• √গম্ + অন্ (অনট্) = গমন- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
------------------------
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- অর্থাৎ, ক্রিয়ামূল বা ধাতুর পরে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ—যা বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়— গঠন করে তাদেরকে কৃৎপ্রত্যয় বলা হয়।
• কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার:
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এবং
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয়গুলো ধাতু বা ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- উদাহরণ:
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না।
- √কাঁদ+অন = কাঁদন।
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি।
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যে সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদেরকে সংস্কৃত কৃত প্রত্যয় বলা হয়।
- সংস্কৃত কৃত প্রত্যয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে বাংলায় পরিবর্তিত রূপ পেয়েছে।
- যেমন:
- সংস্কৃত: ণক → বাংলা: অক।
- সংস্কৃত: অনট → বাংলা: অন।
- উদাহরণ:
√গৈ + অক (ণক্) = গায়ক।
√ণী + অক (ণক্) = নায়ক।
√গম্ + অন্ (অনট্) = গমন।
- আরও কিছু উদাহরণ:
√চ + অ = চয়।
√কৃ + অনীয় = করণীয়।
√রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।