ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্ + আনো)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জ্ঞাত (√ জ্ঞা + ত)।
অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘাটাল (ঘাট + আল)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১ / ২০ · ১,০০১–১,১০০ / ১,৯২৬
• ধাতু ও প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
যেমন:
লাজ, মুখ, পা, ঘর, বই ইত্যাদি।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি,
তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বিচিত্র + য = বৈচিত্র– সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ৷
এরূপ-
- বিশিষ্ট + য = বৈশিষ্ট্য
- দিতি + য = দৈত্য
- দরিদ্র + য = দারিদ্র
- পণ্ডিত + য = পাণ্ডিত্য
- সহিত + য = সাহিত্য
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• 'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ বচ্ + তব্য।
এখানে,
- '√ বচ' সংস্কৃত ক্রিয়াপ্রকৃতি এবং 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
• √পাঠ্ + অক = পাঠক, পাঠ ধাতুর সাথে 'অক' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• পাঠক (বিশেষ্য)
- এটি সংস্কৃত শব্দ,
- পাঠক শব্দের যথার্থ প্রকৃতি-প্রত্যয় = √পাঠি+অক;
অর্থ: পাঠকারী, ছাত্র, কথক, শিক্ষক।
সুতরাং অপশন অনুসারে, সঠিক উত্তর অপশন ‘গ’।
শ্রদ্ধা (বিশেষ্য): বিশেষ সম্মান; ভক্তি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) শ্রৎ+√ধা + অ (অচ্) + আ (টাপ্)}
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
ই/ঈ + অন্য স্বর = য্ + স্বর
এই নিয়মে প্রতি + এক = প্রত্যেক
এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-
চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
- দেখ্ + আ = দেখা,
- পড় + আ= পড়া,
- বল + আ = বলা।
এরূপ, ঘুমা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি- সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয় তখন
- একটা ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়-
১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়ার মুল বা ধাতু বোঝাতে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।
• ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
→ দেখ + আ = দেখা,
→ পড় + আ = পড়া,
→ বল + আ = বলা।
- সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
যেমন -
→ মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' = দেখায়)।
এরূপ - শোনায়, বসায় ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন - চল্, পড়্, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আর’ যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো-
- কর্ম > কাম + আর = কামার;
- চর্ম > চাম + আর = চামার;
- সুতা + আর = সুতার > ছুতার।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
√ব্যধ্ + ত = বিদ্ধ হলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এরূপ-
- কৃ + ত = কৃত
- √জন + ত = জাত
- √সৃজ্ + ত = সৃষ্ট
- √ইষ্ + ত = ইষ্ট
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• 'খেলনা'' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- কারণ 'খেলনা'' শব্দটি 'খেল' ধাতু এবং 'অনা' প্রত্যয়ের সংযোগে গঠিত হয়েছে।
- এখানে 'খেল' হলো ক্রিয়ামূল বা ধাতুরূপ এবং 'অনা' হলো বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
---------------------------
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় হলো- বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ:
- √খেল+অনা = খেলনা,
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না,
- √মার+অ = মার,
- √কাঁদ+অ = কাঁদকাঁদ,
- √মর+অ = মরমর,
- √কাঁদ+অন = কাঁদন,
- √দে+অন = দেওন,
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি,
- √আঁট+অনি = আঁটুনি,
- √ডুব+অন্ত = ডুবন্ত,
- √মুড়+অক = মোড়ক,
- √ফুট+আ = ফোটা,
- √মান+আন = মানান/মানানো,
- √ধুন+আরী = ধুনারী,
- √মিশ+আল = মিশাল,
- √বহ+তা = বহতা,
- √ঘাট+তি = ঘাটতি,
-√উঠ+তি = উঠতি,
- √কাঁদ+না = কাঁদনা ˃ কান্না,
- √হাস + ই = হাসি।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ডুব্ + অন্ত = ডুবন্ত;
- √চল্ + অন্ত = চলন্ত ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ-
√কৃ + অনীয় = করণীয়,
√পঠ্ + ণক =√পঠ্ + অক = পাঠক,
অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে): √জি + অল্ = জয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সংস্কৃত 'ণক' প্রত্যয়যোগে - গায়ক শব্দটি গঠিত।
- ‘গায়ক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- 'গৈ + ণক/অক'।
- এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এখানে,
'গৈ' হলো- প্রকৃতি এবং 'ণক'/ অক' - প্রত্যয়।
এরূপভাবে,
- √ পঠ্ + ণক = পাঠক।
- √ নী + ণক > নৈ + অক = নায়ক।
- √ গৈ + ণক = গায়ক।
উল্লেখ্য,
নতুন ব্যাকরণ অনুসারে, গায়ক শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় আছে- '√ গৈ + অক'।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
-√খেল্ + অনা = খেলনা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯)
• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সঠিক উত্তর: ঘ) নামবাচক শব্দ।
-----------------
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।
উল্লেখ্য,
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
উদাহরণস্বরূপ:
বাংলা ব্যাকরণে প্রাতিপদিক বলতে নামবাচক শব্দের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) মূল রূপ বোঝায়, যা বিভক্তি বা প্রত্যয় গ্রহণ করে সম্পূর্ণ শব্দ গঠন করে। উদাহরণ: ‘ঘর’ একটি প্রাতিপদিক, যার সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘ঘরের’ হয়। প্রাতিপদিক সাধারণত নামবাচক শব্দ (বিশেষ্য বা সর্বনাম)-এর মূল অংশ হিসেবে কাজ করে।
----------------------
অপশন আলোচনা:
ক) অব্যয়বাচক শব্দ:
অব্যয়বাচক শব্দ (যেমন, আর, কিন্তু, যদি) অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে কিন্তু বিভক্তি গ্রহণ করে না। প্রাতিপদিকের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
খ) ক্রিয়াবাচক শব্দ:
ক্রিয়াবাচক শব্দ (যেমন, যাওয়া, খাওয়া) কাজ বা অবস্থা বোঝায় এবং প্রাতিপদিকের মতো বিভক্তি গ্রহণ করে না। তাই এটি প্রাতিপদিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
গ) বিশেষণবাচক শব্দ:
বিশেষণবাচক শব্দ (যেমন, সুন্দর, বড়) নামবাচক শব্দের গুণ বর্ণনা করে, কিন্তু এগুলো নিজে প্রাতিপদিক নয়। প্রাতিপদিকের সঙ্গে এর পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলেও সরাসরি সম্পর্ক নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১), বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমনঃ কাট্, কাঁদ, জান্ ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমনঃ কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্ ইত্যাদি।
সংস্কৃত ধাতু কৃ তা থেকে সাধিত পদ হল কৃৎ, কর্তব্য।
সংস্কৃত ধাতুর একই অর্থবোধক বাংলা ধাতু কর্ এবং তা থেকে সাধিত পদ করা, করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
• 'প্রত্যহ + ইক= প্রাত্যহিক' শব্দে 'ইক' সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক বা ইক = লৌকিক,
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
• ঘ্যণ-প্রত্যয় [ঘ,ণ-ইৎ, য (য-ফলা) থাকে]:
- কর্ম ও ভাববাচ্যে 'ঘ্যণ' হয়।
যথা-
- √কৃ + ঘ্যণ = কার্য্য = কার্য,
- √ধৃ + ঘ্যণ = ধার্য।
এরূপ-পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য, হাস্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত '- আলু' প্রত্যয় আলুচ্ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।
উদাহরণঃ
শয়ালু : নিদ্রালু; শয়ন করতে ইচ্ছুক।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √শী+আলু(আলুচ্)}
ভাবালু : [ভাবালু] (বিশেষণ) ভাব বা কল্পনাবিলাসী; ভাবপ্রবণ;
{(তৎসম বা সংস্কৃত) ভাব+আলু(আলুচ্)}
ব্যাকরণের নিয়মানুসারে যখন কোন কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ তা সংগঠিত হয় তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ।
যখন এ ব্যতিক্রম সন্ধির ক্ষেত্রে ঘটে তখন তাকে নিপাতনে সিদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় বলে। (এটি মূলত মূখস্ত নির্ভর হয়ে থাকে।)
(সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।
স্থায়ী (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্থা+ইন্
অর্থ:
- স্থির, স্থিতিশীল
- টেকসই
- শক্ত, মজবুত
- পাকাপোক্ত
- বদ্ধমূল
- অবিনশ্বর
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √মন্ + ক্তি = মতি।
বিশেষ নিয়ম:
(ক) ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- √মন্ + ক্তি = মতি, √রম্ + ক্তি = রতি।
(খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়। যেমন- √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), √শম্ + ক্তি = শান্তি।
(গ) 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন-√বচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভিজ্ + ক্তি = ভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• কৃৎপ্রত্যয়:
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
যেমন -
দুল্ + অনা = দোলনা,
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
• বাংলা কৃৎপ্রত্যয়:
- অক - প্রত্যয়: √ মুড় + অক = মোড়ক, √ ঝল্ + অক = ঝলক।
অন্যদিকে,
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ: √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত।
প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
• 'পানি + সা = পানসা > পানসে'।
• 'হাত + ল= হাতল ইত্যাদি।
• 'গীত + ইকা = গীতিকা।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়: √লিখ্ + ইয়ে = লিখিয়ে।
• ইয়া/ইয়ে প্রত্যয়:
- √মর্ + ইয়া = মরিয়া।
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে।
- √নাচ্ + ইয়ে = নাচিয়ে।
- √লিখ্ + ইয়ে = লিখিয়ে।
- √বাজ্ + ইয়ে = বাজিয়ে।
- √ক্ + ইয়ে = কইয়ে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ‘ভিখারি ’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো: ভিখ + আরি = ভিখারি
একটি তদ্ধিত প্রত্যয়।
- ‘ - আরি’ প্রত্যয় ব্যাবসা বা বৃত্তি , কম অর্থে , আকার , প্রকার , সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- এরূপ:-
- ধুন + আরি = ধুনারি
- চুন + আরি = চুনারি
- জুয়া + আরি = জুয়ারি
- মাঝ + আরি = মাঝারি
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আনা’ যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- গরিব + আনা = গরিবানা;
- ঘর + আনা = ঘরানা;
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা;
- বিবি + আনা = বিবিআনা।
অন্যদিকে,
• কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ- √ ভাস্ + বর = ভাস্বর; √ নম্ + র = নম্র।
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় ‘আলা’ যোগে গঠিত শব্দ: √গো + আলা = গোয়ালা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• প্রত্যয়:
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ বদলে যায়।
প্রত্যয় যুক্ত কিছু শব্দের ভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
অবজ্ঞা অর্থে: চোর - চোরা।
আদর অর্থে: কানু - কানাই।
সদৃশ অর্থে: বাঘ- বাঘা।
ভাব অর্থে: ইতর- ইতরামি।
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি- ডিঙা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'ভাজি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে √ভাজ + ই = ভাজি।
• ভক্তি = √ভজ + ক্তি (সংস্কৃত)
• মতি = √মন + ক্তি (সংস্কৃত)
• খ্যাত = √খ্যা + ক্ত (সংস্কৃত)
• ঘাটতি = √ঘাট + তি (বাংলা)
• বুদ্ধি = √বুধ + ক্তি (সংস্কৃত)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
আদরার্থে তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ
নিম+আই= নিমাই
কানু+আই= কানাই
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - ঘর + আমি = ঘরামি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় - ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - √দৃশ্ + অন = দর্শন।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক'।
• মাধ্যমিক (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক।
অর্থ:
- মধ্যবর্তী,
- মধ্যস্থ,
- মধ্যম সম্পর্কিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন: ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
যেমন-
√নী + ণক = নায়ক,
√গৈ+ণক= গায়ক,
√লিখ্+ণক = লেখক ইত্যাদি।
উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়।
অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন
১. অ(অচ্)
√পট্ + অ = পাঠ,
√জি + অ = জয়,
Vকৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে:
√মিশ + উক = মিশুক কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।