বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা / ৩০ · ৪০১৫০০ / ২,৯৯৩

৪০১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৬৮ অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়ের জন্য ইশতেহার লাগানোর পর কত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
  1. ৭ দিন পর্যন্ত
  2. ১৫ দিন পর্যন্ত
  3. ২১ দিন পর্যন্ত
  4. ৩০ দিন পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৬৮ এর সরাসরি বিধান অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পত্তির (movable property) ক্ষেত্রে ইশতেহারের নকল আদালত ভবনে লাগানোর তারিখ থেকে অন্তত ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত Judgment-debtor-এর লিখিত সম্মতি ছাড়া নিলাম বিক্রয় অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।
- অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তির (immovable property) ক্ষেত্রে এই সময়সীমা অন্তত ৩০ দিন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৮ এর বিধান- বিক্রয়ের সময়:
বিক্রয়ের আদেশদানকারী বিচারকের আদালত ভবনে ইশতাহারের নকল লটকিয়ে দেয়ার তারিখ থেকে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ৩০ দিন এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি দায়িকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত নিলাম বিক্রয় অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21 Rule-68. Time of sale:
Save in the case of property of the kind described in the proviso to rule 43, no sale hereunder shall, without the consent in writing of the judgment-debtor, take place until after the expiration of at least thirty days in the case of immovable property, and of at least fifteen days in the case of movable property, calculated from the date on which the copy of the proclamation has been affixed on the court-house of the Judge ordering the sale.

৪০২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৫(১) অনুযায়ী, সমন ফেরত আসার পর কত দিনের মধ্যে পুনরায় সমন জারির জন্য আবেদন করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৫(১) অনুযায়ী, যদি কোন বিবাদীর কাছে জারিকৃত সমন (summons) অজারি (unserved) অবস্থায় ফেরত আসে, তাহলে আদালতের কর্মকর্তা কর্তৃক ফেরত সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিন (এক মাস) এর মধ্যে বাদীকে নতুন সমন জারির জন্য আবেদন করতে হবে। যদি বাদী এই সময়ের মধ্যে আবেদন না করে, তাহলে আদালত ওই বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজ (dismissed) করার আদেশ দিতে পারেন।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-9 Rule-5: Dismissal of suit where plaintiff, after summons returned unserved, fails for one month to apply for fresh summons:
(1) Where, after a summons has been issued to the defendant, or to one of several defendants, and returned unserved, the plaintiff fails, for a period of one month from the date of return made to the Court by the officer ordinarily certifying to the Court returns made by the serving officers, to apply for the issue of a fresh summons the Court shall make an order that the suit be dismissed as against such defendant, unless the plaintiff has within the said period satisfied the Court that:
(a) he has failed after using his best endeavours to discover the residence of the defendant who has not been served, or
(b) such defendant is avoiding service of process, or
(c) there is any other sufficient cause for extending the time, in which case the Court may extend the time for making such application for such period as it thinks fit.
(2) In such case the plaintiff may (subject to the law of limitation) bring a fresh suit.

৪০৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন কমিটিতে কতজন সুপ্রীম কোর্টের বিচারক থাকবে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৬ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-১২৩ অনুযায়ী, সর্বমোট ৬ জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। সদস্যগণ হলো-

ক. সুপ্রীম কোর্টের তিন (৩) জন বিচারক নিয়ে যাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন (৩ বছর জেলা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে);
খ. উক্ত আদালতে অ্যাডভোকেট হিসাবে চর্চা করছে এমন ২ জন অ্যাডভোকেট;
গ. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ দেওয়ানি আদালতের একজন বিচারক।

• সদস্যগণের নিয়োগ:
এই কমিটির সদস্যরা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তিনি উক্ত কমিটির সভাপতি মনোনীত করবে এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দিবে।এই কমিটির প্রত্যেক সদস্য প্রধান বিচারপতি কর্তৃক উল্লেখিত মেয়াদ পর্যন্ত পদে বহাল থাকবে।
৪০৪.
মধ্যস্থতার মাধ্যমে সহকারি জজ আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে, সংক্ষুদ্ধ পক্ষের প্রতিকার কী?
  1. জেলা জজ আদালতে আপিল
  2. হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
  3. জেলা জজ আদালতে রিভিশন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যস্থতার ফলে ডিক্রি প্রদান-
মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোকদ্দমাটি আপোষ-মিমাংসা হলে, উক্ত আপোষ প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করবে। আপোষের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ নং আদেশের সোলে ডিক্রির বিধানসমূহ অনুসরণ করবে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারা মতে,
মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবে না।

• Section 89A(12):
No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
৪০৫.
জিজ্ঞাসার মাধ্যমে উদঘাটন (Discovery by interrogatories) করতে পারে-
  1. বিবাদী কর্তৃক বাদীকে
  2. বাদী কর্তৃক বিবাদীকে
  3. ক এবং খ
  4. কোনটি নহে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

বিধি ১ঃ প্রশ্নাবলী দ্বারা আবিষ্কার-
কোন মোকদ্দমায় বাদি কিংবা বিবাদিপক্ষ অপর পক্ষসমূহকে অথবা তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক জনকে পরীক্ষা করার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে, বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে লিখিতরূপে প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারে এবং অনুরূপ প্রশ্নমালা প্রদান করা হলে এর মধ্যে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর অনুরূপ ব্যক্তির কাউকে প্রদান করতে হবে তা প্রশ্নমালার পাদটিকায় লিখিত থাকবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ অপর পক্ষকে আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে এক প্রস্থের অধিক প্রশ্নমালা প্রদান করবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার সাথে কোনভাবেই সম্পর্কীত নয়, এরূপ প্রশ্নমালা সাক্ষীর মৌখিক জেরায় জিজ্ঞাসা করা চললেও এক্ষেত্রে তা অবান্তর বলে গণ্য হবে।
৪০৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় 'Limit of Time for Execution' এর বিধান আছে?
  1. ৪৬
  2. ৪৮
  3. ৪৯
  4. ৪৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:- নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনামতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
------------------
⇒ Limit of Time for Execution
Section 48 Execution barred in certain cases: (1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from 
(a) the date of the decree sought to be executed, or, 
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree. 
 
(2) Nothing in this section shall be deemed
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or 
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.
৪০৭.
মোকদ্দমার একাধিক বিবাদীর মধ্যে কেউ অনুপস্থিত থাকলে কী হবে?
  1. মোকদ্দমা স্থগিত হবে
  2. মোকদ্দমা অগ্রসর হবে
  3. মোকদ্দমা বাতিল হবে
  4. শুধুমাত্র উপস্থিতদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৯ বিধি ১১: কতিপয় বিবাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several defendants]:
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন বা কয়েকজন বিবাদী উপস্থিত হয় এবং অন্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি অগ্রসর হবে এবং রায় ঘোষণার সময় আদালত অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ দান করবেন।

৪০৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অনুসারে কয়টি পদ্ধতিতে ডিক্রির টাকা পরিশোধের বিধান আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৪ টি
  3. ৩ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।

⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলি আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ কোন মোকদ্দমার রায়ে যার পক্ষে ডিক্রি দেয়া হয় তিনি আপনা আপনি ডিক্রির ফল ভোগ করতে পারবেন না। জারিযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে একটি ডিক্রি জারির মামলা করতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণপূর্বক জাবেদা নকল সহ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা যে আদালতে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয়েছে সে আদালতে ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয়।

⇒ডিক্রি জারির পদ্ধতি- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে ৫টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে। যথা-
i) সম্পত্তি অর্পণ (by delivery);
ii) ক্রোক ও বিক্রয় (attachment and sale);
iii) দেনাদারকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক;
iv) রিসিভার নিয়োগ; এবং
ⅳ) প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্য কোনো উপায়ে।
-------------------------
CPC Order-21 Rule-1:Payment under Decree:
Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.

(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.
৪০৯.
ধারা-৭৭ অনুসারে যদি কোনো সাক্ষী বাংলাদেশের বাইরে থাকে, আদালত কী করবে?
  1. নোটিশ পাঠাবে
  2. ডিক্রি জারি করবে
  3. অনুরোধপত্র প্রেরণ করবে
  4. কমিশন প্রেরণ করবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৭৭: অনুরোধপত্র:
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়, এরূপ যে কোন দেশে বসবাসকারী সাক্ষীর পরীক্ষা করার নিমিত্তে আদালত কমিশন প্রেরণ করার বিপরীতে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করতে পারে।

Sec.-77: Letter of request.
In lieu of issuing a commission the Court may issue a letter of request to examine a witness residing at any place not within Bangladesh.
৪১০.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক মেইল দ্বারা সমন প্রেরণ করার বিধান আছে?
  1. আদেশ-৫ বিধি-৭
  2. আদেশ-৫ বিধি-৯
  3. আদেশ-৫ বিধি-১৩
  4. আদেশ-৫ বিধি-১১
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-৯  জারীর জন্য সমন অর্পণ বা প্রেরণ:-
(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদি সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে, বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদির পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।
(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে, সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।

(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।

(৪) জেলা জজ উপ-বিধি (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।
(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন:তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ার ক্ষেত্রে, জেলা জজ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
৪১১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ অনুসারে- প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) তখন অনুমোদন করা হয়, যখন-
  1. একই মামলায় অনেক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে
  2. একই মামলায় একাধিক ব্যক্তি একই পরিবারের সদস্য হয়
  3. একই মামলায় একাধিক ব্যক্তির একই ধরনের স্বার্থ জড়িত থাকে
  4. একই মামলায় একাধিক ব্যক্তির আলাদা স্বার্থ জড়িত থাকে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
৪১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৬(১)(গ) অনুসারে, সমন জারি হয়েছে কিন্তু বিবাদীর উপস্থিতি ও জবাব দানের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেলে আদালত কী করবেন?
  1. বাদীর জেরা নেবেন
  2. মামলা খারিজ করবেন
  3. একতরফা শুনানি করবেন
  4. নতুন তারিখ দিয়ে বিবাদীকে নোটিশ দেবেন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৬(১)(গ) অনুসারে, যদি প্রমাণিত হয় যে বিবাদীর কাছে সমন জারি হয়েছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে (sufficient time) হয়নি, যাতে করে বিবাদী নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে পারেন, তাহলে আদালত মামলার শুনানি ভবিষ্যতের অন্য একটি দিনের জন্য মুলতুবি (postpone) রাখবেন এবং সেই নতুন তারিখের নোটিশ (notice) বিবাদীকে প্রদান করার নির্দেশ দেবেন।
- অর্থাৎ আদেশ ৯, বিধি ৬(১)(গ) স্পষ্টভাবে বলে যদি সমন যথাসময়ে বিবাদীর কাছে পৌঁছায় না, অর্থাৎ তার হাজিরা ও জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় না থাকে, তবে আদালত শুনানি পিছিয়ে দিবে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বিবাদীকে জানিয়ে দিবে।
- সঠিক উত্তর: ঘ) নতুন তারিখ দিয়ে বিবাদীকে নোটিশ দেবেন।
-----
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-9 Rule-6. Procedure when only plaintiff appears:
(1) Where the plaintiff appears and the defendant does not appear when the suit is called on for hearing, then-
When summons duly served:
(a) if it is proved that the summons was duly served, the Court may proceed ex parte; 
When summons not duly served:
(b) if it is not proved that the summons was duly served, the Court shall direct a second summons to be issued and served on the defendant;
When summons served, but not in due time:
(c) if it is proved that the summons was served on the defendant, but not in sufficient time to enable him to appear and answer on the day fixed in the summons, the Court shall postpone the hearing of the suit to a future day to be fixed by the Court, and shall direct notice of such day to be given to the defendant.

৪১৩.
'প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা না হলে, চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।'- দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারার বিধান?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ৯৭ ধারা
  3. ৯৮ ধারা
  4. ৯৯ ধারা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারানুযায়ী,
প্রাথমিক ডিক্রিতে যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আপিল করা না হলে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল হলে তখন উক্ত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা/বৈধতা অস্বীকার করা যাবে না।

এ ধারার সারমর্ম হচ্ছে-
প্রাথমিক ডিক্রি এবং চূড়ান্ত ডিক্রি উভয় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। তবে প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

Section 97- Appeal from final decree where no appeal from preliminary decree:
Where any party aggrieved by a preliminary decree passed after the commencement of this Code does not appeal from such decree, he shall be precluded from disputing its correctness in any appeal which may be preferred from the final decree.
৪১৪.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ ধারা অনুসারে, দেওয়ানী মামলায় আপীল আদালতের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না কোনটি?
  1. কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা;
  2. কোন মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ করা ;
  3. বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেইগুলি বিচারার্থে প্রেরণ;
  4. নতুনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা।
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ ধারা অনুসারে, দেওয়ানি আপীলে আদালতের ক্ষমতা সমূহ হলো- মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা, মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ করা, বিচার্য বিষয় গঠনপূর্বক বিচারার্থে প্রেরণ এবং অতিরিক্ত কিংবা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তলব করা
৪১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে কী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. রায় পরিবর্তন
  2. বিধি প্রণয়ন
  3. আপিলের রায় দেওয়ার
  4. আদালতের খরচ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ধারা ১২২: সুপ্রিম কোর্টের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:
সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে, পূর্ব ঘোষণা (previous publication) প্রদানের পর, সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি বিভাগের (Division) কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে থাকা দেওয়ানি আদালতের (Civil Courts) কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে।

এই নিয়ম প্রণয়নের ক্ষমতার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধিকার রয়েছে যে, প্রয়োজনমতো First Schedule–এ উল্লেখিত সকল বা যেকোন নিয়মকে বাতিল, পরিবর্তন বা নতুন নিয়ম যোগ করা।

Section 122- Power of the Supreme Court to make rules:
The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.

৪১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন সিদ্ধান্ত মূলত-
  1. আদেশ
  2. রায়
  3. ডিক্রি
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন(আরজি প্রত্যাখান) এর সিদ্ধান্ত মূলত একটি ডিক্রি।
 
• ধারাঃ ২(২) অনুসারে-
ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য যে-
আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন আরজি প্রত্যাখান এবং
১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ডিক্রি বলে গণ্য হবে।

• তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

Section 2(2)-
"decree" means the formal expression of an adjudication which, so far as regards the Court expressing it, conclusively determines the rights of the parties with regard to all or any of the matters in controversy in the suit and may be either preliminary or final. It shall be deemed to include the rejection of a plaint and the determination of any question within section 144, but shall not include- 
(a) any adjudication from which an appeal lies as an appeal from an order, or 
(b) any order of dismissal for default. 
৪১৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির ____________ অনুযায়ী যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক ডিক্রি জারির আবেদনের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-২০, বিধি-১৫
  2. আদেশ-২১, বিধি-১৪
  3. আদেশ-২১, বিধি-১৫
  4. আদেশ-২২, বিধি-১৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১৫ অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যেকেউ এক বা একাধিক ব্যক্তি ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারেন, যদি ডিক্রিতে ভিন্ন কোনো শর্ত না থাকে। এছাড়া, যদি যৌথ ডিক্রিদারদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তাহলে বাকি জীবিত ডিক্রিদার ও মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারীগণ একত্রে এই আবেদন করতে পারেন।
অতএব, যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক ডিক্রি জারির আবেদন সম্পর্কিত বিধান আদেশ-২১, বিধি-১৫ তে নির্ধারিত আছে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ১৫ (Order XXI, Rule 15) অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয় (যেমন: দুই বা ততোধিক ডিক্রিদার), তাহলে তাদের মধ্যে যে কোনো একজন বা একাধিক ব্যক্তি ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারেন, যদি না ডিক্রিতে ভিন্ন কোনো শর্ত থাকে।
এছাড়া, যদি যৌথ ডিক্রিদারদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তবে বাকি জীবিত ডিক্রিদার এবং মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারীগণ একত্রে এই আবেদন করতে পারেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-15. Application for execution by joint decree-holder:
(1) Where a decree has been passed jointly in favour of more persons than one, any one or more of such persons may, unless the decree imposes any condition to the contrary, apply for the execution of the whole decree for the benefit of them all, or, where any of them has died, for the benefit of the survivors and the legal representatives of the deceased.
(2) Where the Court sees sufficient cause for allowing the decree to be executed on an application made under this rule, it shall make such order as it deems necessary for protecting the interests of the persons who have not joined in the application.
৪১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২৪ অনুযায়ী, মামলা স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের ক্ষমতা কার আছে?
  1. কেবল জেলা জজ
  2. কেবল সরকার
  3. কেবল হাইকোর্ট বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ ও জেলা আদালত উভয়ই
ব্যাখ্যা

→ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারা- স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা:
 (১) মামলার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকলপক্ষকে নোটিশ দিয়া এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যে কোন স্তরে-

ক) তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং ইহা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা

খ) তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং
১. ইহার বিচার বা নিস্পত্তি করতে পারেন, অথবা
২. ইহার বিচার বা নিম্পত্তি করার উপযুক্ত কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্যে স্থানান্তর করতে পারেন, অথবা
৩. যে আদালত হতে উহা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
২) কোন মামলা (১) উপধারা অনুসারে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে পরে যে আদালতে ইহার বিচার হয়, সেই আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে পূর্ণ বিচার করতে পারেন, অথবা যে পর্যায় হতে উহা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ও সহকারী জজের আদালতকে জেলা কোর্টের অধীন বলে গণ্য করতে হবে।

(৪) স্মলকজ কোর্ট হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মামলার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মামলার ব্যাপারে স্মলকজ কোর্ট বলে গণ্য করতে হবে।

৪১৯.
৩০ ধারানুযায়ী সমন পেয়েও সাক্ষ্য দিতে না এলে সাক্ষীকে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করা যায়?
  1. অনধিক ১০০০ টাকা
  2. অনধিক ২০০ টাকা
  3. অনধিক ১০০ টাকা
  4. অনধিক ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
→ দেওয়ানী কার্যবিধি ৩২ ধারার বিধান- হাজির না হলে দণ্ড:
যার প্রতি ৩০ ধারা অনুসারে সমন দেয়া হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারেন এবং এই উদ্দেশ্যে
ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ দিতে পারেন; এবং জামানত না দিলে তাকে দেওয়ানী কারাগারে প্রেরণ করতে পারেন।

The Code of Civil Procedure, 1908, Sections- 32: Penalty for default:
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may- 
(a) issue a warrant for his arrest; 
(b) attach and sell his property; 
(c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
(d) order him to furnish security for his appearance and in default commit him to the civil prison.
৪২০.
কোনো মামলায় একাধিক বাদী থাকলে আদালত কখন কোনো একজন বাদীকে মামলার দাবি প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে পারে?
  1. বিবাদীর সম্মতিতে
  2. আইনজীবীর সম্মতি
  3. সরকারী কৌসুলির অনুমতিতে
  4. অন্য বাদীদের সম্মতিতে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি-১ এর বিধান: মোকদ্দমা প্রত্যাহার কিংবা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ:
১) মোকদ্দমা রুজু হওয়ার পর যে কোন সময় বাদি সকল বা যে কোন বিবাদির বিরুদ্ধে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে কিংবা তার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে।

২) যেক্ষেত্রে আদালতের নিকট এটি সন্তোষজনক হয় যে,-
ক) কিছু রীতিসিদ্ধ ত্রুটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে; অথবা

খ) মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর জন্য বা কোন দাবীর অংশের জন্য নুতনভাবে মোকদ্দমা রুজুর জন্য বাদিকে অনুমতি প্রদান করার অন্যান্য যথেষ্ট অজুহাত থাকে,

সেক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্তে বাদিকে উক্ত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বা কোন বাদির উক্ত অংশ সম্পর্কে নূতনভাবে মোকদ্দমা রুজু করার স্বাধীনতাসহ উক্ত মোকদ্দমা থেকে প্রত্যাহার করার বা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারে।

৩) যেক্ষেত্রে উপবিধি (২) এ দায়েরে অনুমতি ব্যতীত বাদি মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে বা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করে সেক্ষেত্রে সে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোকদ্দমার খরচাদির জন্য দায়ী হবে এবং উক্ত বিষয়বস্তু বা আংশিক দাবী সম্পর্কে নূতনভাবে কোন মোকদ্দমা রুজু করতে বারিত হবে।

৪) এই বিধির কোন কিছুই আদালতকে কতিপয় বাদির মধ্যে থেকে একজন কর্তৃক অন্যদের সম্মতি ব্যতীত মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বিবেচিত হবে না।
৪২১.
আদেশ ৯ বিধি-২ অনুসারে, কোন পরিস্থিতিতে বাদীর মামলা খারিজ হবে?
  1. বাদী আদালতে উপস্থিত না হলে
  2. বাদী লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে
  3. সময়মতো মামলার নথিপত্র দাখিল না করলে
  4. কোর্ট ফি প্রদান না করার ফলে বিবাদীর উপর সমন জারি না হলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-২:
নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদি কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদির উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদির উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
৪২২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ XXI, বিধি ৩০ক অনুসারে, সিভিল কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আসামীকে ডিক্রিকৃত অর্থের অনূন্য কত অংশ জমা দিতে হবে?
  1. ১৫%
  2. ২৫%
  3. ৫০%
  4. ৭৫%
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)-এর আদেশ XXI, বিধি ৩০ক (Order XXI, Rule 30A) ২০২৫ সালের সংশোধনী (Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025) এর মাধ্যমে নতুনভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। এই বিধি অর্থ পরিশোধের ডিক্রি (decree for money) জারির জন্য বিশেষ বিধান প্রদান করে। বিশেষ করে উপ-বিধি (৪) অনুসারে:
- দেওয়ানি কারাগারে (civil prison) আটক রায়দেনাদার (judgment-debtor) যদি ৬০ দিনের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য একটি মুচলেকা (bond) সহ ডিক্রিকৃত অর্থের অনূন্য ২৫% (minimum 25%) জমা দেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি (release) দেবে।
- এরপর যদি রায়দেনাদার মুচলেকার শর্ত অনুসারে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হবেন এবং আরও ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারে আটক থাকবেন।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো রায়দেনাদারকে মুক্তির সুযোগ দেওয়া, কিন্তু অপরিশোধিত অর্থ থেকে তাকে অব্যাহতি (discharge) দেওয়া নয়।
- অন্য অপশনগুলি (১৫%, ৫০%, ৭৫%) এই বিধির সাথে মিলে না; মুক্তির জন্য জমা-সংক্রান্ত শর্ত হিসেবে ২৫% নির্দিষ্ট।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশের ৩০ক বিধি: অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য বিশেষ বিধান (Special provisions for execution of decree for money):
(১) এই কোডে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, ডিক্রিধারীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত রায় দেনাদারকে সম্পূর্ণ বা অপরিশোধিত ডিক্রিকৃত অর্থের কোনো অংশের জন্য অনূর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য অথবা অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারেন।
(২) এই কোডের অধীনে দেওয়ানি কারাগারে আটক রায় দেনাদারের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় সরকার বহন করবে।
(৩) দেওয়ানি কারাগারে আটকের বিধান কোনো নাবালক বা বিকৃতমস্তিষ্ক রায় দেনাদারের ক্ষেত্রে অথবা যিনি কোনো উপযুক্ত আদালত দ্বারা দেউলিয়া (insolvent) ঘোষিত হয়েছেন অথবা যিনি উত্তরাধিকারসূত্রে মূল রায় দেনাদারের উত্তরাধিকারী হিসাবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যদি দেওয়ানি কারাগারে থাকা রায় দেনাদার ৬০ দিনের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য একটি মুচলেকা (bond) সহ ডিক্রিকৃত অর্থের অনূ্যন ২৫% জমা দেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দেবেন এবং যদি রায় দেনাদার মুচলেকাতে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী বাকি ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার এবং আরও ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকার জন্য দায়ী হবেন।
(৫) যদি কোনো রায় দেনাদার উপ-বিধি (১) বা (৪) এর অধীনে দেওয়ানি কারাগারে সম্পূর্ণ মেয়াদের জন্য আটক থাকেন, তাহলে তাকে একই জারি কার্যধারায় বা একই ডিক্রি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো জারি কার্যধারায় পুনরায় গ্রেপ্তার বা দেওয়ানি কারাগারে আটক করা যাবে না।
(৬) যদি কোনো রায় দেনাদার এই বিধির অধীনে দেওয়ানি আটকের সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে তিনি ডিক্রির অপরিশোধিত অর্থ পরিশোধ করা থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

৪২৩.
সাধারন দেওয়ানি মোকদ্দমায় মধ্যস্থতা সম্পন্ন হওয়ার জন্য আদালত অতিরিক্ত সময় কত দিন বাড়াতে পারবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation);
২- সালিশী (Arbitration).

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

৪২৪.
দেওয়ানী মামলায় সর্বোচ্চ কত টাকা adjournment cost দেয়া যেতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৩,০০০ টাকা
  3. ১,০০০ টাকা
  4. ৩,৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি মোকদ্দমায় মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

• আইনে মুলতবি [Adjournment] অর্থ হলো আদালতের কার্যপ্রণালিতে কোনো মামলার শুনানি পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত স্থগিত বা মুলতবি করা। সাধারণত কোন মোকদ্দমার শুনানী শুরু হলে তা চলমান থাকবে। কিন্তু অনিবার্য অবস্থার প্রেক্ষাপটে মোকদ্দমার কোন পক্ষ আদালতে হাজির নাও হতে পারে এবং তখন শুনানী মুলতবির আবেদন করা প্রয়োজনীয় হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭নং আদেশে [Adjournment] বা মুলতবির বিধানসমূহ রয়েছে। আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে। ১৭নং আদেশ অনুযায়ী মুলতবির কিছু সাধারন বিধান-

⇒ আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে।
⇒ চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে।
⇒ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে (At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মুলতবি মঞ্জুর করে না।
⇒ মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।
⇒ মুলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
৪২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী আদালত কয়টি বিষয়ে কমিশন নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
-----------
⇒ Section 75. Power of Court to issue commissions:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission- 
(a) to examine any person; 
(b) to make a local investigation; 
(c) to examine or adjust accounts; or 
(d) to make a partition.
৪২৬.
Order 8 Rule 9 এর অধীন মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত কোন পক্ষকে অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশ করার আদেশ দিতে পারে?
  1. সাক্ষীকে
  2. বাদী পক্ষকে
  3. বিবাদী পক্ষকে
  4. বাদী বা বিবাদী পক্ষকে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।
৪২৭.
The Civil Courts Act,1887 এর ৯ ধারায় কোন আদালতকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগকে
  2. বিচারিক আদালতকে
  3. আপিল আদালতকে
  4. জেলা জজ আদালতকে
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 এর ৯ ধারা অনুযায়ী,
স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন থাকবে।

Section 9: Administrative control of Courts-
Subject to the superintendence of the High Court Division, the District Judge shall have administrative control over all the Civil Courts under this Act within the local limits of his jurisdiction.
৪২৮.
চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে আদালত কতটি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে?
  1. ১টি খরচসহ
  2. ২টি খরচসহ
  3. ৩টি খরচ ছাড়া
  4. ৩টি খরচসহ
ব্যাখ্যা
• আইনে মুলতবি [Adjournment] অর্থ হলো আদালতের কার্যপ্রণালিতে কোনো মামলার শুনানি পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত স্থগিত বা মুলতবি করা। সাধারণত কোন মোকদ্দমার শুনানী শুরু হলে তা চলমান থাকবে। কিন্তু অনিবার্য অবস্থার প্রেক্ষাপটে মোকদ্দমার কোন পক্ষ আদালতে হাজির নাও হতে পারে এবং তখন শুনানী মুলতবির আবেদন করা প্রয়োজনীয় হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭নং আদেশে [Adjournment] বা মুলতবির বিধানসমূহ রয়েছে। আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে। ১৭নং আদেশ অনুযায়ী মুলতবির কিছু সাধারন বিধান-

⇒ আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে।
⇒ চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে।
অন্যদিকে, চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে (At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মুলতবি মঞ্জুর করে না।
⇒ মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।
⇒ মুলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
৪২৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৬ ধারায় কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে মহিলাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না?
  1. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  2. ঘোষণামূলক ডিক্রি
  3. টাকা পরিশোধের ডিক্রি
  4. সম্পত্তি হস্তান্তরের ডিক্রি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৬ ধারা- টাকার ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ:
এই খণ্ডে অন্য কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও আদালত টাকা পরিশোধের জন্য ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেপ্তার বা আটক রাখার আদেশ প্রদান করবে না।

Section 56- Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
৪৩০.
কোথায় ডিক্রি জারির আবেদন (Application for execution of decree) করতে হয়?
  1. আপিল আদালতে
  2. জেলা আদালতে
  3. ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে
  4. একই শ্রেণীর অন্য যে কোন আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন (Application for execution): ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৩৮ এর বিধান যে আদালত কর্তৃক ডিক্রি জারি করা যায়:
যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, ঐ আদালত বা যে আদালতে তা জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে, ঐ আদালত ডিক্রি জারি করতে পারে।

⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলী আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ কোন মোকদ্দমার রায়ে যার পক্ষে ডিক্রি দেয়া হয় তিনি আপনা আপনি ডিক্রির ফল ভোগ করতে পারবেন না। জারিযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে একটি ডিক্রি জারির মামলা করতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণপূর্বক জাবেদা নকল সহ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা যে আদালতে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয়েছে সে আদালতে ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয়।

⇒ আদেশ-২১, বিধি-১১: ডিক্রি জারির মৌখিক বা লিখিত আবেদন (Application for Execution of decree)- অর্থ পরিশোধের ডিক্রির ক্ষেত্রে ডিক্রি প্রদানের সময় ডিক্রিন্দার ডিক্রি জারির মৌখিক আবেদন করতে পারে, কিন্তু অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির জন্য প্রদত্ত আবেদন লিখিত হতে হবে। ডিক্রি জারির আবেদন দাখিলের পর ২১ নং আদেশের ১১ থেকে ১৪ নং বিধির সকল শর্তাবলী পূরণসাপেক্ষে আদালত ডিক্রি জারির আবেদন পত্রটি গ্রহণ ও রেজিস্ট্রারভুক্ত করবেন।

⇒ অর্থ পরিশোধের ডিক্রির ক্ষেত্রে ডিক্রি প্রদানের সময় ডিক্রিন্দার (Decree holder) ডিক্রি জারির জন্য মৌখিক আবেদন করলে এবং সাব্যস্ত দেনাদার (Judgement-debtor) আদালতে উপস্থিত থাকলে আদালত পরোয়ানা ছাড়াই দেনাদারকে (Judgement-debtor) গ্রেপ্তার করে তৎক্ষনাৎ ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারেন।
⇒ In case of a joint decree, the execution must be applied by either one decree holder or more than one or all the decree holders.

⇒ ⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ২১ বিধি-৫ এর বিধান স্থানান্তরের পদ্ধতি (Mode of transfer): ডিক্রিদানকারী আদালত এবং ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরিত হবে সে আদালত যদি একই জেলায় অবস্থিত হয় তবে ডিক্রি সরাসরি শেষোক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন কিন্তু ভিন্ন জেলায় অবস্থিত হলে, ডিক্রিদানকারী আদালত তা সেই জেলার জেলা আদালতে প্রেরণ করবেন।
৪৩১.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে, সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন দেওয়া যাবে না?
  1. সরকারি আইনজীবীকে নোটিশ না দিয়ে এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে।
  2. যদি নিষেধাজ্ঞা উন্নয়ন কর্মসূচীতে হস্তক্ষেপ করে।
  3. যদি নিষেধাজ্ঞা জনস্বার্থে ক্ষতিকর হয়।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯, বিধি-৫ক (Order-39, Rule-5A) অনুসারে, সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে একতরফা (ex parte) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে:
- সরকারি আইনজীবীকে নোটিশ না দিয়ে এবং তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে।
- যদি উক্ত নিষেধাজ্ঞা উন্নয়ন কর্মসূচী বা উন্নয়ন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- যদি উক্ত নিষেধাজ্ঞা জনস্বার্থে ক্ষতিকর হয়।
এই তিনটি শর্তই পূরণ না করলে আদালত একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারবে না।

অর্থাৎ প্রশ্নে উল্লেখিত তিনটি শর্তই একতরফা নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার কারণ হিসেবে আদেশ ৩৯, বিধি ৫ক-তে বলা আছে, তাই উত্তর হবে: “উপরের সবগুলো”।

Order-39 Rule-5A. No order of ad interim or temporary injunction without hearing the opposite party:
(1) Court shall not, without serving reasonable notice to the Government Pleader and giving him or any Pleader authorised by him in that behalf an opportunity of being heard, pass ex parte any order of ad interim or temporary injunction under any of the aforesaid rules of this Order at the instance of a private party against the Government or any statutory public authority, if such order is likely to prejudice or interfere with any measure designed to implement any development programme, or any development work or otherwise harm public interest.

(2) The Court shall, in all cases where a private party makes an application for ad interim or temporary injunction against another private party, direct notice of the application to the opposite party, unless it appears that the object or granting the injunction would be defeated by the delay.

(3) If any order of ad interim or temporary injunction is passed ex-parte at the instance of a private party against another private party, the Court shall hear and dispose of the matter on merit within seven days of appearance of the opposite party, unless the period is extended further at the instance of the opposite party; and any such order of ad interim or temporary injunction shall stand vacated, if the party at whose instance it was passed, prays for adjournment, or on being called upon by the Court, fails to attend hearing.
৪৩২.
আদেশ ৩৩ বিধি-৮ অনুসারে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করার কোন আবেদন মঞ্জুর হলে, তখন এটি কী হিসাবে বিবেচিত হবে?
  1. আপিল
  2. বিশেষ আবেদন
  3. সাধারণ রুজুকৃত মোকদ্দমা
  4. তৃতীয় পক্ষের দাবি
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৩ বিধি-৮: আবেদনপত্র গৃহীত হলে কর্মপদ্ধতি:

যেক্ষেত্রে আবেদন মঞ্জুর হয় সেক্ষেত্রে তা সংখ্যায়িত এবং নিবন্ধিত হবে এবং মোকদ্দমার আরজি হিসাবে বিবেচিত হবে এবং মোকদ্দমাটি অন্য সকল বিষয়ে একটি সাধারণভাবে রুজুকৃত মোকদ্দমার ন্যায়ই অগ্রসর হবে, তবে তা ব্যতীত যে বাদি মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত দরখাস্ত, উকিল নিয়োগ বা মোকদ্দমার সঙ্গে জড়িত অন্যবিধ কার্যধারার জন্য কোর্ট ফি (সমন জারির নিমিত্তে প্রদেয় ফিস ব্যতীত) প্রদানে দায়ী হবে না।
৪৩৩.
একাধিক বিবাদী নিয়ে একটি মোকদ্দমা চলছে। একজন বিবাদী আদালতে উপস্থিত থাকেন এবং অন্য বিবাদীরা উপস্থিত থাকেন না। এক্ষেত্রে আদালত-
  1. উপস্থিত বিবাদীর বিরুদ্ধে রায় দিবে
  2. উপস্থিত বিবাদী নিয়ে মোকদ্দমাটি নিয়ে অগ্রসর হবে
  3. অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ দেবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি ১১: কতিপয় বিবাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several defendants]:
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন বা কয়েকজন বিবাদী উপস্থিত হয় এবং অন্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি অগ্রসর হবে এবং রায় ঘোষণার সময় আদালত অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ দান করবেন।

[Where there are more defendants than one, and one or more of them appear, and the others do not appear, the suit shall proceed, and the Court shall, at the time of pronouncing judgment, make such order as it thinks fit with respect to the defendants who do not appear.]
৪৩৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫২ অনুযায়ী কোন ভুল সংশোধন করা যায়?
  1. সাক্ষীর ভুল বক্তব্য
  2. আইনগত ব্যাখ্যার ভুল
  3. করনিক বা গানিতিক ভুল এবং আকস্মিক ভ্রান্তি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) করনিক বা গানিতিক ভুল এবং আকস্মিক ভ্রান্তি।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ২০নং আদেশের বিধি ৩ অনুযায়ী, রায় ঘোষণা করার সময় বিচারক কর্তৃক তা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত তা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়, ডিক্রি, আদেশ সংশোধন (Amendment of judgement, decree & order) করার বিধান রয়েছে।
- এই ধারামতে, আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে করনিক বা গানিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes), আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির (accidental slip or omission) কারণে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫২ অনুযায়ী Judgment, decree বা order-এ clerical বা arithmetical mistakes অথবা accidental slip বা omission সংশোধন করা যেতে পারে, আদালত কর্তৃক নিজ উদ্যোগে (suo motu) অথবা পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে, যেকোনো সময়।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 152. Amendment of judgments, decrees or orders:
-Clerical or arithmetical mistakes in judgments, decrees or orders or errors arising therein from any accidental slip or omission may at any time be corrected by the Court either of its own motion or on the application of any of the parties.

৪৩৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯খ ধারা মোতাবেক সালিশ নিষ্পত্তিতে কোন আইনকে বিশেষভাবে অনুরসরণ করতে হয়?
  1. সালিশ আইন, ২০০০
  2. সালিশ আইন, ২০০১
  3. সালিশ আইন, ২০০৬
  4. সালিশ আইন, ২০০৭
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯খ ধারায় সালিশ বা Arbitration এর বিধান রয়েছে।৮৯খ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত কোন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিরোধীয় বিষয়টি সালিশের নিকট পাঠাতে পারেন এবং এই জন্য মোকদ্দমার পক্ষগণ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে তা তুলে নেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার অনুমতি দিবেন। তারপর সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে হবে অর্থাৎ কোন বিরোধ সালিশে (Arbitration) পাঠানো হলে তা সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

ধারা-৮৯খ: সালিশী:
১) মোকদ্দমার বিরোধ অথবা বিরোধসমূহ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশের নিকট প্রেরণ করবেন এই কারণে মোকদ্দমার পক্ষসমূহ কার্যপদ্ধতির যে কোন পর্যায়ে মোকদ্দমাটি তুলে নেয়ার জন্য আদালতের সমীপে আবেদন করলে আদালত আবেদন অনুমোদন করবে এবং মোকদ্দমা তুলে নেয়ার অনুমতি প্রদান করবে এবং তৎপরবর্তীতে যতদূর প্রযোজ্য, সালিশী আইন,২০০১ (২০০১ সালের ১নং আইন) অনুযায়ী বিরোধ বা বিরোধসমূহ নিষ্পত্তি হবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারণে কার্য প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত না হলে বা সালিসের রোয়েদাদ প্রদত্ত না হলে এই উপ-ধারার অধীন তুলে নেয়ার অনুমতিপ্রাপ্ত মোকদ্দমার পক্ষসমূহ পুনঃ দাখিলের অধিকার অর্জন করবে।

২) ১নং উপ-ধারানুযায়ী পেশকৃত আবেদন সালিসী আইন, ২০০১ (২০০১ সালের ১নং আইন) এর ধারা নং ৯ এর অধীনে সালিসের সম্মতি বলে ধরে নিতে হবে।
৪৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারা 'গণ-উৎপাত' সম্পর্কিত?
  1. ৯০ ধারা
  2. ৯১ ধারা
  3. ৯২ ধারা
  4. ৯৪ ধারা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৯১ ধারা: গণ-উৎপাত:
এটর্নি জেনারেল বা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি লিখিত অনুমতি নিয়ে গণ-উৎপাত প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞার মামলা করবেন। বিশেষ কোন ক্ষতি না হয়ে থাকলেও এই মামলা করা যাবে। তবে এটর্নি জেনারেল ছাড়া অন্য কেহ মামলা করতে হলে এটর্ণি জেনারেলের লিখিত ‍অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

Section: 91- Public nuisances:
(1) In the case of a public nuisance the Attorney General, or two or more persons having obtained the consent in writing of the Attorney General, may institute a suit, though no special damage has been caused, for a declaration and injunction or for such other relief as may be appropriate to the circumstances of the case.

(2) Nothing in this section shall be deemed to limit or otherwise affect any right of suit which may exist independently of its provisions.
৪৩৭.
আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান অনুসারে, আপিলের স্মারকলিপির সঙ্গে কী সংযুক্ত করতে হবে?
  1. আপিল ফি রসিদ
  2. আপিলকারীর শপথপত্র
  3. যে ডিক্রি হতে আপিল করা হচ্ছে তার নকল
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান- আপীলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
(১) প্রত্যেকটি আপিল আপীলকারী বা তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপির (memorandum) আকারে দাখিল করতে হবে এবং তা আদালত বা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীর নিকট পেশ করতে হবে।
স্মারকলিপির সঙ্গে আপীলকৃত ডিক্রির নকল এবং (যদি আপীল আদালত এই প্রয়োজনীয়তা মওকুফ না করে) যেই রায়ের উপর ডিক্রি প্রতিষ্ঠিত, তার নকল সংযুক্ত করতে হবে।

(২) স্মারকলিপির বিষয়বস্তু:
স্মারকলিপিতে আপীলকৃত ডিক্রি সম্পর্কে আপত্তির কারণগুলো সংক্ষেপে ও পৃথক পৃথক শিরোনামে (distinct heads) উল্লেখ করতে হবে, কোনোরূপ তর্ক বা ধারাবাহিক বর্ণনা ব্যতীত। এবং উক্ত কারণগুলো ক্রমিক নম্বরযুক্ত হতে হবে।

৪৩৮.
কে দেওয়ানি কারাগার থেকে রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গুরুতর অসুস্থতার কারনে মুক্তি দিতে পারে?
  1. পুলিশ
  2. সোপর্দকারী আদালত
  3. সোপর্দকারী আদালত যে আদালতের অধীনস্ত
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হইলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে।

দেওয়ানি কার্যবিধি ৫৯ ধারা- অসুস্থতার দরুন মুক্তি:
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।

৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।

Section 59- Release on ground of illness:
(1) At any time after a warrant for the arrest of a judgment-debtor has been issued the Court may cancel it on the ground of his serious illness.
(2) Where a judgment-debtor has been arrested, the Court may release him if, in its opinion, he is not in a fit state of health to be detained in the civil prison.
(3) Where a judgment-debtor has been committed to the civil prison, he may be released therefrom-
(a) by the Government, on the ground of the existence of any infectious or contagious disease, or
(b) by the committing Court, or any Court to which that Court is subordinate, on the ground of his suffering from any serious illness.

(4) A judgment-debtor released under this section may be re-arrested, but the period of his detention in the civil prison shall not in the aggregate exceed that prescribed by section 58.
৪৩৯.
যদি সমন শুধু বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য দেওয়া হয় এবং পক্ষ বা উকিলদের কোনো আপত্তি না থাকে, আদালত আদেশ-১৫, বিধি ৩ অনুসারে কী করতে পারেন?
  1. মামলা খারিজ করতে পারেন
  2. বিচার্য বিষয় অনুযায়ী রায় দিতে পারেন
  3. মামলা অন্য আদালতে পাঠাতে পারেন
  4. মামলা স্থগিত করতে পারেন
ব্যাখ্যা

আদেশ-১৫, বিধি ৩-
১) যদি মামলার পক্ষদের মধ্যে আইন বা ঘটনার কোনো প্রশ্ন বিচারযোগ্য হয় এবং আদালত আগে থেকেই বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে, তবে আদালত যদি মনে করেন যে আরও যুক্তি বা প্রমাণের দরকার নেই এবং তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করলে কারো প্রতি অবিচার হবে না, তাহলে আদালত সরাসরি বিচার্য বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে রায় দিতে পারেন।

তবে, যদি শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয়ে থাকে এবং মামলার পক্ষ বা তাদের উকিল উপস্থিত থেকে কোনো আপত্তি না করেন, তাহলে আদালত সেই অনুযায়ী রায় ঘোষণা করতে পারেন।

২) কিন্তু, যদি আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি, তাহলে তিনি মামলার অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য বা যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

৪৪০.
একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে বিবাদীর প্রতিকার কী?
  1. একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন
  2. রিভিউ
  3. আপীল
  4. সবগুলো প্রতিকার বিদ্যমান
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে (বিবাদীর) প্রতিকার:

⇒ অর্ডার ৯, রুল ১৩: একই কোর্টে একতরফা ডিক্রি রদের [Setting aside the Exparte decree] জন্য আবেদন করা।

⇒ অর্ডার ৯, রুল ১৩ক: একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদের [Directly setting aside the Exparte decree] জন্য আবেদন করা।

ধারা ৯৬(২): একতরফা ডিক্রি যেহেতু একটি ডিক্রি, তাই উক্ত ধারানুযায়ী আপিল করা যাবে।

ধারা ১১৪ + অর্ডার ৪৭, রুল ১: রিভিউ করা যাবে।

⇒ ১৫১ ধারায় একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল/রদ করার জন্য আবেদন করা যায়।
৪৪১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৯ ধারায় কয় ধরনের ব্যক্তিকে হলফনামা পরিচালনা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৯ ধারায়  কে বা কারা হলফনামা পরিচালনা করতে পারেন তা বলা হয়েছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৯ ধারামতে তিন ধরনের ব্যক্তিগণ হলফনামা পরিচালনা করতে পারে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৯ ধারার বিধান: এই কোডের অধীনে কোন এফিডেভিটের ক্ষেত্রে—
ক) যে কোন আদালত বা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা
খ) যে কোন কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তি যাকে সুপ্রীম কোর্ট এই কাজের জন্য নিয়োগ করতে পারেন, অথবা
গ) সরকার কর্তৃক সাধারণভাবে বা বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অপর কোন আদালত যে ব্যক্তিকে এই কাজের জন্য নিয়োগ করতে পারেন তারা সাক্ষ্যদাতার শপথ পরিচালনা করেন।
----------------------------------
⇒ CPC Section-139: Oath on affidavit by whom to be administered:
In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom the Supreme Court may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf, 
may administer the oath to the deponent.
৪৪২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৯৭ অনুসারে, কে স্থাবর সম্পত্তির দখল লাভে বাধা পেলে আদালতে আবেদন করতে পারে?
  1. ডিক্রিদার
  2. নিলাম সম্পত্তির ক্রেতা
  3. যে কোনো ব্যক্তি
  4. 'ক' বা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৯৭-এ বলা হয়েছে: "Where the holder of a decree for the possession of immovable property or the purchaser of any such property sold in execution of a decree is resisted or obstructed..."
অর্থাৎ যদি স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য ডিক্রির মালিক (ডিক্রিদার) অথবা ডিক্রি কার্যকর করে বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতা (নিলাম ক্রেতা) কোন ব্যক্তির দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হন, তাহলে তারা আদালতে অভিযোগ করে আবেদন করতে পারবেন।
- এই বিধির অধীনে "যে কোনো ব্যক্তি" আবেদন করতে পারে না- কেবলমাত্র ডিক্রিদার বা নিলামে সম্পত্তি ক্রয়কারী ব্যক্তি বাধা পেলে আবেদন করতে পারেন।
তাই ‘ঘ) ক বা খ’ অর্থাৎ ডিক্রিদার বা নিলাম ক্রেতা – উভয়েই উপযুক্ত আবেদনকারী।

⇒ আদেশ ২১, বিধি ৯৭ – স্থাবর সম্পত্তির দখলে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা:
(১) যিনি স্থাবর সম্পত্তি দখলের জন্য একটি ডিক্রির অধিকারী, অথবা যিনি কোনো ডিক্রি কার্যকরির মাধ্যমে বিক্রিত ঐ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন, তিনি যদি দখল পাওয়ার সময় কোনো ব্যক্তির দ্বারা বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, তাহলে তিনি উক্ত বাধা বা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে অভিযোগ করে আদালতে একটি আবেদন করতে পারবেন।
(২) আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করবেন এবং যার বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে, তাকে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে সমন প্রদান করবেন।

⇒ Order 21, Rule 97 – Resistance or Obstruction to Possession of Immovable Property:
(1) Where the holder of a decree for the possession of immovable property, or the purchaser of such property sold in execution of a decree, is resisted or obstructed by any person in obtaining possession of the property, he may make an application to the Court complaining of such resistance or obstruction.
(2) The Court shall fix a day for investigating the matter and shall summon the party against whom the application is made to appear and answer the same.
৪৪৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order XXXVII অনুযায়ী দাখিলী 'Summary Suit' নিষ্পত্তি করতে পারেন কে?
  1. সহকারী জজ
  2. সিনিয়র সহকারী জজ
  3. যুগ্ম জেলা জজ
  4. জেলা জজ
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি।
বিধি-১: আদেশের প্রয়োগ। এই আদেশ শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ORDER-37:-SUMMARY PROCEDURE ON NEGOTIABLE INSTRUMENTS 
Rule-1: Application of Order. This Order shall apply only to the High Court Division and to the District Court.
৪৪৪.
যদি জমি বিক্রয় চুক্তি বাস্তবায়নের মামলায় জমি ময়মনসিংহ এবং কক্সবাজারে অবস্থিত হয়, তাহলে মামলা কোথায় দায়ের করতে হবে?
  1. শুধুমাত্র কক্সবাজারে
  2. শুধুমাত্র ময়মনসিংহে
  3. বাংলাদেশের যেকোনো আদালতে
  4. ময়মনসিংহ বা কক্সবাজারে যেকোনো এক স্থানে
ব্যাখ্যা
⇒ স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে ঐ সম্পত্তির অংশ বিশেষ যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত, সেরূপ যে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাতে পারে। তাই উল্লিখিত মোকদ্দমা ময়মনসিংহ বা কক্সবাজারে যেকোনো এক স্থানে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়ের করতে পারে।


দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৭ এবং ধারা ১৮ স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমার এখতিয়ার নির্ধারণের জন্য প্রযোজ্য। 
ধারা ১৭: বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা:
এই ধারা অনুসারে, যদি কোনো স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি, বাড়ি ইত্যাদি) বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত হয়, তাহলে মোকদ্দমা সম্পত্তির অংশ বিশেষ যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করা যাবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি জমি কুমিল্লা এবং ঢাকায় অবস্থিত হয়, তাহলে মোকদ্দমা কুমিল্লা বা ঢাকার যেকোনো একটি আদালতে দায়ের করা যাবে।
তবে শর্ত হলো, আদালতকে সম্পূর্ণ দাবির মূল্য বিবেচনা করে মোকদ্দমা গ্রহণ করতে হবে।

ধারা ১৮: আঞ্চলিক এখতিয়ার অনিশ্চিত হলে প্রযোজ্য
এই ধারা প্রযোজ্য হয় যখন আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction) অনিশ্চিত হয়।
অর্থাৎ, যদি স্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত হয় এবং কোন আদালতের এখতিয়ার প্রযোজ্য হবে তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়, তাহলে ধারা ১৮ প্রযোজ্য হবে।
এই ক্ষেত্রে, মোকদ্দমা যেকোনো একটি আদালতে দায়ের করা যাবে, এবং পরে আদালত এখতিয়ার নির্ধারণ করবে।
৪৪৫.
চূড়ান্ত শুনানীকালে মোকদ্দমা মুলতবী করা যায় কোন কারণে?
  1. আদালতের বিবেচনায় যে কোনো কারণে
  2. যথোপযুক্ত কারণে
  3. ন্যায়বিচারের স্বার্থে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ মূলতবী সংক্রান্ত বিধিবিধান আদেশ ১৭ তে বলা আছে। বিধি ১-এর উপবিধি ৪-এর বিধান মতে চূড়ান্ত শুনানীকালে কোনো মুলতবী মনজুর করা যায় না। তবে proviso তে বলা আছে-if for ends of justice any adjournment is granted to a party…” অর্থাৎ, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত চাইলে চূড়ান্ত শুনানীকালেও সর্বোচ্চ ৩ বার ২০০-১০০০ টাকার খরচের আদেশ সহ বিচার মুলতবি করা যায়।
৪৪৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৩০ ধারা অনুসারে প্রদত্ত সমন অমান্য করলে আদালত তাকে অনধিক কত টাকা জরিমানা করতে পারেন?
  1. ৫০০
  2. ২০০
  3. ১০০
  4. ১০০০
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুসারে, সমন অমান্যের জন্য যাকে সমন প্রদান করা হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে নিম্নোক্ত আদেশসমূহ দিতে পারে-
ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে জেলে প্ররণ করতে পারেন।

Sec 32: Penalty for default-
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
a) issue a warrant for his arrest;
b) attach and sell his property;
c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
d) order him to furnish security for his appearance and in default commit to the civil prison.
৪৪৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯ বিধি-১ অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন মঞ্জুর করা হয়?
  1. মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে
  2. শুধুমাত্র জমি সংক্রান্ত বিরোধে
  3. বিবাদী ঋণ পরিশোধ করলে
  4. নালিশী সম্পত্তি নষ্ট বা হস্তান্তরের ঝুঁকি থাকলে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ অনুযায়ী আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। বিধি ১ অনুযায়ী যখন নালিশী সম্পত্তি কোন পক্ষ কর্তৃক ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্থ বা হস্তান্তরিত হওয়ার বা কোন ডিক্রি জারিমূলে অন্যায়ভাবে বিক্রি হতে পারে, অথবা বিবাদী যখন পাওনাদারকে বঞ্চিত, প্রতারিত করার জন্য তার সম্পত্তি হস্তান্তর করার হুমকি প্রদান করে বা ইচ্ছা পোষণ করে, তখন আদালত উক্ত নালিশী সম্পত্তি ধ্বংসকরণ, ক্ষতিগ্রস্থকরণ, হস্তান্তর, নিলাম, বিক্রয়, অপসারণ বা সমর্পণ স্থগিত করার উদ্দেশ্যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে বা আদালত কর্তৃক যেরূপ উপযুক্ত বিবেচিত হবে সেরূপ আদেশ দিতে পারেন।

- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ অনুযায়ী, আদালত তখন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন যখন প্রমাণ হয় যে নালিশী সম্পত্তি নষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত, হস্তান্তরিত, বা ভুলভাবে বিক্রি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, অথবা বিবাদী তার সম্পত্তি লুকিয়ে ফেলছে বা বিক্রি করে পাওনাদারকে প্রতারিত করতে চাচ্ছে। এইরূপ পরিস্থিতিতে আদালত সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯ বিধি-২:
১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।
২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।
৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয়মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।
৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।

৪৪৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১, বিধি ৭ অনুসারে, প্রশ্নমালা (Interrogatories) রদ বা কর্তনের আবেদন কত দিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১, বিধি ৭ অনুসারে, যদি কোনো প্রশ্নমালা অযৌক্তিক, বিরক্তিকর, অনাবশ্যকীয় বা কুৎসামূলক হয়, তবে তা রদ বা কর্তনের জন্য আবেদন করা যেতে পারে, তবে এই দরখাস্ত প্রশ্নমালা জারির ৭ দিনের মধ্যে করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির  আদেশ ১১ বিধি ৭- প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন:
কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে-এই অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, বা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অনাবশ্যকীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন দরখাস্ত করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের ভিতর পেশ করা যেতে পারে।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 11 Rule 7: Setting aside and striking out interrogatories:
Any interrogatories may be set aside on the ground that they have been exhibited unreasonably or vexatiously, or struck out on the ground that they are profix, oppressive, unnecessary or scandalous; and any application for this purpose may be made within seven days after service of the interrogatories.

৪৪৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২১, বিধি-৩৭ অনুযায়ী, অর্থ আদায়ের ডিক্রি কার্যকর করতে গ্রেফতারের জন্য আবেদন করা হলে আদালত প্রথমে কী করে?
  1. ডিক্রি বাতিল করে
  2. জরিমানা আরোপ করে
  3. রায়সিদ্ধ দেনাদারকে নোটিশ পাঠায়
  4. সরাসরি গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে নোটিশ পাঠায়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২১, বিধি-৩৭ অনুযায়ী: যখন অর্থ আদায়ের ডিক্রি (decree for payment of money) জারির জন্য ডিক্রিদার (decree-holder) আদালতে আবেদন করেন যে, রায়সিদ্ধ দেনাদার (judgment-debtor)-কে গ্রেপ্তার করে দেওয়ানি জেলে (civil prison) আটক রাখা হোক, তখন আদালত সাধারণত সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন না।
বরং, আদালত প্রথমে একটি নোটিশ জারি করেন, যাতে রায়সিদ্ধ দেনাদার নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হয়ে “কারণ দেখাতে পারেন যে কেন তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে না”।
- এটি একটি ন্যায়বিচারমূলক সুযোগ (principle of natural justice), যাতে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে যদি আদালত সন্তুষ্ট হন যে judgment-debtor পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে (যেমন: শপথনামা বা অন্য প্রমাণ উপস্থাপিত হয়), তাহলে সরাসরি পরোয়ানা জারি করাও সম্ভব, কিন্তু সাধারণ নিয়ম হিসেবে আগে নোটিশ পাঠানোই বাধ্যতামূলক।
 - অতএব, প্রশ্ন অনুযায়ী:“আদালত প্রথমে কী করে?” এর সঠিক ও আইনসম্মত উত্তর হলো “রায়সিদ্ধ দেনাদারকে নোটিশ পাঠায়”

Arrest and Detention in the Civil Prison:
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-37. Discretionary power to permit judgment-debtor to show cause against detention in prison.
(1) Notwithstanding anything in these rules, where an application is for the execution of a decree for the payment of money by arrest and detention in the civil prison of a judgment-debtor who is liable to be arrested in pursuance of the application, the Court shall, instead of issuing a warrant for his arrest, issue a notice calling upon him to appear before the Court on a day to be specified in the notice and show cause why he should not be committed to the civil prison:
Provided that such notice shall not be necessary if the Court is satisfied, by affidavit, or otherwise, that, with the object or effect of delaying the execution of the decree, the judgment-debtor is likely to abscond or leave the local limits of the jurisdiction of the Court.
(2) Where appearance is not made in obedience to the notice, the Court shall, if the decree-holder so requires, issue a warrant for the arrest of the judgment-debtor.
৪৫০.
ইন্টারপ্লিডার মামলার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বাদী ও বিবাদীর মধ্যে কোন বিরোধ থাকে না
  2. শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  3. বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ থাকে না
  4. বিবাদীগণের মধ্যে বিরোধ থাকে
ব্যাখ্যা
• প্রকৃত অর্থে ইন্টারপ্লিডার মামলা কোন দাবী আদায়ের মামলা নয় বরং প্রকৃত দাবীদার সাব্যস্ত করার জন্য মামলা। যখন একাধিক ব্যক্তি কোন অর্থ বা সম্পত্তি বাদীর নিকট দাবী করে এবং বাদীও তা প্রদান করতে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু প্রকৃত দাবিদার সাব্যস্ত করা যায় না বিধায় বাদী তাদের বিরুদ্ধে এরূপ মামলা করে। এক্ষেত্রে বিবাদ সম্পর্কে বাদীর কোন আগ্রহ থাকে না। বিবাদীরা পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে প্লিড করে এবং আদালত যাকে প্রকৃত দাবিদার সাব্যস্ত করেন বাদী তার নিকট সে অর্থ বা সম্পত্তি অর্পন করে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৮ ধারায় এ সম্পর্কে বিধান রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে যে,
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবী করে এবং যার নিকট দাবী করা হয় তার যদি উক্ত সম্পত্তির উপর খরচের দাবী ব্যতীত অন্য কোন দাবী দাওয়া না থাকে এবং সে যদি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকে তবে সেই সম্পত্তি বা অর্থ কার নিকট অর্পণ করতে হবে সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য উক্ত রূপ দাবীদারগণের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মামলা দায়ের করতে পারবে। তবে উক্ত দাবীদারগণের অধিকার যদ্বারা নির্ধারিত হবে এমন কোন মামলা যদি বিচারাধীন থেকে থাকে সেক্ষেত্রে এরূপ ইন্টারপ্লিডার মামলা দায়ের করা যাবে না।

ইন্টারপ্লিডার মামলার ক্ষেত্রে যে সকল শর্ত থাকতে হবে তা দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ নম্বর আদেশে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই আদেশের ১ নম্বর বিধি অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নোক্তগুলি আরজিতে উল্লেখ করতে হবে-
ক. মামলাটির বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নিহিত নেই।
খ. বিবাদীগণ (দুই বা ততোধিক) পৃথকভাবে তাদের দাবী উত্থাপন করেছে এবং এ দাবীগুলি পরস্পর বিরোধী বলে গণ্য হয়।
গ. বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোন যোগসাজস নেই।
ঘ. বাদীর নিকট পাওনা অর্থ বা সম্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট বিবাদীর নিকট প্রদান করার ইচ্ছা থাকতে হবে।

অর্থাৎ 'শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য'- উক্তি সঠিক নয়।
৪৫১.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 9, rule 4 অনুযায়ী কোনো মামলা খারিজ হলে বাদী -
  1. নতুন মামলা দায়ের করতে পারবেন
  2. নতুন মামলা দায়েরে বারিত হবেন।
  3. রিভিউ চাইতে পারবেন
  4. ষাট দিনের মধ্যে খারিজাদেশ সরাসরি বাতিল চাইতে পারবেন
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৯ বিধি-৪ মতে বাদী নতুন মোকদ্দমা করতে পারে বা আদালত মোকদ্দমাটি নথিতে পুনর্বহাল করতে পারেন (Plaintiff may bring fresh suit or Court may restore suit to file): কোন মোকদ্দমা ২ বা ৩ বিধির অধীনে খারিজ করা হলে,
বাদী নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে, অথব
খারিজের আদেশ রদ করার আবেদন করতে পারে,
(তামাদি মেয়াদ ৩০দিন, অনুচ্ছেদ: ১৬৩)এবং
 ♦ সে যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, কোর্ট ফি বা ডাক মাশুল (Postal charge) দিতে না পারার অথবা উপস্থিত হতে না পারার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল তবে আদালত মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রদের আদেশ দান করবেন এবং মোকদ্দমার কার্যধারা পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।
৪৫২.
‘ক’ এর দায়ের করা মোকদ্দমায় ‘খ’ এর বিরুদ্ধে গ্রেফতার, ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ লাভ করে। পরবর্তীতে প্রমানিত হয় ‘খ’ এর বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত কারনে গ্রেফতার, ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। বিবাদী ক্ষতিপূরন বাবদ পাবে?
  1. অনধিক ২০০০ টাকা
  2. অনধিক ১০০০০ টাকা
  3. অনধিক ৫০০০ টাকা
  4. অনধিক ২০০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৯৫ ধারা অনুযায়ী বিবাদীকে যদি অপর্যাপ্ত কারনে গ্রেফতার, ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়, তাহলে যদি প্রমাণিত হয় যে বিবাদীকে অপর্যাপ্ত কারনে এই গুলোর আদেশ দেওয়া হয়েছে তাহালে আবেদনের প্রেক্ষিতে বাদীর বিরুদ্ধে অনধিক ১০০০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিবেন।
৪৫৩.
কোনটি 'mesne profits' এর সাথে সম্পর্কিত নয়?
  1. বেআইনি দখলদার
  2. মামলার খরচ
  3. সুদসহ মুনাফা
  4. স্থাবর সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২(১২) “অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা” (mesne profits):
সম্পত্তির “অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা” বলতে বেআইনি দখলকার ব্যক্তি সম্পত্তি হতে প্রকৃতপক্ষে যে মুনাফা লাভ করেছে বা সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে মুনাফা লাভ করতে পারত সুদসহ সেই মুনাফা বুঝায়, কিন্তু বেআইনি দখলকার ব্যক্তি সম্পত্তির কোন উন্নতি সাধন করে থাকলে এর ফলে সৃষ্ট মুনাফা অন্তর্ভুক্ত হবে না

("mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession)

অর্থাৎ, মামলার খরচ 'mesne profits' এর সাথে সম্পর্কিত নয়।
৪৫৪.
কোন আদালত একটি ডিক্রি জারি করতে পারে?
  1. একই শ্রেণীর অন্য যে কোন আদালত
  2. আপিল আদালত
  3. রিভিশন আদালত
  4. যে আদালতে ডিক্রিটি জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
• জারিকারক আদালত (executing court)- কোন কোন আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ ধারা থেকে ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে। ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, সেই আদালত অথবা যে আদালতে ডিক্রিটি জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন।

• ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত (Trial court) করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরূদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই (Trial court) ডিক্রি জারি করবে।

• আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন (Application for execution): ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।

• ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি (objection) ডিক্রি জারিকারক আদালতই (executing court) নিষ্পত্তি করবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রি জারি করার অনুরোধ করতে পারেন এবং এরূপ আদালত অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন। যা  ডিক্রি জারির অনুরোধ (Precepts) নামে পরিচিতো।

• ডিক্রিদানকারী আদালত ক্রোকের মেয়াদ বৃদ্ধি না করলে কোন ক্রোক ২ মাসের অধিক সময় বলবৎ থাকবে না।
------
• Section 38. Court by which decree may be executed:
A decree may be executed either by the Court which passed it, or by the Court to which it is sent for execution.
৪৫৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৫ বিধি-১ অনুযায়ী, স্বার্থবিহীন মোকদ্দমায় আরজিতে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. বিবাদীদের পৃথক দাবি
  2. বাদীর বিতর্কিত বিষয়ে কোনো স্বার্থ নেই
  3. বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৫ বিধি ১ অনুযায়ী, স্বার্থবিহীন মোকদ্দমার আরজিতে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক—
১. বাদীর বিতর্কিত বিষয়ে কোনো স্বার্থ নেই, ব্যয় ব্যতীত,
২. বিবাদীগণ পৃথকভাবে দাবি করছেন, এবং
৩. বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৫ বিধি-১: স্বার্থবিহীন মোকদ্দমায় আরজি:
স্বার্থবিহীন ব্যবহার মোকদ্দমায় প্রত্যেক মোকদ্দমার আরজিতে, আরজির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিবৃতির অতিরিক্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো বিবৃত করতে হবে-
ক) বাদী মোকদ্দমার বিতর্কিত বিষয়বস্তুতে দায়সমূহের বা মোকদ্দমার ব্যয়াদির জন্য ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবী করে না,
খ) বিবাদীগণ কর্তৃক দাবীসমূহ স্বাতন্ত্র্যভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং
গ) যে বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-35 Rule-1: Plaint in interpleader-suits-
In every suit of interpleader the plaint shall, in addition to other statements necessary for plaints, state-
a) that the plaintiff claims no interest in the subject-matter in dispute other than for charges or costs;
b) the claims made by the defendants severally; and
c) that there is no collusion between the plaintiff and any of the defendants.
৪৫৬.
আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত কোন ক্ষেত্রে আপিল করার বিধান রয়েছে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে
  2. হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে
  3. আপিল বিভাগের নিকট কোনো মোকদ্দমা আপিলযোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে, উক্ত মোকদ্দমার রায়ের বিরুদ্ধে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৯ ধারা: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে, তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।

Section: 109- When appeals lie to the Supreme Court:
Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division-
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction;
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.
৪৫৭.
যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য _______ নিকট সমন পাঠাতে হবে।
  1. সরাসরি বিবাদীর
  2. জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার
  3. বিবাদীর প্রতিনিধির
  4. বিবাদীর পরিবারের সদস্যের
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির পদ্ধতি:

⇒ যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী যে এলাকায় বসবাস করে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন যেকোন সমন জারিকারী আদালত সমনটি পাঠাতে পারে এবং উক্ত আদালত তখন সমন জারি করবে [আদেশ ৫, বিধি ২১]।

⇒ যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে। [আদেশ ৫, বিধি ২৪]

⇒ যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোন এজেন্ট নেই, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী দেশের বাইরে যেখানে বসবাস করে সেখানে পাঠাতে হবে [আদেশ ৫ বিধি ২৫]। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা এমন সমন জারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত কর্তৃক সমনটি জারি করা যেতে পারে [আদেশ ৫ বিধি ২৬]।

⇒ সরকারী কর্মকর্তা বা রেলওয়ে বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার প্রতি সমন জারির জন্য উক্ত অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে (আদেশ ৫ বিধি ২৭]।

⇒ যেক্ষেত্রে বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিক, সেই ক্ষেত্রে সমন জারি করতে উক্ত বাহিনীর কমাণ্ডিং অফিসারের নিকট সমন পাঠাতে হবে [আদেশ ৫ বিধি ২৮]।
৪৫৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৫৬ অনুযায়ী, অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক করা যায় না?
  1. শিশু
  2. পুরুষ
  3. মহিলা
  4. সরকারি কর্মচারী
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী: "The Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money."
অর্থাৎ, যদি কারও বিরুদ্ধে অর্থ পরিশোধের জন্য ডিক্রি জারি হয়, তবে আদালত কোনো মহিলাকে গ্রেফতার বা দেওয়ানি জেলে আটক করতে পারবে না। এই বিধান নারীদের প্রতি একটি বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে, যাতে অর্থবিষয়ক মামলায় তাদের গ্রেফতার বা আটক না করা হয়।

⇒দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৫৬ হল- অর্থের ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ:
- আদালত অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেফতার বা আটক রাখার কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section 56. Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
 Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
৪৫৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পদ্ধতি উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ-৫, বিধি-১
  2. আদেশ-১০, বিধি-২
  3. আদেশ-১৬, বিধি-৬
  4. আদেশ-১৮, বিধি-৪
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) আদেশ-১৮, বিধি-৪।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮, বিধি ৪-এ বলা হয়েছে, আদালতে উপস্থিত সাক্ষীদের জবানবন্দি বিচারকের উপস্থিতিতে, তাঁর ব্যক্তিগত নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৮, বিধি-৪: প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি-
- হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-18, Rule-4: Witnesses to be examined in open Court- 
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.

৪৬০.
মোকদ্দমার আপস সংক্রান্ত আদেশ-২৩, বিধি-৩ অনুসারে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলাটি খারিজ করতে পারে
  2. মামলাটি পুনরায় শুনানি করতে পারে
  3. আপস বা চুক্তি লিপিবদ্ধ করতে পারে এবং ডিক্রি দিতে পারে
  4. মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
আদেশ-২৩ বিধি-৩: মোকদ্দমার আপস:
যেক্ষেত্রে আদালতের সন্তুষ্টি সহকারে এটি প্রমাণিত হয় যে, আইনসঙ্গত চুক্তি বা আপসের দ্বারা কোন মোকদ্দমা সামগ্রিক বা আংশিকভাবে সমন্বয়িত হয়েছে কিংবা যদি বিবাদি মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সামগ্রিক বা কোন অংশের সম্পর্কে বাদিকে মিটিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত চুক্তি, আপস বা মিটানোর বিষয়টি লিপিবদ্ধ করার আদেশ দিবে এবং যতদূর মোকদ্দমার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত হয়, ততদূর তদানুসারে একটি ডিক্রি প্রদান করবে।

Order-23 Rule-3- Compromise Suit:
Where it is proved to the satisfaction of the Court that a suit has been adjusted wholly or in part by any lawfull agreement or compromise, or where the defendant satisfies the plaintiff in respect of the whole or any part of the subject-matter of the suit, the Court shall order such agreement, compromise or satisfaction to be recorded, and shall pass a decree in accordance therewith so far as it relates to the suit.
৪৬১.
What does a decree under Order 20 Rule 10 provide for?
  1. Only Delivery of immovable property
  2. Only Delivery of movable property
  3. Only monetary compensation
  4. Both the delivery of property and alternative compensation amount
ব্যাখ্যা
Order 20 Rule 10: Decree for delivery of movable property:
Where the suit is for movable property, and the decree is for the delivery of such property, the decree shall also state the amount of money to be paid as an alternative if delivery cannot be had.

আদেশ ২০ বিধি-১০: অস্থাবর সম্পত্তি অর্পণের নিমিত্তে ডিক্রি:
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা অস্থাবর সম্পত্তির জন্য এবং ডিক্রি উক্ত সম্পত্তি অর্পণের জন্য হয়, সেক্ষেত্রে সমর্পণ যদি সম্ভব না হতে পারে তবে বিকল্প হিসাবে দেয় টাকার পরিমাণও ডিক্রিতে বর্ণনা করতে হবে।
৪৬২.
দেওয়ানি কার্যবিধির সংজ্ঞা অনুসারে "Judgment" means the statement given by the Judge of the grounds of a __________.
  1. decree
  2. order
  3. decree or order
  4. civil suit
ব্যাখ্যা
⇒ CPC-Section-2(9) "Judgment" means the statement given by the Judge of the grounds of a decree or order:
- 'রায়" (Judgment): বলতে ডিক্রি বা আদেশের ভিত্তি হিসেবে বিচারক যে বিবৃতি দেন, তা বুঝায়।

⇒ রায় বলতে বুঝায় কোন দেওয়ানী মামলায় প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসেবে বিচারক যে বর্ণনা দেন। সাধারণত, দেওয়ানী মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন এবং রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করেন।
অর্থাৎ রায় (Judgment)- ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসেবে বিচারক যে বর্ণনা দেন, তাকে রায় বলে।
৪৬৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংশোধিত Order-V, Rule-9 অনুযায়ী, এখন কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সমন পাঠানো যাবে?
  1. Voice Calls
  2. Short Message Service
  3. Instant Messaging Services
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী Order V, Rule 9, Sub-rule (3)-এ “transmission of documents through” শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে:
"Short Message Service, Voice Calls, Instant Messaging Services,"
অর্থাৎ, এখন সমন বা কাগজপত্র পাঠানোর জন্য নিম্নলিখিত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করা যাবে:
- Short Message Service (SMS)
- Voice Calls
- Instant Messaging Services (যেমন WhatsApp, Messenger ইত্যাদি)

এছাড়াও, উক্ত বিধানে আরও বলা হয়েছে:
“Provided that the proof of such service shall be kept in record.”
অর্থাৎ, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠানো সমনের প্রমাণ অবশ্যই রেকর্ডে রাখতে হবে।

তাই সঠিক উত্তর হচ্ছে: ঘ) উল্লিখিত সবগুলো। 
৪৬৪.
আদেশ ৯ বিধি-২ এর অধীন কোন কারণে আদালত মোকদ্দমা খারিজ করতে পারেন?
  1. বিবাদী সময়মতো লিখিত জবাব না দিলে
  2. বাদী কোর্ট ফি প্রদান না করলে
  3. বিবাদী আদালতে উপস্থিত না হলে
  4. বাদী সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হলে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি-২:
নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদি কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদির উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদির উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed: 
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
৪৬৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১২ অনুযায়ী, কৃষকের দখলে থাকা কৃষিজ দ্রব্য সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
  1. রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য
  2. রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়
  3. শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রোকযোগ্য
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১২ অনুযায়ী, কৃষকের দখলে থাকা কৃষিজ দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোক করা যাবে না। এই বিধান অনুযায়ী, কৃষিজ দ্রব্যের প্রতি কোনো ক্রোক বা জব্দের আবেদন করা বা আদালতের আদেশে কৃষিজ দ্রব্য ক্রোক করা যাবে না যতক্ষণ না রায় ঘোষণা করা হয়।

⇒ আদেশ ৩৮ বিধি-১২: কৃষিজ দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়:
এই আদেশের কোন বিধানই বাদিকে কৃষকের দখলে থাকা কোন কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য আবেদন করার ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বা আদালতকে ক্রোক বা অনুরূপ কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য হাজির করার আদেশ দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-38 Rule-12- Agricultural produce not attachable before judgment:
Nothing in this Order shall be deemed to authorise the plaintiff to apply for the attachment of any agricultural produce in the possession of an agriculturist, or to empower the Court to order the attachment or production of such produce.
৪৬৬.
'অপর পক্ষের শুনানি ছাড়া অন্তবর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না।'- আদেশ ৩৯ এর কোন বিধিতে বলা হয়েছে?
  1. বিধি ৩ক
  2. বিধি ৪
  3. বিধি ৫ক
  4. বিধি ১০
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৫ক এর বিধান- অপর পক্ষের শুনানি ছাড়া অন্তবর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না (No order of ad interim oг temporary injunction without hearing the opposite party):

⇒ কোন আদালত সরকারি আইনজীবীর উপর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) জারি না করে এবং তাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করে বেসরকারি পক্ষের অনুরোধে সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে কোন একতরফা অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবে না, যদি অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা কোন উন্নয়ন কর্মসূচী বা কর্ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিষ্ট বা হস্তক্ষেপ করার আশু সম্ভাবনা থাকে বা অন্যভাবে জনস্বার্থে অনিষ্টকর হয়।

⇒ কোন বেসরকারি পক্ষ অন্যকোন বেসরকারি পক্ষের বিপক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত করলে আদালত নোটিশ ছাড়া তা মঞ্জুর করবে না, তবে দেরীর কারণে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের উদ্দেশ্যে ব্যাহত হলে সেক্ষেত্রে নোটিশ ছাড়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া যাবে।

⇒ যদি বে-সরকারি পক্ষের অনুরোধ অপর বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদত্ত হয়, তাহলে অপর পক্ষের হাজির হওয়ার তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে হবে।

⇒ যে পক্ষের অনুরোধে অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হয় সেই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং দেখা যায় যে এরূপ নিষেধাজ্ঞার জন্য অন্যপক্ষের ক্ষতিসাধন হয়েছে তাহলে আদালত, অন্যপক্ষ যে খরচ পাবে তার অতিরিক্ত অনধিক ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ অনুমোদন করবেন।
৪৬৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-১১, বিধি-১ অনুসারে, মামলার কোনো পক্ষ কত দিনের মধ্যে লিখিত প্রশ্নমালা (Interrogatories) পাঠাতে পারে?
  1. ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে
  2. ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে
  3. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে
  4. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১১, বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার পক্ষরা আদালতের অনুমতি নিয়ে ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত প্রশ্নমালা পাঠাতে পারে। এর ফলে তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান হয় এবং মামলা সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১১, বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতের অনুমতি নিয়ে, ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিপক্ষের কাছে লিখিত প্রশ্নমালা (Interrogatories) পাঠাতে পারে।

- এর উদ্দেশ্য হলো, পক্ষগুলো পরস্পরকে প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে বাধ্য করতে পারে এবং মামলার বিচার কার্যক্রম সহজতর হয়।
প্রয়োগের মূল শর্ত:
- ১০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হবে ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে।
- আদালতের অনুমতি ছাড়া কেউ একাধিকবার প্রশ্নমালা পাঠাতে পারবে না।
- প্রশ্নমালা মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়ের মধ্যে থাকতে হবে, তা না হলে তা অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-11 Rule-1: Discovery by Interrogatories:
- In any suit, the plaintiff or defendant, by leave of the Court, may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories, when delivered, shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons is required to answer:
Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose:
Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral cross-examination of a witness.
৪৬৮.
The Code of Civil Procedure, 1908-এর আদেশ ৩৭-এর বিধি-১ অনুসারে এই আদেশ কোন আদালতে প্রযোজ্য?
  1. সব ধরনের দেওয়ানি আদালতে
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতে
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও মুনসেফ আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒  The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭ (ORDER 37) এর বিধি-১ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কার্যপদ্ধতি শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো নিম্ন বা বিশেষ আদালতের জন্য এই বিশেষ পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি।
বিধি-১: আদেশের প্রয়োগ। এই আদেশ শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ORDER-37:-SUMMARY PROCEDURE ON NEGOTIABLE INSTRUMENTS:
Rule-1: Application of Order. This Order shall apply only to the High Court Division and to the District Court.

৪৬৯.
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার ক্ষেত্রে কোন সংস্থা সময়ে সময়ে বিধি প্রণয়ন করতে পারে?
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. জাতীয় সংসদ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১০৯ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল সম্পর্কিত বিধান সাপেক্ষে, সুপ্রিম কোর্ট নিজেই সময়ে সময়ে আপিলের নিয়মাবলী বা বিধি প্রণয়ন করতে পারে। এটি আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন হাইকোর্ট বিভাগের রায় বা চূড়ান্ত আদেশ থেকে আপিলের ক্ষেত্রসমূহ। অন্যান্য অপশনগুলো (জাতীয় সংসদ: আইন প্রণয়ন করে; হাইকোর্ট: নিম্নস্তরের আপিল; আইন মন্ত্রণালয়: আইনি পরামর্শ দেয়) এই নির্দিষ্ট ক্ষমতার অধিকারী নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।
-----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 109. When appeals lie to the Supreme Court.
- Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division.
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction; 
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and 
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.

৪৭০.
আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে কী হবে?
  1. আরজি ফেরত
  2. আরজি নাকচ
  3. মামলা খারিজ
  4. মামলা চলবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ অনুযায়ী- আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে আদালত আরিজ নাকচ করবেন। ভুল আদালতে আরজি পেশ করলে আদালত আরজি ফেরত দেয়। আরজি খারিজ ও মামলা খারিজ একই বিষয় নয়। উল্লেখ্য যে, আরজি খারিজ বা নাকচ হলেও নির্দিষ্ট ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আরজি পেশ করা যায়। শুনানীর দিন পক্ষগণের অনুপস্থিতির কারণে বা সমন জারি না হওয়ার কারণে মামলা খারিজ হতে পারে।
৪৭১.
কোন ক্ষেত্রে বাদীপক্ষকে ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে Order-VII, rule-11 এ আরজি প্রত্যাখ্যান করা যায়?
  1. প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যায়ন কম করা হলে
  2. আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে
  3. মামলার আরজি কার্টিজ পেপারে উপস্থাপন না করলে
  4. আরজির সাথে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমন ও আরজির কপি না দিলে
ব্যাখ্যা
♦আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে, আদালত আরজি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আরজিতে প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যমান কম করা হলে বা প্রয়োজনের তুলনায় কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হলে বা আরজির সাথে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমন ও আরজির কপি না দিলে, আদালত উক্ত ক্ষেত্রে সরাসরি আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ দিবে না বরং প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যমান সংশোধন করতে, আরজি প্রয়োজনীয় কার্টিজ পেপারে উপস্থাপন করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় সমন ও আরজির কপি সরবরাহ করার জন্য ২১ দিন সময় দিবে। যদি উক্ত ২১ দিনের মধ্যে বাদী এমন আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত আরজি প্রত্যাখ্যান করবে।

♦আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে। [ধারা-২(২)] ~ আরজি নাকচ / প্রত্যাখ্যানের কারণ ৪টি:

১) মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না করলে (Cause of action)

২) দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেয়া হলে (undervalued)

৩) অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে লিখা হলে (insufficiency stamped)

৪) মোকদ্দমাটি আইন/তামাদিতে বারিত হলে (Barred by law)

দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেখালে বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আদালত তা সংশোধনের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারে।
৪৭২.
কোন আদালত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে না?
  1. আপিল বিভাগ
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. স্মল কজ কোর্ট
  4. জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৮২ মতে কোন কোন আদালত বিক্রয় করার আদেশ প্রদান করতে পারে: স্মল কজ কোর্ট ব্যতীত অন্য যে কোন আদালত ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।
- সুতরাং স্মল কজ কোর্ট ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে না।
-------------------
Order-21 Rule-82. What Courts may order sales:
- Sales of immovable property in execution of decrees may be ordered by any Court other than a Court of Small Causes.
৪৭৩.
যদি সমন জারি না হয়ে ফেরত আসে, আদেশ-৯, বিধি-৫ অনুযায়ী বাদীকে কত দিনের মধ্যে নতুন সমনের জন্য আবেদন করতে হবে?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১৫ দিনের মধ্যে
  3. ১ মাসের মধ্যে
  4. ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯, বিধি-৫:
(১) বিবাদীকে কিংবা কতিপয় বিবাদীর কোনো একজনের প্রতি সমন দেওয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারির বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেওয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেওয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দেবে। তবে, যদি উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদী নিম্নলিখিত যে কোনো কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—

ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদী যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও সেই বিবাদীর ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা
খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছেন; অথবা
গ) সময়ের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নতুন সমন দেওয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।
৪৭৪.
দেওয়ানি আদালতসমূহকে ________ প্রদত্ত নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতির একটি সীলমোহর ব্যবহার করতে হবে।
  1. আইন
  2. সরকার
  3. বিচারক
  4. হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
Section 16 of The Civil Courts Act, 1887-
Every Civil Court under this Act shall use a seal of such form and dimensions as are prescribed by the Government.
⇒ এই আইনের অধীন প্রত্যেক দেওয়ানী আদালতকে সরকার প্রদত্ত নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতির একটি সীলমোহর ব্যবহার করতে হবে।

• এই বিধানটি দেওয়ানী আদালতগুলোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সীলমোহর ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশিকা প্রদান করে। এর উদ্দেশ্য হল সকল দেওয়ানী আদালতের জন্য একটি নির্দিষ্ট মানের সীলমোহর ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করা।

"সরকার প্রদত্ত" অংশটি বোঝায় যে, সীলমোহরের আকার ও আকৃতি সরকারের দ্বারা নির্ধারিত হবে। আদালতগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামত সীলমোহর ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে না।
"নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি" অংশটি বোঝায় যে, সীলমোহরের আকৃতি ও আকার সুনির্দিষ্ট হবে। অর্থাৎ সরকার দ্বারা নির্ধারিত মাপদণ্ড থাকবে যা অনুসরণ করতে হবে।

এই বিধানটি প্রধানত আদালতগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বীকৃত মানের সীলমোহর ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। এটি আনুষ্ঠানিকতাকে বজায় রাখতে এবং আদালতের নথিপত্রগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
৪৭৫.
কখন পারস্পরিক দায়শোধের আবেদন করার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন?
  1. মোকদ্দমা দায়েরের আগে
  2. মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়
  3. মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর পর
  4. মোকদ্দমা সমাপ্তির পর
ব্যাখ্যা
• পারস্পরিক দায়শোধ [Set off]:
পারস্পরিক দায়শোধ বা দাবী সম্বনয় অর্থ হলো একটি দাবীর বিরুদ্ধে অন্য একটি দাবী উত্থাপন করা। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় এমন অনেক ক্ষেত্র থাকে যেখানে বাদী ও বিবাদী প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবী করতে পারে বা উভয় পক্ষ একে অপারের নিকট পাওনা দাবী করতে পারে। উক্ত ক্ষেত্রে উভয়ের পাওনা সম্বনয় করার প্রশ্ন ওঠে। দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২ ধরণের পারস্পরিক দায়শোধ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
১. আইনানুগ পারস্পরিক দায় শোধ [legal set off];
২. ন্যায়সঙ্গত দাবী সম্বনয় [Equitable set off].

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৬ বিধির অধীন বিবাদী পারস্পরিক দায় শোধের আবেদন করতে পারে। বিবাদী বাদীর বিরুদ্ধে পারস্পরিক দায় শোধের বা সমন্বয়ের আবেদন করতে পারে অর্থের মামলায়। অর্থাৎ বাদী যদি বিবাদীর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের মামলা করে, তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী লিখিত আবেদন করতে পারে। আদালতের অনুমতি ছাড়া, মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়, বিবাদী যে ঋণের জন্য পারস্পরিক দায়শোধ বা Set off দাবী করছে সেই ঋণের বা পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানীর পরও Set off এর আবেদন করা যাবে।
৪৭৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER-XXVI, Rule-9 অনুযায়ী স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কত?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXVI, Rule 9 অনুযায়ী, আদালত যদি স্থানীয় তদন্ত প্রয়োজন মনে করে (যেমন: সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ, অন্তবর্তীকালীন মুনাফা, খেসারত ইত্যাদি), তবে আদালত কমিশনের মাধ্যমে একজন কমিশনার নিযুক্ত করতে পারেন।
- এই কমিশনারকে আদালত "অনধিক তিন মাসের মধ্যে" প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে আদালতের বিবেচনায় যদি যথার্থ কারণ থাকে এবং কমিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত সময় বৃদ্ধি করতেও পারেন।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-26, Rule-9: Commissions to make local investigations:
- In any suit in which the Court deems a local investigation to be requisite or proper for the purpose of elucidating any matter in dispute, or of ascertaining the market-value of any property, or the amount or any mesne profits or damages or annual net profits, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such investigation and to report thereon to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court
Provided that the Court may, on the prayer of the Commissioner and on sufficient cause being shown, extend the time.
৪৭৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধি অনুযায়ী আদালত পক্ষগণের সহযোগীদের(companion of party) মৌখিক জবানবন্দি নিতে পারে?
  1. আদেশ ১০ বিধি ৪
  2. আদেশ ১০ বিধি ১
  3. আদেশ ১০ বিধি ২
  4. আদেশ ১০ বিধি ৫
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।
আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সহযোগীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ২ (পক্ষ বা পক্ষগণের সহযোগীর মৌখিক জবানবন্দি)-
মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোন শুনানিতে স্বয়ং হাজির কোন পক্ষ কিংবা আদালতে উপস্থিত কেউ কিংবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে অবস্থানরত এমন কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্বন্ধে যদি কোন প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি আদালত কর্তৃক গ্রহণ করা যাবে এবং উক্তরূপ জবানবন্দি গ্রহণ করার সময়ে আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যে কোন পক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

Order 10 Rule 2: Oral examination of party or companion of party-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.
৪৭৮.
কোনটি অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা (mesne profit) হিসাবে গণ্য হবে না?
  1. X, L এর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেল
  2. অনুপ্রবেশকারী X, L এর বাড়ি দাবি করে ও ভাড়া সংগ্রহ করে
  3. X, L এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিল
  4. X অনুমতি ছাড়া L এর জমিতে চাষ করে লাভ পেল
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১২) ধারা অনুসারে, মধ্যবর্তী মুনাফা বা Mesne Profit হলো যে মুনাফা বা উপকার যা কোন ব্যক্তি অন্য কারো সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে থাকাকালীন সময়ে লাভ করেছে। এটি সাধারণত ভাড়া বা মুনাফার রূপে হয়। যখন একজনের দখলদারি অকারণে অপর কেউ তার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়ে থাকে, তখন দখলদার ক্ষতিপূরণের রূপে মধ্যবর্তী মুনাফা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে।
♦তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা | Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না,
♦প্রশ্নের অপশন (গ)-তে বলা হয়েছে, X, L এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিল। এই ক্ষেত্রে X, I. এর সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে উন্নয়ন করেছে এবং উক্ত উন্নয়ন হতে ভাড়া বাবদ মুনাফা করছে। যেহেতু X. L এর সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে উন্নয়ন করেছে, সেহেতু সেখান থেকে ভাড়া বাবদ যে মুনাফা গ্রহণ করেছে, সেই মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা | Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না। 
৪৭৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ অনুযায়ী আদালত কী সংশোধন করতে পারেন?
  1. সাক্ষ্য প্রমাণ বাদ দিতে
  2. পক্ষগণের আইনজ্ঞান
  3. মামলার কার্য ধারার ত্রুটি
  4. বিচারকের অপারগতা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) মামলার কার্য ধারার ত্রুটি।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ অনুযায়ী, আদালত যেকোনো সময়, যেকোনো মামলার কার্যধারায় ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারেন, যেন মামলার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ ও বিচার সম্ভব হয়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারায় আদালতের দেওয়ানি মামলার কার্য ধারার ত্রুটি সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। ১৫৩ ধারামতে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার কোন প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের জন্য মামলার কার্য ধারার ত্রুটি (any defect or error in any proceeding in a suit) সংশোধন করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫৩ বলছে আদালত যেকোনো সময়, এবং যেমন শর্তে প্রয়োজন মনে করে, একটি মোকদ্দমার কার্যধারায় কোনো ভুল বা ত্রুটি সংশোধন করতে পারে। এই সংশোধনটি মামলার প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় হলে তা করা হবে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section-153. General power to amend:
-The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.
৪৮০.
সরকার বা সরকারি কর্মকর্তা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য কতদিন আগে নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮০ ধারা অনুযায়ী, সরকার বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার আগে ২ মাসের নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক। এই নোটিশে মামলার কারণ, বাদীর নাম, বাসস্থানের বিবরণ এবং দাবিকৃত প্রতিকার উল্লেখ করতে হবে। এই নোটিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে, তারপর মামলা দায়ের করা যাবে।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো সরকার বা সরকারি কর্মকর্তাকে মামলার বিষয়ে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া। যদি মামলা নোটিশ ছাড়াই দায়ের করা হয়, তাহলে আদালত সরকারকে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য ৩ মাস সময় দেবে, তবে বাদী মামলার খরচ পাবে না যদি দুই মাসের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি হয় বা সরকার বাদীর দাবি মেনে নেয়।

- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ২ মাস।
৪৮১.
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে দখলদার ব্যক্তি যে মুনাফা লাভ করে, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে দেওয়ানি কার্যবিধিতে__________ বলে।
  1. Gross Profits
  2. Mesne Profits
  3. Monthly Profits
  4. Unwanted Profits
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

• ব্যতিক্রম-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না ।

Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession:
৪৮২.
অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট হলে কোন ধরনের "Set-off" দাবি করা যায়?
  1. Legal Set-off
  2. Fixed Set-off
  3. Equitable Set-off
  4. Specified Set-off
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off [Order XX, Rule 19(3)]

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

Equitable Set-off একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষা, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রযোজ্য:
⇒ যখন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবী-দাওয়া থাকে এবং উভয় দাবীই একই উত্স থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের দাবী একই চুক্তি, লেনদেন বা ঘটনার সাথে জড়িত।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী বাদীর দাবীর চেয়ে কম। কারণ যদি বিবাদীর দাবী বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে ক্রস-মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী নগদ টাকার নয়, বরং কোন অনিষ্পন্ন কাজের জন্য। যেমন - বাদী যদি বাকি বেতনের দাবী করে আর বিবাদী দাবী করে কিছু অসম্পূর্ণ কাজের জন্য।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী সুস্পষ্টভাবে অর্থগত মান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যেমন - ক্ষতিপূরণের চাহিদা ইত্যাদি।
৪৮৩.
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের করা হলে এবং যদি বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না যায়, তাহলে কী করা যেতে পারে?
  1. মামলা খারিজ করা যাবে
  2. আদালত সমন জারি বন্ধ করবে
  3. বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যাবে
  4. সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৫ বিধি ১৪ অনুসারে,
স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক কোন প্রতিকার বা এর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, যদি বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না যায় এবং যদি বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি সমন গ্রহণের জন্য না থাকে, তাহলে সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা বিবাদীর যে কোন প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে।

Service on agent in charge in suits for immovable property:
Where in a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property, service cannot be made on the defendant in person, and the defendant has no agent empowered to accept the service, it may be made on any agent of the defendant in charge of the property.
৪৮৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৪, বিধি-১ অনুযায়ী বিবাদি কখন আদালতে টাকা জমা দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র আপিল পর্যায়ে
  2. চূড়ান্ত শুনানির সময়
  3. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  4. মোকদ্দমা দায়েরের আগে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৪, বিধি-১ অনুযায়ী, বিবাদি ঋণ বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের মোকদ্দমায় তার বিবেচনায় দাবীর সম্পূর্ণ পরিমাণ অর্থ আদালতে জমা দিতে পারে।
- এই জমা প্রদানের সুযোগ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে পাওয়া যায়, অর্থাৎ মোকদ্দমা দায়েরের পর থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত যে কোন সময় বিবাদি এই জমা প্রদান করতে পারে।

→ সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে।

⇒ Order-24 Rule-1. Deposit by defendant of amount in satisfaction of claim:
- The defendant in any suit to recover a debt or damages may, at any stage of the suit, deposit in Court such sum of money as he considers a satisfaction in full of the claim.
৪৮৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৯ অনুসারে, কোন নিলাম বিক্রয় কত দিনের বেশি মেয়াদের জন্য মুলতুবি রাখা হলে নতুন করে ঘোষণা (proclamation) দিতে হবে?
  1. ৭ দিনের
  2. ১০ দিনের
  3. ৩০ দিনের
  4. ৬০ দিনের
ব্যাখ্যা
Order 21, Rule 69 - বিক্রয় স্থগিত বা বন্ধ করার বিধান:
(১) আদালত তার বিবেচনায়, নির্ধারিত কোনো দিন ও সময়ে নিলাম (বিক্রয়) স্থগিত (adjourn) করতে পারে। এবং যে কর্মকর্তা নিলাম পরিচালনা করছেন, তিনি তার নিজের বিবেচনায় নিলাম স্থগিত করতে পারেন, তবে এর জন্য তাকে স্থগিত করার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
শর্ত: যদি বিক্রয়টি আদালতের চত্বরে বা আদালতের সীমার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি ব্যতীত নিলাম স্থগিত করা যাবে না।

(২) যদি উপ-নিয়ম (১) অনুযায়ী বিক্রয় ৩০ দিনের বেশি সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়, তবে রুল ৬৭ অনুযায়ী নতুন করে ঘোষণা (proclamation) দিতে হবে- তবে শর্ত এই যে, যদি দায়গ্রস্ত ব্যক্তি (judgment-debtor) এই পুনঃ ঘোষণার প্রয়োজন মাফ করে দেন (consent to waive), তাহলে তা প্রযোজ্য হবে না।

(৩) প্রতিটি বিক্রয় তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যদি:
- নিলাম চূড়ান্ত হওয়ার আগে,
- ঋণ ও খরচ (বিক্রয়ের খরচসহ) পরিশোধ করা হয়, বা
- নিলাম পরিচালনাকারী কর্মকর্তার সন্তুষ্টির জন্য প্রমাণ দেওয়া হয় যে, উক্ত অর্থ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে— যে আদালত বিক্রয়ের আদেশ দিয়েছিল।
৪৮৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতদিন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ অনুসারে, যদি বিবাদী জামানত দিতে ব্যর্থ হয় বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয়, আদালত তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারে যতদিন পর্যন্ত মামলার রায় না আসে অথবা মামলা সম্পর্কিত ডিক্রি না মিটানো হয়। তবে এই আটকের সর্বোচ্চ সময় ৬ মাস।
তাছাড়া, যদি মামলার বিষয়বস্তু বা দাবির মূল্য পঞ্চাশ টাকার নিচে হয়, তখন আটকের সর্বোচ্চ সময় ৬ সপ্তাহ। এছাড়া, যদি বিবাদী পরবর্তীতে জামানত দেয় বা আদেশ মেনে চলে, তাহলে তাকে জেলে আটকে রাখা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৪: যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত দিতে বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধির অধীনে কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদির বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে,সেক্ষেত্রে ডিক্রি না মিটানো অবধি তাকে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করতে পারে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক মেয়াদের জন্য জেলে আটক রাখা চলবে না, অথবা মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনূর্ধ্ব হলে সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিক মেয়াদের জন্য:
তবে আরো শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ পালন করার পর তাকে এই বিধির অধীনে জেলে আটক রাখা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order 38 Rule 4: Procedure where defendant fails to furnish security or find fresh security:
Where the defendant fails to comply with any order under rule 2 or rule 3, the Court may commit him to the civil prison until the decision of the suit or, where a decree is passed against the defendant, until the decree has been satisfied:
Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months nor for period a longer than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka:
Provided also that no person shall be detained in prison under this rule after he has complied with such order.
৪৮৭.
কোন ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মোকদ্দমায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা যায়?
  1. পৃথক মোকদ্দমায় তথ্য সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে
  2. পৃথক মোকদ্দমা ব্যয়সাপেক্ষ হলে
  3. পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করা সময়সাপেক্ষ হলে
  4. পৃথক মোকদ্দমায় আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হলে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি মোকদ্দমায় দুই ধরণের পক্ষ থাকে। যথা-
১. বাদী পক্ষ;
২. বিবাদী পক্ষ।

• [বিধি ১ থেকে ৩] মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত (Joinder of Parties)-

দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে।একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-
১. মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
২. মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে।

উদাহরণ-
'ক' যৌথভাবে 'খ' এবং 'গ' এর সাথে ১০০ কেজি গম বিক্রয়ের চুক্তি করে। 'ক' পরবর্তীতে তা বিক্রয়ে অস্বীকার করে । এখানে 'খ' এবং 'গ' উভয়ের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার আছে যা একই কার্য (বিক্রয় চুক্তি) থেকে উদ্ভব হয়েছে। তাই 'খ' এবং 'গ' বাদী হিসাবে যৌথভাবে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে ।
৪৮৮.
নিঃস্ব ব্যক্তির আপিলের ক্ষেত্রে নিঃস্বতা সম্পর্কে তদন্ত কে করবে?
  1. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
  2. আপিল শ্রবণকারী আদালত
  3. সংশ্লিষ্ট বার এসোসিয়েশন
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪৪ বিধি-২ঃ নিঃস্বতা সম্বন্ধে তদন্ত-

আবেদনকারীকে নিঃস্বতা সম্পর্কে আপিল আদালত স্বয়ং অথবা যে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আদালতের আদেশক্রমে আপিল করা হয়েছে, সে আদালত তদন্ত করতে পারবে-

তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী যদি যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল করা হয় সে আদালতে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা বা আপিল করার অনুমতি পেয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত অনুরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে কারণ না দেখলে তার নিঃস্বতা সম্পর্কে পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন হবে না।

Inquiry into pauperism:
The inquiry into the pauperism of the applicant may be made either by the Appellate Court or under the order of the Appellate Court by the Court from whose decision the appeal is preferred:

Provided that, if the applicant was allowed to sue or appeal as a pauper in the Court from whose decree the appeal is preferred, no further inquiry in respect of his pauperism shall be necessary, unless the Appellate Court sees cause to direct such inquiry.
৪৮৯.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ (Compensatory cost) দেয়া যায়-
  1. সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা
  2. সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা
  3. সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা
  4. সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আওতায় তিন (৩) ধরনের খরচ প্রদান করা হয়ে থাকে। যথা-

 i) সাধারণ খরচ;
ii) ক্ষতিপূরণমূলক খরচ;  এবং
iii) বিলম্বের জন্য খরচ। 

ধারা ৩৫ক: ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory cost)-

দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় ক্ষতিপূরণমূলক খরচের বিধান রয়েছে। মূল মোকদ্দমায় বা ডিক্রি জারিতে কোন পক্ষ আরজি বা লিখিত জবাবে মিথ্যা বা বিরক্তিকর (false or vexatious) বিষয় দাবি করলে, আদালত মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি উত্থাপনকারীকে সর্বোচ্চ ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ স্বরূপ খরচের আদেশ দিতে পারে।
৪৯০.
বাদীর অনুপস্থিতির, কারণে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত মোকদ্দমা খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের [Directly setting aside the order of the dismissal of the suit] আবেদন করা যায়?
  1. আদেশ ৯ এর ৯ বিধি
  2. আদেশ ৯ এট ১০ বিধি
  3. আাদেশ ৯ এর ৯ক বিধি
  4. আদেশ ৯ এর ১৩ বিধি
ব্যাখ্যা
♦ বাদীর অনুপস্থিতির, কারণে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত মোকদ্দমা খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের আবেদন করা যায় দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৯ক বিধি অনুসারে এই ক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ১ হাজার খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
৪৯১.
Order XVIII এর Rule 20 অনুসারে, দৈনিক কার্যতালিকায় চূড়ান্ত শুনানির জন্য কতটির বেশি মামলা নির্ধারণ করা যাবে না?
  1. পাঁচটির বেশি
  2. সাতটির বেশি
  3. দশটির বেশি
  4. পনেরোটির বেশি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার XVIII, বিধি-২০ (সংশোধিত) অনুসারে, আদালত দৈনিক কার্যতালিকার চূড়ান্ত শুনানির জন্য মুলতবি শুনানিতে থাকা চারটি মামলাসহ দশটির বেশি মামলা নির্ধারণ করবে না। এটি সংশোধনের পরবর্তী পরিবর্তনে "পাঁচ" থেকে "দশ"-এ বাড়ানো হয়েছে, যাতে আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার XVIII, বিধি-২০: আদালত দৈনিক কার্যতালিকার চূড়ান্ত শুনানির জন্য মুলতবি শুনানিতে থাকা চারটি মামলাসহ দশটির বেশি মামলা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে দুইশ'র বেশি মামলা নির্ধারণ করবে না; এবং যখন নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ে মামলার মোট সংখ্যা একশ' চল্লিশটির নিচে নেমে আসবে, তখন আদালত সাধারণত মামলা দায়েরের তারিখের ক্রমানুসারে আরও মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসবে: 
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো আদালতে উপরোক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণের জন্য শুনানির জন্য প্রস্তুত মামলার সংখ্যা যথেষ্ট না হয়, তবে আদালত যুক্তিসঙ্গতভাবে মামলা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে নিজস্ব বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারবে। 

ব্যাখ্যা: এই বিধিতে "চূড়ান্ত" ("peremptory") শব্দটি সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডারসে ব্যবহৃত শব্দের অনুষঙ্গ হিসাবে অর্থ বহন করবে। 

৪৯২.
‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ১ লক্ষ টাকার একটি ডিক্রী পেলো। ডিক্রী জারীর মাধ্যমে ‘ক’ অর্থ আদায় করলো। উক্ত ডিক্রীর বিরুদ্ধে ‘খ’ আপীল করায় আপীলের রায় ‘খ’ এর পক্ষে আসে। রায় পরিবর্তন হওয়ায় ‘খ’ উক্ত টাকা পরিশোধের তারিখ হতে সুদ সহ উক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী হবে। উক্ত নীতিটি হলো ?
  1. প্রত্যর্পন বা পুনরুদ্ধার
  2. বিশেষ ক্ষমতা
  3. জরিমানা
  4. খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১৪৪ ধারায় প্রত্যর্পন বা পুনরুদ্ধার বিষয়ে বলা হয়েছে অর্থাৎ ১ম ডিক্রী কার্যকরে পরে আপীলের রায় পরিবর্তন হলে সম্পত্তি বা সম্পদ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
• এখানে প্রথমে ‘খ’ অর্থ পরিশোধ করে পরে ‘খ’ এর আপীলের প্রেক্ষিতে রায় পরিবর্তন হওয়ায় ‘খ’ এর সম্পদ ‘ক’ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিবে।
৪৯৩.
আপিলকারী যদি আপিল শুনানির দিনে উপস্থিত না থাকে, তবে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলাটি মুলতবি রাখতে পারে
  2. পুনঃশুনানির নির্দেশ দিতে পারে
  3. আপিল খারিজ করে দিতে পারে
  4. রায় ঘোষণা স্থগিত রাখতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১৭(১) অনুসারে, যদি আপিলকারী নির্ধারিত দিনে বা পরবর্তী শুনানির দিনে উপস্থিত না থাকে, তাহলে আদালত আপিল খারিজ করে দিতে পারে। এটি "Dismissal of appeal for appellant's default" নামে পরিচিত।

⇒ আদেশ ৪১ বিধি-১৭: আপিলকারীর বরখেলাপের জন্য আপিল খারিজ করা:
১) যেক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে অথবা অন্য যে দিনের জন্য শুনানি মূলতবী হতে পারে ঐ দিনে আপিল শুনানির জন্য ডাক পড়লে আপিলকারী অনুপস্থিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত আপিল খারিজের আদেশ দিতে পারবে।
২) একতরফা ভাবে আপিল শুনানিঃ যেক্ষেত্রে আপিলকারী হাজির হয়, কিন্তু রেসপন্ডেন্ট উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে একতরফাভাবে আপিলের শুনানি হবে।

অর্থাৎ আদেশ-৪১ বিধি-১৭(১) অনুযায়ী, যদি আপিলকারী শুনানির নির্ধারিত দিনে বা মুলতবি হওয়া অন্য কোনো দিনে উপস্থিত না থাকেন, তবে আদালত আপিলটি খারিজ করে দিতে পারে।
- সঠিক উত্তর: গ) আপিল খারিজ করে দিতে পারে।
৪৯৪.
বিচার্য বিষয় কখন তৈরি হয়?
  1. যখন আদালত মামলা গ্রহণ করে
  2. যখন বাদী আদালতে অভিযোগ দায়ের করে
  3. যখন মামলার শুনানি শেষ হয়
  4. যখন এক পক্ষ ঘোষণা করে আর অন্য পক্ষ তা অস্বীকার করে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১৪ বিধি ১ (বিচার্য বিষয় প্রণয়ন)-

১) ঘটনা কিংবা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক পক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।

২) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী আইন কিংবা ঘটনার সে সমস্ত বিষয়াবলী যা বাদিকে তার মোকদ্দমা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই নালিশ করতে হয় কিংবা বিবাদিতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হয়।

৩) একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করবে।

৪) বিচার্য বিষয় দুই প্রকারেরঃ ক) ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়, খ) আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়।

৫) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন আদালত বাদির আরজি এবং লিখিত বর্ণনা(যদি কোন) পাঠ করার পর এবং প্রয়োজনমত পক্ষগণের এরূপ পরীক্ষা করার পর ঘটনা কিংবা আইনের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির উপর পক্ষগণ এর বিরোধ তা নির্ধারণ করবে এবং ইহার পর যে সকল বিচার্য বিষয়ের উপর মোকদ্দমার সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বলে প্রতীয়মান হয়, সে সমস্ত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে অগ্রসরমান হবে এবং তা লিপিবদ্ধ করবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ৪ এবং ৫ বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে যে কোন ক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির কিংবা লিখিত বর্ণনা দাখিলের পনের দিনের মধ্যে যেটাই পরে ঘটে তখন বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৬) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে এই বিধির কোন বিধানেই আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করবে না।
৪৯৫.
আদালত কর্তৃক গৃহীত জবানবন্দী-
  1. বিচারক কর্তৃক সারমর্ম লিখিত হবে
  2. মোকদ্দমার নথির অংশে পরিণত হবে
  3. পক্ষগণকে প্রদান করা হবে
  4. 'ক' ও 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

বিধি-৩ঃ জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত হতে হবে-
জবানবন্দির সারমর্ম বিচারক কর্তৃক লিখিত হবে এবং তা নথির অংশে পরিণত হবে।

Rule.-3: Substance of examination to be written-
The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record
৪৯৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিধান অনুযায়ী, সমন ফেরত আসলে বাদীকে কত দিনের মধ্যে নতুন সমন জারির আবেদন করতে হবে?
  1. ২ মাসের মধ্যে
  2. ১ মাসের মধ্যে
  3. ১০ দিনের মধ্যে
  4. ৭ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order IX, Rule 5(1) অনুযায়ী, যদি সমন ফেরত আসে (returned unserved), তবে বাদীকে ১ মাসের মধ্যে নতুন সমন জারির জন্য আবেদন করতে হবে।
- যদি বাদী এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন না করে, তবে আদালত মামলাটি খারিজ করতে পারেন।
- তবে Rule 5(2) অনুযায়ী, বাদী চাইলে তামাদি আইনের সীমার মধ্যে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারে।
- আদালত যথাযথ কারণ দেখালে সময়সীমা বাড়াতেও পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order IX, Rule 5 অনুসারে, যদি সমন ফেরত আসে এবং বাদী ১ মাসের মধ্যে নতুন সমন জারির জন্য আবেদন না করে, তবে আদালত সেই বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজের আদেশ দিতে পারে। তবে বাদী যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে তার যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও সমন জারি করা সম্ভব হয়নি, অথবা অন্য কোনো বৈধ কারণ ছিল, তবে আদালত সময় বৃদ্ধি করতে পারে।
৪৯৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১২, বিধি-৪ অনুসারে স্বীকারোক্তির জন্য নোটিশ দিতে হবে শুনানির কতদিন আগে?
  1. ৬ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৯ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১২, বিধি ৪ অনুসারে, স্বীকারোক্তির জন্য নোটিশ শুনানির তারিখের নয় (৯) দিন আগে প্রদান করতে হবে।
এবং কোনো পক্ষ ঘটনা স্বীকারের জন্য লিখিত নোটিশ পেলে, তাকে ৬ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। এই সময়সীমা নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে গণনা করা হয়। আদালত প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER XII, Rule 4 অনুসারে, মামলার কোনো পক্ষ লিখিতভাবে অপর পক্ষকে নির্দিষ্ট ঘটনা বা ঘটনাবলি স্বীকার করার জন্য নোটিশ দিতে পারে। এই নোটিশ শুনানির তারিখের নয় (৯) দিন আগে দিতে হবে।
- এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার পর ছয় (৬) দিনের মধ্যে বা আদালতের অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে উত্তর প্রদান করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বীকারোক্তি না করা হয় বা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রমাণ করার জন্য যে ব্যয় হবে, তা সেই পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত অন্য কোনো নির্দেশ দেন।
- এছাড়া, এই স্বীকারোক্তি কেবল সংশ্লিষ্ট মামলার জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং এটি অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। আদালত উপযুক্ত মনে করলে, শর্তসাপেক্ষে স্বীকারোক্তি সংশোধন বা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-12 Rule-4: Notice to Admit Facts:
- Any party may, by notice in writing, at any time not later than nine days before the day fixed for the hearing, call on any other party to admit, for the purposes of the suit only, any specific fact or facts mentioned in such notice.
- In case of refusal or neglect to admit the same within six days after service of such notice, or within such further time as may be allowed by the Court, the costs of proving such fact or facts shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs.
Provided that any admission made in pursuance of such notice shall be deemed to be made only for the purposes of the particular suit and not as an admission to be used against the party on any other occasion or in favor of any person other than the party giving the notice.
Provided also that the Court may, at any time, allow any party to amend or withdraw any admission so made on such terms as may be just.

৪৯৮.
মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে?
  1. ১০
  2. ১৭
  3. ৩০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার বিধান মতে মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে।
অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে।
- যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
৪৯৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় কালেক্টরকে বিচারক হিসাবে কাজ করার অধিকার দেয়া হয়েছে?
  1. ৬৫ ধারায়
  2. ৬৯ ধারায়
  3. ৭১ ধারায়
  4. ৭৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭১ ধারার বিধান- কালেক্টরের বিচারক হিসাবে কার্য:
উপরিল্লিখিত ৬৮ ধারা অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত ডিক্রি জারি করার প্রাক্কালে কালেক্টর এবং তার অধঃস্তনগণ বিচারক হিসাবে কার্য করতেছে বলে মনে করতে হবে।

Section 71: Collector deemed to be acting judicially:
In executing a decree transferred to the Collector under section 68 the Collector and his subordinates shall be deemed to be acting judicially.
৫০০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ ধারায় আদালতের কোন ধরনের এখতিয়ার (jurisdiction) সমন্ধে আপত্তি তোলার বিধান রয়েছে?
  1. territorial jurisdiction
  2. pecuniary jurisdiction
  3. ক এবং খ
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ ধারায় আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি তোলার বিধান রয়েছে। নিম্নে আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি তোলার সাধারণ নিয়মগুলো দেয়া হলো-

২১ ধারায় আদালতের আর্থিক (pecuniary) এবং আঞ্চলিক (territorial) উভয় এখতিয়ার (jurisdiction) সমন্ধে আপত্তি তোলা যায়।
⇒ আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে পক্ষদের কোন আপত্তি থাকলে, উক্ত আপত্তি প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।
⇒ যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, সেই আদালতেই এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি উত্থাপন করতে হয়।
⇒ সাধারণত আপিল বা রিভিশনে আদালতের এখতিয়ার সমন্ধে আপত্তি তোলা যায় না, তবে শুধুমাত্র ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে আপিল বা রিভিশনের সময়ও এই দাবি উত্থাপন করা যায়। এছাড়া যদি আরজি উপস্থাপনের সময় আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা থাকে, তবে সেই অনিশ্চয়তা আপিল বা রিভিশন আদালতের নিকট যৌক্তিক মনে হলে এরকম প্রশ্ন আপিল বা রিভিশন আদালত গ্রহণ করতে পারে।

Sec 21: Objections to jurisdiction-
No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, and unless there has been a consequent failure of justice.