বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধাতু ও প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন১,৯২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধাতু ও প্রত্যয়

PrepBank · পাতা / ২০ · ৫০১৬০০ / ১,৯২৬

৫০১.
'ইন্' কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. জ্ঞানী
  2. মানী
  3. শ্রমী
  4. গুণী
ব্যাখ্যা
• ইন্-কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - √ শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
- ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়)।

অন্যদিকে,
‘ইন্’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানী।
• গুণ + ইন্ = গুণী।
• মান + ইন্ = মানী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০২.
'ভয়' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি হবে?
  1. ভী + অল্‌
  2. ভু + অয়
  3. ভ+ অয়
  4. ভূ + অয়
ব্যাখ্যা
• 'ভয়' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় √ভী + অল্‌। 

• অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে):
- √জি + অল্ = জয়,
- √ক্ষি + অল্ = ক্ষয়।
- এরূপ-ভয়, নিচয়, বিনয়, ভেদ, বিলয়।
- ব্যতিক্রম: √হন্ + অল্ = বধ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৩.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ?
  1. কাট্
  2. জান্
  3. কাঁদ
  4. গম্
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন- কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্, নাচ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)

৫০৪.
‘কার্য’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কা + য
  2. খ) √কৃ + য
  3. গ) √কৃ + র্য
  4. ঘ) √ক+ য
ব্যাখ্যা
এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) √কৃ + য (ণ্যৎ)}
য প্রত্যয় যুক্ত শব্দের উদাহরণ :
- বিদ্যা
- চর্যা
- শয্যা
- লভ্য
- কৃত্য
- সহ্য
- পেয়
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫০৫.
'ঝাঁকানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) ঝাঁক্‌+ইনি
  2. খ) ঝাঁক্‌+আনি
  3. গ) ঝাঁক্‌+এনি
  4. ঘ) ঝাঁক্‌+নি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- ঝাঁক্‌+আনি।

 আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে-
• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- জ্বাল্‌+আনি।
- ঝাঁকানি --- ঝাঁক্‌+আনি।
- শুনানি ---- শুন্‌+আনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৬.
‘জমানো’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে -
  1. জমান + ও
  2. জমা + ন
  3. জমা + নো
  4. জমা + আনো
ব্যাখ্যা
আন (আনো) প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে প্রযোজক ধাতু ও কর্মবাচ্যের ধাতুর পরে ‘আন/আনো’ প্রত্যয় হয় ।
- যেমন: 
- √চাল্‌ = আন = চালান/চালানো।
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √জমা + আনো = জমানো।

বি:দ্র: প্রশ্নে শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করার জন্য বলেছে। কিন্তু শব্দটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫০৭.
'জাত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জা + ক্ত
  2. √জন্‌ + ক্ত
  3. √জন্‌ + ক্তি
  4. √জন্‌ + ত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।

যেমন:
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত=ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৮.
"মায়াবী" শব্দটি কোন উপায়ে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. সন্ধি
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 
- তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী,
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী,
- মায়া + বিন্‌ = মায়াবী,
- যশঃ + বিন্‌ = যশস্বী,
- নীল + ইমন = নীলিমা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৯.
নিচের কোনটি মন্ত্রী শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়?
  1. √মন্ত্র + ঈ
  2. √মন্ত্র্‌ + ইন
  3. √মন্ত্র্‌ + ইন্
  4. √মন্ত্র্‌ + ঈ
ব্যাখ্যা

√মন্ত্র্‌ + ইন্ = মন্ত্রী। এটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এরূপ-
√কৃ + ত = কৃত,
√জন + ত = জাত,
√সৃজ্ + ত = সৃষ্ট,
√বচ্ + ত = উক্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ

৫১০.
'চলমান' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চল্ + শানচ্
  2. √চল্ + ষ্ণ্য
  3. √চল্ + মতুপ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
- শানচ্ - প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান। 
- √চল্ + শানচ্ = চলমান। 
- √বৃধ্ + শানচ্ = বর্ধমান। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫১১.
ধাতুর পর যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠিত হয় -
  1. আই
  2. আও
  3. অন্ত
  4. অন
ব্যাখ্যা
• ধাতুর পর যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠিত হয় - অন

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন-প্রত্যয়:
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন (কান্নার ভাব)।
এরূপ - নাচন, বাড়ন, ঝুলন, দোলন।

অন্যদিকে,
• ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয় = আই, আও-প্রত্যয়।
• বিশেষণ গঠনে ব্যবহৃত হয় = অন্ত-প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১২.
'ভাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ভ্রাম্য + মাণ
  2. √ ভ্রম্য + মান
  3. √ ভ্রমণ + ষ্ণ
  4. √ ভ্রাম্য + শানচ্‌
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'ভাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ ভ্রাম্য + শানচ্‌।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৩.
জাত শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √জন্ + ত/ক্ত
  2. খ) √জিন্ + ত/ক্ত
  3. গ) √জান্ + ত/ক্ত
  4. ঘ) √জনি + ত/ক্ত
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ত/ক্ত/ত্ত/ন্ত/দ্ধ/গ্ন/গ্ধ/প্ত/ন্ন/ব্ধ/ষ্ট থাকলে ত/ক্ত হবে এবং প্রত্যয় সাধিত শব্দটি বিশেষ্য/বিশেষণ হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
জাত = √জন্ + ত/ক্ত
হত = √হন্ + ত/ক্ত
কৃত = √কৃ + ত/ক্ত
ধৃত = √ধৃ + ত/ক্ত

উৎস: ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫১৪.
কোনটির সাথে প্রত্যয় যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয় হয়?
  1. ধাতু
  2. বলক
  3. বিভক্তি
  4. প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা

প্রাতিপদিক :
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। অর্থ্যাৎ, 'প্রাতিপদিক' এর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয় হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার।
যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৫.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) টেকসই
  2. খ) মানানসই
  3. গ) চলনসই
  4. ঘ) টিপসই
ব্যাখ্যা

'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়৷ এটি 'সহি' (অর্থ- স্বাক্ষর) থেকে উৎপন্ন।
টেকসই, জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই - ইত্যাদি শব্দগুলো 'সই' (মতো অর্থে) প্রত্যয়যোগে গঠিত।
'সই' একটি বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৬.
'বৈজ্ঞানিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. বিজ্ঞান + ষ্ণ্যক
  2. বিজ্ঞান + ষ্ণ্যিক
  3. বিজ্ঞান + ষ্ণীক
  4. বিজ্ঞান + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

• ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়যােগে সম্বন্ধ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়। যেমন-
- সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক,
- বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক,
- বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক,
- বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক,
- সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৭.
'মৌলিক ধাতু'র অপর নাম হিসেবে পরিচিত?
  1. সাধিত ধাতু
  2. নাম ধাতু
  3. স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু
  4. যৌগিক ধাতু
ব্যাখ্যা

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন:
- চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা - ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৮.
'প্রধান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. প্রধান + অন
  2. প্র + √ধা + অন
  3. √প্র + ধান
  4. √প্র + ধান + অ
ব্যাখ্যা
• প্রধান - 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয় - প্র + √ধা + অন।
 
অর্থ: 
- মুখ্য (প্রধান শিক্ষক)। 
- সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ; অগ্রে গণ্য।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫১৯.
প্রাতিপদিককে বলা হয় -
  1. ক্রিয়া প্রকৃতি
  2. ক্রিয়াবিভক্তি
  3. নাম প্রকৃতি
  4. নাম শব্দ
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২০.
'আকস্মিক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো-
  1. আকস্মাৎ + ইক
  2. অকস্মাৎ + ইক
  3. অকসমি + ইক
  4. আকস + মিক
ব্যাখ্যা
আকস্মিক একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
এর সঠিক  প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো- অকস্মাৎ + ইক 
'আকস্মিক' শব্দের অর্থ-
১.হঠাৎ ঘটেছে বা ঘটে এমন, অতর্কিত , অকস্মাৎ, অপ্রত্যাশিত 
২. অকারণ, অহেতুক 

উৎস : বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
৫২১.
'আদরার্থে' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দটিতে?
  1. ক) জেঠামি
  2. খ) পাগলামি
  3. গ) কানাই
  4. ঘ) মিঠাই
ব্যাখ্যা
• 'আদরার্থে' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে- 'কানাই' ( কানু + আই) শব্দটিতে।     

তাছাড়া, 
• জেঠামি ( জেঠা + আমি) শব্দটিতে 'নিন্দা জ্ঞাপনে' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।    
• 'পাগলামি' (পাগল + আমি) শব্দটিতে 'ভাব' অর্থে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।   
• 'মিঠাই' (মিঠা + আই) শব্দটিতে 'সমগুণবাচক' অর্থে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।    

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৫২২.
কোন শব্দটি 'পনা' প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) বেহায়াপনা
  2. খ) রান্না
  3. গ) কান্না
  4. ঘ) ডাক্তারখানা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে বেহায়াপনা শব্দটি 'পনা' প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে।
- এটি একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• 'পনা' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: 
- বেহায়া + পনা = বেহায়াপনা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।
- গিন্নি + পনা = গিন্নিপনা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।

• বাকি অপশনগুলো:
- রাঁধ + না = রান্না (কৃৎপ্রত্যয়)।
- কাঁধ + না = কান্না  (কৃৎপ্রত্যয়)।
- ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা (তদ্ধিতান্ত শব্দ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৩.
প্রত্যেয়বাচক শব্দের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) মায়ের
  2. খ) ঘুমাচ্ছন্ন
  3. গ) শোয়া
  4. ঘ) অতল
ব্যাখ্যা

মায়ের বিভক্তিযুক্ত (-য়ের) শব্দ,
ঘুমাচ্ছন্ন সন্ধিযুক্ত শব্দ,
শোয়া প্রত্যয়বাচক শব্দ [{(তৎসম বা সংস্কৃত) √শী>+ (বাংলা) আ}],
অতল বহুব্রীহি সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান

৫২৪.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কণ্টকিত
  2. পানসা
  3. কারিগর
  4. পাগলামি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

---------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- পানি + সা = পানসা>পানসে;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২৫.
'বর্ষীয়ান' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় করুন।
  1. ক) √বর্ষ + আ
  2. খ) √বর্ষীয় + আ
  3. গ) √বর্ষীয়্ + আ
  4. ঘ) √বৃদ্ধ + ঈয়স্
ব্যাখ্যা
ঈয়স্ > ঈয়ান্ প্রত্যয়যোগে গঠিত কিছু তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
√বৃদ্ধ + ঈয়স্ = বর্ষীয়ান, বলবৎ + ঈয়স্ = বলীয়ান, লঘু + ঈয়স্ = লঘীয়ান৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৫২৬.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) নয়ন
  2. খ) পাতলা
  3. গ) পান্তা
  4. ঘ) ধার্মিক
ব্যাখ্যা
নয়ন (বিশেষ্য):
১. নিয়ে যাওয়া।
২. পাইয়ে দেওয়া।
৩. যাপন; ক্ষেপণ।
৪.  চক্ষু; নেত্র; আঁখি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √নী + অন (ল্যুট্‌)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫২৭.
'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) প্রাণী
  2. খ) নারী
  3. গ) স্থায়ী
  4. ঘ) ছাত্রী
ব্যাখ্যা
'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ, স্থায়ী = স্থা+ঈ

'ঈ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ - 
প্রাণী = প্রাণ+ঈ 
নারী = নর+ঈ 
ছাত্রী = ছাত্র+ঈ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫২৮.
নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গতি
  2. মতি
  3. গীতি
  4. রতি
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ-প্রত্যয়:
√গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি, √শক্ + ক্তি = শক্তি।

অন্যদিকে, 
• ক্তি-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে) গম্+ক্তি=√গম্+তি = গতি (এখানে 'ম' লোপ হয়েছে)।
বিশেষ নিয়ম
• ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- মন্+ক্তি = মতি, √রম্+ক্তি = রতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫২৯.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) মুসাফিরখানা
  2. খ) বিবিয়ানা
  3. গ) চলনসই
  4. ঘ) গমন
ব্যাখ্যা
মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা, বিবি + আনা = বিবিয়ানা, চলন + সই = চলনসই ইত্যাদি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
√গম্ + অন্ (অনট্) = গমন হলো সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৫৩০.
উপজীবিকা অর্থে 'ইয়া> এ'-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বেলে
  2. নেয়ে
  3. খুনে
  4. জেলে
ব্যাখ্যা
ইয়া> এ-প্রত্যয়:
(ক) তৎকালীনতা বােঝাতে:
সেকাল + এ=সেকেলে,
একাল+এ=একেলে,
ভাদর +ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে (কইমাছ)।

(খ) উপকরণ বােঝাতে ;
পাথর পাথরিয়া> পাথুরে,
মাটি -মেটে,
বালি- বেলে

(গ) উপজীবিকা অর্থে:
জাল-জালিয়া>জেলে,
মােট-মুটে

(ঘ) নৈপুণ্য বােঝাতে:
খুন-খুনিয়া > খুনে,
দেমাক-দেমাকে,
না (নৌকা) - নাইয়া> নেয়ে

(ঙ) অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে:
টনটন - টনটনে (জ্ঞান),
কনকন - কনকনে (শীত),
গনগন - গনগনে (আগুন),
চকচক - চকচকে (জুতা)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৫৩১.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. হাসপাতাল
  3. আকাশছোঁয়া
  4. গুণমান
ব্যাখ্যা

• ডাক্তারখানা - শব্দটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, প্রত্যয় হলো এমন শব্দাংশ যা কোনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বা ভাব পরিবর্তন করে।

প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ডাক্তারখানা:
 এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত। ‘ডাক্তার’ শব্দটির সঙ্গে ‘-খানা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘ডাক্তারখানা’ গঠিত হয়েছে। ‘খানা’ একটি প্রত্যয়, যা স্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘ডাক্তারখানা’ মানে ডাক্তারের চিকিৎসার স্থান বা হাসপাতাল। এটি স্পষ্টভাবে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

খ) হাসপাতাল:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি hospital শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি সম্পূর্ণ শব্দ, যার কোনো অংশ বাংলায় প্রত্যয় হিসেবে যুক্ত হয়নি। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়।

গ) আকাশছোঁয়া:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘আকাশছোঁয়া’ একটি সমাসবদ্ধ শব্দ  এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত, প্রত্যয়ের মাধ্যমে নয়।

ঘ) গুণমান: এটি সঠিক শব্দ নয়। এর শুদ্ধ শব্দ হবে ‘গুণবান’।

তাই, ডাক্তারখানা শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩২.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. সই
  2. নীয়
  3. পনা
  4. বাজ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।
যথা-
- মনু + ষ্ণ = মানব।
- পরলোক + ফিক = পারলৌকিক।
- সুভগ+ ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।

এরূপ-
• নীয় (ঈয়)-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে:
- জল + নীয় = জলীয়,
- বায়ু + নীয় = বায়বীয়,
- বর্ষ + নীয় = বর্ষীয়।

অন্যদিকে, 
• সই, পনা  এবং বাজ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৩৩.
বিশেষ নিয়মে সাধিত কৃ্ৎ প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) উক্তি
  2. খ) শ্রবণ
  3. গ) লেখক
  4. ঘ) বুভুক্ষু
ব্যাখ্যা
নিয়ম অনুসারে গঠিত কৃৎ প্রত্যয় - গায়ক, গমন, খেলনা, বুভুক্ষু, শ্রবণ, লেখক, পাঠক, বর্ধমান ইত্যাদি। অপরদিকে বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু কৃৎ প্রত্যয় হলো- উক্তি, গত, পঠিত, ভক্তি, যুদ্ধ, যোদ্ধা, হত, সুখ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫৩৪.
বাংলা কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গায়ক
  2. ঝলক
  3. নায়ক
  4. লেখক
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঝলক

কৃৎ-প্রত্যয়: 
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- অক - প্রত্যয়: √মুড় + অক = মোড়ক, √ঝল্‌ + অক = ঝলক

সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
- ণক - প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে): √নী + ণক = নায়ক, √গৈ + ণক = গায়ক, √লিখ্‌ + ণক = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৫৩৫.
মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে 'আ' প্রত্যয় যোগে গঠিত হয় -
  1. কর্মবাচ্যের ধাতু
  2. ণিজন্ত ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
• গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
ক. নাম ধাতু, 
খ. প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতু, 
(গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

প্রযোজক ধাতু:
মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন -
→ কর্ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু); সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়।
→ পড় + আ = পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৬.
'ব্রতী' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ব্রত + ই
  2. ব্রত + ঈন
  3. ব্রতী + ন
  4. ব্রত + ইন্‌
ব্যাখ্যা
• 'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে — ব্রত + ইন্‌।

• ব্রতী (বিশেষণ):
- উচ্চারণ - ব্রোতি।
- সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: ব্রত + ইন্‌।
- অর্থ - ব্রতপালনকারী, ব্রতধারী, পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠাতা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৩৭.
কোনটি তদ্ধিতান্ত শব্দ?
  1. চালানো
  2. সলিল
  3. চড়ক
  4. সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা

- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে।
সুন্দর + য = সৌন্দর্য, তদ্ধিতান্ত শব্দ।

চালানো, সলিল, চড়ক কৃদন্ত শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।

৫৩৮.
'জটা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. বৃহদার্থে
  2. সদৃশ
  3. সমষ্টি
  4. স্বার্থ
ব্যাখ্যা
• 'জটা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় স্বার্থ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।

(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।

(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা > লোনা।

(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে)।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৯.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়জাত শব্দ?
  1. সলিল
  2. চলিষ্ণু
  3. স্থায়ী
  4. বেতানো
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
সলিল, চলিষ্ণু, স্থায়ী কৃৎ প্রত্যয়জাত শব্দ, কিন্তু বেতানো তদ্ধিত প্রত্যয়জাত শব্দ।
বেতনো = বেত + আনো।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)
৫৪০.
কোন শব্দটিতে বিদেশি প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) চালবাজ
  2. খ) কানকাটা
  3. গ) বেআক্কেল
  4. ঘ) দিগগজ
ব্যাখ্যা

ফারসি প্রত্যয়ঃ গর,দার,বাজ,বন্দি ইত্যাদি।
সুতরাং, এখানে 'চালবাজ' শব্দটিতে বিদেশি (ফারসি) 'বাজ' প্রত্যয় রয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪১.
সংস্কৃত ধাতু কোনটি?
  1. পঠ্‌
  2. কহ্
  3. নাচ্
  4. কাট্
ব্যাখ্যা

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্‌, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ, কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: ত্রুটি, খাট্, চেঁচু, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪২.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) হাত
  2. খ) কান
  3. গ) পেট
  4. ঘ) নাক
ব্যাখ্যা
• পেট দেশি শব্দ।

উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি। 

দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
হাত, কান, নাক তদ্ভব শব্দ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫৪৩.
সংস্কৃত কৃৎ -প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কারক
  2. খ) লিখিত
  3. গ) বেদনা
  4. ঘ) খেলনা
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ -প্রত্যয় সাধিত শব্দ খেলনা (√খেল+অনা = খেলনা)।
সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ কারক (√কৃ+অক)।
সূত্র: উচ্চতর স্বনির্ভর বিশুদ্ধ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, পৃঃ ২৯১-২৯২
৫৪৪.
'ন্যায্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ন্যা + য
  2. ন্যায় + য্য
  3. ন্যায় + য
  4. নেয় + য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
ন্যায্য (বিশেষণ)
প্রকৃতি - প্রত্যয়: ন্যায় + য।

অর্থ:
- ন্যায়সংগত,
- যুক্তিসংগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৪৫.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ-
  1. ক) বাড়িওয়ালা
  2. খ) জুতসই
  3. গ) দারোয়ান
  4. ঘ) মেঘলা
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দঃ
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।
• অপরদিকে, বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'লা' যোগে গঠিত শব্দঃ মেঘ + লা = মেঘলা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪৬.
'বাইশা' কী অর্থে ব্যবহৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সদৃশ অর্থে
  2. সমষ্টি অর্থে
  3. বৃহদার্থে
  4. অবজ্ঞার্থে
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
- অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
- বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
- সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
- 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
- সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
- স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৪৭.
'যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে' - বাক্যে 'খাটবে' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. প্রযোজক ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. বিদেশগাত ধাতু
  4. বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা

​বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।

​যেমন: 
খাট্ + বে = যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
→ বিগডু + আনো = তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
→ টান্ + আ = আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
→ জম্ + আট =  অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫৪৮.
প্রত্যয়ের কোন গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. √ঝল্ + অক = ঝলক
  2. √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি
  3. √মোড় + অক = মোড়ক
  4. √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত
ব্যাখ্যা
• 'অনি' (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি;
- √চির + অনি = চিরনি;

• 'অন্ত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
- √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

• 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √মুড় + অক = মোড়ক;
- √ঝল্ + অক = ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৪৯.
কোনটি 'ছিটা' এর আদিগণ?
  1. ঘুরা
  2. ধোয়া
  3. নাহা
  4. ফিরা
ব্যাখ্যা
• 'ছিটা' এর আদিগণ - ফিরা

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ শু - আদিগণ,
→ কর্‌ - আদিগণ,
→ কহ্‌ - আদিগণ,
→ ফিরা - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫০.
’ক্রেতা‘ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কী?
  1. √ক্রে + তৃচ্
  2. √ক্র + তৃচ্
  3. √ক্রী + তৃঢ়
  4. √ক্রী + তৃচ্
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- তৃচ্- প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।

যেমন-
√দা+তৃচ্ =√দা+তৃ = দা+তা = দাতা।
√ মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ্  = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
৫৫১.
বাংলা ভাষার ধাতুর গণ কয়টি?
  1. ১৮
  2. ১৯
  3. ২০
  4. ২১
ব্যাখ্যা
ধাতুর গণ:
- সুনীতিকুমার ও গোপাল হালদার 'মধ্য বাঙ্গালা ব্যাকরণ ও রচনা' গ্রন্থে বলেন, 'বাঙ্গালা ভাষায় 'সিদ্ধ, সাধিত' প্রভৃতি সকল প্রকারের ধাতুর সংখ্যা ১৫০০ বা উহার কিছই বেশি হইবে। এই ১৫০০ ধাতুর মধ্যে অনেকগুলি আবার আজকালকার বাঙ্গালায় লোপ পাইয়াছে বা পাইতাছে।'
- বাংলা সাধু ভাষার ধাতু-রূপে শ্রেণিবিভাগের অবকাশ নেই।
- দুই-এক জায়গায় চলিত ভাষার প্রভাবের ফলে অল্প একটু-আধটু পরিবর্তন দেখা যায়।
- কিন্তু সরসঙ্গতি, অপিনিহিতি, অভিশ্রুতি ইত্যাদির প্রভাবে চলিত বাংলার ধাতু-রূপে বেশ পরিবর্তন ঘটে।
- গণ শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- ধাতুর গণ বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- বাংলা ভাষায় সমস্ত ধাতুকে ২০টি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ হ - আদিগণ,
→ খা - আদিগণ,
→ দি - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫২.
‘দর্শনীয়’ শব্দটির মূল ধাতু বা প্রকৃতি কোনটি?
  1. দর্শন
  2. দৃশ্
  3. দর্শ
  4. দ্রশ্য
ব্যাখ্যা

• ‘দর্শনীয়’ শব্দটির মূল ধাতু বা প্রকৃতি - দৃশ্
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।

প্রকৃতি- প্রত্যয়:

- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৩.
'বাঁচোয়া' শব্দটি কোন ধরনের প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বাংলা তদ্ধিত-প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-ওয়া': বিশেষণ শব্দ গঠন করে। যেমন:
- √বাঁচ্ + ওয়া = বাঁচোয়া,
- √লাগ্ + ওয়া = লাগোয়া ইত্যাদি।

------------------
এরূপ কিছু বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় হলো:
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-উক' প্রসারে-উকা: কর্তৃবাচ্যে করতে 'অভ্যস্ত' অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √মিশ্ + উক্ = মিশুক,
- √খা + উকা  = খাউকা > খেকো ইত্যাদি।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় '-উয়া > –ও': কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √খা + উয়া = খাউয়া, 
- √পড় + উয়া = পড়ুয়া,
- √উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫৪.
'যোদ্ধা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ যুধ্‌ + তৃচ
  2. √ যুধ্‌ + আ
  3. √ জিত + ধা
  4. √যুদ্ধ্‌ + তৃচ
ব্যাখ্যা

• 'যোদ্ধা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ যুধ্‌ + তৃচ।
- এটি তৃচ প্রত্যয়ের একটি বিশেষ নিয়ম।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্‌-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে):
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন -
→ √দা + তৃচ্ = √দা + তৃ = √দা + তা = দাতা,
→ মা + তৃচ্ = মাতা,
→ √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।
বিশেষ নিয়মে: √যুধ্‌ + তৃচ = √যুধ্‌ + তা = যোদ্ধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৫৫.
নিচের কোনটি ফারসি প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ নয়?
  1. ক) হিন্দুস্তান
  2. খ) খাঁজাখোর
  3. গ) ছাপাখানা
  4. ঘ) দয়াবান
ব্যাখ্যা
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো হলো: 
স্তান, খানা, খোর, বাজ, গর, বন্দি, তর, সই, গিরি, চি, দারি, নবিশ।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৫৫৬.
সংস্কৃত ধাতু কোনটি?
  1. জান্‌
  2. গঠ্‌
  3. কাঁদ্‌
  4. কাট্‌
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু - গঠ্‌।
 
• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।
 
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ্‌, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।
 
সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, খাদ্‌ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৭.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ক) আত্মজা
  2. খ) উজান
  3. গ) কৃষক
  4. ঘ) ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
আত্মজা, উজান, কৃষক- শব্দগুলো কৃৎ প্রত্যয় সাধিত। 
অন্যদিকে, ঐচ্ছিক শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত। 

ঐচ্ছিক= ইচ্ছা+ উক; এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
আত্মজা= আত্মন্‌ +√জন্‌ +আ; এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
উজান= √উজা+ আনো; এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
কৃষক= √কৃষ্+ অক; এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫৮.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. চোর + আই = চোরাই
  2. থাল + আ = থালা
  3. পেট + উক = পেটুক
  4. কুসুম + ইত = কুসুমিত
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: থাল + আ = থালা, চোর + আই = চোরাই।
• পেট + উক = পেটুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৯.
বাংলা ব্যাকরণে লুপ্ত প্রত্যয় বলা হয় কোনটিকে?
ব্যাখ্যা
• '-অ' প্রত্যয়:
'-অ' এটি লুপ্ত প্রত্যয়। ধাতুর পরে এই প্রত্যয় যোগে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- ঝুল্ + অ = ঝুল,
- দুল্ + অ = দুল,
- বাঁধ + অ = বাঁধ,
- ডাক্ + অ = ডাক,
- খেল্ + অ = খেল।

এরূপ- ধরপাকড়, কাটছাঁট, মারপিট ইত্যাদি।

• এই অ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে কখনো ধাতুর আদ্য-স্বরের পরিবর্তন হয়।
যথা:
- খুঁজ্ + অ = খোঁজ,
- ঘির্ + অ = ঘের,
- ফুডু + অ = ফোঁড় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬০.
নিচের কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়? 
  1. চোরাই
  2. বিবিয়ানা 
  3. থালা
  4. পুষ্পিত  
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- বিবিয়ানা। 
--------------------------
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

- বাংলা শব্দসম্ভারে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের দুই রকম ব্যবহার দেখা যায়-
১. বিদেশি শব্দ + বিদেশি প্রত্যয় = বিদেশি শব্দ।
- উদাহরণ-
- মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা,
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা। 

২. বাংলা বা সংস্কৃত শব্দ + বিদেশি প্রত্যয় = মিশ্র শব্দ।
- উদাহরণ-
- চলন + সই = চলনসই,
- অংশী + দার = অংশীদার।  
-------------------------
অন্যদিকে,
- চোরাই ও থালা- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
- পুষ্পিত- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫৬১.
'ধোঁকাবাজ' শব্দের 'বাজ' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
• বাজ (দক্ষ অর্থে)- কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ। 
• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
• সই: (মতো অর্থে) - জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।

-----------------
বিশেষ তথ্য:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬২.
নিচের কোন শব্দটি '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. রাক্ষসী
  2. হিমানী
  3. শূদ্রানী
  4. বাঘিনী
ব্যাখ্যা

শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
→ রাক্ষস-রাক্ষসী,
→ ছাত্র-ছাত্রী,
→ তরুণ-তরুণী,
→ দাস-দাসী,
→ নর-নারী,
→ পাত্র-পাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- হিম-হিমানী, 
- শূদ্র-শূদ্রানী,
- বাঘ - বাঘিনী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬৩.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ঘাটাল
  2. জমকালো
  3. মাতাল
  4. রসালো
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মাতাল (মাত্‌ + আল)।
- এটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘাটাল (ঘাট+ আল)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জমকালো (জমক + আলো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - রসালো (রস + আলো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৪.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বোমারু
  2. পঙ্কিল
  3. ক্রেতা
  4. দাপট
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √ ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বোমারু (বোমা + আরু)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - দাপট (দাপ + অট)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - পঙ্কিল (পঙ্ক + ইল)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৫.
ভাব অর্থে 'আমি' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) ইতরামি
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) ঘরামি
  4. ঘ) ঠকামি
ব্যাখ্যা

ইতর + আমি = ইতরামি (ভাব অর্থে)
জেঠা + আমি = জেঠামি (নিন্দা জ্ঞাপন)
ঘর + আমি = ঘরামি (বৃত্তি অর্থে)
ঠক + আমি = ঠকামি (বৃত্তি অর্থে)
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৫৬৬.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় যোগে ‍গঠিত শব্দ?
  1. চোরাই
  2. শারীরিক
  3. কবিত্ব
  4. নেত্র
ব্যাখ্যা
⇒ নেত্র (বিশেষ্য),
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (√নী + ত্র)।
- অর্থ: চক্ষু; চোখ; নয়ন।   

অন্যদিকে,
• ‘ত্ব’ তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে: কবি + ত্ব = কবিত্ব।
• শরীর + ইক = শারীরিক।
• চোর + আই = চোরাই।

---------------------------
⇒ কৃৎ-প্রত্যয়:  
• ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন; 
- (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি, আর;
- (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।  
যেমন:
• চল্‌ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
• চল্‌ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)=চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
• ‘প্রকৃতি’ কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৬৭.
তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
  1. মুক্ত
  2. কবিত্ব
  3. দাতব্য
  4. জ্ঞাত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ত্ব’ তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• কবি + ত্ব = কবিত্ব।
এরূপ- সতী + ত্ব = সতীত্ব।

অন্যদিকে,
⇒ ‘ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো-
• √মুচ্ + ত = মুক্ত;
• √জ্ঞা +ত = জ্ঞাত।

⇒ ‘তব্য’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √দা + তব্য = দাতব্য;
• √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫৬৮.
'খোকা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) তদ্ভব শব্দ
  2. খ) বিদেশি শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
- 'খোকা' দেশি ভাষার শব্দ।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
- কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপ, ডাব, ডাগর, ডিঙা, ঢেঁকি, কুঁড়ি, খুকি, পোকা, কানা, কামড় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬৯.
প্রাতিপদিকের সঙ্গে কোন শব্দের সম্পর্ক বিদ্যমান ?
  1. ক) ক্রিয়াবাচক শব্দ
  2. খ) বিশেষণবাচক শব্দ
  3. গ) সর্বনামবাচক শব্দ
  4. ঘ) নামবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
প্রাতিপদিক :
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭০.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) মস্তক
  2. খ) লতা
  3. গ) নারী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে অপশনের সবগুলো তৎসম শব্দ।

• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিতরূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের।

• নিচে তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো:
- চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নারী, নর, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭১.
নিম্নের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) পানি
  2. খ) পান্তা
  3. গ) পাউরুটি
  4. ঘ) পাল্‌কি
ব্যাখ্যা
পানি (পানি) 
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। 
- বিশেষ্য শব্দ 
অর্থ - জল, বারি 

অন্যদিকে, পান্তা = দেশি শব্দ 
                পাউরুটি = পর্তুগিজ শব্দ 
                পাল্‌কি = হিন্দি শব্দ 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৭২.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. মার
  2. মরমর
  3. মিঠাই
  4. খাওন
ব্যাখ্যা

• বাংলা ”আই-তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ :
- ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে: বড়+আই = বড়াই, চড়া +আই = চড়াই।
- আদরার্থে: কানু+আই-কানাই, নিম+আই = নিমাই।
- স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে বোন+আই = বোনাই, ননদ-নন্দাই, জেঠা-জেঠাই (মা)।
- সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে মিঠা+আই = মিঠাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা+আই = ঢাকাই (জামদানি),।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
√মার+অ = মার।
√মর্+অ = মরমর।
√খা+অন = খাওন,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭৩.
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, হ, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে কোন নতুন ধাতু গঠিত হয়?
  1. সংযোগমূলক ধাতু
  2. নাম ধাতু
  3. প্রযোজক ধাতু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, হ, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা-ই সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য পদ) + কর্ (ধাতু) = ‘যোগ কর’ (সংযোগমূলক ধাতু)।

এরূপ-
• ভয় কর্‌, লজ্জা কর্‌, জলদি কর্‌।
• বড় হ, ছোট হ, ভালো হ।
• উত্তর দে, টাকা দে।
• সাঁতার কাট্‌, জিভ কাট্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৪.
'গায়ক' শব্দের প্রকৃতি কোনটি?
  1. গৈ + ণক
  2. গৈ
  3. গৈ + অক
  4. ণক
ব্যাখ্যা

• 'গায়ক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো √গৈ + অক/ণক। এখানে মূল প্রকৃতি হলো 'গৈ' (ধাতু) এবং এর সাথে 'অক' (ণিচ/কৃৎ) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গায়ক শব্দটি গঠিত হয়েছে।

-----------------
• সংস্কৃত 'ণক' প্রত্যয়যোগে - গায়ক শব্দটি গঠিত। 
- ‘গায়ক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- 'গৈ + ণক/অক'। 
- এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

এখানে,
'গৈ' হলো- প্রকৃতি এবং 'ণক'/ অক' - প্রত্যয়।

এরূপভাবে, 
- √ পঠ্‌ + ণক = পাঠক। 
- √ নী + ণক > নৈ + অক = নায়ক। 
- √ গৈ + ণক = গায়ক। 

উল্লেখ্য,
নতুন ব্যাকরণ অনুসারে, গায়ক শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় আছে- '√ গৈ + অক'। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭৫.
'নিন্দা' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ -
  1. ইতরামি
  2. কুঁজো
  3. চোরা
  4. জেঠামি
ব্যাখ্যা
• 'নিন্দা' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জেঠা - জেঠামি

অন্যদিকে,
• 'ভাব' অর্থে = ইতর - ইতরামি।
• বিশেষণ গঠনে = কুঁজ - কুঁজো।
• 'অবজ্ঞা' অর্থে = চোর - চোরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৬.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) লাগোয়া
  2. খ) ঝলক
  3. গ) চামার
  4. ঘ) ঘাটতি
ব্যাখ্যা
‘র’ তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য গঠন করে। যেমন- চামা + র = চামার, মধু+র = মধুর এবং মুখ+র = মুখর। অন্যদিকে, লাগোয়া (লাগ+উয়া), ঝলক (ঝ্‌ল+অক) এবং ঘাটতি (ঘাট্‌+তি) শব্দগুলো কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫৭৭.
কোন শব্দের প্রত্যয় অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কনকনে
  2. খুনে
  3. দখনে
  4. ধেনো
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ইয়া > এ-প্রত্যয়:
(ক) তৎকালীনতা বোঝাতে: সেকাল + এ = সেকেলে, একাল + এ = একেলে, ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে (কইমাছ)।
(খ) উপকরণ বোঝাতে: পাথর - পাথরিয়া > পাথুরে, মাটি - মেটে, বালি - বেলে।
(গ) উপজীবিকা অর্থে: জাল - জালিয়া > জেলে, মোট - মুটে।
(ঘ) নৈপুণ্য বোঝাতে: খুন - খুনিয়া > খুনে, দেমাক - দেমাকে, না (নৌকা) - নাইয়া > নেয়ে।
(ঙ) অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে: টনটন - টনটনে (জ্ঞান), কনকন - কনকনে (শীত), গনগন - গনগনে (আগুন), চকচক - চকচকে (জুতা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৮.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. চোরাই
  2. সেবায়েত
  3. জ্বালানি
  4. ডাকাত
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।

যেমন:
- থাল + আ = থালা,
- চোর + আই = চোরাই।

অন্যদিকে,
কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - √ডাক্ + আইত = ডাকাইত > ডাকাত, √জ্বাল্ + আনি = জ্বালানি, √সের্ + আইত = সেবাইত > সেবায়েত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭৯.
'সে ঘুমাচ্ছে' বাক্যে 'ঘুমা' কোন ধাতু?
  1. প্রযোজক ধাতু
  2. কর্মবাচ্যের ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. কর্তৃবাচ্যের ধাতু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পর ‘আ’ প্রত্যয়যোগে যে সব ধাতু গঠিত হয়, তা-ই নামধাতু।

যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে।
[বাক্যে ঘুম থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’ হয়েছে।]

অন্যদিকে,
প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন:
- কর্‌ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
বাক্য: সে নিজে চুরি করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।

কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যরে ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্যমধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যেমন:
- হার্‌ + আ = হারা;
বাক্য: যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৮০.
'বর্ষীয়ান' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বৃদ্ধ +ঈয়স
  2. খ) বর্ষ + ইয়ান
  3. গ) বর্ষ + ইয়ন
  4. ঘ) বৃদ্ধ + ইয়স
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বর্ষীয়ান' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'বৃদ্ধ +ঈয়স'। 

• 'বর্ষীয়ান' এর অর্থ- প্রবীণ ও অভিজ্ঞ।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৮১.
কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উড়ন্ত
  2. চোরাই
  3. ঝলক
  4. মিশাল
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- চোর + আই = চোরাই।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:

• আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়।
যেমন:
√জানা + আন = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি।

• আও-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আও' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
√পাকড় + আও = পাকড়াও;
√চড্ + আও = চড়াও।

• 'অনি' (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√বাঁধ + অনি = ব্যাঁধনি;
√চির + অনি = চিরনি।

• 'অন্ত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
√ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

• 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√মুড় + অক = মোড়ক;
√ঝিল্ + অক = ঝলক

• আল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
√মাত্ + আল = মাতাল;
√মিশ্ + আল = মিশাল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৮২.
'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?' - এই বাক্যে 'হের' কোন ধাতু?
  1. অজ্ঞাতমূল ধাতু
  2. প্রযোজক ধাতু
  3. কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
অজ্ঞাতমূল ধাতু:
- কতগুলো ক্রিয়ামূল বা ধাতু রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন।
- এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন:
- হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?
- উপরোক্ত বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায়নি।
- তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

অন্যদিকে,
সংযোগমূলক ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
- যোগ(বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর'(সংযোগমূলোক ধাতু।
বাক্য:
- তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ করো।

কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যরে ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্যমধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যেমন:
- হার্‌ + আ = হারা;
বাক্য: যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন:
- কর্‌ + আ = করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
বাক্য: সে নিজে চুরি করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৩.
কোনটি শূণ্য প্রত্যয়ের শব্দ?
  1. ক) হত
  2. খ) ভয়
  3. গ) জয়
  4. ঘ) ঘুর
ব্যাখ্যা

ঘুর শব্দটির সাথে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়নি। বরং এটি মূলধাতু। তাই সঠিক উত্তর ঘুর।
‘হন’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √হন্ + ক্ত
‘জয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √জি + অল
‘ভয়’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় √ভী + অল
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

৫৮৪.
'পূজক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পূজ্‌ + অক
  2. √পুজ্‌ + নক
  3. √পূজ্‌ + ওক
  4. √পুজ্‌ + ণক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পূজক' এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে:
- √পূজ্‌ + অক।
- এটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

-------------------------
• 'পূজক' (বিশেষণ পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূজ্‌ + অক।
অর্থ:
- আরাধক,
- উপাসক,
- অর্চক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৮৫.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ?
  1. খাট্
  2. খাদ্
  3. ফির্
  4. কহ্
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ-খাদ্।

• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ভিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৬.
'টানাটানি' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. বিদেশি ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।
যেমন:
খাট্ + বে = খাটবে যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
বিগডু + আনো: তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
টান্ + আ: আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
জম্ + আট = জমাট অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৮৭.
'দগ্ধ' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দহ্ + গ্ধ
  2. √দহ্ + ক্ত
  3. √দগ্‌ + ক্ত
  4. √দগ্‌ + ধ 
ব্যাখ্যা

সূত্র: ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত (খ্যা+ত) = খ্যাত।

• ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √দহ্ + ক্ত = দগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৮৮.
'ত্যাগ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ত্যচ্ + ঘঞ্
  2. √ ত্যাছ্ + ঘঞ্
  3. √ ত্যাজ্‌ + ঘঞ্
  4. √ ত্যজ্‌ + ঘঞ্‌
ব্যাখ্যা
•  'ত্যাগ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: √ ত্যজ্‌ + ঘঞ্‌। 

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৯.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ছোঁয়াচ 
  2. কানাই 
  3. নর্তক
  4. পোয়াত 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• অক (ণক) সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
বিশেষ্য (কর্তৃপদ) গঠন করে। 
 যেমন:
- √ নী + অক = নায়ক, 
- √ বহ্ + অক = বাহক,
- √ নিন্দ + অক = নিন্দক, 
- √ হিস্‌ + অক = হিংসক, 
- √ নৃৎ + অক = নর্তক। 

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ-
• ছোঁয়া + আচ = ছোঁয়াচ,
• কান + আই = কানাই,
• পো + আত = পোয়াত।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৯০.
‘তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।’- বাক্যে ‘পড়া’ কোন ধাতু?
  1. ক) কর্মবাচ্যের ধাতু
  2. খ) প্রযোজক ধাতু
  3. গ) সংযোগমূলক ধাতু
  4. ঘ) বিদেশি ধাতু
ব্যাখ্যা
• ‘তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন’- এখানে পড়া প্রযোজক ধাতু।

⇒ সাধিত ধাতু: 
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে সাধিত ধাতু গঠিত হয়। আবার যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকেও সাধিত ধাতু বলা হয়।

• সাধিত ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা:
১. নাম ধাতু,
২. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতুি ও
৩. কর্মবাচ্যের ধাতু।

• নাম ধাতু:

বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু। 
যেমন: সে ঘুমাচ্ছে। ‘ঘুম’ থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’।

• প্রযোজক ধাতু:
মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়। সে নিজে করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।
যেমন:
- কর্‌ + আ = করা(এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
অনুরূপভাবে- পড় + আ = পড়া।


• কর্মবাচ্যের ধাতু:
মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্ম্বাচ্যের ধাতু সাধিত হয়। এটি বাক্য মধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
হার্‌ + আ = হারা; যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯১.
‘যশস্বী’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) যশঃ + নীন্‌
  2. খ) যশঃ + ষ্ণি
  3. গ) যশঃ + বিন্‌
  4. ঘ) যশঃ + ইন্‌
ব্যাখ্যা
আছে অর্থে বিশেষণ গঠনে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বিন্‌(বী) ব্যবহৃত হয়। যথাঃ মেধা + বিন্‌ = মেধাবী, মায়া + বিন্‌ =মায়াবী, যশঃ +বিন্‌= যশস্বী ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৫৯২.
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় শনাক্ত করুন।
  1. ক) ইন্‌
  2. খ) আই
  3. গ) ইয়া
  4. ঘ) আনি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - অনট্‌, ঘ্যণ, ইন্‌, ণিন, ইন্‌। বাংলা কৃৎ প্রত্যয় - অন্তঃ, আই, আও, ইয়া, আল, আনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫৯৩.
‘তেজস্বী’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. তেজস + ঈ
  2. তেজঃ + বিন্‌
  3. তেজস + বী
  4. তেজঃ + ই
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৪.
সংস্কৃত ‘ক্রী’ ধাতুযোগে সাধিত পদ কোনটি?
  1. অঙ্কিত
  2. ক্রয়
  3. কর্তব্য
  4. কর্তিত
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ‘ক্রী’ ধাতুযোগে সাধিত পদ- ক্রয়।

--------------------------------
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ্ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক্ - অঙ্কন, অঙ্কিত।
ক্রী - ক্রয়, ক্রীত।
কিন্ - কেনা, কেনাকাটা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৫.
"গরিবানা" শব্দটিতে ‘আনা’ কোন ধরনের প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. খাঁটি বাংলা তদ্ধিত
  2. বিদেশি তদ্ধিত
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত
  4. সংস্কৃত কৃৎ
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব বিদেশি প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো -
• চি (তবলচি),
• আনা (গরিবানা),
• আনি (বাবুয়ানি),
• ওয়ান (গাড়োয়ান),
• খানা (ছাপাখানা),
• গর (কারিগর),
• দার (চৌকিদার),
• বাজ (চালবাজ),
• সই (মানানসই) ইত্যাদি৷

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৫৯৬.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. মিশুক
  2. নিন্দক
  3. চড়ক
  4. মিথ্যুক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মিথ্যুক = মিথ্যা + উক। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক', 'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৭.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু দ্বারা গঠিত শব্দ?
  1. স্থান
  2. কেনা
  3. বাঁধা
  4. ঘষা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর - ক) স্থান।

ব্যাখ্যা:
• স্থান - এটি সংস্কৃত 'স্থা' ধাতু থেকে গঠিত শব্দ।
• সংস্কৃত ধাতু: √স্থা (দাঁড়ানো, থাকা অর্থে)।
• স্থা + অন = স্থান।

অন্য বিকল্পগুলো:

খ) কেনা - বাংলা ধাতু 'কিন্' থেকে গঠিত;
গ) বাঁধা - বাংলা ধাতু 'বাঁধ্' থেকে গঠিত;
ঘ) ঘষা - বাংলা ধাতু 'ঘষ্' থেকে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৮.
‘সর্বজনীন’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. সর্বজন + নিন
  2. সর্বজন + ইন
  3. সর্বজন + ঈন
  4. সর্বাজন + নীন
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য ,
- এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + ঈন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৯.
নিচের কোনটি অসম্পূর্ণ ধাতু?
  1. কাট্‌
  2. বট্‌
  3. বাঁধ্‌
  4. বুঝ্‌
ব্যাখ্যা
• অসম্পূর্ণ ধাতু - বট্

অসম্পূর্ণ ধাতু:
- বাংলা ভাষায় কয়েকটি ধাতুর সকল কালের রূপ পাওয়া যায় না। সাধারণ সহকারী ক্রিয়া গঠনে এদের কয়েকটি রূপ পাওয়া যায় মাত্র। যেমন -
১. √আ - আইল > এল; আইলেন > এলেন; আইলে > এলে; আইলি > এলি; আইলাম > এলাম; আয় (অনুজ্ঞা)।

২. √আছ্‌ -
→ (বর্তমান কালে): আছে, আছেন, আছ, আছিস, আছি।
→ (অতীত কালে): ছিল, ছিলেন, ছিলে, ছিলি, ছিলাম।

৩. নহ্ ধাতু - (বর্তমান কালে): নন, নহে, নহেন > নন, নহ, নও, নহস, নহিস, নস, নহি, নই।

8. বট্ ধাতু - (বর্তমান কালে): বটে, বটেন, বট, বটিস, বটি।

৫. থাক্ (রহ্‌) ধাতু -
 → (বর্তমান কালে): থাকে, থাকেন, রহেন, থাক, (রও), থাকিস, (রস, রোস, রহিস), থাকি (রই), থাকে (রয়) ইত্যাদি।
→ অতীত কাল: রহিত (রইত), রহিতেন (রইতেন), রহিতাম (রইতাম-রইতুম) ইত্যাদি।
→ ভবিষ্যৎ কাল: রহিবে, (রইবে, রবে), রহিবেন (রইবেন), রহিবি (রইবি), রহিব (রইবো), রহিস (রোস, রোসো)।

অন্যদিকে,
• বাংলা ধাতু - কাট্‌, বাঁধ্‌, বুঝ্‌।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০০.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √জল্ + অক = ঝলক
  2. √খা্ও + অন = খাওন
  3. √চাল্ + আন = চালান
  4. √নাচ্ + ওন = নাচন
ব্যাখ্যা

• ‘আন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √মান্ + আন = মানান/মানানো।
- √চাল্ + আন = চালান/চালানো।

এরূপ,
• ‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্ + অনা = দুলনা > দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• ‘আ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ‘অন্’ স্থলে ‘ওন’ হয়। কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

• ‘অন’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
- √নাচ্ + অন = নাচন।

• ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।