বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও তফসিল

মোট প্রশ্ন৯৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও তফসিল

PrepBank · পাতা / ১০ · ৬০১৭০০ / ৯৩৬

৬০১.
মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য সংবিধান অনুযায়ী আদালতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে কোন অনুচ্ছেদে ?
  1. অনুচ্ছেদ ১০২
  2. অনুচ্ছেদ ১০৩
  3. অনুচ্ছেদ ১০৫
  4. অনুচ্ছেদ ১০৮
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: 
- অনুচ্ছেদ: ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- ৪৪ (১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। 
 - ৪৪ (২) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারবেন।

উল্লেখ্য,
- অনুচ্ছেদ ১০৩: আপীল বিভাগের এখতিয়ার।
- অনুচ্ছেদ ১০৫: আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা
- অনুচ্ছেদ ১০৮: "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬০২.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধরনের মালিকানা নীতির উল্লেখ নেই?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সমবায়
  3. রাষ্ট্রীয়
  4. গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানে গোষ্ঠী ধরনের মালিকানা নীতির উল্লেখ নেই।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. সমান কাজের জন্য সমান মজুরি
  3. আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমতা
  4. ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
- আইনের দৃষ্টিতে সমতা সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।
- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

অন্যদিকে,
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬০৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের উল্লেখ আছে?
  1. ৯১
  2. ৯৩
  3. ৯৬
  4. ৯৭
ব্যাখ্যা
বিচারপতি অপসারণ: সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত কাউন্সিল হচ্ছে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’।
বাংলাদেশ সংবিধানের — ৯৬ অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর দফায় বলা আছে,
"একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকবে, যা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলে উল্লিখিত হবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুজন কর্মে প্রবীণ তাঁদের নিয়ে গঠিত হবে।"

গঠন:
• সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী দুজন প্রবীণ বিচারপতি নিয়ে।
• যদি কোনো সদস্য অসামর্থ্য বা অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে পরবর্তী প্রবীণ বিচারক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

দায়িত্ব:
• বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
• বিচারকগণের আচরণ ও সামর্থ্য সংক্রান্তে তদন্ত করা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
৬০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৬৩নং
  2. ৭৫নং
  3. ৫২নং
  4. ৮১নং
ব্যাখ্যা
কোরাম:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সময়ে উপস্থিত সংসদ সংখ্যা ৬০ জনের কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাহলে তিনি অনূন্য ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৭
  2. অনুচ্ছেদ ৫৮
  3. অনুচ্ছেদ ৫৯
  4. অনুচ্ছেদ ৬০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'জরুরী-অবস্থা ঘোষণা' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪১
  2. অনুচ্ছেদ ১৪২
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ - সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?
  1. ৯৩ নং
  2. ৭২(১) নং
  3. ৫৫(৩) নং
  4. ৪৮ (১) নং
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- অধ্যাদেশ জারি করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানে মােট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে পঞ্চম ভাগে আইনসভা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- পঞ্চম ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৫৫(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬০৯.
জাতীয় সংসদে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. নিজের দলীয় নীতির বিপরীতে ভোট দেওয়া
  2. প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ না নেওয়া
  3. একাদিক্রমে ৯০ দিনের অধিক অনুপস্থিত থাকা
  4. দলীয় চিফ হুইপের নির্দেশ অমান্য করা
ব্যাখ্যা

• ফ্লোর ক্রসিং:
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ৷
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

» সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬১০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২৫
  2. অনুচ্ছেদ ২২
  3. অনুচ্ছেদ ২৪
  4. অনুচ্ছেদ ৩০
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ২৫(১) আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।

• দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। 
•  অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি,নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
- ২৫(১) জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র।
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬১১.
বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয়?
  1. ৫ বছর মেয়াদ অতিবাহিত হলে
  2. সংসদ-সদস্য না থাকলে
  3. রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করলে
  4. খ বা গ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ: ৫৭ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 
 
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন। 

(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।

• উল্লেখ্য,
- ৫৭ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ ৫ বৎসর বা এটা বলা হয় নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬১২.
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সংবিধানের কোন ভাগে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১ম ভাগে
  2. ২য় ভাগে
  3. ৩য় ভাগে
  4. ৪র্থ ভাগে
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম অনুচ্ছেদ থেকে ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এতে আরো বলা হয়েছে, উপরোক্ত চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

• জাতীয়তাবাদ
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি,(অনুচ্ছেদ ৯)।

• সমাজতন্ত্র
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য, (অনুচ্ছেদ ১০)।

• গণতন্ত্র
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, (অনুচ্ছেদ ১১)।

• ধর্মনিরপেক্ষতা
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান, (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে কয়টি তারকা থাকে?
  1. ৫ টি
  2. ৪ টি
  3. ৩ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম হচ্ছে লাল রঙের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপর দিকে লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের দু'পাশে দু'টি করে মোট চারটি তারকা।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার এ. এন. সাহা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১৪.
সংবিধানের কততম ভাগে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে?
  1. নবম ভাগ
  2. ষষ্ঠ ভাগ
  3. চতুর্থ ভাগ
  4. সপ্তম ভাগ
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
- সপ্তম ভাগের নিন্মলিখিত অনুচ্ছেদ গুলো রয়েছে যা নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সময় পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।
- ১১৮নং অনুিচ্ছেদে - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- ১১৯নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- ১২০নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- ১২১নং অনুিচ্ছেদে-  প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- ১২২নং অনুিচ্ছেদে-  ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- ১২৩নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- ১২৪নং অনুিচ্ছেদে- নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- ১২৫নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
- ১২৬নং অনুিচ্ছেদে-  নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

• সংবিধানের ভাগ মোট ১১টি।
• প্রতিটি ভাগে বিভিন্ন বিধান সংবলিত।
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ;
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন;
- অষ্টম ভাগ:মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবং নবম-(ক)জরুরী বিধানাবলী।
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন।
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬১৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ ‘সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া’ সম্পর্কিত?
  1. ৬৭ (১) নং
  2. ৬৯ নং
  3. ৬৮ নং
  4. ৭০ (১) নং
ব্যাখ্যা

সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি -
- (ক) তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বর্ধিত করতে পারবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভেঙে যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
- ৬৭ (২) নং অনুচ্ছেদ- কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬১৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. আইন সভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. স্থানীয় শাসন
ব্যাখ্যা
→ পঞ্চম ভাগে: আইনসভা।
- এর তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
- যথা: ১ম পরিচ্ছেদ: জাতীয় সংসদ।
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৬১৭.
জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২১(২)
  2. ১৯(৩)
  3. ২২
  4. ২৪
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সুযোগের সমতা ১৯(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন৷
- (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন৷
 - ১৯(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬১৮.
সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি কোন অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদে পেশ করতে হয়?
  1. ৮৯ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৮৭ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৬৫ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৬৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• ৮৭ নং অনুচ্ছেদ: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি 
-  (১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
- (২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে
- (ক) এই সংবিধানের দ্বারা বা অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
- (খ) সংযুক্ত তহবিল হইতে ব্যয় করা হইবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদর্শিত হইবে এবং অন্যান্য ব্যয় হইতে রাজস্বখাতের ব্যয় পৃথক করিয়া প্রদর্শিত হইবে।

অন্যদিকে,
৬৪ নং অনুচ্ছেদ হলো অ্যাটর্নি-জেনারেল  সম্পর্কিত।
৬৫ নং অনুচ্ছেদ হলো  সংসদ-প্রতিষ্ঠা।
৮৯ নং অনুচ্ছেদ হলো বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬১৯.
সংবিধানের ৩৭ নং অনুচ্ছেদে কী বর্ণিত রয়েছে? 
  1. চলাফেরার স্বাধীনতা
  2. সমাবেশের স্বাধীনতা
  3. সংগঠনের স্বাধীনতা
  4. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ-৩৭নং: সমাবেশের স্বাধীনতা। 
• সমাবেশের স্বাধীনতা:

- জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ-৩৫। বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ-৩৬। চলাফেরার স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৩৭। সমাবেশের স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ- ৩৯। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬২০.
অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা'র কথা বলা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৩নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৬নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৭নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ – অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা: 

রাষ্ট্র—
(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক ও বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য— কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

অন্যদেকে: 
- ১৩নং অনুচ্ছেদে মালিকানার নীতি।
- ১৫নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
- ১৬নং অনুচ্ছেদে পল্লী বিদ্যুতায়নের কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৬২১.
রাজধানী ছাড়া অন্য কোথাও হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে হলে কার অনুমতি প্রয়োজন?
  1. আইনমন্ত্রীর
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. স্পিকারের
  4. অ্যাটর্নি জেনারেলের
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০০ অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- তবে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি অন্য যেকোনো স্থান নির্ধারণ করে সেখানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে পারেন।

সুপ্রীম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

সূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ সংবিধান। 

৬২২.
নিচের কোন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হতে পারে না?
  1. দেউলিয়া ঘোষিত হলে
  2. বয়স ২৫ এর কম হলে
  3. বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

• জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা।
- ৬৬ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তার বয়স ২৫ বৎসর পূর্ণ হলে তিনি সংবিধানের ৬৬(২) নং অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন।

• ৬৬(২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হয়:
- উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হলে
- দেউলিয়া ঘোষিত হলে,
- বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলে।
- তবে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে বা পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবার যোগ্য বিবেচিত হবেন।
- নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে অন্যূন দুইবছরের জন্যে দণ্ডিত হয়ে মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত নাহলে
- ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী আদেশের অধীনে দণ্ডিত হলে
- রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬২৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে কয়টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]- শপথ ও ঘোষণা।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬২৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে, মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫৫ (৩)
  2. অনুচ্ছেদ ৬৩ (১)
  3. অনুচ্ছেদ: ৮৩
  4. অনুচ্ছেদ ৮৯ (৩)
ব্যাখ্যা
শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা বা শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ:
- জাতীয় সংসদ সার্বভৌম পার্লামেন্ট। সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভার প্রাধান্য সর্বত্র স্বীকৃত।
- সুতরাং জাতীয় সংসদের অন্যতম কাজ হলো নির্বাহী বিভাগ তথা মন্ত্রিসভাকে নিয়ন্ত্রণ করা।
- এখানে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে [অনুচ্ছেদ ৫৫ (৩)]।

⇒  মন্ত্রিসভা যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদের আস্থা ভোগ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমায় অধিষ্ঠিত থাকবেন।
- সংসদে সদস্যগণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও বিভিন্ন প্রকার প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে থাকেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- সংসদের প্রধান কাজ হলো সরকারের নীতি ও কার্যকলাপের সমালোচনা করা।
- সরকারি কর্মচারী নিয়োগ ও বরখাস্ত, চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি শাসন সংক্রান্ত কাজে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
- তবে সংসদের সম্মতি ব্যতীত নির্বাহী বিভাগ যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে না কিংবা বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে না [অনুচ্ছেদ ৬৩ (১)]।
- সংসদ মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও অন্যান্য প্রস্রাবের দ্বারা শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

অন্যদিকে,
- সংসদের অনুমতি ও কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো প্রাকর কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাবে না (অনুচ্ছেদ: ৮৩)।
- রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত কোনো বিল বা মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করা যায় না [অনুচ্ছেদ ৮৯ (৩)]।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৫.
'রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে' সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৫(২)
  3. অনুচ্ছেদ ৬(১)
  4. অনুচ্ছেদ ৬(২)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:

- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা' সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
- অনুচ্ছেদ ১ - প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৫(১) - অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ ৫(২) - অনুযায়ী রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অনুচ্ছেদ ৬ - নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৮ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬২৬.
প্রজাতন্ত্রের হিসাব-রক্ষার আকার ও পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১২৯নং অনুচ্ছেদ
  2. ১৩০নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৩১নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৩২নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১২৬ - নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।
- অনুচ্ছেদ ১২৭ - মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১২৮ - মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২৯ - মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩০ - অস্থায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক।
- অনুচ্ছেদ ১৩১ - প্রজাতন্ত্রের হিসাব-রক্ষার আকার ও পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩২ - সংসদে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্ট উপস্থাপন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৩ - নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৩৪ - কর্মের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৫ - অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৩৬ - কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৭ - কমিশন-প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬২৭.
সংবিধানের ৩৭নং অনুচ্ছেদে রয়েছে-
  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  2. চলাফেরার স্বাধীনতা
  3. আইনের আশ্রয়-লাভ
  4. সমাবেশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• ৩৭ নং সমাবেশের স্বাধীনতা  :
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে,  জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৬২৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সর্বদা নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সজ্ঞত সংগ্রামকে সমর্থন করার বিষয়ে উল্লেখ আছে?
  1. ২৭ (খ)
  2. ২৮ (খ)
  3. ২৫ (খ)
  4. ২৫ (গ)
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫(গ) নং অনুচ্ছেদে সর্বদা নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সজ্ঞত সংগ্রামকে সমর্থন করার বিষয়ে উল্লেখ আছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫:
-
আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৬২৯.
বাংলাদেশে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে "রাজনৈতিক দল" এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
  1. ১৪৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৫০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৫১ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৫২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৫২ নং অনুচ্ছেদ:
- 'রাজনৈতিক দল' বলিতে এমন একটি অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত, যে অধিসঙ্ঘ বা ব্যক্তিসমষ্টি সংসদের অভ্যন্তরে বা বাহিরে স্বাতন্ত্র্যসূচক কোন নামে কার্য করেন এবং কোন রাজনৈতিক মত প্রচারের বা কোন রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্যান্য অধিসঙ্ঘ হইতে পৃথক কোন অধিসঙ্ঘ হিসাবে নিজদিগকে প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৪৯নং অনুচ্ছেদে প্রচলিত আইনের হেফাজত সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৫০ নং অনুচ্ছেদে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৫১ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন আদেশ রহিতকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩০.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৯ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩১ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানে মৌলিক অধিকার: 
- অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), ৩৪ (২ ক) অনুযায়ী সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
- এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। 
- তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

অন্যদিকে, 
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, 
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা, 
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬৩১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন?
  1. ১৪১ নং
  2. ১৪২ নং
  3. ১৪৩ নং
  4. ১৪৪ নং
ব্যাখ্যা
জরুরী-অবস্থা ঘোষণা: 
- সংবিধানের ১৪১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা তার অংশবিশেষে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হবার বা সংকটের সম্মুখিন হলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- সংবিধানের ১৪১(ক), ১৪১(খ) ও ১৪১(গ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।
- সংবিধানে জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- তাই এরূপ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করে দিতে পারেন।

অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
- যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরিণ গোলযোগের দ্বারা বিপদ আসন্ন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হলে ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।
- রাষ্টপতি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- সংবিধানের ১৪৩ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি। 
- সংবিধানের ১৪৪ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়?
  1. ২৮ (১)
  2. ২৮ (২)
  3. ২৮ (৩)
  4. ২৮ (৪)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশে বিশেষ উদ্দেশ্যে মৌলিক অধিকার রহিত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
- সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'নারী ও শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এ অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।'

অন্যদিকে-
- সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বাসস্থান বা পেশাগত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
- সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। 
- সংবিধানের ২৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,  ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী- পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না’।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩৩.
সংসদ বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হলে তিনি তাতে কত দিনের মধ্যে সম্মতি দান করবেন?
  1. ১২
  2. ১৫
ব্যাখ্যা
-সংবিধানের ৮০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইন প্রণয়নের জন্যে সংসদে আনীত প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- সংসদ বিল গ্রহণ করলে তা সম্মতির জন্যে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হয়।
- সংসদ বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হলে তিনি তাতে ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দান করবেন।
- রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি ফেরত পাঠান, তাহলে সংসদ তা গ্রহণ করবে।
- পুনরায় তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে।

এছাড়াও

- তিনি তা ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দান না করলে, তাহলে উক্ত মেয়াদ শেষে তা তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রধান করছেন বলে গণ্য কারা হবে।
- বিলটি আিইনে পরিণত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৩৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয় ধরনের মালিকানার কথা উল্লেখ আছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে -
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩৫.
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন পরিস্থিতিতে এবং কত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান করতে বাধ্য?
  1. নির্বাচনের ২৫ দিনের মধ্যে; প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে
  2. নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে; সরকারী বিজ্ঞপ্তি দ্বারা
  3. নির্বাচনের ৩৫ দিনের মধ্যে; আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে
  4. নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে; প্রধান বিচারপতির পরামর্শে
ব্যাখ্যা

⇔সংসদের অধিবেশন:
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে সংসদ আহ্বান, স্থগিত অথবা ভেঙে দিতে পারেন।
- সংসদ কোথায় এবং কখন বসবে, তা সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি বা নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক করা হয়।
- একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের বেশি বিরতি রাখা যাবে না; অর্থাৎ সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির পর ৬০ দিনের মধ্যে আবার অধিবেশন ডাকতে হবে।
• সংবিধানের ৭২(২) ধারায় বলা আছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সরকারী বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সংসদ আহ্বান করা বাধ্যতামূলক।
• এছাড়া, ৭২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতি পূর্বেই সংসদ ভেঙে না দেন, তাহলে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ ভেঙে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৬৩৬.
বাংলাদেশ সংবিধানে কয়টি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানে ১১টি অধ্যায় রয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন। 
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৩৭.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে নিম্নের কোনটি একজন নাগরিকের কর্তব্য?
  1. সংবিধান ও আইন মান্য করা
  2. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
  3. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, একজন নাগরিকের কর্তব্য হলো -
i. সংবিধান ও আইন মান্য করা;
ii. শৃঙ্খলা রক্ষা করা;
iii. নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং
iv. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৩৮.
সংবিধানের ৬(২) অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণের জাতিগত পরিচয় কী?
  1. বাঙালী
  2. বাংলাদেশী
  3. বাংলা ভাষী
  4. বঙ্গবাসী
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।'

৬। নাগরিকত্ব:

(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে "বাঙালী" আর একজন নাগরিক হিসেবে তাঁরা "বাংলাদেশী" নামে পরিচিত হবেন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৬৩৯.
জরুরি অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণের বিধান কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৪১(ক)
  2. ১৪১(খ)
  3. ১৪১(গ)
  4. ১৪২(ক)
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৩৬ - কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন।
- অনুচ্ছেদ ১৩৭ - কমিশন-প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১৩৮ - সদস্য-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১৩৯ - পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৪০.
সরকারি কর্ম কমিশন কত অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৩৭
  4. অনুচ্ছেদ ১৩৮
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬৪১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে মালিকানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং
  2. ৪২ নং
  3. ৪০ নং
  4. ৪১ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
- সংবিধানের ৪২ নং অনুচ্ছেদ সম্পত্তির অধিকার কথা বলা হয়েছে।
- ৪২(১) আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর বা অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করিবার অধিকার থাকবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত বা দখল করা যাবে না।

অপরদিকে,
- সংবিধানের:
৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা;
৩৯। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা;
৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা;
৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা;
৪২। সম্পত্তির অধিকার;
৪৩। গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ;
৪৪। মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ;
৪৫। শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন;
৪৬। দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা;
৪৭। কতিপয় আইনের হেফাজত;
৪৭ক। সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৪২.
সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৭(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ৭(খ)
  4. অনুচ্ছেদ ১৫৩
ব্যাখ্যা

৭(ক): সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ:
[৭ক। (১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-
তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-
তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৪৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন বলবৎ থাকবে না?
  1. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার
- সংবিধানে সন্নিবেশিত অধিকারসমূহকে সাংবিধানিক অধিকার বলা যায়। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।
- এগুলো প্রকৃতিগতভাবে আইনগত অধিকার এবং সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য।
- এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে।

• সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।
⇒ ২৬ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল
- ২৬। (১) এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
- (২) রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
- [(৩) সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।]

উল্লেখ্য,
- মৌলিক অধিকারের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এগুলো নাগরিক ও রাজনৈতিক প্রকৃতির আইনগত অধিকার। এটি স্পষ্ট যে সকল মৌলিক অধিকারই আইনগত অধিকার কিন্তু সকল আইনগত অধিকার মৌলিক অধিকার নয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ শিরোনামে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে, যার মধ্যে ১৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণভাবে ‘মৌলিক চাহিদা’ হিসেবে পরিচিত।
- সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত এই অধিকারসমূহ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকারযোগ্য নয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান। 
ii) প্রথম আলো।

৬৪৪.
'অ্যাটর্নি জেনারেল' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৬৩ নং
  2. ৬৪ নং
  3. ৬৫ নং
  4. ৬৭ নং
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।
- ৬৪(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
- ৬৪(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
- ৬৪(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
- ৬৪(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।

এছাড়া,
অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ
অনুচ্ছেদ ৬৫ - সংসদ প্রতিষ্ঠা
অনুচ্ছেদ ৬৭ - সংসদের আসন শূন্য হওয়া

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  2. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  3. অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন
  4.  শপথ ও ঘোষণা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।
এগুলো হলো:

- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে প্রথম চারটি তফসিল ছিলো।
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল যুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৪৬.
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংবিধানের কোন তফসিলের বিষয়?
  1. দ্বিতীয় তফসিল
  2. চতুর্থ তফসিল
  3. পঞ্চম তফসিল
  4. তৃতীয় তফসিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান তফসিল:  
- সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৪৭.
বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় কোনটি?
  1. বাঙালী
  2. বাংলা
  3. বাংলাদেশী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নাগরিকত্ব:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। 
 - বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী।
- এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হবে।
- সংবিধানের ৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানে প্রথম ভাগ:
১। প্রজাতন্ত্র;
২। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;
২ক। রাষ্ট্রধর্ম;
৩। রাষ্ট্রভাষা;
৪। জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক;
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি;
৫। রাজধানী;
৬। নাগরিকত্ব;
৭। সংবিধানের প্রাধান্য;
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ;
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৪৮.
"প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে" বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এটি বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ১২১
  2. অনুচ্ছেদ - ১২২
  3. অনুচ্ছেদ - ১২৩
  4. অনুচ্ছেদ - ১২৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
১. প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের (দালাল আইন) অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে: 
- অনুচ্ছেদ - ১২১ : প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ - ১২৩ : নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ - ১২৪ : নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৪৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৫০.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২২নং
  2. ২৫নং
  3. ২০নং
  4. ২১নং
ব্যাখ্যা

• নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
⇒ ২২নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন৷

• সংবিধানের ২০নং অনুচ্ছেদ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম।
• সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
• সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদ - আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৫১.
সংবিধানের ৫২ ধারা অনুযায়ী, 'ইমপিচমেন্ট' দ্বারা কাকে অভিশংসন করা হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনমন্ত্রী
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
সংবিধানের "ইমপিচমেন্ট" (Impeachment) দ্বারা সাধারণত রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President):
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কে বলা আছে।
- ৫২ (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।
- ৫২ (২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবেন।
- ৫২ (৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকবে।
- ৫২ (৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
- ৫২ (৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫২.
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. স্পীকার
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  4. সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।
- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। 
- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি -
(ক) ৩৫ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।
- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ১-৭ অনুচ্ছেদ
  2. ২৬ -৪৭ অনুচ্ছেদ
  3. ৮ -২৫ অনুচ্ছেদ
  4. ৪৮ - ৬৪ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।

অন্যদিকে- 
- ১-৭ অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র।
- ৮ -২৫ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- ৪৮ - ৬৪ অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ।

উৎস: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৮ক নং
  2. ২২ নং
  3. ২৩ (ক) নং
  4. ২৪ নং
ব্যাখ্যা
উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি’ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- ২২ নং অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- ১৮ক নং অনুচ্ছেদ : পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৫.
সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য হতে হলে ন্যূনতম কত বছর রাষ্ট্রীয় কর্মে নিয়োজিত থাকতে হবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২৫ বছর
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৩৮- সদস্য-নিয়োগ:
(১) প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন: 
 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হইবেন, যাঁহারা কুড়ি বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। 
 
(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৬.
সকল নাগরিককে আইনের সমান অধিকার প্রদানের বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে?
  1. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• ২৭ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে বলা হয়েছে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।” অর্থাৎ, আইনের সামনে সকলের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
-১৯ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকদের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান অনুযায়ী, ধর্ম বা অন্য কোনো কারণে বৈষম্য করা যাবে না।
- ২৯ নং অনুচ্ছেদ: সরকারি নিয়োগ ও সুবিধা প্রাপ্তিতে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বশেষ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. রহিতকরণ
  2. প্রবর্তন
  3. ব্যাখ্যা
  4. পদের শপথ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:

- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৫৮.
বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করার পূর্বে কার অনুমোদন লাগবে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করার পূর্বে রাষ্ট্রপতির  অনুমোদন লাগবে। 

• সংবিধানের ৩০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: 
- রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হইতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করিবেন না। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬৫৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্র ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবে না?
  1. ২৮ (১) নং
  2. ২৮ (২) নং
  3. ২৮ (৩) নং
  4. ২৮ (৪) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- ২৮ (১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- ২৮ (২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
- ২৮ (৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
- ২৮ (৪) নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৬০.
’আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৯
  2. অনুচ্ছেদ-২৬
  3. অনুচ্ছেদ-২৭
  4. অনুচ্ছেদ-২৮
ব্যাখ্যা

- আইনের দৃষ্টিতে সমতা সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।
 - সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

 এছাড়াও
 - গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
 - ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস্য আইন বাতিল;
 - ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
 - ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
 - ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
 
 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৬১.
সংবিধানের প্রস্তাবনার চতুর্থ ভাগে কী ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  2. মূলনীতি গ্রহণ
  3. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৬২.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ২৫
ব্যাখ্যা

২৫নং অনুচ্ছেদ: 
- সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• ২৫৷ 1[***] জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
- (ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
- (খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
- (গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

অন্যদিকে,
- ২২নং অনুচ্ছেদ: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সংস্কৃতি।
- ২৪নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৬৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে?
  1. ৯৪ (১)
  2. ৯৫ (১)
  3. ৯৬ (১)
  4. ৯৭ (১)
ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

অন্যদিকে -
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। 
- সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, 'কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।'

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
         ii) ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, দৈনিক ইত্তেফাক।
        iii) বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৬৪.
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৬-২২ অনুচ্ছেদ
  2. ৬-২৫ অনুচ্ছেদ
  3. ৮-২৫ অনুচ্ছেদ
  4. ৮-২২ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতগুলো মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এ নীতিগুলো রাষ্ট্র শাসনের মূলসূত্র।
- মূল সংবিধানের 'দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৮ থেকে ২৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ।
- সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

⇒ জাতীয়তাবাদ:
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি,(অনুচ্ছেদ ৯)।

⇒ সমাজতন্ত্র:
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য, (অনুচ্ছেদ ১০)।

⇒ গণতন্ত্র:
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, (অনুচ্ছেদ ১১)।

⇒ ধর্মনিরপেক্ষতা:
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান, (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৫.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, যন ও বন্য প্রাণীর সরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে?
  1. ২৮
  2. ২৫
  3. ২৩ (ক)
  4. ১৮ (ক)
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব- বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮ক নং অনুচ্ছেদে 'পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' এর কথা বলা হয়েছে।
 
অন্যদিকে -
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে 'ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
- সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদে 'উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৬৬.
নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সম্পর্কিত সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ?
  1. ২০ নং
  2. ২২ নং
  3. ২৫ নং
  4. ২৬ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের অনুচ্ছেদঃ 
- ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সম্পর্কে বলা আছে। 
- অনুচ্ছেদ ২২৷ রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন৷

অন্যদিকে,
- ২০ নং অনুচ্ছেদে অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্মের কথা বলা আছে। 
- ২৫ নং অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা বলা আছে।
- ২৬ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল সম্পর্কে বলা আছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৬৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১৫৩ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৭০ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৪৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪২ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের দশম ভাগের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা বর্ণিত আছে।
- ১৪২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও -
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা
সংশোধিত হতে পারবে:

তবে শর্ত থাকে যে,
- অনুরুপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হক] ব বলে স্পষ্টরুপে উল্লেখ না থাকলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাবে না;
সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরুপ কোন বিলে সম্মতিদানের
জন্য তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে না;
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তা উপস্থাপিত হলে
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তা উপস্থাপিত হলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করবেন, এবং তিনি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

অপরদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ (১) এই সংবিধানকে "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান" বলিয়া উল্লেখ করা হইবে এবং ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে ইহা বলবৎ হইবে, যাহাকে এই সংবিধানে "সংবিধান-প্রবর্তন" বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে।
- ৪৮ নং অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি কথা বলা হয়েছে।
- ৭০ নং অনুচ্ছেদ:  রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৬৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি বর্ণিত আছে?
  1. ৮৭ নং
  2. ৮৮ নং
  3. ৮৯ নং
  4. ১১৭ নং
ব্যাখ্যা
-  সংবিধানের ৮৯ নং অনুচ্ছেদে বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি কথা বলা হয়েছে।
- ৮৯ (১) সংযুক্ত তহবিলের দায়যুক্ত ব্যয়-সম্পর্কিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ সংসদে আলোচনা করা হইবে,
- কিন্তু তাহা ভোটের আওতাভুক্ত হইবে না। 
- (২) অন্যান্য ব্যয়-সম্পর্কিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ মঞ্জুরী-দাবীর আকারে সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং কোন মঞ্জুরী-দাবীতে সম্মতিদানের বা সম্মতিদানে অস্বীকৃতির কিংবা মঞ্জুরী-দাবীতে নির্ধারিত অর্থ হ্রাস-সাপেক্ষে তাহাতে সম্মতিদানের ক্ষমতা সংসদের থাকিবে। 
- (৩) রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত কোন মঞ্জুরী দাবী করা যাইবে না।

উল্লেখ্য, 
৮৭। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
৮৮। সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।
৮৯। বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।
১১৭। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
৬৬৯.
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিল পাস হয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

• প্রথম সংশোধনী:
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকরের ৭ মাস পর ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই প্রথম সংশোধনী বিল পাস হয়।
- এই সংশোধন অনুযায়ী গণহত্যা কিংবা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আইন প্রণয়নের বিধান রাখা হয়।

অপরদিকে,
- দ্বিতীয় সংশোধনী: 
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়।
- মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• তৃতীয় সংশোধনী
- বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করে।
- এ হস্তান্তরের শর্ত ছিল ভারত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাবার জন্য বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডোর প্রদান করবে।
- ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী পাস হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান , আরিফ খান।

৬৭০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১১৯
  3. অনুচ্ছেদ ১২০
  4. অনুচ্ছেদ ১২১
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১৫ - অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ১১৬ - অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।
- অনুচ্ছেদ ১১৬(ক) - বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- অনুচ্ছেদ ১১৭ - প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।
- অনুচ্ছেদ ১২১ - প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ ১২২ - ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৩ - নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
- অনুচ্ছেদ ১২৪ - নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১২৫ - নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৭১.
বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগে রয়েছে- 
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. নির্বাচন
  3. কর্ম কমিশন 
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচনের কথা রয়েছে।
- সপ্তম ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমূহ: 
- অনুচ্ছেদ-১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ-১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদ-১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- অনুচ্ছেদ-১২২:ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।


• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৭২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে, বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৪(১) নং
  2. ৪(৩) নং
  3. ৪(৪) নং
  4. ৪(২) নং
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(২) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় ”পতাকা” সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৪) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৭৩.
’মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-১২ 
  2. অনুচ্ছেদ-১১ 
  3. অনুচ্ছেদ-১৩ 
  4. অনুচ্ছেদ-১০ 
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: 
- অনুচ্ছেদ-১১: প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১০। সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি;
- অনুচ্ছেদ-১১৷ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার;
- অনুচ্ছেদ-১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা;
- অনুচ্ছেদ-১৩৷ মালিকানার নীতি। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৭৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত ধরনের মালিকানার কথা বলা আছে?
  1. এক ধরনের
  2. দুই ধরনের
  3. তিন ধরনের
  4. চার ধরনের
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় - গণপরিষদের মাধ্যমে।
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মালিকানাগুলো হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
২. সমবায় মালিকানা
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা
  
অনুচ্ছেদ-১৩ অনুযায়ী: 
উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীর মালিক বা নিয়ন্ত্রক হবে জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা তিনভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
- প্রথমত, রাষ্ট্রীয় মালিকানা, এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র রাষ্ট্রায়ত্ত করা হবে, যাতে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্র মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দ্বিতীয়ত, সমবায় মালিকানা, এই আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়ের সদস্যদের পক্ষে মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে।
- তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত মালিকানা, এখানে আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা স্বীকৃত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৭৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'সরকারি কর্ম কমিশন' সম্পর্কিত আলোচনা কোন ভাগে রয়েছে?
  1. সপ্তম ভাগ
  2. অষ্টম ভাগ
  3. নবম ভাগ
  4. দশম ভাগ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের নবম ভাগে সরকারি কর্ম কমিশন উল্লেখ রয়েছে।
- অনুচ্ছেদ: ১৩৭ নং, সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- অনুচ্ছেদ: ১৩৮ নং, সরকারি কর্মকমিশন সদস্য-নিয়োগ,
- অনুচ্ছেদ: ১৩৯ নং, সরকারি কর্ম কমিশন পদের মেয়াদ,
- অনুচ্ছেদ: ১৪০ নং, সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব,
- অনুচ্ছেদ: ১৪১ নং, সরকারি কর্ম কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট,

অপরদিকে,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৭৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল বিষয়টি কত নং অনুচ্ছেদে সন্নিবেশ করা হয়েছে?
  1. ১১১ নং
  2. ১১৩ নং
  3. ১১৭ নং
  4. ১১৯ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদে ১১৭ নং অনুচ্ছেদে 'প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১১৭ (১) যা আগে বলা হয়েছে তা সত্ত্বেও, সংসদ আইনের মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলোর জন্য এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে:
- (ক) সংবিধানের নবম ভাগে উল্লেখিত বিষয় এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাকরির শর্ত, যেমন জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি।
- (খ) রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো উদ্যোগ বা সরকারি কর্তৃপক্ষের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, সেই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ বা কর্তৃপক্ষে চাকরি, কিংবা সরকারের মালিকানাধীন বা পরিচালিত সম্পত্তির ক্রয়, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন।
- (গ) সংবিধানের ১০২(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কোনো আইনের বিষয়।

⇒ ১১৭ (২) যদি এই অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, তবে সেই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত কোনো বিষয়ে অন্য কোনো আদালত কোনো মামলা গ্রহণ করবে না বা কোনো আদেশ দেবে না। তবে, সংসদ আইনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ব্যবস্থা করতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে। যথা:
১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৭৭.
জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত রয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৮ নং অনুছেদে
  4. ৩২ নং অনুছেদে
ব্যাখ্যা
• জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত রয়েছে সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে।

এই অনুচ্ছেদে বলা হয়:
'আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।'

অন্যদিকে,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদ: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- ৩৪ নং অনুচ্ছেদ:
(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারী অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনতঃ দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে।

- ২৮ নং অনুছেদ:
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎস: সংবিধান।
৬৭৮.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে কোন ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. বাক-স্বাধীনতা
  2. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা
  3. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৩৯(১) নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
- ৩৯(২) নং অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার; নিশ্চয়তা দান করা হইল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৭৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান মতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের মেয়াদকাল-
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৬৮০.
'সমাবেশের স্বাধীনতা' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৩৫নং
  2. ৩৭নং
  3. ৩৮নং
  4. ৩৯নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় ভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ : 
অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৮১.
"প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা" বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৭
  2. অনুচ্ছেদ-৫
  3. অনুচ্ছেদ-৩
  4. অনুচ্ছেদ-১৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মোট এগারটি ভাগ রয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা' সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
- অনুচ্ছেদ ১ - প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩ - রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪ - জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৫(১) - অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।
- অনুচ্ছেদ ৫(২) - অনুযায়ী রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অনুচ্ছেদ ৬ - নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৮ - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৮২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবার ন্যূনতম বয়স -
  1. ৩০ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৪০ বছর
  4. ৪৫ বছর
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবার ন্যূনতম বয়স - ৩৫ বছর।

• জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা।
- জাতীয় সংসদ সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে সংবিধানের পঞ্চম ভাগে।
- আইন অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হল এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- পূর্ণ মেয়াদে প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রচলিত আইন মেনে বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
- এই সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছর হতে হবে।
- প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৫ বছর হওয়ার শর্ত দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।

রাষ্ট্রপতি:
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
- রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকার দেবেন এবং এই সংবিধান এবং অন্য কোন আইন দ্বারা তার উপর অর্পিত ও আরোপিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না, পদ পরপর থাকুক বা না থাকুক।
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য হতে পারবেন না, এবং যদি সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পদে প্রবেশ করবেন সেদিন সংসদে তার আসন খালি করবেন।
- কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন যদি তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের কম হয়, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন।
- এই সংবিধানের অধীনে অভিশংসন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ-৪৮।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৩.
‘প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১১৬
  2. অনুচ্ছেদ- ১১৭
  3. অনুচ্ছেদ- ১১৮
  4. অনুচ্ছেদ- ১২১
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান: 
 - ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অনুচ্ছেদ-১১৭, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। 

• প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ: 
- অনুচ্ছেদ: ১১৭। (১) ইতঃপূর্বে যাহা বলা হইছে, তাহা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমুহ সম্পর্কে বা ক্ষেত্রসমুহ হইতে উদ্ভূত বিষয়াদির উপর এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করিতে পারবেনঃ

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ- ১১৫। অধস্তন আদালতে নিয়োগ;
- অনুচ্ছেদ-  ১১৬। অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা;
- অনুচ্ছেদ- ১১৬ক। বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- অনুচ্ছেদ-  ১১৮। নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা;
- অনুচ্ছেদ- ১১৯। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব;
- অনুচ্ছেদ- ১২০। নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ;
- অনুচ্ছেদ- ১২১। প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা;
- অনুচ্ছেদ- ১২২। ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা;

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

৬৮৪.
'রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি' সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৫০ নং
  2. ৫১ নং
  3. ৫২ নং
  4. ৫৩ নং
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ:
অনুচ্ছেদ ৪৮ -  রাষ্ট্রপতি।
অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫১ -  রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
অনুচ্ছেদ ৫২ -  রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
অনুচ্ছেদ ৬০ -স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ৬১ - সর্বাধিনায়কতা
অনুচ্ছেদ ৬২ - প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি
অনুচ্ছেদ ৬৩ - যুদ্ধ
অনুচ্ছেদ ৬৪ - অ্যাটর্ণি জেনারেল

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৮৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ‘গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা’ বিষয়টিকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ১৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৭
  3. অনুচ্ছেদ ১৮
  4. অনুচ্ছেদ ১৯
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদে ‘গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা’ বিষয়টিকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু: গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
- সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার জন্য গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ন, কৃষি বিপ্লব, এবং কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশসহ গ্রামাঞ্চলে আমূল রূপান্তরসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।" 

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : সুযোগের সমতা।
- সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৮৬.
সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২১নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি করমচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের কর্তব্য ৪টি।
১. আইন মান্য করা
২. নাগরিক দায়িত্ব পালন করা
৩. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
৪. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৮৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রিট আবেদন করা যায়?
  1. ১০১
  2. ১০২
  3. ১০৩
  4. ১০৪
ব্যাখ্যা

রিট:
- রিট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত আদেশ।
- রিট হল এমন এক আদেশ যার মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হত বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে।
- সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যে পিটিশন দায়ের করে, তা রিট পিটিশন নামে পরিচিত।
- সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট তা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যাচলোনাকে কার্যকর করতে পারে, যা হাইকোর্ট বিভাগের 'রিট এখতিয়ার' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের  ১০১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর যেরূপ আদি, আপীল ও অন্যপ্রকার এখতিয়ার ও ক্ষমতা অর্পিত হইয়াছে, উক্ত বিভাগের সেইরূপ এখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকিবে।

• ১০৩নং অনুচ্ছেদে- আপীল বিভাগের এখতিয়ার সমূহ বর্ণিত।

• ১০৪নং অনুচ্ছেদে- আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

৬৮৮.
'গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫'-প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার উৎস হলো সংবিধানের -
  1. অনুচ্ছেদ ১২(২)
  2. অনুচ্ছেদ ৯৩(১)
  3. অনুচ্ছেদ ৫০(১)
  4. অনুচ্ছেদ ১০১(৩)
ব্যাখ্যা

গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে 'গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ। এটি অধ্যাদেশ নম্বর- ৬৭। 
- গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫, সংবিধানের ৯৩(১) নং অনুচ্ছেদের অধীনে জারি করা হয়েছে।

⇒ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে এটি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে, তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেন। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশনে না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যা সংসদের আইনের মতোই কার্যকর। এই অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে পেশ করা হলে, সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে তা আইনে পরিণত হয় এবং অনুমোদিত না হলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (সাধারণত ৩০ দিন) পর এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

এছাড়া,
- ব্যালট বাক্স বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবরাহকৃত ব্যালট বাক্স ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
- তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরবরাহকৃত একই ব্যালট বাক্স গণভোটের ব্যালট বাক্স হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারবে।
- রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্স সরবরাহ করবেন।

উৎস: গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫। 

৬৮৯.
২২ নং অনুচ্ছেদের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
  2. মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল
  3. উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
  4. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২২৷ নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ:
রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে৷

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা:
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদলত 'সুপ্রিম কোর্ট' নামে অভিহিত হবে।
- আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্টে বিভাগ নিয়ে গঠিত এই সুপ্রিম কোর্ট শাসন বিভাগ থেকে কার্যকরভাবে পৃথক থাকবে।
- সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী অর্থাৎ প্রশাসনিক অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া,
- অনুচ্ছেদ ২৩।ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
- অনুচ্ছেদ ২৬: মৌলিক অধিকারের সাথে অসমঞ্জস আইন বাতিল

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সম্পত্তির অধিকার' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪০
  2. অনুচ্ছেদ ৪১
  3. অনুচ্ছেদ ৪২
  4. অনুচ্ছেদ ৪৩
ব্যাখ্যা
সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
- অনুচ্ছেদ ৪৬ - দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৭ - কতিপয় আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ৪৭(ক) - সংবিধানের কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা।
- অনুচ্ছেদ ৪৮ - রাষ্ট্রপতি।
- অনুচ্ছেদ ৪৯ - ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯১.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১
  2. অনুচ্ছেদ- ২
  3. অনুচ্ছেদে- ৪
  4. অনুচ্ছেদ- ৩
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ  : 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
অনুচ্ছেদ- ৩:  প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৯২.
’চলাফেরার স্বাধীনতা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
→ ৩৬ নং অনুচ্ছেদ চলাফেরার স্বাধীনতা কথা বলা হয়েছে।
• চলাফেরার স্বাধীনতা:

- সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা,
- এর যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

উল্লেখ্য,
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৬৯৩.
সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়?
  1. দ্বিতীয় তফসিল
  2. তৃতীয় তফসিল
  3. চতুর্থ তফসিল
  4. পঞ্চম তফসিল
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে চতুর্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়।
• বাংলাদেশে সংবিধান:
- মোট ৭টি তফসিল আছে।
এগুলো হলো- 
- প্রথম তফসিল - অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল - রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত)। 
- তৃতীয় তফসিল - শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল- ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী। 
- পঞ্চম তফসিল - বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল - বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল - মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৯৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা' কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪১
  2. অনুচ্ছেদ ৯
  3. অনুচ্ছেদ ৪২
  4. অনুচ্ছেদ ১২
ব্যাখ্যা
১২ নং অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা কথা বলা হয়েছে।

সংবিধান:
⇒ অনুচ্ছেদ - ১২: ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা,
- ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য,
(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,
বিলোপ করা হইবে।

অন্যদিকে -
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।
- ৪১ নং অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ৯ নং অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদের কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯৫.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশমতে সংসদের নিম্নকক্ষ হবে কত আসন বিশিষ্ট?
  1. ৩০০
  2. ৩৫০
  3. ৪০০
  4. ৫০০
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- এটি গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- এই কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- এতে মোট সদস্য- ৯ জন।

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- মূলনীতি: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন)।
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।

৬৯৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. ১১৭ নং
  2. ১১৫ নং
  3. ১১০ নং
  4. ১২০ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদের ১ এবং ২ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা সন্নিবেশিত হয়েছে।

⇒ বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বিচারবিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ভাগে মোট ৩টি পরিচ্ছদ রয়েছে।
- যথা:
• ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট [অনুচ্ছেদ: ৯৪ - ১১৩];
• ২য় পরিচ্ছেদ: অধস্তন আদালত [অনুচ্ছেদ: ১১৪ থেকে ১১৬];
• ৩য় পরিচ্ছেদ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল [অনুচ্ছেদ: ১১৭]।

অন্যদিকে,
- ১১০ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর।
- ১১৫ নং অনুচ্ছেদ: অধস্তন আদালতে নিয়োগ।
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬৯৭.
অ্যাটর্নি জেনারেলের কোথায় বক্তব্য পেশ করার অধিকার আছে?
  1. সংসদে
  2. শুধুমাত্র হাইকোর্টে
  3. শুধুমাত্র আপিল বিভাগে
  4. বাংলাদেশের সকল আদালতে
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ৬৪: অ্যাটর্নি জেনারেল:
(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
৬৯৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে নির্বাচন সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৫ম 
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম 
  4. ৮ম 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা তৈরি, ভোটগ্রহণ ত্তত্বাবধান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং নির্বাচনী অভিযোগ-মোকদ্দমা মীমাংসার লক্ষ্যে নির্বাচনী ট্রাইবুনাল গঠন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন সম্পর্কে বলা আছে

⇒ সংবিধানের ১২৬ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে’।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদে ১১৮ এর আওতায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৪ নং-এ  নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৯৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?
  1. ১১৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১২৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৩৬ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন: 
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের  পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট। 
বাংলাদেশের সংবিধান। 
৭০০.
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী?
  1. ৪৪ নং
  2. ৪৮ নং
  3. ৭২ নং
  4. ১০২ নং
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
• ৪৪ (১) নং নং অনুচ্ছেদ: এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হলো।

• ৪৪ (২) নং অনুচ্ছেদ: এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

উল্লেখ্য,
• কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:

⇒ অনুচ্ছেদ ১০২ নং: কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা-এর অধীনে বলা হয়েছে যে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি এই অনুচ্ছেদের অধীন সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন।
- সুতরাং, ৪৪ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে মামলা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে এবং তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা দায়ের করা যাবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।