বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

মোট প্রশ্ন১,০৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

PrepBank · পাতা ১০ / ১১ · ৯০১১,০০০ / ১,০৩৯

৯০১.
বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত ও চর্যাপদের পুথি সংগ্রহে কে প্রথম নেপাল যাত্রা করেন?
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
• "চর্যাপদ" আবিষ্কারের ইতিহাস:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত সন্ধানেই নেপাল যাত্রা করে এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পূর্বে এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হোন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। সম্ভবত তিনিই প্রথম নেপাল যাত্রা করে সংস্কৃতে রচিত অনেকগুলি বৌদ্ধ ধর্ম ও সাহিত্যের পুথি প্রাপ্ত হোন এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে Sanskrit Buddhist Literature In Nepal নাম দিয়ে সে সবের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পর তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালে পুথি সংগ্রহের চেষ্টায় যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ধর্ম ঠাকুরকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলে মনে করেছিলেন 'নানা কারণে আমার সংস্কার হইয়াছিল যে, ধর্মমঙ্গলের ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ ধর্মের শেষ'। শাস্ত্রী মশায়ের এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে অসার প্রমাণিত হয়েছে। তিনবার তিনি নেপালে যান, ১৮৯৭-৯৮ খ্রীষ্টাব্দে দুবার এবং শেষবার ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে। এই শেষবার তিনি ১৯০৭ সালে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ আবিষ্কার করেন।

- তিনি বলেন- নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম চর্যাচয্যবিনিশ্চয়, উহাতে কতকগুলি কীর্ত্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্ত্তনের মত, গানের নাম চর্যাপদ।

উৎস: "চর্যাগীতিকা" মুহম্মদ আবদুল হাই।
৯০২.
চর্যাপদ কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত কাব্য।

• চর্যাপদ:

- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯০৩.
নিচের কে চর্যাপদের কবি নন?
  1. ক) চাটিল্লপা
  2. খ) আর্যদেবপা
  3. গ) কম্বলামম্বরপা
  4. ঘ) নন্দীপা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩ জন, মতান্তরে ২৪ জন।
- নন্দীপা নামে কোনো কবি নেই।
- কিন্তু জয়নন্দীপা নামে কবি আছে।তিনি ৪৬ নং পদটি রচনা করেছেন।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯০৪.
'অমরকোষ' এর রচয়িতা ছিলেন কে?
  1. অমরসিংহ
  2. চিন্তামণি শাস্ত্রী
  3. লিঙ্গ ভট্ট
  4. বিক্রমাদিত্য
ব্যাখ্যা
• 'অমরকোষ' হলো একটি প্রসিদ্ধ সংস্কৃত অভিধান যা প্রাচীন ভারতে রচিত এবং সবচেয়ে বিখ্যাত অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি রচনা করেছিলেন অমরসিংহ, যিনি ষষ্ঠ শতকের বুদ্ধিজীবী এবং উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের একজন ছিলেন।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
নাম: অমরকোষের প্রকৃত নাম "নামলিঙ্গানুশাসন" হলেও এটি অমরকোষ নামেই অধিক পরিচিত।
গঠন: এটি তিনটি ভাগে বিভক্ত, যা একত্রে ত্রিকান্ড নামে পরিচিত। তিনটি খণ্ডে বিভক্ত বলে একে ত্রিকান্ডী বলেও ডাকা হয়।
মহাকোষ: এই অভিধান মূলত নাম, লিঙ্গ এবং লিঙ্গবাচক শব্দের উপর ভিত্তি করে রচিত এবং সংস্কৃত ভাষার শব্দের বিশদ অর্থ এবং ব্যাখ্যা দেয়।

পণ্ডিতদের টীকা:
অনেক পণ্ডিত অমরকোষের উপর টীকা লিখেছেন,
যেমন:
- লিঙ্গ ভট্ট (দশটীকা), 
- সুভূতিচন্দ্র (কামধেনু টীকা), 
- সর্বানন্দ (টীকাসর্বস্ব), 
- ক্ষীরস্বামী প্রমুখ। 
- ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ: অমরকোষ ফার্সি, ইংরেজি এবং জার্মানসহ অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য সংস্করণ:
হেনরি টমাস কোলব্রুক ১৮০৮ এবং ১৮২৫ সালে কলকাতা থেকে অমরকোষের একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন।
চিন্তামণি শাস্ত্রী থাট্টে ও কিয়েন হর্ন ১৮৭৭ সালে মহেশ্বর-ভাষ্যসহ আরেকটি সংস্করণ বোম্বাই থেকে প্রকাশ করেন।

অমরসিংহ সম্পর্কে:
পণ্ডিতরা মনে করেন, অমরসিংহ ছিলেন ৬ষ্ঠ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের বুদ্ধিজীবী।
তিনি উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের অন্যতম ছিলেন।
এই তথ্য অনুযায়ী অমরকোষ সংস্কৃত ভাষার প্রচলিত ও প্রাচীনতম অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এর প্রভাব সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়েছে।

রেফারেন্স:
- বাংলাপিডিয়া
- অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও প্রবন্ধ (যেমন ডেইলি স্টার, জনকণ্ঠ)।
৯০৫.
চর্যাপদের ভাষাতে কোন ভাষার প্রভাব রয়েছে-
  1. বৈদিক 
  2. আর্য
  3. মৈথিলী 
  4. অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য:
চর্যাপদের ভাষা বাংলা বলে প্রমাণিত হলেও তাতে অপভ্রংশের কিছু কিছু নিদর্শন আছে। চর্যাপদ যে সময়ের রচনা তখন বাংলা ভাষা তার পূর্ববর্তী স্তর অপভ্রংশ থেকে নিজস্ব রূপ গ্রহণ করলেও একেবারে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে নি। চর্যাকারেরা অনেকেই অপভ্রংশে পদ রচনা করেছেন। তাঁদের বাংলা রচনাতে তাই প্রাকৃত বা অপভ্রংশের প্রভাব থাকা স্বাভাবিক।

অপভ্রংশের প্রভাব লক্ষ করা যায় এ সব ক্ষেত্রে: আইসন, জৈসন, জিম, তিম, জসু, তসু প্রভৃতি শব্দ; নিষেধার্থক 'মা' অব্যয়ের ব্যবহার—মা হোহি; ক্বচিৎ যুক্ত ব্যঞ্জনের উপস্থিতি—আচ্ছিলেঁ সংপুন্না; 'ইউ' প্রয়োগে অতীতকাল তোড়িউ; ‘মি’ বিভক্তি—পীবমি, পুছমি; সর্বনামজাত ক্রিয়াবিশেষণ—জব, তব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৯০৬.
চর্যাপদের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) চর্যাপদের কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক
  2. খ) চর্যাপদ মূলত গানের/কবিতার/পদের সংকলন
  3. গ) চর্যাপদ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত
  4. ঘ) এর ভাষা ‘সান্ধ্য বা আলো-আধাঁরি’ ভাষা নামে পরিচিত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এটি প্রাচীন বাংলার কথ্য ভাষায় লিখিত। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
৯০৭.
'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী' - কোন পদকর্তার রচনা?
  1. ক) কাহ্নপা
  2. খ) শান্তিদেব
  3. গ) সরহপা
  4. ঘ) শবরপা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যের দ্বিতীয় স্থান অধিকারী হলেন ভুসুকুপা। 
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তির বিচারে ভুসুকু নামটি ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। 
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯০৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের সংখ্যা-
  1. ৪৮ টি
  2. ৫০ টি
  3. ৫২ টি
  4. ৫৪ টি
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদে ৫০ টি পদ ছিল। 

• চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতামত: 
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন। 
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ৮৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ - ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১০.
‘আপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ প্রবাদ বাক্যের অর্থ কী?
  1. অপরের সম্পদে নজর দিলে নিজেরই ক্ষতি হয়। 
  2. নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
  3. ধনই জীবনের লক্ষ্য।
  4. নিজে নিজে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করা যায় না। 
ব্যাখ্যা

নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে। 
- প্রবাদ বাক্যটি নিজস্ব লোভ ও অসতর্কতার ফলাফলকে নির্দেশ করে।
------------------------------------- 
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – যা নেই, তা আশা করা অর্থহীন।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা।
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯১১.
ভুসুকুপা কোন অঞ্চলের রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়?
  1. মিথিলা
  2. বিহার
  3. সৌরাষ্ট্র
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯১২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে নিচের কোন কবি বাঙালি ছিলেন?
  1. দারিক পা 
  2. বীণা পা 
  3. বিরূপ পা
  4. শান্তি পা 
ব্যাখ্যা

• বিরূপ পা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, জালন্ধরী পার শিষ্য বিরূপ ছিলেন বাঙালি। তাঁর জন্মস্থান দেবপালের রাজ্য ত্রিপুরায়। তাঁর শিষ্য ডোম্বী পা। - বিরূপ আট শতকে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, বিরূপ পা ভিক্ষুরূপে সোমপুরী বিহারে বাস করতেন। তিনি দেবপালের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮৩০ সালের শেষের দিকে। তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থ প্রণেতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৯১৩.
চর্যাপদের কোন কবির প্রকৃত নাম 'শান্তিদেব'?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. ভাদেপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯১৪.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. দোহাকোষ
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৫.
বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) গীতগোবিন্দ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৬.
চর্যাপদ রচনার উদ্দেশ্য ছিল -
  1. অনুবাদ চর্চা
  2. ধর্ম চর্চা
  3. নীতি চর্চা
  4. সাহিত্য চর্চা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ রচনার উদ্দেশ্য ছিল - ধর্ম চর্চা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' বা 'চর্যাগীতিকোষ' বা 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৭.
চর্যাপদের টীকাকার মুনিদত্ত মোট কতটি চর্যার ব্যাখ্যা করেছেন?
  1. ৪৬টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
ব্যাখ্যা
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৮.
চর্যাপদের কবি ‘ঢেণ্ডণপা’ পেশায় ছিলেন-
  1. মাঝি
  2. জেলে
  3. তাঁতি
  4. কুলি
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত ৩৩নং পদটি-

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯১৯.
”আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।”-পঙ্​ক্তিটির লেখক কে?
  1. ভদেপা
  2. ভুসুকুপা
  3. শান্তিপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

”অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী” -পঙ্​ক্তিটির লেখক- ভুসুকুপা।

ভুসুকুপা:

- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯২০.
চর্যাপদের ভাষাকে পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা মনে করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ডঃ মুহম্মদ শহীদল্লাহ্‌
  3. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা

সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ভাষাকে পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা মনে করেন।

• ডঃ মুহম্মদ শহীদল্লাহ্‌ , এ কথার প্রতিবাদ ক'রে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন যে, এই ভাষাকে সঠিক ভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের কোনো এক অঞ্চলের উপভাষ মনে করা যায় না। একে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাচীন বঙ্গ-কাম- রূপী ভাষ৷ বলাই সঙ্গত" ব'লে তিনি মনে করেছেন।

 • আমরা ডঃ শহীদল্লাহ্‌র সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, কেবল শব্দ বিচার করে এই ভাষাকে কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলের উপভাষা স্থির করতে গেলে ভ্রান্তির সম্ভাবনা খুবই বেশী। 

উৎস: 'চর্যাগীতিকা' সম্পাদনায় মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা। 

৯২১.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. শান্তিপা
  3. ভুসুকুপা
  4. তুলারম্ভপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলারম্ভপা।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২২.
চর্যাপদের পদসংখ্যা কতগুলি?
  1. ৪১টি
  2. ৫১টি
  3. ৫৬টি
  4. ৬২টি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের পদসংখ্যা বিষয়ক আলোচনা:
• চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা (গান সংখ্যা) ৫১টি। কিন্তু শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫০টি।
• চর্যাপদের কয়েকটি পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাড়ে ৪৬টি পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। অর্থাৎ, চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। ২৩ এর অর্ধেক পাওয়া গেছে; আর ২৪,২৫ ও ৪৮ সংখ্যক পদ পাওয়া যায়নি। চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়।

• সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'। যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
• টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মতবিরোধের সৃষ্টি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯২৩.
অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ কে রচনা করেন?
  1. ক) শান্তি পা 
  2. খ) সরহ পা
  3. গ) ভাদ্র পা
  4. ঘ) কুক্করী পা 
ব্যাখ্যা
সরহ পা অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উওরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরুপের রাজা রত্নপাল ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ- কামরুপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
- শান্তি পাদ বিক্রম শিলা বিহারের দ্বার পণ্ডিত ছিলেন।
- দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান আতীশ তাঁর শিষ্য।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, কুক্করী পা বাংলাদেশের লোক। তিনি ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু।
- তিনি আট শতকের প্রথম পাদে বর্তমান ছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
৯২৪.
চর্যাপদকে কোন ধর্মের সাধনাসংগীত মনে করা হয়?
  1. ক) ব্রাহ্মধর্ম
  2. খ) হিন্দুধর্ম
  3. গ) বৌদ্ধধর্ম
  4. ঘ) খ্রিষ্টানধর্ম
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ মূলত মহাজ্ঞান ধর্মশাখার অন্তর্গত সহজযান ধর্মশাখার সাধনাসংগীত। চর্যাপদ বৌদ্ধধর্মের ভাবনার অনুসারী হলেও এটা স্পষ্ট যে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মই এখানে প্রাধান্য লাভ করেছে।

৯২৫.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. তন্ত্রীপা
  2. আর্যদেবপা
  3. চাটিল্লপা
  4. ঢগুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - ঢগুরীপা।

⇒ চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

⇒ চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদে মোট কতটি পদ পাওয়া গেছে? 
  1. সাড়ে ৪৭টি
  2. সাড়ে ৪৪টি
  3. সাড়ে ৪৬টি
  4. সাড়ে ৪৮টি
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে মোট - সাড়ে ৪৬টি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।

-----------------
• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কাহ্নপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (১৩টি)।
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - ভুসুকুপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৮টি)।
- চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি)।
- চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কুক্কুরীপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯২৭.
চর্যাপদ কী?
  1. দেবী বন্দনা
  2. উপন্যাস সমগ্র
  3. গানের সংকলন
  4. প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯২৮.
কীর্তিচন্দ্রের তিব্বতি অনুবাদের নাম কী?
  1. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাগীতি
ব্যাখ্যা
• চর্যার তিব্বতি অনুবাদ:
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২৯.
চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা' বলেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলেছেন - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

অন্যদিকে,
• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন - বিজয়চন্দ্র মজুমদার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৩০.
'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল'- পদটির রচয়িতা কোন পদকর্তা?
  1. লুইপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

• এই পদের প্রথম দুইটি চরণ -
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯৩১.
চর্যাপদের কোন কবি বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন?
  1. দারিকপা
  2. চাটিল্লপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. কঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
কঙ্কণপা:
- বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পূর্বে কঙ্কণপা বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৪৪ নং পদটির রচয়িতা।
- গবেষকদের মতে তিনি ৯৮০ থেকে ১১২০ খ্রিস্টাব্দ অবধি জীবিত ছিলেন।
- কঙ্কণপার লেখায় বাংলার সঙ্গে ব্যাকরণের কিছু অপভ্রাংশের রূপ পাওয়া যায়।
- তিনি দারিকপার শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
৯৩২.
"ঘন বসতিতে আমার ঘর (অথচ) পাড়া পরশি নেই। হাঁড়িতে ভাত নেই, (কিন্তু) ঘরে প্রতিদিনই অতিথির আগমন।" - উদ্ধৃতাংশটুকু চর্যাপদের কোন কবির পদের বাচ্যার্থ?
  1. শবরপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- তিনি নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদে তিনি একটি (৩৩নং) পদ রচনা করেন।

এই একটিমাত্র পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
যেমন:
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী।
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী৷।' (পদ: ৩৩)

বাচ্যার্থ (৩৩ সংখ্যক):
ঘন বসতিতে আমার ঘর (অথচ) পাড়া পরশি নেই। হাঁড়িতে ভাত নেই, (কিন্তু) ঘরে প্রতিদিনই অতিথির আগমন। ব্যাঙ সাপকে কাটে, কী আশ্চর্য, দোয়া দুধ আবার বাঁটে প্রবেশ করে। বলদ বিয়ায়-গাভী বন্ধ্যা। তিন সন্ধ্যা পাত্রে দুধ দোহন করা হয়। যা সেই বুদ্ধি-তা-ই-খারাপ বুদ্ধি। যে চোর সেই কোটাল। প্রত্যেক দিন শৃগাল সিংহের সঙ্গে যুদ্ধ করে। ঢেণ্টনপা-এর গীত কদাচিৎ বোঝা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা।
৯৩৩.
কুক্কুরীপা রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৪৬নং
  2. ২০নং
  3. ৪৮নং
  4. ২নং
ব্যাখ্যা
কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পঙক্তি হলো:

“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৪.
প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের-
  1.  ২৩নং পদটি খণ্ডিত পদটি আবিষ্কার করেন
  2. তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন
  3. তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেছেন
  4. মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদের টীকা ও অনুবাদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিলো তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টিকা রচনা করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩৫.
চর্যাকাররা কোন ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন?
  1. সহজযান ধর্মমতে
  2. হিন্দু
  3. মুসলিম
  4. খ্রিষ্টান
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে।
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক। চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।
- তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য। চর্যাপদে এ সাধনার কথা হেঁয়ালিপূর্ণ ভাষায় ব্যক্ত হয়েছে। ফলে দেশজ ভাষায় রচিত হলেও চর্যাপদের মূল ভাবের মর্মোদ্ঘাটন দুরূহ ব্যাপার। এ কারণে পন্ডিতগণ এ ভাষাকে ‘আলো-আধারি’ বা সন্ধ্যা ভাষা নামে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৯৩৬.
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন- 
  1. সরহপা 
  2. কুক্কুরীপা 
  3. শবরপা 
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

• ভুসুকু পা:
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু—এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন। কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ।
- 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'—ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৯৩৭.
'কৃষ্ণাচার্য পাদ' চর্যার কোন কবির নাম?
  1. কুক্কুরীপা 
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি। তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩৮.
'মান্ধাতার আমল' -এখানে 'মান্ধাতা' হলোঃ
  1. ক) প্রাচীনকাল
  2. খ) বহু পুরোনো কিছু
  3. গ) অন্ধকারময়
  4. ঘ) এক রাজার নাম
ব্যাখ্যা
মান্ধাতা - হিন্দু পুরাণোক্ত সূর্যবংশীয় প্রসিদ্ধ রাজা।
মান্ধাতার আমল - মান্ধাতার শাসনকাল; অতি প্রাচীনকাল।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯৩৯.
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ে কতজন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়?
  1. ক) ২৪ জন
  2. খ) ২৩ জন
  3. গ) ২১ জন
  4. ঘ) ২০ জন
ব্যাখ্যা
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ে ২৪ জন  পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।  
নামের শেষে গৌরব সূচক 'পা'  যোগ করা আছে। 
চর্যাপদের পদকর্তারা হলে: 
- সরহপা,
- শবরপা,
- লুইপা,
- ডোম্বীপা,
- ভুসুকুপা,
 - কাহ্নপা,
- কুক্কুরীপা,
- মীনপা,
- আর্যদেব,
- ঢেণ্ঢনপা
- চাটিলপা 
- দারিকপা
- ধামপা
প্রমুখ 

[উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম]
৯৪০.
চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা জীবনের শেষ পর্যায়ে কোথায় অবস্থান করেন?
  1. পাটনা
  2. নালন্দা
  3. সৌরাষ্ট্র
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু-এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন।
- তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন।
- কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ। 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'-ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৪১.
"সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।" - এ ধারণাটি কার?
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
  2. সুকুমার সেন
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত,
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে।

অর্থ্যাৎ,
• বাংলা ভাষার উৎপত্তির সময়:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন - সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ পণ্ডিত বলেছেন - দশম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
---------------

• চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৯৪২.
কোনজন চর্যাপদের পদকর্তা?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. শবরপা
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদকর্তা - শবরপা
- চর্যাপদে তাঁর পদসংখ্যা - ২টি (২৮, ৫০)।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'বুড্ডিস্ট মিস্টিক সঙ্‌স' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৩.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. মগধ
  2. বিহার
  3. রাঢ়
  4. তিব্বত
ব্যাখ্যা

লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ:
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৪৪.
কোন চর্যাকার সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন।
- সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলা হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৫.
চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ক) ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘Origin and Development of Bengali Language (ODBL)' নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। 
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন। 
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯৪৬.
চর্যাপদের কোন কবি সোমপুর বিহারের আচার্য ছিলেন?
  1. ক) আর্যদেবপা
  2. খ) শবরপা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) লুইপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি - কাহ্নপা। তার প্রকৃত নাম - কৃষ্ণাচার্য পাদ।
- ঐতিহাসিকগণ তাকে উড়িষ্যার অধিবাসী মনে করলেও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক জিতেন্দ্রলাল বড়ুয়া তাকে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার বলে প্রমাণ করেন।
- কাহ্নপা পরিনত বয়সে সোমপুর বিহারের আচার্য্য ছিলেন। রাজা ধর্মপালের রাজত্বকালে তিনি সেখানে অবস্থান করেন।
- তার রচিত পদের সংখ্যা - ১৩টি; কিন্তু প্রাপ্ত পদের সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৪৭.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিলো কত বছর?
  1. ১০০ বছর
  2. ১৫০ বছর
  3. ২৫০ বছর
  4. ৩৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০), 
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।

• এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।
- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৮.
কোন কবি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. সরহপা
  2. দারিকপা
  3. কঙ্কণপা
  4. ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা। ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
- 'দারিকপা' সালিপুত্র নামক স্থানের (কামরুপের কাছে) রাজা ছিলেন।
- 'কঙ্কণপা' বিষ্ণুনগর (মতান্তরে বিষ্ণুপুরের) রাজা ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড.সৌমিত্র শেখর।
৯৪৯.
চর্যাপদে বর্ণিত ডোম, চণ্ডাল, শবররা কোথায় বাস করত?
  1. নগরের কেন্দ্রে
  2. রাজপ্রাসাদের আশেপাশে
  3. নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' এর জনগোষ্ঠী ও জীবনচিত্র: 
- ডোম, চণ্ডাল, শবর ইত্যাদি অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত।
- ব্রাহ্মণরা এদের স্পর্শ এড়িয়ে চলতেন এবং নিজেদের সমাজকে নিষ্কলুষ রাখতে সচেষ্ট থাকতেন।

- এ বৈষম্য ও বিভেদের ভাবটি একটি চর্যাগানে অভিব্যক্তি পেয়েছে:
'নগর বাহিরি রে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ।
ছোই ছোই জাসি বাম্‌হণ নাড়িআ ॥' [চর্যা ১০]।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৯৫০.
চর্যাপদের উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা কয়টি?
  1. সাড়ে ৫০টি
  2. সাড়ে ৪৫টি
  3. সাড়ে ৪৬টি
  4. সাড়ে ৫১টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৫১.
চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদ রচনা করেন কে?
  1. ডোম্বীপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদ রচনা করেন - শবরপা।
--------------- 
• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

- শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
৯৫২.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন -
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. মুনিদত্ত
  3. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৩.
চর্যাপদ কারা রচনা করেন?
  1. তান্ত্রিক জৈন সাধকগণ
  2. আর্য কবিগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. বৈষ্ণব সাধকগণ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৪.
চর্যাপদের কবি কারা?
  1. চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস
  2. লুইপা, ভুসুকুপা, শবরপা
  3. কৃত্তিবাস, কাশীরাম, আলাওল
  4. বিজয়গুপ্ত, মালাধর বসু, বিজমাধব
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৯৫৫.
চর্যাপদের কত নং পদে পঁউয়া খালের(পদ্মা খাল) নাম আছে?
  1. ৬নং
  2. ২৪নং
  3. ২৩নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের বাঙালি কবি ভুসুকুপা রচিত ৪৯নং পদে 'পউয়া খাল' এর কথা বলা আছে।

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- বাজ ণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
- অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।
-'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫৬.
কুক্কুরীপা চর্যাপদের কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে কুক্কুরীপার ২ নং ও ২০ নং পদ পাওয়া যায়। মনে করা হয়, খোঁজ না পাওয়া ৪৮ নং পদটিও তাঁর রচনা। সে হিসেবে তিনটি পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৭.
কুক্কুরীপা রচিত কোন পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. ৪৯নং 
  2. ৪৮নং
  3. ২৫নং
  4. ২৪নং 
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

-------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহববল আলম।

৯৫৮.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. পাল
  2. সেন
  3. তুর্কি
  4. মোগল
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
-  ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে।
- পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৫৯.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. ঢেণ্ডণ পা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬০.
১৮৮২ সালে নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের পরিচয় প্রথম প্রকাশ করেন- 
  1. রাজকীয় নেপাল লাইব্রেরি
  2. মুনিদত্ত
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা

- ১৮৮২ সালে নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের পরিচয় প্রথম প্রকাশ করেন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র।

নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্য:
- ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।
- এরপর রাজেন্দ্রলালের আমন্ত্রণে নেপালে পুঁথি সংগ্রহের জন্য যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালেও নেপালে গিয়েছিলেন পুঁথি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
- কিন্তু ১৯০৭ সালে তিনি পুঁথি সংগ্রহের জন্য নেপালে গিয়ে এই ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামে এই পুঁথিটি খুঁজে পান, যা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলির মধ্যে অন্যতম।
---------------------------
অন্যদিকে,
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদক ছিলেন।
- এটি ১৯১৬ সালে তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশিত গ্রন্থটির নাম ছিল — ‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’।

• চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন — মুনিদত্ত।

• ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন। 
----------------------------------

চর্যাপদ:
-  চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন।
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি গানের সংকলন এবং একে সাধন-সংগীতও বলা হয়।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এবং একে চর্চাগীতিকোষ বলা হয়।
- পাল শাসন আমলে এটি রচিত হয়।
- চর্যাপদকে বলা হয় সহজিয়া বা বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বনকারীদের সাহিত্য।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

৯৬১.
'খনার বচন' -এর মূলভাব কী?
  1. লৌকিক প্রণয়সঙ্গীত
  2. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  3. সামাজিক মঙ্গলবোধ
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
ব্যাখ্যা
• খনার বচন এর মূলভাব- শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি।

• খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬২.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যার কত নং পদ?
  1. ১নং 
  2. ৩৩নং 
  3. ২নং
  4. ৪৯নং 
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৬৩.
চর্যাপদের সাথেই আবিষ্কৃত হয় কোনটি ?
  1. ক) ডাকার্ণব
  2. খ) বৈষ্ণব পদাবলী
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ঘ) খনার বচন
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ   বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে সেসব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে)  চর্যাচর্যবিনশ্চয়, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব- এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়। 
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনশ্চয়ই প্রাচীন বাংলা ভাষায় রচিত।
- বাকি তিনটি বাংলায় নয় অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯৬৪.
চর্যাপদের ২৫নং পদটি রচনা করেন কে?
  1. কাহ্নপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নাপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায় নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৫.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যার আদি পদকর্তা হিসেবে কার নাম উল্লেখ করেছেন?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. সরহপা
  4. দারিকপা
  5. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ।

লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না। তবে অন্যবিধ প্রমাণের সাহাযো- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

উৎস: ‘চর্যাগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই।
৯৬৬.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৯৬৭.
প্রাচীন বাংলার জনপদ ও অর্থনীতির পরিচয় প্রথম কার কোন গ্রন্থে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পায়?
  1. ক) নীহাররঞ্জন রায় এর 'বাঙালীর ইতিহাস'
  2. খ) আহমেদ শরীফের 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য'
  3. গ) অতুল সুরের 'বাঙ্গালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়'
  4. ঘ) দীনেশ্চন্দ্র সেনের 'বৃহৎ বঙ্গ'
ব্যাখ্যা
সাধারণ মানুষের উন্নতি এবং জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় সন্ধান ছিল নীহাররঞ্জনের বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থের চালিকাশক্তি এবং এটি ছিল সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে দাঁড় করিয়ে একটি জাতীয়তাবাদী বক্তব্য। মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৯৬৮.
প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের কোন গ্রন্থে মুসলমান দরবেশদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) শূন্যপুরান
  3. গ) সেক শুভোদয়া
  4. ঘ) গোরক্ষ বিজয়
  5. ঙ) নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া হলো রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত সংস্কৃত গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্যের কয়েকটি বাংলা গান ও আর্যা। আর্যা সমূহে শেখের শুভোদয় বা মুসলমান দরবেশদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম পীর মাহাত্ব্য মূলক রচনা। একইভাবে এর প্রেম সংগীতটি হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একমাত্র প্রেম সংগীত। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৯৬৯.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কত সালে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত বলে স্বীকৃতি দেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯৪৬ সালে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৭০.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৭৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৮৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

প্রাচীন যুগের সময়কাল:
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
----------------- 
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং 
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৯৭১.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম -
  1. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. লীলাবতী
  3. ভুসুকুপা
  4. চন্দ্ররাণী
ব্যাখ্যা
খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭২.
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে মুনিদত্ত চর্যার কয়টি পদের ব্যাখ্যা করেছিলেন বলে উল্লেখ্য আছে?
  1. ৫১টি
  2. ৫০টি
  3. ৪৯টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৩.
‘খনার বচন’ কী সংক্রান্ত?
  1. শিল্প
  2. ব্যবসা
  3. কৃষি
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা
ব্যাখ্যা
• খনার বচন মূলত — কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।

• খনার বচন: 
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৯৭৪.
চর্যাপদের পদকর্তা নয় কে?
  1. শবরপা
  2. সরহপা
  3. ভাদেপা
  4. কম্বলপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদকর্তা নয়- কম্বলপা ।

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।

• চর্যাপদের কিছু প্রধান কবির নাম:
- কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, ভাদেপা, ধর্মপা, মহীধরপা, ঢেণ্ডণপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতি পাঠ - ড. মাহবুবুল হক।
৯৭৫.
চর্যাপদ রচনাটি বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের কাব্য নিদর্শন?
  1. ক) আদিযুগ
  2. খ) মধ্যযুগ
  3. গ) আধুনিক যুগ
  4. ঘ) অতি আধুনিক
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন/আদি যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ
- চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচেছ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতাবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৬.
চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে?
  1. বৈষ্ণব
  2. বৌদ্ধধর্ম
  3. জৈনধর্ম
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপডিয়া।
৯৭৭.
চর্যাপদের ৪৮ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুক্কুরীপা
  2. খ) তন্ত্রীপা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ২৩ আংশিক, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ পাওয়া যায় নি। ২৩ নং পদের রচয়িতা ভুসুকুপা। ২৪ নং পদের রচয়িতা কাহ্নপা। ২৫ নং পদের রচয়িতা তন্ত্রীপা এবং ৪৮ নং পদের রচয়িতা কুক্কুরীপা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৯৭৮.
সান্ধ্য ভাষা কি?
  1. ক) সংস্কৃত ভাষার একটি শাখা
  2. খ) যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায় নি
  3. গ) সাধু ভাষার প্রাচীন রূপ
  4. ঘ) সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্ররূপ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত।
যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায়নি, যে ভাষার অর্থও একাধিক অর্থাৎ আলাে-আঁধারের মত, সে ভাষাকে পন্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড, সৌমিত্র শেখর।

৯৭৯.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রাপ্ত সংস্কৃত শ্লোক থেকে চর্যার কোন নামের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. চর্যাগীতিকোষ
  3. চর্যাগীতিকা
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে, 
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮০.
‘খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না’ - চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে এই মন্তব্যটি কার?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ড. সুকুমার সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন। ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৮১.
বাংলা ভাষা কোন ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য?
  1. ক) অস্ট্রিক
  2. খ) ইন্দো-ইউরােপীয়
  3. গ) দ্রাবিড়
  4. ঘ) ককেশীয়
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য। ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম।
বাংলার আদি অধিবাসী/জনগােষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক। ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা। আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা। বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা। ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৯৮২.
'কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল'____ এখানে 'ডাল' শব্দটি কোন বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গাছের শাখা
  2. বংশ
  3. ইন্দ্রিয়
  4. মৃত্যু
ব্যাখ্যা
• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
 
• পদটির আধুনিক বাংলায় রূপান্তর এরকম - 
''কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।''

অন্তর্নিহিত ভাব :
শরীরের পাঁচ ইন্দ্ৰিয় পাঁচটি ডাল স্বরূপ। এই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা বাইরের বস্তুজগতের সঙ্গে মানুষের নিত্য জানাশোনার পালা চলেছে-জানাশোন যতোই বাড়ে ততই বেশী করে প্রীতির সঞ্চার হয় এবং বস্তুজগৎকেই চরম ও পরম জ্ঞান করে মানুষের তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু বস্তুজগতের মায়ামোহ-বন্ধন মানুষের জন্য ধ্বংসের পথ। বাঁচার পথ দেখাতে পারেন গুর।

সুতরাং,
অন্তর্নিহিত ভাব অনুসারে
''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।''- এখানে 'ডাল' শব্দটি দ্বারা ইন্দ্রিয় বোঝানো হয়েছে।

• 'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য: 
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইফা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইফা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯নং পদ রচনা করেন। 
---------------------- 
• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত তথ্য: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।
৯৮৩.
চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে ধারণা করা হয় - 
  1. বীণাপা কে
  2. কুক্কুরীপা কে
  3. ধর্মপা কে
  4. বিরুপা কে
ব্যাখ্যা
কুক্কুরীপা:
- ড. সুকুমার সেন মনে করেন, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল আছে।
- তাই কুক্কুরীপাকে চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে অনুমান/ধারণা করা হয়।
- কুক্কুরীপা ৩টি পদ রচনা করেন।
- ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- পদ গুলো হচ্ছে, ২ ও ২০ নং পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৪.
"আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।"- পদটি চর্যার কোন কবির রচনা?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• 'আপণা মাংসে হরিণা বৈরী'- ভুসুকু পা রচিত চর্যাপদের ৬নং পদ।

-----------------
• ভুসুকু পা:

- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।

- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু-এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন।

- তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন।
- 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা-

কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৯৮৫.
ভারতীয় আর্য ভাষার নিদশর্ন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার নাম?
  1. ক) বামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) ঋগ্বেদ
  4. ঘ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার সাহিত্যিক রূপ ছিলো দু'রকম। এর মধ্যে যেটি সবচেয়ে পুরনো সেটি হলো ঋক্‌বেদ এবং পরবর্তীকালে বৈদিক সাহিত্যের ভাষা, অন্যটি অর্বাচিন কালের।
সে সময়ের শিক্ষিত ব্যাক্তিদের ভাষা ছিলো এটি। এছাড়া লৌকিক নানা গল্প-উপাখ্যানের ভাষা হিসেবেও এর ব্যবহার ছিলো।
এ ভাষার কোনো লিখিত নমুনা পাওয়া যায় নি। তবে পরবর্তীকালের কাব্য পুরাণ প্রভৃতির মধ্যে এর স্মৃতি রয়ে গিয়েছে।
পাণিনির হাতে এ ভাষাই সংস্কৃত হয়।

উৎসঃ নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৯৮৬.
চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার থেকে কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০০ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৮৭.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে:
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮৮.
শবরপা কোন সময়ের কবি ছিলেন?
  1. ক) ৬৫০-৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ৬৮০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ৬৭০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ৬৮০-৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সেই সূত্রে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, শবরপা চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক ।  
- তিনি সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট ১৬টি গ্রন্থ লিখেছেন।

• শবরপা রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি হলো– উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী। মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী ॥ (পদ : ২৮)
(অর্থাৎ উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে। তার পরিধানে ময়ূরের পুচ্ছ, গলায় গুঞ্জার মালা।)

- শহীদুল্লাহ্ শবরপাকে লুইপার গুরু বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৯.
'নারিকেল গাছে নুনে মাটি, শীঘ্র শীঘ্র বাধে গুটি।' এটি হলো- 
  1. চর্যাপদে ব্যবহৃত প্রবাধ
  2. বৈষ্ণব পদ 
  3. খনার বচন
  4. মঙ্গল কাব্যের পঙ্‌ক্তি 
ব্যাখ্যা

• 'নারিকেল গাছে নুনে মাটি, শীঘ্র শীঘ্র বাধে গুটি।' এটি হলো- খনার বচন।

----------------
• খনার বচন:
- খনার বচন এর মূলভাব- শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি। খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- খনার বচনের উদাহরণ:
• 'কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত'।
'নারিকেল গাছে নুনে মাটি, শীঘ্র শীঘ্র বাধে গুটি'।
• না পাইয়া পাইছে ধন, বাপে পুতে কীর্তন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯০.
চর্যাপদের শেষ পদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) শরবপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) শরহপা
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের সর্বশেষ পদের রচয়িতা শবরপা (৫০ নং পদ)। লুইপা চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা। শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৯৯১.
চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে ভুসুকুপা কততম?
  1. প্রথম
  2. তৃতীয়
  3. দ্বিতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৯২.
'কাহ্নপা' রচিত পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। 
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি; ২, ২০, ৪৮)। তবে তাঁর রচিত ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে বাংলা দেশের লোক ছিলেন চর্যার কোন কবি?
  1. কাহ্নপা
  2. ডোম্বীপা
  3. শবরপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
• শবরপা:
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সেই সূত্রে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, শবরপা চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
- তিনি সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট ১৬টি গ্রন্থ লিখেছেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ সংখ্যক পদ তাঁর রচনা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ শবরপাকে লুইপার গুরু বলে উল্লেখ করেছেন।

• শবরপা রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি হলো:
“উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী॥” (পদ: ২৮)

(অর্থাৎ- উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে। তার পরিধানে ময়ূরের পুচ্ছ, গলায় গুঞ্জার মালা।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৪.
চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা-
  1. লুইপা
  2. ভুসুকপা
  3. কাহ্নপা
  4. অনির্ণেয়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।

পদ - ১
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

(আধুনিক বাংলায় রূপান্তর)

কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।
দৃঢ় করে নাও, মহাসুখ পরিণাম
কবি লুই বলেছে, গুরুকে জিজ্ঞেস করে জান।।

- চর্যায় তিনি মোট দুইটি পদ লিখেছেন। (১ ও ২৯ সংখ্যক)।

• লুইপার গুরু ছিলেন - শবরপা। ড. শহীদুল্লাহর মতে, তিনি চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে, তিনি বাংলাদেশের লোক।

• চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচিয়তা - কাহ্নপা। তিনি ১৩টি পদ রচনা করেন।
• চর্যাপদ রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থান - ভুসুকুপার।তিনি ৮টি পদ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৯৫.
____ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ।
  1. ৬৫০-১৩৫০
  2. ৬৫০-১২৫০
  3. ৬৫০-৯৫০
  4. ৬৫০-১২০০
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

• দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগ সমর্থন করেন।
• তবে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগের মধ্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সময়সীমা মেনে নিলেও তাঁর মতে প্রাচীনযুগের সময়সীমা- ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (মোট ৫৫০ বছর)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৬.
"সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।" - পদটি রচনা করেন কে?
  1. ভাদেপা
  2. মহীধরপা
  3. কম্বলাম্বরপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা
কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি। তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

কম্বলাম্বরপা রচিত পদ:

"সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।"

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৯৯৭.
চর্যার প্রথম পদটির রচিয়তা কে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। 
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯৮.
কার মতে চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে?
  1. গোপাল হালদার
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. সুকুমার সেন
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

চর্যাপদের রচনাকাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত।
- সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৯.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. জয়নন্দী
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. জ্ঞান দাস
ব্যাখ্যা
• জয়নন্দী প্রাচীন যুগের কবি। তিনি চর্যাপদের কবিগণের একজন। 

-------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০০০.
তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা চর্যাপদের কত নম্বর পদ রচনা করেন?
  1. ১৪নং
  2. ১৮নং
  3. ২৮নং
  4. ২৯নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের — ডোম্বীপা নামের এক পদকর্তা ত্রিপুরার রাজা ছিলেন।
 
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা ।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে জানা যায়।
 
• অন্যান্য অপশনে,
- কম্বলাম্বরপা কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন। মতান্তরে তার জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- দারিকপা শালিপুত্র নামক স্থানের(কামরূপের কাছে) রাজা ছিলেন। তার নাম ছিল ইন্দ্রপাল। অনেকের মতে,তিনি উড়িষার অধিবাসী ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।