বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা / ৩০ · ৬০১৭০০ / ২,৯৯৩

৬০১.
Pleadings (প্লিডিংস) সংশোধন সম্পর্কে কোথায় বলা হয়েছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ১৭
  2. আদেশ ৬ বিধি ২০
  3. আদেশ ৫ বিধি ১২
  4. আদেশ ৫ বিধি ১
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৬ বিধি ১৭ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে প্লিডিংস বা আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে-

   (i) যদি সংশোধনটি পক্ষগণের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হয়।

   (ii) যদি সংশোধনটি অপর পক্ষের জন্য অবিচার না হয়।
৬০২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৫৪ তে কোন ধরনের সম্পত্তি ক্রোকের বিধান রয়েছে?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. উভয় ধরনের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৫৪: স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক:
(১) যখন সম্পত্তি অস্থাবর হয়, তখন ক্রোক করার আদেশটি এমন একটি আদেশ দ্বারা করা হবে যা ডিক্রি-দেনাদারকে সম্পত্তি স্থানান্তর বা চার্জ করার যে কোন উপায় থেকে নিষিদ্ধ করবে এবং সকল ব্যক্তিকে সেই স্থানান্তর বা চার্জ থেকে কোন সুবিধা গ্রহণ করতে নিষেধ করবে।

(২) আদেশটি ঐ সম্পত্তিতে বা সম্পত্তির সংলগ্ন কোন স্থানে ঢোল পেটানো বা অন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে ঘোষণা করতে হবে, এবং আদেশটির একটি অনুলিপি সম্পত্তির সুস্পষ্ট অংশে এবং আদালত ভবনের সুস্পষ্ট অংশে টানিয়ে দিতে হবে, এবং যদি সম্পত্তিটি সরকারের রাজস্ব প্রদানকারী জমি হয়, তবে সেই জমি যে জেলার কালেক্টরের কার্যালয়ে অবস্থিত সেখানে ও আদেশটির একটি অনুলিপি টানিয়ে দিতে হবে।
৬০৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারার অধীনে জারিকৃত সমনের অবমাননা করলে আদালত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না?
  1. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা
  2. সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা
  3. পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা
  4. মামলা স্বতঃসিদ্ধভাবে খারিজ করে দেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধারা ৩০-এর অধীনে জারিকৃত সমনের অবমাননা করলে আদালত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারবে:
(ক) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা। (ধারা ৩২(ক) অনুসারে)
(খ) সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা। (ধারা ৩২(খ) অনুসারে)
(গ) পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা। (ধারা ৩২(গ) অনুসারে)
জামানত দিতে বাধ্য করা এবং জামানত না দিতে পারলে কারাদণ্ড দেওয়া। (ধারা ৩২(ঘ) অনুসারে)
তবে মামলা স্বতঃসিদ্ধভাবে খারিজ করে দেওয়া ধারা ৩২-এর কোনো উপধারায় উল্লেখ নেই। সমন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারলেও, শুধুমাত্র সমন অমান্যের কারণে সম্পূর্ণ মামলা খারিজ করে দেওয়ার কোনো বিধান এই ধারায় নেই।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর  ৩২ ধারার বিষয়বস্তু হলো ৩০ ধারা অনুযায়ী সমন দেওয়া হলে হাজির না হলে দণ্ড।
যদি সমন দেওয়ার পরও হাজির না হলে ৪ ধরনের দণ্ড দেওয়া যায়।
- গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
- সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়
- অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা
- হাজির হওয়ার জন্য জামানত দেওয়ার আদেশ
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 32. Penalty for default.
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
(a) issue a warrant for his arrest;
(b) attach and sell his property;
(c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka;
(d) order him to furnish security for his appearance and in default commit him to the civil prison.

৬০৪.
স্থাবর সম্পত্তি থেকে কার দ্বারা বেদখল হলে আদেশ ২১ বিধি-১০০ এর অধীন আবেদন করা যায়?
  1. শুধুমাত্র দায়িক
  2. শুধুমাত্র ক্রেতা
  3. ডিক্রিদার বা নিলাম বিক্রির ক্রেতা
  4. দায়িক ব্যতীত কোন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
আদেশ ২১ বিধি-১০০: ডিক্রিদার বা ক্রেতা কর্তৃক বেদখল-
১) যেক্ষেত্রে দায়িক ব্যতীত কোন ব্যক্তি, স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য প্রাপ্ত ডিক্রির মালিক কর্তৃক কিংবা যেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি ডিক্রি জারিতে নিলামে বিক্রয় হয়েছে, সেক্ষেত্রে উহার খরিদ্দার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অনুরূপ বেদখলের অভিযোগ করে আদালতে একটি আবেদন করতে পারে।

২) আদালত বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দিন ধার্য করবে এবং যে পক্ষের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে, সে পক্ষকে হাজির হওয়ার এবং উত্তর দেয়ার জন্য সমন প্রদান করবে।

Rule-100: Dispossession by decree-holder or purchaser.-
1) Where person other than the judgment-debtor is disposed of immovable property by the holder of a decree for the possession of such property or, where such property has been sold in execution of a decree, by the purchaser thereof, he may make an application to the Court complaining of such dispossession.

2) The Court shall fix a day for investigating the matter and shall summon the party against whom the application is made to appear and answer the same.
৬০৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER-XIV এর Rule-1(6) অনুসারে, যদি বিবাদী বাদীর সমস্ত দাবি স্বীকার করে নেয়, তাহলে:
  1. নতুন সাক্ষী তলব করতে হবে
  2. মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যাবে
  3. আদালতকে অবশ্যই বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে হবে
  4. আদালতের জন্য বিচার্য বিষয় প্রণয়নের প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER-XIV এর Rule-1(6) অনুযায়ী, যদি বিবাদী বাদীর সমস্ত দাবি স্বীকার করে নেয়, তবে আদালতকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে হবে না।
- কারণ, যখন বিবাদী সমস্ত দাবি স্বীকার করে নেয়, তখন মামলাটি সহজতর হয় এবং আদালত কোন বিরোধী বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নেবে না, কারণ কোনো বিরোধ আর অবশিষ্ট থাকে না। এটি আদালতের সময় এবং শক্তি সাশ্রয় করে, তাই বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করার প্রয়োজন পড়ে না।

⇒ ORDER-XIV, Rule-1(6) Nothing in this rule requires the Court to frame and record issues where the defendant at the first hearing of the suit makes no defence.
৬০৬.
Which of the following statements is true regarding Order 32 Rule-1?
  1. The next friend must be a legal guardian
  2. The next friend is appointed by the court
  3. The suit must be in the name of the minor
  4. The minor must appoint the next friend personally
ব্যাখ্যা
• Order 32 Rule-1: Minor to sue by next friend:
Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor.

আদেশ ৩২, বিধি ১: আসন্ন বন্ধু দ্বারা নাবালককে মোকদ্দমা করতে হয়:
নাবালককে বাদী করে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার 'আসন্ন বন্ধু' দ্বারা দায়ের করতে হবে।
৬০৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত নকল কে পেতে পারেন?
  1. শুধু বাদী
  2. শুধু বিবাদী
  3. শুধু আদালত
  4. যে কোন পক্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার ২০, বিধি ২০ অনুযায়ী: যে কোন পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতের কাছে আবেদন করে রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত নকল পেতে পারেন।
 এই নকল পাওয়ার জন্য অবশ্যই:
- পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে
- নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে
 "সত্যায়িত নকল" বলতে আদালত কর্তৃক প্রমাণিত ও স্বীকৃত একটি অনুলিপি বোঝায়, যা মূল দলিলের সমতুল্য বিবেচিত হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার XX, রুল ২০ অনুযায়ী, আদালতে পক্ষগণের আবেদনক্রমে এবং তাদের খরচে রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত নকল সরবরাহ করা হবে।
অর্থাৎ, মামলার যে কোনো পক্ষ—বাদী বা বিবাদী—আদালতে আবেদন করে রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত কপি পেতে পারেন।
- এই বিধান পক্ষগণের ন্যায়বিচারের অধিকার সংরক্ষণ করে এবং তাদেরকে আপিল বা অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেয়।
৬০৮.
Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the ________of the minor.
  1. guardian
  2. attorney
  3. next friend
  4. legal representative
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩২ বিধি-১: নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক নাবালকের মোকদ্দমা দায়ের:
নাবালক কর্তৃক প্রত্যেক মোকদ্দমা তার নামে সে ব্যক্তি কর্তৃক দায়ের করতে হবে যাকে অনুরূপ মোকদ্দমায় নাবালকের নেক্সট ফ্রেন্ড বলে ডাকা হবে।

Rule-1: Minor to sue by next friend:
Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor.
৬০৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৬–এর উদ্দেশ্য কী?
  1. আপিলের মেয়াদ নির্ধারণ
  2. আদালতের এখতিয়ার বাড়ানো
  3. ডিক্রি বাতিল বা রদবদল করা
  4. কোন আদালতে আপিলের শুনানি হবে তা নির্ধারণ করা
ব্যাখ্যা

ধারা-১০৬: কোন আদালতে আপিলের শুনানি হবে:
যখন কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয়া হয়, তখন যে মোকদ্দমায় অনুরূপ আদেশ প্রদত্ত হয়েছে, অনুরূপ মোকদ্দমার ডিক্রির বিরুদ্ধে যে আদালতে আপিল করা যায় এরূপ আদালতে এর শুনানি হবে, কিংবা যখন হাইকোর্ট বিভাগ নয় আপিল এতিয়ার প্রয়োগকারী এরূপ আদালত কর্তৃক অনুরূপ আদেশ প্রদান করা হয়, তখন হাইকোর্ট বিভাগে এর শুনানি হবে।

Sec.-106: What Courts to hear appeals:
Where an appeal from any order is allowed it shall lie to the Court to which an appeal would lie from the decree in the suit in which such other order was made, or where such order is made by a Court (not being the High Court Division) in the exercise of appellate jurisdiction, then to the High Court Division.

৬১০.
আদালত প্রদত্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাদেশ অমান্যের ক্ষেত্রে অমান্যকারী পক্ষকে দেওয়ানি কয়েদে আটক রাখা যায় অনুর্ধ্ব-
  1. ২ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৩৯ বিধি ২ মতে চুক্তিভঙ্গ বা অন্য কোন প্রকার ক্ষতি করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য মোকদ্দমা শুরুর পর যেকোন সময়, রায়ের পূর্বে বা পরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

♦যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়, অথবা কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন।

♦এরূপ কোন ক্রোক ১ বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা বা চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারেন।
৬১১.
নিচে বর্ণিত কোন ক্ষেত্রে রিভিউ করা যায় না?
  1.  আপিলযোগ্য নয় এমন ডিক্রির বিরুদ্ধে
  2. আপিলযোগ্য কিন্তু আপিল করা হয়নি এমন ডিক্রির বিরুদ্ধে
  3. স্মল কজেজ আদালত এর রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে রিভিউ করা যায়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান ধারা ১১৪ এবং আদেশ ৪৭-এ উল্লেখিত আছে।
- ধারা ১১৪: রিভিউ করার অধিকার সম্পর্কে সাধারণ বিধান দেয়।
- অর্ডার ৪৭: রিভিউ পিটিশনের প্রক্রিয়া, শর্তাবলী এবং প্রয়োগের বিস্তারিত নিয়ম উল্লেখ করে।

⇒ ধারা ১১৪: এই ধারায় উল্লেখ আছে, আদালত নিজেই তার ডিক্রি বা আদেশ পুনঃপর্যালোচনা করতে পারে, যদি—
i) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা চলে কিন্তু আপিল করা হয় নাই;
ii) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না; এবং
iii) ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যায়।

৬১২.
যেক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে বাদীদের কোন প্রকার সংযুক্তি মোকদ্দমার বিচারকে ভারগ্রস্ত বা বিলম্বিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. বাদীদের পছন্দের উপর ছেড়ে দিতে পারে
  2. পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ দিতে পারে
  3. বিবাদীদের পছন্দের উপর ছেড়ে দিতে পারে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে। একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-
⇒ মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
⇒ মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে।

• তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ দিতে পারেন। সেই বিষয়ে ১নং আদেশের বিধি ২ তে বলা আছে-
যেক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বাদীদের কোন প্রকার সংযুক্তি মোকদ্দমার বিচারকে ভারগ্রস্ত বা বিলম্বিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে আদালত বাদীদের পছন্দের উপর ছেড়ে দিতে পারে অথবা পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ অবস্থা বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য কোন আদেশ দিতে পারে।

এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো-
একাধিক বাদী থাকলে যাতে মামলার বিচার জটিল না হয় বা বিলম্বিত না হয়, সেই লক্ষ্যে আদালতকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। আদালত যদি মনে করে যে একাধিক বাদী থাকায় মামলার বিচার জটিল হতে পারে বা বিলম্বিত হতে পারে, তাহলে আদালত নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিতে পারবে:
⇒ বাদীদের তাদের পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া, অর্থাৎ তাদের বলা হবে কে বাদী থাকবে আর কে থাকবে না।
⇒ আলাদা আলাদা বিচারের নির্দেশ দেওয়া, অর্থাৎ বাদীদের আলাদা আলাদা মামলা করতে বলা।
⇒ প্রয়োজনীয় অন্য যে কোনো আদেশ প্রদান করা যাতে মামলার বিচার সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।
৬১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারা 'বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর' করার বিধান দেয়?
  1. ধারা ৫০
  2. ধারা ৫১
  3. ধারা ৫২
  4. ধারা ৫৩
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৫২-এর শিরোনামই হল "Enforcement of decree against legal representative" বা "বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা"।
এই ধারা অনুসারে:
- মৃত ব্যক্তির বৈধ প্রতিনিধির (legal representative) বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করার বিধান রয়েছে।
- ডিক্রিটি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা পরিশোধের জন্য হলে, সেই সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের মাধ্যমে ডিক্রি কার্যকর করা যাবে।
- যদি প্রতিনিধি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি যথাযথভাবে ব্যবহারের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ডিক্রিটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে কার্যকর করা যেতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫২ ধারার বিধান: বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা: (Enforcement of decree against legal representative)
কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা পরিশোধের জন্য যদি উক্ত মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি দেয়া হয়, তাহলে অনুরূপ কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের দ্বারা উক্ত ডিক্রি জারি করা যেতে পারে।
 যখন ডিক্রি দায়িকের দখলে এরূপ কোন সম্পত্তি না থাকে এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার দখলে এসেছে বলে প্রমাণ থাকে এবং তার যথাযথ ব্যবহার করেছে বলে যদি আদালতকে সন্তষ্ট করতে ব্যর্থ হয়, তখন সম্পত্তির যে পরিমাণের ব্যাপারে সে আদালতকে সন্তষ্ট করাতে ব্যর্থ হয়েছে সেই পরিমাণ সম্পত্তির জন্য ডিক্রি দায়িকের বিরুদ্ধে ডিক্রিটি জারি করা যাবে, যেন ডিক্রিটি ব্যক্তিগতভাবে তারই উপর প্রদত্ত হয়েছিল।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 52. Enforcement of decree against legal representative.
(1) Where a decree is passed against a party as the legal representative of a deceased person, and the decree is for the payment of money out of the property of the deceased, it may be executed by the attachment and sale of any such property. 

(2) Where no such property remains in the possession of the judgment-debtor and he fails to satisfy the Court that he has duly applied such property of the deceased as is proved to have come into his possession, the decree may be executed against the judgment-debtor to the extent of the property in respect of which he has failed so to satisfy the Court in the same manner as if the decree had been against him personally.

৬১৪.
গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণার অজুহাতে স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত ডিক্রি জারির নিলাম বিক্রয় রদের জন্য, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি _______ এর অধীন আদালতে আবেদন করতে পারে।
  1. ৯২
  2. ৯০
  3. ৯৭
  4. ৯৪
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৯০- অনিয়মতা কিংবা প্রতারণার কারণে নিলাম বিক্রয় রদের আবেদন:
 
যেক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রি জারিতে নিলাম বিক্রয় হয়েছে, সেক্ষেত্রে ডিক্রিদার কিংবা সম্পত্তির বণ্টনে আনুপাতিক অংশের অধিকারী কোন ব্যক্তি অথবা উক্ত নিলাম বিক্রয়ের ফলে যার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় ঐ ব্যক্তি নিলাম বিক্রয় রদের জন্য সেটা প্রচার বা পরিচালনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণার অজুহাতে আদালতে আবেদন করতে পারে-
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ অনিয়ম বা তঞ্চকতার কারণে কোন নিলাম বিক্রয় রদ হবে না, যদি না প্রমাণিত তথ্যসমূহের উপর আদালত এ মর্মে পরিতুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী উক্ত অনিয়মতা বা তঞ্চকতার অজুহাতে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Order XXI Rule 90-
 
Where any immovable property has been sold in Execution of a decree, the decree - holder, or any person entitled to share in a rateable distribution of assets, or whose interests are affected by the sale, may apply to the court to set aside the sale on the ground of a material irregularity or fraud in publishing or conducting it.
৬১৫.
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তির কোন উন্নয়নের ফলে যে লাভ হয়, তা কি মধ্যবর্তী মুনাফার মধ্যে গণ্য হবে?
  1. হ্যাঁ
  2. না
  3. ব্যক্তি চাইলে লাভ হিসেবে গণ্য হবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফাকে মধ্যবর্তী মুনাফা(Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম:
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে,উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।

Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received there from, together with interest on such profits,
but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession.
৬১৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১৭ অনুযায়ী আদালত সাধারনত মূলতবী কয়টি পর্যায়ে করে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ১৭ বিধি ১ অনুযায়ী সাধারনত ২টি পর্যয়ে আদালত মূলতবী হয় ।
(১) চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে। 
(২) চূড়ান্ত শুনানীর পর্যায়ে।
⇒ আদালত চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে প্রত্যেক পক্ষকে খরচ বাদে ৬ বার মূলতবী মঞ্জুর করবে এবং খরচসহ ৩ বার মূলতবী করবে।
⇒তবে চূড়ান্ত শুনানীর পর্যায়ে খরচবাদে কোন সময় মঞ্জুর করবে না, তবে খরচ সহ প্রত্যেক পক্ষগণকে ৩ বার মূলতবীর আবেদন মঞ্জুর করবে।
⇒ তবে যে পক্ষ আবেদন করবে তাকে সর্বনিম্ন খরচ ২০০ টকা এবং সর্বোচ্চ খরচ ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে।
৬১৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৫, বিধি-২ এর অধীন আদালত কাকে মোকদ্দমার দাবীকৃত বস্তু আদালতের হেফাজতে দেয়ার আদেশ প্রদান করতে পারে?
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. সাক্ষীকে
  4. ৩য় কোনো পক্ষকে
ব্যাখ্যা
•  দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী,
স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।

আদেশ ৩৫ বিধি-১: ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় আর্জি (Plaint in interpleader-suits):
ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় প্রত্যেকটি মোকদ্দমার আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে - বাদী মোকদ্দমার খরচের জন্য ব্যয়িত দাবি ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবি করে না; বিবাদীগণ কর্তৃক দাবিসমূহ পৃথকভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ যোগসাজশ বা ষড়যন্ত্র নেই।

⇒ আদেশ-৩৫, বিধি-২: দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদান-
যেক্ষেত্রে দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মামলায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে তা অনুরূপভাবে আদালতে প্রদান করতে তলব করা যেতে পারে।

Order-35 Rule-2: Payment of thing claimed into Court:
Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the Court, the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit.
৬১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধিতে সেট অফ (Set off) এর বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-৮, বিধি-৭
  2. আদেশ-৮, বিধি-৬
  3. আদেশ-৮, বিধি-৮
  4. সবগুলোতে
ব্যাখ্যা
♦আদেশ-৮, বিধি-৬ এর বিধান পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ (Set off)- সহজ ভাষায়, সেট অফ অর্থ হল কোন দাবীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরেকটি দাবী।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।
৬১৯.
নাবালকের পক্ষে মামলা দায়েরকারী ব্যক্তিকে__________বলা হয়।
  1. Guardian
  2. Guardian ad litem
  3. Next Friend
  4. Legal Representative
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৩২, বিধি-১ এ বলা হয়েছে every suit by minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor. নাবালকের পক্ষে তার হিতৈষী এমন আত্মীয় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে।
♦ বিধি-১ তে বলা আছে- আসন্ন বন্ধু দ্বারা নাবালককে মোকদ্দমা করতে হয় (Minor to sue by next friend): নাবালক বাদী করে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার 'আসন্ন বন্ধু' দ্বারা দায়ের করতে হবে।
♦ বিধি-২ তে বলা আছে- আসন্ন বন্ধু' ছাড়া মোকদ্দমা দায়ের করা হলে আরজি নথি হতে অপসারণ করার জন্য বিবাদী আবেদন করতে পারবে।
৬২০.
What does Section 90 of the Civil Procedure Code allow parties to do?
  1. File a criminal complaint
  2. Submit a case for the opinion of the court by written agreement
  3. Appeal against the court’s decision without trial
  4. Directly enforce a judgment without court approval
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯০: আদালতের মতামতের জন্য বিষয় উপস্থাপনের ক্ষমতা-
যদি কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে একমত হন যে, তারা আদালতের মতামতের জন্য কোনো বিষয় উপস্থাপন করবেন, তাহলে আদালত নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত বিষয় পরীক্ষা ও নিষ্পত্তি করবে।

Power to state case for opinion of Court:
Where any persons agree in writing to state a case for the opinion of the Court, then the Court shall try and determine the same in the manner prescribed.
৬২১.
আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুসারে, যদি বিবাদীকে সমন যথাযথভাবে জারি করা হয় কিন্তু নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়ার যথেষ্ট সময় না দেওয়া হয়, তাহলে আদালত-
  1. মামলার রায় ঘোষণা করবেন
  2. বিবাদীকে জরিমানা করবেন
  3. বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন
  4. পরবর্তী একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-৬:
১) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাক পড়লে বাদী উপস্থিত হয় এবং বিবাদী উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে আদালত-
ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, একতরফা বিচার করতে পারবেন।

খ) যদি প্রমাণিত না হয় যে, যথারীতি জারি হয়েছে, তবে আদালত বিবাদীর উপর দ্বিতীয়বার সমন প্রেরণ এবং জারি করার নির্দেশ দান করবেন।

গ) যেক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারি হয়, কিন্তু উপযুক্ত সময়ের মধ্যে নয়ঃ যদি প্রমাণিত হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, তবে বিবাদীকে সমনে নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করা হয়নি, তবে আদালত পরবর্তী কোনো নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবি রাখবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করবে।
৬২২.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে শুনানির দিন বিবাদী উপস্থিত কিন্তু বাদী অনুপস্থিত থাকলে আদালত কী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
  1. বাদীকে জরিমানা করবেন
  2. মামলা স্থগিত রাখবেন
  3. বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দিবেন
  4. মামলা খারিজ করবেন
ব্যাখ্যা
→ উত্তর: ঘ) মামলা খারিজ করবেন।
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯, বিধি ৮ অনুসারে—

→ যদি শুনানির দিন বাদী অনুপস্থিত থাকে কিন্তু বিবাদী উপস্থিত থাকে, তাহলে আদালত নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে:
- বিবাদী বাদীর দাবি বা তার কোনো অংশ স্বীকার না করলে আদালত মামলা খারিজের (Dismissal) আদেশ দেবেন।
যদি বিবাদী বাদীর দাবি বা তার কোনো অংশ স্বীকার করে, তবে আদালত স্বীকৃত অংশের জন্য বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করবেন এবং বাদীর অবশিষ্ট দাবি খারিজ করে দেবেন।
→ বাদী যদি পরবর্তীতে মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, তাহলে—
বিধি ৯ অনুসারে মামলা খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারে।
বিধি ৯(ক) অনুসারে সরাসরি মামলা খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারে।

→ সুতরাং, বাদী অনুপস্থিত থাকলে আদালত মামলা খারিজ (Dismissal) করতে পারেন, যদি বিবাদী বাদীর দাবি স্বীকার না করে।
৬২৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুসারে আদালত কয়টি ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের আদেশ দিতে পারেন?
  1. ২ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি 1908 সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
-----------
CPC-Section-75. Power of Court to issue commissions.
-Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission- 
(a) to examine any person; 
(b) to make a local investigation; 
(c) to examine or adjust accounts; or 
(d) to make a partition.
৬২৪.
যদি কোনো পক্ষের আইনজীবী আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন বা অক্ষম হন, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলাটি খারিজ করে দিতে পারে
  2. আইনজীবীকে জরিমানা করতে পারে
  3. মামলাটি আপিল বিভাগে পাঠাতে পারে
  4. পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি ৪(১) অনুসারে, যদি কোনো পক্ষের আইনজীবী (Pleader) আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন বা অক্ষম হন, এবং আদালতের মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষটি ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে উত্তর দিতে সক্ষম হবে বলে মনে হয়, তাহলে আদালত মামলার শুনানি স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
-------- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 10 Rule-4. Consequence of refusal or inability of pleader to answer:
(1) Where the pleader of any party who appears by a pleader or any such person accompanying a pleader as is referred to in rule 2, refuses or is unable to answer any material question relating to the suit which the Court is of opinion that the party whom he represents ought to answer, and is likely to be able to answer if interrogated in person, the Court may postpone the hearing of the suit to a future day and direct that such party shall appear in person on such day.
(2) If such party fails without lawful excuse to appear in person on the day so appointed, the Court may pronounce judgment against him, or make such order in relation to the suit as it thinks fit.

৬২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫৩ এর অধীনে সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলা দ্রুত শেষ করা
  2. মামলার খরচ কমানো
  3. পক্ষগণের সুবিধা দেওয়া
  4. প্রকৃত প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারা-সংশোধন করার সাধারণ ক্ষমতা:
আদালত যে কোনো সময়, এবং তার উপযুক্ত মনে হলে খরচ বা অন্য কোনো শর্ত আরোপ সাপেক্ষে, কোনো মামলার কার্যধারায় যে কোনো ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে; এবং মামলার কার্যধারার উপর নির্ভরশীল বা উত্থাপিত প্রকৃত প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সকল প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 153. General power to amend:
The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.
৬২৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৯ ধারা কী সম্পর্কে বিধান প্রদান করে?
  1. ডিক্রি জারি
  2. ডিক্রি বাতিল
  3. ডিক্রি হস্তান্তর
  4. ডিক্রি সংশোধন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৪৯ ডিক্রি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন কোনো ডিক্রি অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখন নতুন ডিক্রি-ধারী (transferee) সেই ডিক্রি পূর্বের ডিক্রি-ধারীর অধীনে থাকা সমস্ত শর্ত ও সীমাবদ্ধতার আওতায় গ্রহণ করবে।
- অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী ডিক্রির মাধ্যমে কোনো নতুন সুবিধা বা অধিকারের দাবি করতে পারবে না; বরং পূর্বের ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে যে সকল ন্যায্য অধিকার বা প্রতিবন্ধকতা (equities) প্রয়োগ করা যেত, তা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য থাকবে।
- অন্যদিকে, ৪৯ ধারা ডিক্রি জারি, বাতিল বা সংশোধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সেগুলো অন্য ধারায় উল্লেখ রয়েছে।
⇒ অর্থাৎ ডিক্রি হস্তান্তরের (Transfer of Decree) সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 49. Transferee:
- Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.

৬২৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মামলার বিবদাী থাকবে কমপক্ষে-
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।
⇒ স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
⇒ বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।
⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।
Example: কোন একটা সম্পত্তি কামাল সাহেবের দখলে আছে কিন্তু কামাল সাহেব তার প্রকৃত মালিক না। তিনি প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে চায় কিন্তু রফিক ও সফিক নামের দুইজন ব্যক্তি ঐ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে। 
⇒ এক্ষেত্রে কামাল সাহেব স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits করে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন।
⇒ এই মামলায় শুধু মাত্র মামলার খরচ ব্যতীত অন্য কোনো স্বার্থ থাকে না কামাল সাহেবের।
৬২৮.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে?
  1. বিচারিক কার্যধারা দায়ের করতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  2. ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  3. বলপূর্বক দখলচ্যুত করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
  4. কোন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদন করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,  ১৮৭৭ এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী- যে সকল কারণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যায় না তা উল্লেখ আছে। 

♦  = নিম্নেবর্ণিত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না-
১. বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
২. অধীনস্থ আদালত ছাড়া অন্য কোন আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;
৩. কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
৪. সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে বা বিদেশী সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
৫. কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য ।
৬. যে চুক্তির কার্য সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যায় না এমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্য।
৭. উৎপাত নয় এমন কাজ নিরোধ করার জন্য ।
৮. এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্য যেটাতে বাদী মৌন সম্মতি প্রাদান করেছে।
৯. ট্রাস্ট ভঙ্গের মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য কোন সাধারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সমপরিমাণ যথার্থ প্রতিকার নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন যে, যা তাকে আদালতের সাহায্য হতে বঞ্চিত করে।
১১. যেখানে আবেদনকারীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

♦ এখানে অপশন ক, খ, ঘ এর জন্য আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে না। তবে বলপূর্বক দখলচ্যুত করা হতে কোন ব্যক্তিকে বিরত রাখতে  নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারবেন। 
৬২৯.
আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি উত্থাপন করতে হবে-
  1. প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে
  2. বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার পূর্বে
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময়
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ ধারায় আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি তোলার বিধান রয়েছে।

• নিম্নে আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি তোলার সাধারণ নিয়মগুলো দেয়া হলো-

⇒ আদালতের আর্থিক (pecuniary) এবং আঞ্চলিক (territorial) উভয় এখতিয়ার (jurisdiction) সমন্ধে আপত্তি তোলা যায়।
⇒ আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে পক্ষদের কোন আপত্তি থাকলে, উক্ত আপত্তি প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।
⇒ যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, সেই আদালতেই এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি উত্থাপন করতে হয়।
⇒ সাধারণত আপিল বা রিভিশনে আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি তোলা যায় না, তবে শুধুমাত্র ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে আপিল বা রিভিশনের সময়ও এই দাবি উত্থাপন করা যায়। এছাড়া যদি আরজি উপস্থাপনের সময় আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা থাকে, তবে সেই অনিশ্চয়তা আপিল বা রিভিশন আদালতের নিকট যৌক্তিক মনে হলে এরকম প্রশ্ন আপিল বা রিভিশন আদালত গ্রহণ করতে পারে।
৬৩০.
যদি বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেন এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোনো এজেন্ট না থাকে, তবে সমন কী করতে হবে?
  1. বাতিল করতে হবে
  2. স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে পাঠাতে হবে
  3. বিবাদীর বিদেশস্থ ঠিকানায় পাঠাতে হবে
  4. রাষ্ট্রদূত বা কনস্যুলারের মাধ্যমে পাঠাতে হবে
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির পদ্ধতি: দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫-

বিধি ২১: বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করলে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন কোনো সমন জারিকারী আদালত সমন পাঠাবে এবং সেই আদালত সমন জারি করবে।
বিধি ২৪: বিবাদী কারাগারে বন্দী থাকলে, তার কাছে সমন জারির জন্য কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে সমন পাঠাতে হবে।
বিধি ২৫: বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করলে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোনো এজেন্ট না থাকলে, সমন বিবাদীর বিদেশস্থ ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
বিধি ২৬: বিদেশে থাকা বিবাদীর ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে সমন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জারি করা যেতে পারে।
বিধি ২৭: সরকারী কর্মকর্তা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার জন্য, সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।
বিধি ২৮: বিবাদী যদি সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের কাছে সমন পাঠাতে হবে।
৬৩১.
কোন ধরনের মোকদ্দমায় বিবাদী সেট অফ দাবি করতে পারে?
  1. যেকোনো দেওয়ানি মোকদ্দমায়
  2. স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার মোকদ্দমায়
  3. অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায়
  4. স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারা মোকদ্দমায়
ব্যাখ্যা
অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে, তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ বিধি অনুযায়ী, 
কোন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই (at the first hearing of suit) লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সেট অফের দাবি করতে হয়। প্রথম শুনানির পর আদালতে সেট অফের জন্য লিখিত জবাব দাখিল করা যাবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানির পর Set off এর দাবি করা যায়।

• কোন দেওয়ানী মামলায় বিবাদি যদি সেট অফ দাবি করতে চায়, তাহলে বিবাদীকে নিম্নলিখিত শর্ত সমূহ পূরণ করতে হবে। যেমন-

i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে;
ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে;
iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় করে চাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের সমপরিমান হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না;
iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না; 
v) সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
৬৩২.
একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদের জন্য বিবাদীকে কত টাকা খরচ প্রদান করতে হয়?
  1. অনধিক ২০০০
  2. অনধিক ৩০০০
  3. অনধিক ১০০০
  4. অনধিক ১৫০০
ব্যাখ্যা
একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদের জন্য বিবাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ১৩নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

আদেশ-৯ বিধি-১৩কঃ (সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল)-

বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।

Order 9 Rule 13A: Directly setting aside ex parte decree-

(1) Notwithstanding anything contained in rule 13 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly set aside the decree without requiring the defendant to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 13, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand take as it may deem appropriate and determine:
that the decree under this rule shall not be set aside unless an application, supported by affidavit, praying for setting aside the decree is make the Court within thirty days of the date on which the decree is passed by the defendant who appeared and filed written statement:
Provided further that no decree shall be set aside more than once under this rule at the instance of the same defendant.

2) As soon as an order under sub-rule (1) is made setting aside an ex parte decree, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the defendant upon the plaintiff.
৬৩৩.
ডিক্রি জারি মূল্যে কোন সম্পত্তি নিলাম বিক্রি হলে বিক্রির তারিখ হতে কত দিনের মধ্যে ক্রয়মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২৭ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
♦আদেশ  ২১ বিধি ৮৫ এর বিধান ক্রয়মূল্যের পুরো টাকা পরিশোধের জন্যে সময় (Time for payment in full of purchase-money): ক্রয়মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের দিন হতে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
৬৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১৪ এর বিধি ৪ অনুযায়ী, আদালত কখন সাক্ষী পরীক্ষা বা দলিল পরিদর্শন করতে পারেন?
  1. বিচার্য বিষয় নির্ধারণের আগে
  2. বিচার্য বিষয় নির্ধারণের পরে
  3. মামলার রায় ঘোষণার পরে
  4. মামলার আবেদন গৃহীত হওয়ার আগে
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৪ বিধি ৪- আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নের পূর্বে সাক্ষীকে পরীক্ষা গ্রহণ বা দলিল পরিদর্শন করতে পারেন:
যদি আদালত মনে করে যে, কোনো ব্যক্তির জবানবন্দি ছাড়া বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিদর্শন ছাড়া বিচার্য বিষয় যথাযথভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে আদালত ১৫ দিনের মধ্যে বিষয় নির্ধারণ স্থগিত রাখতে পারে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে হাজির করতে বা সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিতে পারে।

৬৩৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী মধ্যবর্তী মুনাফার (Mesne Profit) বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অবৈধ দখল থেকে অর্জিত মুনাফা।
  2. নিজের জমি থেকে স্বাভাবিক আয়।
  3. আইনগত মালিকানার ভিত্তিতে অর্জিত লাভ।
  4. প্রকৃত মালিকের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তির ব্যবহার।
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে অবৈধ দখল থেকে অর্জিত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২(১২) ধারা অনুসারে, বেআইনিভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনিভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।
ব্যতিক্রম: বেআইনিভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না ।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section 2(12)- "mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession. 
৬৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে ডিক্রি কার্যকর করার জন্য বিবাদীকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে কোথায় আটক রাখা হবে?
  1. পুলিশ কাস্টডিতে
  2. আদালতের কক্ষে
  3. সরকারি আবাসনে
  4. দেওয়ানি কারাগারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৫৫ ধারা অনুযায়ী, ডিক্রি কার্যকর করার জন্য বিবাদীকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হবে। এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো ডিক্রি কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং বিবাদীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৫৫(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারকে গ্রেপ্তার করা হলে যত দ্রুত সম্ভব তাকে আদালতে হাজির করতে হবে। এরপর আদালত যদি তার আটকের আদেশ দেয়, তবে তাকে সংশ্লিষ্ট জেলার দেওয়ানি কারাগারে (Civil Prison) রাখা হবে।
তবে, যদি সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি কারাগারে উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো স্থানে তাকে আটক রাখা যেতে পারে।

⇒ অর্থাৎ দেনাদারকে গ্রেপ্তার করা হলে দেওয়ানি কারাগারেই আটক রাখা হবে, যা দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৫(১) ধারার বিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
৬৩৭.
ক্ষুদ্র এখতিয়ার সম্পন্ন কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশের ক্ষেত্রে রিভিশন এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে-
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা জজ আদালত
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
The Small Cause Courts Act, 1887 এর ধারা ২৫ অনুযায়ী,
যদি কোনো ক্ষুদ্র এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত (Court of Small Causes) কোনো ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই ডিক্রি বা আদেশের বৈধতা যাচাই করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগ তার রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। এর অর্থ হলো, হাইকোর্ট বিভাগ সেই মামলা বা বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে এবং যদি মনে করে যে নিম্ন আদালতের আদেশ বা ডিক্রি আইন অনুযায়ী হয়নি, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ সেই ক্ষেত্রে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
৬৩৮.
ক্ষেত্রবিশেষে সমন বিকল্পভাবে জারি করা হলে, আদালত কার হাজিরার জন্য যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে?
  1. বিবাদীর
  2. বাদীর
  3. উভয়ের
  4. সাক্ষীর
ব্যাখ্যা
সমন বিকল্পভাবে জারি করলে সেক্ষেত্রে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদির হাজিরার জন্য আদালত যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে।

• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৫নং আদেশে, ২১নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে।

বিধি ২০(৩) অনুসারে, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সমন বিকল্পভাবে জারি করলে সেক্ষেত্রে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদির হাজিরার জন্য আদালত যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে।
৬৩৯.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে কোন বিষয়টির নিয়ম নির্ধারণ করা হয়নি?
  1. সমন জারির নিয়ম
  2. আপিল করার নিয়ম
  3. ফৌজদারি মামলার বিচার
  4. মামলা দায়ের করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি (সিভিল) মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে। তবে এটি ফৌজদারি (অপরাধমূলক) মামলার বিচার সংক্রান্ত কোনো বিধান নির্ধারণ করে না।

অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
- ক) সমন জারির নিয়ম → দেওয়ানি কার্যবিধিতে কীভাবে মামলার পক্ষগুলোর কাছে সমন পাঠানো হবে, তার বিস্তারিত নিয়ম দেওয়া আছে (Order V of CPC)।
- খ) আপিল করার নিয়ম → দেওয়ানি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা (যেমন Section 96-112) আপিল, রিভিশন ও রিভিউ করার বিধান নির্ধারণ করে।
- ঘ) মামলা দায়ের করার পদ্ধতি → দেওয়ানি কার্যবিধির Order IV-এ কীভাবে দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে হবে, তা উল্লেখ আছে।

তবে,
- গ) ফৌজদারি মামলার বিচার → এটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure, 1898) বা সংক্ষেপে CrPC দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ, দেওয়ানি কার্যবিধি শাস্তিমূলক বা অপরাধমূলক (criminal) বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
৬৪০.
“অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা” (mesne profits) এর দাবিতে মামলা করলে বাদী অভিযোগে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. সঠিক পরিমাণ
  2. আনুমানিক পরিমাণ
  3. সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পরিমাণ
  4. পূর্ববর্তী বছরের পরিমাণ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: খ) আনুমানিক পরিমাণ।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-৭, বিধি-২ অনুসারে, "অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা" (mesne profits) বা অপরিষ্কৃত হিসাবের ভিত্তিতে টাকা আদায়ের মামলা করলে, বাদী লিখনে আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ করাই যথেষ্ট।
অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা: এটি সম্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে অর্জিত আয় বা লাভ, যা প্রকৃত মালিক পেতে পারতেন যদি সম্পত্তি তার দখলে থাকত।
উদাহরণ: জমি দখলদার কর্তৃক ভাড়া আদায় করা।

- আদেশ-৭, বিধি-২-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে:
"where the plaintiff sues for mesne profits... the plaint shall state approximately the amount sued for."
("অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা" (mesne profits) এর দাবিতে আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে)।

- "অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা" (mesne profits) এর সঠিক হিসাব মামলার প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় (হিসাব নিরূপণের মাধ্যমে)। আদালত হিসাব রিপোর্ট (Commission for Accounts) নির্দেশ দিতে পারে।
- আনুমানিক পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে (মূল দাবির সাথে সাংঘর্ষিক না হলে)। আদালত স্টাম্প ফি আনুমানিক মূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) আনুমানিক পরিমাণ।
৬৪১.
‘ক’ একজন পার্লামেন্ট সদস্য। ‘ক’ কে পার্লামেন্ট চলাকালীন সময় দেওয়ানী প্রক্রিয়ায়-
  1. গ্রেফতার করা যাবে
  2. গ্রেফতার করা যাবে না
  3. কারাগারে আটক রাখা যাবে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১৩৫ (ক) ধারায় বলা হয়েছে যে, সংসদের অধীবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ সদস্যকে দেওয়ানী পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যাবে না বা কারাগোরে আটক রাখা যাবে না।

• ‘ক’ যেহেতু সংসদ সদস্য তাই সংসদ চলাকালীন সময়ে গ্রেফতার করা যাবে না।
৬৪২.
কোনো মোকদ্দমায় যদি আদালত মনে করে বাদীদের সংযুক্তি বিচার বিলম্বিত করতে পারে, তাহলে আদালত ১নং আদেশের বিধি ২ অনুসারে কী আদেশ দিতে পারে?
  1. একত্রিত বিচারের আদেশ
  2. পৃথক বিচারের আদেশ
  3. মোকদ্দমা স্থগিত করবে
  4. স্বতঃস্ফূর্তভাবে রায় প্রদান করবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে। একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-
১. মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
২. মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে। 

• তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ দিতে পারেন। সেই বিষয়ে ১নং আদেশের বিধি ২ তে বলা আছে-
যেক্ষেত্রে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, বাদীদের কোন প্রকার সংযুক্তি মোকদ্দমার বিচারকে ভারগ্রস্ত বা বিলম্বিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে আদালত বাদীদের পছন্দের উপর ছেড়ে দিতে পারে অথবা পৃথক বিচার অনুষ্ঠানের আদেশ অবস্থা বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য কোন আদেশ দিতে পারে।

Rule-2: Power of Court to order separate trials-
Where it appears to the Court that any joinder of plaintiffs may embarrass or delay the trial of the suit, the Court may put the plaintiffs to their election or order separate trials or make such other order as may be expedient.
৬৪৩.
আদেশ ২১ বিধি-৬৫ অনুযায়ী, যদি অন্য কিছু নির্ধারিত না হয়, তবে কার দ্বারা নিলাম বিক্রয় পরিচালিত হবে?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. বাদীর আইনজীবী
  4. আদালতের কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
আদেশ ২১ বিধি-৬৫: কার দ্বারা এবং কিভাবে নিলাম বিক্রয় পরিচালিত হবে:
অন্যরূপ নির্ধারণ ব্যতীত ডিক্রি জারির দরুন প্রত্যেক নিলাম বিক্রয় আদালতের কোন কর্মকর্তা কিংবা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অপর কোন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত হবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রকাশ্য নিলামে সম্পন্ন করতে হবে।

Rule.-65: Sales by whom conducted and how made-
Save as otherwise prescribed, every sale in execution of a decree shall be conducted by an officer of the Court or by such other person as the Court may appoint in this behalf, and shall be made by public auction in manner prescribed.
৬৪৪.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় সহকারী জজের কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে-
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. দায়রা আদালতে
ব্যাখ্যা
- রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

- দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে। 

- অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে। জেলা জজ আদালত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনানীর এখতিয়ার রাখে না।
সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন জেলা জজের আদালতে দাখিল করতে হয়, তবে এই সকল আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।
৬৪৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 ধারা ৯৪(ক) কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণ
  2. মামলা খারিজ
  3. আপিল নিষ্পত্তি
  4. ডিক্রি কার্যকর
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক- আদেশ/ডিক্রি কার্যকর করার নির্দেশ:
যে কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশ দিতে পারবে— যে কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অন্তর্ভুক্ত, তাকে আদালতের নির্ধারিত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত সেই সহায়তা প্রদানের অনুপালনের প্রতিবেদন আদালতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাখিল করতে বলতে পারবে।

৬৪৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭ অনুযায়ী নিম্নলিখিত কোনটি হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উদাহরণ নয়?
  1. হুন্ডি
  2. চেক
  3. প্রমিসরি নোট
  4. জমির দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৭ (Order XXXVII of the Code of Civil Procedure, 1908) শুধু মাত্র হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments)-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি প্রবর্তন করে।
- হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments) বলতে বোঝায় এমন আর্থিক দলিল যা এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং যেটি হস্তান্তরযোগ্য অর্থাৎ সহজেই অন্য কারো নামে স্থানান্তর করা যায়।
আদেশ ৩৭ এর আওতাভুক্ত হস্তান্তরযোগ্য দলিলসমূহ:
ক) হুন্ডি (Hundi): ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের অর্থনৈতিক দলিল, বিশেষ করে উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয়।
খ) চেক (Cheque): একটি প্রচলিত ব্যাংক দলিল যা হস্তান্তরযোগ্য।
গ) প্রমিসরি নোট (Promissory Note): এক ব্যক্তি অন্যকে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের লিখিত প্রতিশ্রুতি।

ঘ) জমির দলিল (Deed of Land): হস্তান্তরযোগ্য দলিল নয়।
- এটি একটি অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল, অর্থাৎ জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কারো নামে লিখে দেওয়ার দলিল। এটি আর্থিক প্রতিশ্রুতির দলিল নয় এবং সহজে হস্তান্তরযোগ্য দলিল হিসেবেও গণ্য হয় না।

-  অর্থাৎ জমির দলিল আদেশ ৩৭ এর অধীনে দায়েরকৃত মামলার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উদাহরণ নয়।
৬৪৭.
একজন সিনিয়র সিভিল জজের আর্থিক মূল্যমান ক্ষমতা (Pecuniary Jurisdiction) কত টাকা পর্যন্ত?
  1. ৫ লক্ষ টাকা
  2. ১৫ লক্ষ টাকা
  3. ২৫ লক্ষ টাকা
  4. ৩৫ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ১৯ (সিভিল কোর্টস (সংশোধন) আইন, ২০২১ দ্বারা সংশোধিত) অনুসারে, সিনিয়র সিভিল জজ এর আর্থিক মূল্যমান ক্ষমতা (Pecuniary Jurisdiction) ২৫ (পচিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এটি সিভিল মামলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য, যদি না অন্য কোনো আইন দ্বারা ভিন্নতর বিধান থাকে।

⇒ দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (কোন আদালতে কত টাকার মামলা হবে):
- সিভিল জজ: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মামলা।
- সিনিয়র সিভিল জজ: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মামলা।
- যুগ্ম জেলা জজ: ২৫ লক্ষ টাকার বেশি যেকোনো মূল্যের মামলা (সীমাহীন)।
- জেলা জজ: সীমাহীন মামলা।

৬৪৮.
কোন ধারা অনুযায়ী প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার বিচার করার এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে?
  1. দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ ধারা
  2. দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারা
  3. Civil Courts Act, 1887 এর ১৮ ধারা
  4. Civil Courts Act, 1887 এর ১৯ ধারা
ব্যাখ্যা
আর্থিক এখতিয়ার বা Pecuniary Jurisdiction:
আর্থিক এখতিয়ার বলতে মোকদ্দমার মূল্যমানের ভিত্তিতে কোন মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ারকে বোঝায়। দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৬, ১৫ ধারা এবং দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এর ১৮, ১৯ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার আলোচনা করা হয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ ধারা অনুযানী কোন আদালত তার এখতিয়ার অতিরিক্ত মূল্যমানের মোকদ্দমার বিচার করতে পারবেনা এবং ১৫ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার বিচার করার এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে। বলা হয়েছে-
"Every suit shall be institued in the court of the lowest grade competent to try it"

অন্যদিকে,
দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, যুগ্ম জেলা জজ আদালত ২৫ লক্ষ থেকে অসীম মূল্যমানের মোকদ্দমার বিচার করতে পারবেন। একই আইনের ১৮ ধারার বিধান অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ পর্যন্ত এবং সহকারী জজ আদালত ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যমানের মোকদ্দম্র বিচার করতে পারবে।
৬৪৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
  1. ৪ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১০ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ৮ মে, ২০২৫ তারিখে। অধ্যাদেশের ধারা ১(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য দেওয়ানি মামলার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, যেমন ডিজিটাল সামনস সার্ভিস, অ্যাফিডেভিটভিত্তিক সাক্ষ্য ইত্যাদি সংশোধনের মাধ্যমে।
⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) এর সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন বিষয়ক ধারা ১(১) এবং ১(২)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই অধ্যাদেশটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই তারিখটি অধ্যাদেশের প্রকাশনার সাথে সম্পর্কিত এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে প্রণীত ও জারি করা হয়েছে।

- অর্থাৎ, প্রশ্নটি The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance কার্যকর হওয়ার তারিখ সম্পর্কে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 এর ধারা ১(২) তে বলা হয়েছে যে এটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

- এই অধ্যাদেশটি দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিভিন্ন ধারা ও বিধিতে সংশোধনী এনেছে, যার মাধ্যমে মোকদ্দমার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

৬৫০.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত আদেশের কত বিধি অনুযায়ী আপীল আদালত আপীলের স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
  1. আদেশ ৪১, বিধি ২
  2. আদেশ ৪১, বিধি ৩
  3. আদেশ ৪১, বিধি ৪ 
  4. আদেশ ৪১, বিধি ৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩ এর বিধান স্মারকলিপি প্রত্যাখান বা সংশোধন: ১) যেক্ষেত্রে ইতোপূর্বে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক আপিলের স্মারকলিপি প্রণীত হয় নি, সেক্ষেত্রে আদালত সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে, অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সংশোধনের জন্য অথবা তৎক্ষণাৎ সেটি সংশোধন করার জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।
২) যেক্ষেত্রে আদালত কোন স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করে, সেক্ষেত্রে ঐ অগ্রাহ্যের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।
৩) যেক্ষেত্রে আপিলের স্মারকলিপি সংশোধন করা হয় সেক্ষেত্রে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সংশোধনীতে স্বাক্ষর বা অনুস্বাক্ষর করবেন।
--------------
⇒ Order 41 Rule.-3: Rejection or amendment of memorandum.-1) Where the memorandum of appeal is not drawn up in the manner hereinbefore prescribed, it may be rejected, or be returned to the appellant for the purpose of being amended within a time to be fixed by the Court or to be amended then and there.
2) Where the Court rejects any memorandum, it shall record the reasons for such rejection,
3) Where a memorandum of appeal is amended, the Judge or such officer as he appoints in this behalf, shall sign or initial the amendment.
৬৫১.
আদেশ ২৩-এর বিধান কখন প্রযোজ্য হবে না?
  1. মামলা দায়েরের কার্যক্রমে
  2. ডিক্রি কার্যকর করার কার্যক্রমে
  3. দাবির আংশিক পরিত্যাগের সময়
  4. মামলার আপোষ মীমাংসার কার্যক্রমে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ এর বিধি ৪ স্পষ্টভাবে বলে:
"এই আদেশের কোনো কিছুই ডিক্রি বা আদেশের জারির কোন কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে না।"
অর্থাৎ, একবার ডিক্রি হয়ে গেলে সেটি কার্যকর করার বা execution চালানোর জন্য আদেশ ২৩-এর বিধান প্রযোজ্য নয়। এ জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।

Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.

৬৫২.
'Suit of Civil nature' is Defined in-
  1. Section 6 of CPC
  2. Section 9 of CPC
  3. Section 15 of CPC
  4. Section 13 of CPC
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারার ব্যাখায় কোন ধরনের মোকদ্দমাসমূহ দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা, তা উল্লেখ আছে।

ধারা- ৯ঃ নিষেধ না থাকলে আদালত সকল প্রকার দেওয়ানি মোকদ্দমার বিচার করবেন-
এই আইনে বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিষিদ্ধ না থাকলে সকল প্রকার দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমার বিচার করার এখতিয়ার আদালতের থাকবে ।
ব্যাখা- যে সকল মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা; উক্ত অধিকার ধর্মীয় কার্য বা উৎসব সম্পর্কিত প্রশ্নের মীমাংসার উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করলেও তার ফলে দেওয়ানি প্রকৃতি নষ্ট হয় না।

Section 9: Courts to try all Civil suits unless barred-
The Courts shall (subject to the provisions herein contained) have jurisdiction to try all suits of a civil nature excepting suits of which their cognizance is either expressly or impliedly barred.

Explanation- A suit in which the right to property or to an office is contested is a suit of a civil nature, notwithstanding that such right may depend entirely on the decision of questions as to religious rites or ceremonies.
৬৫৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-২০ অনুযায়ী আদালত যদি বিকল্প/লটকাইয়া সমন জারির আদেশ দেয়, তবে কতদিনের মধ্যে বিবাদীকে উপস্থিত হতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ৫ এর বিধি ২০ অনুযায়ী বিকল্প বা লটকাইয়া সমন জারির বিষয়ে বিধান আছে।
⇒ আদালত যদি যুক্তি সঙ্গত কারনে বিশ্বাস করে যে, বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে আছে বা অন্য কোন কারনে সমন জারি করা যাচ্ছে না তাহলে আদালত সমন লটকাইয়া /বিকল্প জারির আদেশ দিতে পারেন।
⇒ বিবাদীর বাসগৃহে বা সর্বশেষ বসবাস স্থানে/ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে লটকাইয়া সমন জারি করা যায়।
⇒ যখন আদালত উপ-বিধি (১) অনুযায়ী সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমন জারির আদেশ দান করে, তখন উক্ত সংবাদপত্রটি হতে হবে দৈনিক সংবাদপত্র, যার প্রচার অনুরূপ স্থানে থাকতে হবে সেখানে বিবাদি সর্বশেষ জ্ঞাত ঠিকানায় প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করে বা ব্যবসা পরিচালনা করে বা ব্যক্তিগত লাভের নিমিত্তে কাজ করে বলে জানা যায়।
⇒ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সমন বিকল্পভাবে জারি করলে তা বিবাদির উপর ব্যক্তিগতভাবে জারি করার মতই কার্যকরী হবে।
⇒ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সমন বিকল্পভাবে জারি করলে সেক্ষেত্রে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে বিবাদির হাজিরার জন্য আদালত যথোপযুক্ত সময় নির্ধারিত করবে।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-5 Rule-20: Substituted service:
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit. 
(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.
⇒ Effect of substituted service:
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.

⇒ Where service substituted, time for appearance to be fixed:
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require.
৬৫৪.
'Every Civil Court under this Act shall use a seal of such form and dimensions as are prescribed by the Government.' এটি The Civil Courts Act, 1887 এর কত ধারার বিধান?
  1. ১২
  2. ১৬
  3. ১৫
  4. ১৭
ব্যাখ্যা
'Every Civil Court under this Act shall use a seal of such form and dimensions as are prescribed by the Government.' এটি The Civil Courts Act, 1887 এর ১৬ ধারার বিধান।
--------
⇒ The Civil Courts Act, 1887 Section 16. Seals of Courts: Every Civil Court under this Act shall use a seal of such form and dimensions as are prescribed by the Government. 
৬৫৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী নিচের কোনটি ডিক্রির অন্তর্ভুক্ত করা যায়?
  1. প্রাথমিক ডিক্রি
  2. চূড়ান্ত ডিক্রি
  3. আংশিক প্রাথমিক এবং আংশিক চূড়ান্ত ডিক্রি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ২(২) ধারার বিধানমতে ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক রীতিসিদ্ধভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মামলার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই ডিক্রি" প্রাথমিক বা চুড়ান্তও হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে নিম্নলিখিত বিষয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হবে না
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের মত আপীল করা যায়; অথবা
খ) কোন ক্রটির জন্য খারিজের আদেশ।

ব্যাখ্যা: ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে, মামলা যখন চূড়ান্তরূপে নিস্পত্তি হয়, তখনই ডিক্রি চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কোন ডিক্রি আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে।

দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ২(২) ধারাতে ৩ ধরনের ডিক্রির কথা বলা হয়েছে।
১। প্রাথমিক ডিক্রি
২। চূড়ান্ত ডিক্রি
৩। আংশিক প্রাথমিক এবং আংশিক চূড়ান্ত ডিক্রি
ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরো ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন থাকে। মামলা যখন চূড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি হয় তখন তাকে চূড়ান্ত ডিক্রি বলে।
৬৫৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৬ বিধি ১৪ অনুসারে, মোকদ্দমার বহিরাগত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে কে তলব করতে পারে?
  1. শুধু বাদী
  2. শুধু বিবাদী
  3. আদালত নিজ উদ্যোগে
  4. মোকদ্দমার যে কোনো পক্ষ
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৬ বিধি ১৪: আদালত নিজ উদ্যোগে মোকদ্দমার বহিরাগত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারে:
উপস্থিতি ও হাজিরা সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানাবলী এবং বলবৎ যে কোন আইন সাপেক্ষে, আদালত যদি যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এবং মোকদ্দমার কোন পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়নি এমন কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আদালত নিজ উদ্যোগে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত দিনে সাক্ষ্য প্রদান বা তার দখলে থাকা কোন দলিল উপস্থাপনের জন্য সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারে এবং তাকে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করতে বা উক্ত দলিল উপস্থাপন করতে বলতে পারে।

৬৫৭.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কোন কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে?
  1. মীমাংসা ও আপিল
  2. মধ্যস্থতা ও সালিশী
  3. আপোষ ও মীমাংসা
  4. আপিল ও মধ্যস্থতা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১/ মধ্যস্থতা (Mediation);
২/ সালিশী (Arbitration).

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
৬৫৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮, বিধি ৯ অনুসারে, আদালত কখন কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে?
  1. শুধু মামলার শুরুতে
  2. শুধু সাক্ষ্যগ্রহণের পর
  3. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
  4. বিচার্য বিষয় গঠনের আগে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৯ অনুসারে, আদালত যে কোনো সময় (at any time) প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি (written statement or additional written statement) পেশের আদেশ দিতে পারেন এবং তার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন। আদালতের এই ক্ষমতা মামলার যেকোনো পর্যায়ে প্রযোজ্য, শুধুমাত্র শুরুতে বা বিচার্য বিষয় গঠনের আগে সীমাবদ্ধ নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী- আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদির লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.

৬৫৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে কোন বিষয় সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. প্লিডিংস সংশোধন
  2. প্লিডিংস কর্তন
  3. প্লিডিংস সত্যাখ্যান
  4. প্লিডিংস পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে-

সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সই হলে, অন্য কোনো ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন, যে স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

[Verification of pleadings.-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.
2 ) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.
3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.]
৬৬০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৩ এর কোন বিধি অনুসারে আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে আদেশ-৪১ এর নিয়ম প্রযোজ্য হয়?
  1. বিধি-১
  2. বিধি-২
  3. বিধি-৩
  4. বিধি-৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৩, বিধি-২ হলো সেই বিধান যেখানে বলা হয়েছে যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আদেশ-৪১ প্রযোজ্য হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৩, বিধি-২ (Order XLIII, Rule 2) অনুযায়ী: "The rules of Order XLI shall apply, so far as may be, to appeals from orders."
- অর্থাৎ, আদেশ-৪৩ এর আওতাভুক্ত আপিলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে যখন আপিল করা হয়, তখন আদেশ-৪১ (Order XLI)–এর নিয়মাবলি প্রযোজ্য হয়, যতদূর প্রয়োগযোগ্য হয়।
৬৬১.
আদেশ ৪১ বিধি ২৩ এর অধীন আপিল আদালত মোকদ্দমার কোন বিষয়ে আদেশ দিতে পারে?
  1. মোকদ্দমা বাতিলের
  2. মোকদ্দমা স্থগিত করার
  3. মোকদ্দমা উচ্চ আদালতে পাঠানোর
  4. মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণের
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-২৩- বিচারের নিমিত্তে আপিল আদালত কর্তৃক মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ:

যেক্ষেত্রে যে আদালতের ডিক্রী হতে আপিল দায়ের করা হয়েছে, সে আদালত যদি মোকদ্দমাটি কোন প্রাথমিক বিষয়ের উপর নিস্পত্তি করে থাকেন এবং আপিলে উক্ত ডিক্রী রদ হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত উপযুক্ত মনে করলে মোকদ্দমাটি পুনঃপ্রেরণের আদেশ দিতে পারেন এবং অনুরূপে পুনঃপ্রেরিত মোকদ্দমায় কোন্ কোন বিষয় বা বিষয়াবলীর বিচার করতে হবে তৎসম্পর্কে আরো নির্দেশ দিতে পারেন এবং এটির রায়ের ও আদেশের একটি নকল যে আদালতে ডিক্রী হতে আপিল করা হয়েছে, অনুরূপ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমার রেজিস্ট্রারে সেটির মূল নম্বরের অধীনে মোকদ্দমাটি বিচারার্থে পুনঃগ্রহণ করার এবং মোকদ্দমা নিস্পত্তি করার নির্দেশাবলীসহ প্রেরণ করতে হবে এবং মূল বিচারকালে লিপিবদ্ধকৃত সাক্ষ্য (যদি কোন) যাবতীয় সঙ্গত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ঐগুলোও পুনরায় প্রেরণের পর বিচারকালে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে।

Order 41 Rule 23- Remand of case by Appellate Court:
Where the Court from whose decree an appeal is preferred has disposed of the suit upon a preliminary point and the decree is reversed in appeal, the Appellate Court may, if it thinks fit, by order remand the case, and may further direct what issue or issues shall be tried in the case so remanded, and shall send a copy of its judgment and order to the Court from whose decree the appeal is preferred, with directions to re-admit the suit under its original number in the register of civil suits, and proceed to determine the suit; and the evidence (if any) recorded during the original trial shall, subject to all just exceptions, be evidence during the trial after remand.
৬৬২.
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু _________ হলে আদালতের অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা থাকে।
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. স্থাবর সম্পত্তি
  3. দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল
  4. মাদক বা চোরাইমাল
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৬ এর বিধান অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা (Power to order interim sale):
- কোন অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকলে অথবা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকলে, যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল, অথবা যা অন্য কোন ন্যায় সঙ্গত এবং যথেষ্ট কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করার প্রয়োজন হয়, তা আদালত মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেন।
⇒  আদেশ ৩৯ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর আগে শুনানীকাল পর্যন্ত বা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যে আদেশ দেওয়া হয় তাঁকে ad interim injunction order বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ বলা হয়।
⇒  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর পর দরখাস্তের গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে আদেশ দিতে হয়, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরখাস্তের গুণাগুণ যাচাইয়ের দরকার পড়ে না, বরং পরিস্থিতি খুবই জরুরি হলে এই আদেশ দেওয়া যায়।

তাই উল্লিখিত প্রশ্নে 'দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল' অপশনটি অধিক গ্রহণযোগ্য।
--------------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908,Order-39 Rule-6. Power to order interim sale:
- The Court may, on the application of any party to a suit, order the sale, by any person named in such order, and in such manner and on such terms as it thinks fit, of any movable property, being the subject-matter of such suit, or attached before judgment in such suit, which is subject to speedy and natural decay, or which for any other just and sufficient cause it may be desirable to have sold at once.
৬৬৩.
কত দিন পূর্বে প্রতারণামূলক সম্পত্তি হস্তান্তর করলে নিঃসম্বল ব্যক্তির আবেদন পত্র প্রত্যাখ্যান হবে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৩ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা  দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারন থাকে না সেক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয়বস্তু ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে উক্ত ব্যক্তি নিঃস্ব হিসেবে গণ্য হবে।
⇒ নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করার অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
⇒ তবে আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে যদি আবেদনের ২ মাস পূর্বে প্রতারনামূলক সম্পত্তি হস্তান্তর করে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৩ বিধি-৫ এর বিধান: আবেদন পত্র প্রত্যাখ্যান (Rejection of application): নিম্নোক্ত কারণে নিঃস্ব ব্যক্তির আবেদনপত্র প্রত্যাখ্যান করা যায়-
- নির্ধারিত বিধান অনুসারে আবেদনপত্র গঠন ও দাখিল করা হয়নি; বা  আবেদনকারী নিঃস্ব নয়; বা

-সে আবেদনপত্র দাখিলে অব্যবহিত দুই মাসের মধ্যে প্রতারণামূলকভাবে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা করার অনুমতি লাভের জন্য আবেদন করতে সমর্থ হওয়ার জন্য কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করেছে; বা 

-সে তার অভিযোগের কোন নালিশের কারণ উল্লেখ না করে, বা
- সে প্রস্তাবিত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন চুক্তিতে পৌঁছেছে যার ফলে উক্ত বিষয় বস্তুতে অন্য কোন ব্যক্তির স্বার্থ সৃষ্ট হয়েছে।
৬৬৪.
দেওয়ানী মামলায় যুগ্ম জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার কত?
  1. সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা
  2. সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা
  3. সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ টাকা
  4. সীমাহীন
ব্যাখ্যা
• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হবে সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্থিক এখতিয়ার সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে নির্ধারিত হয়।

• The Civil Courts Act, 1887 আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী-

⇒ সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা
⇒ সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা
⇒ যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের; মোকদ্দমার বিচার করতে পারে।

অর্থাৎ যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো মূল্যমানের মোকদ্দমার বিচার করার এখতিয়ার আছে।
৬৬৫.
দেওয়ানি আদালত মোকদ্দমার খরচার ওপর সুদ প্রদান করতে পারে অনধিক-
  1. মাসিক ৬%
  2. বার্ষিক ৬%
  3. মাসিক ১২%
  4. বার্ষিক ১২%
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫ ধারা- মোকদ্দমার খরচ:
১) নির্ধারিত হতে পারে এরূপ শর্তাবলী ও সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে মোকদ্দমার খরচ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় আদালতের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে এবং কার দ্বারা বা কোন সম্পত্তি হতে ও কি পরিমাণ খরচ দিতে হবে তা নির্ধারণ করার এবং উক্ত সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানের ব্যাপারে আদালতের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগে মোকদ্দমা বিচারে আদালতের এখতিয়ার নেই বলে কোন বাধা সৃষ্টি হবে না।

২) যখন কোন আদালত নির্দেশ দেন যে, মোকদ্দমার ফলে কোন খরচ দেওয়া হবে না, তখন আদালত উহার কারণ লিখিতভাবে বর্ণনা করবে।

৩) আদালত মোকদ্দমার খরচের উপর অনধিক শতকরা বার্ষিক ৬% হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে এবং এই সুদ খরচের সাথে যোগ হবে ও যথারীতি আদায়যোগ্য হবে।
৬৬৬.
সহকারী জজের বিচারিক এখতিয়ার কত টাকার পর্যন্ত মামলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ?
  1. ১০ লাখ টাকা
  2. ১৫ লাখ টাকা
  3. ২৫ লাখ টাকা
  4. ৫০ লাখ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সিভিল কোর্টস (সংশোধন) আইন, ২০২১ অনুযায়ী, সহকারী জজ (Assistant Judge) সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা মূল্যের মামলা পরিচালনা করতে পারেন।
- অন্যদিকে, সিনিয়র সহকারী জজ (Senior Assistant Judge) ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলার বিচার করতে পারেন।
- এই সীমাবদ্ধতা বর্তমান কার্যকর আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সীমার তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৬৬৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৫নং বিধির মূল বক্তব্য কী?
  1. সকল বিবাদীর স্বার্থ সব প্রতিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে হবে
  2. সকল প্রতিকার সব বিবাদীর বিরুদ্ধে দাবি করতে হবে
  3. সকল বিবাদীর স্বার্থ সব প্রতিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়া প্রয়োজন নেই
  4. মামলা দায়েরের জন্য সকল বিবাদীর সম্মতি থাকতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৫নং বিধি অনুযায়ী-

"বিবাদীগণের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় যেসকল প্রতিকার দাবী করা হয়, তন্মধ্যে সবগুলোই প্রত্যেক বিবাদির স্বার্থসম্পর্কিত হওয়ার দরকার নেই।"
It shall not be necessary that every defendant shall be interested as to all the relief claimed in any suit against him.
৬৬৮.
কত বিধি অনুযায়ী আপিল আদালত আপিলকারীর নিঃস্বতা সম্বন্ধে তদন্ত করতে পারে?
  1. আদেশ ৩৩ বিধি-২
  2. আদেশ ৪১ বিধি-২
  3. আদেশ ৪৪ বিধি-২
  4. আদেশ ৪৫ বিধি-২
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪৪ বিধি-২: নিঃস্বতা সম্বন্ধে তদন্ত:
আবেদনকারীকে নিঃস্বতা সম্পর্কে আপিল আদালত স্বয়ং অথবা যে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আদালতের আদেশক্রমে আপিল করা হয়েছে, সেই আদালত তদন্ত করতে পারবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী যদি যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল করা হয় সে আদালতে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা বা আপিল করার অনুমতি পেয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত অনুরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে কারণ না দেখলে তার নিঃস্বতা সম্পর্কে পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন হবে না।
৬৬৯.
দেওয়ানি মোকদ্দমার কোন পর্যায়ে কোনো সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে প্রশ্নের উদ্ভব হলে, আদালত তা পরিদর্শন করতে পারে?
  1. যেকোনো পর্যায়ে
  2. তদন্তকালীন পর্যায়ে
  3. সমন জারিকালীন
  4. বিচারকালীন সময়ে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ১৮ বিধি- ১৮: আদালত কর্তৃক পরিদর্শনের ক্ষমতা:
মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে আদালত তা পরিদর্শন করতে পারেন।
-------------
Order 18 Rule 18: Power of court to inspect:
The Court may at any stage of a suit inspect any property or thing concerning which any question may arise.
৬৭০.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় আপীল মেমো সংশোধনের সময়-
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২১ দিন
  4. আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩ এর বিধান স্মারকলিপি প্রত্যাখান বা সংশোধন:
১) যেক্ষেত্রে ইতোপূর্বে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক আপিলের স্মারকলিপি প্রণীত হয় নি, সেক্ষেত্রে আদালত সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে, অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সংশোধনের জন্য অথবা তৎক্ষণাৎ সেটি সংশোধন করার জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।
২) যেক্ষেত্রে আদালত কোন স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করে, সেক্ষেত্রে ঐ অগ্রাহ্যের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।
৩) যেক্ষেত্রে আপিলের স্মারকলিপি সংশোধন করা হয় সেক্ষেত্রে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সংশোধনীতে স্বাক্ষর বা অনুস্বাক্ষর করবেন।
--------------
⇒ Order 41 Rule-3: Rejection or amendment of memorandum:-
1) Where the memorandum of appeal is not drawn up in the manner hereinbefore prescribed, it may be rejected, or be returned to the appellant for the purpose of being amended within a time to be fixed by the Court or to be amended then and there.
2) Where the Court rejects any memorandum, it shall record the reasons for such rejection,
3) Where a memorandum of appeal is amended, the Judge or such officer as he appoints in this behalf, shall sign or initial the amendment.
৬৭১.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় মধ্যস্থতা (Mediation) এর বিধান রয়েছে?
  1. ৭৯ক ধারা
  2. ৮৯ক ধারা
  3. ৮৯খ ধারা
  4. ৮৮ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ Mediation, যার বাংলা হচ্ছে মধ্যস্থতা। কোন একটি দেওয়ানী মামলার বিচারকার্য আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত উভয় পক্ষের প্লিডিংস দেখার পর শুনানিতে যাওয়ার আগেই উভয় পক্ষকে উক্ত মামলাটি আদালত ব্যতীত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করতে বলবেন। এটা ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ সংশোধনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৮৯ক ধারায় বলা হয়েছে যে, লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি মোকদ্দমার উভয় পক্ষ নিজে / আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয় তাহলে আদালত শুনানী মুলতবী রেখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
- মধ্যস্থতার ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হইলে আদালত পরবর্তীতে ৭ দিনের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিবেন।
- মধ্যস্থতার সময় হবে ৬০ দিন তবে সর্বাধিক ৯০ দিনের বেশি নয়।
৬৭২.
বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কোন পন্থায় ৩য় পক্ষ উপস্থিত থাকে না?
  1. Mediation
  2. Arbitration
  3. Negotiation
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• আদালত বা সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে আইনসিদ্ধ পদ্ধতি মেনে ও সহমত পোষণ করে বিকল্পভাবে পক্ষগণের বিরোধ বা সমস্যার নিষ্পত্তিকরণই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, যাকে ইংরেজিতে Alternative Dispute Resolution (ADR) বলা হয়।

• বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিম্ন বর্ণিত পন্থা রয়েছে-
আলাপ-আলোচনা (Negotiation);
মধ্যস্থতা (Mediation);
সালিশী (Arbitration)।

১. আলাপ-আলোচনা [Negotiation]-
এমন একটি পদ্ধতি যেখানেই কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে বিরোধের দুই পক্ষই যখন তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই একটি সুবিধাজনক পরিণতির দিকে পৌঁছে বা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সমাধান করে থাকে। আলাপ-আলোচনার [Negotiation] মাধ্যমে শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১০(২) ২১০(৩) উপধারায় বলা আছে।

২. মধ্যস্থতা কার্যক্রম [Mediation]-
এ পদ্ধতিতে কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তৃতীয় কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং কোন পক্ষের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে দুটি পক্ষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা হয়। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯[ক] এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ২২ ধারাতে মধ্যস্থতা বিষয়ে বলা হয়েছে।

৩. সালিশ প্রক্রিয়া [Arbitration]-
সালিশ[Arbitration] প্রক্রিয়াটি অনেকটা মধ্যস্থতা পদ্ধতির অনুরূপ। এ কারণেই সালিশ কার্যক্রম [Arbitration] কে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উন্নত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। কেননা মধ্যস্থতা কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারী বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষগণের উপর কোন পন্থা চাপিয়ে দিতে পারেন কিন্তু সালিশ কার্যক্রমের সালিশকারী (Conciliator) পক্ষগণের ওপর রায় চাপিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের রায়কে রোয়েদাদ [Award] বলা হয়। সালিশ[Arbitration] প্রক্রিয়াটি সালিশ আইন-২০০১ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ আইনের ২১০ ধারায় বিরোধ সালিসীর (Conciliation) মাধ্যমে নিষ্পত্তি কথা বলা হয়েছে।
৬৭৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-XXI, Rule-1(1)  অনুযায়ী, ডিক্রি অনুযায়ী টাকা পরিশোধের কয়টি পদ্ধতি রয়েছে?
  1. একটি 
  2. দুইটি
  3. তিনটি 
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XXI, Rule 1(1) অনুসারে ডিক্রি অনুযায়ী প্রদেয় অর্থ পরিশোধের তিনটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
(a) ডিক্রি জারির দায়িত্বে নিয়োজিত আদালতে টাকা জমা দেওয়া;
(b) আদালতের বাইরে সরাসরি ডিক্রিধারীকে (decree-holder) টাকা পরিশোধ করা; অথবা
(c) ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোনও পদ্ধতি নির্দেশ করলে সেভাবে পরিশোধ করা।
সুতরাং, ডিক্রি অনুযায়ী টাকা পরিশোধের মোট তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21, Rule-1: Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.

(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.

৬৭৪.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর 89A ধারা অনুসারে দেওয়ানী মোকদ্দমায় মধ্যস্থতা করতে পারে
  1. আদালত নিজে
  2. জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা
  3. অবসরপ্রাপ্ত কোন বিচারক
  4. উপরোক্ত সবাই
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর 89A ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী মোকদ্দমায় মধ্যস্থতা করতে পারে
ক. আদালত নিজে;
খ. লিগ্যাল এইড অফিসার;
গ. পক্ষগণ কর্তৃক নিযুক্ত উকিলদের [Pleaders] মাধ্যমে নিযুক্ত অন্য কোন উকিল যে উক্ত মোকদ্দমায় কোন পক্ষ কর্তৃক নিযুক্ত হয়নি;
ঘ. অবসরপ্রাপ্ত কোন বিচারক;
ঙ. জেলা জজ কর্তৃক তৈরীকৃত প্যানেল থেকে কোন একজন মধ্যস্থতাকারী;
চ. জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা;
ছ. অন্যকোন ব্যক্তি যাকে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসাবে উপযুক্ত মনে করে।
৬৭৫.
আরজি ফেরতের আদেশ-
  1. চূড়ান্ত আদেশ
  2. আপিলঅযোগ্য আদেশ
  3. আপিলযোগ্য আদেশ
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৭ বিধি-১০: আরজি ফেরত (Return of plaint)-
⇒ বাদী যদি এখতিয়ারহীন আদালতে আরতি দায়ের করে, তাহলে আদালত উক্ত আরজি এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে পেশ করার জন্য বাদীকে ফেরত প্রদান করবে।
⇒ আরজি ফেরত প্রদানের সময় বিচারক আরজি পেশ করার এবং ফেরত দেওয়ার তারিখ, আরজি দাখিলকারির নাম এবং ফেরত দেওয়ার কারণ সংক্ষেপে লিখবেন।

প্রতিকার:
আরজি ফেরতের আদেশটি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order)। [বিধি-১, আদেশ ৪৩] ।
৬৭৬.
ডিক্রির অন্তর্ভূক্ত মর্মে গণ্য হবে
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ
  2. আরজি ফেরতের আদেশ
  3. আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ
  4. আরজি গ্রহণের আদেশ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারার বিধান: ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-

ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

♦ব্যাখ্যাঃ ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে; মোকদ্দমা যখন চূড়ান্তরূপে নিষ্পত্তি হয়, তখনই ডিক্রি চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কোন ডিক্রি আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে।

♦অর্থাৎ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত হলো আপীলযোগ্য আদেশ। কিন্তু ২(২) ধারা অনুযায়ী আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ হলো একটি ডিক্রি।
৬৭৭.
আদেশ ৪১ বিধি-২১ক এর অধীনে আপিল কতবার পুনঃশুনানি করা যাবে?
  1. এক বার
  2. দুই বার
  3. পক্ষের অনুরোধে যত বার প্রয়োজন
  4. আদালতের বিবেচনায় যত বার প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪১ বিধি-২১ক: সরাসরি আপিলে পুনঃশুনানি:

১) বিধি ২১ বা অন্য কোন আইনের যা কিছুই নে থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানো এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর লক্ষ্যে কোন একতরফাভাবে শুনানি করতে আপিল সরাসরি পুনরায় শুনতে পারেন। বিধি ২১ এর অধীন বিবাদিকে কা পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ না দেয়, তবে আদালত যথোপযুক্ত মনে করে নির্ধারিণ করা সাপেক্ষে অনধিক তিন হাজার টাকার খরচা পরিশোধের নিমিত্তে বিবাদিকে নির্দেশ দিতে পারেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ একতরফা ডিক্রি বিবাদির বিরুদ্ধে যে তারিখে প্রদান করা হয়, সে তারিখে থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে যদি অন্য এফিডেবিট সহযোগে এরূপ আপিল পুনঃশুনানির কোন আবেদন আদালতে দাখিল করা না হয়ে থাকে, তাহলে এই বিধির অধীন কোন আপিলকে পুনরায় শুনা যাবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীন কোন আপিল একাধিকবার পুনরায় শুনা যাবে না।

২) কোন আপিল পুনঃশুনানির কোন আদেশ উপ-বিধি (১) এর অধীন প্রদানে সঙ্গে সঙ্গে আদালতে বিবাদির খরচায় আপিলকারীর নিকট নোটিশ প্রেরণ করাবেন।
৬৭৮.
'Equitable set off' এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. অনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের ক্ষেত্রে দাবী করা যেতে পারে
  2. আইনগত অধিকার হিসাবে বিবাদী দাবী করতে পারে না
  3. নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের ক্ষেত্রে দাবী করা যেতে পারে
  4. এই প্রতিকার আদালত মঞ্জুর করতে বাধ্য না
ব্যাখ্যা
ন্যায়সঙ্গত দাবী সম্বনয় (Equitable set off]:
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৬ বিধি শুধুমাত্র legal set-off নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শুধুমাত্র যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে legal set-off প্রযোজ্য। কিন্তু এমন অনেক ক্ষেত্র আছে, যেক্ষেত্রে আদালত অনির্দিষ্ট অর্থের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক দায় শোধ মঞ্জুর করতে পারে। এটাই ন্যায়সঙ্গত দাবী সমন্বয় বা Equitable set off. ২০ আদেশের ১৯(৩) বিধিতে Equitable set-off স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

Legal set-off এবং Equitable set-off এর মধ্যে পার্থক্য:
১. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৬ বিধিতে Legal set-off নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০ আদেশের ১৯(৩) বিধিতে Equitable set-off স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

২. Legal set-off নির্দিষ্ট অর্থের দাবীর ক্ষেত্রে এবং অনির্দিষ্ট অর্থের ক্ষেত্রে Equitable set-off দাবী করা যেতে পারে।

৩. Legal set-off আইনগত অধিকার হিসাবে বিবাদী দাবী করতে পারে এবং আদালত মঞ্জুর করতে বাধ্য। কিন্তু Equitable set-off আইনগত অধিকার হিসাবে বিবাদী দাবী করতে পারেনা এবং আদালত মঞ্জুর করতে বাধ্য না।

৪. Legal set-off এর ক্ষেত্রে একই লেনদেন বা কার্যধারা হতে দাবীর উদ্ভব হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু Equitable set off মঞ্জুর করা যেতে পারে, শুধুমাত্র যেক্ষেত্রে দাবী একই লেনদেন হতে উদ্ভব হয়।
৬৭৯.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে কোন মামলা এ্যাবেট হবার কারণ উদ্ভব হতে পারে?
  1. প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের মৃত্যু
  2. প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের দেশান্তর
  3. প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের দেওয়ালিয়াত্ব
  4. পূর্বোক্ত সবগুলোর কারণে
ব্যাখ্যা
• এ্যাবেট অর্থ হলো বাতিল। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ নং আদেশের ৮ নং বিধিতে বলা হয়েছে বাদীর দেওলিয়াত্ব মামলাটি বাতিল হবে না এবং এই ক্ষেত্রে বাদীর স্বত্বনিয়োগী বা রিসিভার মামলাটি চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এই নিয়মটি প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের (বিবাদীর) দেওলিয়াত্বর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অর্থাৎ বিবাদী যদি দেওলিয়া হয়ে যায়, তাহলে মামলা এ্যাবেট হতে পারে। যেমন 'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে ২০০০০০ টাকার মামলা দায়ের করেছে। 'খ' কে আদালত দেওলিয়া ঘোষণা করেছে। সুতরাং 'খ' এর বিরুদ্ধে আর মামলা চলতে পারে না। কিন্তু এই মামলায় 'খ' যদি মারা যায়, তাহলে আদালত এই মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিদের কে বিবাদী হিসেবে যুক্ত করে মামলায় অগ্রসর হতে পারবে। (আদেশ ২২ বিধি ৪)
৬৮০.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে ADR–এর কয়টি পন্থা আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR)–এর দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে:
১- মধ্যস্থতা (Mediation);
২- সালিশী (Arbitration)।

সাধারন নিয়মসমূহ-
⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।

৬৮১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৯ অনুযায়ী, নতুন ডিক্রি-ধারী নিম্নলিখিত কোনটি দাবি করতে পারবে না?
  1. ডিক্রির অর্থ আদায়
  2. মূল ডিক্রি-ধারীর সমস্ত অধিকার
  3. আদালতে আবেদন করার অধিকার
  4. দায়ীকের বিরুদ্ধে নতুন শর্ত আরোপ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) মূল ডিক্রি-ধারীর অধিকার ও শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করবে। তবে, সে নতুন কোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে না বা বিচার-দেনাদারের (দায়ীক) বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করতে পারবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারার মূল বক্তব্য হলো—
যদি কোনো ডিক্রি হস্তান্তর করা হয়, তাহলে নতুন ডিক্রি-ধারী সেই ডিক্রিটি সেইসব শর্ত ও সীমাবদ্ধতার অধীনে গ্রহণ করবে, যেসব শর্ত দায়ীকের (Judgment Debtor) মূল ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারত।
অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) কোনো নতুন সুবিধা দাবি করতে পারবে না এবং পূর্ববর্তী ডিক্রি-ধারীর শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করতে পারবে।
-----------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-49. Transferee: 
 Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.
৬৮২.
The mandatory requirement "In every plaint, facts shall be proved by affidavit" is a part of which section of the Code of Civil Procedure, 1908?
  1. Section 23
  2. Section 26
  3. Section 30
  4. Section 51
ব্যাখ্যা

⇒ Code of Civil Procedure, 1908 (CPC) এর Section 26-এ বলা হয়েছে:
Sub-section (1): "Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed."
Sub-section (2): "In every plaint, facts shall be proved by affidavit."
এই বিধানটি ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ (Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025) এর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে। Section 26-এর মূল বিধানটি (Sub-section 1) ইতিমধ্যেই ছিল, যা মামলা দায়ের করার পদ্ধতি বর্ণনা করে। সংশোধনীতে Sub-section (2) যোগ করে Plaint-এর facts গুলো Affidavit (শপথনামা) এর মাধ্যমে প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) Section 26।

৬৮৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী কয়টি গ্রাউন্ডে রিভিউ বা পুনর্বিচারের আবেদন করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৪ ধারার বিধান: পুনর্বিচার: উল্লিখিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে কোন ব্যক্তি যদি নিম্নবর্ণিত কোন হেতুবশত অসন্তুষ্ট হয়-

ক) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে এই আইনমতে আপিল চলে, কিন্তু আপিল করা হয়নি, তদ্রূপ কোন ডিক্রি বা আদেশহেতু;
খ) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে এই আইনমতে কোন আপিল করা চলে না, তদ্রূপ কোন ডিক্রি বা আদেশহেতু; কিংবা
গ) কোন স্বল্প-এখতিয়ার আদালতের রেফারেন্স অনুযায়ী গৃহীত আদালতের প্রদত্ত সিদ্ধান্ত দ্বারা সংক্ষুব্ধ মনে করেন-

তবে, উক্ত ব্যক্তি ডিক্রি বা আদেশদানকারী আদালতের নিকট এর রায় পুনর্বিচারের জন্য আবেদন করতে পারবে এবং আদালত তৎসম্পর্কে যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবে।
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী এই ৩টি গ্রাউন্ডে রিভিউ বা পুনর্বিচারের আবেদন করা যায়। 
--------------
CPC Section 114. Review:
- Subject as aforesaid, any person considering himself aggrieved:
(a) by a decree or order from which an appeal is allowed by this Code, but from which no appeal has been preferred, 
(b) by a decree or order from which no appeal is allowed by this Code, or 
(c) by a decision on a reference from a Court of Small Causes 
may apply for a view of judgment to the Court which passed the decree or made the order, and the Court may make such order thereon as it thinks fit.
৬৮৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী যদি বিবাদী কারাগারে বন্দী থাকে, তাহলে সমন কীভাবে প্রদান করা হবে?
  1. বিবাদীর আইনজীবীর নিকট
  2. জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট
  3. বিবাদীর পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের নিকট
  4. বিবাদীর পরিবারের প্রধান সদস্যের নিকট
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি ২৪- যদি বিবাদী কারাগারে বন্দী থাকেন, তাহলে সমন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিবাদীর কাছে জারির জন্য সরাসরি প্রদান বা ডাকযোগে বা বিধি ৯ এর উপবিধি (৪)-এ উল্লিখিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।
→ অর্থাৎ যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।
------------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-7 Rule- 24. Service on the defendant in prison:
Where the defendant is confined in prison, the summons shall be delivered or sent by post or through courier service as mentioned in sub-rule (4) of rule 9 or otherwise to the officer in charge of the prison for service on the defendant.

৬৮৫.
নিম্নের কোন ধরণের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমার ব্যতিক্রম দেয়া হয়েছে-
  1. মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে
  2. নাবালকের বিরুদ্ধে
  3. সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
  4. উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি (১)-
৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে, তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।

ধারা ৮০ (২) তে সরকার কর্তৃক লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে-

৮০ ধারা অনুযায়ী সরকার বা সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করার পূর্বে ২ মাসের নোটিশ দিতে হয়। ২ মাসের নোটিশ দেওয়ার পর মোকদ্দমাটি দায়ের করতে হবে। যদি নোটিশ দিয়ে মোকদ্দমাটি দায়ের করা হয়, তাহলে সরকার লিখিত জবাব দাখিল করার সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবস সময় পেতে পারে। কিন্তু যেক্ষেত্রে নোটিশ না দিয়ে মোকদ্দমাটি দায়ের করা হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য আদালত সরকারকে সর্বনিম্ন ৩ মাসের সময় দিতে হবে।
৬৮৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫৩ অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষমতা কাকে দেওয়া হয়েছে?
  1. আদালতকে
  2. সরকারকে
  3. আইনজীবীকে
  4. বাদীপক্ষকে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫৩ অনুযায়ী, আদালতকে “সাধারণ সংশোধনের ক্ষমতা” (general power to amend) দেওয়া হয়েছে।
- এ ধারা অনুযায়ী, আদালত যেকোনো সময়, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ বা অন্য শর্ত আরোপ করে, মোকদ্দমার কার্যক্রমে যে কোনো ভুল বা ত্রুটি সংশোধন করতে পারে।
- এই সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো মামলার প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারণে সহায়তা করা।
অতএব, সংশোধনের ক্ষমতা সরকার বা পক্ষসমূহের নয়, বরং শুধুমাত্র আদালতের।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারার বিধান সংশোধন করার সাধারণ ক্ষমতা: আদালত যে কোন সময় এবং খরচ সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোন শর্ত দিয়ে সংশোধন করতে পারেন, এবং প্রয়োজনীয় যাবতীয় কোন মোকদ্দমার কার্যক্রম সংক্রান্ত যেকোন ভুল ত্রুটি সংশোধন মোকদ্দমার সংশ্লিষ্ট প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের উদ্দেশ্যে করা হবে।
অর্থাৎ আদালত যেকোনো সময় (At any stage), যেকোনো শর্তে, প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, কোন মোকদ্দমার কার্যক্রম সংক্রান্ত যে কোন ভুলত্রুটি সংশোধন করতে পারেন।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 153. General power to amend:
The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.
৬৮৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় অপরিপক্ক বা অকালীয় উদঘাটনের (premature discovery) বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-১১, বিধি-১৮
  2. আদেশ-১১, বিধি-১৯
  3. আদেশ-১১, বিধি-২০
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ২০ নং বিধিতে অপরিপক্ক বা অকালীয় উদঘাটনের (premature discovery) বিধান রয়েছে।

• আদালত যখন উদঘাটন বা আবিষ্কারের প্রশ্ন স্থগিত রেখে, আগে অন্য কোন বিচার্য বিষয় বা প্রশ্নের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ প্রদান করে তখন তাকে অপরিপক্ষ উদঘাটন (premature discovery) বলে।

যখন উদঘাটন বা আবিষ্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অন্য কোনো বিচার্য বিষয় বা প্রশ্নের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে আদালত মনে করেন, তখন উক্ত আদেশ প্রদান করবেন।
৬৮৮.
একটি দেওয়ানী আদালত প্রদত্ত রায়ের বিষয়ে কোন আদালতে রিভিউ মামলা দায়ের করা যায়?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. দায়রা আদালতে
  3. যে আদালত রায় দেয়
  4. জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়।
-যেমন সহকারী জজ ডিক্রি দিলে, সেই ডিক্রির বিরুদ্ধে উক্ত সহকারী জজের নিকট রিভিউ আবেদন করতে হবে।
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
------------
CPC- Section-114: Review:
-Subject as aforesaid, any person considering himself aggrieved- 
(a) by a decree or order from which an appeal is allowed by this Code, but from which no appeal has been preferred, 
(b) by a decree or order from which no appeal is allowed by this Code, or 
(c) by a decision on a reference from a Court of Small Causes 
may apply for a view of judgment to the Court which passed the decree or made the order, and the Court may make such order thereon as it thinks fit.
৬৮৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ________ ধারার বিধান অনুসারে, কোনো ব্যক্তির প্রতি জারিকৃত বা প্রদত্ত সকল আদেশ এবং নোটিশ লিখিতভাবে হবে।
  1. ১৪০
  2. ১৪২
  3. ১৪৪
  4. ১৪৮
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪২ ধারা: আদেশ ও নোটিশ লিখিত হতে হবে:
এই আইনের বিধানানুযায়ী কোনো ব্যক্তির প্রতি জারি বা প্রদত্ত সকল আদেশ এবং নোটিশ লিখিতভাবে হবে।

Section 142: Orders and notices to be in writing:
All orders and notices served on or given to any person under the provisions of this Code shall be in writing.
৬৯০.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় রিভিউ আবেদন মঞ্জুর হলে, এর বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপীল করা যাবে
  2. রিভিশন করা যাবে
  3. পুনঃবহালের আবেদন করা যাবে
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং মঞ্জুরের বিরুদ্ধে প্রতিকার:

রিভিউ আবেদন মঞ্জুর হলে:
আদালত যদি রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ (১) আদেশ অনুযায়ী আপীল করা যেতে পারে। অর্থাৎ, রিভিউ আবেদন মঞ্জুর একটি আপীলযোগ্য আদেশ।

রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে:
যদি রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বা আপত্তি দায়ের করা যায় না। তবে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আপিলযোগ্য নয়, তাই এর বিরুদ্ধে ১১৫ ধারার অধীনে রিভিশন করা যেতে পারে।

অনুপস্থিতির কারণে রিভিউ প্রত্যাখ্যান:
যদি রিভিউ আবেদনকারী আদালতে উপস্থিত না হন এবং আদালত রিভিউ আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে, তবে ৪৭ আদেশের ৭(২) বিধির অধীনে রিভিউটি পুনঃবহালের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।
৬৯১.
একই পক্ষ একই বিষয়ে দুটি মামলা একই সঙ্গে চালাতে পারবে না—এটি কোন নীতি?
  1. Estoppel
  2. Res Judicata
  3. Res Sub Judice
  4. Constructive Res Judicata
ব্যাখ্যা

⇒ "Res Sub Judice" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ "a matter under judgment" বা "বিচারাধীন বিষয়"। এই নীতিটি দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০-এ বর্ণিত আছে।
- Res Sub Judice নীতির মূল কথা: একই পক্ষদের মধ্যে একই কারণ থেকে উদ্ভূত একই বিষয় নিয়ে একই সময়ে একাধিক মামলা চলতে পারে না। যদি একই বিষয়ে একটি মামলা ইতিমধ্যে কোনো উপযুক্ত আদালতে বিচারাধীন থাকে, তাহলে অন্য কোনো আদালত পরবর্তীতে দায়ের করা একই রকম মামলা পরিচালনা করতে পারবে না।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল:
বিরোধপূর্ণ সিদ্ধান্ত রোধ করা: ভিন্ন ভিন্ন আদালত থেকে একই বিষয়ে ভিন্ন রায় না আসা।
আদালতের সময় ও সম্পদের সদ্ব্যবহার: একই মামলা বারবার বিচার করা থেকে বিরত থাকা।
- অর্থাৎ Res Sub Judice নীতিটি মামলা চলাকালীন সময়ে প্রযোজ্য হয় এবং একই সাথে একাধিক মামলা চলা বন্ধ করে। অন্যদিকে, Res Judicata নীতিটি মামলা শেষ হওয়ার পর প্রযোজ্য হয় এবং একই মামলা আবার দায়ের করা বন্ধ করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় মোকদ্দমা স্থগিতকরণ (stay of suit) বা res sub judice সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে পূর্বে দায়েরকৃত এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হলে, আদালত পরবর্তী মোকদ্দমার কার্যক্রম স্থগিত করবেন।
- এই নীতি প্রয়োগ করতে শর্তসমূহ-
১. দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
২. উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হতে হবে;
৩. উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
৪. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি অবশ্যই বিচারাধীন থাকতে হবে;
৫. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেই আদালতের দাবীকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে;
৬. উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্ত্বের অধীন মোকদ্দমা [under same title) দায়ের করেছে।

- বিদেশি আদালতে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে Res-Subjudice নীতি প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 10: Stay of suit-
No Court shall proceed with the trial of any suit in which the matter in issue is also directly and substantially in issue in previously instituted suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim litigating under the same title where such suit is pending in the same or any other Court in Bangladesh having jurisdiction to grant the relief claimed, or in any Court beyond the limits of Bangladesh Established or continued by the Government and having like jurisdiction, or before the Supreme Court.

Explanation-The pendency of a suit in a foreign Court does not preclude the Court in Bangladesh from trying a suit founded on the same cause of action.

৬৯২.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবেনা?
  1. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(৫) ধারার
  2. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(৯) ধারার
  3. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারার
  4. দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১৩) ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারা মতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবেনা।

⇒ ধারা-৮৯ক(৫): মধ্যস্থতার ফলে ডিক্রি প্রদান- মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোকদ্দমাটি আপোষ-মিমাংসা হলে, উক্ত আপোষ প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করবে।
⇒ আপোষের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ নং আদেশের সোলে ডিক্রির বিধানসমূহ অনুসরণ করবে।
------------------
⇒ Section 89A(12) No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
৬৯৩.
আদেশ ৪৭ বিধি-৭ অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার (Review) প্রার্থনা অগ্রাহ্য হলে, তার বিরুদ্ধে-
  1. আপিল করা যাবে
  2. রিভিশন করা যাবে
  3. আপিল করা যাবে না
  4. নতুন মামলা দায়ের করা যাবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪৭ বিধি-৭: প্রত্যাখ্যাত আদেশ আপিলযোগ্য নয়, আবেদন মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি:
১) আদালত পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না; কিন্তু প্রার্থনা কবুলের আদেশ প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত কারণে আপত্তি পেশ করা যাবে-
ক) বিধি-২ তে বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী;
খ) বিধি-৪ এ বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী;
গ) আবেদনের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ অতীত হওয়ার পর এবং যথেষ্ট কারণ ব্যতীত সেটি করা হয়েছিল বলে আপত্তি উত্থাপন করা যেতে পারে; আবেদন মঞ্জুর করে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে, বা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করে ঐরূপ আপত্তি উত্থাপন করা চলবে।

৬৯৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধানে আপিলযোগ্য আদেশগুলির তালিকা আছে?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ১০৬ ধারা
  3. আদেশ ৪১ বিধি ১
  4. আদেশ ৪৩ বিধি ১
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে আপিলযোগ্য আদেশগুলির তালিকা আছে।
- সাধারনত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না, তবে আদেশটি যদি আপিলযোগ্য আদেশ হয় তাহলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। যে সকল আদেশ আপিলযোগ্য, সে সকল আদেশ সম্পর্কে Order 43 এ বিধান রয়েছে।আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) রয়েছে।

অর্থাৎ সাধারণত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না তবে আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে মোট ২৫ টি আদেশ উল্লেখ আছে যেগুলার বিরুদ্ধে আপীল চলে। 
৬৯৫.
ডিক্রির প্রদত্ত টাকার পরিমান ৫০ টাকার বেশি হলে সাব্যস্ত দেনাদারকে কত দিন আটক রাখা যাবে?
  1. ৬ সপ্তাহ
  2. ৩মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ মাস
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫৮ অনুসারে,ডিক্রি জারির জন্য সাব্যস্ত দেনাদারকে আটক করার ক্ষেত্রে ২টি ভাগ রয়েছে। যথা:

ক) ডিক্রির প্রদত্ত টাকার পরিমান ৫০ টাকা বা তার কম হলে ৬ সপ্তাহ আটক রাখা যাবে; এবং 

খ) ডিক্রির প্রদত্ত টাকার পরিমান ৫০ টাকার বেশি হলে ৬ মাস আটক রাখা যাবে।

♦ তবে উক্ত ব্যক্তিকে আটকের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে মুক্তি দেয়া যাবে যদি- যেকোন উপায়ে ডিক্রির দেনা পরিশোধ করে দেয় কিংবা যাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে আটক রাখা হয়েছে তিনি অনুরোধ করলে।

♦ এই ক্ষেত্রে যে ডিক্রি জারিতে মুক্তি দেয়া হবে সেই বিষয়ে তাকে পুনরায় আটক করা যাবে না।
৬৯৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশ ও বিধিতে Legal Set-off সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. আদেশ ৮, বিধি ৬
  2. আদেশ ৯, বিধি ৬
  3. আদেশ ১১, বিধি ৭
  4. আদেশ ১১, বিধি ৯
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।
৬৯৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় খরচ (Costs) বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ৩৪ ধারা
  2. ৩৫ ধারা
  3. ৩৬ ধারা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৩৫ ধারা অনুযায়ী আদালত সাধারন খরচের আদেশ দিতে পারে।
• যে খরচ নির্ধারন করা হবে তার উপর সর্বোচ্চ ৬% বার্ষিক সুদ প্রদানের আদেশ দিতে পারে।
• ৩৫ (ক) ধারায় মিথ্যা বা হয়রানী মূলক মোকদ্দমার ক্ষতিপূরন সর্বোচ্চ ২০০০০ টাকা। ৩৫ (খ)/১ বিলম্বের জন্য খরচ ২০০০ টাকা এবং ৩৫(খ)/২ অনুযায়ী ৩,০০০ টাকা জরিমানা করা যায়।
৬৯৮.
আদালতের এখতিয়ারের বিষয়ে কোন পক্ষের আপত্তি থাকলে তা কখন উত্থাপন করা যায়?
  1. মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে
  2. ডিক্রি ঘোষণার পর্যায়ে
  3. প্রথম সম্ভব‍্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে 
  4. আপত্তি করা যায় না
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা- ২১ মতে আদালতের এখতিয়ারের বিষয়ে কোন পক্ষের আপত্তি থাকলে যে আদালতে প্রথম মামলা করা হয়, সে আদালতে প্রথম সম্ভব‍্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে উথাপন করতে হবে।

♦ আদালতের আর্থিক এখতিয়ার সম্পর্কে শীঘ্রতম সন্ধিক্ষণে বা প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (as earliest as possible opportunity) আপত্তি উথাপন না করলে তা পরিত্যক্ত (waived) হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। এমনকি পরিবর্তীতে আপিল বা রিভিশন বা আদালত মামলা দায়েরের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি মঞ্জুর করবে না। তবে ন্যায় বিচার বিঘ্ন হলে বা ন‍্যায় বিচারের স্বার্থে  আপিল বা  রিভিশন আদালত দায়েরের স্থান সম্পর্কে আপত্তি করতে পারে।
৬৯৯.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে রায় ঘোষণা করতে আদালতকে সর্বোচ্চ কত দিন সময় দেওয়া আছে?
  1. শুনানি শেষে তৎক্ষণাৎ
  2. শুনানি শেষে ৭ দিনের মধ্যে
  3. শুনানি শেষে ১৫ দিনের মধ্যে
  4. শুনানি শেষে ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার XX, রুল ১ অনুযায়ী, মামলার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালত তৎক্ষণাৎ বা অনধিক সাত (৭) দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করবেন।
- এটি বিচারিক কার্যক্রমকে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত একটি সময়সীমা, যাতে পক্ষগণ অযথা বিলম্বের সম্মুখীন না হন। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত কিছু ব্যতিক্রম করতে পারেন।

→ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার-২০, বিধি-১ (Order XX, Rule 1) অনুযায়ী: আদালতকে মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর অনধিক ৭ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে।
এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে আদালত এটি বাড়াতে পারেন।
- রায় প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করতে হবে। পক্ষদের বা তাদের আইনজীবীকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে (যদি রায় পরবর্তী কোনো দিনে ঘোষণা করা হয়)।

- পূর্ববর্তী বিচারক লিখিত রায় না দিয়ে থাকলে, নতুন বিচারক তা ঘোষণা করতে পারেন (বিধি-২)। 
- তবে জটিল মামলায় আদালত লিখিত কারণ দর্শিয়ে সময় বাড়াতে পারেন।
- রায়ে স্বাক্ষর ও তারিখ দিতে হবে (বিধি-৩)।
- ৭ দিনের বেশি বিলম্ব করলে বিলম্বের কারণ রেকর্ড করতে হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) শুনানি শেষে ৭ দিনের মধ্যে।
৭০০.
রিভিউ বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত অনুমোদন করতে হলে আদালতকে প্রথমে কী করতে হবে?
  1. ডিক্রি পরিবর্তন করতে হবে
  2. আবেদনকারীকে নোটিশ পাঠাতে হবে
  3. বিপরীত পক্ষকে নোটিশ প্রদান করতে হবে
  4. আবেদনকারী এবং বিপরীত পক্ষ উভয়কে নোটিশ প্রদান করতে হবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪৭ বিধি ৪- যেক্ষেত্রে দরখাস্ত অগ্রাহ্য হয়:
১) যদি আদালতের কাছে দৃষ্টিগােচর হয় যে, রিভিউ বা পুনরীক্ষণের করার মত যথেষ্ট অজুহাত নাই, তবে আদালত রিভিউ বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত অগ্রাহ্য করতে পারবে।

২) দরখাস্ত অনুমােদন হওয়ার ক্ষেত্রে-
যদি আদালত মনে করেন যে, রিভিউ বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত অনুমােদন করা উচিত, তবে শর্ত হল যে,
ক) যে ডিক্রী বা আদেশ রিভিউ বা পুনরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছে, সে ডিক্রী বা আদেশ সম্পর্কে বিপরীত পক্ষকে হাজির হয়ে বক্তব্য পেশ করার সুযােগ প্রদানের জন্য আগে নােটিশ প্রদান করা না হলে রিভিউ বা পুনরীক্ষণের আবেদন অনুমােদন করা যাবে না; এবং

খ) দরখাস্তকারী এমন ধরনের নতুন তথ্য বা প্রমাণের উদঘাটন করেছে যা ডিক্রী বা আদেশ প্রদানের সময় তার জ্ঞাতসারে ছিল না বা হাজির করা সম্ভব হয় নাই, উক্ত অভিযােগের কারণে রিভিউ বা পুনরীক্ষণের আবেদন দরখাস্ত করা হলে উক্তরূপ নালিশ সম্বন্ধে দৃঢ় প্রমাণ ছাড়া পুনরীক্ষণের আবেদন অনুমােদন করা যাবে না।

Order-47 Rule-4: Application where rejected:
(1) Where it appears to the Court that there is not sufficient ground for a review, it shall reject the application.

Application where granted:
(2) Where the Court is of opinion that the application for review should be granted, it shall grant the same: Provided that−
(a) no such application shall be granted without previous notice to the opposite party, to enable him to appear and be heard in support of the decree or order, a review of which is applied for: and

(b) no such application shall be granted on the ground of discovery of new matter or evidence which the applicant alleges was not within his knowledge, or could not be adduced by him when the decree or order was passed or made, without strict proof of such allegation.