বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধাতু ও প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন১,৯২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধাতু ও প্রত্যয়

PrepBank · পাতা ১৮ / ২০ · ১,৭০১১,৮০০ / ১,৯২৬

১,৭০১.
'ঈনী, নী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) মেধাবিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
ব্যাখ্যা
'অরণ্যানী'- 'ঈনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়। 
- 'আনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ 'অরণ্যানী' যা বৃহৎ অরণ্য বোঝায়। 

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী
- হিম- হিমানী ( জমানো বরফ) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭০২.
‘গীতি’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √গী + ত্তি
  2. √গৈ + ক্তি
  3. √গী + ক্তি
  4. √গৈ + ত্তি
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
 
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।
 
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।
 
•নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ হলো:
- √গৈ + ক্তি = গীতি;
- √বুদ্ + ক্তি = বুদ্ধি;
- √সিধ্ + ক্তি = সিদ্ধি; 
- √শক্ + ক্তি = শক্তি। 
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭০৩.
ব্যাকরণের কোন অংশে ধাতু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) অর্থতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology): সমাস, প্রকৃতি-প্রত্যয় (প্রকৃতি-প্রত্যয় শব্দ নিয়ে কাজ করে। মনে রাখা দরকার, প্রকৃতি মাত্রই প্রাতিপদিক বা ক্রিয়াপদ, অর্থাৎ স্বাধীন শব্দ। ), কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, বচন, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, পদাশ্রিত নির্দেশক, ধাতু, শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১,৭০৪.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন
  2. ঘর + আমি = ঘরামি
  3. বাঘ + আ = বাঘা
  4. ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
মনু + ষ্ণ = মানব;
লোক + ষ্ণিক = লৌকিক,
দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় - ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭০৫.
'উড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √উড় + উয়া
  2. √উড়া + উয়া 
  3. √উড় + ও
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'উড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √উড় + উয়া এবং √উড় + ও (ক ও গ উভয়ই)।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- 'উয়া' বিকল্পে 'ও' - প্রত্যয়:
বিশেষ্য বিশেষণ গঠনে 'উয়া' এবং 'ও' প্রত্যয় হয়।
যথা -
- √পড় + উয়া = পড়ুয়া > পড়ো,
- √উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো, √উড় + ও = উড়ো (চিঠি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭০৬.
‘ওয়ান’ কোন প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা সংস্কৃত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়;
২. তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়;
৩. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

---------------------------
• কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
আনা (গরিবানা),
আনি (বাবুয়ানি),
ওয়ান (গাড়োয়ান),
খানা (ছাপাখানা),
গর (কারিগর),
দার (চৌকিদার),
বাজ (চালবাজ),
সই (মানানসই) ইত্যাদি৷

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১,৭০৭.
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কী বলে?
  1. কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. কৃদন্ত শব্দ
  4. তদ্ধিতান্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭০৮.
‘কার্য’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কৃ + য
  2. খ) √কৃ + য্য
  3. গ) √কৃ + ঘ্যণ্‌
  4. ঘ) √কৃ + ণক
ব্যাখ্যা
কর্ম ও ভাব বাচ্যে ঘ্যণ্‌ হয়। যথা- √কৃ + ঘ্যণ্‌ = কার্য্য> কার্য। যথা- √ধৃ + ঘ্যণ্‌ = ধার্য। এরূপ- পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য, হাস্য ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
১,৭০৯.
‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বাংলা কৃৎ
  2. খ) সংস্কৃত কৃৎ
  3. গ) বাংলা তদ্বিত
  4. ঘ) সংস্কৃত তদ্বিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘আভাসিত’ শব্দটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
- ‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় বিশ্লেষণ: আ + √ ভাসি + ত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন,
১,৭১০.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. গরিবানা
  2. জুতানো
  3. ছাপাখানা
  4. জুতসই
  5. ধোঁকাবাজি
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - আমি, আচ, আচি, আত, আই, আইত, আনো যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।
- জমিদার + ই = জমিদারি।
- বড় + আই = বড়াই।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- কানা + আচ = কানাচ।
- পো + আত = পোয়াত।
- সেবা + আইত = সেবাইত।
- জুতা + আনো = জুতানো।
- ঘাম + আনো= ঘামানো।
- নাক + আমি = নাকামি।

অপরদিকে,
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়-আনা, খানা, সই, বাজ, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- গরিব + আনা = গরিবানা।
- ছাপা + খানা = ছাপাখানা।
- ঘর + আনা = ঘরানা।
- জুত + সই = জুতসই।
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা।
- দার + ওয়ান = দারোয়ান।
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজ > ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭১১.
কোনটি 'উল্‌টা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কোঁকড়া
  2. ছিট্‌কা
  3. ধম্‌কা
  4. মুচ্‌ড়া
ব্যাখ্যা
• 'উল্‌টা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - মুচ্‌ড়া

অন্যদিকে,
• 'ছোবলা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কোঁকড়া।
• 'বিগ্‌ড়া' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ছিট্‌কা।
• 'চট্‌কা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ধম্‌কা।

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ কাট্‌ - আদিগণ,
→ গাহ্‌ - আদিগণ,
→ লিখ্‌ - আদিগণ,
→ উঠ্‌ - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭১২.
'মনুষ্যত্ব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনুষ + ত্ব
  2. মানুষ + ত্ব
  3. মনুষ্য + ত্ব
  4. মানুষ + ত্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
ঈয় (ষ্ণীয়, ছ): 
- জল + ঈয় = জলীয়, 
- আত্মন্ + ঈয় = আত্মীয়, 
- মানব + ঈয় = মানবীয়, 
- রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয়। 

ত্ব: 
- মাতৃ + ত্ব = মাতৃত্ব, 
- মনুষ্য + ত্ব = মনুষ্যত্ব
- ভ্রাতৃ + ত্ব = ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,৭১৩.
সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করুন-
  1. √ক্রী + তৃচ = ক্রেতা
  2. √কৃ + তা = ক্রেতা
  3. √ক্রি + তা = ক্রেতা
  4. √ক্রে + তৃচ = ক্রেতা
ব্যাখ্যা
 • 'ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √ক্রী + তৃচ।

• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ=√দা + তৃ=√দা + তা= দাতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭১৪.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ডুবন্ত
  2. লাজুক
  3. মোড়ক
  4. ঝলক
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

অন্যদিকে,
 • কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত।
- মুড়্ + অক=মোড়ক।
- ঝিল্ + অক ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭১৫.
'জাগরূক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাগৃ + ষ্ণিক
  2. √জাগ + উক্‌
  3. √জাগৃ + ঊক
  4. √জাগ্‌ + ঊক
ব্যাখ্যা
জাগরূক (বিশেষণ): 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √জাগৃ + ঊক । 

শব্দের অর্থ:
১. জাগ্রত; জাগরণশীল; সজাগ।
২. সাবধান; সতর্ক; হুঁশিয়ার।
৩. অবিস্মৃত বা জাজ্বল্যমান বা স্পষ্টরূপে অঙ্কিত (তোমার স্মৃতি আমার হৃদয়ে জাগরূক আছে)।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,৭১৬.
'গ্রামীণ' শব্দে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ইন
  2. ঈন
  3. ঈণ
  4. মীণ
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- যেমন - বাঘ + আ =বাঘা; দিন + ইক = দৈনিক।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোন অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

• ঈন প্রত্যয়যোগে :
- গ্রাম + ঈন = গ্রামীণ। (এখানে তদ্ধিত প্রত্যয় - 'ঈন' যুক্ত হয়েছে)
- সর্বজন +ঈন = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,৭১৭.
'ধারণ' শব্দটিতে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধৃ
  2. ধর্‌
  3. ধরা
  4. ধার্‌
ব্যাখ্যা
• 'ধারণ' শব্দটিতে 'ধৃ' ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে।

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ
দৃশ্‌ - দৃশ্য, দর্শন।
ধৃ - ধৃত, ধারণ
বন্ধ্‌- বন্ধন।
বুধ্‌ - বুদ্ধ, বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭১৮.
'বারিধি' শব্দটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. সমাসযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. উপসর্গযোগে
ব্যাখ্যা

• বারিধি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়- [বারি+√ধা + ই]। 
অর্থ: বারিধর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,৭১৯.
'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পানা + সে
  2. পান + এসে
  3. পানি + সে
  4. পানি + এ
ব্যাখ্যা
• 'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: পানি + সে।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১,৭২০.
'কুল কাঠের আগুন' -এর প্রকৃত অর্থ কি?
  1. ক) তীব্র জ্বালা
  2. খ) কাঠের পুতুল
  3. গ) কুপমণ্ডুক
  4. ঘ) এলাহী কাণ্ড
ব্যাখ্যা

কুল কাঠের আগুন - তীব্র জালা।
কাঠের পুতুল - ব্যক্তিত্বহীন মানুষ।
কূপমণ্ডূক - সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
এলাহী কাণ্ড - বিরাট আয়োজন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী ও শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১,৭২১.
'লাফা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. কাটা
  2. ছিটা
  3. ছিট্‌কা
  4. পৌঁছা
ব্যাখ্যা
• 'লাফা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কাটা

অন্যদিকে,
• 'ফিরা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ছিটা।
• 'বিগ্‌ড়া' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ছিট্‌কা।
• 'দৌড়া' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - পৌঁছা।

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ লাফা - আদিগণ,
→ ফিরা - আদিগণ,
→ বিগ্‌ড়া - আদিগণ
→ দৌড়া - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭২২.
'শান্তি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. শম্+ক্তি
  2. শান্‌ + ক্তি
  3. শন্‌ + ক্তি
  4. শু + ক্তি
ব্যাখ্যা
• 'শান্তি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় শম্+ক্তি।

• সূত্র:
• কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন- √শ্রম্+ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), শম্+ক্তি = শান্তি।

• উপধা:
- ধাতু বা শব্দের অন্ত্যবর্ণের পূর্ব বর্ণকে উপধা বলে।
- অন্ত্য বর্ণ মানে শেষ বর্ণ।
- অর্থাৎ ধাতু বা শব্দের (এক কথায় বললে প্রকৃতি) শেষ বর্ণটির আগে যে বর্ণ থাকে, তাকে উপধা বলে।

• বৃদ্ধি:
- অ-স্থলে আ,
- ই ও ঈ-স্থলে ঐ,
- উ ও ঊ স্থলে ঔ এবং
- ঋ-স্থলে আর্ হয়।
যেমন পচ্ + অ (ণক) = পাচক (পচ্‌-এর'অ' স্থলে 'আ')

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
১,৭২৩.
কোন শব্দটি কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডুবন্ত
  2. বাঘা
  3. ধড়িবাজ
  4. ডাক্তারখানা
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: : ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি+ বাজ = ধড়িবাজ, বাঘ+ আ = বাঘা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭২৪.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) √যুধ্ + তৃচ = যোদ্ধা
  2. খ) √কৃ + তৃচ্ = ক্রেতা
  3. গ) √দা + তৃ = দাতা
  4. ঘ) √মা + তৃচ্ = মাতা
ব্যাখ্যা

তৃচ্-প্রত্যয় : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়৷
যেমন-
√দা + তৃচ্ / তৃ/ তা = দাতা,
√মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা৷

বিশেষ নিয়মে: √যুধ্ + তৃচ/তা = যোদ্ধা৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭২৫.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতুর উদাহরণ?
  1. খাদ্‌
  2. ঘৃষ্‌
  3. হস্‌
  4. কাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ধাতুর উদাহরণ - কাঁদ। 

অন্যদিকে,
- ঘৃষ্‌, খাদ্‌ ও হস্‌- সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ। 

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন
- চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

- মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা - ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭২৬.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. পঠিত
  2. খণ্ডিত
  3. শিক্ষিত
  4. তরঙ্গিত
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে- কুসুম + ইত = কুসুমিত, তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত, কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

অন্যদিকে,
----------------
• বিশেষ নিয়মে ‘ক্ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
ক্ত- প্রত্যয় যুক্ত হলে নিন্মলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর ‘ই’-কার হয়। 
যেমন:
• √পঠ + ক্ত; √পঠ +ই + ত্ = পঠিত।

এরূপ-
• √ক্ষুধ্ + ত = ক্ষুধিত।
• √খণ্ড্ + ত্ = খণ্ডিত।
• √ব্যাথ্ + ত্ = ব্যথিত।
• √শিক্ষ্ + ত = শিক্ষিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭২৭.
'কেষ্টা' কী অর্থে ব্যবহৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) সদৃশ অর্থে
  2. খ) বৃহদার্থে
  3. গ) অবজ্ঞার্থে
  4. ঘ) সমষ্টি অর্থে
ব্যাখ্যা
শব্দে সঙ্গে যে সব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

আ- প্রত্যয়:

ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা
খ) বৃহদার্থে: ডিঙ্গি + আ = ডিঙ্গা
গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা হাত + আ = হাতা।
ঘ) সমষ্টি অর্থে : বিশ + আ = বিশা বাইশ + আ = বাইশা
ঙ স্বার্থে : জট + আ = জটা চোখ + আ = চোখা চাক + আ = চাকা
চ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে:  হাজির + আ = হাজিরা চাষ + আ = চাষা


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯সংস্করণ]
১,৭২৮.
'জয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জি + ইক
  2. √জ + অ
  3. √জি + অ
  4. √জ + ই
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
অ (অচ্)
- √পট্ + অ = পাঠ, 
- √জি + অ = জয়।

অনীয় (অনীয়র্):
- √কৃ + অনীয় = করণীয়, 
- √পা + অনীয় = পানীয়, 
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়, 
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণী।
১,৭২৯.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ঈশ্বর
  2. তেজস্বী
  3. ক্ষয়িষ্ণু
  4. ভাস্বর
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৩০.
‘বাস’ শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বস্‌ + ঘঞ্‌
  2. √বস্ + ঔঞ্‌
  3. √বস্ + ওঘ
  4. √বস্‌ + অঞ্‌
  5. √বস্‌ + ওঞ্‌
ব্যাখ্যা

ঘঞ্‌-প্রত্যয় (কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে:
√বস্‌ + ঘঞ্‌ = বাস
√যুজ্‌ + ঘঞ্‌ = যোগ
√ক্রুধ্‌ + ঘঞ্‌ = ক্রোধ
√খুদ্‌ + ঘঞ্‌ = খেদ ইত্যাদি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

১,৭৩১.
কোন শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বোনাই
  2. ঢোলক
  3. নিমাই
  4. দ্বৈপায়ন
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
আয়ন (ষ্ণায়ন, ফক্):
- নর + আয়ন = নারায়ণ,
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
- রাম + আয়ন = রামায়ণ।

অ (ষ্ণ, অণু):
- মনু + অ = মানব,
- দনু + অ = দানব,
- মধু + অ = মাধব।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অক:
ঢোল + অক = ঢোলক
নোল + অক = নোলক,
গোল + অক = গোলক।

আই:
নিম + আই = নিমাই
কানু + আই = কানাই, 
বোন + আই = বোনাই

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৩২.
বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ক) দেনাদার
  2. খ) ধোঁকাবাজ
  3. গ) জবানবন্দি
  4. ঘ) বাহাদুরি
ব্যাখ্যা
বাহাদুর + ই = বাহাদুরি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় ই রোগে গঠিত হয়। বাকিগুলো বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৭৩৩.
'মাধ্যমিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মধ্য + ইক
  2. খ) মধ্যম + ইক
  3. গ) মাধ্য + ইক
  4. ঘ) মাধ্যম + ইক
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক 
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী, 
- মধ্যস্থ
- মধ্যম সম্পর্কিত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৭৩৪.
প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি কোন শব্দটি?
  1. মাধুর্য
  2. মেঘলা
  3. ফলবান
  4. অন্নজল
ব্যাখ্যা

•  প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি- 'অন্নজল' শব্দটি।

• 'অন্নজল' শব্দটি সন্ধি সাধিত শব্দ।
• "অন্ন + জল = অন্নজল"।

অন্যদিকে,
• মাধুর্য (মধুর + ষ্ণ ) প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।
• এছাড়া মেঘলা (মেঘ + লা) ও ফলবান (ফল + বান) প্রত্যয়যােগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১,৭৩৫.
সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. পুষ্পিত
  2. পাঠক
  3. চোরাই 
  4. থালা
ব্যাখ্যা

• 'পাঠক ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো √পঠ্ + অক ।
এটি একটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়।

এরূপ আরো কিছু সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় এর উদাহরণ হলো-
- √কৃ + অক = কারক
- √নী + অক = নায়ক
- √শ্রু + অক = শ্রাবক
- √নৃৎ + অক= নর্তক
- √স্মৃ + অক = স্মারক

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন - অণু + ইক = আণবিক, পুষ্প + ইত = পুষ্পিত। 

 • বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: 
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন - থাল + আ = থালা, চোর + আই = চোরাই ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৩৬.
‘এ এক বিরাট সত্য’ এখানে ‘সত্য’ কোন শব্দ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• এ এক বিরাট সত্য’—এখানে ‘সত্য’ একটি বিশেষ্য।
বিশেষণ সবসময় বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
বিরাট একটি বিশেষণ।
[বিরাট্‌] (বিশেষণ) ১ বিশাল; প্রকাণ্ড; সুবৃৎ।

• যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
গুণবাচক বিশেষ্য : মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,৭৩৭.
'দাতব্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দা + তব্য
  2. √দাত +অব্য
  3. √দাত + তব্য
  4. √দাতৃ + ব
ব্যাখ্যা
• 'দাতব্য' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √দা + তব্য = দাতব্য।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ।
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন -
→ √গম্ + অন = গমন,
→ √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• তব্য ও অনীয় প্রত্যয়:
কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়।
(ক) তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য, √দা + তব্য = দাতব্য, √পঠ্‌ + তব্য = পঠিতব্য।
(খ) অনীয়: √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ্‌ + অনীয় = রক্ষণীয়, √দৃশ্‌ + অনীয় = দর্শনীয়।
এরূপ - পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৩৮.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ছাপা + খানা
  2. জন + অক
  3. রাঁধ + উনি
  4. কাঁদ + না
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৭৩৯.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়।
  1. স্থাবর
  2. জয়
  3. ঈশ্বর
  4. চোরা
ব্যাখ্যা

স্থা + বর = স্থাবর, জি + অল্ = জয়, ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে এগুলো কৃৎ প্রত্যয়।

পক্ষান্তরে চোর + আ = চোরা। এটি তদ্ধিত প্রত্যয়।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (পুরাতন)

১,৭৪০.
'করণীয়' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১. কৃৎ প্রত্যয় এবং
২. তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন;
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √দুল্ + অনা = দোলনা;
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √নৈ + অক = নায়ক;
- √গৈ + অক = গায়ক;
- √কৃ + অনীয় = করণীয়;
- √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৪১.
’ফোড়ন’ শব্দটি গঠিত হয়েছে-
  1. প্রত্যয়যোগে
  2. সমাসযোগে
  3. উপসর্গযোগে
  4. সন্ধিযোগে
ব্যাখ্যা
• ’ফোড়ন’ শব্দটি গঠিত হয়েছে - প্রত্যয়যোগে
- এটি 'অন' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়: 
অন-প্রত্যয়:
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন (কান্নার ভাব)।
- √ফোড়্‌ + অন = ফোড়ন
এরূপ - নাচন, বাড়ন, ঝুলন, দোলন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৪২.
বার্ষিক শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) বর্ষা + ইক
  2. খ) বর্ষ + অক
  3. গ) বর্ষ + ণক
  4. ঘ) বর্ষ + ইক
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ইক থাকলে ইক/ষ্ণিক হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয় 
সাহিত্যিক = সাহিত্য + ইক/ষ্ণিক
নাগরকি = নগর + ইক/ষ্ণিক
বার্ষিক = বর্ষ + ইক/ষ্ণিক
আণবিক = অণু + ইক/ষ্ণিক

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,৭৪৩.
'কৃষ্টি' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়-
  1. √ কৃষ্ + টি
  2. √ কৃ্ষ্ + তি
  3. √ কৃ + তি
  4. √ কৃষ্ট + ই
ব্যাখ্যা
• ‘কৃষ্টি’ এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়- √ কৃষ্ + তি।

• কৃষ্টি (বিশেষ্য পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (√কৃষ্‌ + তি),
অর্থ:
- হালচাষ;
- কর্ষণ;
- কৃষিকার্য।

• নিয়ম:
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- তি প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি;
- √স্মৃ + তি = স্মৃতি;
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
-√বাড় + তি = বাড়তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৪৪.
'ভাস্বর' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ভাস্ + বর
  2. √ভাস্ + কর
  3. √ভাস্ + সর
  4. √ভাস্ + স্বর
ব্যাখ্যা
• কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় হলো:

বর-প্রত্যয়:
-√ঈশ্ + বর = ঈশ্বর;
-√ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
-√নম্ + র = নম্র।

ইষ্ণ-প্রত্যয়:
-√চল্ + ইষ্ণ = চলিষ্ণু;
এরূপ- ক্ষয়িষ্ণু, বর্ধিষ্ণু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৪৫.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ নয়-
  1. পল্লবিত
  2. কুসুমিত
  3. লতানো
  4. নীলিমা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৪৬.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. গায়ক
  2. রক্ষণীয়
  3. নায়ক
  4. নাচন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৪৭.
কোনটি সাধিত ধাতু?
  1. দেখা
  2. চল্
  3. শো
  4. কর্
ব্যাখ্যা
সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
→ দেখ + আ = দেখা,
→ পড় + আ = পড়া,
→ বল + আ = বলা।
- সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
যেমন -
→ মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' = দেখায়)।
এরূপ - শোনায়, বসায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন - চল্, পড়্‌, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৪৮.
'বৈদিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. ক) বিদ + ষ্ণিক
  2. খ) বেদ + ষ্ণেক
  3. গ) বিদ + ইক
  4. ঘ) বেদ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়যােগে সম্বন্ধ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়। যেমন- বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক, সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক, সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক।
১,৭৪৯.
'লেখক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ লেখ্‌ + অক
  2. √ লিখ্‌ + অক
  3. √ লেখ + অক
  4. √ লিখ্‌ + য়ক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) √ লিখ্‌ + অক।

ব্যাখ্যা:
'লেখক' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
-√ লিখ্ (মূল ধাতু) + অক (প্রত্যয়) = লেখক।

অন্যান্য উদাহরণ:
- √গৃহ্ + অক = গ্রাহক
- √নী + অক = নায়ক।
- √কৃ + অক = কারক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৫০.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. আটিয়া
  2. তৃচ্
  3. ওয়ালা
  4. গর
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্-প্রত্যয় ( ‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।

অন্যদিকে,
• ‘আটিয়া’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
• ‘ওয়ালা’ ও ‘গর’ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫১.
'দৈব' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নিচের কোনটি?
  1. ক) দেব + ষ্ণ্য
  2. খ) দিব + ষ্ণ্য
  3. গ) দেব + ষ্ণ
  4. ঘ) দেব + ষ্ণি
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে 'দেব + ষ্ণ'।
- এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- এখানে সম্পর্ক বোঝাতে 'ষ্ণ' (অ) প্রত্যয় ব্যবহার করা হয়েছে।

-আরও কিছু উদাহরণ হলো:
•পৃথিবী + ষ্ণ= পার্থিব
•চিত্র + ষ্ণ = চৈত্র

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫২.
কোনটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ?
  1. রান্না 
  2. কাঁদন 
  3. গমন
  4. বাঁধুনি 
ব্যাখ্যা

√গম্‌ + অন্‌ (অনট্‌) = গমন- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
------------------------
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- অর্থাৎ, ক্রিয়ামূল বা ধাতুর পরে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ—যা বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়— গঠন করে তাদেরকে কৃৎপ্রত্যয় বলা হয়।

• কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার:
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এবং
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।

- এই প্রত্যয়গুলো ধাতু বা ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- উদাহরণ:
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না। 
- √কাঁদ+অন = কাঁদন। 
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি। 

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যে সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদেরকে সংস্কৃত কৃত প্রত্যয় বলা হয়।
- সংস্কৃত কৃত প্রত্যয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে বাংলায় পরিবর্তিত রূপ পেয়েছে।

- যেমন:
- সংস্কৃত: ণক → বাংলা: অক। 
- সংস্কৃত: অনট → বাংলা: অন। 

- উদাহরণ:
√গৈ + অক (ণক্‌) = গায়ক।
√ণী + অক (ণক্‌) = নায়ক। 
√গম্‌ + অন্‌ (অনট্‌) = গমন। 


- আরও কিছু উদাহরণ:
√চ + অ = চয়।
√কৃ + অনীয় = করণীয়।
√রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়। 


উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,৭৫৩.
'শ্রবণ' শব্দের মূল ধাতু কোনটি?
  1. শ্রব্
  2. শ্রৎ
  3. শ্রু
  4. শ্রূ
ব্যাখ্যা
• 'শ্রবণ' শব্দটি সংস্কৃত 'শ্রু' ধাতু হতে গঠিত।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫৪.
'শুনানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. √ শুনা + আনি
  2. √ শুন্‌ + নি
  3. √ শুন্‌ + আনী
  4. √ শুন্‌ + আনি
ব্যাখ্যা
• "শুনানি" শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- √ শুন্‌ + আনি।
- 'শুনানি' শব্দটি 'কৃৎ' প্রত্যয়ের উদাহরণ।  

- আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে-
• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- জ্বাল্‌ + আনি।
- ঝাঁকানি --- ঝাঁক্‌ + আনি।
- শুনানি ---- শুন্‌ + আনি।
- বাবুয়ানি = বাবু+আনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৫৫.
কর্তৃবাচ্যে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ-
  1. তপন
  2. নয়ন
  3. গমন
  4. ভুবন
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - অন (< অনট্):
• কর্তৃবাচ্যে-
- √নিন্দ্‌  + অন = নন্দন,
- √সাধ্‌ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্‌ + অন = বর্ধন ইত্যাদি।

• ভাববাচ্যে-
- √গম + অন = গমন,
- √শী + অন = শয়ন,
এরূপ- √কৃ+ অন = করণ, উদ্‌ + গৃ + অন = উদ্গিরণ ইত্যাদি।

• করণবাচ্যে-
- √নী + অন = নয়ন,
- √চর্ + অন = চরণ ইত্যাদি।

• অধিকরণবাচ্যে-
- √শী + অন = শয়ন,
- √স্থা + অন = স্থান,
- √ভূ + অন = ভুবন,
- √উদ্‌ + যা + অন = উদ্যান ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৫৬.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) নায়ক
  2. খ) গায়ক
  3. গ) করণীয়
  4. ঘ) দোলনা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১.কৃৎ প্রত্যয় এবং ২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

 কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা 

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: 
√ণী+ণক ˃ নৈ+অক = নায়ক, √গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয় 

তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা,  ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা 

উৎস:  ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ
১,৭৫৭.
নিচের কোনটি জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে ই/ঈ প্রত্যয় যুক্ত শব্দ নয়?
  1. ক) সরকারি
  2. খ) রেশমি
  3. গ) ভাগলপুরি
  4. ঘ) মাদ্রাজি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ প্রত্যয়ান্ত শব্দ (তদ্ধিত প্রত্যয়):
১. ভাব অর্থে - বাহাদুর - বাহাদুরি, উমেদার - উমেদারি।
২. বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে - মোক্তার - মোক্তারি, ডাক্তার - ডাক্তারি, পোদ্দার - পোদ্দারি।
৩. মালিক অর্থে - জমিদার - জমিদারি, দোকান - দোকানি।
৪. জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে - রেশম - রেশমি, ভাগলপুর - ভাগলপুরি, মাদ্রাজ - মাদ্রাজি।
অন্যদিকে, সরকার - সরকারি = সমন্ধবাচক শব্দ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫৮.
'পয়সা' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পয় + সা
  2. খ) পদ + সা
  3. গ) পই + সা
  4. ঘ) পাদ + সা
ব্যাখ্যা
সা প্রত্যয় যোগে ঘটিত হয় পয়সা। পাদ + সা = পয়সা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫৯.
কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ?
  1. বকলম
  2. ভাইবোন
  3. রাজপথ
  4. পারলৌকিক
ব্যাখ্যা
- দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা -
- পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
- সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

অন্যদিকে,
- রাজপথ সমাস সাধিত শব্দ। রাজার পথ = রাজপথ।
- ‘ভাইবোন’ দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ। ভাই ও বোন = ভাইবোন।
- ‘বকলম’ শব্দটি ‘ব’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৭৬০.
’মানব’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?
  1. ক) মনু + ষ্ণ
  2. খ) মনু + অব
  3. গ) মা + নব
  4. ঘ) মান + অব
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ অনুসারে,
- যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কার এবং ও-কারে পরণিত হয়। ও + অ সন্ধিতে ‘অব’ হয়।
যেমনঃ 
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- কিশাের + ষ্ণ = কৈশাের,
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব ইত্যাদি।

আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
মানব (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মনু+অ 
অর্থ - স্ত্রী বা পুরুষকুলের হোমোসেপিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত প্রাণী, মানব, মনুষ্য, নৃ।
১,৭৬১.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু নয়?
  1. ক) কাদ্‌
  2. খ) কথ্‌
  3. গ) নাচ্‌
  4. ঘ) কাট্‌
ব্যাখ্যা
• কথ্‌ - সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:

- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এ সকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

ধাতু ৩ প্রকারের। যথা -
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু: যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
- যেমন - চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা -
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৬২.
নিচের কোনটি নাম ধাতুর উদাহরণ?
  1. ঘুমা
  2. কাঁদ
  3. বুঝ
  4. নাচ্
ব্যাখ্যা
নাম ধাতুর উদাহরণ : ঘুম + আ = ঘুমা।

অন্যদিকে,
- কাঁদ, বুঝ ও নাচ্ মৌলিক ধাতুর উদাহরণ।

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে। ‘ঘুম’ থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’।
- আমাকে ধমকিও না। এখানে ‘ধমক্’ থেকে নামধাতু ‘ধমকি’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭৬৩.
'মাতা' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. আতা
  2. তৃচ্‌
  3. ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'মাতা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে 'মা + তৃচ্‌'।
- এটি তৃচ্‌-প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃত-প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন-
দা+তৃচ = দাতা,
মা + তৃচ = মাতা,
ষুধ+তৃচ = যোদ্ধা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০১৯ সংস্করণ।
১,৭৬৪.
‘প্রেম’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) প্রে+ম
  2. খ) প্রিয়+এম
  3. গ) প্রিয়+ইমন
  4. ঘ) প্রেম+অ+ব
ব্যাখ্যা
‘প্রেম’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হবে প্রিয় + ইমন৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান৷
১,৭৬৫.
সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. মেধা + বিন = মেধাবী
  2. যশ + বিন = যশস্বী
  3. মায়া + বিন = মায়াবী
  4. দয়া + বতুপ = দয়াবান
ব্যাখ্যা

• 'যশস্বী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - 'যশঃ + বিন'। 
- এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্গত।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- দয়া + বতুপ = দয়াবান, 
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।

১,৭৬৬.
নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়নি?
  1. ক) সভাসদ
  2. খ) যথেষ্ট
  3. গ) ফলবান
  4. ঘ) তন্বী
ব্যাখ্যা
'যথেষ্ট' শব্দটি সন্ধিজাত শব্দ।
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 

- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- যেমন- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, মহা + ঈশ = মহেশ, পরম + ঈশ = পরমেশ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৭.
'ক্রেতা' শব্দটির ক্ষেত্রে কোন প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তা
  2. তৃচ্‌
  3. ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √ ক্রী + তৃচ। এখানে, 'তৃচ' - প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে। 
 
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ=√দা + তৃ=√দা + তা= দাতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭৬৮.
বৃহদার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশা
  2. বাঘা
  3. চোরা
  4. ডিঙা
ব্যাখ্যা

• 'ডিঙা'- শব্দে বৃহদার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
বিশা = বিশ + আ; 'সমষ্টি' অর্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।  
বাঘা= বাঘ + আ; সদৃশ অর্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।  
চোরা = চোর + আ; অবজ্ঞার্থে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৭৬৯.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বিবিয়ানা
  2. কণ্টকিত
  3. সুখিন
  4. বাতুয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে। যথা:

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
পাগল + আমি = পাগলামি;
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই;
বাত + উয়া = বাতুয়া;
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

-------------------
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
ফেন + ইল্ = ফনিল;
সুখ + ইন্ = সুখিন;
নীল + ইমন = নীলিমা।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
দুধ+ ওয়ালা = দুধওয়ালা;
গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭৭০.
ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ সৃষ্টি করে তাকে কী বলে?
  1. ক) নাম পদ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া পদ
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়।
ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১,৭৭১.
'আকস্মিক' শব্দের ষ্ণিক (ইক) প্রত্যয়টি কোন শব্দ শ্রেণিকে নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) - প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।
(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর - নাগরিক, মাস - মাসিক, ধর্ম - ধার্মিক, সমর - সামরিক, সমাজ - সামাজিক।
(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক, সংস্কৃত + ষ্ণিক = সাংস্কৃতিক।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৭২.
কোনটি বাংলা ধাতুর উদাহরণ?
  1. পঠ্‌ 
  2. স্থা
  3. গম্
  4. জান্‌
ব্যাখ্যা

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।

যেমন:
- কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, কথ্‌, গঠ্‌, পঠ্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৭৩.
"টাকা দে" এখানে 'দে' কোন ধরনের ধাতু?
  1. মৌলিক ধাতু 
  2. নাম ধাতু 
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. বিদেশাগত ধাতু
ব্যাখ্যা

• সংযোগমূলক ধাতু:
 বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা-ই সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য পদ) + কর্ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলক ধাতু)। বাক্য- তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ কর। 
- সাবধান (বিশেষ্য) + হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)। বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

সংযোগমূলক ধাতুজাত ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে। নিচে সংযোগমূলক ধাতু যোগে গঠিত কয়েকটি ক্রিয়াপদের উদাহরণ দেওয়া হলো।
• হ-ধাতু যোগে: বড় হ, ছোট হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ। 
• দে-ধাতু যোগে: উত্তর দে, ঢাকা দে, দাগা দে, জবাব দে, কান দে, দৃষ্টি দে। 
• পা-ধাতু যোগে: কান্না পা, ভয় পা, দুঃখ পা, লজ্জা পা, ব্যথা পা, টের পা। 
• খা-ধাতু যোগে: মার খা, হিমশিম খা, ছাক খা, ঘষা খা। 
• কাট্-ধাতু যোগে: সাঁতার কাট্, ভেংচি কাট্, জিভ কাট্।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৭৪.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চালানো
  2. বিবিয়ানা
  3. বেতানো
  4. মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বিবিয়ানা (বিবি + আনা)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মুনশিয়ানা (মুনশি + আনা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৭৫.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. চোরামি
  2. গৌরব
  3. বাহাদুরি
  4. কেষ্টা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন,
মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য। 
গৌরব + ষ্ণ = গৌরব। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।
--------------------------------
অন্যদিকে, 
চোর + আমি = চোরামি , এটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
বাহাদুরি + ই = বাহাদুরি; এটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
এবং কেষ্ট + আ = কেষ্টা; বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) । 
১,৭৭৬.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. থালা
  2. পুষ্পিত
  3. বিবিয়ানা
  4. চোরাই
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প ইত= পুষ্পিত

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
থাল + আ = থালা; চোর আই = চোরাই

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৭৭.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) অম্‌+ল
  2. খ) মেঘ+লা
  3. গ) নম্‌+র
  4. ঘ) হাম্‌+লা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে মেঘ+লা = মেঘলা। যা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• অন্যান্য অপশন:
অম্‌+ল = অম্ল।
নম্‌+র = নম্র।
হাম্‌+লা = হামলা।
উপরের সবগুলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৭৮.
'মহত্ত্ব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মহৎ+ত
  2. খ) মহৎ+ত্ব 
  3. গ) মহৎ+ত্ত 
  4. ঘ) মহৎ+ত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'মহত্ত্ব' শব্দটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ- 

মহত্ত্ব (বিশেষ্য) 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = মহৎ+ত্ব 
অর্থ: মহতের ভাব, উদারতা, প্রকর্ষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৭৭৯.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মানব
  2. লৌকিক
  3. ঘরামি
  4. ধড়িবাজ
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা,
ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় - মনু + ষ্ণ = মানব; লোক + ষ্ণিক = লৌকিক।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - ঘর + আমি = ঘরামি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৮০.
'বৈজ্ঞানিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বৈজ্ঞান + ইক
  2. খ) বিজ্ঞান + ক
  3. গ) বিজ্ঞান + ষ্ণিক
  4. ঘ) বিজ্ঞান + নৈক
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) - প্রত্যয়ঃ
দক্ষতা বা বেত্তা অর্থে:
- সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক
- বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক
- বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক

বিষয়ক অর্থে:
- সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক
- নগর + ষ্ণিক = নাগরিক

বিশেষণ গঠনে:
- হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক
- অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
১,৭৮১.
কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. চলন্ত
  2. নাচন
  3. করণীয়
  4. খেলনা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
- √খেল্ + অনা = খেলনা,
- √চল্ + অন্ত = চলন্ত।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √নৈ + অক = নায়ক,
- √গৈ + অক = গায়ক,
- √কৃ + অনীয় = করণীয়
,
- √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৮২.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) বখাটে
  2. খ) মতি
  3. গ) সাঁতারু
  4. ঘ) মানব
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: মতি= √মন্‌+ ক্তি
নিয়ম: ক্তি- প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। 

তাছাড়া,
বখাটে, সাঁতারু, মানব শব্দ গুলো তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
- বখাটিয়া> বখাটে= বখা+ টিয়া 
- সাঁতার+উ= সাঁতারু 
- অপত্য অর্থে- ষ্ণ (অ) প্রত্যয়: মনু+ ষ্ণ= মানব ।


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,৭৮৩.
'শৈশব' এর প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. শিশু + ইমন
  2. শিশু + ষ্ণ্য
  3. শিশু + অ
  4. শৈব + শব
ব্যাখ্যা

- শৈশব' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - 'শিশু+অ'।

শৈশব (বিশেষ্য):
- এটির সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শোই্শ‌ব্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে বাল্যাবস্থা, শিশুকাল।
- 'শৈশব' -এর সঠিক প্রকতি ও প্রত্যয় শিশু+অ।
- 'শৈশব' একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস:
১. আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৭৮৪.
কারক শব্দের বিশ্লেষণ করলে কী পাওয়া যায়?
  1. √কৃ + রক
  2. √কৃ + অক
  3. √কার + অক
  4. √কৃষ্ + অক
ব্যাখ্যা
কারক:
- কারক শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে’। 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, √কৃ + অক (ণক)।
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক, 
- করণ কারক,
- অপাদান কারক, 
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৮৫.
"উড়ানি" - শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ঊড় + আনি
  2. √উড় + উনি
  3. √উড় + ষ্ণিক
  4. √উড় + আনি
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।

আনি-প্রত্যয়:
- বিশেষ্য গঠনে প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- √জান্ + আনি = জানানি,
- √শুন্ + আনি = শুনানি, 
- √উড় + আনি = উড়ানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৮৬.
'গৌরব' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. গুরু + ষ্ণ
  2. গুরু + ষ্ণ্য
  3. গৌর + ষ্ণ
  4. গৌর + ষ্ণ্য
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ (অ) প্রত্যয়:
(ক) অপত্য অর্থে: মনু + ষ্ণ = মানব, যদু + ষ্ণ = যাদব।
(খ) উপাসক অর্থে: শিব + ষ্ণ = শৈব, জিন + ষ্ণ = জৈন।
এরূপ,  শক্তি-শাক্ত, বুদ্ধ-বৌদ্ধ, বিষ্ণু-বৈষ্ণব।
(গ) ভাব অর্থে: শিশু + ষ্ণ = শৈশব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব (অভিধান আনুসারে প্রকৃতি-প্রত্যয়: গুরু + অ), কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর।
(ঘ) সম্পর্ক বোঝাতে: পৃথিবী + ষ্ণ = পার্থিব, দেব + ষ্ণ = দৈব, চিত্র (একটি নক্ষত্রের নাম) + ষ্ণ = চৈত্র।

• নিপাতনে সিদ্ধ: সূর্য + ষ্ণ = সৌর (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৮৭.
'ঘর + আমি = ঘরামি' কোন প্রকার প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  3. তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৮৮.
প্রত্যয় সাধিত শব্দ 'দখিনা' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যুক্ত অর্থে
  2. খ) ভাব অর্থে
  3. গ) আগত অর্থে
  4. ঘ) নৈপুণ্য অর্থে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
'দখিন → দখিনা' প্রত্যয় সাধিত শব্দটি 'আগত অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।

- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৮৯.
‘বাদী’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √বদ্ + ই
  2. √বাদ্ + ইন্
  3. √বাদ্ + ঈ
  4. √বদ্ + ইন্
ব্যাখ্যা
• ইন্’ তদ্ধিত কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়) :
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- √বদ্ + ইন্ = বাদিন > বাদী;
- √যুজ্ + ইন = যোগিন > যোগী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৯০.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. পেটুক
  2. নিন্দক
  3. চড়ক
  4. মিশুক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - পেটুক (পেট + উক)।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √চড়্‌ + ক = চড়ক,
- √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক,
- √মিশ + উক = মিশুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৯১.
'সৌন্দর্য' শব্দটি গঠিত হয়েছে-
  1. সমাসযোগে
  2. উপসর্গযোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা

• সুন্দর + ষ্ণ্য = সৌন্দর্য,
• সৌন্দর্য শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় 'ষ্ণ্য' যোগে গঠিত হয়েছে।
• তাই শব্দটি গঠিত হয়েছে প্রত্যয়যোগে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৯২.
'অকারণে হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।' বাক্যে 'হাস্য' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. সংযোগমূলক ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. বিদেশগাত ধাতু
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু: 
 তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণে হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,৭৯৩.
'সংজ্ঞা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. স + √জ্ঞা + অ + আ
  2. সম্‌ + √জ্ঞা + আ
  3. সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ
  4. স + √জ্ঞা + আ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:

অ(অঙ্‌) + স্ত্রী প্রত্যয় (আ) যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো-

- শ্রৎ + √ধা + অ + আ = শ্রদ্ধা,
- √ব্যথ্‌ + অ + আ = ব্যথা,
- √কৃপ্‌ + অ + আ = কৃপা,
- সম্‌ + √জ্ঞা + অ + আ = সংজ্ঞা,

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৯৪.
প্রাতিপদিক কোনটি?
  1. মুখ
  2. লাজ
  3. ঘর
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• প্রাতিপদিক:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। 
যেমন: 
লাজ, মুখ, পা, ঘর, বই ইত্যাদি। 

- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,৭৯৫.
'শান্তি' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শম্ + ক্তি
  2. √শ্রম্ + ক্তি
  3. √শাম্‌ + ক্তি
  4. √শ্রান্‌ + ক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ক্তি' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এর বিশেষ নিয়ম: 
- ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- √মন্ + ক্তি = মতি;  √রম্ + ক্তি = রতি।

- কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়। যেমন- √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি;  (সন্ধিসূত্রে ম>ন); √শম্ + ক্তি = শান্তি।

- 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বিচ্ + ক্তি = উক্তি; √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি; √ভিজ্ + ক্তি = ভক্তি।

- নিপাতনে সিদ্ধ: √গৈ + ক্তি = গীতি; √সিধ্‌ + ক্তি = সিদ্ধি; √বুধ্‌ + ক্তি = বুদ্ধি; √শক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭৯৬.
‘বক্তব্য‘- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি
  1. ক) √বক্+তব্য
  2. খ) √বক্ত+অব্য
  3. গ) √বক্ত+ব্য
  4. ঘ) √বচ্+তব্য
ব্যাখ্যা
বক্তব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √বচ্‌ + তব্য
অর্থ: 
- বলতে হবে বা বলার যোগ্য এমন। 
- আলোচ্য, উল্লেখ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৭৯৭.
শয়ন শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় -
  1. শৈ + অন
  2. √শে + অনট
  3. শে + অন
  4. শ + য়ন
ব্যাখ্যা

⇒ কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু)।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।

• বাংলা অন্-প্রত্যয়: ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে ‘অন’ প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন ইত্যাদি।

তেমনি, 
⇒ শয়ন শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় হবে:  √শে + অন = শয়ন।

(অপশনে ধাতু চিহ্ন (√) ছিল না। তবে কাছাকাছি উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ (শে + অন) গ্রহণ করা হলো।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

 

১,৭৯৮.
কোন শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. বাঘা
  3. মানব
  4. ঘরামি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
মনু + ষ্ণ = মানব;
লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৯৯.
'জাগরূক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাগৃ + ঊক
  2. √জাগর + ঊক
  3. √জাগ্‌ + ঊক
  4. √জাগ্‌ + উক
ব্যাখ্যা
• উক/উক- কৃৎ প্রত্যয়:
-√ভু + উক = (ভৌ + উক) = ভাবুক,
- √জাগৃ + ঊক = (জাগর + ঊক) জাগরূক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৮০০.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ছাত্রী
  2. নারী
  3. প্রাণী
  4. স্থায়ী
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - স্থায়ী (√স্থা + ইন্‌)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ছাত্রী (ছাত্র + ঈ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - নারী (নর + ঈ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - প্রাণী (প্রাণ + ইন্‌)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।