বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা ১৯ / ৩০ · ১,৮০১১,৯০০ / ২,৯৯৩

১,৮০১.
একটি দেওয়ানি মামলার যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে কোন আদালতে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. আপিল বিভাগ
  3. জেলা জজ
  4. অতিরিক্ত জেলা জজ
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
- দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে - জেলা জজ আদালতে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

- অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করতে হবে- জেলা জজ আদালতে।

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে সরাসরি রিভিশন দায়ের করা যায় না, জেলা জজ আদালতে কোন রিভিশন দায়ের করলে জেলা জজ এটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করেন। 
১,৮০২.
মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার জন্য আদালত কোন মোকদ্দমা মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে বা মধ্যস্থতা করতে পারে?
  1. আরজি দাখিলের সময়
  2. লিখিত জবাব দাখিলের আগে
  3. মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার পর
  4. লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি উভয় পক্ষ হাজির হয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৮৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে যে, লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি মোকদ্দমার উভয় পক্ষ নিজে / আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয় তাহলে আদালত শুনানী মুলতবী রেখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
⇒ মধ্যস্থতার ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হইলে আদালত পরবর্তীতে ৭ দিনের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিবেন।
⇒ মধ্যস্থতার সময় হবে ৬০ দিন তবে সর্বাধিক ৯০ দিনের বেশি নয়।

⇒ মধ্যস্থতার সংজ্ঞা (Definition of Mediation)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ ধারার ১নং ব্যাখ্যায় মধ্যস্থতার সংজ্ঞা রয়েছে। ৮৯ ধারার ১নং ব্যাখ্যায় মধ্যস্থতা বলতে প্রসারিত অনানুষ্ঠানিক, অবাধ্যতামূলক, গোপনীয়, অপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং সমঝোতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী মীমাংসার কোন শর্তে নির্দেশ না করে কিংবা তৎসম্পর্কে কোন আদেশ না দিয়ে পক্ষগণের মধ্যকার বিরোধগুলো নিষ্পত্তির সুযোগ করে দেন।
⇒ কখন মধ্যস্থতার কার্যক্রম শুরু হয়- লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত শুনানী মুলতবি রেখে মোকদ্দমার বিরোধটি আদালত নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে বা উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একজন মধ্যস্থতাকারীর নিকট পাঠাতে পারে। সুতরাং লিখিত জবাব দাখিলের পরই মধ্যস্থতার কার্যক্রম শুরু হয়।
⇒ বর্তমানে মধ্যস্থতার (Mediation) জন্য মামলার বিরোধীয় বিষয়টি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে পাঠানো আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
⇒ বিচারক নিজেই অথবা পক্ষগণ বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী (mediator) মধ্যস্থতা করতে পারে।
১,৮০৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ২০ আদেশের ১৪ বিধির অধীন কোন ধরনের মোকদ্দমার ডিক্রির বিধান উল্লেখ রয়েছে?
  1. সম্পত্তি বাটোয়ারা সংক্রান্ত
  2. অগ্রক্রয় সংক্রান্ত
  3. দখল এবং অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা সংক্রান্ত
  4. প্রশাসনিক মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ২০ আদেশের ১৪ বিধি: অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মোকদ্দমার ডিক্রি:
অগ্রক্রয় মোকদ্দমার সম্পত্তি বিক্রয় এর বিরুদ্ধে আদালত ডিক্রি প্রদান করলে, যদি উক্ত সম্পত্তির মূল্য আদালতে জমা দেয়া না হয় তাহলে আদালত টাকা জমা দেয়ার দিন অথবা সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। ডিক্রিতে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বাদী যদি সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা দেয় তাহলে টাকা জমা দেয়ার তারিখ থেকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। ডিক্রিতে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বাদী যদি সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা না দেয় বা ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত উক্ত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারেন।
আদালত যদি দুই বা ততোধিক দাবীদারের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন তাহলে প্রত্যেক দাবিদারকে আনুপাতিক হারে সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা দিতে হবে। সকল দাবীদারের পক্ষে ডিক্রি প্রদান না করে আদালত বিশেষ দাবীদারের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা দিতে সক্ষম হলে অন্যান্য দাবিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না।
১,৮০৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকৃতি (Admission) হতে পারে-
  1. মৌখিক ভাবে
  2. আরজি বা লিখিত জবাবের মাধ্যমে
  3. লিখিত অন্য কোনো উপায়ে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশে স্বীকৃতি (Admission) বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মোকদ্দমার কোন পক্ষ, অপর পক্ষের দাবির সত্যতা সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে স্বীকার করলে তা আদালতকে ৩ ভাবে জানানো যেতে পারে অর্থাৎ ৩ ভাবে স্বীকৃতি (Admission) হতে পারে। যথা-

i) আরজি বা লিখিত জবাবের মাধ্যমে লিখিত স্বীকৃতি দিয়ে;
ii) সম্মতি দ্বারা স্বীকৃতির মাধ্যমে; এবং
iii) নোটিশ দ্বারা স্বীকৃতি দিয়ে।

আদেশ ১২ বিধি ১ঃ মোকদ্দমার স্বীকারের নোটিশ-
মোকদ্দমার যেকোন পক্ষ তার আরজি বা জবাবের মাধ্যমে কিংবা লিখিত অন্য উপায়ে, অন্য কোন পক্ষের মোকদ্দমার সামগ্রিক বা আংশিকভাবে স্বীকার করে বলে নোটিশ প্রদান করতে পারে।
১,৮০৫.
দেওয়ানি আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে কোন ধরনের দলিলের বিষয়বস্তু বিবেচনা করতে পারে?
  1. আদালতের নিজস্ব দলিল
  2. শুধুমাত্র বাদীর দাখিলকৃত দলিল
  3. শুধুমাত্র বিবাদীর দাখিলকৃত দলিল
  4. উভয় পক্ষের দাখিলকৃত দলিল
ব্যাখ্যা
• কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় এর স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ নং আদেশে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ১৪ বিধি ৩ মতে-
আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন [Materials from which issues may be framed]—

ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উত্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ,
[allegations made on faith by the parties, or by any persons present on their behalf, or made by the pleaders of such parties]

খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূ্‌হ,
[allegations made in the pleadings or in answers to interrogatories delivered in the suit]

গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু। 
[the contents of documents produced by either party]
১,৮০৬.
আদালত বিচার্য বিষয় সংশোধন করতে পারে _______।
  1. রায় ঘোষণার পূর্বে যে কোনো সময়
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  3. যুক্তিতর্ক শুনানীর পূর্বে
  4. ডিক্রি প্রদানের পূর্বে যে কোনো সময়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ আদেশের ৫ বিধি অনুসারে- প্রথম শুনানী বা লিখিত জবাব দাখিলের ১৫ দিনের মধ্যে (যেটা আগে হয়) 

বিচার্য বিষয় প্রণয়ন ও লিপিবদ্ধ করতে হয়। যে সকল বিষয় বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা হয় না সে সকল বিষয়ে আদালতের উচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা। আদালত বিচার্য বিষয় সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারেন ডিক্রী প্রদানের পূর্বে যে কোন সময়। বিচার্য বিষয় নির্ধারনের ১২০ দিনের মধ্যে আদালত মামলার চূড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য করবেন।

♦ অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ আদেশের ৫ বিধি মতে আদালাত পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়াবলী নির্ণয়ের জন্য ডিক্রী প্রদানের পূর্বে যে কোন সময় বিচার্য বিষয় সংশোধন বা পরিবর্তন ,কর্তন করতে পারেন বা অতিরিক্ত বিচার্য বিষয়  গঠন করতে পারেন।
১,৮০৭.
আদেশ ৪৭, বিধি ২ অনুসারে, নিম্নের কোনটি 'পুনর্বিবেচনার' জন্য গ্রহণযোগ্য সাধারণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয় না?
  1. বিচারকের ব্যক্তিগত মত
  2. নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান ভ্রান্তি
  3. ক্লারিক্যাল বা গাণিতিক ভুল
  4. নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা

⇒ আদেশ ৪৭, বিধি ২ (Order 47, Rule 2, CPC) অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য গ্রহণযোগ্য সাধারণ কারণ হলো:
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ উদ্ভাবন (New and important matter or evidence)
- ক্লারিক্যাল বা গাণিতিক ভুল (Clerical or arithmetical mistake)
- নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান ভ্রান্তি (Error apparent on the face of the record)
কিন্তু বিচারকের ব্যক্তিগত মত বা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নয়।

⇒ আদেশ ৪৭ বিধি ২: যার নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে:
বিধি ১ এ উল্লেখিত রূপ এবং নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কারের বা ক্লারিক্যাল সম্পর্কে অথবা গাণিতিক ভুলের সঙ্গত কারণ বা নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান কোন ভ্রান্তির অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণের উপর করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রার্থীত ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন, শুধু সে বিচারকের নিকট আবেদন করতে হবে, কিন্তু ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন তিনি যদি বিধি-৪ এর উপবিধি-২ এর অন্তর্গত (ক) শর্তাংশ মোতাবেক নোটিশ জারি করে থাকেন, তাহলে অনুরূপ আবেদনপত্র তার স্থলাভিষিক্ত বিচারক দ্বারা সমাধান করা যাবে।
-------
⇒ Order 47 Rule 2: To whom applications for review may be made:
An application for review of a decree or order of a Court, not being a the High Court Division, upon some ground other than the discovery of such new and important matter or evidence as is referred to in rule 1 or the existence of a clerical or arithmetical mistake or error apparent on the face of the decree, shall be made only to the Judge who passed the decree or made the order sought to be reviewed, but any such application may, if the Judge who passed the decree or made the order has ordered notice to issue under rule 4, sub-rule (2), proviso (a), be disposed of by his successor.

১,৮০৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক অনুযায়ী, তিন বারের বেশি মুলতবি নেওয়া হলে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে?
  1. ন্যূনতম ১০০ টাকা, সর্বাধিক ৫০০ টাকা
  2. ন্যূনতম ২০০ টাকা, সর্বাধিক ১০০০ টাকা
  3. ন্যূনতম ৫০০ টাকা, সর্বাধিক ১০০০ টাকা
  4. ন্যূনতম ১০০০ টাকা, সর্বাধিক ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক(১) অনুসারে, আপিলের শুনানিতে কোনো পক্ষ যদি তিন বারের বেশি মুলতবি চায়, তাহলে আদালত তাকে ন্যূনতম ২০০ (দুইশ) টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ (এক হাজার) টাকা পর্যন্ত খরচ (cost) অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে। এই খরচ আদালত উপযুক্ত মনে করলে নির্ধারণ করবেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ এর বিধি ১২ক অনুসারে, আপিল শুনানির ক্ষেত্রে আদালত কোনো পক্ষের অনুরোধে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বার মুলতবি (adjournment) দিতে পারবেন।
- তবে ৩ বারের বেশি মুলতবি দেওয়া হলে, আদালত ন্যূনতম ২০০ টাকা এবং সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দেবেন।
- যদি আপিলকারী এই খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার আপিল খারিজ হয়ে যাবে।
- আর যদি প্রতিবাদী খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আপিল একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে।
- একতরফাভাবে আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ খারিজের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পুনরুজ্জীবনের আবেদন করতে পারবে।
- এই আবেদনের সঙ্গে আদালতের নির্ধারিত ন্যূনতম ২০০ টাকা ও সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে।
- প্রত্যেক পক্ষ এইরকম পুনরুজ্জীবনের সুযোগ একবারই পাবে।
- তবে আদালত যদি নিজে থেকে আপিল শুনানি মুলতবি করতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে, নইলে মুলতবির আদেশ দেবেন না।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-12A .Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.
(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.
(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.

১,৮০৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫ মূলত কোন আদালতের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. শ্রম আদালত
  2. ফৌজদারি আদালত
  3. রাজস্ব আদালত
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ ধারার বিধান: রাজস্ব আদালতে এই আইনের প্রয়োগ:
১) রাজস্ব আদালতে প্রযোজ্য বিশেষ আইন কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে নীরব থাকার ফলে এই আইনের বিধানসমূহ রাজস্ব আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সরকার, সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা ঘোষণা করতে পারে যে, উক্ত বিধানসমূহের যে-সকল অংশ এই আইন দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রযোজ্য করা হয়নি, তা উক্ত আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংশোধনীসহ প্রযোজ্য হবে।

২) (১) উপধারায় “রাজস্ব আদালত” বলতে ঐ আদালত বুঝায়, কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমির খাজনা রাজস্ব বা লাভ সম্পর্কিত মোকদ্দমা অথবা অন্যান্য কার্যধারা গ্রহণ করতে কোন আইনের অধীনে এখতিয়ারভুক্ত আদালতকে বুঝায়। তবে এটা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কার্যধারার মত অনুরূপ মোকদ্দমা বা কার্যধারাসমূহ বিচার করতে এই আইনের অধীনে মূল এতিয়ারযুক্ত দেওয়ানি আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
১,৮১০.
বিবাদীর হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করার সময় আদালতকে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়?
  1. বিবাদীর বাসস্থান
  2. আদালতের চলমান কার্যাবলী
  3. সমন পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি Order V Rule 6-এর স্পষ্ট বিধান: Fixing day for appearance of defendant: “The day for the appearance of the defendant shall be fixed with reference to the current business of the Court, the place of residence of the defendant and the time necessary for the service of the summons; and the day shall be so fixed as to allow the defendant sufficient time to enable him to appear and answer on such day.”

অর্থাৎ বিবাদীর হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করতে গেলে আদালতকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩টি বিষয় বিবেচনা করতে হবে:
- আদালতের চলমান কার্যাবলী / ব্যস্ততা (current business of the Court)
- বিবাদীর বাসস্থানের দূরত্ব (place of residence of the defendant)
- সমন সার্ভ করতে যে সময় লাগবে (time necessary for service of summons)
তাই আদালতকে সবগুলোই বিবেচনা করতে হবে।

১,৮১১.
আদেশ ১০ বিধি ৪ অনুযায়ী নির্দেশিত দিনে কোনো পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হলে, আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলা খারিজ করবে
  2. তার বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে
  3. উক্ত পক্ষকে নোটিশ পাঠাবে
  4. শুনানি পুনরায় শুরু করবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তার বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে।

আদেশ ১০ বিধি ৪: আইনজীবী (pleader) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে ফলাফল:

(১) যে পক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়েছে, যদি সেই আইনজীবী (pleader) অথবা আইনজীবীর সাথে থাকা ব্যক্তি (Rule 2 অনুযায়ী), মামলার সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে অথবা উত্তর দিতে অক্ষম হয়,
এবং আদালতের মত অনুযায়ী- সেই প্রশ্নের উত্তর পক্ষ নিজে দিতে পারতেন (যদি তাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করা হতো), তাহলে আদালত মামলার শুনানি স্থগিত করতে পারে, এবং ঐ পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তারিখে।

(২): যদি ঐ পক্ষ বৈধ অজুহাত ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় (judgment) দিতে পারে, অথবা মামলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্য কোনো আদেশ দিতে পারে।

১,৮১২.
আদেশ ৩ বিধি ১ অনুযায়ী- আদালত যদি নির্দেশ প্রদান করে যে পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে, তাহলে-
  1. পক্ষকে অবশ্যই আদালতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে
  2. পক্ষ তার স্বীকৃত প্রতিনিধি দ্বারা উপস্থিত থাকতে পারবে
  3. উকিলের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবে
  4. পক্ষের অন্য কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত থাকা যাবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৩ বিধি ১: উপস্থিতি ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি বা আইনজীবী মারফতে হতে পারে:

মোকদ্দমার কোন পক্ষের আদালতে হাজিরা দেয়া, আবেদন করা বা আইন মোতাবেক অন্য যা করা কর্তব্য, প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোন বিপরীত বিধান না থাকলে উক্ত কার্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন করতে পারে, অথবা তার স্বীকৃত প্রতিনিধি কর্তৃক কিংবা তার পক্ষে [ক্ষেত্র বিশেষ উপস্থিত, দরখাস্ত কিংবা কার্যকরী] কোন উকিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় হাজিরা দিতে, আবেদন করতে বা অন্য কোন কাজ সমাধান করতে পারে-

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাজিরা বা উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবেই দিতে হবে।
১,৮১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-32, Rule-9 এর বিধান কী?
  1. Retirement of next friend
  2. Removal of next friend
  3. Minor to sue by next friend
  4. Unreasonable or improper suit
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-৯ এর বিধান: আসন্ন বন্ধু অপসারণ (Removal of next friend): নাবালকের আসন্ন বন্ধুকে অপসারণ করা যায়- যখন আসন্ন বন্ধর স্বার্থ নাবালকের স্বার্থের প্রতিকূলে হয়; অথবা যখন আসন্ন বন্ধর স্বার্থ নাবালকের স্বার্থের প্রতিকূলে যায় এমন ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; অথবা যখন সে তার কর্তব্য পালন করে না; অথবা মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালে বাংলাদেশে বসবাস না করে অথবা  অন্য কোন যথেষ্ট কারণে নাবালকের পক্ষ হতে বা বিবাদী কর্তৃক তার অপসারণের জন্য আবেদন করা হয়।
-------------- 
⇒ CPC Order-32 Rule-9. Removal of next friend:

(1) Where the interest of the next friend of a minor is adverse to that of the minor or where he is so connected with a defendant whose interest is adverse to that of the minor as to make it unlikely that the minor's interest will be properly protected by him, or where he does not do his duty, or, during the pendency of the suit, ceases to reside within Bangladesh, or for any other sufficient cause, application may be made on behalf of the minor or by a defendant for his removal; and the Court, if satisfied of the sufficiency of the cause assigned, may order the next friend to be removed accordingly, and make such other order as to costs as it thinks fit.

(2) Where the next friend is not a guardian appointed or declared by an authority competent in this behalf, and an application is made by a guardian so appointed or declared, who desires to be himself appointed in the place of the next friend, the Court shall remove the next friend unless it considers, for reasons to be recorded by it, that the guardian ought not to be appointed the next friend of the minor, and shall thereupon appoint the applicant to be next friend in his place upon such terms as to the costs already incurred in the suit as it thinks fit.
১,৮১৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৫, বিধি-১ অনুযায়ী, ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার আরজিতে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের বক্তব্য
  2. বিবাদীদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক
  3. বাদীর সম্পত্তিতে পূর্ণ মালিকানা দাবি
  4. বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৫, বিধি-১ অনুযায়ী, ইন্টারপ্লিডার (স্বার্থবিহীন) মোকদ্দমা তখনই দায়ের করা যায়, যখন একাধিক ব্যক্তি (বিবাদী) একটি সম্পত্তি বা অধিকার দাবী করে, অথচ বাদীর নিজে ঐ সম্পত্তিতে কোনো স্বত্ব বা অধিকার নেই, শুধুমাত্র তিনি মামলার খরচের জন্য কিছু দাবি করতে পারেন।
বিধি-১ অনুযায়ী, আরজিতে যা যা থাকতে হবে:
→ বাদী মামলার খরচ ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ দাবি করেন না।
→ বিবাদীদের দাবিসমূহ পৃথকভাবে এবং পরস্পরবিরোধী।
→ বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র বা যোগসাজশ নেই।

- এখানে অপশন “ঘ) বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ নেই” — একমাত্র সঠিক উত্তর, কারণ এটি আদেশ ৩৫, বিধি ১-এর প্রথম এবং প্রধান শর্ত।

→ ইন্টারপ্লিডার মামলা বাদীকে দায়মুক্তি দিয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত দাবিদার নির্ধারণের সুযোগ দেয়, যেখানে বাদী শুধু সম্পত্তি আদালতে জমা দেয় ও নিজেকে বিরত রাখে।
১,৮১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশে “বিচার্য বিষয় (Issues)” সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. আদেশ ১২
  2. আদেশ ১৩
  3. আদেশ ১৪
  4. আদেশ ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করা। কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় এর স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৪-এ "বিচার্য বিষয়" (Issues) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই আদেশের বিধি ১ অনুসারে বিচার্য বিষয় প্রধানত দুই প্রকার:
১. তথ্যগত বিচার্য বিষয় (Issues of Fact)
২. আইনগত বিচার্য বিষয় (Issues of Law)

- বিচার্য বিষয় নির্ধারণের মাধ্যমে মামলার প্রকৃত বিবাদী বিষয় স্পষ্ট হয় এবং পক্ষগুলি তাদের প্রমাণ ও যুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত করতে পারে, যা মামলার দক্ষ ও কার্যকর নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে।

- কোন তথ্যগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি এক পক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে তবে, তা তথ্যগত বিচার্য বিষয় (issues of fact) হবে। কোন আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি একপক্ষ স্বীকার করে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করে, তবে তা আইনগত বিচার্য বিষয় (issues of law) হবে।

১,৮১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বিদেশি আদালত কর্তৃক কমিশন প্রেরণের বিধান রয়েছে?
  1. ৭৫ ধারায়
  2. ৭৬ ধারায়
  3. ৭৭ ধারায়
  4. ৭৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারার বিধান: বিদেশি আদালত কর্তৃক প্রেরিত কমিশন-
নির্ধারিত হতে পারে এরূপ শর্তাবলি ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, সাক্ষীদের পরীক্ষার নিমিত্তে কমিশন নির্বাহ এবং ফেরত সম্পর্কীয় বিধান নিম্নবর্ণিত আদালত কর্তৃক বা তার অনুরোধে নিযুক্ত কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হবে-
ক) বাংলাদেশ বহির্ভূত স্থানে অবস্থিত এবং সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিংবা পরিচালিত আদালতসমূহ; বা
গ) বাংলাদেশ বহির্ভূত যে কোন রাজ্য বা দেশের কোন আদালত।

Section 78- Commissions issued by foreign Courts:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the provisions as to the execution and return of commissions for the examination of witnesses shall apply to commissions issued by or at the instance of-
(a) Courts situate beyond the limits of Bangladesh and established or continued by the authority of Government, or
(c) Courts of any State or country outside Bangladesh.
১,৮১৭.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করেছে। মোকদ্দমাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একই চুক্তি ভঙ্গের দায়ে অন্য একটি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে। আদালত পরবর্তী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে?
  1. পূর্ববর্তী মোকদ্দমা খারিজ
  2. পরবর্তী মোকদ্দমা স্থগিত
  3. পরবর্তী মোকদ্দমা খারিজ
  4. যেকোনো একটি
ব্যাখ্যা
আদালত পরবর্তী মোকদ্দমা স্থগিত করার নির্দেশ দিতে পারে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারা অনুযায়ী বলা যায়, দেওয়ানি আদালত সকল প্রকার দেওয়ানি মোকদ্দমার বিচার করতে পারে। কিন্তু দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ এবং ১১ ধারায় দেওয়ানি আদালত নিম্নলিখিত দুইটি ক্ষেত্রে দেওয়ানি মোকদ্দমার বিচার করতে পারবে না-
ক. বিচারাধীন মোকদ্দমা/ মোকদ্দমা স্থগিতকরণ (Res sub judice) (ধারা-১০)
খ. দোবারা দোষ বা বিচারিত বিষয় (Res Judicata) (ধারা-১১)

দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় মোকদ্দমা স্থগিতকরণ (stay of suit) বা res sub judice সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ১০ ধারার নীতি প্রয়োগ করতে শর্তসমূহ-

⇒ দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা
⇒ উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হবে
⇒ উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে
⇒ পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি অবশ্যই বিচারাধীন থাকতে হবে
⇒ পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেই আদালতের দাবীকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে
⇒ উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্ত্বের অধীন মোকদ্দমা দায়ের করেছে।

১০ ধারার বিধান মান্য করা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ উপরের শর্ত পূরণ হলে আদালত উল্লেখিত পরবর্তী মোকদ্দমাটির বিচার স্থগিত করার নির্দেশ দিবেন।

Section 10: Stay of suit-

No Court shall proceed with the trial of any suit in which the matter in issue is also directly and substantially in issue in a previously instituted suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim litigating under the same title where such suit is pending in the same or any other Court in Bangladesh having jurisdiction to grant the relief claimed, or in any Court beyond the limits of Bangladesh established or continued by the Government and having like jurisdiction, or before the Supreme Court. 
Explanation.-The pendency of a suit in a foreign Court does not preclude the Court in Bangladesh from trying a suit founded on the same cause of action.

১,৮১৮.
এক তরফা ডিক্রি রদ বা বাতিল শর্ত কি?
  1. বিরুদ্ধ পক্ষকে নোটিশ
  2. বিরুদ্ধ পক্ষকে হাজির
  3. উভয় পক্ষকে নোটিশ
  4. উভয় পক্ষের হাজির
ব্যাখ্যা
• ৯ নং আদেশের ১৪ নং বিধি অনুযায়ী বিরুদ্ধ পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে, কোন এক তরফা ডিক্রি রদ বা বাতিল করা যাবে না।

• ৯ নং আদেশের ১৩ নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।

• আদেশ-৯, বিধি-১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)-
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১০ নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি;
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারেনি।

• আদেশ-৯, বিধি-১৩কঃ
সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল ( Directly setting-aside exparte decree)- বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য নেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
১,৮১৯.
অর্থ ডিক্রি জারির মামলায় নিম্নের কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার আদেশ দেয়া যাবে না?
  1. একজন মহিলা
  2. একজন কৃষক
  3. একজন নিঃস্ব ব্যক্তি
  4. একজন সরকারী কর্মচারী
ব্যাখ্যা
 ⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৬ ধারার বিধান- টাকার ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ: 
এই খণ্ডে অন্য কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও আদালত টাকা পরিশোধের জন্য ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেপ্তার বা আটক রাখার আদেশ প্রদান করবে না।

Section-56: Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
১,৮২০.
আদেশ ১৭ বিধি ১(৪) এর অধীন মোকদ্দমা একতরফা নিষ্পত্তি হলে, বিবাদী যদি পুনর্বহালের আবেদন করতে চান, তাহলে তাকে কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৪ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১৭ বিধি ১(৭):
উপ-বিধি (৩) কিংবা (৪) এর অধীন মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হলে তা শুনানির নিমিত্তে পুনর্বহাল করা হবে না, যদি না যার অমান্যের কারণে মোকদ্দমাটি খারিজ হয় কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, তিনি খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে তা পুনর্বহালের আবেদনের সঙ্গে আদালতে দুই হাজার টাকা ব্যায়াদির খরচা জমা প্রদান করেন; এবং অনুরূপ আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্য কার্যধারা ছাড়িয়ে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করা হবে এবং জমাকৃত খরচা অন্য পক্ষকে দিতে হবে।

[A suit dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (3) or (4) shall not be revived for hearing unless the party, for whose noncompliance the suit was dismissed or dispossed of ex parte, makes within thirty days of such dismissal or ex parte, disposal, an application fogether with cost of two thousand taka into Court for such revival; and upon such application being made, the suit shall be revived for bearing without any further proceeding, and cost deposited into Court shall be paid to the other party.]
১,৮২১.
'Substituted Service of Summon' বলতে কি বুঝায়?
  1. ব্যক্তিগত ভাবে সমন জারি
  2. বিকল্পভাবে সমন জারি
  3. সাক্ষীর নিকট সমন জারি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে। ক্ষেত্র বিশেষে সাক্ষীর প্রতিও সমন জারি করা যায়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে।

Order 5 Rule 20: Substituted service
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit.

(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.

Effect of substituted service-
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.

Where service substituted, time for appearance to be fixed-
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require. 
১,৮২২.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় চূড়ান্ত শুনানিকালে উভয়পক্ষ সময়ের আবেদন করলে মুলতুবি খরচার টাকা পাবেন-
  1. বাদী দরখাস্তকারী
  2. বিবাদী দরখাস্তকারী
  3. আদালত
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ আদেশ, বিধি ১(৫)-তে বলা হয়েছে: যে ক্ষেত্রে মোকদ্দমার উভয়পক্ষ মুলতবির দরখাস্ত দাখিল করে এবং আদালত খরচসহ মুলতবির দরখাস্ত মঞ্জুর করেন; সে ক্ষেত্রে আদালত উভয়পক্ষকে রাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে মুলতবির খরচ প্রদান/জমা করার আদেশ দিবেন।
♦ খরচের টাকার অধিকারী হবে:
 i. বাদী মুলতবি চাইলে- বিবাদী পাবে।
ii. বিবাদী মুলতবি চাইলে- বাদী পাবে।
iii. উভয়পক্ষ মুলতবি চাইলে- রাষ্ট্র পাবে।
১,৮২৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় "Judgment" এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ২(৭) ধারায়
  2. ২(৮) ধারায়
  3. ২(৯) ধারায়
  4. ২(১০) ধারায়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(৯):

"Judgment" means the statement given by the Judge of the grounds of a decree or order:
''রায়" (Judgment): বলতে ডিক্রি বা আদেশের ভিত্তি হিসেবে বিচারক যে বিবৃতি দেন, তা বুঝায়।

⇒ রায় বলতে বুঝায় কোন দেওয়ানী মামলায় প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসেবে বিচারক যে বর্ণনা দেন। সাধারণত, দেওয়ানী মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন এবং রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করেন।
১,৮২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি (১) অনুসারে, যখন বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের দখলে থাকা দলিলের ওপর নির্ভর করে, তখন তা উপস্থাপন করতে হবে-
  1. শুনানির সময়
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের সময়
  3. লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময়
  4. মামলার রায় ঘোষণার সময়
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি (১)-

১) ৮০ ধারার (২) উপধারা শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতীত বিবাদি তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থকপূর্বক একটি লিখিত জবাব পেশ করবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তি সংগত কারণ ব্যতীত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে, কিন্তু তা কোন ক্রমেই সমন জারি হওয়ার ৬০ কার্যদিবস অতিক্রম করবে না।আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি উক্ত ষাট কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, তবে আদালত এক তরফা মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করবে।

২) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার দখলীয় কিংবা ক্ষমতায় রক্ষিত দলিলসমূহের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বা দাবী সমন্বয় করার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি লিখিত বিবৃতি পেশ করার সময় তা আদালতে উপস্থাপন করবে এবং তখনই দলিলসমূহ লিখিত বিবৃতির সাথে নথিভুক্ত করার জন্য দিবে ।

৩) শুনানির সময় বা আদালত তলব করলে তখনই দাখিল করার অঙ্গীকার প্রদান করে ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট কিংবা উকিল কর্তৃক সত্যায়িত প্রতিলিপি প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করলে আদালত এরূপ দলিলাদি ফেরত প্রদান করতে পারে।

৪) যেক্ষেত্রে বিবাদি তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বা পাল্টা দাবীর অধিকার সমর্থনে তার দখলে ব ক্ষমতায় না থাকা অন্য প্রকার দলিলাদির উপর নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে সে লিখিত বিবৃতির সঙ্গে সংযোজন কিংবা যুক্ত করার জন্য একটি তালিকায় অনুরূপ দলিলাদি অন্তর্ভুক্ত করবে এবং ঐ দলিলাদি কার দখলে বা ক্ষমতায় আছে তা বর্ণনা করবে।

৫) যে দলিল বিবাদি কর্তৃক লিখিত বিবৃতি দাখিলের সময় উপস্থাপন করা কোন তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত বিবৃতির সাথে সংবর্ধিত কিংবা যুক্ত করা উচিত ছিল এবং যা তদনুসারে হাজির বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে মোকদ্দমা শুনানিকালে তার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে উক্তরূপ অনুমতি প্রদান করবে না।

৬) বাদির সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কিংবা বাদির মাধ্যমে উত্থাপিত কোন বিষয়ের জবাবে কিংবা কোন সাক্ষীর স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিল তার হাতে দেয়া হয়, (৫) উপ-বিধির কোন বিধানই ঐ দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
১,৮২৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬ অনুযায়ী, প্রতিটি আরজিতে তথ্য কীভাবে প্রমাণ করতে হবে?
  1. হলফনামার মাধ্যমে
  2. সাক্ষীর বিবরণীর মাধ্যমে
  3. মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে
  4. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২৫ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশের ধারা ২ অনুযায়ী, Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা 26-এ নতুন উপ-ধারা (2) যোগ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে:
"In every plaint, facts shall be proved by affidavit."
(প্রতিটি আরজিতে তথ্য হলফনামার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।)
- এটি ঐতিহ্যগত মৌখিক সাক্ষ্য পদ্ধতির পরিবর্তে লিখিত ও শপথবদ্ধ বিবরণীর মাধ্যমে প্রমাণের একটি আধুনিক পদ্ধতি চালু করেছে।
- অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬ এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি আরজিতে (প্লেইন্ট বা অভিযোগপত্র) উল্লেখিত তথ্য প্রমাণ করতে হবে হলফনামার মাধ্যমে। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ২৬: মোকদ্দমা দায়েরের পদ্ধতি:
(১) প্রত্যেক দেওয়ানি মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো উপায়ে দায়ের করতে হবে।
(২) প্রতিটি আরজিতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ অবশ্যই এফিডেভিট (শপথপত্র) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 26 of the Code of Civil Procedure, 1908: Institution of suits:
(1) Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed.
(2) In every plaint, facts shall be proved by affidavit.
১,৮২৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৭ অনুযায়ী আদালত নিম্নের কোনটি করার ক্ষমতা রাখেন না?
  1. জমিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া
  2. নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া
  3. অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া
  4. পরিদর্শনের আদেশ দেওয়া
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া।

আদেশ ৩৯ বিধি ৭: মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর আটক, সংরক্ষণ, পরিদর্শন ইত্যাদি:
১) মোকদ্দমার কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে এবং আদালতের বিবেচনায় উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে, আদালত—
ক) যে সম্পত্তি কোনো মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বা যা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে, তা আটক, সংরক্ষণ বা পরিদর্শনের আদেশ দিতে পারেন;
খ) উপরোক্ত যাবতীয় বা যেকোনো উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমার অপর কোনো পক্ষের দখলকৃত কোনো জমিতে বা দালানে প্রবেশ করার ক্ষমতা দান; এবং
গ) উপরোক্ত যাবতীয় বা যেকোনো উদ্দেশ্যে কোনো নমুনা সংগ্রহের বা কোনো পর্যবেক্ষণ করার বা পরীক্ষা করার জন্য, যা পূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ লাভের উদ্দেশ্যে দরকারি বা সুবিধাজনক মনে হতে পারে, কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতা দান করতে পারেন।

২) পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত বিধানসমূহ অত্র বিধি অনুসারে প্রবেশের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধনপূর্বক প্রযোজ্য হবে।
১,৮২৭.
আদেশ ৪১ বিধি-২৭(২) অনুযায়ী কোনটি বাধ্যতামূলক?
  1. সাক্ষীকে জেরা করা
  2. মামলার পুনঃতদন্ত করা
  3. উপস্থাপিত দলিলের তালিকা করা
  4. অতিরিক্ত প্রমাণ গ্রহণের কারণ লিপিবদ্ধ করা
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪১ বিধি-২৭: আপিল আদালতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য প্রদান:
১) আপিলের পক্ষগণ আপিল আদালতে মৌখিক কিংবা দালিলিক কোন প্রকার অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন অধিকারী হবে না। কিন্তু যদি-
ক) যে আদালতের ডিক্রী হতে আপিল দায়ের করা হয়েছে, সে আদালত এরূপ কোন সাক্ষ্য- প্রমাণ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে যা গ্রহণ করা উচিত ছিল; বা
খ) রায় প্রচারের সুবিধার্থে বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ কারণে আপিল আদালত কোন দলিল উপস্থাপন করা বা কোন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন মনে করে, তবে আপিল আদালত অনুরূপ সাক্ষ্য বা দলিল উপস্থাপন করার অনুমতি দিতে পারে বা সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে পারে।

২) যেক্ষেত্রে আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দিবে, সেক্ষেত্রে আদালত সেটি গ্রহণ সম্পর্কে কারণ লিপিবদ্ধ করবে।

১,৮২৮.
'ক' ২০,০০,০০০ টাকার মূল্যমানের একটি স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা সহকারী জজ আদালতে দায়ের করে। এই ক্ষেত্রে আদালত নিম্নলিখিত কোন সিদ্ধান্তটি নিতে পারে?
  1. আরজি প্রত্যাখান
  2. আরজি ফেরত
  3. আরজি সংশোধন
  4. মোকদ্দমা খারিজ
ব্যাখ্যা
• এখতিয়ার বিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে, আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য আরজি ফেরত পাঠাবে।

• যেহেতু মোকদ্দমাটির মূল্যমান ২০ লক্ষ টাকা, তাই তা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমাটি দায়ের করা উচিত ছিল।কারণ সহকারি জজ আদালতের এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা। [The Civil Courts Act,1887]

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

আরজি ফেরত (Return of Plaint) অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২.আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
১,৮২৯.
২৮ লাখ টাকা মূল্যমানের বাড়ির মালিকানা নিয়ে যে বিরোধে আছে, তা নিষ্পত্তির জন্য কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. Court of Assistant Judge
  2. Court of Senior Assistant Judge
  3. Court of Joint District Judge
  4. Court of District Judge
ব্যাখ্যা
⇒ কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করবেন সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
i) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
ii) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্থিক এখতিয়ার সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে নির্ধারিত হয়।
⇒ The Civil Courts Act, 1887 আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী-
- সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা
- সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা
- যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের; মোকদ্দমার বিচার করতে পারে।

অর্থাৎ ২৮ লাখ টাকা মূল্যমানের বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধ উক্ত মোকদ্দমা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দায়ের করবে।
 
আপিল সংক্রান্ত বিধান:
- যুগ্ম জেলা জজ (Joint District Judge) এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল—যদি মামলার মূল্য ৫ কোটি টাকার কম হয়, তবে আপিল জেলা জজের আদালতে যাবে।
- যদি ৫ কোটির বেশি হয়, তবে আপিল হাইকোর্ট বিভাগে যাবে।
১,৮৩০.
নিচের কোনটি দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ এর অধীনে ডিক্রির টাকা পরিশোধের পদ্ধতি নয়?
  1. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে
  2. ডিক্রিদারকে আদালতের বাইরে টাকা দিয়ে
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়
  4. দায়িকের স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রিদারকে দখল দিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।

উল্লিখিত প্রশ্নে দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ এর অধীনে 'দায়িকের স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রিদারকে দখল দিয়ে' ডিক্রির টাকা পরিশোধের পদ্ধতি নয়।

⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলী আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ কোন মোকদ্দমার রায়ে যার পক্ষে ডিক্রি দেয়া হয় তিনি আপনা আপনি ডিক্রির ফল ভোগ করতে পারবেন না। জারিযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে একটি ডিক্রি জারির মামলা করতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণপূর্বক জাবেদা নকল সহ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা যে আদালতে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয়েছে সে আদালতে ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয়।

⇒ডিক্রি জারির পদ্ধতি- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে ৫টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে। যথা-
i) সম্পত্তি অর্পণ (by delivery);
ii) ক্রোক ও বিক্রয় (attachment and sale);
iii) দেনাদারকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক;
iv) রিসিভার নিয়োগ; এবং
ⅳ) প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্য কোন উপায়ে।
১,৮৩১.
আদালত কর্তৃক রিভিউ আবেদন না-মঞ্জুরের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. আপত্তি দায়ের করা যায়
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং মঞ্জুর বিরুদ্ধে প্রতিকার:
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ (১) আদেশ অনুযায়ী বলা যায়, যে পক্ষ রিভিউ আবেদন করে, আদালত যদি রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। অর্থাৎ রিভিউ আবেদন মঞ্জুর একটি আপীলযোগ্য আদেশ।

কিন্তু আদেশ-৪৭ বিধি ৭(১) অনুসারে,
রিভিউ আবেদন না মঞ্জুরের বিরুদ্ধে আপিল বা আপত্তি দায়ের করা যায় না । যেহেতু রিভিউ আবেদন নামঞ্জুর করে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত আপিলযোগ্য নয় তাই এর বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন করা যাবে। ৪৭ আদেশের ৭ (২) বিধির অধীনে রিভিউ আবেদনকারীর অনুপস্থিতি বা হাজির না হওয়ার কারণে আদালত রিভিউ আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। উক্ত ৪৭ আদেশের ৭ (২) বিধির অধীনে রিভিউটি পুনঃবহালের আবেদন করা যেতে পারে।
১,৮৩২.
কোনটি রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয় ?
  1. জমি
  2. কোম্পানীর শেয়ার
  3. ব্যাংকের টাকা
  4. জমির ফসল
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ নং আদেশের এর ১২ বিধিতে বলা হয়েছে, আদালত কৃষি পণ্য আটকের আদেশ দিতে পারে না যদি উক্ত কৃষি পণ্য কৃষকের দখলে থাকে।
১,৮৩৩.
সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার জন্য বিষয়বস্তুর মূল্য কত হতে হবে?
  1. সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা
  2. ১০ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব
  3. ২০ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব
  4. সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
ধারা ১১০- বিষয়বস্তুর মূল্য:
১০৯ ধারার (ক) এবং (খ) দফায় উল্লেখিত প্রত্যেক ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য প্রথম বিচারিক আদালতে বিশ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব হতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নিকট আপিলেও বিরোধীয় মূল্য অবশ্যই তার সমপরিমাণ বা তদূর্ধ্বে হতে হবে; অথবা রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবশ্যই অনুরূপ পরিমাণ অর্থের দাবি কিংবা অনুরূপ মূল্যের সম্পত্তি জড়িত থাকতে হবে; এবং যে রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে, তা দ্বারা যদি অব্যবহিত অধঃস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়ে থাকে, তবে আপিলে অবশ্যই আইনগত একটি বড় প্রশ্ন নিহিত থাকতে হবে।

Sec.-110: Value of subject-matter:
In each of the cases mentioned in clauses (a) and (b) of section 109, the amount of value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter in dispute on appeal to the Appellate Division must be the same sum or upwards,or the Judgment, decree or final order must involve, directly or indirectly, some claim or question to or respecting property of like amount or value, and where the Judgment, decree or final order appealed from affirms the decision of the Court immediately below the Court passing such Judgment, decree or final order, the appeal must involve some substancial question of law.
১,৮৩৪.
"দায়িক" বলতে কাকে বোঝানো হয়?
  1. যে ব্যক্তি ডিক্রি প্রদান করেছে
  2. যার বিপক্ষে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে
  3. যে ব্যক্তি ডিক্রি প্রাপ্তি সম্পর্কে আবেদন করেছে
  4. যার অনুকূলে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
ধারা ২(১০) এ “দায়িক” (Judgment-debtor) এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে-

দায়িক বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝায়, যার বিপক্ষে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে বা জারিযোগ্য আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
(Judgment-debtor means any person against whom a decree has been passed or an order capable of execution has been made)
১,৮৩৫.
The Civil Courts Act,1887 এর ২১ ধারায় কয় ধরনের আদালতকে আপিলে গ্রহণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
  1. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 এর ২১ ধারায় আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার বিধান রয়েছে। ২১ ধারামতে শুধুমাত্র ২টি আদালত আপিলের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-

i) জেলা জজ আদালত এবং
ii) হাইকোর্ট বিভাগ।

• এই আইন সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০২১ সালের ১১ই জানুয়ারি এবং উক্ত দিন হতে সংশোধনী আইনটি কার্যকর হয়। উক্ত সংশোধনী দ্বারা ১৯ ও ২১ ধারা সংশোধন করা হয় এবং দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়।
২০২১ সালের দেওয়ানি আদালত সংশোধন আইন অনুযায়ী, জেলা জজ আদালত ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারেন। অর্থাৎ জেলা জজ আদালতের আপিল এখতিয়ার ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকা পর্যন্ত। ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার অধিক মূল্যমানের ডিক্রির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
১,৮৩৬.
"ডিক্রি দানকারী আদালত" সম্পর্কিত সংজ্ঞা কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৩৫ ধারা
  2. দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৩৭ ধারা
  3. দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৩৯ ধারা
  4. দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৪১ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৩৭ ধারা: ডিক্রি দানকারী আদালতের সংজ্ঞা:
“যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন" বলতে বা অনুরূপ কোন বাক্য দ্বারা ডিক্রি জারির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা প্রসঙ্গে বিপরীত কোন বিধান না থাকলে নিম্নোক্তরূপ অন্তর্ভুক্ত করে বলে বিবেচিত হবে,-
ক) জারিযোগ্য ডিক্রি আপিল এখতিয়ার ক্ষমতায় প্রদত্ত হলে মূল আদালত; এবং
খ) মূল আদালত উঠে গিয়ে থাকলে অথবা তার এখতিয়ার রহিত হয়ে গিয়ে থাকলে, ডিক্রি জারি করার আবেদন করার সময় যে আদালতের অনুরূপ মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ার ছিল, ঐ আদালত।

Section 37- Definition of Court which passed a decree:
The expression "Court which passed a decree," or words to that effect, shall, in relation to the execution of decrees, unless there is anything repugnant in the subject or context, be deemed to include,-
(a) where the decree to be executed has been passed in the exercise of appellate jurisdiction, the Court of first instance, and
(b) where the Court of first instance has ceased to exist or to have jurisdiction to execute it, the Court which, if the suit wherein the decree was passed was instituted at the time of making the application for the execution of the decree, would have jurisdiction to try such suit.
১,৮৩৭.
The Civil Courts Act, 1887 এর অধীনে কোন শ্রেণির আদালত অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জেলা জজের আদালত
  2. ফৌজদারি আদালত
  3. অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত
  4. সিনিয়র সহকারী জজের আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি আদালতসমূহের গঠন,এখতিয়ার সম্পর্কে The Civil Courts Act,1887 এ বর্ণনা করা হয়েছে।
- অর্থাৎ Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
⇒  The Civil Courts Act,1887 এর ধারা-৩ এ নিম্নলিখিত দেওয়ানি আদালতের প্রকারভেদ দেয়া হয়েছে-
১. জেলা জজ আদালত [Court of District Judge]
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত [Court of Additional District Judge]
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত [Court of Joint District Judge]
৪. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত [Court of Senior Assistant Judge]
৫. সহকারী জজ আদালত [Court of Assistant Judge]

⇒  The Civil Courts Act, 1887 শুধুমাত্র দেওয়ানি আদালত (Civil Courts) এর গঠন, এখতিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এই আইনের অধীনে নিম্নলিখিত শ্রেণির আদালত অন্তর্ভুক্ত:
ক) জেলা জজের আদালত
গ) অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত
ঘ) সিনিয়র সহকারী জজের আদালত
অন্যদিকে, ফৌজদারি আদালত (Criminal Courts) ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য গঠিত এবং এগুলি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC) ও অন্যান্য ফৌজদারি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
অতএব, খ) ফৌজদারি আদালত সঠিক উত্তর, কারণ এটি এই আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
১,৮৩৮.
আদেশ ১৭ বিধি ১ অনুযায়ী, আদালত কোন পর্যায়ে মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি রাখতে পারে?
  1. প্রথম শুনানিতে
  2. যেকোনো পর্যায়ে
  3. চূড়ান্ত শুনানিতে
  4. চূড়ান্ত শুনানীর আগে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশে Adjournment বা মূলতবির বিধান রয়েছে। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মুলতবির আবেদন।

• ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে-
> আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে।

> চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। অর্থ্যাৎ উভয় পক্ষকে খরচসহ এবং খরচ ছাড়া মোট ১৮টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারেন।

> অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মুলতবি মঞ্জুর করেনা।

> মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

> মুলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
১,৮৩৯.
'ক' ১৮ লক্ষ টাকা মূল্যমানের একটি স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমার আরজি সহকারী জজ আদালতে পেশ করে। এই ক্ষেত্রে আদালত নিম্নলিখিত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
  1. আরজি প্রত্যাখান
  2. আরজি সংশোধন
  3. আরজি ফেরত
  4. মোকদ্দমা খারিজ
ব্যাখ্যা
আদালত উক্ত আরজিটি ফেরত পাঠাবে।

• মোকদ্দমাটির মূল্যমান ১৮ লক্ষ টাকা, তাই তা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমাটি দায়ের করা উচিত ছিল।কারণ সহকারি জজ আদালতের এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫লক্ষ টাকা [The Civil Courts Act,1887]। যেহেতু এখতিয়ার বিহীন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে চেয়েছে, তাই আদালত মোকদ্দমাটি সঠিক আদালতে দায়েরের জন্য আরজি ফেরত পাঠাবে।

• আরজি ফেরত (Return of Plaint) অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ এর বিধি ১০ এ আরজি ফেরত এর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২.আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১(ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
১,৮৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১৭ অনুযায়ী কমিশনারকে দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য করা হয় কোন উদ্দেশ্যে?
  1. রায় প্রদানের জন্য
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য
  3. আপিল শুনানির জন্য
  4. ফৌজদারি বিচারের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order-26, Rule-17(1) অনুযায়ী, কমিশন দ্বারা নিযুক্ত কমিশনার যখন সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বা দলিলপত্র উপস্থিত করার জন্য কাউকে নির্দেশ দেন, তখন তিনি সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য হন।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো কমিশনার সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারবেন, সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিত করতে পারবেন, সাক্ষীকে সমন দিতে পারবেন, সাক্ষ্য না দিলে বা নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বিধানে উক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। 
- এগুলো করতে পারার জন্য কমিশনারকে অস্থায়ীভাবে "দেওয়ানী আদালত" এর ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে শুধুমাত্র সাক্ষ্য ও দলিল সংক্রান্ত উদ্দেশ্যে।
- তবে এই ক্ষমতা কমিশনারকে রায় প্রদানের বা আপিল শুনানির বা ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেওয়া হয় না।
- অর্থাৎ কমিশনারকে দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়, শুধু সাক্ষ্য গ্রহণ ও দলিল সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য, যাতে আদালতের বাইরে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।
 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১৭: কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীর হাজিরা ও জবানবন্দী প্রদান:
(১) সাক্ষীদের সমন প্রদান, হাজিরা এবং জবানবন্দী গ্রহণ এবং সাক্ষীর পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর দন্ড আরোপ সংক্রান্ত অত্র কোডের বিধানসমূহ বাংলাদেশে অবস্থিত আদালত কর্তৃক এরূপে নির্দেশিত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রেরিত হোক, না কেন, উক্ত কমিশন কর্তৃক অত্র আদেশ অনুসারে সাক্ষ্য দানের জন্য বা দলিল উপস্থিত করার জন্য আবশ্যকীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এবং অত্র বিধির উদ্দেশ্যে কমিশনারকে দেওয়ানী আদালত হিসাবে গন্য করা হবে।
(২) যে আদালতের স্থানীয় সীমানার ভিতর কোন সাক্ষী বসবাস করে, তিনে প্রয়োজনীয়তা খুজিয়া পেলে সে সাক্ষীর প্রতি বা বিরুদ্ধে কোন পরোয়ানা প্রেরণের জন্য সেরূপ কোন আদালতে (হাইকোর্ট বিভাগ নহে) কমিশনার আবেদন করতে পারেন, এবং উক্ত আদালত ইচ্ছা করলে যুক্তিসঙ্গত ও উপযুক্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারেন।
১,৮৪১.
আদালত কখন কোনো মোকদ্দমা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করতে পারে?
  1. মামলাটি পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য ব্যর্থ হলে
  2. অন্য কোন যৌক্তিক কারণে
  3. বিবাদী মারা গেলে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
- আদেশ ২৩-এর বিধি ১ মতে আরজিতে ফরমাল ডিফেক্ট আছে এই কারণে পুনরায় দাখিলের শর্তে মোকদ্দমা প্রত্যাহারের বিধান আছে। তবে এইরূপে অনুমতি না নিয়ে প্রত্যাহার করলে পরবর্তীতে আর মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে না।
- আদালতের অনুমতি ছাড়া মোকদ্দমা প্রত্যাহার করলে বাদী ঐ বিষয়ে নতুন মামলা দায়ের করতে পারবে না। তবে আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রত্যাহার করলে ঐ বিষয়ে নতুন মামলা দায়ের করা যাবে।
- যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা কোন আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, অথবা নতুনভাবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অন্যান্য যথেষ্ট কারণ আছে সেক্ষেত্রে আদালত বাদীকে নতুন করে মোকদ্দমা করার অনুমতিসহ উক্ত মোকদ্দমার বিষয় বস্তু বা কোন দাবীর অংশ পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

------------
CPC Order-23 Rule-1. Withdrawal of suit or abandonment of part of claim:
(1) At any time after the institution of a suit the plaintiff may, as against all or any of the defendants, withdraw his suit or abandon part of his claim.

(2) Where the Court is satisfied−
(a) that a suit must fail by reason of some formal defect, or
(b) that there are other sufficient grounds for allowing the plaintiff to institute a fresh suit for the subject-matter of a suit or part of a claim,

it may, on such terms as it thinks fit, grant the plaintiff permission to withdraw from such suit or abandon such part of a claim with liberty to institute a fresh suit in respect of the subject-matter of such suit or such part of a claim.
১,৮৪২.
কোন বিধানের অধীনে আদালত নির্ধারিত তারিখে বাদী ও বিবাদী উপস্থিত না হলে, মামলা খারিজ করতে পারে?
  1. আদেশ ৮, বিধি ৫
  2. আদেশ ৯, বিধি ৩
  3. আদেশ ৭, বিধি ৪
  4. আদেশ ১০, বিধি ২
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি ৩ অনুসারে,
মোকদ্দমার শুনানীর জন্য নির্ধারিত তারিখে যদি বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষ হাজির না হয়, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করে দিতে পারে।
[Where neither party appears when the suit is called on for hearing, the Court may make an order that the suit be dismissed.]

• প্রদত্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার (বিধি ৪):
১- উল্লিখিত কারণে মোকদ্দমা খারিজ হলে, উক্ত খারিজের বিরুদ্ধে বাদী নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২- খারিজ আদেশ রদ করতে আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারে।
১,৮৪৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুযায়ী, আদালত কয়টি ক্ষেত্রে কমিশন ইস্যু করতে পারে?
  1. নির্দিষ্ট নয়
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কমিশন ইস্যু করতে পারে;
১. কোন ব্যক্তির জবানবন্দি বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে;
২. স্থানীয় বা সরেজমিনে তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য;
৩. হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করতে;
৪. সম্পত্তি বাটোয়ারা করার জন্য।

Section-75: Power of Court to issue commissions:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission-
(a) to examine any person;
(b) to make a local investigation;
(c) to examine or adjust accounts;
(d) to make a partition.
১,৮৪৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে, যদি একটি আপিলযোগ্য ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা না হয়, তবে কী করা যায়?
  1. রিভিশন দাখিল করা যায়
  2. রেফারেন্সের আবেদন করা যায়
  3. নতুন মোকদ্দমা দাখিল করা যায়
  4. কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এর নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য হয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষ সময়মতো বা কাঙ্ক্ষিতভাবে আপিল দাখিল না করে, তখন সেই ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধিতে দ্বিতীয়বার আপিলের সুযোগ নেই, তাই রিভিশন হলো সেই ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। অন্য  অপশন যেমন নতুন মোকদ্দমা বা রিভিউ এই পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য নয়। তাই সঠিক পদক্ষেপ হলো রিভিশন দাখিল করা।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুসারে, যদি একটি আপিলযোগ্য ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা না হয় এবং সেই ডিক্রিতে আইনগত ভ্রান্তি বা ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা থাকে, তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিশন দাখিল করতে পারে। 
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ এ উল্লেখ আছে যে, রিভিশন দাখিল করা যায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে:
- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান নেই।
- যে ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য হলেও আপিল দাখিল করা হয়নি।
- যদি ডিক্রি বা আদেশে আইনগত প্রশ্নে ভ্রান্তি বা এখতিয়ারের অপব্যবহার হয়, যার ফলে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হয়।
এই ক্ষেত্রে, সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ আদালতে (যে আদালতের এখতিয়ারের অধীনে মোকদ্দমা পড়ে) রিভিশন দাখিল করতে পারে। রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চতর আদালত নিম্নতর আদালতের আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে সংশোধন বা যথাযথ আদেশ প্রদান করে।
১,৮৪৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৮ বিধি-৭ এ কীসের পদ্ধতি বর্ণিত আছে?
  1. ক্রোকের
  2. গ্রেফতারের
  3. কমিশন জারির
  4. সম্পত্তি বিক্রয়ের
ব্যাখ্যা

আদেশ ৩৮ বিধি-৭: ক্রোক করার পদ্ধতি:
অন্যরূপ স্পষ্ট বিধান ব্যতিরেকে, ডিক্রি জারির দরুন সম্পত্তি ক্রোকের পদ্ধতিতে উক্ত ক্রোক করা যাবে।

Rule.-7: Mode of making attachment:
Save as otherwise expressly provided, the attachment shall be made in the manner provided for the attachment of property in execution of a decree.

১,৮৪৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Section 89A (10) এর বিধানানুযায়ী 'Panel of Mediators' প্রস্তুত করেন কে?
  1. জেলা জজ
  2. আইন মন্ত্রণালয়
  3. জেলা প্রশাসক
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
♦ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত জজ, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশিক্ষিত বলে জানা কোন ব্যক্তি এবং প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত এইরূপ ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যারা উক্ত উদ্দেশ্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত তাদের সমন্বয়ে জেলা জজ মধ্যস্থতাকারীগণের একটি তালিকা তৈরী করবেন (সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করতে হবে) এবং তার প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে তালিকার বিষয়ে তিনি অবহিত করবেন।

♦ মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা-
i) জেলা জজ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্যানেল সদস্য; বা
ii) অবসরপ্রাপ্ত জজ; অথবা
iii) সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমার পক্ষগণ নিযুক্ত উকিল ব্যতীত অন্য যে কোন উকিল মধ্যস্থতাকারী হতে পারবেন।

♦ তবে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে (Office of Profit) নিযুক্ত কোন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে না
১,৮৪৭.
জেলা জজের আদালত কখন মোকদ্দমা স্থানান্তর করতে পারেন?
  1. যে কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে
  2. বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে
  3. স্বপ্রণোতদিত হয়ে
  4. উপরের সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২৪ অনুসারে উপরিউক্ত ৩ ক্ষেত্রেই মোকদ্দমা স্থানান্তর করা যায়।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারায় স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতার বিধান আছে। এই ধারা অনুযায়ী মোকদ্দমার যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকল পক্ষকে নোটিশ দিয়ে এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যে কোন সময়- ‌তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম-
১) প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং
২) তা বিচার বা নিষ্পত্তি করতে পারেন, অথবা
৩) অধীনস্ত কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য স্থানান্তর করতে পারেন; অথবা
৪) যেই আদালত হতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।

♦ কোন মোকদ্দমা স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে যে পর্যায়ে তা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।

♦ স্বল্প এখতিয়ার আদালত হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মোকদ্দমার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মোকদ্দমার ব্যাপারে স্বল্প এখতিয়ার আদালত বলে গণ্য করতে হবে।
১,৮৪৮.
আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে কি হবে?
  1. আরজি ফেরত
  2. আরজি নাকচ
  3. মামলা খারিজ
  4. মামলা চলবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আাদেশ ৭ এর বিধি ১১ আনুযায়ী নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি নাকোচ করা হবে।
ক) যেক্ষেত্রে এটি মোকদ্দামার কারণ ব্যক্ত করে নাই;
খ) যেক্ষেত্রে দাবীকৃত প্রতিকারের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উহা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে;
গ) যেক্ষেত্রে দাবীকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশত বাদী নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রীত স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মামলা কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বলে প্রতীয়মান হয়; তবে শর্ত থাকে যে, মামলার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ দাখিল করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই একুশ দিনের অধিক হবে না।
১,৮৪৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, অর্থ পরিশোধের ডিক্রি আদায়ের জন্য কোন ধরনের নারীদের গ্রেপ্তার বা সিভিল কারাগারে আটক করা নিষিদ্ধ নয়?
  1. গর্ভবতী নারী
  2. বিধবা নারী
  3. স্তন্যদানকারী নারী
  4. বৃদ্ধ, অসুস্থ নারী 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৬-তে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র নিম্নোক্ত শ্রেণির নারীদের অর্থের ডিক্রি এক্সিকিউশনে গ্রেপ্তার বা দেওয়ানি কারাগারে আটক করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে:
- বৃদ্ধা (old)
- দুর্বল/অসুস্থ (infirm)
- গর্ভবতী (pregnant)
- স্তন্যদানকারী (breast-feeding) নারী
তবে বিধবা (widow) হওয়ার কারণে কোনো নারীকে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। তাই বিধবা নারীদের এই ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার বা আটক করা নিষিদ্ধ নয় (যদি তারা উপরের চারটি শ্রেণির মধ্যে না পড়েন)। সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) বিধবা নারী। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫৬– অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকরে নারীদের গ্রেফতার বা আটক নিষিদ্ধ:
এই অধ্যায়ে অন্য যেই কিছুই বলা থাকুক না কেন, আদালত কোনো বৃদ্ধা, দুর্বল, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীকে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যনির্বাহে দেওয়ানি কারাগারে আটক বা গ্রেফতারের আদেশ প্রদান করতে পারবে না।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 56- Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
- Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of an old, infirm, pregnant or breast-feeding woman in execution of a decree for the payment of money.

১,৮৫০.
টাকার ডিক্রি জারি মামলায় কোন ধরনের দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে না?
  1. ষাটোর্ধ্ব পুরুষ
  2. যে-কোনো বয়সী স্ত্রীলোক
  3. বিকলাঙ্গ পুরুষ
  4. নিঃষ্ব ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারাঃ ৫৬ হল- অর্থের ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ (Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money): আদালত অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেফতার বা আটক রাখার কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
১,৮৫১.
মোকদ্দমার কোন পক্ষ আদালতে হাজির হতে পারে-
  1. ব্যক্তিগত ভাবে
  2. স্বীকৃত প্রতিনিধির মাধ্যমে
  3. আইনজীবীর মাধ্যমে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমার কোন পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে অথবা স্বীকৃত প্রতিনিধির অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হতে পারে। তবে আদালত নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাজিরা বা উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবেই দিতে হবে।

• আদেশ ৩ বিধি ১ (উপস্থিতি ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি বা আইনজীবী মারফতে হতে পারে)-

মোকদ্দমার কোন পক্ষের আদালতে হাজিরা দেয়া, আবেদন করা বা আইন মোতাবেক অন্য যা করা কর্তব্য, প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোন বিপরীত বিধান না থাকলে উক্ত কার্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন করতে পারে, অথবা তার স্বীকৃত প্রতিনিধি কর্তৃক কিংবা তার পক্ষে [ক্ষেত্র বিশেষ উপস্থিত, দরখাস্ত কিংবা কার্যকরী] কোন উকিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় হাজিরা দিতে, আবেদন করতে বা অন্য কোন কাজ সমাধান করতে পারেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাজিরা বা উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবেই দিতে হবে।

Order 3 Rule 1: Appearances, etc. may be in person, by recognized agent or by pleader-
Any appearance, application or act in or to any Court, required or authorised by law to be made or done by a party in such Court, may, except where otherwise expressly provided by any law for the time being in force, be made or done by the party in person, or by his recognized agent, or by a pleader appearing, applying or acting, as the case may be, on his behalf:
Provided that any such appearance shall, if the Court so directs, be made by the in person.
১,৮৫২.
দেওয়ানী কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে মিথ্যা বা উৎপীড়নমূলক মামলার জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ খরচ কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. বিশ হাজার টাকা
  2. ত্রিশ হাজার টাকা
  3. পঞ্চাশ হাজার টাকা
  4. এক লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫A ধারা অনুযায়ী, কোনো পক্ষ যদি মিথ্যা বা উৎপীড়নমূলক মামলা দায়ের করে, তাহলে আদালত প্রতিপক্ষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।
- আগে এই সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল “twenty” অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা, কিন্তু— দেওয়ানী কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, ৩৫A ধারার উপ-ধারা (১)-এ “twenty” শব্দের পরিবর্তে “fifty” শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
অর্থাৎ এখন সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা যেতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 35A. Compensatory costs in respect of false or vexatious claims or defences.
(1) If in any suit or other proceeding, including an execution proceeding, not being an appeal, any party objects to the claim or defence on the ground that the claim or defence, or any part of it, is false or vexatious, and if, thereafter, such claim or defence is disallowed, in whole or in part, the Court shall, after recording its reasons for holding such claim or defence to be false or vexatious, make an order for the payment to the objector, such cost by way of compensation which may, without exceeding the limit of the Court's pecuniary jurisdiction, extend upto fifty thousand taka.
(2) No person against whom an order has been made under this section shall, by reason thereof, be exempted from any criminal liability in respect of any claim or defence made by him.
(3) The amount of any cost awarded under this section in respect of a false or vexatious claim or defence shall be taken into account in any subsequent suit for damages or compensation in respect of such claim or defence.
১,৮৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ৪ অনুসারে, আদালত কখন পুনর্বিবেচনার আবেদন অগ্রাহ্য করতে পারে?
  1. ডিক্রি বা আদেশ বাতিল হলে
  2. যথেষ্ট অজুহাত না থাকলে
  3. বিপরীত পক্ষ উপস্থিত না থাকলে
  4.  আবেদনকারী নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করলে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি-৪: যেক্ষেত্রে আবেদন অগ্রাহ্য হয়:
১) যদি আদালতের নিকট দৃষ্টিগোচর হয় যে, পুনর্বিবেচনা করার মত যথেষ্ট অজুহাত নেই, তাহলে আদালত পুনর্বিবেচনার আবেদন অগ্রাহ্য করতে পারবে।

২) আবেদন মঞ্জুর হওয়ার ক্ষেত্রেঃ যদি আদালত মনে করেন যে, পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করা উচিতঃ তবে শর্ত থাকে যে,
ক) যে ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা করা হয়েছে, সে ডিক্রি বা আদেশ সম্পর্কে বিপরীত পক্ষকে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ প্রদানের জন্য পূর্বে নোটিশ প্রদান করা না হলে পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যাবে না; এবং

খ) প্রার্থনাকারী এমন ধরনের নতুন তথ্য বা প্রমাণের উদঘাটন করেছে যা ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় তার জ্ঞাতসারে ছিল না বা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি, উক্ত অভিযোগের কারণে পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা আবেদন করা হলে ঐরূপ অভিযোগ সম্বন্ধে দৃঢ় প্রমাণ ব্যতীত পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যাবে না।

১,৮৫৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী "বিচার্য বিষয়" কত প্রকার?
  1. এক প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. তিন প্রকার
  4. চার প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ ১৪ বিধি-১ বিচার্য বিষয় প্রণয়ন:
(১) যখন কোন ঘটনার বা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একপক্ষ দুঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।
(২) গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে আইনগত বা তথ্যসংক্রান্ত সেই সমস্ত বিষয় বুঝাবে, বাদী কর্তৃক তার মামলা করার অধিকার প্রতিপন্ন করার জন্য যে বিষয়ে অভিযোগ আনয়ন করতে হবে, অথবা বিবাদী কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যে বিষয়ের উপর নির্ভর করতে হবে।
(৩) একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করে।
(৪) বিচার্য বিষয় দুই প্রকার : ক) তথ্যগত বা ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়, খ) আইনগত বিচার্য বিষয়।
-----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-14. Framing of issues:
(1) Issues arise when a material proposition of fact or law is affirmed by the one party and denied by the other.
(2) Material propositions are those propositions of law or fact which a plaintiff must allege in order to show a right to sue or a defendant must allege in order to constitute his defence.
(3) Each material proposition affirmed by one party and denied by the other shall form the subject of a distinct issue.
(4) Issues are of two kinds: (a) issues of fact, (b) issues of law.
১,৮৫৫.
Order 18 Rule 4A অনুযায়ী হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার আগে কী বাধ্যতামূলক?
  1. ফি প্রদান
  2. আদালতের অনুমতি
  3. বিপক্ষ পক্ষকে এক কপি প্রদান করা
  4. সাক্ষীকে এক কপি প্রদান করা
ব্যাখ্যা

Order XVIII, Rule 4A- Examination-in-chief on affidavit and admissibility of documents:
(১) এই কোড বা Evidence Act, 1872–এ ভিন্ন কিছু থাকলেও তা সত্ত্বেও আরজি (plaint) বা লিখিত জবাবে (written statement) যে তথ্য উল্লেখ আছে, বাদী বা বিবাদীকে মৌখিকভাবে (orally) সেগুলো পুনরায় বলতে বা অস্বীকার করতে হবে না।

(২) প্রত্যেক ক্ষেত্রে, বাদী বা বিবাদীর Examination-in-chief (প্রধান জবানবন্দি) হবে হলফনামার (affidavit) মাধ্যমে। এরপর তিনি জেরা (cross-examination) হতে পারবেন, এবং প্রয়োজনে পুনঃজেরা (re-examination)–ও হতে পারে।

প্রথম শর্ত (Proviso 1)-
হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার আগে এক কপি বিপক্ষ পক্ষকে অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে।

দ্বিতীয় শর্ত (Proviso 2)-
যদি হলফনামার সঙ্গে কোনো নথি দাখিল করা হয় এবং পক্ষসমূহ সেই নথির ওপর নির্ভর করে, তাহলে ঐ নথির প্রমাণ (proof) ও গ্রহণযোগ্যতা (admissibility) আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করবে।

১,৮৫৬.
একটি মোকদ্দমায় 'ক' একাধিক বাদীদের মধ্যে একজন। সকল বাদীদের পক্ষে শুধু 'ক' মোকদ্দমা পরিচালনা করতে পারে যদি-
  1. বাদীপক্ষ লিখিতভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
  2. বিবাদীপক্ষ মৌখিক বা লিখিতভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
  3. আদালত লিখিত ভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
  4. বাদীপক্ষ মৌখিক ভাবে ক্ষমতা অর্পণ করে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১ বিধি ১২ অনুযায়ী-

১) কোন মোকদ্দমায় অধিক সংখ্যক বাদি বিদ্যমান থাকলে তন্মধ্যে যেকোন এক ব্যক্তিকে অথবা একাধিক ব্যক্তিকে সকলে তাদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে মোকদ্দমাকেন্দ্রিক অভিযোগাদির উত্তর দিতে বা কার্য করতে তথা তদারক করার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে,
অনুরূপভাবে কোন মোকদ্দমার অধিক সংখ্যক বিবাদি বিদ্যমান থাকলে, তন্মধ্যে যেকোন একজনকে বা একাধিক জনকে অপর সকলে তাদের পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে মোকদ্দমাকেন্দ্রিক অভিযোগাদির উত্তর দিতে বা কার্য করতে তথা তদারক করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে।

২) ক্ষমতা প্রদানকারী পক্ষের স্বাক্ষরে ক্ষমতা অর্পণ লিখিতভাবে করতে হবে এবং তা আদালতে দাখিল করতে হবে।

Appearance of one of several plaintiffs or defendants for others-
(1) Where there are more plaintiffs than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceedings; and in like manner, where there are more defendants than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceeding.
(2) The authority shall be in writing signed by the party giving it and shall be filed in Court. 
১,৮৫৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত আদেশের কত বিধি অনুযায়ী আপীল আদালত রায় ঘোষণা করতে পারে?
  1. আদেশ ৪১, বিধি ৩০
  2. আদেশ ৪১, বিধি ৩১
  3. আদেশ ৪১, বিধি ৩২
  4. আদেশ ৪২, বিধি ২
ব্যাখ্যা
⇒ আপিলে রায়:
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩০ এর বিধান রায় কখন এবং কোথায় ঘোষিত হয়:  আপিল আদালত পক্ষগণ বা তাদের উকিলদের শুনানির পর এবং আপিলের বা যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল করা হয়েছে সে আদালতের কার্যধারার কোন অংশ রেফারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হলে সেটা উল্লেখ করে তৎক্ষণাৎ বা পরবর্তী তারিখ সম্পর্কে যার নোটিশে পক্ষগণকে বা উকিলগণকে প্রদান করতে হবে, প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষিত হবে।
-------------
⇒ Judgment in appeal:

Order 41 Rule.-30: Judgment. When and where pronounced.- The Appellate Court after hearing the parties or their pleaders and referring to any part of the proceedings, whether on appeal or in the Court from whose decree the appeal is preferred, to which reference may be considered necessary, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day of which notice shall be given to the parties or their pleaders.
১,৮৫৮.
স্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রিতে ক্রেতা হিসাবে ঘোষণার অব্যবহিত পরেই ক্রেতাকে ক্রয়মূল্যের ________ টাকা জমা দিতে হবে।
  1. ২৫%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৮৪ বিধান অনুযায়ী,
স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয়ের ক্রেতা বলে ঘোষিত ব্যক্তি ঘোষণার পরপরই ক্রয়মূল্যের ২৫% টাকা জমা প্রদান করবে এবং তা প্রদানে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিটি তখনই পুনরায় নিলামে বিক্রয় করা হবে।

আদেশ ২১ বিধি-৮৪ - ক্রেতা কর্তৃক জমা এবং ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে পুনর্বিক্রয়:
১) স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয়ে সময় খরিদ্দার বলে ঘোষিত ব্যক্তি বিক্রয় পরিচালনাকারী কর্মচারী কিংবা অপর ব্যক্তির নিকট উক্ত ঘোষণা অব্যবহিত পরই তার ক্রয় মূল্যের টাকার শতকরা পঁচিশ ভাগ টাকা জমা প্রদান করবে এবং অনুরূপ প্রদানে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিটি তখনই পুনরায় নিলামে বিক্রয় করা হবে,

২) যেক্ষেত্রে ডিক্রিদার ক্রেতা এবং ৭২ বিধির অধীনে ক্রয় মূল্যের দাবী সমন্বয়ের অধিকারী, সেক্ষেত্রে আদালত এই বিধির আবশ্যকতা পরিত্যাগ করতে পারে
১,৮৫৯.
আদালত পুনর্বিবেচনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে, আদেশ ৪৭ বিধি-৭ অনুসারে-
  1. আপিল করা যাবে
  2. আপত্তি তোলা যাবে
  3. আপিল করা যাবে না
  4. উচ্চ আদালতে পুনঃআবেদন করা যাবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪৭ বিধি-৭: প্রত্যাখ্যাত আদেশ আপিলযোগ্য নয়, আবেদন মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি:

১) আদালত পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না; কিন্তু প্রার্থনা কবুলের আদেশ প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত কারণে আপত্তি পেশ করা যাবে-
ক) বিধি-২ তে বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী;
খ) বিধি-৪ এ বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী;
গ) আবেদনের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ অতীত হওয়ার পর এবং যথেষ্ট কারণ ব্যতীত সেটি করা হয়েছিল বলে আপত্তি উত্থাপন করা যেতে পারে; আবেদন মঞ্জুর করে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে, বা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করে ঐরূপ আপত্তি উত্থাপন করা চলবে।
১,৮৬০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, যদি বাদী আদালতের প্রশ্নমালার উত্তর বা দলিলসমূহ উদ্‌ঘাটন/পরিদর্শন আদেশ পালন না করে, আদালত কী করবে?
  1. বাদীকে জরিমানা করবে 
  2. বাদীর মোকদ্দমা খারিজ করবে
  3. বাদীকে নতুন নোটিশ দেবে
  4. বাদীকে আরেকটি সুযোগ দেবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, যদি বাদী আদালতের প্রশ্নমালার উত্তর বা দলিলসমূহ উদ্‌ঘাটন/পরিদর্শন আদেশ পালন না করে, তবে আদালত বাদীর মোকদ্দমা খারিজ করার আদেশ দিতে পারে। এর মানে হল যে, বাদী যদি আদালতের নির্ধারিত আদেশ মেনে না চলে, তাহলে আদালত বাদীর মামলা খারিজ করে দিতে পারে, অর্থাৎ বাদীর মামলা আর চলবে না।

- এটি আদালতের প্রক্রিয়া যাতে যথাযথ অনুসরণ করা হয় এবং কোন পক্ষ যদি আদালতের আদেশ অমান্য করে, তখন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করে।

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী:
যখন প্রশ্নকারী পক্ষ অথবা দলিলসমূহ উদ্‌ঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী আদালতে আবেদন করেন, তখন আদালত অপরপক্ষকে নিম্নোক্ত আদেশ দিতে পারেন:
- প্রশ্নমালার উত্তরদান (Answer to interrogatories) এর আদেশ।
- দলিলসমূহ প্রকাশ/উদ্‌ঘাটন (Discovery of documents) এর আদেশ।
- দলিলসমূহ পরিদর্শন (Inspection of documents) এর আদেশ।

যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ উপরিউক্ত আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হন বা অমান্য করেন, তবে এর ফলাফল হতে পারে:
বাদী ব্যর্থ হলে: বাদীর মোকদ্দমা খারিজ আদেশ দেওয়া হবে।
বিবাদী ব্যর্থ হলে: বিবাদীর আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল (Strike out defence) আদেশ দেওয়া হবে।

প্রতিকার: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি অনুযায়ী, যেসব আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে, সেগুলি নির্দেশিত আছে। আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী আদালত যে কোন আদেশ দিলে তা আপিলযোগ্য আদেশ হিসেবে গণ্য হবে। এই আদেশের বিরুদ্ধে Order 43 Rule 1(f) এর অধীনে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবে।
১,৮৬১.
নিম্নবর্ণিত কোন বিষয়টি নির্ধারনের জন্য আরজিতে দেওয়ানি মামলার মূল্যায়ন দেখানো হয়?
  1. আদালতের এখতিয়ার
  2. প্রসেস ফি
  3. সম্পদের সীমা
  4. প্রদেয় আয়কর
ব্যাখ্যা
♦ আরজিতে কোন কোন বিষয় উল্লেখ করতে হবে তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং অর্ডারের ১ নং বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার নির্ধারন করার জন্য আরজিতে দেওয়ানী মামলার মূল্যমান দেখানো হয়। যেমন, যদি আরজিতে উল্লেখ করা হয়, মোকদ্দমার মূল্যমান ৫লক্ষ টাকা, তাহলে  সহকারী জজের নিকট মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
১,৮৬২.
The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, কবে থেকে কার্যকর হয়?
  1. ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৮ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৮ আগষ্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৮ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) এর সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন বিষয়ক ধারা ১(১) এবং ১(২)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই অধ্যাদেশটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই তারিখটি অধ্যাদেশের প্রকাশনার সাথে সম্পর্কিত এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে প্রণীত ও জারি করা হয়েছে।

- অর্থাৎ, প্রশ্নটি The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance কার্যকর হওয়ার তারিখ সম্পর্কে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 এর ধারা ১(২) তে বলা হয়েছে যে এটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ক) ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

- এই অধ্যাদেশটি দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিভিন্ন ধারা ও বিধিতে সংশোধনী এনেছে, যার মাধ্যমে মোকদ্দমার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

১,৮৬৩.
দেওয়ানি আদালতসমূহের আর্থিক এখতিয়ার সর্বশেষ কবে সংশোধন করা হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
The Civil Courts Act, 1887 সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০২১ সালের ১১ই জানুয়ারি এবং উক্ত দিন হতে সংশোধনী আইনটি কার্যকর হয়। উক্ত সংশোধনী দ্বারা ১৯ ও ২১ ধারা সংশোধন করা হয় এবং দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়।

• পূর্বে একজন সহকারী জজ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের (সম্পত্তি বা অর্থে যে অঙ্কের টাকা নিয়ে বিরোধ) মামলা নিষ্পত্তি করতে পারতেন। এখন সেই এখতিয়ার বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজের বিচারিক এখতিয়ার চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা এবং আপিল শুনানির ক্ষেত্রে জেলা জজের এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার অধিক মূল্যমানের ডিক্রির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
১,৮৬৪.
বাংলাদেশে ADR-এর জন্য কোন আইনের মধ্যে প্রত্যক্ষ বিধান নেই?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
  3. অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩
  4. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
ব্যাখ্যা

⇒ Alternative Dispute Resolution (ADR) বলতে বোঝায় আদালতের বাইরে আইনি স্বীকৃত উপায়ে (যেমন: মধ্যস্থতা, সালিশ, আপস) বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, যেখানে পক্ষগণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিরোধ মেটাতে পারেন।

খ) ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC):এই আইনটি মূলত ফৌজদারি অপরাধ আমল, তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এতে মধ্যস্থতা, সালিশ বা সমঝোতার মাধ্যমে বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য কোনো সাধারণ বা সরাসরি বিধান নেই।
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: এই আইনের ধারা ৩৪৫-এ "অপরাধ আপস" (Compounding of Offences) এর বিধান আছে, যার মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বাদী ও বিবাদীর মধ্যে আপসের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তবে এটিকে ADR বলা যায় না, কারণ এটি শুধুমাত্র আইন দ্বারা স্বীকৃত কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি সীমিত আইনি প্রক্রিয়া, ADR-এর মতো একটি ব্যাপক ও নমনীয় বিবাদ নিষ্পত্তি পদ্ধতি নয়।

অন্য অপশন গুলা:
ক)  দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (CPC): এই আইনে ADR-এর সরাসরি ও বাধ্যতামূলক বিধান রয়েছে। ধারা ৮৯(ক) ও ৮৯(খ) অনুযায়ী, দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর আদালত মধ্যস্থতা, সালিশ বা সমঝোতার মাধ্যমে বিবাদটি নিষ্পত্তির জন্য পক্ষদ্বয়কে উৎসাহিত করবে এবং প্রয়োজনে এর জন্য সময় বেঁধে দেবে।
গ) অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩: এই আইনেও মামলা নিষ্পত্তির জন্য ADR-এর ব্যবস্থা রয়েছে।
আইনে অর্থ ঋণ সংক্রান্ত বিবাদ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ঘ) পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক বিবাদগুলো আপস ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা।
আইনের ধারা ১১ ও ১৪-এ পারিবারিক বিবাদ নিষ্পত্তিতে আপস ও মধ্যস্থতার ব্যবস্থা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এ সরাসরি ADR সংক্রান্ত কোনো বিধান নেই।

১,৮৬৫.
বিধি প্রণয়ন কমিটিতে সুপ্রীম কোর্টের কত জন বিচারক থাকবে?
  1. ৩ জন
  2. ২ জন
  3. ১ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১২৩ ধারা অনুযায়ী বিধি প্রণয়ন কমিটির সদস্য  সর্বমোট ৬ জন। সদস্যগণ হলো

ক. সুপ্রীম কোর্টের তিন (৩) জন বিচারক নিয়ে যাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন ৩ বছর জেলা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

খ. উক্ত আদালতে অ্যাডভোকেট হিসাবে প্রাক্টিস করছে এমন ২ জন অ্যাডভোকেট

গ. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ দেওয়ানী আদালতের একজন বিচারক। এই কমিটির সদস্যরা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তিনি উক্ত কমিটির সভাপতি মনোনীত করবেন এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দিবে্ন।
১,৮৬৬.
রেস সাবজুডিস ও রেস জুডিকাটার মধ্যে সাদৃশ্য কোনটি-
  1. উভয় ক্ষেত্রে মামলা একই আদালতে দায়ের হবে
  2. উভয় ক্ষেত্রে মামলার বিষয়বস্তু একই থাকবে
  3. প্রথম ক্ষেত্রে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে
  4. প্রথম মামলাটি বিচারাধীন থাকবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১০ ধারা অনুযায়ী পক্ষগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে বিচারাধীন কোন মামলা অন্য কোন আদালতে নতুন করে একই বিষয় নিয়ে মামলা করা যাবে না।

♦ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১১ ধারা অনুযায়ী একই পক্ষগনের মধ্যে কোন বিষয়ে একবার বিচার নিষ্পত্তি হলে উক্ত বিষয়ে পুনরায় মামলা করা যাবে না।

♦ রেস সাবজুডিস ও রেস জুডিকাটার মধ্যে সাদৃশ্য হলো- উভয় ক্ষেত্রে মামলার বিষয়বস্তু একই থাকবে। 
১,৮৬৭.
'ক','খ' এর বিরুদ্ধে দলিল বাতিলের মোকদ্দমা করে। আদালত মোকদ্দমায় 'ক' এর পক্ষে রায় দেন। ঐ একই বিষয়ে উক্ত দলিল বাতিল নিয়ে 'খ' যদি পুনরায় 'ক' এর বিরূদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে, তাহলে আদালত -
  1. পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা খারিজ করবে
  2. পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা স্থগিত করবে
  3. পরবর্তীতে দায়েরকৃত চালিয়ে যাবে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা রেস জুডিকাটা নীতি অনুযায়ী খারিজ করে দিবে

• রেস জুডিকাটা(Res Judicata)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দেওয়ানী মামলায় রেস জুডিকাটার রয়েছে। ১১ ধারা মতে,এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিম্পন্ন কোন মোকদ্দমা পরবর্তীতে যদি পুনরায় দায়ের করা তাহলে আদালত মোকদ্দমাটির বিচার করবে না যদি নিষ্পন্নকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ এবং পরবর্তীতে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ একই হয়।

• রেস জুডিকাটা নীতির শর্ত সমূহ: 
i) ২টি মামলা অর্থাৎ পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত একটি মামলা ও পরবর্তীতে দায়েরকৃত আরেকটি মামলা থাকতে হবে।
ii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার পক্ষসমূহ এবং বিচার্য বিষয় একই হবে এবং একই স্বত্বের অধীন (Under same title) হবে।
iii) পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত হবে।
iv) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার বিচার্য বিষয় সমূহ প্রত্যক্ষভাবে না হয় মূলত (directly or substantially) একই হয়ে যায়। অর্থাৎ উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন হতে হবে।

যেমন- উল্লেখিত মোকদ্দমায়  'খ' ঐ একই বিষয়ে দলিল বাতিল নিয়ে পুনরায় 'ক' এর বিরূদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে। তাই আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা খারিজ করে দিবে। কেননা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মোকদ্দমা একই বিচার্য বিষয় নিয়ে ও একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে দায়ের করা হয়েছে।।
১,৮৬৮.
'ক'-ঢাকার একজন ব্যবসায়ী। 'খ'-খুলনায় ব্যবসা করে। 'খ' তার প্রতিনিধি মারফত কুমিল্লায় 'ক' এর মালামাল ক্রয় করে এবং কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য 'ক'-কে অনুরোধ জানায়। 'ক' সেই অনুসারে মালগুলো পাঠায়। কিন্তু 'খ' মূল্য পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এক্ষেত্রে 'ক' মালগুলোর মূল্যের জন্য 'খ'-এর বিরুদ্ধে কোথায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. ঢাকা বা কুমিল্লায়
  2. খুলনায়
  3. কুমিল্লা বা খুলনায়
  4. কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা
'খ'-এর বিরুদ্ধে কুমিল্লা বা খুলনায় এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২০ এ বলা আছে- ধারা ১৬ থেকে ১৯ এ উল্লেখিত মোকদ্দমা ছাড়া অন্যান্য মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে, যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে-

ক) বিবাদি বা একাধিক বিবাদি থাকলে, তাদের প্রত্যেকে মোকদ্দমাটি দায়ের করার সময় প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করে অথবা ব্যবসা করে বা লাভজনক কাজ করে; অথবা,

খ) একাধিক বিবাদি থাকলে তাদের কোন একজন মোকদ্দমা রুজু করার প্রাক্কালে প্রকৃতপক্ষে এবং স্ব-ইচ্ছায়, বসবাস করে বা ব্যবসা করে অথবা ব্যক্তিগতভাবে লাভজনক কাজ করেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এক্ষেত্রে আদালতের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে অথবা যে সমস্ত বিবাদি এলাকায় বসবাস করে না বা ব্যবসা করে না কিংবা ব্যক্তিগতভাবে লাভজনক কর্ম করে না তাদের এই মোকদ্দমা দায়েরের ব্যাপারে রাজী হতে হবে; অথবা

(গ) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিক উদ্ভব হয়েছে

উল্লেখিত ক্ষেত্রে বিবাদি 'খ' খুলনায় ব্যবসা কাজ পরিচালনা করেন এবং কুমিল্লায় মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হয়। তাই উক্ত মোকদ্দমা কুমিল্লা বা খুলনায় এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়ের করা যাবে।
১,৮৬৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, কে মোকদ্দমা খারিজের আবেদন করতে পারে?
  1. যেকোনো নাবালক
  2. নাবালকের অভিভাবক
  3. নাবালকের আইনজীবী
  4. সাবালকত্ব প্রাপ্ত হওয়া একমাত্র বাদী নাবালক
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) সাবালকত্ব প্রাপ্ত হওয়া একমাত্র বাদী নাবালক।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২, বিধি-১৪ অনুযায়ী, একটি নাবালক যে একমাত্র বাদী হিসেবে তার Next Friend (নেক্সট ফ্রেন্ড) এর মাধ্যমে মোকদ্দমা রুজু করেছিল, সে সাবালক হওয়ার পর যদি মনে করে যে মামলাটি ছিল অযৌক্তিক (unreasonable) বা অনুচিত (improper), তবে সে নিজেই আদালতে সেই মামলা খারিজের আবেদন করতে পারে।
- এই বিধান কেবলমাত্র এমন নাবালক বাদীর জন্য প্রযোজ্য,  যিনি একমাত্র বাদী ছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন।
 আদালত যদি আবেদনকারী সাবালক বাদীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয় যে মামলাটি অযৌক্তিক বা অনুচিত, তবে আদালত: মামলাটি খারিজ করতে পারে; নেক্সট ফ্রেন্ডকে সংশ্লিষ্ট সকল খরচ বহনের নির্দেশ দিতে পারে; অথবা অন্য কোনও উপযুক্ত আদেশ দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১৪: অযৌক্তিক বা অনুচিত মোকদ্দমা:
১) কোন নাবালক একমাত্র বাদি হলে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়ে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত হওয়ার কারণে খারিজ হবে।
২) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপর আবেদনের নোটিশ জারি করতে হবে এবং উক্ত অসংগত কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে এবং আবেদনপত্র ও মোকদ্দমার ব্যাপারে কোন কিছু সম্পর্কে সকল পক্ষ বরাবর খরচাদি পরিশোধের জন্য নেক্সট ফ্রেন্ডকে আদেশ দিতে পারে বা আদালত উপযুক্ত মনে করে অন্য কোন উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule-14:
(1)A minor, upon attaining majority, may, if he is the sole plaintiff, apply for the dismissal of a suit instituted in his name by his next friend on the grounds that it was unreasonable or improper.
(2)Notice of the application shall be served on all the parties concerned. Upon being satisfied of the unreasonableness or impropriety of the suit, the Court may grant the application and order the next friend to pay the costs of all parties regarding the application and anything done in the suit, or make such other order as it deems appropriate.
১,৮৭০.
রিসিভারকে আদালত যে ক্ষমতা দিতে পারে, তার মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. আদালতে হিসাব দাখিল
  2. নিজের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা
  3. অবহেলাজনিত ক্ষতির জন্য দায়ী থাকা
  4. প্রাপ্ত অর্থ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রদান
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ (Order XL) রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে। আদালত যখন রিসিভার নিয়োগ করে, তখন তাকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রদান করে। তবে, এই ক্ষমতা সীমিত এবং মালিকানাসুলভ নয়।
- রিসিভার হলেন একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি যিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও আয়-ব্যয়ের হিসাব রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেই সম্পত্তির মালিক হন না।
⇒ রিসিভারের ক্ষমতা ও দায়িত্বসমূহ (আদেশ ৪০, বিধি ১ ও ৩):
- আদালতের আদেশ অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহণ ও পরিচালনা (বিধি ১)
- মামলা পরিচালনা, ভাড়া আদায়, সম্পত্তির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
- আদালতের আদেশ অনুযায়ী আয়-ব্যয় সম্পর্কিত হিসাব দাখিল (বিধি ৩(b))
- প্রাপ্ত অর্থ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রদান (বিধি ৩(c))
- অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য দায়ী হওয়া (বিধি ৩(d))

• কিন্তু রিসিভারের ক্ষমতার মধ্যে “নিজের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা” অন্তর্ভুক্ত নয়।
কারণ, রিসিভার কেবল অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক – তিনি কখনোই মালিকানা দাবী করতে পারেন না।
আদালতের অনুমোদন ব্যতীত রিসিভার কোনোভাবে সম্পত্তি নিজের নামে স্থানান্তর করতে পারেন না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-৩. রিসিভারের দায়িত্ব:
নিয়োগকৃত প্রতিটি রিসিভারকে—
(ক) সম্পত্তি বাবদ যা কিছু গ্রহণ করবে তার যথাযথ হিসাব প্রদানের জন্য আদালত যেরূপ নিরাপত্তা (যদি প্রয়োজন হয়) নির্ধারণ করে তা প্রদান করতে হবে;
(খ) আদালত যে সময় ও ফরম্যাট নির্ধারণ করবে সেই অনুযায়ী হিসাব দাখিল করতে হবে;
(গ) আদালত যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বলবে তা প্রদান করতে হবে; এবং
(ঘ) তার ইচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার কারণে সম্পত্তির যেকোনো ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে।

Order XL, Rule-3. Duties of Receiver:
Every receiver so appointed shall—
(a) furnish such security (if any) as the Court thinks fit, duly to account for what he shall receive in respect of the property;
(b) submit his accounts at such periods and in such form as the Court directs;
(c) pay the amount due from him as the Court directs; and
(d) be responsible for any loss occasioned to the property by his wilful default or gross negligence.
১,৮৭১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি ৩ অনুসারে, আদালত কর্তৃক নেওয়া জেরার সারমর্ম কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে?
  1. উকিলরা নোট করে রাখবেন
  2. আদালতের ক্লার্ক লিখে রাখবেন
  3. ডিক্রি বইতে লিপিবদ্ধ করতে হবে
  4. জজ নিজে লিখে রেকর্ডের অংশ করবেন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০ বিধি ৩ (Order X Rule 3): "The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record."
অর্থাৎ, আদালত কর্তৃক নেওয়া জেরার সারমর্ম (substance of the examination) জজ নিজে লিখে নেবেন এবং এটি রেকর্ডের (case record) অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হবে। 
----- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 10 Rule-3.Substance of examination to be written:
- The substance of the examination shall be reduced to writing by the Judge, and shall form part of the record. 

১,৮৭২.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় বিবাদী একাধিক হলে সমন প্রত্যেক বিবাদীর উপর জারি করার বিধান উল্লেখ রয়েছে?
  1. আদেশ-৫ বিধি-১১
  2. আদেশ-৫ বিধি-১৩
  3. আদেশ-৫ বিধি-১৮
  4. আদেশ-৫ বিধি-২১
ব্যাখ্যা

→ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-১১ তে বিবাদী একাধিক হলে সমন প্রত্যেক বিবাদীর উপর জারি করার বিধান উল্লেখ রয়েছে। 
মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ(৫) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। মোকদ্দমায় এক বা একাধিক বিবাদী থাকতে পারে।
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে সেক্ষেত্রে সমন আদেশ ৫ এর বিধি ১১ নং অনুসারে জারি করতে হবে।
 
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-১১ এর বিধান: 
অনুরূপ নির্দেশ যদি না থাকে তবে ক্ষেত্রে বিবাদির সংখ্যা বহুসংখ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদিগণের প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-5 Rule-11: Service on several defendants:
- Save as otherwise prescribed, where there are more defendants than one, service of the summons shall be made on each defendant.

১,৮৭৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধান মতে আপিল আদালত পুনঃবিচারের নিমিত্তে মোকদ্দমা প্রেরণ করতে পারেন?
  1. ৪১ আদেশের ১২ নিয়ম মতে
  2. ৪১ আদেশের ২০ নিয়ম মতে
  3. ৪১ আদেশের ২৩ নিয়ম মতে
  4. ৪১ আদেশর ৩১ নিয়ম মতে
ব্যাখ্যা
- ১০৭ ধারায় আপীল আদালতকে কোন মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- কোন কোন প্রেক্ষাপটে আপীল আদালত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে তা আদেশ ৪১ এর ২৩ বিধি এবং ২০ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মামলা বিচারের সময়ে নিম্ন আদালত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করে থাকলে তা বিবেচনা করার জন্য বা প্রাথমিক প্রশ্নে (Preliminary points) মামলা নিষ্পত্তি ক থাকলে, আপীলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হলে, আপীল আদালত মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ৪১ আদেশের ২০ বিধির অধীন নিম্ন আদালতে পুনঃপ্রেরণ করতে পারবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-২৩ বিচারের নিমিত্তে আপিল আদালত কর্তৃক মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ:
- যেক্ষেত্রে যে আদালতের ডিক্রী হতে আপিল দায়ের করা হয়েছে, সে আদালত যদি মোকদ্দমাটি কোন প্রাথমিক বিষয়ের উপর নিস্পত্তি করে থাকেন এবং আপিলে উক্ত ডিক্রী রদ হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত উপযুক্ত মনে করলে মোকদ্দমাটি পুনঃপ্রেরণের আদেশ দিতে পারেন এবং অনুরূপে পুনঃপ্রেরিত মোকদ্দমায় কোন্ কোন বিষয় বা বিষয়াবলীর বিচার করতে হবে তৎসম্পর্কে আরো নির্দেশ দিতে পারেন এবং এটির রায়ের ও আদেশের একটি নকল যে আদালতে ডিক্রী হতে আপিল করা হয়েছে, অনুরূপ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমার রেজিস্ট্রারে সেটির মূল নম্বরের অধীনে মোকদ্দমাটি বিচারার্থে পুনঃগ্রহণ করার এবং মোকদ্দমা নিস্পত্তি করার নির্দেশাবলীসহ প্রেরণ করতে হবে এবং মূল বিচারকালে লিপিবদ্ধকৃত সাক্ষ্য (যদি কোন) যাবতীয় সঙ্গত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ঐগুলোও পুনরায় প্রেরণের পর বিচারকালে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে।
------------
⇒ CPC Order-41 Rule-23. Remand of case by Appellate Court:
- Where the Court from whose decree an appeal is preferred has disposed of the suit upon a preliminary point and the decree is reversed in appeal, the Appellate Court may, if it thinks fit, by order remand the case, and may further direct what issue or issues shall be tried in the case so remanded, and shall send a copy of its judgment and order to the Court from whose decree the appeal is preferred, with directions to re-admit the suit under its original number in the register of civil suits, and proceed to determine the suit; and the evidence (if any) recorded during the original trial shall, subject to all just exceptions, be evidence during the trial after remand. 
১,৮৭৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩, বিধি-৩ অনুসারে আদালত কী জারি করে?
  1. সমন
  2. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  3. আপস অনুযায়ী ডিক্রি
  4. অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) আপস অনুযায়ী ডিক্রি। 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩, বিধি ৩ অনুসারে, যখন আদালতের সন্তুষ্টি সহকারে প্রমাণিত হয় যে, মোকদ্দমা একটি বৈধ চুক্তি বা আপসের মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় হয়েছে, অথবা বিবাদি বাদিকে সন্তুষ্ট করেছে, তখন আদালত:
১) চুক্তি/আপস/সন্তুষ্টির বিষয়টি রেকর্ড করে, এবং
২) মোকদ্দমার প্রাসঙ্গিক অংশ অনুযায়ী একটি ডিক্রি প্রদান করে।
- এটি একটি ফাইনাল ডিসপোজাল (চূড়ান্ত নিষ্পত্তি) এবং আদালত তখন আর সাধারণ বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যায় না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ বিধি-৩: মোকদ্দমার আপস:
যেক্ষেত্রে আদালতের সন্তুষ্টি সহকারে এটি প্রমাণিত হয় যে, আইনসংগত চুক্তি বা আপসের দ্বারা কোন মোকদ্দমা সামগ্রিক বা আংশিকভাবে সমন্বয়িত হয়েছে কিংবা যদি বিবাদি মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সামগ্রিক বা কোন অংশের সম্পর্কে বাদিকে মিটিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত চুক্তি, আপস বা মিটানোর বিষয়টি লিপিবদ্ধ করার আদেশ দিবে এবং যতদূর মোকদ্দমার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত হয়, ততদূর তদানুসারে একটি ডিক্রি প্রদান করবে।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-23 Rule-3- Compromise Suit:
- Where it is proved to the satisfaction of the Court that a suit has been adjusted wholly or in part by any lawfull agreement or compromise, or where the defendant satisfies the plaintiff in respect of the whole or any part of the subject-matter of the suit, the Court shall order such agreement, compromise or satisfaction to be recorded, and shall pass a decree in accordance therewith so far as it relates to the suit.
১,৮৭৫.
অর্থ ঋণ আদালত,২০০৩ এর অধীন কখন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়?
  1. লিখিত জবাব দাখিলের পর
  2. রায় বা আদেশ প্রদানের পূর্বে
  3. আপীল বা রিভিশনের পর্যায়ে
  4. উল্লিখিত যেকোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• অর্থ ঋণ আদালত,২০০৩ আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। যথা
১. মধ্যস্থতার মাধ্যমে;
২. আপোষ নিষ্পত্তির মাধ্যমে।
 
• ধারা ২২ থেকে ২৫ এবং ৩৮, এবং ৪৪ক ধারায় মধ্যস্থতা সম্পর্কিত বিধান করা হয়েছে। অন্যদিকে, আপোষ নিষ্পত্তির বিষয়টি ৪৫ ধারায় উল্লেখ আছে।

অর্থ ঋণ মামলার ক্ষেত্রে ২২ ধারা অনুসারে- লিখিত জবাব দাখিলের পর মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। এই পর্যায়ে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে ২৩ ধারার অধীন রায় বা আদেশ প্রদানের পূর্বে পুনরায় বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারে।

আবার, ৩৮ ধারা অনুসারে- জারীর পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে জারী মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করা যায়।

অন্যদিকে, ৪৪ক ধারায়- আপীল বা রিভিশনের পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আপীল বা রিভিশন মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করা যায়। 
১,৮৭৬.
‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে তাদের পিতার সম্পত্তি বাটোয়ারার মোকদ্দমা দায়ের করতে চায়। বিরোধীয় সম্পত্তির মূল্য ২৪,৫০,০০০/- টাকা, তাহলে ‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে?
  1. সহকারী জজ আদালতে
  2. সিনিঃ সহঃ জজ আদালতে
  3. যুগ্ন জেলা জজ আদালতে
  4. জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, আর্থিক ও আঞ্চলিক এখতিয়ার সম্পন্ন  সর্বনিম্ন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
• ৬ ধারায় আর্থিক এখতিয়ার বিষয়ে বর্ণনা আছে।  

•The Civil Court Act, 1887 এর ২০২১ সালের সংশোধনী অনুসারে, দেওয়ানি আদালতে আর্থিক এখতিয়ার-
• সহকারী জজের আদালতে (The Court of Assistant Judge )  = ১৫ লক্ষ পর্যন্ত 
• সিনিয়র সহকারী জজের আদালতে (The Court of Senior Assistant Judge)  = ২৫ লক্ষ পর্যন্ত
• যুগ্ম জেলা জজের আদালতে (The Court of Joint District Judge)  =  ২৫ লক্ষ এর উপরে 

•তাই এই মামলাটি মূল্যমান ২৪,৫০,০০০/-  হওয়ায় অত্র মামলাটি সিনিঃ সহঃ জজ আদালতে দায়ের করতে হবে।
১,৮৭৭.
কোন ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায়?
  1. ধারা-১১৫ (২)
  2. ধারা-১১৫ (৩)
  3. ধারা-১১৫ (৪)
  4. ধারা -১১৫(১)
ব্যাখ্যা
♦ রিভিশন বলতে বুঝায়, নিম্নে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক বিচারিক প্রতিকার সংশোধন করা।দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশন সম্পর্কিত বিধান আছে।

♦ ১১৫ (৪) অনুসারে, দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে ২য় রিভিশন দায়ের করা যায় কিন্তু ২য় আপিল করা যায় না। তবে ২য় রিভিশন সাধারণত দায়ের করা যায় হাইকোর্ট বিভাগে। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক রিভিশন মামলায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে অনুমতি সাপেক্ষে রিভিশন দায়ের করতে পারে

♦ অর্থাৎ ২য় রিভিশন দায়ের করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন।
১,৮৭৮.
ডিক্রি পরিবর্তন বা রদ হলে দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে পারে?
  1. যে কেউ
  2. শুধুমাত্র বাদী
  3. শুধুমাত্র বিবাদী
  4. সুবিধা পাওয়ার অধিকারী যে কোন পক্ষ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা: প্রত্যর্পণের দরখাস্ত:
(১) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রির পরিবর্তন বা রদ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, প্রাথমিক আদালত -(ডিক্রি প্রদানকারী আদালত) এরূপ প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করবেন, যাতে উক্ত ডিক্রি আদৌ প্রদত্ত না হলে পক্ষগণ যে অবস্থায় থাকতেন তাদেরকে সেই অবস্থায় স্থাপন করবেন এবং এই উদ্দেশ্যে আদালত ডিক্রি রদবদলের দরুন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীকে তার প্রাপ্য মোকদ্দমার খরচ, সুদ, ক্ষতিপূরণ ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা পরিশোধসহ আদালত যথোপযুক্ত আদেশ দান করতে পারেন।

(২) উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করে প্রত্যর্পণ বা অন্য কোন প্রতিকার পাওয়া গেলে, এই উদ্দেশ্যে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা চলবে না।

Section: 144- Application for restitution:
(1) Where and in so far as a decree is varied or reversed, the Court of first instance shall, on the application of any party entitled to any benefit by way of restitution or otherwise, cause such restitution to be made as will, so far as may be, place the parties in the position which they would have occupied but for such decree or such part thereof as has been varied or reversed; and, for this purpose, the Court may make any orders, including orders for the refund of costs and for the payment of interest, damages, compensation and mesne profits, which are properly consequential on such variation or reversal.

(2) No suit shall be instituted for the purpose of obtaining any restitution or other relief which could be obtained by application under sub-section (1).
১,৮৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারা অনুযায়ী রিভিউ করার বিধান আছে?
  1. ১১৪ ধারা
  2. ১১৩ ধারা
  3. ১১৫ ধারা
  4. ১০৭ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ১১৪ ধারা অনুযায়ী রিভিউ হলো ডিক্রী প্রদানকারী আদালত বা বিচারক কর্তৃক নিজের সিদ্ধান্তের ভুলসংশোধনের জন্য বিচারিক পর্যালোচনা।
• যে পক্ষ সংক্ষুব্ধ হবে সেই পক্ষ রিভিউ করবে।
• যে আদালত ডিক্রী দিবে সেই আদালতে রিভিউর জন্য আবেদন করতে হবে।

•তামাদি আইনের ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ করতে হবে।
১,৮৮০.
যদি ডিক্রিতে পরিশোধযোগ্য টাকার পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার ঊর্ধ্বে হয়, তাহলে জারির ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ কত সময় পর্যন্ত আটক রাখা যাবে?
  1. এক মাস
  2. তিন মাস
  3. ছয় মাস
  4. এক বছর
ব্যাখ্যা
ধারা-৫৮: আটক ও মুক্তি:
১) ডিক্রি জারির জন্য দেওয়ানি জেলে আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিম্নলিখিতভাবে আটক রাখা হবে-
ক) ডিক্রির টাকার অংশ পঞ্চাশ টাকার ঊর্ধ্বে হলে ছয় মাস সময়ের নিমিত্তে; এবং
খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের নিমিত্তে।

তবে শর্ত হল, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে এই ছয় মাস বা ছয় সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া যাবে; যদি-
১. পরোয়ানায় উল্লেখিত টাকা দেওয়ানি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের নিকট দেয়া হয়; বা
২. তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রির টাকা অন্য কোনভাবে পরিশোধ করা হয়; বা
৩. যার আবেদনক্রমে উক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এ ব্যক্তি অনুরোধ করলে; কিংবা
৪. যার আবেদনক্রমে উক্ত ব্যক্তিকে বন্দি রাখা হয়েছে, জীবনধারণ ভাতা প্রদান করতে তার ব্যর্থতায়ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আদালতের আদেশ ব্যতীত তাকে (২) বা (৩) দফার অধীন ঐরূপ আটক থেকে মুক্ত করা যাবে না।

২) এই ধারা অনুসারে কোন রায়সিদ্ধ দেনাদার আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার কারণে এটা বলা যাবে না যে, এরূপ মুক্তির কারণে দেনা থেকে রেহাই পেয়েছেন, তবে যে ডিক্রি জারিতে তিনি আটক থেকে মুক্তি পেয়েছেন তদসংক্রান্ত বিষয়ে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা যাবে না।
১,৮৮১.
মোকাবেলা পক্ষ (Pro-forma defendant) বলতে কি বুঝায়?
  1. যেসব ব্যক্তিদের বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমায় যুক্ত করতে হয়
  2. যাদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় কোন প্রতিকার চাওয়া হয় না
  3. ক এবং খ
  4. যাদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় প্রতিকার চাওয়া হয়
ব্যাখ্যা
• মোকাবেলা পক্ষ (Pro-forma defendant )- অনেক সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে বিবাদী ব্যতীত অন্যান্য কতিপয় ব্যক্তিকে মোকদ্দমা বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমায় যুক্ত করতে হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার চাওয়া হয় না বা মোকদ্দমায় তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তাদের মোকাবেলা পক্ষ বা (Pro-forma defendant ) বলা হয়।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ৫নং বিধি অনুযায়ী-

"বিবাদিগণের বিরুদ্ধে মোকদ্দমায় যেসকল প্রতিকার দাবী করা হয়, তন্মধ্যে সবগুলোই প্রত্যেক বিবাদির স্বার্থসম্পর্কিত হওয়ার দরকার নেই।"
It shall not be necessary that every defendant shall be interested as to all the relief claimed in any suit against him.

উক্ত বিধি দ্বারা পরোক্ষ ভাবে (Pro-forma defendant ) নীতির বৈধতা দেয়া হয়েছে।
১,৮৮২.
সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমায় বিবাদী হিসেবে কী নাম উল্লেখ করতে হবে?
  1. প্রজাতন্ত্র
  2. বাংলাদেশ
  3. রাষ্ট্রপতির নাম
  4. প্রধানমন্ত্রীর নাম
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৭৯ ধারার বিধান-সরকার কর্তৃক বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা:
সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসাবে যে কর্তৃত্বের নাম উল্লেখ করতে হবে, তা হচ্ছে 'বাংলাদেশ'।

Section 79. Suits by or against the Government:
In a suit by or against the Government the authority to 79. In a suit by or against the Government the authority to be named as plaintiff or defendant, as the case may be, shall be Bangladesh.

১,৮৮৩.
মূলতুবি খরচ প্রদানে ব্যর্থতার কারনে আদালত মোকদ্দমা খারিজ বা এক তরফা নিস্পত্তি করে। সংক্ষুব্ধ পক্ষ মোকদ্দমাটি পুনরায় চালু বা পুনঃবহালের আবেদন করতে চায়। এই ক্ষেত্রে সে?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবে
  2. ২,০০০ টাকা খরচ সহ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবে
  3. ১০০০ টাকা খরচ সহ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করবে
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ১৭  অনুযায়ী বাদী মূলতবির খরচ দিতে ব্যর্থ হলে মামলা খারিজ, অন্যদিকে বিবাদী খরচ দিতে ব্যর্থ হলে মামলাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে।  
⇒ যে পক্ষের ত্রুটির কারণে মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয় সেই পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা ব্যয়সহ খরচ জমা দিয়ে মামলাটি পুনর্বহালের আবেদন করতে পারে।
১,৮৮৪.
Which party’s absence may result in the appeal being dismissed outright?
  1. Witness
  2. Advocate
  3. Appellant
  4. Respondent
ব্যাখ্যা
The Code of Civil Procedure, 1908 Order 41 Rule 17: Dismissal of appeal for appellant's Default-
1) Where on the day fixed, or on any other day to which the hearing may be adjourned, the appellant does not appear when the appeal is called on for hearing, the Court may an order that the appeal be dismissed.

2) Hearing appeal ex parte: Where the appellant appears and the respondent does not appear, the appeal shall be heard ex parte.

আদেশ ৪১ বিধি-১৭: আপিলকারীর বরখেলাপের জন্য আপিল খারিজ করা:
১) যেক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে অথবা অন্য যে দিনের জন্য শুনানি মূলতবী হতে পারে ঐ দিনে আপিল শুনানির জন্য ডাক পড়লে আপিলকারী অনুপস্থিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত আপিল খারিজের আদেশ দিতে পারবে।

২) একতরফাভাবে আপিল শুনানিঃ যেক্ষেত্রে আপিলকারী হাজির হয়, কিন্তু রেসপন্ডেন্ট উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে একতরফাভাবে আপিলের শুনানি হবে।
১,৮৮৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি-১৪ অনুযায়ী কমিশনার যদি একাধিক ব্যক্তি হন এবং তারা একমত না হতে পারেন, তাহলে তারা কী করবেন?
  1. একক প্রতিবেদন জমা দেবেন
  2. কোন প্রতিবেদন জমা দেবেন না
  3. পৃথক প্রতিবেদন জমা দেবেন
  4. আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা করবেন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১৪ (২) অনুযায়ী, যদি একাধিক কমিশনার নিযুক্ত হন এবং তারা একমত না হন, তাহলে প্রত্যেক কমিশনার পৃথক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করবেন।
- এই পৃথক প্রতিবেদনগুলোতে প্রত্যেক পক্ষের অংশ নির্দেশ করা হবে এবং (যদি আদেশে উল্লেখ থাকে) প্রত্যেক অংশের পরিমাণ ও সীমানা নির্ধারণ করা হবে। পরে এই প্রতিবেদনসমূহ কমিশনের সাথে সংযুক্ত করে আদালতে দাখিল করতে হবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে।
- এরপর আদালত পক্ষগণের আপত্তি শুনে প্রতিবেদন বহাল, পরিবর্তন বা রদ করতে পারে।
১,৮৮৬.
আদালত নিম্নের কোন ক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন না?
  1. পক্ষগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে
  2. পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে
  3. পক্ষগণের মধ্যে ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে
  4. খ বা গ যে কোন একটি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ সাধারণত মোকদ্দমার শুনানী শেষ হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ বা ৭ দিন পর আদালত রায় প্রদান করে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে।
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ নং আদেশ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে (DISPOSAL OF THE SUIT AT THE FIRST HEARING)। 

-উল্লিখিত প্রশ্ন পক্ষগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন না। তবে পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত প্রথম শুনানীর দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন।

-দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই আদালত তখনই রায় ঘোষণা করতে পারে।
[Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.]
১,৮৮৭.
বিবাদী তার লিখিত জবাবে সেই বিষয়গুলো উত্থাপন করবে, যা থেকে দেখা যাবে যে-
  1. মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয়
  2. মোকদ্দমা দায়েরের যথেষ্ট কারণ নেই
  3. মোকদ্দমাটি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৮ বিধি ২-
বিবাদী তার জবাবে ঐ সমস্ত বিষয়াবলী উত্থাপন করবে যা থেকে দেখা যাবে যে, মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় নয় অথবা বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতে বাতিল বা বাতিলযোগ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ঐ সমস্ত হেতু উত্থাপন করবেন, যা উত্থাপন না করলে অপর পক্ষ বিস্মিত হত কিংবা আরজিতে উল্লেখ করা হয়নি এরূপ বিষয়াবলী উপস্থাপন করবেন যথা- তক্ষকতা, তামাদি, মুক্তি, পরিশোধ, কার্য সম্পাদন কিংবা আইনবিরুদ্ধ প্রমাণকারী তথ্যসমূহ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে,
বিবাদী তার জবাবে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করবে যা দেখাবে যে, মামলা টিকসই নয় বা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বা বাতিলযোগ্য। এছাড়াও, এমন কারণগুলো তুলে ধরবেন, যা আগে উল্লেখ করা হয়নি এবং না বললে অপর পক্ষ আশ্চর্য হতে পারত। যেমন: প্রতারণা, মামলা দায়েরের সময়সীমা (তামাদি) পেরিয়ে যাওয়া, ঋণ পরিশোধ, চুক্তি পালন, বা অন্য কোন আইনগত প্রতিবন্ধকতা। এগুলো মামলা খারিজ করার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বিবাদীর প্রধান কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
১,৮৮৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশে 'Reference' সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ৪৫
  2. আদেশ ৪৬
  3. আদেশ ৪৭
  4. আদেশ ৪৮
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৬ নং আদেশে রেফারেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ-

৪৬ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী-
আপিল-অযোগ্য ডিক্রির মামলার বিচার পর্যায়ে বা আপিলে অথবা উক্ত ডিক্রি জারি করার সময়, আইন বা আইনের ন্যায় বলবৎ কোন রীতি সম্পর্কিত প্রশ্নের সৃষ্টি হলে, উক্ত মামলার বিচারকারী আদালত বা আপিল আদালত অথবা ডিক্রি জারিকারক আদালত, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করতে পারে।
 
- রেফারেন্স প্রেরণকারী আদালত রেফারেন্স প্রেরণ করা সত্ত্বেও মামলার কার্যক্রমে অগ্রসর হতে পারে কিংবা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ প্রেরিত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করতে পারেন।
 
৪৬ নং আদেশের ৫ নং বিধি অনুযায়ী-
অধীনস্ত যে আদালত হাইকোর্টে রেফারেন্সের জন্য কোন বিষয় পাঠাবে, সেই বিষয়ে উক্ত আদালত কর্তৃক দেওয়া ডিক্রি/আদেশ হাইকোর্ট বিভাগ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে অথবা যে কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।

অর্থাৎ Reference কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট তার অধস্তন আদালতের রায় বা ডিক্রি পরিবর্তন করতে পারে।
 
৪৬ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে ক্ষুদ্র বিষয়ক এখতিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করার বিধান রয়েছে। ৬নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে মামলা ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে বিচারার্থে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত মামলার প্রকৃতি সম্পর্কে উক্ত সন্দেহের কারণ সম্বলিত একটি বিবৃতিসহ হাইকোর্ট বিভাগে একটি নথি দাখিল করতে পারে।
১,৮৮৯.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন আদেশে সোলে বা আপস ডিক্রীর বিষয় বিধান আছে?
  1. আদেশ ২৩ বিধি ৩
  2. আদেশ ২৩ বিধি ৪
  3. আদেশ ২৩ বিধি ৭
  4. আদেশ ২৩ বিধি ৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর  আদেশ ২৩ বিধি ৩ অনুযায়ী সোলে বা মোকদ্দমা আপস বা আপস ডিক্রী এর বিধান রয়েছে।
⇒ এই বিধির অধীন আদালতকে পক্ষগণের মধ্যকার কোন আইনগত চুক্তি /আপস মিমাংসার মাধ্যমে সম্পূর্ন বা আংশিক সমন্বয় করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
⇒ সোলে ডিক্রীতে কোন আপীল চলবে না। তবে রিভিশন করা যাবে।
১,৮৯০.
দায়িকের কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৭ ধারায় তার খোরপোষের হার কে নির্ধারন করবে?
  1. সরকার
  2. বিচারিক আদালত
  3. জেল কর্তৃপক্ষ
  4. ডিক্রিদার
ব্যাখ্যা
• খোরপোষ হলো কাউকে দেওয়ানী জেলে আটক রাখলে তার ব্যয়ভার।

দেওয়ানি কার্যবিধি ৫৭ ধারা- খোরপোষ ভাতা:
সরকার পদপর্যাদা, গোত্র এবং জাতীয়তার ক্রমানুসারে দায়িকের খোরপোষের নিমিত্তে প্রদানযোগ্য মাসিক ভাতার হার নির্দিষ্ট করতে পারবে।

Section 57: Subsistence allowance-
The Government may fix scales, graduated according to rank, race and nationality, of monthly allowances payable for the subsistence of judgment-debtors.
১,৮৯১.
সম্পত্তির রিসিভারের দায়িত্বসমূহ আদেশ ৪০ এর কয় নং বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. বিধি-২
  2. বিধি-৩
  3. বিধি-৪
  4. বিধি-৫
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪০ বিধি-৩: দায়িত্ব:
অনুরূপে নিযুক্ত প্রত্যেক রিসিভার-
ক) সম্পত্তি সম্পর্কে সে যা পাবে তার যথাযথ দায়ী থাকার জন্য আদালত কর্তৃক উপযুক্তবিবেচনায় জামানত (যদি কোন) প্রদান করবে;
খ) আদালত কর্তৃক নির্দেশিত মেয়াদে এবং ফরমে তার হিসাবাদি দাখিল করবে;
গ) আদালতের নির্দেশ মত তার নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করবে; এবং
ঘ) তার ইচ্ছামত বরখেলাপ বা গুরুতর অবহেলার দরুন সম্পত্তির ক্ষতিসাধিত হলে তজ্জন্য দায়ী হবে।

Rule 3: Duties.
Every receiver so appointed shall-
a) furnish such security (if any) as the Court thinks fit, duly to account for what he shall receive in respect of the property;
b) submit his accounts at such periods and in such form as the Court directs;
c) pay the amount due from him as the Court directs; and
d) be responsible for any loss occasioned to the property by his wilful default or gross negligence.
১,৮৯২.
বিবাদী আরজি দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদীর দাবি স্বীকার করে নিলে-
  1. ঐদিনই সমন দিতে হবে
  2. সমন প্রেরণের প্রয়োজন নেই
  3. তিন দিনের মধ্যে সমন প্রেরণ করতে হবে
  4. পাঁচ দিনের মধ্যে সমন প্রেরণ করতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১নং অনুযায়ী-

১) মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হন তাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন। আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদী আরজি দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদীর দাবি স্বীকার করে নেন, তাহলে এরূপ কোন সমন প্রেরণ করা যাবে না।

২) বিবাদীর উপর উপবিধি-১ মোতাবেক সমন প্রেরণ করা হলে, নিম্নোক্ত যেকোন পদ্ধতিতে বিবাদী হাজিরা দিতে পারবে—
ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
খ) মক্কেলের নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম এবং কোন কৌশুলী কর্তৃক, অথবা
গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোন ব্যক্তি সহযোগে কোন কৌশুলী কর্তৃক বিবাদী হাজিরা দিতে পারে।
১,৮৯৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় হলফনামা শপথ পরিচালনা হওয়ার বিধান আছে?
  1. ১৩৫ ধারা
  2. ১৩৭ ধারা
  3. ১৩২ ধারা
  4. ১৩৯ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন আদালত বা ম্যাজিষ্ট্রেট বা কোন ব্যক্তি বা অফিসার বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি হলফনামা শপথ করবে।
১,৮৯৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪২ ধারার বিধান কী?
  1. Language of subordinate Courts.
  2. Application for restitution.
  3. Miscellaneous proceedings.
  4. Orders and notices to be in writing.
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪২ ধারার বিধান:- আদেশ ও নোটিশ লিখিত হতে হবে:
- এই আইনের বিধানানুযায়ী কোন ব্যক্তির প্রতি জারি বা প্রদত্ত সকল আদেশ এবং নোটিশ লিখিতভাবে হবে।
-------------------
⇒ CPC Section:142: Orders and notices to be in writing.
- All orders and notices served on or given to any person under the provisions of this Code shall be in writing.
১,৮৯৫.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সমন প্রেরণ করার প্রয়োজন নেই?
  1. আরজি দাখিলের সময় বাদী সাক্ষী হাজির করলে
  2. আরজি দাখিলের সময় বাদী দাবীর পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি দাখিল করলে
  3. আরজি দাখিলের সময় বিবাদী হাজির হয়ে বাদীর দাবি স্বীকার করে নিলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে সমন প্রেরণ বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
• আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানী মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে ।

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১নং অনুযায়ী-

১) মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবীর সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদী আরজী দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদীর দাবি স্বীকার করে নেন, তাহলে এরূপ কোন সমন প্রেরণ করা যাবে না

২) বিবাদীর উপর উপবিধি-১ মোতাবেক সমন প্রেরণ করা হলে নিম্নোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে বিবাদী হাজিরা দিতে পারবে-
ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
খ) মক্কেলের নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম এবং কোন আইনজীবী কর্তৃক, অথবা
গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোন ব্যক্তি সহযোগে কোন আইনজীবী কর্তৃক বিবাদী হাজিরা দিতে পারে।
১,৮৯৬.
আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুসারে আদালত কখন পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. মামলার শুনানি দীর্ঘায়িত হলে
  2. পক্ষ আদালতকে অসম্মান করলে
  3. উকিল মামলা পরিচালনায় অক্ষম হলে
  4. পক্ষের উকিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুযায়ী, যদি আদালত মনে করে যে পক্ষের উকিল মামলার গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছে না বা অস্বীকার করছে, তখন আদালত সেই পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ৪(১) অনুসারে, যদি কোন পক্ষের উকিল বা তার সঙ্গী আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, এবং আদালতের মতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দিতে সক্ষম, তাহলে আদালত শুনানি স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
- বিধি ৪(২) অনুসারে, যদি পক্ষ বিনা বৈধ কারণে ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দান করতে পারেন বা অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০, বিধি-৪ অনুসারে, যদি কোনো পক্ষের উকিল বা সঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা অসমর্থ হয়, তবে আদালত মামলার শুনানি ভবিষ্যতের কোন তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখবে এবং সে তারিখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবে।
এছাড়া, যদি নির্ধারিত তারিখে পক্ষ কোনো আইনসঙ্গত কারণে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়, তখন আদালত ওই পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারেন বা অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারেন।
১,৮৯৭.
কোনো পক্ষ সময় পেয়েও যদি সাক্ষীদের উপস্থিত করাতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত আদেশ ১৭ বিধি ৩ অনুযায়ী-
  1. মামলা স্থগিত করবে
  2. জরিমানা করবে
  3. মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে
  4. উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় দিবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৭ বিধি ৩: যে কোনো পক্ষ প্রমাণ হাজিরে ব্যর্থ হলেও আদালত বিচার চালিয়ে যেতে পারে:
কোনো মামলার কোনো পক্ষকে সময় দেওয়া হলে এবং সে পক্ষ নিজের প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়, অথবা তার সাক্ষীদের হাজির করাতে ব্যর্থ হয়, অথবা মামলার অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় অন্য কোনো কাজ, যার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত, ওই পক্ষের এমন ব্যর্থতা বা অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, অবিলম্বে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য এগিয়ে যেতে ও রায় দিতে পারে।

১,৮৯৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৫ এর বিধি ১ অনুসারে, আদালত কখন তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করতে পারে?
  1. যখন মামলার শুনানি শেষ হয়
  2. যখন পক্ষগণ আপসে মীমাংসা করেন
  3. যখন পক্ষগণ কোনো আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধী হন
  4. যখন পক্ষগণ কোনো আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধী না হন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৫ বিধি ১ অনুসারে,
প্রথম শুনানিতে যদি পক্ষগণ কোন প্রশ্নে বিরোধী না হন, তাহলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করতে পারেন। এটি তখন ঘটে যখন পক্ষগণ কোন আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধী না হন এবং তাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- ORDER-XV, Rule-1 :Parties not at issue.
- Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.
১,৮৯৯.
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাদী প্রয়োজনীয স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে, আদালতের আদেশ হবে -
  1. আরজির ফেরতের
  2. আরজি অস্বীকারের
  3. আরজি প্রেরণের
  4. আরজি নাকচের
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৭ বিধি- ১১ এর বিধান আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান:  নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি প্রত্যাখ্যান করা হবে-

ক) যেক্ষেত্রে এটা মোকদ্দমার কারণ প্রকাশ করেনি;

খ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকার কম মূল্যায়িত হয় এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে:

গ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশমত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মোকদ্দমা কোন আইন দ্বারা বারিত বলে প্রতীয়মান হয়;

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সংশোধন করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই ২১ দিনের অধিক হবে না।

♦ধারা-২ (২) এর বিধান মতে আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে।

আরজি নাকচ / প্রত্যাখ্যানের কারণ ৪টি

১) মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না করলে (Cause of action)

২) দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেয়া হলে (undervalued)

৩) অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে লিখা হলে (insufficiency stamped)

৪) মোকদ্দমাটি আইন/তামাদিতে বারিত হলে (Barred by law)

♦ দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেখালে বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আদালত তা সংশোধনের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারে।

♦ প্রতিকার
১) বিধি: ১৩ অনুযায়ী পুনরায় একই বিষয়ে নতুন আরজি দাখিল।
 ২) আপিল করা যাবে

♦ বিবাদীর আবেদনক্রমে বা আদালত নিজ উদ্যোগে আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
♦ বিবাদী কর্তৃক আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন নামঞ্জুর হলে রিভিশন করা যাবে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ নং বিধি অনুযায়ী আদালত ৪ (চার) টি কারণে আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তার মধ্যে তৃতীয় নম্বর কারণটি হলো আরজি প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের ষ্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে লেখা হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বাদী উক্ত স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে, আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
১,৯০০.
নিচের কোন বিবৃতিটি সঠিক?
  1. ডিক্রির আগে রায় প্রদান করা হয়
  2. রায়ের আগে ডিক্রি প্রদান করা হয়
  3. রায় ও ডিক্রি একই জিনিস
  4. ডিক্রি মোকদ্দমার পক্ষদ্বয়ের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে না
ব্যাখ্যা
রায় এবং ডিক্রির মধ্যে পার্থক্য:
⇒ ডিক্রি হলো আদালতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যেটা চূড়ান্তভাবে মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যে কোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষসমূহের অধিকার নির্ধারণ করে। রায় বলতে ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসেবে বিচারক যে বর্ণনা দেয়, তা বুঝায়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা এবং রায়ের সংজ্ঞা ২ (৯) ধারায় দেওয়া হয়েছে।

⇒ ডিক্রির ক্ষেত্রে বিচারককে যুক্তি দেখিয়ে কোন বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু রায়ের ক্ষেত্রে বিচারককে ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি দেখিয়ে বক্তব্য দিতে হয়।

⇒ রায় দেওয়ার পর রায়ের ভিত্তিতে আদালত ডিক্রি প্রদান করে। মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষণা করে এবং এরুপ রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করে। অর্থাৎ রায় আগে প্রদান করা হয় ও পরে ডিক্রি দেওয়া হয়

⇒ ডিক্রি মোকদ্দমার পক্ষদ্বয়ের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে। রায়ে মামলার ঘটনা, বিচার্য বিষয়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আইনগত যুক্তি ইত্যাদি উল্লেখ থাকে।