ব্যাখ্যা
(i) যদি সংশোধনটি পক্ষগণের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হয়।
(ii) যদি সংশোধনটি অপর পক্ষের জন্য অবিচার না হয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭ / ৩০ · ৬০১–৭০০ / ২,৯৯৩
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধারা ৩০-এর অধীনে জারিকৃত সমনের অবমাননা করলে আদালত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারবে:
(ক) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা। (ধারা ৩২(ক) অনুসারে)
(খ) সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা। (ধারা ৩২(খ) অনুসারে)
(গ) পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা। (ধারা ৩২(গ) অনুসারে)
জামানত দিতে বাধ্য করা এবং জামানত না দিতে পারলে কারাদণ্ড দেওয়া। (ধারা ৩২(ঘ) অনুসারে)
তবে মামলা স্বতঃসিদ্ধভাবে খারিজ করে দেওয়া ধারা ৩২-এর কোনো উপধারায় উল্লেখ নেই। সমন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারলেও, শুধুমাত্র সমন অমান্যের কারণে সম্পূর্ণ মামলা খারিজ করে দেওয়ার কোনো বিধান এই ধারায় নেই।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৩২ ধারার বিষয়বস্তু হলো ৩০ ধারা অনুযায়ী সমন দেওয়া হলে হাজির না হলে দণ্ড।
যদি সমন দেওয়ার পরও হাজির না হলে ৪ ধরনের দণ্ড দেওয়া যায়।
- গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
- সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়
- অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা
- হাজির হওয়ার জন্য জামানত দেওয়ার আদেশ
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 32. Penalty for default.
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
(a) issue a warrant for his arrest;
(b) attach and sell his property;
(c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka;
(d) order him to furnish security for his appearance and in default commit him to the civil prison.
ধারা-১০৬: কোন আদালতে আপিলের শুনানি হবে:
যখন কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয়া হয়, তখন যে মোকদ্দমায় অনুরূপ আদেশ প্রদত্ত হয়েছে, অনুরূপ মোকদ্দমার ডিক্রির বিরুদ্ধে যে আদালতে আপিল করা যায় এরূপ আদালতে এর শুনানি হবে, কিংবা যখন হাইকোর্ট বিভাগ নয় আপিল এতিয়ার প্রয়োগকারী এরূপ আদালত কর্তৃক অনুরূপ আদেশ প্রদান করা হয়, তখন হাইকোর্ট বিভাগে এর শুনানি হবে।
Sec.-106: What Courts to hear appeals:
Where an appeal from any order is allowed it shall lie to the Court to which an appeal would lie from the decree in the suit in which such other order was made, or where such order is made by a Court (not being the High Court Division) in the exercise of appellate jurisdiction, then to the High Court Division.
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান ধারা ১১৪ এবং আদেশ ৪৭-এ উল্লেখিত আছে।
- ধারা ১১৪: রিভিউ করার অধিকার সম্পর্কে সাধারণ বিধান দেয়।
- অর্ডার ৪৭: রিভিউ পিটিশনের প্রক্রিয়া, শর্তাবলী এবং প্রয়োগের বিস্তারিত নিয়ম উল্লেখ করে।
⇒ ধারা ১১৪: এই ধারায় উল্লেখ আছে, আদালত নিজেই তার ডিক্রি বা আদেশ পুনঃপর্যালোচনা করতে পারে, যদি—
i) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা চলে কিন্তু আপিল করা হয় নাই;
ii) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না; এবং
iii) ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যায়।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৫২-এর শিরোনামই হল "Enforcement of decree against legal representative" বা "বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা"।
এই ধারা অনুসারে:
- মৃত ব্যক্তির বৈধ প্রতিনিধির (legal representative) বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করার বিধান রয়েছে।
- ডিক্রিটি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা পরিশোধের জন্য হলে, সেই সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের মাধ্যমে ডিক্রি কার্যকর করা যাবে।
- যদি প্রতিনিধি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি যথাযথভাবে ব্যবহারের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ডিক্রিটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে কার্যকর করা যেতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫২ ধারার বিধান: বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা: (Enforcement of decree against legal representative)
কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা পরিশোধের জন্য যদি উক্ত মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি দেয়া হয়, তাহলে অনুরূপ কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের দ্বারা উক্ত ডিক্রি জারি করা যেতে পারে।
যখন ডিক্রি দায়িকের দখলে এরূপ কোন সম্পত্তি না থাকে এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার দখলে এসেছে বলে প্রমাণ থাকে এবং তার যথাযথ ব্যবহার করেছে বলে যদি আদালতকে সন্তষ্ট করতে ব্যর্থ হয়, তখন সম্পত্তির যে পরিমাণের ব্যাপারে সে আদালতকে সন্তষ্ট করাতে ব্যর্থ হয়েছে সেই পরিমাণ সম্পত্তির জন্য ডিক্রি দায়িকের বিরুদ্ধে ডিক্রিটি জারি করা যাবে, যেন ডিক্রিটি ব্যক্তিগতভাবে তারই উপর প্রদত্ত হয়েছিল।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 52. Enforcement of decree against legal representative.
(1) Where a decree is passed against a party as the legal representative of a deceased person, and the decree is for the payment of money out of the property of the deceased, it may be executed by the attachment and sale of any such property.
(2) Where no such property remains in the possession of the judgment-debtor and he fails to satisfy the Court that he has duly applied such property of the deceased as is proved to have come into his possession, the decree may be executed against the judgment-debtor to the extent of the property in respect of which he has failed so to satisfy the Court in the same manner as if the decree had been against him personally.
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি ৪(১) অনুসারে, যদি কোনো পক্ষের আইনজীবী (Pleader) আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন বা অক্ষম হন, এবং আদালতের মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষটি ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে উত্তর দিতে সক্ষম হবে বলে মনে হয়, তাহলে আদালত মামলার শুনানি স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 10 Rule-4. Consequence of refusal or inability of pleader to answer:
(1) Where the pleader of any party who appears by a pleader or any such person accompanying a pleader as is referred to in rule 2, refuses or is unable to answer any material question relating to the suit which the Court is of opinion that the party whom he represents ought to answer, and is likely to be able to answer if interrogated in person, the Court may postpone the hearing of the suit to a future day and direct that such party shall appear in person on such day.
(2) If such party fails without lawful excuse to appear in person on the day so appointed, the Court may pronounce judgment against him, or make such order in relation to the suit as it thinks fit.
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৪৯ ডিক্রি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন কোনো ডিক্রি অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখন নতুন ডিক্রি-ধারী (transferee) সেই ডিক্রি পূর্বের ডিক্রি-ধারীর অধীনে থাকা সমস্ত শর্ত ও সীমাবদ্ধতার আওতায় গ্রহণ করবে।
- অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী ডিক্রির মাধ্যমে কোনো নতুন সুবিধা বা অধিকারের দাবি করতে পারবে না; বরং পূর্বের ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে যে সকল ন্যায্য অধিকার বা প্রতিবন্ধকতা (equities) প্রয়োগ করা যেত, তা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য থাকবে।
- অন্যদিকে, ৪৯ ধারা ডিক্রি জারি, বাতিল বা সংশোধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সেগুলো অন্য ধারায় উল্লেখ রয়েছে।
⇒ অর্থাৎ ডিক্রি হস্তান্তরের (Transfer of Decree) সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 49. Transferee:
- Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.
আদেশ ১৪ বিধি ৪- আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নের পূর্বে সাক্ষীকে পরীক্ষা গ্রহণ বা দলিল পরিদর্শন করতে পারেন:
যদি আদালত মনে করে যে, কোনো ব্যক্তির জবানবন্দি ছাড়া বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিদর্শন ছাড়া বিচার্য বিষয় যথাযথভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে আদালত ১৫ দিনের মধ্যে বিষয় নির্ধারণ স্থগিত রাখতে পারে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে হাজির করতে বা সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিতে পারে।
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক- আদেশ/ডিক্রি কার্যকর করার নির্দেশ:
যে কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশ দিতে পারবে— যে কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অন্তর্ভুক্ত, তাকে আদালতের নির্ধারিত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত সেই সহায়তা প্রদানের অনুপালনের প্রতিবেদন আদালতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাখিল করতে বলতে পারবে।
⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ১৯ (সিভিল কোর্টস (সংশোধন) আইন, ২০২১ দ্বারা সংশোধিত) অনুসারে, সিনিয়র সিভিল জজ এর আর্থিক মূল্যমান ক্ষমতা (Pecuniary Jurisdiction) ২৫ (পচিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এটি সিভিল মামলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য, যদি না অন্য কোনো আইন দ্বারা ভিন্নতর বিধান থাকে।
⇒ দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (কোন আদালতে কত টাকার মামলা হবে):
- সিভিল জজ: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মামলা।
- সিনিয়র সিভিল জজ: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মামলা।
- যুগ্ম জেলা জজ: ২৫ লক্ষ টাকার বেশি যেকোনো মূল্যের মামলা (সীমাহীন)।
- জেলা জজ: সীমাহীন মামলা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ৮ মে, ২০২৫ তারিখে। অধ্যাদেশের ধারা ১(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য দেওয়ানি মামলার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, যেমন ডিজিটাল সামনস সার্ভিস, অ্যাফিডেভিটভিত্তিক সাক্ষ্য ইত্যাদি সংশোধনের মাধ্যমে।
⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) এর সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন বিষয়ক ধারা ১(১) এবং ১(২)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই অধ্যাদেশটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই তারিখটি অধ্যাদেশের প্রকাশনার সাথে সম্পর্কিত এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে প্রণীত ও জারি করা হয়েছে।
- অর্থাৎ, প্রশ্নটি The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance কার্যকর হওয়ার তারিখ সম্পর্কে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 এর ধারা ১(২) তে বলা হয়েছে যে এটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
- এই অধ্যাদেশটি দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিভিন্ন ধারা ও বিধিতে সংশোধনী এনেছে, যার মাধ্যমে মোকদ্দমার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ এর বিধি ৪ স্পষ্টভাবে বলে:
"এই আদেশের কোনো কিছুই ডিক্রি বা আদেশের জারির কোন কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে না।"
অর্থাৎ, একবার ডিক্রি হয়ে গেলে সেটি কার্যকর করার বা execution চালানোর জন্য আদেশ ২৩-এর বিধান প্রযোজ্য নয়। এ জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।
Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.
আদেশ ১৬ বিধি ১৪: আদালত নিজ উদ্যোগে মোকদ্দমার বহিরাগত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারে:
উপস্থিতি ও হাজিরা সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানাবলী এবং বলবৎ যে কোন আইন সাপেক্ষে, আদালত যদি যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এবং মোকদ্দমার কোন পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়নি এমন কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আদালত নিজ উদ্যোগে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত দিনে সাক্ষ্য প্রদান বা তার দখলে থাকা কোন দলিল উপস্থাপনের জন্য সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারে এবং তাকে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করতে বা উক্ত দলিল উপস্থাপন করতে বলতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৯ অনুসারে, আদালত যে কোনো সময় (at any time) প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি (written statement or additional written statement) পেশের আদেশ দিতে পারেন এবং তার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন। আদালতের এই ক্ষমতা মামলার যেকোনো পর্যায়ে প্রযোজ্য, শুধুমাত্র শুরুতে বা বিচার্য বিষয় গঠনের আগে সীমাবদ্ধ নয়।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী- আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদির লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.
⇒দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XXI, Rule 1(1) অনুসারে ডিক্রি অনুযায়ী প্রদেয় অর্থ পরিশোধের তিনটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
(a) ডিক্রি জারির দায়িত্বে নিয়োজিত আদালতে টাকা জমা দেওয়া;
(b) আদালতের বাইরে সরাসরি ডিক্রিধারীকে (decree-holder) টাকা পরিশোধ করা; অথবা
(c) ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোনও পদ্ধতি নির্দেশ করলে সেভাবে পরিশোধ করা।
সুতরাং, ডিক্রি অনুযায়ী টাকা পরিশোধের মোট তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21, Rule-1: Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.
(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR)–এর দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে:
১- মধ্যস্থতা (Mediation);
২- সালিশী (Arbitration)।
সাধারন নিয়মসমূহ-
⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
⇒ Code of Civil Procedure, 1908 (CPC) এর Section 26-এ বলা হয়েছে:
Sub-section (1): "Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed."
Sub-section (2): "In every plaint, facts shall be proved by affidavit."
এই বিধানটি ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ (Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025) এর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে। Section 26-এর মূল বিধানটি (Sub-section 1) ইতিমধ্যেই ছিল, যা মামলা দায়ের করার পদ্ধতি বর্ণনা করে। সংশোধনীতে Sub-section (2) যোগ করে Plaint-এর facts গুলো Affidavit (শপথনামা) এর মাধ্যমে প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) Section 26।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি ২৪- যদি বিবাদী কারাগারে বন্দী থাকেন, তাহলে সমন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিবাদীর কাছে জারির জন্য সরাসরি প্রদান বা ডাকযোগে বা বিধি ৯ এর উপবিধি (৪)-এ উল্লিখিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।
→ অর্থাৎ যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-7 Rule- 24. Service on the defendant in prison:
Where the defendant is confined in prison, the summons shall be delivered or sent by post or through courier service as mentioned in sub-rule (4) of rule 9 or otherwise to the officer in charge of the prison for service on the defendant.
⇒ "Res Sub Judice" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ "a matter under judgment" বা "বিচারাধীন বিষয়"। এই নীতিটি দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০-এ বর্ণিত আছে।
- Res Sub Judice নীতির মূল কথা: একই পক্ষদের মধ্যে একই কারণ থেকে উদ্ভূত একই বিষয় নিয়ে একই সময়ে একাধিক মামলা চলতে পারে না। যদি একই বিষয়ে একটি মামলা ইতিমধ্যে কোনো উপযুক্ত আদালতে বিচারাধীন থাকে, তাহলে অন্য কোনো আদালত পরবর্তীতে দায়ের করা একই রকম মামলা পরিচালনা করতে পারবে না।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল:
বিরোধপূর্ণ সিদ্ধান্ত রোধ করা: ভিন্ন ভিন্ন আদালত থেকে একই বিষয়ে ভিন্ন রায় না আসা।
আদালতের সময় ও সম্পদের সদ্ব্যবহার: একই মামলা বারবার বিচার করা থেকে বিরত থাকা।
- অর্থাৎ Res Sub Judice নীতিটি মামলা চলাকালীন সময়ে প্রযোজ্য হয় এবং একই সাথে একাধিক মামলা চলা বন্ধ করে। অন্যদিকে, Res Judicata নীতিটি মামলা শেষ হওয়ার পর প্রযোজ্য হয় এবং একই মামলা আবার দায়ের করা বন্ধ করে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় মোকদ্দমা স্থগিতকরণ (stay of suit) বা res sub judice সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে পূর্বে দায়েরকৃত এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হলে, আদালত পরবর্তী মোকদ্দমার কার্যক্রম স্থগিত করবেন।
- এই নীতি প্রয়োগ করতে শর্তসমূহ-
১. দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
২. উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হতে হবে;
৩. উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
৪. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি অবশ্যই বিচারাধীন থাকতে হবে;
৫. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেই আদালতের দাবীকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে;
৬. উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্ত্বের অধীন মোকদ্দমা [under same title) দায়ের করেছে।
- বিদেশি আদালতে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে Res-Subjudice নীতি প্রযোজ্য হবে না।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 10: Stay of suit-
No Court shall proceed with the trial of any suit in which the matter in issue is also directly and substantially in issue in previously instituted suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim litigating under the same title where such suit is pending in the same or any other Court in Bangladesh having jurisdiction to grant the relief claimed, or in any Court beyond the limits of Bangladesh Established or continued by the Government and having like jurisdiction, or before the Supreme Court.
Explanation-The pendency of a suit in a foreign Court does not preclude the Court in Bangladesh from trying a suit founded on the same cause of action.
আদেশ ৪৭ বিধি-৭: প্রত্যাখ্যাত আদেশ আপিলযোগ্য নয়, আবেদন মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি:
১) আদালত পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না; কিন্তু প্রার্থনা কবুলের আদেশ প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত কারণে আপত্তি পেশ করা যাবে-
ক) বিধি-২ তে বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী;
খ) বিধি-৪ এ বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী;
গ) আবেদনের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ অতীত হওয়ার পর এবং যথেষ্ট কারণ ব্যতীত সেটি করা হয়েছিল বলে আপত্তি উত্থাপন করা যেতে পারে; আবেদন মঞ্জুর করে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে, বা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করে ঐরূপ আপত্তি উত্থাপন করা চলবে।