বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা

মোট প্রশ্ন৪৫৪এই পাতা৫৩প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা

PrepBank · পাতা / · ৪০১৪৫৩ / ৪৫৪

৪০১.
জোনাথন হাইট এর মতে নিচের কোনটি থেকে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটেনি?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) ঐতিহ্য
  4. ঘ) মানব আচরণ
ব্যাখ্যা
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’ - জোনাথন হাইট
৪০২.
আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে
  2. আইন মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. উভয়ই কেবল অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণা নিয়ন্ত্রণ করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য। 

• আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন। জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

৪০৩.
‘নৈতিকতা’ (Moralitas) শব্দটির উৎস কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. রুশ
  2. ফরাসি
  3. ল্যাটিন
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- ‘নৈতিকতা’ শব্দটির উৎস ল্যাটিন শব্দ ‘Moralitas’ থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ দাঁড়ায় মানুষের চরিত্রগত গুণাবলি ও সঠিক আচরণের ধারণা।
- নৈতিকতা হলো মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেইসব মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের সমষ্টি, যা তাকে সুন্দর, মার্জিত ও মানবিক আচরণ করতে উৎসাহিত করে।
- সঠিক নৈতিক অনুভূতি ও বিবেকের কারণে মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে না এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৪.
কর্তব্য কি?
  1. নীতিনিষ্ট আচরণ
  2. অপরিহার্য আচরণ
  3. আবশ্যকীয় প্রাপ্তি
  4. দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন
ব্যাখ্যা
• কর্তব্য:
→ কর্তব্য হচ্ছে মানুষের এমন এক নীতিনিষ্ঠ আচরণ, যা সকল সময়ই সর্বপ্রকার মানুষ পালন করতে বাধ্য থাকে।
→ নৈতিক কর্তব্য নিয়মিত পালন করার মানসিক প্রবণতা বা অভ্যাস থেকেই মানুষের মধ্যে সদগুণ গড়ে উঠে এবং কর্তব্য সম্পাদনের মধ্য দিয়েই সদগুণ প্রকাশিত হয়ে থাকে।
→  কর্তব্যের স্বরূপ প্রসঙ্গে ম্যাকেনজী বলেন যে, কর্তব্য হচ্ছে এমন এক বিশেষ ধরণের কাজ- যা আমাদের করা উচিত।
কর্তব্যের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন :
→  ১. কর্তব্য হচ্ছে ন্যায় কাজ, যা অনেক লোকই পরিহার করতে প্রবৃত্ত হয় ;
→  ২. কাজটি যে করছে তার চেয়ে অন্যের উপরই কর্তব্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বর্তে বলেই আমাদের মধ্যে কর্তব্যকে পরিহার করার প্রবণতা দেখা দেয় ;
→ ৩. কর্তব্য এমনভাবে অনুমোদনের ভাবাবেগ উদ্রেক করে, যা নিছক ন্যায় কাজ করে না।
→  কর্তব্যকে কেউ কেউ তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেন ; যেমন-আত্মকেন্দ্রিক, পরকেন্দ্রিক ও আদর্শ কেন্দ্রিক। আবার কেউ কেউ দু’ধরনের কর্তব্যের কথা বলেছেন, যেমন- নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট।
→  নির্দিষ্ট কর্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তির জ্ঞান সুষ্পষ্ট থাকে। পক্ষান্তরে অনির্দিষ্ট কর্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সুষ্পষ্ট জ্ঞান থাকে না। 

তথ্যসূত্র: এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৫.
আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস কোনটি?
  1. বিচারকের রায়
  2. যুক্তিসিদ্ধ জ্ঞান
  3. ধর্ম
  4. প্রথা
ব্যাখ্যা
প্রথা:
- আইনের অন্যতম উৎস হল প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার ব্যবহার রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, সমর্থিত ও পালিত হচ্ছে তাই প্রথা।
- সমাজে অনেক ধরনের প্রথাই প্রচলিত থাকে।
- তার মধ্যে যেসব প্রথা যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

⇒ আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে প্রথা।
- প্রাচীনকালে বিভিন্ন ধরনের প্রথার মাধ্যমেই দ্বন্দ্ব-বিরোধের মীমাংসা করা হত।
- আধুনিককালেও প্রচলিত প্রথাগুলো আইনের ভাঙা-গড়ার কাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আইন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থায় প্রথাগত বিধান এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- সেখানকার সাধারণ আইন (Common Law) মূলত প্রথা থেকে উৎসারিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৬.
নৈতিক অবধারণের বিষয়বস্তু হিসেবে চরিত্র হচ্ছে-
  1. মনের এক নিষ্ক্রিয় সংগঠন।
  2. মনের এক অপ্রকাশিত সংগঠন।
  3. মনের এক স্থায়ী সংগঠন।
  4. মনের এক সাময়িক সংগঠন।
ব্যাখ্যা
নৈতিক অবধারণের বিষয়বস্তু হিসেবে চরিত্র:
-মানুষের মানসিক জীবনের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে তার চরিত্র।
-চরিত্র হচ্ছে মনের এক স্থায়ী সংগঠন।
-অনেকে একেই নৈতিক অবধারণের প্রকৃত বিষয়বস্তু বলে মনে করেন এবং প্রেষণা ও অভিপ্রায়কে এর অন্তর্ভুক্ত করে দেখেন।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[লিঙ্ক]
৪০৭.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' এর প্রবর্তক বলা হয়- 
  1. ই .বি. টেইলর 
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল 
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. ফ্রান্জ বোয়াস
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৮.
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো-
  1. ক) আইন মেনে চলা
  2. খ) নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. গ) আনুগত্য প্রদর্শন
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় সম্পদের সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
- কর্তব্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের পালনীয় কতগুলো দায়িত্ব।
অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এর মতে,
- “কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গণ কল্যাণের জন্যে কোন কিছু করা বা না করার অধিকারকে বুঝায়।”
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো আনুগত্য প্রদর্শন।
অন্যান্য কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মান্য করা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
- রাষ্ট্রের সেবা করা
- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় না করা
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৪০৯.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) আইন
  2. খ) সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. গ) সার্বভৌমত্ব
  4. ঘ) সরকারের জনকল্যানমুখিতা
ব্যাখ্যা
আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলেরই সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৪১০.
বিশ্ব নৈতিকতা দিবস-
  1. ক) ১০ ডিসেম্বর
  2. খ) ১ জানুয়ারি
  3. গ) ১৫ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ৫ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
- ১ জানুয়ারি বিশ্ব নৈতিকতা দিবস‌‌।
- ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
- ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।
- ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

উৎসঃ আন্তর্জাতিক দিবস তালিকা।
৪১১.
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. দায়বদ্ধতা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. সহানুভূতি
ব্যাখ্যা
- লর্ড ব্রাইসের মত অনুসারে, দায়বদ্ধতা আইন মান্য করার কারণ নয়। 

আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
কোনটি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য?
  1. সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করা
  2. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
  3. কর প্রদান করা
  4. রাজনীতি করা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা সকল নাগরিকের প্রধান কর্তব্য।
- রাষ্টের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
- রাষ্টের অস্তিত্বের ওপর নাগরিকের অধিকার নির্ভরশীল।
- এজন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
- রাষ্টের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিতে হবে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪১৩.
ইমানুয়েল কান্টের নীতিবিদ্যার মূলকথা কোনটি?
  1. মুক্তির ইচ্ছা 
  2. শর্তহীন আদেশ
  3. কর্তব্যের জন্য কল্যাণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ইমানুয়েল কান্টের নীতিবিদ্যার মূলকথা সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

নীতিবিদ্যা:-

- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪১৪.
‘Anarchy’ শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ -
  1. ক) Anarchys
  2. খ) Ancestress
  3. গ) Anarchos
  4. ঘ) Anarkhos
ব্যাখ্যা
⇨ নৈরাজ্যবাদের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ ‘Anarchism। অন্যদিকে, নৈরাজ্য শব্দের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ ‘Anarchy’ যা গ্রিক শব্দ ‘Anarkhos’ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
⇨ নৈরাজ্যবাদের মূলকথা হচ্ছে, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই। নৈরাজ্যবাদীদের মতে রাষ্ট্র ও সরকার নিপীড়নের যন্ত্র মাত্র। তারা মনে করেন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে হবে। রাষ্ট্র যখন থাকবে না তখন একটি সংঘ সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। সংঘের কাজ হবে চুক্তি বাস্তবায়ন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা।
⇨ গডউইন, প্রুধোঁ, প্রিন্স ক্রপটকিন, টলষ্টয় প্রমুখ নৈরাজ্যবাদের সমর্থক। ক্রপটকিনের মতে, “কোন আইন কিংবা কোন সরকার থাকবে না।”   

তথ্যসূত্র:- নীতিবিদ্যা, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৫.
কোনটিকে নৈতিকতার রক্ষাকবচ বলা হয়? 
  1. সমাজ 
  2. মূল্যবোধ 
  3. সততা ও নিষ্ঠা
  4. বিবেকের দংশন
ব্যাখ্যা

• নৈতিকতা: 
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
-  নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উল্লেখ্য, 
- নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ Morality.
- নীতবিদ ম্যুর বলেন: শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪১৬.
‘কর্তব্যমুখী নৈতিকতা’ কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. কর্মের ফলাফল
  2. কর্মের পরিণতি
  3. কর্মের ধরন
  4. ব্যক্তিগত সুখ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৭.
কাদের মতে মানুষই সবকিছুর পরিমাপক অর্থাৎ নৈতিকতার কোন মানদণ্ড নেই, এটি ব্যক্তি নির্ভর?
  1. ক) ফারাওদের
  2. খ) সাইরেনিকদের
  3. গ) সোফিস্টদের
  4. ঘ) চার্বাকদের
ব্যাখ্যা
জীবনের ভালো-মন্দের নিহিতভাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে সোফিস্টরাই সর্বপ্রথম নৈতিক সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসেন। সোফিস্টদের মতে মানুষই সবকিছুর পরিমাপক অর্থাৎ নৈতিকতার কোন মানদণ্ড নেই, এটি ব্যক্তি নির্ভর৷
[সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী]
৪১৮.
'জামিন লাভের অধিকার' কোন ধরনের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আইনগত  অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. ব্যক্তিগত অধিকার
ব্যাখ্যা

অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।

⇒ ব্যক্তিগত অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিগত অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪১৯.
বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন -
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  4. আবদুল মতীন
ব্যাখ্যা
আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।

⇒ নব-নৈতিকতা (New Morality) বলতে সমাজে, সংস্কৃতিতে এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের একটি নতুন বা আধুনিক ধারণাকে বোঝানো হয়। এটি ঐতিহ্যবাহী নৈতিকতা বা সমাজে প্রচলিত পুরনো নৈতিক ধারণা থেকে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে এবং সাধারণত সময়ের পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় ঘটাতে চায়। নব-নৈতিকতা অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, এবং আধুনিক চিন্তা-ধারণার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।

⇒ আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২০.
নেতৃত্ব কোন প্রকারের গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. আদর্শিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

⇒ উল্লেখ্য:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪২১.
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছ? 
  1. অনুচ্ছেদ-১৪
  2. অনুচ্ছেদ-১৭
  3. অনুচ্ছেদ-১৮
  4. অনুচ্ছেদ-১৩
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ:
- অনুচ্ছেদ-১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- (১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

- (২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪২২.
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কী ধরণের কর্তব্য?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) আইনগত
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪২৩.
`Ethics’ শব্দটি এসেছে -
  1. ক) গ্রিক শব্দ Ethos থেকে
  2. খ) ল্যাটিন শব্দ Ethos থেকে
  3. গ) গ্রিক শব্দ Ethis থেকে
  4. ঘ) ল্যাটিন শব্দ Ethus থেকে
ব্যাখ্যা
▪ নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ `Ethics’ যা গ্রিক শব্দ ‘ইথস’ (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’ বা রীতিনীতি।
▪ বর্তমানকালে এ ‘ইথস’ শব্দটি বিশেষ প্রবণতা, বিশেষ লোকের মনোভাব, চরিত্র, সংস্কৃতি প্রভৃতি প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।
▪ নৈতিকতা এমন কিছু জিনিস চিহ্নিত করে এবং মানুষের আচরণকে এমনভাবে চালিত করে, যা সমাজের প্রত্যাশিত।
▪ প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট। নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।
▪ ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, “নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।”
▪ Godiwalla & Faramarz এর মতে, “ নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।”

তথ্যসূত্র: এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৪.
নৈতিকতা হলো একটি-
  1. ক) আধুনিক ধারণা
  2. খ) ধর্মীয় তত্ত্ব
  3. গ) মানসিক ধারণা
  4. ঘ) রাজনৈতিক এজেন্ডা
ব্যাখ্যা
Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৪২৫.
আধুনিককালে আইনের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. আইনসভা
  3. ন্যায়বোধ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা
আধুনিককালে আইনের প্রধান উৎস আইনসভা।

আইন:

- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা।

⇒ আইন সভা:
- আইন সভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণত জন কল্যাণে নিয়োজিত থাকে। ফলে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জন কল্যাণে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন অনেক বিষয়কে আইনে রুপান্তর করার জন্য তা বিল (আইনের খসড়া) আকারে আইনসভায় উত্থাপন করে থাকে। বিষয়টি যদি সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামত প্রাপ্ত হয় তবে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪২৬.
নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক কোনটি? 
  1. আইন ও বিধি
  2. বিবেক ও মূল্যবোধ
  3. সততা ও নিষ্ঠা
  4. সমাজ ও রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উল্লেখ্য, 
- নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ Morality.
- নীতবিদ ম্যুর বলেন: শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪২৭.
প্লেটো কয়টি সদগুনের কথা উল্লেখ করেছেন? 
  1. ২টি
  2. ৪টি 
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৮.
সৎ প্রতিবেশি নীতি'র প্রবক্তা কে?
  1. ক) আব্রাহাম লিঙ্কন
  2. খ) ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
  3. গ) কিম দামে জং
  4. ঘ) মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট সৎ প্রতিবেশি নীতির প্রবক্তা। ১৯৩০-৪০ এর সময়ে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণে রুজভেল্ট পূর্বেকার হস্তক্ষেপ নীতির বিপরীতে এই নীতি প্রবর্তন করে। ১৯৩৩ সালে প্রথম এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের এন্টি-কমিউনিষ্ট নীতির ফলে সৎ প্রতিবেশি নীতি গুরুত্ব হারায়। (সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪২৯.
ইভটিজিংয়ের জন্যে মুখ্যত দায়ী কোনটি?
  1. ক) আইনের অপপ্রয়োগ
  2. খ) ধর্মীয় শিক্ষার অভাব
  3. গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. ঘ) দরিদ্রতা
ব্যাখ্যা

- ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি। পুরুষ কর্তৃক নারীদের উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাই হলো ইভটিজিং।
- ইভটিজিং এর জন্যে মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রধানত দায়ী।
- এছাড়া সুশাসনের অভাব, অশিক্ষা, অপসংস্কৃতি প্রভৃতিও এর জন্যে দায়ী।

৪৩০.
'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'- ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. ডেকার্ট
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. ডেভিড হিউম
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩১.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বাট্রান্ড রাসেল
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা ৩টি। যথা:
• সৎ ইচ্ছা।
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য।
• শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৪৩২.
প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া কোন ধরণের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. নৈতিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
→ দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৪৩৩.
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
  1. শুদ্ধাচার
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিকতার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান সততা ও নিষ্ঠা।
- নীতির বিপরীত হলো দুর্নীতি।
- নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৪৩৪.
'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' উক্তিটি কার?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) স্বামী বিবেকানন্দ
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
ব্যাখ্যা
'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' এটি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের উক্তি। 'জ্ঞানই পূণ্য' এবং 'নিজেকে জানো' উক্তি দুটি সক্রেটিসের। (সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৪৩৫.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোন দেশে?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) চীন
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
প্রায় ২,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়।
গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো। তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না।
সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৩৬.
নৈতিকতা বিষয়টি কীরকম?
  1. অপরিবর্তিত
  2. আপেক্ষিক
  3. অনাপেক্ষিক
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ।
- এর অর্থ হচ্ছে নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে।
- অর্থাৎ নৈতিকতা বিষয়টি আপেক্ষিক।

উল্লেখ্য,
- সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
আধুনিককালে আইনের প্রধানতম উৎস হলো -
  1. প্রথা
  2. সংবিধান 
  3. জনমত 
  4. আইন পরিষদ
ব্যাখ্যা

আইন পরিষদ:
- আধুনিককালে আইনের প্রধানতম উৎস হচ্ছে আইন পরিষদ।
- আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে।
- আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনের এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে আইন পরিষদ কর্তৃক প্রণীত আইন।
- আইন পরিষদ শুধু নতুন আইন তৈরি করে না, পুরনো আইন সংশোধন করে তা যুগোপযোগী করে তোলে।

অন্যদিকে,
- সংবিধান আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন প্রকৃতপক্ষে জনমতের অভিব্যক্তি।
- প্রথা: প্রথা আইনের একটি সুপ্রাচীন উৎস।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৩৮.
কাদের ক্ষেত্রে ‘বিপরীত বৈষম্য' নীতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. নারী
  2. শিশু
  3. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে 'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়।

♦ 'বিপরীত বৈষম্য':
- সমতার প্রশ্নে "বিপরীত-বৈষম্যের" ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
- অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
- অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয় ।
- বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন।
- বিপরীত বৈষম্য নীতি অনুসারে, সমাজে যেসব জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ সুবিধা বা কোটা প্রদান করা হয়।
- এটি সংরক্ষণ নীতি বা Affirmative Action হিসেবেও পরিচিত, যা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৯.
নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দটি কোন ভাষা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) গ্রীক
  3. গ) ল্যাটিন
  4. ঘ) ম্যাক্সিকান
ব্যাখ্যা

নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৪০.
"মানুষ যখন আইন ও নৈতিকতা থেকে দূরে থাকে তখন সে নিকৃষ্টতম জীবে পরিণত হয়।" উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) জন লক
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) জ্যা জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা
• এরিস্টটল বলেছেন, “মানুষ যখন আইন ও নৈতিকতা থেকে দূরে থাকে, তখন সে নিকৃষ্টতম জীবে পরিণত হয়।”

অন্যদিকে,
• জ্যা জ্যাক রুশোর উক্তি - 'মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্রই তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।'
• লর্ড ব্রাইস (Lord Bryce) মনে করেন যে, -  'নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তির ভয় এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি'—এই পাঁচটি কারণে মানুষ আইন মেনে চলে ।
• জন লক বলেছেন, -  “যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।” আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। মানুষ তাই আইন মেনে চলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৪১.
নৈতিকতা সম্পর্কে সক্রেটিস কী বলেছেন?
  1. সৎ গুণই জ্ঞান
  2. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে
  3. শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।

অন্যদিকে -
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৪২.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা?
  1. ক) নগরায়ন
  2. খ) কিশোর অপরাধ
  3. গ) ছাত্র রাজনীতি
  4. ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
ব্যাখ্যা
অপ্রাপ্তবয়স্ক (৭-১৬ বছর) ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ। এটি আমাদের দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা।
- এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। এছাড়া খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদনের অভাব, আদর-যত্নের অভাব, সামাজিকীরণের অনুকূল পরিবেশের অনুপস্থিতি প্রভৃতি কিশোর অপরাধ সংঘটনের জন্যে দায়ী।
অন্যদিকে,
- প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা অর্থনৈতিক সমস্যা। ছাত্র রাজনীতি কোন সমস্যা নয়। তবে অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি রাষ্ট্রের জন্যে সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। নগরায়ন ইতিবাচক সূচক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৪৪৩.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
  1. ক) দুর্নীতি দূর হয়
  2. খ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. গ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  4. ঘ) নৈতিক অবক্ষয় রোধ হয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ঠ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পুড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প কারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৪৪৪.
একজন যোগ্য প্রশাসকের মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. দক্ষতা
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসকের মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে নৈতিকতাকে শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে সাহায্য করে এবং দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতা প্রদর্শনের ভিত্তি তৈরি করে যা প্রশাসককে জনগণের আস্থা অর্জনে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য করে তোলে। 

উল্লেখ্য,
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
- দায়িত্বশীলতা: দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।
- দক্ষতা: দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

৪৪৫.
কোনটি লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয়?
  1. সহানুভূতি
  2. শ্রদ্ধা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. আনুগত্য
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় - আনুগত্য।

আইন মান্য করার কারণ:

লর্ড ব্রাইস জনসাধারণের আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন-

(ক) নির্লিপ্ততা: নির্লিপ্ততার অর্থ হল উদাসীনতা। বিশাল ভূখণ্ডে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তি নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে। ফলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন বিচার বিশ্লেষণ না করে অন্যদের ন্যায় নিজেও অতি সহজেই আইন মান্য করে চলে।
(খ) শ্রদ্ধা: যুগ যুগ ধরে সমাজ জীবনে যেসব রীতি-নীতি প্রথা চলে আসছে; মা, বাবা, গুরুজন ও বংশধররা যে সব রীতিনীতি দীর্ঘকাল ধরে মান্য করে আসছে, সেগুলো জনসাধারণও শ্রদ্ধাভরে মান্য করে থাকে।
(গ) সহানুভূতি: সমাজের প্রায় সকলেই যখন আইন মান্য করে চলে তখন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে অন্যদের মধ্যেও আইন মান্য করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়।
(ঘ) শাস্তির ভয়: জনসাধারণ জানে আইন ভঙ্গ করলে আইন ভঙ্গকারীকে অভিযুক্ত করা হবে এবং তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। তাই জনসাধারণ শাস্তির ভয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং আইন মান্য করে চলে।
(ঙ) যৌক্তিকতার উপলব্ধি: জীবন, সম্পত্তি, নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা এবং ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে মানুষ আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং আইন মান্য করতে শেখে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
Morality শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. চরিত্র
ব্যাখ্যা
♦ নৈতিকতা:
-  নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Morality. 
- ইংরেজি Morality. শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
-‍ গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন- সৎ গুণই জ্ঞান এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে অজ্ঞতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৪৭.
নীতিবিদ জোনাথন হাইটের মতে নৈতিকতার উদ্ভব কোথা থেকে হয়? 
  1. রাষ্ট্র ও আইন
  2. ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
  3. সমাজ ও পরিবার
  4. শিক্ষা ও গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- “Morality” শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে। 
- এর অর্থ হলো সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতার গুরুত্ব প্রথমে বিশেষভাবে তুলে ধরেন সক্রেটিস। 
- তাঁর বিখ্যাত বক্তব্য “Virtue is Knowledge” দ্বারা নৈতিকতা ও জ্ঞানের সংযোগ নির্দেশিত হয়।

নৈতিকতার প্রামাণ্য সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ—এই তিনটির ভিত্তিতে উদ্ভব হয়েছে (জোনাথন হাইট)। 
• নীতিবিদ ম্যুর নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন শুভের প্রতি অনুরাগ এবং অশুভের প্রতি বিরাগের মাধ্যমে। 
• অন্যদিকে এস. ম্যাকাইভার উল্লেখ করেছেন যে নৈতিকতার পেছনে সার্বভৌম রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের কোনো সমর্থন বা বাধ্যবাধকতা থাকে না।

• নৈতিকতার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- মানুষের কল্যাণ সাধন হলো নৈতিকতার লক্ষ্য। 
- নৈতিকতা অর্জনে বিবেক ও মূল্যবোধ প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- মানুষের মানসিক আচরণ এই নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেকের দংশন বা অন্তর্দৃষ্টি কাজ করে।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার মূল ভিত্তি মানুষের নিজের মনের মধ্যে জন্ম নেয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৪৮.
সামাজিক নৈরাজ্যের জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. ক) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  2. খ) আইন-শৃঙ্খলার অবনতি
  3. গ) অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সামাজিক নৈরাজ্য হলো সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ। মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও শিথিলতা, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি ইত্যাদির ফলে সমাজে সামাজিক নৈরাজ্য দেখা দেয়।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৪৯.
আমলাতন্ত্রকে সর্বপ্রথম যুক্তিসঙ্গত ও আইনগত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন-
  1. ক) রিচার্ড ক্রসম্যান
  2. খ) ফাইনার
  3. গ) ম্যাক্সওয়েবার
  4. ঘ) রুশো
ব্যাখ্যা

- সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন ম্যাক্সওয়েবার।
- আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য অঙ্গ।
- রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মন্ত্রী বা রাজনৈতিক প্রশাসকরা এবং বাস্তবায়ন করেন আমলারা।
- জনগণের সাথে আমলাদের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক।
- রিচার্ড ক্রসম্যানের মত, অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ।
- আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য খুব বেশি।

৪৫০.
নৈতিকতার ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কী?
  1. Ethics
  2. Equity
  3. Moral
  4. Morality
ব্যাখ্যা
⇒ নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন - "সৎ গুণই জ্ঞান" (Virtue is knowledge) তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী -গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা'।

⇒ নৈতিকতার প্রামান্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, "ধর্ম, ঐতিহ্য, ও মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।"
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) আর.এম ম্যাকাইভার
  2. খ) অধ্যাপক লাস্কি
  3. গ) নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালী
  4. ঘ) মাইকেল ফাউকোল্ট
ব্যাখ্যা

শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।
তাই আর. এম ম্যাকাইভার বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।

৪৫২.
"আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।” উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. গেটেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন লক
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

নৈতিকতার ধারণা: 
- নৈতিকতা ব্যক্তিগত একটি বিষয়।
- পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যাচাই করার কোন শ্বাশত মানদন্ড না থাকার ফলে একজনের দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভালো অন্য জনের দৃষ্টিতে তা খারাপ হতে পারে।
- তবে ভালো-মন্দের একটি গড়পড়তা মানদন্ড সব সমাজে প্রায় একই রকম।
- সততা, সদাচারী, সৌজন্যমূলক আচরণকারী, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারি ব্যক্তিকে সব সমাজই নৈতিক গুনসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে।
- এ রকম ব্যক্তি কোন বিষয়টি সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ভালো বা মন্দ তা নির্ণয় করতে পারে।
- এই ভালো ও মন্দের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারাটাই হল ব্যক্তির নৈতিকতা।

নৈতিকতাকে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ-
- ডি এন সিডলি'র মতে "সঠিক ও বেঠিক এর মাঝে পার্থক্যই হল নৈতিকতা”।

আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক: 
- উদ্দেশ্যগত: আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।
- অন্যদিকে, নৈতিকতারও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নীতিবান ব্যক্তি তার কর্মে ও কথায় সবসময় সৎ, সদাচারী, সৌজন্যমূলক ও সৎচিন্তাশীল হয়ে থাকে। এসব গুণ সমাজজীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত সমাজে যেসব বিষয়গুলো আইন বিরোধী, সেগুলো সাধারণত নীতিবিরোধীও হয়। যেমন, প্রতারণা বিষয়টি নীতিবিরোধী আবার তা আইন বিরোধীও। বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, “আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৩.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে জাগ্রত হয়?
  1. রাজনৈতিক দল থেকে
  2.  রাষ্ট্রের আইন থেকে 
  3. মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
  4. অর্থনৈতিক নীতি থেকে
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।