বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা

মোট প্রশ্ন৪৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৪৫৪

৩০১.
সংবিধানের ২১(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনটি বাংলাদেশের নাগরিকের কর্তব্য নয়?
  1. সংবিধান ও আইন মান্য করা
  2. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  3. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
  4. জনগণের সেবা করা
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ২১(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকের কর্তব্য নয় - জনগণের সেবা করা।

বাংলাদেশের নাগরিকতা:

- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।"
- ২১(২) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৩০২.
কার মতে 'ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ'- এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়?
  1. জি  ম্যুর
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি, যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- এর বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট মনে করেন,
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'


- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন,
'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞায় Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে,
'নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩০৩.
'মানুষ হও' এবং 'বাঁচার জন্য মরো'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. হেগেল
  4. জি. ই. ম্যূর
ব্যাখ্যা
হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল।

১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। 
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩০৪.
মানুষের বাহ্যিক ও মানসিক আচরণ সমূহ নিয়ন্ত্রণ করে-
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সমাজ
  4. আইন
ব্যাখ্যা
আইন :
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের মনের অনুভূতির সাথে আইনের কোন মিল নাই।
- আইন মানুষের গোপন চিন্তা বা উদ্দেশ্যকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক ও মানসিক আচারণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
-  নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

আইন ও নৈতিকতা:
• মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
• সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩০৫.
নিচের কোনটি নৈতিকতার উৎস নয়?
  1. বিবেক
  2. বুদ্ধি
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
       ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
'লালফিতা' প্রত্যয়টি প্রথম কোন দেশে প্রচলন হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ব্রিটেন
  3. মিশর
  4. গ্রিস
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।
- 'লালফিতা' প্রত্যয়টি সপ্তদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রচলিত হয়।
- সে সময় দেশটিতে সরকারি অফিস- আদালতের সকল ফাইলপত্র লাল রঙের ফিতা দ্বারা বেঁধে রাখা হত।
- পরবর্তীকালে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা বোঝানোর জন্য লাল ফিতা রূপকটির ব্যবহার শুরু হয়।
- এক পর্যায়ে এসে আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ম-কানুনের বাড়াবাড়ি, বিলম্ব, হয়রানি ও বাড়াবাড়ি বুঝাতেও 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' কথাটির প্রচলন শুরু হয়।
- উত্তর উপনিবেশিক দেশগুলোর আমলাতন্ত্রে 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি দেখা যায়।
- রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে।
- প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।
- অনেক সময় মানবিক দিকটি উপেক্ষিত রেখে নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে প্রশাসন। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
প্লেটো কয়টি সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
- অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

• প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৮.
জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) এর মতে কয়টি জিনিস থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

নৈতিকতার সংজ্ঞা:
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩০৯.
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ কোনটি?
  1. উপযোগবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. বিচারবাদ
  4. জ্ঞানবাদ
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১০.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা ৪টি। এগুলো হচ্ছে: বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা। 

১। বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা। বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে। এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়। আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২। মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩। বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।

৪। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১১.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. স্বচ্ছতার অভাব
  3. অসৎ নেতৃত্ব
  4. নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা

- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

• দুর্নীতি এবং নৈতিকতা:
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, ক্ষমতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত.
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়,
- তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১২.
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কী?
  1. মায়া ও মমতা
  2. সততা ও নিষ্ঠা
  3. সহনশীলতা ও সহমর্মিতা
  4. কর্তব্যপরায়ণতা ও উদারতা
ব্যাখ্যা
নৈতিক শক্তি:
- নৈতিক শক্তি মানে হলো ব্যক্তি নিজের ভেতরে থাকা সেই শক্তি বা মানসিক দৃঢ়তা, যা তাকে সৎ, ন্যায়ের পথে অটল এবং আদর্শবান থাকতে সাহায্য করে।
- এই নৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি হচ্ছে সততা এবং নিষ্ঠা।
- কারণ এগুলো মানুষকে নীতিগতভাবে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং চরিত্রকে দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
- সততা হলো সত্য ভাষণ ও সত্য আচরণ বজায় রাখা।
- একজন সৎ মানুষ নিজের স্বার্থের চেয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকেন।
- অপরদিকে, নিষ্ঠা মানে দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং অটল মনোভাব।
- যে কাজেই নিযুক্ত থাকুন না কেন, নিষ্ঠার সাথে তা পালন নৈতিক শক্তিকে দৃঢ় করে।

⇨ তাছাড়া নৈতিক শক্তির অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে-
→ ন্যায়-নীতি,
→ সহনশীলতা ও সহমর্মিতা,
→ সামাজিক ন্যায়বিচার,
→ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
→ আইনের শাসন ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৩.
নৈতিকতার রক্ষাকবচ কী?
  1. আইন
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. সামাজিক নীতি
  4. বিবেকের দংশন
ব্যাখ্যা

নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

•নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩১৪.
নৈতিক অধিকার ভোগ করার জন্য ব্যক্তিকে নিচের কোনটি পালন করতে হয়?
  1. ব্যক্তিগত ইচ্ছা
  2. নৈতিক কর্তব্য
  3. সামাজিক দায়িত্ব
  4. অনৈচ্ছিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক:
- নৈতিক অধিকার ভোগ করার জন্য ব্যক্তিকে নৈতিক কর্তব্য পালন করতে হয়। 

- উদাহরণস্বরূপ, পিতা-মাতা সন্তানদের লালন-পালন ও শিক্ষা দেয়।
- আবার পিতা-মাতা যখন বৃদ্ধ হন সন্তানরা তাঁদের সেবা-যত্ন করে।
- এক্ষেত্রে নৈতিক অধিকার হচ্ছে পিতা-মাতার অধিকার ভোগ, আবার নৈতিক কর্তব্য হচ্ছে সন্তানদের লালন- পালন ও শিক্ষা দেয়া।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, নৈতিক অধিকার নৈতিক কর্তব্যের উপর নির্ভরশীল।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৫.
কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
  1. অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
  2. আইনের শাসন
  3. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  4. সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়।

নৈতিক মূল্যবোধ:

- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৬.
Principia Ethica গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) এম ডব্লিউ পামফ্রে
  3. গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
  4. ঘ) নিকোলা মেকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড মুর। এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত করেন।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৩১৭.
‘Know Thyself' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. থেলিস
  2. সক্রেটিস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. হেরাক্লাইটাস
ব্যাখ্যা

• সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।

⇒ গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত
করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৮.
'নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন' - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আইভর ব্রাউন
  2. থমাস হবস
  3. জেমস মিল
  4. ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ 'Ethics' যা গ্রিক শব্দ 'ইথস' (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো 'চরিত্র' বা রীতিনীতি (Character or Custom)।
- প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।

উল্লেখ্য,
- ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।"
- Godiwalla & Faramarz এর মতে, " নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।"
- Kreitner Eliason foundations of Management- এর মতে ভুল বনাম সঠিক এর সংশ্লিষ্টতার সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করাই হলো নৈতিকতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৯.
কোন প্রতিষ্ঠানের সফলতা কীসের ওপর নির্ভর করে?
  1. ক) শাসনকার্য
  2. খ) ফলপ্রসূ শাসনকার্য
  3. গ) ব্যাক্তিস্বার্থ
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৩২০.
নীতিবিদ্যার মূল কথা নয় কোনটি?
  1. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য
  2. শর্তহীন আদেশ
  3. আইনের প্রয়োগ 
  4. সৎ ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

- আইনের প্রয়োগ নীতিবিদ্যার মূলকথা  নয়।

নৈতিকতা:

- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২১.
নাগরিকের কর্তব্যকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যা সব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে। নাগরিকের কর্তব্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় —নৈতিক কর্তব্য ও আইনগত কর্তব্য। [পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণী]
৩২২.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে - 
  1. আমদানি বেড়ে যায়
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. রপ্তানি কমে যায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো.মোজাম্মেল হক।

৩২৩.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. সমাজ
  3. পরিবার
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা

• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবােধের উৎস নৈতিক চেতনা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

৩২৪.
“Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely” -উক্তিটি কার?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলী
  3. গ) লর্ড অ্যাক্টন
  4. ঘ) গ্ল্যাডস্টোন
ব্যাখ্যা
- “Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely” –উক্তিটি লর্ড জন অ্যাক্টনের।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৩২৫.
আইন হচ্ছে -
  1. ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও অনুভূতি
  2. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম
  3. সমাজের অপ্রচলিত রীতি
  4. ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

এছাড়াও, 
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২৬.
"সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন"-কে বলেছেন?
  1. জন অস্টিন
  2. জন লক
  3. এরিস্টটল
  4. উড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটলের মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।" 
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।" -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
⇒ রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩২৭.
'জনসমষ্টি' রাষ্ট্রের কততম উপাদান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস করে, যাদের একটি সরকার আছে সর্বোপরি যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে সর্বোতভাবে মুক্ত থাকে।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
⇒ রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা:
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও.
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি মৌলিক সততা নয়?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) পরোপকারিতা
  4. ঘ) আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
- মৌলিক সততা বলতে সেসব সদগুণাবলীকে বুঝায় যা বিভিন্ন শ্রেণীর সদগুণাবলির ভিত্তি।
প্লেটোর মতে মৌলিক সততা চারটি। এগুলো হলো:
- জ্ঞান
- সাহসিকতা
- আত্মসংযম ও
- ন্যায়পরায়ণতা।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩২৯.
সুশাসনের জন্য অপরিহার্য নয় কোনটি?
  1. ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. খ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম
  4. ঘ) জবাব্দিহিতামূলক সরকার
ব্যাখ্যা
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৩৩০.
সুবর্ণ-মধ্যক কী?
  1. ক) একটি নক্ষত্র
  2. খ) একটি দার্শনিক ধারণা
  3. গ) গাণিতিক পরিভাষা
  4. ঘ) সমবাহু ত্রিভূজের মধ্যমা
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন। দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে। (সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৩৩১.
নৈতিক আচরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ -
  1. ক) স্বেচ্ছাচারিতা
  2. খ) স্বাধীনতা
  3. গ) বাধ্যবাধকতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- নৈতিকতা বিষয়ক সামাজিক চিন্তা-চেতনা যেসব অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদেরকে আমরা এককথায় নৈতিক অবধারণ বা নীতিবাক্য বলতে পারি ।
- এই সব নীতি-বাক্যগুলো ‘চুরি করা অন্যায়', “মিথ্যা বলা ভাল নয়' ইত্যাদি আকারে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যবহার করি।

• নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক হলেও এর ব্যক্তিবাদী দিকটি কিন্তু গুরুত্বহীন নয়।
- চরণের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা তথা স্বাধীনতাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে নেয়ায় নৈতিকতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্তণ তথা আত্ম-নির্দেশনাকে তার এক মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য।
- পাশ্চাত্য নীতি-দর্শনের আদি গুরু হিসেবে পরিচিত সক্রেটিস থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কালের সকল দার্শনিক এ বিষয়ের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩২.
স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. ক) আইনের চোখে সকলে সমান
  2. খ) মূল্যবোধের বিকাশ
  3. গ) সদাজাগ্রত জনমত
  4. ঘ) সরকারের দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার হলেও এটি অর্জন ও সংরক্ষণ অত্যন্ত দুরূহ কাজ।
- স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সর্তক দৃষ্টি বা সদা জাগ্রত জনমত। 
- স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে, যেন স্বাধীনতার ওপর হুমকি না আসে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩৩.
প্লেটো কোন সদগুণের কথা উল্লেখ করেন নি?
  1. সততা
  2. ন্যায়
  3. সাহস
  4. প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা

⇒ প্লেটো সততার কথা উল্লেখ করেন নি।

প্লেটো সততা'র কথা উল্লেখ করেন নি।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদগুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

তথ্যসূত্র - দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৪.
নৈতিক মূল্যবােধের মূল উৎস কোনটি?
  1. ধর্ম
  2. পরিবার
  3. সমাজ
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবােধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচারণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশুরা তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা পায়।
- সুতরাং,  নৈতিক মূল্যবােধের উৎস - নৈতিক চেতনা।
- নৈতিক চেতনা হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ নীতি, যা তাদের আচরণ ও সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলে।
- এটি ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রভাব থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যার মধ্যে ধর্ম, পরিবার এবং সমাজও অন্তর্ভুক্ত।
- তবে নৈতিক চেতনা নিজেই একটি প্রধান উৎস যা মানুষকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
- যদিও পরিবারের সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা পায় কিন্তু নৈতিক মূল্যবােধের মূল উৎস মানুষের নৈতিক চেতনা।
 
উল্লিখিত প্রশ্নে নৈতিক মূল্যবোধের মূল উৎস হিসেবে দেওয়া অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো: ঘ) নৈতিক চেতনা

তথ্যসূত্র: ১) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৫.
নিচের কোনটি আইনগত কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রোগীর সেবা করা
  2. দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  3. নির্বাচনে ভোটদান করা
  4. শোকার্তকে সান্ত্বনা দেওয়া
ব্যাখ্যা

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৩৬.
নীতিবিদ্যাকে "মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান" হিসেবে কে আখ্যায়িত করেন?
  1. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  2. নিকোলাস রেসার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

• উইলিয়াম লিলি- 
তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
'দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. অর্থনৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
→ প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

- নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত নয়। এ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে না।
- Dictionary of Social Science গ্রন্থে বলা হয়েছে, “নৈতিক অধিকার মানুষের নৈতিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুরক্ষিত নয় ।” (Moral rights which are dependent on the ethical feelings of man and they are not guaranteed by any legal authority.)

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩৩৮.
নিচের কোনটি নৈতিক অধিকারের বৈশিষ্ট্য?
  1. সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত
  2. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত
  3. আইনগত ভিত্তি নেই
  4. ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা-
(১) নৈতিক অধিকার ও 
(২) আইনগত অধিকার।

নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৯.
নৈরাজ্যবাদের মূল কথা কী?
  1. ক) রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই
  2. খ) রাষ্ট্র ও সরকার অপরিহার্য
  3. গ) ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান
  4. ঘ) রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করতে হবে
ব্যাখ্যা
- নৈরাজ্যবাদের মূলকথা হচ্ছে, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজন নেই।
- নৈরাজ্যবাদীদের মতে রাষ্ট্র ও সরকার নিপীড়নের যন্ত্র মাত্র। তারা মনে করেন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে হবে।
- রাষ্ট্র যখন থাকবে না তখন একটি সংঘ সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। সংঘের কাজ হবে চুক্তি বাস্তবায়ন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা।
- গডউইন, প্র“ধোঁ, প্রিন্স ক্রপটকিন, টলষ্টয় প্রমুখ নৈরাজ্যবাদের সমর্থক।
- ক্রপটকিনের মতে, “কোন আইন কিংবা কোন সরকার থাকবে না।” 
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি , এইচ এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
নৈতিকতা কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. সামাজিক নিয়মের সমষ্টি
  2. মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
  3. মানুষের বাহ্যিক আচরণের সমষ্টি
  4. অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নীতি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪১.
‘Golden Mean’ ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক। 
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
৩৪২.
'Virtue is knowledge' কে বলেছেন?
  1. ম্যুর
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- এটি ল্যাটিন শব্দ 'Moralitas' থেকে এসেছে যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance) ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪৩.
কোনটি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সাদৃশ্য নির্দেশ করে?
  1. উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
  2. উভয়ই কেবল ব্যক্তিগত
  3. উভয়ই অপরিবর্তনীয়
  4. উভয়ই ধর্মনির্ভর
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- নৈতিকতা সার্বজনীন। 
- নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ। 
- নৈতিকতা এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ। 
- নৈতিকতা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সামষ্টিক বিষয়। 
- মূল্যবোধ মানুষের অবশ্য পালনীয় আচরণ। 
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক। 
- মূল্যবোধ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। 
- মূল্যবোধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার। 
- মূল্যবোধ শুধু বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৪.
'Greatest Happiness Principle' নীতির প্রবক্তা কে?
  1. রুশো
  2. জন মিল
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:

- তিনি একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।
- তার বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে রয়েছে The Principles of Morals and Legislation.

নৈতিকতা ও উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৪৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ২০ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২১ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৩১ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
অন্যদিকে,
- ২০ নং অনুচ্ছেদ : অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
- ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান)
৩৪৬.
“The Idea of Justice” বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) কার্ল মার্ক্স
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) অমর্ত্য সেন
  4. ঘ) অ্যালেন লেইন
ব্যাখ্যা
The Idea of Justice is a 2009 book by the economist Amartya Sen. In this book, Sen makes a radical break with the traditional notion of homo economicus, or 'rational economic man' as motivated mainly by self-interest. He points out that children have strong notions of 'fairness' and acute aversion to 'manifest injustice'. তার অন্যান্য বই -
Development as Freedom,
The Argumentative Indian,
Identity & Violence,
Inequality Reexamined ইত্যাদি।
৩৪৭.
‘Duty for duty’s sake’ নীতির প্রবর্তক কোন দার্শনিক?
  1. জাঁ জ্যাক রুশো
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

অন্যদিকে, 
- জাঁ জ্যাক রুশো: 
- 'The Social Contract' জ্যা জ্যাক রুশোর একটি বিখ্যাত বই।
- A Discourse Upon the Origin and Foundation of the Inequality Among Mankind.
- A Discourse on the Sciences and the Arts.
- Confessions.
- Emile: or, On Education.

• এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: ¡)পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা।

৩৪৮.
নিচের কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সকলের জন্য সমান সুযোগ
  2. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতা
  3. সকলের জন্য সমান আইনের শাসন
  4. বিশেষ সুবিধা প্রদান
ব্যাখ্যা

ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়- বিশেষ সুবিধা প্রদান।

ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৯.
নৈতিকতার উৎপত্তি ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ থেকে এসেছে— কে এই মত দেন?
  1. সক্রেটিস
  2. জোনাথান হেইট
  3. জন রলস
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩৫০.
নৈতিকতা কী?
  1. ভালো-মন্দের পার্থক্যকারী
  2. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের মানদণ্ড
  3. আইনসিদ্ধ সামাজিক দায়বদ্ধতা
  4. মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩৫১.
জোনাথান হেইট-এর মতে নৈতিকতার উদ্ভব কোথা থেকে হয়েছে?
  1. আইন ও সরকার
  2. ব্যক্তিগত লাভ ও ক্ষতি
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৫২.
নৈতিকতা মানুষের কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. রাজনৈতিক আচরণ
  2. সামাজিক আচরণ
  3. পারিবারিক আচরণ
  4. মানসিক আচরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা: 
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে,
- যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।

এছাড়াও, 
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
- নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।
- নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃত্বের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না।
- কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- রাষ্ট্র নৈতিকবিধি প্রয়োগ করে না।
- নৈতিকতা বিরোধী ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কোনো প্রকার দৈহিক শাস্তি প্রদান করে না।
-  বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ব্যাপার।

উল্লেখ্য, 
- আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- যে রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ।
- 'কেননা সে দেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন, ঘুষ দুর্নীতিকে ঘৃণা করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৫৩.
আইনের সর্ব প্রাচীনতম উৎস কী?
  1. সংবিধান
  2. প্রশাসন
  3. প্রথা
  4. আদালত
ব্যাখ্যা

প্রথা: 
- আইনের অন্যতম উৎস হল প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার ব্যবহার রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, সমর্থিত ও পালিত হচ্ছে তাই প্রথা।
- সমাজে অনেক ধরনের প্রথাই প্রচলিত থাকে।
- তার মধ্যে যেসব প্রথা যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- আবার যেসব প্রথা সমাজ ও জনগণের জন্য অকল্যাণকর তা আইন করে বন্ধ করা হয়।
- গ্রেট ব্রিটেনে অনেক প্রথা সাংবিধানিক আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- অন্যদিকে যৌতুক প্রথা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে।

⇒ আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে প্রথা।
- প্রাচীনকালে বিভিন্ন ধরনের প্রথার মাধ্যমেই দ্বন্দ্ব-বিরোধের মীমাংসা করা হত।
- আধুনিককালেও প্রচলিত প্রথাগুলো আইনের ভাঙা-গড়ার কাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আইন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থায় প্রথাগত বিধান এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- সেখানকার সাধারণ আইন (Common Law) মূলত প্রথা থেকে উৎসারিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৪.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) কি?
  1. ক) সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. খ) একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
  3. গ) ত্রিভুজের দুটি বাহন ভূকেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. ঘ) দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক একটি দার্শনিক প্রতিশব্দ, যার মাধ্যমে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে বুঝিয়েছেন।
৩৫৫.
সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে সমান-এ থেকে কী প্রমাণিত হয়?
  1. আইন নিয়মকানুনের সমষ্টি
  2. আইন ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  3. আইন সর্বজনীন
  4. আইন বাহ্যিক আচরণের সাথে যুক্ত
ব্যাখ্যা
আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
'Morality' শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ফারসি
  4. স্প্যানিশ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ।
- এর অর্থ হচ্ছে নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে।
- অর্থাৎ নৈতিকতা বিষয়টি আপেক্ষিক।

উল্লেখ্য,
- সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৭.
নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ক) হেরাক্লিটাস
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) কিয়ের্কেগার্ড
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
- প্লেটো সর্বপ্রথম নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। 
- প্লেটো দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রথম ভেবেছেন।
- তিনি তাঁর 'ইউথাইফ্রো’ শীর্ষক সংলাপে বিষয়টি বর্ণনা করেন। 
- এই সংলাপে আদালত প্রাঙ্গনে সক্রেটিসের সাথে ইউথাইফ্রোর মধ্যকার কথোপকথনে নৈতিকতা ও ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়। 
৩৫৮.
কোনটি অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ?
  1. ক) আইন
  2. খ) প্রথা
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
• অধিকারের রক্ষাকবচ:
- বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার অত্যাবশ্যক।
- রাষ্ট্রই নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রবর্তন ও তা সংরক্ষণ করে থাকে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের শর্তগুলোকে “অধিকারের রক্ষাকবচ" বলে।

এগুলো নিম্নরূপ:

- আইন (Law):
 আইন হচ্ছে অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ।
→ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়।
→ আইন হচ্ছে অধিকার ভোগের আবশ্যকীয় শর্ত বা রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৫৯.
সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কী?
  1. দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা
  2. যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা
  3. নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
  4. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন
ব্যাখ্যা
সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি:
- নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি।

অন্যদিকে -
- যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা, দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা ও ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন করা ইত্যাদির মাধ্যমে সততা নিশ্চিত হয় না।

⇒ সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬০.
জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) কোনটির উৎস হিসেবে ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণকে বিবেচনা করেন?
  1. আইন
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
- হেইটের মতে, ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ—এই তিনটি উপাদান থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

নৈতিকতা:

- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৬১.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ইমানূয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬২.
নৈতিক আচরণবিধি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিন্ন হয় কেন?
  1. অর্থনৈতিক কারণে
  2. প্রতিষ্ঠানের আকারের কারণে
  3. পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
  4. কর্মী সংখ্যার কারণে
ব্যাখ্যা

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

• নৈতিকতার নিয়ম প্রতিষ্ঠা:
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। এ প্রসঙ্গে Bartol and Martin বলেন, “নৈতিকতার নিয়ম হলো এক ধরনের দলিল যা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদেরকে দিক-নির্দেশনার জন্য তৈরি করা হয় যখন তারা নৈতিকতা সম্পর্কে কোনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
- প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে।
- এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৩.
নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় -
  1. ক) পরিবর্তিত হতে পারে
  2. খ) পরিবর্তিত হতে পারে না
  3. গ) পরিবর্তন করলে শাস্তি পেতে হয়
  4. ঘ) কিছুদিন পর পর পরিবর্তন হতে পারে
ব্যাখ্যা
• নৈতিক আচরণ স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় পরিবর্তিত হতে পারে

• নৈতিকতার সঙ্গে সমাজের সম্পৃক্ততার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি পরিস্থিতি হচ্ছে নৈতিক আপেক্ষিকবাদ ।
- এর অর্থ হচ্ছে সমাজে সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতার ফলে তাদের নৈতিক চিন্তা-চেতনাও ভিন্ন হতে বাধ্য।
- এমতাবস্থায় নৈতিকতাকে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য করতে আমরা বাধ্য হই, যদিও মানব জীবনে নৈতিকতার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করলে এই ধরনের অভিধা নৈতিকতার পক্ষে মোটেই মর্যাদাপূর্ণ মনে হয় না।
- এর উত্তরে এই বলা যায় যে, বিভিন্ন সমাজে নৈতিক নীতিতে পার্থক্য থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় এই নীতিগুলো কোন না কোন সর্বজনীন নীতির অংশ হিসেবেই কাজ করে।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৪.
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি 'Know Thyself' এর অর্থ কী?
  1. সমাজকে জানো
  2. নিজেকে জানো
  3. সকলকে জানো
  4. অপরকে জানো
ব্যাখ্যা

গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৫.
'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি। যথা:
• সৎ ইচ্ছা,
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য,
• শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয় ৷

→ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৬.
সকল অন্যায় ও পাপ থেকে মানুষকে দূরে রাখে-
  1. ক) উচ্চ শিক্ষা
  2. খ) নৈতিক শিক্ষা
  3. গ) বিজ্ঞান শিক্ষা
  4. ঘ) কর্মমুখী শিক্ষা
ব্যাখ্যা
নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রাখে। নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।(সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী)
৩৬৭.
‘দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার‘ কোন ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. আইনগত অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ ‘দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার‘ নৈতিক অধিকার।

নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার বলতে সেইসব অধিকার বোঝায় যা মানুষের বিবেক, নৈতিকতা, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ থেকে উদ্ভূত হয়।
- এগুলো রাষ্ট্রের কোনো আইন বা সরকারি প্রণয়নের ওপর নির্ভর করে না, বরং মানুষের মনুষ্যত্ববোধ, সামাজিক ন্যায় এবং সাধারণ নৈতিক চেতনা থেকে আসে।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।
• দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার,
• প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া,
• পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

- নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত নয়।
- এ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৩৬৮.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন‘ কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৯.
কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
  1. সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক দলীয় অঙ্গীকার
  2. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  3. আইনের শাসন
  4. অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক দলীয় অঙ্গীকার ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়।

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭০.
“Principles of Political Economy” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জ্যাক রুঁশো
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”.
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”
- “Utilitarianism”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৭১.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা ৪টি।

যথা:
- পরানীতিবিদ্যা;
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা;
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা; এবং
- মানমূলক নীতিবিদ্যা। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭২.
বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা কী ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. নৈতিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৭৩.
জোনাথান হেইট-এর মতে, নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে -
  1. ধর্ম
  2. ঐতিহ্য
  3. মানব আচরণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ জোনাথান হেইট-এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

⇒ প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৭৪.
আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা কে?
  1. ক) এফ. এম. মার্কস
  2. খ) ম্যাক্সওয়েবার
  3. গ) রবার্ট প্রেসথাস
  4. ঘ) কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
• আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েবার। 

-  আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy যার অর্থ দাড়ায় Desk Government.
- প্রখ্যাত জার্মান তাত্ত্বিক ম্যাক্স ভেবার (ম্যাক্স ওয়েবার) প্রথম আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- যার কারণে তাকে আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
৩৭৫.
নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের -
  1. নৈতিক শক্তি
  2. নৈতিক বিধি
  3. নৈতিক আদর্শ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
৩৭৬.
জোনাথান হেইট এর মতে, কোনটি থেকে নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ঐতিহ্য
  2. মানব আচরণ
  3. ধর্ম
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

⇒ নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৭৭.
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম -
  1. CEDAW
  2. UNCAC
  3. UNCTAD
  4. UNCLOS
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন:
- জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম - UNCAC. 

- এর পূর্ণরূপ United Nations Convention against Corruption. 
- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- ইউএনসিএসি (UNCAC) এর লক্ষ্য হল বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি হ্রাস করা যা দেশের সীমানা জুড়ে ঘটতে পারে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৭৮.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।

আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- আইন হলো সেই সাধারণ নিয়ম; যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইন এর ৬টি উৎস রয়েছে:
১. প্ৰথা, 
২. ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা, 

এছাড়াও ওপেনহাইমের মতে আইন এর ৭টি উৎস রয়েছে:
১. প্ৰথা, 
২. ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা, 
৭. জনমত, 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৭৯.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ক) দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার
  2. খ) জীবনের অধিকার
  3. গ) অবকাশ লাভের অধিকার
  4. ঘ) নির্বাচনে ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- অধিকারের বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
এর মধ্যে সামাজিক অধিকারসমূহ হলো:
- জীবনের অধিকার
- মত প্রকাশের অধিকার
- সভা-সমিতির অধিকার প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার হলো নৈতিক অধিকার।
- নির্বাচনে ভোটাধিকার হলো রাজনৈতিক অধিকার।
- অবকাশ লাভের অধিকার হলো অর্থনৈতিক অধিকার।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৮০.
নৈতিকতার সঙ্গে কোনটির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়?
  1. ক) সভ্যতা
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) বিশ্বাস
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। 
- পৃথিবীতে প্রচলিত সব ক'টি ধর্মই নৈতিকতার ওপর সবিশেষ জোর দিয়ে থাকে। 
- বাইবেলে যে দশটি আদেশ পাওয়া যায় তার প্রায় সবকটিই নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত। 
- ইসলামে ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের বহু জায়গায় বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে ভাল কাজ করার কথা অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছে। 
- হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গীতায় যে কর্মবাদের কথা বলা হয়েছে তা একটি বিশেষ ধরনের নৈতিক জীবনের মাহাত্ম ঘোষণা করে। 
- বুদ্ধধর্ম তো প্রকৃত অর্থেই একটি নীতি দর্শনেরই নাম। 
- ধর্ম প্রণেতাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেও বলা যায়, তাদের কর্মকান্ডের বড় অংশই ছিল তাঁদের স্ব-স্ব সমাজে এমন সব নতুন ধারণার প্রবর্তন যা মানুষের নৈতিক জীবনকে কোন না কোনভাবে প্রভাবিত করেছে।
 
উৎস: এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮১.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. ক) জেরেমি বেন্থাম
  2. খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
  3. গ) জ্যা জ্যাক রুশো
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩৮২.
“আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি”— এ সংজ্ঞাটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. উড্রো উইলসন
  3. স্যার হেনরি মেইন
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"  অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।’

আইন:
- ফারসি ভাষা থেকে আসা ‘আইন’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Law, যার আভিধানিক অর্থ হলো স্থির ও অপরিবর্তনীয়।
- আইনের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই।
- বিভিন্ন দার্শনিক ও আইনবিদ নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আইনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, কিন্তু আইনের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল। আইন বলতে সাধারণভাবে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়মকানুনকে বোঝায়, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

⇒ আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৩৮৩.
প্লেটোর ৪টি প্রধান সদগুণের মধ্যে নিম্নের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ন্যায় (Justice)
  2. সাহস (Courage)
  3. শিক্ষা (Education)
  4. মিতব্যয়িতা (Temperance)
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) শিক্ষা (Education)

প্লেটোর সদগুণ:
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলি হল: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার বা আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং ন্যায়।
- এর মধ্যে, ন্যায়কে তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন।
- তবে, ব্যক্তি বা রাষ্ট্রে অন্য তিনটি সদগুণ—প্রজ্ঞা, সাহস এবং মিতাচারের—অস্তিত্ব থাকলেই ন্যায় সদগুণের পূর্ণতা লাভ করে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স'-এ সদগুণের উদ্ভবের মূল কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্লেটোর ৪টি প্রধান সদগুণ হল:
১) ন্যায় (Justice)
২) সাহস (Courage)
৩) মিতব্যয়িতা (Temperance)
৪) প্রজ্ঞা (Wisdom)
কিন্তু শিক্ষা (Education) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
মানুষের নৈতিক অধিকারের শর্ত কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার:
- মানুষের নৈতিক অধিকারের দু’টি শর্ত আছে। যথা :-
- ক. সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির বিনা বাধায় তার অধিকার ভোগ করার ক্ষমতা রয়েছে এবং
- খ. প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে তার অধিকার নিজের ও সমাজের অপরাপর ব্যক্তির কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।
- উল্লেখিত শর্ত দুটি ব্যতিত কোন অধিকারকে সমাজ স্বীকার করে নেয় না।
- সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, - গৃহীত ও অনুমোদিত নৈতিক দাবীই হলো মানুষের নৈতিক অধিকার। 

তথ্যসূত্র: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৫.
ন্যায্য মজুরি পাবার অধিকার কী ধরনের অধিকার?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) নৈতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
ন্যায্য মজুরি পাবার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।

• অর্থনৈতিক অধিকার:

- অর্থনৈতিক অধিকার বলতে সেই সকল সুযোগ-সুবিধা বোঝায় যা নাগরিকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে জীবন ধারণের নিশ্চয়তা দেয়। অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া নাগরিক জীবন চিন্তা করা যায় না। যেমন-কর্মের অধিকার, ন্যায্য মুজুরি পাবার অধিকার, পেশা পছন্দের অধিকার। অর্থনৈতিক অধিকার অন্যান্য অধিকারের পূর্বশর্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৬.
ইমানুয়েল কান্ট এর মতে নীতি বিদ্যার মূলকথা কয়টি?
  1. চারটি
  2. দুইটি
  3. পাঁচটি
  4. তিনটি
ব্যাখ্যা
• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।

• তাঁর মতে নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
উল্লেখ্য,
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৭.
ব্যাক্তি সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়-
  1. আইন থেকে
  2. রাষ্ট্র থেকে
  3. পরিবার থেকে 
  4. ধর্ম থেকে
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৮৮.
নৈতিকতা প্রধানত কী ধরনের ব্যাপার?
  1. ব্যক্তিগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, “নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।

⇒ নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৮৯.
'Prolegomena to ethics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. টি. এইচ. গ্রীন
  3. ডেভিড হিউম
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
টমাস হিল গ্রীন বা টি. এইচ. গ্রীন:

-টমাস হিল গ্রীন বা টি. এইচ. গ্রীন (ইংরেজি: Thomas Hill Green; ৭ এপ্রিল ১৮৩৬ ১৫ মার্চ ১৮৮২ খ্রি.) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, রাজনৈতিক আমূল বিপ্লবী ও মদ্যপানবর্জন সংস্কারক এবং ব্রিটিশ ভাববাদী আন্দোলনের সদস্য।
- টি. এইচ. গ্রীন ও তাঁর সমকালের এবং একই চিন্তার অধিকারী দার্শনিক ব্রাডলে এবং বোসাঙ্কোয়েটকে সাধারণত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্য ভাববাদী বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- উনিশ শতকের শেষের দিকে টি. এইচ. গ্রীনের নীতিবিদ্যায় এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যায়।
- টমাস হিল গ্রীন ফ্রিডরিখ হেগেলের অধিবিদ্যামূলক ইতিহাসবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- টমাস হিল গ্রীনের রচনাবলীর মধ্যে নীতিশাস্ত্রের উপর 'প্রলেগোমেনা টু এথিক্স' এবং রাজনীতির উপর 'প্রিন্সিপলস অব পলিটিক্যাল অবলিগেশন' বিশেষভাবে পরিচিত।
- টি. এইচ. গ্রীন তাঁর Prolegomena to Ethics গ্রন্থে তাঁর পূর্ণতাবাদী তত্ত্ব ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, 
-'Political Ideals' এবং Human Society in Ethics and Politics- গ্রন্থের লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- A Treatise of Human Nature; এবং Human Understanding; গ্রন্থের লেখক ডেভিড হিউম।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
৩৯০.
নীতিবিদ্যার কোন ধারা অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত?
  1. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  2. পরানীতিবিদ্যা
  3. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  4. মানমূলক নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার চারটি ও ধারা বা ধরনের কথা চিন্তা করা যায়।
- এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

১. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা। বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে। এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়। আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২. মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩. বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা। নীতিবিদ্যার যে শাখায় নৈতিক মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির অর্থ নিরূপণ করাহয়, তাকে পরানীতিবিদ্যাবলে। পরানীতিবিদ্যাকে দ্বিতীয় স্তরের অনুসন্ধান বলে অভিহিত করা হয়।

৪.ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা। নীতিবিদ্যার যে শাখায় নীতিতাত্ত্বিকেরা আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলির আলোচনা করেন, তাকে ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যা বলে। পরিবেশ রক্ষা, প্রাণীহত্যা, আত্মহত্যা, কৃপাহত্যা প্রভৃতি বিষয়গুলি ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯১.
‘স্বাধীনতা বলতে যদি আত্মবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা বুঝায় তা হলে তা নিশ্চিত ভাবেই আইনের দ্বারা সৃষ্টি হয়’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) লক
  4. ঘ) রিচি
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৩৯২.
ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক তত্ত্ব কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে?
  1. ফলাফলের উপর
  2. সুখের উপর
  3. কর্তব্য ও কাজের স্বভাবের উপর
  4. সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের উপর 
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: Britannica.

৩৯৩.
নৈতিকতা কী ধরনের বিষয়?
  1. শারীরিক বিষয়
  2. অর্থনৈতিক বিষয়
  3. মানসিক বিষয়
  4. রাজনৈতিক বিষয়
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি। 
- ​নৈতিকতার উদ্ভব মানুষের বিবেকবোধ থেকে। 
- ​এটি একটি মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতার উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব আরোপিত নয়। অর্থাৎ নৈতিকতা লঙ্ঘনকারীকে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় আইন শাস্তি প্রদান করতে পারে না।
- বিবেকের দংশনই নৈতিকতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
- মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৯৪.
কার মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"?
  1. উইলিয়াম ফ্রাংকেনার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. টেইলার
  4. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু সংজ্ঞা: 
- উইলিয়াম লিলি এর মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।

- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৯৫.
মানুষের আচরন নিয়ন্ত্রন করে কল্যাণ সাধন করা কোনটির লক্ষ্য?
  1. গণতন্ত্রের
  2. মূল্যবোধের
  3. সুশাসনের
  4. নৈতিকতার
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
- লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯৬.
Nihilism অর্থ কী?
  1. ক) শূন্যবাদ
  2. খ) মধ্যমপন্থা
  3. গ) উত্তম আচরণ
  4. ঘ) চরমপন্থা
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩৯৭.
'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
• 'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক - বার্ট্রান্ড রাসেল।

• বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক - বার্ট্রান্ড রাসেল। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

সূত্র: ব্রিটানিকা ডটকম।
৩৯৮.
নৈতিকতা ভঙ্গের শাস্তি কী?
  1. রাষ্ট্রীয় আইনে সাজা
  2. আন্তর্জাতিক আইনে সাজা
  3. সামাজিক আইনে সাজা
  4. কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯৯.
মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞানকে কি বলে?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) নীতিবিদ্যা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সমাজকল্যান
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ethics এসেছে গ্রিক শব্দ ethica ও ল্যাটিন শব্দ ethice থেকে। এ শব্দ দু’টি এসেছে গ্রিক শব্দ ethikos থেকে। অর্থাৎ ethics এর আদি উৎস হলো ethos যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’, ‘আচার-ব্যবহার’, ‘রীতি-নীতি’ বা ‘অভ্যাস’।
কাজেই শাব্দিক অর্থে নীতিবিদ্যা বলতে বুঝায় ‘মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞান’। নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের ভালত্ব-মন্দত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। অতএব, যে বিদ্যা মানুষের আচার-ব্যবহার রীতি-নীতি, অভ্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে নীতিবিদ্যা বলে।

নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দ সম্পর্কিত আলোচনা। সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ বা ইচ্ছাকৃত ক্রিয়ার মূল্যবিচার করাই হলো এর মূল আলোচ্য বিষয়। এই বিদ্যার আলোচ্য বিষয় সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ণ।
৪০০.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. মিতাচার, ন্যায়, সততা, আইন
  2. সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, নির্লিপ্ততা
  3. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  4. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

সদগুন:
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।