বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা / ৩০ · ৩০১৪০০ / ২,৯৯৩

৩০১.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-১২ক অনুযায়ী আপিল শুনানিতে কতবার পক্ষের অনুরোধে মুলতবি দেওয়া যাবে?
  1. সর্বোচ্চ ১ বার
  2. সর্বোচ্চ ৩ বার
  3. সর্বোচ্চ ৪ বার
  4. সর্বোচ্চ ৬ বার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক (Order XLI, Rule 12A) অনুযায়ী, আপিলের শুনানি চলাকালে, কোনো পক্ষ যদি মুলতবির আবেদন করে, তাহলে সর্বোচ্চ ৩ বার পর্যন্ত আদালত শুনানি স্থগিত/মুলতবি দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ এর বিধি ১২ক অনুসারে, আপিল শুনানির ক্ষেত্রে আদালত কোনো পক্ষের অনুরোধে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বার মুলতবি (adjournment) দিতে পারবেন।
- তবে ৩ বারের বেশি মুলতবি দেওয়া হলে, আদালত ন্যূনতম ২০০ টাকা এবং সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দেবেন।
- যদি আপিলকারী এই খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার আপিল খারিজ হয়ে যাবে।
- আর যদি প্রতিবাদী খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আপিল একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে।
- একতরফাভাবে আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ খারিজের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পুনরুজ্জীবনের আবেদন করতে পারবে।
- এই আবেদনের সঙ্গে আদালতের নির্ধারিত ন্যূনতম ২০০ টাকা ও সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে।
- প্রত্যেক পক্ষ এইরকম পুনরুজ্জীবনের সুযোগ একবারই পাবে।
- তবে আদালত যদি নিজে থেকে আপিল শুনানি মুলতবি করতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে, নইলে মুলতবির আদেশ দেবেন না।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-12A .Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.
(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.
(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.
৩০২.
ধারা ১৪৪ অনুসারে প্রত্যর্পণের আবেদন কখন করা যায়?
  1. ডিক্রি জারির আগে
  2. মামলা শুরুর সময়
  3. ডিক্রি পরিবর্তন বা রদ হলে
  4. যেকোনো সময় মামলার পক্ষের ইচ্ছায়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার বিধান: প্রত্যর্পণের দরখাস্ত: 
(১) যে ক্ষেত্রে কোন - ডিক্রির পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত -(ডিক্রি প্রদানকারী আদালত) এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা - করবেন, যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকতেন তাদেরকে সেই অবস্থায় স্থাপন করবেন এবং এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদবদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য মোকদ্দমার খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা পরিশোধসহ আদালত যথোপযুক্ত আদেশ দান করতে পারেন।

(২) উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করে প্রত্যর্পণ বা অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেলে, এই উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা চলবে না।

৩০৩.
দেওয়ানী কার্যবিধিতে কোথায় তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার নিয়োগের বিধান আছে?
  1. আদেশ ৩৮
  2. আদেশ ৪০
  3. আদেশ ৪১
  4. আদেশ ৪৫
ব্যাখ্যা
⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে।
- অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন।  রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪০ [ORDER - XL] এর বিধি-১ অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ দেয়া হয়-
(১) আদালতের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত আদেশ দিয়া-
ক) ডিক্রির পূর্বে বা পরে কোন সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন;
খ) সম্পত্তির দখল বা জিম্মাদারী হতে কোন ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন;
গ) উহা রিসিভারের দখলে, হেফাজতে বা ব্যবস্থাপনায় সোপদ করতে পারেন; এবং
ঘ) মামলা দায়ের করা ও জবাব দেয়া এবং সম্পত্তি আদায়করণ, ব্যবস্থাপনা, নিরাপদকরণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন, উহার খাজনা এবং মুনাফা সংগ্ৰহ, উক্ত খাজনা ও মুনাফার প্রয়োগ ও হস্তান্তর এবং দলিল সম্পাদন সম্পর্কে মালিকের নিজের যেরূপ ক্ষমতা আসে সেরূপ বা আদালত যে সকল ক্ষমতা উপযুক্ত মনে করেন, রিসিভারকে অনুরূপ সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।
(২) কোন ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল ও জিম্মাদারী হতে অপসারণের জন্য যাকে মামলার কোন একটি পক্ষের অনুরোপভাবে অপসারণের বর্তমান অধিকার নাই, অত্র বিধির কোন কিছু আদালতকেও উক্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ অপসারণের ক্ষমতা দিবে না।
৩০৪.
কত জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়?
  1. ৩ জন
  2. ৬ জন
  3. ৫ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
• ধারা-২ (১৮): বিধি বলতে প্রথম সিডিউলে বর্ণিত নিয়ম বা ফর্ম বা দেওয়ানী কার্যবিধির ১২২ ধারার অধীন প্রণীত নিয়ম [Rules] বুঝায়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে নিম্নলিখিত ২টি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে- সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগের (হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপীল বিভাগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিধি প্রণয়ণের ক্ষমতা এবং দেওয়ানী আদালতের পদ্ধতি সম্পর্কে এবং প্রথম তফসিলের যেকোন নিয়ম বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করার ক্ষমতা।

• ধারা-১২৩ অনুযায়ী সর্বমোট ৬ জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। সদস্যগণ হলো-

ক. সুপ্রীম কোর্টের তিন (৩) জন বিচারক নিয়ে যাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন (৩ বছর জেলা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে;
খ. উক্ত আদালতে অ্যাডভোকেট হিসাবে প্রাক্টিস করছে এমন ২ জন অ্যাডভোকেট;
গ. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ দেওয়ানী আদালতের একজন বিচারক।

• সদস্যগণের নিয়োগ:
এই কমিটির সদস্যরা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তিনি উক্ত কমিটির সভাপতি মনোনীত করবে এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দিবে।এই কমিটির প্রত্যেক সদস্য প্রধান বিচারপতি কর্তৃক উল্লেখিত মেয়াদ পর্যন্ত পদে বহাল থাকবে।
৩০৫.
ডিক্রি জারির জন্য নিম্নের কোন সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না?
  1. ব্যাংক নোট
  2. হিসাবের খাতা
  3. হুন্ডি
  4. বিল অফ এক্সচেঞ্জ
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৬০ অনুসারে,

♦ ডিক্রি জারির জন্য যে সকল সম্পত্তি  ও বিক্রি করা যাবে তা হলো:

জমি, বাসগৃহ বা অন্যান্য দালানকোঠা, মালপত্র, নগদ টাকা, ব্যাংক নোট, চেক, বিল অফ এক্সচেঞ্জ, হুন্ডি, প্রমিজরি নোট, গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি, কোম্পানির শেয়ার।

♦ যে সকল সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা যাবে না তা হলো:
দেনাদার বা তাহার স্ত্রীর বা সন্তানের পরিধেয় বস্ত্র, রান্নার  বাসনপত্র, এমন গহনা যা ধর্মীয় বিধানমতে খুলে ফেলা উচিত নহে, দেনাদার কারিগর  হলে কারিগরের হাতিয়ারপত্র বা চাষি হলে চাষের হাতিয়ার পত্র, গো- মহিষাদি, বীজ, হিসাবের খাতা-পত্র ইত্যাদি।
৩০৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান অনুসারে একজন রায় সিদ্ধ ডিক্রির দেনাদার ব্যক্তিকে আদালত কোন পরিস্থিতিতে মুক্তি দিতে পারে?
  1. যদি সে পুরুষ হয়
  2. যদি সে মহিলা হয়
  3. যদি সে অসুস্থ থাকে
  4. যদি সে জামানত দেয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫৯ অনুযায়ী, যদি রায় সিদ্ধ ডিক্রির দেনাদার ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হন বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারে।
- দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হইলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান অসুস্থতার দরুন মুক্তি:
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোনো সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায় সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।
৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায় সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীন তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।
৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায় সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লিখিত মেয়াদের অধিক হবে না।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 59. Release on grounds of illness.
(1) At any time after a warrant for the arrest of a judgment-debtor has been issued, the Court may cancel it on the ground of his serious illness.
(2) Where a judgment-debtor has been arrested, the Court may release him if, in its opinion, he is not in a fit state of health to be detained in the civil prison.
(3) Where a judgment-debtor has been committed to the civil prison, he may be released therefrom-
(a) by the Government, on the grounds of the existence of any infectious or contagious disease, or
(b) by the committing Court, or any Court to which that Court is subordinate, on the ground of his suffering from any serious illness.
(4) A judgment-debtor released under this section may be re-arrested, but the period of his detention in the civil prison shall not, in the aggregate, exceed that prescribed by section 58.
৩০৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৯, বিধি-১ অনুসারে কোন প্রক্রিয়ার নোটিশ উকিল সরবরাহ করতে পারে না?
  1. সাক্ষীর সমন
  2. ডিক্রি কার্যকরের রিট
  3. দলিল উপস্থাপনের নোটিশ
  4. বিবাহবিচ্ছেদ মামলার নোটিশ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৯, বিধি ১ অনুযায়ী, নিম্নোক্ত বিচারিক প্রক্রিয়া উকিল (advocate) বা তার নিযুক্ত ব্যক্তি পরিবেশন (serve) করতে পারেন:
- দলিল উপস্থাপনের নোটিশ (Notice to produce documents)
- সাক্ষীদের সমন (Summons to witnesses)
- অন্যান্য বিচারিক প্রক্রিয়া (other judicial processes)
→ যখন সেগুলো হাইকোর্ট বিভাগের আসল দেওয়ানি, বিবাহ সম্পর্কিত, উইল সংক্রান্ত বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিচারিক ক্ষমার আওতায় পড়ে।

তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যেগুলো উকিল বা তার লোক পরিবেশন করতে পারবেন না:
- Defendants-এর সমন (summonses to defendants)
- ডিক্রি কার্যকরের রিট (writs of execution) 
- প্রতিপক্ষের প্রতি নোটিশ (notices to respondents) 

তাই, প্রশ্ন অনুযায়ী এর সঠিক উত্তর হলো:
খ) ডিক্রি কার্যকরের রিট — কারণ এটি স্পষ্টভাবে আদেশ ৪৯, বিধি ১-এ ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order- XLIX, Rule-1: Who may serve processes of the High Court Division:
Notices to produce documents, summonses to witnesses, and all other judicial processes issued by the High Court Division while exercising its original civil jurisdiction (including matrimonial, testamentary, and intestate jurisdictions)—except for summonses to defendants, writs of execution, and notices to respondents—may be served by: The advocates involved in the suits, Persons employed by those advocates, or Any other persons as directed by the High Court Division through its rules or orders.
৩০৮.
Direct re-admission of appeal –এর বিধান কোথায় আছে?
  1. আদেশ ২০ রুল ২১
  2. আদেশ ৪০ রু ল ১৯
  3. আদেশ ৪১ রুল ১৯ক
  4. আদেশ ৪৩ রুল ২১ক
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৪১ এর ১৯ক বিধির বিধান আপিল সরাসরি পুনঃগ্রহণ (Direct re-admission of appeal): বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আপিলকারীকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করেই সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করতে পারেন; এজন্য খারিজের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাফিডেভিটসহ আবেদন করতে হবে। এই বিধির অধীন সর্বোচ্চ ১ বার আপিল পুনঃগ্রহণের আবেদন করা যাবে।
♦অর্থাৎ আদেশ ৪১, বিধি ১৯ক তে আপিলকারীর ব্যর্থতার কারণে আপিল খারিজ হলে খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যতীত আদালত সরাসরি আপিল পুনরায় গ্রহণ করতে পারবেন।
৩০৯.
What type of allegations does the Court examine under Order 10 Rule 1?
  1. Witness statements
  2. The personal opinions of the plaintiff
  3. Oral arguments made by both parties
  4. Allegations mentioned in the plaint or written statement
ব্যাখ্যা
Order 10 Rule 1: Ascertainment whether allegations in pleadings are admitted or denied-
At the first hearing of the suit the Court shall ascertain from each party or his pleader whether he admits or denies such allegations of fact as are made in the plaint or written statement (if any) of the opposite party, and as are not expressly or by necessary implication admitted or denied by the party against whom they are made. The Court shall record such admissions and denials.

• বিধি-১ (আরজি জবাবের অভিযোগাদি স্বীকৃত না অস্বীকৃত তা নিশ্চিতকরণ)-
আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে প্রত্যেক পক্ষ কিংবা পক্ষের উকিল হতে নিশ্চিত করবে যে, সেই পক্ষ অপর পক্ষের আরজিতে কিংবা লিখিত বিবৃতিতে (যদি থাকে) রচিত তথ্যগত উক্তি সমূহ স্বীকার না কি অস্বীকার করে, এবং যা সংশ্লিষ্ট পক্ষ দ্বারা প্রকাশ্য কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থে স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হয়নি-আদালত একই ধরণের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিসমূহ রেকর্ড করবে।
৩১০.
Set off বা পাল্টা দাবী কখন হতে পারে?
  1. বন্টনের মামলায়
  2. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  3. স্বত্বের মামলায়
  4. অর্থের মামলায়
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৮ আদেশের ৬(১) বিধিতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, পাওনা অর্থ উদ্ধারের দাবিতে দায়েরকৃত কোন মামলায় যদি বাদির নিকট থেকে বিবাদী যে পরিমাণ টাকা দাবি করে তা যদি বাদির দাবিকৃত অর্থ দ্বারা পরিশোধ করতে চায় এবং এই টাকার পরিমাণ যদি নির্ধারিত থাকে এবং তা যদি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বাদির মামলার মতো  বিবাদির দাবির ক্ষেত্রেও বাদী এবং বিবাদী একই পর্যায়ে পড়ে, তবে মামলার প্রথম শুনানির তারিখেই বিবাদি তার পাওনা টাকার বিবরণ সহ একটি লিখিত জবাব দাখিল করার অধিকারী হবে।
৩১১.
অধস্তন আদালতের ভাষা কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. হাইকোর্ট ঠিক করে
  2. সরকার ঘোষণা করতে পারে
  3. আদালত নিজেই ঠিক করে
  4. আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা: অধস্তন আদালতে ভাষা:
১) এই আইন কার্যকর হওয়ার সময় কোন হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন কোন আদালতে ভাষা যা ছিল, সরকার অন্যভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেটাই উক্ত অধস্তন আদালতে ভাষা হিসাবে চলতে থাকবে।

২) অনুরূপ আদালতের ভাষা কি হবে এবং কোন রীতিতে অনুরূপ আদালত সমীপে দরখাস্ত এবং আদালতে কার্যধারা লিখিত হবে তা সরকার ঘোষণা করতে পারবে।

৩) যখন অনুরূপ কোন আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কিছু লিখিতরূপে নিরূপণ করার জন্য এই আইন আদেশ প্রদান করে বা অনুমতি প্রদান করে, তখন অনুরূপ লিখন ইংরেজীতে হতে পারে; কিন্তু কোন পক্ষ বা তার আইনজীবী যদি ইংরেজীর সঙ্গে অপরিচিত হন, তবে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় উক্ত ইংরেজীর অনুবাদ তাকে সরবরাহ করা হবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, অনুবাদের খরচ প্রদানের ব্যাপারে সেরূপ আদেশনামা প্রদান করবে।
৩১২.
যদি কোনো অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি এক আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে সংঘটিত হয় এবং বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারে বসবাস করে, তাহলে বাদী কোথায় ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. যেখানে উভয় পক্ষ রাজি হয়
  2. যেখানে ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে
  3. যেখানে বিবাদী বসবাস করে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯ ধারায় বলা হয়েছে,
কোন ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে ক্ষতিসাধন করা হলে, এবং বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা করলে বা লাভজনক কাজ করলে, বাদী দুই আদালতের যে কোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারবে।

অন্যদিকে,
স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত দেওয়ানী মোকদ্দমার বিষয়ে দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার সম্পর্কে ১৬, ১৭ এবং ১৮ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা দায়েরের  দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার ১৬, ১৭ এবং ১৮ ধারা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে ও মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
৩১৩.
Order 15, Rule 1 applies at which stage of the suit?
  1. Before the suit is filed
  2. After the final hearing
  3. At the first hearing of the suit
  4. During the appeal stage
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই আদালত তখনই রায় ঘোষণা করতে পারে।

Order 15, Rule 1:
Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.
৩১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২২ বিধি ৯(১) অনুসারে, কোনো মামলা বিলুপ্ত বা খারিজ হলে সাধারণত কী ফলাফল হয়? 
  1. আদালত স্বেচ্ছায় মামলাটি পুনরায় চালু করবে।
  2. মামলাটির স্বয়ংক্রিয়ভাবে রায় হবে। 
  3. বাদী একই কারণে নতুন মামলা করতে পারবেন।
  4. একই কারণে নতুন মামলা দায়ের করা যাবে না।
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২২, বিধি ৯(১) স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে, যখন কোনো মামলা এই আদেশের অধীনে বিলুপ্ত বা খারিজ হয়, তখন একই কার্যকারণে (cause of action) নতুন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২২, বিধি ৯- বিলুপ্তি কিংবা খারিজের ফলাফল:
১) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমা এই আদেশের অধীনে বিলুপ্তি বা খারিজ হয় সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার একই কার্যকারণে নতুন কোন মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না।
২) বাদি কিংবা মৃত বাদির বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে দাবিদার ব্যক্তি বা অসচ্ছলতা বাদির ক্ষেত্রে বা রিসিভার বিলুপ্ত বা খারিজ রদ করার আদেশের জন্য আবেদন করতে পারে এবং যদি এটি প্রমাণিত হয় যে, সে মোকদ্দমা পরিচালনা পর্যাপ্ত কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল তবে আদালত মোকদ্দমার খরচাদি সম্পর্কে তার বিবেচনায় এরূপ শর্তাধীনে বা অন্য কোনভাবে বিলুপ্ত বা খারিজ রদ করবে।
৩) উপবিধি (২) এর অধীনে আবেদন পত্রের ক্ষেত্রে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৪ এবং ৫ ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Order 22 Rule 9: Effect of abatement or dismissal:
1) Where a suit abates or is dismissed under this Order, no fresh suit shall be brought on the same cause of action.
2) The plaintiff or the person claiming to be the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver in the case of an insolvent plaintiff may apply for an order to set aside the abatement or dismissal; and if it is that he was prevented by any sufficient cause from continuing the suit, the Court shall set aside the abatement or dismissal upon such terms as to costs or otherwise as it thinks fit.
3) The provisions of sections 4 and 5 of the Limitation Act, 1908 shall apply to application under sub-rule (2).

৩১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় 'Partition of estate or separation of share' বর্ণিত আছে?
  1. ৪৪ ধারায়
  2. ৫৪ ধারায়
  3. ৬৪ ধারায়
  4. ৭৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিধান- সম্পত্তি বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ:
সরকারি রাজস্ব প্রদানের প্রয়োজনে কোন অবিভক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য বা সম্পত্তির কোন অংশের পৃথক দখলের জন্য ডিক্রি প্রদত্ত হলে, কালেক্টর বা মনোনীত কর্মকর্তা বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ সম্পন্ন করবেন।

Section 54. Partition of estate or separation of share:

Where the decree is for the partition of an undivided estate assessed to the payment of revenue to the Government, or for the separate possession of a share of such an estate, the partition of the estate or the separation of the share shall be made by the Collector or any gazetted subordinate of the Collector deputed by him in this behalf, in accordance with the law (if any) for the time being in force relating to the partition, or the separate possession of shares, of such estates.
৩১৬.
The Civil Courts Act,1887 আইনের কত ধারায় ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে?
  1. ৩৯ ধারায়
  2. ৩৮ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
The Civil Courts Act,1887 আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

৩৭ ধারায় বলা হয়েছে-
"কোন মামলা বা কার্যধারায় দেওয়ানি আদালত কর্তৃক উত্তরাধিকার ও ওয়ারিশী, বিবাহ বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিষয়ে পক্ষগন হিন্দু হলে হিন্দু আইন এবং মুসলিম হলে মুসলিম আইন প্রযোজ্য হবে।"

Section 37- Certain decisions to be according to local law:
(1) Where in any suit or other proceeding it is necessary for a Civil Court to decide any question regarding succession, inheritance, marriage or caste, or any religious usage or institution, the Muslim law in cases where the parties are Muslim, and the Hindu law in cases where the parties are Hindus, shall form the rule of decision except in so far as such law has, by legislative enactment, been altered or abolished. 
 
(2) In cases not provided for by sub-section (1) or by any other law for the time being in force, the Court shall act according to justice, equity and good conscience.
৩১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতা নিষ্পত্তির প্রতিবেদন প্রাপ্তির কত দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation);
২- সালিশী (Arbitration)।

সাধারন নিয়মসমূহ-
⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না। 

Section: 89(5)-
The  Legal Aid Officer or mediator, as the case may be, shall, without violating the confidentiality of the parties to the mediation proceedings, submit to the court a report of result of the mediation proceedings; and if the result is of compromise of the dispute or disputes in the suit, the terms of such compromise shall be reduced into writing in the form of an agreement, bearing signatures or left thumb impressions of the parties as executants, and signatures of the pleaders, if any, and the Legal Aid Officer or mediator, as the case may be, as witnesses; and the Court shall, within seven days from receiving the said report, pass an order or a decree in accordance with relevant provisions of Order XXIII of the Code.
৩১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬ এর কোন বিধি অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ আপিল করা যায়?
  1. বিধি ৮
  2. বিধি ১০
  3. বিধি ১১
  4. বিধি ১৩
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ: ৪৩ আপিলযোগ্য আদেশসমূহ:
(ক) আদেশ ৭ এর বিধি ১০ অনুযায়ী, যা একটি অভিযোগপত্রকে (প্লেইন্ট) উপযুক্ত আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়;
(খ) আদেশ ৮ এর বিধি ১০ অনুযায়ী, যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়;
(গ) আদেশ ৯ এর বিধি ৯ অনুযায়ী, (যে মামলায় আপিল করা যায়) মামলার প্রত্যাখ্যান (ডিসমিসাল) বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে;
(ঘ) আদেশ ৯ এর বিধি ১৩ অনুযায়ী, একপক্ষীয় রায় (এক্স পার্টে ডিক্রি) বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে;
(ঙ) আদেশ ১০ এর বিধি ৪ অনুযায়ী, যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়;

(চ) আদেশ ১১ এর বিধি ২১ অনুযায়ী;
(ছ) আদেশ ১৬ এর বিধি ১০ অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ;
(জ) আদেশ ১৬ এর বিধি ২০ অনুযায়ী, যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়;
(ঝ) আদেশ ২১ এর বিধি ৩৪ অনুযায়ী, কোনো দলিল বা এন্ডোরসমেন্টের খসড়ার ওপর আপত্তি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের আদেশ;
(ঞ) আদেশ ২১ এর বিধি ৬০ অনুযায়ী, সম্পত্তি সংযুক্তি থেকে মুক্তির আদেশ;

(ট) আদেশ ২১ এর বিধি ৬১ অনুযায়ী, সংযুক্ত সম্পত্তির দাবি প্রত্যাখ্যানের আদেশ;
(ঠ) আদেশ ২১ এর বিধি ৭২ অথবা বিধি ৯২ অনুযায়ী, বিক্রয় বাতিল বা বাতিল না করার আদেশ;
(ড) আদেশ ২২ এর বিধি ৯ অনুযায়ী, মামলার বাতিল (অ্যাবেটমেন্ট) বা প্রত্যাখ্যান (ডিসমিসাল) বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান;
(ঢ) আদেশ ২২ এর বিধি ১০ অনুযায়ী, অনুমতি প্রদানের বা অস্বীকার করার আদেশ;
(ণ) আদেশ ২৩ এর বিধি ৩ অনুযায়ী, কোনো চুক্তি, সমঝোতা বা পরিতৃপ্তি (স্যাটিসফ্যাকশন) রেকর্ড করার বা প্রত্যাখ্যান করার আদেশ;

(ত) আদেশ ২৫ এর বিধি ২ অনুযায়ী, (যে মামলায় আপিলযোগ্য) মামলার বাতিলের (ডিসমিসাল) আদেশ বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে;
(থ) আদেশ ৩৪ এর বিধি ২, ৪ অথবা ৭ অনুযায়ী, বন্ধক (মর্টগেজ) অর্থ পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করার আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে;
(দ) আদেশ ৩৫ এর বিধি ৩, ৪ অথবা ৬ অনুযায়ী ইন্টারপ্লিডার মামলা সম্পর্কিত আদেশ;
(ধ) আদেশ ৩৮ এর বিধি ২, ৩ অথবা ৬ অনুযায়ী আদেশ;
(ন) আদেশ ৩৯ এর বিধি ১, ২, ৪ অথবা ১০ অনুযায়ী আদেশ;

(প) আদেশ ৪০ এর বিধি ১ অথবা ৪ অনুযায়ী আদেশ;
(ফ) আদেশ ৪১ এর বিধি ১৯ অনুযায়ী আবেদন পুনঃভর্তি (রিডমিশন) প্রত্যাখ্যানের আদেশ অথবা বিধি ২১ অনুযায়ী পুনরায় শুনানির (রিহিয়ার) আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ;
(ব) আদেশ ৪১ এর বিধি ২৩ অনুযায়ী মামলাকে ফেরত (রিম্যান্ড) দেওয়ার আদেশ, যেখানে আপিলযোগ্য রায় থেকে আপিল করা যেত;
(ভ) উচ্চ আদালত বিভাগ ব্যতীত অন্য কোনো আদালত কর্তৃক আদেশ ৪৫ এর বিধি ৬ অনুযায়ী সনদ (সার্টিফিকেট) প্রদানের আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ;
(ম) আদেশ ৪৭ এর বিধি ৪ অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করার আদেশ।
৩১৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬(২) অনুযায়ী আরজিতে উল্লিখিত তথ্য কীভাবে প্রমাণ করতে হবে?
  1. সাক্ষী দিয়ে
  2. দলিল দিয়ে 
  3. এফিডেভিট দ্বারা
  4. মৌখিক বক্তব্য দিয়ে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬(২) অনুসারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: প্রতিটি আরজির (plaint) তথ্য (facts) শপথপত্র (affidavit) দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে।
অর্থাৎ, আরজিতে (Plaint) উল্লিখিত তথ্যগুলো এফিডেভিট (Affidavit) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ২৬: মোকদ্দমা দায়েরের পদ্ধতি:
(১) প্রত্যেক দেওয়ানি মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো উপায়ে দায়ের করতে হবে।
(২) প্রতিটি আরজিতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ অবশ্যই এফিডেভিট (শপথপত্র) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 26: Institution of suits:
(1) Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed.
(2) In every plaint, facts shall be proved by affidavit.

৩২০.
Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৯, বিধি ১৩ অনুসারে সর্বোচ্চ কয়বার Ex Parte ডিক্রি বাতিল করা যাবে?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. যতবার প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৯, বিধি ১৩ (Ex Parte ডিক্রি বাতিল সংক্রান্ত বিধান):
(১) যেসব মামলায় কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা (ex parte) ডিক্রি প্রদান করা হয়, সে ক্ষেত্রে সেই বিবাদী উক্ত ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একটি দরখাস্তের মাধ্যমে ডিক্রি বাতিলের আবেদন করতে পারবে। যদি সে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, সমন যথাযথভাবে প্রদান করা হয়নি, অথবা বৈধ কোনো কারণে সে মামলার শুনানির সময় হাজির হতে ব্যর্থ হয়েছিল,
তবে আদালত ডিক্রিটি তার বিরুদ্ধে বাতিল করার আদেশ দিবে, এবং উপযুক্ত মনে করলে খরচ, আদালতে অর্থ জমা ইত্যাদির শর্তে তা করতে পারবে। সেইসাথে, আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে।

তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন প্রকৃতির হয় যে তা শুধুমাত্র সেই এক বিবাদীর বিরুদ্ধে বাতিল করা যায় না, তাহলে তা সব বা যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যেতে পারে।

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো বিবাদীর অনুরোধে একবারের বেশি একই ডিক্রি এই বিধান অনুসারে বাতিল করা যাবে না।

(২) এই আদেশের অধীনে দাখিলকৃত আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৫ প্রযোজ্য হবে (যা দেরিতে আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যার সুযোগ দেয়।
৩২১.
বিদেশী আদালত বা Foreign Court বলতে এমন আদালতকে বোঝায়-
  1. যে আদালত বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত এবং বাংলাদেশে কোন কর্তৃত্ব নেই
  2. যে আদালত বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত এবং বাংলাদেশে কর্তৃত্ব আছে
  3. যে আদালত বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত এবং বাংলাদেশে কোন কর্তৃত্ব নেই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২(৫) ধারায় বিদেশী আদালতের সংজ্ঞা রয়েছে। এই ধারার বিধান অনুযায়ী বিদেশী আদালত বা Foreign Court বলতে এমন আদালতকে বোঝায়-

i) যে আদালত বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত (A Court situate beyond the limits of Bangladesh ); 
ii) বাংলাদেশে যে আদালতের কোন কর্তৃত্ব নেই (which has no authority in Bangladesh) এবং
iii) যে আদালত বাংলাদেশ সরকার স্থাপন করেনি বা বহাল রাখে নি (is not established or continued by the Government)।

Section 2(5)-
"foreign Court" means a Court situate beyond the limits of Bangladesh which has no authority in Bangladesh and is not established or continued by the Government.
৩২২.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান অনুসারে কে ডিক্রি জারির জন্য অনুরোধপত্র (প্রিসেপ্ট) জারির আবেদন করতে পারেন?
  1. দেনাদার
  2. ডিক্রিদার
  3. স্থানীয় প্রশাসন
  4. আদালতের ক্লার্ক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৬ অনুযায়ী "ডিক্রি জারির অনুরোধ" (Precept) বলতে বোঝানো হয় যে, ডিক্রিদার অর্থাৎ যিনি আদালতের আদেশ (ডিক্রি) পেয়ে থাকেন, তিনি তার প্রাপ্য আদায়ের জন্য ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে আবেদন করতে পারেন যাতে অন্য একটি উপযুক্ত আদালতকে প্রিসেপ্ট জারি করে দেনাদারের নির্দিষ্ট সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র ডিক্রিদার (decree-holder) আবেদন করতে পারেন। দেনাদার, প্রশাসন বা ক্লার্ক- এদের কেউই এই অনুরোধ করতে পারে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান ডিক্রি জারির অনুরোধ:-
১) ডিক্রিদারের আবেদন অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অন্য কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রি জারি করার অনুরোধ করতে পারেন এবং এরূপ আদালত ডিক্রি জারি করতে এবং অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন।
২) যে আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সে আদালত ডিক্রি জারির ব্যাপারে সম্পত্তি ক্রোকের নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রিপ্রদানকারী আদালত ক্রোকের সময় বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত অথবা এরূপ ক্রোক নির্ধারিত হওয়ার পূর্বে যে আদালত কর্তৃক ক্রোক করা হয়েছে, ঐ আদালতের নিকট ডিক্রি হস্তান্তর করা না হলে এবং ডিক্রিদার সম্পত্তি বিক্রয়ের আবেদন না করলে অনুরোধলিপি অনুসারে কোন ক্রোক দুই মাসের অধিককাল কার্যকর থাকবে না।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 46. Precepts:
(1) Upon the application of the decree-holder the Court which passed the decree may, whenever it thinks fit, issue a precept to any other Court which would be competent to execute such decree to attach any property belonging to the judgment-debtor and specified in the precept. 
(2) The Court to which a precept is sent shall proceed to attach the property in the manner prescribed in regard to the attachment of property in execution of a decree: 
Provided that no attachment under a precept shall continue for more than two months unless the period of attachment is extended by an order of the Court which passed the decree or unless before the determination of such attachment the decree has been transferred to the Court by which the attachment has been made and the decree-holder has applied for an order for the sale of such property.
৩২৩.
আদালত কর্তৃক কোনো প্লিডিং সংশোধনের আদেশ দেবার মূল উদ্দেশ্য নিচের কোনটি?
  1. দ্রুততার সাথে মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করা
  2. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুকে সহজে উপস্থাপন করা
  3. মোকদ্দমায় কার পক্ষে ভারসাম্য আছে না নির্ধারণের জন্য
  4. মোকদ্দমার বিরোধীয় প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য
ব্যাখ্যা
 ⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির- আদেশ:-৬ বিধি-১৭: প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of Pleadings)-
- মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে আরজি বা জবাবের ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন।
- বাদী বা বিবাদী উভয় পক্ষের বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সংশোধন করা যাবে।
- আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর আরজি জবাব সংশোধনের আদেশ নির্ভর করে।
- প্লিডিংস সংশোধনের দরখাস্ত দাখিল করতে হয় বিচারিক আদালতে।
- প্লিডিংস মামলার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিল আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়।
৩২৪.
কোন আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ কতটি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবেন?
  1. ১৫টি
  2. ১০টি
  3. ৫টি
  4. ৭০টি
ব্যাখ্যা
কোন আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ ৫টি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০০টি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবেন।

• মোকদ্দমার শুনানী (Hearing of suit) অর্থ হলো, আদালতে কোনো মামলার বিচারকার্য যেখানে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করে বা যুক্তিতর্ক শোনে ইত্যাদি।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ১৮ বিধি ২০-

কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।

[Court shall not fix more than five suits including two part -heard suits, in the daily cause list for peremptory hearing and more than one hundred suits in the peremptory stage, and when upon disposal, the total number of suits in the peremptory stage comes down to less than seventy, the Court shall then bring in more suit in the peremptory stage, generally in the order of dates of institution of suits: 
Provided that if in any Court, the number of suits made ready for hearing is not sufficient for fixation in the manner as aforesaid, it shall be in the discretion of the Court to make the fixation in a reasonable manner.]
৩২৫.
আদেশে ৪৭ বিধি ৪ এর অধীন কোন রিভিউ দরখাস্ত মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. রিভিশন
  2. আপিল
  3. রিভিউ
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-৪৭ বিধি-৪: যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র অগ্রাহ্য হয় (Application where rejected): আদালত যদি মনে করেন রিভিউ এর যথেষ্ট কারণ আছে তাহলে তা মঞ্জুর করতে এবং যদি মনে করেন যথেষ্ট কারণ নেই তাহলে তা না মঞ্জুর করতে পারেন।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুযায়ী ৪৭ আদেশের ৪ বিধির অধীন রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে কোন আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে মোট ২৫টি আদেশ রয়েছে যেগুলার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। 
----------------
⇒CPC Order-47 Rule-4. Application where rejected:
(1) Where it appears to the Court that there is not sufficient ground for a review, it shall reject the application.

Application where granted:
(2) Where the Court is of opinion that the application for review should be granted, it shall grant the same: Provided that−
(a) no such application shall be granted without previous notice to the opposite party, to enable him to appear and be heard in support of the decree or order, a review of which is applied for: and
(b) no such application shall be granted on the ground of discovery of new matter or evidence which the applicant alleges was not within his knowledge, or could not be adduced by him when the decree or order was passed or made, without strict proof of such allegation.
৩২৬.
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা [Representative suit] -এর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেয়া-
  1. বাধ্যতামূলক
  2. অনাবশ্যক
  3. পক্ষদ্বয়ের ইচ্ছাধীন
  4. বাদীর ইচ্ছাধীন
ব্যাখ্যা
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় আদালতের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে। সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ ১নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

Order 1 Rule-8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Court sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct.
2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
৩২৭.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় সর্বোচ্চ কত টাকা Adjournment Cost দেয়া যায়?
  1. সর্বোচ্চ ২০০০
  2. সর্বোচ্চ ৩০০০
  3. সর্বোচ্চ ১০০০
  4. সর্বোচ্চ ১০০০০
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশে Adjournment বা মুলতবির বিধান রয়েছে। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মুলতবির আবেদন।

• ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে-

> আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে।

> চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে।

> অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মুলতবি মঞ্জুর করে না।

> মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

> মুলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
৩২৮.
আদেশ ২৬ বিধি-২ অনুযায়ী আদালত কোন পরিস্থিতিতে কমিশন প্রেরণের আদেশ দিতে পারে
  1. নিজস্ব উদ্যোগে
  2. সাক্ষীর আবেদনক্রমে
  3. মামলার কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ২: কমিশনের জন্য আদেশ:
কোনো সাক্ষীর পরীক্ষার জন্য কমিশন ইস্যু করার আদেশ আদালত করতে পারে- নিজস্ব উদ্যোগে বা মামলার কোনো পক্ষের বা যে সাক্ষীকে পরীক্ষা করা হবে তার শপথপত্র সমর্থিত বা অন্যভাবে করা আবেদনক্রমে।

Order-26 Rule-2- Order for commission:
An order for the issue of a commission for the examination of a witness may be made by the Court either of its own motion or on the application, supported by affidavit or otherwise, of any party to the suit or of the witness to be examined.

৩২৯.
'Parties at issue' - বলতে নিচের কোন ধারণাটি সঠিক?
  1. মোকদ্দমায় যুক্ত হতে আগ্রহী পক্ষগণ
  2. মোকদ্দমায় যে পক্ষের নাম ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে
  3. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থ থাকা পক্ষগণ
  4. মোকদ্দমায় যার নাম যুক্ত করা উচিত কিন্তু যুক্ত করা হয়নি
ব্যাখ্যা

"Parties at issue" বলতে সেই পক্ষগুলোকে বোঝানো হয় যাদের স্বার্থ মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অর্থাৎ, যাদের অধিকার বা দাবির ওপর মামলার রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সাধারণত বাদী (Plaintiff) ও বিবাদী (Defendant) বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

"Parties at Issue" এর মূল বৈশিষ্ট্য:
- মোকদ্দমার মূল পক্ষ → মামলায় যাদের স্বার্থ জড়িত।
- মামলার রায়ে যাদের অধিকার বা দায় প্রভাবিত হতে পারে → মামলার যে কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
- প্রয়োজনীয় বা অনিবার্য পক্ষ (Necessary or Proper Parties) → আদালত যাদের উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করে।

অন্যান্য বিকল্পগুলো:
মোকদ্দমায় যে পক্ষের নাম ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে → এটি সংশোধনযোগ্য ভুল এবং "Misjoinder of parties" বা "Wrongly joined parties" হিসেবে পরিচিত।
মোকদ্দমায় যার নাম যুক্ত করা উচিত কিন্তু যুক্ত করা হয়নি → এটি "Nonjoinder of necessary parties" নামে পরিচিত।
মোকদ্দমায় যুক্ত হতে আগ্রহী পক্ষগণ → কেবল আগ্রহী হওয়া যথেষ্ট নয়, মামলার ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

৩৩০.
আদেশ-১১ বিধি-১২ অনুসারে, দলিল আবিষ্কারের আবেদন করতে কী প্রয়োজন?
  1. শপথনামা
  2. উকিলের স্বাক্ষর
  3. আদালতের পূর্বানুমতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) কোনটিই নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-১১ বিধি-১২ অনুসারে:
কোন মামলার কোন পক্ষ শপথনামা ব্যতিরেকেই আদালতে আবেদন করতে পারেন যে, অপর পক্ষকে তাদের নিকট গচ্ছিত বা আয়ত্তাধীন প্রাসঙ্গিক দলিল আবিষ্কার (discovery) করার নির্দেশ দেয়া হোক।
আদালত শুনানি করে প্রয়োজনীয় মনে করলে আবিষ্কেরের আদেশ দিতে পারেন, অন্যথা আদেশ দানে অস্বীকার করতে পারেন বা স্থগিত রাখতে পারেন।
প্রাসঙ্গিক বিধান:
"অপর পক্ষ শপথনামা ব্যতিতই আদালতে এই মর্মে আবেদন করতে পারেন যে, অপর পক্ষকে শপথের মাধ্যমে উক্ত দলিল আবিষ্কার করার নির্দেশ দেয়া হোক।"

অপশন গুলির বিশ্লেষণ:
ক) শপথনামা → ভুল, কারণ আবেদনের জন্য শপথনামা প্রয়োজন নেই (শুধু আদেশ পাওয়ার পর দলিল দাখিলের সময় শপথনামা দিতে হবে)।
খ) উকিলের স্বাক্ষর → ভুল, উকিলের স্বাক্ষর আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
গ) আদালতের পূর্বানুমতি → ভুল, আবেদন করার জন্য পূর্বানুমতি লাগে না, তবে আদেশ পেতে আদালতের সন্তুষ্টি প্রয়োজন।
ঘ) কোনটিই নয় → সঠিক, কারণ উপরের কোনটিই আবেদনের জন্য আবশ্যক নয়।

সুতরাং, স্পষ্ট যে শপথনামা বা অন্য কোন পূর্বশর্ত ছাড়াই আবেদন করা যায়, তবে আদালতের বিবেচনায় আবিষ্কারের আদেশ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ আদেশ-১১ বিধি-১২ অনুযায়ী, দলিল আবিষ্কারের আবেদন করতে কোনো শপথনামা বা উকিলের স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই। আবেদনটি আদালতে সরাসরি করা যেতে পারে, এবং আদালত প্রয়োজনে আবেদনের শুনানি করে আদেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-11 rule-12: Application for Discovery of Documents:
Any party may, without filing any affidavit, apply to the Court for an order directing any other party to any suit to make discovery on oath of the documents which are or had been in his possession or power, relating to any matter in question therein. On the hearing of such application the Court may either refuse or adjourn the same, if satisfied that such discovery is not necessary, or not necessary at that stage of the suit, or make such order, either generally or limited to certain classes of documents, as may, in its discretion, be thought fit:
Provided that discovery shall not be ordered when and so far as the Court shall be of opinion that it is not necessary either for disposing fairly of the suit or for saving costs.
৩৩১.
আপিল বিভাগে আপিল করতে হলে প্রথমে কোথায় আবেদন করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে
  3. আপিল বিভাগে সরাসরি
  4. সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪৫ বিধি-২: যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় সে আদালতে আবেদন:
যে কেউ আপিল বিভাগে আপিল করার ইচ্ছা পোষণ করলে, যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সেই আদালতেই তাকে আবেদনপত্র দ্বারা আবেদন করতে হবে।

Rule.-2:
Whoever desires to appeal to the Appellate Division shall apply by petition to the Court whose decree is complained of.
৩৩২.
ডিক্রি জারিমূলে কোনো সম্পত্তি নিলাম বিক্রি হলে বিক্রির তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে ক্রেতা কর্তৃক ক্রয়মূল্য আদালতে জমা দিতে হয়?
  1. ২১
  2. ১৫
  3. ৩০
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ২১ বিধি ৮৫ এর বিধান ক্রয়মূল্যের পুরো টাকা পরিশোধের জন্যে সময় (Time for payment in full of purchase-money): ক্রয়মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের দিন হতে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৮২ এর বিধান কোন কোন আদালত বিক্রয় করার আদেশ প্রদান করতে পারে (What Courts may order sales): খুল কজ কোর্ট ব্যতীত অন্য যে কোন আদালত ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে। সুতরাং স্মল কজ কোর্ট ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৮৪ বিধান ক্রেতা কর্তৃক জমা এবং ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে পুনঃবিক্রয় (Deposit by purchaser and re-sale on default): স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয়ের ক্রেতা বলে ঘোষিত ব্যক্তি ঘোষণার পরপরই ক্রয়মূল্যের ২৫% টাকা জমা প্রদান করবে এবং তা প্রদানে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিটি তখনই পুনরায় নিলামে বিক্রয় করা হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৮৫ এর বিধান ক্রয়মূল্যের পুরো টাকা পরিশোধের জন্যে সময় (Time for payment in full of purchase-money): ক্রয়মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের দিন হতে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
৩৩৩.
সমন অমান্যের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ৩২ ধারানুযায়ী আদালত সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিম্নের কোন আদেশ দিতে পারে না?
  1. সম্পত্তি ক্রোক
  2. গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি
  3. সম্পত্তি বিক্রয়
  4. অনধিক ১০০০ টাকা জরিমানা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুসারে, সমন অমান্যের জন্য যাকে সমন প্রদান করা হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে নিম্নোক্ত আদেশসমূহ দিতে পারে-

ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে জেলে প্ররণ করতে পারেন।

Sec 32: Penalty for default-
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
a) issue a warrant for his arrest;
b) attach and sell his property;
c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
d) order him to furnish security for his appearance and in default commit to the civil prison.
৩৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৩ বিধি-৫ অনুযায়ী নিচের কোন কারণে নিঃসম্বল হিসাবে মামলা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না?
  1. আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে ধনী হলে
  2. আবেদন সঠিকভাবে দাখিল না হলে
  3. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা থাকলে
  4. আবেদনকারী সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে হস্তান্তর করলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৩৩, বিধি ৫ (Order XXXIII, Rule 5) অনুযায়ী, নিঃসম্বল ব্যক্তি (pauper) হিসাবে মামলা করার অনুমতি চাওয়া হলে আদালত কিছু নির্দিষ্ট কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই কারণগুলো হলো:
১. আবেদনটি বিধি ২ ও ৩ অনুযায়ী গঠিত ও দাখিল না হলে।
২. আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে নিঃসম্বল না হলে।
৩. আবেদনকারী আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে।
৪. অভিযোগে কোনো কার্যকারণ (cause of action) না থাকলে।
৫. মামলার বিষয়ে আবেদনকারী এমন কোনো চুক্তিতে উপনীত হলে যার ফলে অন্য কেউ স্বার্থবান হয়।
 কিন্তু, “আবেদনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা থাকলে” — এটি আদেশ ৩৩ বিধি ৫ অনুযায়ী আবেদন প্রত্যাখ্যান করার বৈধ কারণ নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।


⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৩৩, বিধি ৫ অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণগুলোর যেকোন একটি বিদ্যমান থাকলে আদালত নিঃসম্বল ব্যক্তি হিসাবে মামলা করার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করতে পারে:
১. আবেদনটি বিধি অনুযায়ী গঠিত না হলে বা সঠিকভাবে দাখিল না হলে।
২. আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে নিঃসম্বল ব্যক্তি না হলে।
৩. আবেদনকারী প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করে থাকলে।
৪. আবেদনকারীর অভিযোগ কোনো নালিশের কারণ না দর্শালে।
৫. আবেদনকারী মামলার বিষয়বস্তুর উপর এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছে থাকলে, যার ফলে অন্য কোনো ব্যক্তি সেই বিষয়ে স্বার্থবান হয়।
- এই সবগুলো ক্ষেত্রই আদালতের পক্ষ থেকে আবেদন প্রত্যাখ্যান করার যথাযথ ভিত্তি।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33 Rule-5.Rejection of application:
The Court shall reject an application for permission to sue as a pauper-
(a) where it is not framed and presented in the manner prescribed by rules 2 and 3, or
(b) where the applicant is not a pauper, or
(c) where he has, within two months next before the presentation of the application, disposed of any property fraudulently or in order to be able to apply for permission to sue as a pauper, or
(d) where his allegations do not show a cause of action, or
(e) where he has entered into any agreement with reference to the subject-matter of the proposed suit under which any other person has obtained an interest in such subject-matter.
৩৩৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৫, বিধি-৬ অনুযায়ী, ইন্টারপ্লিডার মামলায় বাদীর মামলার খরচ কীভাবে ব্যবস্থা করা যায়?
  1. দাবীকৃত সম্পত্তির উপর দায় আরোপ করে
  2. বিবাদীদের কাছ থেকে সরাসরি আদায় করে
  3. সরকারের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে
  4. কোনো খরচ ব্যবস্থা করা যায় না
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) দাবীকৃত সম্পত্তির উপর দায় আরোপ করে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order-XXXV, Rule-6 অনুযায়ী, যেক্ষেত্রে মামলাটি যথারীতি দায়ের করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত মূল বাদীকে তার দাবীকৃত সম্পত্তির উপর দায় আরোপ করে বা অন্য কার্যকর পন্থায় তার খরচের ব্যবস্থা করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৫ বিধি-৬ বাদীর মামলার খরচের জন্য দায়: যেক্ষেত্রে মামলাটি যথারীতি দায়ের করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত মূল বাদীকে তার দাবীকৃত সম্পত্তির উপর দায় আরোপ করে অথবা অন্য কোন কার্যকর পথে মামলার খরচার ব্যবস্থা করতে পারেন।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-35 Rule-6. Charge for plaintiff's costs:
Where the suit is properly instituted the Court may provide for the costs of the original plaintiff by giving him a charge on the thing claimed or in some other effectual way.

৩৩৬.
ডিক্রিতে বাদীর জমির মোট পরিমাণ ভুল লেখা হলে The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারানুযায়ী প্রতিকার আছে?
  1. ১৫২
  2. ১৫১
  3. ১৫৪
  4. ১৫৩
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১৫২ ধারা মতে রায়, ডিক্রি বা আদেশে করণিক [Clerical] বা গাণিতিক (Arithmetical) ভুল অথবা কোন আকস্মিক ভ্রান্তি [Accidental slip] বা বিচ্যুতির [Omission] কারণে কোন ভুল হলে যে কোন সময় আদালত নিজ উদ্যোগে কিংবা কোন পক্ষের আবেদনে তা শুদ্ধ বা সংশোধন করতে পারে।
৩৩৭.
নাবালকের অভিভাবক মোকদ্দমা পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে নিম্নলিখিত কোন কাজটি করতে পারেনা?
  1. মামলা প্রত্যাহার করতে পারেনা।
  2. আদালতে হাজির হতে
  3. মোকদ্দমা নতুন করে দায়ের করতে
  4. আদালতের অনুমতি ছাড়া মোকদ্দমা আপোষ মীমাংসা
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order XXXII, Rule 7 এর বিধান মামলার নেকষ্ট ফেণ্ড বা অভিভাবক কর্তৃক চুক্তি বা আপোষঃ (১) মামলার কোন নেকষ্ট ফ্ৰেণ্ড বা অভিভাবক, আদালতের কার্যক্রমে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ অনুমতি ছাড়া যে মামলায় যে নেকষ্ট ফ্ৰেণ্ড বা অভিভাবক হিসাবে কাজ করে, সেই মামলা প্রসংগে নাবালকের পক্ষে কোন চুক্তি বা আপোষ পৌছতে পারবে না ।
(২) আদালতের উক্তরূপ লিপিবদ্ধ অনুমতি ছাড়া অনুরূপ কোন চুক্তি বা আপোষ পৌছানো হলে উক্ত নাবালক ব্যতিত অপর সকল পক্ষের বিরুদ্ধে উহা বাতিলযোগ্য হবে। 
৩৩৮.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দিলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষের প্রতিকার কী?
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. নতুন মোকদ্দমা করা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ১ ও ২ অনুসারে, যদি আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (Temporary Injunction) আবেদন নামঞ্জুর করেন, তবে সেই আদেশটি "আদেশ" (Order) হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি আপীলযোগ্য (appealable order)।

⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ অনুযায়ী আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। যদি আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করে তাহলে আপীল করা যাবে। কেননা দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুসারে এটি একটি আপীল যোগ্য আদেশ।

⇒  মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।

⇒  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনার সময় আবেদনকারীকে কিছু বিষয় প্রমাণ করতে হবে–
(১) আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
(২) আবেদনকারী আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করবে যে অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে। যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি বলতে সেই ক্ষতিকে বুঝাবে যা অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
(৩) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেরে আদালত বিবেচনা করেন। তাই আবেদনকারীকে সুবিধা এবং অসুবিধার ভারসাম্য আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) জনস্বার্থে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা যায়। যা সাধারণত সরকারের বিপক্ষে করা হয়। সেই ক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিষয়টি কার্যকর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
৩৩৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২২-এর বিধি-৫ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি deceased plaintiff বা defendant-এর legal representative কি না—এটি কে নির্ধারণ করবে?
  1. সরকারি প্রশাসন
  2. সংশ্লিষ্ট আদালত
  3. স্থানীয় সরকার
  4. উত্তরাধিকার আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২২, বিধি ৫ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে: "Where a question arises as to whether any person is or is not the legal representative of a deceased plaintiff or a deceased defendant, such question shall be determined by the Court."

- অর্থাৎ, মৃত বাদী বা বিবাদীর আইনগত প্রতিনিধি (legal representative) কে বা কিনা—এই প্রশ্নটি সংশ্লিষ্ট আদালতই (the Court) নির্ধারণ করবে। এটি একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের উপর অর্পিত নয়।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-22 Rule-5.Determination of question as to legal representative:
- Where a question arises as to whether any person is or is not the legal representative of a deceased plaintiff or a deceased defendant, such question shall be determined by the Court. 

৩৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্ট বিধি প্রণয়ন করতে পারে?
  1. ১২০
  2. ১২২
  3. ১২৩
  4. ১২৪
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
৩৪১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER-XXVI অনুযায়ী যদি আদালত কমিশনারের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট হন, তবে কী করতে পারেন?
  1. মামলা স্থগিত করতে পারেন
  2. কমিশন বাতিল করতে পারেন
  3. অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন
  4. কমিশনারকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXVI, Rule 10(3) অনুযায়ী,“যে ক্ষেত্রে আদালত কমিশনারের কার্যক্রম সম্পর্কে কোন কারণে অসন্তুষ্ট হন, সেক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।”
- এখানে “অতিরিক্ত তদন্ত” বলতে বোঝানো হয়েছে যে আদালত কমিশনের কার্যক্রম যথাযথ না মনে করলে নতুন করে বা সম্পূরকভাবে তদন্ত করানোর নির্দেশ দিতে পারেন।
- কমিশন বাতিল বা মামলা স্থগিত করার উল্লেখ নেই। এছাড়া, আদালত কমিশনারকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে না, তবে পক্ষগণ আবেদনের মাধ্যমে তাকে সাক্ষ্য দিতে ডাকতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১০: কমিশনারের কার্যপদ্ধতি:
(১) কমিশনার যেরূপ পয়োজন মনে করেন, সেরূপ স্থানীয় পরিদর্শনের পর এব তার গৃহীত প্রমাণাদিকে লিখিত রূপ দেয়ার পর উক্ত প্রমাণাদির সাথে তার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।
(২) প্রতিবেদন এবং জবানবন্দী মামলায় প্রমাণ হিসাবে থাকবেঃ কমিশনারের প্রতিবেদন এবং তার র্গহীত প্রমাণাদি (কিনউ প্রতিবেদন ব্যতিত প্রমাণ নহে) মামলার প্রমাণ এবং নথির অংশরূপে গণ্য হবে, কিন্তু আদালত বা আদলতের অনুমতি ক্রমে মামলার কোন পক্ষ কমিশনারকে প্রকাশ্য আদালতে ব্যক্তিগতভাবে তাহার নিকট অর্পণ করা হয়েছিল বা তার প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে, এমন সব বিষয় সম্পর্কে বা তার প্রতিবেদন সম্পর্কে অথবা যে পদ্ধতিতে তিনি তদন্ত করেছেন সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
(৩) যে ক্ষেত্রে আদলত কমিশনারের কার্যক্রম সম্পর্কে কোন কারণে অসন্তষ্ট হন, সেক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
৩৪২.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধরার অধীন মধ্যস্থতার[Mediation]মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে মীমাংসা অনুযায়ী আদালত যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে, উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে-
  1. আপিল করা যাবে
  2. রিভিশন করা যাবে
  3. আপীল করা যাবে না কিন্তু রিভিশন করা যাবে
  4. আপীল বা রিভিশন কোনটি করা যাবে না
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ২৩ (৩) বিধির অধীন সোলে বা আপস ডিক্রি [compromise] বা সম্মতিসূচক [consent decree] ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না কিন্তু রিভিসন করা যায়। কিন্তু ৮৯ক ধারার অধীন মধ্যস্থতার [Mediation] মাধ্যমে পক্ষগণের মধ্যে মীমাংসা অনুযায়ী আদালত যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করে, উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন কোনটি করা যায় না।
৩৪৩.
রিভিশন দায়েরের শর্ত কি?
  1. আপিলঅযোগ্য ডিক্রি বা আদেশ
  2. গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে
  3. আপিলযোগ্য আদেশ বা ডিক্রি কিন্তু আপিল করা হয় নি
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ রিভিশন বলতে বুঝায়, নিম্নে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক বিচারিক প্রতিকার সংশোধন করা।দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশন সম্পর্কিত বিধান আছে।

ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ যে কোন পক্ষ আবেদন করতে পারে।নিম্ন আদালতের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করতে হয়। রিভিশনের এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগ এবং জেলা জজ আদালতকে দেয়া আছে।

রিভিশন দায়েরে শর্তসমূহ:

♦২০০৩ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেওয়ানী রিভিশনের বিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। বর্তমানে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিভিশন করা যায়-

♦ কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।

♦ কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।

♦ ১১৫ ধারার বর্তমান বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে, কিন্তু আগের মত আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (suo moto) হওয়ার বিধান নেই।

♦ সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ।

♦ রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না ।
৩৪৪.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৮ বিধি ১২ এর অধীন, আদালত কার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারে?
  1. বিবাদীর
  2. বাদীর
  3. সাক্ষীর
  4. উভয় পক্ষের আইনজীবীর
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১৮ বিধি ১২-
আদালত কোন সাক্ষীর জবানবন্দি দানকালে তার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, এরূপ কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারে।
[The Court may record such remarks as it thinks material respecting the demeanour of any witness while under examination.]

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৮নং আদেশের ১২নং বিধিতে সাক্ষীর হাব-ভাব বা আচরণ (demeanour of witness) সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
বলা হয়েছে যে, জবানবন্দী প্রদান কালে সাক্ষীর আচরণ সম্পর্কে আদালত গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। অর্থাৎ যদি কোনো সাক্ষীর আচরণ মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় হয়, তখন বিচারক ন্যায় বিচারার্থে উক্ত সাক্ষীর ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।
৩৪৫.
মূল্যমান শুদ্ধ করার জন্য বা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করার জন্য আদালত কতদিন সময় নির্ধারণ করতে পারবেন?মূল্যমান শুদ্ধ করার জন্য বা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করার জন্য আদালত কতদিন সময় নির্ধারণ করতে পারবেন?
  1. সর্বোচ্চ ৭ দিন
  2. সর্বোচ্চ ১৪ দিন
  3. সর্বোচ্চ ২১ দিন
  4. সর্বোচ্চ ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৭ বিধি ১১ তে কি কি কারণে আরজি প্রত্যাখান (Reject) করা যায় তা বলা হয়েছে:
   (i)  কারণ উল্লেখ না থাকলে
   (ii) দাবীকৃত প্রতিকার কম উল্লেখ করলে
   (iii) অপর্যাপ্ত অর্থাৎ কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লিখলে
   (iv) আইন দ্বারা বারিত হলে
♦শর্ত থাকে যে, আদালত মোকদ্দমা মূল্যায়ন শুদ্ধ করার জন্য  কিংবা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিল করার জন্য যে সময় নির্ধারণ করবেন, তা ২১ (একুশ) দিনের অধিক সময় বাড়াতে পারবেন না।
৩৪৬.
কোন মামলায় আদালত রায়ের পূর্বে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে?
  1. অর্থ মামলায়
  2. বাটোয়ারা মামলায়
  3. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  4. ফোর ক্লোজারের মামলায়
ব্যাখ্যা
- দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ১ হতে ৪ বিধিতে রায়ের পূর্বে গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় আদালত বিবাদীকে রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন।

- রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ কোন স্থাবর সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত মোকদ্দমায়, যেমন- বাটোয়ারা, নিষেধাজ্ঞার মামলা, ফোর ক্লোজার বা বন্ধকী সম্পত্তির জামানত ফেরত পাওয়ার মামলায় মঞ্জুর করা যায় না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮নং আদেশের ১ থেকে ৪ বিধিতে রায় ঘোষণার পূর্বে বিবাদীকে কতিপয় ক্ষেত্রে গ্রেফতার এবং আদালতে হাজিরার জন্য কেন তাকে জামানত দিতে হবে না তার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।
- তবে বিবাদী যদি বাদীর দাবিযোগ্য অর্থ জামানত হিসেবে আদালতে জমা দেয় তবে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না।

- শুধুমাত্র অর্থের মোকদ্দমায় বিবাদীকে রায় ঘোষণার পূর্বে গ্রেপ্তার করা যায় এবং রায় ঘোষণার পূর্বে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিবাদীকে সর্বোচ্চ ৬ মাস আটক রাখা যাবে।

আদেশ-৩৮ বিধি-১: বিবাদীকে হাজিরার জন্য জামানত প্রদান-
বিবাদী আদালতের কোন পরোয়ানা এড়ানো বা তার বিরুদ্ধে কোন ডিক্রিজারি বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে যদি-
ⅰ) আত্মগোপন বা আদালতের আঞ্চলিক সীমানা ত্যাগ করে বা এর উদ্যেগ গ্রহণ করে: অথবা
ii) তার সম্পত্তি বা এর অংশ হস্তান্তর করে বা আদালতের স্থানীয় সীমা থেকে অপসারন করে; অথবা
iii) বাংলাদেশ ত্যাগ করার প্রচেষ্টা করে; তাহলে এসব ক্ষেত্রে আদালত বিবাদীকে রায়ের পূর্বেই আটক বা আদালতে হাজির হয়ে কেন জামানত দেয়া হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তবে পর্যাপ্ত জামানত দিতে চাইলে আদালত আটকের আদেশ দিবেন না।

 আদেশ-৩৮ বিধি-২: কারণ দর্শানোয় ব্যর্থ হলে জামানত:- ১ বিধি অনুযায়ী বিবাদী উপযুক্ত কারণ দর্শানোয় ব্যর্থ হলে, আদালত বিবাদীকে প্রয়োজনীয় অর্থ বা সম্পদ জামানত হিসাবে আদালতে জমা প্রদানের নির্দেশ দিবেন।
৩৪৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির অনুযায়ী কোথায় আপিল আদালতের রায় ঘোষণার বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ৪১, বিধি ২৭
  2. আদেশ ৪১, বিধি ৩০
  3. আদেশ ৪১, বিধি ৩২
  4. আদেশ ৪১, বিধি ৩১
ব্যাখ্যা
⇒ আপিলে রায়:
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩০ এর বিধান রায় কখন এবং কোথায় ঘোষিত হয়:
আপিল আদালত পক্ষগণ বা তাদের উকিলদের শুনানির পর এবং আপিলের বা যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল করা হয়েছে সে আদালতের কার্যধারার কোন অংশ রেফারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হলে সেটা উল্লেখ করে তৎক্ষণাৎ বা পরবর্তী তারিখ সম্পর্কে যার নোটিশে পক্ষগণকে বা উকিলগণকে প্রদান করতে হবে, প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষিত হবে।
-------------
⇒ Judgment in appeal:
Order 41 Rule.-30: Judgment. When and where pronounced.- The Appellate Court after hearing the parties or their pleaders and referring to any part of the proceedings, whether on appeal or in the Court from whose decree the appeal is preferred, to which reference may be considered necessary, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day of which notice shall be given to the parties or their pleaders.
৩৪৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারা অনুযায়ী, আপিল বিভাগের নিকট আপিল করার জন্য দেওয়ানী মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সর্বনিম্ন মূল্য কত টাকা হতে হবে?
  1. ১০,০০০ টাকা
  2. ১৫,০০০ টাকা
  3. ২০,০০০ টাকা
  4. ২৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারা অনুযায়ী,ধারা ১০৯ এর (ক) ও (খ) দফার অধীনে আপিল বিভাগের নিকট আপিল করতে হলে:
- প্রথম আদালতে (Court of First Instance) মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা হতে হবে;
- এবং আপিলেও বিরোধীয় বিষয়বস্তুর মূল্য ২০,০০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব হতে হবে;
- অথবা আপিলযোগ্য রায়, ডিক্রি বা আদেশের সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ২০,০০০ টাকার দাবি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন জড়িত থাকতে হবে।
যদি আপিলযোগ্য আদেশ নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে, তাহলে আপিলে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন (substantial question of law) থাকতে হবে।

অর্থাৎ আপিল বিভাগের নিকট দেওয়ানী আপিল করার জন্য ২০,০০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্য সংবলিত বিষয়বস্তু থাকা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: গ) ২০,০০০ টাকা। 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারার বিধান: বিষয়বস্তুর মূল্য:
- ১০৯ ধারার (ক) এবং (খ) দফায় উল্লেখিত প্রত্যেক ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য প্রথম বিচারিক আদালতে বিশ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব হতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নিকট আপিলেও বিরোধীয় বিষয়বস্তুর মূল্য অবশ্যই তার সমপরিমাণ বা তদূর্ধ্বে হতে হবে;
অথবা রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবশ্যই অনুরূপ পরিমাণ অর্থের দাবি কিংবা অনুরূপ মূল্যের সম্পত্তি জড়িত থাকতে হবে;
এবং যে রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে, তা দ্বারা যদি অব্যবহিত অধঃস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়ে থাকে, তবে আপিলে অবশ্যই আইনগত একটি বড় প্রশ্ন নিহিত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে। 
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section-110. Value of subject-matter:
 In each of the cases mentioned in clauses (a) and (b) of section 109, the amount or value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter in dispute on appeal to the Appellate Division must be the same sum or upwards, 
or the Judgment, decree or final order must involve, directly or indirectly, some claim or question to or respecting property of like amount or value, 
and where the Judgment, decree or final order appealed from affirms the decision of the Court immediately below the Court passing such Judgment, decree or final order, the appeal must involve some substantial question of law.
৩৪৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৮৯ক ধারার বিধান অনুযায়ী, মধ্যস্থতা কার্যক্রম কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়?
  1. ৩০ দিন, সর্বোচ্চ ৬০ দিন
  2. ৬০ দিন, সর্বোচ্চ ৯০ দিন
  3. ৭৫ দিন, সর্বোচ্চ ১০০ দিন
  4. ৯০ দিন, সর্বোচ্চ ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯(ক) অনুসারে মধ্যস্থতা (Mediation) সংক্রান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে স্পষ্টভাবে।
- মূল সময়সীমা: মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরুর দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
- বর্ধিত সময়সীমা: যদি উপযুক্ত কারণ থাকে, তাহলে আদালতের অনুমতিক্রমে সময়সীমা আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
- মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তা শেষ করা বাধ্যতামূলক।
- সঠিক উত্তর: খ) ৬০ দিন, সর্বোচ্চ ৯০ দিন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section: 89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court], as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
৩৫০.
আপিল শুনানির জন্য কোন পক্ষের অনুরোধে (খরচ ছাড়া) সর্বোচ্চ কতবার মুলতবি আদেশ দেওয়া যাবে?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৪১, বিধি ১২ক: আপিলে মুলতবি (Adjournment in Appeal):
(১) আপিল শুনানির জন্য কোনো পক্ষের অনুরোধে তিনবারের বেশি মুলতবি (adjournment) আদালত দিতে পারবে না। তিনবারের বেশি মুলতবি চাইলে, যে পক্ষ তা চাইবে, তাকে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা কমপক্ষে ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে — আদালত যা উপযুক্ত মনে করবে।
- যদি আপিলকারী (Appellant) টাকা না দেয়, তাহলে আপিল খারিজ হয়ে যাবে।
- যদি প্রতিবাদী (Respondent) টাকা না দেয়, তাহলে একতরফা শুনানিতে আপিল নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী যেকোনো আপিল যদি খারিজ হয় বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, তাহলে যার কারণে তা হয়েছে, সে পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে শুনানির জন্য আপিল পুনরুজ্জীবিত (revive) করা যাবে।
- এই আবেদনের সাথে আদালত কমপক্ষে ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ ধার্য করবে।
- খরচ আদালতে জমা দিলে, কোনো অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই আপিল পুনরায় শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে।
- আদালত জমাকৃত অর্থ অপর পক্ষকে পরিশোধ করবে।
- একই পক্ষ একবারের বেশি এই নিয়মে আপিল পুনরুজ্জীবন করাতে পারবে না।

(৩) আপিল শুনানির সময় আদালত নিজে থেকে মুলতবি আদেশ দিতে পারবে না, যদি না আদালত উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে।
৩৫১.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় 'আইনানুগ প্রতিনিধি (Legal Representative)' এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২(৯)
  2. ধারা ২(১১)
  3. ধারা ২(৮)
  4. ধারা ২(১৩)
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১১) এ আইনানুগ প্রতিনিধি (Legal Representative) এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

• ধারা ২(১১) অনুসারে আইনানুগ প্রতিনিধি হলো সেই ব্যক্তি-
⇒ যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করে;
⇒ যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনা করে; এবং
⇒ যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে মোকদ্দমা করতে পারে বা যার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করা যায়।

Section 2(11)-
"legal representative" means a person who in law represents the estate of a deceased person, and includes any person who intermeddles with the estate of the deceased and where a party sues or is sued in a representative character the person on whom the estate devolves on the death of the party so suing or sued.
৩৫২.
আদেশ ৪১-এর বিধি ১৯ক অনুযায়ী, পুনঃগ্রহণ এর নোটিশ জারির খরচ কে বহন করবে?
  1. আদালত
  2. বিবাদী
  3. আপিলকারী
  4. উভয় পক্ষ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮: আদেশ ৪১, বিধি ১৯ক: আপিলের সরাসরি পুনঃগ্রহণ:
(১) বিধি ১৯ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়াতে এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করতে, বিধি ১৯-এর অধীনে প্রয়োজনীয় যথেষ্ট কারণ প্রমাণের জন্য আপিলকারীকে প্রমাণ পেশ করতে না দিয়ে সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করাতে পারে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে আপিল পুনঃগ্রহণ করানো হবে না যদি না আপিল ডিফল্টে খারিজ হওয়ার তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে আদালতে পুনঃগ্রহণ এর জন্য শপথপত্রসহ একটি আবেদন দাখিল করা হয়:
আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোনো আপিল একবারের বেশি পুনঃগ্রহণ করানো যাবে না।

(২) উপ-বিধি (১)-এর অধীনে আপিল পুনঃগ্রহণ এরআদেশ দেওয়া হলে, আদালত আপিলকারীর খরচে আপিলে উপস্থিত থাকা বিবাদীর উপর এই আদেশের নোটিশ জারি করবে।

৩৫৩.
দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে এর খোরপোষ কে দিবে?
  1. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
  2. সরকার
  3. মোকদ্দমার বাদী
  4. দায়িক নিজেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩৯ এর বিধান জীবন নির্বাহ দাতা (Subsistence-allowance): দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে তার খোরপোষ বাদীকে দিতে হবে।

⇒ আদেশ ২১ বিধি-৩৯ জীবন নির্বাহ ভাতা:
১) কোন দায়িককেই ডিক্রি জারিতে গ্রেফতার করা যাবে না, যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ডিক্রিদার দায়িককে গ্রেফতার করার তারিখ হতে তাকে আদালতে হাজিরের তারিখ পর্যন্ত তার খোরাকীর জন্য বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ডিক্রিদার আদালতে জমা দেয়।
২) যেক্ষেত্রে ডিক্রি জারিতে কোন দায়িককে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করা হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার খোরাকীর জন্য ৫৭ ধারার অধীনে নির্ধারিত হার অনুসারে যেরকম অধিকারী সেরকম মাসিক ভাতা নির্ধারণ করবে কিংবা যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোন হার নির্ধারিত না হয়, সেক্ষেত্রে তার শ্রেণীর সূত্রে আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করে করে।
৩) যে পক্ষের আবেদনক্রমে দায়িককে গ্রেফতার করা হয়, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত মাসিক ভাতা সে পক্ষ মাসিক পরিশোধের দ্বারা প্রতি মাসের প্রথম দিনের পূর্বে অগ্রিম সরবরাহ করবে।
৪) দায়িককে দেওয়ানি জেলে সোর্পদ করার পূর্বে চলতি মাসের অবশিষ্ট অসমাপ্ত অংশের জন্য আদালতের সঠিক কর্মকর্তার নিকট প্রথম প্রদেয় টাকা প্রদান করতে হবে এবং তৎপরবর্তীকালে দেয় (যদি কোন) টাকা দেওয়ানি জেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রদান করা হবে।
৫) দেওয়ানি জেলে আটক দায়িকের খোরাকী বাবদ ডিক্রিদারের খরচ মোকদ্দমার খরচ হিসাবে বিবেচিত হবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ঐ অর্থ ব্যয়ের নিমিত্তে দায়িককে গ্রেফতার বা দেওয়ানি জেলে আটক করা যাবে না।
---------------
Order-21 Rule-39. Subsistence allowance:
(1) No judgment-debtor shall be arrested in execution of a decree unless and until the decree-holder pays into Court such sum as the Judge thinks sufficient for the subsistence of the judgment-debtor from the time of his arrest until he can be brought before the Court.  (2) Where a judgment-debtor is committed to the civil prison in execution of a decree, the Court shall fix for his subsistence such monthly allowance as he may be entitled to according to the scales fixed under section 57, or, where no such scales have been fixed, as it considers sufficient with reference to the class to which he belongs.  (3) The monthly allowance fixed by the Court shall be supplied by the party on whose application the judgmentdebtor has been arrested by monthly payments in advance before the first day of each month. .  (4) The first payment shall be made to the proper officer of the Court for such portion of the current month as remains unexpired before the judgment-debtor is committed to the civil prison, and the subsequent payments (if any) shall be made to the officer in charge of the civil prison.  (5) Sums disbursed by the decree-holder for the subsistence of the judgment-debtor in the civil prison shall be deemed to be costs in the suit:  Provided that the judgment-debtor shall not be detained in the civil prison or arrested on account of any sum so disbursed.
৩৫৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪(ক) ধারা অনুযায়ী আবেদন ব্যতীত যদি দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরিত হয়, তাহলে পক্ষগণকে কী করতে হবে?
  1. মামলা প্রত্যাহার করতে হবে
  2. নতুন মামলা দায়ের করতে হবে
  3. হাজির না হলেও চলবে
  4. স্থানান্তর আদেশ প্রদানকারী আদালতে হাজির হতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৪(ক)-
১) দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ২২ ধারার অধীনে কোন মোকদ্দমা স্থানান্তরিত হলে বা পক্ষদের আবেদনে ২৪(১) ধারার অধীনে মোকদ্দমা, আপিল ইত্যাদি স্থানান্তর বা প্রত্যাহার আদেশদানকারী আদালত নিজেই বিচার করতে ইচ্ছা করলে পক্ষদের এর সম্মুখে হাজির হওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করবে, বা যে আদালতে মোকদ্দমা স্থানান্তর হয়েছে সে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।

২) আবেদন ব্যতীত মোকদ্দমা, আপিল ইত্যাদি স্থানান্তর হলে পূর্ব নির্ধারিত দিনে স্থানান্তর আদেশ প্রদানকারী আদালতে উপস্থিত হবে। উক্ত আদালত তখন পক্ষসমূহের স্থানান্তর বিষয়ে অবহিত করাবেন এবং পক্ষগণকে নির্ধারিত ধার্যকৃত তারিখে অথবা সুবিধা অনুসারে নিকটতম মোকদ্দমা স্থানান্তরিত আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিবেন।

Section 24A: Appearance of parties on transfer of suit, etc.-
(1) Where any suit is transferred under section 22, or any suit, appeal or other proceeding is transferred or withdrawn under sub-section (1) of section 24 on the application of a party, the Court ordering the transfer or withdrawal shall fix a date for the appearance of the parties before itself, if the suit, appeal or other proceeding is to be tried or disposed of by itself, or before the Court to which the case is so transferred.

(2) Where any suit, appeal or other proceeding is transferred from one Court to another, otherwise than on the application of a party, the parties thereto shall appear before the Court from which the suit, appeal or other proceedings is to be transferred, on the day already fixed for their appearance before that Court, and such Court shall then communicate the order of transfer to such parties and direct them to appear before the Court to which the suit, appeal or other proceeding is to be transferred, either on the same day, or on such earliest day as may be reasonable having regard to the distance at which the other Court is located.
৩৫৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে, মধ্যবর্তী মুনাফা কোন ধরনের দখলের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থায়ী দখল
  2. বেআইনী দখল
  3. আইনসম্মত দখল
  4. সকল ধরনের দখল
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে, "মধ্যবর্তী মুনাফা" (Mesne Profits) বলতে বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তি থেকে যে লাভ (স্বাভাবিক নিয়মে বা সাধারণ বুদ্ধিমত্তায়) তৈরি হয় বা হতে পারতো, তা বোঝায়। এখানে স্পষ্টভাবে "wrongful possession" (বেআইনী দখল) উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই সংজ্ঞার মূল ভিত্তি।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা 2(12)-এ "Mesne Profits" বা মধ্যবর্তী মুনাফা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি সেই মুনাফাকে বোঝায় যা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সম্পত্তি থেকে প্রকৃতপক্ষে অর্জন করেছে বা সাধারণ বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অর্জন করতে পারতো, তবে বেআইনীভাবে দখলদারের উন্নয়নের ফলে হওয়া মুনাফা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

⇒ ধারা ২(১২) অনুসারে, বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম- বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।
--------------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession.

৩৫৬.
প্রত্যেকটি সমন স্বাক্ষরিত হবে কার দ্বারা?
  1. আইনজীবী দ্বারা
  2. বিচারক
  3. স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে বিচারক কর্তৃক নিয়োগকৃত কোনো অফিসার দ্বারা
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৫ বিধি ১  মোতাবেক মামলা দায়ের হওয়ার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীর প্রতি সমন ইস্যু করা হবে। সমনে বিচারক বা তাঁর দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষর করবেন এবং সমনে আদালতের সীল থাকবে।
৩৫৭.
ডিক্রি জারিতে বাধাদানের ক্ষেত্রে ডিক্রিদারের আবেদনে আদালত দেনাদার বা অপর কোন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ কত মেয়াদে দেওয়ানী কয়েদে আটকের আদেশ দিতে পারিবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৪ ধারার বিধান ডিক্রি জারি কার্যে বাধা প্রদান: যখন স্থাবর সম্পত্তি দখলের জন্য ডিক্রিদার বা ডিক্রি জারিতে বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তির ক্রয়কারী, দেনাদার বা তার পক্ষে কোন ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পত্তির দখল লাভ করতে বাধ্য বা প্রতিবন্ধকতা প্রাপ্ত হয়েছে বলে এবং অনুরূপ বাধা বা প্রতিবন্ধকতা ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত সৃষ্টি হয়েছিল বলে আদালত সন্তুষ্ট হয় তখন ডিক্রিদার বা ক্রেতার আবেদনক্রমে আদালত দেনাদার বা অন্য ব্যক্তিকে ৩০ দিন অবধি দেওয়ানি জেলে আটক রাখার আদেশ দান দিতে পারে এবং আরো নির্দেশ দান করতে পারে যে, ডিক্রিদার বা ক্রয়কারীকে সম্পত্তির দখল প্রদান করা হয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৭ মতে স্থাবর সম্পত্তির দখলে বাধা দান (Resistance or obstruction to possession of immovable property): স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য প্রদত্ত ডিক্রির মালিক কিংবা নিলাম সম্পত্তির ক্রেতা উক্ত সম্পত্তির দখল লাভে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হলে আদালতে অভিযোগ করে একটি আবেদন করতে পারবেন। যে পক্ষের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে সে পক্ষকে আদালতে হাজির হওয়া এবং জবাব দেয়ার জন্য আদালত সমন প্রদান করবেন।
 
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৮ মতে দায়িক কর্তৃক প্রতিবন্ধ বা বাধাদান (Resistance or obstruction by Judgment-debtor): ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত বাধাদান করলে আদালত আবেদনকারীকে সম্পত্তি দখলে রাখার নির্দেশ দিবে এবং আবেদনকারীকে এর পরেও দখল লাভে বাধাদান করলে আদালত দায়িককে ৩০ দিন পর্যন্ত দেওয়ানি জেলে আটকের নির্দেশ দিতে পারেন।

অর্থাৎ আদেশ ২১ বিধি-৯৭ মতে যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হলে এবং আদেশ ২১ বিধি-৯৮ মতে ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত প্রতিবন্ধ বা বাধাদান করলে ডিক্রির মালিক বা ডিক্রিদার বাধা না দেওয়ার জন্য আদালতে দরখাস্ত করতে পারবেন।
৩৫৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বিশেষ আইনসমূহকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে?
  1. ৩ ধারায়
  2. ৪ ধারায়
  3. ৫ ধারায়
  4. ৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৪ ধারা অনুযায়ী, দেওয়ানি কার্যবিধি বিশেষ আইনগুলির কোনো ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে না।

ধারা ৪: সংরক্ষণ-
১) বিপরীত কোন সুস্পষ্ট বিধান না থাকলে, বর্তমানে চলমান কোন বিশেষ আইন বা ন্যস্তকৃত কোন বিশেষ এখতিয়ার ক্ষমতা, অথবা বর্তমানে বলবৎ অপর কোন আইন অনুসারে নির্ধারিত কোন বিশেষ ফরম বা পদ্ধতিকে এই আইনের কোন বিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ বা অন্য কোনভাবে প্রভাবিত করবে না।

২) বিশেষত, এবং (১) উপধারায় বর্ণিত সাধারণ নীতিকে ক্ষুণ্ণ না করে সমকালীন চলমান কোন আইনের অধীন চাষের জমির জন্য উক্ত জমির ফসল হতে খাজনা আদায়ের ব্যাপারে কোন জমিদারের কোন প্রতিকার থাকলে এই আইনের কোন বিধান তা সীমাবদ্ধ বা প্রভাবিত করবে না।

Sec 4: Savings-
1) In the absence of any specific provision to the contrary, nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect any special law now in force or any special jurisdiction or power conferred, or any special form of procedure prescribed, by or under any other law for the time being in force.

2) In particular and without prejudice to the generality of the proposition contained in sub-section (1), nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect any remedy which a land-holder or landlord may have under any law for the time being in force for the recovery of rent of agricultural land from the produce of such land.
৩৫৯.
The Code of Civil Procedure, 1908 অনুযায়ী একজন কতবার সরাসরি একতরফা ডিক্রি বাতিলের প্রতিকার পেতে পারে?
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশের ৬ বিধির ১(ক) অনুযায়ী শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনে বিবাদী হাজির না হলে আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি দিতে পারে। উক্ত একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদের জন্য ৯ আদেশের ১৩ক বিধির অধীন ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামাসহ আবেদন করতে হবে। আদালত বিলম্ব অবসান ও বিচার ত্বরান্বিত করানোর জন্য আদালতকে সন্তুষ্ট করার জন্য পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ না দিয়ে, সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ দিতে পারে এবং একই সাথে বিবাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিতে পারে।

 ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

⇒ ঐ সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ একবারের বেশি হবে না।
৩৬০.
সরকার বা সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়ে মামলা করলে সরকার লিখিত জবাব দাখিলের জন্য কত সময় পাবে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৮০ ধারার বিধান নোটিশ (Notice)- 
- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮০ ধারা অনুযায়ী লিখিত নোটিশ জারির ২ মাস পর সরকার বা সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হয়।
- যদি ২ মাসের নোটিশ দিয়ে মামলা করা হয় তাহলে সরকার বা সরকারী কর্মচারীও (বিবাদী হিসেবে) লিখিত জবাবের জন্য ৬০ দিনের বেশি সময় পাবে না,

- কিন্তু উক্ত নোটিশ না দিয়ে মামলা করলে সরকার লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অন্যূন ৩ মাস সময় পাবে।

 - সরকারের বিরুদ্ধে (রেলওয়ে সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মামলা করতে হলে সরকারের কোন সচিবের অফিসে অথবা জেলার কালেক্টরের অফিসে নোটিশ দিতে হবে।
- রেলওয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের অফিসে নোটিশ দিতে হবে।
- কোন সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে তাকে বা তার অফিসে নোটিশ দিতে হবে।
- রেল-সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে মামলার নোটিশে মামলার কারণ, বাদীর নাম-ঠিকানা এবং বাদী যে প্রতিকার দাবি করে, তা উল্লেখ করতে হবে; এবং নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।
------------------
CPC Saction 80. Notice:
(1) A suit may be instituted against the Government or against a public officer, in respect of any act purporting to be done by such public officer in his official capacity, after the expiration of two months next after notice in writing has been delivered to or left at the office of,- 
 
(b)(i) in the case of a suit against the Government other than a suit relating to the affairs of the Railway, a Secretary to the Government or the Collector of the District; and 
 
(ii) in the case of a suit against the Government relating to the affairs of the Railway, the General Manager of the Railway, 
and in the case of a public officer, delivered to him or left at his office stating the cause of action, the name, description of place of residence of the plaintiff and the relief which he claims; and the plaint shall contain a statement that such notice has been so delivered or left. 
 
(2) Where any such suit is instituted without delivering or leaving such notice as aforesaid or before the expiration of the said period of two months or where the plaint does not contain a statement that such notice has been so delivered or left, the plaintiff shall not be entitled to any costs if settlement as regards the subject-matter of the suit is reached or the Government or the public officer concedes the plaintiff's claim, within the period of two months from the date of the institution of the suit: 
 
Provided that in a suit instituted without such notice, the Court shall allow not less than three months to the Government to submit its written statement.
৩৬১.
ধারা ৩৯ অনুসারে, ডিক্রিদানকারী আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে ডিক্রি জারির জন্য অন্য কোন আদালতে ডিক্রি স্থানান্তরিত করতে পারে?
  1. এখতিয়ার সম্পন্ন উচ্চ আদালতে
  2. এখতিয়ার সম্পন্ন কোন অধঃস্তন আদালতে
  3. এখতিয়ার বহির্ভূত কোনো আদালতে
  4. এখতিয়ার সম্পন্ন সম পর্যায়ের অন্য আদালতে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৯: ডিক্রি স্থানান্তরিতকরণ:
১) কোন ডিক্রিদানকারী আদালত ডিক্রিদারের আবেদন ক্রমে তা জারির জন্য আদালতে প্রেরণ করতে পারেন,-
ক) যার বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে তিনি যদি উক্ত অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে স্বোচ্ছায় বসবাস করেন কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করেন অথবা ব্যক্তিগতভাবে লাভজনক কাজ করেন: বা

খ) যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ডিক্রির দাবি পূরণের জন্য উক্ত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পত্তি না থাকলে এবং অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমায় তার সম্পত্তি থাকলে; বা

গ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার বাহিরে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা হস্তান্তরের জন্য নির্দেশ থাকলে; বা
ঘ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালত যদি অন্য কোন কারণ লিপিবদ্ধ করে বিবেচনা করে যে, ডিক্রিটি অন্য আদালত কর্তৃক জারি হওয়া উচিত।

২) ডিক্রি প্রদানকারী আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন কোন অধঃস্তন আদালতে তা জারির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
৩৬২.
দেওয়ানী আদালতের ২০ ধারার বিধান অনুযায়ী মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. আরজি দাখিলের দিন বিবাদীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে
  2. মোকদ্দমার শুনানির দিন বাদীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে
  3. বিবাদী যেখানে ব্যবসা করে সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করা যায়
  4. বিবাদী যেখানে বসবাস করে সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার বিষয়ে ২০ ধারার বিধান:
যে সকল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ থেকে ১৯ ধারায় উল্লিখিত বিধান প্রযোজ্য হয়না, সেই সকল অন্যান্য মোকদ্দমার ক্ষেত্রে বিবাদী যেখানে বসবাস করে অথবা যেখানে মোকদ্দমার কারণ উৎপত্তি হয়, সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে

সুতরাং-
১. যেখানে বিবাদী বসবাস করে, ব্যবসা পরিচালনা করে, বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করে সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে; অথবা
২. যেখানে মোকদ্দমার কারণ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে উৎপত্তি হয়, সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
৩. যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে, সেই ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকে বা যে কোন একজন যেখানে বসবাস করে বা ব্যবসা করে বা লাভজনক কাজ করে, সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
৩৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধি মতে ডিক্রি (decree ) সম্পর্কে নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ডিক্রি সর্বদা চূড়ান্ত হবে
  2. ডিক্রি প্রাথমিক হতে পারে না
  3. ডিক্রি চূড়ান্ত বা প্রাথমিক হতে পারে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধারাঃ ২(২) এ ডিক্রির সংজ্ঞা হিসেবে দেয়া আছে:

ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় → সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

• ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞায় প্রাথমিক ডিক্রি ও চূড়ান্ত ডিক্রি উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২(২) ধারার ব্যাখায় প্রাথমিক ডিক্রি এবং চূড়ান্ত ডিক্রির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং আংশিক প্রাথমিক এবং আংশিক চূড়ান্ত ডিক্রির উল্লেখ করা হয়েছে।

২(২) ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-
ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে। যখন এমন বিচারিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করে, তখন এটা চূড়ান্ত ডিক্রি। এটা আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে [A decree is preliminary when further proceedings have to be taken before the suit can be completely disposed of. It is final when such adjudication completely disposes of the suit. It may be partly preliminary and partly final]
৩৬৪.
কোন পরিস্থিতিতে বিবাদীর শুনানি শুরু করার অধিকার থাকে?
  1. বাদী অনুপস্থিত থাকলে
  2. বাদী সাক্ষী না আনলে
  3. যখন বিবাদীর আইনজীবী উপস্থিত থাকে না
  4. বিবাদী বাদীর তথ্য স্বীকার করে বাদীর প্রতিকার চ্যালেঞ্জ করলে
ব্যাখ্যা

শুরু করার অধিকার (Order 18, Rule 1):
সাধারণভাবে মামলার শুনানি শুরু করার অধিকার বাদীর (plaintiff) রয়েছে। তবে, যদি বিবাদী (defendant) বাদীর উত্থাপিত তথ্যসমূহ স্বীকার করে এবং দাবি করে যে, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে (point of law) অথবা বিবাদীর উল্লেখিত অতিরিক্ত কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বাদী তার চাওয়া কোনও প্রতিকার (relief) পাওয়ার অধিকারী নন, তাহলে এই বিশেষ পরিস্থিতিতে শুনানি শুরু করার অধিকার বিবাদীর (defendant) থাকবে।

Right to Begin (Order 18 Rule 1)
The plaintiff has the right to begin unless the defendant admits the facts alleged by the plaintiff and contends that either in point of law or on some additional facts alleged by the defendant the plaintiff is not entitled to any part of the relief which he seeks, in which case the defendant has the right to begin.

৩৬৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত কোন উদ্দেশ্যে কমিশন নিয়োগ করতে পারে?
  1. কোন ব্যক্তি বা সাক্ষীকে পরীক্ষা
  2. স্থানীয় তদন্ত
  3. হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয়
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
-----------
⇒ Section 75. Power of Court to issue commissions:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission- 
(a) to examine any person; 
(b) to make a local investigation; 
(c) to examine or adjust accounts; or 
(d) to make a partition.
৩৬৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোথায় প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৪
  2. আদেশ ৬ বিধি ১৬
  3. আদেশ ৬ বিধি ১৭
  4. আদেশ ৬ বিধি ১৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে।
⇒ আদেশর ৬ বিধি ১ অনুযায়ী প্রিডিং বলতে আরজি বা লিখিত জৰাৰ বুঝাবে। 
⇒ মামর্লা যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধণ হতে পারে।
⇒  প্লিডিংস সংশোধন করা বা না করা আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী আরজি জবাব সংশোধন বা প্লিডিংস সংশোধন বলতে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে।
⇒ তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর , সংশোধনের কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
⇒ যদি  আদালত অভিমত পোষণ করেন যে, পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পার্টি  বিচারকার্য শুরু হওয়ার পূর্বে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেননি সেক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
⇒ আরো শর্ত থাকে যে, বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার জন্য এটি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
⇒ আদেশের বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন করা যাবে।
-------------------
ORder-6 Rule-17:Amendment of pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings allow either party to alter or amend his pleadings in such manner and on such terms as may be just, and all such amendments shall
be made as may be necessary for the purpose of determining the real questions in controversy between the parties:
 Provided that no application for amendment shall be allowed after the trial has commenced, unless the Court is of opinion that in spite of due diligence, the party could not have raised the matter before the commencement of trial:
Provided further that if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as it thinks fit.
৩৬৭.
নিম্নের কোন বিধির অধীনের আদেশ আপিলঅযোগ্য?
  1. আদেশ-৮ এর বিধি-১০
  2. আদেশ-১০ এর বিধি-৪
  3. আদেশ-১১ এর বিধি-২১ 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা রয়েছে।

আদেশ-৪৩ বিধি-১ অনুযায়ী-
খ) আদেশ-৮ বিধি-১০ → পক্ষের বিরুদ্ধে রায়সহ আদেশ → আপিলযোগ্য;
ঙ) আদেশ-১০ বিধি-৪ → পক্ষের বিরুদ্ধে রায়সহ আদেশ → আপিলযোগ্য;
চ) আদেশ-১১ এর বিধি-২১ → মোতাবেক আদেশ → আপিলযোগ্য।

সুতরাং কোনোটিই আপিলঅযোগ্য নয়। তাই সঠিক অপশন: ঘ) কোনটিই নয়।

৩৬৮.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এ মোট কয়টি তফসিল আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এ মোট ৫টি তফসিল আছে।
• বর্তমানে বলবৎ ৩টি তফসিল এর মধ্যে ১ম তফসিলে ৫১ টি আদেশ আছে।
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫টি তফসিলের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ৫ম তফসিলটি বাতিল করা হয়েছে।
• এই আইনে অধ্যায় ১১টি, ধারা ১৫৮ টি, প্রস্তাবনা ১টি।
• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা সমূহ সংশোধন করতে পারে জাতীয় সংসদ এবং আদেশ ও বিধি সমূহ সংশোধন করতে পারে জাতীয় সংসদ ও সুপ্রীম কোর্ট উভয়ে।
৩৬৯.
'Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds' - দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান?
  1. ৯৪ ধারার
  2. ৯৫ ধারার
  3. ৯৭ ধারার
  4. ৯৯ ধারার
ব্যাখ্যা

ধারা ৯৫- Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds (অযৌক্তিক বা অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তির জন্য ক্ষতিপূরণ):
(১) যদি কোনো মোকদ্দমায় গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয় এবং—
(ক) আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে উক্ত গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা নিষেধাজ্ঞার আবেদন অপ্রতুল বা অযৌক্তিক ভিত্তিতে করা হয়েছে, অথবা
(খ) মামলাটি ব্যর্থ হয় এবং আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে মামলাটি দায়ের করার জন্য কোনো যৌক্তিক বা সম্ভাব্য কারণ ছিল না,

তবে বিবাদী আদালতে আবেদন করতে পারবেন এবং আদালত, উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, আদেশের মাধ্যমে বিবাদীর খরচ বা ক্ষতির জন্য যথাযথ বলে গণ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ (সর্বাধিক দশ হাজার টাকা) আদায়ের নির্দেশ দিতে পারেন।

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত তার আর্থিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে কোনো ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারবে না।

(২) উক্ত আবেদনের বিষয়ে আদালতের আদেশ হলে, সংশ্লিষ্ট গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা নিষেধাজ্ঞার জন্য ক্ষতিপূরণের পৃথক কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

৩৭০.
'ক' এবং 'খ' দুই ভাই। 'ক' ফেনী এবং 'খ' ঢাকায় বাস করে। যৌথ মালিকানায় তাদের একটি জমি কুমিল্লায় রয়েছে। 'ক', সেই জমিতে তার ভাই 'খ' এর স্বত্ব অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় 'খ', কোন আদালতে তার স্বত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মোকদ্দমা দায়ের করবে?
  1. ঢাকার এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে
  2. কুমিল্লার এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে
  3. ফেনীর এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে
  4. উপরে উল্লিখিত যেকোনো একটি আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করা যায় তা উল্লেখ করা আছে।

⇒ ধারা ১৬ অনুযায়ী- যেখানে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু অবস্থিত, সেখানে মোকদ্দমা রুজু করতে হয়। উক্ত ধারায় দেয়া আছে- যে কোন আইনে নির্ধারিত আর্থিক অথবা অন্যান্য সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে,
ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা;
খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য মোকদ্দমা;
গ) স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকের ক্ষেত্রে বা চার্জ সম্পর্কিত দায় পরিশোধ, বিক্রয় অথবা বন্ধক মুক্তির জন্য মোকদ্দমা;
ঘ) হাবর সম্পত্তিতে অন্য কোন প্রকার স্বত্ব বা অধিকার নির্ণয়ের জন্য মোকদ্দমা;
ঙ) স্থাবর সম্পত্তি অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা;
চ) আটক অথবা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা;

উপরোল্লিখিত বিষয়ে আনিত মোকদ্দমাসমূহ যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত বা, 'গ' দফায় বর্ণিত (স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকের ক্ষেত্রে বা চার্জ সম্পর্কিত দায় পরিশোধ, বিক্রয় অথবা বন্ধক মুক্তির জন্য মোকদ্দমা) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে যে স্থানে মোকদ্দমার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়েছে সে সমস্ত আদালতেই রুজু করতে হবে।

উল্লিখিত প্রশ্নে 'খ', কুমিল্লার এখতিয়ারভুক্ত কোনো আদালতে তার স্বত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মোকদ্দমা দায়ের করবে।
৩৭১.
নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি
  2. অন্যায় কাজকে বারিত করা
  3. বিরোধীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা
  4. অন্যায় কাজকে উৎসাহিত করা
ব্যাখ্যা
নিষেধাজ্ঞা:
নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আইনে সুনির্দিষ্ট কোন বিধান নেই, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫২-৫৭ এবং দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ এর বিধি ১ থেকে ৫ এ নিষেধাজ্ঞার বিধান বর্ণিত রয়েছে। সাধারণভাবে, নিষেধাজ্ঞা বলতে বোঝায়, আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একটি আদেশ যা কোন পক্ষকে নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করে বা কোন কাজ থেকে বিরত রাখে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কার্যকরকরণ, মামলার বিষয়বস্তু সংরক্ষণ এবং বিচার নিষ্পত্তির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা।

বৈশিষ্ট্য:
- এটি একটি বিচার বিষয়ক কার্যধারা।
- এর মাধ্যমে কোন পক্ষকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
- অন্য পক্ষকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করা যেতে পারে।
- নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

উদ্দেশ্য:
নিষেধাজ্ঞার সাধারণ উদ্দেশ্য হলো অন্যায় কাজকে প্রতিরোধ করা। অর্থাৎ, অনুচিত অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা, সম্ভাব্য ক্ষতি নিবারণ করা, দখল পুনরুদ্ধার করা এবং স্থায়ী ভোগের অধিকার রক্ষা করা। অধিকারকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ না করা পর্যন্ত, বিরোধীয় সম্পত্তি ক্ষতি থেকে রক্ষা করা এবং তা অন্য পক্ষের দখলে যাওয়া রোধ করার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়। এর মাধ্যমে বৈধ অধিকার রক্ষা, মামলা চলাকালীন ভবিষ্যৎ ক্ষতি এড়ানো এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়বস্তু বজায় রাখা হয়।
৩৭২.
Who can apply to the Court to order the plaintiff to be dis-paupered under Order 33 Rule 9 of The Code of Civil Procedure, 1908?
  1. Only the defendant
  2. Only the Government pleader
  3. Only the plaintiff
  4. Either the defendant or the Government pleader
ব্যাখ্যা
Order 33 Rule 9: Dispaupering:
The Court may, on the application of the defendant, or of the Government pleader, of which seven days' clear in writing has been given to the plaintiff, order the plaintiff to be dis-paupered-
a) if he is guiltyof vexatious or improper conduct in the course of the suit;
b) if it appears that his means are such that he ought not to continue to sue as a pauper, or
c) if he has entered into any agreement with reference to the subject-matter ofthe suit under which any other person has obtained an interest in such subject- matter.

আদেশ ৩৩ বিধি-৯- নিঃস্ব মুক্তি:
আদালত বিবাদি বা সরকারি উকিলের আবেদনক্রমে যে সম্পর্কে বাদিকে কমপক্ষে সাত দিনের লিখিত স্পষ্ট নোটিশ দিয়ে বাদি নিঃস্ব নয় মর্মে আদেশ দিতে পারে-
ক) যদি মোকদ্দমা চলাকালে সে বিরক্তিকর বা অসঙ্গত আচরণে দোষী হয়; বা
খ) যদি প্রতীয়মান হয় যে, তার এরূপ আর্থিক সংস্থান রয়েছে যাতে তার নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা পরিচালনা করা উচিত নয়; বা
গ) যদি সে মোকদ্দমার অধীনে বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে যাতে অন্য হোন ব্যক্তি উক্ত বিষয়বস্তুতে একটি স্বার্থ অর্জন করেছে।
৩৭৩.
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয় এবং আইনজীবী যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আদালত-
  1. আইনজীবীকে জরিমানা করতে পারে
  2. মোকদ্দমার শুনানি মুলতুবি রাখতে পারে
  3. পক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১০ বিধি ৪(১,২) অনুসারে,
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে।

• উল্লেখ্য যে,
আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
৩৭৪.
দেওয়ানি আদালত কখন সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন?
  1. সম্পত্তির বিক্রয়ের পরে
  2. শুধুমাত্র ডিক্রি প্রদানের পূর্বে
  3. শুধুমাত্র ডিক্রি প্রদানের পরে
  4. ডিক্রি প্রদানের পূর্বে বা পরে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪০ বিধি ১- রিসিভার নিয়োগ:

(১) আদালতের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত আদেশ দিয়া-
ক) ডিক্রির পূর্বে বা পরে কোন সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন;
খ) সম্পত্তির দখল বা জিম্মাদারী হতে কোন ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন;
গ) উহা রিসিভারের দখলে, হেফাজতে বা ব্যবস্থাপনায় সোপদ করতে পারেন; এবং
ঘ) মামলা দায়ের করা ও জবাব দেয়া এবং সম্পত্তি আদায়করণ, ব্যবস্থাপনা, নিরাপদকরণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন, উহার খাজনা এবং মুনাফা সংগ্ৰহ, উক্ত খাজনা ও মুনাফার প্রয়োগ ও হস্তান্তর এবং দলিল সম্পাদন সম্পর্কে মালিকের নিজের যেরূপ ক্ষমতা আসে সেরূপ বা আদালত যে সকল ক্ষমতা উপযুক্ত মনে করেন, রিসিভারকে অনুরূপ সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

(২) কোন ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল ও জিম্মাদারী হতে অপসারণের জন্য যাকে মামলার কোন একটি পক্ষের অনুরূপ ভাবে অপসারণের বর্তমান অধিকার নাই, অত্র বিধির কোন কিছু আদালতকেও উক্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ অপসারণের ক্ষমতা দিবে না।
৩৭৫.
রায়ের পূর্বে ক্রোকের আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করলে সংক্ষুদ্ধ বাদীর প্রতিকার হতে পারে-
  1. কোন প্রতিকার নাই
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. আপীল
ব্যাখ্যা
♦রায়ের পূর্বে ক্রোক আদেশ হলো আপীলযোগ্য আদেশ, তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। কিন্তু রায়ের পূর্বে ক্রোকের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে প্রদত্ত আদেশ আপীলযোগ্য না। তাই এই ক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করতে হবে।
৩৭৬.
ডিক্রি রদের আবেদন সম্পর্কে _______ নোটিশ জারি করা না হলে, উক্ত আবেদনক্রমে ডিক্রি রদ করা যাবে না।
  1. আদালতকে
  2. উভয় পক্ষকে
  3. অপর পক্ষকে
  4. উল্লেখিত সকলকে
ব্যাখ্যা
অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে কোন ডিক্রি রদ করা যাবে না।
[No decree to be set aside without notice to opposite party]

আদেশ ৯ বিধি ১৪ অনুযায়ী-
ডিক্রি রদের আবেদন সম্পর্কে অপর পক্ষকে নোটিশ জারি করা না হলে্‌ উক্ত আবেদনক্রমে ডিক্রি রদ করা যাবে না।
[No decree shall be set aside on any such application as aforesaid unless notice thereof has been served on the opposite party.]
৩৭৭.
নিম্নোক্ত কোন ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ করতে পারে না?
  1. হিসাব সংশোধনের জন্য
  2. হিসাব সমন্বয় করা জন্য
  3. স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
  4. স্থানীয় তদন্তের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।

অর্থাৎ হিসাব সংশোধনের জন্য আদালত কমিশন নিয়োগ করতে পারে না। 
-----------
⇒ Section 75. Power of Court to issue commissions:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission- 
(a) to examine any person; 
(b) to make a local investigation; 
(c) to examine or adjust accounts; or 
(d) to make a partition.
৩৭৮.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৫৮ ধারার বিষয়বস্তু কি?
  1. গ্রেফতার ও আটক
  2. আটক ও মুক্তি
  3. খোরপোষ ভাতা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮  আইনের  ৫৮ ধারা অনুযায়ী কোন দেনাদারকে আটক ও মুক্তির বিষয়ে বলা হয়েছে।
• ৫০ টাকার বেশি পরিশোধের জন্য ৬ মাস এবং ৫০ টাকার কম পরিশোধের জন্য  ৬ সপ্তাহ আটক রাখা যাবে ।
• তবে দেনাদার অর্থ পরিশোধ করলে তাকে মুক্তি দিবেন।
৩৭৯.
আদেশপত্র [Precept] এর অধীন কোন সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ _____ মাসের বেশি বলবৎ থাকবে না।
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৪ মাস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রি জারি করার অনুরোধ করতে পারেন এবং এরূপ আদালত অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন। যা  ডিক্রি জারির অনুরোধ (Precepts) নামে পরিচিতো।
• ডিক্রিদানকারী আদালত ক্রোকের মেয়াদ বৃদ্ধি না করলে কোন ক্রোক ২ মাসের অধিক সময় বলবৎ থাকবে না।
---------
• Section 46. Precepts:
(1) Upon the application of the decree-holder the Court which passed the decree may, whenever it thinks fit, issue a precept to any other Court which would be competent to execute such decree to attach any property belonging to the judgment-debtor and specified in the precept. 

(2) The Court to which a precept is sent shall proceed to attach the property in the manner prescribed in regard to the attachment of property in execution of a decree: 
 
Provided that no attachment under a precept shall continue for more than two months unless the period of attachment is extended by an order of the Court which passed the decree or unless before the determination of such attachment the decree has been transferred to the Court by which the attachment has been made and the decree-holder has applied for an order for the sale of such property.
৩৮০.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ORDER-26, Rule-17(1) অনুসারে কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীদের জন্য কোন বিষয়গুলো প্রযোজ্য?
  1. সাক্ষীদের হাজিরা, জবানবন্দি গ্রহণ এবং দলিল উপস্থাপন
  2. সাক্ষীদের পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর দণ্ড আরোপ
  3. কমিশনারকে দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য করা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬, বিধি-১৭(১) অনুযায়ী, কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীদের হাজিরা, জবানবন্দি গ্রহণ, দলিল উপস্থাপন, সাক্ষীদের পারিশ্রমিক প্রদান এবং সাক্ষীর উপর দণ্ড আরোপ সংক্রান্ত বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে এবং কমিশনারকে দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১৭: কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীর হাজিরা ও জবানবন্দি প্রদান:
(১) সাক্ষীদের সমন প্রদান, হাজিরা এবং জবানবন্দি গ্রহণ এবং সাক্ষীর পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর দণ্ড আরোপ সংক্রান্ত অত্র কোডের বিধানসমূহ বাংলাদেশে অবস্থিত আদালত কর্তৃক এরূপে নির্দেশিত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রেরিত হোক, না কেন, উক্ত কমিশন কর্তৃক অত্র আদেশ অনুসারে সাক্ষ্য দানের জন্য বা দলিল উপস্থিত করার জন্য আবশ্যকীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এবং অত্র বিধির উদ্দেশ্যে কমিশনারকে দেওয়ানী আদালত হিসাবে গণ্য করা হবে।
(২) যে আদালতের স্থানীয় সীমানার ভিতর কোন সাক্ষী বসবাস করে, তিনে প্রয়োজনীয়তা খুঁজিয়া পেলে সে সাক্ষীর প্রতি বা বিরুদ্ধে কোন পরোয়ানা প্রেরণের জন্য সেরূপ কোন আদালতে (হাইকোর্ট বিভাগ নহে) কমিশনার আবেদন করতে পারেন, এবং উক্ত আদালত ইচ্ছা করলে যুক্তিসংগত ও উপযুক্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারেন।
---------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Order-26, Rule-17. Attendance and Examination of Witnesses before Commissioner:
(1) The provisions of this Code relating to the summoning, attendance and examination of witnesses, and to the remuneration of, and penalties to be imposed upon, witnesses, shall apply to persons required to give evidence or to produce documents under this order whether the commission in execution of which they are so required has been issued by a Court situate within or by a Court situate beyond the limits of Bangladesh, and for the purposes of this rule the commissioner shall be deemed to be a Civil Court.
(2) A Commissioner may apply to any Court (not being the High Court Division) within the local limits of whose jurisdiction a witness resides for the issue of any process which he may find it necessary to issue to or against such witness, and such Court may, in its discretion, issue such process as it considers reasonable and proper.
৩৮১.
দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে কোর্ট ফি কখন পরিশোধ করতে হবে?
  1. মামলা শেষ হওয়ার পর
  2. আরজি দাখিল করার সময়
  3. পরোয়ানা জারি করার পর
  4. মামলার শুনানির সময়
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৪ বিধি ১: মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হবে:
১) আদালত অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট, আরজি উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দাখিল করতে হবে এবং আরজি সংশ্লিষ্ট যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলো আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর পরোয়ানা জারি করার জন্য পেশ করতে হবে।
১ক) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি করার জন্য নির্ধারিত প্রদেয় কোর্ট ফি আরজি দাখিল করার সময় এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যখন সমন ব্যবহার করা হয় তখন পরিশোধ করতে হবে।
১খ) সমনের একটি নকলসহ প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সকল বিবাদীর পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানা যুক্ত যথোচিত খামে আগাম প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আরজির সঙ্গে বাদীকে পেশ করতে হবে।

২) ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশের বিধিসমূহ যতদূর প্রযোজ্য হয়, তদনুসারে প্রত্যেকটি আরজি প্রণয়ন করতে হবে।
৩৮২.
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমার ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি কার পক্ষে মামলা দায়ের করেন?
  1. কেবল নিজের পক্ষে
  2. শুধু আদালতের পক্ষে
  3. নিজের এবং আদালতের পক্ষে
  4. নিজের এবং অন্য সকলের পক্ষে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
৩৮৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় ডিক্রী জারি সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ৩৫ ধারা
  2. ৩৭ ধারা
  3. ৩৮ ধারা
  4. ৪০ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো ডিক্রি জারি করা যাবে: ১) যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালত দ্বারা, অথবা ২) যে আদালতে ডিক্রি কার্যকর করার জন্য পাঠানো হয়েছে, সেই আদালত দ্বারা।
অর্থাৎ, ডিক্রি কার্যকর বা জারি করার ক্ষেত্রে এই ধারা নির্দেশিকা প্রদান করে যে, ডিক্রি প্রেরিত বা মূল আদালত উভয়ই ডিক্রি জারি করতে পারে। এটি ডিক্রি জারি সম্পর্কিত মূল বিধান।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি অর্থ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন ডিক্রী বা আদেশ বলবৎ করা যেন ডিক্রীদার ডিক্রীর ফল ভোগ করবে। দুটি আদালত ডিক্রী জারী করবে।
১) যে আদালত ডিক্রী জারী করেছে সে আদালত
২) যে আদালতে ডিক্রী জারী করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে সে আদালত।

- আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন: ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।
- ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি ডিক্রি জারিকারক আদালতই নিষ্পত্তি করবে।
- ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরূদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই ডিক্রি জারি করবে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 38. Court by which decree may be executed:
A decree may be executed either by the Court which passed it, or by the Court to which it is sent for execution.

৩৮৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬, বিধি ১২ অনুসারে, সাক্ষীর অনুপস্থিতির জন্য আদালত সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারেন?
  1. ২০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ১০০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬, বিধি ১২ এর বিধান অনুযায়ী, কোনো সাক্ষী আদালতের সমন পাওয়ার পরও যদি উপস্থিত না হন বা সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হন, তাহলে আদালত তার জীবনযাত্রার অবস্থা ও মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ৫০০ (পাঁচশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৬ বিধি-১২: সাক্ষী হাজির হতে ব্যর্থ হলে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যক্তি হাজির না হয় বা হাজির হয়  কিন্তু আদালতকে ঐরূপ সন্তুষ্ট করতে না পারে, সেক্ষেত্রে আদালত তার জীবন যাপনের অবস্থা এবং মোকদ্দমায় যাবতীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার উপর আদালত ন্যায়সঙ্গত মনে করে এরূপ অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারে এবং তার সম্পত্তি কিংবা উহার যে কোন অংশ ক্রোক করার ও নিলাম বিক্রয় করার জন্য, অথবা যদি ১০ বিধি অনুসারে ইতোপূর্বে ক্রোকাবদ্ধ হয়ে থাকে, তবে তা উক্ত জরিমানার অংকসহ, যদি কোন, অনুরূপ ক্রোকের ব্যয় মিটানোর উদ্দেশ্যে নিলাম বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, ঐ ব্যক্তি উপরোক্ত খরচাদি এবং জরিমানা আদালতে পরিশোধ করলে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকমুক্ত হতে আদেশ দিবে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 16 Rule-12-Procedure if witness fails to appear: 
- The Court may, where such person does not appear, or appears but fails so to satisfy the Court, impose upon him such fine not exceeding five hundred Taka as it thinks fit, having regard to his condition in life and all the circumstances of the case, and may order his property, or any part thereof, to be attached and sold or, if already attached under rule 10, to be sold for the purpose of satisfying all costs of such attachment, together with the amount of the said fine, if any: Provided that, if the person whose attendance is required pays into Court the costs and fine aforesaid, the Court shall order the property to be released from attachment.

৩৮৫.
একটি আরজিতে সত্যপাঠে স্বাক্ষর করবে কে?
  1. সম্পাদনকারী
  2. বাদীর উকিল
  3. পুলিশ
  4. বিবাদীর উকিল
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১৫ নং বিধিতে প্লিডিংস সত্যাখ্যানের (Verification of pleadings) বিধান রয়েছে। ১৫ নং বিধিমতে প্রত্যেক Pleadigns-এর শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষ অর্থাৎ আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী সত্যপাঠে স্বাক্ষর করবে, যাকে প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন (Verification of pleadigns) বলে। অর্থাৎ আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখান বা সত্যতা প্রতিপাদন করবে।
৩৮৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ১০ বিধি ৪ (২) অনুসারে আদালত কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা করে কোন আদেশ দিলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের প্রতিকার হলো?
  1. আপীল করতে পারবে
  2. রিভিউ করতে পারবে
  3. রিভিশন করতে পারবে
  4. রেফারেন্স পাঠাতে পাারবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি  আদেশ ১০ বিধি ৪ (২) অনুযায়ী শুনানীর নির্ধারিত দিনে পক্ষ হাজির না হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা করতে পারে।
⇒ সংক্ষুব্ধ পক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবে
৩৮৭.
'চ' কর্তৃক দায়েরকৃত মোকদ্দমায় আদালত 'ম' এর বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। 'ম' উক্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। এক্ষেত্রে আদালত Order 39 Rule 2 এর অধীন-
  1. 'ম' এর সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে
  2. 'ম' কে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারে
  3. ক এবং খ উভয়
  4. ক বা খ কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে, সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ অনুযায়ী আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। বিধি ১ অনুযায়ী যখন নালিশী সম্পত্তি কোন পক্ষ কর্তৃক ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্থ বা হস্তান্তরিত হওয়ার বা কোন ডিক্রি জারিমূলে অন্যায়ভাবে বিক্রি হতে পারে, অথবা বিবাদী যখন পাওনাদারকে বঞ্চিত, প্রতারিত করার জন্য তার সম্পত্তি হস্তান্তর করার হুমকি প্রদান করে বা ইচ্ছা পোষণ করে, তখন আদালত উক্ত নালিশী সম্পত্তি ধ্বংসকরণ, ক্ষতিগ্রস্থকরণ, হস্তান্তর, নিলাম, বিক্রয়, অপসারণ বা সমর্পণ স্থগিত করার উদ্দেশ্যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে বা আদালত কর্তৃক যেরূপ উপযুক্ত বিবেচিত হবে সেরূপ আদেশ দিতে পারেন।

আদেশ ৩৯ বিধি ২-
১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।

৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।

৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।

অর্থাৎ আদালত নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীর সম্পত্তি ক্রোক এবং অনধিক ৬ মাস দেওয়ানী কারাবাসে আটকের আদেশ দিতে পারে।
৩৮৮.
দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ-৪৭ , বিধি-২ অনুসারে নিচের কোনটি পুনর্বিবেচনার আবেদনের ভিত্তি নয়?
  1. ক্লারিক্যাল ভুল
  2. নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
  3. বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত
  4. গাণিতিক ভুল
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-৪৭, বিধি-২ অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে যদি:
- ক্লারিক্যাল ভুল (যেমন, টীকা বা ভাষাগত ভুল),
- গাণিতিক ভুল (যেমন, গাণিতিক হিসাবের ভুল),
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আবিষ্কার হওয়া, এছাড়া, বিচারকের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কোন আবেদন পুনর্বিবেচনা করা যাবে না।
অতএব, বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত পুনর্বিবেচনার আবেদনের বৈধ ভিত্তি নয়।

আদেশ-৪৭ বিধি-২: যার নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে:
বিধি-১ এ উল্লিখিত রূপ এবং নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কারের বা ক্লারিক্যাল সম্পর্কে অথবা গাণিতিক ভুলের সঙ্গত কারণ বা নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান কোন ভ্রান্তির অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণের উপর করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রার্থীত ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন, শুধু সে বিচারকের নিকট আবেদন করতে হবে, কিন্তু ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন তিনি যদি বিধি-৪ এর উপবিধি-২ এর অন্তর্গত (ক) শর্তাংশ মোতাবেক নোটিশ জারি করে থাকেন, তাহলে অনুরূপ আবেদনপত্র তার স্থলাভিষিক্ত বিচারক দ্বারা সমাধান করা যাবে।

Order 47, Rule 2: To Whom Applications for Review May Be Made: 
An application for review of a decree or order of a Court (other than the High Court Division) may be made on grounds other than the discovery of new and important matter or evidence, or the existence of a clerical or arithmetical mistake or an error apparent on the face of the decree. Such an application must be made to the Judge who passed the decree or made the order sought to be reviewed. However, if the Judge who passed the decree or made the order has ordered notice to be issued under Rule 4, Sub-rule (2), proviso (a), the application may be disposed of by his successor.
৩৮৯.
'The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court'- কত বিধিতে বলা আছে?
  1. আদেশ ১৮ বিধি ২
  2. আদেশ ১৮ বিধি ৪
  3. আদেশ ১৮ বিধি ৬
  4. আদেশ ১৮ বিধি ৮
ব্যাখ্যা

Order 18, Rule 4- Witnesses to be examined in open Court:
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪- প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি:
হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

৩৯০.
কোন আদালতে একটি দেওয়ানী আদালত প্রদত্ত রায়ের বিষয়ে রিভিউ মামলা দায়ের করা যায়?
  1. জেলা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. যে আদালত রায় দেয়
  4. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। যেমন সহকারী জজ ডিক্রি দিলে, সেই ডিক্রির বিরুদ্ধে উক্ত সহকারী জজের নিকট রিভিউ আবেদন করতে হবে।
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৩৯১.
Pleadings সংশোধন করা যায়-
  1. অনুসন্ধানের যে কোন পর্যায়ে
  2. তদন্তের যে কোন পর্যায়ে
  3. প্রসিডিংস এর যে কোন পর্যায়ে
  4. ডিক্রি জারির কোন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।

♦প্লিডিংস সংশোধনের সময়- ৬ নং আদেশের ১৮ নং বিধিমতে আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা সময় নির্ধারণ করে না দিলে আদালতের প্লিডিংস সংশোধনীর আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে প্লিডিংস সংশোধন করতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে এবং আদালত সময় বর্ধিত না করলে প্লিডিংস সংশোধন করা যাবে না।

♦অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৭ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে প্লিডিংস বা আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে-
   (i) যদি সংশোধনটি পক্ষগণের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হয়।
   (ii) যদি সংশোধনটি অপর পক্ষের জন্য অবিচার না হয়।
৩৯২.
'দেওয়ানি আদালত মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ বা সাতদিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করবে'- উক্ত বিধান আদালতের জন্য-
  1. ঐচ্ছিক
  2. বাধ্যতামূলক
  3. ঐচ্ছিক তবে গুরুত্বপূর্ণ
  4. আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা
আদেশ ২০ বিধি ১-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালত তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে যা সাতদিনের বেশি হবে না, পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।

[The Court after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court either at once or on some future day, not beyond seven days of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.]

• উক্ত বিধিতে ''shall'' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যার দরুণ এই বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
৩৯৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৭৫ ধারা অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের আদেশ দেওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি 1908 সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারবে।
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
৩৯৪.
রাজস্ব আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির কোন অংশ প্রযোজ্য হবে না তা কীভাবে নির্ধারণ করে হয়?
  1. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে
  2. জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে 
  3. রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে
  4. সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫(১) ধারা অনুযায়ী, রাজস্ব আদালতের কার্যপ্রণালীর ক্ষেত্রে যদি কোনো বিশেষ আইনে কোনো বিষয় উল্লেখ না থাকে, তবে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানগুলো রাজস্ব আদালতে প্রযোজ্য হবে। তবে সরকার যদি মনে করে যে, এই বিধানগুলোর কিছু অংশ রাজস্ব আদালতে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয় বা কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, তাহলে সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে পারে।

→ অর্থাৎ রাজস্ব আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির কোন অংশ প্রযোজ্য হবে না তা সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নির্ধারণ করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ ধারার বিধান: রাজস্ব আদালতে এই আইনের প্রয়োগ:
১) রাজস্ব আদালতে প্রযোজ্য বিশেষ আইন কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে নীরব থাকার ফলে এই আইনের বিধানসমূহ রাজস্ব আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সরকার, সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা ঘোষণা করতে পারে যে, উক্ত বিধানসমূহের যে-সকল অংশ এই আইন দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রযোজ্য করা হয়নি, তা উক্ত আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংশোধনীসহ প্রযোজ্য হবে।
২) (১) উপধারায় “রাজস্ব আদালত” বলতে ঐ আদালত বুঝায়, কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমির খাজনা রাজস্ব বা লাভ সম্পর্কিত মোকদ্দমা অথবা অন্যান্য কার্যধারা গ্রহণ করতে কোন আইনের অধীনে এখতিয়ারভুক্ত আদালতকে বুঝায়। তবে এটা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কার্যধারার মত অনুরূপ মোকদ্দমা বা কার্যধারাসমূহ বিচার করতে এই আইনের অধীনে মূল এতিয়ারযুক্ত দেওয়ানি আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section-5. Application of the Code of Revenue Courts:
(1) Where any Revenue Courts are governed by the provisions of this Code in those matters of procedure upon which any special enactment applicable to them is silent, the Government may, by notification in the official Gazette, declare that any portions of those provisions which are not expressly made applicable by this Code shall not apply to those Courts, or shall only apply to them with such notifications as the Government may prescribe.

(2) "Revenue Court" in sub-section (1) means a Court having jurisdiction under any law to entertain suits or other proceedings relating to the rent, revenue or profits of land used for agricultural purposes, but does not include a Civil Court having original jurisdiction under this Code to try such suits or proceedings as being suits or proceedings of a civil nature.
৩৯৫.
The Code of Civil Procedure,1908 এর ৯৭ ধারার বিধান অনুযায়ী, প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে-
  1. প্রাথমিক ডিক্রি বাতিল হয়ে যাবে
  2. চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না
  3. প্রাথমিক ডিক্রির সঠিকতা নিয়ে চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে
  4. প্রাথমিক ডিক্রির সঠিকতা নিয়ে চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না
ব্যাখ্যা
Section-97. Appeal from final decree where no appeal from preliminary decree:
Where any party aggrieved by a preliminary decree passed after the commencement of this Code does not appeal from such decree, he shall be precluded from disputing its correctness in any appeal which may be preferred from the final decree.

এ ধারার সারমর্ম হচ্ছে-
প্রাথমিক ডিক্রি এবং চূড়ান্ত ডিক্রি উভয় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। তবে প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
৩৯৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ৭, বিধি ৬
  2. আদেশ ৭, বিধি ৯
  3. আদেশ ৮, বিধি ৬
  4. আদেশ ৯, বিধি ৬
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর আদেশ ৮, বিধি ৬-এ পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই বিধি অনুসারে, অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী বাদীর দাবীর বিরুদ্ধে নিজের পূর্বের নির্দিষ্ট পাওনা (Legal Set-off) দাবি করতে পারে, যাতে দায়শোধ সম্ভব হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা: ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6], খ) Equitable Set-off.

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

Equitable Set-off একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষা, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রযোজ্য:
⇒ যখন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবী-দাওয়া থাকে এবং উভয় দাবীই একই উত্স থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের দাবী একই চুক্তি, লেনদেন বা ঘটনার সাথে জড়িত।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী বাদীর দাবীর চেয়ে কম। কারণ যদি বিবাদীর দাবী বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে ক্রস-মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী নগদ টাকার নয়, বরং কোন অনিষ্পন্ন কাজের জন্য। যেমন - বাদী যদি বাকি বেতনের দাবী করে আর বিবাদী দাবী করে কিছু অসম্পূর্ণ কাজের জন্য।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী সুস্পষ্টভাবে অর্থগত মান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যেমন - ক্ষতিপূরণের চাহিদা ইত্যাদি।

৩৯৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারার বিধান কী?
  1. Power of Court to issue commissions.
  2. Suits by or against the Government.
  3. Commissions issued by foreign Courts.
  4. Letter of request.
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারার বিধান: বিদেশি আদালত কর্তৃক প্রেরিত কমিশন। নির্ধারিত হতে পারে এরূপ শর্তাবলি ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, সাক্ষীদের পরীক্ষার নিমিত্তে কমিশন নির্বাহ এবং ফেরত সম্পর্কীয় বিধান নিম্নবর্ণিত আদালত কর্তৃক বা তার অনুরোধে নিযুক্ত কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হবে-
ক) বাংলাদেশ বহির্ভূত স্থানে অবস্থিত এবং সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিংবা পরিচালিত আদালতসমূহ; বা
গ) বাংলাদেশ বহির্ভূত যে কোন রাজ্য বা দেশের কোন আদালত।
----------
- Section 78. Commissions issued by foreign Courts:

Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the provisions as to the execution and return of commissions for the examination of witnesses shall apply to commissions issued by or at the instance of- 
(a) Courts situate beyond the limits of Bangladesh and established or continued by the authority of Government, or 
(c) Courts of any State or country outside Bangladesh.
৩৯৮.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে কোন মামলা এ্যাবেট হবার কারণ উদ্ভব হয়?
  1. প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের মৃত্যু
  2. প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের দেশান্তর
  3. বিবাদী দেওলিয়াত্ব
  4. মোকদ্দমার মহিলা পক্ষের বিবাহের কারণে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ নং আদেশের, বিধি-৮ মতে যখন বাদীর দেউলিয়াত্ব/অস্বচ্ছলতা মোকদ্দমায় বাধা হয় (When plaintiff's insolvency bars suit):
কোন বাদীর অস্বচ্ছলতা মোকদ্দমা বাতিল করবে না, যদি বাদীর স্বত্বনিয়োগী (assignee) বা রিসিভার (receiver) তার পাওনাদারদের উপকারার্থে মোকদ্দমা চালাতে থাকে।
স্বত্বনিয়োগী বা রিসিভার মোকদ্দমা চালু রাখতে বা জামানত দিতে ব্যর্থ হলে, তখন বিবাদী বাদীর অস্বচ্ছলতার অজুহাতে মোকদ্দমা খারিজ করার জন্য আবেদন করতে পারে ।
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ নং আদেশের ৮ নং বিধিতে বলা হয়েছে বাদীর দেওলিয়াত্ব মামলাটি বাতিল হবে না এবং এই ক্ষেত্রে বাদীর স্বত্বনিয়োগী বা রিসিভার মামলাটি চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এই নিয়মটি প্রতিদ্বন্দ্বিপক্ষের (বিবাদীর) দেওলিয়াত্ত্বর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ বিবাদী যদি দেওলিয়া হয়ে যায়, তাহলে মামলা এ্যাবেট হতে পারে।
৩৯৯.
নিচের কোন ক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেনা?
  1. To examine any person
  2. To arrest any person
  3. To make a partition
  4. To make a local investigation
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাঃ ৭৫ এর বিধান কমিশন প্রেরণের জন্য আদালতের ক্ষমতা:  
নির্ধারিত শর্তাবলী ও সীমা সাপেক্ষে আদালত নিম্নলিখিত  উদ্দেশ্যে কমিশন ইস্যু করতে পারবেন-
ক) কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে;
খ) স্থানীয় তদন্ত পরিচালনার জন্য;
গ) হিসাব পরীক্ষা বা সমন্বয় করার জন্য;
ঘ) সম্পত্তি বাটোয়ারা করার জন্য।

-অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে (To arrest any person) দেওয়ানী আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেনা। 
--------------------------------
⇒  Section-75: Power of Court to issue commissions. Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission-
(a) to examine any person;
(b) to make a local investigation;
(c) to examine or adjust accounts;
(d) to make a partition.
৪০০.
দেওয়ানি আদালতের মামলা বিচার করার এখতিয়ার (jurisdiction) না থাকলে, উক্ত আদালত মামলার ব্যয় নির্ধারণের ক্ষমতা-
  1. প্রয়োগ করতে পারে
  2. প্রয়োগ করতে পারে না
  3. কেবল পক্ষদ্বয়ের আবেদনে প্রয়োগ করতে পারে
  4. কেবল হাইকোর্টের নির্দেশে প্রয়োগ করতে পারে
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৫- Costs (খরচের বিধান):
(১) যে নিয়ম বা সীমাবদ্ধতা বিধিবদ্ধ আছে, এবং বর্তমানে কার্যকর যে কোনো আইনের বিধানের অধীনে সব ধরনের মামলা এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ব্যয় (costs) আদালতের বিবেচনাধীন থাকবে।
আদালত সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাখে- কার দ্বারা ব্যয় প্রদান করতে হবে, কোন সম্পত্তি থেকে ব্যয় আদায় করা হবে, এবং কোন মাত্রায় তা প্রদান করতে হবে- এসব নির্ধারণ করার জন্য, এবং এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেওয়ার জন্য।

আদালতের মামলাটি বিচার করার এখতিয়ার না থাকলেও, ব্যয় নির্ধারণের এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে আদালত বাধাগ্রস্ত হবে না।

(২) যদি আদালত নির্দেশ দেয় যে ব্যয় মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে না (costs shall not follow the event),
তাহলে আদালতকে অবশ্যই লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করতে হবে।

(৩) আদালত চাইলে ব্যয়ের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ হারে সুদ প্রদান করতে নির্দেশ দিতে পারে এবং এই সুদ ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ব্যয় হিসেবে আদায়যোগ্য হবে।