বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও তফসিল

মোট প্রশ্ন৯৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও তফসিল

PrepBank · পাতা / ১০ · ১০১২০০ / ৯৩৬

১০১.
বাংলাদেশ সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণের কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ  ৭(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৭(২)
  3. অনুচ্ছেদ ৭(ক)
  4. অনুচ্ছেদ ৭(খ)
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

• সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।

• সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।

• সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১০২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে উল্লেখ আছে?
  1. ৭৫ অনুচ্ছেদ
  2. ৬৫ অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ অনুচ্ছেদ
  4. ৩৫ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা


• জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ'। জাতীয় সংসদ আইনবিভাগের একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান। সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়। আইনবিভাগ সরকারের একটি অংশ।

• আইন প্রণয়ন ক্ষমতা:
- সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নামে একটি আইনসভা থাকবে এবং এর ওপর প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ন্যস্ত হবে।
- সংবিধান অনুযায়ী সংসদ যে কোনো নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে পারে।
- সংসদ আইনের মাধ্যমে যে কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ প্রদান, বিধি, উপবিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দিতে পারে।
- সংসদ প্রণীত আইনে রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি প্রদান করবেন।

• সরকার গঠনবিষয়ক ক্ষমতা:
- সরকার গঠনে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সংসদের আস্থাভাজন ব্যক্তিই প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০৩.
বাংলাদেশ সংবিধান অনুসারে কোনটি নাগরিকের কর্তব্য নয়?
  1. আইন মান্য করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  4. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
নাগরিকের কর্তব্য
-  বাংলাদেশের নাগরিকত্ব মূলত ও প্রধাণত জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

- ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে নাগরিকের কর্তব্য ৪টি।
১. আইন মান্য করা।
২. নাগরিক দ্বায়িত্ব পালন করা।
৩. শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
৪. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা। 

- সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সকল লাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।
১০৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল কথা রয়েছে?
  1. ১৩৭নং
  2. ১২৭নং
  3. ৭৭নং
  4. ৬৪নং
ব্যাখ্যা
• ন্যায়পাল:
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল কথা উল্লেখ্য রয়েছে।
- ৭৭(১): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
- ৭৭(২): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়,
- সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করবে।
- ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
- (৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন।
- এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।

উল্লেখ্য
- কর্মকমিশন: ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে;
- মহা হিসাব নিরীক্ষক: ১২৭ নং অনুচ্ছেদে;
- রাষ্ট্রপতি: ৪৮ নং অনুচ্ছেদে।
- ৬৪ নং অ্যাটর্নি-জেনারেল।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১০৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৮১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৮৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৮০ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৯৩ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পীকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ামত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১০৬.
সংবিধানে প্রস্তাবনার প্রথম ভাগে কী ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
  3. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  4. মূলনীতি গ্রহণ
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১০৭.
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. মন্ত্রীপরিষদ
  4. সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদ এর হাতে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন:

৫২। (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাইতে পারিবে; ইহার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করিতে হইবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হইতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হইতে পারিবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকিলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করিবেন। 
(২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করিতে পারিবেন। 
(৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকিবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকিবে। 
(৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করিয়া সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করিলে প্রস্তাব গৃহীত হইবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে। 
(৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হইবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হইলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হইবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১০৮.
Which article of the constitution of Bangladesh guarantees that all citizens are equal before law?
  1. Article 17
  2. Article 47
  3. Article 31
  4. Article 11
  5. Article 27
ব্যাখ্যা
আইনের দৃষ্টিতে সমতা:
- সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।'
 
অন্যদিকে -
- ১১ নং অনুচ্ছেদে 'গণতন্ত্র ও মানবাধিকার' বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ৪৭ নং অনুচ্ছেদে কতিপয় আইনের হেফাজত বিষয়ে আইন বর্ণিত হয়েছে।
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১০৯.
সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য কী?
  1. পুঁজিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা
  2. রাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
  3. সাম্রাজ্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা
  4. শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চার মূল আদর্শ—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—ঘোষণা করা হয়েছে।
- এই প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- এ সমাজে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
- এর মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার প্রকাশ পায়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১১০.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন্‌ তফসিলে আছে?
  1. চতুর্থ তফসিল
  2. পঞ্চম তফসিল
  3. ষষ্ঠ তফসিল
  4. সপ্তম তফসিল
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে - ১১টি।
- তফসিল আছে - ৭টি; প্রস্তাবনা আছে ১টি এবং মূলনীতি আছে ৪টি।
----------------
সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট - ৭টি তফসিল ও এর বিষয়বস্তু -

প্রথম তফসিল:
অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।

দ্বিতীয় তফসিল:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।

তৃতীয় তফসিল:
শপথ ও ঘোষণা।

চতুর্থ তফসিল:
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

পঞ্চম তফসিল:
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।

ষষ্ঠ তফসিল:
২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা।

সপ্তম তফসিল:
মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান; বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিহাস - আরিফ খান ও বাংলাপিডিয়া।
১১১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘অধস্তন আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা’ বিষয়টি বর্ণিত আছে?
  1. ১১৪নং
  2. ৯৪নং
  3. ১০৮নং
  4. ১১৭নং
ব্যাখ্যা

→ সংবিধানের ১১৪নং অনুচ্ছেদ- ’‘অধস্তন আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা’ বিষয়টি বর্ণিত আছে।

অন্যদিকে,

• সংবিধানের ৯৪নং অনুচ্ছেদ- ’সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা’ সম্পর্কিত।
• সংবিধানের ১০৮নং অনুচ্ছেদ-  "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট সম্পর্কিত।
• সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদ- ’প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ’ সম্পর্কিত।


উৎস: সংবিধান।

১১২.
'কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারবেন না'-সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ৪৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ৫০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ৫৩ নং অনুচ্ছেদে
  4. ৫২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

'কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারবেন না'- এই বিধানটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(২) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ
⇒ ৫০(১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর মেয়াদে তাঁর পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
- তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

⇒ ৫০(২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- একাদিক্রমে হোক বা না হোক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবেন না।

⇒ ৫০(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি তার পদ ত্যাগ করতে পারবেন।

⇒ ৫০(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতিরূপে তাঁর কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।

অন্যদিকে,
- ৪৮ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- ৫৩ নং অনুচ্ছেদ: অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ। 
- ৫২ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১১৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৮ক
  4. অনুচ্ছেদ ১৯
ব্যাখ্যা
পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন:
-বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের বিধান: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন:
- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।\

- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন নিয়ে যে বিধান রয়েছে, তা আসলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ নাগরিকদের স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে।
- মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য এবং জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা, যাতে তারা সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বাস করতে পারে।

এছাড়াও,
অনুচ্ছেদ-১৬ এর বিধান → গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।
অনুচ্ছেদ-১৮ এর বিধান → জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা। 
অনুচ্ছেদ-১৯ এর বিধান→ সুযোগের সমতা।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১১৪.
‘মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা’ সম্পর্কে বলা আছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১৭নং
  2. ২৭নং
  3. ১৫নং
  4. ২০নং
ব্যাখ্যা

• ১৫ নং অনুচ্ছেদ ‘মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা’ সম্পর্কিত।

অন্যদিকে,
• ১৭নং অনুচ্ছেদ ‘অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা’ সম্পর্কিত।
• ২৭নং অনুচ্ছেদ ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ সম্পর্কিত।
• ২০নং অনুচ্ছেদ ’অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম’ সংবলিত।

১১৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আইন প্রণয়নকালে প্রয়োগ হবে
  2. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক সূত্র বলে গণ্য হবে
  3. রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে
  4. আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি:
সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদের বিধান মূলনীতিসমূহ:
(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।
(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না৷

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো 'আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে' কথাটি সঠিক নয়।

উল্লেখ্য,
সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে তা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে;
ক. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক সূত্র বলে গণ্য হবে;
খ. আইন প্রণয়নকালে প্রয়োগ হবে;
গ. সংবিধান ও অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রে এই নীতিগুলো দিশারী, নির্দেশক তথা মানদন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে; এবং
ঘ. রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হবে সব নীতি।

তথ্যসূত্র -i) বাংলাদেশের সংবিধান।
              ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে?
  1. ১৫৬টি 
  2. ১৫৩টি
  3. ১৫২টি
  4. ১৫১টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান:
- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:
- সংবিধানের ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- সংবিধানের ৭টি তফসিল রয়েছে।
- সংবিধান ১৭ বার সংশোধনী হয়েছে।
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১১৭.
"বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র" বলে উল্লেখ আছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ২
  3. অনুচ্ছেদ ৬
  4. অনুচ্ছেদ ৮
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:

- অনুচ্ছেদ ১: বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিতি।
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- অনুচ্ছেদ ৫: প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৮: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১১৮.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'অর্থ বিল' (Money Bill)-এর সংজ্ঞায় কোন ধরনের বিল অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা
  2. জরিমানা বা লাইসেন্স ফি
  3. সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ
  4. প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি
ব্যাখ্যা

অর্থবিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- সরকার যদি দেশের উন্নয়নের জন্য কোন ঋণ গ্রহণ করেন এবং এই সম্পর্কিত কোন বিল সংসদে উত্থাপন করেন তাহলে সেই বিলকে অর্থবিল বলে। 
- প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়। অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

⇒ ৮১ (১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলতে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝবে:
- (ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
- (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টি দান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
- (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
- (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
- (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
- (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

⇒ ৮১ (২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হয়েছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলে গণ্য হবে না।

⇒ ৮১ (৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁর নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১৯.
বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে ______ এবং নাগরিকগণ ______ হিসেবে পরিচিত হবেন।
  1. বাংলাদেশি, বাঙালি
  2. বাঙালি, বাংলাভাষী
  3. বাঙালি, বাংলাদেশি
  4. বাংলাভাষী, বাংলাদেশি
ব্যাখ্যা
নাগরিকত্ব:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।'
-বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদের বিধান: নাগরিকত্ব:
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে। 
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১২০.
বাংলাদেশ সংবিধানে ’মালিকানার নীতি’ কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৮ নং
  2. ১২ নং
  3. ১৩ নং
  4. ১৪ নং
ব্যাখ্যা
• মালিকানার নীতি সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে।

অন্যদিকে, 
৮৷ মূলনীতিসমূহ;
৯। জাতীয়তাবাদ;;
১০। সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি;
১১৷ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার;
১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা;
১৩৷ মালিকানার নীতি;
১৪৷ কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি;
১৫৷ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা;
১৬৷ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব;
১৭৷ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা;
১৮৷ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা;
১৮ক। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
১২১.
বাংলাদেশের সংবিধানে কত প্রকার মালিকানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তিন ধরণের মালিকানার কথা বলা আছে।
- সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মালিকানাগুলো হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
২. সমবায় মালিকানা
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা

• সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় গণপরিষদের মাধ্যমে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে। 
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১২২.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন তার বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে জমা দেয়?
  1. ১৩৮ নং 
  2. ১৩৯ নং 
  3. ১৪০ নং 
  4. ১৪১ নং 
ব্যাখ্যা

সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত ৫ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- এগুলো হলো: ১৩৭ - ১৪১ নং।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন তার বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে জমা দেয়।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ১৪১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে -
- প্রত্যেক কমিশনকে প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুর দিনে বা তার আগেই, আগের বছরের (৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) সব কাজকর্মের একটা রিপোর্ট তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে।
(২) এই রিপোর্টের সঙ্গে একটা ছোট নোট (মেমো) থাকবে, যেখানে লেখা থাকবে—
(ক) কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের পরামর্শ মানা হয়নি—সেইসব ক্ষেত্রগুলো কী ছিল এবং কেন মানা হলো না, তার কারণ;
(খ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু করা হয়নি—সেইসব ক্ষেত্রগুলো কী ছিল এবং কেন আলোচনা করা হলো না, তার কারণ;
কমিশন যতটা জানে, ততটা সব লিখে রাখবে।
(৩) যে বছর এই রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, সেই বছর ৩১ মার্চের পর সংসদের যে প্রথম বৈঠক হবে, সেখানে রাষ্ট্রপতি এই রিপোর্ট আর সেই নোটটা সংসদে উপস্থাপন করবেন।

অন্যদিকে,
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪০ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।

১২৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭২
  2. অনুচ্ছেদ ৭৫
  3. অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১২৪.
সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
  2. কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
  3. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  4. ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১৫ নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৫৷ রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার,
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার৷
 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২৫.
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কতটি বিভাগ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে।
১। হাইকোর্ট বিভাগ
২। আপিল বিভাগ।

• সুপ্রীম কোর্টের গঠন:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রীম কোট।
- সুপ্রীম কোর্টের প্রধান হল প্রধান বিচারপতি।
- এ আদালতের দু’টি বিভাগ রয়েছে যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন।
- প্রধান বিচারপতির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- বাংলাদেশী কোন নাগরিক ১০ বছর এডভোকেট হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকলে বা ১০ বছর বিচার বিভাগীয় কোন পদে চাকুরি করলে সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৬.
আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৩১ নং
  2. ৩২ নং
  3. ৩৩ নং
  4. ৩৪ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, 'গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ'।
- সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২৭.
রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে। - এটি সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ - ২৪
  2. অনুচ্ছেদ - ২৫
  3. অনুচ্ছেদ - ২৩ (ক)
  4. অনুচ্ছেদ - ২৩
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন:
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র-

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে৷

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ - ২৩: জাতীয় সংস্কৃতি
অনুচ্ছেদ - ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
অনুচ্ছেদ - ২৪: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২৮.
বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়- 
  1. ৩০ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
  2. ৩ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
  3. ১ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
  4. ২৭ নভেম্বর, ২০০৭ সালে 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- এটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) এবং অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
- কিন্তু স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রায় ৩৬ বছর পর ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে কার্যকর হয়।
- ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৭ জারি করে।
- এই অধ্যাদেশ ২০০৯ সালে আইনে রূপান্তরিত হয়।
- ১ নভেম্বর ২০০৭ থেকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শুধুমাত্র বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। - একই সময়ে, সিভিল সার্ভিসের প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ, লাইসেন্স প্রদান এবং ফৌজদারি কার্যক্রমে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
- এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।

উৎস:
১. পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট। 

১২৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ আছে?
  1. ১২৭ নং
  2. ১৩৭ নং
  3. ১৩৯ নং
  4. ১৪১ নং
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে 'সরকারি কর্ম কমিশন' গঠনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে।

 ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ: কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- ‘আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাইবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে, সেরূপ অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে প্রত্যেক কমিশন গঠিত হইবে’।

অন্যদিকে,
১২৭। মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
১৩৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি বা অন্য কোন সদস্য পদের মেয়াদ।
১৪১। বার্ষিক রিপোর্ট।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদে 'জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার' দেওয়া হয়েছে?
  1. ২৬ নং
  2. ২৮ নং
  3. ৩২ নং
  4. ৩৮ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
• আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: মৌলিক অধিকারের অসমঞ্জস আইন বাতিল।
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।
- সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: সংগঠনের স্বাধীনতা। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩১.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত হিসেবে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি গ্রহন করা হয়েছে?
  1. ৪(১) নং
  2. ৪(২) নং
  3. ৪(৩) নং
  4. ৪(৪) নং
ব্যাখ্যা
৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
৪(১): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা"র প্রথম দশ চরণ। 
৪(২) ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।’
৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের কথা বলা হয়েছে। 

জাতীয় সংগীত: 
- 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' এই গানটির প্রথম ১০ চরন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত।
- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে এটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহন করা হয়।
- ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে সরকারি ভাবে তা গৃহীত হয়।
- এটি প্রথম ১৯০৫ (১৩১২ বঙ্গাব্দ) সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই গানের সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এবং এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব রয়েছে।
- গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন সৈয়দ আলী আহসান

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩২.
বাংলাদেশের সংবিধানকে কতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত এবং গ্রন্থীত।
- সংবিধানের ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং একটি প্রস্তাবনাসহ ৭টি তফসিল রয়েছে।
- সংবিধানে সরকারের তিনটি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী যেমন- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, অ্যার্টনি জেনারেলসহ অন্যান্যদের ক্ষমতা, কার্যাবলি সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ক নং অনুচ্ছেদে 'আন্তর্জাতিক চুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১৪৫ক। নং অনুচ্ছেদ:
- বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে,
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে 'সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে 'বাংলাদেশের নামে মামলা' সম্পর্কে বলা হয়েছে। 
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩৪.
সংযুক্ত তহবিলের উপর ধার্য ব্যয় বলে উল্লিখিত বিষয়সমূহ সংবিধানের কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত-
  1. ৮৪
  2. ৮১
  3. ৮৮
  4. ৮৫
ব্যাখ্যা

৮৮নং অনুচ্ছেদ - সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় :

⇒ ৮৮নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে:

(ক) রাষ্ট্রপতিকে দেয় পারিশ্রমিক ও তাঁহার দপ্তর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়;
(খ) (অ) স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার, 
(আ) সুপ্রীম কোর্টের বিচারকগণ,
(ই) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
(ঈ) নির্বাচন কমিশনারগণ,
(উ) সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্যদিগকে দেয় পারিশ্রমিক;

 (গ) সংসদ, সুপ্রীম কোর্ট, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারী কর্ম কমিশনের কর্মচারীদিগকে দেয় পারিশ্রমিকসহ প্রশাসনিক ব্যয়;

 (ঘ) সুদ, পরিশোধ-তহবিলের দায়, মূলধন পরিশোধ বা তাহার ক্রম-পরিশোধ এবং ঋণসংগ্রহ-ব্যপদেশে ও সংযুক্ত তহবিলের জামানতে গৃহীত ঋণের মোচন-সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়সহ সরকারের ঋণ-সংক্রান্ত সকল দেনার দায়;

 (ঙ) কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রী বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন পরিমাণ অর্থ; এবং

 (চ) এই সংবিধান বা সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ দায়যুক্ত বলিয়া ঘোষিত অন্য যে কোন ব্যয়।

অন্যদিকে,
⇒ ৮৪নং অনুচ্ছেদ - সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- ৮৪ (১) সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল রাজস্ব, সরকার কর্তৃক সংগৃহীত সকল ঋণ এবং কোন ঋণ পরিশোধ হইতে সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল অর্থ একটি মাত্র তহবিলের অংশে পরিণত হইবে এবং তাহা "সংযুক্ত তহবিল" নামে অভিহিত হইবে। 
- ৮৪ (২) সরকার কর্তৃক বা সরকারের পক্ষে প্রাপ্ত অন্য সকল সরকারী অর্থ প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে জমা হইবে।

⇒ ৮১নং অনুচ্ছেদ -অর্থবিল সংক্রান্ত।

⇒ ৮৫নং অনুচ্ছেদ -সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত।
-  সরকারী অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষেত্রমত সংযুক্ত তহবিলে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার কিংবা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার এবং উপরি-উক্ত বিষয়সমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট বা আনুষঙ্গিক সকল বিষয় সংসদের আইন-দ্বারা এবং অনুরূপ আইনের বিধান না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

উৎস: সংবিধান।

১৩৫.
সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. জাতীয় সংস্কৃতি
  2. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
  3. সুযোগের সমতা
  4. মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জাতীয় সংস্কৃতি।

অন্যদিকে,
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৮ নং অনুচ্ছেদ।
’সুযোগের সমতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৯ নং অনুচ্ছেদ।
’মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা’ ১৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৩৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ১৪০(৩)
  2. ১৩৮(১)
  3. ১৩৫(১)
  4. ১২৫(৪)
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয় — ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ।

সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ:

অনুচ্ছেদ: ১৩৮(১)।
বিবরণ: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী - "প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন"।
সাম্প্রতিক ঘটনা: সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৪তম চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ও ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১৩৭.
’সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. ৭ক
  2. ৭খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান: 
৭ক অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।

• প্রথম ভাগে রয়েছে: 
১৷ প্রজাতন্ত্র;
২৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা;
২ক৷ রাষ্ট্রধর্ম;
৩৷ রাষ্ট্রভাষা;
৪৷ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক;
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি;
৫৷ রাজধানী;
৬৷ নাগরিকত্ব;
৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য;
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ;
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৩৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় -
  1. এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে
  2. দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে
  3. মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে
  4. উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে
ব্যাখ্যা

সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদের বিধান কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি:

- (১) এই সংবিধান-সাপেক্ষে
(ক) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা এবং অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত হইবে;
(খ) উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিবেন;
(গ) সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে, কেবল এই কারণে কিংবা সংসদে উপস্থিত হইবার বা ভোটদানের বা অন্য কোন উপায়ে কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন, কেবল এই কারণে সংসদের কোন কার্যধারা অবৈধ হইবে না।

- (২) সংসদের বৈঠক চলাকালে কোন সময়ে উপস্থিত সদস্য-সংখ্যা ষাটের কম বলিয়া যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাহা হইলে তিনি অন্যূন ষাট জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখিবেন কিংবা মুলতবী করিবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদের উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৫১নং অনুচ্ছেদ
  2. ৫৪নং অনুচ্ছেদ
  3. ৫৭নং অনুচ্ছেদ
  4. ৫৯নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৫০ - রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫১ - রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদে ৫২ - রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অনুচ্ছেদ ৫৩ - অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৪ - অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৫৫ - মন্ত্রিসভা।
- অনুচ্ছেদ ৫৬ - মন্ত্রিগণ।
- অনুচ্ছেদ ৫৭ - প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৮ - অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৫৯ - স্থানীয় শাসন।
- অনুচ্ছেদ ৬০ - স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৪০.
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament 
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

• জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪১.
সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখার ঘোষণা রয়েছে?
  1. ২য় ভাগে
  2. ৩য় ভাগে
  3. ৪র্থ ভাগে
  4. ৫ম ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম - গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য় - মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য় - শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ - সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
• ৫ম - গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪২.
”আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন” সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?
  1. ২৭নং
  2. ৩১নং
  3. ২৯নং
  4. ২৫নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।
• সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
• সংবিধানের ৩১নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার।
• সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু- সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৪৩.
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে?
  1. ৪০নং
  2. ২৪নং
  3. ৪১নং
  4. ১৭নং
ব্যাখ্যা
’ধর্মীয় স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করা হয়েছে সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদ বলে।

অন্যদিকে,
- ২৪ নং অনুচ্ছেদে, জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন নিদের্শনা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে ’অবৈতনিক ও বাদ্যতামূলক শিক্ষার’ কথা বলা হয়েছে।
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা  বিষয়ক ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৪৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে "রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন" বলা হয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ২৮(১) নং
  3. ২৮(২) নং
  4. ২৯ নং
  5. ৩৪ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে "রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন" বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,

• ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
• ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
• ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
• ২৮(৪)  নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না ।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২৭ নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
- অনুচ্ছেদ ২৯ নং: সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৪ নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১ম ভাগে
  2. ২য় ভাগে
  3. ৩য় ভাগে
  4. ৪র্থ ভাগে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- জনগণের মৌলিক অধিকারের উৎস হলো সংবিধান।
- সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের রক্ষক।
- সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং অধিকারের নিশ্চয়তার বিধান সন্নিবেশিত থাকে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানে তফসিল আছে ৭টি, সংবিধানে মূলনীতি আছে ৪টি, সংবিধানে প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র।
- ২য় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- ৪র্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৪৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. ৬৫ নং
  2. ৫৫ (৩) নং
  3. ৯৫ নং
  4. ৪৭ (৩) নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।

আইন বিভাগ:
- জবাবদিহিতা আইন বিভাগের প্রধান কাজ নয়।
- আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে বিস্তৃত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
- দেশের সংবিধান উল্লিখিত দুইটি ক্ষমতাই আইন সভাকে প্রদান করেছে।
- এক্ষেত্রে আইন সভা সংবিধান সংশোধনকল্পে বিভিন্ন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন বিভাগ এই কাজটি করে থাকে।
- এই বিভাগটি নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- সংবিধানের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
বাংলাদেশের ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেল কে? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. জনাব মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক
  2. জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান
  3. জনাব মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা
  4. জনাব মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের সম্মানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান। [ডিসেম্বর, ২০২৪]
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উৎস: i) এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১৪৮.
"সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ" - এই নীতি কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৭
  3. অনুচ্ছেদ ৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানে “সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” নীতি অনুচ্ছেদ ৭-এ বর্ণিত হয়েছে।

প্রজাতন্ত্র:
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র।
- প্রজাতন্ত্র অংশে অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী বলা হয় 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ'।

উল্লেখ্য,
- অনুচ্ছেদ ৭ (১) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
- অনুচ্ছেদ ৭ (২) অনুযায়ী জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসম হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার নিশ্চিত করেছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪২(২)
  2. অনুচ্ছেদ ৪৪(১)
  3. অনুচ্ছেদ ৪৪(২)
  4. অনুচ্ছেদ ৪৫(১)
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
-সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদের বিধান:মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
(১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। 
(২) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

অর্থাৎ বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৪(১) অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, 
- যখন কোন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, বা লঙ্ঘিত হওয়ার হুমকি থাকে, সে তার উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করতে পারে।
- উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, আদেশ বা রিট জারি করার ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগ-কে ১০২ অনুচ্ছেদে দেয়া হয়েছে।
- সুতরাং ৪৪ অনুচ্ছেদ মূলত একটি তত্ত্বগত বিধান যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
- অন্যদিকে, ১০২ অনুচ্ছেদ মূলত একটি পদ্ধতিগত বিষয়, যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণে হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা, রিট বা আদেশ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫০.
সংবিধানের ৫৫ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কে?
  1. স্পীকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. ডেপুটি স্পীকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা -
- ৫৫ (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবে, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
- ৫৫ (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।
- ৫৫ (৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন।
- ৫৫ (৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
- ৫৫ (৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হবে, রাষ্ট্রপতি তা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে তার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
- ৫৫ (৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫১.
সংসদ অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার কত দিন পর আবার অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের বিধান: সংসদের অধিবেশন:
(১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান , স্থগিত ও ভঙ্গ করবেন এবং সংসদ আহবানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। 

• সংবিধান:

- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫২.
‘অর্থ বিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলি বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদে-৮৩
  2. অনুচ্ছেদে-৮১
  3. অনুচ্ছেদে-৮২
  4. অনুচ্ছেদে-৮০
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সংবিধান: অনুচ্ছেদে-৮১: অর্থবিল।
- ৮১। (১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে:
 (ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
 (খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
 (গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
 (ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
 (ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
 (চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদে- ৮০। আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি;
- অনুচ্ছেদে- ৮২। আর্থিক ব্যবস্থাবলীর সুপারিশ;
- অনুচ্ছেদে- ৮৩। সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৫৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৯(১) নং
  2. ৩৯(২) নং
  3. ৩৮(১) নং
  4. ৪১(২) নং
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা:
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৫৪.
সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হলে সম্মতির জন্য তা কার নিকট পেশ করতে হবে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৮০ : আইন প্রণয়ন পদ্ধতি
- আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হবে। 
- সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হলে সম্মতির জন্য তা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হবে।
- রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে তিনি তাতে সম্মতিদান করবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে তার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ করলে সংসদে ফেরত দিতে পারবেন; এবং
- রাষ্ট্রপতি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদ শেষে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 
১৫৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করবেন? 
  1. ১৫ নং
  2. ১৭ নং
  3. ১৮ক নং
  4. ১৯ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করবেন।

⇒ ১৯ নং অনুচ্ছেদ:
- ১৯ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- ১৯ (৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- সংবিধানের ১৮ক নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৫৬.
'প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে'-সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এর উল্লেখ আছে?
  1. ১১ নং
  2. ১৭ নং
  3. ২১ নং 
  4. ২৭ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
- প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে৷

⇒ গণতন্ত্র:
- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- যেখানে মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং মানবসত্তার মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- রাষ্ট্রীয় সকল কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হবে।
- সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। 

অন্যদিকে -
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ২১ নং  অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশের নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো সংবিধান ও আইন মেনে চলা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।
- ২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।

১৫৭.
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে’- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১২০
  2. অনুচ্ছেদ ১২১
  3. অনুচ্ছেদ ১২৪
  4. অনুচ্ছেদ ১২৬
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৬-এ বর্ণিত আছে যে, "নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে"। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে তার কাজ সম্পন্ন করতে নির্বাহী বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করা রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। 

অনুচ্ছেদ ১২৬: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান:
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১২৪: নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা: এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণ, ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সংসদের যথাযথ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়সহ সংসদের নির্বাচন-সংক্রান্ত বা নির্বাচনের সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

- অনুচ্ছেদ ১২০: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ: এই ভাগের অধীন নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।

- অনুচ্ছেদ ১২১: প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা: সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করিয়া ভোটার-তালিকা থাকিবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে ভোটারদের বিন্যস্ত করিয়া কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাইবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৫৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ১৫
  2. ২৭
  3. ৩৭
  4. ৩৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।

⇒ ৩৯ নং অনুচ্ছেদ:
- (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।
- (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১৫ নং অনুচ্ছেদে 'মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সমাবেশের স্বাধীনতা। ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫৯.
"প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ"  সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এটি উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ১১ নং
  4. ১৩ নং
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে মালিকানার নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬০.
What is article 14 of the Bangladesh Constitution?
  1. Emancipation of peasants and workers
  2. Secularism and freedom of religion
  3. Free and compulsory education
  4. Protection and improvement of environment and biodiversity
  5. Socialism and freedom from exploitation
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ১৪ নং অনুচ্ছেদে 'কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য,
- ১৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে মেহনতী মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিককে-এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হতে মুক্তি দান করা। 
 
অন্যদিকে,
- সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- সংবিধানের ১৮ক নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু : পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬১.
’ন্যায়পাল’ সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়ছে?
  1. ৭০ নং
  2. ৭৫ নং
  3. ৭৭ নং
  4. ৮০ নং
ব্যাখ্যা
• ন্যায়পাল:
- সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল কথা উল্লেখ্য রয়েছে।
- ৭৭(১): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।
 - ৭৭(২): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়,
- সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করবে।
- ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
- (৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন।
- এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১৬২.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জনগণ
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
- সংবিধানের ৭ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসমঞ্জস হয়, তা হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ বিষয়ে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য বিষয়ে বলা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬৩.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় কবে?
  1. ১১ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১ নভেম্বর, ২০০৮
  3. ১ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ১ নভেম্বর, ২০০৯
ব্যাখ্যা
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে সাবেক জেলা জজ মাজদার হোসেন বিচারবিচাগ পৃথকীকরণের জন্যে হাইকোর্টে রিট করলে আপিল বিভাগ ১৯৯৯ সালে এর চূড়ান্ত রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করে।
- এর ভিত্তিতেই ১ নভেম্বর ২০০৭ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।
- এ দিন সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি কার্যকরের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।
- বর্তমানে অধস্তন আদালত সমূহে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জুডিশিয়াল সার্ভিস কাউন্সিল দেখভাল করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা। 
১৬৪.
প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত________ একটি ভরাট বৃত্ত।
  1. লালবর্ণের
  2. গোলাপীবর্ণের
  3. রক্তবর্ণের
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:

অনুচ্ছেদ ৪:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত হচ্ছে "আমার সোনার বাংলা"-র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সবুজ ক্ষেত্রের উপরে রক্তবর্ণের একটি গোলাকার চিহ্ন।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হচ্ছে উভয় পাশে ধান্যশীর্ষ বিশিষ্ট, জলাভিষিক্ত জাতীয় ফুল শাপলা, যার উপরে রয়েছে তিনটি পারস্পরিক সংযুক্ত পাটের পাতা এবং দুইপাশে দুটি করে তারকা।
(৪) উপরোক্ত বিষয়াবলী সাপেক্ষে, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কে বিধানাবলী আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৬নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩১নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৭নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৯নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে:
- ৩১নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং
- ২৯নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩৬নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৬
  2. অনুচ্ছেদ ৯৭
  3. অনুচ্ছেদ ৯৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬৭.
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা কত?
  1. ৬০ বছর
  2. ৬৩ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকদের পদের মেয়াদ: একজন বিচারপতি ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকেন।

প্রধান বিচারপতি:

- দেশের বর্তমান ও ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

⇒ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর। ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। সে হিসাবে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি অবসরে যাবেন।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৮(ক)
ব্যাখ্যা

◉ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-এ বলা হয়েছে—
“রাষ্ট্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

বাংলাদেশের সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি: রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬৯.
সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে নিম্নের কোনটি বর্ণিত হয়েছে?
  1. জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন
  2. জাতীয় সংস্কৃতি
  3. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
  4. নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন বর্ণিত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,

- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা,
- অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
- আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা,
এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র -

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি।
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১৭০.
নিম্নের কোনটি সংবিধানের মূলনীতি? 
  1. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  2. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
  3. ন্যায়পাল
  4. সমাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

⇒ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে। এগুলো হলো:
• জাতীয়তাবাদ:  মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।'
• সমাজতন্ত্র: মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।'
• গণতন্ত্র: সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
• ধর্ম নিরপেক্ষতা: সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার, কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা,, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
’প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে রয়েছে- 
  1. অনুচ্ছেদ- ৩
  2. অনুচ্ছেদ- ২
  3. অনুচ্ছেদ- ২(ক)
  4. অনুচ্ছেদ- ৪
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ : 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
→ অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৭২.
বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাচন
  4. নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।

⇒  সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম-ক ভাগ: জরুরী বিধানাবলী ও নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭৩.
সংবিধানের ৭৭নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু -
  1. ন্যায়পাল
  2. সংসদের অধিবেশন
  3. অর্থবিল
  4. আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৮১ - অর্থবিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭৪.
কোন বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের সময়সীমা কত দিন?
  1. ৩ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
আইন বিভাগে আলোচ্য সময়সূচি:
- পুনর্বিবেচিত বিল রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দিবেন।
- কোনো বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সময় ১৫ দিন।
- নির্বাচলের পর সংসদের অভিবেশন আহবান করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে।
- অধ্যাদেশকে অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন দিতে হবে।
- সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতিকাল সর্বোচ্চ ৬০ দিন।
- সংসদের অনুমতি ব্যতীত ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে সংসদপদ শূন্য হয়ে যাবে।
- নির্বাচিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে সংসদপদ শূন্য হয়ে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৭৫.
সংবিধানের কোন ভাগে 'নির্বাচন' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ষষ্ঠ ভাগে
  2. চতুর্থ ভাগে
  3. অষ্টম
  4. সপ্তম ভাগে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।

• সংবিধানের ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ,
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম-ক ভাগ: জরুরী বিধানাবলী ও নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ,
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন,
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪নং
  2. ৩নং
  3. ৫নং
  4. ১নং
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ: 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
• অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদে- ৫(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷ 

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৭৭.
’জরুরী অবস্থা ঘোষণা’ সংবিধানের কতনং অনুচ্ছেদে বর্ণিত?”
  1. ১৪১
  2. ১৪১(ক)
  3. ১৪১(খ)
  4. ১৪৪(গ)
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ১৪১(ক): জরুরী-অবস্থা ঘোষণা
(১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য  জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবে।
 
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।
 
(২) জরুরী-অবস্থার ঘোষণা 
- (ক) পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা যাইবে; 
- (খ) সংসদে উপস্থাপিত হইবে; 
- (গ) একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে কার্যকর থাকিবে না: 
 
- তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোন ঘোষণা জারী করা হয় কিংবা এই দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত এক শত কুড়ি দিনের মধ্যে সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে তাহা পুনর্গঠিত হইবার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে ঘোষণাটি অনুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ত্রিশ দিনের অবসানে অথবা একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে, যাহা আগে ঘটে,] অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকিবে না। 
 
(৩) যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হইবার পূর্বে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলিয়া জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।

অন্যদিকে,
১৪১(খ) অনুচ্ছেদ- ’জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ’ সম্পর্কিত।
১৪০ অনুচ্ছেদ-  ’বার্ষিক রিপোর্ট’ সংক্রান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৭৮.
ঢাকা পৌরসভা কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৬০৮ সালে
  2. ১৮৪০ সালে
  3. ১৮৬৪ সালে
  4. ১৮৬৮ সালে
ব্যাখ্যা

১৮৬৪ সালে ঢাকা পৌরসভা গঠিত হয়।

ঢাকা পৌরসভা:
- বুড়িগঙ্গা নদীতীরে অবস্থিত প্রায় সাতশত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বন্দর নগরী ঢাকা।
- মোঘল সমাট্র জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬০৮ সালে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বিশ্বব্যাপী এ নগরীর মর্যাদা ও গুরুত্ব বেড়ে যায়।
- ১৮৪০ সালে ‘ঢাকা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করেন।
- ১৮৬৪ সালের ১লা আগষ্ট ঢাকা পৌরসভা স্থাপিত হয়।
- ‘ঢাকা মিউনিসিপ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট’ বলে আগস্ট মাসে গঠন করা হয় ‘ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কমিটি’।
- ১৮৬৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে মিউনিসিপ্যালিটির সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা নগরীকে ৫০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা পৌরসভা গঠন করা হয়।
- ১৯৭৭ সালের ৩১ অক্টোবর কমিশনারদের মাধমে ঢাকা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাম পরিবর্তন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নামকরণ করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭৯.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ এর অধীন, রাষ্ট্রপতি কার কাছ থেকে উপদেষ্টামূলক মতামত গ্রহণ করতে পারেন?
  1. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ
  4. সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১০৬- সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:
যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

⇒ এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
যদি কোনো সময় রাষ্ট্রপতির মনে হয় যে, এমন কোনো আইনি প্রশ্ন উঠেছে বা উঠতে পারে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের জন্য তা জানা দরকার, তাহলে তিনি সেই প্রশ্নটি সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের কাছে পাঠাতে পারেন।
আপীল বিভাগ তখন সেই প্রশ্নটি নিয়ে বিস্তারিতভাবে শুনানি করবে এবং সবকিছু বিবেচনা করার পর নিজেদের মতামত রাষ্ট্রপতিকে জানাবে।

উল্লেখ্য,
এই মতামতটি পরামর্শমূলক, রাষ্ট্রপতি চাইলে তা মেনে চলতে পারেন, আবার নাও পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি রাষ্ট্রপতির কাজে আসে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮০.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের 'চলাফেরার স্বাধীনতা' কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৮ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৩৬ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৩৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

অন্যদিকে,
- ৩৪ অনুচ্ছেদ: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।
- ৩৭ অনুচ্ছেদ: সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ৩৮ অনুচ্ছেদ: সংগঠনের স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৮১.
সুপ্রিম কোর্টকে উপদেষ্টামূলক মতামত প্রদানের ক্ষমতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে? 
  1. ১০১নং
  2. ১০৯নং
  3. ১০৩নং
  4. ১০৬নং
ব্যাখ্যা

• ”সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার”-সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের ১০৬নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

⇒ ১০৬নং অনুচ্ছেদ অনুসারে- যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।
অন্যদিকে,
⇒ ১০১নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে- হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।
⇒ ১০৩নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে- আপীল বিভাগের এখতিয়ার
⇒ ১০৯নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে- আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৮২.
সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
  1. দেশের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা।
  2. বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
  3. বাংলা হবে আমাদের রাষ্ট্রভাষা।
  4. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। 

• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৩.
’জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৩১ 
  2. অনুচ্ছেদ-৩৫ 
  3. অনুচ্ছেদ-৩২
  4. অনুচ্ছেদ-৩০ 
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় ভাগ; মৌলিক অধিকার। 
- অনুচ্ছেদ-৩২ জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।

• কয়েকটি অনুচ্ছেদ:
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৮৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৫
  2. অনুচ্ছেদ ৯৬
  3. অনুচ্ছেদ ৯৭
  4. অনুচ্ছেদ ৯৮
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৫.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে কে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  4. পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
৬৩ নং অনুচ্ছেদ: যুদ্ধ;
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি সংসদের সম্মতি নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন।

⇒ সংবিধানের ৬৩(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদের সম্মতি ছাড়া কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না বা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না।
- রাষ্ট্রপতি যুদ্ধ ঘোষণা করেন, তবে তা অবশ্যই জাতীয় সংসদে সম্মতি সাপেক্ষে করতে হবে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. আইনসভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মোট ভাগ:
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে:
১. প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি রয়েছে।
৩. তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত।
৪. চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ বর্ণিত।
৫. পঞ্চম ভাগে আইনসভা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
৬. ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৭. সপ্তম ভাগে নির্বাচন ব্যবস্থা বর্ণিত।
৮. অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক বিধান রয়েছে।
৯. নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবং নবম-ক ভাগে জরুরী বিধানাবলী রয়েছে।
১০. দশম ভাগে সংবিধান সংশোধনের নিয়ম উল্লেখিত।
১১. একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব
  2. নির্দিষ্টকরণ আইন
  3. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
  4. সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:

- অনুচ্ছেদ ৮৩ - সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৮৪ - সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- অনুচ্ছেদ ৮৫ - সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ ৮৬ - প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
- অনুচ্ছেদ ৮৭ - বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৮ - সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।
- অনুচ্ছেদ ৮৯ - বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২ক
  2. ৪ নং
  3. ৩ নং
  4. ২ নং
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা' সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

• বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:
- অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম।
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৪ক: জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী।
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৪৪
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৬
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪২ - সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং তফসিল বর্তমানে বিলুপ্ত?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. চতুর্থ তফসিল
  4. ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল বর্তমানে বিলুপ্ত। 

বাংলাদেশের সংবিধান:

- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

• সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

৭টি তফসিল:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান - আরিফ খান।
১৯১.
বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখার ঘোষণা রয়েছে?
  1. ২য়
  2. ৩য়
  3. ৪র্থ
  4. ৫ম
ব্যাখ্যা

প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৯২.
‘প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের লক্ষ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১৮ (১) নং
  2. ১৯ (১) নং
  3. ১৯ (২) নং
  4. ২০ (১) নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১৯ (২) নং অনুচ্ছেদে '‘প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের লক্ষ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে’' সম্পর্কে বলা হয়েছে।

⇒ ১৯ নং অনুচ্ছেদ:
- ১৯ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ (১) নং: জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
- অনুচ্ছেদ ২০ (১) নং: কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯৩.
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে? 
  1. অনুচ্ছেদ-৩
  2. অনুচ্ছেদ-২
  3. অনুচ্ছেদ-১
  4. অনুচ্ছেদ-৪
ব্যাখ্যা

- ২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার কথা।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ -১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ - ৩: রাষ্ট্রভাষা।
- জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক এর কথা ৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদে বলা আছে - জাতির পিতার প্রতিকৃতির কথা।
- ৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৯৪.
’অর্থবিল’ সম্পর্কিত বিধানাবলী সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত?
  1. ৮০ নং
  2. ৮১(১) নং
  3. ৮৩ নং
  4. ৮০(২) নং
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদ অর্থবিল সম্পর্কিত।

• অর্থবিল:
৮১(১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে:
- কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ;
- সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন;
- সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হইতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ;
- সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ;
- সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা;
- উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়।

৮১(২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না।

৮১(৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁহার নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তাহা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি সম্পর্কিত।
- ৮০(০২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।

• সংবিধানের ৮৩ নং অনুচ্ছেদ, সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা সম্পর্কিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৯৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের বিষয়বস্তু-
  1. নির্বাচন
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা

- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,

• বাংলাদেশ সংবিধান:

- সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। যথা:-
- সংবিধানের প্রথম ভাগে: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগে: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ,
- তৃতীয় ভাগে: মৌলিক অধিকারসমূহ,
- চতুর্থ ভাগে: নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে: আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে: বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে: নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে: মহাহিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে: কর্ম কমিশন,
- দশম ভাগে: সংবিধান সংশোধন ও
- একাদশ ভাগে: বিবিধ বিষয়াবলি আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১৯৬.
জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের-  
  1. ৩১(২) নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৯(৩) নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৭(৪) নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশ সংবিধান:
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• অনুচ্ছেদ ১৯: সুযোগের সমতা।
- ১৯। (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবেন।
- ১৯ (২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
- ১৯ (৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৯৭.
সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  2. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা
  3. চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. সংগঠনের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।

• চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা সংবলিত অনুচ্ছেদ:
- ৩৯(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

- ৩৯(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৪০ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - চলাফেরার স্বাধীনতা।
সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - সংগঠনের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৯৮.
সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন কোন অনুচ্ছেদের আলোকে?
  1. ৬৩ নং
  2. ৪৮ নং
  3. ৫৬ নং
  4. ৭৩ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী:
- ৭৩ (১) রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন।
- ৭৩ (২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করবেন।
- ৭৩ (৩) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

অন্যদিকে,
- ৬৩ নং অনুচ্ছেদ: যুদ্ধ।
- ৪৮ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- .৫৬ নং অনুচ্ছেদ: মন্ত্রিগণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯৯.
সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার শর্তাবলী বর্ণিত আছে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে?
  1. ৬৭(১)
  2. ৭০
  3. ৭৩
  4. ৭৬
ব্যাখ্যা
• সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
৬৭। (১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি

(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।

অন্যদিকে,
- ৭০। রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- ৭৩। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- ৭৬। সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
২০০.
Article 2 of the Constitution of Bangladesh discusses which of the following issues?
  1. National anthem, flag and emblem
  2. The capital
  3. The territory of the Republic
  4. The state language
  5. The state religion
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ -
১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ, 
৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।