বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধাতু ও প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন১,৯২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধাতু ও প্রত্যয়

PrepBank · পাতা / ২০ · ২০১৩০০ / ১,৯২৬

২০১.
'কেষ্টা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে কী অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. জাত
  2. সদৃশ
  3. বৃহদার্থ
  4. অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০২.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চৌকিদার
  2. পঙ্কিল
  3. কারিগর
  4. বাবুয়ানি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।

ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

অন্যদিকে, 
---------------
কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
আনা (গরিবানা),
আনি (বাবুয়ানি),
ওয়ান (গাড়োয়ান),
খানা (ছাপাখানা),
গর (কারিগর),
বাজ (চালবাজ),
দার (চৌকিদার),
সই (মানানসই) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৩.
'শ্রদ্ধা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. শ্রৎ+√ধা + অ + আ
  2. শ্রৎ+√ধা + আ
  3. শ্র+√ধা + আ
  4. শ্রু+√ধা + আ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় (আ) যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো-

- শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা,
- √ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা,
- √কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা,
- সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা,

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৪.
প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সুচরিত্র
  2. বিপর্যয়
  3. অধিষ্ঠান
  4. লাজুক
ব্যাখ্যা
শব্দের পরে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
আই: ঢাকাই, নিমাই, জগাই, মিঠাই।
উক: ভাবুক, মিশুক, মিথ্যুক, লাজুক
ইক: সাহিত্যিক, বৈদিক, দৈনিক, মাসিক।
অন: কাঁদন, বাঁধন, ভাঙন, জ্বলন।

অন্যদিকে,
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - সুচরিত্র, বিপর্যয়, অধিষ্ঠান।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২০৫.
যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি ধাতু বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে বলে-
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

মূলশব্দ বা মৌলিক শব্দের সঙ্গে যে অতিরিক্ত শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন নামপদ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে।
অর্থাৎ, প্রাতিপদিক ও ধাতুর সঙ্গে যেই শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদেরকেই প্রত্যয় বলে।
যেমন,
পড় + উয়া = পড়ুয়া
এখানে, ‘√পড়’-এর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় 'উয়া' যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ 'পড়ুয়া' গঠন করেছে।
লাজ + উক = লাজুক
এখানে, ‘লাজ’-এর সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় 'উক' যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ 'লাজুক' গঠন করেছে।

যে পদের দ্বারা কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন- যাব, খাই, ঘুমাও।

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্যে শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন- নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়, শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়, শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে, শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন- 
‘পাতি’ একটি বাংলা উপসর্গ। এটি ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
'পাতি' যোগে কিছু শব্দঃ পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো ইত্যাদি।

বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে।
বিভক্তি প্রধানত ২ প্রকার।
যথা- ক্রিয়া বিভক্তি(পড়+তে=পড়তে) এবং নাম বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৬.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
  1. চতুরালি
  2. বাবুয়ানা
  3. তেজাল
  4. ধুনাচি
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

• আনা, আনি:
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
- সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা,
- নজর + আনা = নজরানা।

• খানা:
মুদি + খানা = মুদিখানা,
ছাপা খানা = ছাপাখানা।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
• কানু + আই = কানাই, ধুনা + আচি = ধুনাচি, বেত + আন্ = বেতান > বেতানো।
• আরি/আরী/আবু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল >দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক -ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা-গেঁজেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২০৭.
প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ী 'ভূষণ' শব্দের সঠিক গঠন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) √ভৌ + অন
  2. খ) √ভব্ + অন
  3. গ) √ভূ + অন
  4. ঘ) √ভূষ্ + অন
ব্যাখ্যা
প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ী 'ভূষণ' শব্দের সঠিক গঠন প্রক্রিয়া হলো- √ভূষ্ + অন = ভূষণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২০৮.
'কর্তিত' শব্দটি কোন ধাতু যোগে গঠিত?
  1. কৃৎ
  2. কর্‌ 
  3. কৃ
  4. কথ্‌ 
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বা ক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক - অঙ্কন, অঙ্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৯.
'বর' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত-প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত-প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• ইষ্ণু-প্রত্যয়:
- চল্+ইষ্ণু = চলিষ্ণু।

এরূপ - ক্ষয়িষ্ণু, বর্ধিষ্ণু।

• বর-প্রত্যয়:
- ঈশ্ + বর = ঈশ্বর,
- ভাস্ + বর = ভাস্বর।

এরূপ- নশ্বর, স্থাবর।

• র-প্রত্যয়:
- হিন + স্ + র = হিংস্র,
- নম্ + র = নম্র।

• উক/উক-প্রত্যয়:
- ভু + উক= (ভৌ + উক) = ভাবুক,
- জাগ্‌ + উক = (জাগর + উক) জাগরুক।

• শানচ্-প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ, 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান।

এরূপ– √চল্ + শানচ্  = চলমান, বৃধ + শানচ্ = বর্ধমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১০.
'কৈশাের’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কিশাের + ঙ
  2. খ) কৈশ + ওর
  3. গ) কিশাের + ষ্ণ
  4. ঘ) কৃশ + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ(অ) প্রত্যয় যুক্ত হয় তার মূল স্বর বৃদ্ধি পায় (বৃদ্ধির নিয়ম: শুরুতে অ, ই/ঈ, উ/উ এবং ঋ থাকলে আ, ঐ, ঔ এবং আর হয়) এবং অন্ত্যস্বরের উ-কার, ও-কারে পরণিত হয়। যেমনঃ
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- কিশাের + ষ্ণ = কৈশাের ইত্যাদি।

২১১.
কোনটি 'আ' প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) গায়িকা
  2. খ) নায়িকা
  3. গ) প্রথমা
  4. ঘ) বালিকা
ব্যাখ্যা
• 'আ' প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ - 
- প্রথম - প্রথমা

• 'ইকা' প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ -
গায়ক - গায়িকা
নায়ক - নায়িকা
বালক - বালিকা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
সৌভাগ্য শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সৌ + ভাগ্য
  2. খ) সু + ভাগ্য
  3. গ) √সুন্দর + ভাগ্য
  4. ঘ) সুভগ + য
ব্যাখ্যা
''সৌভাগ্য'' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো সুভগ + য। এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

এরকম আরো কিছু সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
চতুর + য = চাতুর্য
প্রচুর + য = প্রাচুর্য
সুন্দর + য = সৌন্দর্য
সুজন + য = সৌজন্য
চণক + য = চাণক্য

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
২১৩.
‘সহিষ্ণু’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সহি + ইষ্ণু
  2. √সহ্ + ঈষ্ণু
  3. √সহি + ষ্ণু
  4. √সহ্ + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৪.
'-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) পড়া
  2. খ) বাঘা
  3. গ) বিবিয়ানা
  4. ঘ) শয়ান
ব্যাখ্যা
পড়া = পড়্‌+আ
- '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
অন্যদিকে, 
বাঘা = বাঘ+আ; '-আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ 
বিবিয়ানা = বিবি+আনা; '-আনা' প্রত্যয় যোগে তদ্ধিতান্ত শব্দ
শয়ান = শী+আন; '-আন' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৫.
’নবীন’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. নবি + ঈন
  2. নবী + নীন
  3. নব + নীন
  4. নব + ইন
ব্যাখ্যা

• নীন (ঈন)- প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- তৎসম্পর্কিত অর্থে বিশেষণ গঠনে:
- সর্বজন + নীন= সর্বজনীন, 
- কুল + নীন = কুলীন,
- নব + নীন= নবীন।

• ঈন একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সমূহ:
→ ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২১৬.
কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত?
  1. ক) প্রাণ+ঈ
  2. খ) স্থা+ঈ
  3. গ) নর+ঈ
  4. ঘ) ছাত্র+ঈ
ব্যাখ্যা

ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
যেমন,
স্থা+ঈ =স্থায়ী। এখানে ঈ হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'স্থায়ী' হচ্ছে কৃদন্ত শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ।

২১৭.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নাচ্ + উন্তি = নাচুন্তি
  2. √বাড় + অন্ত = বাড়ন্ত
  3. √উঠো + অন্তি = উঠন্তি
  4. √ঊড় + অন্ত = উড়ন্ত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √নাচ্ + উন্তি = নাচুন্তি। 

বাংলা 'অন্ত' কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:
- √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
- √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত;
- √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত;
- √বাড়ু + অন্ত = বাড়ন্ত; 
- √জীব্‌ + অন্ত = জীবন্ত > জ্যান্ত;
- √নাচ্ + উন্তি = নাচুন্তি,
- √উঠ + অন্তি = উঠন্তি।

এ রকম- উড়ন্ত, চলন্ত, পড়ন্ত, ঝুলন্ত, ডুবন্ত, বাড়ন্ত, ফুটন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৮.
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎপ্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ক) গীতি
  2. খ) শক্তি
  3. গ) বুদ্ধি
  4. ঘ) মুক্তি
ব্যাখ্যা

গীতি, শক্তি, বুদ্ধি ও সিদ্ধি - এই চারটি নিপাতনেসিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়।
মুক্তি = √মুচ্ + তি/ক্তি

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২১৯.
বিদেশী প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) পাঞ্চভৌতিক
  2. খ) মহিমা
  3. গ) পার্বত্য
  4. ঘ) খবরদার
ব্যাখ্যা
পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক, সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম, পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক, মহৎ + ইমন = মহিমা এবং পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য ইত্যাদি সংস্কৃত 'তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে' গঠিত শব্দ।
অন্যদিকে 'খবরদার' ফারসি 'দার' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
এরূপ- তাঁবেদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার ইত্যাদি৷
উৎসঃবাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২২০.
'পঠিত' শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু হতে গঠিত হয়েছে?
  1. খাঁটি বাংলা ধাতু
  2. বিদেশাগত ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. অজ্ঞাতমূল ধাতু
ব্যাখ্যা
‘পঠ্‌’ সংস্কৃত ধাতু।
এটি দ্বারা গঠিত শব্দ- পঠন, পাঠ্য, পঠিত, পাঠক ইত্যাদি।
-------------------------
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এসকল ক্রিয়াপদেরমূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ধাতু ৩ প্রকার। যথা-
- মৌলিক ধাতু
- সাধিত ধাতু ও
- যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা ধাতু
- সংস্কৃত ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,

সংস্কৃত মূল ধাতু: 
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২১.
"চল" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চল্ + আ
  2. √চল্ + ই
  3. √চল্ + ষ্ণিক
  4. √চল্ + অ
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:

অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ, 
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়।

আইত:
- √ডাক্ + আইত = ডাকাইত,
- √সের্ + আইত = সেবাইত।

আনি:
- √জ্বাল্ + আনি = জ্বালানি, 
- √ঝাঁক্ + আনি = ঝাঁকানি,
- √নিডু + আনি = নিড়ানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২২.
নিচের কোন শব্দদ্বয় চীনা ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) এলাচি, তুফান
  2. খ) ইস্কাপন, টেক্কা
  3. গ) রিকসা, হারিকিরি
  4. ঘ) কুপন, কার্তুজ
ব্যাখ্যা
• গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ভাষার শব্দ: 
চীনা শব্দ : চা, চিনি, কাগজ, এলাচি, তুফান, লিচু, টাইফুন, হোয়াংহো, নানচি ইত্যাদি।
ওলন্দাজ শব্দ : ইস্কাপন, টেক্কা, রুইতন, হরতন, তুরুপ ইত্যাদি। 
ফরাসি শব্দ : আঁশ, ইংরেজ, কুপন, কার্তুজ, ক্যাফে, ওলন্দাজ, বিস্কুট, বুর্জোয়া, রেস্তোরা, শেমিজ ইত্যাদি। 
জাপানি শব্দ : রিকসা, হারিকিরি, প্যাগোডা, সাম্পান, হাস্নাহেনা, নিপ্পন, টোকিও ইত্যাদি। 
বর্মী শব্দ : লুঙ্গি, ফুঙ্গি, কিয়াং, আরাকান, ইয়াঙ্গুন ইত্যাদি। 
ইতালিয় শব্দ : রোম, ম্যাজেটা । 
গ্রিক শব্দ : দাৰ্থমে— দাম, গোনোস- কোণ, কেন্টর— কেন্দ্র ইত্যাদি।
মিশরীয় শব্দ : মিসরি-মিছরি।

তথ্যসূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২২৩.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ভাস্বর
  2. নম্র
  3. বাবুয়ানা
  4. গোয়ালা
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আনা’ যোগে গঠিত শব্দ হলো:

যেমন:
- গরিব + আনা = গরিবানা;
- ঘর + আনা = ঘরানা;
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা;
- বিবি + আনা = বিবিআনা।

অন্যদিকে,
• কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ- √ ভাস্ + বর = ভাস্বর;  √ নম্ + র = নম্র।
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় ‘আলা’ যোগে গঠিত শব্দ: √গো + আলা = গোয়ালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২৪.
প্রশাসনিক ফারসি শব্দ কোনটি?
  1. ক) তারিখ
  2. খ) সৌখিন
  3. গ) তরমুজ
  4. ঘ) দোযখ
ব্যাখ্যা
ফারসি শব্দ:
ক) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : খোদা, গুনাহ, দোযখ, নামায, ফেরেশতা, বেহেশত, রোযা ইত্যাদি।
খ) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : কারখানা, চশমা, তারিখ, তোশক, দোকান, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা,
বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
গ) ফারসি ভাষার অন্যান্য শব্দ : আইন, আজাদ, আদমশুমারি, আমদানি, আসমান, একতারা, এলাচি, ওস্তাদ, কাগজ, কামান, কারবার, খরগোশ, খানসামা, খোশবু, খোশামোদ, গালিচা, গোমস্তা, গোরস্তান, গোলাপ, গ্রেপ্তার, চাকর, চাকরি, জাজিম, জানোয়ার, জিন্দাবাদ, তরমুজ, তোষামোদ, দরবার, দরবেশ, দারোগা, পাইকারি, পালোয়ান, পেশকার, মেহেরবান, রোজগার, সানাই, সৌখিন, সরকার, সালতামামি, হুঁশিয়ার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২২৫.
ধাতুর অন্ত বা শেষ ধ্বনির আগের ধ্বনিকে কী বলে?
  1. ইৎ
  2. টি 
  3. অনুবন্ধ 
  4. উপধা
ব্যাখ্যা

• উপধা: 
ধাতুকে বিশ্লেষণ করলে যে বর্ণগুলো পাওয়া যায় সেই বর্ণগুলোর শেষের বর্ণের আগের বর্ণটিকে উপধা বলা হয়।
যেমন : পচ্ = প + অ + চ্ ।
এখানে ‘চ্’ ধ্বনির আগের ধ্বনি - ‘অ’ হলো উপধা।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২৬.
প্রকৃতি কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু,
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।

ক্রিয়া-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি অবস্থান, গতি বা অন্য কোনো প্রকারের ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলে।

যেমন:
- √চল্, √পড়, √রাখ, √দৃশ্, √কৃ প্রভৃতি ক্রিয়া-প্রকৃতি।


নাম-প্রকৃতি:
- প্রত্যয়-নিষ্পন্ন শব্দের বিশ্লেষণে মৌলিক ভাব-দ্যোতক যে অংশ পাওয়া যায়, তা যদি কোনো দ্রব্য, জাতি, গুণ বা কোনো পদার্থকে বোঝায়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।

যেমন:
- মা, চাঁদ, গাছ, প্রভৃতি নাম-প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২২৭.
কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. মাধব
  2. দ্বৈপায়ন
  3. জ্বালানি
  4. আক্ষরিক
ব্যাখ্যা
'আনি' বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:   
- জ্বাল্ + আনি = জ্বালানি 
- ঝাঁক্ + আনি = ঝাঁকানি, 
- নিড়ু + আনি = নিড়ানি।
 
অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
- অক্ষর + ইক = আক্ষরিক,
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
- মধু + অ = মাধব।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২২৮.
বিভক্তহীন নাম শব্দকে বলে -
  1. প্রাতিপদিক
  2. কৃদন্ত শব্দ
  3. ধাতু
  4. কারক
ব্যাখ্যা
• বিভক্তহীন নাম শব্দকে বলে - প্রাতিপদিক।

- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
- অন্যদিকে বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
- প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৯.
'ডুবুরী' শব্দের সঠিক প্রত্যয়জাত গঠন কোনটি?
  1. ক) √ডুব + আরি
  2. খ) √ডুব + ঊরি
  3. গ) √ডুব + উরি
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা
অনুরুপভাবে গঠিত প্রত্যয়ঃ ধুনারী, পূজারী
২৩০.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃদন্ত শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. পানীয়
  3. রক্ষণীয়
  4. গীতি
ব্যাখ্যা

কতিপয় নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়:
- √গৈ + ক্তি = গীতি,
- √সিধু + ক্তি = সিদ্ধি,
- √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
- √শক্ + ক্তি =শক্তি।

অন্যদিকে, 
• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়: কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়।
- তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- দা + তব্য = দাতব্য।
- পট্ + তব্য =পঠিতব্য।

• অনীয়:
- √কৃ + অনীয় = করণীয়,
- রক্ + অনীয় = রক্ষণীয়।
- এরূপ- দর্শনীয়, পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৩১.
'রচয়িতা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. রচ + ইতা
  2. রিচি + তৃ
  3. রচি + তৃ
  4. রচনা + তৃ
ব্যাখ্যা

• 'রচয়িতা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় √রচি + তৃ।
 
তৃ (তৃনু, তৃচ) > তা, ইতু, ইতা, স্ত্রীলিঙ্গে 'ত্রী'

- √পা + তৃ = পিতা, পিতৃ।
- √মা + তৃ = মাতা, মাতৃ।
- √ভ্রাজ্ + তৃ = ভ্রাতা, ভ্রাতৃ।
- √রচি + তৃ = রচয়িতা।
- √কৃ +তৃ = কর্তা, কর্তৃ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়ৎ মামুদ।

২৩২.
'চলন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ চল্ + ওন
  2. √ চল্ + আনো
  3. √ চল + অনা
  4. √ চল্ + অন
ব্যাখ্যা
• 'চলন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √ চল্‌ + অন।
অর্থ:
- গমন; 
- ভ্রমণ;
- সঞ্চালন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩৩.
'কার্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃ + র্য
  2. √কর + য্য
  3. √কৃ + ঘ্যণ
  4. √কর + র্য্য
ব্যাখ্যা
• 'কার্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √কৃ + ঘ্যণ

- কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়।
- এ পরিবর্তনকে বলা হয় গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ:
- (ক) ই, ঈ-স্থলে এ, (খ) উ, উ-স্থলে ও এবং (গ) ঋ-স্থলে অর্ হয়।
যেমন:
- √চিন্‌ + আ=চেনা (ই স্থলে এ হলো);
- √নী + আ-নেওয়া (ঈ স্থলে এ);
- √ধু + আ=ধোয়া (উ স্থলে ও);
- কৃ + তা = করতা>কর্তা (ঋ স্থলে অর্)।

বৃদ্ধি:
- (ক) অ-স্থলে আ, (খ) ই ও ঈ-স্থলে ঐ, (গ) উ ও উ স্থলে ঔ এবং (ঘ) ঋ-স্থলে আর্ হয়।
যেমন:
- পচ্ + অ (ণক) = পাচক (পচ-এর অ স্থলে 'আ');
- শিশু + অ(ষ্ণ) = শৈশব (ই স্থলে ঐ);
- যুব + অন= যৌবন (উ স্থলে ঔ);
- কৃ + ঘ্যণ= কার্য (ঋ স্থলে আর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৪.
'দোলনা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. দুল্ + না
  2. দোল্ + না
  3. দোল + অনা
  4. দোলনা + আ
ব্যাখ্যা

• অপশন বিবেচনায় 'দোলনা' শব্দের  প্রকৃতি-প্রত্যয় হিসেবে দোল + অনা নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে 'দোলনা' শব্দের  প্রকৃতি-প্রত্যয় - √দুল্ + অনা = দোলনা।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- অনা ('অন'এর প্রসার অন + আ) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩৫.
নিচের কোনটি সংস্কৃত মূল মৌলিক ধাতু?
  1. আক্
  2. কাট্
  3. রাখ্
  4. অঙ্ক
ব্যাখ্যা

• মৌলিক ধাতু ৩ প্রকার। যথা - ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

২৩৬.
‘উপধা' বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) প্রকৃতির পরিবর্তন
  2. খ) ধাতুর পরিবর্তন
  3. গ) প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনি
  4. ঘ) প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পাওয়া
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে কখনও কখনও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পায়।
- এই লােপ পাওয়া অংশটিকে ‘ইৎ' নামে অভিহিত করা হয়।
- এছাড়া, প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনিকে ‘উপধা' বলা হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির আদ্যধ্বনির পরবর্তী সকল ধ্বনিকে ‘টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অর্থাৎ, ‘ইৎ' প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং 'উপধা’ ও ‘টি' প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
নিচের কোন শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) দাপট
  2. খ) পেঁটরা
  3. গ) মিতালি
  4. ঘ) যাচাই
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে আলি থাকলে আলি হবে। 
• শর্টকাট : আলি = আলি। মিতালী হচ্ছে তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• প্রদত্ত শব্দ    প্রকৃতি ও প্রত্যয়
গৃহস্থালি  --  গৃহস্থ + আলি    
গীতালি  --  গীত + আলি
ঘটকালি  --  ঘটক + আলি    
সোনালি  --  সোনা + আলি
মিতালি  --  মিতা + আলি    
রুপালি  --  রুপা + আলি

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
২৩৮.
বাংলা ব্যাকরণে সিদ্ধ ধাতু কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু:
যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু। এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। যেমন- কর, চল, দেখ, খি, যা, আস ইত্যাদি। বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১) খাঁটি বাংলা ধাতু
২) সংস্কৃত মূল ধাতু ও
৩) বিদেশি ধাতু। 

• খাঁটি বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতুর মূল সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে আসেনি, কিন্তু অপভ্রংশ বা প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসে ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে বলা হয় খাঁটি বাংলা ধাতু। এসব ধাতুকে ভিত্তি করেই বাংলা ক্রিয়াপদ, কৃদন্ত, বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি শব্দ গঠিত হয়েছে।
যেমন- নাচ্-নাচা, কাট্- কাটা, কাঁদ্‌- কাঁদা ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বা ক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।

যেমন- 'কৃ' ধাতুর সাহায্যে গঠিত পদ কর, করা ইত্যাদি। আবার 'কৃ' থেকে গঠিত ক্রিয়াপদ- কৃত, কর্তব্য, করণীয়, কর্তৃত্ব ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে, 'গম' থেকে- গমন করা, গতি, গম, গত ইত্যাদি। 'দা' ধাতু থেকে- দান করা, দাতা, দান, দাতব্য। 'তাজ' ধাতু থেকে- ত্যাগ করা, ত্যাগ, ত্যাজ্য ইত্যাদি।
কয়েকটি সংস্কৃত মূল ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো- অঙ্ক, আঁক্, কথ, কহ্, কৃৎ, কাট্, ক্রন্দ, কাঁদ্, ক্রী, কিন্, খাদ্। 

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম এবং খাঁটি বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। প্রধানত হিন্দি, আরবি, ফারসি ভাষা থেকে এসব ধাতু বাংলা ভাষায় এসেছে। যেমন- ভিক্ষে মেগে খায়- এ বাক্যে মাগ ধাতু হিন্দি 'মাঙ' থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে অজ্ঞাতমূল ধাতু বলে। যেমন- হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে? এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে এসেছে তা নির্ণয় করা যায়নি। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু হিসেবে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো- আঁট্, খাট, ফির্, চাহ্, টান্‌, টুট্‌ ।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৯.
'পাঞ্চভৌতিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পঞ্চভূত + ষ্ণিক
  2. পঞ্চভূত + ষ্ণ্য
  3. পঞ্চভূত + ষ্ণ
  4. পঞ্চভুত + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য
 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪০.
নিচের কোনটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) মানানসই
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) বাবুয়ানা
  4. ঘ) বেহায়াপনা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় বেশকিছু ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে এগুলো হলো- গিরি = বাবুগিরি, কেরানিগিরি ইত্যাদি। গর = কারিগর, বাজিগর। সই = মানানসই, টেকসই।খোর = সুদখোর, আফিমখোর ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২৪১.
'দৈনিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. দিন + ইক
  2. দিন + এক
  3. দীন + ইক
  4. দীন + এক
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: দিন + ইক
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪২.
'আদর' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বাঘা
  2. চোরা
  3. কানাই
  4. জেঠামি
ব্যাখ্যা
• 'আদর' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: 'কানু → কানাই'। 

অন্যদিকে, 
 চোর → চোরা = 'অবজ্ঞা' অর্থে। 
 বাঘ → বাঘা = সদৃশ অর্থে। 
জেঠা → জেঠামি = নিন্দা অর্থে। 
ঢাকা → ঢাকাই = জাত অর্থে।
জেঠা → জেঠামি = নিন্দা অর্থে।
বাঘ→ বাঘা = সদৃশ  অর্থে।
মাটি → মেটে = উপকরণ অর্থে।
বাত → বেতো = রোগগ্রস্থ অর্থে।
গাঁ → গেঁয়ো = সংশ্লিষ্ট অর্থে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪৩.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ঘাটাল 
  2. দৈনিক
  3. মাছুয়া
  4. মাতাল 
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- মাতাল (মাত্+আল)

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- ঘাট + আল = ঘাটাল ।
- মাছ+উয়া = মাছুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

২৪৪.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. জয়
  2. ভয়
  3. ক্ষয়
  4. সৌর
ব্যাখ্যা

সৌর = সূর্য + ষ্ণ, এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
এটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)।
কিন্তু, অন্যান্যগুলো সব কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- √ক্ষি + অল্‌ = ক্ষয়,
- √জি + অল্‌ = জয়,
- √ভি + অল্‌ = ভয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৫.
নিচের কোনটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ধোঁকাবাজ
  2. দিল্লিওয়ালা
  3. গাড়োয়ান
  4. হিন্দুয়ানি
ব্যাখ্যা
'বাজ' ফারসি প্রত্যয়যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হচ্ছে - গলাবাজ, কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ ইত্যাদি।
দিল্লিওয়ালা, গাড়োয়ান ও হিন্দুয়ানি শব্দগুলোতে যথাক্রমে হিন্দি প্রত্যয় 'ওয়ালা > আলা'; ওয়ান > আন এবং আনা > আনি ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৬.
'পান্ডব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পাণ্ডু + অব
  2. খ) পান্ড + অ
  3. গ) পাণ্ডু + অ
  4. ঘ) পাণ্ড+ অব
ব্যাখ্যা
'পান্ডব' - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-পাণ্ডু + অ।

- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে  অ ( অন, অএ ,ষ্ণ) প্রত্যয় যোগে বিভিন্ন অর্থে শব্দ গঠিত হয়।

• অপত্য অর্থে :
যদু + অ = যাদব
পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব
দনু + অ = দানব
• ভক্ত বা উপাসক অর্থে :
শিব + অ = শৈব
শক্তি + অ = শাক্ত
বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব 
• রচিত অর্থে :
ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ
স্মৃতি + অ = স্মার্ত
• বিকার অর্থে:
তিল + অ = তৈল
হেম + অ = হৈম
• স্বভাব অর্থে :
তপস + অ = তাপস
ছত্র + অ = ছাত্র ।
• তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে :

পৃথিবী + অ = পার্থিব
নিশা + অ = নৈশ
দেব + অ = দৈব
বিধি + অ = বৈধ
• ভাবার্থে:
মুনি + অ = মৌন
গুরু + অ = গৌরব
লঘু + অ = লাঘব
• অবস্থা অর্থে:
শিশু + অ = শৈশব
যুবন + অ = যৌবন

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৪৭.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ-
  1. ক) জুতসই
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) বাড়িওয়ালা
  4. ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অপরদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আমি' যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৮.
যেসব শব্দাংশ পদের যঙ্গে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালাে করে তাকে কী বলে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪৯.
ক্ষয়িষ্ণু এর প্রকৃত ও প্রত্যয় কি হবে?
  1. ক) √ক্ষি + ইষ্ণু
  2. খ) √ক্ষ + ইষ্ণু
  3. গ) √ক্ষয় + ইষ্ণু
  4. ঘ) √ক্ষত + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
ক্ষয়িষ্ণু এর সঠিক প্রকৃত ও প্রত্যয় √ক্ষি + ইষ্ণু।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫০.
তদ্ধিত প্রত্যয় সধিত শব্দ কোনটি?
  1. ডুবুরী
  2. বাঁদরামি
  3. চিরুনি
  4. আঁটুনি
ব্যাখ্যা
• আমি/আম/আমো/মি- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- ইতর + আমি = ইতরামি,
- পাগল + আমি = পাগলামি,
- চোর + আমি = চোরামি,
- বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
- ফাজিল + আমো =ফাজলামো।

অন্যদিকে,
• আরি বা আরী বিকল্পে রি/উরি- কৃৎ প্রত্যয় যোগে বাংলা শব্দ গঠন:
যেমন
√ ডুব্‌+আরি/ উরি = ডুবুরী।

• অনি, (বিকল্পে) উনি - কৃৎ প্রত্যয় যোগে বাংলা শব্দ গঠন:
√চির্+অনি = চিরনি >চিরুনি। 
√আঁট+অনি = আঁটনি > আঁটুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২৫১.
প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) শব্দ বা ধাতুর পূর্বে অবস্থান করে।
  2. খ) অনেক সময় শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
  3. গ) প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক।
ব্যাখ্যা
• শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। 
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময় শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫২.
নিচের কোনটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ ?
  1. মাছুয়া
  2. চৌরাস্তা
  3. সূর্যোদয়
  4. অনাবৃষ্টি
ব্যাখ্যা

- নিচের কোনটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ ? 
-মাছুয়া
- চৌরাস্তা 
- সূর্যোদয়
- অনাবৃষ্টি
- চার রাস্তার সমাহার =চৌরাস্তা সমাস সাধিত শব্দ 
- সূর্যোদয় = সূর্য + উদয় সন্ধি সাধিত শব্দ 
- অনাবৃষ্টি = অনা + বৃষ্টি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ। 

 [উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১] 

২৫৩.
শাক্ত শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) শক্তি+অ
  2. খ) শাক্ত+ই
  3. গ) শাক্ত+অ
  4. ঘ) শক্তি+ই
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে শাক্ত শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো- শক্তি+অ। 
- এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• শাক্ত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শাক্‌তো।
- এর অর্থ হচ্ছে শক্তির উপাসক, তান্ত্রিক।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- শক্তি+অ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫৪.
'পকেটমার' কোন দুটি ভাষার মিশ্রণ?
  1. ক) ইংরেজি ও হিন্দি
  2. খ) ইংরেজি ও বাংলা
  3. গ) ইংরেজি ও উর্দু
  4. ঘ) ইংরেজি ও ফারসি
ব্যাখ্যা
'পকেটমার' ইংরেজি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত মিশ্র শব্দ। 
পকেটমার (বিশেষ্য) 
- ইংরেজি পকেট + বাংলা মার 
অর্থ: অন্যের পকেট থেকে টাকা পয়সা বা মূল্যবান জিনিস চুরি করা যার পেশা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫৫.
‘ভোজন’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. √ভোজ্‌ + অনট
  2. √ভো্‌ + জন
  3. √ভুজ্‌ + অনট
  4. √ভোজ্‌ + অন
ব্যাখ্যা
• 'অনট' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √নন্দি+অনট = নন্দন।
- √ভুজ্‌ + অনট = ভোজন।
- √শ্রু”+অনট = শ্রবণ।
- √স্থা+অনট = স্থান।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫৬.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তেজঃ + বিন = তেজস্বী
  2. নীল + ইমন = নীলিমা
  3. পেট + উক = পেটুক
  4. সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৭.
'দর্শন' শব্দের ধাতুমূল কোনটি?
  1. দৃষ
  2. দৃর্শ
  3. দৃ
  4. দৃশ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

কিছু সংস্কৃত শব্দ ও তা দ্বারা সাধিত শব্দ:
ক্রন্দ্ - ক্রন্দন।
ক্রী - ক্রয়, ক্রীত।
খাদ - খাদ্য, খাদক।
গঠ - গঠিত।
ঘৃষ - ঘর্ষণ।
দৃশ - দৃশ্য, দর্শন।
পঠ - পঠন, পাঠ্য, পঠিত।
ধূ - ধৃত, ধার।
বৃক্ষ - রক্ষণ, রক্ষিত, রক্ষী।
শ্রু - শ্রবণ, শ্রুত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৫৮.
’ঊর্ণনাভ’ শব্দটি দিয়ে নিচের কোনটি বুঝায়?
  1. ক) তেলাপোকা
  2. খ) মাকড়সা
  3. গ) পিঁপড়া
  4. ঘ) মাছি
ব্যাখ্যা
• ঊর্ণনাভ, ঊর্ণনাভি ( বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়= [√ঊর্ণ+অহমিয়া(অচ্) ]=[ঊর্ণ+নাভি; বহুব্রহী সমাস]
অর্থ: মাকড়সা ( ঊর্ণনাভ জাল বুনে চলে- আহসান হাবীব)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫৯.
কোনটি নাম ধাতু?
  1. পড়
  2. দেখ
  3. ধমকা
  4. থাক
ব্যাখ্যা
• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে।
['ঘুম' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।]

যেমন:
- আমাকে ধমকিও না।
['ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।] 

অন্যদিকে, 
পড়, দেখ ও থাক মৌলিক বাংলা ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৬০.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঢাকাই
  2. সেলাই
  3. ঘেরাও
  4. পাকড়াও
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঢাকা + আই = ঢাকাই

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √সিল্ + আই = সেলাই।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √ঘির্ + আও = ঘেরাও।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - √পাকড়্‌ + আও = পাকড়াও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬১.
'সাহিত্যিক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো-
  1. ক) সাহিত্য + ষ্ণ্যক
  2. খ) সাহিত্য + ষ্ণ্যিক
  3. গ) সাহিত্য + ষ্ণীক
  4. ঘ) সাহিত্য + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

• ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়যােগে সম্বন্ধ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়।
• যেমন-
- সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক,
- বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক,
- বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক,
- বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক,
- সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬২.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চতুর্থ
  2. বহতা
  3. মিশুক
  4. হামলা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চতুর্থ (চতুর্‌ + থ)।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বহতা (√বহ্‌ + তা)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মিশুক (√মিশ্‌ + উক)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - হামলা (হাম্‌ + লা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৩.
কোনটি 'খোঁচা' এর আদিগণ?
  1. ঘুরা
  2. ধোয়া
  3. ফিরা
  4. লাফা
ব্যাখ্যা
• 'খোঁচা' এর আদিগণ - ধোয়া

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ ঘুরা - আদিগণ,
→ ধোয়া - আদিগণ,
→ ফিরা - আদিগণ,
→ লাফা - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৪.
প্রত্যয়জাত শব্দ 'দখিনা' কী অর্থে ব্যবহৃত ?
  1. ক) সংশ্লিষ্ট অর্থে
  2. খ) আগত অর্থে
  3. গ) উপকরণ অর্থে
  4. ঘ) যুক্ত অর্থে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়জাত শব্দ' দখিনা আগত অর্থে অর্থে ব্যবহৃত।

অন্যান্য অপশনগুলার মধ্যে - 
সংশ্লিষ্ট অর্থে - গেঁয়ো।
উপকরণ অর্থে -  মেটে।
যুক্ত অর্থে - টেকো।

- প্রত্যয় এর নিজস্ব কোন অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর অনেক সময় শব্দের অর্থ এবং শ্রেণী পরিচয় বদলে যায়।

যেমনঃ
নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই।
ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৫.
কোনটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল?
  1. ছি
  2. খা
  3. বে
  4. লাম
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
- ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

১. ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- কর্, যা, খা, পা, বল্, দেখ, খেল্, দে ইত্যাদি।

২. ক্রিয়াবিভক্তি:
- আ, ই, ছি, ছে, বে, তে, লে, লাম ইত্যাদি।

ধাতু তিন প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু,
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৬৬.
কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দীর্ঘতম
  2. খ) অশ্বতর
  3. গ) বহতা
  4. ঘ) শত্রুতা
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ দীর্ঘতম, অশ্বতর, শত্রুতা
কৃৎ প্রত্যয়ঃ বহতা, কাটতি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২৬৭.
কোন প্রকৃতি-প্রত্যয়টি সঠিক?
  1. √গৈ + ণক = গায়ক
  2. √গী + ণক = গায়ক
  3. √গান + ণক = গায়ক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'গায়ক' এর সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয়-  √গৈ + ণক ।

সূত্র: 
• 'ণক'-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে) :
- পঠ্‌ + ণক=√পঠ + অক = পাঠক। মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন-
- √গৈ +ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক= লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬৮.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. মিশুক
  2. মিথ্যুক
  3. নিন্দক
  4. চড়ক
ব্যাখ্যা

•  কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মিথ্যুক = মিথ্যা + উক। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক', 'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

২৬৯.
কুল + নীল = কুলীন - কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
- 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে কুলীন (কুল + নীন)।
- নব + নীন = নবীন,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন ইত্যাদি আরো কিছু 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷
২৭০.
ভাব অর্থে 'ই / ঈ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. পোদ্দারি
  2. উমেদারি
  3. মােক্তারি
  4. দোকানি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ - প্রত্যয়:

ভাব অর্থে:
- বাহাদুর +ই = বাহাদুরি,
- উমেদার- উমেদারি

বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে:
- ডাক্তার-ডাক্তারি,
- মােক্তার-মােক্তারি,
- পােদ্দার-পােদ্দারি,
- ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

মালিক অর্থে:
- জমিদার-জমিদারি,
- দোকান-দোকানি

জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে:
- ভাগলপুর-ভাগলপুরি,
- মাদ্রাজ-মাদ্রাজি,
- রেশম-রেশমি,
- সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭১.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ব্যাঙাচি
  2. পঙ্কিল
  3. পেটুক
  4. নিমাই
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

-------------------
অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই।
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি।
- ভরা + অট = ভরাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭২.
'চাষা' শব্দের 'আ' প্রত্যয় কোন পদ গঠনে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রিয়া গঠনে
  2. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে
  3. বিশেষণ গঠনে
  4. ক্রিয়াবাচক বিশেষণ গঠনে
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল-চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৩.
কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কী বলে?
  1. শব্দ প্রত্যয়
  2. প্রাতিপদিক শব্দ
  3. তদ্ধিতান্ত শব্দ
  4. কৃদন্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে - কৃদন্ত শব্দ।

প্রত্যয়:

শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
- বাঘ + আ = বাঘা,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- দুল্ + অনা = দোলনা,
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

• কৃৎ-প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৭৪.
‘লেখক’ শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়?
  1. ক) ইল
  2. খ) আও
  3. গ) ণক
  4. ঘ) ইন
ব্যাখ্যা
গায়ক, পাঠক, নায়ক, লেখক এই শব্দগুলো ণক-প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৭৫.
'হরতাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) গুজরাটি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে হরতাল শব্দটি গুজরাটি ভাষা থেকে আগত।

হরতাল:
- হরতাল (বিশেষ্য) যা গুজরাটি ভাষা হতে এসেছে।
- এর অর্থ- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত ধর্মঘট, বন্ধ।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ২য় খণ্ড, বাংলা একাডেমি।
২। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৭৬.
‘মানচিত্র’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √মান+চিত্র্+অ
  2. খ) √মান্+চিত্র
  3. গ) মান+√চিত্র্+অ
  4. ঘ) মান+√চিত্র
ব্যাখ্যা
• মানচিত্র (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [মান+√চিত্র্+অ]
অর্থ: ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশের অবস্থান আকৃতি প্রকৃতি প্রভৃতির বিবরণসংবলিত নকশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭৭.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. খাদ্
  2. কাট্
  3. হস্
  4. পঠ্‌
ব্যাখ্যা
• 'কাট্' - বাংলা ধাতুর উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- খাদ্; পঠ্‌, হস্ সংস্কৃত ধাতু। 
---------------------- 
• মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। 
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৮.
'তিনি তার ছেলেকে পড়াচ্ছেন' এ বাক্যে 'পড়া' কোন ধরনের ধাতু?
  1. ণিজন্ত ধাতু
  2. নামধাতু
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'তিনি তার ছেলেকে পড়াচ্ছেন' এ বাক্যে 'পড়া'- ণিজন্ত ধাতু।

• নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
- যেমন-সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।
- 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।আমাকে ধমকিও না।

• প্রযোজক/ণিজন্ত ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
- যেমন কর্ + আ করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)। যেমন- সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়।
- অনুরূপভাবে পড় + আ = পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭৯.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. পাগলামি
  2. দৈনিক
  3. ভাজি
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
যেমন:
- দুল্‌+অনা= দোলনা,
- কৃ+তব্য= কর্তব্য,

- 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
- ভাজ + ই= ভাজি,
- এখানে 'ই' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'ভাজি' হলো কৃদন্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'পাগলামি = পাগল + আমি' তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ।
- 'দিন + ইক = দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯)।
২৮০.
'দ্বৈপায়ন' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
আয়ন (ষ্ণায়ন, ফক্):
নর + আয়ন = নারায়ণ, 
দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
রাম + আয়ন = রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৮১.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে কোন শব্দটি?
  1. ক) ওলন্দাজ
  2. খ) উর্দু
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
‘ইংরেজি’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

ইংরেজি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। English.

ওলন্দাজ (বিশেষণ) 
- ফরাসি ভাষা Hollandaise থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: হল্যান্ড এর অধিবাসী, Dutch. 

উর্দু (বিশেষ্য) 
- তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: ভারত ও পাকিস্তানে ব্যবহৃত ফারসি ও আরবি ভাষার মিশ্রনজাত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৮২.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. অক্
  2. হাস্
  3. কর্
  4. দেখ্
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু - দেখ্, কর্, হাস্।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৮৩.
'মরিয়া' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মর্ + ইয়া
  2. √মরি + ইয়া
  3. √মরি + আ
  4. √মরি + ইআ
ব্যাখ্যা
• ইয়া > ইয়ে-প্রত্যয় বিশেষণ গঠনে ইয়া/ ইয়ে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- √মর্ + ইয়া = মরিয়া (মরতে প্রস্তুত),
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে (বাকপটু)।

এরূপ নাচিয়ে, গাইয়ে, লিখিয়ে, বাজিয়ে, কইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৮৪.
বিশেষ নিয়মে সাধিত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. √ভিদ্‌ + ঘঞ্‌ = ভেদ
  2. √দীপ্‌ + শানচ = দীপ্যমান
  3. √শুচ্‌ + ঘঞ্‌ = শোক
  4. √ভু + উক = ভাবুক
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
২৮৫.
কোন বাক্যে কর্মবাচ্যের ধাতুর উদাহরণ রয়েছে?
  1. বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
  2. অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।
  3. বাবা ঘুমাচ্ছেন।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
- বাক্যে কর্তার চেয়ে কর্মের সাথে যখন ক্রিয়ার সম্পর্ক প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সে ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া বলে।
- কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার মূলকে কর্মবাচ্যের ধাতু বলে।
- মৌলিক ধাতুর সাথে আ-প্রত্যয়যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।
যেমন:
→ কর্ + আ = করা : আমি তোমাকে অঙ্কটি করতে বলেছি।
→ হার্ + আ = হারা: বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
→ খা + ওয়া = খাওয়া তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।

অন্যদিকে,
নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে আ-প্রত্যয়যোগে গঠিত ধাতুকে নাম ধাতু বলে।
যেমন:
→ ঘুম্ + আ = ঘুমা: বাবা ঘুমাচ্ছেন।
→ ধমক্ + আ = ধমকা: আমাকে যতই ধমকাও, আমি এ কাজ করব না।
→ হাত্ + আ = হাতা: অন্যের পকেট হাতানো আমার স্বভাব নয়।

প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) আ-প্রত্যয়যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু বলে। যেমন:
→ পড়ু + আ = পড়া: শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
→ কর্ + আ = করা: সে নিজে করে না, অন্যকে দিয়ে করায়।
→ খেল্ + আ = খেলা: 'হা ডু ডু' আমাদের জাতীয় খেলা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৮৬.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতুর উদাহরণ?
  1. দেখা
  2. পড়া
  3. কর্‌
  4. হারায়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন,
- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দেখা, পড়া - সাধিত ধাতুর উদাহরণ।
• হারায় - কর্মবাচ্যের ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৭.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. গৌর + অব
  2. গুরু + অব
  3. গৌর + ষ্ণ
  4. গুরু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• ষ্ণ (অ) প্রত্যয়:
- যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ)—প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা- নগর+ষ্ণ=নাগর, মধুর +ষ্ণ=মাধুর্য।

বৃদ্ধি : (১) অ-স্থানে আ, (২) ই, ঈ-স্থানে ঐ, (৩) উ, ঊ-স্থানে ঔ এবং (৪) ঋ-স্থানে 'আর' হওয়াকে বৃদ্ধি বলে।

২. যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। ও +অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়। যথা—
- গুরু + ষ্ণ=গৌরব
- লঘু + ষ্ণ =লাঘব
- শিশু + ষ্ণ=শৈশব
- মধু + ষ্ণ=মাধব
- মনু + ষ্ণ =মানব

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৮ - সংস্করণ।

২৮৮.
'পার্বত্য' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ? 
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• ষ্ণ্য (য)সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
(ক) অপত্যার্থে : মনুঃ + ষ্ণ্য = মনুষ্য, জমদগ্নি+ ষ্ণ্য = জামদগ্ন্য।
(খ) ভাবার্থে : সুন্দর+ ষ্ণ্য = সৌন্দর্য, শূর+ ষ্ণ্য = শৌর্য। ধীর+ ষ্ণ্য= ধৈর্য।
(গ) বিশেষণ গঠনে: পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য, বেদ+ ষ্ণ্য = বৈদ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮৯.
'চিন্ময়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. চিত + ময়
  2. চিম + ময়
  3. চিন + ময়
  4. চিৎ + ময়
ব্যাখ্যা
• ময় (ময়ট)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাক্ + ময় = বাক্সয়;
- অন্ন + ময় = অনুময়;
- হিরণ্য + ময় = হিরণ্ময়;
- হেম + ময় = হেমময়;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়;
- জল + ময় = জলময়;
- চিৎ + ময় = চিন্ময়;
- স্বর্ণ + ময় = স্বর্ণময়;
- জগৎ + ময় = জগন্ময়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯০.
কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. চতুর্থ
  2. রান্না
  3. শত্রুতা
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা

ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
কৃৎপ্রত্যায় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।যেমন,
-রাঁধ্‌+না= রান্না।
'রান্না' কৃদন্ত শব্দ।
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
শত্রু+তা= শত্রুতা।
'শত্রুতা' তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯১.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কণ্টকিত
  2. পাগলামি
  3. চোরাই
  4. গিন্নীপনা
ব্যাখ্যা

 সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- বাত + উয়া = বাতুয়া;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯২.
"ক্ষয়িষ্ণু" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ক্ষম্ + ষ্ণিক
  2. √ ক্ষম্ + ইষ্ণু
  3. √ ক্ষম্ + ষ্ণক
  4. √ ক্ষম্ + ষ্ণু
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:

ইষ্ণু-প্রত্যয়:
- √ চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু, 
- √ সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু, 
- √ ক্ষম্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯৩.
নিচের কোনটি স্ত্রীবাচক প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. আনো
  2. ইনি
  3. অক
ব্যাখ্যা

• 'ইনি' প্রত্যয়:
- স্ত্রীবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় পুরুষবাচক শব্দের পরে বসে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিণত করে।
যেমন- 
বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজদ্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৯৪.
'ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।' - বাক্যে 'কর্তব্য' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. বিদেশগাত ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. প্রযোজক ধাতু
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ধাতু: 
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৯৫.
'দর্শন' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দৃশ + অন
  2. √দশ + অন
  3. √দৃ + শন
  4. √দৃশ + শন
ব্যাখ্যা

• 'দর্শন' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: √দৃশ + অন।
- সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

অনট্-প্রত্যয়: ('ট' ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে):
- √নী + অনট্ = নী + অন > নে + অন (গুণসূত্রে) = নয়ন,
- √শু+ অনট্ = √শু + অন (গুণ ও সন্ধির ফলে) = শ্রবণ।
এরূপ স্থান, ভোজন, নর্তন, দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৯৬.
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) দেনাদার
  2. খ) ধোঁকাবাজ
  3. গ) জবানবন্দি
  4. ঘ) টিপসই
ব্যাখ্যা

'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়। এটি 'সহি' (অর্থ - স্বাক্ষর) শব্দ থেকে উৎপন্ন ।

'বাজ' ফারসি প্রত্যয়যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হচ্ছে - গলাবাজ, কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ ইত্যাদি।
'দার' ফারসি প্রত্যয়যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হচ্ছে - তাঁবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার ইত্যাদি
'বন্দি/'বন্দ্‌'' ফারসি প্রত্যয়যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হচ্ছে - জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯৭.
"ক্রেতা" - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ক্রী + বতুপ
  2. √ক্রী + তৃচ্
  3. √ক্রী + ষ্ণিক
  4. √ক্রী + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।

যেমন:
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা,
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)

২৯৮.
'দর্শন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দৃশ + অন
  2. √দশ + অন
  3. √দৃ + শন
  4. √দৃশ + শন
ব্যাখ্যা

• 'দর্শন' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: √দৃশ + অন।
- সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

অনট্-প্রত্যয়: ('ট' ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে):
- √নী + অনট্ = নী + অন > নে + অন (গুণসূত্রে) = নয়ন,
- √শু+ অনট্ = √শু + অন (গুণ ও সন্ধির ফলে) = শ্রবণ।
এরূপ স্থান, ভোজন, নর্তন, দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৯৯.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কণ্টক + ইত = কণ্টকিত
  2. ফেন + ইল্ = ফনিল
  3. গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা
  4. ঘর + ওয়া = ঘরোয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০০.
'গৌরব' শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. গৌর + অব
  2. গৌর + বতুপ
  3. গুরু + ষ্ণ
  4. গুরু + অব
ব্যাখ্যা
• 'গৌরব' শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় গুরু + ষ্ণ।

• ষ্ণ (অ) প্রত্যয়:

- অপত্য অর্থে : মনু + ষ্ণ = মানব, যদু + ষ্ণ = যাদব।
- উপাসক অর্থে : শিব + ষ্ণ= শৈব, জিন + ষ্ণ = জৈন। 
- ভাব অর্থে : শিশু+ষ্ণ = শৈশব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব, কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর।
- সম্পর্ক বোঝাতে: পৃথিবী+ ষ্ণ = পার্থিব, দেব + ষ্ণ = দৈব, চিত্র (একটি নক্ষত্রের নাম)+ ষ্ণ = চৈত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।