বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা / ৩০ · ৮০১৯০০ / ২,৯৯৩

৮০১.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order VII rule 11 এ কোন বিষয় সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. আরজি নাকচ
  2. আরজি সংশোধন
  3. আরজি দাখিল
  4. আরজির বিষয়বস্তু
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২ (২) এর বিধান মতে আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৭নং আদেশের ১১ নং বিধি অনুযায়ী আদালত ৪ (চার) টি কারণে আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

• আদেশ ৭ বিধি- ১১: নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি প্রত্যাখ্যান করা হবে-
ক) যেক্ষেত্রে এটা মোকদ্দমার কারণ প্রকাশ করেনি;
খ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকার কম মূল্যায়িত হয় এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে;
গ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশমত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে;
ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মোকদ্দমা কোন আইন দ্বারা বারিত বলে প্রতীয়মান হয়।

তবে শর্ত থাকে যে,
মোকদ্দমার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সংশোধন করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই ২১ দিনের অধিক হবে না।
 
⇒ প্রতিকার:
১) বিধি ১৩ অনুযায়ী পুনরায় একই বিষয়ে নতুন আরজি দাখিল করা যাবে।
২) আপিল করা যাবে।
৮০২.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারানুযায়ী to do justice and to undo injustice করা যাবে?
  1. ৫১
  2. ১৫১
  3. ১৫২
  4. ১৫৪
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের সহজাত ক্ষমতা রক্ষণের বিধান রয়েছে। ১৫১ ধারামতে দেওয়ানী আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যथ-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।

♦ ন্যায়বিচারের জন্য অথবা আদালতের পরোয়ানার অবমাননা প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দানের ব্যাপারে আদালতের যে অনন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে, এই বিধির কোন বিধান দ্বারা তা সীমাবদ্ধ বা কোনভাবে প্রভাবিত হবে না।
৮০৩.
যদি প্রয়োজনীয় পক্ষ মোকদ্দমায় অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে তা কী নামে পরিচিত?
  1. Mis-joinder of Parties
  2. Non-joinder of Parties
  3. Wrong-joinder of Parties
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
⇒ পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)- 
- মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। 
- অন্যদিকে কোন ভুল ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে।
- পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশে পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
⇒দেওয়ানী কার্যবিধির ১ নং আদেশ, ১০(১) বিধিমতে, যদি ভুল করে মামলাটি ভুল ব্যক্তির নামে (বাদী হিসেবে) দায়ের করা হয়, তবে আদালত সঠিক ব্যক্তিকে বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত (Substitute) বা সংযোজিত (Add) করতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১ নং আদেশ, ১০(২) বিধিমতে, যদি ভুল ব্যক্তি (বাদী বা বিবাদী) মামলায় যুক্ত হয়, তাহলে আদালত মামলার যেকোনো পর্যায়ে তাকে বাদ দিতে (Strike Out) বা পক্ষভুক্ত করতে পারে।

⇒ অপসংযোগ বা অসংযুক্তের কারণে কোন মোকদ্দমা অচল হবে না অর্থাৎ মামলাটি ব্যর্থ হবে না। তবে কোন মোকদ্দমায় ভ্রান্তভাবে পক্ষভুক্ত করার বিষয়ে কোন আপত্তি উঠানোর পরও,বাদী প্রয়োজনীয় পক্ষভুক্ত না করলে মোকদ্দমাটি খারিজ হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-1 Rule-9: Misjoinder and nonjoinder: No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or nonjoinder of parties, and the Court may in every suit deal with the matter in controversy so far as regards the rights and interests of the parties actually before it
৮০৪.
নিচের কোথায় দেওয়ানী কার্যবিধির রিসিভার নিয়োগের বিধান আছে?
  1. ২৬ আদেশ
  2. ৩৯ আদেশ
  3. ৪০ আদেশ
  4. ৪৭ আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪০ বিধি-১ অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ করা হয়।
- রিসিভার হলো আদালত কর্তৃক নিয়োগকৃত স্বার্থবিহীন ব্যক্তি যে বিরোধকৃত সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন, সংরক্ষণ, ভাড়া, লাভ /খাজনা আদায় বা দায় পরিশোধ করে থাকে।
- কোন পক্ষের আবেদন বা আদালত সেচ্ছায় রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
- ডিক্রীর আগে বা পরে যে কোন সময় আদালত রিসিভার নিয়োগ দিতে পারেন।
- এই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না। তবে রিভিশন করা যায়। 
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন বিষয়।
- বলা আছে যে মামলার বিচারাধীন সময় রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে আদেশ ৪০ বিধি ১ মতে আদালতের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত আদেশ দিয়া
ক) ডিক্রির পূর্বে বা পরে কোন সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
খ) সম্পত্তির দখল বা জিম্মাদারী হতে কোন ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন;
গ) উহা রিসিভারের দখলে, হেফাজতে বা ব্যবস্থাপনায় সোপর্দ করতে পারেন; এবং
ঘ) মামলা দায়ের করা ও জবাব দেয়া এবং সম্পত্তি আদায়করণ, ব্যবস্থাপনা, নিরাপদকরণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন, উহার খাজনা এবং মুনাফা সংগ্রহ, উক্ত খাজনা ও মুনাফার প্রয়োগ ও হস্তান্তর এবং দলিল সম্পাদন সম্পর্কে মালিকের নিজের যেরূপ ক্ষমতা আসে সেরূপ বা আদালত যে সকল ক্ষমতা উপযুক্ত মনে করেন, রিসিভারকে অনুরূপ সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।
⇒দেওয়ানি কার্যবিধিতে আদেশ ৪০ বিধি ২ অনুযায়ী আদালত একটি সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা রিসিভারের কাজের জন্য পারিশ্রমিক ধার্য করতে পারবেন।
-------------
⇒ CPC Order-40 Rule-1. Appointments of receivers:
(1) Where it appears to the Court to be just and convenient, the Court may by order−
(a) appoint a receiver of any property, whether before or after decree;
(b) remove any person from the possession or custody of the property; 
(c) commit the same to the possession, custody or management of the receiver; and
(d) confer upon the receiver all such powers, as to bringing and defending suits and for the realization, management, protection, preservation and improvement of the property, the collection of the rents and profits thereof, the application and disposal of such rents and profits, and the execution of documents as the owner himself has, or such of those powers as the Court thinks fit.

(2) Nothing in this rule shall authorise the Court to remove from the possession or custody of property any person whom any party to the suit has not a present right so to remove.
৮০৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর Order 22, Rule 7 কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. পক্ষের মৃত্যু
  2. পক্ষ পরিবর্তন
  3. পক্ষের বিবাহ
  4. পক্ষের দেউলিয়াত্ব
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২২, বিধি-৭: মহিলা পক্ষের বিবাহের ফলে মামলা স্থগিত হবে না:
(১) কোনো মহিলা বাদী বা বিবাদীর বিবাহ হলেও মামলাটি স্থগিত হবে না, বরং মামলা অগ্রসর হয়ে রায় প্রদান করা যাবে; এবং যেখানে রায় মহিলা বিবাদীর বিরুদ্ধে থাকে, সেখানে রায় শুধুমাত্র তার বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে।

(২) যেখানে স্বামী আইন অনুসারে তার স্ত্রীর দেনার জন্য দায়ী, সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় স্বামীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে; এবং স্ত্রীর পক্ষে রায় হলে, স্বামীর আবেদনপত্রে, যেখানে স্বামী আইন অনুযায়ী রায়ের বিষয়ভিত্তিক অধিকারী, সেখানে রায় কার্যকর করার জন্য অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

৮০৬.
কোন আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) সংক্রান্ত বিধান নেই?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি,১৯০৮
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮
  3. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫
  4. অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩
ব্যাখ্যা
• আদালত বা সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে আইনসিদ্ধ পদ্ধতি মেনে ও সহমত পোষণ করে বিকল্পভাবে পক্ষগণের বিরোধ বা সমস্যার নিষ্পত্তিকরণই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, যাকে ইংরেজিতে Alternative Dispute Resolution (ADR) বলা হয়।

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ তে মামলার বিচারের শুনানিপূর্ব (প্রি-কেস) পর্যায়ে আদালতের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আপস বা সমঝোতার মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করার এমনকি বিচার শেষ হবার পরও রায় প্রদানের পূর্বে (পোস্ট-কেস) উক্ত প্রক্রিয়ায় মীমাংসাকরণের বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে। এ অধ্যাদেশের ১০ ও ১৩ নম্বর ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উল্লেখ আছে।

২০০৩ সালে মধ্যস্থতা ও সালিশের মাধ্যমে দেওয়ানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি,১৯০৮ এ  এই আইনে ৮৯(ক) ও ৮৯(খ) দুটি ধারা সংযোজিত হয়েছে এবং ২০১২ সালে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এরই সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ তে বিধান ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়াও শ্রমিক আইন, ২০০৬-এর ধারা-২১০ (১, ২, ৪, ৬, ১৬)-এ এই বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ২০০০ সালের আইনগত সহায়তা আইনে ২০১৩ সালে ২১(ক) ধারা সংযোজন করে মধ্যস্থতার বিধান আনা হয়। সর্বোপরি ২০১৫ সালে আইনগত পরামর্শ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র নীতি প্রণীত হয়, যার মাধ্যমে এর গুরুত্ব ফুটে ওঠে। 

উল্লেখ্য যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা ADR এর কোনো বিধান নেই। ৩৪৫ ধারায় যে আপস-সমঝোতার বিধান রয়েছে,তা আইনি প্রক্রিয়ার ই অন্তর্ভুক্ত।
৮০৭.
যদি একাধিক বিবাদী থাকে এবং কোনো একজন বাদীর সাথে কোনো আইনগত বা ঘটনার প্রশ্নে বিরোধ না করে, তবে আদালত কী করতে পারে?
  1. পুরো মামলাটি খারিজ করতে পারে
  2. শুধুমাত্র সেই বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করবে
  3. সেই বিবাদীর পক্ষে বা বিপক্ষে রায় ঘোষণা করতে পারে
  4. অন্য বিবাদীদের সাথে সমঝোতা করার নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৫ বিধি ২-
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে এবং আইন কিংবা ঘটনার কোন প্রশ্নে বিবাদীদের কোন একজনের সাথে যদির সঙ্গে কোন বিরোধ না থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত তখন ঐ বিবাদীর পক্ষে বা বিপক্ষে রায় ঘোষণা করতে পারে এবং মোকদ্দমা শুধু অন্যান্য বিবাদীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে।

[Where there are more defendants than one and any one of the defendants is not at issue with the plaintiff on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment for or against such defendant and the suit shall proceed only against the other defendants.]
৮০৮.
“In forma pauperis” দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আদেশ ৩১
  2. আদেশ ৩২
  3. আদেশ ৩৩
  4. আদেশ ৩৭
ব্যাখ্যা

“In forma pauperis” একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হলো “দরিদ্র ব্যক্তির রীতিতে” বা “নিঃস্বভাবে।” In forma pauperis-এর মাধ্যমে দায়ের করা মামলা দরিদ্র ব্যক্তিকে মামলার খরচ বহন না করেই মামলা দায়ের করার সুযোগ দেয়। তবে, in forma pauperis অনুযায়ী মামলা পরিচালনা করা কোনো স্বাভাবিক অধিকার নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতে, নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis)।

- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।

৮০৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারার অধীন কোন মামলার বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে, পরবর্তী কত দিনের মধ্যে পক্ষসমূহ কোর্ট ফি ফেরত পাওয়ার অধিকারী হবে?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ৯০ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ৬০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারার অধীন সাধারন নিয়মসমূহ-

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বইচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপীল বা রিভিশন চলবে না।

⇒ ৮৯ক ধারার অধীন কোন মামলার বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে, আরজি বা জবাবে প্রদত্ত কোর্ট ফি ফেরত দেওয়ার জন্য আদালত একটি সার্টিফিকেট জারী করতে পারবে এবং তৎপরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পক্ষসমূহ উক্ত পরিষোধিত কোর্ট ফি ফেরত পাওয়ার অধিকারী।

Section: 89A(11)-
Notwithstanding anything contained in the Court-fees Act, 1870 (Act No. VII of 1870), where a dispute or disputes in a suit are settled on compromise under this section, the Court shall issue a certificate directing refund of the court fees paid by the parties in respect of the plaint or written statement; and the parties shall be entitled to such refund within 60 (sixty) days of the issuance of the certificate.
৮১০.
মোকদ্দমার ব্যয় সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত কে গ্রহণ করবে?
  1. বাদী পক্ষ
  2. বিবাদী পক্ষ
  3. ক এবং খ
  4. আদালত
ব্যাখ্যা
• প্রত্যেক মোকদ্দমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু খরচ/ব্যয় থাকে।দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫,৩৫ক এবং ৩৫খ ধারায় খরচের বিষয়ে বিধান রয়েছে। খরচ প্রদানের আদেশ আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।

ধারা-৩৫ (মোকদ্দমার খরচ) 

১) নির্ধারিত হতে পারে এরূপ শর্তাবলী ও সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে মোকদ্দমার খরচ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় আদালতের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে এবং কার দ্বারা বা কোন সম্পত্তি হতে ও কি পরিমাণ খরচ দিতে হবে তা নির্ধারণ করার এবং উক্ত সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানের ব্যাপারে আদালতের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগে মোকদ্দমা বিচারে আদালতের এখতিয়ার নেই বলে কোন বাধা সৃষ্টি হবে না।

২) যখন কোন আদালত নির্দেশ দেন যে মোকদ্দমার ফলে কোন খরচ দেওয়া হবে না, তখন আদালত উহার কারণ লিখিতভাবে বর্ণনা করবে।

৩) আদালত মোকদ্দমার খরচের উপর অনধিক শতকরা বার্ষিক ৬% হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে এবং এই সুদ খরচের সাথে যোগ হবে ও যথারীতি আদায়যোগ্য হবে।
৮১১.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৮৯ অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি রদের আবেদন করার জন্য কত টাকা জমা দিতে হয়?
  1. শুধুমাত্র ক্রয়মূল্যের ৫%
  2. শুধুমাত্র ডিক্রিদারের প্রাপ্য টাকা
  3. ক্রয়মূল্যের ১০% ও ডিক্রি টাকার সমপরিমাণ
  4. ক্রয়মূল্যের ৫% ও ডিক্রিদারের প্রাপ্য টাকার পরিমাণ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৮৯ (Order XXI, Rule 89 of the Code of Civil Procedure, 1908) অনুযায়ী: যদি কোন স্থাবর সম্পত্তি (immovable property) ডিক্রির কার্যকরীকরণে নিলামে বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে মালিক বা যিনি নিলামের পূর্বে ঐ সম্পত্তির উপর স্বত্ব দাবি করেন, তিনি বিক্রয় রদের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন, তবে কিছু শর্তে:
→ আবেদনকারীর আদালতে নিচের দুইটি অর্থ জমা দিতে হবে:
- ক্রেতাকে দেওয়ার জন্য: বিক্রয়মূল্যের ৫% অতিরিক্ত অর্থ (এইটা হলো ক্ষতিপূরণ বা compensation)
- ডিক্রিদারকে দেওয়ার জন্য:  বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ডিক্রির বকেয়া টাকা, যেটির জন্য নিলাম আদেশ হয়েছে (তবে এর মধ্যে যেসব অর্থ ইতোমধ্যে ডিক্রিদার গ্রহণ করেছেন, তা বাদ যাবে)।
তামাদি সীমা: এই আবেদন নিলাম বিক্রয়ের দিন হতে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে (তামাদি আইনের ১৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী)।

- অর্থাৎ নিলামে বিক্রি রদের আবেদন তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন উভয় অর্থ- ক্রয়মূল্যের ৫% (ক্রেতার জন্য) এবং ডিক্রিদারের প্রাপ্য টাকা আদালতে জমা দেওয়া হয়।
- তাই সঠিক উত্তর: ঘ) ক্রয়মূল্যের ৫% ও ডিক্রিদারের প্রাপ্য টাকার পরিমাণ।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৮৯ এর বিধান টাকা জমা দিয়ে নিলামে বিক্রয় রদের আবেদন (Application to set aside sale on deposit): ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় হলে উক্ত সম্পত্তির মালিক নিলাম বিক্রয়ের রদের জন্য নিম্নোক্ত টাকা আদালতে জমা দিয়ে আবেদনপত্র দাখিল করতে পারে-
 ক্রয় মূল্যের ৫% অর্থ ক্রেতাকে প্রদানের জন্য; এবং
 ডিক্রিদার পূর্বে কোন টাকা গ্রহণ করলে তা বাদ দিয়ে যে পরিমাণ টাকার জন্য নিলাম বিক্রয়ের আদেশ হয়েছে তা ডিক্রিদারকে প্রদানের জন্য।
তামাদি আইনের  অনুচ্ছেদ: ১৬৬ মতে উক্ত আবেদন নিলাম বিক্রয়ের দিন হতে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21 Rule-89.Application to set aside sale on deposit:
(1) Where immovable property has been sold in execution of a decree, any person, either owing such property or holding an interest therein by virtue of a title acquired before such sale, may apply to have the sale set aside on his depositing in Court,−
(a) for payment to the purchaser, a sum equal to five per cent. of the purchase-money, and
(b) for payment to the decree-holder, the amount specified in the proclamation of sale as that for the recovery of which the sale was ordered, less any amount which may, since the date of such proclamation of sale, have been received by the decree-holder.
(2) Where a person applies under rule 90 to set aside the sale of his immovable property, he shall not, unless he withdraws his application, be entitled to make or prosecute an application under this rule.
(3) Nothing in this rule shall relieve the judgment-debtor from any liability he may be under in respect of costs and interest not covered by the proclamation of sale.
৮১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় দেওয়ানি মামলা বিষয়ে দেওয়ানি আদালতগুলিকে সাধারণ এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
  1. ২ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ১১ ধারা
  4. ১৫১ ধারা
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ ধারায় বলা হয়েছে, বারিত না হলে দেওয়ানী আদালত সকল প্রকার দেওয়ানী মামলার বিচার করবে। যে মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তা দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা। এখানে দেওয়ানী আদালতের সাধারণ এখতিয়ার বলতে দেওয়ানী আদালতসমূহের দেওয়ানী মামলার বিচার করার এখতিয়ার কে বোঝানো হয়েছে।
৮১৩.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় উভয়পক্ষের মুলতবীর দরখাস্তের প্রেক্ষিতে ধার্যকৃত খরচার টাকা পাবে ________।
  1. বিবাদী
  2. রাষ্ট্র
  3. আইনজীবী
  4. বাদী
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ আদেশ, বিধি ১(৫)-তে বলা হয়েছে: যে ক্ষেত্রে মোকদ্দমার উভয়পক্ষ মুলতবির দরখাস্ত দাখিল করে এবং আদালত খরচসহ মুলতবির দরখাস্ত মঞ্জুর করেন; সে ক্ষেত্রে আদালত উভয়পক্ষকে রাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে মুলতবির খরচ প্রদান/জমা করার আদেশ দিবেন।

♦ খরচের টাকার অধিকারী হবে:
i. বাদী মুলতবি চাইলে- বিবাদী পাবে।
ii. বিবাদী মুলতবি চাইলে- বাদী পাবে।
iii. উভয়পক্ষ মুলতবি চাইলে- রাষ্ট্র পাবে।
৮১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধান মতে আপিল আদালত পুনঃবিচারের নিমিত্তে মোকদ্দমা প্রেরণ করতে পারেন?
  1. ৪১ আদেশের ২৩ নিয়ম মতে
  2. ৪১ আদেশের ২০ নিয়ম মতে
  3. ৪১ আদেশর ৩১ নিয়ম মতে
  4. ৪১ আদেশের ১২ নিয়ম মতে
ব্যাখ্যা
♦ ১০৭ ধারায় আপীল আদালতকে কোন মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রেক্ষাপটে আপীল আদালত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে তা আদেশ ৪১ এর ২৩ এবং ২০ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা বিচারের সময়ে নিম্ন আদালত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করে থাকলে তা বিবেচনা করার জন্য বা প্রাথমিক প্রশ্নে (Preliminary points) মামলা নিষ্পত্তি ক থাকলে, আপীলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হলে, আপীল আদালত মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ৪১ আদেশের ২০ বিধির অধীন নিম্ন আদালতে পুনঃপ্রেরণ করতে পারবে।
৮১৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ-৬ বিধি-১৬ অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে আদালত প্লিডিংস কর্তনের আদেশ দিতে পারেন না?
  1. যদি প্লিডিংসে কুৎসাজনক বিষয় থাকে
  2. যদি প্লিডিংসে অপ্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ থাকে
  3. যদি প্লিডিংসে প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ থাকে
  4. যদি সুষ্ঠু বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
ব্যাখ্যা
⇒উল্লিখিত প্রশ্নে The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ-৬ বিধি-১৬ অনুযায়ী "যদি প্লিডিংসে প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ থাকে" আদালত প্লিডিংস কর্তনের আদেশ দিতে পারেন না। 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ ৬ বিধি ১৬ অনুযায়ী মামলার যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধনের আদেশ দিতে পারে। আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আরজি জবাব কেটে দেয়ার বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন ।
যদি আরজিতে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো থাকে ১) অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক বিষয় ২) সুষ্ঠু বিচার ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে এমন বিষয়।
⇒ প্লিডিংস হলো বাদীর আরজি ও বিবাদির লিখিত জবাব।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-৬ বিধি-১৬ আরজি জবাবে কর্তন: মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন আরজি জবাবে উল্লিখিত কোন বিষয় অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক হলে অথবা উহার দ্বারা সুষ্ঠু বিচার ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা তাকিলে আদালত তা কর্তন করার বা সংশোধন করার আদেশ দিতে পারেন।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-6 Rule-16. Striking out pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter in any pleading which may be unnecessary or scandalous or which may tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit.
৮১৬.
Under Section 89A of The Code of Civil Procedure, 1908, when can the court initiate mediation?
  1. At any stage of the suit
  2. Before the filing of the written statement
  3. Only after the final judgment is passed
  4. After the filing of the written statement
ব্যাখ্যা
Section 89A- Mediation:
(1) Except in a suit under the Artha Rin Adalat Ain, 2003 (Act No. 8 of 2003)], after filing of written statement, if all the contesting parties are in attendance in the Court in person or by their respective pleaders, 3[the Court shall], by adjourning the hearing, mediate in order to settle the dispute or disputes in the suit, or refer the dispute or disputes in the suit to the concerned Legal Aid Officer appointed under the Legal Aid Act, 2000 (Act No. 6 of 2000), or to the engaged pleaders of the parties, or to the party or parties, where no pleader or pleaders have been engaged, or to a mediator from the panel as may be prepared by the District Judge under sub-section (10), for undertaking efforts for settlement through mediation.

ধারা ৮৯ক- মধ্যস্থতা:
(১) অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সালের ৮নং আইন) এর অধীন ছাড়া লিখিত জবাব পেশের পর সমস্ত প্রতিদ্বন্দী বিবাদী নিজ দায়িত্বে বা তাদের নিজ নিজ উকিল দ্বারা উপস্থিত হলে আদালত মামলার বিরােধ বা বিরােধ গুলাে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুনানী বন্ধ রেখে মধ্যস্থতা করতে পারেন, বা মধ্যস্থতার দ্বারা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পক্ষগুলাের নিযুক্ত আইনজীবী বা আইনজীবীদের নিকট বা আইনজীবী নিযুক্তকৃত না থাকলে পক্ষ বা পক্ষগুলাের নিকট মামলার বিরােধ বা বিরােধ গুলাে নিষ্পত্তির ব্যাপারটি পাঠাতে পারেন, বা ১০নং উপ-ধারানুযায়ী জেলা জজ দ্বারা প্রণয়ণকৃত প্যানেলের কোন মধ্যস্থতাকারীর নিকট পাঠাতে পারেন।
৮১৭.
নিচের কোন বিধান অনুযায়ী মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবেনা?
  1. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(৫) ধারার
  2. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(৯) ধারার
  3. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারার
  4. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১৩) ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারা মতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবেনা।

⇒ ধারা-৮৯ক(৫): মধ্যস্থতার ফলে ডিক্রি প্রদান- মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোকদ্দমাটি আপোষ-মিমাংসা হলে, উক্ত আপোষ প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করবে।
⇒ আপোষের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ নং আদেশের সোলে ডিক্রির বিধানসমূহ অনুসরণ করবে।
------------------
⇒ Section 89A(12) No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
৮১৮.
আদেশ ৪১ বিধি-২১ক অনুযায়ী আদালত যদি একতরফাভাবে শুনানি করেন, তবে বিবাদীকে অনধিক কত টাকার খরচ পরিশোধ করতে হতে পারে?
  1. ১০০০ টাকা
  2. ২০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪১ বিধি-২১ক: সরাসরি আপিল পুনঃশুনানি:
১) বিধি ২১ বা অন্য কোন আইনের যা কিছুই নে থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানো এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর লক্ষ্যে কোন একতরফাভাবে শুনানি করতে আপিল সরাসরি পুনরায় শুনতে পারেন।
বিধি ২১ এর অধীন বিবাদিকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ না দেয়, তবে আদালত যথোপযুক্ত মনে করে নির্ধারিণ করা সাপেক্ষে অনধিক তিন হাজার টাকার খরচা পরিশোধের নিমিত্তে বিবাদিকে নির্দেশ দিতে পারেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ একতরফা ডিক্রি বিবাদির বিরুদ্ধে যে তারিখে প্রদান করা হয়, সে তারিখে থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে যদি অন্য এফিডেবিট সহযোগে এরূপ আপিল পুনঃশুনানির কোন আবেদন আদালতে দাখিল করা না হয়ে থাকে, তাহলে এই বিধির অধীন কোন আপিলকে পুনরায় শুনা যাবে নাঃ

তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীন কোন আপিল একাধিকবার পুনরায় শুনা যাবে না।

২) কোন আপিল পুনঃশুনানির কোন আদেশ উপ-বিধি (১) এর অধীন প্রদানে সঙ্গে সঙ্গে আদালতে বিবাদির খরচায় আপিলকারীর নিকট নোটিশ প্রেরণ করাবেন।
৮১৯.
আপীলে কোন পক্ষের অনুরোধে আপীল আদালত শুনানীর নিমিত্তে খরচসহ সর্বাধিক কতবার আপীল মুলতুবির আবেদন মঞ্জুর করতে পারে?
  1. কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই
  2. ৩ বার
  3. ৪ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
♦আদেশ-৪১, বিধি-১২(ক): আপিল মূলতবী (Adjournment of Appeal) - দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ নং আদেশের ১২(ক) বিধিতে আপিলের পর্যায়ে মূলতবীর বিধান রয়েছে। আপিলে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৩ বার, খরচসহ ৩ বারের অধিক যে কোন সংখ্যক মূলতবি মঞ্জুর করা যায়: এবং আপিলের পর্যায়ে মূলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা।

♦অর্থাৎ খরচসহ সর্বাধিক কতবার আপীল মুলতুবির আদেশ দিতে পারে তার কোন নির্দিষ্ট সীমা এই বিধিতে নেই।
৮২০.
The Code of Civil Procedure,1908 এর কত বিধি মোতাবেক আদালত অতিরিক্ত লিখিত জবাব প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. আদেশ-৬ বিধি-৭
  2. আদেশ-৬ বিধি-৯
  3. আদেশ-৮ বিধি-৬
  4. আদেশ-৮ বিধি-৯
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদীর লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।

The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.
৮২১.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত বিধির অধীন আদালত বিবাদীকে অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে?
  1. ৮ আদেশের ৫ বিধির
  2. ৮ আদেশের ৭ বিধির
  3. ৮ আদেশের ৯ বিধির
  4. ৮ আদেশের ১০ বিধির
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment) করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।
⇒ প্রতিকার:
-১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো (আপীলযোগ্য আদেশ) তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। 
৮২২.
'No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or nonjoinder of parties.'- This provision is provided in:
  1. Order 1 Rule-7
  2. Order 1 Rule-9
  3. Order 1 Rule-11
  4. Order 1 Rule-13
ব্যাখ্যা
Order 1 Rule-9: Misjoinder and nonjoinder:
No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or nonjoinder of parties, and the Court may in every suit deal with the matter in controversy so far as regards the rights and interests of the parties actually before it.

আদেশ ১ বিধি ৯: অপসংযোগ এবং অ-সংযুক্তি:
কাউকে ভ্রান্তভাবে মোকদ্দমার পক্ষ করা হলে অথবা পক্ষ থেকে বাদ দেয়া হলে তজ্জন্য মোকদ্দমার কোন ক্ষতি হবে না; এবং আদালত এটির সামনে আনিত প্রত্যেকটি মোকদ্দমায় বিরোধীয় বিষয়টি পক্ষগণের অধিকার ও স্বার্থসমূহের সঙ্গে যতটুকু সম্পর্কিত ততটুকু বিবেচনা করতে পারবে।
৮২৩.
দেওয়ানী মোকদ্দমার যুক্তিতর্ক শুনানী সমাপ্তির পর আদালতকে কত দিনের মধ্যে রায় প্রচার করতে হয়?
  1. ৩ দিন
  2. ৫ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

• "রায়" বলতে ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসাবে বিচারক যে বর্ণনা দেন, তা বুঝায়। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৩ ধারা মতে,কোন মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষনা করে এবং পরবর্তীতে এই রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করে। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ, বিষয়বস্তু, প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে।

• আদেশ ২০ বিধি ১-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে ,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা সাতদিনের বেশি হবে না প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।

Order 20 Rule 1: Judgment when pronounced-
The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day, not beyond seven days, of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.

৮২৪.
আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ কয়টি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে?
  1. ৫টি
  2. ২৫টি
  3. ৫০টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
 আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ ৫টি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০০টি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবেন।

আদেশ ১৮ বিধি ২০-
কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।
৮২৫.
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. যেখানে মামলার রায় শুধুমাত্র বাদী ও বিবাদীর মধ্যেই প্রযোজ্য হয়
  2. যেখানে মামলার পক্ষভুক্ত সকলকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে হয়
  3. যেখানে একাধিক ব্যক্তি একই বিষয়ে আলাদা আলাদা মামলা করতে পারেন
  4. যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য সকলের স্বার্থে আদালতে মামলা করতে পারেন
ব্যাখ্যা
⇒ প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বলতে বোঝানো হয়: যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য সকলের স্বার্থে আদালতে মামলা করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।

সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধান: একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মামলা করতে বা আত্মপক্ষ সমৰ্থন করতে পারে:
(১) যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ নিহিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে বা উপকারার্থে এরূপ মামলা করতে বা মামলায় বিবাদী হতে বা অভিযোগের জবাব দিতে পারে। কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচায় অনুরূপ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে মামলা দায়ের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জারীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করবেন যেক্ষেত্রে লোকের সংখ্যাধিক্যের বা অন্য কোন কারণে এরূপ নোটিশজারী যুক্তিসঙ্গতভাবে উপযোগী না হয়, গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, প্রত্যেকক্ষেত্রে আদালত যে ভাবেই নির্দেশ দেন।
(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে যে কোন ব্যক্তি যাদের পক্ষে বা উপকারার্থ কোন মামলা দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে, এরূপ মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।
৮২৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, নিম্নের কোন ধরনের ডিক্রি ধারা ৪৮ এর আওতাভুক্ত নয়?
  1. অর্থ পরিশোধের ডিক্রি
  2. নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি
  3. সম্পত্তি হস্তান্তরের ডিক্রি
  4. কিস্তিতে টাকা পরিশোধের ডিক্রি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮(১)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি" (not being a decree granting an injunction) এর ক্ষেত্রে এই ১২ বছর সময়সীমা প্রযোজ্য।
- অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি (Decree granting an injunction) ধারা ৪৮-এর সময়সীমার আওতাভুক্ত নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:- নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনা মতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 48 Limit of Time for Execution:
 Execution barred in certain cases: (1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from
(a) the date of the decree sought to be executed, or,
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree.

(2) Nothing in this section shall be deemed:
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.

৮২৭.
The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment debtor under _______________ of the Code of Civil Procedure, 1908.
  1. Order-21 Rule-18
  2. Order-21 Rule-20
  3. Order-21 Rule-27
  4. Order-21 Rule-21
ব্যাখ্যা
⇒ Order-21 Rule-21. Simultaneous execution: The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment debtor. 
---------
⇒ আদেশ-২১ বিধি-২১ এর বিধান যুগপৎ জারি:- আদালত উহার ঐচ্ছিক ক্ষমতায় একই সঙ্গে দায়িকের ব্যক্তি ও সম্পত্তির উপর ডিক্রি জারি করতে অস্বীকার করতে পারে।
৮২৮.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে রিভিউ দরখাস্ত দাখিল করা যায় না?
  1. কোন ডিক্রি রিভিউ এর আদেশের বিরুদ্ধে
  2. আপীলযোগ্য নহে এমন ডিক্রির বিরুদ্ধে
  3. আপীলযোগ্য নহে এমন ডিক্রির বিরুদ্ধে.
  4. স্মল কজেজ আদালত এর রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
রিভিউ:

যে আদালত ডিক্রি/আদেশদ দেয়, সে আদালতে (রায় প্রদানকারী আদালতে) রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৪ ধারা ও ৪৭ আদেশে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। ১১৪ ধারা এবং আদেশ ৪৭ এর ১(১) বিধি মোতাবেক রিভিউ-এর আবেদন করা যায় নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে:

⇒ যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়, কিন্তু আপিল করা হয়নি;
⇒ যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না;
⇒ স্মল কজ কোর্টের রেফারেন্সে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

রিভিউ করা যায় যে কারণে: 

i) মামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন কোনো বিষয় আবিষ্কার হলে, যা মোকদ্দমার ডিক্রিপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে নানান চেষ্টা করা সত্ত্বেও আদালতে উপস্থাপন করতে অক্ষম হয়েছিল;
ii) নথিতে আপাত কোনো ভুলের কারণে;
iii) অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে।

আদেশ ৪৭ বিধি ৯: কতিপয় রিভিউ আবেদনের ক্ষেত্রে বাধা: 
রিভিউ আবেদন সম্পর্কে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা রিভিউতে প্রদত্ত কোনো ডিক্রি বা আদেশের রিভিউ আবেদন যাবে না।
৮২৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৯ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. Stay Order
  2. Review
  3. Revision
  4. Appeal to Supreme Court
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৯-এর শিরোনামই হলো "When appeals lie to the Supreme Court" (সুপ্রিম কোর্টে কখন আপিল করা যায়)। এই ধারাটি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার ক্ষেত্র ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 109. When appeals lie to the Supreme Court.
- Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division.
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction; 
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and 
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.

৮৩০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১২নং আদেশ অনুযায়ী কত প্রকার স্বীকারোক্তি রয়েছে?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ১২নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি তিন (৩) প্রকার-
১। মোকদ্দমা স্বীকারের নোটিশ [বিধি-১];
২। দলিল স্বীকার নোটিশ  [বিধি-২];
৩। ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ [বিধি ৪]।

মোকদ্দমা স্বীকারের নোটিশ:
মোকদ্দমার যে কোন পক্ষ তার প্লিডিংসের (আরজি বা লিখিত জবাবের) মাধ্যমে বা লিখিত অন্য কোন উপায়ে অন্য পক্ষের মোকদ্দমার সামগ্রিক বা আংশিক অংশের সত্যতা স্বীকার করতে পারে। অথবা অপর পক্ষকে মোকদ্দমার উদ্দেশ্যে নোটিশে উল্লেখিত কোন তথ্যকে স্বীকার করার জন্য অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। [আদেশ ১২ বিধি ১]।

দলিল স্বীকারের নোটিশ:
নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে দলিল স্বীকার করার জন্য মোকদ্দমার একপক্ষ অন্য পক্ষকে আহ্বান করতে পারে [আদেশ ১২ বিধি ২]

ঘটনা স্বীকারের নোটিশ:
কোন পক্ষ শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্বের ৯ দিনের মধ্যে যে কোন সময় মোকদ্দমার উদ্দেশ্যে নোটিশে উল্লেখিত কোন তথ্যকে স্বীকার করার জন্য অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। [আদেশ ১২ বিধি ৪] স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে আদালত রায় বা আদেশ দিতে পারে।
৮৩১.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে কোন ধরনের সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য 'বাটোয়ারা কমিশন' গঠন করা যায়?
  1. অর্থের
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. স্থাবর সম্পত্তি
  4. উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১৩ এর বিধান: স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার জন্য কমিশন:
- যে ক্ষেত্রে বাটোয়ারার জন্য প্রাথমিক ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি ৫৪ ধারার আওতাভুক্ত না হলে, আদালত বাটোয়ারা বা পৃথকীকরণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারবেন।
-----------
⇒ CPC Order-26 Rule-13.Commissions to make partition of immovable property: 
Where a preliminary decree for partition has been passed, the Court may, in any case not provided for by section 54, issue a commission to such person as it thinks fit to make the partition or separation according to the rights as declared in such decree.
৮৩২.
দেওয়ানী মোকদ্দমা চলাকালে আদালত যেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিষয়বস্তু বা সম্পত্তির উপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখেন, তার নাম কী?
  1. Mandatory Injunction
  2. Prohibitory Injunction
  3. Perpetual Injunction
  4. Temporary Injunction
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী মোকদ্দমা চলাকালে যদি আদালত মনে করেন যে মামলার বিষয়বস্তু (যেমন, কোনো জমি, বাড়ি, সম্পত্তি ইত্যাদি) বিবাদী দ্বারা বিক্রি, হস্তান্তর, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তখন স্থিতিবস্থা (status quo) বজায় রাখার জন্য আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) প্রদান করেন। - এটি দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ ও ২ অনুসারে জারি হয়।

Temporary Injunction (অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা): এটি এমন এক প্রকার নিষেধাজ্ঞা, যা মামলার শুনানির আগ পর্যন্ত বা আদালতের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে। মোকদ্দমা চলাকালীন, যদি কোনো পক্ষ মামলার বিষয়বস্তুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে বা সম্পত্তি হস্তান্তর, পরিবর্তন বা ধ্বংস করার আশঙ্কা থাকে, তখন আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়।

অন্যদিকে,
Perpetual Injunction (চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা): এটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর ডিক্রির মাধ্যমে দেওয়া হয় এবং এতে বিবাদীকে চিরতরে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয় যা বাদীর অধিকারের পরিপন্থী।
Mandatory Injunction: এটি এক ধরনের আদেশ যা কোনো কাজ করতে বিবাদীকে নির্দেশ দেয়, যেমন সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
Prohibitory Injunction: এটি এমন আদেশ যেখানে কাউকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়, তবে এটি সাধারণভাবে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী উভয় ধরণের নিষেধাজ্ঞার একটি উপশ্রেণী হতে পারে।
৮৩৩.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের কাজের জন্য ধারা ৮০ প্রযোজ্য?
  1. ব্যক্তিগত কাজের জন্য
  2. ঘুষ গ্রহণের কাজের জন্য
  3. অবসরকালীন কাজের জন্য
  4. পদাধিকার বলে গণ্য কোন কার্যের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুযায়ী, যদি সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হয়, তাহলে তা তখনই এই ধারা অনুযায়ী চলবে যদি মামলা- "পদাধিকার বলে গণ্য কোন কার্য" (any act purporting to be done in official capacity)-এর জন্য হয়।
অর্থাৎ, সরকারি কর্মকর্তা যদি তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কাজ করেন, এবং সেই কাজের জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে মামলা করতে চায় — তাহলে ধারা ৮০ অনুযায়ী আগে ২ মাসের নোটিশ প্রদান করতে হবে।

- যেসব কাজের ক্ষেত্রে ধারা ৮০ প্রযোজ্য নয়:
ক) ব্যক্তিগত কাজের জন্য – যদি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে কিছু করে থাকেন, তা সরকারি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, তাই ধারা ৮০ প্রযোজ্য নয়।
খ) ঘুষ গ্রহণের কাজের জন্য – ঘুষ নেওয়া একটি অপরাধ এবং তা কখনোই অফিসিয়াল ডিউটির অংশ নয়, তাই এটি ফৌজদারি বিষয়ে পড়ে, ধারা ৮০ এখানে প্রযোজ্য নয়।
গ) অবসরকালীন কাজের জন্য – অবসরের পর কোনো কাজ সরকারি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

- প্রযোজ্য কেবল: ঘ) পদাধিকার বলে গণ্য কোন কার্য – অর্থাৎ, যে কাজ সরকারি ক্ষমতার অধীনে, দায়িত্ব হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে বা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, শুধু সেই ক্ষেত্রেই ধারা ৮০ প্রযোজ্য।
- সুতরাং ধারা ৮০ কেবলমাত্র সেই কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা সরকারি কর্মকর্তা তার পদাধিকারবলে করেছেন বা করেছেন বলে দাবি করেছেন।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) পদাধিকার বলে গণ্য কোন কার্যের জন্য।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮০ - নোটিশ:
(১) পদাধিকার বলে গণ্য কোন কার্যের জন্য সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিম্নের অফিসসমূহের লিখিত নোটিশ দেয়ার বা পাঠানোর দুইমাস অতিবাহিত হবার পরে মামলা দায়ের করা চলবে—
খ) ১. সরকারে বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে রেলওয়ে সংক্রান্ত মামলা ব্যতিত - অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের সচিব অথবা জেলা কালেক্টর এবং
২. রেলওয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে রেলওয়ের জেনারেল ম্যাজোর এবং কোন সরকারী কর্মকর্তার ক্ষেত্রে তাকে বা তার অফিসে মামলার কারণ, বাদীর নাম ও বাসস্থানের ঠিকানা এবং বাদী যে প্রতিকার দাবী করে তা উল্লেখ করে নোটিশ দিতে হবে এবং অনুরূপ নোটিশ দেয়া হয়েছে বা পাঠানো হয়েছে বলে আরজিতে একটি বিবৃতি থাকতে হবে।
(২) যে ক্ষেত্রে উপরি-উল্লেখিত মতে নোটিশ না দিয়া বা না পাঠায়ে অথবা উল্লেখিত দুই মাস মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই কোন মামলা দায়ের করা হয়, অথবা যেই ক্ষেত্রে আরজিতে উক্ত রূপ নোটিশ প্রদান বা পাঠানের বিষয়ে কোন বিবৃতি থাকে না, সেক্ষেত্রে মামলা দায়েরের দুই মাস সময়ের মধ্যে যদি মামলার বিষয়বস্তু সম্বন্ধে কোন মীমাংসায় পৌছানো যায়, অথবা সরকার বা সরকারী কর্মকর্তা বাদীর দাবী মানিয়া লয়, তবে বাদী কোন খরচ পাবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ নোটিশ ছাড়া কোন মামলা দায়ের করতে হলে লিখিত জবাব দাখিল করার জন্য আদালত সরকারকে কমপক্ষে তিন মাস সময় মঞ্জর করবেন।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Saction 80. Notice:
(1) A suit may be instituted against the Government or against a public officer, in respect of any act purporting to be done by such public officer in his official capacity, after the expiration of two months next after notice in writing has been delivered to or left at the office of,-
(b)(i) in the case of a suit against the Government other than a suit relating to the affairs of the Railway, a Secretary to the Government or the Collector of the District; and
(ii) in the case of a suit against the Government relating to the affairs of the Railway, the General Manager of the Railway,
and in the case of a public officer, delivered to him or left at his office stating the cause of action, the name, description of place of residence of the plaintiff and the relief which he claims; and the plaint shall contain a statement that such notice has been so delivered or left.
(2) Where any such suit is instituted without delivering or leaving such notice as aforesaid or before the expiration of the said period of two months or where the plaint does not contain a statement that such notice has been so delivered or left, the plaintiff shall not be entitled to any costs if settlement as regards the subject-matter of the suit is reached or the Government or the public officer concedes the plaintiff's claim, within the period of two months from the date of the institution of the suit:
Provided that in a suit instituted without such notice, the Court shall allow not less than three months to the Government to submit its written statement.
৮৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় Res-Sub Judice সম্পর্কিত বিধান অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১০ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারা মোতাবেক কোনো একই বিষয় নিয়ে একই পক্ষদের মধ্যে পূর্বেই একটি মোকদ্দমা চলমান থাকলেল পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটির কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে।
⇒ ধারা ১০ অনুযায়ী মামলা স্থগিত রাখাবে। এই ধারায় বলা আছে যে, কোন আদালত এমন কোন মামলার বিচার চালিয়ে যাবেন না, যার বিচার বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষভাবে এবং মূলত পূর্বে দায়েরকৃত অপর একটি মামলাও বিচার্য বিষয়, তা একই পক্ষগণের মধ্যে অথবা এমন পক্ষগণের মধ্যে যাদের অধীনে তারা বা তাদের মধ্যে কোন একজনের সূত্রে পরবর্তী মামলার পক্ষগণ বা পক্ষগণের মধ্যে কোন একজন স্বত্ব দাবি করেন, যেখানে এরূপ মামলা একই অথবা বাংলাদেশের অন্য কোন আদালতে বিচারাধীন আছে, যে আদালতের প্রার্থীত প্রতিকার মঞ্জুর করার এখতিয়ার আছে অথবা বাংলাদেশের বাইরে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বা চলতি কোন আদালত যার এরূপ এখতিয়ার আছে, অথবা সুপ্রীমকোটে বিচারাধীন কোন মামলা।
ব্যাখ্যা: কোন বিদেশি আদালতে দায়েরকৃত মামলা যদি বাংলাদেশের কোন আদালতে দায়েরকৃত মামলার সাথে একই কারণযুক্ত হয়, তবুও ইহা বাংলাদেশের আদালতে উক্ত মামলা বিচারে বাধা হবে না।

- ১০ ধারার অধীন আদালত পরবর্তী মোকদ্দমাটি খারিজ করতে পারে না বরং বিচার স্থগিতের আদেশ দিতে পারে।
- এই Doctrine বা নীতিটি Res-Subjudice নামে পরিচিত। এই Doctrine প্রয়োগ করার শর্তসমূহ হলো:
১- প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই বিচার্য বিষয়ে দুটি মোকদ্দমা থাকতে হবে।
২-উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হবে।
৩-পূর্ববর্তী মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকবে
৪- উক্ত মোকদ্দমার দাবিকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার আদালতে থাকতে হবে।
৫- উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্বের জন্য মোকদ্দমা করেছে।

- এই নীতিটি প্রয়োগ করতে আদালত বাধ্য।
- বিদেশি আদালতে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে Res-Sub judice নীতি প্রযোজ্য হবে না ।
- যে মামলাটি প্রথমে দায়ের করা হয়েছে তা চলমান থাকবে এবং দ্বিতীয় মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। খারিজ হবে না। বা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত ১৫১ ধারা প্রয়োগ করে ১ম মামলাটি স্থগিত রাখার আদেশ দিতে পারেন।
৮৩৫.
আদালত কোন পরিস্থিতিতে স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারে?
  1. যখন মামলার রায় চূড়ান্ত হয়
  2. যখন বাদী আবেদন করে
  3. যখন প্রাথমিক ডিক্রি প্রদান করা হয়
  4. যখন বিবাদী কমিশনের জন্য সম্মতি দেয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ২৬ বিধি-১৩: স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার জন্য কমিশন:
যেক্ষেত্রে বাটোয়ারার জন্য প্রাথমিক ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে সেক্ষেত্রে বিষয়টি ৫৪ ধারার বিধান না হলে, আদালত যে ব্যক্তিকে উপযুক্ত মনে করবেন তার নিকট উক্ত ডিক্রিতে ঘোষিত অধিকার অনুসারে বণ্টন কিংবা পৃথকীকরণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারে।

Order 26 Rule 13: Commission to make partition of immovable property:
Where a preliminary decree for partition has been passed, the Court may, in any case not provided for by section 54, issue a commission to such person as it thinks fit to make the partition or separation according to the rights as declared in such decree.
৮৩৬.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় দ্বিতীয় রিভিশন করার জন্য কার অনুমতি প্রয়োজন?
  1. জেলা জজের
  2. হাইকোর্ট বিভাগের
  3. প্রথম রিভিশনাল আদালতের
  4. কোনো অনুমতি প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(৪) ধারায় ২য় রিভিশনের বিধান রয়েছে। এই ধারানুযায়ী,
১১৫(২) ও ১১৫(৩) ধারার অধীনে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল করে কোন আদেশ দিলে, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায়। অর্থাৎ, জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত (প্রথম) রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল আদেশ দিলে, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগেই দ্বিতীয় রিভিশন করা যাবে।

গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে Second Appeal নেই তবে, অনুমতিসাপেক্ষে Second Revision করার বিধান আছে।
⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় Review আছে, ফৌজদারী মামলায় Review নেই।
⇒ ফৌজদারী মামলায় শুধু খালাস [ধারা ৪১৭(১)] ও অপর্যাপ্ত দণ্ডের [ধারা ৪১৭ক] এর ক্ষেত্রে Second Appeal এর বিধান রয়েছে, কিন্তু Second Revision এর নেই।

৮৩৭.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় রায় কখন ঘোষিত হয়?
  1. মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ
  2. চূড়ান্ত শুনানির ৭ দিনের মধ্যে
  3. মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ,বিষয়বস্তু,প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে।

আদেশ ২০ বিধি ১-

মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে যা সাতদিনের বেশি হবে না,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।
[The Court after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court either at once or on some future day, not beyond seven days of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.]

• উক্ত বিধিতে ''shall'' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যার দরুণ এই বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
৮৩৮.
কমিশনার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ও তার গৃহীত জবানবন্দী মামলার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে—এ বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় বলা হয়েছে?
  1. আদেশ-১৮, বিধি-৫
  2. আদেশ-২০, বিধি-৪
  3. আদেশ-২৫, বিধি-৭
  4. আদেশ-২৬, বিধি-১০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬, বিধি-১০ এ বলা হয়েছে: কমিশনার যখন কোনো বিষয় তদন্ত করেন (যেমন: সাক্ষ্য গ্রহণ বা স্থানীয় পরিদর্শন), তখন তিনি তার গৃহীত জবানবন্দী লিখিত আকারে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং একটি স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন দেন। এই প্রতিবেদন ও জবানবন্দী আদালতে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় এবং মামলার নথির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১০: কমিশনারের কার্যপদ্ধতি:
(১) কমিশনার যেরূপ পয়োজন মনে করেন, সেরূপ স্থানীয় পরিদর্শনের পর এব তার গৃহীত প্রমাণাদিকে লিখিত রূপ দেয়ার পর উক্ত প্রমাণাদির সাথে তার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।
(২) প্রতিবেদন এবং জবানবন্দী মামলায় প্রমাণ হিসাবে থাকবে: কমিশনারের প্রতিবেদন এবং তার গৃহীত প্রমাণাদি (কিন্তু প্রতিবেদন ব্যতিত প্রমাণ নহে) মামলার প্রমাণ এবং নথির অংশরূপে গণ্য হবে, কিন্তু আদালত বা আদলতের অনুমতি ক্রমে মামলার কোন পক্ষ কমিশনারকে প্রকাশ্য আদালতে ব্যক্তিগতভাবে তাহার নিকট অর্পণ করা হয়েছিল বা তার প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে, এমন সব বিষয় সম্পর্কে বা তার প্রতিবেদন সম্পর্কে অথবা যে পদ্ধতিতে তিনি তদন্ত করেছেন সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
(৩) যে ক্ষেত্রে আদলত কমিশনারের কার্যক্রম সম্পর্কে কোন কারণে অসন্তষ্ট হন, সেক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ Order 26, Rule 10 – Code of Civil Procedure, 1908.
Procedure of Commissioner:
(1) The Commissioner, after such local inspection as he deems necessary and after reducing to writing the evidence taken by him, shall return such evidence, together with his report in writing signed by him to the Court.
Report and depositions to be evidence in suit:
(2) The report of the Commissioner and the evidence taken by him (but not the evidence without the report) shall be evidence in the suit and shall form part of the record; but the Court or, with the permission of the Court, any of the parties to the suit may examine the Commissioner personally in open Court touching any of the matters referred to him or mentioned in his report, or as to his report, or as to the manner in which he has made the investigation.
Commissioner may be examined in person:
(3) Where the Court is for any reason dissatisfied with the proceedings of the Commissioner, it may direct such further inquiry to be made as it think fit.
৮৩৯.
আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালত আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে কী করতে পারেন?
  1. মামলা খারিজ করতে পারেন
  2. সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন
  3. সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারেন
  4. গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারেন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে,
নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:
i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
৮৪০.
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর কোন ধারায় "বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি" এর বিধান আছে?
  1. ধারা ১১২
  2. ধারা ১১৫
  3. ধারা ১২০
  4. ধারা ১২৫
ব্যাখ্যা

⇒ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর সপ্তদশ অধ্যায় (আপীল ও রিভিশন)-এর অধীনে ধারা ১২৫-এ "বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি" (Alternative Dispute Resolution) এর বিস্তারিত বিধান প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় করদাতার বিকল্প উপায়ে (সমঝোতার ভিত্তিতে) বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন, সহায়তাকারী নিয়োগ, সময়সীমা গণনা, গোপনীয়তা, এবং জালিয়াতি বা ফৌজদারি অপরাধ জড়িত বিরোধের বর্জন ইত্যাদি বিষয়ে বিধান রয়েছে।
- অর্থাৎ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর সপ্তদশ অধ্যায়-এ আপীল ও রিভিশন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এই অধ্যায়েরই ধারা ১২৫-এ "বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি" (Alternative Dispute Resolution - ADR) সম্পর্কে বিশেষ বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

৮৪১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-২১ক অনুসারে Direct re-hearing of appeal - এর আবেদন কতবার করা যাবে?
  1. ৩ বার
  2. ২ বার
  3. ১ বার 
  4. ৫ বার
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪১ বিধি-২১ক: সরাসরি আপিলে পুনঃশুনানি:
১) বিধি ২১ বা অন্য কোন আইনের যা কিছুই নে থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানো এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর লক্ষ্যে কোন একতরফাভাবে শুনানি করতে আপিল সরাসরি পুনরায় শুনতে পারেন। বিধি ২১ এর অধীন বিবাদিকে কা পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ না দেয়, তবে আদালত যথোপযুক্ত মনে করে নির্ধারিণ করা সাপেক্ষে অনধিক তিন হাজার টাকার খরচা পরিশোধের নিমিত্তে বিবাদিকে নির্দেশ দিতে পারেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ একতরফা ডিক্রি বিবাদির বিরুদ্ধে যে তারিখে প্রদান করা হয়, সে তারিখে থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে যদি অন্য এফিডেবিট সহযোগে এরূপ আপিল পুনঃশুনানির কোন আবেদন আদালতে দাখিল করা না হয়ে থাকে, তাহলে এই বিধির অধীন কোন আপিলকে পুনরায় শুনা যাবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীন কোন আপিল একাধিকবার পুনরায় শুনা যাবে না।

২) কোন আপিল পুনঃশুনানির কোন আদেশ উপ-বিধি (১) এর অধীন প্রদানে সঙ্গে সঙ্গে আদালতে বিবাদির খরচায় আপিলকারীর নিকট নোটিশ প্রেরণ করাবেন।

৮৪২.
নিচের কোন ধরণের ডিক্রির ক্ষেত্রে ডিক্রিদারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি কার্যক্রম শুরু হতে পারে?
  1. অর্থের
  2. বন্টনের
  3. বন্ধকের
  4. অগ্রক্রয়ের
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২১ বিধি-১১ মৌখিক আবেদন:
১) যেক্ষেত্রে ডিক্রি টাকা পরিশোধের জন্য হয় সেক্ষেত্রে ডিক্রি প্রদত্ত হয়ে থাকলে ডিক্রি প্রদানের সময়েই ডিক্রিদারের মৌখিক আবেদনক্রমে আদালত, দায়িক আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত থাকলে গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রস্তুত করার পূর্বে তাকে গ্রেফতার ক্রমে তৎক্ষণাৎ জারির আদেশ প্রদান করতে পারে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-21 Rule-11  Oral application:
-(1) Where a decree is for the payment of money the Court may, on the oral application of the decree-holder at the time of the passing of the decree, order immediate execution thereof by the arrest of the judgment-debtor, prior to the preparation of a warrant if he is within the precincts of the Court. 
৮৪৩.
বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে নিলে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে যদি-
  1. বিবাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করার অনুমতি দেয় 
  2. আদালতের অনুমতি ছাড়া মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে
  3. বিবাদীর অনুমতি নিয়ে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করলে
  4. বাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করার অনুমতি নিয়ে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে
ব্যাখ্যা
⇒ মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর যে কোন সময় বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে অথবা তার দাবির আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একাধিক বাদী থাকলে, আদালত অন্যান্য বাদীদের অনুমতি ছাড়া কোন একজন বাদীকে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিবেন না।
⇒ যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা কোন আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, অথবা নতুনভাবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অন্যান্য যথেষ্ট কারণ আছে সেক্ষেত্রে আদালত বাদীকে নতুন করে মোকদ্দমা করার অনুমতিসহ উক্ত মোকদ্দমার বিষয় বস্তু বা কোন দাবীর অংশ পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

⇒ কোন মোকদ্দমায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে। কোন মামলায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে আদালত মামলাটির দাবী প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে পারে- অন্য বাদীদের সম্মতিতে।
⇒ বাদী আদালতের অনুমতি না নিয়ে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করলে সে একই কারণে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না, এবং খরচ প্রদানের জন্য দায়ী হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি-২ এর বিধান প্রথম মোকদ্দমা দ্বারা তামাদি আইন প্রভাবিত হয় না:- পূর্ববর্তী বিধির অধীনে আদালতের অনুমতিক্রমে যদি নূতনভাবে কোন মোকদ্দমা রুজু করা হয়, তবে প্রথম মোকদ্দমাটি রুজু করা না হলে বাদি তামাদি আইন দ্বারা যেরূপ বাধ্য হত, ঠিক একই পদ্ধতিতে বাধ্য হবে।

⇒ Order 23 Rule.-2: Limitation law not affected by first suit:- In any fresh suit instituted on permission granted under the last preceding rule, the plaintiff shall be bound by the law of limitation in the same manner as if the first suit had not been instituted.
৮৪৪.
The Civil Courts Act,1887 এর ৩ ধারায় কয় প্রকার দেওয়ানি আদালতের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি আদালতসমূহের গঠন,এখতিয়ার সম্পর্কে সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট,১৮৮৭ এ বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ The Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

- সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ এর ধারা-৩ এ নিম্নলিখিত দেওয়ানি আদালতের প্রকারভেদ দেয়া হয়েছে-
১. জেলা জজ আদালত [Court of District Judge]
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত [Court of Additional District Judge]
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত [Court of Joint District Judge]
৪. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত [Court of Senior Assistant Judge]
৫. সহকারী জজ আদালত [Court of Assistant Judge]

⇒ The Civil Courts Act,1887 এর ৩ ধারায় ৫ প্রকার দেওয়ানি আদালতের কথা উল্লেখ আছে।
৮৪৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৯ বিধি ৬ এর অধীন কোন পক্ষের আবেদনের সাপেক্ষে আদালত অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র বাদীর
  2. শুধুমাত্র বিবাদীর
  3. মোকদ্দমার যে কোনো পক্ষের
  4. শুধুমাত্র আদালতের নিজস্ব উদ্যোগে
ব্যাখ্যা

The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৯ বিধি-৬: অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা:
কোন অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকে বা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকে তবে যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল, অথবা যা অন্য কোন ন্যায়সঙ্গত এবং পর্যাপ্ত কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করা বাঞ্চনীয় হয়ে পড়ে, তা আদালত মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনের উপর এর বিবেচনামত উপযুক্ত পদ্ধতি এবং শর্ত সাপেক্ষে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্তৃক বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে।

[The Court may, on the application of any party to a suit, order the sale, by any person named in such order, and in such manner and on such terms as it thinks fit, of any movable property, being the subject-matter of such suit, or attached before judgment in such suit, which is subject to speedy and natural decay, or which for any other just and sufficient cause it may be desirable to have sold at once.]

৮৪৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক(১) অনুসারে, মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া শুরু হয় কখন?
  1. আরজি দাখিলের পরপর
  2. লিখিত জবাব দাখিলের পর
  3. সাক্ষ্যগ্রহণের পরে
  4. রায় ঘোষণার আগে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি ধারা ৮৯ক(১): মধ্যস্থতা (Mediation):
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (আইন নং ৮, ২০০৩)–এর অধীন মামলাগুলি ছাড়া, যে কোনো দেওয়ানি মোকদ্দমায় লিখিত জবাব (Written Statement) দাখিলের পর, যদি উভয় পক্ষ (বাদী ও বিবাদী) নিজে বা তাদের উকিলের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত থাকে,
তাহলে আদালত শুনানি স্থগিত করে (adjourn the hearing) মামলার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতা (mediation) করার ব্যবস্থা করবে।

এই মধ্যস্থতার উদ্দেশ্যে আদালত- নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে, অথবা মামলাটি পাঠাতে পারে আইনগত সহায়তা কর্মকর্তা (Legal Aid Officer)-এর নিকট, যিনি আইনগত সহায়তা আইন, ২০০০ (আইন নং ৬, ২০০০) অনুসারে নিয়োজিত, অথবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের নিযুক্ত উকিলগণের নিকট, অথবা যেসব ক্ষেত্রে কোনো উকিল নিযুক্ত নেই, সেখানে পক্ষগণ নিজেরাই, অথবা জেলা জজ কর্তৃক প্রণীত প্যানেলভুক্ত কোনো মধ্যস্থতাকারী (mediator)–এর নিকট, মামলার বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করার জন্য রেফার করতে পারেন।

৮৪৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮, বিধি-৪ অনুযায়ী, বিবাদী জামানত প্রদানে ব্যর্থ হলে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলাটি খারিজ করে দিতে পারে
  2. মামলার শুনানি স্থগিত করতে পারে
  3. বিবাদীকে মামলা থেকে মুক্তি দিতে পারে
  4. বিবাদীকে দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দ করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-৩৮, বিধি-৪ অনুযায়ী, যদি আদালত বিশ্বাস করে যে বিবাদী এমন কাজ করছে বা করতে যাচ্ছে যা ভবিষ্যতে ডিক্রির কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে (যেমন: দেশ ছেড়ে পালানো, সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া, আত্মগোপন করা ইত্যাদি), তবে আদালত তাকে জামানত প্রদান করার নির্দেশ দিতে পারে।
- যদি বিবাদী জামানত না দেয় বা কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়: আদালত তখন তাকে দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দ করতে পারেন।
- এই হেফাজত থাকবে: মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অথবা যদি ডিক্রি হয়, তবে ডিক্রি সম্পূর্ণ পরিতুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত।
- তবে এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে: সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত হেফাজতে রাখা যাবে। যদি মামলার মূল্য ৫০ টাকার কম হয়, তবে সর্বোচ্চ ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা যাবে। বিবাদী যদি পরবর্তীতে আদেশ অনুযায়ী জামানত প্রদান করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দিতে হবে।
⇒ অর্থাৎ বিবাদী যদি আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জামানত জমা না দেন, তবে আদালতের অধিকার আছে তাকে দেওয়ানী কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়ার, কারণ এটি আদালতের রায় কার্যকর করার একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত প্রদানে বা নুতন জামানত দিতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে কার্য পদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধি অনুসারে কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মামলায় সিদ্ধান্ত প্রদান না করা পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ডিক্রি পরিতুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাকে দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দ করতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অত্র বিধি অনুসারে কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক সময় কারাগারে আটক রাখা চলবে না, কিংবা মামলার বিষয়বস্তুর পরিমাণ বা মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনুদ্ধ হলে, সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিকা সময়ের জন্য:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি উক্ত আদেশ পালন করার পর তাকে অত্র বিধির অধীনে কারাগারে আটক রাখা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-38 Rule-4. Procedure where defendant fails to furnish security or find fresh security:
Where the defendant fails to comply with any order under rule 2 or rule 3, the Court may commit him to the civil prison until the decision of the suit or, where a decree is passed against the defendant, until the decree has been satisfied:
Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months, nor for a longer period than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka:
Provided also that no person shall be detained in prison under this rule after he has complied with such order.
৮৪৮.
Peremptory hearing এর আগে খরচ ছাড়া কোনো পক্ষকে সর্বোচ্চ কতটি মুলতবি আদেশ দেওয়া যেতে পারে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৭ বিধি ১(৩):
উপ-বিধি (১) ও (২)-এ যা বলা হয়েছে, তা থাকলেও, আদালত কোনো পক্ষকে Peremptory hearing এর আগে এক মামলার জন্য চারটির বেশি মুলতবি আদেশ দিতে পারবে না।

যদি কোনো পক্ষকে উল্লিখিত সীমার পরও মুলতবি আদেশ প্রদান করা হয়, তবে সেই পক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য পক্ষকে খরচ হিসেবে ন্যূনতম দুইশত টাকা এবং সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা দিতে হবে।

যদি এই খরচ প্রদানের নিয়ম পালন না করা হয়:
- বাদী যদি তা না দেয়, তাহলে মামলাটি বাতিল হতে পারে।
- বিবাদী যদি তা না দেয়, তাহলে মামলাটি একতরফা রায়ে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পক্ষকে খরচ সহ হলেও সর্বোচ্চ তিনটি মুলতবি আদেশই দেওয়া যাবে।

৮৪৯.
কোনো আরজি ত্রুটিযুক্ত হবার কারণে নাকচ হয়ে গেলে, নতুনভাবে আরজি দাখিলে কোনো বাধা নেই - এটি দেওয়ানী কার্যবিধির কোন আদেশের কোন বিধিতে বলা আছে?
  1. আদেশ ৭ বিধি ১০
  2. আদেশ ৭ বিধি ১১
  3. আদেশ ৭ বিধি ১২
  4. আদেশ ৭ বিধি ১৩
ব্যাখ্যা
আদেশ ৭ বিধি ১৩:
যে কোনো পূর্ববর্তী কারণে মোকদ্দমার আবেদন (plaint) প্রত্যাখ্যাত হলে, তা বাদীকে একই কারণ বা ঘটনার জন্য নতুন আবেদন দাখিল করতে বাধা সৃষ্টি করবে না। যদি আদালত কোনো কারণে মোকদ্দমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা বাদীকে নতুন আবেদন দাখিল করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না। অর্থাৎ, বাদী একই কারণে নতুন আবেদন করতে পারবেন।

[The rejection of the plaint on any of the grounds herein before mentioned shall not of its own force preclude the plaintiff from presenting a fresh plaint in respect of the same cause of action.]
৮৫০.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১ অনুসারে আপীল কীভাবে দাখিল করতে হবে?
  1. মৌখিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করে
  2. একটি স্বাক্ষরিত স্মারকলিপির আকারে
  3. সরাসরি বিচারকের কাছে জমা দিয়ে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১ অনুযায়ী, আপীল একটি স্মারকলিপির আকারে (memorandum of appeal) দাখিল করতে হয়, যা আপীলকারী বা তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং নির্ধারিত আদালত বা আদালতের নিযুক্ত কর্মচারীর কাছে পেশ করতে হয়। এটি মৌখিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
- স্মারকলিপির সঙ্গে অবশ্যই ডিক্রির নকল এবং প্রয়োজন হলে রায়ের নকলও দিতে হবে।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান আপীলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
-(১) প্রত্যেকটি আপীল আপীলকারী বা তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপির আকারে পেশকরতে হবে এবং আদালত বা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীর নিকট দাখিল করতে হবে। যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে এবং (যদি না আপীল আদালত ইহার প্রয়োজনীয়তা শেষ করেন) যে রায়ের উপর উহা প্রতিষ্ঠিত, তার একটি নাকল স্বারকলিপির সঙ্গে প্রদান করতে হবে।
(২) স্মারকলিপির সারমর্ম: যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে, সেই ডিক্রি সম্পর্কে আপত্তির সঙ্গত কারণগুলি সংক্ষেপে এবং স্পষ্ট শিরোনামে স্বারকলিপিতে কোন তর্ক বা ধারাবাহিক বর্ণনা ব্যতিত ব্যাখ্যা করতে হবে, এবং এরূপ সঙ্গত কারণগুলি ধারাবাহিক নম্বর যুক্ত হতে হবে।
--------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-1.Form of appeal. What to accompany memorandum:
(1) Every appeal shall be preferred in the form of a memorandum signed by the appellant or his pleader and presented to the Court or to such officer as it appoints in this behalf. The memorandum shall be accompanied by a copy of the decree appealed from and (unless the Appellate Court dispenses therewith) of the Judgment on which it is founded. 
-Contents of memorandum:
(2) The memorandum shall set forth, concisely and under distinct heads, the grounds of objection to the decree appealed from without any argument or narrative; and such grounds shall be numbered consecutively.
৮৫১.
'কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলবে না' - এই বিধানটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. ৯৬ ধারায়
  2. ১০৪ ধারায়
  3. আদেশ ৪৩ বিধি ১ এ
  4. আদেশ ৪৩ বিধি ২ এ
ব্যাখ্যা

ধারা ১০৪: কোন আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে:
(১) নিম্নলিখিত আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে, এবং যদি এই কোডের মূল অংশে বা বর্তমানে কার্যকর কোনো আইনে অন্যথায় স্পষ্টভাবে প্রদান না করা হয়, তবে অন্য কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না:
(চচ) ধারা ৩৫ক এর অধীনে একটি আদেশ;
(ছ) ধারা ৯৫ এর অধীনে একটি আদেশ;
(জ) এই কোডের কোনো ধারা অনুযায়ী একটি আদেশ যা কোনো ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান বা দেওয়ানি কারাগারে আটক বা আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে এমন আটক বা আটককরণ যদি কোনো ডিক্রির কার্যকরীকরণের জন্য না হয়;
(ঝ) নিয়মের অধীনে করা কোনো আদেশ যা থেকে নিয়ম অনুযায়ী আপিল স্পষ্টভাবে অনুমোদিত হয়:
তবে শর্ত থাকে যে ধারা (চচ) এ উল্লিখিত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদি না এই ভিত্তিতে যে কোনো আদেশ, বা কম পরিমাণ প্রদানের জন্য আদেশ করা উচিত ছিল না।

(২) এই ধারার অধীনে আপিলে দেয়া কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না।

৮৫২.
কোন আদালত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে না?
  1. সহকারী জজ আদালত
  2. জেলা জজ আদালত
  3. আপিল বিভাগ
  4. স্মল কজ কোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৮২ মতে কোন কোন আদালত বিক্রয় করার আদেশ প্রদান করতে পারে: স্মল কজ কোর্ট ব্যতীত অন্য যে কোন আদালত ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।
- সুতরাং স্মল কজ কোর্ট ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে না।
-------------------
⇒ Order-21 Rule-82. What Courts may order sales:
- Sales of immovable property in execution of decrees may be ordered by any Court other than a Court of Small Causes.
৮৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ এর বিধান কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না?
  1. বাদীর দাবী পরিত্যাগ
  2. ডিক্রি জারির কার্যক্রম
  3. মামলার আপস মীমাংসা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ (ORDER XXIII) মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রযোজ্য:
১) মামলা প্রত্যাহার – বাদী নিজে মামলা তুলে নিতে পারে।
২) দাবির আংশিক পরিত্যাগ – বাদী তার দাবির কিছু অংশ বাদ দিতে পারে।
৩) আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন মামলা দায়ের – নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি নিয়ে।
৪) মামলার আপস মীমাংসা – আইনগত আপস হলে আদালত সেটি রেকর্ড করে ডিক্রি দেয়।

- সুতরাং ORDER XXIII মূলত মামলার প্রত্যাহার, আংশিক দাবির পরিত্যাগ এবং আপস মীমাংসার জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু একবার ডিক্রি জারি হয়ে গেলে তার কার্যকর (execution) প্রক্রিয়ায় এই আদেশ প্রযোজ্য নয়। এজন্য Rule 4 স্পষ্টভাবে বলে, “Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.”
------- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.

৮৫৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারার বিধান-
  1. Bar of certain appeals
  2. Value of subject-matter
  3. Appeal from original decree
  4. Reference of High Court Division
ব্যাখ্যা
Section-110. Value of subject-matter:
 In each of the cases mentioned in clauses (a) and (b) of section 109, the amount or value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter in dispute on appeal to the 81[Appellate Division] must be the same sum or upwards, 
or the Judgment, decree or final order must involve, directly or indirectly, some claim or question to or respecting property of like amount or value, 
and where the Judgment, decree or final order appealed from affirms the decision of the Court immediately below the Court passing such Judgment, decree or final order, the appeal must involve some substantial question of law.
--------------
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারার বিধান বিষয়বস্তুর মূল্য:
-১০৯ ধারার (ক) এবং (খ) দফায় উল্লেখিত প্রত্যেক ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য প্রথম বিচারিক আদালতে বিশ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব হতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নিকট আপিলেও বিরোধীয় বিষয়বস্তুর মূল্য অবশ্যই তার সমপরিমাণ বা তদূর্ধ্বে হতে হবে;

অথবা রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবশ্যই অনুরূপ পরিমাণ অর্থের দাবি কিংবা অনুরূপ মূল্যের সম্পত্তি জড়িত থাকতে হবে;

এবং যে রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে, তা দ্বারা যদি অব্যবহিত অধঃস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়ে থাকে, তবে আপিলে অবশ্যই আইনগত একটি বড় প্রশ্ন নিহিত থাকতে হবে।
৮৫৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির Order-XXI rule 92 অনুসারে প্রদত্ত "Setting aside or refusing to set aside a sale" আদেশটি-
  1. রিভিশনযোগ্য
  2. আপিলযোগ্য
  3. ১৫১ ধারার বিধান মতে রদ ও রহিতযোগ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ আপিলযোগ্য আদেশ:
 সাধারনত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না, তবে আদেশটি যদি আপিলযোগ্য আদেশ হয় তাহলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। যে সকল আদেশ আপিলযোগ্য, সে সকল আদেশ সম্পর্কে Order 43 এ বিধান রয়েছে। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) রয়েছে।

-Order 43, Rule 1(J) অনুসারে:
২১ অর্ডারের ৭২ অথবা ৯২ রুল-এর অধীন ডিক্রি জারিতে বিক্রয় বাতিল করার আদেশ বা বিক্রয় বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার আদেশ (setting aside or refusing to set aside)- একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
৮৫৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধান অনুসারে রায় ঘোষণার সময় তারিখসহ বিচারকের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক?
  1. আদেশ-২০ বিধি-১
  2. আদেশ-২০ বিধি-৩
  3. আদেশ-২০ বিধি-৫ক
  4. আদেশ-২০ বিধি-৬
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২০ বিধি ৩ এর বিধান অনুযায়ী, বিচারককে রায় ঘোষণার সময়ই খোলা আদালতে তারিখসহ রায়ের উপর স্বাক্ষর করতে হয়। এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। একবার স্বাক্ষরিত হওয়ার পর শুধুমাত্র ধারা ১৫২ (সংশোধনীয় ভুল) বা পুনরীক্ষণ (রিভিউ) এর মাধ্যমেই এতে পরিবর্তন করা যায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২০ বিধি-৩ এর বিধান: রায় স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে:
-রায় ঘোষণার করার সময় বিচারক কর্তৃক উহা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত উহা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Order 20 Rule 3: Judgment to be signed: 
The Judgment shall be dated and signed by the Judge in open Court at the time of pronouncing it and, when once signed, shall not afterwards be altered or added to, save as provided by section 152 or on review.

৮৫৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৭ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০০৩ সালে প্রথম বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) বিধান সংযোজন করা হয় এবং ধারা ৮৯ ক, ৮৯খ,৮৯গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্বে এটা ঐচ্ছিক ছিল কিন্তু ২০১২ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমানে আদালত বিকল্প পদ্ধতিতে মধ্যস্থতার জন্য বিরোধীয় বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীর কাছে পাঠাতে বাধ্য।

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে। মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
৮৫৮.
আদেশ ৩৩ বিধি-৪ এর অধীন আদালত কোন পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা রুজুর আবেদনকারীর কমিশন দ্বারা জবানবন্দি গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. আবেদনকারী অসুস্থ হলে
  2. আবেদনকারী সঠিক তথ্য না দিলে
  3. আবেদনকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হলে
  4. আবেদনকারীর প্রতিনিধি দ্বারা আবেদনপত্র উপস্থাপিত হলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৩ বিধি-৪: আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ:
১) যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র সঠিকভাবে এবং যথারীতি উপস্থাপন করা হয়েছে সেক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত মনে করলে আবেদনকারীর বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীকে হাজিরার অনুমতি দেয়া হলে, তার প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীকে হাজিরার অনুমতি দেয়া হলে, তার প্রতিনিধির দাবীর গুণগত বৈশিষ্ট্যের গুণাগুণ এবং আবেদনকারীর সম্পত্তি সম্পর্কে জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে।

২) প্রতিনিধি কর্তৃক উপস্থাপন করা হলে আদালত কমিশন দ্বারা আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে আদেশ দিতে পারেঃ যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র প্রতিনিধি দ্বারা উপস্থাপিত হয় সেক্ষেত্রে আদালত, যদি সঙ্গত মনে করেন, তবে অনুপস্থিত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মতই কমিশন কর্তৃক আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে।
৮৫৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতা সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে?
  1. ৬০ দিনের মধ্যে
  2. ৯০ দিনের মধ্যে
  3. ১২০ দিনের মধ্যে
  4. ১৮০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতা সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation) 
২- সালিশী (Arbitration)

সাধারন নিয়মসমূহ-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

Section: 89A(4)-

Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court, as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
৮৬০.
আবেদনপত্রে বাদীর নাম বা ঠিকানা ভুল উল্লেখ থাকলে এবং মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দেয়া হলে, উক্ত খারিজ আদেশ-
  1. ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় এবং আপিল করা যায়
  2. ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় না কিন্তু আপিল করা যায়
  3. ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় না এবং আপিল করা যায় না
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(২) এ ডিক্রির সংজ্ঞা হিসেবে দেয়া আছে:

ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় → সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

এসব ক্ষেত্রে আদালত প্রক্রিয়াগত সমস্যাগুলি সংশোধন বা সঠিকীকরণের সুযোগ দেয়। সুতরাং এগুলোকে চূড়ান্ত রায় বা ডিক্রি হিসাবে গণ্য করা হয় না। মূলত এগুলো মামলা চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ মাত্র। সুতরাং প্রক্রিয়াগত বা আনুষ্ঠানিক ত্রুটির জন্য খারিজ ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় না এবং এতে আপিলও করা যায় না।
৮৬১.
আদেশ ১৩ বিধি-৮ এর বিধান অনুযায়ী আদালত কতদিনের জন্য দলিল আটক রাখতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ৩০ দিন
  2. মামলার রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত
  3. যতদিন আদালত যথার্থ মনে করে
  4. চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৩ বিধি-৮ এর বিধান: আদালত কোন দলিল আটক করার আদেশ দিতে পারে:
এই আদেশের ৫ কিংবা ৭ বিধি অথবা ৭ম আদেশের ১৭ বিধিতে কোন বিধান নিহিত থাকা সত্ত্বেও আদালত যদি পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে বলে মনে করেন, তবে আদালত যথার্থ মনে করে এরূপ সময়ের জন্য এবং শর্ত সাপেক্ষে মোকদ্দমায় ইহার সম্মুখে পেশকৃত কোন দলিল বা বহি আটক করার এবং আদালতের কোন অফিসারের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দান করতে পারে।

Rule.-8: Court may order any document to be impounded- 
Notwithstanding anything contained in rule 5 or rule 7 of this Order or in rule 17 of Order VII, the Court may, if it sees sufficient cause, direct any document or book produced before it in any suit to be impounded and kept in the custody of an officer of the Court, for such period and subject to such conditions as the Court thinks fit. 
৮৬২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৫ অনুযায়ী, সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি কোন তথ্যগুলো উল্লেখ করবেন?
  1. বিচারকের নাম
  2. তার নাম এবং ঠিকানা
  3. স্বাক্ষরিত তারিখ এবং স্থান
  4. আরজির সমস্ত বিবরণ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৫- প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন [Verification of Pleadings]-
সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সন্তষ্ট হলে, অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে। যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন এবং স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৫ আরজি জবাব সত্যতা প্রতিপাদন:
(১) বর্তমানে বলবৎ যেকোন আইনে অন্যরূপ যে বিধান আছে, তা ব্যতিত প্রত্যেক আরজি জবাবের নিম্নে পক্ষ বা আরজি জবাব দানকারী পক্ষদের মধ্যে একজন অথবা অপর কোন ব্যক্তি, যিনি মামলার ঘটনাবলীর সাথে পরিচিত বলে আদালতের সন্তুষ্টিতে প্রমাণিত, তৎকর্তৃক আরজি জবাবের সত্যতা প্রতিপাদন করতে হবে।
(২) সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি আরজি জবাবের দফার সংখ্যা উল্লেখ পূর্বক নির্দিষ্ট করে বলবেন যে কোনগুলি সত্যতা তিনি স্বজ্ঞানে প্রতিপাদন করছেন এবং কোনগুলির সত্যতা তিনি অপরের নিকট হতে প্রাপ্ত ও তার বিশ্বাস মতে সত্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিপাদন করেছেন।
(৩) যিনি সত্যতা প্রতিপাদন করবেন, তিনি উহাতে স্বাক্ষর দিবেন এবং যে তারিখে ও স্থানে উহা স্বাক্ষরিত হলো তা উল্লেখ করবেন।
--------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-6, Rule-15. (1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.
(2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.
(3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.
৮৬৩.
গ্রাম আদালত গঠন হওয়ার অনধিক কত দিনের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করবে?
  1. ৫ দিনের মধ্যে
  2. ৭ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬: ধারা ৬খ- প্রাক বিচার:

(১) ধারা ৫ এর অধীন গ্রাম আদালত গঠিত হইবার অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইবে এবং উক্ত অধিবেশনে গ্রাম আদালত উভয় পক্ষের শুনানী করিয়া মামলার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করিবে এবং পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করা হইলে, উক্তরূপ উদ্যোগ গ্রহণের তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তি হইলে, মীমাংসার শর্তাবলী উল্লেখপূর্বক উভয়পক্ষ যৌথভাবে একটি আপোষনামা স্বাক্ষর বা বাম হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রদান করিবেন এবং সাক্ষী হিসাবে উভয়পক্ষের মনোনীত সদস্যগণ আপোষনামায় স্বাক্ষর করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী আপোষনামা স্বাক্ষরিত হইলে, গ্রাম আদালত নির্ধারিত ফরমে উহার আদেশ লিপিবদ্ধ করিবে এবং উক্তরূপ আদেশ গ্রাম আদালতের আদেশ বা ডিক্রী বলিয়া গণ্য হইবে।

(৫) এই ধারার অধীন আপোষনামার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তি করা হইলে উহার বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন দায়ের করা যাইবে না।
৮৬৪.
The rules of Order _______ shall apply, so far as may be, to appeals from appellate decrees.
  1. XL
  2. XLI
  3. XLII
  4. XLIII
ব্যাখ্যা
ORDER 42:
APPEALS FROM APPELLATE DECREES (আপিলের ডিক্রি হতে আপিল)

Rule.-1: Procedure:
The rules of Order XLI shall apply, so far as may be, to appeals from appellate decrees.

বিধি-১- কর্মপদ্ধতি:
আপিলের ডিক্রি হতে আপিল-এর ক্ষেত্রে আদেশ-৪১ এর বিধিসমূহ যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হবে।
৮৬৫.
মোকদ্দমার বাদী 'ক' মোকদ্দমা শুনানির পর মারা গেছেন। আদালত তার মৃত্যুর পর রায় ঘোষণা করেছেন। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২, বিধি ৬ অনুযায়ী-
  1. রায় বাতিল হবে
  2. আদালত পুনঃশুনানি করবে
  3. রায় কার্যকর থাকবে
  4. নতুন বাদী নিযুক্ত করতে হবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ২২ বিধি ৬: শুনানির পর মৃত্যুর কারণে কোনরূপ বাতিল হবে না:
আগের বিধিগুলিতে যা কিছু বলা হয়েছে তার সত্ত্বেও, মামলার কারণ যে স্থায়ী থাকে বা না থাকে, মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্তি এবং রায় ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়ে কোনো পক্ষের মৃত্যু ঘটলেও মামলা বাতিল হবে না।

এমন ক্ষেত্রে, রায় মৃত্যুর পরও ঘোষণা করা যেতে পারে এবং তার কার্যকারিতা একই থাকবে, যেমনটি রায় মৃত্যুর আগে ঘোষণার সময় থাকত।

৮৬৬.
কোন আদালত জেলা জজ আদালতের রিভিশন আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে?
  1. হাইকোর্ট ডিভিশন
  2. আপিল বিভাগ
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান- রিভিশন:
১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপ-ধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।

৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারূ প্রতিস্থাপিত হয়নি।
৮৬৭.
যখন আদালত মামলা মধ্যস্থতায় পাঠায়, তখন পক্ষগণ কত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে হবে কে mediator হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১০ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ৫ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক(৪) ধারা অনুযায়ী, যখন আদালত মামলার বিরোধ মধ্যস্থতার জন্য পাঠায় বা উল্লেখ (refer) করে, তখন পক্ষগণকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে হবে যে তারা কাকে মধ্যস্থতাকারী (mediator) হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এই বিধানটি নিশ্চিত করে যে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয় এবং প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

- যদি পক্ষগণ এই ১০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে জেলা জজ কর্তৃক প্রস্তুত প্যানেল থেকে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। এরপর মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, যদি না আদালত নিজ উদ্যোগে বা পক্ষগণের যৌথ আবেদনের ভিত্তিতে সময় আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ায়।

[⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section-89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court], as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.]

৮৬৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩২, বিধি ৭ এর উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা
  2. নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা
  3. নেক্সট ফ্রেন্ডকে অধিক ক্ষমতা দেওয়া
  4. নাবালকের বিরুদ্ধে মামলা করা সহজ করা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ৩২, বিধি ৭ অনুযায়ী, নাবালকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করা নেক্সট ফ্রেন্ড বা অভিভাবক আদালতের স্পষ্ট ও লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো চুক্তি বা আপসে যেতে পারবেন না। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো নাবালক নিজে সম্পূর্ণ বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় সে তার স্বার্থ বুঝে নিজের পক্ষে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই, নাবালকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারীর আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও অনুমতি নিশ্চিত করা, যেন নাবালকের স্বার্থে অনাকাঙ্ক্ষিত বা ক্ষতিকর চুক্তি বা আপস না হয়।
- এর মাধ্যমে নাবালকের সম্পত্তি বা অধিকার রক্ষা পায় এবং তাকে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হয়।
সুতরাং, আদেশ ৩২, বিধি ৭ এর মূল লক্ষ্য হল নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-৭: মোকদ্দমার নেক্সট ফ্রেন্ড বা অভিভাবক কর্তৃক চুক্তি বা আপস:
১) মোকদ্দমার কোন নেক্সট ফ্রেন্ড বা অভিভাবক আদালতের কার্যধারায় স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ অনুমতি ব্যতিরেকে যে মোকদ্দমায় যে নেক্সট ফ্রেন্ড কিংবা অভিভাবক হিসাবে কার্য করে সে মোকদ্দমা প্রসঙ্গে নাবালকের পক্ষে কোন চুক্তি বা আপসে উপনীত হতে পারবে না।
২) আদালতের অনুরূপ লিপিবদ্ধ অনুমতি ব্যতিরেকে অনুরূপ কোন চুক্তি বা আপসে উপনীত হলে উক্ত নাবালক ব্যতীত অপর সকল পক্ষের বিরুদ্ধে তা বাতিলযোগ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule.-7: Agreement or compromise by next friend or guar-dian for the suit-
1) No next friend or guardian for the suit shall, without the leave of the Court, expressly recorded in the proceedings, enter into any agreement or compromise on behalf of a minor with reference to the suit in which he acts as next friend or guardian.
2) Any such agreement or compromise entered into without the leave of the Court so recorded shall be võidable against all parties other than the minor.
৮৬৯.
ঘটনা কিংবা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক পক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ ________ করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।
  1. গ্রাহ্য
  2. অস্বীকার
  3. স্বীকার
  4. সম্মতিদান
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৪ বিধি-১ (বিচার্য বিষয় প্রণয়ন)-

১) ঘটনা কিংবা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক পক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।

২) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী আইন কিংবা ঘটনার সে সমস্ত বিষয়াবলী যা বাদিকে তার মোকদ্দমা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই নালিশ করতে হয় কিংবা বিবাদিতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হয়।

৩) একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করবে।

৪) বিচার্য বিষয় দুই প্রকারেরঃ ক) ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়, খ) আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়।

৫) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন আদালত বাদির আরজি এবং লিখিত বর্ণনা, (যদি কোন), পাঠ করার পর এবং প্রয়োজনমত পক্ষগণের এরূপ পরীক্ষা করার পর ঘটনা কিংবা আইনের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির উপর পক্ষগণ এর বিরোধ তা নির্ধারণ করবে এবং ইহার পর যে সকল বিচার্য বিষয়ের উপর মোকদ্দমার সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বলে প্রতীয়মান হয়, সে সমস্ত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে অগ্রসরমান হবে এবং তা লিপিবদ্ধ করবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ৪ এবং ৫ বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে যে কোন ক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির কিংবা লিখিত বর্ণনা দাখিলের পনের দিনের মধ্যে যেটাই পরে ঘটে তখন বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৬) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে এই বিধির কোন বিধানেই আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করবে না।
৮৭০.
According to Order 38 Rule 13 of the Code of Civil Procedure, what is the limitation imposed on a Court of Small Causes?
  1. It cannot execute any decree.
  2. It cannot pass any interim order.
  3. It cannot attach movable property.
  4. It cannot attach immovable property.
ব্যাখ্যা

Order-38 Rule-13: Small Cause Court not to attach immovable property:
Nothing in this Order shall be deemed to empower any Court of Small Causes to make an order for the attachment of immovable property.

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১৩: স্মল কজ আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে না:
এই আদেশের কোন বিধানই স্মল কজ আদালতকে স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদেশ প্রদানের কোন ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বিবেচিত হবে না।

৮৭১.
‘A’ এবং ‘B’ একটি মামলায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করে। দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুসারে, ‘A’ এবং ‘B’ মামলার মধ্যস্থতার জন্য মধ্যস্থতাকারী (Mediator) নিয়োগের সময়সীমা কত দিন?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা ৮৯ক(৪) অনুসারে, মধ্যস্থতার জন্য মধ্যস্থতাকারী (Mediator) নিয়োগের বিষয়ে পক্ষগণকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। যদি পক্ষগণ এই সময়ের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে জেলা জজ কর্তৃক প্রস্তুত প্যানেল থেকে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার বিধান মতে মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিবে। উক্ত সময়ের মধ্যে না পারলে আদালত পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দিবে।
অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দিতে হবে।
- নিয়োগ দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মীমাংসা করবে। তাও সম্পন্ন না হলে আরও ৩০ দিন বাড়াবে।
- অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
- মধ্যস্থতা প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সোলে ডিক্রি (Compromise Decree) জারি করবেন।
- সোলে ডিক্রি এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল কিংবা রিভিশন করা যাবে না।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section-89A: Mediation: 
(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court, as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.

৮৭২.
দেওয়ানি মোকদ্দমা শুনানির দিনে বাদী অনুপস্থিত কিন্তু বিবাদী হাজির হয়ে দাবীর কিছু অংশ স্বীকার করছে। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে?
  1. সম্পূর্ণ মামলার ডিক্রি দেবে
  2. সম্পূর্ণ মামলা খারিজ করবে
  3. নতুন তারিখে শুনানি করবে
  4. স্বীকৃত অংশ ডিক্রি, অবশিষ্ট খারিজ করবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৯ বিধি ৮: শুধু বিবাদি হাজির হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বিবাদী হাজির হয়, কিন্তু বাদী হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর দাবী বা উহার অংশ স্বীকার না করলে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ প্রদান করবেন; কিন্তু বিবাদী যদি বাদীর দাবী কিংবা উহার অংশ স্বীকার করে, তাহলে আদালত ঐ অনুপাতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দান করবেন, এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবী সম্পর্কে মোকদ্দমা খারিজ করবে।

Order 9 Rule 8: Procedure where defendant only appears:
Where the defendant appears and the plaintiff does not appear when the suit is called on for hearing, the Court shall make an order that the suit be dismissed, unless the defendant admits the claim, or part thereof, in which case the Court shall pass a decree against the defendant upon such admission, and, where part only of the claim has been admitted, shall dismiss the suit so far as it relates to the remainder.

৮৭৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন বিধানটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত?
  1. Order XXXIX, Rule 1
  2. Order XXXIX, Rule 6
  3. Order XXXIX, Rule 8
  4. Order XXXIX, Rule 9
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর  আদেশ ৩৯ বিধি-১ঃ যে সকল ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায়: যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় শপথপত্র দ্বারা বা অন্য কোন উপায়ে প্রমাণিত হয় যে
ক) কোন মোকদ্দমায় বিরোধীয় কোন সম্পত্তি মোকদ্দমার কোন পক্ষ কর্তৃক অপচয়, ক্ষতিগ্রন্থ বা হস্তান্তরিত হওয়ার বা কোন ডিক্রি জারিতে অন্যায়ভাবে বিক্রয় হওয়ার ঝুকির সম্মুখীন; অথবা
খ) বিবাদি তার পাওনাদারকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে তার সম্পত্তি অপসারণ বা হস্তান্তর করার হুমকি বা ইচ্ছা প্রকাশ করতেছে, সেক্ষেত্রে আদালত অনুরূপ কার্য রোধ করার জন্য আদেশ দিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে, অথবা মোকদ্দমা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পুনরাদেশ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তি অপচয়, ক্ষতিগ্রস্থ করণ, হস্তান্তর, বিক্রয়, অপসারণ বা সমর্পণ করতে স্থগিত ও বারণ করার উদ্দেশ্যে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারে।
৮৭৪.
কোন পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণের দরখাস্ত করা যায়?
  1. যখন আপিল দাখিল করা হয়
  2. যখন বাদী মামলা প্রত্যাহার করে
  3. যখন ডিক্রি রদ বা পরিবর্তন করা হয়
  4. যখন ডিক্রি অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা: প্রত্যর্পণের দরখাস্ত:
(১) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রির পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত -(ডিক্রি প্রদানকারী আদালত) এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করবেন, যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকতেন তাদেরকে সেই অবস্থায় স্থাপন করবেন এবং এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদবদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য মোকদ্দমার খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা পরিশোধসহ আদালত যথোপযুক্ত আদেশ দান করতে পারেন।

(২) উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করে প্রত্যর্পণ বা অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেলে, এই উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা চলবে না।

Section: 144- Application for restitution:
(1) Where and in so far as a decree is varied or reversed, the Court of first instance shall, on the application of any party entitled to any benefit by way of restitution or otherwise, cause such restitution to be made as will, so far as may be, place the parties in the position which they would have occupied but for such decree or such part thereof as has been varied or reversed; and, for this purpose, the Court may make any orders, including orders for the refund of costs and for the payment of interest, damages, compensation and mesne profits, which are properly consequential on such variation or reversal.

(2) No suit shall be instituted for the purpose of obtaining any restitution or other relief which could be obtained by application under sub-section (1).
৮৭৫.
দেওয়ানি আদালতের সহজাত ক্ষমতা কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে?
  1. আইনের বিধান অকার্যকর করতে
  2. আদালতের কার্যধারার অপব্যবহার রোধ করতে
  3. আদালতের কার্যধারা সীমিত করতে
  4. উল্লিখিত কোনো ক্ষেত্রে নয়
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)

Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.

৮৭৬.
দেওয়ানী মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে হবে রায়ের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৬০
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিউ দায়েরের স্থান এবং সময়সীমা: 
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে ডিক্রি বা আদেশ জারির সময় হতে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।

উল্লিখিত প্রশ্নে যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে ঐ আদালতে রায়ের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে।
৮৭৭.
যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা ____বলেই ধরে নেয়া হবে।
  1. অস্বীকার করেছেন
  2. স্বীকার করেছেন
  3. ক বা খ
  4. বাতিল
ব্যাখ্যা
• আদেশ-৮, বিধি-৩: সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার-
ক্ষতিপূরণ ব্যতীত আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করবে, তা নাহলে বিবাদী তা স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদী তার লিখিত জবাবে বাদীর দাবি চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করবে না। যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা স্বীকার করেছেন বলেই ধরে নেয়া হবে।

Denial to be specific-
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.
৮৭৮.
আবির তার সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যেখানে তাদের মধ্যে লাভ ও ক্ষতির হিসাব অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি আরজিতে কী উল্লেখ করবেন?
  1. নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার দাবি করবেন
  2. মামলার আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ করবেন
  3. কেবল মামলার উদ্দেশ্য উল্লেখ করবেন
  4. কেবল বিবাদীর আর্থিক অবস্থা উল্লেখ করবেন
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৭ বিধি-২ টাকার মামলা:
যেক্ষেত্রে বাদী টাকা আদায় করতে চান, সেক্ষেত্রে আরজিতে দাবীর যথাযথ পরিমাণ বর্ণনা করবেন কিন্তু যে ক্ষেত্রে বাদী অন্তবর্তীকালীন মুনাফার জন্য বা বিবাদীর এবং তার মধ্যে অমীমাংসিত হিসাব বাবদ সম্ভাব্য পাওনা টাকার জন্য মামলা করেন, সেক্ষেত্রে যে জন্য মামলা করা হবে, তার আনুমানিক পরিমাণ বর্ণনা করবেন।

Order 7 Rule 2: In money suits-
Where the plaintiff seeks the recovery of money, the plaint shall state the precise amount claimed: But where the plaintiff sues for mesne profits, or for an amount which will be found due to him on taking unsettled accounts between him and the defendant, the plaint shall state approximately the amount sued for.
৮৭৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-৪৯, বিধি-১ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়ার বা হাইকোর্ট বিভাগে কার্যপ্রণালীর নোটিশ কে পরিবেশন করতে পারে?
  1. মামলায় নিযুক্ত উকিল
  2. উকিলদের দ্বারা নিযুক্ত ব্যক্তি
  3. হাইকোর্টের নির্দেশিত ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সবাই পারে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সবাই পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-৪৯, বিধি-১ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের মূল দেওয়ানি এখতিয়ার, বিবাহ সংক্রান্ত, উইল সংক্রান্ত এবং উইল ছাড়া উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, যেমন নথি উপস্থাপনের নোটিশ, সাক্ষীদের সমন এবং অন্যান্য বিচারিক প্রক্রিয়া পরিবেশন করা যেতে পারে:
১) মামলায় নিযুক্ত উকিল (অ্যাডভোকেট)
২) উকিলদের দ্বারা নিযুক্ত ব্যক্তি
৩) হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশিত অন্য ব্যক্তি
এতএব, উল্লিখিত সবারই (অর্থাৎ উকিল, উকিলের নিযুক্ত ব্যক্তি, এবং হাইকোর্টের নির্দেশিত ব্যক্তি) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়া পরিবেশন করার অধিকার আছে।

HIGH COURT DIVISION
- ORDER XLIX, Rule-1: Who may serve processes of the High Court Division:
Notices to produce documents, summonses to witnesses, and all other judicial processes issued by the High Court Division while exercising its original civil jurisdiction (including matrimonial, testamentary, and intestate jurisdictions)—except for summonses to defendants, writs of execution, and notices to respondents—may be served by: The advocates involved in the suits, Persons employed by those advocates, or Any other persons as directed by the High Court Division through its rules or orders.
৮৮০.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৫, বিধি ৪ এর অধীনে কোন পরিস্থিতিতে আদালত মোকদ্দমা স্থগিত রাখতে পারেন?
  1. যদি বাদী অনুপস্থিত থাকে
  2. যদি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য প্রয়োজন হয়
  3. যদি বাদী এবং বিবাদী উভয়ে অনুপস্থিত থাকে
  4. যদি বিবাদী সময়মতো উত্তর না দেয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৫ বিধি-৪: সাক্ষ্য দানে ব্যর্থতা:
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন প্রদান করা হয়ে থাকে এবং কোন পক্ষ যে সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে উক্ত সাক্ষ্য দানে যথার্থ কারণ ব্যতীত ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তৎক্ষণাৎ মোকদ্দমার রায় ঘোষণা করতে পারেন, বা এবং আদালত সঙ্গত মনে করলে উক্তরূপ বিচার্য বিষয়ের উপর উহার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে এমন সাক্ষ্য দানের জন্য বিচার বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করার পর মোকদ্দমা স্থগিত রাখতে পারে।

Order 15 Rule 4: Failure to produce evidence:
Where the summons has been issued for the final disposal of the suit and either party fails without sufficient cause to produce the evidence on which he relies, the Court may at once pronounce judgment, or may, if it thinks fit, after framing and recording issues adjourn the suit for the production of such evidence as may be necessary for its decision upon such issues.
৮৮১.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে আদালত কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধনের অনুমতি দিতে পারেন?
  1. আপিলের আগে যেকোনো পর্যায়
  2. প্রাথমিক শুনানির আগে যেকোনো পর্যায়
  3. মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে
  4. শুধুমাত্র সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়
ব্যাখ্যা
→ দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of Pleadings) আদেশ ৬, বিধি-১৭ এবং বিধি-১৮:
- প্লিডিংস বলতে আরজি (Plaint) বা লিখিত জবাব (Written Statement) বোঝায়।
- তাই, প্লিডিংস সংশোধন বলতে আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনকেই বোঝায়।
→ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৭ অনুসারে, মোকদ্দমার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে প্লিডিংস সংশোধন করা যায়। আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে মোকদ্দমার যে কোনো পর্যায়ে, এমনকি আপিলের সময়েও, প্লিডিংস সংশোধনের অনুমতি দিতে পারেন।

→ প্লিডিংস সংশোধনের সময়সীমা: আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুসারে আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্লিডিংস সংশোধন করতে হবে। যদি আদালত কোনো নির্দিষ্ট সময় না দেন, তবে সংশোধনী আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে এবং আদালত যদি সময় বর্ধিত না করেন, তবে আর প্লিডিংস সংশোধন করা যাবে না।

→ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৭: আরজি জবাব সংশোধন: মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে।

→ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৮: আদেশ প্রদানের পরে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে: কোন পক্ষ আরজি জবাব সংশোধনের অনুমতি সূচক আদেশ লাভ করার পর যদি আদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংশোধন না করে অথবা আদেশে কোন সময় নির্ধারণ করা না হলে আদেশের তারিখ হতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি সংশোধন না করেন, তবে উক্ত নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সংশোধন করার অনুমতি পাবেন না, যদি না আদালত উক্ত মেয়াদ বর্ধিত করে থাকেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-6 Rule-17:Amendment of pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings allow either party to alter or amend his pleadings in such manner and on such terms as may be just, and all such amendments shall
be made as may be necessary for the purpose of determining the real questions in controversy between the parties:
Provided that no application for amendment shall be allowed after the trial has commenced unless the Court is of the opinion that in spite of due diligence, the party could not have raised the matter before the commencement of trial:
Provided further that if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of the opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as it thinks fit.
৮৮২.
সাধারণত কে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করেন?
  1. আদালত
  2. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর প্রকৃত মালিক
  3. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর দাবীদার ব্যক্তিসমূহ
  4. যার নিকট হতে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু দাবি করা হচ্ছে
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৮: ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা কখন রুজু করা যেতে পারে:
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয়, উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি- দাওয়া না থাকে এবং যদি তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন, তবে ঐ সম্পত্তি বা অর্থ কার নিকট অর্পণ করতে হবে, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ঐরূপ দাবিদারগণের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সকল পক্ষের অধিকার যা দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে, এমন কোন মোকদ্দমা যদি বিচারাধীন থাকে তাহলে, ঐরূপ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না।

Sec.-88: Where interpleader suit may be instituted:
Where two or more persons claim adversely to one another the same debt, sum of money or other property, movable or immovable, from another person, who claims no interest therein other than for charges or costs and who is ready to pay or deliver it to the rightful claimant, such other person may institute a suit of interpleader against all the claimants for the purpose of obtaining a decision as to the person to whom the payment or delivery shall be made and of obtaining indemnity for himself:

Provided that where any suit is pending in which the rights of all parties can properly be decided, no such suit of interpleader shall be instituted.
৮৮৩.
Under Order 41 Rule 17(1), an appeal may be dismissed when-
  1. The respondent does not appear
  2. The appellant does not appear
  3. Both parties are absent
  4. The court decides not to hear the appeal
ব্যাখ্যা

Order 41 Rule 17: Dismissal of appeal for appellant's Default-
1) Where on the day fixed, or on any other day to which the hearing may be adjourned, the appellant does not appear when the appeal is called on for hearing, the Court may an order that the appeal be dismissed.

2) Hearing appeal ex parte: Where the appellant appears and the respondent does not appear, the appeal shall be heard ex parte.

আদেশ ৪১ বিধি-১৭: আপিলকারীর বরখেলাপের জন্য আপিল খারিজ করা:
১) যেক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে অথবা অন্য যে দিনের জন্য শুনানি মূলতবী হতে পারে ঐ দিনে আপিল শুনানির জন্য ডাক পড়লে আপিলকারী অনুপস্থিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত আপিল খারিজের আদেশ দিতে পারবে।

২) একতরফাভাবে আপিল শুনানিঃ যেক্ষেত্রে আপিলকারী হাজির হয়, কিন্তু রেসপন্ডেন্ট উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে একতরফাভাবে আপিলের শুনানি হবে।

৮৮৪.
আদেশ ৩৯ বিধি ১ এর অধীন আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কতদিন কার্যকর থাকে?
  1. ৬ মাস
  2. মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত
  3. আদালতের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা

আদেশ ৩৯ বিধি ১: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা যে ক্ষেত্রে প্রদান করা যেতে পারে:
কোনো মামলায় এফিডেভিট বা অন্য কোনো উপায়ে যদি প্রমাণিত হয় যে-
(ক) মামলার যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তা মামলার কোনো পক্ষের দ্বারা অপচয় হওয়ার, নষ্ট হওয়ার, হস্তান্তর (alienated) হওয়ার, অথবা কোনো ডিক্রির জোরে বেআইনিভাবে বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, অথবা

(খ) বিবাদী (defendant) তার সম্পত্তি সরিয়ে ফেলতে চায়, কিংবা হস্তান্তর বা বিক্রি করতে চায় এমন উদ্দেশ্যে যাতে তার ঋণদাতাদের (creditors) ঠকানো যায়, তাহলে আদালত আদেশের মাধ্যমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (temporary injunction) দিতে পারে, যাতে উল্লিখিত কাজগুলো করা না যায়।

এ ছাড়া আদালত চাইলে এমন অন্য কোনো আদেশও দিতে পারে যা- সম্পত্তির অপচয়, ক্ষতি, হস্তান্তর, বিক্রি, সরিয়ে ফেলা, বা বেপরোয়া ব্যবহার রোধ করতে সহায়তা করে, এবং এই আদেশ কার্যকর থাকবে- মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, অথবা আদালতের আগাম কোনো পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত।

৮৮৫.
যেক্ষেত্রে শুনানির দিন শুধুমাত্র বিবাদী হাজির হয় এবং বাদীর দাবী অস্বীকার করে, সেক্ষেত্রে আদালত কি আদেশ দিতে পারে?
  1. এক তরফা নিষ্পত্তি
  2. মোকদ্দমা খারিজ
  3. পরবর্তী দিন হাজির হওয়ার
  4. নতুন মোকদ্দমা দায়ের করার
ব্যাখ্যা
আদেশ-৯, বিধি-৮:
শুনানির দিন বিবাদী উপস্থিত, কিন্তু বাদী অনুপস্থিত- যদি শুনানির দিন বিবাদী হাজির হয়, কিন্তু বাদী হাজির না হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর দাবী বা উহার কোন অংশ স্বীকার না করলে, আদালত মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দিবেন। বিবাদী যদি বাদীর দাবি বা উহার অংশ স্বীকার করে নেয়, তবে আদালতে সে অনুপাতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দিবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মামলা খারিজের (dismissal) আদেশ দিবেন।

• ৮ বিধির অধীন খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীর প্রতিকারঃ বাদী হাজির না হওয়ার কারণে ৮ বিধির অধীন আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদী নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে-
১. মোকদমা খারিজ আদেশ বাতিলের [For setting aside the order of dismissal] জন্য ৯ বিধির অধীন আবেদন করতে পারে;
২. খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের [Directly Setting aside dismissal] জন্য ৯ক বিধির অধীন আবেদন করতে পারে।

• ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজ হলে,বাদী উক্ত একই কারণে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।
৮৮৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২৬ অনুসারে জারি স্থগিতের আগে আদালত কী চাইতে পারে?
  1. ডিক্রির কপি
  2. মামলার রেকর্ড
  3. দায়িকের জামানত
  4. ডিক্রিদারের সম্মতি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২৬(৩) অনুসারে, যদি কোনো পক্ষ (সাধারণত দায়িক) কার্যকর স্থগিতের জন্য আবেদন করে, তবে আদালত কার্যকর স্থগিত করার আগে দায়িকের কাছ থেকে জামানত (security) চাইতে পারে অথবা তার উপর যথোপযুক্ত শর্ত আরোপ করতে পারে।
- এটি করা হয় যাতে দায়িক অন্যায়ভাবে সময়ক্ষেপণ না করতে পারে এবং ডিক্রিদারের স্বার্থ রক্ষা পায়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-26(3)
- “Before making an order to stay execution or for the restitution of property or the discharge of the judgment-debtor, the Court may require such security from, or impose such conditions upon, the judgment-debtor as it thinks fit.”
৮৮৭.
ডিক্রিদানকারী আদালত অন্য কোন উপযুক্ত আদালত কে Judgment debtor (যার বিরুদ্ধে ডিক্রি দেয়া হয়) এর মালিকানাধীন সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিলে,তা কতদিনের বেশি কার্যকর থাকবে না?
  1. ২ মাস
  2. ৩মাস
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা- ৪৬ অনুসারে,Decree Holder এর আবেদনক্রমে ডিক্রিদানকারী আদালত ডিক্রিজারি করতে পারে অন্য কোন উপযুক্ত আদালত কে Judgment debtor (যার বিরুদ্ধে ডিক্রি দেয়া হয়) এর মালিকানাধীন সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য আদেশপত্র জারি করতে পারেন। আদেশনামার আওতাধীন কোন ক্রোক আদেশ ২ মাসের বেশি  কার্যকর থাকবে না।
৮৮৮.
The Code of Civil Procedure, 1908 অনুযায়ী ইস্যু কত ধরনের?
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৪ বিধি-১ বিচার্য বিষয় প্রণয়ন:

(১) যখন কোন ঘটনার বা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একপক্ষ দুঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।
(২) গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে আইনগত বা তথ্যসংক্রান্ত সেই সমস্ত বিষয় বুঝাবে, বাদী কর্তৃক তার মামলা করার অধিকার প্রতিপন্ন করার জন্য যে বিষয়ে অভিযোগ আনয়ন করতে হবে, অথবা বিবাদী কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যে বিষয়ের উপর নির্ভর করতে হবে।
(৩) একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করে।
(৪) বিচার্য বিষয় দুই প্রকার : ক) তথ্যগত বা ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়, খ) আইনগত বিচার্য বিষয়।
-----------------
1. Framing of issues:
(1) Issues arise when a material proposition of fact or law is affirmed by the one party and denied by the other.
(2) Material propositions are those propositions of law or fact which a plaintiff must allege in order to show a right to sue or a defendant must allege in order to constitute his defence.
(3) Each material proposition affirmed by one party and denied by the other shall form the subject of a distinct issue.
(4) Issues are of two kinds: (a) issues of fact, (b) issues of law.
৮৮৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ৪ অনুসারে, মোকদ্দমার ইস্যু গঠনের সময় আদালত প্রয়োজন মনে করলে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইস্যু গঠন কত দিনের জন্য স্থগিত রাখতে পারবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৭ দিন 
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-১৪ বিধি-৪ অনুসারে, যদি আদালত মনে করে যে কোনো ব্যক্তির পরীক্ষা বা কোনো দলিলের পরিদর্শন ছাড়া ইস্যু সঠিকভাবে গঠন করা সম্ভব নয়, তবে আদালত ইস্যু গঠন ১৫ দিনের বেশি স্থগিত করতে পারবে না। এই সময়সীমার মধ্যে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যক্তির উপস্থিতি বা দলিল উৎপাদনের জন্য সমন বা অন্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দেশ দিতে পারে। 
------ 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-14, Rule-4.Court may examine witness or documents before framing issues:
Where the Court is of opinion that the issues cannot be correctly framed without the examination of some person not before the Court or without the inspection of some document not produced in the suit, it may adjourn the framing of the issues to a day not later than fifteen days, and may (subject to any law for the time being in force) compel the attendance of any person or the production of any document by the person in whose possession or power it is by summons or other process.

৮৯০.
'ক', 'খ' -এর বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে একটি চুক্তি রদের মোকদ্দমা দায়ের করে। আদালত চুক্তিটি রদের ডিক্রি প্রদান করে। উক্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপিল করা হয়। জেলা জজ আপিল শুনানী শেষে চুক্তি রদের ডিক্রি বহাল রাখে। এক্ষেত্রে জেলা জজ কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে-
  1. রিভিশন করা যাবে
  2. জেলা জজ আদালতে ২য় আপিল করা যাবে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে ২য় আপিল করা যাবে
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
নিম্নলিখিত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না:

১. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত ডিক্রি হলেও তার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবেনা। কারণ এই আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ দায়ের করা যাবেনা।

২. দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, আদালত পক্ষদ্বয়ের সম্মতিতে আপস বা সোলে ডিক্রি [Compromise Decree] দিলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। আদেশ ২৩ এর বিধি ৩ অনুযায়ী আদালত আপস ডিক্রি বা সম্মতিসূচক ডিক্রি দিয়ে থাকে এবং এমন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

৩. ক্ষুদ্র এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের প্রদত্ত কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

৪. আপীল শুনানী শেষে আপীল আদালত কোন ডিক্রি দিলে, উক্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবেনা।

উপরের উল্লেখিত ক্ষেত্রে যেহেতু আপিল করা যায় না, তাই এই সকল ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে। অন্যদিকে, ৮৯ক ধারা অনুযায়ী মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রির দিলে তার বিরুদ্ধে কোনরূপ আপিল বা রিভিশন করা যাবে না।

প্রশ্নে উল্লিখিত মোকদ্দমায়, 'ক', 'খ' -এর বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে একটি চুক্তি রদের মোকদ্দমা দায়ের করে। আদালত চুক্তিটি রদের ডিক্রি প্রদান করে। যেহেতু বিচারিক আদালত বা আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী, সহকারী জজ, কর্তৃক চুক্তি রদের ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে, সেহেতু উক্ত ডিক্রিটি একটি আপিলযোগ্য ডিক্রি এবং এর বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপিল করা যায়। যদি জেলা জজ আপীল শুনানী শেষে চুক্তি রদের ডিক্রি বহাল রাখে। জেলা জজের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কারণ জেলা জজ সিদ্ধান্ত দিয়েছে আপিল শুনানী শেষে এবং দেওয়ানী মোকদ্দমায় দ্বিতীয় আপিল চলে না। তাই এই ক্ষেত্রে রিভিশন করা যাবে।
৮৯১.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর কোন ধারায় ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫০
  2. ধারা ৪৯
  3. ধারা ৪৮
  4. ধারা ৪৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারার মূল বক্তব্য হলো, যদি কোনো ডিক্রি হস্তান্তর করা হয়, তাহলে নতুন ডিক্রি-ধারী সেই ডিক্রিটি সেইসব শর্ত ও সীমাবদ্ধতার অধীনে গ্রহণ করবে, যেসব শর্ত বিচার-দেনাদার (Judgment Debtor) মূল ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারত।
অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) কোনো নতুন সুবিধা দাবি করতে পারবে না এবং পূর্ববর্তী ডিক্রি-ধারীর শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করতে পারবে।
⇒ অর্থাৎ ডিক্রি হস্তান্তরের (Transfer of Decree) সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 49. Transferee:
- Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.

৮৯২.
কখন ডিক্রি জারির আবেদন ১২ বছর পরও করা যায়?
  1. কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে
  2. আদালত ডিক্রি জারির আবেদন গ্রহণ না করলে
  3. ডিক্রির দেনাদার মারা গেলে
  4. দেনাদার প্রতারণা বা বলপ্রয়োগ দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি জারির নতুন আবেদন [fresh application] দাখিল করার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১২ বৎসর। নিয়মটি হলো ডিক্রি প্রদানের পর ৩ বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারির প্রথম দরখাস্ত বা জারি মামলা দায়ের করতে হবে। ৩ বৎসরের মধ্যে জারি মামলা দায়ের করার পর, পরবর্তীতে ১২ বৎসর পর্যন্ত ডিক্রিদার [Decree Holder] যে কোনো সংখ্যক ডিক্রি জারির নতুন আবেদন [fresh application] দায়ের করতে পারে। 

⇒  ১২ বছর পরও ডিক্রি জারির নতুন দরখাস্ত [fresh application] দায়ের করা যায় এবং আদালত ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারে যদি দেনাদার  প্রবঞ্চনা [Fraud] কিংবা শক্তি [force] প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করে।

⇒  অর্থাৎ যদি দেনাদার প্রবঞ্চনা কিংবা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করে ক্ষেত্রে ১২ বছর পরও ডিক্রি জারির জন্য নতুন আবেদন [Fresh application] করা যাবে।
------------------
Section 48. Execution barred in certain cases:
(1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from:
(a) the date of the decree sought to be executed, or, 
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree. 
 
(2) Nothing in this section shall be deemed:
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or 
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.
৮৯৩.
আদেশ ১০ বিধি ২ এ পক্ষ বা পক্ষের সহযোগীদের কোন ধরনের জবানবন্দি নেয়ার বিধান রয়েছে?
  1. লিখিত জবানবন্দি
  2. মৌখিক জবানবন্দি
  3. কমিশনের মাধ্যমে জবানবন্দি
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
আদেশ ১০ বিধি ২ (পক্ষ বা পক্ষের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি)-
মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে, এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে, আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

Order 10 Rule 2 (Oral examination of party or companion of party)-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.
৮৯৪.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী লিখিত জবাবে নতুন তথ্য যোগ করতে চাইলে কী করতে হবে?
  1. বাদীকে জানালেই চলবে
  2. বাদীর উকিলের স্বাক্ষর প্রয়োজন
  3. আদালতের অনুমতি নিতে হবে
  4. শুনানির সময় মৌখিকভাবে উল্লেখ করবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order VIII, Rule 9 অনুসারে:
- লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি বিবাদী নতুন কোনো তথ্য বা যুক্তি যোগ করতে চায়, তাহলে তাকে আদালতের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
- আদালত যথাযথ কারণ দেখলে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার শর্তে এ অনুমতি দিতে পারেন।
প্রক্রিয়া:
- বিবাদীকে আবেদন করে কারণ দর্শাতে হবে।
- আদালত প্রয়োজনে বিপক্ষ পক্ষকে জবাব দানের সুযোগ দিতে পারেন।
- অনুমতি পেলে সংশোধিত লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে।

দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী লিখিত জবাবে নতুন তথ্য যোগ করতে চাইলে আদালতের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, যদি বিবাদী লিখিত জবাবে নতুন কোনো তথ্য বা দাবি যোগ করতে চান, তবে তাকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।
৮৯৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী সহকারী জজের বর্তমান আর্থিক এখতিয়ার কত পর্যন্ত?
  1. ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
  2. ১৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
  3. ২৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
  4. সীমাহীন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি (Code of Civil Procedure), ১৯০৮-এর ধারা ৬ অনুযায়ী বলা হয়েছে যে, কোনো দেওয়ানী আদালত তার নির্ধারিত আর্থিক এখতিয়ারের বাইরে কোনো মামলা গ্রহণ বা বিচার করতে পারবে না – যদি না অন্য কোথাও ভিন্নভাবে নির্দিষ্ট করা থাকে।
- তবে এই আর্থিক এখতিয়ার নির্ধারিত হয় “Civil Courts Act, 1887”-এর অধীন, বিশেষতঃ ধারা ১৯ অনুযায়ী।
১। সহকারী জজ আদালত (Assistant Judge):
- আর্থিক এখতিয়ার – ১৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- সংশ্লিষ্ট আইন – Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৯
২। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (Senior Assistant Judge):
- আর্থিক এখতিয়ার – ১৫,০০,০০১ টাকা থেকে ২৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
- সংশ্লিষ্ট আইন – Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৯
৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত (Joint District Judge):
- আর্থিক এখতিয়ার – ২৫,০০,০০১ টাকা এবং তদূর্ধ্ব (সীমাহীন)
- সংশ্লিষ্ট আইন – Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ১৮

→ সহকারী জজ → ১৫ লক্ষ পর্যন্ত
→ সিনিয়র সহকারী জজ → ১৫ লক্ষের পরে থেকে ২৫ লক্ষ পর্যন্ত
→ যুগ্ম জেলা জজ → ২৫ লক্ষের পরে (সীমাহীন)
৮৯৬.
বিচার্য বিষয়াবলী প্রণয়নের পর একশত বিশ দিনের ভিতর আদালত ঐ মোকদ্দমার _________ তারিখ নির্ধারণ করবে।
  1. প্রথম শুনানির
  2. চূড়ান্ত শুনানির
  3. প্রাথমিক শুনানির
  4. ডিক্রি শুনানীর
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪নং আদেশে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বিচার্য বিষয় দুই প্রকার। যথা-
- ঘটনা বা তথ্য সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় (issues of fact); এবং
- আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয় (issues of law)

কোন তথ্যগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি এক পক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে তবে,তা তথ্যগত বিচার্য বিষয় (issues of fact) হবে। কোন আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি একপক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে, তবে তা আইনগত বিচার্য বিষয় (issues of law) হবে।

• আদেশ ১৪ বিধি ৮ অনুযায়ী-
বিচার্য বিষয়াবলী প্রণয়নের পর একশত বিশ দিনের ভিতর আদালত ঐ মোকদ্দমার চূড়ান্ত শুনানির তারিখ স্থিরীকৃত করবে।
- After the issues are framed,the Court shall within one hundred and twenty days thereof,fix a date for final hearing of the suit.
৮৯৭.
পুনঃনিরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্তের তামাদির বিধান The Limitation Act, 1908 এর কত অনুচ্ছেদে দেওয়া আছে?
  1. ১৭২
  2. ১৭৩
  3. ১৭৫
  4. ১৭৮
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিউ দায়েরের স্থান এবং সময়সীমা: 
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে ডিক্রি বা আদেশ জারির সময় হতে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৮৯৮.
আদেশ ২৬, বিধি ১৭ অনুসারে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কাকে দেওয়ানি আদালত হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. জেলা জজ
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. কমিশনার
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
আদেশ ২৬ বিধি-১৭: কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীদের উপস্থিতি ও জবানবন্দি প্রদান:
১) সমন, হাজিরা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সাক্ষীদের পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর আরোপিত জরিমানাদি সংক্রান্ত এই আইনের বিধানসমূহ বাংলাদেশে অবস্থিত আদালত কর্তৃক এরূপে নির্দেশিত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রেরিত হোক না কেন উক্ত কমিশন কর্তৃক এ আদেশের অধীনে সাক্ষ্য প্রদান করার নিমিত্তে কিংবা দলিল দাখিল করার জন্য আবশ্যকীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং এই বিধির উদ্দেশ্যে কমিশনারকে দেওয়ানি আদালত বলে বিবেচিত হবে

২) যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোন সাক্ষী বসবাস করে তিনি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে সে সাক্ষী বরাবর বা বিরুদ্ধে কোন পরোয়ানা প্রেরণের জন্য সেরূপ কোন আদালতে (হাইকোর্ট ডিভিশন নয়) কমিশনার আবেদন করতে পারেন এবং উক্ত আদালতের ঐচ্ছিক ক্ষমতায় যুক্তিসঙ্গত ও উপযুক্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারে।

Rule.-17: Attendance and examinationof witnesses before Commissioner-
1) The provisions of this Code relating to the summoning, attendance and examination of witnesses, and to the remuneration of, and penalties to be imposed upon, witness, shall apply to persons required to give evidence or to produce documents under this order whether the commission in execution of which they are so required has been issued by a Court situate within or by a Court situate beyond the limits of Bangladesh, and for the purposes of this rule the commissioner shall be deemed to be a Civil Court.

2) A Commissioner may apply to any Court (not being the High Court Division) within the local limits of whose jurisdiction a witness resides for the issue of any process which he may find it necessary to issue to or against such witness, and such Court may, in its discretion, issue such process as it considers reasonable and proper.
৮৯৯.
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ভূমি বা জমির মালিক সরকারকে রাজস্ব প্রদানে অবহেলা করলে এবং এই কারনে ভূমি বিক্রয়ের আদেশ দেয়া হলে, তাহলে কোন পক্ষকে অবিলম্বে দখল দেয়া যেতে পারে?
  1. সরকারকে
  2. আদালতের ইচ্ছানুসারে
  3. ভূমির মালিককে
  4. বিক্রয়ের পূর্বে রাজস্ব বা খাজনা পরিশোধকারী পক্ষকে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৯ বিধি-৯: মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ভূমিতে কখন পক্ষকে অবিলম্বে দখলে রাখা যাবে:
যেক্ষেত্রে সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী কোন ভূমি বা বিক্রয়ের জন্য দায়ী কোন মধ্যস্বত্ব মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হলে অনুরূপ ভূমি বা বিক্রয়ের জন্য দায়ী কোন মধ্যস্বত্ব দখলকারী পক্ষ যদি সরকারকে রাজস্ব প্রদানে বা মধ্যস্বত্বের মালিকের প্রাপ্য খাজনা পরিশোধে অবহেলা করে এবং ফলে উক্ত ভূমি বা বিক্রয়ের জন্য দায়ী কোন মধ্যস্বত্ব বিক্রয়ের আদেশ দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ভূমি বা বিক্রয়ের জন্য দায়ী কোন মধ্যস্বত্ব স্বার্থের দাবীদার উক্ত মোকদ্দমার অন্য কোন পক্ষ বিক্রয়ের পূর্বে প্রাপ্য রাজস্ব বা খাজনা পরিশোধ করলে (আদালতের ইচ্ছা অনুসারে জামানতসহ বা ব্যতীত) অবিলম্বে তাকে উক্ত ভূমি বা বিক্রয়ের জন্য দায়ী কোন মধ্যস্বত্বের দখলে রাখা হবে; এবং আদালত এটির ডিক্রিতে অনুরূপে পরিশোধিত টাকা উপযুক্ত হারে সুদসহ অথবা উক্ত পরিশোধিত টাকা আদালতের নির্দেশিত হারে সুদসহ অনুরূপ প্রদত্ত টাকা খেলাপকারীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় প্রদত্ত ডিক্রির নির্দেশ মোতাবেক হিসাবের সমন্বয়নে প্রদান করার আদেশ দিতে পারে।

এই বিধিটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করলে যা বোঝায় তা হলো:
যদি কোনো ভূমি বা জমির মালিক সরকারকে প্রদেয় রাজস্ব বা ভূমির খাজনা পরিশোধ না করে এবং সেই কারণে সরকার ভূমি বা জমি বিক্রি করার আদেশ দেয়, তখন সেই ভূমি বা জমির অন্য কোনো পক্ষ (যে পক্ষ মামলার সঙ্গে যুক্ত) বিক্রয়ের আগে প্রাপ্য রাজস্ব বা খাজনা পরিশোধ করলে, আদালত তাদেরকে অবিলম্বে সেই ভূমির দখল দিতে পারে।

এছাড়াও, আদালত এই ক্ষেত্রে সেই পরিশোধিত টাকা সুদসহ ফেরত দেয়ার আদেশ দিতে পারে, যদি সেই টাকা খেলাপকারী পক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলার ডিক্রি অনুযায়ী হয়। এক কথায়, জমির মালিক যদি সরকারের পাওনা টাকা না দেয়, তবে অন্য কেউ সেটা দিয়ে সেই জমির দখল নিতে পারে।
৯০০.
লিখিত জবাব দাখিলের ক্ষেত্রে আদালত সর্বোচ্চ কত দিন অতিরিক্ত বাড়াতে পারে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
• বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে।দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ৮ বিধি(১)-
৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদী তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।
অর্থাৎ আদালত অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে।

আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদী উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।