ণব পদাবলিতে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায় - চর্যাপদে। 
-------------- 
• বাংলা ভাষা: 
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। 
- ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষা ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। 
- যেসব বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয়→ ইন্দো-ইরানীয়→ ভারতীয় আর্য→ প্রাকৃত→ বাংলা।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। 
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'। 
------------- 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 
--------------------
অন্যদিকে,
মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, মর্সিয়া সাহিত্য- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩২৩.
প্রাচীনযুগের কবি নন -
  1. আর্যদেবপা
  2. কঙ্কপা
  3. মহীধরপা
  4. কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদেরর সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে,
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
তারা হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অন্যদিকে,
প্রাচীন যুগের কবি নন - কঙ্কপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৪.
ভুসুকুপার প্রকৃত নাম কী ছিলো?
  1. শান্তিদেব
  2. ধর্মপাল
  3. মুনিদত্ত
  4. ভুসুকু
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৫.
চর্যাপদের ভাষা ও বিষয়বস্তু নিয়ে কোন গবেষকগণ প্রমাণ করেছেন যে এটি বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. ড. সুকুমার সেন ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. উপরের সবাই
  4. শুধু ড. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্মমত সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৌদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৬.
চর্যাপদ রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন -
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. সরহপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২৭.
চর্যাপদে কোন কবি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন?
  1. ধর্মপা
  2. দারিকপা
  3. তাড়কপা
  4. ভুসুকুপা
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৮.
চর্যাপদে না পাওয়া ২৪ নং পদের রচয়িতা-
  1. কুক্কুরীপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের সাড়ে তিনটি পদ পাওয়া যায় নি।
• ভুসুকুপার ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
• কাহ্নপার ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
• তন্ত্রীপার ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
• কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩২৯.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত কত সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4.  ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর থেকে অনেক পণ্ডিত এ বিষয়ে আলোচনা করে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। চর্যাপদের আবিষ্কর্তা হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে স্মরণীয়। ১৯১৬ সালে চর্যাগীতি প্রকাশ করে তিনি একে বাংলা ভাষার প্রথম অবস্থার রচনা বলে যে ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন তা পরবর্তী কালের গবেষকগণ মেনে নিয়েছেন।

• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন চর্যাপদ 'বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি—অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।' 

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার এবং ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন। 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৭ সালে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন এবং ১৯৪২ সালে চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় করে আলোচনার পথ আরও সহজ করেন। 

ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন। বিহারের প্রখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেছেন। 
• ড. তারাপদ মুখোপাধ্যায় চর্যাপদ থেকে বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ এবং বাক্যগঠনরীতির স্বরূপ দৃষ্টান্তযোগে দেখিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৩০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের রচনাকাল ধরেছেন-
  1. ৪৫০ থেকে
  2. ৬৫০ থেকে
  3. ৮৫০ থেকে
  4. ৯৫০ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কিত আলোচনা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চর্যাপদের রচনা কাল ধরেছেন।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৩১.
চর্যাপদের আবিষ্কারক কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) রামমোহন রায়
  4. ঘ) বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি প্রাপ্ত হন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদনা করেন মহামহোনপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন প্রথম প্রকাশিত হয় কোথা থেকে?
  1. ক) নেপালের রয়েল লাইব্রেরি প্রকাশনা
  2. খ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. গ) শ্রীরামপুর মিশন
  4. ঘ) এশীয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় সাড়ে ৪৬টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
প্রথমবার কত সালে নেপাল থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা হয়?
  1. ১৯০১
  2. ১৯১০
  3. ১৯১৬
  4. ১৯০৭
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৩৪.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি -
  1. কাহ্নপা
  2. শবরপা
  3. লুইপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি - শবরপা। তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৫.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাপদের রচনাকাল কত?
  1. ৬৫০ থেকে ১২০০
  2. ৯৫০ থেকে ১২০০
  3. ৯৫০ থেকে ১১৫০
  4. ৮৫০ থেকে ১২০০
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদের রচনাকাল: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৬.
বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে প্রাচীন ধারা কোনটি ?
  1. ক) ধাঁধাঁ
  2. খ) পুঁথি
  3. গ) বচন
  4. ঘ) গান
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- চর্যাপদ গানের সংকলন। 
- চর্যাপদ হলো বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাধন সংগীত। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় সাড়ে ৪৬টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৭.
চর্যাপদের ৫০তম পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন। ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৮.
পণ্ডিত বিজয়চন্দ্র মজুমদারের মতে চর্যাপদের ভাষা কী ধরনের?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. হিন্দি ও ওড়িয়ার মিশ্রণ
  3. প্রাকৃত
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা:
- পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।
ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।
- ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক। 

৩৩৯.
'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥' পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা 
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা 
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥'- পদটি চর্যার কবি কুক্কুরীপা রচিত। 

অর্থ: 
দুলি [মাদি কচ্ছপ] দোহন করে পিটাতে [= দুগ্ধ-পাত্রে] [দুধ] ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।

------------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৩৪০.
চর্যার ৪৯ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ভাদেপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি 'ভুসুকুপা':
• ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা। তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি তারই রচনা। চর্যার ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়২৩ নং পদের ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি
• ভুসুকুপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো: ৬নং, ২১নং, ২৩নং, ২৭নং, ৩০ নং, ৪১নং, ৪৩ নং, ৪৯নং। 

• তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসুকু ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩৪১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ রচিত হয়েছে—
  1. ১০০০-১২০০ সালের মধ্যে
  2. ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে
  3. ৯৫০-১২০০ সালের মধ্যে
  4. ৮০০-১৩০০ সালের মধ্যে
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনা কাল:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ সালের মধ্যে এবং।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪২.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - পদটির রচয়িতা কে?
  1. শান্তিপা
  2. শবরপা
  3. চাটিল্লপা
  4. আর্যেবপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

• 'শবরপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৩.
প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের চীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
•  বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪৪.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোথা থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?
  1. নেপালের রাজদরবার
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. শ্রীলঙ্কার রাজদরবার
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। 
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। 
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। 
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৪৫.
চর্যাপদ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুথির সূচনায় সংস্কৃত শ্লোক থেকে চর্যার কোন নামের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
  1. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাপদ
  4. বৌদ্ধগান ও দোহা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয় তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৭.
কার মতে চর্যাপদের ভাষা বঙ্গকামরূপী?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- চর্যায় নাসিক্যধ্বনির প্রাধান্য ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এ ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের মনে করেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র মতে চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৪৮.
সুকুমার সেনের 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে কয়টি পদের উল্লেখ আছে?
  1. ৫০টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৪৯.
ডোম্বীপার গুরু ছিলেন-
  1. ভুসুকুপা
  2. শবরপা
  3. শান্তিপা
  4. বিরূপা
ব্যাখ্যা

• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫০.
‘চর্যাপদ’ হলো-
  1. একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ
  2. সাধন সংগীত
  3. জীবনাচরণ পদ্ধতি
  4. নীতিকথা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ -গানের সংকলন বা সাধন সংগীত যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
-------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৩৫১.
চর্যাগীতি কোন তত্ত্বের কথা ব্যক্ত করে?
  1. নাথ সাধনতত্ত্বের
  2. জৌন সাধনতত্ত্বের
  3. বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের
  4. খ্রিষ্ট সাধনতত্ত্বের
ব্যাখ্যা
• চর্যাগীতির বিষয়বস্তু:
চর্যাগীতির বিষয়বস্তু বৌদ্ধ সহজিয়াদের ধর্মসাধন-পদ্ধতি ও গূঢ় তত্ত্ব। এতে দেহসাধনার গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। দেহসাধনার মধ্য দিয়েই বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যরা পার্থিব জীবনের রোগ-শোক ও জন্ম-মৃত্যুর চক্রজাল থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন, সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে উঠে অর্জন করতে চেয়েছেন মহাসুখ।

হীনযানী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পদকর্তা তথা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা গুহ্য ভাষায় তাঁদের এ সাধনতত্ত্ব ও আচার-প্রকরণের কথা চর্যাগীতিগুলোতে প্রকাশ করে গেছেন। এক্ষেত্রে নানা রূপক, প্রতীক ও সংকেতের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের বক্তব্য প্রচ্ছন্ন রাখতে চেয়েছেন। ফলে বৌদ্ধ ধর্মের এ শাখার ধর্মীয় গুহ্য আচরণবিধি জানা না থাকলে চর্যাগীতির সম্পূর্ণ মর্ম উদ্ধার সম্ভব হয় না। সহজিয়া বৌদ্ধদের কায়াশ্রয়ী সাধনার কথা চর্যাগীতিগুলোতে বিশেষ বাগ্রীতিতে ব্যক্ত হয়েছে। তাই সেগুলোর পুরোপুরি রস আস্বাদনে সমস্যা হয়।

বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের কথা ব্যক্ত করলেও চর্যাকাররা জগৎ এবং মানবজীবনকে একেবারে উপেক্ষা করেন নি। চর্যাগানের কবিরা রূপসচেতন শিল্পী। তাঁদের কবিতা প্রগাঢ় জীবনবোধে ভাস্বর। ধর্মতত্ত্ব ও সাধন প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে তাঁরা যেসব রূপক-প্রতীক, উপমা-চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন সেগুলো রসসৌন্দর্যমণ্ডিত। তাঁদের রচনা বিষয় ও আঙ্গিক উভয় দিক থেকে কাব্যগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে। বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব ও সাধনপ্রক্রিয়া না জেনেও পাঠক এগুলোর রস কম-বেশি উপভোগ করতে পারেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
৩৫২.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ' যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তাঁর নাম কী?
  1. ক) চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. খ) হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) বৌদ্ধগান ও দোহাকোষ
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ' যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তাঁর নাম- 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'।  

• 'চর্যাপদ'
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে  চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা”
নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ ছাড়াও ছিল, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডার্কাণব।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
-  ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫৩.
খনার বচনের প্রধান বিষয় কী? 
  1. বৃক্ষরোপণ ও কৃষি 
  2. কৃষি ও আবহাওয়া
  3. জ্যোতিষ ও ঋতুবিদ্যা
  4. স্বাস্থ্য ও খাদ্য
ব্যাখ্যা

খনার বচনের প্রধান বিষয়- কৃষি ও আবহাওয়া।
-------------------------------- 
• খনার বচন:
- খনার বচন হলো অর্থবোধক বাক্য বা উপদেশমূলক উক্তি।
- এটি ইংরেজির saying বা proverb-এর সঙ্গে তুলনীয় হলেও এর তাৎপর্য আরও বিস্তৃত।
- এতে শুভাশুভ, নীতি, বিধিবিধান ও প্রাজ্ঞদের উপদেশের বাণী প্রতিফলিত থাকে।

- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি এই বচন এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।
- খনার বচনের প্রকৃত রচয়িতা ছিলেন লীলাবতী আর্যা, যিনি খনা নামেও পরিচিত।
- এটি বৌদ্ধ ও হিন্দু সমাজে ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছে।

- বিষয়গত দিক থেকে ডাক ও খনার বচনকে বাংলা লোকসাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন এগুলির রচনার সময় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী বলেছেন।
- আর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর কিছু অংশকে বৌদ্ধ যুগের রচনা হিসেবে মনে করেছেন।
- মূল ভাব হিসেবে খনার বচনের উদ্দেশ্য হলো শুদ্ধ জীবনযাপন ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান। 

- খনার বচন লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা।
- এর মধ্যে কাব্যরস, গীতিধর্মিতা এবং মাঝে মাঝে ভণিতার উপাদানও থাকে।
- এদের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের নীতি, কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করা হয়।
- মুখে মুখে প্রচলিত থাকার কারণে খনার বচনের ভাষা আধুনিক বাংলায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।

৩৫৪.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কোন নামে?
  1. আশ্চর্যচর্যাচয়
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন।

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৫৫.
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে কী বলে?
  1. ক) গদ্য কবিতা
  2. খ) চম্পুকাব্য
  3. গ) পুঁথি
  4. ঘ) লৌকিক কাব্য
ব্যাখ্যা
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।

[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩৫৬.
চর্যাপদে পঁউয়া খালের(পদ্মা খাল) কথা পাওয়া যায় কার রচনায়?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

 • চর্যাপদের বাঙালি কবি ভুসুকুপা রচিত পদে 'পউয়া খাল' এর কথা বলা আছে।
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- বাজ ণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
- অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।
-'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৭.
কবি সরহপা রচিত চর্যার পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩টি 
  2. ৪টি 
  3. ৫টি  
  4. ৬টি 
ব্যাখ্যা

• সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী। তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
- সরহপা চর্যাপদে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত পদগুলো হলো- (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৮.
চর্যাপদের গান সংখ্যা কতগুলো?
  1. ক) ৪১ টি
  2. খ) ৫১ টি
  3. গ) ৫৬ টি
  4. ঘ) ৬২ টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কয়েকটি পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাড়ে ৪৬ টি পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। অর্থাৎ, চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬ টি। ২৩ এর অর্ধেক পাওয়া গেছে; আর ২৪,২৫ ও ৪৮ সংখ্যক পদ পাওয়া যায়নি। সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা (গান সংখ্যা) ৫১ টি। কিন্তু শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫০ টি। চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়। সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৫৯.
'চর্যাপদ' আধুনিক কোন ছন্দে রচিত বলে ধরা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' রচিত - মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।

• 'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৩৬০.
বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের সময়কাল-
  1. ৭০০-১৪০০ খ্রিঃ
  2. ৬৫০-১২০০ খ্রিঃ
  3. ৪০০-৮০০ খ্রিঃ
  4. ৫০০-১০০০ খ্রিঃ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগের সময়কাল- ৬৫০-১২০০ খ্রি:। 
-------------------
• প্রাচীন যুগের সময়কাল,
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ।
----------------- 
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং 
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৩৬১.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল-
  1. ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান
  2. ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আধুনিকতা
  3. ধর্মটাই মুখ্য ও স্বাজাত্যবোধ
  4. মানুষ গৌণ ও অন্ধবিশ্বাস
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৬২.
চর্যাপদের কবিরা কী ছিলেন?
  1. ক) কৃষক
  2. খ) লাঠিয়াল
  3. গ) বাউল সাধক
  4. ঘ) রাজ সভাসদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবিতাগুলো সহজে পড়ে বোঝা যায় না৷ কবিরা আসলে কবিতার জন্য কবিতা রচনা করেন নি; এজন্যই এত অসুবিধা৷
আমাদের প্রথম কবিরা ছিলেন গৃহহীন বৌদ্ধ বাউল সাধক৷ তাদের সংসার ছিলো না। তারা সাধনা করতেন গোপন তত্ত্বের।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ

৩৬৩.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. তাড়কপা
  3. তুলসীপা
  4. শান্তিপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলসীপা।
 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অপশনের কবিগণের পদ: 
• মহীধরপা - ১৬,
• তাড়কপা - ৩৭,
• শান্তিপা - ১৬/২৬। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬৪.
চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs' এর সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
-  তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান। 
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কর্তৃক চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৫.
নিচের কোনটি চর্যাপদের কবি নন?
  1. দারিকপা
  2. কম্বলাম্বরপা 
  3. চাটিল্লপা
  4. কাহারপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - কাহারপা।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬৬.
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
  1. পালি ভাষা
  2. সান্ধ্য ভাষা
  3. প্রাকৃত ভাষা
  4. সাধুভাষা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬৭.
চর্যাপদের ভাষা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বর্ণের হ্রস্ব ও দীর্ঘ উচ্চারণ আধুনিক বাংলার মত
  2. স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের ধ্বনিগত বিশেষত্ব আধুনিক বাংলার ধ্বনির মত
  3. চর্যাপদে শ, ষ, স-তিনটি বর্ণের পার্থক্য ছিল না
  4. চর্যাপদের ভাষায় শব্দরূপের গঠনে একবচন ও বহুবচনের তফাত নেই
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদের ভাষার ব্যাকরণগত যে সকল বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় তা নিম্নরূপ:
ক. চর্যাপদের ভাষায় স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের ধ্বনিগত বিশেষত্ব আধুনিক বাংলার ধ্বনির মত। সংস্কৃত শব্দের বানানে সর্বত্র এক নিয়ম পালন করা হয় নি। যেমন, সবর, শবর।
খ. বর্ণের হ্রস্ব ও দীর্ঘ উচ্চারণ আধুনিক বাংলার মত চর্যাপদে দেখা যায় না। হ্রস্ব-দীর্ঘ উচ্চারণে কোন নিয়ম ছিল না। যেমন, পঞ্চ-পাঞ্চ
গ. চর্যাপদে শ, ষ, স-তিনটি বর্ণের পার্থক্য ছিল না। যেমন- সবর, শবর, ষবরালী। তেমনি জ, য এবং ন, ণ-এদের মধ্যেও পার্থক্য নেই।
ঘ. চর্যায় য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি বিদ্যমান ছিল।
ঙ. চর্যাপদের ভাষায় অপভ্রংশের প্রভাবে পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহৃত হত। তবে ক্লীবলিঙ্গ নেই। বিশেষ্য স্ত্রীলিঙ্গ হলে বিশেষণেও স্ত্রীলিঙ্গ হত। যেমন- নিশি অন্ধারী মুষার চারা। 'ইল' প্রত্যয়ান্ত বা 'এর' প্রত্যয়ান্ত বিশেষণ কখনও কখনও স্ত্রীলিঙ্গের রূপ নিয়েছে। যেমন, 'সোণে ভরিলী করুণা নাবী,' 'নগর বাহিরিরে ডোম্বি তোহেরি কুড়িআ', 'তোহোর অন্তরে মোএ ঘালিলি হাড়েরি মালী'। ঈ বা আ যোগে স্ত্রীলিঙ্গ হত। যেমন, হরিণী, শবরী, হরিণা।
চ. চর্যাপদের ভাষায় শব্দরূপের গঠনে একবচন ও বহুবচনের তফাত নেই। সম্বন্ধ বোঝানো ছাড়া স্ত্রীলিঙ্গ-পুংলিঙ্গেও পার্থক্য দেখা যায় নি।
ছ. একবচনে কর্তৃ, কর্ম, করণ ও অধিকরণ কারকে কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হত না। যেমন, সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৬৮.
চর্যাপদের ভাষাকে 'আলো আঁধারি ভাষা’ বলে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'

- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

----------------------
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম কবি
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. সরহপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
- শবরপা এর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম টিকাকার লুইপা এর গুরু ছিলেন।
- শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ তাঁর রচনা।

অন্যদিকে,
- চর্যাপদের আদি চর্যাকার/বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি/চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা - লুইপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭০.
‘সন্ধ্যাভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. রোমান্সকাব্য
  3. পদাবলি
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৭১.
ছন্দের বিচারে 'চর্যাপদ' আধুনিক কোন ছন্দে রচিত বলে ধরা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে 
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে 
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' রচিত - মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।

• 'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৩৭২.
'ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাছি।
বাহ তু কামলি সদগুরু পুছি।।' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. কাহ্নপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
• নৌকার উৎপ্রেক্ষা ব্যবহৃত হয়েছে অনেক চর্যায়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা একটি সাধারণ উপমা।
- ৮, ১৩, ১৪, ১৫, ১৮ ইত্যাদি সংখ্যক চর্যায় নৌকা চালনা, গুণ টানা, জল সেচা ইত্যাদির যে বিবরণ আছে তাতে মনে হয় নৌকা বাওয়া এদেশের জীবনে একটি জনপ্রিয় বৃত্তি ছিল।

ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাছি।
বাহ তু কামলি সদগুরু পুছি।। (চর্যা নং ৮)

অর্থাৎ, খুঁটি উপড়িয়ে কাছি মেলে দিয়ে, কামলি তুমি সদগুরু জিজ্ঞেস করে বেয়ে চল।
- চর্যাপদে সাগরের উল্লেখ আছে। কিন্তু সাগরের বর্ণনা নেই।

কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৭৩.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী, হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী"- এই পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. সহরপা
ব্যাখ্যা
•"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী, হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী"- এই পদটির রচয়িতা ঢেণ্ডণপা। 

- এটি চর্যাপদের ৩৩ নং পদ।
- পদটির অর্থ: লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রত্যেহ প্রেমিক এসে ভিড় করে।
- ঢেণ্ডণপা মূলত পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- তাঁর রচিত পদসমূহে  বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে,
- কাহ্নপা চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদ রচনা করেছেন।
- ভুসুকুপা বাঙালি কবি বলে ধারণা করা হয়। তার পদে তিনি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।যেমন-আজি ভুসু্কু বঙ্গালী ভইলি। নিআ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী।
- সহরপা এর পদ সংখ্যা চারটি। ৩৮নং পদে নৌকা এপার ওপারে যাওয়ার বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৪.
'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি কে?
  1. লুইপা 
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা 
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা

• চর্যার কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লারহ্‌ অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন
- সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭৫.
বাংলা ভাষার প্রথম কবিতা সংকলন?
  1. রামায়ণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. চর্যাপদ
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, 
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এর গঠনে নাটকীয়তা আছে। এটি মূলত একটি কাব্যনাট্য। 
• সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
• শূন্যপুরান হলো একটি গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৬.
কোন শাসকদের সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়?
  1. পাল
  2. তুর্কি
  3. মৌর্য
  4. গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো — খ) তুর্কি।

• তুর্কি শাসকদের সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের তেমন বিকাশ ঘটেনি।

• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:

- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলাদেশ অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- এ সম্যকেই অন্ধকার যুগ বলা হয়।

তাই অনেকে,
১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- এ যুগের প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৩শ-১৪শ শতকের রামাই পণ্ডিতের চম্পুকাব্য জাতীয় রচনা শূন্যপুরাণ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৭৭.
'হাতের কাঙ্কন মা লোউ দাপন'- পদটি কে লিখেছেন?
  1. কাহ্নপা
  2. সরহপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়।
যেমন : 

• অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী। (ভুসুকুপা, ৬ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হরিণ তার নিজের মাংসের জন্যই সকলের শত্রু।

• হাতের কাঙ্কন  মা লোউ দাপন। (সরহপা, ৩২ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাতের কঙ্কন দেখতে আয়নার দরকার নেই।

• হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী। (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাঁড়িতে ভাত নেই কিন্তু নিত্য প্রেমিক আসে।

• দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামায়? (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?

• বর সুণ গোহালী কি মো দুঠ বলন্দে (সরহপা, ৩৯ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : বরং শূন্য গোয়াল ভালো, কি করব আমি দুষ্ট বলদে।

• আণ চাহন্তে আণ বিনঠা (কঙ্কনপা, ৪৪ নম্বর পদ)।
আধুনিক  বাংলা : এক চাইতে অন্য বিনষ্ট হলো।

উৎস:
চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৩৭৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে সংকলিত পুঁথি নয় কোনটি?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ
  3. ডাকার্ণব
  4. খনার বচন
ব্যাখ্যা
•'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে সংকলিত পুঁথি নয় ‘খনার বচন’।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ, 
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৭৯.
ডাক ও খনার বচনকে কোন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়?
  1. অন্ধকারযুগ
  2. প্রাচীনযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. অবক্ষয়যুগ
ব্যাখ্যা

ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- বিষয় হিসেবে ডাক ও খনার বচন পুরানো এবং ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ছড়া জাতীয় এসব রচনায় এদেশের আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ণ ঘটেছে। 
- এসবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে নীতিকথা ও বহুদর্শী উপদেশ। 
- ডাক নামে কোন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন কিনা জানা যায় নি। 
- সাধারণত প্রাচীন আমলের এক শ্রেণির বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধককে ডাক বলা হত। 
- প্রাচীন যুগের ফলিত জ্যোতিষ ও কৃষি-বিষয়ক অভিজ্ঞতা এসব বচনের মধ্যে ছড়ার আকারে প্রচলিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে।
- উড়িষ্যা অঞ্চলেও কিছু ডাকের বচন রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।

৩৮০.
'কাহ্নপা' রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ১২তম
  2. ২২তম
  3. ২৩তম
  4. ২৪তম
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত তম বার নেপাল সফরকালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. প্রথম বার 
  2. দ্বিতীয় বার 
  3. তৃতীয় বার
  4. চতুর্থ বার
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর তৃতীয়বার নেপাল সফরকালে (১৯০৭ সালে) নেপালের রাজগ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি) থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।

------------------------
• বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না।

• ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতগুলো পদ আবিষ্কার করেন।

• তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব', 'সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' —এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

• এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
• ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৮২.
চর্যাপদের ২৩নং খণ্ডিত পদটি কার রচনা?
  1. কাহ্নপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৮৩.
প্রাচীন বাংলায় লিখা সাহিত্য কোনটি?
  1. ক) চর্যাচর্যবিনশ্চয়
  2. খ) ডাকার্ণব
  3. গ) কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুঁথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক চারটি পুঁথি একত্রে প্রকাশিত হয়।
- সেগুলো হচ্ছে - চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সহরপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব। 
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 
- তিনি পুঁথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৪.
চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ'- 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে লেখা।

• চর্যাপদ'- এর ছন্দ সম্পর্কিত শব্দ:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণে ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পদাকুল ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, আর প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে হলেও মাত্রাবৃত্তের  বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৩৮৫.
চর্যাপদের ২৩ নং পদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) কুক্কুরীপা
  4. ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।
- ২৩ নং পদটির রচয়িতা ভুসুকুপা
- ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের লেখক।
- তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬ নং, ২১ নং, ২৩নং, ২৭ নং, ৩০ নং, ৪১ নং, ৪৩ নং, ৪৯ নং।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৬.
চর্যাপদের কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
  1. কাহ্নপা
  2. শান্তিপা
  3. ভুসুকুপা
  4. গুণ্ডরীপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছদ্ম নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

• “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী/ নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী” - ভুসুকুপার এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
• তার কবিতার লাইনের আধুনিক রূপ - আজ ভুসুকু বাঙ্গালি হইলো।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা:

কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি - 
 "উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮৮.
চর্যাপদের কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
  1. ক) গোবিন্দ দাস
  2. খ) ভুসুকু পা
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) কাহ্ন পা
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ 'চর্যাপদ'।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন ভুসুকুপা ৮টি।
- তার ৪৯ নং পদে পদ্মা (পঁউআ) খালের নাম আছে। ''বঙ্গাল দেশ'' ও ''বাঙ্গালী''র কথা আছে।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অনুমান করছেন তিনি পূর্ববঙ্গের।
- এছাড়া বিভিন্ন গবেষকদের মতেও ভুসুকুপা নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৯.
চর্যাপদের ভাষা নিয়ে প্রথম আলোচনার সূত্রপাত করেন কোন গবেষক?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. শশিভূষণ দাসগুপ্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:
- চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদনা - ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা নিয়ে প্রথম আলোচনা - বিজয়চন্দ্র মজুমদার (১৯২০ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা বাংলা - এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও প্রমান উপস্থাপন - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২৬ সাল)
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ - কীর্তিচন্দ্র
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার - ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী (১৯৩৮ সাল)
- চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে প্রথম আলোচনা - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯২৭ সাল)
- চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৪২ সাল)
- চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ - ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৪৬ সাল)

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও লাল নীল দীপাবলি।
৩৯০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত সালে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯০৭ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের পুথিটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।

৩৯১.
চর্যার প্রথম পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. শবরপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
- লুইপা বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯২.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- এটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ২৩নং
  2. ৩৩নং
  3. ৬নং
  4. ৪৩নং
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যাপদের ৩৩নং পদটি হলো-
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'

অর্থ- লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৩.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4.  ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯৪.
কোন সাহিত্যকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে?
  1. পদাবলী
  2. গীতগােবিন্দ
  3. চর্যাপদ
  4. চৈতন্যজীবনী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'

- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

----------------------
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯৫.
কার পদাঙ্ক অনুসরণ করে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের পুথি সংগ্রহে নেপালে যাত্রা করেন?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  3. রাহুল সংকৃত্যায়ন
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ আবিষ্কারের তথ্য: 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত সন্ধানেই নেপাল যাত্রা করে এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 

- শাস্ত্রী মশায়ের পূর্বে, এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। সম্ভবত তিনিই প্রথম নেপাল যাত্রা করে সংস্কৃতে রচিত অনেকগুলি বৌদ্ধ ধর্ম' ও সাহিত্যের পুথি প্রাপ্ত হন এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে Sanskrit Buddhist Literature In Nepal নাম দিয়ে সে সবের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। 

• রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পর তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালে পুথি সংগ্রহের চেষ্টায় যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ধর্ম ঠাকুরকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলে মনে করেছিলেন - 'নানা কারণে আমার সংস্কার হইয়াছিল যে, ধর্মমঙ্গলের ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ ধর্মের শেষ'। শাস্ত্রী মশায়ের এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে অসার প্রমাণিত হয়েছে। তিনবার তিনি নেপালে যান, ১৮৯৭-৯৮ খ্রীষ্টাব্দে দুবার এবং শেষবার ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে।

- এই শেষবার তিনি ১৯০৭ সালে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ আবিষ্কার করেন। তিনি  বলেন- নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম চর্য্যাচয্যবিনিশ্চয়, উহাতে কতকগুলি কীর্ত্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্ত্তনের মত, গানের নাম চর্যাপদ।

অন্যদিকে,
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯৬.
'দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায়' পদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সরহপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) ঢেণ্ডণপা
  4. ঘ) কঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬ টি। এগুলো হল- ১. আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)। ২. দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)। ৩. হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)। ৪. হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)। ৫. বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)। ৬. আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
৩৯৭.
শবরপা সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট কতটি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. ১২টি
  2. ১৪টি
  3. ১৬টি
  4. ১৮টি
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য। শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৮.
কাহ্নপা কী ধরনের সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. ক) বৈষ্ণবপদ
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) বাউল পদ
  4. ঘ) শাক্ত পদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি - কাহ্নপা। তার প্রকৃত নাম - কৃষ্ণাচার্য পাদ।
তার রচিত পদের সংখ্যা - ১৩টি; যা সর্বাধিক পদ।
কিন্তু তার রচিত প্রাপ্ত পদের সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৯৯.
প্রাচীন যুগের তন্ত্র সাধকদের মতে ‘পিঙ্গলা’ অন্য কী নামে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ছিল?
  1. পার্বতী
  2. গঙ্গা
  3. যমুনা
  4. সরস্বতী
ব্যাখ্যা

প্রাচীনকালে মেরুদন্ডের বাঁ দিকের একটি নাড়িকে ‘ইড়া’ বলা হত।
- মেরুদন্ডের দক্ষিণ দিকের একটি নাড়িকে ‘পিঙ্গলা’ এবং ‘ইড়া’ এবং ‘পিঙ্গলা’ মধ্যস্থিত অপর একটি সূক্ষ্ম নাড়িকে ‘সুষুম্না’ বলা হত।
- এই ৩ নাড়ির মিলনকে ‘ত্রিবেণী’ বলা হত।
- তন্ত্র সাধনায় এসব নাড়ি চন্দ্র সূর্য ও অগ্নির গুন বিশিষ্ট।।
- তন্ত্র সাধকদের কাছে ‘ইড়া’ ‘পিঙ্গলা’ ও সুষুম্না যথাক্রমে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নামে পরিচিত এবং শ্রদ্ধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

৪০০.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. পাল
  2. মুঘল
  3. সেন
  4. গুপ্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।