বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধাতু ও প্রত্যয়

মোট প্রশ্ন১,৯২৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধাতু ও প্রত্যয়

PrepBank · পাতা ১৭ / ২০ · ১,৬০১১,৭০০ / ১,৯২৬

১,৬০১.
নিচের শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে?
  1. শীতার্ত
  2. উপকূল
  3. পাঠক
  4. পকেটমার
ব্যাখ্যা
• 'পাঠক' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

- পাঠ্‌ + ণক/ অক = পাঠক। এখানে 'পঠ্‌' ধাতুর সাথে 'অক'  প্রত্যয়যোগে 'পাঠক' শব্দটি গঠিত  হয়েছে।

অন্যদিকে,
- শীত + ঋত =শীতার্ত সন্ধি সাধিত শব্দ।
- উপকূল( কূলের সমীপে) এবং পকেটমার( পকেট মারে যে) সমাস সাধিত শব্দ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬০২.
'দাতব্য' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √দাতা+ব
  2. খ) √দাতা+অব্য 
  3. গ) √দা+তব্য 
  4. ঘ) √দৃ+তব্য 
ব্যাখ্যা
'দাতব্য' এর  সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা+তব্য 

দাতব্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা+তব্য 
অর্থ: বিনা মূল্যে বিররণ করা হয় এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৬০৩.
'মুসাফিরখানা' শব্দের 'খানা' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, এখানে 'খানা' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

---------------------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়;
২. তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়;
৩. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৬০৪.
"উক্তি" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ বচ্ + ক্তি
  2. √ ভচ্ + ক্ত
  3. √ ভচ্ + ক্তি
  4. √ বচ্ + ক্ত
ব্যাখ্যা

ক্তি-প্রত্যয় (ক ইৎ তি থাকে):
- কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।

যেমন:
√ বচ্ + ক্তি = উক্তি;
√ মুচ্ + ক্তি = মুক্তি;
√ ভজ্ + ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০১৯)।

১,৬০৫.
'গ্রাহী' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √গ্রাহ্‌ + ঈ
  2. √গ্রহ্‌ + ইন
  3. √গ্রহ্‌ + ঈ
  4. √গ্রাহ্‌ + ঈন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ণিন/ইন-প্রত্যয় (ণ ইৎ, ইন্ থাকে, ইন্ 'ঈ'-কার হয়)। 
যেমন:
- √গ্রহ্‌ + ণিন (ইন) = গ্রাহী,
- √পা্‌ + ণিন (ইন) = পায়ী।

এরূপ-কারী, দ্রোহী, সত্যবাদী, ভাবী, স্থায়ী, গামী। কিন্তু 'ণিন' যুক্ত হলে 'হন' ধাতুর স্থলে 'ঘাত' হয়। যথা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬০৬.
প্রত্যয়যোগে গঠিত কোন শব্দটি 'অবজ্ঞা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. কানাই
  2. জেঠামি
  3. ডিঙা
  4. চোরা
ব্যাখ্যা
- প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়। 
যেমন- 
অবজ্ঞা অর্থে: চোর → চোরা। 
• বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা। 
• সদৃশ অর্থে: বাঘ → বাঘা। 
• আগত অর্থে: দখিন → দখিনা। 
• আদর অর্থে: কানু → কানাই। 
• জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
• ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি। 
• নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি। 
• পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি। 
• মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি। 
• উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
• নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে। 
• রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো। 
• যুক্ত অর্থে: টাক → টেকো। 
• সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬০৭.
কারখানা কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- কারখান ফারসি শব্দ

এছাড়াও আরো কিছু  ফারসি শব্দ হলো:
অন্দর, কানুন, আবহাওয়া, আমদানি-রপ্তানি, দরবার, আমল, শরবত, বরফ, সাহেব, সবজি, জমিদার, গোয়েন্দা, গোলাম, জিনিস, কাগজ, ইস্তফা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,৬০৮.
কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে কোন চিহ্ন বসে?
  1. ক) ধাতুমূল
  2. খ) কৃদন্তমূল
  3. গ) ক্রিয়ামূল
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমনঃ পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১,৬০৯.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. খাট্
  2. আক্
  3. ডর্
  4. ঝুল্
  5. উপড়ের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট, নাচ, আক্, কহ্‌, কর্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- চেঁচ্ (চিৎকার করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ঝুল্ (দোলা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬১০.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. জমকালো
  2. ঢালু
  3. ঘরোয়া
  4. লাগোয়া
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - লাগোয়া (√লাগ্‌ + ওয়া)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জমকালো (জমক + আলো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঢালু (ঢাল + উ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘরোয়া (ঘর + ওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬১১.
সাধিত ধাতু কোনটি?
  1. বাঁধ
  2. রাখ
  3. হাস
  4. শুন
ব্যাখ্যা
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন- দেখ্ + আ = দেখা, পড় + আ = পড়া, বল + আ = বলা; হস্‌ + আ = হাস।

সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন- মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' দেখায়)। এরূপ-শোনায়, বসায় ইত্যাদি।

গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. নাম ধাতু,
খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু,
গ. কর্মবাচ্যের ধাতু।

অন্যদিকে, 
বাঁধ, রাখ ও শুন  মৌলিক বাংলা ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬১২.
'পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √পাঠ + অক
  2. খ) √পঠ + অক
  3. গ) √পা + ঠক
  4. ঘ) √পাঠ + টক
ব্যাখ্যা
'পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় = √পাঠি+অক

পাঠক (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √পাঠি+অক 
অর্থ: 
- পাঠকারী
- ছাত্র
- কথক 
- শিক্ষক

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

বাংলাভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে, 
'পাঠক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় = √পঠ + অক। 
তৎকালীন প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক বলে বিবেচিত। 
১,৬১৩.
'কালিমা' শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কাল + ইমা
  2. খ) কাল + ইমন্
  3. গ) কাল + ঈমন্
  4. ঘ) কাল + ঈমা
ব্যাখ্যা
• কালিমা (বিশেষ্য): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কাল + ইমন্। 

- অর্থ: 
→ কালির দাগ; মলিনতা।
→ কলঙ্ক।
→ কৃষ্ণত্ব।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৬১৪.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতু?
  1. ক) বলা
  2. খ) শোনায়
  3. গ) দেখা
  4. ঘ) আস
ব্যাখ্যা
• ধাতুর প্রকারভেদ:
প্রকৃতি ও উৎপত্তি বিচারে বাংলা ধাতুসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে:

মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু:
যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু। এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।
যেমন: কর, চল, দেখ, খি, যা, আস ইত্যাদি।

সাধিত ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে অন্য একটি ধাতু বা নাম শব্দ এবং এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সাধিত ধাতু।
যেমন: দেখ্+আ = দেখা, পড়্ +আ = পড়া, বল্ + আ = বলা ইত্যাদি।

সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষবাচক বিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
যেমন:
মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। এখানে দেখ্ +আ + বর্তমান কালের সাধারণ নাম পুরুষের ক্রিয়াবিভক্তি য় = দেখায়। এরূপ শোনায়, বসায়, শেখায় ইত্যাদি। 

যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৫.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত '-আলু' প্রত্যয় যে রূপ থেকে বিবর্তিত হয়েছে- 
  1. আলুচ্
  2. আলুপ্‌
  3. আলোন্‌
  4. আলোপ্‌
ব্যাখ্যা

• আলু (আলুচ্‌) প্রত্যয়:
- ব্যবহার: কর্তৃবাচ্যে, শীলার্থে।
- যেমন : নি-দ্রা + আলু = নিদ্রালু, দম্ + আলু = দয়ালু ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬১৬.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. কর্
  2. দেখ্
  3. আঁক্
  4. অঙ্ক্‌
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
অঙ্ক্‌ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬১৭.
নিচের কোন প্রকৃতি প্রত্যয়টি সঠিক?
  1. প্র + √আপ + ত = প্রাপ্ত
  2. √খ্যা + ইত = খ্যাত
  3. সর্বজন + ইন = সর্বজনীন
  4. মহৎ + ত্ত = মহত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- প্র + √আপ + ত = প্রাপ্ত।
- এটি একটি সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়।

নিম্নে সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় দেওয়া হলো:
- √খ্যা + ত = খ্যাত,
- মহৎ + ত্ব = মহত্ত্ব,
- সর্বজন + ঈন = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৬১৮.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ -
  1. জমিদারি
  2. মানানসই
  3. পুষ্পিত
  4. মোগলাই
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- যেমন:
চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা

• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়,
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়,
- বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- জমিদার + ই = জমিদারি; 
- মোগল + আই = মোগলাই;

- চোর + আই = চোরাই ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬১৯.
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে কী বলে?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) প্রকৃতি
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
• যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
• ক্রিয়ার মূল অংশকে বলা হয় ধাতু।
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়- একটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল অপরটি ক্রিয়াবিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়াবিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা-ই হলাে ধাতু।
- অর্থাৎ ক্রিয়ামুলের আরেক নাম ধাতু।
- ড. এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিয়াপদের যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা করে তাকে ধাতু বলে। 
- ক্রিয়ামূলকে বা ধাতুকে আবার প্রকৃতিও বলা হয়।
- ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বােঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২০.
'জম্ ও ঝুল্‌' কোন ধরনের ধাতু?
  1. বাংলা ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. বিদেশি ধাতু
  4. সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্‌, কাট্, নাচ, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়, ধর্, পড়, রাখ, শুন, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ, কৃৎ, খাদ, হস্, পঠ, দৃশ, বুধ, স্থা, শ্রু, ধূ, বন্ধু, ঘুষ, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট, চেঁচু, জম্, ঝুল্‌ , টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬২১.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. নীয়
  2. ইল
  3. ইয়া
  4. বিন্
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।
যথা:
- মনু + ষ্ণ = মানব।
- পরলোক + ফিক = পারলৌকিক। 
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য।
- জল + নীয় = জলীয়। 

অন্যদিকে,
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়- ইয়া > ইয়ে: বিশেষণ গঠনে ইয়া। ইয়ে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
মর্ + ইয়া = মরিয়া,
বল্ + ইয়ে = বলিয়ে (বাকপটু)।

এরূপ-  নাচিয়ে, গাইয়ে, লিখিয়ে, বাজিয়ে, কইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৬২২.
'কিন্নর' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কিন + নর
  2. খ) কিম্‌ + নর
  3. গ) কি + ন্নর
  4. ঘ) কিঃ + নর
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

কিন্নর (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি- প্রত্যয়: কিম্‌ + নর।
অর্থ:
- দেবলোকের সুকন্ঠ গায়ক।
- ঘোড়ার মতো মুখ ও মানুষের মতো দেহ বিশিষ্ট স্বর্গীয় গায়ক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৬২৩.
'গুরুত্ব’ শব্দের মধ্যে কোন প্রত্যয় রয়েছে?
  1. ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'গুরুত্ব’ শব্দের মধ্যে 'ত্ব' প্রত্যয় রয়েছে।

তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:

• তা ও ত্ব-প্রত্যয় : বিশেষ্য গঠনে যুক্ত হয়।
যেমন, 
• বন্ধু + তা = বন্ধুতা, শত্রু + তা = শত্রুতা,
• বন্ধু + ত্ব = বন্ধুত্ব; গুরু+ত্ব = গুরুত্ব;
• ঘন + ত্ব = ঘনত্ব, মহৎ + ত্ব = মহত্ত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬২৪.
'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) ব্রত+ইন
  2. খ) ব্রতী+ইন
  3. গ) ব্রত+ন
  4. ঘ) ব্রতী+ন
ব্যাখ্যা
- 'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে ব্রত+ইন

• ব্রতী (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে ব্রোতি।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে ব্রত+ইন।
- এর অর্থ হচ্ছে ব্রতপালনকারী, ব্রতধারী, পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠাতা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৬২৫.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বর্ষীয়
  2. খ) কলু
  3. গ) দুধেল
  4. ঘ) জলুয়া
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় নীয় (ঈয়) যোগে গঠিত শব্দ-
• বর্ষ + নীয় = বর্ষীয়।

অন্যদিকে,
তদ্ধিত বাংলা ‘এল’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - দুধেল।
তদ্ধিত বাংলা ‘উ’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - কলু।
তদ্ধিত বাংলা ’উয়া’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ - জলুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬২৬.
নিচের কোনটি নাম ধাতুর উদাহরণ?
  1. দেখা
  2. ধমকা
  3. পড়া
  4. করা
ব্যাখ্যা

• নাম ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন-
সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'।
'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'। যেমন- আমাকে ধমকিও না।

• প্রযোজক ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়।
যেমন- কর্ আ করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)।
যেমন-সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়।
অনুরূপভাবে, পড় আ-পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

• কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়। এটি বাক্যমধ্যস্থ কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
যথা- দেখ আ-দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না। হার্+আ-হারা; 'যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)

১,৬২৭.
নিচের কোনটি সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় নয়?
  1. √দা + তৃচ
  2. √মুচ্‌ + তি
  3. √গৈ + অক
  4. প্রাচ্‌ + য
ব্যাখ্যা
• 'দাতা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা + তৃ। 
অর্থ:
- যে ব্যক্তি দান করে।

অন্যদিকে: 
- মুক্তি = √মুচ্‌ + তি। 
- গায়ক = √গৈ + অক।
- প্রাচ্য = প্রাচ্‌ + য।
শব্দ গুলোর প্রকৃতি প্রত্যয় সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৬২৮.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখায়’- এখানে ‘দেখা’ কোন ধাতু?
  1. ক) মৌলিক ধাতু
  2. খ) সাধিত ধাতু
  3. গ) যৌগিক ধাতু
  4. ঘ) বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা
• ‘মা শিশুকে চাঁদ দেখায়’- এখানে ‘দেখা’ সাধিত ধাতু।

সাধিত ধাতু :
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে অন্য একটি ধাতু বা নাম শব্দ এবং এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সাধিত
ধাতু।
যেমন: দেখ্+আ = দেখা, পড়্ +আ = পড়া, বল্ + আ = বলা ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষবাচক বিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- যেমন: ‘মা শিশুকে চাঁদ দেখায়।’ এখানে দেখ্ +আ + বর্তমান কালের সাধারণ নাম পুরুষের ক্রিয়াবিভক্তি য় = দেখায়। এরূপ শোনায়, বসায়, শেখায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৯.
যে ধাতু বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে বলা হয় -
  1. সংযোগমূলক ধাতু
  2. যৌগিক ধাতু
  3. মৌলিক ধাতু
  4. সাধিত ধাতু
ব্যাখ্যা
মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।

যেমন-
- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা:
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৩০.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) √পঠ্ + তব্য = পঠিতব্য
  2. খ) √দা + তব্য = দাতব্য
  3. গ) √কৃ + অনীয় = করণীয়
  4. ঘ) √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়৷
ব্যাখ্যা

কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পর তব্য ও অনীয় প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন -√কৃ + তব্য = কর্তব্য; √দা + তব্য = দাতব্য; √পঠ্ + তব্য = পঠিতব্য৷ √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ্ + অনীয় = রক্ষণীয়৷
এরূপ- দর্শনীয়, পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি৷

প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনে রক্ষণীয় - শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয়ে 'হসন্ত' ব্যবহার হয় নি। তাই এটি সঠিক নয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৬৩১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. গরি + ইষ্ঠ = গরিষ্ঠ
  2. শৈ + অব = শৈশব
  3. পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক
  4. সর্বজন + ইন্ = সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;

------------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:

শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য। 
[এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।]

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইন, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বস্তুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:

- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব;
- গুরু + ইষ্ঠ = গরিষ্ঠ;
- জ্ঞান + ইন্‌ = জ্ঞানিন্;
- সুখ + ইন্ = সুখিন্;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬৩২.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লাজুক
  2. মুনশিয়ানা
  3. বোমারু
  4. জমকালো
ব্যাখ্যা
• আনা>আনি (হিন্দি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- মুনশি + আনা - মুনশিয়ানা,
- বিবি + আনা - বিবিআনা,
- হিন্দু + আনি -হিন্দুয়ানি।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
৮. উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে-  লাজ + উক - লাজুক।
১. আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: বোমা + আরু - বোমারু।
১০. আলো-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: জমক + আলো -জমকালো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬৩৩.
'বৃত্তি' অর্থে 'ই' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে কোনটিতে?
  1. চাষি
  2. জমিদারি
  3. ভাগলপুরি
  4. রেশমি
ব্যাখ্যা
ই / ঈ - প্রত্যয়
ক) ভাব অর্থে:
বাহাদুর + ই = বাহাদুরি,

খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে:
ডাক্তার - ডাক্তারি,
মোক্তার - মোক্তারি,
পোদ্দার - পোদ্দারি,
চাষা- চাষি

গ) মালিক অর্থে:
জমিদার- জমিদারি
দোকান - দোকানি

ঘ) জাত, আগত বা সম্বন্ধ বোঝাতে:
ভাগলপুর - ভাগলপুরি
রেশম - রেশমি,
সরকার - সরকারি

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
 
১,৬৩৪.
‘প্রচলিত’ শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ই প্রত্যয়
  2. ত প্রত্যয়
  3. ঈয় প্রত্যয়
  4. ইত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়: 
- 'প্রচলিত' শব্দটি 'ইত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 

'ইত' প্রত্যয় যোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ: 
• কুসুম + ইত = কুসুমিত, 
• তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত, 
• কণ্টক + ইত = কণ্টকিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ)।
১,৬৩৫.
প্রত্যয় সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. নিজস্ব অর্থ আছে।
  2. ধাতুর পরে যুক্ত হয়।  
  3. শব্দের পরে যুক্ত হয়।  
  4. প্রত্যয় যুক্ত হলে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।

- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উপরের উদাহরণে,
'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

- অন্যদিকে,
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।

উপরের উদাহরণে,
'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৩৬.
'লেখক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √লিখ্ + য়ক
  2. √লৈখ + ণক
  3. √লৈখ + অক
  4. √লিখ্ + ণক
ব্যাখ্যা
'ণক'-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে) :
- পঠ্‌ + ণক =√পঠ + অক = পাঠক। মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।

যেমন: 
- √গৈ +ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক  = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৬৩৭.
’মহত্ত্ব’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মহত + ত্ব 
  2. মহৎ + ত্ত 
  3. মহৎ + ত্ত্ব
  4. মহৎ + ত্ব 
ব্যাখ্যা
• মহত্ত্ব’ শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়  ’ত্ব’ যোগে গঠিত।
- ’মহত্ত্ব’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় = মহৎ + ত্ব ।

• আরো কিছু প্রকৃতি প্রত্যয়
- বন্ধু + তা =বন্ধুতা,
-  শত্রু + তা = শত্রুতা।
- বন্ধু + ত্ব = বন্ধুত্ব,
- গুরু + ত্ব = গুরুত্ব।
-  ঘন + ত্ব = ঘনত্ব,

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
 
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১,৬৩৮.
প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোন বাক্যটি সত্য নয়?
  1. নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
  2. শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়। 
  3. ধাতুর পরে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়।
  4. প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে অশুদ্ধ তথ্য- ধাতুর পরে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়। 

উল্লেখ্য,
• ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় তাদের কৃৎ প্রত্যয় বলে।

-------------------
• প্রত্যয়:
- নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
- শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়। 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
- যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

• কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন:
দুল্‌ + অনা = দোলনা।
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
এখানে 'অনা', 'তব্য' হলো কৃৎ প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
------------------
অন্যদিকে, 
• কৃদন্ত শব্দ: 
- কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দকে বলা হয় কৃদন্ত শব্দ।

• তদ্ধিত প্রত্যয়: 
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন,
- বাঘ + আ = বাঘা;
- দিন + ইক = দৈনিক। 

উপরের উদাহরণে,
‘আ’ ও ‘ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ‘বাঘা ও ‘দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১,৬৩৯.
'অ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ধর
  2. খ) মার
  3. গ) শৈশব
  4. ঘ) নম্র
ব্যাখ্যা
অ' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ - শৈশব - √শিশু + অ।

বাকি অপশনগুলোর মধ্যে 
ধর - √ধর্‌ + অ - 'অ' প্রত্যয়যোগে গঠিত  কৃদন্ত শব্দ।
মার -  √মার্‌ + অ -  অ' প্রত্যয়যোগে গঠিত   কৃদন্ত শব্দ।
নম্র - নম্র = নম্‌ + র ; 'র' প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৪০.
'পুষ্পিত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. পু + ঈষ্পিত
  2. পুষ্প + ঈত
  3. পু + ইষ্পিত
  4. পুষ্প + ইত
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন -
- অণু + ইক = আণবিক,
- পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

তাছাড়া,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন-
- থাল + আ = থালা,
- চোর + আই = চোরাই ।

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন-
- মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা,
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৬৪১.
নিচের কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. কহ্
  2. পঠ্‌
  3. কর্
  4. কাট্
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৪২.
হিন্দি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বাড়িওয়ালা
  2. সওদাগর
  3. কারিগর
  4. পাহারাদার
ব্যাখ্যা

হিন্দি ‘ওয়ালা > আলা’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ বাড়িওয়ালা।
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কারিগর (গর > কর), সওদাগর (গর > কর), পাহারাদার(দার)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি

১,৬৪৩.
'বেতো' শব্দটিতে কী অর্থে প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবজ্ঞা
  2. রোগগ্রস্থ
  3. উপকরণ
  4. জাত
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
- আদর অর্থে: কানু → কানাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
- উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৬৪৪.
'জাগরূক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- 
  1. √জাগৃ + অক
  2. √জাগৃ + ওক
  3. √জাগৃ + উক
  4. √জাগৃ + ঊক
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-উক (ঊক):
- স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

যেমন:
- √কম্ + উক = কামুক;
- √ভূ + উক = ভাবুক (ভূ > ভৌ + উক = ভাবুক, বৃদ্ধি উ > ঔ)
- √জাগৃ + ঊক = জাগরূক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৪৫.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. জানানি
  2. নীলিমা
  3. কুসুমিত
  4. সৌভাগ্য
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'জানানি' হচ্ছে আনি-প্রত্যয় যোগে কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- √জান্‌ + আনি = জানানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৪৬.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু নয়?
  1. কাট্
  2. আঁক
  3. কাঁদ
  4. মাগ্
ব্যাখ্যা

• বাংলা ধাতু- কাট্, আঁক, কহ্, কর, কাঁদ, কেন্, ঘষ্, দেখ্, ধর্, পড়্, শুন্, থাক্, হাস্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত ধাতু- কৃ, মাগ্, গম্ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৪৭.
'রাঁধ + না = রাঁধনা' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
না- বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে 'না' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
- √কাঁদ্ + না = কাঁদনা > কান্না;
- √রাঁধ + না = রাঁধনা > রান্না।

এরূপ-ঝরনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৬৪৮.
কোনটি নাম ধাতুর উদাহরণ?
  1. নাচ্ + আ
  2. ঘুম + আ
  3. কৃ + আ
  4. খেল + এ
ব্যাখ্যা
• নাম ধাতুর  উদাহরণ : ঘুম + আ। 

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু। 
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে। ‘ঘুম’ থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’।
- আমাকে ধমকিও না। এখানে ‘ধমক্’ থেকে নামধাতু ‘ধমকি’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৬৪৯.
‘বৈদিক’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বেধ + ষ্ণিক
  2. খ) বিদ + ষ্ণিক
  3. গ) বেদ + ষ্ণিক
  4. ঘ) বৈধ + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
ষ্ণিক (ইক) – প্রত্যয়ে সাধিত শব্দঃ সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক= বৈজ্ঞানিক, সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর + ষ্ণিক =নাগরিক, মাস +ষ্ণিক = মাসিক ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,৬৫০.
কোন শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ঠগী
  2. খ) পাঠক
  3. গ) পানাস
  4. ঘ) সেলামী
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
• √পাঠ্ + অক = পাঠক, পাঠ ধাতুর সাথে 'অক' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
পাঠক শব্দের যথার্থ প্রকৃতি-প্রত্যয় = √পাঠি+অক
• পাঠক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ: পাঠকারী, ছাত্র, কথক, শিক্ষক।

তাই সঠিক উত্তর - খ)
১,৬৫১.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সিধ্ + ক্তি = সীদ্ধি
  2. √সিধ্ + ক্তী = সিদ্ধি
  3. সিধ্ + √ক্তি = সিদ্ধি
  4. √সিধ্ + ক্তি = সিদ্ধি
ব্যাখ্যা
• সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি; নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়ের আরো কিছু উদাহরণ হলো:
- গীতি = √গৈ + ক্তি,
- বুদ্ধি = √বুদ্ + ক্তি,
- শক্তি = √শক্ + ক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫২.
ক্রিয়ার মূল অংশকে কী বলা হয়?
  1. ক্রিয়া-প্রকৃতি
  2. বিভক্তি
  3. প্রত্যয়
  4. প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলে।

অন্যদিকে,
• বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
- প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
• শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৫৩.
কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্বী
  2. মেধাবী
  3. মিশুক
  4. ইমন
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী,
- নীলিমা = নীল = ইমন ,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।

উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক',  'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৫৪.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বাতুয়া
  2. পাগলামি
  3. বিবিয়ানা
  4. কণ্টকিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
ফেন + ইল্ = ফনিল;
সুখ + ইন্ = সুখিন;
নীল + ইমন = নীলিমা।

--------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
পাগল + আমি = পাগলামি;
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই;
বাত + উয়া = বাতুয়া;
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৫৫.
'ফ্যাকাসে' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) ফ্যাকা + সে
  2. খ) ফ্যকা + সে
  3. গ) ফিকা + সে
  4. ঘ) ফিক্যা + সে
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় হবে 'ফিকা + সে'।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

- তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়,তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি ।
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার।

সেগুলো হলো:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ.তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৬৫৬.
'ভক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ভুজ্‌ + ক্তি
  2. √ভিজ্‌ + ক্তি
  3. √ভু + ক্তি
  4. √ভক + ক্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ভক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় √ভুজ্‌ + ক্তি

• ক্তি-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে) :
- √গম্ + ক্তি = √গম্ + তি = গতি (এখানে 'ম' লোপ হয়েছে)।

• বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- √মন্ + ক্তি = মতি, √রম্ + ক্তি = রতি।
(খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়। যেমন √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), √শম্ + ক্তি = শান্তি।
(গ) 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভুজ্‌ + ক্তি = ভক্তি।
(ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ: √গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ + ক্তি = বুদ্ধি, √শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৬৫৭.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) পড়ুয়া
  2. খ) পরীক্ষা
  3. গ) পরিশ্রমী
  4. ঘ) দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা - কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়।
দীর্ঘ + ইমন্‌ = দ্রাঘিমা; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

তাছাড়া,
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ: 
√ পড় + উয়া= পড়ুয়া
পরি + √ ঈক্ষ্‌ + অ + আ = পরীক্ষা
পরি + √ শ্রম্‌ + ইন = পরিশ্রমী 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।  
১,৬৫৮.
শ্রুতি শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √শ্রুত + তি/ক্তি
  2. খ) √শ্রোতৃ + তি/ক্তি
  3. গ) √শ্রু + অতি
  4. ঘ) √শ্রু + তি/ক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে তি/ক্তি/ন্তি/গ্ধি/দ্ধি/প্তি থাকলে তি/ক্তি হবে এবং প্রত্যয় সাধিত শব্দটি বিশেষ্য/বিশেষণ হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
মতি = √মন্ + তি/ক্তি    
গতি = √গম্ + তি/ক্তি
স্মৃতি = √স্মৃতি + তি/ক্তি
বৃষ্টি = √বৃষ্ + তি/ক্তি
খ্যাতি = √খ্যা + তি/ক্তি
শ্রম্নতি = √শ্রু + তি/ক্তি

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,৬৫৯.
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
  1. √ দৃশ + অনীয়
  2. √ দৃশ + নীয়।
  3. √ দৃশ্ + ওনীয়
  4. √ দৃশ্ + অনীয়
ব্যাখ্যা

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'পাকড়াও' সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৬৬০.
কোনটি ক্রিয়াবিভক্তি?
  1. লে
  2. খেল্
  3. লাম
  4. বল্
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
- ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- কর্, যা, খা, পা, বল্, দেখ, খেল্, দে ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিভক্তি:
- আ, ই, ছি, ছে, বে, তে, লে, লাম ইত্যাদি।

ধাতু তিন প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু, 
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬৬১.
সংস্কৃত ধাতু যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কহন
  2. কাটা
  3. কথিত
  4. কাঁদুনে
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু 'কথ্‌' যোগে গঠিত শব্দ- কথ্য, কথিত। 

 অন্যদিকে, 
---------------
বাংলা ধাতু যোগে গঠিত শব্দ- 
কহ্- কওয়া, কহন। 
কাট্- কাটা। 
কাঁদ্- কাঁদা, কাঁদুনে। 

----------------------
• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্‌ , কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, টান, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ভিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৬৬২.
আদরার্থে 'আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. বড়াই
  2. কানাই
  3. বােনাই
  4. চোরাই
ব্যাখ্যা
আই-প্রত্যয়:
(ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে :
বড়+আই=বড়াই,
চড়া +আই=চড়াই। 

(খ) আদরার্থে :
কানু+আই= কানাই,
নিম+আই= নিমাই।

(গ) স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বােঝাতে :
বােন+আই= বােনাই,
ননদ-নন্দাই,
জেঠা-জেঠাই (মা)।

(ঘ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে :
মিঠা +আই-মিঠাই।

(ঙ) জাত অর্থে :
ঢাকা+আই=ঢাকাই (জামদানি),
পাবনা-পাবনাই (শাড়ি)।

(চ) বিশেষণ গঠনে :
চোর-চোরাই (মাল),
মােগল-মােগলাই (পরােটা)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
১,৬৬৩.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. কাঁদনি
  2. ছাপাখানা
  3. রাঁধনি
  4. দোলনা
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
- কাঁদনি, রাঁধনি ,দোলনা - কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৬৬৪.
'কর্তা' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃ + তা
  2. √ক্রী + তা
  3. √কৃ + তৃ
  4. √ক্রী + তৃ
ব্যাখ্যা
• 'কর্তা' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - কৃ + তৃ।

সূত্র:
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
√দা + তৃচ্=√দা+তৃ=√দা+তা= দাতা
√মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।
√কৃ + তৃ = কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৬৬৫.
'কৃৎ-আই' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কানাই
  2. ধরতাই
  3. বোনাই
  4. যাচাই
ব্যাখ্যা
• কৃৎ ‘আই’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আই’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- √চড়ু + আই = চড়াই;
- √সিল + আই = সিলাই > সেলাই।
- √যাচ্ + আই = যাচাই।
- √ঢাল + আই = ঢালাই।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত ‘আই’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
• জাত অর্থে: ঢাকা + আই = ঢাকাই।
• আদরার্থে: কানু + আই = কানাই; নিম + আই = নিমাই।
• ভাব অর্থে: বামন + আই; পুষ্ট + আই = পোস্টাই; ধরতা + আই = ধরতাই
• স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে: বোন + আই = বোনাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৬৬.
”গীতি” শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √গৈম + ক্তি
  2. √গী + ক্তি
  3. √গৈক + ক্তি
  4. √গৈ + ক্তি
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন: সংস্কৃত

• নিপাতনে সিদ্ধ :
√গৈ + ক্তি = গীতি,
√সিধ + ক্তি = সিদ্ধি,
√বুধ + ক্তি = বুদ্ধি,
√শিক্ + ক্তি = শক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৬৭.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. পাগলামি
  2. গিন্নীপনা
  3. চোরাই
  4. কণ্টকিত
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা,
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা,
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - পাগল + আমি = পাগলামি, চোর + আই = চোরাই।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৬৮.
'পঙ্কিল' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ফি, ফিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, ইষ্ঠ, ঈন, বতুপ্‌, নীন, নীয়, বিন, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পুষ্প + ইত = পুষ্পিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
--------------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বাঘ + আ = বাঘা;
- ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।

---------------------
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা,
- ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

---------------------
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
নাচ্ + অন = নাচন;
ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৬৯.
"নর্তক" শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নত্‌ + অক
  2. √নৎ + অক
  3. √নৃৎ + অক
  4. √নর্ত + অক
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -অক (ণক্): বিশেষ্য (কর্তৃপদ) গঠন করে। 
যেমন:
- √নী + অক = নায়ক;
- √কৃ + অক = কারক;
- √রুধ + অক = রোধক;
- √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক;
- √হিন্‌স্‌ + অক = হিংসক;
- √নৃৎ + অক = নর্তক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৭০.
’ক্রেতা’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ক্রী + তৃচ
  2. √ক্রে + তৃচ
  3. √ক্র + তৃচ
  4. √ক্রীচ + তা
ব্যাখ্যা

• তৃচ্- কৃৎ প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) :
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
√দা + তৃচ্ = দা + তৃ=দা + তা = দাতা
√মা + তৃচ্ = মাতা, 
√ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৭১.
নিচের কোনটি মৌলিক বাংলা ধাতু?
  1. পঠ্‌
  2. খাদ্
  3. কৃৎ
  4. কিন্
ব্যাখ্যা

• 'কিন্' মৌলিক বাংলা ধাতু।

- মৌলিক ধাতু ৩ প্রকার।
যথা - ক) বাংলা ধাতু, খ) সংস্কৃত ধাতু ও গ) বিদেশি ধাতু।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৬৭২.
'চাহ্' ধাতুটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) চিৎকার করা।
  2. খ) সিক্ত হওয়া।
  3. গ) প্রার্থনা করা। 
  4. ঘ) ছিন্ন হওয়া।
ব্যাখ্যা
• বিদেশাগত ধাতু:
- হিন্দি এবং আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসকল ধাতু বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে তাকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
- যেমন: ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে- ‘মাগ্‌’ ধাতু হিন্দি ‘মা’ থেকে আগত।

• কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
- আঁট = শক্ত করে বাঁধা।
- ফির্ = পুনরাগমন, পুনরাবৃত্তি।
- খাট্ = মেহনত করা।
- চাহ্ = প্রার্থনা করা। 
- চেঁচু = চিৎকার করা।
- বিগড় = নষ্ট হওয়া।
- জম্ = ঘনীভূত হওয়া।
- ভিজ্‌ = সিক্ত হওয়া।
- ঠেল্ = ঠেলা।
- ডাক্‌ = আহ্বান করা।
- টুট্‌ = ছিন্ন হওয়া।
- লটক = ঝুলানো।
- ডর্ = ভীত হওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৭৩.
'ভোজ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ভুজ্‌ + ক্ত
  2. ভুজ্‌ + য
  3. √ভুজ্‌ + য
  4. √ভুজ্‌ + ক্ত
ব্যাখ্যা
'ভোজ্য' (বিশেষণ):
অর্থ- 
- আহার্য
- খাওয়ার যোগ্য

- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- এর প্রকৃতি প্রত্যয় = √ভুজ্‌ + য

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৬৭৪.
"দৃশ্য" শব্দে 'দৃশ্' কোন প্রকার ধাতু?
  1. সংস্কৃত
  2. বিদেশি
  3. বাংলা
  4. সংযোগমূলক
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,৬৭৫.
'ভাবুক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ভা + উক
  2. ভৌ + উক
  3. ভু + উক
  4. ভাব + উক
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-উক (ঊক):
স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কম্ + উক = কামুক; 
- √ভূ + উক = ভাবুক (ভূ > ভৌ + উক = ভাবুক, বৃদ্ধি উ > ঔ)
- √জাগৃ + ঊক = জাগরূক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৭৬.
'শ্রবণ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √শ্রু + অনট্
  2. খ) √শ্রু + অন্
  3. গ) √শ্র + অ
  4. ঘ) √শ্রু + অ
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে 'অন' থাকলে 'অনট্' হবে৷ যেমনঃ নয়ন = √নী + অনট্, শ্রবণ= √শ্রু + অনট্।
এরূপঃ স্থান, ভোজন, দর্শন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
১,৬৭৭.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য কয়টি সংখ্যাবর্ণ?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১০
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ১০০
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবর্ণ: বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৬৭৮.
'ভুক্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ভুজ্ + ত
  2. √ ভুছ্ + ক্ত
  3. √ ভুজ্ + ক্ত
  4. √ ভুচ্ + ক্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ভুক্ত' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় - √ ভুজ্ + ত। 

• তবে,
মাধ্যমিক ব্যাকরণ নবম- দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে,
- 'ভুক্ত' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় √ভুজ্‌ + ক্ত = ভুক্ত দেয়া আছে। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এর উত্তর অধিক গ্রহণযোগ্য বিধায় আমরা উত্তর হিসেবে 'ভুক্ত' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় '√ ভুজ্ + ত' নিয়েছি।  
 - আধুনিক ব্যাকরণ অনুসারে, 'ক্ত' প্রত্যয় 'ত' হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৭৯.
কোনটি ''ঘাতক'' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়?
  1. ক) √হন্ + অক
  2. খ) হন্ +অ
  3. গ) ঘাত্ + অক
  4. ঘ) √ঘাত্ + অক
ব্যাখ্যা
ঘাতক হলো সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়৷ এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো √হন্ + অক৷ তাছাড়া √নৃৎ + অক = নর্তক, √পূ + অক = পাবক ইত্যাদি আরো কিছু সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়। উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১,৬৮০.
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. উদ্যান 
  2. শুনানি 
  3. বোমারু
  4. ছটফটানি 
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
-
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো সেইসব প্রত্যয় যা ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এই নতুন শব্দকে কৃদন্ত পদ বলা হয়, যা সাধারণত বিশেষ্য বা বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
- অর্থাৎ, সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো ধাতুর শেষে যোগ করা কিছু বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা নতুন শব্দ বা কৃদন্ত পদ গঠন করে।
- উদ্যান- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 
- 'উদ্যান'- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- √যা+অন = উদ্যান।
- এখানে, প্রকৃতি: √যা;
- প্রত্যয়: -অন (সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়)। 

• 'অন' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √যা+অন = উদ্যান। 
- √নী+অন = নয়ন।
- √ভূ+অন = ভুবন। 
- √নৃত+অন = নর্তন।
- √দৃশ্+অন = দর্শন।

অন্যদিকে, 
• 'শুনানি' ও 'ছটফটানি' হচ্ছে- 'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত বাংলা কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• 'বোমারু' শব্দে 'বোমা' (বিশেষ্য) পদের সাথে আরু তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

উৎস:
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৬৮১.
‘ধার্য' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ ধৃ + য
  2. খ) √ ধারি + য
  3. গ) √ ধৃ + য্য
  4. ঘ) √ ধার + য্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘ধার্য' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: '√ ধারি + য'।  

• ‘ধার্য'- সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ- ধারণযোগ্য; ধারণীয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৬৮২.
'রাজ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) রাজ+য 
  2. খ) রাজন্‌+য 
  3. গ) রাজ্য+য 
  4. ঘ) রাজা+য 
ব্যাখ্যা
রাজ্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = রাজন্‌+য 
অর্থ: 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৬৮৩.
কোনটি বিদেশাগত ধাতু?
  1. ফির্
  2. খাদ্‌
  3. দৃশ্‌
  4. পঠ্‌
ব্যাখ্যা
• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং কৃক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়। যেমন ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মা' থেকে আগত। এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচ্‌, জম্, ঝুল্, টান্‌, টুট্‌, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।  

অন্যদিকে, 
খাদ্‌, দৃশ্‌, পঠ্‌  সংস্কৃত ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
১,৬৮৪.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দত্‌ + ক্ত = দত্ত
  2. √ভুগ্‌ + ক্ত = ভুক্ত
  3. √পঠি্‌ + ক্ত = পঠিত
  4. √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত। 

-----------------
•  ক্ত- কৃৎ প্রত্যয়('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।

বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্ত-প্রত্যয় যুক্ত হলে নিম্নলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর 'ই' কার হয়। যেমন- √পঠ্‌ + ক্ত (পঠ্‌ + ই + ত) = পঠিত। এরূপ- লিখিত, বিদিত, বেষ্টিত, চলিত, পতিত, লুণ্ঠিত, ক্ষুধিত, শিক্ষিত ইত্যাদি।

(খ) ক্ত প্রত্যয় যুক্ত হলে, ধাতুর অন্তস্থিত 'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √মুচ্ + ক্ত = মুক্ত, √ভুজ্ + ক্ত = ভুক্ত।

(গ) এ ছাড়া ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি-প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন- √গম্ + ক্ত = গত, √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত, √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ, √জন্‌ + ক্ত = জাত, √দা + ক্ত = দত্ত, √দিহ্ + ক্ত = দগ্ধ, √বিচ্ + ক্ত = উক্ত, √লভ্ + ক্ত = লব্ধ, √স্বপ্ + ক্ত = সুপ্ত, √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট, √হন্‌ + ক্ত = হত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৬৮৫.
তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়-
  1. ক) রূপমূলের সঙ্গে
  2. খ) ক্রিয়ামূলের সঙ্গে
  3. গ) ধাতুর সঙ্গে
  4. ঘ) প্রাতিপদিকের সঙ্গে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় ও প্রত্যয় যােগে শব্দ গঠন।
- বাংলা ভাষায় ধাতু কিংবা প্রাতিপদিকের পরে বিভিন্ন বদ্ধরূপমূল যুক্ত হয়।
- এই বদ্ধরূপমূলগুলােকে প্রত্যয় নামে অভিহিত করা হয়। গঠন অনুসারে দুই রকমের প্রত্যয় বাংলা ভাষায় রয়েছে।
- এগুলাে হলাে : কৃৎ প্রত্যয় এবং তদ্ধিত প্রত্যয়।
- কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় ধাতুর সঙ্গে এবং
- তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় প্রাতিপদিকের সঙ্গে। 
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৬.
'ফনিল' - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ফন + ইল্
  2. ফেন + ইল্
  3. ফন + নীল
  4. ফেন + নীল
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত,
- ফেন + ইল্ = ফনিল,
- সুখ + ইন্ = সুখিন,
- নীল + ইমন = নীলিমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৬৮৭.
নিচের কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যুক্ত শব্দ?
  1. ক) ঝলক
  2. খ) বোকামি
  3. গ) খাদক
  4. ঘ) লাঘব
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যু্ক্ত শব্দ হচ্ছে - লাঘব।

অ (অন, অঞ, ষ্ণ) - প্রত্যয়:
বিভিন্ন অর্থে অ-প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

- অপত্য অর্থে : যদু + অ = যাদব, দনু + অ = দানব, পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব, মনু + অ = মানব। 
- ভক্ত বা উপাসক অর্থে : শিব + অ = শৈব, শক্তি + অ = শাক্ত, বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব।
- রচিত অর্থে : ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ, স্মৃতি + অ = স্মার্ত।
- বিকার অর্থে : তিল + অ = তৈল, হেম + অ = হৈম।
- স্বভাব অর্থে : তপস + অ = তাপস, ছত্র + অ = ছাত্র।
- তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে : পৃথিবী + অ = পার্থিব, নিশা + অ = নৈশ।
- ভাবার্থে : মুনি + অ = মৌন, গুরু + অ = গৌরব, লঘু + অ = লাঘব।
- অবস্থা অর্থে : শিশু + অ = শৈশব, যুবন + অ = যৌবন।

• 'ঝলক' বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
• 'বোকামি' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
• 'খাদক' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
১,৬৮৮.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মানব
  2. দারোয়ান
  3. কেষ্ট
  4. বড়াই
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ হচ্ছে- মানব।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ফি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- গুরু + ষ্ণ = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ= মাধব,
- মনু + ষ্ণ =মানব,
- মধুর+ ষ্ণ = মাধুর্য।
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ফিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'দারোয়ান' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'বড়াই' ও 'কেষ্ট' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৬৮৯.
'যোগী' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়: 
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
- যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা :
১. বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
২. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √ণী + ণক > নৈ + অক = নায়ক; √গৈ + ণক = গায়ক; √কৃ + অনীয় = করণীয়; √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।  

• সংস্কৃত 'ইন্’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়):
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন্‌ = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন্‌ = দোষী;
- √মন্ত্র্ + ইন্‌ = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন্‌ = যোগী।

অন্যদিকে,
---------------
• ‘ইন্’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানী।
- সুখ + ইন্ = সুখী।
- গুণ + ইন্ = গুণী।
- মান + ইন্ = মানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৯০.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৬৯১.
'সাদা-কালো' শব্দটি কোন দুটি ভাষার মিশ্রণে গঠিত?
  1. ক) বাংলা+আরবি
  2. খ) ফারসি+বাংলা
  3. গ) আরবি+হিন্দি
  4. ঘ) হিন্দি+বাংলা
ব্যাখ্যা
সাদা-কালো শব্দটি ফারসি+বাংলা শব্দের মিশ্রণে গঠিত। 

সাদা - ফারসি শব্দ
কালো - বাংলা শব্দ

সাদা-কালো (বিশেষণ) 
অর্থ: 
- সাদা ও কালো, রঙিন নয় এমন (সাদাকালো ছবি) 
- অস্পষ্টতা নে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৬৯২.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকাত
  2. থালা
  3. জ্বালানি
  4. সুখিন
ব্যাখ্যা

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।

যেমন:
- থাল + আ = থালা,
- চোর + আই = চোরাই।

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - √ডাক্ + আইত = ডাকাইত > ডাকাত, √জ্বাল্ + আনি = জ্বালানি।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: সুখ + ইন্ = সুখিন। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৬৯৩.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) নায়ক
  2. খ) গায়ক
  3. গ) করণীয়
  4. ঘ) দোলনা
ব্যাখ্যা
‘দোলনা’ বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।

• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১.কৃৎ প্রত্যয় এবং ২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

 কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা : বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্+অন = কাঁদন, √নাচ্+অন = নাচন, √দুল্+অনা = দোলনা, √খেল্+অনা = খেলনা 

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: 
√ণী+ণক ˃ নৈ+অক = নায়ক, √গৈ+ণক = গায়ক, √কৃ+অনীয় = করণীয়, √রক্ষ+অনীয় = রক্ষণীয় 


উৎস:  ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ
১,৬৯৪.
কোনটি তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয়?
  1. ক) পাগলামি
  2. খ) বিবিয়ানা
  3. গ) দোলনা
  4. ঘ) বাজিকর
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের অপশনগুলোতে দোলনা হচ্ছে কৃদন্ত শব্দ।
- দুল্‌+অনা= দোলনা।
- বাকি অপশনগুলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

•  তদ্ধিতান্ত শব্দ: 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• প্রদত্ত অপশনগুলোর তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা।
- পাগলামি = পাগল + আমি। 
- বাজিকর = বাজি+ কর।
উপরের 'আনা', 'আমি', 'কর' ইত্যাদি হলো তদ্ধিত প্রত্যয় এবং বাবুয়ানা, পাগলামি ও বাজিকর হচ্ছে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৫.
‘ঘরামি’ শব্দে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়টি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ভাব অর্থে
  2. খ) জাত অর্থে
  3. গ) নিন্দা জ্ঞাপনে
  4. ঘ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে
ব্যাখ্যা
বৃত্তি(জীবিকা) অর্থে ‘আমি’ প্রত্যয় যোগে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ ঘরামি (ঘর + আমি)।
ভাব অর্থে ‘আমি’ প্রত্যয় যোগে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ ইতরামি, পাগলামি, চোরামি, বাঁদরামি ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
১,৬৯৬.
নিচের কোনটি প্রাতিপদিকের উদাহরণ?
  1. ভয়ে
  2. লাজ
  3. পশুর
  4. মুখে
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

অন্যদিকে, 
• ভয়ে ও মুখে সপ্তমী এবং পশুর শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৬৯৭.
‘পানসা’- শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পান + সা
  2. খ) পানি + সা
  3. গ) পানস + আ
  4. ঘ) পান + অসা
ব্যাখ্যা
ওয়ালা, ওয়ান, আনা, পনা,সা, দার, বাজ, গর,কর, বন্দী, সই ইত্যাদি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়। পানি + সা = পানসা > পানসে, কাল+সা = কালসা, এক + সা= একসা।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,৬৯৮.
'মুক্তি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুচ্ + ক্তি
  2. √মুহ্ + ক্তি
  3. √মুক্ + ক্তি
  4. √মৃচ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তরঃ ক) √মুচ্ + ক্তি
 
‘মুক্তি'  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √মুচ্‌ +তি
অর্থ: 
- স্বাধীনতা, 
- মোহ অত্যাদি।
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
 
‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/জ’ থাকে তা ‘ক’ হয়ে যায়।
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্‌ + ক্তি = ভক্তি
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬৯৯.
'ডিঙি + আ = ডিঙা' শব্দে 'আ' প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবজ্ঞার্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. বৃহদার্থে
  4. সমষ্টি অর্থে
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
• অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
• 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
• সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
• স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
• ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭০০.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত শব্দ কোনগুলো?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

⇒তৎসম শব্দ : প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।