বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা ২৯ / ৩০ · ২,৮০১২,৯০০ / ২,৯৯৩

২,৮০১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৬ আদেশের বিধি-৪(৩) অনুসারে, কমিশন জারি করার সময় আদালত কোন দিকনির্দেশনা দেয়?
  1. কমিশন প্রক্রিয়া কতদিন চলবে
  2. কমিশন কার নিকট ফেরত পাঠানো হবে
  3. কমিশনের জন্য কত টাকা ফি দিতে হবে
  4. কমিশন রিপোর্ট কতটুকু তৈরি করতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ৪(৩) স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে:
"The Court on issuing any commission under this rule shall direct whether the commission shall be returned to itself or to any subordinate Court."

অর্থাৎ, কমিশন জারি করার সময় আদালত এই দিকনির্দেশনা দেয় যে কমিশনটি কার নিকট ফেরত পাঠানো হবে - সরাসরি আদালতের নিজের নিকট নাকি কোনো অধস্তন আদালতের নিকট।

- এটি একটি procedural নির্দেশনা যা কমিশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রিপোর্ট জমা দেওয়ার স্থান নির্ধারণ করে। অন্যান্য অপশন গুলো যেমন কমিশনের সময়সীমা, ফি বা রিপোর্টের পরিমাণ এই বিধিতে উল্লেখিত নয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-26 Rule-4. Persons for whose examination commission may issue:
(1) Any Court may in any suit issue a commission for the examination of
(a) any person resident beyond the local limits of its jurisdiction;
(b) any person who is about to leave such limits before the date on which he is required to be examined in Court; and
(c) any person in the service of the [Republic] who cannot, in the opinion of the Court, attend without detriment to the public service. 
(2) Such commission may be issued to any Court, not being the High Court Division, within the local limits of whose jurisdiction such person resides, or to any pleader or other person whom the Court issuing the commission may appoint.
(3) The Court on issuing any commission under this rule shall direct whether the commission shall be returned to itself or to any subordinate Court.

২,৮০২.
আপীল যোগ্য আদেশের তালিকা দেওয়ানী কার্যবিধির কোন আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৪১
  2. ৪৩
  3. ৪৬
  4. ৪৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এবং ধারা ১০৪ অনুযায়ী আদেশের বিরুদ্ধে আপীল:
⇒ আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) রয়েছে।

- সাধারণত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না। তবে, যদি আদেশটি আপীলযোগ্য আদেশ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যেতে পারে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এবং ধারা ১০৪-এ আপীলযোগ্য আদেশের তালিকা প্রদান করা হয়েছে।
- এই বিধানগুলো নির্ধারণ করে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করার সুযোগ রয়েছে।
- আদেশ ৪৩-এ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপীল যোগ্য আদেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ২৫টি আপীল যোগ্য আদেশের কথা উল্লেখ আছে।
- ধারা ১০৪-এ কিছু নির্দিষ্ট আদেশ উল্লেখ করা হয়েছে যা আপীলযোগ্য।
- যে আদেশগুলো আপীল যোগ্য নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রিভিশন বা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করা যায়।
- আপীলযোগ্য আদেশগুলো আইনত নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী হতে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
২,৮০৩.
দেওয়ানি মামলায় কোন পক্ষের অনুরোধে ৩ বারের অধিক সময়ের জন্য আপিল শুনানি মুলতুবির আবেদন করা হলে, আদালত অনধিক কত টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিবেন?
  1. ২০০
  2. ১০০০
  3. ৩০০০
  4. ২০০০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-১২ক অনুযায়ী আপিল মুলতুবি: আপিলের ক্ষেত্রে কোন পক্ষের অনুরোধে আপিল আদালত ৩ বারের অধিক সময় মঞ্জুর করবেন না । ৩ বারের বেশি মুলতবি করলে আদালত নূন্যতম ২০০ টাকা ও অনধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিবেন।
   - আপিলকারী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- আপিল খারিজ হবে।
   - প্রতিবাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- একতরফা নিষ্পত্তি হবে।
- একতরফাভাবে কোন আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি করা হলে তা শুনানির জন্য পুনরুজ্জীবিত করতে হলে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং নূন্যতম ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে। তবে খরচ সহ কয়টি মুলতুবি মঞ্জুর করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
-কোন পক্ষ আপিল পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ একবারই পাবেন।
- কোন কারণ লিপিবদ্ধ না করে আপিল আদালত নিজ উদ্যোগে কোন আপিল শুনানির স্তরে মুলতুবির আদেশ দিবেন থা
- অর্থাৎ যে পক্ষের খরচ প্রদানের ব্যর্থতায় আপীল খারিজ হয়েছে বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পক্ষ উক্ত আপীল পুনরুজীবিত করার আবেদন করতে পারে খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে। আদালত সর্বনিম্ন ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদানের শর্তে প্রত্যেক পক্ষে সর্বোচ্চ একবার এরকম আবেদন মঞ্জুর করে থাকেন।
--------------------
⇒ CPC Order-41 Rule-12A .Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.

(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or  disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.

(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.
২,৮০৪.
রায় ঘোষনাকারী বিচারক ডিক্রি স্বাক্ষর না করে অফিস পরিত্যাগ করলে,সেক্ষেত্রে তৈরীকৃত ডিক্রি কে স্বাক্ষর করতে পারেন?
  1. পরবর্তী বিচারক
  2. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবী
  3. আদালতের প্রধান কেরানী
  4. সরকার দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত আইনজীবী
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এর ৮নং বিধি অনুযায়ী- যেক্ষেত্রে রায় ঘোষণা করার পর কিন্তু ডিক্রি স্বাক্ষর না করে কোন বিচারক অফিস পরিত্যাগ করেছেন, সেক্ষেত্রে এরূপ রায় অনুযায়ী তৈরীকৃত ডিক্রি তার পরবর্তী বিচারক স্বাক্ষর করতে পারেন।
উক্ত আদালত যদি অস্তিত্ববিহীন হয়, সেক্ষেত্রে ঐ আদালত যে আদালতের অধঃস্তন ছিল ঐ আদালতের বিচারক কর্তৃক তা স্বাক্ষরিত হতে পারে।

[Where a Judge has vacated office after pronouncing judgment but without signing the decree, a decree drawn up in accordance with such judgment may be signed by his successor or if the Court has ceased to exist, by the Judge of any Court to which such Court was subordinate.]
২,৮০৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান কী?
  1. Liability of ancestral property
  2. Arrest and detention
  3. Release on ground of illness
  4. Powers of Court to enforce execution
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হইলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে। 
দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান অসুস্থতার দরুন মুক্তি (Release on ground of illness):
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।
৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।
-------------
⇒CPC Section 59. Release on ground of illness.
(1) At any time after a warrant for the arrest of a judgment-debtor has been issued the Court may cancel it on the ground of his serious illness. 
(2) Where a judgment-debtor has been arrested, the Court may release him if, in its opinion, he is not in a fit state of health to be detained in the civil prison. 
(3) Where a judgment-debtor has been committed to the civil prison, he may be released therefrom- 
(a) by the Government, on the ground of the existence of any infectious or contagious disease, or 
(b) by the committing Court, or any Court to which that Court is subordinate, on the ground of his suffering from any serious illness. 
 
(4) A judgment-debtor released under this section may be re-arrested, but the period of his detention in the civil prison shall not in the aggregate exceed that prescribed by section 58.
২,৮০৬.
নিম্নোক্ত কোন আদালতের আদি এখতিয়ার নেই?
  1. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
  4. সকল আদালতের আছে
ব্যাখ্যা
• অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের আদি এখতিয়ার নেই।

• মূল বা আদি এখতিয়ার (Original Jurisdiction)-
আদি এখতিয়ার বলতে প্রাথমিকভাবে মোকদ্দমা আমলে নেয়া বিচার করাকে বোঝায়; অর্থাৎ যেখানে সরাসরি মূল মোকদ্দমা দায়ের করা যায়। অন্যভাবে বলা যায়, যে সকল আদালত প্রাথমিকভাবে কোন দেওয়ানী মোকদ্দমা আমলে নিয়ে বিচার করতে এবং রায় প্রদান করতে পারেন, সেই সকল আদালতের মূল (আদি) এখতিয়ার আছে। তবে সকল অধঃস্তন দেওয়ানী আদালতের আদি এখতিয়ার নেই।

• দেওয়ানি কার্যবিধি এবং Civil Courts Act অনুযায়ী প্রকার দেওয়ানি আদালতের মধ্যে ৩ প্রকার আদালতের আদি এখতিয়ার রয়েছে এবং বাকী ২ প্রকার আদালতের আদি এখতিয়ার নেই ।

নিম্নোক্ত আদালতসমূহের আদি এখতিয়ার রয়েছে-
⇒ সহকারী জজ আদালত,
⇒ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং
⇒ যুগ্ম জেলা জজ আদালত

২ প্রকার আদালতের আদি এখতিয়ার নেই-
⇒ জেলা জজ আদালত এবং
⇒ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত

তবে কিছু ক্ষেত্রে জেলা জজের আদি এখতিয়ার রয়েছে। যেমন- বিশেষ আইন অনুযায়ী দেউলিয়া আদালত, অভিভাবক, প্রবেট এবং এডমিনিষ্ট্রেশন, ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত মামলায় জেলা জজের আদি এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত জেলা জজের কোনো আইনেই আদি এখতিয়ার নেই।
২,৮০৭.
আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৬ ধারায়
  2. ৭ ধারায়
  3. ৯ ধারায়
  4. ৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৬  ধারার বিধান- আর্থিক এখতিয়ার:
- অন্যত্র সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত না থাকলে এই কোর্ডের বিধান কোন আদালতকে তার সাধারণ এখতিয়ারের আর্থিক সীমানার (যদি থাকে) অধিক মূল্য সম্পন্ন বিষয়বস্তুর মামলা বিচার করার এখতিয়ার প্রদান করবে না।
• The Civil Courts (Amendment) Act-2021 অনুসারে
•সসহকারী জজের আদালতে ১ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা,
•সিনিয়র সহকারী জজের আদালতে ১৫ লক্ষ ১ টাকা  থেকে ২৫ লক্ষ টাকা,
•যুগ্ম জেলা জজের আদালতে ২৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে সীমাহীন মূল্যের বিচার করতে পারবে।

• তবে যুগ্ম জেলা জজ এর ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ এর নিকট আপীল করা যাবে যদি মূল্যমান ৫ কোটির অধিক না হয়।
• যদি ৫ কোটি টাকার অধিক হয় তাহলে হাইকোর্টে আপীল করতে হবে।
----------------
The Code of Civil Procedure, 1908 Section-6. Pecuniary Jurisdiction:
- Save in so far as is otherwise expressly provided, nothing herein contained shall operate to give any Court jurisdiction over suits the amount or value of the subject-matter of which exceeds the pecuniary limits (if any) of its ordinary jurisdiction.
২,৮০৮.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী তথ্য উদঘাটন বা আবিষ্কার কয় ভাবে হতে পারে?
  1. ৪ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ২ ভাবে
  4. ৫ ভাবে
ব্যাখ্যা
• Discovery বলতে মোকদ্দমার পক্ষগণের দখলে থাকা তথ্যকে প্রকাশে করা বোঝায়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশে উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার ও পরিদর্শন (Discovery and Inspection) বিষয়ে আলোচনা  করা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে। যথা-

১- প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং
২- দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

• প্রশ্নমালার সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories)-

দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে।
বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়।আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবেনা। ১১ নং আদেশের ২ নং বিধিমতে প্রশ্নমালা প্রদানের অনুমতির সিদ্ধান্ত আদালত ১৪ দিনের মধ্যে প্রদান করবেন।

• দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)-

১১ নং আদেশের ১২ নং বিধিতে দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents) এর আবেদন করার বিধান রয়েছে। মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সাথে কোন দলিল প্রাসঙ্গিক হলে মোকদ্দমার কোন পক্ষ উক্ত দলিল দাখিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবে।
এই আদেশের ১৪ নং বিধি অনুযায়ী আদালত মামলা চলাকালে যে কোন সময় মামলার কোন . পক্ষকে মামলার বিষয় সম্পর্কিত কোন দলিল আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে।
২,৮০৯.
রিসিভার নিয়োগ, তার অধিকার এবং কর্তব্য কোন আইনের বিধান অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে?
  1. The Specific Relief Act, 1877
  2. The Code of Civil Procedure, 1908
  3. The Code of Criminal Procedure, 1898
  4. Penal Code, 1860
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর 44 ধারা বিধান তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলকঃ—প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।

♦দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়-দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
২,৮১০.
সাংবিধানিক আইনের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যদি সরকার সম্পর্কিত হয় তাহলে কাকে নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত আদালত প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করবে না?
  1. সরকার পক্ষের আইনজীবিকে
  2. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
  3. রাষ্ট্রপতিকে
  4. এটর্নি জেনারেলকে
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908, এর আদেশ-২৭ক বিধি-১ অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ (Notice to the Attorney General) : কোন মোকদ্দমায় যদি সাংবিধানিক আইনের ব্যাখ্যা সম্বন্ধে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত থাকে, তবে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত আদালত প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করবেন না।
২,৮১১.
দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার কোন আইন অনুসারে নির্ধারিত হয়?
  1. The Court Fees act,1870
  2. The Suit Valuation Act,1887
  3. The Civil Courts Act,1887
  4. The Code of Civil Procedure, 1908
ব্যাখ্যা
• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হবে,সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছেন এবং আর্থিক এখতিয়ার The Civil Courts Act,1887 অনুসারে নির্ধারিত হয়।

• The Civil Courts Act,1887 এর ২০২১ সালের সংশোধনী অনুসারে, দেওয়ানি আদালতে আর্থিক এখতিয়ার-
সহকারী জজ আদালত (The Court of Assistant Judge) = ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (The Court of Senior Assistant Judge) = ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
যুগ্ম জেলা জজের আদালত (The Court of Joint District Judge) = ২৫ লক্ষ টাকার উপরে
২,৮১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ৮ অনুসারে, প্রশ্নাবলীর (Interrogatories) জবাব কত দিনের মধ্যে হলফনামার মাধ্যমে দাখিল করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ৮ (Order XI Rule 8) অনুসারে, প্রশ্নাবলী (Interrogatories) পাওয়ার পর উত্তরদাতাকে ১০ দিনের মধ্যে হলফনামার (affidavit) মাধ্যমে এর জবাব দাখিল করতে হবে। এই সময়সীমা প্রশ্নাবলী প্রাপ্তির তারিখ থেকে গণনা করা হয়।
-------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule-8.Affidavit in answer, filing: 
Interrogatories shall be answered by affidavit to be filed within ten days. 

২,৮১৩.
'ক'-তার প্রতিনিধি 'খ'-এর নিকট এক বাক্স সোনার গহনা জমা রাখে। 'গ'- অভিযোগ করে যে, 'ক'-তার নিকট থেকে অন্যায়ভাবে সোনার গহনাগুলো লাভ করেছে এবং 'খ'-এর নিকট থেকে তা দাবী করে। এক্ষেত্রে, 'খ' কার বিরুদ্ধে স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারবে?
  1. শুধু 'গ' এর বিরুদ্ধে
  2. শুধু 'ক' এর বিরুদ্ধে
  3. 'ক' এবং 'গ' উভয়ের বিরুদ্ধে
  4. 'ক' বা 'গ' কারো বিরুদ্ধে নয়
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৫ বিধি-৫: প্রতিনিধি বা প্রজাগণ স্বার্থ বিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারে না:
এই আদেশের কোন বিধানই প্রতিনিধিগণকে তাদের প্রধান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে কিংবা প্রজাগণকে তাদের ভূস্বামীর বিরুদ্ধে উক্ত প্রধান ব্যক্তি বা ভূ-স্বামীগণের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কারো সাথে স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সমর্থ করতে বিবেচিত হবে না।

উদাহরণ:
ক) 'ক'-তার প্রতিনিধি 'খ'-এর নিকট এক বাক্স সোনার গহনা জমা রাখে। 'গ'- অভিযোগ করে যে, 'ক'-তার নিকট থেকে অন্যায়ভাবে সোনার গহনাগুলো লাভ করেছে এবং 'খ'-এর নিকট থেকে তা দাবী করে। 'খ', 'ক' এবং 'গ'-এর বিরুদ্ধে স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারে না।
২,৮১৪.
আদেশ ৪১ বিধি ৩০(২) অনুযায়ী, শুনানির সময় উভয় পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে আদালত কী করতে পারে?
  1. আপিল খারিজ করবে
  2. মামলাটি ফেরত পাঠাবে
  3. নতুন করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে
  4. নথিপত্র যথেষ্ট হলে রায় ঘোষণা করতে পারে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪১ বিধি ৩০: রায় কবে এবং কোথায় ঘোষণা করা হবে:
(১) আপিল আদালত- পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর, এবং আপিলে থাকা নথি বা মূল আদালতের নথির যে কোনো অংশ প্রয়োজন মনে করলে তা বিবেচনা করে ওপেন কোর্টে (সবার সামনে) রায় ঘোষণা করবে। রায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে, অথবা পরবর্তী নির্দিষ্ট কোনো তারিখে দেওয়া হতে পারে—এ ক্ষেত্রে পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদের আগেই সেই তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।

(২) উপ-বিধি (১)-এ যাই বলা থাকুক না কেন- যদি উভয় পক্ষ বা তাদের কোনো আইনজীবীই আপিল শুনানির সময় উপস্থিত না থাকে, তাহলে আপিল আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে যদি মনে করে যে আপিল নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যথেষ্ট আছে, তাহলে ওপেন কোর্টে তাৎক্ষণিকভাবে, অথবা আদালত নির্ধারিত কোনো পরবর্তী তারিখে, কারণ লিপিবদ্ধ করে, রায় ঘোষণা করতে পারবে।

২,৮১৫.
মধ্যস্থতাকারীর তালিকা কে প্রণয়ন করিবেন?
  1. জেলা জজ
  2. দায়রা জজ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. জেলা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি
ব্যাখ্যা
⇒ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত জজ, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশিক্ষিত বলে জানা কোন ব্যক্তি এবং প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত এইরূপ ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যারা উক্ত উদ্দেশ্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত তাদের সমন্বয়ে জেলা জজ মধ্যস্থতাকারীগণের একটি তালিকা তৈরী করবেন (সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করতে হবে) এবং তার প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে তালিকার বিষয়ে তিনি অবহিত করবেন।
⇒ মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা-
i) জেলা জজ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্যানেল সদস্য; বা
ii) অবসরপ্রাপ্ত জজ; অথবা
iii) সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমার পক্ষগণ নিযুক্ত উকিল ব্যতীত অন্য যে কোন উকিল মধ্যস্থতাকারী হতে পারবেন।

⇒ তবে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে (Office of Profit) নিযুক্ত কোন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে না।
২,৮১৬.
যদি বাদী অনুপস্থিত থাকে এবং মামলাটি আদেশ ৯, বিধি ৮ অনুসারে খারিজ হয়ে যায়, তবে বাদী খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য কোন বিধির অধীনে আবেদন করতে পারে?
  1. আদেশ-৯, বিধি-৯
  2. আদেশ-৯, বিধি-১০
  3. আদেশ-৯, বিধি-১১
  4. আদেশ-৯, বিধি-১২
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯, বিধি ৮ অনুসারে, যদি বাদী শুনানির দিনে অনুপস্থিত থাকে এবং আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়, তাহলে বাদী নিম্নলিখিত প্রতিকার নিতে পারে—
→ বিধি ৯ অনুসারে প্রতিকার:
- বাদী আদেশ ৯, বিধি ৯-এর অধীনে মামলা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন করতে পারে।
- বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে তার অনুপস্থিতির যথেষ্ট কারণ ছিল, যা আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করলে মামলাটি পুনরায় চালু করতে পারে।
- এই বিধির অধীনে আবেদন করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত আছে, যা সাধারণত ৩০ দিন।

এছাড়াও, 
বিধি ৯(ক)-এর অধীনে বাদী সরাসরি মামলা খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারে।
- একবার মামলা খারিজ হয়ে গেলে বাদী একই কারণে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারে না, তবে বিধি ৯ বা ৯(ক) অনুসারে পুনরুজ্জীবনের জন্য আবেদন করতে পারে।

- সুতরাং, বাদী মামলাটি পুনরায় চালু করতে চাইলে, তাকে আদেশ ৯, বিধি ৯-এর অধীনে আদালতে আবেদন করতে হবে।
২,৮১৭.
স্থানীয় তদন্ত বা পরিদর্শনে কোন কাজটি করা যায় না?
  1. বিরোধীয় বিষয় ব্যাখ্যা করা
  2. সম্পত্তির দখলকার নির্ধারণ
  3. সম্পত্তির বাজার দর নিরূপণ
  4. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
♦ধারা-৭৫(খ)+আদেশ-২৬,বিধি-৯: স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন নিয়োগ (local investigation)- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ নং আদেশের ৯ নং বিধিমতে আদালত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন নিয়োগ করতে পারে। যথা-
i) মামলার বিরোধীয় বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য; অথবা
ii) কোন সম্পত্তির বাজার দর, অন্তবর্তীকালীন মুনাফা, ক্ষতিপূরণের টাকা, বাৎসরিক প্রকৃত মুনাফা নির্ণয় করতে স্থানীয় তদন্তের জন্য আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে ।
♦অনধিক ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
♦অর্থাৎ সম্পত্তির দখলকার নির্ধারণ স্থানীয় তদন্ত কমিশনের কাজ না।
২,৮১৮.
বিবাদী একাধিক হলে, সমন কিভাবে জারি করা হয়?
  1. প্রত্যেক বিবাদীর উপর
  2. যেকোনো একজনের উপর
  3. ক বা খ
  4. বাদীর ইচ্ছানুযায়ী
ব্যাখ্যা

বিবাদী একাধিক হলে, সমন প্রত্যেক বিবাদীর উপর জারি করা হয়।

• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মোকদ্দমায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে।
সমনের উদ্দেশ্য- সমন জারি করা হয় বিবাদীকে মোকদ্দমার বিষয়টি অবহিত করে আদালতে বিবাদীর হাজিরা নিশ্চিত করা এবং মোকদম্মা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য পেশের সুযোগ দেয়া।

মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ(৫) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। মোকদ্দমায় এক বা একাধিক বিবাদী থাকতে পারে। যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে সেক্ষেত্রে সমন আদেশ ৫ এর বিধি ১১ নং অনুসারে জারি করতে হবে।
 
• বিধি ১১-
অনুরূপ নির্দেশ যদি না থাকে তবে ক্ষেত্রে বিবাদির সংখ্যা বহুসংখ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদিগণের প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।
[Save as otherwise prescribed, where there are more defendants than one, service of the summons shall be made on each defendant.]

২,৮১৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় 'Simultaneous execution' এর বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-২১ বিধি-২২
  2. আদেশ-২১ বিধি-২১
  3. আদেশ-২১ বিধি-২৮
  4. আদেশ-২১ বিধি-১৮
ব্যাখ্যা
⇒ Order-21 Rule-21. Simultaneous execution: The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgmentdebtor. 
---------
⇒ আদেশ-২১ বিধি-২১ এর বিধান যুগপৎ জারি:- আদালত উহার ঐচ্ছিক ক্ষমতায় একই সঙ্গে দায়িকের ব্যক্তি ও সম্পত্তির উপর ডিক্রি জারি করতে অস্বীকার করতে পারে।
২,৮২০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নোটিশ প্রদানের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু কোন ক্ষেত্রে নোটিশ দিতে হয়? 
  1. দেনাদারের সম্মতি থাকলে
  2. ডিক্রি জারির আবেদন প্রথম দিনেই করলে
  3. ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর আবেদন করলে
  4. ডিক্রির তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে আবেদন করলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২২ অনুযায়ী, সাধারণত ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি ডিক্রি জারির জন্য আবেদন ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর করা হয়, তখন দেনাদারকে বাধ্যতামূলকভাবে নোটিশ দিতে হয়।
- এর কারণ হলো, দীর্ঘ সময় পরে ডিক্রি জারির আবেদন করলে দেনাদারের পক্ষ থেকে তর্ক বা প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকা উচিত, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই ২ বছরের সীমার বাইরে আবেদন করলে নোটিশ দিয়ে দেনাদারকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হয়।
- অন্য কোনো পরিস্থিতিতে, যেমন ডিক্রি জারি প্রাথমিক পর্যায়ে বা দেনাদারের সম্মতি থাকলে নোটিশ বাধ্যতামূলক নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-২২ তে ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান রয়েছে- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথ‍া:
- ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়। 
- পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে। তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
- এছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করলে নোটিশ দিতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।
--------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-22. Notice to show cause against execution in certain cases:
(1) Where an application for execution is made-
(a) more than two years after the date of the decree, or
(b) against the legal representative of a party to the decree,
or where an application is made for execution of a decree filed under the provisions of section 44A, the Court executing the decree shall issue a notice to the person against whom execution is applied for, requiring him to show cause, on a date to be fixed, why the decree should not be executed against him:
Provided that no such notice shall be necessary in consequence of more than two years having elapsed between the date of the decree and the application for execution if the application is made within two years from the date of the last order against the party against whom execution is applied for, made on any previous application for execution, or in consequence of the application being made against the legal representative of the judgment-debtor, if upon a previous application for execution against the same person the Court has ordered execution to issue against him.
২,৮২১.
রায়ের পূর্বে ক্রোকের আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করলে সংক্ষুদ্ধ বাদীর প্রতিকার হতে পারে-
  1. আপীল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. কোন প্রতিকার নাই
ব্যাখ্যা
⇒ রায়ের পূর্বে ক্রোক আদেশ হলো আপীলযোগ্য আদেশ, তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে।
কিন্তু কোন আদালত যদি রায়ের পূর্বে ক্রোকের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তখন এটি আপীলযোগ্য আদেশ না। 

- যেহেতু রায়ের পূর্বে ক্রোকের আবেদন প্রত্যাখ্যান আপীলযোগ্য না তাই এই ক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করতে হবে।
২,৮২২.
সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যার্পণ বিষয়ে কোন আদেশ হলে সেটি হবে একটি-
  1. রায়
  2. ডিক্রি
  3. আদেশ
  4. রিভিউ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারার বিধান: ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে,

তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

♦ব্যাখ্যাঃ ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে; মোকদ্দমা যখন চূড়ান্তরূপে নিষ্পত্তি হয়, তখনই ডিক্রি চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কোন ডিক্রি আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে।

♦অর্থাৎ সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যার্পণ বিষয়ে কোন আদেশ হলে সেটি হবে একটি  ডিক্রি।
২,৮২৩.
আদেশ-৬ বিধি-১৬ অনুযায়ী আদালতে প্লিডিংস কেটে দেওয়া বা সংশোধন করা হয় কোন ক্ষমতাবলে?
  1. সরকারি আদেশবলে
  2. সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে
  3. আইন কমিশনের সুপারিশক্রমে
  4. আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৬ অনুযায়ী, আদালত যদি মনে করে যে: কোনো প্লিডিংসে (যেমন: বাদীর আরজি বা বিবাদীর জবাব)
- অপ্রয়োজনীয় বিষয় রয়েছে, অথবা
- কুৎসাজনক (scandalous) বক্তব্য রয়েছে, অথবা
- যা সুষ্ঠু বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত করতে পারে—
তাহলে আদালত তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেই প্লিডিংস কেটে দেওয়ার (strike out) বা সংশোধন (amend) করার আদেশ দিতে পারে।

→ এটি আদালতের বিচারিক স্বার্থে দেওয়া একধরনের discretionary power, যা মামলার মেরিট ঠিক রাখতে এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।


→ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৬, বিধি ১৬ ইংরেজিতে বলা হয়েছে:
- "The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter..."
→ এখানে "may" শব্দটি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বোঝায়।

২,৮২৪.
No _______ shall lie from any order passed in appeal under Section 104(2) of The Code of Civil Procedure, 1908.
  1. appeal
  2. review
  3. revision
  4. reference
ব্যাখ্যা
ধারা ১০৪: কোন আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে:

(১) নিম্নলিখিত আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে, এবং যদি এই কোডের মূল অংশে বা বর্তমানে কার্যকর কোনো আইনে অন্যথায় স্পষ্টভাবে প্রদান না করা হয়, তবে অন্য কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না:
(চচ) ধারা ৩৫ক এর অধীনে একটি আদেশ;
(ছ) ধারা ৯৫ এর অধীনে একটি আদেশ;
(জ) এই কোডের কোনো ধারা অনুযায়ী একটি আদেশ যা কোনো ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান বা দেওয়ানি কারাগারে আটক বা আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে এমন আটক বা আটককরণ যদি কোনো ডিক্রির কার্যকরীকরণের জন্য না হয়;
(ঝ) নিয়মের অধীনে করা কোনো আদেশ যা থেকে নিয়ম অনুযায়ী আপিল স্পষ্টভাবে অনুমোদিত হয়:
তবে শর্ত থাকে যে ধারা (চচ) এ উল্লিখিত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদি না এই ভিত্তিতে যে কোনো আদেশ, বা কম পরিমাণ প্রদানের জন্য আদেশ করা উচিত ছিল না।

(২) এই ধারার অধীনে আপিলে দেয়া কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না।

Section-104: Orders from which appeal lies-
(1) An appeal shall lie from the following orders, and save as otherwise expressly provided in the body of this Code or by any law for the time being in force, from no other orders:
(ff) an order under section 35A;
(g) an order under section 95;
(h) an order under any of the provisions of this Code imposing a fine or directing the arrest or detention in the civil prison of any person except where such arrest or detention is in execution of a decree;
(i) any order made under rules from which an appeal is expressly allowed by rules:
Provided that no appeal shall lie against any order specified in clause (ff) save on the ground that no order, or an order for the payment of a less amount, ought to have been made.

(2) No appeal shall lie from any order passed in appeal under this section.
২,৮২৫.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় একটি ডিক্রি বা আদেশ নিচের কোন ক্ষেত্রে সংশোধনের আদেশ দেয়া যায়?
  1. করণিক ভুল থাকলে
  2. গাণিতিক ভুল থাকলে
  3. আকস্মিক কোন বিচ্যুতি থাকলে
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়, ডিক্রি, আদেশ সংশোধন (Amendment of judgement, decree & order) করার বিধান রয়েছে।
এই ধারামতে, আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে-
- করণিক বা গাণিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes),
- আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির (accidental slip or omission) কারণে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করতে পারেন।
---------
⇒ CPC Section: 152. Amendment of judgments, decrees or orders:
-Clerical or arithmetical mistakes in judgments, decrees or orders or errors arising therein from any accidental slip or omission may at any time be corrected by the Court either of its own motion or on the application of any of the parties.
২,৮২৬.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় আদালত কোন ক্ষেত্রে ৩য় ব্যক্তিকে (মোকদ্দমার পক্ষ নয়) সমন দিতে পারেন?
  1. সাক্ষ্য দিতে
  2. দলিল দাখিল করতে
  3. ক,খ উভয় ক্ষেত্রে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১৬ এ সাক্ষীর প্রতি সমন এবং হাজিরা সম্পর্কিত বিধি-বিধান রয়েছে।এই আদেশের বিধি-১৪ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমায় আগন্তুককে(৩য় ব্যক্তিকে) ঐচ্ছিক ক্ষমতায় সাক্ষী হিসাবে সমন দিতে পারে।বলা আছে-

হাজিরা এবং উপস্থিতি সম্পর্কে উক্ত আইনের বিধানাবলী এবং বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে,যেক্ষেত্রে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এরূপ কোন ব্যক্তিকে এবং মোকদ্দমার পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসাবেও ডাকা হয়নি,এরূপ কোন ব্যক্তিকে জবানবন্দি করিতে প্রয়োজন বোধ সেক্ষেত্রে আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত কোন তারিখে সাক্ষ্য দানের নিমিত্ত বা তার হস্তগত কোন দলিল দাখিল করতে সাক্ষী হিসাবে ঐ ব্যক্তিকে সমন করাতে পারবে এবং তাকে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবে বা অনুরূপ দলিল দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারবে। 

[Court may of its own accord summon as witnesses strangers to suit-
Subject to the provisions of this Code as to attendance and appearance and to any law for the time being in force, whether the Court at any time thinks it necessary to examine any person other than a party to the suit and not called as a witness by a party to the suit, the Court may, of its own motion, cause such person to be summoned as a witness to give evidence, or to produce any document in his possession, on a day to be appointed, and may examine him as a witness or require him to produce such document]

• অর্থাৎ আদালত উল্লেখিত ক্ষেত্রে ৩য় ব্যক্তিকে সমন দিতে পারে-
১- সাক্ষ্য গ্রহণ
২- দলিল দাখিল।
২,৮২৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩, বিধি-৪ অনুযায়ী আইনজীবী (Pleader) নিযুক্ত করার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. মৌখিক অনুমতি
  2. লিখিত নিযুক্তিপত্র
  3. শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি
  4. কোনো ফরমালিটি নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩, বিধি-৪(১) অনুযায়ী, কোনো আইনজীবী (Pleader) আদালতে কারো পক্ষে কাজ করার জন্য লিখিত নিযুক্তিপত্র (Written Document of Appointment) আবশ্যক।
আইনজীবীর (Pleader) নিয়োগ: 
→ কোনো আইনজীবী আদালতে কারো পক্ষে কাজ করতে পারবেন না, যদি না তিনি লিখিতভাবে নিযুক্ত হন। এই নিযুক্তি হতে হবে— সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত দলিলের মাধ্যমে, অথবা স্বীকৃত এজেন্ট কর্তৃক, অথবা পাওয়ার-অফ-অ্যাটর্নির মাধ্যমে অনুমোদিত অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক।

দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, আদালতে কোনো আইনজীবী (pleader) তখনই কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন, যদি তাকে লিখিতভাবে নিযুক্ত করা হয়।
এই নিযুক্তিপত্র হতে হবে—
- মক্কেল স্বাক্ষরিত লিখিত দলিল, অথবা
- স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে অনুমোদিত নিযুক্তিপত্র, অথবা
- পাওয়ার-অফ-অ্যাটর্নির মাধ্যমে অনুমোদিত দলিল।
এটি আদালতে দাখিল করতে হবে এবং যতক্ষণ না তা প্রত্যাহার করা হয় বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ মারা যায়, ততক্ষণ কার্যকর থাকবে।
তাই সঠিক উত্তর "খ"।
২,৮২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৮ অনুযায়ী সাধারণত প্লিডিংস সংশোধনের জন্য সর্বোচ্চ সময়সীমা -
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা
→ প্লিডিংস সংশোধনের সময়সীমা: আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুসারে আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্লিডিংস সংশোধন করতে হবে। যদি আদালত কোনো নির্দিষ্ট সময় না দেন, তবে সংশোধনী আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে এবং আদালত যদি সময় বর্ধিত না করেন, তবে আর প্লিডিংস সংশোধন করা যাবে না।
→ অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৮ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের জন্য সর্বোচ্চ সময়সীমা -১৪ দিন।

→ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৮: আদেশ প্রদানের পরে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে: কোন পক্ষ আরজি জবাব সংশোধনের অনুমতি সূচক আদেশ লাভ করার পর যদি আদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংশোধন না করে অথবা আদেশে কোন সময় নির্ধারণ করা না হলে আদেশের তারিখ হতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি সংশোধন না করেন, তবে উক্ত নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সংশোধন করার অনুমতি পাবেন না, যদি না আদালত উক্ত মেয়াদ বর্ধিত করে থাকেন।
--------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908,Order-6 Rule-18: Failure to amend after order:
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.
২,৮২৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী হলফনামায় শপথগ্রহণ করার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৪০
  2. ধারা ১৩৯
  3. ধারা ১৩৮
  4. ধারা ১৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৩৯-এ বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীনে প্রদত্ত কোনো হলফনামার (affidavit) ক্ষেত্রে কে বা কারা শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।
- এই ধারা অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করানোর ক্ষমতা রয়েছে:
১) যেকোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের,
২) সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির, এবং
৩) সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো আদালতের কোনো কর্মকর্তার।
- এটি একটি প্রক্রিয়াগত বিধান যা নিশ্চিত করে যে, হলফনামা যথাযথভাবে শপথসহ সম্পাদিত হয়েছে এবং তা আদালতে গ্রহণযোগ্য।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section-139. Oath on affidavit by whom to be administered.
In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom 107[the Supreme Court] may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf, 
may administer the oath to the deponent.

২,৮৩০.
আদেশ ৩৩ বিধি ৫ অনুসারে আদালত কোন কারণে নিঃস্ব ব্যক্তির আবেদনপত্র অগ্রাহ্য করতে পারে?
  1. আবেদনকারী আদালতে উপস্থিত না হলে
  2. অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে
  3. আবেদনকারী সম্পত্তির দখলে না থাকলে
  4. আবেদনপত্র যথাযথ পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও দাখিল করা না হলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৩ বিধি-৫: আবেদনপত্র অগ্রাহ্য:

নিম্নোক্ত উপায়ে নিঃস্ব ব্যক্তির ন্যায় আদালতে অভিযুক্ত করার আবেদন আদালত অগ্রাহ্য করতে পারে-
ক) যেক্ষেত্রে ২ এবং ৩ বিধিসমূহের নির্ধারিত পদ্ধতিতে এটি প্রণয়ন ও দাখিল করা হয়নি; বা
খ) যেক্ষেত্রে আবেদনকারী নিঃস্ব নয়; বা
গ) যেক্ষেত্রে সে আবেদনপত্র উপস্থাপনের অব্যবহিত দুই মাসের মধ্যে তঞ্চকতা-মূলকভাবে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা করার অনুমতির জন্য আবেদন করতে সমর্থ হওয়ার জন্য কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করেছে; বা
ঘ) যেক্ষেত্রে তার অভিযোগের কোন নালিশের কারণ দেখানো হয় না; বা
ঙ) যেক্ষেত্রে যে প্রস্তাবিত মোকদ্দমার অধীনে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে উক্ত বিষয়বস্তুতে অন্য কোন ব্যক্তি স্বার্থ অর্জন করেছে সে সকল ক্ষেত্রে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা করার অনুমতি লাভের প্রার্থনা আদালত অগ্রাহ্য করবে।
২,৮৩১.
ডিক্রি জারী মূলে কোন সম্পত্তি নিলাম বিক্রি হলে বিক্রির তারিখ হতে কতদিনের মধ্যে ক্রয়মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৮২:
স্মল কজ কোর্ট ব্যতীত অন্য যে কোন আদালত ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।

বিধি ৮৪-
স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয়ের ক্রেতা বলে ঘোষিত ব্যক্তি ঘোষণার পরপরই ক্রয়মূল্যের ২৫% টাকা জমা প্রদান করবে এবং তা প্রদানে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিটি তখনই পুনরায় নিলামে বিক্রয় করা হবে।

বিধি ৮৫-
ক্রয়মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের দিন হতে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
২,৮৩২.
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার, ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ লাভ করলে খেসারত হিসেবে কত টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (compensatory cost) প্রদানের আদেশ দিতে পারে।
  1. সর্বনিম্ন ১০০০০ টাকা
  2. সর্বোচ্চ ১০০০০ টাকা
  3. ৫০০০ টাকা
  4. ৬০০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৫ ধারা মতে অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার, ক্রোক ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ লাভ করলে খেসারত (Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds): কোন মোকদ্দমায় অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার বা ক্রোক কার্যকর বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়ে থাকলে বা বাদী মোকদ্দমায় হেরে যাওয়ার পর আদালত যদি দেখে যে উক্ত মোকদ্দমা দায়েরের জন্য বাদীর কোন সঙ্গত কারণ ছিলনা, তখন বিবাদী তার ব্যয় ও ক্ষতির জন্য বাদীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চাইলে আদালত বিবাদীকে অনধিক ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বাদীকে আদেশ দিতে পারবেন।
 ♦ উল্লেখ্য যে, আদালত তার আর্থিক এখতিয়ারের চেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করবেন না।
২,৮৩৩.
কোনটি দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমার উদাহরণ?
  1. চুক্তি রদের মোকদ্দমা
  2. দলিল বাতিল ঘোষণামূলক মোকদ্দমা
  3. বন্ধকি সম্পত্তি উদ্ধারের অধিকার
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ ধারায় দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ৯ ধারার ব্যাখ্যায় বিধান করা হয়েছে, যে মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, সেই মোকদ্দমা দেওয়ানী প্রকৃতির, যদিও উক্ত অধিকার সম্পূর্ণরুপে ধর্মীয় আচার বা উৎসব সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে পারে । সুতরাং, ৯ ধারায় নিম্নলিখিত ২টি অধিকার বিষয়ক মোকদ্দমাকে দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে-

১. সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এমন মোকদ্দমা-
যেমন, বন্ধকি সম্পত্তি উদ্ধারের অধিকার বা ঋণ উদ্ধারের অধিকার বা সরকারী কর্মকর্তার বকেয়া বেতন উদ্ধারের অধিকার ইত্যাদি দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা।

২. পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এমন মোকদ্দমা-
যেমন, মোতায়াল্লির পদের অধিকারহানী করা হয়েছে এই মর্মে ঘোষণার মোকদ্দমা বা কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের কোন পদের অধিকারী মর্মে ঘোষণা সংক্রান্ত মোকদ্দমা দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা।

চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা বা ভাড়া আদায়ের মোকদ্দমা বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার যেমন চুক্তি বলবৎ, চুক্তি রদ, দলিল সংশোধন, দলিল বাতিল ঘোষণামূলক মোকদ্দমা, নিষেধাজ্ঞা, সম্পত্তিতে দখল উদ্ধার ইত্যাদি সম্পর্কিত মোকদ্দমা দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা। ধর্মীয় আচার বা উৎসবের প্রশ্নযুক্ত মোকদ্দমা সাধারণত দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা না। কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত সম্পত্তি বা পদের অধিকারের প্রশ্নযুক্ত মোকদ্দমা দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা হিসাবে বিবেচিত হবে।
২,৮৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২০ অনুসারে বিধি-১৮ এবং ১৯-এর বিধান কোন ধরনের ডিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র টাকার ডিক্রির ক্ষেত্রে
  2. সম্পত্তি অর্পণের ডিক্রির ক্ষেত্রে
  3. দায়িকের গ্রেফতারের ডিক্রির ক্ষেত্রে
  4. বন্ধকী বা চার্জ বাস্তবায়নের জন্য বিক্রয়ের ডিক্রির ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২০ অনুসারে বলা হয়েছে: “The provisions contained in rules 18 and 19 shall apply to decrees for sale in enforcement of a mortgage or charge.”
অর্থাৎ, বিধি ১৮ ও ১৯ যেগুলো ক্রস-ডিক্রি বা একে অপরের বিরুদ্ধে আর্থিক পাওনা সম্পর্কিত ডিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সেগুলো বন্ধক বা চার্জ বাস্তবায়নের জন্য বিক্রয়ের ডিক্রির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
- তাই সঠিক অপশন: ঘ) বন্ধকী বা চার্জ বাস্তবায়নের জন্য বিক্রয়ের ডিক্রির ক্ষেত্রে।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule- 20. Cross-decrees and crossclaims in mortgage-suits:
The provisions contained in rules 18 and 19 shall apply to decrees for sale in enforcement of a mortgage or charge.
২,৮৩৫.
চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে কোনো পক্ষকে খরচ ব্যতীত কতবার মূলতবী মনজুর করা যায়?
  1. ৩ বার
  2. ৬ বার
  3. ৯ বার
  4. একবারও নয়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে দেওয়ানী মোকদ্দমায় মূলতবির আবেদন করতে হয়। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মূলতবীর আবেদন । আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মূলতবি রাখতে পারে। চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে। 
♦ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে; তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মূলতবি মঞ্জুর করেনা।
♦ মূলতবি খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে। মূলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
২,৮৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ ধারায় কোন আদালত সম্পর্কিত বিশেষ বিধান রয়েছে?
  1. রাজস্ব আদালত
  2. গ্রাম আদালত
  3. পারিবারিক আদালত
  4. ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ ধারায় ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত বা Small Cause Courts সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। যদি স্মল কজ কোর্ট বা স্বল্প এখতিয়ার আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি প্রযোজ্য হয়, তাহলে দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারা ও বিধি ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালতে প্রযোজ্য হবে না তা ৭ ধারায় বলা হয়েছে।

• ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালতের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না-
⇒ ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত মোকদ্দমা;
⇒ এরূপ মোকদ্দমার ডিক্রি জারি; এবং
⇒ স্থাবর সম্পত্তির ডিক্রি জারি।

তবে, ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত বা স্বল্প এখতিয়ার আদালতের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারা; ৯১ ও ৯২ ধারা; ২৪ ও ৯৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ইনজাংশন, রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান এবং ৯৬ থেকে ১১২ ও ১১৫ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
২,৮৩৭.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৯৬(২) অনুযায়ী, একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে-
  1. রিভিশন করতে হবে
  2. আপিল দায়ের করা যাবে না
  3. আপিল দায়ের করা যাবে
  4. রিভিশন দায়ের করা যাবে না
ব্যাখ্যা

ধারা ৯৬- মূল ডিক্রি হতে আপিল:
(১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
(২) একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
(৩) পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না।

২,৮৩৮.
যদি বিবাদী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল না করে, তবে আদালত কী করবে?
  1. অতিরিক্ত সময় দিবে
  2. মামলাটি খারিজ করবে
  3. বিবাদীকে জরিমানা করবে
  4. একতরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি (১)-
১) ৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না। আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।

২) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার দখলীয় কিংবা ক্ষমতায় রক্ষিত দলিলসমূহের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বা দাবী সমন্বয় করার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি লিখিত বিবৃতি পেশ করার সময় তা আদালতে উপস্থাপন করবে এবং তখনই দলিলসমূহ লিখিত বিবৃতির সাথে নথিভুক্ত করার জন্য দিবে ।

৩) শুনানির সময় বা আদালত তলব করলে তখনই দাখিল করার অঙ্গীকার প্রদান করে ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট কিংবা উকিল কর্তৃক সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করলে আদালত এরূপ দলিলাদি ফেরত প্রদান করতে পারে।

৪) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বা পাল্টা দাবীর অধিকার সমর্থনে তার দখলে ব ক্ষমতায় না থাকা অন্য প্রকার দলিলাদির উপর নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে সে লিখিত বিবৃতির সঙ্গে সংযোজন কিংবা যুক্ত করার জন্য একটি তালিকায় অনুরূপ দলিলাদি অন্তর্ভুক্ত করবে এবং ঐ দলিলাদি কার দখলে বা ক্ষমতায় আছে তা বর্ণনা করবে।

৫) যে দলিল বিবাদি কর্তৃক লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময় উপস্থাপন করা কোন তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত বিবৃতির সাথে সংবর্ধিত কিংবা যুক্ত করা উচিত ছিল এবং যা তদনুসারে হাজির বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে মোকদ্দমা শুনানিকালে তার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে উক্তরূপ অনুমতি প্রদান করবে না।

৬) বাদির সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কিংবা বাদির মাধ্যমে উত্থাপিত কোন বিষয়ের জবাবে কিংবা কোন সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিল তার হাতে দেয়া হয়, (৫) উপ-বিধির কোন বিধানই ঐ দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
২,৮৩৯.
ক’ খ’ এর বিরুদ্ধে দুইটি জমি বিক্রয়ের বায়নাপত্র সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা যুগ্ম জেলা জজের নিকট মোকদ্দমা দায়ের করে। জমির একটি অংশ নারায়ণগঞ্জে এবং অপর অংশ ঢাকাতে অবস্থিত। খ যদি মোকদ্দমাটি স্থানান্তন করতে চায়, তাহলে খ এর উকিল হিসেবে আপনি কোথায় মোকদ্দমা দায়ের করবেন?
  1. ঢাকা জেলা জজের নিকট
  2. নারায়ণগঞ্জ জেলা জজের নিকট
  3. হাইকোর্ট ডিভিশনে
  4. ঢাকা জুগ্ম জেলা জজের নিকট
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী মামলা বা আপিল স্থানান্তর ও প্রত্যাহার- যে কোন সময় হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ আদালত অধঃস্তন আদালতের কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অপর কোন কার্যক্রম স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করতে পারেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২, ২৩ ও ২৪ ধারা এবং The Civil Courts Act, 1887 এর ২২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমা ও আপিল স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ও ২৪ ধারা অনুযায়ী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র বিবাদী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে যখন কোন মোকদ্দমা দুই বা ততোধিক আদালতে দায়েরযোগ্য বা বিচারযোগ্য। কিন্তু ২৪ ধারার আওতায় মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা আদালত স্বতঃ প্রবৃত্ত হয়ে নিজে (own motion) কোন মামলা বা আপিল স্থানান্তর করতে পারে।
♦সুতরাং বিবাদী হলে ২২ ধারা, অন্যদিকে মামলার যে কোন পক্ষ অথবা আদালত নিজে হলে ২৪ ধারা প্রযোজ্য হবে।
♦যেহেতু জমির দুইটি অংশ দুইটি জেলায় অবস্থিত তাই যে কোন একটি জেলার দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। যেহেতু বাদী 'ক' ঢাকাতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে এবং ‘খ’ মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করে নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানী আদালতে নিতে চাই, তাহলে আমাকে হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে।
২,৮৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন অমান্যের জন্য সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত কি আদেশ দিতে পারেন?
  1. গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন
  2. অনধিক এক হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন
  3. তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৩২ অনুসারে, সমন অমান্যের জন্য যাকে সমন প্রদান করা হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে নিম্নোক্ত আদেশ গুলো দিতে পারে-

ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ করতে পারেন ও জামানত না দিলে তাকে জেলে প্ররণ করতে পারেন।

Sec. 32: Penalty for default-
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
a) issue a warrant for his arrest;
b) attach and sell his property;
c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
d) order him to furnish security for his appearance and in default commit to the civil prison.
২,৮৪১.
রেফারেন্স পাঠাতে পারবে-
  1. হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে
  2. আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে
  3. কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ নং আদেশে রেফারেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
- ৪৬ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী আপিল-অযোগ্য ডিক্রির মামলার বিচার পর্যায়ে বা আপিলে অথবা উক্ত ডিক্রি জারি করার সময়, আইন বা আইনের ন্যায় বলবৎ কোন রীতি সম্পর্কিত প্রশ্নের সৃষ্টি হলে, উক্ত মামলার বিচারকারী আদালত বা আপিল আদালত অথবা ডিক্রি জারিকারক আদালত, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করতে পারে।

- রেফারেন্স প্রেরণকারী আদালত রেফারেন্স প্রেরণ করা সত্ত্বেও মামলার কার্যক্রমে অগ্রসর হতে পারে কিংবা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ প্রেরিত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করতে পারেন।

- ৪৬ নং আদেশের ৫ নং বিধি অনুযায়ী অধীনস্ত যে আদালত হাইকোর্টে রেফারেন্সের জন্য কোন বিষয় পাঠাবে, সেই বিষয়ে উক্ত আদালত কর্তৃক দেওয়া ডিক্রি/আদেশ হাইকোর্ট বিভাগ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে অথবা যে কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
- অর্থাৎ Reference কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট তার অধস্তন আদালতের রায় বা ডিক্রি পরিবর্তন করতে পারে।

- ৪৬ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে ক্ষুদ্র বিষয়ক এখতিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করার বিধান রয়েছে। ৬ নং বিধি অনুযায়ী যেক্ষেত্রে মামলা ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে বিচারার্থে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত মামলার প্রকৃতি সম্পর্কে উক্ত সন্দেহের কারণ সম্বলিত একটি বিবৃতিসহ হাইকোর্ট বিভাগে একটি নথি দাখিল করতে পারে।
২,৮৪২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০, বিধি ৬ অনুযায়ী, ডিক্রির সাথে কীসের সাদৃশ্য থাকবে?
  1. রায়
  2. সাক্ষ্যের বিবরণ
  3. মোকদ্দমার আবেদনপত্র
  4. পক্ষগণের আইনজীবীর বক্তব্য
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০, বিধি ৬ অনুসারে, ডিক্রির রচনায় আদালতের রায়ের (Judgment) সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। এতে রায় অনুযায়ী মঞ্জুরীকৃত প্রতিকার ও অন্যান্য নির্ধারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ৬: ডিক্রির বিষয়সমূহ:
১) রায়ের সাথে ডিক্রির সাদৃশ্য থাকবে; এতে মোকদ্দমার নম্বর, পক্ষগণের নাম ও বিবরণ এবং দাবীর বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং মঞ্জুরীকৃত প্রতিকার বা মোকদ্দমার অন্যান্য সিদ্ধান্তের পরিস্কার উল্লেখ থাকবে।
২) মোকদ্দমাতে কি পরিমাণ ব্যয় হয়েছে এবং কার দ্বারা এবং কোন সম্পত্তি থেকে এবং উক্ত ব্যয়ের কি অনুপাতে দিতে হয় সেটাও ডিক্রিতে বিবৃত থাকবে।
৩) আদালত নির্দেশ প্রদান করতে পারে যে, একপক্ষ কর্তৃক অপরপক্ষে দেয় খরচাদির পূর্ববর্তী পক্ষ হতে পরবর্তী অপর পক্ষের স্বীকৃত পাওনা কোন অংকের পারস্পরিক দায় পরিশোধিত হবে।
------------ 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 20 Rule 6: Contents of decree:
1) The decree shall agree with the judgment; it shall contain the number of the suit, the names and descriptions of the parties, and particulars of the claim, and shall specify clearly the relief granted or other determination of the suit.
2) The decree shall also state the amount of costs incurred in the suit, and by whom or out of what property and in what proportions such costs are to be paid.
3) The Court may direct that the costs payable to one party by the other set-off against any sum which is admitted or found to be due from the shall be set-off former to the latter.
২,৮৪৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১৫৩ অনুসারে আদালত কখন মামলার কার্যধারায় ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে?
  1. মামলা শুরুর সময়
  2. যে কোনো সময়
  3. আপিল চলাকালীন
  4. মামলার রায় ঘোষণার পর
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৫৩ অনুযায়ী:
- “The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit…”
- অর্থাৎ, আদালত যেকোনো সময়, অর্থাৎ মামলার যেকোনো পর্যায়ে—প্রারম্ভ, মধ্যবর্তী বা রায় ঘোষণার পূর্বে—যদি প্রয়োজন মনে করে, মামলার কার্যধারায় ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে।
- এতে করে মামলার প্রকৃত বিষয়বস্তু নির্ধারণে সহায়তা হয় এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) যে কোনো সময়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারা-সংশোধন করার সাধারণ ক্ষমতা:
আদালত যে কোনো সময়, এবং তার উপযুক্ত মনে হলে খরচ বা অন্য কোনো শর্ত আরোপ সাপেক্ষে, কোনো মামলার কার্যধারায় যে কোনো ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে; এবং মামলার কার্যধারার উপর নির্ভরশীল বা উত্থাপিত প্রকৃত প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সকল প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 153. General power to amend:
The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.

২,৮৪৪.
চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত উভয় পক্ষকে খরচ ছাড়া এবং খরচসহ মোট কয়টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে?
  1. ৯ টি
  2. ১৮ টি
  3. ৬ টি
  4. ৩ টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশে Adjournment বা মূলতবির বিধান রয়েছে। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মুলতবির আবেদন।

• ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে-

> আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে।

> চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। অর্থ্যাৎ উভয় পক্ষকে খরচসহ এবং খরচ ছাড়া মোট ১৮টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারেন।

> অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মুলতবি মঞ্জুর করেনা।

> মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

> মুলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
২,৮৪৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যায়?
  1. যেকোনো সম্পত্তির জন্য
  2. শুধুমাত্র জরিমানা আরোপের জন্য
  3. আইনানুগ প্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পত্তির জন্য
  4. মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা পরিশোধের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৫২ ধারার মূল বিষয় হলো, যখন কোনো ডিক্রি মৃত ব্যক্তির আইনানুগ (legal) প্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, এবং ডিক্রির বিষয়বস্তু মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায়, তখন সেই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি: যদি আইনানুগ প্রতিনিধির দখলে থাকে, তবে সেই সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের মাধ্যমে ডিক্রি কার্যকর করা যাবে।
উল্লেখযোগ্য দিক, প্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা যাবে না, যতক্ষণ না প্রমাণ হয় যে তিনি মৃতের সম্পত্তি গ্রহণ করে যথাযথভাবে ব্যবহার করেননি।
সেই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সেই অংশের জন্য, যা তিনি অপব্যবহার করেছেন বা আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি, ডিক্রি তার ব্যক্তিগতভাবে কার্যকর হতে পারে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৫২ ধারার বিধান: বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা: (Enforcement of decree against legal representative) কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা পরিশোধের জন্য যদি উক্ত মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি দেয়া হয়, তাহলে অনুরূপ কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের দ্বারা উক্ত ডিক্রি জারি করা যেতে পারে।
 যখন ডিক্রি দায়িকের দখলে এরূপ কোন সম্পত্তি না থাকে এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার দখলে এসেছে বলে প্রমাণ থাকে এবং তার যথাযথ ব্যবহার করেছে বলে যদি আদালতকে সন্তষ্ট করতে ব্যর্থ হয়, তখন সম্পত্তির যে পরিমাণের ব্যাপারে সে আদালতকে সন্তষ্ট করাতে ব্যর্থ হয়েছে সেই পরিমাণ সম্পত্তির জন্য ডিক্রি দায়িকের বিরুদ্ধে ডিক্রিটি জারি করা যাবে, যেন ডিক্রিটি ব্যক্তিগতভাবে তারই উপর প্রদত্ত হয়েছিল।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 52. Enforcement of decree against legal representative:
(1) Where a decree is passed against a party as the legal representative of a deceased person, and the decree is for the payment of money out of the property of the deceased, it may be executed by the attachment and sale of any such property.
(2) Where no such property remains in the possession of the judgment-debtor and he fails to satisfy the Court that he has duly applied such property of the deceased as is proved to have come into his possession, the decree may be executed against the judgment-debtor to the extent of the property in respect of which he has failed so to satisfy the Court in the same manner as if the decree had been against him personally.
২,৮৪৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ ধারার শর্তাংশ (proviso) প্রধানত কোন ধরনের এখতিয়ারের সাথে সম্পর্কিত?
  1. স্থানীয় এখতিয়ার (Territorial)
  2. আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary)
  3. বিষয়ভিত্তিক এখতিয়ার (Subject-matter)
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৭-এর প্রভিশন বা শর্তাংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "এই প্রকার মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই ঐরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে"।
- এটি আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction)-এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ শর্তটি হলো মামলার সম্পূর্ণ দাবির মূল্য যেন সেই আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, আদালতটি শুধু স্থানীয় এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction) থাকলেই হবে না, তার আর্থিক এখতিয়ারও মামলার মোট দাবির মূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ ধারার বিধান: বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা:-
স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মোকদ্দমা বা এতে কোন ক্ষতির কারণে আনীত মোকদ্দমার সম্পত্তি যদি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকে, তাহলে ঐ সম্পত্তির অংশ বিশেষ যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত, সেরূপ যে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাতে পারে।
তবে শর্ত থাকে যে, এই প্রকার মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই ঐরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 17: Suits for immovable property situate within jurisdiction of different Courts-
Where a suit is to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property situate within the jurisdiction of different Courts, the suit may be instituted in any Court within the local limits of whose jurisdiction any portion of the property is situate:
Provided that, in respect of the value of the subject-matter of the suit, the entire claim is cognizable by such Court.

২,৮৪৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় Leave for Revision-এর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১১৫(৫) ধারায়
  2. ১১৫(৪) ধারায়
  3. ১১৫(৩) ধারায়
  4. ১১৫(২) ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫(৪) অনুযায়ী, Leave for Revision বা "রিভিশনের অনুমতি" সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
- এটি মূলত Second Revision এর সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে, জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক ধারা ১১৫(২) বা ১১৫(৩)-এর অধীনে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করা যায়, তবে একটি শর্তে, যদি হাইকোর্ট মনে করে যে ঐ আদেশে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ভুল হয়েছে যা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়েছে, তখনই হাইকোর্ট Leave (অনুমতি) দেবে এবং রিভিশনের আবেদন গ্রহণ করবে।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ (৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিলে গুরুত্বপূর্ণ আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনের অনুমতি মঞ্জুর করে সেই ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) অথবা (৩) এর অধীনে প্রদত্ত জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে দরখাস্ত করা যাবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ যেরূপ উপযুক্ত মনে করে মোকদ্দমা বা কার্য প্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-----------
⇒ Section 115(4) An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an error of an important question of law resulting in erroneous decision occasioning failure of justice, and the High Court Division may make such order in the suit or proceeding as it thinks fit.
২,৮৪৮.
ঢাকার একটি আদালত X এর দখলে থাকা একটি দলিল উপস্থাপনের জন্য তার প্রতি সমন প্রদান করেন। কিন্তু X সমন মোতাবেক আদালতের উক্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হন। আদালত The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৩২ ধারা অনুযায়ী X এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন?
  1. তার উপস্থিতির জন্য জামানত প্রদানের আদেশ দান;
  2. অনধিক ১০০০ টাকা জরিমানা;
  3. ৩০ দিনের জন্য দেওয়ানী কারাগারে আটকাদেশ;
  4. হুলিয়া জারি।
ব্যাখ্যা
The Code of Civil Procedure, 1908,এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, ৩০ ধারা অনুযায়ী আদালতের আদেশে সমন জারি সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি দলিল উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত ব্যক্তির উপর গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারে, তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারে, অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারে কিংবা তার হাজির হওয়ার জন্য জামানত দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।
♦অর্থাৎ আদালত The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৩২ ধারা অনুযায়ী X এর বিরুদ্ধে তার উপস্থিতির জন্য জামানত প্রদানের আদেশ  দিতে পারে।
২,৮৪৯.
"Persons for whose examination commission may issue"- বিধানটি The Code of Civil Procedure,1908 এর কোথায় বর্ণিত আছে?
  1. Order-XXI, rule 1
  2. Order-XXVI, rule 4
  3. Order-XXXIX, rule 7
  4. Order-IX, rule 13
ব্যাখ্যা
The Code of Civil Procedure,1908: Order 26, Rule 4-

 দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে। Order XXVI, Rule 4 অনুসারে, নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:

i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
২,৮৫০.
রিভিউর আবেদন শুনানিতে বিচারকদের মতামত সমানভাবে বিভক্ত হলে কী হবে?
  1. আবেদন মুলতবি থাকবে
  2. আবেদনটি গ্রহণ করা হবে
  3. আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হবে
  4. আবেদনটি অন্য আদালতে জমা দিতে বলা হবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪৭ বিধি ৬: আবেদন প্রত্যাখ্যানের বিধান:
(১) কোনো পুনর্বিবেচনা (review) আবেদন যদি একাধিক বিচারকের সমন্বয়ে শোনা হয় এবং বিচারকদের মতামত সমানভাবে বিভক্ত হয়, তাহলে আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত বলে গণ্য হবে

(২) কিন্তু বিচারকদের মধ্যে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো মত গৃহীত হয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

২,৮৫১.
‘ক’ একজন নাবালক ব্যক্তি। ‘ক’ এর অভিভাবক হিসাবে কোন ব্যক্তি উপযুক্ত না হলে বা অভিভাবক হিসাবে কোন কাজ করতে ইচ্ছুক না হলে, আদালত কাকে ‘ক’/ বিবাদীর অভিভাবক নিয়োগ করবে?
  1. সরকারী উকিলকে
  2. জি.পি কে
  3. রাষ্ট্র পক্ষের উকিলকে
  4. আদালতের কোন কর্মচারীকে
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩২ অনুযায়ী নাবালকের পক্ষে মোকদ্দমা পরিচালনার বিষয়ে বলা আছে।
আদেশ ৩২ এর বিধি ৪ (৪) অনুযায়ী নাবালক যদি বিবাদী হয় এবং তার পক্ষে কোন অভিভাবক পাওয়া না গেলে আদালতের কোন কর্মচারীকে অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ করবেন।
⇒ আদেশ ৩২ এর বিধি ৪ (৪) তে বলা হয়েছে , যেক্ষেত্রে অন্য কোন ব্যক্তি মামলার অভিভাবক হিসাবে কাজ করার জন্য যোগ্য এবং ইচ্ছুক নাই, সেক্ষেত্রে আদালত তার কোন কর্মচারীকে অনুরূপ অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন এবং নির্দেশ দিতে পারেন যে, উক্ত কর্মচারীকে বা কোন এক বা একাধিক পক্ষ কর্তৃক বহন করতে হবে, অথবা নাবালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন তহবিল আদালতে থাকলে তা হতে খরচ হবে এবং ন্যায় বিচার ও অবস্থার পয়োজনে অনুরূপ খরচার পরিশোধ বা মেনে নেয়া সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারেন।
২,৮৫২.
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে দখলদার ব্যক্তি যে মুনাফা লাভ করে, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে দেওয়ানি কার্যবিধিতে__________ বলে।
  1. Unwanted Profits
  2. Gross Profits
  3. Mesne Profits
  4. Unlawful Profits
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

 ব্যতিক্রম-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না ।
--------------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession:
২,৮৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৪নং বিধির অধীনে খারিজকৃত মোকদ্দমা পুনর্বহাল করা হলে, মোকদ্দমাটি কোন পর্যায় থেকে চালু হবে?
  1. শুরু থেকে
  2. পক্ষদ্বয়ের আবেদনক্রমে যে কোন পর্যায় থেকে
  3. আদালতের নির্দেশমত যে কোন পর্যায় থেকে
  4. যে পর্যায় থেকে খারিজ বা রদ হয়েছিল সেই পর্যায় থেকে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি ১৫:
যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমার খারিজ সংক্রান্ত আদেশ ৪ কিংবা ৯নং বিধির অধীনে কিংবা ১৩নং বিধির অধীনে কোন ডিক্রি রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করার পরিপ্রেক্ষিতে, খারিজ করার আদেশ দান কিংবা ডিক্রি দেয়ার অব্যবহিত পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থায় ছিল, উক্ত পর্যায় হতে মোকদ্দমাটি চালু করা হবে।

[Where the dismissal of a suit is set aside under rule 4 or rule 9, or a decree is set aside under rule 13, the suit shall, on restoration, proceed from the stage where it was immediately before the making of the order of dismissal or passing of the decree.]
২,৮৫৪.
প্রশ্নমালা রদ বা কর্তনের জন্য দরখাস্ত কবে পেশ করা যেতে পারে?
  1. মামলার যেকোনো সময়
  2. প্রশ্নমালা জারির ৩ দিনের মধ্যে
  3. প্রশ্নমালা জারির ৭ দিনের মধ্যে
  4. প্রশ্নমালা জারির ১০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

আদেশ ১১ বিধি ৭- প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন:
কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে-এই অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, বা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অনাবশ্যকীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন দরখাস্ত করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের ভিতর পেশ করা যেতে পারে।

২,৮৫৫.
দেওয়ানী কারাগারে দায়িককে আটক রাখা হলে এর খোরপোষের পরিমাণ কে নির্ধারণ করবে?
  1. বাদী
  2. আদালত
  3. সরকার
  4. দায়িক নিজে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩৯ এর বিধান জীবন নির্বাহ দাতা (Subsistence-allowance): 
১) কোন দায়িককেই ডিক্রি জারিতে গ্রেফতার করা যাবে না, যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ডিক্রিদার দায়িককে গ্রেফতার করার তারিখ হতে তাকে আদালতে হাজিরের তারিখ পর্যন্ত তার খোরাকীর জন্য বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ডিক্রিদার আদালতে জমা দেয়।
২) যেক্ষেত্রে ডিক্রি জারিতে কোন দায়িককে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করা হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার খোরাকীর জন্য ৫৭ ধারার অধীনে নির্ধারিত হার অনুসারে যেরকম অধিকারী সেরকম মাসিক ভাতা নির্ধারণ করবে কিংবা যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোন হার নির্ধারিত না হয়, সেক্ষেত্রে তার শ্রেণীর সূত্রে আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করে করে।
৩) যে পক্ষের আবেদনক্রমে দায়িককে গ্রেফতার করা হয়, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত মাসিক ভাতা সে পক্ষ মাসিক পরিশোধের দ্বারা প্রতি মাসের প্রথম দিনের পূর্বে অগ্রিম সরবরাহ করবে।
৪) দায়িককে দেওয়ানি জেলে সোর্পদ করার পূর্বে চলতি মাসের অবশিষ্ট অসমাপ্ত অংশের জন্য আদালতের সঠিক কর্মকর্তার নিকট প্রথম প্রদেয় টাকা প্রদান করতে হবে এবং তৎপরবর্তীকালে দেয় (যদি কোন) টাকা দেওয়ানি জেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রদান করা হবে।
৫) দেওয়ানি জেলে আটক দায়িকের খোরাকী বাবদ ডিক্রিদারের খরচ মোকদ্দমার খরচ হিসাবে বিবেচিত হবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ঐ অর্থ ব্যয়ের নিমিত্তে দায়িককে গ্রেফতার বা দেওয়ানি জেলে আটক করা যাবে না।
২,৮৫৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর __________ অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা যিনি বিক্রয় প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত, তিনি কোনো সম্পত্তিতে নিলামে অংশ নিতে বা স্বার্থ অর্জন করতে পারেন না।
  1. আদেশ-২১, বিধি-৭৪
  2. আদেশ-২১, বিধি-৭৩
  3. আদেশ-২১, বিধি-৭২
  4. আদেশ-২১, বিধি-৭১
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) আদেশ-২১, বিধি-৭৩।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-২১, বিধি-৭৩ অনুযায়ী- Restriction on bidding or purchase by officers:
“No officer or other person having any duty to perform in connection with any sale shall, either directly or indirectly, bid for, acquire or attempt to acquire any interest in the property sold.”
অর্থাৎ, যেকোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি যিনি আদালতের আদেশ মোতাবেক কোনো সম্পত্তি বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত, তিনি সেই বিক্রয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, বিড করতে পারবেন না বা বিক্রিত সম্পত্তিতে কোনো স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা করতে পারবেন না। এটি ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
- এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বার্থের দ্বন্দ্ব (conflict of interest) এড়ানো এবং নিলাম বা বিক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা (transparency) নিশ্চিত করা।
২,৮৫৭.
নিম্নের কোন আদেশের বিরুদ্ধে ধারা ১০৪–এর অধীনে আপিল করা যায়?
  1. ধারা ৩৫ক-এর অধীনে আদেশ
  2. ধারা ৯৫-এর অধীনে আদেশ
  3. ক এবং খ উভয়
  4. ক বা খ কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধারা ১০৪: কোন আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে:

(১) নিম্নলিখিত আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে, এবং যদি এই কোডের মূল অংশে বা বর্তমানে কার্যকর কোনো আইনে অন্যথায় স্পষ্টভাবে প্রদান না করা হয়, তবে অন্য কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না:
(চচ) ধারা ৩৫ক এর অধীনে একটি আদেশ;
(ছ) ধারা ৯৫ এর অধীনে একটি আদেশ;
(জ) এই কোডের কোনো ধারা অনুযায়ী একটি আদেশ যা কোনো ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান বা দেওয়ানি কারাগারে আটক বা আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে এমন আটক বা আটককরণ যদি কোনো ডিক্রির কার্যকরীকরণের জন্য না হয়;
(ঝ) নিয়মের অধীনে করা কোনো আদেশ যা থেকে নিয়ম অনুযায়ী আপিল স্পষ্টভাবে অনুমোদিত হয়:
তবে শর্ত থাকে যে ধারা (চচ) এ উল্লিখিত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদি না এই ভিত্তিতে যে কোনো আদেশ, বা কম পরিমাণ প্রদানের জন্য আদেশ করা উচিত ছিল না।

(২) এই ধারার অধীনে আপিলে দেয়া কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না।

২,৮৫৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধানমতে নিঃসম্বল ব্যক্তি মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. ২১ আদেশ মতে
  2. ২৫ আদেশ মতে
  3. ৩৩ আদেশ মতে
  4. ৩৪ আদেশ মতে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৩ আদেশের বিধান মতে নিঃসম্বল ব্যক্তি মামলা দায়ের (Suit by Paupers] করতে পারে। যে ব্যক্তি মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারণ থাকে না, সেক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয়বস্তু ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে, উক্ত ব্যক্তি নিঃস্ব ব্যক্তি বলে গণ্য হবে।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতেঃ  নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
-------------
⇒ CPC Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis:
Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.

Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.
২,৮৫৯.
নিম্নের কোন আদেশটি ডিক্রি হিসাবে গণ্য হবে?
  1. আরজি ফেরত আদেশ
  2. আরজি গ্রহণ আদেশ
  3. আরজি প্রত্যাখ্যান আদেশ
  4. আরজি সংশোধন আদেশ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা রয়েছে। ২(২) ধারামতে আদালতের এমন কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যা মোকদ্দমার তর্কিত/বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে পক্ষসমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে তাকে ডিক্রি (Decree) বলে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারামতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলোও ডিক্রি বলে বলে গণ্য হবে।  

♦ ৭ নং আদেশের ১১ নং বিধির অধীন আরজি প্রত্যাখান বা খারিজের আদেশ (Rejection of plaint)।
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যর্পন (Restitution) বিষয়ে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত ডিক্রি বলে বিবেচিত হবে।
২,৮৬০.
বাদীর আরজি সংশোধনীর দরখাস্ত নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
♦বাদীর আরজি সংশোধনীর দরখাস্ত নামঞ্জুরের আদেশ আপীলযোগ্য আদেশ নয় তাই ১১৫ ধারার অধীন রিভিশন করা যাবে।
♦অর্থাৎ
প্লিডিংস সংশোধনের বা কর্তনের দরখাস্ত মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায়।
২,৮৬১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪ ধারায় কোন ক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা,আপিল বা অন্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] বা প্রত্যাহারের [withdrawal] আদেশ দিতে পারে?
  1. মোকদ্দমার কোন পক্ষের আবেদনক্রমে
  2. স্বপ্রণোদিত হয়ে
  3. ক বা খ
  4. মোকদ্দমায় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ৩য় কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে
ব্যাখ্যা
• ২৪ ধারায় মোকদ্দমা, আপীল, বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer], এবং প্রত্যাহারের [Withdrawal] সাধারণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উল্লেখিত ধারায় যে আদালত স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-
১. হাইকোর্ট বিভাগ এবং
২. জেলা জজ আদালত

• হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (at any stage of the suit) কোন মোকদ্দমা,আপিল বা অন্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] বা প্রত্যাহারের [withdrawal] আদেশ দিতে পারে।

• যে কারণে স্থানান্তরের বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-

১. যদি মামলাকারীর মনে যুক্তিযুক্ত আশঙ্কা থাকে যে,যে আদালতে মোকদ্দমাটি বিচারাধীন আছে সেই আদালতে সে ন্যায় বিচার নাও পেতে পারে;
২. যে ক্ষেত্রে বিচারক কোন একপক্ষের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়;
৩. মামলার বহুত্ব কমানোর জন্য;
৪. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে;
৫. পক্ষদ্বয়ের সুবিধার জন্য ইত্যাদি।
২,৮৬২.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিস্তারিত বিধান কোথায় পাওয়া যায়?
  1. আদেশ ৩৩
  2. আদেশ ৩৪
  3. আদেশ ৩৫
  4. আদেশ ৩৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার সাধারণ বিধান ধারা ৮৮-এ উল্লেখ থাকলেও, এই মোকদ্দমা দায়েরের পদ্ধতি, আরজির বিষয়বস্তু, শর্তাবলী এবং অন্যান্য বিস্তারিত বিধান আদেশ ৩৫-এ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)-এর ধারা ৮৮ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার সাধারণ বিধান বর্ণনা করে, যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই সম্পত্তি বা অর্থের উপর দাবি করলে এবং বাদীর (যিনি দাবির সম্মুখীন) সেই সম্পত্তির উপর কোনো স্বার্থ না থাকলে (শুধুমাত্র মোকদ্দমার খরচ ছাড়া) তিনি এই ধরনের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যে সম্পত্তি কার কাছে অর্পণ করতে হবে এবং বাদীর কোনো ক্ষতিপূরণ (যদি থাকে) আদায় করা। বাদী এখানে নিরপেক্ষ থাকেন এবং কোনো পক্ষপাতিত্ব বা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকবেন না।

কিন্তু ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিস্তারিত বিধান (যেমন আরজির বিষয়বস্তু, বিবাদীদের দাবি, জমা বা হস্তান্তর ইত্যাদি) আদেশ ৩৫ (Order XXXV)-এ বর্ণিত আছে। এই অর্ডারে নির্দিষ্ট করা হয়েছে:
- বিধি ১ (Rule 1): আরজিতে (plaint) উল্লেখ করতে হবে যে (ক) বাদীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই (শুধুমাত্র খরচ বা ফি ছাড়া); (খ) বিবাদীদের দাবিগুলি পৃথকভাবে প্রণীত; (গ) বাদী এবং কোনো বিবাদীর মধ্যে কোনো যোগসাজস বা ষড়যন্ত্র নেই।
- বিধি ২ (Rule 2): বিবাদিত সম্পত্তি (যেমন টাকা বা সম্পত্তি) যদি আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে বাদীকে আদালতের হেফাজতে রাখতে হতে পারে।
- বিধি ৫ (Rule 5): প্রতিনিধি বা প্রজাগণ (representative or tenant) এই মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না।
- এই অর্ডারে কমপক্ষে দুজন বিবাদী থাকতে হবে, এবং বাদী নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বাধ্য।

২,৮৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারার অধীনে কোনটি আপিল আদালতের ক্ষমতার বহির্ভূত?
  1. বিচার্য বিষয় গঠন
  2. মোকদ্দমা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির
  3. মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারা: আপিল আদালতের ক্ষমতা:
১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, তৎসাপেক্ষে আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাবলী থাকবে-
ক) কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার;
খ) কোন মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করার;
গ) বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলো বিচারার্থে প্রেরণ করার;
ঘ) অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ বা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য তলব করতে ক্ষমতা।

২) এই আইনে কোন মৌলিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের উপর তথাকার মোকদ্দমার ব্যাপারে যেরূপ ক্ষমতা প্রদত্ত এবং কর্তব্য আরোপিত হয়ে থাকে, উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে আপিল আদালতের উপরও এরূপ ক্ষমতা এবং প্রায় একইরূপ কর্তব্য বর্তাবে।

অর্থাৎ উল্লিখিত সব অপশন আপিল আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।

Section 107- Powers of Appellate Court:
(1) Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, an Appellate Court shall have power-
(a) to determine a case finally;
(b) to remand a case;
(c) to frame issues and refer them for trial;
(d) to take additional evidence or to require such evidence to be taken.

(2) Subject as aforesaid, the appellate Court shall have the same powers and shall perform as nearly as may be the same duties as are conferred and imposed by this Code on Courts of original jurisdiction in respect of suits instituted therein.
২,৮৬৪.
The Code of Civil Procedure, 1908-এর Order 26 Rule 14(2) অনুসারে, কমিশনারদের প্রতিবেদন দাখিলের সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২৬ বিধি ১৪(২) অনুসারে, কমিশনার বা কমিশনারগণকে তাদের প্রতিবেদন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিল করতে হবে, এবং এই সময়সীমা ৩ (তিন) মাস অতিক্রম করতে পারবে না।
তবে, যথার্থ কারণ দেখিয়ে কমিশনার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আদালতের নিকট আবেদন করতে পারেন এবং আদালত সন্তুষ্ট হলে সময়সীমা বর্ধিত করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১৪ (২) অনুযায়ী:
- যদি একাধিক কমিশনার নিযুক্ত হন এবং তারা একমত না হন, তবে তারা পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করে স্বাক্ষর করবেন।
- এই প্রতিবেদনসমূহ আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে।
- তবে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা ৩ (তিন) মাস অতিক্রম করতে পারবে না।
- যদি যথার্থ কারণ দেখিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত সেই সময়সীমা বর্ধিত করতে পারেন।
 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-26, Rule-14: -Procedure of Commissioner-
(2) Preparation of Report:
The Commissioner (or Commissioners, if the commission was issued to multiple persons and they cannot agree) will prepare and sign a report. The report will detail the share of each party, distinguishing each share with specific boundaries (if directed by the order). If multiple reports are prepared, they will be annexed to the commission and transmitted to the Court within the time fixed by the Court, not exceeding three months. After receiving the report(s), the Court will hear any objections from the parties and may confirm, vary, or set aside the report(s).
Provision for Extension of Time: The Court may extend the time upon a request from the Commissioner and upon sufficient cause being shown.

২,৮৬৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১, বিধি-৯ অনুসারে, অপসংযোগ (Misjoinder) বা অ-সংযুক্তি (Nonjoinder) এর কারণে কী হবে?
  1. মামলা বাতিল হবে
  2. মামলা স্থগিত হবে
  3. মামলা খারিজ হবে
  4. মামলার কোনো ক্ষতি হবে না
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১, বিধি ৯ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে: "No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or nonjoinder of parties"
- অর্থাৎ, অপসংযোগ (Misjoinder) বা অ-সংযুক্তি (Nonjoinder)-এর কারণে মামলার কোনো ক্ষতি হবে না বা মামলা ব্যর্থ হবে না।অপসংযোগ (Misjoinder): যখন ভুলভাবে বা অপ্রয়োজনে কোনো ব্যক্তিকে মামলার পক্ষ করা হয়।
অ-সংযুক্তি (Nonjoinder): যখন প্রয়োজনীয় কোনো ব্যক্তিকে মামলার পক্ষ করা হয় না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৯: অপসংযোগ এবং অ-সংযুক্তি:
কাউকে ভ্রান্তভাবে মোকদ্দমার পক্ষ করা হলে অথবা পক্ষ থেকে বাদ দেয়া হলে তজ্জন্য মোকদ্দমার কোন ক্ষতি হবে না; এবং আদালত এটির সামনে আনিত প্রত্যেকটি মোকদ্দমায় বিরোধীয় বিষয়টি পক্ষগণের অধিকার ও স্বার্থসমূহের সঙ্গে যতটুকু সম্পর্কিত ততটুকু বিবেচনা করতে পারবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order 1 Rule-9: Misjoinder and nonjoinder:
No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or nonjoinder of parties, and the Court may in every suit deal with the matter in controversy so far as regards the rights and interests of the parties actually before it.

২,৮৬৬.
একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে কোথায় আবেদন করতে হবে?
  1. উচ্চ আদালতে
  2. আপিল ট্রাইব্যুনালে
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯, বিধি ১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)-
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১০নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি;
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারে নি।

⇒ আদেশ ৯ বিধি-১৩ অনুযায়ী,
একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে, আপিল করা যাবে (বিধি-১, আদেশ-৪৩); আবেদন মঞ্জুর হলে রিভিশন করা যায়।
২,৮৬৭.
"The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment-debtor"- এটি দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধির অংশ?
  1. আদেশ-২১, বিধি-১৯
  2. আদেশ-২১, বিধি-২০
  3. আদেশ-২১, বিধি-২১
  4. আদেশ-২১, বিধি-২২
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) আদেশ-২১, বিধি-২১।
⇒The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 21, Rule 21 এর মূল ভাষ্য: “The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment-debtor.”
- এই বিধানে আদালতের বিবেচনার ক্ষমতা (discretionary power) সম্পর্কে বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে আদালত একই সঙ্গে দায়িকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (যেমন গ্রেফতার) এবং সম্পত্তির বিরুদ্ধে (যেমন ক্রোক বা বিক্রয়) ডিক্রি কার্যকর না করতেও পারে।
- এটি দায়িকের বিরুদ্ধে একযোগে (simultaneous) কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২১ অনুসারে, আদালত তার নিজস্ব বিবেচনায় (in its discretion) সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, একই সময়ে দায়িকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (গ্রেফতার ও কারাবাস) এবং তার সম্পত্তির বিরুদ্ধে একযোগে (simultaneous) ডিক্রি কার্যকর না করাও যেতে পারে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-21. Simultaneous execution:
- The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment-debtor.
২,৮৬৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫নং আদেশের ১৫নং বিধি অনুযায়ী, যদি বিবাদীকে পাওয়া না যায় এবং তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে সমন জারি করা যাবে কোন ব্যক্তির উপর?
  1. বিবাদীর পরিবারের যে কোনো নাবালক সদস্যের উপর
  2. বিবাদীর পরিবারের যে কোনো পুরুষ সদস্যের উপর
  3. বিবাদীর পরিবারের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের উপর
  4. বিবাদীর যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিবেশীর উপর
ব্যাখ্যা
→ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫নং আদেশের ১৫নং বিধিমতে বিবাদীকে যদি পাওয়া না যায় এবং বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকে, তখন বিবাদীর পরিবারের যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক লোক (নারী বা পুরুষ) এর উপর সমন জারি করা যাবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ১ থেকে ৩০ বিধিতে সমন জারির বিভিন্ন পদ্ধতির বর্ণনা করা হয়েছে।
বিবাদীর উপর সমন জারি করার ৩টি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে:
১) ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা
২) বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে বিকল্পভাবে বা ঝুলিয়ে সমন জারি করা
৩) ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে সমন জারি করা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৫, বিধি-১৫: যখন কোন মোকদ্দমায় যদি সমন জারির সময় বিবাদী তার বসবাসের স্থানে অনুপস্থিত থাকে, এবং সমন গ্রহণের ক্ষমতা প্রাপ্ত তার কোনো প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে বিবাদীর সাথে বসবাস করে, তার পরিবারের এইরুপ যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের উপর সমন জারি করা যাবে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২০১২ সালের সংশোধনী দ্বারা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য এর পরিবর্তে প্রাপ্ত বয়স্ক শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ এখন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষ উভয়ের নিকট দেয়া যাবে।
------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 5 Rule 15: Where service may be on adult member of defendant's family-
Where in any suit the defendant cannot be found and has no agent empowered to accept service of the summons on his behalf, service may be made on any adult member of the family of the defendant who is residing with him.
২,৮৬৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক অনুযায়ী ‘মধ্যস্থতাকারীদের প্যানেল’ প্রস্তুত করার দায়িত্ব কার?
  1. আইনমন্ত্রী
  2. জেলা জজ
  3. আইন মন্ত্রণালয়
  4. জেলা প্রশাসক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক(১০) অনুযায়ী, জেলা জজ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সাথে পরামর্শ করে মধ্যস্থতাকারীদের একটি প্যানেল প্রস্তুত করেন।
এই প্যানেলে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
- আইনজীবী,
- অবসরপ্রাপ্ত বিচারক,
- বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি,
- প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিযুক্ত নন এমন অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তি।
এছাড়াও, জেলা জজ এই প্যানেল সময়ে সময়ে হালনাগাদ করেন এবং তার এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক(১০) অনুযায়ী "জেলা জজ, জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সাথে পরামর্শ করে মধ্যস্থতাকারীদের একটি প্যানেল প্রস্তুত করবেন (যা সময় সময় আপডেট করা হবে)। এই প্যানেলে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, মধ্যস্থতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।"
এবং জেলা জজ নিজ প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে এই প্যানেল সম্পর্কে অবহিত করবেন।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section-(10) For the purposes of this section, the District Judge shall, in consultation with the President of the District Bar Association, prepare a panel of mediators (to be updated from time to time) consisting of pleaders, retired judges, persons known to be trained in the art of dispute resolution, and such other person or persons, except persons holding office of profit in the service of the Republic, as may be deemed appropriate for the purpose, and shall inform all the Civil Courts under his administrative jurisdiction about the panel: 
Provided that, a mediator under this sub-section shall not act as a mediator between the parties if he had ever been engaged by either of the parties as a pleader in any suit in any Court.
২,৮৭০.
যদি বাদী কোর্ট ফি প্রদান না করে এবং বিবাদীর উপর সমন জারি না হয়, তবে আদালত কী আদেশ দিতে পারেন?
  1. মামলার শুনানি স্থগিত করতে পারে
  2. মামলা খারিজ করতে পারে
  3. মামলা পুনরায় বিবেচনা করতে পারে
  4. বাদীর বিরুদ্ধে জরিমানা করতে পারে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি-২:

নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদী কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদীর উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed: 
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
২,৮৭১.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুসারে, আদালতের প্লিডিং সংশোধনের আদেশে সময়সীমা উল্লেখ না থাকলে সংশোধন কার্য কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী, আদালত যদি প্লিডিং সংশোধনের আদেশ দেন কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করেন, তবে সংশোধন আদেশের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যদি এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হয় এবং আদালত সময় বাড়ানোর অনুমতি না দেয়, তবে সংশোধনের অনুমতি হারিয়ে যায়।
- অর্থাৎ, সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৪ দিন, যদি না আদালত বিশেষভাবে মেয়াদ বাড়ান।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৮: আদেশ প্রদানের পরে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে: কোন পক্ষ আরজি জবাব সংশোধনের অনুমতি সূচক আদেশ লাভ করার পর যদি আদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংশোধন না করে অথবা আদেশে কোন সময় নির্ধারণ করা না হলে আদেশের তারিখ হতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি সংশোধন না করেন, তবে উক্ত নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সংশোধন করার অনুমতি পাবেন না, যদি না আদালত উক্ত মেয়াদ বর্ধিত করে থাকেন।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908,Order-6 Rule-18: Failure to amend after order:
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.

২,৮৭২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ অনুযায়ী যদি বাদী আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলা প্রত্যাহার করে, তবে কী ঘটবে?
  1. বাদী নতুন মামলা দায়েরে বাধা পাবে
  2. বাদী মামলার খরচের জন্য দায়ী হবে
  3. বিবাদীকে মামলার খরচ বহন করতে হবে
  4. 'ক' এবং 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩, বিধি ১(৩) অনুযায়ী, “যদি বাদী আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলা প্রত্যাহার করে বা দাবির অংশ পরিত্যাগ করে, তাহলে সে মামলার খরচ বহনের জন্য দায়ী হবে এবং উক্ত বিষয়বস্তু বা দাবির অংশ সম্পর্কে নতুন মামলা দায়ের করতে পারবে না।”
অর্থাৎ, বাদী দুটি ফলাফলের সম্মুখীন হবে:
১) মামলার খরচ তাকে বহন করতে হবে, এবং
২) পুনরায় একই বিষয়ে মামলা করতে পারবে না।
এই কারণে উত্তর: 'ঘ' (ক এবং খ) সঠিক।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩, বিধি-১ মামলা প্রত্যাহার বা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ:
(১) মামলা দায়ের হবার পর যে কোন সময় বাদী সকল বা যে কোন বিবাদীর বিরুদ্ধে তার মামলা প্রত্যাহার করতে অথবা তার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে ।
(২) যেক্ষেত্রে আদালত এই মর্মে পরিতুষ্ট হন—
ক) যে, মামলাটি কোন আনুষ্ঠানিক ক্রটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, অথবা
খ) যে, মামলার বিষয় বস্তুর জন্য বা কোন দাবীর অংশের জন্য নুতনভাবে মামলা দায়েরের জন্য বাদীকে অনুমতি দেয়ার অন্যান্য যথেষ্ট অজুহাত রয়েছে। সেক্ষেত্রে আদালত ইহার বিবেচনা মত উপযুক্ত শর্তে বাদীকে উক্ত মামলার বিষয় বস্তু বা কোন বাদীর উক্ত অংশ সম্পর্কে নূতনভাবে মামলা দায়ের করার স্বাধীনতা সহ উক্ত মামলা হতে প্রত্যাহার করার বা দাবীর অংশ পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জর করতে পারেন।
(৩) উপবিধি (২) এ উল্লেখিত অনুমতি ছাড়া যেক্ষেত্রে বাদী মামলা প্রত্যাহার করে, বা দাবীর অংশ পরিত্যাগ করে, সেক্ষেত্রে সে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে মামলার খরচের জন্য দায়ী হবে এবং উক্ত বিষয়বস্তু বা আংশিক দাবী সম্পর্কে নূতনভাবে কোন মামলা দায়ের করা হতে বাধা গ্রস্থ হবে।
(৪) অত্র বিধির কোন কিছুই আদালতকে কতিপয় বাদীর মধ্যে হতে একজন কর্তৃক অন্যদের সম্মতি ব্যতিত মামলা প্রত্যাহার করার অনুমতি দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-1. Withdrawal of suit or abandonment of part of claim:
(1) At any time after the institution of a suit the plaintiff may, as against all or any of the defendants, withdraw his suit or abandon part of his claim.
(2) Where the Court is satisfied—
(a) that a suit must fail by reason of some formal defect, or
(b) that there are other sufficient grounds for allowing the plaintiff to institute a fresh suit for the subject-matter of a suit or part of a claim,
it may, on such terms as it thinks fit, grant the plaintiff permission to withdraw from such suit or abandon such part of a claim with liberty to institute a fresh suit in respect of the subject-matter of such suit or such part of a claim.
(3) Where the plaintiff withdraws from a suit, or abandons part of a claim, without the permission referred to in sub-rule (2), he shall be liable for such costs as the Court may award and shall be precluded from instituting any fresh suit in respect of such subject-matter or such part of the claim.
(4) Nothing in this rule shall be deemed to authorise the Court to permit one of several plaintiffs to withdraw without the consent of the others.
২,৮৭৩.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২৫ বিধি ১ এর অধীন আদালত বাদীকে কোন ধরনের খরচের জন্য জামানত প্রদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র বাদীর হাজির হওয়ার খরচ
  2. শুধুমাত্র বিবাদীর সম্ভাব্য খরচ
  3. মোকদ্দমার ব্যয়ের যাবতীয় খরচ
  4. বিবাদীর সম্ভাব্য এবং মোকদ্দমার ব্যয়ের যাবতীয় খরচ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২৫ বিধি ১ এর বিষয়বস্তু হচ্ছে খরচের জন্য জামানত [Security for costs]।

⇒ বিধি ১- অনুসারে,
বাদী দেশের বাহিরে অবস্থান করলে এবং বাদীর যদি মোকদ্দমার সম্পত্তি ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন স্থাবর সম্পত্তি না থাকে সেই ক্ষেত্রে আদালত বিবাদীর আবেদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোকদ্দমার দায়েরের বা ব্যয়ের যাবতীয় খরচ এবং বিবাদীর সম্ভাব্য খরচের জন্য জামানত প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।
২,৮৭৪.
এক জেলার আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা অন্য জেলার আদালতে স্থানান্তর করতে পারে কোন কর্তৃপক্ষ?
  1. সংশ্লিষ্ট জেলা জজ
  2. সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত
  3. সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্টার
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী মামলা বা আপিল স্থানান্তর ও প্রত্যাহার- যে কোন সময় হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ আদালত অধঃস্তন আদালতের কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অপর কোন কার্যক্রম স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করতে পারেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২, ২৩ ও ২৪ ধারা এবং The Civil Courts Act, 1887 এর ২২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমা ও আপিল স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ও ২৪ ধারা অনুযায়ী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র বিবাদী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে যখন কোন মোকদ্দমা দুই বা ততোধিক আদালতে দায়েরযোগ্য বা বিচারযোগ্য। কিন্তু ২৪ ধারার আওতায় মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা আদালত স্বতঃ প্রবৃত্ত হয়ে নিজে (own motion) কোন মামলা বা আপিল স্থানান্তর করতে পারে।
♦সুতরাং বিবাদী হলে ২২ ধারা, অন্যদিকে মামলার যে কোন পক্ষ অথবা আদালত নিজে হলে ২৪ ধারা প্রযোজ্য হবে।
♦এক জেলার আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা অন্য জেলার আদালতে স্থানান্তর করতে পারে হাইকোর্ট বিভাগ, আর  জেলা জজ আদালত শুধু তার অধঃস্তন আদালতের কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অপর কোন কার্যক্রম স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করতে পারেন।
♦কোন মোকদ্দমা স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে যে পর্যায়ে তা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।
♦স্বল্প এখতিয়ার আদালত হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মোকদ্দমার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মোকদ্দমার ব্যাপারে স্বল্প এখতিয়ার আদালত বলে গণ্য করতে হবে।
২,৮৭৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৩ অনুযায়ী, বিবাদী তার লিখিত বিবৃতিতে কী করতে বাধ্য?
  1. শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের দাবী মেনে নেওয়া
  2. বাদীর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা
  3. সাধারণভাবে অভিযোগের সত্যতা মেনে নেওয়া
  4. অভিযোগের প্রত্যেকটি তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি-৩: অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে:
- বিবাদীকে তার লিখিত বিবৃতিতে বাদীর অভিযোগের কারণসমূহ সাধারণভাবে অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না, বরং যে সকল তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা বিবাদী স্বীকার করে না, সেগুলোর প্রত্যেকটি বিবাদীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয় ব্যতীত।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order 8 Rule 3- Denial to be specific:
- It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.
২,৮৭৬.
বিচার্য বিষয় প্রণয়নের জন্য কোনটি প্রয়োজনীয়?
  1. আদালতে পক্ষগণের সাক্ষ্য গ্রহণ।
  2. বাদী ও বিবাদী উভয়ের লিখিত বক্তব্য।
  3. একপক্ষ আদালতে উপস্থিতি স্বীকার করে।
  4. বাদী ও বিবাদী উভয়ের মধ্যে বিরোধী বক্তব্য।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার XIV, রুল ১ অনুসারে, বিচার্য বিষয় (Issues) নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজন যে, বাদী ও বিবাদীর মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ থাকতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER XIV Rule 1 অনুসারে, বিচার্য বিষয় প্রণয়নের জন্য:
- গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির (Material Proposition) প্রয়োজন
- এক পক্ষের দাবি ও অপর পক্ষের অস্বীকার থাকতে হবে
- বিরোধ না থাকলে (যেমন বিবাদী সব দাবি মেনে নিলে) বিচার্য বিষয়ের প্রয়োজন নেই। 

- বিচার্য বিষয় প্রণয়নের জন্য বিরোধী বক্তব্য প্রয়োজনীয়।
- এর মানে হলো, যখন একটি পক্ষ একটি তথ্য বা আইনগত বিষয়ের প্রতি তার দাবি ঘোষণা করে এবং অন্য পক্ষ সেটি অস্বীকার করে, তখন এই ধরনের বিরোধী বক্তব্য বা বিবৃতি বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব ঘটায়।
- আদালত তখন এই বিরোধী বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করে এবং মামলার নিষ্পত্তির জন্য এগুলি গুরুত্ব দেয়।

ORDER-XIV, Rule-1: Framing of Issues:
(1) Issues arise when a material proposition of fact or law is affirmed by one party and denied by the other.
(2) Material propositions are those propositions of law or fact which a plaintiff must allege in order to show a right to sue or a defendant must allege in order to constitute his defence.
(3) Each material proposition affirmed by one party and denied by the other shall form the subject of a distinct issue.
২,৮৭৭.
আদেশ ৪০ বিধি-৪ অনুযায়ী, রিসিভারের সম্পত্তি বিক্রি করার পর যদি অবশিষ্ট অর্থ থাকে, আদালত তা-
  1. বাজেয়াপ্ত করবে
  2. বাদী ও বিবাদীর মাঝে বণ্টন করবে
  3. রিসিভারের নিকট ফেরত দেবে
  4. সরকারি তহবিলে জমা করবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪০ বিধি-৪: রিসিভারের দায়িত্ব বলবৎকরণ:
যেক্ষেত্রে রিসিভার-
ক) আদালতের নির্দেশিত সময়ে এবং ফরমে তার হিসাবাদি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, অথবা
খ) তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা আদালতের নির্দেশ মতে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, বা
গ) তার ইচ্ছামত বরখেলাপ বা গুরুতর অবহেলার জন্য সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্বারা তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করতে বা তার দ্বারা সাধিত অনিষ্টের খেসারত প্রদানে ব্যবহার করতে পারে এবং অবশিষ্ট টাকা (যদি কোন) রিসিভারের নিকট প্রদান করবে।

২,৮৭৮.
রিসিভারের গুরুতর অবহেলার জন্য সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হলে, আদালত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে?
  1. জরিমানা করতে পারে
  2. দায়িত্ব স্থগিত করতে পারে
  3. দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারে
  4. রিসিভারের সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করতে পারে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪০ বিধি-৪: রিসিভারের দায়িত্ব বলবৎকরণ:
যেক্ষেত্রে রিসিভার-
ক) আদালতের নির্দেশিত সময়ে এবং ফরমে তার হিসাবাদি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, অথবা
খ) তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা আদালতের নির্দেশ মতে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, বা
গ) তার ইচ্ছামত বরখেলাপ বা গুরুতর অবহেলার জন্য সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্বারা তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করতে বা তার দ্বারা সাধিত অনিষ্টের খেসারত প্রদানে ব্যবহার করতে পারে এবং অবশিষ্ট টাকা (যদি কোন) রিসিভারের নিকট প্রদান করবে।

Rule 4: Enforcement of receiver's duties:
Where a receiver-
a) fails to submit his accounts at such periods and in such form as the Courtdirects, or
b) fails to pay the amount due from him as the Court directs, or
c) occasions loss to the property by his wilful default or gross negligence, the Court may direct his property to be attached and may sell such property, and may the proceeds to make good any amount found to due from him or any loss occasi-oned by him, and shall pay the balance (if any) to the receiver.
২,৮৭৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪ ধারায় কোন আদালত মোকদ্দমা স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে?
  1. সকল দেওয়ানি আদালত
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. জেলা জজ আদালত
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪ ধারায় মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] এবং প্রত্যাহারের [Withdrawal] সাধারণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• যে আদালত স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-
⇒ হাইকোর্ট বিভাগ এবং
⇒ জেলা জজ আদালত

• আদালত যে আদেশ দিতে পারে-
হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ কোন পক্ষের (বাদী বা বিবাদীর) আবেদনক্রমে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে [at any stage of the suit]-
⇒ কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] আদেশ দিতে পারে, বা
⇒ কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্য কার্যক্রম প্রত্যাহারের [withdrawal] আদেশ দিতে পারে।

• যে কারণে স্থানান্তরের বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-
⇒ যদি মামলাকারীর মনে যুক্তিযুক্ত আশঙ্কা থাকে যে, যে আদালতে মোকদ্দমাটি বিচারাধীন আছে সেই আদালতে সে ন্যায় বিচার নাও পেতে পারে;
⇒ যে ক্ষেত্রে বিচারক কোন একপক্ষের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়;
⇒ মামলার বহুত্ব কমানোর জন্য;
⇒ আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে;
⇒ পক্ষদ্বয়ের সুবিধার জন্য ইত্যাদি।
২,৮৮০.
নিম্নলিখিত কোন বিষয়টি আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে আমলে নিতে পারেন না?
  1. আরজি বা লিখিত জবাব
  2. কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু
  3. কোন পক্ষের মোট সাক্ষীর সংখ্যা
  4. পক্ষগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ
ব্যাখ্যা
⇒ কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় এর স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ নং আদেশে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
-আদেশ ১৪ বিধি ৩ মতে-আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন [Materials from which issues may be framed]—
ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উত্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ,
[allegations made on faith by the parties, or by any persons present on their behalf, or made by the pleaders of such parties]
খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূ্‌হ,
[allegations made in the pleadings or in answers to interrogatories delivered in the suit]
গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু। 
[the contents of documents produced by either party]

- সাক্ষ্য আইনের ১৩৪ ধারা অনুযায়ী কোন মামলা প্রমাণের জন্য সাক্ষীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়; অর্থাৎ একটি মামলার কোন বিষয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নাই। শুধুমাত্র একজন সাক্ষী দ্বারাও মামলা নি:সন্দেহে প্রমাণ করা যায়।
 
- সংখ্যায় নয়, সাক্ষীর গুণাগুণ বিচার করতে হবে (Testes ponderautur, non numerator)- এই প্রবচনটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল- 'witnesses are weighed, not numbered'.-বিচারকালে সাক্ষীর সাক্ষ্যকে ওজন করতে হয়, সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয় না। যে ঘটনা সম্পর্কে যতজন মানুষ জ্ঞান রাখেন, ততজনই সাক্ষী হওয়া উচিত। সাক্ষীর সংখ্যা কৃত্রিম মানদণ্ডে হওয়া উচিত নয়।
-বিচারকালে আদালত সাক্ষীর গুণাগুণ বিচার করেন, সংখ্যা নয়।
২,৮৮১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ ধারায় কোন আদালত সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. গ্রাম আদালত
  2. রাজস্ব আদালত
  3. ফৌজদারি আদালত
  4. ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ ধারায় ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত বা Small Cause Courts সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। যদি স্মল কজ কোর্ট বা স্বল্প এখতিয়ার আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি প্রযোজ্য হয়, তাহলে দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারা ও বিধি ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালতে প্রযোজ্য হবে না তা ৭ ধারায় বলা হয়েছে।

• ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালতের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না-
⇒ ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত মোকদ্দমা;
⇒ এরূপ মোকদ্দমার ডিক্রি জারি; এবং
⇒ স্থাবর সম্পত্তির ডিক্রি জারি।

তবে, ক্ষুদ্র বিষয়ক বিচার আদালত বা স্বল্প এখতিয়ার আদালতের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারা; ৯১ ও ৯২ ধারা; ২৪ ও ৯৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ইনজাংশন, রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান এবং ৯৬ থেকে ১১২ ও ১১৫ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
২,৮৮২.
দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ এর ধারা ৩৭(২) অনুযায়ী, যদি কোনো বিষয়ে স্থানীয় আইন বা বিধি না থাকে, আদালত কী করবে?
  1. মামলা খারিজ করবে
  2. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনা করবে
  3. হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে
  4. সুবিবেচনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ এর ধারা -৩৭: স্থানীয় আইন অনুসারে কতিপয় সিদ্ধান্ত প্রদান: 
(১) কোনো দেওয়ানি মামলা বা অন্যান্য বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো আদালতের যদি উত্তরাধিকার, উইল ব্যতীত উত্তরাধিকার, বিবাহ বা জাত বা ধর্মীয় প্রথা বা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির বিষয় নিষ্পত্তির প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে আদালত অনুরূপ মামলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে, পক্ষগণ [মুসলিম] হইলে, ২[মুসলিম] আইন এবং পক্ষগণ হিন্দু হইলে, হিন্দু আইন অনুসরণ করিবে, যদি না বিধিবদ্ধ কোনো আইন দ্বারা অনুরূপ আইন পরিবর্তন বা বিলুপ্ত করা হয়।

(২) যেসকল বিষয়ে উপ-ধারা (১) বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে কোনো বিধান নাই, সেই সকল বিষয়ে আদালত ন্যায় বিচার, ন্যায়পরায়ণতা এবং সুবিবেচনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।

২,৮৮৩.
"গ্রাম আদালত আইন" প্রণীত হয়েছে কোন সনে?
  1. ১৯৭৬
  2. ১৯৮৫
  3. ২০০২
  4. ২০০৬
ব্যাখ্যা
গ্রাম আদালত আইন:

- গ্রামীণ পর্যায়ে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধ ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিস্পত্তির প্রাথমিক প্রচেষ্টা হল গ্রামীণ আদালত। 
- 'গ্রাম আদালত আইন' প্রণীত হয় ৯ মে, ২০০৬ সালে। 
- দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠন করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে দুই করে মোট ৫ পাঁচ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ার ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বর্ধিতকরন সুপারিশকল্পে গত ৫ মার্চ,২০২৪ এ সংশোধনী বিল উত্থাপিত হয়।

তথ্যসূত্র-  গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬, পত্রিকা রিপোর্ট।
২,৮৮৪.
দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে আপিল করতে চাইলে কোথায় দরখাস্ত দায়ের করতে হয়?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. সরাসরি আপিল বিভাগে
  4. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে 
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: আদেশ ৪৫ বিধি-২: যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় সে আদালতে আবেদন:
যে কেউ আপিল বিভাগে আপিল করার ইচ্ছা পোষণ করলে, যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সেই আদালতেই তাকে আবেদনপত্র দ্বারা আবেদন করতে হবে।

Rule.-2:
Whoever desires to appeal to the Appellate Division shall apply by petition to the Court whose decree is complained of.

২,৮৮৫.
দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে এর খোরপোষ কে দিবে?
  1. সরকার
  2. দায়িক নিজেই
  3. মোকদ্দমার বাদী
  4. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩৯ এর বিধান জীবন নির্বাহ দাতা (Subsistence-allowance): দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে তার খোরপোষ বাদীকে দিতে হবে।
⇒ আদেশ ২১ বিধি-৩৯ জীবন নির্বাহ ভাতা:
১) কোন দায়িককেই ডিক্রি জারিতে গ্রেফতার করা যাবে না, যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ডিক্রিদার দায়িককে গ্রেফতার করার তারিখ হতে তাকে আদালতে হাজিরের তারিখ পর্যন্ত তার খোরাকীর জন্য বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ডিক্রিদার আদালতে জমা দেয়।
২) যেক্ষেত্রে ডিক্রি জারিতে কোন দায়িককে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করা হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার খোরাকীর জন্য ৫৭ ধারার অধীনে নির্ধারিত হার অনুসারে যেরকম অধিকারী সেরকম মাসিক ভাতা নির্ধারণ করবে কিংবা যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোন হার নির্ধারিত না হয়, সেক্ষেত্রে তার শ্রেণীর সূত্রে আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করে করে।
৩) যে পক্ষের আবেদনক্রমে দায়িককে গ্রেফতার করা হয়, আদালত কর্তৃক নির্ধারিত মাসিক ভাতা সে পক্ষ মাসিক পরিশোধের দ্বারা প্রতি মাসের প্রথম দিনের পূর্বে অগ্রিম সরবরাহ করবে।
৪) দায়িককে দেওয়ানি জেলে সোর্পদ করার পূর্বে চলতি মাসের অবশিষ্ট অসমাপ্ত অংশের জন্য আদালতের সঠিক কর্মকর্তার নিকট প্রথম প্রদেয় টাকা প্রদান করতে হবে এবং তৎপরবর্তীকালে দেয় (যদি কোন) টাকা দেওয়ানি জেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রদান করা হবে।
৫) দেওয়ানি জেলে আটক দায়িকের খোরাকী বাবদ ডিক্রিদারের খরচ মোকদ্দমার খরচ হিসাবে বিবেচিত হবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, ঐ অর্থ ব্যয়ের নিমিত্তে দায়িককে গ্রেফতার বা দেওয়ানি জেলে আটক করা যাবে না।
---------------
Order-21 Rule-39. Subsistence allowance:
(1) No judgment-debtor shall be arrested in execution of a decree unless and until the decree-holder pays into Court such sum as the Judge thinks sufficient for the subsistence of the judgment-debtor from the time of his arrest until he can be brought before the Court.  (2) Where a judgment-debtor is committed to the civil prison in execution of a decree, the Court shall fix for his subsistence such monthly allowance as he may be entitled to according to the scales fixed under section 57, or, where no such scales have been fixed, as it considers sufficient with reference to the class to which he belongs.  (3) The monthly allowance fixed by the Court shall be supplied by the party on whose application the judgmentdebtor has been arrested by monthly payments in advance before the first day of each month. .  (4) The first payment shall be made to the proper officer of the Court for such portion of the current month as remains unexpired before the judgment-debtor is committed to the civil prison, and the subsequent payments (if any) shall be made to the officer in charge of the civil prison.  (5) Sums disbursed by the decree-holder for the subsistence of the judgment-debtor in the civil prison shall be deemed to be costs in the suit:  Provided that the judgment-debtor shall not be detained in the civil prison or arrested on account of any sum so disbursed.
২,৮৮৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-১৭, বিধি-১(৩) অনুযায়ী, একটি পক্ষ সর্বোচ্চ কতবার খরচ ছাড়া মামলা মুলতবি করার আবেদন করতে পারে?
  1. একবার
  2. তিনবার
  3. চারবার
  4. ছয়বার
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৭, বিধি ১(৩) (Order XVII, Rule 1(3)) অনুসারে, ২০২৫ সালের সংশোধনী (Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025) এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে যে: একটি পক্ষ কোনো মামলা সর্বোচ্চ চারবার (4 বার) খরচ ছাড়া (without cost) মুলতবি করার আবেদন করতে পারবে।
- সংশোধনের আগে এই সংখ্যা ছিল ছয়বার, কিন্তু Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 অনুযায়ী, sub-rule (3)-এ “six” শব্দের পরিবর্তে “four” শব্দটি প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে।
---------
 ⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 17 Rule-1.Court may grant time and adjourn hearing:
(1) The Court may, if sufficient cause is shown, at any stage of the suit grant time to the parties or to any of them, and may from time to time adjourn the hearing of the suit.
Costs of adjournment:
(2) In every such case the Court shall fix a day for the further hearing of the suit, and may make such order as it thinks fit with respect to the costs occasioned by the adjournment:
Provided that, when the hearing of evidence has once begun, the hearing of the suit shall be continued from day to day until all the witnesses in attendance have been examined, unless the Court finds the adjournment of the hearing beyond the following day to be necessary for reasons to be recorded.
(3) Notwithstanding anything contained in sub-rules (1) and (2), the Court shall not grant more than four adjournments in a suit before peremptory hearing at the instance of either party to the suit, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay a cost of not less than two hundred taka and not more than one thousand taka to the other party, within time to be specified by it; noncompliance with which, by the plaintiff shall render the suit liable to be dismissed and, by the defendant shall render the suit liable to be disposed of ex parte:
Provided that the Court shall not grant more than three adjournments to a party even with cost under this rule.

২,৮৮৭.
আদেশ-৯ বিধি-১৩ক অনুযায়ী, একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীর পক্ষে যে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে, তার একটি হলো—
  1. অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদান করা
  2. ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করা
  3. ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করা
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• আদেশ-৯ বিধি-১৩ক: (সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল)-
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।

Order 9 Rule 13A: Directly setting aside ex parte decree-
(1) Notwithstanding anything contained in rule 13 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly set aside the decree without requiring the defendant to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 13, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand take as it may deem appropriate and determine:
that the decree under this rule shall not be set aside unless an application, supported by affidavit, praying for setting aside the decree is make the Court within thirty days of the date on which the decree is passed by the defendant who appeared and filed written statement:
Provided further that no decree shall be set aside more than once under this rule at the instance of the same defendant.

2) As soon as an order under sub-rule (1) is made setting aside an ex parte decree, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the defendant upon the plaintiff.
২,৮৮৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারায় কোন আদালত কর্তৃক কমিশন প্রেরণের বিধান আছে?
  1. হাইকোর্ট
  2. জেলা আদালত
  3. বিদেশি আদালত
  4. স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারার বিধান: বিদেশি আদালত কর্তৃক প্রেরিত কমিশন-
নির্ধারিত এরূপ শর্তাবলি ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, সাক্ষীদের পরীক্ষার নিমিত্তে কমিশন নির্বাহ এবং ফেরত সম্পর্কীয় বিধান নিম্নবর্ণিত আদালত কর্তৃক বা তার অনুরোধে নিযুক্ত কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হবে-
ক) বাংলাদেশ বহির্ভূত স্থানে অবস্থিত এবং সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিংবা পরিচালিত আদালতসমূহ; বা
গ) বাংলাদেশ বহির্ভূত যে কোন রাজ্য বা দেশের কোন আদালত।

Section 78- Commissions issued by foreign Courts:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the provisions as to the execution and return of commissions for the examination of witnesses shall apply to commissions issued by or at the instance of-
(a) Courts situate beyond the limits of Bangladesh and established or continued by the authority of Government, or
(c) Courts of any State or country outside Bangladesh.
২,৮৮৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৩, বিধি-৬ অনুযায়ী, নিঃসম্বল ব্যক্তির আবেদনপত্র শুনানির জন্য কত দিনের নোটিশ দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৩, বিধি-৬ অনুযায়ী, নিঃসম্বল ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনপত্র যদি প্রত্যাখ্যানের কারণ না দেখায়, তাহলে আদালত শুনানির জন্য একটি দিন নির্ধারণ করবে। এই শুনানির তারিখ সম্পর্কে বিপরীত পক্ষ এবং সরকারী উকিলকে কমপক্ষে ১০ দিনের পূর্বে পরিষ্কার নোটিশ দিতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৩, বিধি-৬: আবেদনকারীর নিঃসম্বল অবস্থা সম্পর্কে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখের নোটিশ:
যেক্ষেত্রে ৫ নম্বর বিধিতে বর্ণিত কোনো অজুহাতে আদালত আবেদনপত্র খারিজের কারণ না দেখেন, সেক্ষেত্রে আদালত আবেদনকারী তার নিঃসম্বল অবস্থা প্রমাণের জন্য যে রকম সাক্ষ্য হাজির করবে তা গ্রহণের জন্য এবং তা অপ্রমাণের জন্য যে সাক্ষ্য হাজির করা হয়, তা শুনানির জন্য একটি দিন ধার্য করবেন।
(যার কমপক্ষে ১০ দিনের পরিস্কার নোটিশ বিপরীত পক্ষ এবং সরকারী উকিলকে দিতে হবে)।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33, Rule-6: Notice of day for receiving evidence of applicant's pauperism:
Where the Court sees no reason to reject the application on any of the grounds stated in rule 5, it shall fix a day (of which at least ten days' clear notice shall be given to the opposite party and the Government pleader) for receiving such evidence as the applicant may adduce in proof of his pauperism, and for hearing any evidence which may be adduced in disproof thereof.
২,৮৯০.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ১১৫ ধারর বিধান কি?
  1. রিভিউ
  2. রিভিশন
  3. রেফারেন্স
  4. আপীল
ব্যাখ্যা
•  দেওয়ানী কার্যবিধি ১১৫ ধারা অনুযায়ী বিধান হলো রিভিশন ।
রিভিশন বলতে বুঝায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের কোন মামলার সিদ্ধান্ত সঠিক করার জন্য সংশোধন করা।
রিভিশন করতে হয় উচ্চ আদালতে।
• ১১৫ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের আদালতের রিভিশন এখতিয়ার আছে।
১) জেলা জজ ও
২)হাইকোর্ট বিভাগ
২,৮৯১.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুযায়ী কে অঙ্গীকারনামায় শপথ করাতে পারেন না?
  1. আদালত
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পুলিশ কর্মকর্তা
  4. সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিয়োজিত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) যেকোনো পুলিশ কর্মকর্তা।

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, ধারা ১৩৯- 
যে কোনো অঙ্গীকারনামা এই বিধিমালার অধীন করা হলে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন-
(ক) যে কোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা
(খ) এমন কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি, যাকে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে নিয়োগ দিতে পারে, অথবা
(গ) এমন কোনো কর্মকর্তা, যাকে অন্য কোনো আদালত নিয়োগ দিয়েছে এবং যার ক্ষমতা সরকার সাধারণভাবে বা বিশেষভাবে এই উদ্দেশ্যে প্রদান করেছে—

→ তারা প্রত্যয়কারীকে (deponent) শপথ করাতে পারবেন।
২,৮৯২.
যদি কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি ক্ষতিসাধন করা হয় এবং বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে বসবাস করে, তবে বাদী কোন আদালতে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র উচ্চ আদালতে
  2. যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বিবাদী বসবাস করে
  3. যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখায় ক্ষতিসাধন হয়েছে
  4. 'খ' বা 'গ' উভয় আদালতের যেকোন একটিতে
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৯: ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা:
কোন ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে ক্ষতিসাধন করা হলে এবং বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা করলে বা লাভজনক কাজ করলে, বাদী দুই আদালতের যে কোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

Section 19: Suits for compensation for wrongs to person or movables-
Where a suit is for compensation for wrong done to the person or to movable property, if the wrong was done within the local limits of the jurisdiction of one Court and the defendant resides, or carries on business, or personally works for gain, within the local limits of the jurisdiction of another Court, the suit may be instituted at the option of the plaintiff in either of the said Courts.
২,৮৯৩.
মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে প্রদত্ত প্রশ্নমালা দীর্ঘ ও শব্দবহুল হলে, আদেশ ১১ বিধি ৭ এর অধীন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?
  1. প্রশ্নমালা গ্রহণ করা হবে
  2. প্রশ্নমালা কর্তন করা যাবে
  3. প্রশ্নমালা অগ্রাহ্য করা হবে
  4. প্রশ্নমালা বাতিল ঘোষণা করা হবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ১১ বিধি ৭- প্রশ্নমালা রদ এবং কর্তন:
কোন প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে উত্থাপিত হয়েছে-এই অজুহাতে তা রদ করা যেতে পারে, বা তা দীর্ঘ ও শব্দ বহুল, যাতনাদায়ক, অনাবশ্যকীয় বা কুৎসামূলক বলে কর্তন করা যেতে পারে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন দরখাস্ত করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাতদিনের ভিতর পেশ করা যেতে পারে।

Order 11 Rule 7: Setting aside and striking out interrogatories:
Any interrogatories may be set aside on the ground that they have been exhibited unreasonably or vexatiously, or struck out on the ground that they are profix, oppressive, unnecessary or scandalous; and any application for this purpose may be made within seven days after service of the interrogatories.
২,৮৯৪.
নিচের কোনটি আদেশ ১৮ বিধি ৪ অনুযায়ী সঠিক নয়?
  1. সাক্ষ্য মৌখিকভাবে দিতে হবে
  2. সাক্ষ্য প্রকাশ্য আদালতে দিতে হবে
  3. সাক্ষ্য লিখিত ভাবে দিতে হবে 
  4. সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে গ্রহণ করতে হবে
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ (প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি)-
হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

[Witnesses to be examined in open Court-
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.]

২,৮৯৫.
কোনো পক্ষ কীভাবে অন্য পক্ষের মামলার অংশ বা পুরো সত্যতা স্বীকার করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র মৌখিকভাবে
  2. শুধুমাত্র আদালতের মাধ্যমে আবেদন করে
  3. শুধুমাত্র প্লিডিং এর মাধ্যমে
  4. প্লিডিং বা অন্য কোনো লিখিত নোটিশ দিয়ে
ব্যাখ্যা

আদেশ ১২ বিধি ১:
কোনো মোকদ্দমার পক্ষ তার বিবৃতি (pleading) বা অন্য কোনো লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাতে পারে যে- সে অপর কোনো পক্ষের মামলার পুরোটা অথবা কোনো অংশের সত্যতা স্বীকার করছে।

Notice of admission of case:
Any party to a suit may give notice, by his pleading, or otherwise in writing, that he admits the truth of the whole or any part of the case of any other party.

২,৮৯৬.
The Civil Courts Act, 1887 এর ৯ অনুযায়ী স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ থাকবে?
  1. বিচারিক
  2. প্রশাসনিক
  3. দাপ্তরিক
  4. স্বেচ্ছামূলক
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন থাকবে।

ধারা ৯- আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতা (Administrative control of Courts):
হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলা জজের তার স্থানীয় সীমানায় অবস্থিত সকল দেওয়ানি আদালতের উপর তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

Section 9: Administrative control of Courts-
Subject to the superintendence of the High Court Division, the District Judge shall have administrative control over all the Civil Courts under this Act within the local limits of his jurisdiction.
২,৮৯৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারার বিধান কী?
  1. Legal representative
  2. Powers of Court to enforce execution
  3. Liability of ancestral property
  4. Enforcement of decree against legal representative
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫১ ধারার বিধান জারি কার্যকর করার জন্য আদালতের ক্ষমতা:
যে সকল শর্তাদি ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়, তৎসাপেক্ষে আবেদনক্রমে আদালত ডিক্রি জারীর আদেশ প্রদান করতে পারেন-
ক) স্পষ্টভাবে ডিক্রিভূক্ত কোন সম্পত্তি অর্পণের দ্বারা;
খ) কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় অথবা ক্রোক ব্যতিত কোন সম্পত্তি বিক্রয়ের দ্বারা;
গ) গ্রেফতার ও কারাগারে আটক করে;
ঘ) রিসিভার নিয়োগ করে; অথবা
ঙ) প্রদত্ত প্রতিকারের প্রকৃতি অনুসারে অন্য কোন পন্থায়ঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রিটি যদি অর্থ পরিশোধের জন্য হয়, তবে কারাগার আটকের আদেশ দেয়া যাবে না, যদি না রায়ের দেনাদারকে কেন কারাগারে সোপর্দ করা হবে না, তার কারণ দর্শাইবার জন্য সুযোগ দেয়ার পর আদালত সম্ভষ্ট হয়ে তার জন্য যে কোন কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করেন
ক) যে রায়ের দেনাদার ডিক্রি জারীর বাধাদান বা উহা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে
(১) পলাতক হতে পারে অথবা সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা পরিত্যাগ করতে পারে, অথবা
(২) যে মামলায় ডিক্রি দেওযা হয়েছে তা দায়েরের পর তার সম্পত্তির কোন অংশ অসদুপায়ে হস্তান্তরিত, গোপন বা অপসারিত করেছে বা তার সম্পত্তি নিয়ে অন্য কোনরূপ খারাপ বিশ্বাসের কাজ করেছে; অথবা
খ) ডিক্রির তারিখ পর্যন্ত বা তৎপর ডিক্রির টাকা সম্পূর্ণ বা তার উপযুক্ত অংশ পরিশোধের সংগতি রায়ের দেনাদারের ছিল বা আছে, এবং সেই টাকা পরিশোধে সে অস্বীকার বা অবহেলা করে বা অস্বীকার বা অবহেলা করেছে, অথবা
গ) ডিক্রিটি যে পরিমাণ অর্থের জন্য ছিল, সেই পরিমাণের জন্য রায়ের দেনাদার আস্থাভাজন ব্যক্তির ভূমকিয় হিসেবে জন্য দায়ী ছিল।
ব্যাখ্যাঃ দফা (খ) এ বর্ণিত রায়ের দেনাদারের সংগতি হিসেবে করার সময় রায়ের দেনাদারের যে সম্পত্তি বর্তমানে প্রচলত কোন আইন বা আইনের ন্যায় প্রযোজ্য অপর কোন রীতি অনুসারে ডিক্রিজারীর দরুণ ক্রোক হতে অব্যাহতি লাভের যোগ্য, তা হিসেবে ধরা চলবে না।
-----------
⇒ Section 51. Powers of Court to enforce execution.

-Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, on the application of the decree-holder, order execution of the decree- 
(a) by delivery of any property specifically decreed; 
(b) by attachment and sale or by sale without attachment of any property; 
(c) by arrest and detention in prison; 
(d) by appointing a receiver; or 
(e) in such other manner as the nature of the relief granted may require: 
 
Provided that, where the decree is for the payment of money, execution by detention in prison shall not be ordered unless, after giving the judgment-debtor an opportunity of showing cause why he should not be committed to prison, the Court, for reasons recorded in writing, is satisfied- 
(a) that the judgment-debtor, with the object or effect of obstructing or delaying the execution of the decree,- 
(i) is likely to abscond or leave the local limits of the jurisdiction of the Court, or 
(ii) has, after the institution of the suit in which the decree was passed, dishonestly transferred, concealed, or removed any part of his property, or committed any other act of bad faith in relation to his property; or 
(b) that the judgment-debtor has, or has had since the date of the decree, the means to pay the amount of the decree or some substantial part thereof and refuses or neglects or has refused or neglected to pay the same, or 
(c) that the decree is for a sum for which the judgment-debtor was bound in a fiduciary capacity to account. 
Explanation.-In the calculation of the means of the judgment-debtor for the purposes of clause (b), there shall be left out of account any property which, by or under any law or custom having the force of law for the time being in force, is exempt from attachment in execution of the decree.
২,৮৯৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৮৯ক অনুযায়ী ধ্যস্থতার আদেশ পাওয়ার পর পক্ষগণ কত দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের তথ্য আদালতকে জানাবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ক(৪) অনুযায়ী:
Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator...”
বাংলায় অর্থ: ধারা ৮৯ক(১) এর অধীনে আদালত যখন মধ্যস্থতার আদেশ দেন বা রেফার করেন, তখন সেই তারিখ থেকে গণনা করে ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পক্ষগণ আদালতকে লিখিতভাবে জানাবে যে, তারা কাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে।
- যদি তারা ১০ দিনের মধ্যে কাউকে নিযুক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত নিজে ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন।

- তাই সঠিক উত্তর: খ) ১০ দিন। 
২,৮৯৯.
যদি কেবল বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং মোকদ্দমার পক্ষ আপত্তি না করে, আদালত আদেশ-১৫, বিধি-৩ অনুসারে কী করতে পারে?
  1. মামলা স্থগিত করতে পারে
  2. রায় বাতিল করতে পারে
  3. সরাসরি রায় ঘোষণা করতে পারে
  4. নতুন মামলা শুরু করতে পারে
ব্যাখ্যা

আদেশ-১৫, বিধি ৩-
১) যদি মামলার পক্ষদের মধ্যে আইন বা ঘটনার কোনো প্রশ্ন বিচারযোগ্য হয় এবং আদালত আগে থেকেই বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে, তবে আদালত যদি মনে করেন যে আরও যুক্তি বা প্রমাণের দরকার নেই এবং তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করলে কারো প্রতি অবিচার হবে না, তাহলে আদালত সরাসরি বিচার্য বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে রায় দিতে পারেন।

তবে, যদি শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয়ে থাকে এবং মামলার পক্ষ বা তাদের উকিল উপস্থিত থেকে কোনো আপত্তি না করেন, তাহলে আদালত সেই অনুযায়ী রায় ঘোষণা করতে পারেন।

২) কিন্তু, যদি আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি, তাহলে তিনি মামলার অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য বা যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

২,৯০০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৫২-এর অধীনে কোনটি সংশোধনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. গাণিতিক ভুল
  2. করণিক ভুল
  3. আকস্মিক বিচ্যুতি
  4. আইনের ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ধারা ১৫২ (Section 152 CPC) অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত ত্রুটি সংশোধন করতে পারে:
- করণিক ভুল (Clerical mistake) – যেমন লেখা বা টাইপিং এর ভুল
- গাণিতিক ভুল (Arithmetical mistake) – যেমন হিসাবের ভুল
- আকস্মিক বিচ্যুতি বা ছোঁড়া ত্রুটি (Accidental slip or omission)
কিন্তু আইনের ভুল প্রয়োগ বা বিচারকের সিদ্ধান্তের নীতিগত ভুল সংশোধনের জন্য ধারা ১৫২ প্রযোজ্য নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫২ ধারার বিধান রায়, ডিক্রি বা আদেশসমূহের সংশোধন:
রায়, ডিক্রি বা আদেশে করণিক বা গাণিতিক ভুল অথবা কোন আকষ্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির কারণে তথায় কোন ভুল থাকলে যে কোন সময় আদালত নিজস্ব উদ্যোগে কিংবা কোন পক্ষের আবেদনে তা শুদ্ধ করতে পারে।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 152 Amendment of judgments, decrees or orders:
Clerical or arithmetical mistakes in judgments, decrees or orders or errors arising therein from any accidental slip or omission may at any time be corrected by the Court either of its own motion or on the application of any of the parties.