বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা ২০ / ৩০ · ১,৯০১২,০০০ / ২,৯৯৩

১,৯০১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৭ ধারা অনুসারে বাংলাদেশের বাইরে বসবাসকারী কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণের পরিবর্তে কী প্রেরণ করতে পারে?
  1. সাধারন পত্র
  2. অনুরোধ পত্র
  3. লিখিত আদেশনামা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ৭৭ : অনুরোধ পত্র [Letter of request] :

বাংলাদেশের বাইরে বসবাসকারী কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণের পরিবর্তে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করতে পারে।
[In lieu of issuing a commission the Court may issue a letter of request to examine a witness residing at any place not within Bangladesh.]
১,৯০২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশে মূল ডিক্রি হতে আপিল এর বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ৪১
  2. ৪৩
  3. ৪৫
  4. ৪৪
ব্যাখ্যা
⇒আপিল (Appeal)- মোকদ্দমার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে, তাকে আপিল বলে।
- আপিল হলো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির মামলার রায় অনুমোদনযোগ্য কিনা তা পুনরায় নির্ধারণের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে প্রেরণের অধিকার।
- অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন।

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১-৪৫ এবং ধারা ৯৬-১১২ পর্যন্ত আপিল সংক্রান্ত বিধান আছে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১  এর মাঝে মূল ডিক্রি হতে আপিল বিষয় বিধান আছে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ থেকে ১১২ ধারা পর্যন্ত দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপিলের বিধান উল্লেখ রয়েছে। নিম্নে দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপিলের বিধানসমূহ আলোচনা করা হলো-
ⅰ) মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল: ধারা-৯৬ থেকে ৯৯, আদেশ-৪১;
ii) আদেশের বিরুদ্ধে আপিল: ধারা-১০৪ থেকে ১০৬, আদেশ-৪৩;
iii) আপিলের সাধারণ বিধানমসূহ: ধারা-১০৭ থেকে ১০৮;
iv) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল: ধারা-১০৯ থেকে ১১২; এবং
v) নিঃস্ব ব্যক্তির আপিল: আদেশ-৪৪।
১,৯০৩.
আদেশ ৩৫, বিধি ২ অনুযায়ী, দাবিকৃত বস্তু কখন আদালতে প্রদান করার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে?
  1. মামলার আপিল চলাকালীন
  2. বিবাদীর আপত্তি শুনার পরে
  3. মামলার রায় দেওয়ার পরে
  4. বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে
ব্যাখ্যা
আদেশ-৩৫, বিধি-২: দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদান-
যেক্ষেত্রে দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মামলায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে তা অনুরূপভাবে আদালতে প্রদান করতে তলব করা যেতে পারে।

Order-35 Rule-2: Payment of thing claimed into Court:
Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the Court, the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit.
১,৯০৪.
দেওয়ানি আদালত সমূহের আর্থিক এখতিয়ার কোন আইনে উল্লেখ আছে?
  1. The Civil Courts Act, 1887
  2. The Code of Civil Procedure, 1908
  3. The Court Fees Act, 1870
  4. The Specific Relief Act, 1877
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্থিক এখতিয়ার সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে নির্ধারিত হয়।
 
• The Civil Courts Act, 1887 আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী-
 
⇒ সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা
⇒ সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা
⇒ যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের; মোকদ্দমার বিচার করতে পারে।
১,৯০৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন আদেশে নিঃস্ব ব্যক্তির মামলা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-৩২
  2. আদেশ-৩৩
  3. আদেশ-৩৪
  4. আদেশ-৩৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908)-এর আদেশ ৩৩ (Order XXXIII) নিঃস্ব ব্যক্তির (pauper) পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে।
আদেশ ৩৩, বিধি ১ অনুযায়ী “কোন ব্যক্তি যদি মামলার জন্য নির্ধারিত কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হন, অথবা কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত না থাকলে তার পরিধেয় বস্ত্র ও মামলার বিষয়বস্তু ব্যতীত অন্য কোন সম্পত্তি যদি ৫০০০ টাকার বেশি না থাকে, তবে সেই ব্যক্তি 'নিঃস্ব' (pauper) হিসেবে গণ্য হবেন এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করতে পারবেন।”

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতে, নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
-------------
⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis:
Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.
Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.
১,৯০৬.
যদি প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমায় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত নোটিশ দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে আদালত কী নির্দেশ দিতে পারে?
  1. মামলাটি স্থগিত করতে
  2. নতুন বাদী যুক্ত করতে
  3. সাক্ষীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করতে
  4. গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নোটিশ প্রকাশ করতে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধান: একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মামলা করতে বা আত্মপক্ষ সমৰ্থন করতে পারে:
(১) যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ নিহিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে বা উপকারার্থে এরূপ মামলা করতে বা মামলায় বিবাদী হতে বা অভিযোগের জবাব দিতে পারে। কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচায় অনুরূপ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে মামলা দায়ের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জারীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করবেন যেক্ষেত্রে লোকের সংখ্যাধিক্যের বা অন্য কোন কারণে এরূপ নোটিশজারী যুক্তসঙ্গতভাবে উপযোগী না হয়, গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, প্রত্যেকক্ষেত্রে আদালত যে ভাবেই নির্দেশ দেন।
(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে যে কোন ব্যক্তি যাদের পক্ষে বা উপকারার্থ কোন মামলা দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে, এরূপ মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in the same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plaintiff's expense, notice of the institution of the suit to all such personnel either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
১,৯০৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮২ ধারায় কার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির বিধান রয়েছে?
  1. সরকার
  2. সরকারি অফিসার
  3. ডিক্রিদার
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধি ৮২ ধারার বিধান: ডিক্রি জারি:

১) সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে পূর্বোক্তরূপ কোন কার্যের দায়ে কোন ডিক্রি প্রদত্ত হলে ঐ ডিক্রির নির্দেশ কত দিনের মধ্যে পালন করতে হবে, ডিক্রিতে তা উল্লেখ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ডিক্রির নির্দেশ পালন করা না হয়, তবে আদালত বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ আদেশের জন্য সরকারের নিকট রিপোর্ট প্রেরণ করবেন।

২) সরকারের নিকট রিপোর্ট প্রেরণের তারিখ থেকে তিন মাস পর্যন্ত উক্ত ডিক্রির নির্দেশ প্রতিপালিত না হলে, এরূপ কোন ডিক্রি জারি করা যাবে না।

Section 82- Execution of decree:
(1) Where the decree is against the Government or against a public officer in respect of any such act as aforesaid, a time shall be specified in the decree within which it shall be satisfied; and, if the decree is not satisfied within the time so specified, the Court shall report the case for the orders of the Government.

(2) Execution shall not be issued on any such decree unless it remains unsatisfied for the period of three months computed from the date of such report.
১,৯০৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির _________ অনুযায়ী আদালত বিবাদীকে অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে।
  1. আদেশ-৮ বিধি-৩
  2. আদেশ-৮ বিধি-৬
  3. আদেশ-৮ বিধি-৯
  4. আদেশ-৮ বিধি-১০
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment) করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

-প্রতিকার:
১০ বিধির নিয়মটি শুধুমাত্র প্রযোজ্য যখন ৯ বিধির অধীন বিবাদী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং উক্ত ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় ঘোষণা করে আদেশ দিলে। ১০ বিধির অধীন রায় ঘোষণার আদেশ (An order pronouncing judgment) হলো (আপীলযোগ্য আদেশ) তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। 
--------------------
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings): বিবাদীর লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.
১,৯০৯.
জারি মামলা দায়ের করার জন্য The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৪৮ ধারানুযায়ী সর্বোচ্চ কত বছর সময় পাওয়া যেতে পারে?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:
-নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনামতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।

অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত: নিম্নলিখিত তারিখ থেকে ১২ বছর পর কোন ডিক্রি জারির আবেদন করা হলে উক্ত ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ, অথবা 
খ) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশ দ্বারা কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ বা কোন সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এরূপ পরিশোধ বা প্রদানের তারিখ হতে যে ডিক্রি জারির প্রার্থনা করা হয়েছে। 
দেনাদার প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জারির আবেদনে বাধা দিলে ১২ বছরের পরেও জারির আবেদন করা যায়।

১. ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারবে -১২ বছরের মধ্যে।
২. ডিক্রি জারির ১ম আবেদন করতে হবে - ৩ বছরের মধ্যে।
৩. রেজিস্ট্রার্ড ডিক্রি জারির জন্য আবেদন করতে পারবে - ৬ বছরের মধ্যে।
১,৯১০.
মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে আদালত তা _____ করতে পারেন।
  1. ক্রোক
  2. তদন্ত
  3. পরিদর্শন
  4. অনুসন্ধান
ব্যাখ্যা
⇒ মোকদ্দমার শুনানী (Hearing of suit) অর্থ হলো, আদালতে কোনো মামলার বিচারকার্য যেখানে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করে বা যুক্তিতর্ক শোনে ইত্যাদি।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- আদেশ ১৮ বিধি-১৮ঃ আদালত কর্তৃক পরিদর্শনের ক্ষমতা:
মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে কোন সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উদ্ভব হলে আদালত তা পরিদর্শন করতে পারেন।
-----------------------
CPC Order-18 Rule-18 Power of court to inspect:
The Court may at any stage of a suit inspect any property or thing concerning which any question may arise.
১,৯১১.
Pro-forma defendant-এর বিরুদ্ধে কী প্রতিকার দাবী করা হয়?
  1. সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ
  2. আংশিক ক্ষতিপূরণ
  3. কোনো প্রতিকার দাবী করা হয় না
  4. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিকার
ব্যাখ্যা

• মোকাবেলা পক্ষ (Pro-forma defendant )-
অনেক সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, বিবাদী ব্যতীত অন্যান্য কতিপয় ব্যক্তিকে মোকদ্দমা বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমায় যুক্ত করতে হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার চাওয়া হয় না বা মোকদ্দমায় তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তাদের মোকাবেলা পক্ষ বা (Pro-forma defendant ) বলা হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৫নং বিধি অনুযায়ী-
"বিবাদিগণের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় যেসকল প্রতিকার দাবী করা হয়, তন্মধ্যে সবগুলোই প্রত্যেক বিবাদির স্বার্থসম্পর্কিত হওয়ার দরকার নেই।"
It shall not be necessary that every defendant shall be interested as to all the relief claimed in any suit against him.

উক্ত বিধি দ্বারা পরোক্ষ ভাবে (Pro-forma defendant) নীতির বৈধতা দেয়া হয়েছে।

১,৯১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮, বিধি ৪ অনুযায়ী- বিবাদী আদালতের আদেশ মানতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ ৬ মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারেন। কিন্তু কোন বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ৬ সপ্তাহের অধিক হবে না?
  1. বিবাদী যদি মহিলা হয়
  2. বিবাদী ব্যক্তি যদি অক্ষম বা পীড়িত হয়
  3. মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ৫০ টাকার কম হলে
  4. আদালত কর্তৃক জামানত প্রদানের আদেশ ৫০ টাকার কম হলে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮, বিধি ৪:
যদি বিবাদী বিধি ২ বা বিধি ৩ অনুযায়ী আদালতের আদেশ মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত তাকে মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত বা যদি তার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি হয়, তবে ডিক্রির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারে।

তবে নিম্নলিখিত শর্ত প্রযোজ্য:
- কারাগারে আটক রাখার সর্বোচ্চ মেয়াদ ছয় মাসের বেশি হতে পারবে না।
- মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য ৫০ টাকার কম হলে, সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখা যাবে।
- যদি বিবাদী আদালতের আদেশ মেনে চলে, তবে তাকে আর আটক রাখা যাবে না।

Order-38 Rule-4.Procedure where defendant fails to furnish security or find fresh security:
Where the defendant fails to comply with any order under rule 2 or rule 3, the Court may commit him to the civil prison until the decision of the suit or, where a decree is passed against the defendant, until the decree has been satisfied:

Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months, nor for a longer period than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka: 

Provided also that no person shall be detained in prison under this rule after he has complied with such order.
১,৯১৩.
‘ক’ বেআইনীভাবে ‘খ’-এর জমি দখল করে চাষ করে মুনাফা অর্জন করে। ‘খ’ এই মুনাফার দাবি করতে পারে—দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর কোন ধারায় এই দাবির সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ধারা ২(৭)
  2. ধারা ২(১২)
  3. ধারা ২(১৪)
  4. ধারা ২(১৭)
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ২(১২) এ "মধ্যবর্তী মুনাফা" (Mesne Profits)-এর স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া আছে। এই ধারা অনুযায়ী, মধ্যবর্তী মুনাফা বলতে বোঝায়:বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তি থেকে যে মুনাফা বাস্তবে অর্জিত হয়, অথবা সাধারণ প্রজ্ঞা অনুযায়ী অর্জন করা সম্ভব ছিল, এবং সুদসহ—সবই মধ্যবর্তী মুনাফা বলে গণ্য হবে। তবে বেআইনী দখলদারের ব্যক্তিগত উন্নয়নের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত লাভ মধ্যবর্তী মুনাফার মধ্যে পড়ে না।
- এই ক্ষেত্রে ‘ক’ অবৈধভাবে ‘খ’-এর জমি দখল করে চাষাবাদ করে যে লাভ করেছে, তা ধারা 2(12) অনুসারে মধ্যবর্তী মুনাফা হিসেবে ‘খ’ দাবি করতে পারে।
- সুতরাং, মধ্যবর্তী মুনাফার (Mesne Profits) দাবির আইনি সংজ্ঞা দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২)-এ সন্নিবেশিত আছে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম:-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Section 2(12)-
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession.

১,৯১৪.
‘ক', 'খ'-কে একটি দেওয়ানি মামলা পরিচালনা হতে বিরত করার উদ্দেশ্যে ‘খ’- এর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় ভয় দেখায়; ‘ক’এর অপরাধ কী?
  1. ঘরে আগুন দেয়া
  2. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
  3. অনিষ্ট সাধন
  4. ভয় দেখানো
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৩  মতে- দেহের, সম্পত্তির বা সুনামের ক্ষতি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোন ব্যক্তির দেহের বা সুনামের ক্ষতির ভয় দেখালে তা অরাধজনক ভীতি প্রদর্শন হিসাবে পরিগণিত হবে।
১,৯১৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে পক্ষগণের মৃত্যু, বিবাহ ও অস্বচ্ছলতা বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ২০ আদেশ
  2. ২১ আদেশ
  3. ২২ আদেশ
  4. ২৪ আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২ এ পক্ষগণের মৃত্যু, বিবাহ ও অস্বচ্ছলতা বিষয়ে বলা আছে।
বিধি ১ অনুযায়ী বাদী ও বিবাদীর মৃত্যু হলে ৯০ দিনের মধ্যে বৈধ প্রতিনিধিরা পক্ষভূক্তির আবেদন করবে।
বিধি ৭ অনুযায়ী কোন মহিলা বাদী/বিবাদীর বিবাহের ফলে মামলা বিলুপ্ত হবে না
১,৯১৬.
প্রত্যার্পণের দরখাস্তে কোন ধারা উল্লেখ করা যেতে পারে?
  1. ১৪৪, ২(২)ধারা
  2. ১৫১, ৯৬ ধারা
  3. ১৪৪,১৫১ ধারা
  4. ধারা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় প্রত্যর্পণ বা Restitution এর বিধান রয়েছে । ১৪৪ ধারামতে যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে পরিবর্তিত ডিক্রির আওতায় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তির আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করবেন যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকত সে অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যায়। এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদ বদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তবর্তীকালীন মুনাফা পাওয়ার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন।

♦ অর্থাৎ সহজভাবে বলা যায়, বিচারিক আদালতের ডিক্রি যখন আপিল বা রিভিশন আদালত কর্তৃক পরিবর্তন বা রদ করা হয়, তখন ইতোমধ্যে ঐ ডিক্রি বলবৎ করার কারণে কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তাকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে বলা হয় প্রত্যর্পণ বা Restitution। দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৫১ ধারার অধীন Restitution এর আবেদন করা হয়।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী-
১) যদি কোন ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা রদ করা হয় এবং অনরুপ ডিক্রি বা আদেশের দ্বারা (যার পক্ষে ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা রদ করা হয়) ঐ পক্ষ কোন সুবিধা পাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে, তিনি তা ফিরে পাবার জন্য প্রত্যর্পণের দরখাস্ত করতে  পারেন।
২) দখল  প্রত্যর্পণের আদেশ আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নয় বরং আইনানুগভাবে  আদালতের উপর ন্যাস্ত ।
৩) প্রত্যর্পণের দরখাস্তে ১৪৪ ও ১৫১ ধারা উল্লেখ করা যেতে পারে।

♦ উল্লেখ্য যে, ধারা-১৫১তে আদালতের অন্তর্নিহিত সহজাত ক্ষমতা সম্পর্কে বলা আছে।
♦ কোন দেওয়ানি আদালত কর্তৃক ন্যায় সংগতভাবে বিচারকার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে উক্ত  আদালতের উপর অর্পিত বিশেষ এখতিয়ার সম্পন্ন ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকারকে সহজাত ক্ষমতা বলে।
♦ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে অথবা আদালতের কার্য প্রণালীর অপব্যবহার রোধ করার জন্য এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
১,৯১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ১৭ অনুসারে, দলিল পরিদর্শনের নোটিশ পাওয়ার পর উত্তরদাতাকে কত দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ১৭ অনুসারে, দলিল পরিদর্শনের নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে উত্তরদাতাকে নোটিশ প্রদানকারী পক্ষকে জবাব দিতে হবে। এই জবাবে তাকে পরিদর্শনের সময় ও স্থান নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং কোন দলিলগুলি উপস্থাপনে আপত্তি রয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১১ বিধি ১৭: পরিদর্শনের সময় যখন নোটিশ দেওয়া হয়: যে পক্ষকে এরূপ নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সে নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে নোটিশ প্রদানকারী পক্ষকে একটি নোটিশ প্রদান করবে। এই নোটিশে একটি সময় উল্লেখ করতে হবে (নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে তিন দিনের মধ্যে), যে সময়ে দলিলগুলি তার উকিলের অফিসে পরিদর্শনের জন্য উপলব্ধ হবে। তবে ব্যাংকের বই, হিসাবের অন্যান্য বই বা ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ব্যবহার্য বইগুলির ক্ষেত্রে সেগুলি তাদের সাধারণ সংরক্ষণস্থলে পরিদর্শন করতে হবে। এছাড়া, নোটিশে উল্লেখ করতে হবে যে কোন দলিলগুলি (যদি থাকে) উপস্থাপনে তিনি আপত্তি করছেন এবং কী কারণে আপত্তি করছেন। এই নোটিশ Appendix C-এর ফর্ম নম্বর ৮ অনুযায়ী হবে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule-17. Time for inspection when notice given: 
The party to whom such notice is given shall, within ten days from the receipt of such notice, deliver to the party giving the same a notice stating a time within three days from the delivery thereof at which the documents, or such of them as he does not object to produce, may be inspected at the office of his pleader, or in the case of bankers' books or other books of account or books in constant use for the purposes of any trade or business, at their usual place of custody, and stating which (if any) of the documents he objects to produce, and on what ground. Such notice shall be in Form No. 8 in Appendix C, with such variations as circumstances may require.

১,৯১৮.
কোন বিষয় নির্ধারণের জন্য মোকদ্দমায় মূল্যমান উল্লেখ করতে হয়?
  1. আদালতের এখতিয়ার
  2. প্রতিকার
  3. সম্পদের পরিমাণ
  4. প্রদেয় আয়কর
ব্যাখ্যা
আদালতের এখতিয়ার ও কোর্ট ফি নির্ধারণের জন্য আরজিতে মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হয়।

• আরজি হল মামলার কারণ সংবলিত বিবরণ যেখানে নালিশের কারণ উল্লেখপূর্বক বাদী প্রতিকার প্রার্থনা করে। অর্থাৎ বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১ নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরজিতে যে যে বিষয়গুলো সাধারণত উল্লেখ থাকে-

⇒ যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম
⇒ বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয়, বাসস্থান
⇒ বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে সেই মর্মে বিবৃতি
⇒ মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হবে
⇒ কারণ (Cause of action) এবং কারণ উদ্ভবের সময়।
⇒ প্রার্থিত প্রতিকার (relief claimed) ও দাবির কোন অংশ বর্জন করা হলে সেই মর্মে বিবৃতি ইত্যাদি।
১,৯১৯.
কোনো ব্যক্তিকে আদালত সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন পাঠালে সাক্ষ্য দিতে না আসলে আদালত তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কী আদেশ দিতে পারেন?
  1. গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি
  2. তার সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রি করা
  3. জরিমানা আরোপ করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৩০ ধারায় সমন দেওয়ার পর কোনো ব্যক্তি সমনের আদেশ অনুসারে হাজির না হলে ৩২ ধারা মোতাবেক এই আদেশ প্রচার করতে পারেন।
♦দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৩২ ধারা মতে যার প্রতি ৩০ ধারা অনুসারে সমন দেয়া হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারেন এবং এই উদ্দেশ্যে
ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করতে পারেন,
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ দিতে পারেন; এবং জামানত না দিলে তাকে দেওয়ানী কারাগারে প্রেরণ করতে পারেন।
১,৯২০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যদি অযথা কারণে গ্রেপ্তার, জব্দ বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয় এবং মামলাটি ব্যর্থ হয়, তাহলে বিবাদী সর্বোচ্চ কত টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ৫,০০০ টাকা
  3. ২,০০০ টাকা
  4. ১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যদি কোনো মামলায় অযথা বা অপর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে গ্রেপ্তার (arrest), সম্পত্তি জব্দ (attachment), অথবা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (temporary injunction) চাওয়া হয়, এবং মামলাটি পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিবাদী (defendant) আদালতের নিকট ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
- ধারা ৯৫(১) অনুসারে যদি আদালত মনে করে যে গ্রেপ্তার, জব্দ বা নিষেধাজ্ঞার আবেদন অযৌক্তিক ছিল, এবং মামলার পেছনে যুক্তিসঙ্গত বা সম্ভাব্য কারণ ছিল না, তাহলে আদালত বিবাদীর আবেদনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদেশ দিতে পারে।
- শর্ত: আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (pecuniary jurisdiction) অনুযায়ী এই পরিমাণ সীমিত থাকতে হবে।
- ধারা ৯৫(২) অনুসারে: একবার যদি আদালত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আদেশ প্রদান করে, তাহলে একই বিষয়ে আর কোনো নতুন মামলা দায়ের করা যাবে না। অর্থাৎ, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ অর্থাৎ আদালতের কাছে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করা যেতে পারে, যদি প্রমাণ হয় যে মামলাটি বা তাতে চাওয়া অন্তর্বর্তী আদেশগুলো (যেমন গ্রেপ্তার বা নিষেধাজ্ঞা) অযথা কারণে করা হয়েছে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908,Section- 95.Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds.
(1) Where, in any suit in which an arrest or attachment has been effected or a temporary injunction granted under the last proceeding section,- 
(a) it appears to the Court that such arrest, attachment or injunction was applied for on insufficient grounds, or 
(b) the suit of the plaintiff fails and it appears to the Court that there was no reasonable or probable ground for instituting the same, 
the defendant may apply to the Court, and the Court may, upon such application, award against the plaintiff by its order such amount, not exceeding ten thousand Taka, as it deems a reasonable compensation to the defendant for the expense or injury caused to him: 
Provided that a Court shall not award, under this section, an amount exceeding the limits of its pecuniary jurisdiction. 
(2) An order determining any such application shall bar any suit for compensation in respect of such arrest, attachment or injunction.

১,৯২১.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক বা অসুবিধাজনক হতে পারে, এমন ব্যক্তি বা শ্রেণীর গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. সরকারের
  2. আদালতের
  3. ডিক্রি-প্রাপকের
  4. গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তার
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৫(২) [Section 55(2)] এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: (2) The Government may, by notification in the official Gazette, declare that any person or class of persons whose arrest might be attended with danger or inconvenience to the public shall not be liable to arrest in execution of a decree otherwise than in accordance with such procedure as may be prescribed by the Government in this behalf.“
- অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বা শ্রেণীর ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করলে জনসাধারণের জন্য বিপদ বা অসুবিধা হতে পারে বলে মনে হয়, তাদের ডিক্রি এক্সিকিউশনে গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি দেওয়া বা বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারের (Government) রয়েছে। সরকার অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- সুতরাং সঠিক উত্তর: ক) সরকারের। 

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section-55.- Arrest and detention:
(1) A judgment-debtor may be arrested in execution of a decree at any hour and on any day, and shall, as soon as practicable, be brought before the Court, and his detention may be in the civil prison of the district in which the Court ordering the detention is situate, or, where such civil prison does not afford suitable accommodation, in any other place which the Government may appoint for the detention of persons ordered by the Courts of such district to be detained:
Provided, firstly, that, for the purpose of making an arrest under this section, no dwelling-house shall be entered after sunset and before sunrise:
Provided, secondly, that no outer door of a dwelling-house shall be broken open unless such dwelling-house is in the occupancy of the judgment-debtor and he refuses or in any way prevents access thereto, but when the officer authorised to make the arrest has duly gained access to any dwelling-house, he may break open the door of any room in which he has reason to believe the judgment-debtor is to be found:
Provided, thirdly, that, if the room is in the actual occupancy of a woman who is not the judgement-debtor and who according to the customs of the country does not appear in public, the officer authorised to make the arrest shall give notice to her that she is at liberty to withdraw, and, after allowing a reasonable time for her to withdraw and giving her reasonable facility for withdrawing, may enter the room for the purpose of making the arrest:

Provided, fourthly, that, where the decree in execution of which a judgment-debtor is arrested, is a decree for the payment of money and the judgment-debtor pays the amount of the decree and the costs of the arrest to the officer arresting him, such officer shall at once release him.

(2) The Government may, by notification in the official Gazette, declare that any person or class of persons whose arrest might be attended with danger or inconvenience to the public shall not be liable to arrest in execution of a decree otherwise than in accordance with such procedure as may be prescribed by the Government in this behalf.
(3) Where a judgment-debtor is arrested in execution of a decree for the payment of money and brought before the Court, the Court shall inform him that he may apply to be declared an insolvent, and that he may be discharged if he has not committed any act of bad faith regarding the subject of the application and if he complies with the provisions of the law of insolvency for the time being in force.
(4) Where a judgment-debtor expresses his intention to apply to be declared an insolvent and furnishes security, to the satisfaction of the Court, that he will within one month so apply, and that he will appear, when called upon, in any proceeding upon the application or upon the decree in execution of which he was arrested, the Court may release him from arrest, and, if he fails so to apply and to appear, the Court may either direct the security to be realized or commit him to the civil prison in execution of the decree.

১,৯২২.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কোন ধারায় 'ডিক্রি দানকারী আদালত'-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৩৬
  2. ধারা ৩৭
  3. ধারা ৩৮
  4. ধারা ৩৯
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৩৭-এর শিরোনামই হল "Definition of Court which passed a decree" বা "ডিক্রি দানকারী আদালতের সংজ্ঞা"।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ ধারার বিধান: ডিক্রি দানকারী আদালতের সংজ্ঞা:- “যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন" বলতে বা অনুরূপ কোন বাক্য দ্বারা ডিক্রি জারির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা প্রসঙ্গে বিপরীত কোন বিধান না থাকলে নিম্নোক্তরূপ অন্তর্ভুক্ত করে বলে বিবেচিত হবে,-
ক) জারিযোগ্য ডিক্রি আপিল এখতিয়ার ক্ষমতায় প্রদত্ত হলে মূল আদালত; এবং
খ) মূল আদালত উঠে গিয়ে থাকলে অথবা তার এখতিয়ার রহিত হয়ে গিয়ে থাকলে, ডিক্রি জারি করার আবেদন করার সময় যে আদালতের অনুরূপ মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ার ছিল, ঐ আদালত।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908- Section 37. Definition of Court which passed a decree:
- The expression "Court which passed a decree," or words to that effect, shall, in relation to the execution of decrees, unless there is anything repugnant in the subject or context, be deemed to include,- 
(a) where the decree to be executed has been passed in the exercise of appellate jurisdiction, the Court of first instance, and 
(b) where the Court of first instance has ceased to exist or to have jurisdiction to execute it, the Court which, if the suit wherein the decree was passed was instituted at the time of making the application for the execution of the decree, would have jurisdiction to try such suit.

১,৯২৩.
মোকদ্দমা দায়েরের সময় আরজির সাথে কতটি আরজির অবিকল নকল (true copies) পেশ করতে হয়?
  1. বাদীর ইচ্ছানুযায়ী সংখ্যক
  2. যতজন বাদী থাকে ততো সংখ্যক
  3. যতজন বিবাদী থাকে ততো সংখ্যক
  4. পেশ না করলেও হয়
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমা দায়েরের সময় আরজির সাথে যতজন বিবাদী থাকে ততো সংখ্যক আরজির অবিকল নকল (true copies) পেশ করতে হয়।

আদেশ ৪ বিধি ১ঃ মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হবে-
১) আদালত অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট, আরজি উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দাখিল করতে হবে এবং আরজি সংশ্লিষ্ট যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলো আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর পরোয়ানা জারি করার জন্য পেশ করতে হবে।
১ক) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি করার জন্য নির্ধারিত প্রদেয় কোর্ট ফি আরজি দাখিল করার সময় এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যখন সমন ব্যবহার করা হয় তখন পরিশোধ করতে হবে।
১খ) সমনের একটি নকলসহ প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সকল বিবাদীর পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানা যুক্ত যথোচিত খামে আগাম প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আরজির সঙ্গে বাদীকে পেশ করতে হবে।

২) ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশের বিধিসমূহ যতদূর প্রযোজ্য হয়, তদনুসারে প্রত্যেকটি আরজি প্রণয়ন করতে হবে।

Order 4 Rule 1: Suit to be commenced by plaint-
(1) Every suit shall be instituted by presenting a plaint to the Court or such officer as it appoints in this behalf a plaint together with as many true copies of the plaint as there are defendants for service of summons upon such defendants.
(1a) The Court fees chargeable for service of summons shall be paid in the case of suits when the plaint is filed, and in the case of all other proceedings when process is applied for.
(1b) A plaintiff shall file, along with the plaint, for each defendant a copy of the summons along with a pre-paid registered acknowledgement due cover with complete and correct address of the defendant written on it.

(2) Every plaint shall comply with the rules contained in Orders VI and VII, so far as they are applicable.
১,৯২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ৩ অনুসারে, আদালত যদি আপিলের স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে তাঁকে-
  1. আপিল বাতিল করতে হবে
  2. মামলাটি পুনরায় শুনানি করতে হবে
  3. প্রত্যাখ্যানের কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
  4. আপিলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩: স্মারকলিপি প্রত্যাখান বা সংশোধন:
১) যেক্ষেত্রে ইতোপূর্বে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক আপিলের স্মারকলিপি প্রণীত হয় নি, সেক্ষেত্রে আদালত সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে, অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সংশোধনের জন্য অথবা তৎক্ষণাৎ সেটি সংশোধন করার জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।

২) যেক্ষেত্রে আদালত কোন স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করে, সেক্ষেত্রে ঐ অগ্রাহ্যের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।

৩) যেক্ষেত্রে আপিলের স্মারকলিপি সংশোধন করা হয় সেক্ষেত্রে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সংশোধনীতে স্বাক্ষর বা অনুস্বাক্ষর করবেন।
১,৯২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ ও বিধি সমূহ সংশোধন করতে পারে কে?
  1. পার্লামেন্ট
  2. সুপ্রীম কোর্ট
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. পার্লামেন্ট ও সুপ্রীম কোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে।
⇒ প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সংসদ এবং সুপ্রীম কোর্ট উভয় সংশোধন করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সকল আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা রাখে।
⇒ অন্যদিকে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে।
⇒১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি।
⇒কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন। জাতীয় সংসদ যে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদেশ ও বিধিসমূহ সংশোধন করতে পারে তার বড় উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধন।
⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Act, 2012 এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ এর ১(১) বিধি, ৯ বিধি ও ৯ক বিধি প্রতিস্থাপন করে।
⇒আবার আদেশ ৮ এর ১(১) বিধি সংশোধন করে লিখিত জবাব দাখিলের মেয়াদ সমন জারি হতে ৩০ কার্যদিবস নির্ধারণ করে।
⇒ আবার ৯ আদেশের ৫ বিধি সংশোধন করে ৩ মাসের পরিবর্তে ১ মাস নির্ধারণ করে।
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর প্রথম তফসীলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সুপ্রিম কোর্ট সংশোধন করতে পারলেও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কখনো এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি।
----------
CPC-Section-122. Power of the Supreme Court to make rules:
The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.
১,৯২৬.
এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে আদালত মোকদ্দমাটি-
  1. খারিজ করবে
  2. স্থগিত রাখবে
  3. ফেরত পাঠাবে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
এখতিয়ারবিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে,আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য ফেরত পাঠাবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আরজি ফেরত [Return of Plaint] অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া।

আদেশ ৭ বিধি ১০-
যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২. আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩নং আদেশের ১(ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
১,৯২৭.
আদেশ ১৭ বিধি ১(৭) এর অধীন মোকদ্দমা পুনর্বহালের আবেদনের ক্ষেত্রে কত টাকা খরচ প্রদান করতে হয়?
  1. ৩০০০ টাকা
  2. ২০০০ টাকা
  3. ১০০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১৭ বিধি ১(৭):
উপ-বিধি (৩) কিংবা (৪) এর অধীন মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হলে তা শুনানির নিমিত্তে পুনর্বহাল করা হবে না, যদি না যার অমান্যের কারণে মোকদ্দমাটি খারিজ হয় কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, তিনি খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে তা পুনর্বহালের আবেদনের সঙ্গে আদালতে দুই হাজার টাকা ব্যায়াদির খরচা জমা প্রদান করেন; এবং অনুরূপ আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্য কার্যধারা ছাড়িয়ে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করা হবে এবং জমাকৃত খরচা অন্য পক্ষকে দিতে হবে।

⇒ Order-17 Rule-1(7)- A suit dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (3) or (4) shall not be revived for hearing unless the party, for whose noncompliance the suit was dismissed or dispossed of ex parte, makes within thirty days of such dismissal or ex parte, disposal, an application fogether with cost of two thousand taka into Court for such revival; and upon such application being made, the suit shall be revived for bearing without any further proceeding, and cost deposited into Court shall be paid to the other party.
১,৯২৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার উপধারা (১২) অনুযায়ী, পক্ষগণের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে আদালত যে আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করে, তার বিরুদ্ধে -
  1. আপিল ও রিভিশন উভয়ই করা যাবে
  2. আপিল করা যাবে কিন্তু রিভিশন করা যাবে না
  3. রিভিশন করা যাবে কিন্তু আপিল করা যাবে না
  4. আপিল বা রিভিশন কোনোটিই করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯গ(১২) (Section 89C(12)) অনুযায়ী, যদি পক্ষগণের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি হয় এবং সেই ভিত্তিতে আদালত কোনো আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করে, তাহলে সেই আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিশন করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান: উপধারার-১২: এই ধারা অনুসারে নিস্পত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
--------------
 The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89A(12): No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
১,৯২৯.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় আদেশের বিরূদ্ধে আপিল দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায়?
  1. ১০০ ধারায়
  2. ১০৭ ধারায়
  3. ১০৪ ধারায়
  4. ১০৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১০৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে সেই ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোন আদেশ হতে আপীল চলবেনা।
♦ কোন্ কোন্ আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে তার বর্ণনা আছে আদেশ ৪৩।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারায় এবং ৪৩ আদেশে আপীলযোগ্য আদেশ  এর তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ যদি ১০৪ ধারায় বা ৪৩ আদেশে উল্লেখিত কোন আপীলযোগ্য আদেশ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
১,৯৩০.
According to which Order, no decree to be set aside without notice to opposite party under which of the in the CPC?
  1. Order 9, Rule 10
  2. Order 9, Rule 11
  3. Order 9, Rule 13
  4. Order 9, Rule 14
ব্যাখ্যা

Order 9, Rule 14:
No decree shall be set aside on any such application as aforesaid unless notice thereof has been served on the opposite party.

বাংলা অর্থ:
যে কোনো আবেদন অনুযায়ী (যেমন উপরোক্ত প্রসঙ্গে) ফলাফল বাতিল করা হবে না, যতক্ষণ না সেই বিষয়ে নোটিশ/বিজ্ঞপ্তি বিপরীত পক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, আদালত কোনো ডিক্রি (decree) বাতিল করতে পারবেন না যদি বিপরীত পক্ষকে আগে জানানো না হয়।

১,৯৩১.
দেওয়ানী কার্যবিধির নিচের কোন বিধান অনুযায়ী দায়িক কর্তৃক ডিক্রিদারকে বাধা না দেওয়ার জন্য আদালতে দরখাস্ত করা যায়?
  1. আদেশ ২১ বিধি ৯৬
  2. আদেশ ২১ বিধি ৯৮
  3. আদেশ ২১ বিধি ৯৪
  4. আদেশ ২১ বিধি ৯৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৭ মতে স্থাবর সম্পত্তির দখলে বাধা দান (Resistance or obstruction to possession of immovable property): স্থাবর সম্পত্তির দখলের জন্য প্রদত্ত ডিক্রির মালিক কিংবা নিলাম সম্পত্তির ক্রেতা উক্ত সম্পত্তির দখল লাভে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হলে আদালতে অভিযোগ করে একটি আবেদন করতে পারবেন। যে পক্ষের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে সে পক্ষকে আদালতে হাজির হওয়া এবং জবাব দেয়ার জন্য আদালত সমন প্রদান করবেন।
 
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৮ মতে দায়িক কর্তৃক প্রতিবন্ধ বা বাধাদান (Resistance or obstruction by Judgment-debtor): ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত বাধাদান করলে আদালত আবেদনকারীকে সম্পত্তি দখলে রাখার নির্দেশ দিবে এবং আবেদনকারীকে এর পরেও দখল লাভে বাধাদান করলে আদালত দায়িককে ৩০ দিন পর্যন্ত দেওয়ানি জেলে আটকের নির্দেশ দিতে পারেন।

অর্থাৎ আদেশ ২১ বিধি-৯৭ মতে যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হলে এবং আদেশ ২১ বিধি-৯৮ মতে ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যতীত প্রতিবন্ধ বা বাধাদান করলে ডিক্রির মালিক বা ডিক্রিদার বাধা না দেওয়ার জন্য আদালতে দরখাস্ত করতে পারবেন।
-------------------------
⇒ CPC Order-21 Rule-97.Resistance or obstruction to possession of immovable property:
(1) Where the holder of a decree for the possession of immovable property or the purchaser of any such property sold in execution of a decree is resisted or obstructed by any person in obtaining possession of the property, he may make an application to the Court complaining of such resistance or obstruction. 
(2) The Court shall fix a day for investigating the matter and shall summon the party against whom the application is made to appear and answer the same.

⇒ CPC Order-21 Rule-98.Resistance or obstruction by Judgmentdebtor:
Where the Court is satisfied that the resistance or obstruction was occasioned without any just cause by the judgment-debtor or by some other person at his instigation, it shall direct that the applicant be put into possession of the property, and where the applicant is still resisted or obstructed in obtaining possession, the Court may also, at the instance of the applicant, order the judgment-debtor, or any person acting at his instigation, to be detained in the civil prison for a term which may extend to thirty days.
১,৯৩২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০ এর ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী, আদালত যদি পক্ষের জবানবন্দী গ্রহণ করে, তবে তা কোথায় লেখা হবে?
  1. আদালতের রেজিস্টারে
  2. মামলার নথিতে
  3. বিচারকের কেস ডায়েরিতে
  4. কোনো স্থানে লেখা হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০ এর ৩ নম্বর বিধি অনুসারে, যদি আদালত পক্ষের জবানবন্দী গ্রহণ করে, তবে সেই জবানবন্দীর সারমর্ম বিচারক কর্তৃক লিখিত অবস্থায় আনতে হবে এবং তা মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, আদালতের রেকর্ড হিসাবে জবানবন্দীটি মামলা সংক্রান্ত নথির অংশ হয়ে যাবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-10 rule-3 - Substance of examination to be written.
The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record.
১,৯৩৩.
আদেশ ৩৫ বিধি ৩- এ কার বিরুদ্ধের মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. সাক্ষী
  4. ৩য় কোনো পক্ষ
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৫ বিধি-৩: বিবাদী বাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করলে কার্যধারা:
যেক্ষেত্রে কোন স্বার্থবিহীন ব্যবহার মোকদ্দমায় কোন একজন বিবাদী উক্ত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বস্তুত বাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করে, সেক্ষেত্রে যে আদালতে বাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে, স্বার্থবিহীন ব্যবহার মোকদ্দমায় যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে, সে আদালত কর্তৃক উল্লেখিত আদালতে বিষয়টি অবগত হয়ে, তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমার কার্যধারা স্থগিত রাখবে এবং স্থগিত মোকদ্দমায় তার যে খরচাদি হয়েছে, অনুরূপ মোকদ্দমায় সেটি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে; কিন্তু যদি এবং যতদূর সেটি ঐ মোকদ্দমায় অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, স্বার্থবিহীন ব্যবহার মোকদ্দমায় তার যে খরচাদি হয়েছে, সেটি তাতে যোগ করা যাবে।
১,৯৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে কয়টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ডিক্রি জারির পদ্ধতি- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে ৫টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে। যথা-
i) সম্পত্তি অর্পণ (by delivery);
ii) ক্রোক ও বিক্রয় (attachment and sale);
iii) দেনাদারকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক;
iv) রিসিভার নিয়োগ; এবং
v) প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্য কোন উপায়ে।
----------
⇒ Section 51. Powers of Court to enforce execution.
-Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, on the application of the decree-holder, order execution of the decree- 
(a) by delivery of any property specifically decreed; 
(b) by attachment and sale or by sale without attachment of any property; 
(c) by arrest and detention in prison; 
(d) by appointing a receiver; or 
(e) in such other manner as the nature of the relief granted may require:
১,৯৩৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭, বিধি ২-এর বিধান কোন আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা জজ আদালত
  3. সহকারী জজ আদালত
  4. যুগ্ম-জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৭, বিধি-২ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, “হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ” পুনর্বিবেচনার জন্য ডিক্রি বা আদেশ প্রদানকারী বিচারকের কাছেই আবেদন করতে হবে।
অর্থাৎ, এই বিধান হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। হাইকোর্ট বিভাগের পুনর্বিবেচনার পদ্ধতি ও এখতিয়ার সংবিধান এবং নিজস্ব বিধিমালার মাধ্যমে আলাদাভাবে নির্ধারিত।
অন্যদিকে, জেলা জজ, যুগ্ম-জেলা জজ, সহকারী জজ আদালত—এসব নিম্ন আদালতের ক্ষেত্রে আদেশ ৪৭, বিধি ২ প্রযোজ্য হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪৭ বিধি-২: যার নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে:
বিধি-১ এ উল্লিখিত রূপ এবং নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কারের বা ক্লারিক্যাল সম্পর্কে অথবা গাণিতিক ভুলের সঙ্গত কারণ বা নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান কোন ভ্রান্তির অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণের উপর করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রার্থীত ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন, শুধু সে বিচারকের নিকট আবেদন করতে হবে, কিন্তু ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন তিনি যদি বিধি-৪ এর উপবিধি-২ এর অন্তর্গত (ক) শর্তাংশ মোতাবেক নোটিশ জারি করে থাকেন, তাহলে অনুরূপ আবেদনপত্র তার স্থলাভিষিক্ত বিচারক দ্বারা সমাধান করা যাবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order 47, Rule 2: To Whom Applications for Review May Be Made: 
An application for review of a decree or order of a Court (other than the High Court Division) may be made on grounds other than the discovery of new and important matter or evidence, or the existence of a clerical or arithmetical mistake or an error apparent on the face of the decree. Such an application must be made to the Judge who passed the decree or made the order sought to be reviewed. However, if the Judge who passed the decree or made the order has ordered notice to be issued under Rule 4, Sub-rule (2), proviso (a), the application may be disposed of by his successor.
১,৯৩৬.
যেক্ষেত্রে স্বামী আইনত স্ত্রীর ঋণের জন্য দায়ী, সেক্ষেত্রে কার অনুমতিক্রমে স্বামীর বিরুদ্ধেও ডিক্রি জারি হতে পারে?
  1. স্ত্রী
  2. নারী
  3. আদালত
  4. মোকদ্দমার প্রতিপক্ষ
ব্যাখ্যা

আদেশ ২২ বিধি-৭: মহিলা পক্ষের বিবাহের ফলে কোন মোকদ্দমায় বিলুপ্ত হয় না-
১) কোন মহিলা বাদী বা বিবাদীর বিবাহ কোন মোকদ্দমাকে বিলুপ্ত করাবে না, কিন্তু মোকদ্দমাটি এতসত্ত্বেও রায় পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে এবং মহিলা বিবাদীর বিরুদ্ধে জারি করা যাবে।

২) যেখানে স্বামী আইনত স্ত্রীর ঋণের জন্য দায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ডিক্রি স্বামীর বিরুদ্ধেও কার্যকর করা যেতে পারে; এবং যেখানে রায় স্ত্রীর পক্ষে, সেই ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে স্বামীর আবেদনের ভিত্তিতে ডিক্রি কার্যকর করা যেতে পারে, যদি আইন অনুসারে স্বামী ডিক্রির বিষয়বস্তুতে অধিকারী হয়।

১,৯৩৭.
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর কত ধারায় জারীর পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান আছে?
  1. ৩৯ ধারায়
  2. ৪১ ধারায়
  3. ৩৮ ধারায়
  4. ৪৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
• অর্থ ঋণ আদালত,২০০৩ আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। যথা
১. মধ্যস্থতার মাধ্যমে;
২. আপোষ নিষ্পত্তির মাধ্যমে।

• ধারা ২২ থেকে ২৫ এবং ৩৮, এবং ৪৪ক ধারায় মধ্যস্থতা সম্পর্কিত বিধান করা হয়েছে। অন্যদিকে আপোষ নিষ্পত্তির বিষয়টি ৪৫ ধারায় উল্লেখ আছে।
অর্থ ঋণ মামলার ক্ষেত্রে ২২ ধারা অনুসারে লিখিত জবাব দাখিলের পর মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। এই পর্যায়ে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে ২৩ ধারার অধীন রায় বা আদেশ প্রদানের পূর্বে পুনরায় বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারে।

আবার, ৩৮ ধারা অনুসারে জারীর পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে জারী মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করা যায়। অন্যদিকে ৪৪ক ধারায় আপীল বা রিভিশনের পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আপীল বা রিভিশন মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করা যায়।
১,৯৩৮.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী সরকারের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির নির্ধারিত সময়-
  1. সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট করা হবে
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. আদালত নির্দিষ্ট করে দিবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৮২ ধারার বিধান: ডিক্রি জারি: সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে পূর্বোক্তরূপ কোন কার্যের দায়ে কোন ডিক্রি প্রদত্ত হলে ঐ ডিক্রির নির্দেশ কত দিনের মধ্যে পালন করতে হবে, ডিক্রিতে তা উল্লেখ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ডিক্রির নির্দেশ পালন করা না হয়, তবে আদালত বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ আদেশের জন্য সরকারের নিকট রিপোর্ট প্রেরণ করবেন।

২) সরকারের নিকট রিপোর্ট প্রেরণের তারিখ থেকে তিন মাস পর্যন্ত উক্ত ডিক্রির নির্দেশ প্রতিপালিত না হলে এরূপ কোন ডিক্রি জারি করা যাবে না। 

অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধর ৮২ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির বিধান রয়েছে। আদালত কোন মোকদ্দমায় সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারী অফিসারের বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করলে উক্ত ডিক্রি জারি করা যায়-
- সরকার কত সময়ের মধ্যে ডিক্রিটি নিষ্পত্তি করবে তা আদালত ডিক্রিতে নির্দিষ্ট করে দিবে, সরকার যদি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিক্রিটি নিষ্পত্তি না করে, সেক্ষেত্রে আদালত সরকারকে রিপোর্ট করবে।
- আদালত সরকারকে রিপোর্ট করার ৩ মাস পরও ডিক্রিটি নিষ্পত্তি করা না হলে, এরূপ কোন ডিক্রি জারি করা যাবে না।
-----------
CPC Section 82. Execution of decree:
(1) Where the decree is against the Government or against a public officer in respect of any such act as aforesaid, a time shall be specified in the decree within which it shall be satisfied; and, if the decree is not satisfied within the time so specified, the Court shall report the case for the orders of the Government.
(2) Execution shall not be issued on any such decree unless it remains unsatisfied for the period of three months computed from the date of such report.
১,৯৩৯.
'The presiding officer of a Civil Court shall not try any suit or other proceeding to which he is a party or in which he is personally interested.' -This provision is mentioned in:
  1. Section 36 of The Civil Courts Act, 1887
  2. Section 38 of The Code of Civil Procedure, 1908
  3. Section 38 of The Civil Courts Act, 1887
  4. Section 39 The Code of Civil Procedure, 1908
ব্যাখ্যা

The Civil Courts Act, 1887- Section 38: Judges not to try suits in which they are interested-
(1) The presiding officer of a Civil Court shall not try any suit or other proceeding to which he is a party or in which he is personally interested.

(2) The presiding officer of an appellate Civil Court under this Act shall not try an appeal against a decree or order passed by himself in another capacity.

(3) When any such suit, proceeding or appeal as is referred to in sub-section (1) or sub-section (2) comes before any such officer, the officer shall forthwith transmit the record of the case to the Court to which he is immediately subordinate, with a report of the circumstances attending the reference.

(4) The superior Court shall thereupon dispose of the case under [section 24 of the Code of Civil Procedure. 1908].(5) Nothing in this section shall be deemed to affect the extraordinary original civil jurisdiction of the High Court Division.

The Civil Courts Act, 1887 এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী-
কোন বিচারক যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ হন বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে, অথবা কোন আপিল এমন ডিক্রি থেকে হয় যা ঐ বিচারক ঘোষণা করেছিলেন; তাহলে উক্ত বিচারকের শুনানী করে এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তিনি ঐ মামলা বা আপীলের শুনানী করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে জেলা জজ তাঁর স্থানীয় সীমার মধ্যে মামলা বা আপিল এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

এই ধারায় 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি 'nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না- 'No one shall be judge of his own case' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

১,৯৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৫খ অনুযায়ী:
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দরখাস্ত পেশ না করলে, পরবর্তীতে আদালত কী শর্তে উক্ত দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবে?
  1. শুনানির দিন দরখাস্তকারী উপস্থিত থাকলে
  2. উভয় পক্ষের সম্মতি থাকলে
  3. সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচা প্রদানের সাপেক্ষে
  4. সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচা প্রদানের সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা
• ধারা-৩৫খ: অন্তর্বর্তী বিষয়গুলো সম্পর্কে আনীত দরখাস্ত, প্রভৃতিতে বিলম্বের নিমিত্তে খরচা:

১) কোন মোকদ্দমা বা কার্যপ্রক্রিয়ার যে কোন স্তরে আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দরখাস্ত কিংবা লিখিতভাবে কোন আপত্তি যদি পেশ করা না হয়, তাহলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত উক্ত পক্ষ অন্য পক্ষকে খরচা প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত দরখাস্ত বা লিখিত আপত্তি শুনানির নিমিত্তে গ্রহণকৃত হবে না।

২) লিখিত জবাব পেশের পর মোকদ্দমার কোন পক্ষ যদি এমন কোন বিষয়ে দরখাস্ত পেশ করেন, যা আদালতের মতানুযায়ী পূর্বেই পেশ করতে পারতেন বা পেশ করা সমীচীন ছিল এবং তাতে মূল মোকদ্দমার কার্যক্রমে দেরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তদকারণে আদালত দরখাস্ত নিবে কিন্তু তা শুনানি এবং নিষ্পত্তি করবে না, যদি না ঐ পক্ষ আদালত যেরূপে নির্দিষ্ট এবং নির্দেশ করবে এবং সেরূপে অপরপক্ষকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা খরচা দিবে এবং উক্ত খরচা দিতে না পারলে দরখাস্ত তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

Section 35B: Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters:
1) If at any stage of a suit or proceeding an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka.

2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which in the opinion of the Court could and ought to have been made earlier and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit but shall not hear and dispose of the application without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.
১,৯৪১.
আদেশ ১৩ বিধি-৩ এর অধীন আদালত একটি দলিল অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত কোন পর্যায়ে নিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র মোকদ্দমার শুরুতে
  2. শুধুমাত্র চূড়ান্ত রায়ের পরে
  3. মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে
  4. শুধুমাত্র চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের সময়
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৩ বিধি-৩: অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অগ্রহণযোগ্য দলিলাদি অগ্রাহ্য:
মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যদি মনে করে যে, কোন একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অন্যভাবে অগ্রহণযোগ্য, তবে অগ্রাহ্যের হেতু রেকর্ডপূর্বক আদালত উক্ত দলিল অগ্রাহ্য করতে পারবে।

Order 13 Rule 3: Rejection of irrelevant or in admissible documents:
The Court may at any stage of the suit reject any document which it considers irrelevant or otherwise inadmissible, recording the grounds of such rejection.
১,৯৪২.
দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান অনুসারে সরকার বা সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হলে কত দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হয়?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৮০ ধারার বিধান নোটিশ (Notice)-
- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮০ ধারা অনুযায়ী লিখিত নোটিশ জারির ২ মাস পর সরকার বা সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হয়।
- যদি ২ মাসের নোটিশ দিয়ে মামলা করা হয় তাহলে সরকার বা সরকারী কর্মচারীও (বিবাদী হিসেবে) লিখিত জবাবের জন্য ৬০ দিনের বেশি সময় পাবে না,
- কিন্তু উক্ত নোটিশ না দিয়ে মামলা করলে সরকার লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অন্যূন ৩ মাস সময় পাবে।

 - সরকারের বিরুদ্ধে (রেলওয়ে সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মামলা করতে হলে সরকারের কোন সচিবের অফিসে অথবা জেলার কালেক্টরের অফিসে নোটিশ দিতে হবে।
- রেলওয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের অফিসে নোটিশ দিতে হবে।
- কোন সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে তাকে বা তার অফিসে নোটিশ দিতে হবে।
- রেল-সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে মামলার নোটিশে মামলার কারণ, বাদীর নাম-ঠিকানা এবং বাদী যে প্রতিকার দাবি করে, তা উল্লেখ করতে হবে; এবং নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।
------------------
CPC Saction 80. Notice:
(1) A suit may be instituted against the Government or against a public officer, in respect of any act purporting to be done by such public officer in his official capacity, after the expiration of two months next after notice in writing has been delivered to or left at the office of,- 
 
(b)(i) in the case of a suit against the Government other than a suit relating to the affairs of the Railway, a Secretary to the Government or the Collector of the District; and 
 
(ii) in the case of a suit against the Government relating to the affairs of the Railway, the General Manager of the Railway,
and in the case of a public officer, delivered to him or left at his office stating the cause of action, the name, description of place of residence of the plaintiff and the relief which he claims; and the plaint shall contain a statement that such notice has been so delivered or left. 
 
(2) Where any such suit is instituted without delivering or leaving such notice as aforesaid or before the expiration of the said period of two months or where the plaint does not contain a statement that such notice has been so delivered or left, the plaintiff shall not be entitled to any costs if settlement as regards the subject-matter of the suit is reached or the Government or the public officer concedes the plaintiff's claim, within the period of two months from the date of the institution of the suit: 
 
Provided that in a suit instituted without such notice, the Court shall allow not less than three months to the Government to submit its written statement.
১,৯৪৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে, সমন গ্রহণের পর কুরিয়ার সার্ভিস কত দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে তা পাঠাবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -
(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদী সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদীর পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা(৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।
(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।
(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদীকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।
(৪) জেলা জজ উপ-বিধি(১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।
(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সার্ভিস বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন: তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ারের ক্ষেত্রে,জেলা জজ প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-5 Rule-9 Delivery or transmission of summons for service.⎯
(1) Where the defendant resides within the jurisdiction of the Court in which the suit is instituted, or has an agent resident within that jurisdiction who is empowered to accept the service of the summons, the summons shall, unless the Court otherwise directs, be delivered or sent either to the proper officer to be served by him or one of his subordinates or through courier service enlisted by the District Judge under sub-rule (4).
(2) The proper officer may be an officer of a Court other than that in which the suit is instituted, and, where he is such an officer, the summons may be sent to him by post or in such manner as the Court may direct.
(3) The Court may, in addition to the service of summons under sub-rule (1), on the application of the plaintiff for the issue of a summons for the appearance of the defendant, also direct the summons to be served by means of transmission of documents through fax massage or electronic mail service by the plaintiff at his own cost.
(4) The District Judge shall prepare a list of courier services (to be updated from time to time) for the purposes of sub-rule (1), and shall inform all the Civil Courts under his administrative jurisdiction about the list.
(5) When a summons is sent to the proper officer or the courier service, he or it shall serve the summons within thirty days from the date of receipt of summons and shall inform the Court in this regard : Provided that, if the proper officer or the courier service fails to serve the summons within the said period of time, that officer shall be liable for misconduct and in the case of courier service, the District Judge shall exclude it from the list prepared under sub-rule (4).
১,৯৪৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক-এর উদ্দেশ্য প্রধানত কী?
  1. মামলার সময়সীমা বৃদ্ধি করা
  2. নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সীমিত করা
  3. ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা
  4. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: (গ) ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক অনুসারে,
আদালত এক্সিকিউটিভ কর্তৃপক্ষ, যেমন পুলিশ বা অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারে যাতে আদালতের ডিক্রি বা আদেশ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
এছাড়াও, আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে কতটুকু সহায়তা বা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তার রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক- আদেশ/ডিক্রি কার্যকর করার নির্দেশ:

যে কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশ দিতে পারবে— যে কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অন্তর্ভুক্ত, তাকে আদালতের নির্ধারিত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত সেই সহায়তা প্রদানের অনুপালনের প্রতিবেদন আদালতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাখিল করতে বলতে পারবে।

১,৯৪৫.
যেক্ষেত্রে বাদী কোর্ট ফি প্রদান না করায় বিবাদীর উপর সমন জারি করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে আদালত কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
  1. মোকদ্দমা স্থগিতের আদেশ
  2. বাদী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ
  3. মোকদ্দমা খারিজের আদেশ
  4. বিবাদীকে হাজিরা থেকে অব্যাহতির আদেশ
ব্যাখ্যা
বাদী খরচ প্রদান না করার দরুন সমন জারি না হলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারে।

• আদেশ ৯ বিধি-২ঃ
নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে,বাদী কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমন জারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদীর উপর সমন জারি করা হয় নাই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে, যেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা দেয়া যায় সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হলে, অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Order 9 Rule 2: Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
১,৯৪৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নিঃস্ব ব্যক্তির সম্পত্তি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোন সম্পত্তি বাদ দেওয়া হয়?
  1. ব্যাংক আমানত
  2. মামলার বিষয়বস্তু
  3. ব্যবসায়িক সরঞ্জাম
  4. ব্যক্তিগত যানবাহন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩, বিধি ১ এর Explanation অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র (necessary wearing-apparel) এবং মামলার বিষয়বস্তু (subject-matter of the suit)-কে সম্পত্তি হিসাবে গণনা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নিঃস্ব (Pauper) হিসাবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য শর্ত হলো—প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ও মামলার বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে অন্যান্য সম্পত্তির মূল্য ৫,০০০ টাকার বেশি না হওয়া।
- অন্য অপশনগুলো—ব্যাংক আমানত, ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত যানবাহন সম্পত্তির আওতায় পড়ে এবং সেগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান অনুসারে নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis: Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.
Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.

১,৯৪৭.
গণ-উৎপাত প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞার মামলা রুজুর জন্য কার অনুমতি লাগে?
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. প্রধান বিচারপতির
  3. জেলা জজের
  4. এটর্নি জেনারেলের
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে যে, এটর্নি জেনারেল বা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি লিখিত অনুমতি নিয়ে গণ-উৎপাত প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞার মামলা করবেন
⇒ বিশেষ কোন ক্ষতি না হয়ে থাকলেও এই মামলা করা যাবে। তবে এটর্নি জেনারেল ছাড়া অন্য কেহ মামলা করতে হলে এটর্ণি জেনারেলের লিখিত ‍অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
--------------------
⇒ CPC Section-91.Public nuisances:
(1) In the case of a public nuisance the Attorney General, or two or more persons having obtained the consent in writing of the Attorney General, may institute a suit, though no special damage has been caused, for a declaration and injunction or for such other relief as may be appropriate to the circumstances of the case. 
(2) Nothing in this section shall be deemed to limit or otherwise affect any right of suit which may exist independently of its provisions.
১,৯৪৮.
Under Order 39 Rule 6, who can apply for an interim sale of movable property in a suit?
  1. Only the plaintiff
  2. Only the defendant
  3. Only third party
  4. Any party to the suit
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৯ বিধি-৬: অন্তর্বর্তী বিক্রয়ের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা:
কোন অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকে বা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকে তবে যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল, অথবা যা অন্য কোন ন্যায়সঙ্গত এবং পর্যাপ্ত কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করা বাঞ্চনীয় হয়ে পড়ে, তা আদালত মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনের উপর এর বিবেচনামত উপযুক্ত পদ্ধতি এবং শর্ত সাপেক্ষে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্তৃক বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে।

Rule 6: Power to order interim sale:
The Court may, on the application of any party to a suit, order the sale, by any person named in such order, and in such manner and on such terms as it thinks fit, of any movbale property, being the subject-matter of such suit, or attached before judgment in such suit, which is subject to speedy and natural decay, or which for any other just and sufficient cause it may be desirable to have sold at once.
১,৯৪৯.
প্লিডিংস বলতে কী বোঝায়?
  1. সাক্ষীর সাক্ষ্য
  2. আদালতের আদেশ
  3. শুধুমাত্র বাদীর আরজি
  4. বাদীর আরজি অথবা বিবাদীর লিখিত জবাব
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে।

প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]

• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।
১,৯৫০.
রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয় The Code of Civil Procedure, 1908 এর________ অনুযায়ী।
  1. Order XL, rule 1
  2. Order XLI, rule 1
  3. Order XLII, rule 1
  4. Order XLIII, rule 1
ব্যাখ্যা
• তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন।  রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪০ [ORDER - XL] এর উপধারা (১) অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ দেয়া হয়-

(১) আদালতের কাছে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত আদেশ দিয়া-

ক) ডিক্রির পূর্বে বা পরে কোন সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন;

খ) সম্পত্তির দখল বা জিম্মাদারী হতে কোন ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন;

গ) উহা রিসিভারের দখলে, হেফাজতে বা ব্যবস্থাপনায় সোপদ করতে পারেন; এবং

ঘ) মামলা দায়ের করা ও জবাব দেয়া এবং সম্পত্তি আদায়করণ, ব্যবস্থাপনা, নিরাপদকরণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন, উহার খাজনা এবং মুনাফা সংগ্ৰহ, উক্ত খাজনা ও মুনাফার প্রয়োগ ও হস্তান্তর এবং দলিল সম্পাদন সম্পর্কে মালিকের নিজের যেরূপ ক্ষমতা আসে সেরূপ বা আদালত যে সকল ক্ষমতা উপযুক্ত মনে করেন, রিসিভারকে অনুরূপ সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

(২) কোন ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল ও জিম্মাদারী হতে অপসারণের জন্য যাকে মামলার কোন একটি পক্ষের অনুরোপভাবে অপসারণের বর্তমান অধিকার নাই, অত্র বিধির কোন কিছু আদালতকেও উক্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ অপসারণের ক্ষমতা দিবে না।
১,৯৫১.
মোকদ্দমার শুনানির দিন সমন যথাযথভাবে জারি না করার ফলে, বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারেনি এবং আদালত এক তরফা ডিক্রি দেয়। এক্ষেত্রে বিবাদী আদেশ ৯ বিধি-১৩ এর অধীন কী প্রতিকার পেতে পারে?
  1. মোকদ্দমা স্থগিতের
  2. মোকদ্দমা খারিজের
  3. একতরফা ডিক্রি রদের
  4. একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদের
ব্যাখ্যা
একতরফা ডিক্রি:
আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুযায়ী বিবাদীর অনুপস্থিতিতে যে ডিক্রি প্রদান করা হয় তাহলো এক তরফা ডিক্রি। যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনে বাদী হাজির হয় কিন্তু বিবাদী হাজির হয়না, সেই ক্ষেত্রে যদি এটা প্রমাণ করা যায় যে, বিবাদী বরাবর সমন যথাযথভাবে জারি করা হয়েছিল, তাহলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফা বিচার করতে পারবে বা আদালত একতরফা ডিক্রি দিতে পারবে। আর যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদী বরাবর সমন যথারীতি জারি করা হয়নি, তাহলে আদালত বিবাদী বরাবর দ্বিতীয় বার সমন জারির আদেশ দিতে পারে।

আদেশ ৯ বিধি ৬ অনুযায়ী, বিবাদীর হাজির না হওয়ার কারণে, আদালত একতরফা ডিক্রি দিলে, বিবাদী নিম্ন লিখিত প্রতিকার পেতে পারে-
১. বিধি ১৩ এর অধীন একতরফা ডিক্রি রদকরণের আবেদন করতে পারবে;
২. বিধি ১৩ক এর অধীন এবতরফা ডিক্রি সরাসরি রদকরণের আবেদন করতে পারবে;
৩. যেহেতু একতরফা ডিক্রি একটি ডিক্রি তাই ৯৬ ধারা অনুযায়ী আপীল করা যেতে পারে ;
৪. ৪৭ আদেশের ১ বিধির অধীন রিভিউর জন্য আবেদন করতে পারে।

আদেশ ৯ বিধি-১৩ অনুযায়ী,
কোন মোকদ্দমায় বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি প্রদান করা হলে, তা রদ করার জন্য বিবাদী ৯ আদেশের ১৩ বিধির অধীন ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে আবেদন করতে পারবে। তবে এই ক্ষেত্রে বিবাদী কে প্রমাণ করতে হবে যে-
১. তার বরাবর যথাযথভাবে সমন জারি করা হয়নি;
২. শুনানীর দিন উপযুক্ত কোন কারণে, সে হাজির হতে পারে নি।

অপর দিকে, একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদের জন্য ৯ আদেশের ১৩ক বিধির অধীন আবেদন করতে হবে। আদালত বিলম্ব অবসান ও বিচার ত্বরান্বিত করানোর জন্য, আদালতকে উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্য পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ না দিয়ে, সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ দিতে পারে এবং একই সাথে বিবাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিতে পারে। একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য বা একতরফা ডিক্রি সরাসরি বাতিলের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে বিবাদীকে আবেদন করতে হবে।
১,৯৫২.
মি. X এবং মিসেস Y দম্পতি। Y এক পর্যায়ে আদালতে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করেন। আদালত Y এর পক্ষে রায় দিয়ে X এর বিরুদ্ধে একটি ডিক্রি জারি করেন। কিন্তু যদি X এই ডিক্রিটি অমান্য করেন এবং স্ত্রীর দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার না করেন, তাহলে ডিক্রি জারির জন্য Y আদালতে আবেদন করতে পারেন যে-
  1. X কে গ্রেফতার করা হোক
  2. X এর সম্পত্তি ক্রোক করা হোক
  3. X এর সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করা হোক
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের (restitution of conjugal rights) ডিক্রিজারি শুধুমাত্র সম্পত্তি ক্রোকের (attachment of property) মাধ্যমে করা যায়। এক্ষেত্রে মিসেস Y আদালতে মি. X এর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করতে পারবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি:
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তি ক্রোক, অথবা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা সম্পত্তি ক্রোক করে বা উভয় প্রকারেই কার্যকর করা যাবে।

উল্লেখ্য,
আদালত যদি এই আবেদন গ্রহণ করেন, তাহলে মিঃ X এর সম্পত্তি (যেমন জমি, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি) আটক করা হবে। এভাবে সম্পত্তি আটকের মাধ্যমে মিঃ X এর উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে যাতে তিনি আদালতের ডিক্রি মেনে নিয়ে স্ত্রীর দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার করেন। সুতরাং দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি বাস্তবায়নের এটাই একমাত্র পদ্ধতি - অমান্যকারীর সম্পত্তি আটক করা।
১,৯৫৩.
মোকদ্দমা শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখ বাদী এবং বিবাদী কেউ হাজির না হলে, আদালত মোকদ্দমা ______ করে দিতে পারে।
  1. দো-তরফা শুনানী
  2. খারিজ
  3. স্থগিত
  4. এক-তরফা শুনানী
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ আদেশে মোকদ্দমার প্রথম শুনানীতে পক্ষগণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির সম্পর্কিত পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৯ বিধি ৩ অনুসারে মোকদ্দমার কোন পক্ষই উপস্থিত না হলে-
মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে যদি বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষ হাজির না হলে,আদালত মোকদ্দমা খারিজ করে দিতে পারে
[Where neither party appears when the suit is called on for hearing, the Court may make an order that the suit be dismissed]

• প্রদত্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার (আদেশ ৯ বিধি ৪)-

১- উল্লিখিত কারণে মোকদ্দমা খারিজ হলে,উক্ত খারিজের বিরুদ্ধে বাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে [May bring fresh suit]।
২-খারিজ আদেশ রদ করতে আবেদন করতে পারে [apply for an order to set the dismissal aside]।তবে, এমন আবেদন খারিজ আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের হবে।
১,৯৫৪.
রিভিউতে প্রদত্ত কোনো ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ ৪৭ বিধি ৯ এ কোন প্রতিকার বারিত করা হয়েছে?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
রিভিউ:
যে আদালত ডিক্রি/আদেশদ দেয়, সে আদালতে (রায় প্রদানকারী আদালতে) রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৪ ধারা ও ৪৭ আদেশে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। ১১৪ ধারা এবং আদেশ ৪৭ এর ১(১) বিধি মোতাবেক রিভিউ-এর আবেদন করা যায় নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে:
⇒ যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়, কিন্তু আপিল করা হয়নি;
⇒ যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না;
⇒ স্মল কজ কোর্টের রেফারেন্সে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

রিভিউ করা যায় যে কারণে:
i) মামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন কোনো বিষয় আবিষ্কার হলে, যা মোকদ্দমার ডিক্রিপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে নানান চেষ্টা করা সত্ত্বেও আদালতে উপস্থাপন করতে অক্ষম হয়েছিল;
ii) নথিতে আপাত কোনো ভুলের কারণে;
iii) অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে।

আদেশ ৪৭ বিধি ৯: কতিপয় রিভিউ আবেদনের ক্ষেত্রে বাধা:
রিভিউ আবেদন সম্পর্কে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা রিভিউতে প্রদত্ত কোনো ডিক্রি বা আদেশের রিভিউ আবেদন যাবে না।
১,৯৫৫.
'ক' ২২,০০,০০০ টাকা মূল্যমানের জমির মালিকানার বিরোধজনিত মোকদ্দমা নিম্নলিখিত কোন আদালতে দায়ের করতে পারে?
  1. সহকারী জজ আদালত [Court of Assistant Judge]
  2. যুগ্ম জেলা জজ আদালত [Court of Joint District Judge]
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত [Court of Senior Assistant Judge]
  4. জেলা জজ আদালত [Court of District Judge]
ব্যাখ্যা
• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করবেন সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্থিক এখতিয়ার সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে নির্ধারিত হয়।

• The Civil Courts Act, 1887 আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী-

⇒ সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা
⇒ সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা
⇒ যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের; মোকদ্দমার বিচার করতে পারে।

অর্থাৎ "ক" উক্ত মোকদ্দমা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের করবে।
১,৯৫৬.
আদেশ ৪১ বিধি-৩৩ অনুযায়ী, আপিল আদালতের কোন ক্ষমতা থাকবে?
  1. শুধুমাত্র প্রাথমিক ডিক্রি সংশোধন করার ক্ষমতা
  2. নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করার ক্ষমতা
  3. যে কোনো ডিক্রি বা আদেশ যা প্রদান করা উচিত, তা প্রদানের ক্ষমতা
  4. শুধুমাত্র আপিলকারী পক্ষের অনুকূলে রায় দেওয়ার ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪১ বিধি-৩৩: আপিল আদালতের ক্ষমতা:

যে কোন ডিক্রি বা আদেশ যা প্রদান করা উচিত বা অতিরিক্ত কোন ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আপিল আদালতের থাকবে এবং আপিল ডিক্রির অংশ বিশেষ সম্পর্কিত হওয়া সত্ত্বেও এ ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে এবং পক্ষদের সকলের বা যে কোন একজন উত্তরদায়ক বা পক্ষ আপিল বা আপত্তি দায়ের করে না থাকে, তবে আপিল আদালত উত্তরদায়ক বা পক্ষদের সকলের অনুকূলে ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল দায়ের হয়েছে সে আদালত কোন আপত্তির উপর অনুরূপ আদেশ দিতে বাদ দিলে বা দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে সে সম্পর্কে আপিল আদালত এ আইনের ৩৫ক ধারার অধীনে কোন আদেশ প্রদান করবেন না।

উদাহরণঃ X, Y বা Z-এর নিকট কিছু টাকা পাবে বলে দাবী করে এবং উভয়ের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মোকদ্দমা Y-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি লাভ করে। Y, আপিল করে এবং X ও Z উত্তরদায়ক থাকে। আপিল আদালত Y-এর অনুকূলে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করে। এ ক্ষেত্রে Z-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি দেয়ার ক্ষমতা আপিল আদালতের আছে।
১,৯৫৭.
অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে বিকল্প প্রতিকার কী?
  1. দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক
  2. দায়িকের সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয়
  3. ক এবং খ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান:

অর্থ পরিশোধের ডিক্রি: বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ডিক্রি দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক এবং নিলাম বিক্রয় করে অথবা উভয় প্রকারেই জারি করা যাবে।

Order-21 Rule-30- Decree for payment of money:
Every decree for the payment of money, including a decree for the payment of money as the alternative to some other relief, may be executed by the detention in the civil prison of the judgment-debtor, or by the attachment and sale of his property, or by both.
১,৯৫৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(৮) অনুযায়ী "বিচারক বা জজ" বলতে-
  1. শুধুমাত্র হাইকোর্টের বিচারক বোঝায়
  2. দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতের বিচারক বোঝায়
  3. শুধুমাত্র দেওয়ানি আদালতের প্রিজাইডিং অফিসার বোঝায়
  4. শুধুমাত্র নিম্ন আদালতের বিচারক বোঝায়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(৮) এ "বিচারক বা জজ" এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে-

"বিচারক বা জজ" বলতে দেওয়ানি আদালতের প্রিজাইডিং অফিসার বোঝায়।
"Judge" means the Presiding Officer of a Civil Court.

• সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ এর ধারা-৩ এ নিম্নলিখিত দেওয়ানি আদালতের প্রকারভেদ দেয়া হয়েছে-
১. জেলা জজ আদালত [Court of District Judge];
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত [Court of Additional District Judge];
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত [Court of Joint District Judge];
৪. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত [Court of Senior Assistant Judge];
৫. সহকারী জজ আদালত [Court of Assistant Judge]।
১,৯৫৯.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আদালত কী করতে পারে?
  1. সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে
  2. দেওয়ানি জেলে আটক করতে পারে
  3. ক এবং খ উভয়টি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-২: লংঘনের পুনরাবৃত্তি বা ধারাবাহিকতা রোধক্রমে নিষেধাজ্ঞা-
১) বিবাদীকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদী অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।

৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।

৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।

১,৯৬০.
Enlargement of Time এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলা দীর্ঘায়িত করা
  2. সরকারি রাজস্ব আদায়
  3. আদালতের কাজের চাপ কমানো
  4. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পক্ষগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৪৮ অনুযায়ী, যদি আদালত কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয় এবং সেই সময় অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলেও আদালত তার সুবিবেচনায় সময় বাড়াতে পারেন, যেন পক্ষগুলো ন্যায়বিচারের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি ও সুযোগ পায়।
এটি কোনো পক্ষকে হয়রানি করার জন্য নয় বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের একটি ব্যবস্থা।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৮ ধারার বিধান সময় বাড়ানো (Enlargement of time)- আইনে অনুমোদিত কোন কাজ করার জন্য আদালত কোন সময় নির্ধারণ করে দেয়ার পরও (এমনকি নির্ধারিত সময় পার হলেও) ১৪৮ ধারা অনুযায়ী আদালত তার সুবিবেচনামূলক ক্ষমমতাবলে সময়ে সময়ে উক্ত সময়কাল বাড়াতে পারে।
- ১৪৮ ধারার বিধান মোতাবেক কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য পক্ষদেরকে সময় মনজুর করতে পারেন। এটি আদেশ ১৭- এর adjournments সংক্রান্ত বিধান থেকে আলাদা। adjournments আদেশে শুধু শুনানী মূলতবীর জন্য সময় দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু ১৪৮ ধারার বিধান মোতাবেক যে কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত সময় বৃদ্ধির আবেদন করা যায়। 
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 148. Enlargement of time.
Where any period is fixed or granted by the Court for the doing of any act prescribed or allowed by this Code, the Court may, in its discretion, from time to time, enlarge such period, even though the period originally fixed or granted may have expired.
১,৯৬১.
কোন মোকদ্দমায় মৃত বাদীর বৈধ প্রতিনিধি কত দিনের মধ্যে সরাসরি মোকদ্দমার অ্যাবেটের আদেশ রদের দরখাস্ত করতে পারে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২২, বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ: বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
------------------
⇒ Order-22 Rule-9A.Directly setting aside abatement or dismissal:
Notwithstanding anything contained in rule 9 or any other law, where the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver of any insolvent plaintiff files an application for setting aside abatement or dismissal made under this Order, within sixty days of abatement or dismissal, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, set aside the abatement or dismissal without requiring the applicant to adduce evidence to prove sufficient cause as required under rule 9, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand taka as the Court may deem appropriate.
১,৯৬২.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে বর্ণিত সংজ্ঞা অনুসারে- 'Code' includes _______.
  1. decrees
  2. orders
  3. rules 
  4. regulations
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১): "Code" includes rules.

ধারা ২: সংজ্ঞা (Definitions)
এই আইন অনুযায়ী, যদি বিষয় বা প্রসঙ্গে অন্য কিছু ব্যাখ্যা না নির্দেশিত থাকে, তবে-
(১) “কোড” (Code) বলতে বিধি (Rules) অন্তর্ভুক্ত হবে।

১,৯৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে, স্থাবর সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারার মোকদ্দমা দায়ের করার যায় যেখানে -
  1. বাদী বসবাস করে
  2. বিবাদী বসবাস করে
  3. বিরোধীয় সম্পত্তি অবস্থিত
  4. "ক" অথবা "খ" যে কোনো একটিতে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা কোথায় দায়ের করা যায় তা উল্লেখ করা আছে। ধারা ১৬ অনুযায়ী মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে আদালতের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত, সেই আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

- সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মোকদ্দমা যেমন-
স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার,
স্থাবর সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা,
স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা
আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা; সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যেখানে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তি অবস্থিত।

- তবে স্থাবর সম্পত্তির বন্ধকের ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পত্তি খালাসের অধিকারহরণ (foreclosure) বা বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রয় বা উদ্ধারের (redemption) মামলা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে, যেখানে মোকদ্দমা দায়েরের আংশিক বা সম্পূর্ণ কারণ উৎপত্তি হয়েছে।
১,৯৬৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় 'Miscellaneous proceedings' এর বিধান আছে?
  1. ১৩৯ ধারায়
  2. ১৪০ ধারায়
  3. ১৪১ ধারায়
  4. ১৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪১ ধারার বিধান: বিবিধ কার্যক্রমসমূহ: এই আইনে মোকদ্দমা সম্পর্কে উল্লেখিত কার্যপ্রণালী দেওয়ানি এখতিয়ারসম্পন্ন যে কোন আদালতে যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব প্রযোজ্য: অনুসরণ করতে হবে।
---------------
⇒ CPC Section: 141. Miscellaneous proceedings:
- The procedure provided in this Code in regard to suits shall be followed, as far as it can be made applicable, in all proceedings in any Court of civil jurisdiction.
১,৯৬৫.
“Precept” বলতে কী বোঝায়?
  1. মামলার নথি
  2. ডিক্রির অনুলিপি
  3. আদালতের চূড়ান্ত রায়
  4. বিচারকের আদেশপত্র
ব্যাখ্যা

বিচারকের আদেশপত্র বা অনুরোধলিপি [Precept]:
Precept অর্থ হলো বিচারকের আদেশপত্র বা নির্দেশাজ্ঞা বা অনুরোধলিপি। দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারায় Precept সম্পর্কিত বিধান করা হয়েছে। ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত উপযুক্ত মনে করলে, অন্য কোনো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রিটি জারি করার অনুরোধ করতে পারে এবং এইরুপ আদালত ডিক্রি জারি করতে এবং অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে। যে আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারির ব্যাপারে সম্পত্তি ক্রোকের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে সম্পত্তি ক্রোক করবে।

ডিক্রি প্রদানকারী আদালত সময় বাড়িয়ে না দিলে, অথবা যে-আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সেই আদালতের নিকট ডিক্রি হস্তান্তর না করা হলে এবং ডিক্রিদার সম্পত্তি বিক্রয়ের আবেদন না করলে বিচারকের আদেশপত্র বা অনুরোধলিপি-অনুসারে কোনো ক্রোক ২ (দুই) মাসের অধিককাল বলবৎ থাকবে না।

১,৯৬৬.
সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মোকদ্দমায় বিবাদী হিসেবে কী নাম উল্লেখ করতে হবে?
  1. রাষ্ট্র
  2. সরকার
  3. বাংলাদেশ
  4. প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৭৯ ধারার বিধান-সরকার কর্তৃক বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা: 
সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসাবে যে কর্তৃত্বের নাম উল্লেখ করতে হবে, তা হচ্ছে 'বাংলাদেশ'।

Section 79. Suits by or against the Government:
In a suit by or against the Government the authority to 79. In a suit by or against the Government the authority to be named as plaintiff or defendant, as the case may be, shall be Bangladesh.
১,৯৬৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ ৮-এর ধারা ১ অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিলের সর্বোচ্চ সময়সীমা কত কার্যদিবস?
  1. ২১ কার্যদিবস
  2. ৩০ কার্যদিবস
  3. ৬০ কার্যদিবস
  4. ৯০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ১ বিধির অধীন লিখিত জবাব দাখিলের সর্বোচ্চ মেয়াদ সমন জারির তারিখ হতে ৬০ কার্যদিবস।
বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে তাকে লিখিত জবাব বা Written Statement বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশে লিখিত জবাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিখিত জবাবের সাধারন নিয়মাবলী ৮ নং আদেশের ১ হতে ১০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।
-  আদেশ ৮ বিধি (১)-৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যাতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।

আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।
------- 
ORDER VIII - WRITTEN STATEMENT AND SET-OFF

Rule-1 : Written statement:
(1) The defendant shall, within thirty working days from the date of service of summons upon him, save as provided in the proviso to sub-section (2) of section 80, present a written statement of his defence:

Provided that where the defendant fails, for reasonable grounds, to file the written statement within the said period of thirty working days, he shall be allowed to file the same on such other day, as may be specified by the Court, for reasons to be recorded in writing, but which shall not exceed sixty working days from the date of service of summons:

Provided further that if the defendant fails to file the written statement within the said period of sixty working days, the Court shall dispose of the suit ex parte.

১,৯৬৮.
প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] এর বিধান আছে-
  1. Order-6 Rule-5
  2. Order 6 Rule 13
  3. Order-6 Rule-15
  4. Order-7 Rule 6
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:-
সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে,তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সন্তুষ্ট হলে,অন্য কোনো ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে,সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন,যে স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।
---------------------------
CPC Order 6 Rule 15: Verification of pleadings:-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.
2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.
3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.
১,৯৬৯.
আদালত একজন দরখাস্তকারীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমার অ্যাবেটমেন্ট আদেশ সরাসরি বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. ১০০০ টাকা
  2. ২০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২২, বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ: বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
------------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-22 Rule-9A.Directly setting aside abatement or dismissal:
-Notwithstanding anything contained in rule 9 or any other law, where the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver of any insolvent plaintiff files an application for setting aside abatement or dismissal made under this Order, within sixty days of abatement or dismissal, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, set aside the abatement or dismissal without requiring the applicant to adduce evidence to prove sufficient cause as required under rule 9, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand taka as the Court may deem appropriate.
১,৯৭০.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১৪৪ ধারার বিষয়বস্তু?
  1. স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশদান;
  2. প্রত্যর্পণ;
  3. শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার আদেশদান;
  4. সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ।
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908, ধারা ১৪৪ এর বিধান হল প্রত্যর্পণ বা পুনরুদ্ধারঃ(১) যেক্ষেত্রে কোন ডিক্রির যতদূর পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার বা অন্য কোনভাবে কোনরূপ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন পক্ষের আবেদন ক্রমে প্রাথমিক আদালত এরূপ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা একদম প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকতেন, সেই অবস্থায় স্থাপন করবেন এবং এই উদ্দেশ্যে আদালতে মামলার খরচ প্রদান এবং সুদ, খেসারত ও ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যবর্তী কালীন মুনাফা পরিশোধের আদেশসহ এরূপ পরিবর্তন বা রদের কারণে যেরূপ উপযুক্ত হয় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারেন।
(২) উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করে পুনরুদ্ধার বা অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেলে এই উদ্দেশ্যে কোন মামলা দায়ের করা চলবে না।
১,৯৭১.
যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য সমন পাঠাতে হবে-
  1. বিবাদীর প্রতিনিধির নিকট
  2. জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট
  3. বিবাদীর পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের নিকট
  4. বিবাদীর পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্যের নিকট
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৫নং আদেশে কিছু ক্ষেত্রে সমন জারির বিশেষ পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। যেমনঃ

বিধি ২১-
যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করে সেই ক্ষেত্রে বিবাদী যে এলাকায় বসবাস করে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন যেকোন সমন জারিকারী আদালত সমনটি পাঠাতে পারে এবং উক্ত আদালত তখন সমন জারি করবে।

বিধি ২৪-
যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।

বিধি ২৫,২৬-
যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোন এজেন্ট নেই, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী দেশের বাইরে যেখানে বসবাস করে সেখানে পাঠাতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা এমন সমন জারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত কর্তৃক সমনটি জারি করা যেতে পারে। 

বিধি ২৭-
সরকারী কর্মকর্তা বা রেলওয়ে বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার প্রতি সমন জারির জন্য উক্ত অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।

বিধি ২৮-
যেক্ষেত্রে বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিক, সেই ক্ষেত্রে সমন জারি করতে উক্ত বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের নিকট সমন পাঠাতে হবে।
১,৯৭২.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৬ ধারা অনুযায়ী, কোন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার ক্ষেত্রে মহিলাকে গ্রেফতার বা আটক করা নিষিদ্ধ?
  1. অর্থ পরিশোধের ডিক্রি
  2. সম্পত্তি হস্তান্তরের ডিক্রি
  3. নিষেধাজ্ঞা আরোপের ডিক্রি
  4. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী: “The Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.”
- অর্থাৎ, অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকর করতে গিয়ে কোনো মহিলাকে গ্রেফতার বা দেওয়ানি জেলে আটক করা যাবে না। এটি নারীদের সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ বিধান।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৫৬ হল- অর্থের ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ:
- আদালত অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেফতার বা আটক রাখার কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section 56. Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
 Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.

১,৯৭৩.
কতিপয় বিবাদীর মধ্যে একজন সম্পর্কে কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত তার মামলা-
  1. ফেরত দিবেন
  2. খারিজ করবেন
  3. সমস্ত মামলা স্থগিত করবেন
  4. তার বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ আদেশের ১ বিধি মোতাবেক- পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আইন বা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত শুনানীর প্রথম দিনেই রায় ঘোষণা করতে পারে।

♦  দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ আদেশের ২ বিধি মোতাবেক- কতিপয় বিবাদীর মধ্যে একজন সম্পর্কে কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত তার পক্ষে বা বিরুদ্ধে রায় প্রদান করবেন ও বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে।
১,৯৭৪.
আরজির কোন অংশে সত্যায়ন (verification) করতে হয়?
  1. একেবারে শুরুতে
  2. একেবারে শেষে
  3. সুবিধাজনক যে কোনো স্থানে
  4. কোনোটি নয়।
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৬, বিধি ১৫ তে এই বিষয়ে বলা আছে। …every pleading shall be verified at the foot by the party or one of the parties….”

♦ আদেশ ৬ বিধি-১৫ তে আরজি জবাব সত্যতা প্রতিপাদন (Verification of pleadings) বিধান রয়েছে :
যেসব ব্যক্তিদের দ্বারা আরজি জবাব সত্যতা প্রতিপাদন করতে হবে-
প্রত্যেক আরজি জবাবের পক্ষ বা পক্ষদের মধ্যে একজন অথবা অপর কোন ব্যক্তি, যিনি মোকদ্দমার ঘটনাবলীর সাথে পরিচিত।

♦ আরজির সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি তাতে একেবারে শেষে স্বাক্ষর দিবেন এবং স্বাক্ষরে তারিখ ও স্থান উল্লেখ করবেন ।
১,৯৭৫.
Which of the following women can be lawfully detained for execution of a money decree under Section 56 of The Code of Civil Procedure, 1908?
  1. Pregnant women
  2. Infirm women
  3. Breast-feeding women
  4. None of the above
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- (ঘ) None of the above

The Code of Civil Procedure, 1908- Section 56: Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money.
Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of an old, infirm, pregnant or breast-feeding woman in execution of a decree for the payment of money.

ধারা ৫৬- অর্থ প্রদানের ডিক্রি কার্যকর করার জন্য নারীকে গ্রেফতার বা আটক করার নিষেধাজ্ঞা:
এই অংশে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বৃদ্ধা, অসুস্থ, গর্ভবতী অথবা স্তন্যপান করানো নারীকে অর্থ প্রদানের জন্য প্রদত্ত কোনো ডিক্রি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সিভিল কারাগারে গ্রেফতার বা আটক করার আদেশ প্রদান করতে পারবে না।

অর্থাৎ, আদালত বৃদ্ধা, অসুস্থ, গর্ভবতী বা স্তন্যপান করানো নারীদের কোনো অর্থ প্রদানের ডিক্রি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সিভিল কারাগারে আটক বা গ্রেফতার করতে পারবে না।

তাই, এখানে সঠিক উত্তর হলো (ঘ) None of the above (কেউকে নয়)।

১,৯৭৬.
আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে কী প্রতিকার পাওয়া যায়?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. আপিল ও রিভিশন উভয়
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা

• Order 23, Rule 3 -তে আপোষমূলক ডিক্রি (Compromise of Suit) বা সোলে ডিক্রি (Compromise of Decree)-এর বিধান আছে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী-
আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় বলা আছে-
যেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে আপিল চলে না (no appeal lies), সেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করা যায়।
অর্থাৎ, আপোষমূলক ডিক্রি যেহেতু আপিল-অযোগ্য, তাই এর বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে।

১,৯৭৭.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় প্লিডিংস সংশোধনের আবেদন কখন করা যায়?
  1. মোকদ্দমার শুরুতে
  2. বিচার্য বিষয় গঠনের আগে যে কোন পর্যায়ে
  3. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  4. লিখিত জবাব দাখিলের আগে যে কোন সময়
ব্যাখ্যা
⇒ প্লিডিংসের সংজ্ঞা (Definition of Pleadings)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায় [Pleadings shall mean plaint or written statement]
⇒ বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts) যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে, সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে। 
⇒প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of pleadings)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃতি নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।
-প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে, আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
১,৯৭৮.
‘X’ একটি মামলায় তার লিখিত জবাব (Written Statement) সংশোধন করতে চায়। The Code of Civil Procedure, 1908-এর কোন আদেশ ও বিধি অনুসারে লিখিত জবাব সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হয়?
  1. আদেশ ৭, বিধি ১১
  2. আদেশ ৬, বিধি ১৭
  3. আদেশ ৮, বিধি ৬
  4. আদেশ ১৬, বিধি ৫
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-এর আদেশ ৬, বিধি ১৭ (Order 6, Rule 17) প্লিডিংস (Pleadings) সংশোধনের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। প্লিডিংস বলতে আরজি (Plaint) এবং লিখিত জবাব (Written Statement) উভয়ই বোঝায়। এই বিধি অনুসারে, কোনো পক্ষ মামলার যেকোনো পর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে, যদি এই সংশোধন মামলার ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় হয় এবং অন্য পক্ষের উপর অযৌক্তিক ক্ষতি না করে।

- অর্থাৎ ‘X’ যদি তার লিখিত জবাব সংশোধন করতে চায়, তবে তাকে আদেশ ৬, বিধি ১৭ অনুসারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এই বিধি প্লিডিংস সংশোধনের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রযোজ্য, এবং আদালত এই সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায়বিচারের বিষয় বিবেচনা করে অনুমতি প্রদান করে।

১,৯৭৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১ অনুযায়ী, সমন প্রেরণের সময়সীমা কত দিন?
  1. মোকদ্দমা রুজুর ৩ কার্যদিবসের মধ্যে
  2. মোকদ্দমা রুজুর ৫ কার্যদিবসের মধ্যে
  3. মোকদ্দমা রুজুর ৭ কার্যদিবসের মধ্যে
  4. মোকদ্দমা রুজুর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১নং অনুযায়ী-

১) মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি আরজী দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদির দাবি স্বীকার করে নেন, তাহলে এরূপ কোন সমন প্রেরণ করা যাবে না।

২) বিবাদির উপর উপবিধি-১ মোতাবেক সমন প্রেরণ করা হলে নিম্নোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে বিবাদি হাজিরা দিতে পারবে-
ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
খ) মক্কেলের নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম এবং কোন কৌশুলী কর্তৃক, অথবা
গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোন ব্যক্তি সহযোগে কোন কৌশুলী কর্তৃক বিবাদি হাজিরা দিতে পারে।
১,৯৮০.
আদেশ ২৬ বিধি-১৭ এর উদ্দেশ্যে কমিশনার কী হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. পুলিশ কর্মকর্তা
  2. ফৌজদারি আদালত
  3. দেওয়ানি আদালত
  4. সরকারি নোটারি
ব্যাখ্যা

আদেশ ২৬ বিধি-১৭: কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীদের উপস্থিতি ও জবানবন্দি প্রদান:
১) সমন, হাজিরা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সাক্ষীদের পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর আরোপিত জরিমানাদি সংক্রান্ত এই আইনের বিধানসমূহ বাংলাদেশে অবস্থিত আদালত কর্তৃক এরূপে নির্দেশিত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রেরিত হোক না কেন উক্ত কমিশন কর্তৃক এ আদেশের অধীনে সাক্ষ্য প্রদান করার নিমিত্তে কিংবা দলিল দাখিল করার জন্য আবশ্যকীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং এই বিধির উদ্দেশ্যে কমিশনারকে দেওয়ানি আদালত বলে বিবেচিত হবে।

২) যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোন সাক্ষী বসবাস করে তিনি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে সে সাক্ষী বরাবর বা বিরুদ্ধে কোন পরোয়ানা প্রেরণের জন্য সেরূপ কোন আদালতে (হাইকোর্ট ডিভিশন নয়) কমিশনার আবেদন করতে পারেন এবং উক্ত আদালতের ঐচ্ছিক ক্ষমতায় যুক্তিসঙ্গত ও উপযুক্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারে।

১,৯৮১.
দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়েরের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. সমন জারি করা
  2. আদালতে শুনানি
  3. আরজি দাখিল করা
  4. সাক্ষ্য গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়েরের ধাপ:
প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে আরজি দাখিলের মাধ্যমে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারায় বিধান করা হয়েছে, প্রত্যেকটি মোকদ্দমা আরজি পেশ করে বা নির্ধারিত অন্য কোন পদ্ধতিতে দায়ের করতে হবে। ৪ আদেশের ১ বিধিতে বলা হয়েছে, আদালত বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট, আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে এবং মোকদ্দমায় যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলি আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর সমন জারীর জন্য আরজির সাথে দাখিল করতে হবে।

সুতরাং, নিম্নলিখিতভাবে আরজি দাখিলের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়ের করা যায়:
⇒ আদালত বা আরজি গ্রহণের জন্য নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
⇒ মোকদ্দমায় যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলি আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর সমন জারির জন্য দাখিল করতে হবে।
⇒ আরজি দাখিলের সময় সমন জারীর জন্য প্রদেয় কোর্ট ফি পরিশোধ করতে হবে।
⇒ প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমনের একটি নকলসহ বিবাদীর পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানাযুক্ত যথোচিত খামে আগাম প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আরজির সাথে বাদীকে দাখিল করতে হবে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ ও ৭ আদেশে উল্লিখিত বিধিসমূহ যতদূর প্রযোজ্য ততদূর প্রতিপালন করে আরজি দাখিল করতে হবে। অর্থাৎ, ৬ ও ৭ আদেশের বিধান প্রতিপালন করে আরজি মুসাবিদা করতে হবে।
১,৯৮২.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মামলার বিবদাী থাকবে কমপক্ষে-
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।
⇒ স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
⇒ বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

⇒ Example: কোন একটা সম্পত্তি কামাল সাহেবের দখলে আছে কিন্তু কামাল সাহেব তার প্রকৃত মালিক না। তিনি প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে চায় কিন্তু রফিক ও সফিক নামের দুইজন ব্যক্তি ঐ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে। 
⇒ এক্ষেত্রে কামাল সাহেব স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits করে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন।
⇒ এই মামলায় শুধু মাত্র মামলার খরচ ব্যতীত অন্য কোনো স্বার্থ থাকে না কামাল সাহেবের।
১,৯৮৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪ ধারায় মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরের আদেশ দিতে পারে-
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারি জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারি জজ আদালত
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২৪ ধারায় মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] এবং প্রত্যাহারের [Withdrawal] সাধারণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• যে আদালত স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-
⇒ হাইকোর্ট বিভাগ; এবং
জেলা জজ আদালত

• আদালত যে আদেশ দিতে পারে-
হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ কোন পক্ষের (বাদী বা বিবাদীর) আবেদনক্রমে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে [at any stage of the suit]-
⇒ কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্য কার্যক্রম স্থানান্তরের [transfer] আদেশ দিতে পারে, বা
⇒ কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্য কার্যক্রম প্রত্যাহারের [withdrawal] আদেশ দিতে পারে।

• যে কারণে স্থানান্তরের বা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে-
⇒ যদি মামলাকারীর মনে যুক্তিযুক্ত আশঙ্কা থাকে যে, যে আদালতে মোকদ্দমাটি বিচারাধীন আছে সেই আদালতে সে ন্যায় বিচার নাও পেতে পারে;
⇒ যে ক্ষেত্রে বিচারক কোন একপক্ষের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়;
⇒ মামলার বহুত্ব কমানোর জন্য;
⇒ আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে;
⇒ পক্ষদ্বয়ের সুবিধার জন্য ইত্যাদি।
১,৯৮৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় "Service of foreign summonses" এর বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৩১
  2. ধারা ২৯
  3. ধারা ৩০
  4. ধারা ২৮
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২৯ ধারায় "Service of foreign summonses" উল্লেখ আছে।বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত আদালতের সমন কোন পদ্ধতিতে দেশের ভেতর জারি করা হবে, সেই পদ্ধতি দেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতি শুধুমাত্র দেওয়ানি সমনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ধারা ২৯ (বিদেশি সমন জারি)-
বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন দেওয়ানি অথবা রাজস্ব আদালতের সমন এবং অন্যান্য ওয়ারেন্ট বাংলাদেশের আদালতসমূহে প্রেরণ করা যেতে পারে এবং
উক্ত সমন অনুরূপ আদালত মারফত প্রদত্ত সমন হিসাবে জারি করা যেতে পারেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে অনুরূপ আদালত সমূহে এই ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য বলে ঘোষণা করবে।

Section 29: Service of foreign summons-
Summons and other processes issued by any Civil or Revenue Court situate outside Bangladesh may be sent to the Courts in Bangladesh and served as if they were summonses issued by such Courts:
Provided that the Government has by notification in the official Gazette declared the provisions of this section to apply to such Courts.
১,৯৮৫.
আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৪১
  2. ধারা ১০২
  3. আদেশ ৪৩
  4. ধারা ১০৭
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা রয়েছে।

আদেশ ৪৩:
আদেশ ৪৩ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশের তালিকা উল্লেখ করেছে যেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা যায়। যেমন - অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ, মোকদ্দমা বাতিল করা, জামিন প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০৪ আপীলযোগ্য আদেশগুলোর সামগ্রিক বর্ণনা দিয়েছে। এই ধারায় উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো আদালত এমন কোনো আদেশ প্রদান করে যা চূড়ান্ত না হয়ে একটি বিষয়ের বিরাট অংশ নিষ্পত্তি করে দেয়, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যেতে পারে।
১,৯৮৬.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন আদালতের রেফারেন্সের ক্ষমতা আছে?
  1. জেলা জজ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. অতিরিক্ত জেলা জজ
  4. উল্লিখিত সকল আদালতের
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী-
যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

Section 113- Reference of High Court Division:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, any Court may state a case and refer the same for the opinion of the High Court Division, and the High Court Division may make such order thereon as it thinks fit.
১,৯৮৭.
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত আদেশ দিতে পারে-
  1. আদালতকে সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা খরচের
  2. অপর পক্ষকে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা খরচের
  3. অপরপক্ষকে সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা খরচের
  4. আদালতকে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা ক্ষতিপূরণের
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫খ ধারায় বিলম্বের জন্য খরচ প্রদানের বিধান রয়েছে।মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ কোন দরখাস্ত বা আবেদন অথবা লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ ২০০০ (দুই হাজার) টাকা খরচের আদেশ দিতে পারে। লিখিত জবাব দাখিলের পূর্বেই যে দরখাস্ত করা উচিৎ ছিল সে দরখাস্তটি যদি লিখিত জবাব দাখিলের পর করা হয়, তাহলে আদালত অপর পক্ষকে অনধিক ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।

ধারা-৩৫খঃ
১) কোন মোকদ্দমা বা কার্যপ্রক্রিয়ার যে কোন স্তরে আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দরখাস্ত কিংবা লিখিতভাবে কোন আপত্তি যদি পেশ করা না হয়, তাহলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত উক্ত পক্ষ অন্য পক্ষকে খরচা প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত দরখাস্ত বা লিখিত আপত্তি শুনানির নিমিত্তে গ্রহণকৃত হবে না।

২) লিখিত জবাব পেশের পর মোকদ্দমার কোন পক্ষ যদি এমন কোন বিষয়ে দরখাস্ত পেশ করেন, যা আদালতের মতানুযায়ী পূর্বেই পেশ করতে পারতেন বা পেশ করা সমীচীন ছিল এবং তাতে মূল মোকদ্দমার কার্যক্রমে দেরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তদকারণে আদালত দরখাস্ত নিবে কিন্তু তা শুনানি এবং নিষ্পত্তি করবে না, যদি না ঐ পক্ষ আদালত যেরূপে নির্দিষ্ট এবং নির্দেশ করবে এবং সেরূপে অপরপক্ষকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা খরচা দিবে এবং উক্ত খরচা দিতে না পারলে দরখাস্ত তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
১,৯৮৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় সংসদ সদস্যদের দেওয়ানি পরোয়ানায় গ্রেফতার হতে অব্যাহতির বিধান আছে?
  1. ১৩২ ধারায়
  2. ১৩৩ক ধারায়
  3. ১৩৫ ধারায়
  4. ১৩৫ক ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৫ক ধারার বিধান: দেওয়ানি পরোয়ানায় আটক ও গ্রেফতার হতে সংসদ সদস্যদের অব্যাহতি:
১) নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি পরোয়ানাধীনে গ্রেফতার অথবা জেলে আটক রাখা যাবে না-
ক) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের সদস্য হন, তবে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে;
খ) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের কোন কমিটির একজন সদস্য হন, তবে এরূপ কমিটির অধিবেশন চলাকালীন সময়ে; এবং এরূপ অধিবেশন বা বৈঠকের পূর্বের বা পরের চৌদ্দ দিন সময় পর্যন্ত।

২) উপ-ধারা (১) অনুসারে আটকাদেশ হতে মুক্ত কোন ব্যক্তিকে এই উপ-ধারায় উল্লেখিত বিধান সাপেক্ষে পুনঃ গ্রেফতার করা যাবে এবং তিনি (১) উপ-ধারার বিধানের অধীনে মুক্ত না হলে আরও যতদিন আটক থাকতে হত, ততদিন তাকে আটক রাখা যাবে।

১,৯৮৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭, বিধি ১(৭) অনুযায়ী, মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির কত দিনের মধ্যে পুনর্বহালের জন্য আবেদন করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২১ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭, বিধি ১(৭) অনুসারে, যদি কোনো পক্ষের অনুপস্থিতি বা অবমাননার কারণে মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, তাহলে সেই পক্ষকে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে হবে এবং ২,০০০ টাকা খরচা জমা দিতে হবে, অন্যথায় মামলাটি পুনর্বহাল করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ বিধি ১(৭): উপ-বিধি (৩) কিংবা (৪) এর অধীন মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হলে তা শুনানির নিমিত্তে পুনর্বহাল করা হবে না, যদি না যার অমান্যের কারণে মোকদ্দমাটি খারিজ হয় কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, তিনি খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে তা পুনর্বহালের আবেদনের সঙ্গে আদালতে দুই হাজার টাকা ব্যায়াদির খরচা জমা প্রদান করেন; এবং অনুরূপ আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্য কার্যধারা ছাড়িয়ে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করা হবে এবং জমাকৃত খরচা অন্য পক্ষকে দিতে হবে।
------------ 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-17 Rule-1(7)- A suit dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (3) or (4) shall not be revived for hearing unless the party, for whose noncompliance the suit was dismissed or dispossed of ex parte, makes within thirty days of such dismissal or ex parte, disposal, an application fogether with cost of two thousand taka into Court for such revival; and upon such application being made, the suit shall be revived for bearing without any further proceeding, and cost deposited into Court shall be paid to the other party.
১,৯৯০.
"Power of the Supreme Court to make rules" এটি দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারার বিধান?
  1. ১২১
  2. ১২২
  3. ১২৩
  4. ১২৪
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ১২২ ধারা - বিধি প্রণয়নে সুপ্রীমকোর্টের ক্ষমতা:
- সুপ্রীমকোর্ট সময় সময়ে সুপ্রীম কোর্টের প্রত্যেক বিভাগের ও ইহার নিয়ন্ত্রণাধীন দেওয়ানী আদালতসমূহের কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণকালে পূর্বকালীন প্রকাশনার পরে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন এবং এরূপ প্রণীত বিধি দ্বারা প্রথম তফশীলের সকল বা যে কোন বিধি বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারবেন।
---------
→ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 122. Power of the Supreme Court to make rules.
- The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.
১,৯৯১.
"__________" under this section shall include also compromise in part of the disputes in the suit.
  1. Mediation
  2. Arbitration
  3. Conciliation
  4. Compromise
ব্যাখ্যা
"Compromise" under this section shall include also compromise in part of the disputes in the suit.

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারার ব্যাখ্যা-১:
- এই ধারার অধীনে “মধ্যস্থতা” বলতে বুঝাবে নমনীয়তা, অনানুষ্ঠানিক অবাধ্যতামূলক, গোপনীয়তা, অ-প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং সমঝোতামূলক বিরোধ নিস্পত্তির পদ্ধতি যার দ্বারা মধ্যস্থতাকারী মীমাংসার কোন শর্ত নির্দেশ না করে বা তত্সম্পর্কে আদেশ প্রদান না করে পক্ষগণের মধ্যেকার বিরোধগুলো নিষ্পত্তির সুযোগ করে দিবেন।
- এই ধারার অধীন “মীমাংসা” মোকদ্দমার বিরোধগুলোর আংশিক মীমাংসাও অন্তর্ভুক্ত করবে।
----------
CPC Section 89A:
Explanation-(1) "Mediation" under this section shall mean flexible, informal, non-binding, confidential, non-adversarial and consensual dispute resolution process in which the mediator shall facilitate compromise of disputes in the suit between the parties without directing or dictating the terms of such compromise. 
 
(2) "Compromise" under this section shall include also compromise in part of the disputes in the suit.
১,৯৯২.
মৃত্যুজনিত কারণে কোন মোকদ্দমা বাতিল বা খারিজ হলে, উক্ত খারিজ আদেশ সরাসরি রহিতকরণের জন্য আদালত কত টাকা খরচের আদেশ দিতে পারে?
  1. ১০০০ টাকা
  2. ২০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
আদেশ ২২ বিধি-৯ক: বাতিল বা খারিজ সরাসরি রহিতকরণ:

বিধি ৯ বা অন্য কোন কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, বাতিল বা খারিজের ষাট দিনের মধ্যে যদি কোন মৃত বাদির আইনগত প্রতিনিধি বা স্বত্বনিয়োগী বা কোন দেউলিয়া বাদির রিসিভার এই আইনের অধীন বাতিল বা খারিজের কোন আদেশকে রহিতকরণের নিমিত্তে আবেদন করে থাকেন, তাহলে আদালতে বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে, বিধি ৯ এর অধীন বর্ণিত বাদিকে যথেষ্ট কারণ বিষয়ে প্রমাণ করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ না প্রদান করে এরূপ বাতিল বা খারিজ সরাসরি রহিত করতে পারেন, তবে আদালত উপযুক্ত মনে করলে তাকে অনধিক তিন (৩) হাজার টাকার খরচা প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারেন।
১,৯৯৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশগুলো পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. হাই কোর্ট
  4. জজ কোর্ট
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
১,৯৯৪.
The Civil Courts Act, 1887-এর ৩৮ ধারাটি কোন আইনি নীতির প্রতিফলন ঘটায়?
  1. Res judicata
  2. Audi alteram partem
  3. Ub jus ibi remedium
  4. Nemo judex in causa sua
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act, 1887 এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী-
কোন বিচারক যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ হন বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে, অথবা কোন আপিল এমন ডিক্রি থেকে হয় যা ঐ বিচারক ঘোষণা করেছিলেন; তাহলে উক্ত বিচারকের শুনানী করে এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তিনি ঐ মামলা বা আপীলের শুনানী করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে জেলা জজ তাঁর স্থানীয় সীমার মধ্যে মামলা বা আপিল এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
- এই ধারায় 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি 'nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না- 'No one shall be judge of his own case' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

⇒ The Civil Courts Act, 1887- Section 38: Judges not to try suits in which they are interested-
(1) The presiding officer of a Civil Court shall not try any suit or other proceeding to which he is a party or in which he is personally interested.
(2) The presiding officer of an appellate Civil Court under this Act shall not try an appeal against a decree or order passed by himself in another capacity.
(3) When any such suit, proceeding or appeal as is referred to in sub-section (1) or sub-section (2) comes before any such officer, the officer shall forthwith transmit the record of the case to the Court to which he is immediately subordinate, with a report of the circumstances attending the reference.
(4) The superior Court shall thereupon dispose of the case under [section 24 of the Code of Civil Procedure. 1908].
(5) Nothing in this section shall be deemed to affect the extraordinary original civil jurisdiction of the High Court Division.

১,৯৯৫.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত সংশোধনের আবেদন করতে হয় কোন ধারার বিধান অনুসারে?
  1. আদেশ ৬ রুল ১৭
  2. ১৫২ ধারা
  3. ১৫৩ ধারা
  4. ১৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ ১৫৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের সংশোধনের সাধারণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদেশ ৬ রুল ১৭ অনুসারে আরজি ও লিখিত বর্ণনা সংশোধনের বিধান আছে। অন্যান্য দরখাস্ত ১৫৩ ধারার ক্ষমতাবলে সংশোধন করা যায়।
১,৯৯৬.
দেওয়ানী মামলার আরজি সমর্থিত হতে হবে-
  1. হলফনামা দ্বারা
  2. সত্যপাঠ দ্বারা
  3. এফিডেভিট দ্বারা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ৬ আদেশ-বিধি ১৫ মতে- দেওয়ানি মামলার আরজি সমর্থিত হতে হবে সত্যপাঠ দ্বারা। সত্যপাঠে প্লিডিংস এর অনুচ্ছেদ সংখ্যা উল্লেখ থাকে, সম্পাদনকারীর স্বাক্ষর থাকে এবং সম্পাদনের তারিখ ও স্থান উল্লেখ থাকে। সত্যপাঠ করেন সাধারণত পক্ষ বা পক্ষগণের একজন।
১,৯৯৭.
ডিক্রি প্রদানকারী আদালত হতে অন্য আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য ডিক্রি স্থানান্তর করতে পারে?
  1. ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে
  2. ডিক্রি দানকারী আদালতের নিজের ইচ্ছায়
  3. দায়িকের আবেদনক্রমে
  4. 'ক' এবং 'খ'
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ ধারার বিধান: ডিক্রি জারির জন্য স্থানান্তর:
কোন ডিক্রিদানকারী আদালত  নিজের ইচ্ছায়  বা ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য আদালতে প্রেরণ করতে পারে।
ক. যার বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে তিনি যদি উক্ত অন্য আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে স্বেচ্ছায় বসবাস করে কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করে;
খ. যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে ডিক্রির দাবি পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সম্পত্তি না থাকলে এবং অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমায় তার সম্পত্তি থাকে;
গ. ডিক্রিতে ডিক্রি দানকারী আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার বাহিরে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা প্রদানের জন্য নির্দেশ থাকলে;
ঘ. ডিক্রি দানকারী অন্য কোন কারণে ডিক্রিটি অন্য আদালতে প্রেরণ করা প্রয়োজনীয় মনে করলে। 
২) ডিক্রি প্রদানকারী আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন কোন অধঃস্তন আদালতে তা জারির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
১,৯৯৮.
ক’ এর দায়ের করা মামলায় ‘খ’ এর প্রতি সমন দেওয়া হলে সমন বিনা জারিতে ফেরত আসে। ‘ক’ সমন ফেরত আসার ৪৫ দিন পর তদবীর করে এই ক্ষেত্রে?
  1. পুনরায় সময় দেওয়ার আদেশ করবে
  2. মামলা খারিজ হবে
  3. পূর্বের দেওয়া সমন জারি বলে গণ্য হবে।
  4. কোনটি না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ৯ এর বিধি ৫ অনুযায়ী বিবাদীর প্রতি যথাযথভাবে সমন জারি না হয়ে ফেরত আসলে এবং বাদী যদি ৩০দিন বা ১ মাসের মধ্যে পুনরায় নতুন করে সমন দেওয়ার আবেদন না করে, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারে।
⇒ যেহেতু ‘ক’ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন না করে ৪৫ দিন পর তদবীর করে তাই মামলা খারিজ হবে।
⇒ বিবাদীর প্রতি যথাযথভাবে সমনজারি না হওয়ার কারণে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী তামাদি আইন সাপেক্ষে নতুন ভাবে মামলা দায়ের করতে পারে।
১,৯৯৯.
কোন দেওয়ানী মামলায় ডিক্রি প্রচারের পর কত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রস্তুত করতে হয়?
  1. ১০
  2. ২১
  3. ৩০
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ, বিষয়বস্তু, প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে। কোন মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষনা করে এবং পরবর্তীতে এই রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করা হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ২০ বিধি ৫ (ক) অনুযায়ী-
রায় ঘোষনার তারিখ হতে ০৭ দিনের মধ্যে আদালত ডিক্রি প্রণয়ন করবেন।
২,০০০.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় সংসদ সদস্যদের দেওয়ানি পরোয়ানায় গ্রেফতার ও আটক থেকে অব্যাহতির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৩২
  2. ধারা ১৩৫
  3. ধারা ১৩৫ক
  4. ধারা ১৩৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৩৫ক (Section 135A) অনুযায়ী, সংসদের সদস্যদের দেওয়ানি পরোয়ানায় গ্রেফতার ও আটক থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময় সংসদের কোনো সদস্যকে গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না।
- একইভাবে, সংসদের কোনো কমিটির অধিবেশন চলাকালীন সময় এবং সেই অধিবেশনের পূর্ব ও পরবর্তী ১৪ দিন পর্যন্ত সদস্যদের গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না।
- যদি কোনো সদস্যকে এই সময় আটক থেকে মুক্তি দেয়া হয়, তবে তিনি মুক্ত না হলে যতদিন আটক থাকতে হত, ততদিন তাকে আটক রাখা যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পুনঃগ্রেফতার করা যাবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৫ক ধারার বিধান: দেওয়ানি পরোয়ানায় আটক ও গ্রেফতার হতে সংসদ সদস্যদের অব্যাহতি:
-১) নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি পরোয়ানাধীনে গ্রেফতার অথবা জেলে আটক রাখা যাবে না-
ক) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের সদস্য হন, তবে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে; খ) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের কোন কমিটির একজন সদস্য হন, তবে এরূপ কমিটির অধিবেশন চলাকালীন সময়ে; এবং এরূপ অধিবেশন বা বৈঠকের পূর্বের বা পরের চৌদ্দ দিন সময় পর্যন্ত।
২) উপ-ধারা (১) অনুসারে আটকাদেশ হতে মুক্ত কোন ব্যক্তিকে এই উপ-ধারায় উল্লেখিত 7 বিধান সাপেক্ষে পুনঃ গ্রেফতার করা যাবে এবং তিনি (১) উপ-ধারার বিধানের অধীনে মুক্ত না হলে আরও যতদিন আটক থাকতে হত, ততদিন তাকে আটক রাখা যাবে।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section: 135A. Exemption of members of legislative bodies from arrest and detention under civil process:
(1) No person shall be liable to arrest or detention in prison under civil process-
(a) if he is a member of Parliament during the continuance of any meeting of Parliament;
(b) if he is a member of any committee of Parliament, during the continuance of any meeting of such committee;
and during the fourteen days before and after such meeting or sitting.

(2) A person released from detention under sub-section (1) shall, subject to the provisions of the said sub-section, be liable to re-arrest and to the further detention to which he would have been liable if he had not been released under the provisions of sub-section (1).