বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩৯৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৯৪

১০১.
বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. কিউরিসিটি রোভার
  2. স্পুটনিক - ১
  3. স্পুটনিক - ২ 
  4. ব্র্যাক অন্বেষা
ব্যাখ্যা

স্পুটনিক:
- স্পুটনিক ছিল একাধিক কৃত্রিম উপগ্রহের একটি সিরিজ।
- স্পুটনিক ১ ছিল বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ।
- এর প্রথমটি ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমেই শুরু হয় মহাকাশ যুগ।
- এটি একটি ৮৩.৬ কেজি (১৮৪ পাউন্ড) ওজনের ধাতব ক্যাপসুল ছিল।
- এটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকে—যার সর্বোচ্চ দূরত্ব (অ্যাপোজি) ছিল ৯৪০ কিমি এবং সর্বনিম্ন দূরত্ব (পেরিজি) ছিল ২৩০ কিমি।
- প্রতি ৯৬ মিনিটে এটি একবার করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করত।
- স্পুটনিক ১ প্রায় তিন মাস কক্ষপথে ঘুরে ১৯৫৮ সালের ৪ জানুয়ারি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়।
- এই উৎক্ষেপণ আমেরিকানদের মাঝে প্রবল আলোড়ন তোলে—কারণ তারা ভাবত, যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে এগিয়ে।
- এই ঘটনার পর শুরু হয় মহাকাশ প্রতিযোগিতা, যা ঠান্ডা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১০২.
শনি গ্রহ প্রধানত কোন উপাদান দিয়ে গঠিত?
  1. রডিয়াম ও কার্বন
  2. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  3. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  4. লোহা ও সিলিকন
ব্যাখ্যা

• শনি:
- শনি গ্রহ সূর্য থেকে ষষ্ঠ গ্রহ এবং আমাদের সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- শনি গ্রহটি বেশিরভাগ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। ।
-এই গ্রহের নামকরণ করা হয়েছে কৃষি ও সম্পদের রোমান দেবতার নামে, যিনি বৃহস্পতিরও পিতা ছিলেন।
- নিরক্ষীয় ব্যাস প্রায় ৭৪,৮৯৭ মাইল (১২০,৫০০ কিলোমিটার) হওয়ায়, শনি গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে ৯ গুণ প্রশস্ত। 
-  শনির একদিন মাত্র ১০.৭ ঘন্টা সময় নেয় (শনির একবার ঘুরতে বা ঘুরতে যে সময় লাগে),
- শনি সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে (শনির সময়ে এক বছর) প্রায় ২৯.৪ পৃথিবী বছরে (১০,৭৫৬ পৃথিবী দিন) পূর্ণ করে।
- ৮ জুন, ২০২৩ পর্যন্ত, শনির কক্ষপথে ১৪৬টি উপগ্রহ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) কর্তৃক তাদের আবিষ্কার

উৎস: NASA.

১০৩.
হ্যালির ধূমকেতু আবার কত সালে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?
  1. ক) ২০৬০
  2. খ) ২০৬১
  3. গ) ২০৬২
  4. ঘ) ২০৬৩
ব্যাখ্যা

- ধূমকেতু হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু। এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৫ বছর পর পর দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- হ্যালির ধূমকেতু সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে দেখা গিয়েছিল এবং ২০৬১ সালে আবার দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: Spcae.com এবং somoynews.tv

১০৪.
শ্বেত বামন কী?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. ব্লাকহোল
  4. গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামন বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ তারকা: 
- শ্বেত বামন হলো এক ধরনের ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা, যা মাঝারি ও নিম্ন ভরের তারকাদের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে গঠিত হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রথম আবিষ্কৃত তারকাগুলোর সাদা রঙের কারণে এদের হোয়াইট ডোয়ার্ফ বলা হয়।
- কম উজ্জ্বলতা সম্পন্ন হয়।
- ভর প্রায় সূর্যের সমান, কিন্তু ব্যাস পৃথিবীর সমান।
- অত্যন্ত ঘন এবং সংক্ষিপ্ত আকৃতির হয়।
- গড় ঘনত্ব পানি থেকে প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি।
- এই তারকারা মহাকাশে নিভে যাওয়া সূর্যের মতো ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে এবং একসময় সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় কালো ডোয়ার্ফে পরিণত হয়।

উৎস: Britannica.
১০৫.
বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে ব্যবহৃত প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. স্পুটনিক-২
  2. ইনটেলসেট-১
  3. ল্যান্ডসেট-১
  4. এক্সপ্লোরার-১
ব্যাখ্যা

- ইনটেলসেট-১, যা 'আর্লি বার্ড (Early Bird)' নামেও পরিচিত, ১৯৬৫ সালের ৬ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ।

কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস: 

- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। 
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে। 
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। 

- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান। 
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়। 
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। 
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে। 

- বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয়। 
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে। 
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এপর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১০৬.
'Big Bang Theory'র ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন-
  1. বার্নার
  2. স্টিফেন হকিং
  3. ডারউইন
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা

• 'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।

- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল, হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটি বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

• স্টিফেন হকিং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
- তাই বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design.

উৎস: ব্রিটানিকা

১০৭.
কোন স্পেস টেলিস্কোপ ২০২১ সালে হাবল টেলিস্কোপের স্থলাভিষিক্ত হয়?
  1. জেমস ওয়েব
  2. পাথ ফাইন্ডার
  3. স্পিটজার
  4. জন কেপলার
ব্যাখ্যা

- জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ২০২১ সালে হাবল টেলিস্কোপের স্থলাভিষিক্ত হয়। 

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ: 
- মহাকাশে পাঠানো এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি)। 
- মহাজাগতিক রহস্য অনুসন্ধানের পাশাপাশি মহাবিশ্বের প্রান্তে কী আছে, তা নিয়েও আশ্চর্যজনক ছবি প্রকাশ করছে টেলিস্কোপটি। 
- ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর মহাকাশে পাঠানোর পর থেকে টানা তিন বছর টেলিস্কোপটির মাধ্যমে দূরবর্তী বিভিন্ন গ্রহের বায়ুমণ্ডলের তথ্য বিশ্লেষণসহ মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। 
- তিন বছর আগে এই দিনে দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে করে মহাকাশে পাঠানো হয় জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। 
- জেমস ওয়েব টেলিস্কোপকে বিখ্যাত হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে
- প্রায় ৩০ বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে টেলিস্কোপটি, খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার। 
- বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হলেও মাত্র তিন বছরের মধ্যেই টেলিস্কোপটি মহাজাগতিক তথ্য সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। 

- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এমন গ্যালাক্সির খোঁজ পেয়েছে যেটি পৃথিবী থেকে ১৩.৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- ২০২৩ সালে টেলিস্কোপটি প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট বা বহিঃসৌরজাগতিক গ্রহ আবিষ্কার করে।
- এলএইচএস ৪৭৫বি নামের গ্রহটি পৃথিবীর মতোই দেখতে।
- জেমস ওয়েব বেশ কয়েকটি ব্ল্যাকহোলও আবিষ্কার করেছে। আর তাই টেলিস্কোপটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অনেক চমকের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা।

১০৮.
Constellation বলতে নিচের কোনটিকে বোঝানো হয়?
  1. আকাশগঙ্গা
  2. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  3. নক্ষত্রমণ্ডলী
  4. উল্কা
ব্যাখ্যা
নক্ষত্রমণ্ডলী (Constellation):
- মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় কয়েকটি নক্ষত্র বিশেষ আকৃতিতে মিলে জোট বেঁধেছে।
- এভাবে আমাদের পরিচিত আকৃতিতে দেখা নক্ষত্রদলকে নক্ষত্রমণ্ডলী বলে।
- প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক একটি নক্ষত্রদলকে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করে বিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করে বিভিন্ন নাম দিয়েছেন। - এদের কোনোটা দেখতে ভল্লুকের মতো, কোনোটা শিকারির মতো।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: 
- সপ্তর্ষিমণ্ডল (Great Bear),
- কালপুরুষ (Orion),
- ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia),
- লঘুসপ্তর্ষি (Little Bear),
- বৃহৎ কুকুরমন্ডল (Canis Major) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০৯.
কোন বিজ্ঞানী পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের বদলে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন? 
  1. টলেমী
  2. গ্যালিলিও 
  3. অ্যারিস্টটল 
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
ব্যাখ্যা

সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে: 
- সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে না, বরং পৃথিবীই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। 
- সূর্যই পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে-এটা মনে হয়, কারণ বাস, লঞ্চ বা রেলগাড়ি যখন খুব দ্রুত যায়, তখন পাশের গাছপালাগুলো পেছনের দিকে ছুটছে বলে মনে হয়। আসলে রেলগাড়ি, লঞ্চ বা বাস সামনের দিকে চলছে কিন্তু মনে হয় এটি দাঁড়িয়ে আছে। আর পাশের গাছপালা আসলে স্থির কিন্তু মনে হয় এগুলো পেছনের দিকে ছুটছে। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে কিন্তু পৃথিবী থেকে মনে হয় সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। 

- অ্যারিস্টটল দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগের বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ছিলেন। তিনিও মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘোরে। 
- এখন থেকে প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী টলেমী জোরালোভাবে বলেন যে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। তার এই মতবাদ দীর্ঘদিন মানুষ বিশ্বাস করেছে। কিছু কিছু জ্যোর্তিবিদ টলেমীর মতবাদে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু তার এই মতবাদকে কেউ ভুল প্রমাণিত করতে পারেননি। 
- এরপর নিকোলাস কোপার্নিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ নিয়ে আসেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের বদলে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। 
- তার মডেলের মূল কথা হলো পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তিনি আরও বলেন পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর আবর্তন করছে। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ও কেপলার, নিকোলাস কোপার্নিকাস এই মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন। 
- বর্তমানে সূর্যকেন্দ্রিক এই মডেল প্রমাণিত এবং বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করেছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১১০.
সৌরজগতে কয়টি গ্রহ সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ: 
- যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে আমরা বাস করি তার নাম আকাশ গঙ্গা (Milky Way)।
- এই ছায়াপথে রয়েছে আমাদের সূর্য ও এর পরিবার যাকে সৌরজগৎ বলা হয়।
- সৌরজগতে রয়েছে সূর্য ও একে ঘিরে আবর্তনশীল ৮টি গ্রহ।
- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ।
- সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১১১.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কিত প্রচলিত তত্ত্ব কোনটি? 
  1. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
  2. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  3. বিগব্যাং তত্ত্ব
  4. আপেক্ষিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১২.
সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্র গ্রহের কতদিন সময় লাগে?
  1. ১৬৭ দিন
  2. ২২৫ দিন
  3. ২৮১ দিন
  4. ৩৬৫ দিন
ব্যাখ্যা

শুক্র:
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
পৃথিবী তার নিজ অক্ষে কোন দিকে আবর্তন করছে?
  1. দক্ষিণ থেকে উত্তর
  2. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  3. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  4. উত্তর থেকে দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন: 
- পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের দিক পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে। 
- সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতি ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময়ে আবর্তন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৪.
বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে কী বলে?
  1. সৌর জ্বালা
  2. নিউট্রিনো
  3. গামা রশ্মি
  4. মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১১৫.
পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা প্রথম প্রাণী কোনটি?
  1. বিড়াল
  2. বানর
  3. খোরগোশ
  4. কুকুর
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর মহাকাশ যুগের শুরু হয়।
- এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুতনিক স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ মহাকাশে প্রেরণ করে।
- মহাকাশ যুগের দরজা খোলার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুতনিক ২ উৎক্ষেপণ করে। 
- এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম কোনো প্রাণী কক্ষপথে যাওয়ার সুযোগ পায়।
- স্পুতনিক ২ রকেটে করে একটি প্রাণী মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়। 
- লাইকা নামের কুকুরকে পাঠানো হয় কক্ষপথে।
- লাইকা পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা প্রথম প্রাণী।

উৎস: প্রথম আলো।

১১৬.
কোন গ্রহকে সবুজ গ্রহ বলা হয়?
  1. মঙ্গল
  2. ইউরেনাস
  3. নেপচুন
  4. পৃথিবী
ব্যাখ্যা

ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

অন্যদিকে -
- মঙ্গলকে লাল গ্রহ বলে।
- গ্রহরাজ বলা হয় বৃহস্পতিকে।
- বুধ হল সূর্যের নিকটতম এবং সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

১১৭.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. জি. ল্যামেটার 
  3. স্টিফেন হকিং
  4. এডুইন হাবল
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১১৮.
'A Brief History of Time' বইটি কার লেখা?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. জগদীস চন্দ্র বসু
  3. স্টিফেন হকিং
  4. অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা

স্টিফেন হকিং 
- তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে ক্যামব্রিজে কসমোলজির উপর স্নাতকোত্তর গবেষণা করেন।
- ১৯৬২ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিত এবং তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণার কাজ শুরু করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো কসমোলজি এবং জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি।
- কেমব্রিজে গবেষণা করার সময় তাঁর মোটর নিউরন রোগ ধরা পরে যেটা তাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেয়।
- আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্টিফেন হকিং গুরুতর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।
- কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কথা বলা রপ্ত করেন।
- ১৯৮৮ সালে তিনি তার বই 'A Brief History of Time: From the Big Bang to Black Holes' প্রকাশ করেন।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে খুব সহজবোধ্য ভাষায় সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তিনি লিখেছিলেন।
- ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ছিয়াত্তর বছর বয়সে এই বিজ্ঞানীর জীবনাবসান হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১১৯.
মহাকাশকে বায়ুমণ্ডলের অংশ হিসেবে ধরা হয় না কেন? 
  1. সেখানে তাপমাত্রা বেশি থাকার ফলে
  2. বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে ঘোরার ফলে
  3. মহাকাশে সবসময় সূর্য থাকার ফলে
  4. বায়ুমণ্ডলে কোনো পদার্থ না থাকার ফলে
ব্যাখ্যা
মহাকাশ (Space): 
- আকাশের দিকে তাকালে দূর দূরান্তের অনেক বস্তু দেখা যায়। 
- দিনের আকাশের সূর্য আর রাতের আকাশের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি চোখে পড়ে। 
- যদি দুরবীক্ষণ দিয়ে আকাশের দিকে দেখা হয়, তখন আরও অনেক কিছু দেখা যায়। যেমন- বৃহস্পতি গ্রহ তার উপগ্রহসহ জ্বলজ্বল করতে থাকে। 
- গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা, তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য বলে। 
- মহাকাশের দিকে তাকালে যেসব বস্তুকে দেখতে পাওয়া যায় তা হলো পদার্থ। 

মহাকাশ বা মহাশূন্যের শুরু যেখান থেকে: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথেই মহাকাশে ঘুরছে, এজন্য বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; একে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি। 
- পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে, বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমণ্ডল থাকে না বললেই চলে। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। 
- এক সময় মানুষ ভাবত যে, যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি তারা দেখতে পায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বক্রাকৃতির। 
- পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর মানুষ তার দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২০.
নিচের কোনটিকে গ্রহরাজ বলা হয়?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
ব্যাখ্যা

• বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২১.
Hubble Telescope এর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নভোচারীগনকে মহাশূণ্যে কোন নভোযানে প্রেরণ করা হয়েছিল?
  1. Endeavour
  2. Challenger
  3. Pathfinder
  4. Apollo
ব্যাখ্যা
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ: 
- মহাকাশে ভাসমান প্রথম টেলিস্কোপ হলো হাবল টেলিস্কোপ। 
- আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন পি. হাবল এর নামানুসারে NASA বিশ্বের প্রথম স্পেস-ভিত্তিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপের নামকরণ করেছে। 
- ২৪ এপ্রিল ১৯৯০ হাবলের টেলিস্কোপ স্পেস শাটল ডিসকভারি (STS-31) থেকে প্রথম উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- ২৫ এপ্রিল ১৯৯০ থেকে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে। 
- হাবল টেলিস্কোপ মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেছে। 
- ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে Hubble Telescope এর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নভোচারীগনকে মহাশূণ্যে Endeavour নভোযানে প্রেরণ করা হয়েছিল। 

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
১২২.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৭.৫°
  2. ৬৯.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ৭৩.৫°
ব্যাখ্যা
• দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি:
- প্রধানত পাঁচটি কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- অর্থাৎ একটি দিবসে দিন ও রাত্রির সময়কাল সকল সময়ে এক হয় না।
- নিম্নোক্ত কারণে এইরূপ হয়ে থাকে।
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়; 
২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথটি, অর্থাৎ কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার (Elliptical);
৩. পৃথিবীর দুইটি গতি যেমন: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি;
৪. পৃথিবী আপন কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত এবং
৫. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. জি.লেমেটার
  3. এডউইন হাবল
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং তত্ত্ব:
- বেলজিয়ামের জ্যোর্তিবিজ্ঞানি জি.লেমেটার বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা।
- ১৯৩১ সালে বেলজিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ক্যাথলিক পাদ্রী জর্জ লেমিটার প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে বিগ ব্যাং তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- এই তত্ত্ব ১৯৩০-এর দশকে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে একটি বিপ্লবাত্মক বিচ্যুতি ছিল, যা আজ প্রায় সব জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দ্বারা গৃহীত,।
- সেই সময়ে অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এখনও মহাবিশ্বের প্রসারণশীল ধারণা মেনে নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।
- সমগ্র দৃশ্যমান মহাবিশ্ব গ্যালাক্সি সমূহের বিস্ফোরণ দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।
- এই তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) তাঁর 'A Brief History of Time' বইয়ে।

উৎস: American Museum of Natural History.
১২৪.
সূর্যের উন্নতি কোণ পরিমাপ করা যায় নিম্নের কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
  1. রিফ্রাক্টোমিটার
  2. রিখটার স্কেল
  3. স্পেকস্ট্রোস্কোপ
  4. সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা
সেক্সট্যান্ট:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

⇒ সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায়।
- এ যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নর্ণয় করা যায়।

উৎস: Britannica.
১২৫.
সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের কতদিন সময় লাগে?
  1. ৩৬৭ দিন 
  2. ২২৫ দিন 
  3. ৫৬৭ দিন 
  4. ৬৮৭ দিন
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২৬.
"একসময় পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ একত্রে একটি মহাদেশ ছিল, কালের আবর্তে যা টেকটনিক প্লেট নামক প্লেটগুলোর নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে।" - এই তত্ত্বকে বলা হয় -
  1. ক) বিগ ব্যাং তত্ত্ব
  2. খ) সম্প্রসারণ তত্ত্ব
  3. গ) সঞ্চালন তত্ত্ব
  4. ঘ) মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মতে, বহুকাল আগে পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ একত্রে একটি মহাদেশ ছিল (প্যানজিয়া), কালের আবর্তে যা টেকটনিক প্লেট নামক প্লেটগুলোর নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই তত্ত্বটিকে বলা হয় মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব।
- ১৯১২ সালে আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব থেকেই টেকটনিক প্লেট ধারণাটির জন্ম হয়।
১২৭.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়?
  1. তির্যকভাবে
  2. লম্বভাবে
  3. কৌণিকভাবে
  4. আড়াআড়িভাবে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
১২৮.
বেশিরভাগ গ্রহাণুর অবস্থান কোথায়?
  1. শনি এবং বৃহস্পতির মাঝে
  2. মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
  3. পৃথিবী ও মঙ্গল এর মাঝে
  4. শনি ও ইউরেনাস এর মাঝে
ব্যাখ্যা
গ্রহাণু: 
- গ্রহাণু, যেগুলোকে কখনও বামন গ্রহ বলা হয়, সৌরজগতের প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে গঠনের সময় অবশিষ্ট থাকা শিলাময় এবং বায়ুহীন অংশ।
- বেশিরভাগ গ্রহাণুর মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে অ্যাস্টারয়েড বেল্টে অবস্থান। 
- বৃহত্তম গ্রহাণু ভেস্তা, যার ব্যাস প্রায় ৩২৯ মাইল (৫৩০ কিমি)।
- সবচেয়ে ছোট গ্রহাণুর আকার ১০ মিটার (৩৩ ফুট) এর চেয়েও কম।
- সব গ্রহাণুর মোট ভর একত্র করলে তা পৃথিবীর চাঁদের ভরের চেয়েও কম।

উৎস: NASA
১২৯.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক মতবাদ প্রকাশ করেন?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. এডুইন হাবল
  3. জর্জ ল্যামেটার
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৩০.
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স কত?
  1. ১০ বিলিয়ন বছর
  2. ৫.৭ বিলিয়ন বছর
  3. ১৩.৮ বিলিয়ন বছর
  4. ১৫.৩ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

◉ বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের উৎপত্তি প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি অতিশয় ঘন এবং উত্তপ্ত বিন্দু থেকে বিস্তার লাভ করে। এরপর থেকে মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। 
​- নাসা (NASA) এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) বিভিন্ন গবেষণা (যেমন: WMAP ও Planck স্যাটেলাইটের পর্যবেক্ষণ) থেকেও মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

​বিগ ব্যাং তত্ত্ব:
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’.
সুতরাং, বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১৩১.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে তার নাম কী?
  1. সোমব্রেরো গ্যালাক্সি
  2. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  3. অ্যান্ড্রোমিডা
  4. প্রক্সিমা সেন্টোরি
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে, তার নাম হলো মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।

• মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

• অন্যান্য অপশন:
- সোমব্রেরো গ্যালাক্সি: এটি একটি বিখ্যাত সর্পিলাকার গ্যালাক্সি, যা আমাদের মিল্কিওয়ে থেকে প্রায় ২৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অ্যান্ড্রোমিডা: এটি আমাদের নিকটতম বৃহৎ প্রতিবেশী গ্যালাক্সি।
- প্রক্সিমা সেন্টোরি: এটি কোনো গ্যালাক্সি নয়, বরং আমাদের নিকটতম নক্ষত্র (সূর্য ছাড়া)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১৩২.
সর্বশেষ কত সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে?
  1. ১৯৬৬ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet):
- সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে।
- এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে। এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে।
- সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এদের লেজ লম্বা হতে থাকে।
- অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে এরা অনেক বছর পর পর আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

১৩৩.
‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’ বা গ্রহের কুচকাওয়াজ কী?
  1. যখন সব গ্রহ সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণন বন্ধ করে
  2. যখন একাধিক গ্রহ একই সময়ে আকাশে দৃশ্যমান থাকে
  3. যখন শুধুমাত্র চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় আসে
  4. যখন একটি গ্রহ অন্য গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করে
ব্যাখ্যা
প্ল্যানেটারি প্যারেড:
- ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’ (Planetary Parade) বা গ্রহের কুচকাওয়াজ হলো একটি মহাজাগতিক ঘটনা।
- যখন আমাদের সৌরজগতের একাধিক গ্রহ একই সরলরেখায় বা আকাশের একই অঞ্চলে অবস্থান করে এবং পৃথিবী থেকে দেখা যায়।
- জোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’ বা গ্রহের কুচকাওয়াজ।
- পৃথিবীসহ সৌরজগতের আটটি গ্রহ একই কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। তবে তাদের প্রদক্ষিণ করার গতি ভিন্ন ভিন্ন হয়।
- গ্রহগুলোর গতি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় কখনো কখনো কিছু গ্রহ সূর্যের একই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে প্রদক্ষিণ করতে থাকে।
- গ্রহগুলো যদি সূর্যের ডানদিকে থেকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন সেগুলো পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়।

সম্প্রতি,
- সাতটি গ্রহের দেখা পাওয়ার এ এক বিরল সুযোগ পেয়েছে বিশ্ববাসী।
- সৌরজগতের যে সাত গ্রহ এককাতারে এসেছে সেগুলো হলো মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস, শুক্র, নেপচুন, বুধ ও শনি।
- আগামী প্ল্যানেটারি প্যারেড  ২০৪০ সালে দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
১৩৪.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কী বলে?
  1. সৌর বছর
  2. পলিসার
  3. আলোক বর্ষ
  4. গ্যালাকটিক ইয়ার
ব্যাখ্যা

ছায়াপথ:
- ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কসমিক ইয়ার বলে।
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।

উৎস: Britannica.com

১৩৫.
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মহাকাশের কোন স্থানে অবস্থান করছে?
  1. পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে
  2. চাঁদের কক্ষপথে
  3. ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্টে
  4. মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ থেকে ১৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে
ব্যাখ্যা

◉ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন কিমি দূরে ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট ২ (L2) তে অবস্থান করছে। এখানে পৃথিবী ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টান এমনভাবে ভারসাম্য তৈরি করে যে স্যাটেলাইট স্থিতিশীলভাবে ঘুরতে পারে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ:
- বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- এটি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা NASA, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- এটিকে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ-এর উত্তরসূরী হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে।
- জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আয়না ৬.৫ মিটার ব্যাসের (২১.৩ ফুট), যা হাবলের আয়নার তুলনায় প্রায় সাত গুণ বড়। আয়না বড় হওয়ার ফলে এটি অনেক বেশি আলো সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা দূরবর্তী গ্যালাক্সি ও মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।
- টেলিস্কোপটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সরাসরি ঘোরে না, বরং সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কক্ষপথে চলে—লিসাজু (Lissajous) প্যাটার্নে দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে (L2)। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার (৯.৩ লক্ষ মাইল) দূরে, পৃথিবীর রাতের দিকের অংশে অবস্থিত।
- ওয়েবের মূল লক্ষ্য হলো ছায়াপথের জন্ম ও বিবর্তন এবং নক্ষত্র ও গ্রহসমূহের সৃষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে পুরনো ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ।
- সূর্যের চেয়ে ষোলো লক্ষগুণ ভারী এই ব্ল্যাকহোলের বয়স প্রায় মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি, যেখানে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর।
- এই ব্ল্যাকহোলটি নক্ষত্র-অর্থাৎ তারাদের জন্মের বিষয়ে আরো নিখুঁত তথ্য দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
- এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের দুটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন।
- মিড-ইনফ্রারেড যন্ত্র (MIRI) এবং নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা। 

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। স্পেস ডট কম। 

১৩৬.
'পৃথিবীর উৎপত্তি' সম্পর্কে ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ভূমিরূপবিদ্যা
  2. জলবায়ুবিদ্যা
  3. মৃত্তিকা ভূগোল
  4. জীব ভূগোল
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography):
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।

⇒ প্রাকৃতিক ভুগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:

• ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology):
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে।

• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology):
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে।

• সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography):
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র।
- এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

• মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography):
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বন্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে।

• জীব ভূগোল (Bio-Geography):
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে।

• গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography):
- নীরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র -' ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৭.
পৃথিবীর পরিধি প্রায় -
  1. ২৫,০০০ কি.মি.
  2. ৪০,০০০ কি.মি.
  3. ৪৮,০০০ কি.মি.
  4. ৫১,০০০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতি:
- পৃথিবী একটি অভিগত গোলক।
- অর্থাৎ এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশ কিছুটা চাপা ও মধ্যভাগ, অর্থাৎ নিরক্ষরেখা বরাবর অঞ্চলটি কিঞ্চিত স্ফীত।
- সৌরজগত পরিবারের মাঝারি আকারের গ্রহ পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কি.মি.।
- পৃথিবীর গড় ব্যাস ১২,৭৩৪.৫ কি.মি. (প্রায়)।
- পৃথিবীর গোলাকৃতি আকার সম্পর্কে নানা প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়।
- আধুনিক মহাকাশ চিত্রসমূহ থেকে পৃথিবীর আকার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
চাঁদের বিস্ফোরনের শব্দ পৃথিবীতে শোনা যাবে বিস্ফোরণের কত সময় পরে?
  1. ক) ৩.৩৭ মিনিট পর
  2. খ) ৮.৩২ মিনিট পর
  3. গ) ৬.২১ মিনিট পর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যেকোন কম্পনশীল বস্তুই হলো শব্দের উৎস। শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন। ভ্যাকুয়াম বা শূণ্য মাধ্যমে শব্দ চলতে পারে না।
চাঁদ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত দূরত্বের বেশির ভাগই শূণ্য। তাই চাঁদে কোনো বিস্ফোরণ হলে জড় মাধ্যমের অভাবে শব্দ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় না।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

১৩৯.
পৃথিবী তার নিজ অক্ষে কোন দিকে আবর্তন করছে?
  1. দক্ষিণ থেকে উত্তর
  2. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  3. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  4. উত্তর থেকে দক্ষিণ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন: 
- পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের দিক পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে। 
- সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতি ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময়ে আবর্তন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
নক্ষত্রসমূহে শক্তি উৎপাদিত হয়-
  1. রাসায়নিক বিক্রিয়ায়
  2. নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়ায়
  3. নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ায়
  4. ফিশন ও ফিউশন উভয় বিক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা

একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস একসঙ্গে জুড়ে অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং ভারী একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে নিউক্লীয় সংযোজন বা ফিউশন বলা হয়।

সূর্য ও বিভিন্ন নক্ষত্রগুলির অভ্যন্তরে তাপ নিউক্লীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। এদের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা এই ধরনের নিউক্লীয় সংযোজনের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী।
বর্তমান স্বীকৃত তত্ত্ব হল: সূর্যের অভ্যন্তরে কয়েকটি ধাপে তাপ নিউক্লীয় বিক্রিয়ার একটি চক্র সম্পূর্ণ হয়, প্রতি চক্রে মূলত চারটি প্রোটনের নিউক্লীয় সংযোজনের ফলে তৈরি হয় একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস এবং দুটি পজিট্রন।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪১.
সূর্যের চারদিকে একবার পরিক্রমণ করতে শুক্র গ্রহের কত দিন সময় লাগে?
  1. ১৬৭ দিন
  2. ২২৫ দিন
  3. ২৮১ দিন
  4. ৩১০ দিন 
ব্যাখ্যা

• শুক্র:
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে -
  1. প্রায় ৩৬৪ দিন ৬ ঘণ্টা
  2. প্রায় ৩৬৪ দিন ৮ ঘণ্টা
  3. প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা
  4. প্রায় ৩৬৫ দিন ৮ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর সুর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড (প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা )।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ৬৭,০০০ মাইল (১,০৭,০০০ কিলোমিটার) বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরতে থাকে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৩.
স্টিফেন হকিং কোন তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত?
  1. ব্ল্যাক হোল বিকিরণ
  2. ওয়ার্মহোল তত্ত্ব
  3. কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি
  4. স্ট্রিং তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

◉ স্টিফেন হকিং মূলত ব্ল্যাক হোল বিকিরণ (Hawking Radiation) তত্ত্বের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। তিনি প্রমাণ করেন যে ব্ল্যাক হোল একেবারে নিঃসঙ্গ ও চিরন্তন নয়। কোয়ান্টাম প্রভাবের কারণে ব্ল্যাক হোল থেকে বিকিরণ নির্গত হতে পারে। এই বিকিরণকে বলা হয় Hawking Radiation.

​স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং একজন পদার্থবিদ।
- তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে ক্যামব্রিজে কসমোলজির উপর স্নাতকোত্তর গবেষণা করেন।
- ১৯৬২ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিত এবং তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণার কাজ শুরু করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো কসমোলজি এবং জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি।
- কেমব্রিজে গবেষণা করার সময় তাঁর মোটর নিউরন রোগ ধরা পরে যেটা তাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেয়।
- আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্টিফেন হকিং গুরুতর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।
- কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কথা বলা রপ্ত করেন।
- ১৯৮৮ সালে তিনি তার বই 'A Brief History of Time: From the Big Bang to Black Holes' প্রকাশ করেন।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে খুব সহজবোধ্য ভাষায় সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তিনি লিখেছিলেন।
- ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ছিয়াত্তর বছর বয়সে এই বিজ্ঞানীর জীবনাবসান হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৪ সালে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করেন।
- ব্ল্যাকহোল নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে তিনি তাত্ত্বিকভাবে দেখিয়েছিলেন, ইভেন্ট হরাইজনের সীমানায় এক ধরনের বিকিরণ হয়।
- কোয়ান্টাম শূন্যতার মাঝে যেসব ভার্চুয়াল কণা এবং প্রতিকণার উদ্ভব হয় তারই কিছুটা ইভেন্ট হরাইজনের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
- এই কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনের ফলে ব্ল্যাকহোল ধীরে ধীরে তার ভর হারায়।
- অত্যন্ত কম তাপমাত্রার এই বিকিরণকে বলা হয়, হকিং রেডিয়েশন।

উৎস: Britannica ও নাসা ওয়েবসাইট। 

১৪৪.
কোন গ্রহে 'Curiosity' মহাকাশযানটি প্রেরণ করা হয়?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. বৃহস্পতি
  4. ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

- মঙ্গল গ্রহে 'Curiosity' মহাকাশযানটি প্রেরণ করা হয়। 

মঙ্গলে প্রেরিত ‘কিউরিওসিটি’: 
- মঙ্গল গ্রহে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার যান ‘কিউরিওসিটি’। 
- ২০১২ সালের ৫ আগস্ট মহাকাশযানটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণ করে। 
- ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলে গবেষণাকাজে এটাকে বড় একটি অর্জন বিবেচনা করা হয়। পরের বছরের একই দিনে মহাকাশযানটিতে বাজানো হয় ‘হ্যাপি বার্থডে’ গান। এর মধ্য দিয়ে মঙ্গলে প্রথমবারের মতো কোনো সুর বেজে ওঠে। 
- মঙ্গল গ্রহে মাকড়সার জালের মতো দেখতে বেশ রহস্যময় একটি অঞ্চলের সন্ধান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মঙ্গল গ্রহে থাকা মাকড়সার জালটি আসলে একধরনের স্ফটিকযুক্ত খনিজের কাঠামো। 
- সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে মাকড়সার জালের মতো দেখতে রহস্যময় অঞ্চলের ছবি তুলেছে নাসার কিউরিওসিটি রোভার। 
- কিউরিওসিটি রোভার বর্তমানে ‘গেল ক্রেটার’ নামের বিশাল খাদের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে। 
- মঙ্গল গ্রহে কিউরিওসিটির রোভার অবতরণ করার পর থেকেই মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে রোভারটি। 
- বর্তমানে রোভারটি মঙ্গল গ্রহে থাকা বক্সওয়ার্ক প্যাটার্ন নামের শক্ত নিচু শৈলশিরা বিশ্লেষণ করছে। 

- প্রবালের মতো পাথরের ছবি মঙ্গলবুকে ধারণ করেছে রোভার কিউরিওসিটির রিমোট মাইক্রো ইমেজার। 
- নাসার কিউরিওসিটি মার্স রোভার সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে একটি পাথরের কালো ও সাদা ছবি পাঠিয়েছে। সে পাথরটি দেখতে পৃথিবীতে পাওয়া প্রবালের টুকরার মতো। 
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা–নাসার তথ্যমতে, হালকা রঙের পাথরটি বাতাসের কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। শিলাটি মঙ্গল গ্রহের অববাহিকা গ্যাল ক্রেটারে নামের খাদে পাওয়া গেছে। শিলাটি প্রায় এক ইঞ্চি প্রশস্ত। 
- সমুদ্রের তলদেশে সাধারণভাবে দেখা প্রবালের মতো শাখা–প্রশাখা দেখা যাচ্ছে। শিলাটির বর্ণহীন ছবিটি কিউরিওসিটির রিমোট মাইক্রো ইমেজারের মাধ্যমে তোলা হয়েছে। এটি একটি উচ্চ রেজল্যুশনের টেলিস্কোপিক ক্যামেরা। 
- এখন পর্যন্ত কিউরিওসিটি ১৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খাদের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। চলার পথটি আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণে ধীরভাবে কাজ করছে রোভারটি। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিঙ্ক] [লিঙ্ক] [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা।

১৪৫.
"Dead Star" বলা হয় কোনটিকে?
  1. Neutron star
  2. Brown dwarf
  3. White dwarf
  4. Red dwarf
ব্যাখ্যা
• (White dwarf) শ্বেত বামনকে মৃততারা ("Dead Star") বলা হয়।

শ্বেত বামন:
- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।
- শ্বেত বামনের জীবনকাল প্রায় ১,৫০০ কোটি বছর হয়, যা আমাদের মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের চেয়েও বেশি।
- শ্বেত বামন এর জীবনকাল শেষে কৃষ্ণ বামনে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হয়।

অপশন আলোচনা:
ক) Neutron star: নিউট্রন তারকা হল একটি অত্যন্ত ঘনস্তর বিশিষ্ট তারকা, যা একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর গঠন হয়।

খ) Brown dwarf: ব্রাউন ডোয়ার্ফ হল একটি ছোট ও ঠান্ডা তারকা, যার তেজস্ক্রিয়তা সাধারণত অন্যান্য তারকার তুলনায় কম।

ঘ) Red dwarf: লাল ডোয়ার্ফ হল একটি ছোট ও ঠান্ডা তারকা, যা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে ফিউশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিংক]
১৪৬.
মৃততারা বলা হয় কোনটিকে?
  1. লোহিত বামন
  2. শ্বেত বামন
  3. কৃষ্ণ বামন
  4. নিউট্রন তারকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামনকে মৃততারা বলা হয়।

শ্বেত বামন:

- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।
- শ্বেত বামনের জীবনকাল প্রায় ১,৫০০ কোটি বছর হয়, যা আমাদের মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের চেয়েও বেশি।
- শ্বেত বামন এর জীবনকাল শেষে কৃষ্ণ বামনে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
১৪৭.
পৃথিবী থেকে নক্ষত্রের দূরত্ব মাপার একক কী?
  1. কিলোমিটার 
  2. মাইল 
  3. আলোক বর্ষ
  4. নটিক্যাল মাইল 
ব্যাখ্যা

- মহাকাশের বিশাল দূরত্ব পরিমাপের জন্য আলোক বর্ষ ব্যবহৃত হয়। এটি সময়ের একক নয়, বরং দূরত্বের একক। এক আলোক বর্ষ হলো এক বছরে শূন্য মাধ্যমে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে। নক্ষত্রগুলো পৃথিবী থেকে এতটাই দূরে যে কিলোমিটার বা মাইলে সেই দূরত্ব প্রকাশ করা হলে সংখ্যাটি অনেক বড় হয়ে যায়, তাই আলোক বর্ষ ব্যবহার করা সুবিধাজনক। 

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। 

- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি? 
  1. স্পুটনিক-১
  2. টেলস্টার-১
  3. এক্সপ্লোরার-৩
  4. ভ্যানগার্ড-১
ব্যাখ্যা

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটি হলো স্পুটনিক-১।

• কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস: 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। 
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে। 
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। 

- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান। 
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়। 
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। 
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে। 
- ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে। 
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে। 
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ পর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। 

অন্যান্য অপশন:
- টেলস্টার-১: এটি ছিল প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ (১৯৬২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উৎক্ষেপিত)।
- এক্সপ্লোরার-৩: এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক উপগ্রহ (১৯৫৮ সালে উৎক্ষেপিত)।
- ভ্যানগার্ড-১: এটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সফলভাবে উৎক্ষেপিত প্রথম সৌরশক্তিচালিত উপগ্রহ (১৯৫৮ সালে উৎক্ষেপিত)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১৪৯.
মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক কে ছিলেন?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. রন্টজেন
  3. ভিক্টর হেস
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

• মহাজাগতিক রশ্মি হলো উচ্চ-শক্তির কণা, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এর আবিষ্কারক ছিলেন ভিক্টর হেস। ১৯১২ সালে হেস বেলুনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতার সঙ্গে কণার তীব্রতা পরিমাপ করেন। তিনি দেখেন, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কণার পরিমাণও বাড়ছে, যা নির্দেশ করে যে এই কণাগুলো পৃথিবীর বাইরে থেকে আসছে। তাই তিনি প্রমাণ করেন যে মহাজাগতিক রশ্মি একটি মহাকাশীয় উৎস থেকে আসে। অন্যান্য অপশন  যেমন স্টিফেন হকিং ছিলেন কালো গহ্বর ও মহাবিশ্ব বিজ্ঞানের গবেষক, রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কারক এবং গ্যালিলিও খগোলীয় পর্যবেক্ষক, তারা এই আবিষ্কারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) ভিক্টর হেস।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্টিফেন হকিং।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা

১৫০.
কোয়াসার কী?
  1. মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
  2. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ
  3. সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
  4. একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ
ব্যাখ্যা
• কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু, যা সাধারণত অনেক দূরের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থান করে। এগুলো একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চারপাশে গঠিত গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণনের ফলে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোয়াসার এতটাই উজ্জ্বল যে এটি একটি গোটা গ্যালাক্সিকে ছাপিয়ে আলো দিতে পারে, যদিও এর আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। এরা মূলত মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।


কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোনস্তর রয়েছে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল(Stratosphere): 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। 
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। 
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
শনি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৪৬টি
  2. ২৪৭টি
  3. ২৭৪টি
  4. ২৮২টি
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ২৭৪টি

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি শনি গ্রহের চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
- এই আবিষ্কারের ফলে এখন শনির মোট চাঁদের সংখ্যা ২৭৪। 

উৎস: NASA Science (.gov)
১৫৩.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত সূত্র প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) এডুইন হাবল
  3. গ) জর্জ ল্যামেটার
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো-
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের (Universe) সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো হাইড্রোজেন।
- মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত মৌলিক উপাদান হলো হাইড্রোজেন।
- ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের মোট স্বাভাবিক (সাধারণ) পদার্থের মোট ভরের প্রায় ৭৫% হলো হাইড্রোজেন।
- মহাবিশ্বের মোট পদার্থের মধ্যে, তারার (Stars) গঠন (যেমন: সূর্য), আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ (Interstellar Clouds) এবং গ্যালাক্সিদের মধ্যবর্তী স্থানে (Intergalactic Space) হাইড্রোজেন গ্যাস মুখ্য উপাদান হিসেবে থাকে।
- তারার মধ্যে নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন ক্রমাগত হিলিয়ামে রূপান্তরিত হতে থাকে।
- হাইড্রোজেন হলো পর্যায় সারণির সবচেয়ে হালকা মৌল।
- এরপরেই প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত গ্যাস হলো হিলিয়াম; এটি প্রায় ২৪% এর কাছাকাছি থাকে।
- বাকি সমস্ত উপাদান (যেমন: অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, ইত্যাদি) একত্রে মাত্র ১% এরও কম পরিমাণে থাকে।

অন্যান্য অপশন:
-  ক) অক্সিজেন, গ) নাইট্রোজেন: এই গ্যাস দুটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান (নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮%, অক্সিজেন প্রায় ২১%)। তবে, মহাবিশ্বের সামগ্রিক ভরের তুলনায় এদের পরিমাণ খুবই নগণ্য।
- খ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড: এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি গৌণ উপাদান এবং মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে এর পরিমাণ খুবই কম।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা।

১৫৫.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তিত না হয়ে কোন স্থানে সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করছে? 
  1. নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ
  2. সূর্য–পৃথিবী L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু
  3. ভূ-স্থির কক্ষপথ
  4. মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ
ব্যাখ্যা

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সূর্য–পৃথিবী L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দুর নিকটে অবস্থান করে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা গভীর মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST):
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি শক্তিশালী ইনফ্রারেড মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- এটি ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাসা (NASA), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার (CSA) যৌথ প্রকল্প।
- এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত।

• কক্ষপথ ও অবস্থান:
- JWST পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করে না।
- এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এটি সূর্য–পৃথিবী ব্যবস্থার L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দুর নিকটে অবস্থান করে।
- এই অবস্থানে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই দিকে থাকে, ফলে টেলিস্কোপের সানশিল্ড একদিকে রেখে তাপ ও আলো থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
- L2 বিন্দুতে মাধ্যাকর্ষণ বলের সাম্যাবস্থার কারণে টেলিস্কোপ তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি ব্যবহার করে স্থিতিশীলভাবে কক্ষপথে থাকতে পারে।

• ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু (Lagrange Point):
- ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু হলো এমন বিশেষ স্থান যেখানে দুটি বৃহৎ বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ বল ও কক্ষীয় গতি একে অপরকে সাম্যাবস্থায় রাখে।
- সূর্য–পৃথিবী ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু রয়েছে, যথা L1, L2, L3, L4 ও L5.
- L2 বিন্দুটি পৃথিবীর বিপরীত দিকে সূর্য থেকে দূরে অবস্থিত।

• বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব:
- L2 অবস্থান থেকে JWST মহাবিশ্বের প্রাচীনতম গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।
- এটি নক্ষত্রের জন্মপ্রক্রিয়া, গ্রহীয় বায়ুমণ্ডল, এবং প্রাথমিক মহাবিশ্বের অবস্থা বিশ্লেষণ করে।
- ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি ধূলিকণার আড়ালে থাকা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু শনাক্ত করতে পারে।

• অন্যান্য অপশন:
- নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ → পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০–২০০০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথ, যেখানে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ অবস্থান করে।
- ভূ-স্থির কক্ষপথ → বিষুবরেখার উপর প্রায় ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত কক্ষপথ, যেখানে উপগ্রহ পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সমান কৌণিক বেগে আবর্তিত হয়।
- মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ → মঙ্গল গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত কক্ষপথ, যা গ্রহ অনুসন্ধানী মহাকাশযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: NASA, James Webb Space Telescope – Orbit Overview Page [Link], Britannica.

১৫৬.
Black Hole-এর ভেতরের ভৌত অবস্থা কেমন ধারণা করা হয়?
  1. আয়তন অনেক বড়, ঘনত্ব খুবই কম
  2. আয়তন প্রায় অসীমের কাছাকাছি, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  3. আয়তন ও ঘনত্ব উভয়ই অসীম 
  4. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
ব্যাখ্যা

◉ কৃষ্ণবিবর তখনই তৈরি হয় যখন কোনো বৃহদাকারের নক্ষত্র নিজের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে ধসে পড়ে। ধসের ফলে ভেতরের পদার্থ একেবারে কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি (Singularity) নামক বিন্দুতে সংকুচিত হয়।

আয়তন (Volume): এই সিঙ্গুলারিটির আয়তন প্রায় শূন্য বলে ধরা হয়।
ঘনত্ব (Density): যেহেতু বিশাল ভর একেবারে ক্ষুদ্র বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাই ঘনত্ব প্রায় অসীম হয়ে যায়।
• মহাকর্ষীয় প্রভাব: এই অসীম ঘনত্বের কারণে মহাকর্ষ শক্তি এত প্রবল হয় যে আলো পর্যন্ত বের হতে পারে না।

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৭.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
১ নং – বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি),১৯৭৫
২ নং – তালিবাবাদ (গাজীপুর), ১৯৮২
৩ নং – মহাখালী (ঢাকা),১৯৯৫ এবং
৪ নং – সিলেট, ১৯৯৭।

১৫৮.
কোন সালে প্রথম নভোযান আকাশে পাঠানো হয়?
  1. ১৯৫৭
  2. ১৯৫৯
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালে প্রথম 'স্পুটনিক-১' নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। 
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে এই যাত্রার সূচনা করে। 
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী। 
- একই বছর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং নাসা [লিঙ্ক]।
১৫৯.
পৃথিবী কোন গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত?
  1. হ্যাবিটেবল গ্যালাক্সি
  2. এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ নক্ষত্রমণ্ডলী, যা লক্ষ-কোটি তারা, গ্যাস, ধুলিকণা এবং অন্যান্য মহাজাগতিক উপাদান দ্বারা গঠিত।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- গ্যালাক্সিগুলি মহাকর্ষীয় শক্তির মাধ্যমে একত্রিত থাকে
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত।
- এটি ১-২ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই গ্যালাক্সিতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা তারও বেশি তারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৬০.
উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন-
  1. ক) ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২২ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন ২১ জুন,
- পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন ২২ ডিসেম্বর।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের সর্বত্র দিবারাত্রি সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬১.
সূর্যগ্রহণ ঘটে কোন অবস্থায়? 
  1. সূর্য চাঁদের পিছনে চলে গেলে 
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকলে 
  3. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে থাকলে 
  4. সূর্য পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে থাকলে 
ব্যাখ্যা

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট [লিঙ্ক]।

১৬২.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায়?
  1. সেগিতারিয়াস বাহু
  2. ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
  3. পারসেউস বাহু
  4. কারিনা বাহু
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এর ওরিয়ন-সিগনাস বাহুতে অবস্থিত, যা মিল্কিওয়ের চারটি সর্পিল বাহুর মধ্যে একটি , যা গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: NASA, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১৬৩.
কোনটি ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিত?
  1. Higgs Boson
  2. Electron
  3. Neutron
  4. Proton
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি - (Higgs Boson) ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৬৪.
মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়? 
  1. Astronomy
  2. Meteorology
  3. Geology
  4. Cosmology
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। 
- এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে। পরীক্ষা দুটি হলো- 
১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৫.
মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৭
  4. ঘ) ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: অষ্টম শ্রেণি বিজ্ঞান

১৬৬.
পূর্ণিমা ঘটে তখনই, যখন- 
  1. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকে
  2. চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়
  3. সূর্য পৃথিবীর এক পাশে এবং চাঁদ তার উল্টো পাশে থাকে
  4. পৃথিবী সূর্যকে ঢেকে ফেলে
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 

- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]।
১৬৭.
ইউরেনাসের উপগ্রহ নয় কোনটি?
  1. মিরান্ডা
  2. এরিয়েল
  3. আমব্রিয়েল
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- ইউরেনাসে একদিন সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৮টি।
• এর মধ্যে প্রধান পাঁচটি চাঁদ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

অন্যদিকে,
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুইটি: ডিমোস ও ফোবোস।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com & NASA ওয়েবসাইট।
১৬৮.
কোন গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
  1. Earth
  2. Mercury
  3. Jupiter
  4. Mars
ব্যাখ্যা
• Mercury - বুধ হলো সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ যার কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ নেই। এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ এবং আকারেও সবচেয়ে ছোট। সূর্যের অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত হওয়ায়, সূর্যের মহাকর্ষ বলের কারণে কোনো উপগ্রহ তার চারপাশে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে না। এ ছাড়া, নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় কোনো চাঁদ আকর্ষণ করে রাখতে পারে না। ফলে মার্কিউরি একা ভ্রমণ করে তার কক্ষপথে। অপরদিকে, পৃথিবীর একটি, মঙ্গলের দুটি এবং বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহ রয়েছে। সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) Mercury.

বুধ গ্রহ:

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের।
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৯.
কোনটি পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
  2. দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি
  3. দিন-রাত্রি সংঘটন
  4. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
আহ্নিক গতি

- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
• দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭০.
শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে-
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. শুক্র গ্রহ
  3. বুধ গ্রহ
  4. মঙ্গলগ্রহ
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়, শুক্র গ্রহ।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭১.
পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ কত ডিগ্রী?
  1. ১৮০°
  2. ৯০°
  3. ৩৬০°
  4. ২৭০°
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude)
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০°।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

•  সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৭২.
নীহারিকার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত
  2. নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন বিদ্যমান
  3. শতকরা ১ ভাগ কার্বন বিদ্যমান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নীহারিকার:
- প্রধানত গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত।
- বেশির ভাগ নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন, শতকরা ৯ ভাগ হিলিয়াম আছে।
- এ ছাড়া বাকি শতকরা ১ ভাগ হিসেবে রয়েছে কার্বন, নাইট্রোজেন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়াম।
- নীহারিকাগুলো মূলত অবস্থিত আন্ত নাক্ষত্রিক শূন্যস্থান বা interstellar medium (ISM)-এ।
- এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোটো নীহারিকা NGC 7027 মাত্র ০.১ আলোকবর্ষ।
- আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ ট্যারান্টুলা নেবুলা প্রায় ১৮৬২ আলোকবর্ষ।

তথ্যসুত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২ জুন ২০২৩।
১৭৩.
ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯ এর প্রথম ভাঙ্গা টুকরাটি কবে বৃহস্পতি গ্রহে আঘাত হানে?
  1. ১৫ জুলাই, ১৯৯৪
  2. ১৬ জুলাই, ১৯৯৪
  3. ১৭ জুলাই, ১৯৯৪
  4. ১৮ জুলাই, ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯:
- ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯ থেকে টুকরো টুকরো অংশ বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে 221,000 কি.মি (137,300 মাইল) বেগে প্রতি ঘন্টায় ১৬ জুলাই, ১৯৯৪ সালে আঘাত আনতে শুরু করেছিল। 
- পৃথিবী-ভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গ্রহের 9.92-ঘন্টা ঘূর্ণন সময় দ্রুত প্রতিটি প্রভাবের স্থানকে দৃশ্যমান করে তুলেছিল। 
- গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আলাদা হয়ে প্রতিটি খণ্ড জোভিয়ান বায়ুমণ্ডলের গভীরে নিমজ্জিত হয় এবং প্রচণ্ড শক্তিতে বিস্ফোরিত হয় এবং "ফায়ারবল" নামক অতি-গরম গ্যাসের বুদবুদ তৈরি করে।

উৎস: Britannica.
১৭৪.
মহাজাগতিক রশ্মি কী? 
  1. সূর্যের আলো
  2. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
  3. মহাশূন্য থেকে আগত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণা 
  4. বেতার তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

১৭৫.
সূর্য যে ছায়াপথে রয়েছে তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  2. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ক্যানিস মেজর ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়।
- একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি।
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়।
- তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ।
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মন্ডল বলে অনুমান করেন।
- সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত।

মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি (Milky Way Galaxy)
- মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ সর্পিল (spiral) গ্যালাক্সি, যেখানে কয়েকশো বিলিয়ন তারা রয়েছে, যাদের একটি হলো আমাদের সূর্য।
- এর নাম এসেছে আকাশে দেখা একটি অস্পষ্ট আলোকিত রেখা থেকে, যেটি অসংখ্য তারা ও গ্যাস মেঘের সমষ্টি — যেটিকে আমরা পৃথিবী থেকে “মিল্কি ওয়ে” নামে দেখি।
- যদিও পৃথিবী নিজেই এই গ্যালাক্সির ভেতরে অবস্থিত, তবুও এর সম্পূর্ণ গঠন বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি জানেন না, কারণ গ্যালাক্সির বিশাল অংশ মহাকাশের ধূলিকণায় ঢাকা থাকে, যা সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা কঠিন।
- তবে রেডিও ও ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই গ্যালাক্সির বড় কাঠামো সম্পর্কে জানতে পারেন।
- এই টেলিস্কোপগুলো এমন ধরনের রশ্মি শনাক্ত করতে পারে, যেগুলো ধূলিকণার বাধা পেরিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
Britannica.
১৭৬.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) ইন্টেলসেট 1
  2. খ) আলিবার্ড হল
  3. গ) ওবেরী হল
  4. ঘ) কসমস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যােগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইন্টেলসেট 1 (Intelsat-I)।
৬ এপ্রিল ১৯৬৫ এটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ডাকনাম ছিল - আর্লিবার্ড।
১৭৭.
বিগ ব্যাং (Big Bang) থিউরির প্রবক্তা___।
  1. ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. খ) জি. ল্যামেটার
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) এ. হাবল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
অন্যদিকে,
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।

সুতরাং বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

উৎস: ব্রিটানিকা

১৭৮.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষে ঘুরে আসতে যা সময় লাগে তাকে বলা হয় -
  1. ক) সৌরবর্ষ
  2. খ) আলোকবর্ষ
  3. গ) গ্যালাকটিক ইয়ার
  4. ঘ) পালসার ইয়ার
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
অর্থ্যাৎ ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।
সোর্সঃ ব্রিটানিকা
১৭৯.
কোন বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল(Gravitation): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ। 
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮০.
শ্বেত বামন কী?
  1. অতি বৃহৎ গ্যালাক্সি
  2. অত্যন্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র
  3. বিশালাকার গ্যাসীয় গ্রহ
  4. ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামন তারকা: 
- শ্বেত বামন হলো এক ধরনের ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা, যা মাঝারি ও নিম্ন ভরের তারকাদের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে গঠিত হয়।
- একটি সাধারণ শ্বেত বামন নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় অংশটি কার্বন এবং অক্সিজেনের মিশ্রণ দ্বারা গঠিত।
- এই কেন্দ্রের চারপাশে হিলিয়ামের একটি পাতলা আবরণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, হাইড্রোজেনের আরও পাতলা আবরণ থাকে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রথম আবিষ্কৃত তারকাগুলোর সাদা রঙের কারণে এদের হোয়াইট ডোয়ার্ফ বলা হয়।
- কম উজ্জ্বলতা সম্পন্ন হয়।
- ভর প্রায় সূর্যের সমান, কিন্তু ব্যাস পৃথিবীর সমান।
- অত্যন্ত ঘন এবং সংক্ষিপ্ত আকৃতির হয়।
- গড় ঘনত্ব পানি থেকে প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি।
- এই তারকারা মহাকাশে নিভে যাওয়া সূর্যের মতো ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে এবং একসময় সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় কালো ডোয়ার্ফে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica.
১৮১.
কেপলারের ৩য় সূত্রটি কী নামে পরিচিত?
  1. পর্যায়কালের সূত্র
  2. উপবৃত্তের সূত্র
  3. ক্ষেত্রফলের সূত্র
  4. কক্ষপথের সূত্র
ব্যাখ্যা

• কেপলারের তৃতীয় সূত্রকে সাধারণত পর্যায়কালের সূত্র বা লক্ষ্যকালের সূত্র (Law of Periods) বলা হয়। এটি গ্রহগুলোর কক্ষপথের আকার ও তাদের সূর্যের চারপাশে আবর্তনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। সূত্রটি অনুযায়ী, কোনো গ্রহের কক্ষপথের অর্ধ-প্রধান অক্ষের ঘনের মান (a3) এবং তার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে লাগা সময়ের বর্গের মান (T2) এর মধ্যে একটি ধ্রুবক অনুপাত থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, বড় কক্ষপথের গ্রহের কক্ষকাল বেশি হয় এবং ছোট কক্ষপথের গ্রহের কক্ষকাল কম হয়। এই সূত্র সৌরজগতে গ্রহের গতিবিধি ও কক্ষপথ বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) পর্যায়কালের সূত্র।
 
কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের (Johann Kepler) গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়।
- সূত্র তিনটি:

প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র বা, পর্যায়কালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ইতালি
  2. ফ্রান্স
  3. গ্রিস
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও একজন ইতালিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী,জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গাণিতিক সূত্র দেওয়ার পর পরীক্ষা করে সেই সূত্রটি প্রমাণ করার বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন।
- গ্যালিলিওকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেন।
- ১৬০৯ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও একটি উন্নত ধরণের দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত যেকোনো বস্তুর পরিমাপের বেলায় ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে,
- ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
- নিউটন বলবিদ্যা ও গতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।

উৎস i) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
          ii) Britannica.
১৮৩.
সৌরজগতের কোন গ্রহটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়?
  1. বুধ 
  2. শুক্র
  3. নেপচুন
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

• শুক্র (Venus):
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

 উল্লেখ্য নাসার তথ্য মতে,
- শুক্রের মতো, ইউরেনাসও পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘূর্ণন করে।
- তবে ইউরেনাসের বিশেষত্ব হলো এটি পার্শ্বাভিমুখে ঘূর্ণন করে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৪.
পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
দিন-রাত্রি হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. আহ্নিক গতি 
  2. মধ্যাকর্ষণ শক্তি
  3. বার্ষিক গতি
  4. দোলন গতি
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সংঘটিত হয় আহ্নিক গতির কারণে। আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনকে বোঝায়। এই ঘূর্ণনের ফলে পৃথিবীর এক পাশ সূর্যের দিকে থাকে, যা দিন, আর বিপরীত পাশ অন্ধকারে থাকে, যা রাত সৃষ্টি করে। পৃথিবী একবার পূর্ণ ঘূর্ণন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই প্রতিদিন এই ঘূর্ণনের কারণে সূর্য উঠা ও অস্ত যাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির পর্যায়বতী চক্র চলতে থাকে। মধ্যাকর্ষণ শক্তি, দোলন গতি বা বার্ষিক গতি দিন-রাত্রির জন্য নয়, বরং অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনা ও ঋতু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাই দিন-রাত্রির জন্য সঠিক কারণ হলো আহ্নিক গতি।

আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ-
দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৬.
নিচের কোনটি সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. আলফা সেন্টারাই 'এন'
  3. আলফা সেন্টারাই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই।
- প্রক্সিমা সেন্টারাই সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে আলফা সেন্টারাই সিস্টেমে অবস্থিত।
- এটি একটি লাল বামন, যা নক্ষত্রের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
- এটি সূর্যের চেয়ে সাত গুণ ছোট।
- এর তাপমাত্রা প্রায় ৩,১০০ কেলভিন, যা সূর্যের তাপমাত্রার অর্ধেকের একটু বেশি।
- আকারে এটি বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে মাত্র ৫০% বড়।
- লাল বামন নক্ষত্র তাদের হাইড্রোজেন জ্বালানি খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, ফলে এদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত দীর্ঘ।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রক্সিমা সেন্টারাই চার ট্রিলিয়নেরও বেশি বছর একই অবস্থায় থাকবে (তুলনামূলকভাবে, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর)।
- আলফা সেন্টারাই সিস্টেমটি সেন্টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়।
- তবে প্রক্সিমা সেন্টারাই সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৯১৫ সালে এটি স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ইনেস আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৮৭.
নীহারিকা কী?
  1. গ্রহ
  2. অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ
  3. উল্কা পিণ্ড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নীহারিকা (Nebula):
- নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ।
- এদের আকার বিচিত্র।
- কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থে পূর্ণ।
- এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে।
- এক একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক।
- এক একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৮৮.
সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ ____________ পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সর্পিলাকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রিক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করেন।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্রের সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক।

- গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৯.
কৃত্রিম উপগ্রহ কী জন্যে ব্যবহার করা হয়?
  1. গোয়েন্দা নজরদারি
  2. আবহাওয়ার পূর্বাভাস
  3. খনিজ সম্পদের সন্ধান
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম উপগ্রহ:
- মানুষের তৈরি বিভিন্ন উপগ্রহ আছে যারা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে।
- এদের বলে কৃত্রিম উপগ্রহ।
- আবহাওয়ার পূর্বাভাস, তথ্য আদান-প্রদান, গোরেন্দা নজরদারি, খনিজ সম্পদের সন্ধান,পরিবেশ দূষণ নির্ণয় ইত্যাদি কাজে এসব কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৯০.
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী কত বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ৪.৬ বিলিয়ন
  2. ১০.৫ বিলিয়ন
  3. ১৩.৮ বিলিয়ন
  4. ২০ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। 

• বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব হলো মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদ্‌ঘাটনের তত্ত্ব। 

•  অতি সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা গেছে আজ থেকে 13.8 বিলিয়ন বছর বা, 13.8 × 109 বছর  আগে আমাদের এ মহাবিশ্বের উদ্ভব।
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) অনুযায়ী একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও ঘন বিন্দু থেকে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে।
- তারপর মহাবিশ্ব অবিশ্বাস্য দ্রুতবেগে প্রসারিত হয়েছে এবং ক্রমেই ঠান্ডা হতে হতে বিভিন্ন কণার মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন পদার্থ।
- ক্রমে উপগ্রহ, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি সবকিছু তৈরি হয়েছে। 

• পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে, অর্থাৎ ৪৫৪ কোটি বছর আগে।
- এই তথ্য ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রাচীনতম শিলা ও চন্দ্র এবং উল্কাপিণ্ড থেকে পাওয়া উপাদানের রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
১৯১.
মেরুদেশীয় ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত কিলোমিটার?
  1. ২৩ কিমি
  2. ৪৩ কিমি
  3. ৩৩ কিমি
  4. ৫৩ কিমি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- মেরুদেশীয় ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৯২.
পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব কোন এককে মাপা হয়?
  1. নটিক্যাল মাইল
  2. কসমিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. আলোক মাইল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৯৩.
শুক্র গ্রহকে পশ্চিম আকাশে আমরা কীরূপে দেখতে পাই?
  1. শুকতারা
  2. ধ্রুবতারা
  3. সন্ধ্যাতারা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র হলো সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ এবং সৌরজগতের ষষ্ঠ বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ।
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।
- শুক্রের কোন বলয় নেই।

উল্লেখ্য,
- শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটির আকার এবং আকৃতি অনেকটাই পৃথিবীর সাথে মেলে।
- এটির গঠনও অনেকটা একই রকমের।
- শুক্র গ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতল ভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪.
ভূ-পৃষ্ঠের অক্ষাংশ দ্বারা কোনটি পরিমাপ করা যায়?
  1. ধ্রুবতারার অবস্থান
  2. সূর্যের অবস্থান
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
- প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। যথা:
১। ধ্রুবতারার অবস্থান:
- উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।

২। সূর্যের অবস্থান:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৫.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. চন্দ্র
  2.  সূর্য
  3. ফোবস
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র (বা চাঁদ) হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ, এটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হচ্ছে 'পৃথিবী'। এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস ও ফোবস মঙ্গল গ্রহের দুটি প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৯৬.
নাসার তথ্যমতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ১৫° সেলসিয়াস 
  2. ২৫° সেলসিয়াস 
  3. ৩২° সেলসিয়াস 
  4. ২৭° সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর তাপমাত্রা:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সারা বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে।
- ১৯৭৯ সাল থেকে National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার হিসেব রাখছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর আবির্ভাবের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
- নাসার তথ্যমতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৫° সেলসিয়াস। 
- নাসা আরো জানায় ২০২৩ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ডকৃত উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। 

এছাড়াও, 
- শনিগ্রহের গড় তাপমাত্রা -১৪০° সেলসিয়াস। 
- মঙ্গলগ্রহের গড় তাপমাত্রা -১১০° সেলসিয়াস।  
- শুক্রগ্রহের গড় তাপমাত্রা ৪৬৪° সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: 
১. নাসা ওয়েবসাইট। [লিংক] 
২. Space.com ওয়েবসাইট। [লিংক] 

১৯৭.
সর্বশেষ কোন সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল? 
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৮৪ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet): 
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে যাদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে, এসব জ্যোতিকে ধূমকেছূ বলে। 
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিক। 
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উপয় হরে পাবার অদৃশ্য হয়ে যায়। 
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। 
- সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায় । 
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এর লেজ লম্বা হতে থাকে। 
- এরা অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে অনেক বছর পর পর এরা আবির্ভূত হয়। 
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত। 
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়। 
- মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৮.
ইলেকট্রনের প্রতিকণা (Antiparticle) কী? 
  1. পজিট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউট্রিনো
ব্যাখ্যা
কণা (Particle) ও প্রতি কণা (Antiparticle): 
- প্রতি কণা হলো এমন কণিকা যার ভর এবং স্পিন অন্য একটি কণিকার সমান, কিন্তু যার চার্জ, বেরিয়ন সংখ্যা, লেপ্টন সংখ্যা অন্য কণিকাটির সমমানের অথচ বিপরীতধর্মী। 
- বলবাহী কণা ছাড়া সকল কণারই প্রতি কণা রয়েছে। 
- ইংরেজ পদার্থবিদ পল ডিরাক গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে, ইলেকট্রনের স্পিন 1/2 । এরপর তিনি ইলেকট্রনের বিপরীত কণা পজিট্রন (এন্টিইলেকট্রন, e+) আবিষ্কার করেন এবং এর জন্য পল ডিরাক ১৯৩২ সালে নোবেল পুরস্কার পান। 

- যখন কণা ও প্রতিকণা মিলিত হয় তখন তারা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে নির্ভেজাল শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তির উদ্ভব ঘটে। 
- তবে সাধারণ পরমাণুতে কণা ও প্রতিকণা কখনও একসাথে থাকে না। 
- কণাগুলো যেমন পদার্থ (Matter) গঠন করে তেমনি প্রতিকণাগুলো মিলে প্রতিপদার্থ (Anti Matter) তৈরি করে। 
- মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। 
যথা- (ক) ফার্মিওন ও (খ) বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবী গ্রহের অবস্থান কত? 
  1. তৃতীয়
  2. প্রথম 
  3. দ্বিতীয় 
  4. চতুর্থ 
ব্যাখ্যা

গ্রহ: 
- গ্রহসমূহ সাধারণত গোলাকৃতির, গ্রহগুলোতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। 
- কিন্তু গ্রহগুলো নিজেরা শক্তি উৎপাদন করে না, তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নিঃসরণ করে না। 
- পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো আসলে সূর্যের আলোতে আলোকিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। 
যেমন- 
বুধ: 
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। 
- বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। 

শুক্র: 
- পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ, যার নাম শুক্র। 
- সূর্যের আলো এ গ্রহের উপরে পড়ে, তাই একে আলোকিত দেখা যায়। 

পৃথিবী: 
- কেবল পৃথিবীতেই জীবনের জন্য উপযোগী উপকরণ ও পরিবেশ রয়েছে। 
- পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ। 

মঙ্গল: 
- মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। 
- মঙ্গলের মাটির নিচে পানি থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন। 

বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। 
- এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই। 

শনি: 
- শনি গ্রহটিও কেবল গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটিকে ঘিরে কতগুলো রিং বা আংটা রয়েছে। 

ইউরেনাস: 
- ইউরেনাস গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত। 

নেপচুন: 
- নেপচুনও অনেকটা ইউরেনাসের মতো একটি গ্রহ। 
- এছাড়া প্লুটো নামক একটি জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ গ্রহাণু।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২০০.
মহাকাশে মানুষ বহনকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম কি?
  1. ক) স্পুটনিক-১
  2. খ) ভস্টক-১
  3. গ) ইনটেলসেট-১
  4. ঘ) ল্যান্ডসেট-১
ব্যাখ্যা

Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry.
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।