ব্যাখ্যা
অপশ্রুতি তিনভাবে হতে পারে। যথা :
— গুণ
— বৃদ্ধি
— সম্প্রসারণ।
উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭ / ২০ · ৬০১–৭০০ / ১,৯২৬
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
• অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
• 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
• সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
• স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
• ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- বংশধর অর্থে ‘অ’ প্রত্যয় যোগে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ
যদু + অ = যাদব
রঘু + রাঘব
মনু + অ = মানব
পুত্র + অ = পৌত্র
দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র।
- ভক্তি বা উপাসক অর্থেঃ
শিব + অ = শৈব।
শক্তি + অ = শাক্ত।
বুদ্ধ + অ = বৌদ্ধ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ধাতু ও ক্রিয়া বিভক্তি:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়:
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন 'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
- এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ + এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।
- সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'।
- অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮সংস্করণ)।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
~ গর > কর (ফারসি) : কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
~ দার (ফারসি) : তাবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
~ বাজ (দক্ষ অর্থে -ফারসি) : কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোকাবাজ, গলাবাজ + ই = গলাবাজি (বিশেষ্য) ।
~ বন্দি (বন্দ্-ফারসি) : জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
• বিশেষ নিয়মে সাধিত প্রকৃতি-প্রত্যয়:
- এ নিয়মে 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
√বচ্ + ক্তি = উক্তি,
√মুচ্ + ক্তি = মুক্তি,
√ভজ্ + ক্তি = ভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
- শ্রবণ সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এটি অনট্ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
যেমন- √শ্রু + অনট্ = শ্রবণ।
- বাকিগুলো বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
বাংলা ভাষায় প্রত্যয় ২ প্রকার।
যথা -
১. কৃৎ প্রত্যয় - ক্রিয়ার সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
২. তদ্ধিত প্রত্যয় - নাম বা শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
বি: দ্র: লিঙ্গভেদে ও বচনভেদে প্রত্যয়ের কোন প্রকার নাই।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।
• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্ + ক্ত=ছিন্ন,
- √জন্ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ-প্রত্যয়:
√গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি, √শক্ + ক্তি = শক্তি।
অন্যদিকে,
• 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভিজ্ + ক্তি = ভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ঃ
অ(অঙ্) + স্ত্রী প্রত্যয় যোগ -
শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা
√ব্যথ্ + অ + আ = ব্যথা
√কৃপ্ + অ + আ = কৃপা
সম্ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমী অভিধান থেকেঃ
শ্রদ্ধা (বিশেষ্য):
১. বিশেষ সম্মান; ভক্তি।
২. আস্থা; বিশ্বাস; নির্ভরতা।
৩. নিষ্ঠা; সশ্রদ্ধ ভক্তি।
৪. স্পৃহা; রুচি; আগ্রহ (খেতে শ্রদ্ধা না হওয়া)।
(তৎসম বা সংস্কৃত) শ্রৎ+√ধা+অ(অচ্)+আ(টাপ্)
• √শম্+ক্তি = শান্তি
বিশেষ নিয়মে সাধিত কৃৎ প্রত্যয় :
- ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যথা-
- √মন্+ক্তি = মতি,
- √রম্+ক্তি = রতি।
কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন
- √শ্রম্+ক্তি=শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম > ন হয়),
- √শম্+ক্তি = শান্তি।
নিপাতনে সিদ্ধ:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
- √শিক্ + ক্তি = শক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √বচ্ + ক্তি।
• 'ক্তি'-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে):
• বিশেষ নিয়ম:
- 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
- √বচ্+ক্তি = উক্তি,
- √মুচ্+ক্তি = মুক্তি,
- √ভজ্+ক্তি = ভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার।
যথা:
ক. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় ও
খ. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত নিয়মানুযায়ী ঐ ভাষার ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √ কৃ + তব্য = কর্তব্য;
- √ দৃশ্ + অন = দর্শন ইত্যাদি।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন :
- √ নাচ্ + অন = নাচন;
- √ ডুব্ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি, সপ্তম শ্রেণি।
• 'কারিগর' শব্দের - 'গর' ফারসি প্রত্যয়।
শব্দ বিশ্লেষণ: কারি + গর = কারিগর
অনুরূপভাবে,
বাজি+গর = বাজিগর>বাজিকর
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• 'পাঠক ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √পঠ্ + অক ।
এটি একটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়।
এরূপ আরো কিছু সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় এর উদাহরণ হলো-
- √কৃ + অক = কারক
- √নী + অক = নায়ক
- √শ্রু + অক = শ্রাবক
- √নৃৎ + অক= নর্তক
- √স্মৃ + অক = স্মারক
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√নাচ্ + অন্ত = নাচন্ত;
√ডুব্ + অন্ত = ডুবন্ত;
√চল্ + অন্ত = চলন্ত ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
-----------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• আ-প্রত্যয় (অবজ্ঞার্থে): চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• আই-প্রত্যয় ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে: বড় + আই = বড়াই, চড়া + আই = চড়াই।
• উক-প্রত্যয় বিশেষণ গঠনে: লাজ + উক = লাজুক, মিশ + উক = মিশুক, মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'দাতব্য' - কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- দা + তব্য।
অন্যান্য অপশন:
- 'মেঘলা' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- মেঘ + লা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
- 'পানসে' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- পানি + সে (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
- চারিত্রিক (তদ্ধিতান্ত শব্দ); 'চারিত্রিক' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-চরিত্র + ইক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-
চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
- দেখ্ + আ = দেখা,
- পড় + আ= পড়া,
- বল + আ = বলা।
এরূপ, ঘুমা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
সঠিক উত্তর: ঘ) হাসপাতাল।
---------
খ) হাসপাতাল:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি hospital শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি অবিকৃত বিদেশি শব্দ, যা কোনো প্রত্যয় যোগে গঠিত নয়।
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, প্রত্যয় হলো এমন শব্দাংশ যা কোনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বা ভাব পরিবর্তন করে।
অন্যান্য বিকল্প (প্রত্যয়যোগে গঠিত):
ক) বর্ধমান-
- √বৃধ্ (ধাতু) + মান (শানচ্) (প্রত্যয়) = বর্ধমান।
অর্থ: যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খ) দারোয়ান-
- দার + ওয়ান (প্রত্যয়) = দারোয়ান।
অর্থ: দারপাল, দ্বাররক্ষী।
গ) ঘরামি-
- ঘর + আমি (প্রত্যয়) = ঘরামি।
অর্থ: ঘর তৈরির মজুরি বা খরচ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'টান্' বিদেশি ধাতু।
-----------------
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়্, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।
• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: আঁট, খাট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ঠেল্।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'নেত্র' শব্দটি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• নেত্র (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ নী + ত্র।
অর্থ: চোখ, নয়ন।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আনা’ যোগে গঠিত শব্দ হলো:
যেমন:
- গরিব + আনা = গরিবানা;
- ঘর + আনা = ঘরানা;
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা;
- বিবি + আনা = বিবিআনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
- আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
- দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
- কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
- হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে ।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা (ইমন্ প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √চড়্ + ক = চড়ক,
- √নিন্দ্ + অক = নিন্দক,
- √মিশ + উক = মিশুক।
অন্যদিকে,
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মায়া + বইন = মায়াবী। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'ভ্রাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ ভ্রাম্য + শানচ্।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্ + ইন্ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্ + অনীয়'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কৃৎ-প্রত্যয়ের বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্ + ক্ত (পঠ্ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।
(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।
(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্ + ক্ত = হত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্য মধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
- যেমন: দেখ্ + আ = দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না।
- হার্ + আ = হারা; যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটাই চোর।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।