ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
নম্র = নম্ + র ; 'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
স্থাবর = স্থা + বর্ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
চত্বর = চত্ + বর্ ; 'বর' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৯ / ২০ · ১,৮০১–১,৯০০ / ১,৯২৬
মৌলিক ধাতু ৩ প্রকার। যথা:
ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দমূল বা নাম প্রকৃতির সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- তদ্ধিত প্রত্যয় মূলত তিন প্রকার—
১. সংস্কৃত তদ্ধিত,
২. বাংলা তদ্ধিত,
৩. বিদেশি তদ্ধিত।
-----------------------------
• ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়- বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো সেইসব প্রত্যয়, যা ফারসি বা আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
- এই প্রত্যয় সাধারণত নামবাচক বা বিশেষ্য পদ গঠনে ব্যবহৃত হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি, স্থানের নাম বা বৈশিষ্ট্যসূচক অর্থও প্রকাশ করে।
- জেলখানা, সুদখোর, ধোঁকাবাজ- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
- কিছু ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
• আফগানিস্তান,
• পাকিস্তান,
• হিন্দুস্থান,
• কারখানা,
• ছাপাখানা,
• চিড়িয়াখানা,
• বালাখানা,
• চালবাজ,
• মামলাবাজ,
• গাঁজাখোর,
• নেশাখোর,
• চশমখোর,
• সওদাগর,
• বাজিকর,
• নজরবন্দি,
• বাক্সবন্দি,
• জবানবন্দি,
• কেমনতর,
• এমনতর, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √বিচ্ + ক্ত = উক্ত।
-----------------
• ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।
বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্ + ক্ত (পঠ্ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।
(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।
(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বিচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্ + ক্ত = হত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, ইষ্ঠ, ঈন্, বতু্প্, নীন, নীয়, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: আরু, ইয়া, অট, লা, আটিয়া, উক, উয়া, আই, আ, উরিয়া ইত্যাদি।
যেমন:
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই।
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি।
- ভরা + অট = ভরাট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় = সৃষ্টি = √সৃজ্ + ক্তি বা সৃষ্টি = √সৃজ্ + তি।
ক্তি (তি) প্রত্যয়:
কিছু ধাতুর শেষের ব্যঞ্জন লোপ পায়।
যেমন-
- √গম্ + ক্তি (তি) = গতি
- √মন্ + ক্তি (তি) = মতি
- √রম্ + ক্তি (তি) = রতি
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮সংস্করণ)।
• অন (<অনট) প্রত্যয়:
• √নন্দ + ই + অন = নন্দন,
- √সাধ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্ + অন = বর্ধন ইত্যাদি।
- √গম + অন = গমন, শী + অন = শয়ন, এরূপ- দান, স্নান,
- √কৃ + অন = করণ,
- √নী + অন = নয়ন, √চর্ + অন = চরণ ইত্যাদি।
- √শী + অন = শয়ন, √স্থা + অন = স্থান, √ভূ + অন = ভুবন, √উদ্-যা + অন = উদ্যান ইত্যাদি।
- √গণ+ অন আ-গণনা, √উপ + আস্+অন+আ=উপাসনা, এরূপ-এষণা, বেদনা।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√নাচ্ + অন = নাচন,
√ডুব্ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন-
সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'। 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।
• মৌলিক ধাতু:
- যে-সব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-
চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।
• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• ‘মাধব’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: মধু + ইমন্।
- ‘মাধব’ শব্দটি 'মধু’ বিশেষণের সাথে সংস্কৃত তদ্ধিত ‘ইমন’ প্রত্যয়ের সংযুক্তিতে গঠিত।
- এখানে ‘মধু’ হলো মূল শব্দ বা প্রকৃতি।
---------------------------
• সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয় হলো এমন একটি সংস্কৃত প্রত্যয় যা মূল শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এটি মূলত ‘ইমন্’ শব্দাংশের রূপান্তর।
- এই প্রত্যয় শব্দের মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গতা’, ‘নিকটবর্তীতা’ বোঝাতে সাহায্য করে।
- এই প্রত্যয় মূল শব্দকে বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে রূপান্তরিত করে এবং গুণ বা ভাব প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- উদাহরণস্বরূপ:
• মধু + ইমন্ = মাধব (মধুর বা মধুময়),
• গুরু + ইমন্ = গৌরব (গুরুত্ব),
• লঘু + ইমন্ = লাঘব (হালকা বা লঘুতা),
• মহৎ + ইমন্ = মহিমা (মহত্ত্ব)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- √ নাচ্ + অন = নাচন,
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √ বাঁধ + অন = বাঁধন,
- √ চল্ + অন = চলন,
উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
- সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়:
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।
- সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'।
- অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• কয়েকটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- চাষ + ই = চাষি,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- গ্রাম + ঈন = গ্রামীণ,
• কয়েকটি কৃৎ পত্যয়ের উদাহরণঃ
- খেল্ + অনা = খেলনা,
- দুল + অনা = দোলনা,
- পড়ু + আ = পড়া,
- শুন্ + আ = শোনা,
- পঠ্ + ইত = পঠিত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
• √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়।
• শুদ্ধ প্রত্যয়- √শিক্ + ক্তি = শক্তি।
• বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ-প্রত্যয়:
(ক) ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- √মন্ + ক্তি = মতি, √রম্ + ক্তি = রতি।
(খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়। যেমন- √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), √শম্ + ক্তি = শান্তি।
(গ) 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বিচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভিজ্ + ক্তি = ভক্তি।
(ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ: √গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ্ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ্ + ক্তি = বুদ্ধি, √শিক্ + ক্তি = শক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর: খ) গম্।
- √ গম্ + তব্য (গম্ + তব্য = গন্তব্য); এখানে √গম্ হলো প্রকৃতি, যা একটি ক্রিয়া প্রকৃতি (ধাতু) এবং তব্য হলো কৃৎ প্রত্যয়, যা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'গন্তব্য' (যাওয়া উচিত/যাবে) শব্দটি গঠন করেছে।
------------
প্রকৃতি:
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
সুতরাং, ক্রিয়া শব্দের মূল ও নামশব্দের মূল উভয়ই - প্রকৃতি।
• ক্রিয়া প্রকৃতি:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।
‘গন্তব্য’ শব্দটি ব্যাখ্যা:
‘গন্তব্য’ শব্দটি এসেছে গম্ ধাতু (অর্থাৎ “যাওয়া”) থেকে। এখানে, 'গম' হলো- ধাতু/প্রকৃতি এবং 'তব্য' হলো - প্রত্যয়।
এখানে গম্ + তব্য = গন্তব্য, অর্থাৎ যেখানে যাওয়া উচিত বা যেখানে গমন করা কর্তব্য।
অর্থাৎ,
গন্তব্য = গম্ (যাওয়া) + তব্য (যোগ্য) → যেখানে যাওয়া উচিত।
উল্লেখ্য,
• 'গন্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ গম্ + তব্য।
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
কিন্ হলো বাংলা ধাতুর উদাহরণ।
অর্থঃ কেনা, কেনাকাটা।
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা - সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি ধাতু৷
সংস্কৃত ধাতু - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্, স্থা ইত্যাদি।
বাংলা ধাতু - কিন্, আঁক্, কাঁদ্, নাচ্, কর্ ইত্যাদি৷
বিদেশি ধাতু - ঢাক্, টান্, ঝুল্, খাট্ ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
• 'কহ্' ধাতু যোগে সাধিত শব্দ- কওয়া, কহন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'মিথ্যুক = মিথ্যা + উক; এখানে, 'মিথ্যুক' শব্দটি - বাংলা তদ্ধিতপ্রত্যয় 'উক' যোগে গঠিত হয়েছে।
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা নাম প্রকৃতির সাথে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
• উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে:
- লাজ + উক = লাজুক,
- মিথ্যুক = মিথ্যা + উক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• অন (<অনট) প্রত্যয়:
• √নন্দ + ই + অন = নন্দন,
- √সাধ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্ + অন = বর্ধন
- √গম + অন = গমন,
- √শী + অন = শয়ন,
- √কৃ + অন = করণ,
- √নী + অন = নয়ন,
- √চর্ + অন = চরণ
- √শী + অন = শয়ন,
- √স্থা + অন = স্থান,
- √ভূ + অন = ভুবন,
- √গণ+ অন আ-গণনা,
- √উপ + আস্+অন+আ=উপাসনা, এরূপ-এষণা, বেদনা।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• 'বর্ধমান' এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় - বৃধ্ + শানচ্।
• শানচ্-প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ, 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
√দীপ্+ শানচ্ = দীপ্যমান।
√চল্ + শানচ্ = চলমান,
√বৃধ্ + শানচ্ = বর্ধমান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• ষ্ণ্য (ষ)সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
(ক) অপত্যার্থে: মনুঃ + ষ্ণ্য = মনুষ্য, জমদগ্নি+ ষ্ণ্য = জামদগ্ন্য।
(খ) ভাবার্থে: সুন্দর+ ষ্ণ্য = সৌন্দর্য, শূর+ ষ্ণ্য = শৌর্য। ধীর+ ষ্ণ্য= ধৈর্য।
(গ) বিশেষণ গঠনে: পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য, বেদ+ ষ্ণ্য = বৈদ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
-ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
ফেন + ইল্ = ফেনিল।
ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- কুসুম+ ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।
ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে-
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
√ব্যধ্ + ত = বিদ্ধ হলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এরূপ-
- কৃ + ত = কৃত
- √জন + ত = জাত
- √সৃজ্ + ত = সৃষ্ট
- √ইষ্ + ত = ইষ্ট
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট।
বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্ + ক্ত (পঠ্ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।
(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।
(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্ + ক্ত = হত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• উয়া/ওয়া>ও- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: সম্পর্কিত অর্থে-
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া,
- জল + উয়া = জলুয়া > জলো (দুধ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।