বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Civil Procedure, 1908

মোট প্রশ্ন২,৯৯৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Civil Procedure, 1908

PrepBank · পাতা ১৮ / ৩০ · ১,৭০১১,৮০০ / ২,৯৯৩

১,৭০১.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুসারে, কালেক্টর যখন ধারা ৬৮ এর অধীনে হস্তান্তরকৃত ডিক্রি এক্সিকিউট করেন তখন তাকে কীভাবে গণ্য করা হয়?
  1. বিচারক হিসেবে
  2. রেভিনিউ কর্মকর্তা হিসেবে
  3. এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে
  4. প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৭১ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ধারা ৬৮-এর অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত কোনো ডিক্রি কার্যকর করার সময় কালেক্টর এবং তার অধস্তন কর্মকর্তারা বিচারক হিসেবে (acting judicially) কার্যরত বলে গণ্য হবেন।
- এই বিধানের মাধ্যমে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে, ডিক্রি কার্যকর করার এই প্রক্রিয়াটি একটি বিচারিক কার্যক্রম, যা কালেক্টর তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয় বরং একটি বিচারিক কর্তৃত্ব (judicial authority) প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭১ ধারার বিধান কালেক্টরের বিচারক হিসাবে কার্য: 
- উপরিল্লিখিত ৬৮ ধারা অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত ডিক্রি জারি করার প্রাক্কালে কালেক্টর এবং তার অধঃস্তনগণ বিচারক হিসাবে কার্য করতেছে বলে মনে করতে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section 71: Collector deemed to be acting judicially:
- In executing a decree transferred to the Collector under section 68 the Collector and his subordinates shall be deemed to be acting judicially.

১,৭০২.
দেওয়ানি কার্যবিধির অনুসারে শুনানি শেষে আদালত সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে বাধ্য?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ (Order XX Rule 1) অনুসারে, মোকদ্দমার শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে বাধ্য। বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে, যা সাতদিনের বেশি হবে না" (either at once or on some future day, not beyond seven days)।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১:-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে ,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা সাতদিনের বেশি হবে না প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 20 Rule 1: Judgment when pronounced:-
The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day, not beyond seven days, of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.

১,৭০৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় খোরপোষ ভাতার বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ১৪৯ ধারা
  2. ৫০ ধারা
  3. ৫৭ ধারা
  4. ৫৯ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, খোরপোষ হলো কাউকে দেওয়ানী জেলে আটক রাখলে তার ব্যয়ভার।
• খোরপোষ ভাতা নির্ধারন করবেন সরকার (গোত্র, পদমর্যাদা, জাতীয়তা বিবেচনায় খোরপোষ ভাতা নির্ধারন হবে।
• তবে যার আবেদনের প্রেক্ষিতে কাউকে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয় তাকে তার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
১,৭০৪.
Order 13, Rule 7 অনুযায়ী কোন নথি মামলার রেকর্ডের অংশ হবে?
  1. শুধু মূল নথি
  2. আদালতে উপস্থাপিত সব নথি
  3. আদালত যেগুলো প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে
  4. আদালত যেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে
ব্যাখ্যা

Order 13, Rule 7: গ্রহণযোগ্য (admitted) নথি রেকর্ডে যুক্ত হওয়া:
(১) যে কোনো নথি আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে (admitted in evidence), অথবা নিয়ম ৫ অনুযায়ী মূল নথির পরিবর্তে যদি কোনো প্রতিলিপি (copy) গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি বা নথির কপি মামলার রেকর্ডের অংশ হয়ে যাবে।

অর্থাৎ, প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা সব নথিই রেকর্ডে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থাকে।

(২): যে কোনো নথি আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি (not admitted in evidence)-
- তা মামলার রেকর্ডের অংশ হবে না,
- এবং সেই নথি যিনি জমা দিয়েছিলেন তাকে ফেরত দেওয়া হবে।

১,৭০৫.
গুরুতর অসুস্থতার কারণে দায়িককে দেওয়ানী কারাগার থেকে মুক্তির বিধান আছে কোন ধারায়?
  1. ৫৯
  2. ৫৭
  3. ৫৬
  4. ৫৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী, দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে। 

দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান- অসুস্থতার দরুন মুক্তি (Release on ground of illness):
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।

৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।
১,৭০৬.
The Civil Courts Act, 1887 এর কত ধারায় 'স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা' দেয়া হয়েছে?
  1. ৬ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১২ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী স্থানীয় এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানী আদালতের উপর জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন থাকবে।

ধারা ৯- আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতা:
হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলা জজের তার স্থানীয় সীমানায় অবস্থিত সকল দেওয়ানি আদালতের উপর তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

Section 9: Administrative control of Courts-
Subject to the superintendence of the High Court Division, the District Judge shall have administrative control over all the Civil Courts under this Act within the local limits of his jurisdiction.
১,৭০৭.
জেলা জজ কর্তৃক রিভিশন মামলায় প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে-
  1. সরাসরি রিভিশন দায়ের করতে পারে
  2. অনুমতি সাপেক্ষে রিভিশন দায়ের করতে পারে
  3. আপীল করতে পারে
  4. অনুমতি সাপেক্ষে আপীল করতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(৪) ধারায় দ্বিতীয় রিভিশন এর বিধান রয়েছে।

এই ধারানুযায়ী,
১১৫(২) ও ১১৫(৩) ধারার অধীনে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল করে কোন আদেশ দিলে, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায়। অর্থাৎ-

জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত (প্রথম) রিভিশনে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল আদেশ দিলে, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগেই দ্বিতীয় রিভিশন করা যাবে।

গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে Second Appeal নেই তবে, অনুমতিসাপেক্ষে Second Revision করার বিধান আছে।
⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় Review আছে, ফৌজদারী মামলায় Review নেই।
⇒ ফৌজদারী মামলায় শুধু খালাস [ধারা ৪১৭(১)] ও অপর্যাপ্ত দণ্ডের [ধারা ৪১৭৩] এর ক্ষেত্রে Second Appeal এর বিধান রয়েছে, কিন্তু Second Revision এর নেই।
১,৭০৮.
মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে কোনটি অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে ?
  1. বিবাদীর অন্যায়ভাবে দখল
  2. বিবাদীর অন্যায়ভাবে বা বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ
  3. বিবাদীর অন্যায় ভাবে দখল এবং লাভ
  4. অন্যায়ভাবে দখল এবং দখলদার কর্তৃক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) মতে বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তিসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne profits] বলে।
♦ তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না।
♦ সুতরাং মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে  বিবাদীর  বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ
১,৭০৯.
আরজি ফেরত [Return of Plaint] এর ক্ষেত্রে বিচারক আরজির উপর কি কি উল্লেখ করবে?
  1. আরজি পেশ এবং ফেরতের তারিখ
  2. ফেরতের কারন
  3. দাখিলকারী পক্ষের নাম
  4. ক,খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের ১০ বিধিতে আরজি ফেরত এবং ৭ আদেশের ১১ বিধিতে আরজি প্রত্যাখ্যান বিষয়ে বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

আরজি ফেরত অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

আরজি ফেরত প্রদানের পদ্ধতি- বিচারক আরজি ফেরত প্রদানের সময় উহার উপর;
আরজি পেশ করার ও ফেরত নেয়ার তারিখ,
দাখিলকারক পক্ষের নাম এবং
তা ফেরত নিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করবে।  [বিধি ১০(২)]

Order 7 Rule 10(2): Procedure on returning plaint-
On returning a plaint the Judge shall endorse thereon the date of its presentation and return, the name of the party presenting it, and a brief statement of the reasons for returning it. 

• আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার:
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২.আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
১,৭১০.
আদেশ ৩৫ বিধি-২ এর অধীন মোকদ্দমায় দাবীকৃত বস্তু আদালতের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেয়া যেতে পারে-
  1. বাদীকে
  2. বিবাদীকে
  3. সহ-বিবাদীকে
  4. ৩য় কোনো পক্ষকে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৫ বিধি-২: দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা প্রদান:
যেক্ষেত্রে দাবীকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে সেটা অনুরূপভাবে প্রদান করতে বা স্থাপন করতে তলব করা যেতে পারে।

Rule.-2: Payment of thing claimed into Court:
Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit.
১,৭১১.
Peremptory hearing পর্যায়ে আদালত খরচসহ সর্বোচ্চ কয়টি মুলতবি দিতে পারে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ৩টি।

আদেশ ১৭ বিধি ১(৪):
কোডে (Code) যা-ই থাকুক না কেন, মামলার peremptory hearing পর্যায় এবং তার পর থেকে আদালত কোনো পক্ষের আবেদনে মামলার মুলতবি (adjournment) দেবে না।

তবে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি এই উপ-বিধির অধীনে কোনো পক্ষকে মুলতবি দেওয়া হয়, তাহলে আদালত সেই পক্ষকে নির্দেশ দেবে যে,
সে যেন অপর পক্ষকে দুই শত টাকার কম নয় এবং এক হাজার টাকার বেশি নয়—এমন পরিমাণ খরচ (cost) প্রদান করে, আদালত নির্ধারণ করে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে।

এ নির্দেশ অমান্য করলে-
- বাদী (plaintiff) খরচ প্রদান না করলে মামলাটি খারিজ (dismissed) হয়ে যাবে;
- বিবাদী (defendant) খরচ প্রদান না করলে মামলাটি একতরফা (ex parte) হিসেবে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে।

উপরোক্ত খরচসহ মুলতবি প্রদান করা হলেও, আদালত কোনো পক্ষকে সর্বোচ্চ তিনটির বেশি মুলতবি দিতে পারবে না।

১,৭১২.
বিবাদী প্রশ্নমালার উত্তর দানে ব্যর্থ হলে, আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. বিবাদীর জবাব কর্তন করা হবে
  2. বিবাদীকে জরিমানা করা হবে
  3. মোকদ্দমা স্থগিত করা হবে
  4. বিবাদীকে নতুন সময় দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১১, বিধি-২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে যদি বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে, এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।
১,৭১৩.
আদেশ ৪১-এর বিধি ১৯ক অনুযায়ী, কত দিনের মধ্যে পুনঃশুনানির আবেদন করলে প্রমাণ ছাড়াই আপিল পুনঃশুনানি করা যায়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১৯ক (Order 41, Rule 19A) অনুযায়ী বলা হয়েছে, যদি আপিল খারিজের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামাসহ আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করতে পারে।
- এই বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো আপিল ডিফল্টের কারণে খারিজ হয়, তবে প্রমাণ প্রদান ছাড়াই পুনঃশুনানির আবেদন করা যাবে,
- শর্ত হলো, আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে এবং আবেদনটির সঙ্গে শপথপত্র (affidavit) দিতে হবে।
- এছাড়া, আবেদন মঞ্জুর হলে আদালত ব্যয়ভার (cost) নির্ধারণ করে তা অন্য পক্ষকে দিতে নির্দেশ দেয়।
- সঠিক উত্তর: খ) ৩০ দিন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-১৯ক এর বিধান আপিল সরাসরি পুনঃগ্রহণ:
- বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আপিলকারীকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করেই সরাসরি আপিল পুনঃগ্রহণ করতে পারেন; এজন্য খারিজের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাফিডেভিটসহ আবেদন করতে হবে।
- এই বিধির অধীন সর্বোচ্চ ১ বার আপিল পুনঃগ্রহণের আবেদন করা যাবে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-41 Rule-19A. Direct readmission of appeal:
(1) Notwithstanding anything contained in rule 19 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly re-admit without requiring the appellant to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 19:
Provided that the appeal under this rule shall not be readmitted unless an application, supported by affidavit, praying for such re-admission is made to the Court within thirty days of the date on which the appeal is dismissed for default:
Provided further that no appeal shall be re-admitted more than once under this rule.
(2) As soon as an order under sub-rule (1) is made to readmit an appeal, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the appellant upon the respondent who appeared in the appeal.
১,৭১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ২ অনুসারে কাকে কমিশন প্রেরণ করা যেতে পারে?
  1. শুধুমাত্র বাদীকে
  2. শুধুমাত্র বিবাদীকে
  3. যে কোনো সাক্ষীকে
  4. শুধুমাত্র আইনজীবীকে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি ২: কমিশনের জন্য আদেশ:
আদালত স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে বা মোকদ্দমার কোন পক্ষের বা যাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে সে সাক্ষীর শপথপত্র সমর্থিত বা অন্যভাবে কোন আবেদনক্রমে আদালত কোন সাক্ষীকে কমিশন প্রেরণ করার আদেশ প্রদান করতে পারেন।

Order-26 Rule-2- Order for commission:
An order for the issue of a commission for the examination of a witness may be made by the Court either of its own motion or on the application, supported by affidavit or otherwise, of any party to the suit or of the witness to be examined.
১,৭১৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order XVII অনুসারে খরচ প্রদান না করার কারণে কোনো মোকদ্দমা নিষ্পত্তিকৃত হলে নির্ধারিত খরচ প্রদানে মোকদ্দমাটি সরাসরি পুনরুজ্জীবিত করা যায় নিষ্পত্তির ______ দিনের মধ্যে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৭ বিধি ১ (৭) অনুযায়ী মুলতুবির খরচ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যদি ১৭ আদেশের বিধি ১ এর ৩ এবং ৪ উপ-বিধির অধীন কোন মোকদ্দমা খারিজ কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, যে পক্ষের কারণে খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে সেই পক্ষ খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির তারিখ হতে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা খরচা জমা দিয়ে মোকদ্দমাটি পুনরায় চালুর জন্য বা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করলে, আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারে।
১,৭১৬.
'Interpleader Suit' এর ক্ষেত্রে আদেশ ৩৫ এর ৪ নম্বর বিধি অনুযায়ী, বাদীকে মামলার পক্ষ থেকে খারিজ করার পর আদালত কি ধরনের আদেশ দিতে পারে?
  1. বাদীর অনুকূলে খরচ প্রদান
  2. বিবাদীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের
  3. বাদীর সম্পত্তি ক্রোক আদেশ
  4. বাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫নং আদেশের ৪ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে যে,
প্রথম শুনানিতে আদালত এই মর্মে আদেশ দিতে পারেন যে-
ক) মামলার বিষয় বস্তু সম্পর্কে বিবাদীদের প্রতি সকল দায় হতে বাদীকে মুক্তি দেয়া হলো। এরূপ ক্ষেত্রে বাদীর অনুকূলে খরচের ডিক্রী দিয়ে বাদীকে মামলার পক্ষ হতে খারিজ করা হবে। অথবা,
খ) আদালত যদি ন্যায় বিচার ও কার্যের সুবিধার্থে প্রয়োজন মনে করেন, তবে মামলাটির চূড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকলকেই পক্ষ হিসেবে ধরতে পারেন।

পক্ষগণের স্বীকারোক্তির ফলে আদালতের পক্ষে উপরিউক্ত রূপ সিদ্ধান্ত প্রদান সম্ভব না হলে আদালত নিম্নরূপ আদেশ দিতে পারবেন- 
(ক) পক্ষগণের মধ্যে এক বা একাধিক বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা হোক এবং এর বিচার করা হোক ; এবং
(খ) মূল বাদীর পরিবর্তে বা তদুপরি অন্য কোন দাবীদারকে বাদী পক্ষে শামিল করা হোক এবং অতঃপর আদালত সাধারণ পদ্ধতিতে মামলাটির বিচার কার্য চালায়ে যাবেন।
১,৭১৭.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order VIII rule ________ এ Legal Set-off এর বিধান আছে?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off [Order XX, Rule 19(3)]

- যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

- Counter Claim: বাদীর দাবির চেয়ে বিবাদীর দাবি বেশি হলে দাবিটি Counter Claim (পাল্টা দাবি) হবে। এর জন্য আলাদা মোকদ্দমা না করে, তা লিখিত জবাবে উল্লেখ করে চাইতে হয়।

- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

- দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৬ মোতাবেক- বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা হলে বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করেন; এসময় বিবাদী তার পাওনা টাকার জন্য Set-off এর দাবী ও উত্থাপন করতে পারেন। দাবী সমন্বয়ের দাবীসহ বিবাদীর লিখিত জবাব বিবেচিত হয় পাল্টা মামলার আরজির ন্যায়। এ ক্ষেত্রে বিবাদী কোর্ট ফি দিতে বাধ্য।

- আদেশ-৮, বিধি-৬ এর বিধান পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ (Set off)- সহজ ভাষায়, সেট অফ অর্থ হল কোন দাবীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরেকটি দাবী।
১,৭১৮.
কোনো দেওয়ানি আদালত অপরিশোধিত কোর্ট ফি অনিবার্য কারণের জন্য পরবর্তীতে পরিশোধ করার অনুমতি দিতে পারেন - এটি দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বলা আছে?
  1. ১৩৩ ধারায়
  2. ১৪৩ ধারায়
  3. ১৪৯ ধারায়
  4. ১৫৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৯ ধারায় একটি দেওয়ানি আদালতকে অপরিশোধিত কোর্ট ফি পরবর্তীতে পরিশোধ করার অনুমতি প্রদানের বিধান রয়েছে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৯ ধারায় বলা হয়েছে:
"যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, অপরিশোধিত কোর্ট ফি যৌক্তিক বা অনিবার্য অসুবিধাজনক কারণগুলির জন্য পরিশোধ করা যায়নি, তাহলে সে (আদালত) এমন শর্তে যা তারা যুক্তিযুক্ত মনে করে, তা পরিশোধ করার অনুমতি দিতে পারবে।"

অর্থাৎ, যদি কোনো দলীল বা আদেশের জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি সময়মত অপরিশোধ থাকে এবং আদালত মনে করে যে এর জন্য যৌক্তিক বা অনিবার্য কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত তাদের বিবেচনায় নির্ধারিত শর্তে সেই অপরিশোধিত ফি পরবর্তীতে পরিশোধের অনুমতি দিতে পারবে।
তবে এক্ষেত্রে যৌক্তিকতা বা অনিবার্যতার যথাযথ কারণ প্রদর্শন করতে হবে এবং আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে। আদালত তাদের বিবেচনা অনুযায়ী শর্তাদি আরোপ করে এই অনুমতি প্রদান করতে পারেন।
১,৭১৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১০৯ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কীসের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়?
  1. শুধু রায়ের বিরুদ্ধে
  2. শুধু ডিক্রির বিরুদ্ধে
  3. শুধু অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে
  4. রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।

১,৭২০.
পক্ষগণের জবানবন্দী গ্রহণ (Examination of parties) সম্পর্কিত দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ কত?
  1. আদেশ ১০
  2. আদেশ ১১
  3. আদেশ ১৬
  4. আদেশ ১৮
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ৪(১,২) অনুসারে, যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে।

• উল্লেখ্য যে, আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
১,৭২১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭, বিধি ৫ অনুযায়ী আরজিতে কী দেখানো আবশ্যক?
  1. বাদীর স্বার্থ
  2. বিবাদীর স্বার্থ
  3. সমন জারির প্রয়োজনীয়তা
  4. মোকদ্দমা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিবরণ
ব্যাখ্যা

আদেশ ৭ বিধি ৫: বিবাদীর স্বার্থ ও দায়িত্ব দেখাতে হবে:
আরজিতে (প্লেইন্টে) প্রদর্শন করতে হবে যে, বিবাদী মামলার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসম্পন্ন বা মামলার বিষয়বস্তুতে স্বার্থ দাবি করছেন, এবং তিনি বাদীর দাবীর উত্তর দিতে বাধ্য।

[Defendant's interest and liability to be shown:
The plaint shall show that the defendant is or claims to be interested in the subject-matter,and that he is liable to be called upon to answer the plaintiff's demand.]

১,৭২২.
Order 11, Rule 1 অনুযায়ী interrogatories দাখিলের সময়সীমা কত?
  1. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
  2. ইস্যু নির্ধারণের ৭ দিনের মধ্যে
  3. ইস্যু নির্ধারণের ১০ দিনের মধ্যে
  4. ইস্যু নির্ধারণের ১৫ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

(Order 11, Rule 1 – জিজ্ঞাসাবাদ দ্বারা অনুসন্ধান):
যেকোনো মামলায়, বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে ইস্যু নির্ধারণের তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রতিপক্ষ বা প্রতিপক্ষের মধ্যে একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিখিত প্রশ্নাবলি (interrogatories) দিতে পারে।
এই প্রশ্নাবলি দাখিল করার সময় এর নিচের অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে- কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর কোন ব্যক্তি/ব্যক্তিদের দিতে হবে।

প্রথম শর্ত:
একই পক্ষকে উদ্দেশ্য করে কোনো পক্ষ একাধিক সেট interrogatories (প্রশ্নাবলি) দিতে পারবে না, যদি না এ বিষয়ে আদালত বিশেষ আদেশ প্রদান করে।

দ্বিতীয় শর্ত:
যেসব interrogatories মামলার বিরোধপূর্ণ বিষয়ে (matters in question) সম্পর্কিত নয়, সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক (irrelevant) বলে গণ্য হবে—যদিও সাক্ষীর মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় এগুলো গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

১,৭২৩.
ডিক্রির তারিখ হতে ________ পর ডিক্রি জারি করলে জারিকারক আদালত দেনাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবেন।
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২১ বিধি-২২ এর বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো:

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির আবেদন করা হলে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে উক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবেন-
i)  ডিক্রির তারিখ হতে ২ বছরের অধিক সময় পর ডিক্রি জারি করলে; বা
ii) পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে।

তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
১,৭২৪.
পক্ষসমূহের অ-সংযুক্ত এবং অপসংযোগের ফলে-
  1. মোকদ্দমা খারিজ হবে
  2. মোকদ্দমা স্থগিত হবে
  3. মোকদ্দমা ব্যর্থ হবে না
  4. মোকদ্দমা পুনঃরায় দায়ের করতে হবে
ব্যাখ্যা
অ-সংযুক্ত এবং অপসংযোগ পক্ষসমূহ [Non-joinder and mis-joinder of parties]:
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি-৯ অনুযায়ী মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত পক্ষকে মোকদ্দমায় পক্ষ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করলে, তাকে পক্ষসমূহের অ-সংযুক্ত [Non-joinder] বলে। প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত পক্ষ ছাড়া অন্যকোন ব্যক্তি যার প্রয়োজন নেই তাকে পক্ষভুক্ত করলে, সেটাকে পক্ষসমূহের অপসংযোগ [Mis joinder] বলে।

কোন মোকদ্দমায় পক্ষসমূহের অ-সংযুক্ত এবং অপসংযোগ এর কারণে কোন মোকদ্দমা ব্যর্থ হবে না [আদেশ ১, বিধি ৯]।
১,৭২৫.
‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ৫০,০০০/- টাকার দাবীতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করে। উক্ত মোকদ্দমায় ‘খ’ লিখিত জবাব দিয়ে জবাবে দাবী উত্থাপন করে যে, ‘খ’ ‘ক’ এর নিকট ৪০,০০০/- টাকা পাওনা আছে। ‘খ’ এর এই দাবিটি হলো?
  1. মধ্যস্থতা
  2. পাল্টা দাবী (Counter claim)
  3. পারাস্পরিক দায় শোধ (Set off)
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি  আদেশ ৮ এর বিধি ৬ অনুযায়ী পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ (Set off) হলো বিবাদীর বিরুদ্ধে বাদী যখন অর্থ আদায়ের মামলা করে তখন বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার দাবী/আবেদন। সহজ ভাষায়, সেট অফ অর্থ হল কোন দাবীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরেকটি দাবী।
⇒ অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।
⇒সেট অফের আবেদনের সময়- ৮ নং আদেশের ৬ বিধি অনুযায়ী কোন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই (at the first hearing of suit) লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সেট অফের দাবি করতে হয়।
⇒ প্রথম শুনানির পর আদালতে সেট অফের জন্য লিখিত জবাব দাখিল করা যাবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে প্রথম শুনানির পরও Set off এর দাবি করা যায়।
সেট অফের আবেদনের শর্ত- 
i) মোকদ্দমাটি অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা হবে।
ii) দাবীকৃত অর্থের পরিমান নির্দিষ্ট হবে।
iii) দাবীকৃত অর্থ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনগতভাবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদি সেই পরিমান টাকার দাবি সমন্বয় চাইতে পারবে যার পরিমান ঐ বিচারিক আর্থিক এখতিয়ারের সমপরিমান হবে। বিচারিক আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বেশি হলে সে রকম পরিমাণের টাকার জন্য বিবাদি সেট-অফ দাবি করতে পারবে না।
iv) দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদী উভয়কেই একই চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অর্থাৎ মামলায় বাদী-বিবাদী একে অন্যের নিকট পাওনাদার বা দেনাদার না হলে সেই মামলায় সেট-অফের দাবি করা যাবে না।
⇒ সেট-অফের মোকদ্দমায় আদালত বাদীর মূল দাবি এবং বিবাদীর সেট অফের ব্যাপারে এক সঙ্গে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে পারেন।
⇒ যদি বাদীর দাবীর চেয়ে বিবাদী দাবী বেশি হয় তাহলে এটি Counter claim ।
১,৭২৬.
কোন মামলায় আদালত রায়ের পূর্বে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে?
  1. বাটোয়ারা মামলায়
  2. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  3. ফোর ক্লোজারের মামলায়
  4. অর্থ মামলায়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ১ হতে ৪ বিধিতে রায়ের পূর্বে গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় আদালত বিবাদীকে রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন।

♦ রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ কোন স্থাবর সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত মোকদ্দমায়, যেমন- বাটোয়ারা, নিষেধাজ্ঞার মামলা, ফোর ক্লোজার বা বন্ধকী সম্পত্তির জামানত ফেরত পাওয়ার মামলায় মঞ্জুর করা যায় না।
১,৭২৭.
দেওয়ানি আদালত কয়টি ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
 অর্থাৎ দেওয়ানি আদালত ৪টি বিষয়ে কমিশন নিয়োগ দিতে পারেন।
-----------
⇒ Section 75. Power of Court to issue commissions:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission- 
(a) to examine any person; 
(b) to make a local investigation; 
(c) to examine or adjust accounts; or 
(d) to make a partition.
১,৭২৮.
যেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক আপিলের স্মারকলিপি প্রণীত হয় নি, সেক্ষেত্রে-
  1. আদালত সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে
  2. তৎক্ষণাৎ সেটি সংশোধন করার জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।
  3. আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সংশোধনের জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।
  4. "ক" অথবা "খ" অথবা "গ"
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-৩ এর বিধান স্মারকলিপি প্রত্যাখান বা সংশোধন:
১) যেক্ষেত্রে ইতোপূর্বে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মোতাবেক আপিলের স্মারকলিপি প্রণীত হয় নি, সেক্ষেত্রে আদালত সেটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে, অথবা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সংশোধনের জন্য অথবা তৎক্ষণাৎ সেটি সংশোধন করার জন্য আপিলকারীর নিকট ফেরত দেয়া যাবে।
২) যেক্ষেত্রে আদালত কোন স্মারকলিপি প্রত্যাখ্যান করে, সেক্ষেত্রে ঐ অগ্রাহ্যের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।
৩) যেক্ষেত্রে আপিলের স্মারকলিপি সংশোধন করা হয় সেক্ষেত্রে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সংশোধনীতে স্বাক্ষর বা অনুস্বাক্ষর করবেন।
--------------
⇒ Order 41 Rule.-3: Rejection or amendment of memorandum.-
1) Where the memorandum of appeal is not drawn up in the manner hereinbefore prescribed, it may be rejected, or be returned to the appellant for the purpose of being amended within a time to be fixed by the Court or to be amended then and there.
2) Where the Court rejects any memorandum, it shall record the reasons for such rejection,
3) Where a memorandum of appeal is amended, the Judge or such officer as he appoints in this behalf, shall sign or initial the amendment.
১,৭২৯.
আদেশ ২০ বিধি ৬ অনুযায়ী ডিক্রির মধ্যে নিম্নের কোন তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে না?
  1. মোকদ্দমার নম্বর
  2. পক্ষগণের নাম ও বিবরণ
  3. গ্রহণকৃত সাক্ষ্যের বিস্তারিত
  4. মঞ্জুরীকৃত প্রতিকার
ব্যাখ্যা
আদেশ ২০ বিধি ৬: ডিক্রির বিষয়সমূহ:
১) রায়ের সাথে ডিক্রির সাদৃশ্য থাকবে; এতে মোকদ্দমার নম্বর, পক্ষগণের নাম ও বিবরণ এবং দাবীর বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং মঞ্জুরীকৃত প্রতিকার বা মোকদ্দমার অন্যান্য সিদ্ধান্তের পরিস্কার উল্লেখ থাকবে।
২) মোকদ্দমাতে কি পরিমাণ ব্যয় হয়েছে এবং কার দ্বারা এবং কোন সম্পত্তি থেকে এবং উক্ত ব্যয়ের কি অনুপাতে দিতে হয় সেটাও ডিক্রিতে বিবৃত থাকবে।
৩) আদালত নির্দেশ প্রদান করতে পারে যে, একপক্ষ কর্তৃক অপরপক্ষে দেয় খরচাদির পূর্ববর্তী পক্ষ হতে পরবর্তী অপর পক্ষের স্বীকৃত পাওনা কোন অংকের পারস্পরিক দায় পরিশোধিত হবে।

'সাক্ষ্যসমূহের বিস্তারিত'- ডিক্রির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে না।

Order 20 Rule 6: Contents of decree:
1) The decree shall agree with the judgment; it shall contain the number of the suit, the names and descriptions of the parties, and particulars of the claim, and shall specify clearly the relief granted or other determination of the suit.
2) The decree shall also state the amount of costs incurred in the suit, and by whom or out of what property and in what proportions such costs are to be paid.
3) The Court may direct that the costs payable to one party by the other set-off against any sum which is admitted or found to be due from the shall be set-off former to the latter.
১,৭৩০.
রায় একবার স্বাক্ষরযুক্ত হয়ে গেলে, তা দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারা ব্যতীত সংশোধন করা যাবে না?
  1. ১৫৩ ধারা
  2. ১৫২ ধারা
  3. ১৫৮ ধারা
  4. ১৫৭ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২০নং আদেশের বিধি ৩ অনুযায়ী-

রায় ঘোষণা করার সময় বিচারক কর্তৃক তা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত তা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়, ডিক্রি, আদেশ সংশোধন (Amendment of judgement, decree & order) করার বিধান রয়েছে।
এই ধারামতে, আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে-

> করনিক বা গানিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes),
> আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির (accidental slip or omission) কারণে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করতে পারেন।

• উল্লেখ্য যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারায় আদালতের দেওয়ানি মামলার কার্য ধারার ত্রুটি সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। ১৫৩ ধারামতে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার কোন প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের জন্য মামলার কার্য ধারার ত্রুটি (any defect or error in any proceeding in a suit) সংশোধন করতে পারেন।
১,৭৩১.
বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে পারে মোকদ্দমা দায়েরের পর-
  1. চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  3. রায় ঘোষণার পূর্বে
  4. যে কোন সময়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ বিধি-১ এর বিধান মোকদ্দমা প্রত্যাহার কিংবা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ:
১) মোকদ্দমা রুজু হওয়ার পর যে কোন সময় বাদি সকল বা যে কোন বিবাদির বিরুদ্ধে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে কিংবা তার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে।
-----------
⇒ Order-23 Rule-1. Withdrawal of suit or abandonment of part of claim.
(1) At any time after the institution of a suit the plaintiff may, as against all or any of the defendants, withdraw his suit or abandon part of his claim. 
১,৭৩২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৯ অনুসারে কোন নিলাম বিক্রয় কত দিনের বেশি মেয়াদের জন্য মুলতুবি রাখা হলে নতুন করে ইশতেহার প্রচার করতে হবে?
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ৩০
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৯ এর বিধান মতে নিলাম বিক্রয় মুলতুবি অথবা বন্ধ করা: কোন নিলাম বিক্রয় ৩০ দিনের বেশি মেয়াদের জন্য মুলতুবি রাখা হলে নতুন করে ইশতেহার প্রচার করতে হবে, যদি না দায়িক এটি বর্জন করে। 
 আদালত ইচ্ছা করলে কোন নিলাম বিক্রয় নির্দিষ্ট দিন বা সময় পর্যন্ত মুলতুবি রাখতে পারেন।
-----------------
⇒ Order-21 Rule-69. Adjournment or stoppage of sale:
(1) The Court may, in its discretion, adjourn any sale hereunder to a specified day and hour, and the officer conducting any such sale may in his discretion adjourn the sale, recording his reasons for such adjournment:
Provided that, where the sale is made in, or within the precincts of, the court-house, no such adjournment shall be made without the leave of the Court.

(2) Where a sale is adjourned under sub-rule (1) for a longer period than [thirty] days, a fresh proclamation under rule 67 shall be made, unless the judgment-debtor consents to waive it.
(3) Every sale shall be stopped if, before the lot is knocked down, the debt and costs (including the costs of the sale) are tendered to the officer conducting the sale, or proof is given to his satisfaction that the amount of such debt and costs has been paid into Court which ordered the sale.
১,৭৩৩.
আদেশ ৬ এর বিধি ১৪ অনুযায়ী, আরজিতে স্বাক্ষর করবে-
  1. শুধু বাদী
  2. আদালত
  3. শুধু বাদীর উকিল
  4. বাদী এবং তার উকিল উভয়ে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৪:
প্রত্যেক প্লিডিংস (আরজি এবং জবাব) সংশ্লিষ্ট পক্ষ কর্তৃক এবং তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে।

অর্থাৎ, আরজিতে বাদী এবং তার উকিল স্বাক্ষর করবে এবং লিখিত জবাবে বিবাদী এবং তার উকিল স্বাক্ষর করবে।
১,৭৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় রেফারেন্স (Reference) এখতিয়ার আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৯৬
  2. ১১৫
  3. ১১৩
  4. ১১৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ নং আদেশে রেফারেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
- ৪৬ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী আপিল-অযোগ্য ডিক্রির মামলার বিচার পর্যায়ে বা আপিলে অথবা উক্ত ডিক্রি জারি করার সময়, আইন বা আইনের ন্যায় বলবৎ কোন রীতি সম্পর্কিত প্রশ্নের সৃষ্টি হলে, উক্ত মামলার বিচারকারী আদালত বা আপিল আদালত অথবা ডিক্রি জারিকারক আদালত, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করতে পারে।

- রেফারেন্স প্রেরণকারী আদালত রেফারেন্স প্রেরণ করা সত্ত্বেও মামলার কার্যক্রমে অগ্রসর হতে পারে কিংবা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ প্রেরিত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করতে পারেন।

- ৪৬ নং আদেশের ৫ নং বিধি অনুযায়ী অধীনস্ত যে আদালত হাইকোর্টে রেফারেন্সের জন্য কোন বিষয় পাঠাবে, সেই বিষয়ে উক্ত আদালত কর্তৃক দেওয়া ডিক্রি/আদেশ হাইকোর্ট বিভাগ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে অথবা যে কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
- অর্থাৎ Reference কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট তার অধস্তন আদালতের রায় বা ডিক্রি পরিবর্তন করতে পারে।

- ৪৬ নং আদেশের ৬ নং বিধিতে ক্ষুদ্র বিষয়ক এখতিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করার বিধান রয়েছে। ৬ নং বিধি অনুযায়ী যেক্ষেত্রে মামলা ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে বিচারার্থে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত মামলার প্রকৃতি সম্পর্কে উক্ত সন্দেহের কারণ সম্বলিত একটি বিবৃতিসহ হাইকোর্ট বিভাগে একটি নথি দাখিল করতে পারে।
১,৭৩৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৪ এর বিধান হলো?
  1. মামলা দায়ের
  2. আইনজীবী নিয়োগ
  3. সমন
  4. মামলা গঠন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪ এর বিধান হলো আরজি দাখিলের মাধ্যমে মামলা দায়ের
⇒ আদালত কর্তৃক উপযুক্ত বা নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট আরজি উপস্থাপন করতে হয় এবং যতজন বিবাদী থাকবে ততগুলো আরজির নকল দিতে হবে।
⇒ মামলা দায়ের করার পর (আদেশ ৪ বিধি ২ অনুযায়ী নিবন্ধন বই লিপিবদ্ধ ও মামলার ক্রমিক নং দেওয়া হয়)
⇒ ধারা-২৬ তে আরজি পেশ করে মামলা দায়ের করার কথা বলা আছে। 
১,৭৩৬.
সমন বিনা জারীতে ফেরত আসার কত দিনের মধ্যে বাদী পদক্ষেপ না নিলে মামলা খারিজ হবে?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা
যখন সমন জারি না হওয়ায় ফেরত আসে এবং অতঃপর এক মাস পর্যন্ত বাদী নতুন করে সমন দেয়ার আবেদন না করে, তখন মোকদ্দমা খারিজ হয়।
 
• দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ ৯ বিধি-৫ঃ

১) বিবাদিকে কিংবা কতিপয় বিবাদির কোন একজনের প্রতি সমন দেয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারি বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদি যদি নতুন সমন দেয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদির বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দিবে। যদি না উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদি নিম্নলিখিত যে কোন কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—

ক) যে বিবাদির উপর সমন জারি হয়নি, বাদি যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও ঐ বিবাদির ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা

খ) উক্ত বিবাদি পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলতেছে; অথবা

গ) সময়ের মেয়াদ বাড়াতে কোন সঙ্গত কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নূতন সমন দেয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদি (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
১,৭৩৭.
ORDER XV-এর Rule 1 অনুসারে প্রথম শুনানিতে রায় ঘোষণা করা যাবে কখন?
  1. যখন আদালত নতুন সাক্ষী তলব করে না পায়।
  2. যখন বিবাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকে
  3. যখন বাদী অতিরিক্ত দলিল দাখিল করতে ব্যর্থ হয়
  4. যখন পক্ষগণ আইনগত বা তথ্যগত কোন প্রশ্নে বিরোধে নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ORDER XV, Rule 1 অনুসারে, প্রথম শুনানিতে রায় ঘোষণা করা যাবে যখন পক্ষগণ কোনো আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধে নেই।
- অর্থাৎ, যদি প্রথম শুনানিতে দেখা যায় যে, পক্ষগণ তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ (dispute) উত্থাপন করেনি এবং কোনো আইনি বা প্রমাণগত বিষয় নিয়ে বিতর্ক নেই, তাহলে আদালত সরাসরি রায় ঘোষণা করতে পারেন।
- এটি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পক্ষগণ তাদের দাবী বা সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন না করলে বা উভয়ের মধ্যে বিরোধ না থাকলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় দিতে পারেন।

⇒ ORDER-XV, Rule-1 :Parties not at issue.
- Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.
১,৭৩৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২-এর ৯ক বিধির আওতায়, মোকদ্দমা বাতিলের আদেশ সরাসরি বাতিলের আবেদনে আদালত সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ প্রদানের আদেশ করতে পারে?
  1. ১০০০ টাকা
  2. ২০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ৪০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২ বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ (Directly setting aside abatement or dismissal): বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 22 Rule-9A.Directly setting aside abatement or dismissal:
- Notwithstanding anything contained in rule 9 or any other law, where the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver of any insolvent plaintiff files an application for setting aside abatement or dismissal made under this Order, within sixty days of abatement or dismissal, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, set aside the abatement or dismissal without requiring the applicant to adduce evidence to prove sufficient cause as required under rule 9, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand taka as the Court may deem appropriate.
১,৭৩৯.
আদেশ ৬, বিধি ২ অনুযায়ী আরজি বা লিখিত জবাবে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. কেবল সাক্ষ্য
  2. কেবল মূল তথ্য
  3. আদালতের নোটিশ
  4. আইনের ধারা
ব্যাখ্যা

আদেশ ৬, বিধি ২ – আরজি বা জবাবে মূল তথ্য উল্লেখ করতে হবে, সাক্ষ্য নয়:
প্রত্যেক আরজি বা জবাবে কেবল সেই মূল তথ্য বা বিষয়বস্তু (material facts) সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে, যার উপর আরজি বা জবাব দানকারী পক্ষ তার দাবী বা আত্মপক্ষ সমর্থন নির্ভর করছে। তবে যে সাক্ষ্যর মাধ্যমে ওই তথ্য প্রমাণিত হবে, তা আরজিতে লিখতে হবে না।

প্রয়োজন হলে আরজি বা জবাব প্যারাগ্রাফে ভাগ করতে হবে এবং প্রতিটি প্যারাগ্রাফ ক্রমিকভাবে নম্বরযুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া তারিখ, অর্থের পরিমাণ এবং সংখ্যা সবসময় সংখ্যার আকারে (figures) প্রদর্শন করতে হবে।

১,৭৪০.
আদেশ ১২ বিধি ২ এর অধীন নোটিশ দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
  1. সাক্ষী হাজির করানো 
  2. দলিল স্বীকার করানো
  3. ঘটনা স্বীকার করানো
  4. মোকদ্দমার খরচ প্রদান
ব্যাখ্যা

আদেশ ১২ বিধি ২: দলিল স্বীকারের নোটিশ:
মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে নোটিশ প্রদান করতে পারে, যাতে বলা হয় যে, তারা পনেরো দিনের মধ্যে কোনো দলিল স্বীকার করবে, তবে উপযুক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া। যদি অন্য পক্ষ তা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বা অবহেলা করে, তবে দলিল প্রমাণের খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যেহেতু তারা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে আদালত যদি অন্যভাবে নির্দেশ না দেয়।

১,৭৪১.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭ এর হস্তান্তরযোগ্য দলিল সংশ্লিষ্ট কার্যপদ্ধতি কোন আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. সকল দেওয়ানি আদালত
  2. শুধু হাইকোর্ট ডিভিশন
  3. হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালত
  4. সকল দেওয়ানি এবং ফৌজদারি আদালত
ব্যাখ্যা
• The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭ এ হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি (SUMMARY PROCEDURE ON NEGOTIABLE INSTRUMENTS) সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

আদেশ ৩৭ বিধি-১: আদেশের প্রয়োগ-
এই আদেশ শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

Order 37 Rule-1: Application of Order-
This Order shall apply only to the High Court Division and to the District Court.
১,৭৪২.
'Service of process on pleader'- নিম্নের কোন বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৫ বিধি ৩
  2. আদেশ ৩ বিধি ৫
  3. আদেশ ৫ বিধি ২১
  4. আদেশ ৩ বিধি ২
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩ এর ৫ নং বিধিতে উকিলের প্রতি পরোয়ানা জারির (Service of process on pleader) বিধান উল্লেখ আছে।

• আদেশ ৩ বিধি ৫ঃ উকিলের প্রতি পরোয়ানা জারি-

যদি কোন পক্ষের উকিলের উপর কোন সমন জারি করা হয় বা উকিলের চেম্বারে অথবা বাসগৃহে পাঠানো হয় এবং তা পক্ষের ব্যক্তিগত হাজিরার জন্য হোক বা না হোক, তা যথাযথ নিয়মের অধীনে প্রদত্ত হয়েছে এবং যে পক্ষের হয়ে সে ব্যক্তি প্রতিনিধিত্ব করেন, ঐ পক্ষকে যথাযথ নিয়মে জানানো হয়েছে বলে ধরা হবে এবং যদি না আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপর ব্যক্তিগতভাবে জারি করার মতই কার্যকর হবে।

Order 3 Rule 5: Service of process on pleader-
Any process served on the pleader of any party or left at the office or ordinary residence of such pleader, and whether thesame is for the personal appearance of the party or not, shall be presumed to be duly communicated and made known to the party whom the pleader represenfs, and, unless the Court otherwise directs, shall be as effectual for all purposes as if the same had been given to or served on the party in person.
১,৭৪৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারা কোন আদালতে আপিলের বিধান করে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. দায়রা জজ আদালত
  3. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  4. 'ক' অথবা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১০৯ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা অন্য কোন চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।
- এই ধারা সুপ্রিম কোর্টে আপিলের জন্য সরাসরি আইনি ভিত্তি প্রদান করে এবং এটি জেলা বা দায়রা আদালতের আপিল সংক্রান্ত নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।
-----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section: 109. When appeals lie to the Supreme Court.
- Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division.
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction; 
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and 
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.
১,৭৪৪.
কোনটি অন্তবর্তীকালীন মুনাফা (mesne profit) হিসাবে গণ্য হবে?
  1. অপর ব্যক্তির সম্পত্তি অবৈধ দখল করলো এবং সেখানে বাড়ি তৈরি করে ভাড়া দিলে
  2. নিজের জমিতে বাড়ি তৈরি করে ভাড়া দিলে
  3. অপর ব্যক্তির সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেলে
  4. অনুমতি সাপেক্ষে অপর ব্যক্তির জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করলে
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(১২) অনুসারে,

বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফাকে মধ্যবর্তী মুনাফা(Mesne Profits) বলে।
"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received there from,together with interest on such profits.

• ব্যতিক্রমঃ
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।
১,৭৪৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে রায় ঘোষণার তারিখ হতে ______ দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ২১
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা রয়েছে-
আদালতের এমন কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যা মোকদ্দমার তর্কিত/বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে পক্ষসমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে তাকে ডিক্রি (Decree) বলে।

৩৩ ধারা মতে,
কোন মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষনা করে এবং পরবর্তীতে এই রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করে। রায় হল ডিক্রির ভিত্তি তাই রায় আগে প্রদান করা হয় এবং ডিক্রি পরে দেয়া হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ৫ক তে ডিক্রি প্রণয়নের সময় দেয়া হয়েছে। এ বিধিমতে-
''রায় ঘোষণার তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।''
[The decree shall be drawn up within seven days from the date of pronouncement of the judgment.]
১,৭৪৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির ____________ অনুসারে অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অগ্রহণযোগ্য দলিল অগ্রাহ্যের কারণ রেকর্ডপূর্বক অগ্রাহ্য করতে পারে।
  1. আদেশ-৯ বিধি-২
  2. আদেশ-১৩ বিধি-৩
  3. আদেশ-১১ বিধি-৭
  4. আদেশ-১৩ বিধি-৯
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-১৩ বিধি-৩: অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অগ্রহণযোগ্য দলিলাদি অগ্রাহ্য:
মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যদি মনে করে যে, কোন একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অন্যভাবে অগ্রহণযোগ্য, তবে অগ্রাহ্যের হেতু রেকর্ডপূর্বক আদালত উক্ত দলিল অগ্রাহ্য করতে পারবে।
------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-13 Rule-3: Rejection of irrelevant or in admissible documents:
The Court may at any stage of the suit reject any document which it considers irrelevant or otherwise inadmissible, recording the grounds of such rejection.
১,৭৪৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ কে সংশোধন করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র সুপ্রীম কোর্ট
  2. শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ
  3. শুধুমাত্র নির্বাহী বিভাগ
  4. সংসদ এবং সুপ্রীম কোর্ট উভয়
ব্যাখ্যা
ধারা, আদেশ এবং বিধিসমূহ সংশোধন করার ক্ষমতা:
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে। প্রথম তফসিলে উল্লেখিত আদেশ এবং বিধিসমূহ সংসদ এবং সুপ্রীম কোর্ট উভয় সংশোধন করতে পারে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সকল আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে। ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
১,৭৪৮.
দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে রিভিশন মামলা দায়েরের প্রধান কারণ কি?
  1. আইনগত ভুল
  2. সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল
  3. ঘটনাগত ভুল
  4. আইনগত ভুল ও ন্যায়বিচারের বিঘ্ন ঘটা
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী বিধান হলো রিভিশন । রিভিশন বলতে বুঝায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের কোন মামলার সিদ্ধান্ত সঠিক করার জন্য সংশোধন করা। রিভিশন করতে হয় উচ্চ আদালতে।
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে। সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে। রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না । আপিলের ন্যায় রিভিশন বিচারকার্যের চলমান অবস্থা নয়।
♦ ১১৫ ধারা অনুযায়ী ২ ধরনের আদালতের রিভিশন এখতিয়ার আছে। 
১) জেলা জজ ও ২)হাইকোর্ট বিভাগ
১,৭৪৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারার বিধান কী?
  1. APPEALS
  2. REVIEW
  3. REVISION
  4. REFERENCE
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
----------------------------
⇒ CPC section 113. Reference of High Court Division:
- Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, any Court may state a case and refer the same for the opinion of the High Court Division, and the High Court Division may make such order thereon as it thinks fit.
১,৭৫০.
State the correct sequence:
  1. Issue, Trial, Arguments, Pleadings, Decree, Judgement
  2. Pleadings, Trial, Issues, Arguments, Decree, Judgement
  3. Pleadings, Issues, Arguments, Trial Judgement Decree
  4. Pleadings, Issues, Trial, Arguments, Judgement, Decree
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে (Code of Civil Procedure, 1908) মামলা পরিচালনার সঠিক ক্রম হল:
ঘ) Pleadings → Issues → Trial → Arguments → Judgement → Decree.

১. Pleadings (প্লিডিংস):
এটি মামলার প্রাথমিক ধাপ। উভয় পক্ষের দাবি ও জবাব (Plaint এবং Written Statement) এই ধাপে দাখিল করা হয়।

২. Issues (ইস্যু নির্ধারণ):
উভয় পক্ষের দাবি ও প্রতিদাবির ভিত্তিতে আদালত মামলার মূল বিষয়গুলো (ইস্যু) নির্ধারণ করে। এটি পরবর্তী প্রক্রিয়ার ভিত্তি গঠন করে।

৩. Trial (বিচার প্রক্রিয়া):
মামলার মূল বিচার পর্ব শুরু হয়। এখানে উভয় পক্ষ সাক্ষী ও প্রমাণ পেশ করে।

৪. Arguments (যুক্তিতর্ক):
বিচার শেষে উভয় পক্ষ আদালতের সামনে তাদের আইনগত যুক্তি পেশ করে।

৫. Judgement (রায়):
আদালত সমস্ত প্রমাণ এবং যুক্তি বিবেচনা করে মামলার রায় ঘোষণা করে।

৬. Decree (ডিক্রি):
রায়ের ভিত্তিতে আদালত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ (ডিক্রি) জারি করে, যা মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
১,৭৫১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ ধারা অনুসারে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সুদ সংযুক্ত হয় কোনটির সাথে?
  1. বাদীর মোট ক্ষতিপূরণ
  2. মামলার ফাইলিং ফি
  3. মামলার ব্যয়ের সাথে
  4. বিবাদীর সম্পত্তির মূল্যের সাথে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৫(৩) অনুসারে, আদালত সর্বোচ্চ ৬% বার্ষিক হার পর্যন্ত সুদ নির্ধারণ করতে পারে এবং এই সুদ মামলার ব্যয়ের সাথে সংযুক্ত হবে।

ধারা ৩৫(৩) এর মূল বক্তব্য:
"The Court may give interest on costs at any rate not exceeding six per cent. per annum, and such interest shall be added to the costs and shall be recoverable as such."
অর্থাৎ, আদালত যদি মামলার ব্যয়ের উপর সুদ নির্ধারণ করে, তবে তা মামলার ব্যয়ের সাথেই সংযুক্ত হয়ে আদায়যোগ্য হবে, অন্য কোনো খাতের সাথে নয়।
১,৭৫২.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় নিচের কোনটি রায়ের পূর্বে ক্রোক করা যায় না?
  1. জমি
  2. জমির ফসল
  3. ব্যাংকের টাকা
  4. কোম্পানীর শেয়ার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ নং আদেশের এর ১২ বিধিতে বলা হয়েছে, আদালত কৃষি পণ্য আটকের আদেশ দিতে পারে না যদি উক্ত কৃষি পণ্য কৃষকের দখলে থাকে।
- দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ৩৮ বিধি-১২: কৃষিজ দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়:
এই আদেশের কোন বিধানই বাদিকে কৃষকের দখলে থাকা কোন কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য আবেদন করার ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বা আদালতকে ক্রোক বা অনুরূপ কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য হাজির করার আদেশ দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।
অর্থাৎ জমির ফসল রায়ের পূর্বে ক্রোক করা যায় না।
------------------
⇒ CPC Order-38 Rule-12.Agricultural produce not attachable before judgment: 
Nothing in this Order shall be deemed to authorise the plaintiff to apply for the attachment of any agricultural produce in the possession of an agriculturist, or to empower the Court to order the attachment or production of such produce.
১,৭৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) কোন দুটি পদ্ধতি বর্ণিত আছে?
  1. মধ্যস্থতা ও সালিশ
  2. সালিশ ও আপোস
  3. মধ্যস্থতা ও আপোস
  4. সালিশ ও দরখাস্ত
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)-এর ২০০৩ সালের সংশোধনী (Act No. XXXVI of 2003) এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলির মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution - ADR) বিধান সংযোজিত হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে দুটি পদ্ধতি বর্ণিত রয়েছে:
- ধারা ৮৯ক (Section 89A): মধ্যস্থতা (Mediation) – এখানে কোর্ট মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পক্ষগুলির মধ্যে সমঝোতা সাধনের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া বর্ণিত। এটি ২০১২ সালের সংশোধনীতে (Act No. X of 2012) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ধারা ৮৯খ (Section 89B): সালিশ (Arbitration) – এতে সালিশী (Arbitration) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আছে, যা পক্ষগুলির সম্মতিতে সালিশকারী নিয়োগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই দুটি পদ্ধতি সিভিল মামলায় দ্রুত এবং কম খরচে নিষ্পত্তির জন্য ডিজাইন করা, তবে আর্থা ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর মামলায় এগুলি প্রযোজ্য নয়।

১,৭৫৪.
স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার জন্য গঠিত কমিশন অনূর্ধ্ব কত দিনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি-১৩ এর বিধান স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার জন্য কমিশন (Commissions to make partition of immovable property): যে ক্ষেত্রে বাটোয়ারার জন্য প্রাথমিক ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি ৫৪ ধারার আওতাভুক্ত না হলে, আদালত বাটোয়ারা বা পৃথকীকরণের জন্য কমিশন প্রেরণ করতে পারবেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি-১৪ এর বিধান কমিশনের কার্যপদ্ধতি:
১) কমিশনার প্রয়োজন হতে পারে এরূপ তদন্ত অনুষ্ঠানের পর, যে আদেশের অধীনে কমিশন প্রেরিত হয়েছিল সে আদেশে নির্দেশিত অংশ অনুপাতে সম্পত্তিটি ভাগ করবেন এবং উক্ত অংশগুলো পক্ষগণের মধ্যে বণ্টন করবে এবং যদি উপরোক্ত আদেশ দ্বারা ক্ষমতাবান হয়ে থাকে তবে বিভিন্ন অংশের মূল্য সমান করার জন্য যে টাকা পরিশোধ করতে হবে তা বিনিময় করতে পারে।

২) কমিশনার অতঃপর একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং অনুস্বাক্ষর করবে কিংবা কমিশনারগণ (একাধিক ব্যক্তির নিকট কমিশন প্রেরিত হয়ে থাকলে এবং তারা একমত হতে না পারলে) প্রত্যেক পক্ষের অংশ নির্দেশ করে এবং (যদি উক্ত আদেশ দ্বারা নির্দেশিত হয়ে থাকলে) প্রত্যেক অংশের পরিমাণ ও চৌহদ্দি আলাদাপূর্বক পৃথক প্রতিবেদন সমূহ প্রণয়ন এবং অনুস্বাক্ষর করবে। অনুরূপ প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ কমিশনের সঙ্গে সংযুক্ত রে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনূর্ধ্ব তিন মাস সময়ের মধ্যে আদালতে প্রেরীত হবে; এবং উক্ত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদন সম্পর্কে কোন পক্ষ কোন আপত্তি উত্থাপন করলে তা শুনানির পরে আদালত তা বহাল, পরিবর্তন বা রদ করতে পারে তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কমিশনারের আবেদনক্রমে এবং পর্যাপ্ত কারণ দর্শানো হলে সময় বৃদ্ধি করতে পারে।

৩) যেক্ষেত্রে আদালত প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ বহাল বা পরিবর্তন করেন সেক্ষেত্রে বহাল বা পরিবর্তিত প্রতিবেদন মোতাবেক আদালত একটি ডিক্রি দিবে, কিন্তু আদালত যদি কমিশনের প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনসমূহ বাতিল করেন তবে আদালত নতুন কমিশন পাঠাবে কিংবা উপযুক্ত অন্য কোন আদেশ প্রদান করবে।
------------------------------------
⇒ CPC Order-26 Rule-14.Procedure of Commissioner:
(1) The Commissioner shall, after such inquiry as may be necessary, divide the property into as many shares as may be directed by the order under which the commission was issued, and shall allot such shares to the parties, and may, if authorized thereto by the said order, award sums to be paid for the purpose of equalizing the value of the shares.
(2) The Commissioner shall then prepare and sign a report or the Commissioners (where the commission was issued to more than one person and they cannot agree) shall prepare and sign separate reports appointing the share of each party and distinguishing each share (if so directed by the said order) by metes and bounds. Such report or reports shall be annexed to the commission and transmitted to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court; and the Court, after hearing any objections which the parties may make to the report or reports, shall confirm, vary or set aside the same:

Provided that the Court may, on the prayer of the Commissioner and on sufficient cause being shown, extend the time.

(3) Where the Court confirms or varies the report or reports it shall pass a decree in accordance with the same as confirmed or varied; but where the Court sets aside the report or reports it shall either issue a new commission or make such other order as it shall think fit.
১,৭৫৫.
যদি বিবাদী আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে লিখিত বর্ণনা দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে মামলাটি -
  1. খারিজ হবে
  2. একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  3. ডিক্রি হবে
  4. দোতরফা নিষ্পত্তি হবে
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৮ বিধি-১ এর বিধান লিখিত জবাব (Written statement): সমন প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীকে অবশ্যই লিখিত জবাব দিতে হবে। এরূপ করতে ব্যর্থ হলে আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। অর্থাৎ লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

♦বিবাদী যদি এরপরও দাখিল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে, মোকদ্দমাটি একতরফা (Ex-parte) নিষ্পত্তি হবে। এরূপ একতরফা আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদী রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

♦প্রয়োজনীয় দলিল লিখিত জবাবের সাথে দাখিল না করলে উক্ত দলিল আদালতের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা যাবে না । তবে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আদালত অনুমতি দিলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

♦ বিবাদী কর্তৃক বাদীর আরজিতে দাবিকৃত বিষয়সমূহ অস্বীকার করে এবং বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে এমন তথ্য সংবলিত জবাব হলো লিখিত জবাব।

♦ ধারা ৮০ মতে সরকার বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা করতে হলে লিখিত নোটিশ প্রদানের ২ মাস পর মোকদ্দমা করা যাবে। যদি নোটিশ ছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তাহলে আদালত সরকারকে লিখিত বিবৃতি পেশ করার জন্য কমপক্ষে ৩ মাস সময় মঞ্জুর করবে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৯ ও ১০ নং বিধিতে অতিরিক্ত লিখিত জবাবের বিধান রয়েছে।

♦ ৯ নং বিধিমতে আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় বিবাদীকে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে।
♦ ১০ নং বিধিমতে বিবাদী আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে,আদালত বিবাদীর বিরূদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে (pronounce judgement) অথবা মোকদ্দমা সম্পর্কিত যে কোন আদেশ দিতে পারে।

♦ অর্থাৎ বিবাদীর প্রতি সমন জারির তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে, বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করবে। উক্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত মোকদ্দমাটি একতরফা নিষ্পত্তি করতে পারে।
১,৭৫৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১১ এর কত নম্বর ব্যাখ্যায় Constructive Res Judicata সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে?
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবে না। এই ধারায় ৬টি ব্যাখা দেয়া হয়েছে।

• ১১ ধারার ৪ নং ব্যাখ্যায় পরোক্ষ দোবারা দোষ [constructive res judicata] আলোচনা করা হয়েছে। এই নীতি অনুসারে, পূর্ববর্তী মামলায় যে বিষয় আত্মপক্ষসমর্থন বা বিপক্ষের যুক্তিখণ্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারতো বা হওয়া উচিত ছিল, তা উক্ত মামলার প্রত্যক্ষ বা মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল বলে ধরে নিতে হবে।
[Any matter, which might and ought to have been made ground of defence or attack in such former suit shall be deemed to have been, matter directly and substantially in issue in such suit].

অর্থাৎ পূর্ববর্তী মামলায় যে বিষয়টি আত্মপক্ষসমর্থন বা বিপক্ষের যুক্তিখন্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারতো বা উচিত ছিল, কোনো পক্ষই যদি তা ব্যবহার না করে থাকে, তবে পরবর্তী মোকদ্দমায় উক্ত বিষয়ের উদ্ভব হলে পরবর্তী মোকদ্দমাটি পরোক্ষ দোষে দুষ্ট হবে।
১,৭৫৭.
পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি আদালতে কখন উত্থাপন করতে হবে?
  1. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  2. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের পূর্বে
  4. আপিল বা রিভিশন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder of Parties) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি সম্ভাব্য ১ম সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে। 

• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)- 
মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে।  ভুল ব্যক্তির নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ অথবা স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে দিতে পারে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ১৩নং বিধিমতে, পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder of Parties) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি সম্ভাব্য ১ম সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।

Order 1 Rule 13: Objections as to nonjoinder or misjoinder-
All objections on the ground of nonjoinder or misjoinder of parties shall be taken at the earliest possible opportunity and, in all cases where issues are settle, at or before such settlement, unless the ground of objection has subsequently arisen, and any such objection not so taken shall be deemed to have been waived.
১,৭৫৮.
কোনো দেওয়ানী মামলার যুক্তিতর্ক শুনানী সমাপ্তির পর আদালতকে কত দিনের মধ্যে রায় প্রচার করতে হয়?
  1. ১৫
  2. ১০
  3. ৩০
ব্যাখ্যা
• "রায়" বলতে ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসাবে বিচারক যে বর্ণনা দেন, তা বুঝায়। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৩ ধারা মতে,কোন মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষনা করে এবং পরবর্তীতে এই রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করে। দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ, বিষয়বস্তু, প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে।

আদেশ ২০ বিধি ১-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে ,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা সাতদিনের বেশি হবে না প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।

Order 20 Rule 1: Judgment when pronounced-
The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day, [not beyond seven days,] of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.
১,৭৫৯.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, যদি বিবাদী প্রশ্নমালার উত্তর বা দলিল পরিদর্শনের আদেশ অমান্য করে, তাহলে তার ফলাফল কী হবে?
  1. তার সম্পত্তি ক্রোক করা হবে
  2. ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে
  3. মোকদ্দমা খারিজ করা হবে
  4. তার আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল করা হবে
ব্যাখ্যা
• The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, প্রশ্নকারীপক্ষ অথবা দলিলসমূহ উদ্‌ঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী আদালতে আবেদন করলে, আদালত অপরপক্ষকে নিম্নোক্ত আদেশ দিবেন-
⇒ প্রশ্নমালার উত্তরদান (answer to interrogatories)- এর আদেশ, বা
⇒ দলিলসমূহ প্রকাশ/উদঘাটন [discovery of documents]- এর আদেশ, বা
⇒ দলিলসমূহ পরিদর্শন [inspection of documents]- এর আদেশ।

সংশ্লিষ্ট পক্ষ উপরিউক্ত আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হলে বা অমান্য করলে (তার ফলাফল)-
⇒ বাদীর ব্যর্থ হলে- বাদীর মোকদ্দমা খারিজ আদেশ দিবে এবং
⇒ বিবাদী ব্যর্থ হলে- আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল (To strike out defence) আদেশ দিবে।

প্রতিকার:
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৪৩ আদেশে যেসকল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে, সে সম্পর্কে বলা আছে। আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, আদালত কোনো আদেশ দিলে তা আপিলযোগ্য আদেশ বলে গণ্য হবে। Order 43 rule 1(f) এর অধীন এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবে।
১,৭৬০.
কখন ডিক্রি জারির আবেদন করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হয়?
  1. রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
  2. দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে
  3. ডিক্রির ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে
  4. "খ" এবং "গ" উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২১ বিধি-২২ এর বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো (Notice to show cause against execution in certain cases): নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির আবেদন করা হলে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে উক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবেন-
i)  ডিক্রির তারিখ হতে ২ বছরের অধিক সময় পর ডিক্রি জারি করলে; বা
ii) পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে।
তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।

⇒ আদেশ-২১, বিধি-২২: ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথা- দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।  ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।
---------------------------------------
⇒ CPC Order-21 Rule-22: Notice to show cause against execution in certain cases:
(1) Where an application for execution is made− 
(a) more than [two years] after the date of the decree, or
(b) against the legal representative of a party to the decree,
or where an application is made for execution of a decree filed under the provisions of section 44A, the Court executing the decree shall issue a notice to the person against whom execution is applied for requiring him to show cause, on a date to be fixed, why the decree should not be executed against him:
Provided that no such notice shall be necessary in consequence of more than two years having elapsed between the date of the decree and the application for execution if the application is made within two years] from the date of the last order against the party against whom execution is applied for, made on any previous application for execution, or in consequence of the application being made against the legal representative of the judgment-debtor, if upon a previous application for execution against the same person the Court has ordered execution to issue against him.
(2) Nothing in the foregoing sub-rule shall be deemed to preclude the Court from issuing any process in execution of a decree without issuing the notice thereby prescribed, if, for reasons to be recorded, it considers that the issue of such notice would cause unreasonable delay or would defeat the ends of justice.
(3) No order of execution of the decree shall be invalid by reason of the omission to issue a notice under sub-rule (1) or to record reasons in a case where notice is dispensed with under sub-rule (2) unless the judgment-debtor has sustained substantial injury by reason of such omission.
১,৭৬১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪(১) অনুসারে, ডিক্রি কার্যকর করার আবেদন গ্রহণের পর আদালত কী নির্দেশ দিতে পারে?
  1. সম্পত্তি বিক্রি করার
  2. ডিক্রি তৎক্ষণাৎ কার্যকর করার
  3. সম্পত্তি ক্রোক করার
  4. ক্রেতার কাছে টাকা ফেরত দেওয়ার
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪: ডিক্রির সরাসরি কার্যকরী করা-
(১) অন্য কোনো বিধান বা প্রযোজ্য আইন থাকা সত্ত্বেও, আদালত তামাদি সময় (Law of limitation) অনুযায়ী ডিক্রির সরাসরি কার্যকরী করার জন্য আবেদন গ্রহণ করতে পারে। আবেদন করা যেতে পারে সেই মামলার রেকর্ডে যেখানে ডিক্রি জারি হয়েছে, অথবা যদি রেকর্ড আপিল বা সংশোধনী আদালত থেকে আনা হয়, তাহলে সেই উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা পৃথক ফাইল (part-file) এ। আদালত আবেদন গ্রহণের পর ডিক্রি তৎক্ষণাৎ কার্যকর করার নির্দেশ দিতে পারে।

(২) যদি ডিক্রিধারী বা ডিক্রির ভিত্তিতে বিক্রি করা সম্পত্তির ক্রেতা তার অধিকার প্রাপ্তিতে বাধা বা প্রতিরোধের সম্মুখীন হন, এবং আদালত বিষয়টি যাচাই করে সন্তুষ্ট হয়, তবে আদালত ডিক্রিধারী বা ক্রেতাকে সম্পত্তিতে অধিকার প্রদানের জন্য: যে কোনও ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে পারে যাকে আদালত এই কাজে নিয়োগ করবে, এবং প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

১,৭৬২.
যদি বাদী তামাদি আইনে নির্ধারিত সময়ের পর মোকদ্দমা দায়ের করে, সেক্ষেত্রে আরজিতে বাদী নিম্নলিখিত কোন বিষয় উল্লেখ করবে?
  1. তামাদি মার্জনার আবেদন
  2. তামাদি হতে অব্যাহতির কারণ
  3. তামাদি বৃদ্ধির আবেদন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• বাদী মোকদ্দমা দায়েরের সময় আদালতে যে দাবি সংবলিত আবেদন দাখিল করে তাকে আরজি বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা এবং ৪নং আদেশের ১ নং বিধিমতে প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয় (Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint)।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

আদেশ ৭ বিধি-৬ (তামাদি আইন হতে অব্যাহতি লাভের কারণসমূহ) 
"যদি তামাদি আইনে বিধৃত সময়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মোকদ্দমা দাখিল করা হয়, তাহলে উক্ত তামাদী আইনের বিধান হতে যে কারণে অব্যাহতি দাবী করা হয়, তা আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।"

Grounds of exemption from limitation law-
Where the suit is instituted after the expiration of the period prescribed by the law of limitation, the plaint shall show the ground upon which exemption from such law is claimed.
১,৭৬৩.
লিখিত জবাব দাখিলের পূর্বেই যে দরখাস্ত করা উচিৎ ছিল সে দরখাস্তটি যদি লিখিত জবাব দাখিলের পর করা হয়, তাহলে আদালত উক্ত পক্ষকে সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ২০০০ টাকা
  4. ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫খ ধারায় বিলম্বের জন্য খরচ প্রদানের বিধান রয়েছে। মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ কোন দরখাস্ত বা আবেদন অথবা লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত সর্বোচ্চ ২০০০ (দুই হাজার) টাকা খরচের আদেশ দিতে পারে। লিখিত জবাব দাখিলের পূর্বেই যে দরখাস্ত করা উচিৎ ছিল সে দরখাস্তটি যদি লিখিত জবাব দাখিলের পর করা হয়, তাহলে আদালত অপর পক্ষকে অনধিক ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা-৩৫খ:
১) কোন মোকদ্দমা বা কার্যপ্রক্রিয়ার যে কোন স্তরে আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দরখাস্ত কিংবা লিখিতভাবে কোন আপত্তি যদি পেশ করা না হয়, তাহলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত উক্ত পক্ষ অন্য পক্ষকে খরচা প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত দরখাস্ত বা লিখিত আপত্তি শুনানির নিমিত্তে গ্রহণকৃত হবে না।

২) লিখিত জবাব পেশের পর মোকদ্দমার কোন পক্ষ যদি এমন কোন বিষয়ে দরখাস্ত পেশ করেন, যা আদালতের মতানুযায়ী পূর্বেই পেশ করতে পারতেন বা পেশ করা সমীচীন ছিল এবং তাতে মূল মোকদ্দমার কার্যক্রমে দেরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তদকারণে আদালত দরখাস্ত নিবে কিন্তু তা শুনানি এবং নিষ্পত্তি করবে না, যদি না ঐ পক্ষ আদালত যেরূপে নির্দিষ্ট এবং নির্দেশ করবে এবং সেরূপে অপরপক্ষকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা খরচা দিবে এবং উক্ত খরচা দিতে না পারলে দরখাস্ত তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908- Section 35B:
1) If at any stage of a suit or proceeding an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka

2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which in the opinion of the Court could and ought to have been made earlier and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit but shall not hear and dispose of the application without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.
১,৭৬৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারা অনুযায়ী, আদালত কোনটি আদেশ দিতে পারে না?
  1. জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দানের জন্য
  2. দলিলাদি প্রদান ও পরিদর্শনের জন্য
  3. কোনো তথ্যকে হলফনামা মাধ্যমে প্রমাণ করার জন্য
  4. মামলার বিচারকার্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩০ আদালতকে "উদঘাটন ও অনুরূপ বিষয়ের আদেশ দানের ক্ষমতা" (Power to order discovery and the like) প্রদান করেছে। এই ধারা অনুসারে আদালত নিম্নলিখিত আদেশ দিতে পারে:
(ক) জিজ্ঞাসাবাদের (interrogatories) উত্তর দানের জন্য।
(খ) দলিলাদি প্রদান ও পরিদর্শনের জন্য।
(গ) কোনো তথ্যকে হলফনামা (affidavit) মাধ্যমে প্রমাণ করার জন্য।
তবে মামলার বিচারকার্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার জন্য আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ধারা ৩০-এর অধীন দেওয়া হয়নি।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৩০: উদঘাটন ও অনুরূপ বিষয়ের আদেশ দানের ক্ষমতা:
- নির্ধারণ শর্ত এবং সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে আদালতে যে কোন সময় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে-
ক) প্রশ্নাবলী প্রদান ও জবাবদান, দলিল ও তথ্যাবলীর স্বীকৃতি, এবং উদ্ঘাটন, পরিদর্শন, দাখিল, দলিল অন্তরীণ বা প্রত্যর্পণ অথবা সাক্ষ্য হিসাবে দাখিলযোগ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সম্পর্কিত সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যুক্তিপূর্ণ হতে পারে এরূপ আদেশ প্রদান করতে পারেন;
খ) সাক্ষ্যদান, অথবা দলিল দাখিল অথবা উপরোক্ত অন্য উদ্দেশ্যে যাদের হাজির হওয়ার প্রয়োজন, তাদের প্রতি সমন প্রেরণ করতে পারেন;
গ) কোন তথ্য এফিডেভিট (শপথ পত্র) দ্বারা প্রমাণের আদেশ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-30: Power to order discovery and the like:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, at any time, either of its own motion or on the application of any party,-
a) make such orders as may be necessary or reasonable in all matters relating to the delivery and answering of interrogatories, the admission of documents and facts, and the discovery, inspection, production, impounding and return of documents or other material objects producible as evidence;
b) issue summonses to persons whose attendance is required either to give evidence or to produce documents or such other objects as aforesaid;
c) order any fact to be proved by affidavit.

১,৭৬৫.
দেওয়ানি মোকদ্দমার কোন পক্ষ আদালতে হাজির হতে পারে-
  1. শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে
  2. শুধুমাত্র আইনজীবীর মাধ্যমে
  3. শুধুমাত্র স্বীকৃত প্রতিনিধির মাধ্যমে
  4. ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৩ বিধি ১ (উপস্থিতি ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি বা আইনজীবী মারফতে হতে পারে)-
মোকদ্দমার কোন পক্ষের আদালতে হাজিরা দেয়া, আবেদন করা বা আইন মোতাবেক অন্য যা করা কর্তব্য, প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোন বিপরীত বিধান না থাকলে উক্ত কার্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন করতে পারে, অথবা তার স্বীকৃত প্রতিনিধি কর্তৃক কিংবা তার পক্ষে [ক্ষেত্র বিশেষ উপস্থিত, দরখাস্ত কিংবা কার্যকরী] কোন উকিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় হাজিরা দিতে, আবেদন করতে বা অন্য কোন কাজ সমাধান করতে পারেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাজিরা বা উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবেই দিতে হবে।

Order 3 Rule 1: Appearances, etc. may be in person, by recognized agent or by pleader-
Any appearance, application or act in or to any Court, required or authorised by law to be made or done by a party in such Court, may, except where otherwise expressly provided by any law for the time being in force, be made or done by the party in person, or by his recognized agent, or by a pleader appearing, applying or acting, as the case may be, on his behalf:
Provided that any such appearance shall, if the Court so directs, be made by the in person.
১,৭৬৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারা অনুসারে, যদি কেউ প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করে, তাহলে—
  1. মামলাটি পুনরায় বিচার করা হবে
  2. চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে
  3. উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন করা যাবে
  4. প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, যদি কোনো পক্ষ প্রাথমিক ডিক্রির (preliminary decree) বিরুদ্ধে আপিল না করে, তাহলে সে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ডিক্রির (final decree) আপিলে সেই প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। অর্থাৎ, প্রাথমিক ডিক্রি চূড়ান্ত ডিক্রির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আপিলের সময় সেটিকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি মামলায় আদালত সম্পত্তির বিভাজন (partition) সংক্রান্ত প্রাথমিক ডিক্রি প্রদান করেছে, যেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে যে কে কত অংশ পাবে। এই ডিক্রির বিরুদ্ধে যদি কোনো পক্ষ আপিল না করে, তাহলে পরবর্তী চূড়ান্ত ডিক্রিতে (যেখানে বিভাজন কার্যকর করা হবে) সেই পক্ষ আর দাবি করতে পারবে না যে প্রাথমিক ডিক্রি ভুল ছিল।

অর্থাৎ ধারা ৯৭ মূলত প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ডিক্রির পার্থক্য এবং আপিলের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে। এটি নিশ্চিত করে যে, প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে চূড়ান্ত ডিক্রির আপিলে সেটি নিয়ে বিতর্ক করা যাবে না। 

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-97. Appeal from final decree where no appeal from preliminary decree.
Where any party aggrieved by a preliminary decree passed after the commencement of this Code does not appeal from such decree, he shall be precluded from disputing its correctness in any appeal which may be preferred from the final decree.
১,৭৬৭.
ডিক্রির দাবি পূরণের জন্য ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নিজস্ব এখতিয়ারের মধ্যে পর্যাপ্ত সম্পত্তি না থাকলে, আদালত ডিক্রি-
  1. বাতিল করবে
  2. মোকদ্দমা স্থগিত করবে
  3. অন্য এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে প্রেরণ করতে পারে
  4. কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ ধারার বিধান: ডিক্রি জারির জন্য স্থানান্তর:

১) কোন ডিক্রিদানকারী আদালত ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য আদালতে প্রেরণ করতে পারে, যদি-

ক. যার বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে, তিনি যদি উক্ত অন্য আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে স্বেচ্ছায় বসবাস করে কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করে;
খ. যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে ডিক্রির দাবি পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সম্পত্তি না থাকলে এবং অন্য আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমায় তার সম্পত্তি থাকে;
গ. ডিক্রিতে ডিক্রি দানকারী আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার বাহিরে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা প্রদানের জন্য নির্দেশ থাকলে;
ঘ. ডিক্রি দানকারী অন্য কোন কারণে ডিক্রিটি অন্য আদালতে প্রেরণ করা প্রয়োজনীয় মনে করলে। 

২) ডিক্রি প্রদানকারী আদালত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন কোন অধঃস্তন আদালতে তা জারির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।

Section 39: Transfer of decree:
(1) The Court which passed a decree may, on the application of the decree-holder, send it for execution to another Court,- 
 
(a) if the person against whom the decree is passed actually and voluntarily resides or carries on business, or personally works for gain, within the local limits of the jurisdiction of such other Court, or 
(b) if such person has not property within the local limits of the jurisdiction of the Court which passed the decree sufficient to satisfy such decree and has property within the local limits of the jurisdiction of such other Court, or 
(c) if the decree directs the sale or delivery of immovable property situate outside the local limits of the jurisdiction of the Court which passed it, or 
(d) if the Court which passed the decree considers for any other reason, which it shall record in writing, that the decree should be executed by such other Court. 
 
(2) The Court which passed a decree may of its own motion send it for execution to any subordinate Court of competent jurisdiction.
১,৭৬৮.
দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের ক্ষেত্রে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আর্থিক এখতিয়ার কত টাকা পর্যন্ত?
  1. ১৫ লক্ষ টাকা
  2. ২০ লক্ষ টাকা
  3. ২৫ লক্ষ টাকা
  4. ৩০ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা
উত্তর: ২৫ লক্ষ টাকা।

• দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণ:

দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং আঞ্চলিক এখতিয়ার—এই দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। নিচে এই বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো:

⇒ ১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction):
আর্থিক এখতিয়ার বলতে মামলার মূল্যমান অনুযায়ী কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। The Civil Courts Act, 1887 অনুসারে, বাংলাদেশের দেওয়ানি আদালতগুলোর আর্থিক এখতিয়ার নিম্নরূপ:
→ সহকারী জজ আদালত (The Court of Assistant Judge):
সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ১৫ লক্ষ টাকা বা তার কম হলে সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
→ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (The Court of Senior Assistant Judge):
সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ১৫ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ২৫ লক্ষ টাকা বা তার কম হলে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
→ যুগ্ম জেলা জজ আদালত (The Court of Joint District Judge):
সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ২৫ লক্ষ টাকার উপরে।
অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ২৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

⇒ ২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction):
আঞ্চলিক এখতিয়ার বলতে মামলার বিষয়বস্তু বা পক্ষগণের অবস্থান অনুযায়ী কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৫ থেকে ২৩ পর্যন্ত আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো:
ধারা ১৫: সাধারণ নিয়ম হলো, মামলা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যেখানে প্রতিবাদী (Defendant) বসবাস করে বা ব্যবসা পরিচালনা করে।
ধারা ১৬: স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করতে হবে।
ধারা ১৭: যদি স্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হয়, তাহলে সম্পত্তির অংশ বিশেষ যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ১৮: যদি আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার অনিশ্চিত হয়, তাহলে যেকোনো একটি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ২০: চুক্তি ভঙ্গের মামলায় চুক্তি সম্পাদনের স্থান বা চুক্তি ভঙ্গের স্থানে মামলা দায়ের করা যাবে।
১,৭৬৯.
'খ' যদি 'ক'-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে চায় এবং 'ক' চট্টগ্রামের বাসিন্দা হয় কিন্তু মানহানিকর বক্তব্য ঢাকায় প্রকাশিত হয়, তাহলে কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যেতে পারে?
  1. শুধু ঢাকায়
  2. কুমিল্লা
  3. ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে
  4. হাইকোর্টে বিভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, 'ক' ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে যেকোনো এক আদালতে মামলা করতে পারবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯ ধারার বিধান- ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
কোনো ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে অনিষ্ট সাধন করা হলে এবং বিবাদী অপর আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কাজ করলে, বাদী তার ইচ্ছা অনুসারে দুই আদালতের যেকোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে।

উদাহরণ:
(ক) ক-চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং সে ‘খ’-কে ঢাকায় মারধর করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে 'ক’, এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
(খ) 'ক' চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং ঢাকায় ‘খ’ সম্পর্কে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে “ক” এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 section-19. Suits for compensation for wrongs to person or movables:
- Where a suit is for compensation for wrong done to the person or to movable property, if the wrong was done within the local limits of the jurisdiction of one Court and the defendant resides, or carries on business, or personally works for gain, within the local limits of the jurisdiction of another Court, the suit may be instituted at the option of the plantiff in either of the said Courts.

Illustrations:
(a) A, residing in Chittagong beats B in Dhaka. B may sue A either in Dhaka or in Chittagong.
(b) A, residing in Chittagong publishes in Dhaka statements defamatory of B. B may sue A either in Dhaka, or in Chittagong.
১,৭৭০.
ডিক্রি জারির সময় নিচের কোন সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করা যাবে না?
  1. ব্যাংক নোট
  2. হিসেবের খাতাপত্র
  3. প্রমিসরি নোট
  4. কোম্পানির শেয়ার
ব্যাখ্যা
⇒ ডিক্রি জারির সময় কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করা যাবে এবং কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করা যাবে না- দেওয়ানী কার্যবিধির ৬০ ও ৬১ ধারায় বলা হয়েছে ডিক্রি জারির সময় কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করা যাবে এবং কোন সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করা যাবে না যা নিম্নরূপ-

⇒ ধারা-৬০: ডিক্রি জারির সময় যে সকল সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করা যাবে (property liable to attachment & sale in execution of decree)- ৬০ ধারামতে নিম্নলিখিত সম্পত্তিসমূহ ডিক্রি জারির সময় ক্রোক এবং বিক্রয় করা যাবে। যথা-জমি, গৃহ, দালান-কোঠা, টাকা, ব্যাংক নোট, চেক, Bill of Exchange, প্রমিসরি নোট, বন্ড, কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া যে কোন বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি ক্রোকযোগ্য, যেমন- equity of redemption.

⇒ ডিক্রি জারির সময় যে সকল সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করা যাবে না- ৬০ ধারামতে চাষীর বাসগৃহ, হিসেবের খাতাপত্র, সরকারী পেনশন ভোগীদের প্রাপ্য মঞ্জুরীকৃত বৃত্তি ও আনুতোষিক, দেনাদার (Judgement debtor) এবং তার স্ত্রী ও সন্তানগণের পরিধেয় বস্ত্র, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন- রান্নার বাসন, বিছানা ইত্যাদি সম্পত্তিসমূহ ডিক্রি জারির সময় ক্রোক এবং বিক্রয় করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৬১ ধারামতে যে সব কৃষিজাত উৎপাদিত দ্রব্য কৃষকের জীবিকার জন্য প্রয়োজন সরকার তা ক্রোক থেকে মুক্তি দিতে পারে।
১,৭৭১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১২ বিধি ৪ অনুসারে ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ শুনানির তারিখের কত দিন আগে দিতে হবে?
  1. ৬ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৯ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১২, বিধি ৪ অনুযায়ী কোনো পক্ষ ঘটনা স্বীকারের জন্য অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিতে পারে। তবে এই নোটিশ শুনানির তারিখের কমপক্ষে ৯ দিন আগে পাঠাতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর ৬ দিনের মধ্যে বা আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে হয়।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER XII, Rule 4 অনুসারে, মামলার কোনো পক্ষ লিখিতভাবে অপর পক্ষকে নির্দিষ্ট ঘটনা বা ঘটনাবলী স্বীকার করার জন্য নোটিশ দিতে পারে। এই নোটিশ শুনানির তারিখের নয় (৯) দিন আগে দিতে হবে।
- এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার পর ছয় (৬) দিনের মধ্যে বা আদালতের অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে উত্তর প্রদান করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বীকারোক্তি না করা হয় বা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রমাণ করার জন্য যে ব্যয় হবে, তা সেই পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত অন্য কোনো নির্দেশ দেন।
- এছাড়া, এই স্বীকারোক্তি কেবল সংশ্লিষ্ট মামলার জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং এটি অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। আদালত উপযুক্ত মনে করলে, শর্তসাপেক্ষে স্বীকারোক্তি সংশোধন বা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-12 Rule-4: Notice to Admit Facts:
- Any party may, by notice in writing, at any time not later than nine days before the day fixed for the hearing, call on any other party to admit, for the purposes of the suit only, any specific fact or facts mentioned in such notice.
- In case of refusal or neglect to admit the same within six days after service of such notice, or within such further time as may be allowed by the Court, the costs of proving such fact or facts shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs.
Provided that any admission made in pursuance of such notice shall be deemed to be made only for the purposes of the particular suit and not as an admission to be used against the party on any other occasion or in favor of any person other than the party giving the notice.
Provided also that the Court may, at any time, allow any party to amend or withdraw any admission so made on such terms as may be just.

১,৭৭২.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কোন বিষয়ের বিধান আছে?
  1. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  2. বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার
  3. ডিক্রি দানকারী আদালতের সংজ্ঞা
  4. সম্পত্তি বাটোয়ারা অথবা অংশ বিভাজন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিধান সম্পত্তি বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ (Partition of estate or separation of share):
-সরকারি রাজস্ব প্রদানের প্রয়োজনে কোন অবিভক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য বা সম্পত্তির কোন অংশের পৃথক দখলের জন্য ডিক্রি প্রদত্ত হলে, কালেক্টর বা মনোনীত কর্মকর্তা বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ সম্পন্ন করবেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section-54: Partition of estate or separation of share:
- Where the decree is for the partition of an undivided estate assessed to the payment of revenue to the Government, or for the separate possession of a share of such an estate, the partition of the estate or the separation of the share shall be made by the Collector or any gazetted subordinate of the Collector deputed by him in this behalf, in accordance with the law (if any) for the time being in force relating to the partition, or the separate possession of shares, of such estates.
১,৭৭৩.
আদেশ ৩৮ বিধি ২ এর অধীনে বিবাদী জামানত দিতে ব্যর্থ হলে, উক্ত আদেশের বিধি ৪ অনুযায়ী আদালত-
  1. বিবাদীকে জরিমানা করবে
  2. বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করবে
  3. বিবাদীকে দেওয়ানি জেলে প্রেরণ করতে পারে
  4. বিবাদীর বিরুদ্ধে এক তরফা রায় ঘোষণা করবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৮ বিধি ৪: যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত দিতে বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধির অধীনে কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে,সেক্ষেত্রে ডিক্রি না মিটানো অবধি তাকে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করতে পারেঃ তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক মেয়াদের জন্য জেলে আটক রাখা চলবে না, অথবা মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনূর্ধ্ব হলে সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিক মেয়াদের জন্যঃ তবে আরো শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ পালন করার পর তাকে এই বিধির অধীনে জেলে আটক রাখা যাবে না।

Order 38 Rule 4: Procedure where defendant fails to furnish security or find fresh security:
Where the defendant fails to comply with any order under rule 2 or rule 3, the Court may commit him to the civil prison until the decision of the suit or, where a decree is passed against the defendant, until the decree has been satisfied: Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months nor for period a longer than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka: Provided also that no person shall be detained in prison under this rule after he has complied with such order.
১,৭৭৪.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় 'Non-Joinder of parties' কোন বিষয়কে বলা হয়?
  1. প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত করাকে
  2. প্রয়োজনীয় প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত না করা
  3. প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে
  4. মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত না করা
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)-

মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে।
অন্যদিকে, কোন ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে। পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১নং আদেশের ১০(১) নং বিধিমতে,
বাদীর নাম ভুল হলে আদালত অন্য কোন ব্যক্তিকে বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে।

১০(২) নং বিধিমতে,
ভুল ব্যক্তির(বাদী বা বিবাদী) নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ দিতে পারে।

অপসংযোগ বা অসংযুক্তের কারণে কোন মোকদ্দমা অচল হবে না অর্থাৎ মামলাটি ব্যর্থ হবে না। তবে কোন মোকদ্দমায় ভ্রান্তভাবে পক্ষভুক্ত করার বিষয়ে কোন আপত্তি উঠানোর পরও, বাদী প্রয়োজনীয় পক্ষভুক্ত না করলে মোকদ্দমাটি খারিজ হবে।
১,৭৭৫.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে কত টাকা খরচ প্রদান করতে হবে?
  1. অনধিক ১০০০
  2. অনধিক ৫০০
  3. অনধিক ৩০০০
  4. অনধিক ৫০০০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩নং বিধিতে একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে ১৩ক বিধিতে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের বিধান রয়েছে।
⇒ আদেশ ৯, বিধি ১৩: একতরফা ডিক্রি রদ / বাতিল (Set aside ex parte decree)- 
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১০নং বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে একতরফা ডিক্রির সিদ্ধান্ত রদ বা বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পারবে যদি প্রমাণিত হয় যে-
i) বিবাদীর প্রতি যথাযথ ভাবে সমন জারি হয়নি; 
ii) উপযুক্ত কারণে শুনানীর দিন বিবাদী আদালতে উপস্থিত হতে পারে নি।

⇒ আদেশ ৯, বিধি ১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল (Directly setting-aside exparte decree)-
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
১,৭৭৬.
89A ধারার অধীন ঘোষণাকৃত আদেশ বা ডিক্রীর বিরুদ্ধে নিচের কোন প্রতিকার গ্রহণ করা যাবে?
  1. আপীল
  2. রিভিশন
  3. উভয়ই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation)
২- সালিশী (Arbitration)

দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিবে। উক্ত সময়ের মধ্যে না পারলে আদালত পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দিবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগ দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মীমাংসা করবে। তাও সম্পন্ন না হলে আরও ৩০ দিন বাড়াবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। মধ্যস্থতা প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সোলে ডিক্রি (Compromise Decree) জারি করবেন। সোলে ডিক্রি এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল কিংবা রিভিশন করা যাবে না।

⇒ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত জজ, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশিক্ষিত বলে জানা কোন ব্যক্তি এবং প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত এইরূপ ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যারা উক্ত উদ্দেশ্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত তাদের সমন্বয়ে জেলা জজ মধ্যস্থতাকারীগণের একটি তালিকা তৈরী করবেন (সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করতে হবে) এবং তার প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে তালিকার বিষয়ে তিনি অবহিত করবেন।

⇒ তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে কোন মোকদ্দমার কোন পক্ষ কর্তৃক কখনও কেউ উকিল নিযুক্ত হয়ে থাকলে পক্ষগণের মধ্যে তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবেন না। কোন মোকদ্দমার বিরোধ বা বিরোধগুলি এই ধারার অধীনে নিষ্পত্তি হলে আরজি-জবাবে প্রদত্ত কোর্ট ফি ফেরত প্রদানের নির্দেশ প্রদান করে, আদালত একটি প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করবে এবং প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে পক্ষগণ তা ফেরত পাবে।

 ⇒ এই ধারানুসারে নিষ্পত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না (No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section)।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ আদেশের অধীন মোকদ্দমা উঠিয়ে নেওয়া, সমন্বয় এবং মীমাংসা করার পক্ষগণের ইচ্ছাকে এই ধারা অন্যভাবে সীমিত করেছে বলে কোন কিছুই মনে করা যাবেনা।
১,৭৭৭.
যদি অর্থ আদায়ের মামলায় দাবিকৃত অর্থ অমিমাংসীত বা অনিশ্চিত হয়, তাহলে আরজিতে কী লিখতে হবে?
  1. যথাযথ পরিমাণ
  2. আনুমানিক পরিমাণ
  3. বাদীর ইচ্ছামত কোনো পরিমাণ
  4. আদালতের অনুমান অনুযায়ী কোনো পরিমাণ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ ৭, বিধি ২:
অর্থ আদায়ের মামলা (Money Suit)–এ আরজিতে:
১. যদি অর্থের পরিমাণ সুস্পষ্ট (precise) হয়:
→ আরজিতে সঠিক পরিমাণ লিখতে হবে।

২. যদি অর্থ অমিমাংসিত বা অনিশ্চিত (uncertain/approximate) হয়:
→ আরজিতে আনুমানিক অর্থ (approximate amount) উল্লেখ করতে হবে।

১,৭৭৮.
সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের (Senior Assistant Judge) সর্বোচ্চ আর্থিক এখতিয়ার কত টাকা?
  1. ১৫ লক্ষ টাকা 
  2. ২০ লক্ষ টাকা
  3. ২৫ লক্ষ টাকা
  4. ৩০ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণ: দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং আঞ্চলিক এখতিয়ার—এই দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। নিচে এই বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো:

⇒ ১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction):
আর্থিক এখতিয়ার বলতে মামলার মূল্যমান অনুযায়ী কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। The Civil Courts Act, 1887 অনুসারে, বাংলাদেশের দেওয়ানি আদালতগুলোর আর্থিক এখতিয়ার নিম্নরূপ:
•সহকারী জজ আদালত (The Court of Assistant Judge):
- সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ১৫ লক্ষ টাকা বা তার কম হলে সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (The Court of Senior Assistant Judge):
- সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ১৫ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ২৫ লক্ষ টাকা বা তার কম হলে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

• যুগ্ম জেলা জজ আদালত (The Court of Joint District Judge):
- সর্বোচ্চ এখতিয়ার: ২৫ লক্ষ টাকার উপরে।
- অর্থাৎ, মামলার মূল্যমান ২৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

⇒ ২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction):
আঞ্চলিক এখতিয়ার বলতে মামলার বিষয়বস্তু বা পক্ষগণের অবস্থান অনুযায়ী কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৫ থেকে ২৩ পর্যন্ত আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো:
ধারা ১৫: সাধারণ নিয়ম হলো, মামলা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যেখানে প্রতিবাদী (Defendant) বসবাস করে বা ব্যবসা পরিচালনা করে।
ধারা ১৬: স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করতে হবে।
ধারা ১৭: যদি স্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হয়, তাহলে সম্পত্তির অংশ বিশেষ যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ১৮: যদি আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার অনিশ্চিত হয়, তাহলে যেকোনো একটি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
ধারা ২০: চুক্তি ভঙ্গের মামলায় চুক্তি সম্পাদনের স্থান বা চুক্তি ভঙ্গের স্থানে মামলা দায়ের করা যাবে।

১,৭৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় পার্লামেন্ট সদস্যকে পার্লামেন্ট সভা চলাকালীন দেওয়ানী প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?
  1. ১৩৩ ধারায়
  2. ১৩৫ ধারায়
  3. ১৩৫ক ধারায়
  4. ১৩৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৫ক ধারার বিধান: দেওয়ানি পরোয়ানায় আটক ও গ্রেফতার হতে সংসদ সদস্যদের অব্যাহতি:
-১) নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি পরোয়ানাধীনে গ্রেফতার অথবা জেলে আটক রাখা যাবে না-

ক) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের সদস্য হন, তবে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে; খ) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের কোন কমিটির একজন সদস্য হন, তবে এরূপ কমিটির অধিবেশন চলাকালীন সময়ে; এবং এরূপ অধিবেশন বা বৈঠকের পূর্বের বা পরের চৌদ্দ দিন সময় পর্যন্ত।

২) উপ-ধারা (১) অনুসারে আটকাদেশ হতে মুক্ত কোন ব্যক্তিকে এই উপ-ধারায় উল্লেখিত 7 বিধান সাপেক্ষে পুনঃ গ্রেফতার করা যাবে এবং তিনি (১) উপ-ধারার বিধানের অধীনে মুক্ত না হলে আরও যতদিন আটক থাকতে হত, ততদিন তাকে আটক রাখা যাবে।
--------------------------------
⇒ CPC Section: 135A. Exemption of members of legislative bodies from arrest and detention under civil process:
(1) No person shall be liable to arrest or detention in prison under civil process- 
(a) if he is a member of Parliament during the continuance of any meeting of Parliament; 
(b) if he is a member of any committee of Parliament, during the continuance of any meeting of such committee; 
 and during the fourteen days before and after such meeting or sitting.

(2) A person released from detention under sub-section (1) shall, subject to the provisions of the said sub-section, be liable to re-arrest and to the further detention to which he would have been liable if he had not been released under the provisions of sub-section (1).
১,৭৮০.
দেওয়ানী মামলায় তদবির অভাবে প্রদত্ত খারিজের আদেশ সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ (Cost) প্রদান সাপেক্ষে সরাসরি রদ ও রহিত করা যায়?
  1. পাঁচশত টাকা
  2. এক হাজার টাকা
  3. দুই হাজার টাকা
  4. পাঁচ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৮ নং বিধিমতে শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী উক্ত বিষয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারবে না।

• খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার- শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে, বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে ২ ধরনের প্রতিকার পেতে পারে। যথা-
i) খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল; অথবা
ii) সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল ।

i) আদেশ-৯, বিধি-৯: খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Set-aside dismissal)-
শুনানির দিন বাদী হাজির না হওয়ার কারণে আদালত মামলা খারিজের আদেশ প্রদান করলে বাদী ৯ নং আদেশের ৯ নং বিধিমতে মোকদ্দমা শ্রবণের সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে পারলে, উক্ত খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবে।

ii) আদেশ-৯, বিধি-৯ক: সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিল (Directly setting-aside dismissal)-
বিলম্ব এড়ানো ও বিচার তরান্বিত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নং আদেশের ৯ক বিধিমতে বাদী উক্ত খারিজ আদেশের বিরূদ্ধে সরাসরি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে পারবে, তবে শর্ত-
- খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি খারিজ আদেশ রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
- অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
১,৭৮১.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৯ বিধি-৩ক অনুসারে যদি নোটিশ ফেরত আসে, তবে নোটিশ পুনরায় প্রেরণের জন্য কত দিনের সময়সীমা নির্ধারিত আছে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৩ক (Rule 3A) অনুযায়ী বলা হয়েছে, যদি আদালত কর্তৃক প্রেরিত নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পরিষেবা ছাড়াই ফেরত আসে, তাহলে সেই নোটিশ আদালতে ফেরত আসার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে আদালতকে আবার পাঠানোর নির্দেশ দিতে হবে।
- এই পুনরায় পাঠানো নোটিশ আদেশ ৫-এর বিধি ২০ অনুসারে সম্পাদিত হবে এবং এটি বৈধ সার্ভিস (due service) হিসেবে গণ্য হবে।

- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ- XXXIX, বিধি- ৩ক এর বিধান:
বিধি-৩ক এ বলা হয়েছে: "Any notice directed to be served under rule 3 shall be returned, with or without service, to the Court within seven days of issuance; and if the notice is returned without service, the Court shall cause the notice to be served again within seven days thereof in accordance with the provision of rule 20 of Order V, so far as may be applicable, and such service shall be deemed as due service of the notice."

- বিধি ৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ, তা প্রদান করা হোক বা না হোক, জারির ৭ দিনের মধ্যে আদালতে ফেরত দিতে হবে।
যদি নোটিশ প্রদান না করে ফেরত আসে (অর্থাৎ, বিপক্ষ পক্ষের কাছে পৌঁছানো না যায়), তবে আদালত নোটিশটি পুনরায় প্রেরণের ব্যবস্থা করবে, এবং এই পুনঃপ্রেরণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
পুনরায় প্রেরণের ক্ষেত্রে, আদেশ-৫, বিধি-২০ এর বিধান অনুসরণ করা হয়, যতদূর প্রযোজ্য। এই পুনঃপ্রেরিত নোটিশের প্রদানকে যথাযথ প্রদান হিসেবে গণ্য করা হয়।
১,৭৮২.
মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে _______বলা হয়।
  1. Wrong- Joinder of Parties
  2. Mis- Joinder of Parties
  3. Non- Joinder of Parties
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)- 

মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ভুল ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে। পক্ষসমূহের অপসংযোগ বা অসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে। দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশে পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• ১ নং আদেশের ১০(১) নং বিধিমতে, বাদীর নাম ভুল হলে আদালত অন্য কোন ব্যক্তিকে বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে।
১ নং আদেশের ১০(২) নং বিধিমতে, ভুল ব্যক্তির(বাদী বা বিবাদী) নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ দিতে পারে।

অপসংযোগ বা অসংযুক্তের কারণে কোন মোকদ্দমা অচল হবে না অর্থাৎ মামলাটি ব্যর্থ হবে না। তবে কোন মোকদ্দমায় ভ্রান্তভাবে পক্ষভুক্ত করার বিষয়ে কোন আপত্তি উঠানোর পরও,বাদী প্রয়োজনীয় পক্ষভুক্ত না করলে মোকদ্দমাটি খারিজ হবে।
১,৭৮৩.
একজন ব্যক্তি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেন এবং ডিক্রি লাভ করেন, কিন্তু বিবাদী তা পালন করতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. কেবলমাত্র সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে
  2. কেবলমাত্র দেওয়ানি কারাগারে আটক করতে পারে
  3. আটক করতে পারে অথবা সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে অথবা উভয়
  4. আদালত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২ এর বিধান সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি:
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তি ক্রোক, অথবা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা সম্পত্তি ক্রোক করে বা উভয় প্রকারেই কার্যকর করা যাবে।

যদি কোন কর্পোরেশন হয়, তবে কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্রোক করে অথবা পরিচালকগণকে বা অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাগণকে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা ক্রোক এবং আটক উভয় প্রকারেই ডিক্রিটি জারি করা যাবে। কোন ক্রোক ১ বছর যাবৎ বলবৎ থাকলে যদি ডিক্রি দায়িক ডিক্রিটি মান্য না করে থাকে এবং ডিক্রিদার ক্রোককৃত সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে, তবে অনুরূপ সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত ডিক্রিদারকে অর্থ প্রদান করতে পারেন।
১,৭৮৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট কী আটক করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র পণ্যের নমুনা
  2. উদ্ধারকৃত ও চোরাই সম্পত্তি
  3. যেকোনো ধরনের দলিল বা বই
  4. শুধু মূল্যবান অস্থাবর সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত যেকোনো ধরনের দলিল বা বই (any document or book) আটক (Impound) করার আদেশ দিতে পারে। 
- এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধরনের দলিল বা সম্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট যেকোনো দলিল বা বই আদালত প্রয়োজন মনে করলে আটক করতে পারে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৩, বিধি ৮ – আদালত যেকোনো নথি জব্দের নির্দেশ দিতে পারে:
- এই আদেশের বিধি ৫ বা বিধি ৭ অথবা আদেশ ৭-এর বিধি ১৭-এর যেকোনো কিছুতে যা-ই থাকুক না কেন, যদি আদালত যথেষ্ট কারণ মনে করে, তবে কোনো মোকদ্দমায় আদালতে উপস্থাপিত যেকোনো নথি বা বই জব্দ করার এবং আদালতের কোনো কর্মচারীর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারে, এবং এটি যতদিন এবং যেসব শর্তে আদালত উপযুক্ত মনে করে, ততদিন তা বজায় থাকবে।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Order XIII, Rule 8 – Court may order any document to be impounded:
- Notwithstanding anything contained in Rule 5 or Rule 7 of this Order or in Rule 17 of Order VII, the Court may, if it sees sufficient cause, direct any document or book produced before it in any suit to be impounded and kept in the custody of an officer of the Court, for such period and subject to such conditions as the Court thinks fit.

১,৭৮৫.
নাবালক বাদী হলে প্রত্যেক দেওয়ানি মোকদ্দমা কার দ্বারা দায়ের করতে হবে?
  1. সরকার
  2. পুলিশ
  3. আসন্ন বন্ধু
  4. সরকারি আইনজীবী
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৩২, বিধি ১: আসন্ন বন্ধু দ্বারা নাবালককে মোকদ্দমা করতে হয়:
নাবালক বাদী হলে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার 'আসন্ন বন্ধু' দ্বারা দায়ের করতে হবে।

Rule-1: Minor to sue by next friend:
Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor.
১,৭৮৬.
প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন [Verification of Pleadings] হবে-
  1. প্লিডিংস এর উপরে বাম পাশে
  2. প্লিডিংস এর নিচে
  3. প্লিডিংস এর উপরে ডান পাশে
  4. প্লিডিংস এর অপর পৃষ্ঠায়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায়। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে-

সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সই হলে, অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জনাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন এবং স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

Order 6 Rule 15: Verification of pleadings-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.

2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.

3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.
১,৭৮৭.
সহকারী জজের কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে-
  1. জেলা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. দায়রা আদালতে
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
- রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে।
-দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
- দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে। 

- অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে। জেলা জজ আদালত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনানীর এখতিয়ার রাখে না।
সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন জেলা জজের আদালতে দাখিল করতে হয়, তবে এই সকল আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।
১,৭৮৮.
“আপীল হচ্ছে মূল মোকদ্দমার ধারাবাহিকতা”- এই বিধানটি The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারার ব্যাখ্যায় অনুমিত?
  1. ৯৬;
  2. ৯৭;
  3. ১০৬;
  4. ১০৭
ব্যাখ্যা
♦ধারা ১০৭(২) অনুযায়ী ‘দেওয়ানি আদালতে দায়েরকৃত কোন মোকদ্দমার বিষয়ে বিচারিক আদালতের একই ক্ষমতা থাকবে এবং বিচারিক আদালতের যেরুপ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তদরুপ দায়িত্বের প্রায় কাছাকাছি দায়িত্ব আপীল আদালত প্রতিপালন করবে’। সুতরাং আপীল করা হয়েছে এমন রায় রা ডিক্রি চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়না এবং সম্পূর্ণ মোকদ্দমাটি বিচারাধীন মর্মে গণ্য হবে। তাই বলা যায়, “আপীল হচ্ছে মূল মোকদ্দমার ধারাবাহিকতা”।
১,৭৮৯.
মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য, মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে কত দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে?
  1. ৯ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি তিন (৩) প্রকার-

১/ মামলা স্বীকারের নোটিশ [বিধি-১]
২/ দলিল স্বীকার নোটিশ  [বিধি-২]
৩/ ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ [বিধি ৪]

• আদেশ-১২, বিধি-৪: ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ-

মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করবে এবং নোটিশ প্রদানের ৬ দিনের মধ্যে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষকে নোটিশের জবাব দিতে হবে।
১,৭৯০.
আপিল আদালত যদি নিম্ন আদালতের কোনো ডিক্রি রদ করে, সেক্ষেত্রে আদেশ-৪১ বিধি-২৩ অনুযায়ী আপিল আদালত-
  1. নতুন ডিক্রি জারি করতে পারে
  2. মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে
  3. মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণের আদেশ দিতে পারে
  4. সাক্ষীকে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-২৩- বিচারের নিমিত্তে আপিল আদালত কর্তৃক মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ:
যেক্ষেত্রে যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল দায়ের করা হয়েছে, সে আদালত যদি মোকদ্দমাটি কোন প্রাথমিক বিষয়ের উপর নিস্পত্তি করে থাকেন এবং আপিলে উক্ত ডিক্রি রদ হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত উপযুক্ত মনে করলে মোকদ্দমাটি পুনঃপ্রেরণের আদেশ দিতে পারেন এবং অনুরূপে পুনঃপ্রেরিত মোকদ্দমায় কোন্ কোন বিষয় বা বিষয়াবলীর বিচার করতে হবে তৎসম্পর্কে আরো নির্দেশ দিতে পারেন এবং এটির রায়ের ও আদেশের একটি নকল যে আদালতে ডিক্রি হতে আপিল করা হয়েছে, অনুরূপ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমার রেজিস্ট্রারে সেটির মূল নম্বরের অধীনে মোকদ্দমাটি বিচারার্থে পুনঃগ্রহণ করার এবং মোকদ্দমা নিস্পত্তি করার নির্দেশাবলীসহ প্রেরণ করতে হবে এবং মূল বিচারকালে লিপিবদ্ধকৃত সাক্ষ্য (যদি কোন) যাবতীয় সঙ্গত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ঐগুলোও পুনরায় প্রেরণের পর বিচারকালে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে।

Order 41 Rule 23- Remand of case by Appellate Court:
Where the Court from whose decree an appeal is preferred has disposed of the suit upon a preliminary point and the decree is reversed in appeal, the Appellate Court may, if it thinks fit, by order remand the case, and may further direct what issue or issues shall be tried in the case so remanded, and shall send a copy of its judgment and order to the Court from whose decree the appeal is preferred, with directions to re-admit the suit under its original number in the register of civil suits, and proceed to determine the suit; and the evidence (if any) recorded during the original trial shall, subject to all just exceptions, be evidence during the trial after remand.
১,৭৯১.
একটি দেওয়ানি মামলার অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে কোন আদালতে?
  1. জেলা জজ
  2. আপিল বিভাগ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. স্পেশাল জজ
ব্যাখ্যা
♦রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
♦১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
♦দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে।
♦অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
♦অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করতে হবে- হাইকোর্ট বিভাগে।
১,৭৯২.
দেওয়ানি মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে হবে রায়ের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৬০
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেকোন দেওয়ানী আদালতের নিকট দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
১,৭৯৩.
A, B-কে বছরে ৫,০০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া দিল। ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালের ভাড়া বাকি আছে। A, ২০০৮ সালে শুধু ২০০৬ সালের ভাড়ার জন্য মামলা করলো। এক্ষেত্রে, A পরে ২০০৫ বা ২০০৭ সালের ভাড়ার জন্য-
  1. আলাদা মামলা করতে পারবে
  2. আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা করতে পারবে
  3. আলাদা মামলা করতে পারবে না
  4. আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় বিচার করবে
ব্যাখ্যা

Order II Rule 2 of the Code of Civil Procedure (CPC):
প্রতিটি মামলা এমনভাবে দায়ের করতে হবে যাতে তা মামলাকারীর (plaintiff) পুরো দাবি (claim) অন্তর্ভুক্ত করে, যা তিনি ঐ একই কারণ (cause of action) থেকে করার অধিকার রাখেন।
তবে, মামলাকারী চাইলে তার দাবির কোনো অংশ ত্যাগ করতে পারেন, যদি তা করার মাধ্যমে মামলাটি কোনো নির্দিষ্ট আদালতের এখতিয়ারের (jurisdiction) মধ্যে আনা সম্ভব হয়।

(২) যদি কোনো মামলাকারী তার দাবির কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেন বা সেই অংশের জন্য মামলা না করেন, তাহলে তিনি পরে সেই বাদ দেওয়া অংশের জন্য আবার মামলা করতে পারবেন না।
অর্থাৎ: একবার কোনো অংশ বাদ দিলে বা ত্যাগ করলে, পরে সেই অংশের জন্য পুনরায় মামলা করা যাবে না।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি একই “cause of action” (অর্থাৎ একই ঘটনার ভিত্তিতে) একাধিক প্রতিকার (relief) পাওয়ার অধিকারী হন, তাহলে তিনি চাইলে সবগুলো প্রতিকার বা যেকোনো একটি প্রতিকারের জন্য মামলা করতে পারেন। তবে যদি তিনি আদালতের অনুমতি (leave of Court) ছাড়া কোনো প্রতিকার বাদ দেন, তাহলে তিনি পরে সেই বাদ দেওয়া প্রতিকারের জন্য আলাদা করে মামলা করতে পারবেন না।

Explanation (ব্যাখ্যা):
একটি বাধ্যবাধকতা (obligation), তার সাথে সম্পর্কিত জামানত বা সিকিউরিটি, এবং সেই বাধ্যবাধকতা থেকে ক্রমাগত উদ্ভূত দাবিগুলো — সব মিলিয়ে একটি cause of action বলে গণ্য হবে।

Illustration (উদাহরণ):
A, B-কে বছরে ১,২০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া দিল। ১৯০৫, ১৯০৬ ও ১৯০৭ সালের ভাড়া বাকি আছে। A, ১৯০৮ সালে শুধু ১৯০৬ সালের ভাড়ার জন্য মামলা করলো। তাহলে A পরে ১৯০৫ বা ১৯০৭ সালের ভাড়ার জন্য আলাদা মামলা করতে পারবে না।

১,৭৯৪.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২৬ এর বিধান অনুযায়ী কমিশন ইস্যুর আদেশ দেয়া যায় না?
  1. স্থাবর সম্পত্তির ভাগ বণ্টন
  2. নালিশী জমি কোন নির্দিষ্ট দাগভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ
  3. কোন দলিলে বর্ণিত জমি নির্দিষ্ট কোন দাগভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ
  4. নালিশি জমিতে কোন পক্ষের স্বত্ব আছে কিনা তা নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২৬ অনুযায়ী আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কমিশন ইস্যু করতে পারে-
- সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য,
- স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য,
- স্থানীয় তদন্ত যেমন নালিশী জমি কোন নির্দিষ্ট দাগভুক্ত কিনা এবং কোন দলিলে বর্ণিত জমি নির্দিষ্ট কোন দাগভূক্ত কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য, এবং
- হিসাব পরীক্ষা করার জন্য।

অর্থাৎ ২৬ আদেশের অধীন, আদালত নালিশী জমিতে কোন পক্ষের স্বত্ব আছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য কমিশন ইস্যু করতে পারে না।
১,৭৯৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান অনুসারে বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে দায়িককে-
  1. দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে
  2. তার সম্পত্তি ক্রোক করা যাবে
  3. তার সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করে যাবে
  4. উল্লিখিত সবগুলো করে যাবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান: অর্থ পরিশোধের ডিক্রি: বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ডিক্রি দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক এবং নিলাম বিক্রয় করে অথবা উভয় প্রকারেই জারি করা যাবে। 
------------
Order-21 Rule-30.Decree for payment of money:
Every decree for the payment of money, including a decree for the payment of money as the alternative to some other relief, may be executed by the detention in the civil prison of the judgment-debtor, or by the attachment and sale of his property, or by both. 
১,৭৯৬.
কোন আদালত বা ব্যক্তিরা দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩৯–এর অধীনে হলফনামার শপথ পরিচালনা করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র জেলা জজ
  2. কেবলমাত্র আইনজীবী
  3. যেকোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৯ ধারার বিধান হলফনামার শপথ যার দ্বারা পরিচালিত হবে: এই আইন মোতাবেক কোন এফিডেভিটের ক্ষেত্রে-
ক) যেকোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট; অথবা
খ) যেকোনো অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি যাকে সুপ্রিমকোর্ট এতদুদ্দেশ্যে নিয়োগ করতে পারেন; অথবা
গ) সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন আদালতে যে ব্যক্তিকে এই কার্যের জন্য নিযুক্ত করতে পারেন, তিনি শপথ গ্রহণকারীর প্রতি শপথ পরিচালনা করতে পারবেন।
------------
⇒ CPC Section: 139. Oath on affidavit by whom to be administered:
 In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom 107[the Supreme Court] may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf,
may administer the oath to the deponent.

১,৭৯৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন অর্ডারে রিভিউ সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত আছে?
  1. অর্ডার ৪৫
  2. অর্ডার ৪৬
  3. অর্ডার ৪৭
  4. অর্ডার ৪৮
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার ৪৭ রিভিউ সম্পর্কিত বিধান বর্ণনা করে। 
​-
এই অর্ডারের বিধি ১-এ রিভিউ আবেদনের শর্তগুলি উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন:
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কার হওয়া।
- মামলার নথিতে স্পষ্ট ভ্রান্তি বা ত্রুটি থাকা।
- অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকা।
এই অর্ডারটি নির্দিষ্ট করে যে রিভিউ আবেদন শুধুমাত্র সেই আদালতে দায়ের করা যাবে যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে।

⇒ ​দেওয়ানি কার্যবিধি ধারা-১১৪ ও অর্ডার ৪৭ দেওয়ানি রিভিউ (Review):
ধারা ১১৪ অনুযায়ী: যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন—
১. এমন ডিক্রি বা আদেশ যার বিরুদ্ধে আপীল করা যেত কিন্তু করা হয়নি,
২. এমন আদেশ যার বিরুদ্ধে আপীলের সুযোগ নেই, অথবা
৩. Small Causes Court-এর রেফারেন্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হন—
তবে তিনি সেই আদালতে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন, যিনি ঐ আদেশ বা ডিক্রি জারি করেছেন।

​অর্ডার ৪৭ অনুযায়ী: ধারা ১১৪-এর অধীনে রিভিউ আবেদনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া বর্ণিত।
রিভিউ শুধুমাত্র তখনই করা যাবে যখন—
১. নতুন বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় যা আগে সম্ভব ছিল না,
২. রেকর্ডে স্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি থাকে, অথবা
৩. অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে।
এছাড়া, অর্ডার ৪৭-এ রিভিউ মঞ্জুরি বা নামঞ্জুরের পদ্ধতি, আবেদন আদালত, শুনানির আগে নোটিশ, এবং পুনঃশুনানি প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে বর্ণিত।

১,৭৯৮.
চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ কয়টি মোকদ্দমা ধার্য্য করতে পারে?
  1. ১০০ টি
  2. ৭০ টি
  3. ৫ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ১৮ বিধি ২০ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় ৫টির বেশি মোকদ্দমা ধার্য্য করবেন না এবং আদালত দৈনিক কার্য তালিকায় মোকদ্দমার চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০০ টির অধিক মোকদ্দমা ধার্য্য করবে না।
♦ যদি চূড়ান্ত পর্যায়ে মোকদ্দমার সংখ্যা ৭০ টির নীচে আসে তাহলে আবার চূড়ান্ত পর্যায়ে আরো মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করবেন।
১,৭৯৯.
আদেশ-১১ বিধি-৮ অনুযায়ী, প্রশ্নমালার উত্তর দাখিল করতে কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ-১১ বিধি-৮ অনুযায়ী, প্রশ্নমালার উত্তর দাখিল করতে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে যে, প্রশ্নমালার উত্তর শপথনামার মাধ্যমে ১০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
- শপথনামার মাধ্যমে প্রশ্নমালার উত্তরের যথার্থতা নিশ্চিত করা হয়, এবং ১০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-11 Rule-8. Affidavit in answer, filing:
Interrogatories shall be answered by affidavit to be filed within ten days.
১,৮০০.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশের অধীনে রিসিভার নিয়োগের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-৩৭
  2. আদেশ-৩৯
  3. আদেশ-৪০
  4. আদেশ-৪৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ (Order XL)-এর অধীনে রিসিভার (Receiver) নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
→ এই আদেশ অনুযায়ী, আদালত যদি মনে করে যে কোনো সম্পত্তির বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক (just and convenient), তাহলে আদালত আদেশ দ্বারা নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারে:
- রিসিভার নিয়োগ করতে পারে – ডিক্রির পূর্বে বা পরে।
- সম্পত্তি থেকে কোনো ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারে।
- সম্পত্তিটি রিসিভারের হেফাজত, দখল বা ব্যবস্থাপনায় দিতে পারে।
রিসিভারকে এমন সব ক্ষমতা প্রদান করতে পারে—যেমন:
- মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা
- সম্পত্তি উদ্ধার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন
- ভাড়া/মুনাফা সংগ্রহ ও প্রয়োগ
- দলিল সম্পাদন ইত্যাদি
→ রিসিভারের পারিশ্রমিকও আদালত নির্ধারণ করে (বিধি ২ অনুযায়ী)।
- অর্থাৎ, রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত বিধান আদেশ ৪০-এর অধীনে দেওয়া হয়েছে।

আদেশ ৪০ – রিসিভার নিয়োগ:

১. রিসিভার নিয়োগ:
১.(১) যদি আদালতের নিকট এটি ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে আদালত আদেশ দ্বারা—
(ক) যে কোনো সম্পত্তির (ডিক্রি প্রদানের পূর্বে বা পরে) রিসিভার নিয়োগ করতে পারে;
(খ) কোনো ব্যক্তিকে ঐ সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করতে পারে;
(গ) উক্ত সম্পত্তি রিসিভারের দখল, হেফাজত বা ব্যবস্থাপনায় দিতে পারে; এবং
(ঘ) রিসিভারকে এমন সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারে—যেমন মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা গ্রহণ, সম্পত্তি উদ্ধার, ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, ভাড়া ও মুনাফা সংগ্রহ, সেগুলোর প্রয়োগ ও ব্যয়, এবং দলিল সম্পাদন—যেমন মালিক নিজে করতে পারতেন, অথবা আদালত যেটুকু উপযুক্ত মনে করে সেই ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।
১.(২) এই বিধানের কিছুই আদালতকে কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করার ক্ষমতা প্রদান করে না, যদি না মামলার কোনো পক্ষ সেই ব্যক্তিকে বর্তমানে অপসারণ করার অধিকার রাখে।
২. পারিশ্রমিক: রিসিভারের সেবার জন্য আদালত সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারে।
-------------- 
The Code of Civil Procedure, 1908, Order XL – Appointment of Receivers:
1. Appointment of Receivers:
(1) Where it appears to the Court to be just and convenient, the Court may by order—
(a) appoint a receiver of any property, whether before or after decree;
(b) remove any person from the possession or custody of the property;
(c) commit the same to the possession, custody, or management of the receiver; and
(d) confer upon the receiver all such powers, as to bringing and defending suits and for the realization, management, protection, preservation, and improvement of the property, the collection of the rents and profits thereof, the application and disposal of such rents and profits, and the execution of documents as the owner himself has, or such of those powers as the Court thinks fit.
(2) Nothing in this rule shall authorise the Court to remove from the possession or custody of property any person whom any party to the suit has not a present right so to remove.

2. Remuneration of Receiver:
The Court may by general or special order fix the amount to be paid as remuneration for the services of the receiver.