বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন৮৯৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৮৯৯

৬০১.
সাত গুম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বাগেরহাট
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) রাজশাহী
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ। এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'। এটি মোঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন। ১৬৮০ সালে মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান। মসজিদটি লালবাগ দূর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
৬০২.
কোন বায়ু কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপে প্রবাহিত হয়?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমী বায়ু
  4. পাহাড়ি বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু :
- অয়ন বায়ু হলো এমন একটি নির্দিষ্ট ধরনের বায়ু যা কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়।
- এটিকে বাণিজ্য বায়ু নামেও ডাকা হয়।
 • বৈশিষ্ট্য:
- প্রবাহের দিক: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৫°–৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (০°–১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) দিকে প্রবাহিত হয়।
- প্রকৃতি: নিয়মিত ও স্থায়ী বায়ুপ্রবাহ।
- মেঘ: অগভীর পুঞ্জীভূত মেঘ দেখা যায়।
- বৃষ্টিপাত: বায়ু যত দুর্বল হয়, পার্শ্ববর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

উৎস : 
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৩.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ক) মে
  2. খ) মার্চ
  3. গ) এপ্রিল
  4. ঘ) জুন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
• বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।  
এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস
• জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. স্লেট
  2. মার্বেল
  3. গ্রাফাইট
  4. কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা

• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।

যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৬০৫.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ?
  1. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  2. আরব মালভূমির সাইমুম
  3. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  4. ভিয়েতনামের ঘুর্ণিবাত বায়
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।

• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ-
- রকি পবর্তের চিনুক,
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল,
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু,
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা,
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা,
- আরব মালভূমির সাইমুম,
- মিসরের খামসিন ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু।

• উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু:
- দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়।
- দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়।
- এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে।
- এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে।
- এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৬.
শালবন কোন ধরনের বনভূমি?
  1. ক) চিরহরিৎ
  2. খ) পর্ণমোচী
  3. গ) স্রোতজ
  4. ঘ) বিরুৎ
ব্যাখ্যা
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বা পর্ণমোচী বৃক্ষের বনভূমি। অর্থাৎ শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝড়ে যায়।
- শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
- টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকা জুড়ে শালবন বিস্তৃত।

(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৬০৭.
'লালমাই পাহাড়' বাংলাদেশের কোন প্রাকৃতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. উত্তর-পূর্ব পাহাড়
  3. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  4. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। 

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
→ আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
→ উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়:
→ কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
→ লালমাই-ময়নামতি পাহাড় উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১১ মাইল লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ২ মাইল চওড়া।
→ এ পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪৬ মিটার।
→ ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে এবং ১৯৯১ সালের জুলাই মাসে লালমাই পর্বতমালায় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়।
→ এই অনুসন্ধানে এখানে ১১টি প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৮.
'Atacama Desert' is located in -
  1. ক) China
  2. খ) Chile
  3. গ) United States
  4. ঘ) South Africa
ব্যাখ্যা
- আতাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে অবস্থিত একটি শীতল মরূভূমি।
- মেরু অঞ্চল ব্যতীত আতাকামা মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্কতম স্থান।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ও ব্রিটানিকা)
৬০৯.
কোনো একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে কী বলে?
  1. ধূমকেতু
  2. ব্ল্যাক হোল
  3. আকাশ গঙ্গা
  4. মহাকাশযান
ব্যাখ্যা

ছায়াপথ (Milky Way):
- কোনো একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ বা আকাশ গঙ্গা বলে।
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়।
- একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি।
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়। তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ।
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মন্ডল বলে অনুমান করেন। সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬১০.
'চট্টগ্রাম' অঞ্চলের জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. ক) চরমভাবাপন্ন
  2. খ) সমভাবাপন্ন
  3. গ) মৃদুভাবাপন্ন
  4. ঘ) নিয়তভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। 
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬১১.
'ফুরমোন পাহাড়' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবন
  2. সিলেট
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
রাঙামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান:
- শুভলং ঝর্না
- ফুরমোন পাহাড়
- কাপ্তাই লেক
- ঝুলন্ত ব্রিজ
- যমচুক
- রাজবন বিহার ইত্যাদি

উৎস: রাঙামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
৬১২.
নিচের কোনটি 'গ্রেট ইন্ডিয়ান মরুভূমি' নামে পরিচিত?
  1. ক) গোবি মরুভূমি
  2. খ) পাতাগোনিয়া মরুভূমি
  3. গ) আতাকামা মরুভূমি
  4. ঘ) থর মরুভূমি
ব্যাখ্যা
- থর মরুভূমি ভারতীয় উপমহাদেশে অবস্থিত। 
- একে 'গ্রেট ইন্ডিয়ান মরুভূমি' বলা হয়ে থাকে। 
- এটি ভারতের উত্তর পশ্চিমাংশে রাজস্থান রাজ্যে এবং পাকিস্তানের পূর্বাংশে পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে অবস্থিত। 
 
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- আতাকামা মরুভূমি : চিলি
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি : চিলি, আর্জেন্টিনা 
 
উৎস: ব্রিটানিকা
৬১৩.
পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর 'উশুইয়া' কোন দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ
  2. তাসমানিয়া দ্বীপ
  3. তিয়েরা দেল ফুয়েগো দ্বীপ
  4. সাউথ আইল্যান্ড 
ব্যাখ্যা

-পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর 'উশুয়ায়া' (Ushuaia), তিয়েরা দেল ফুয়েগো দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত।

দ্বীপপুঞ্জ:

- তিয়েরা দেল ফুয়েগো: পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দ্বীপ।
- তিয়েরা দেল ফুয়েগো হলো দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত একটি বিশাল দ্বীপপুঞ্জ,
- যা ম্যাগেলান প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন।

• ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিভাজন: 
- অবস্থান: এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মিলনস্থলে অবস্থিত।
- এর দক্ষিণে বিখ্যাত 'কেপ হর্ন' (Cape Horn) অবস্থিত।
- বিভাজন: এই দ্বীপপুঞ্জটি দুটি দেশের মধ্যে বিভক্ত:

- চিলি: পশ্চিম অংশ এবং দক্ষিণ দিকের দ্বীপগুলো চিলির অন্তর্ভুক্ত।
- আর্জেন্টিনা: পূর্ব অংশটি আর্জেন্টিনার একটি প্রদেশ।
- প্রধান দ্বীপ: এর সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম হলো 'ইসলা গ্রান্দে দে তিয়েরা দেল ফুয়েগো'।

গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থান
- উশুয়াইয়া (Ushuaia): এটি আর্জেন্টিনার অন্তর্ভুক্ত একটি শহর, যাকে 'পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর' বলা হয়।
- এখান থেকেই অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের জাহাজগুলো রওনা দেয়।
- পুন্তা এরেনাস (Punta Arenas): এটি চিলির অংশে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর।

উৎস: - Worldatlas.com

৬১৪.
বাংলাদেশের মিঠাপানির একমাত্র জলাবন কোনটি?
  1. সুন্দরবন
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. রাতারগুল জলাবন
  4. হাকালুকি হাওর
ব্যাখ্যা

• রাতারগুল জলাবন: 
- রাতারগুল জলাবন বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন।
- যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। 
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর,
- আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।  

৬১৫.
কোন জলবায়ু অঞ্চলে চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমির সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে
  2. মৌসুমি অঞ্চলে
  3. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  4. মেরুদেশীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।

⇒ চিরহরিৎ বৃক্ষ:
- চিরহরিৎ শব্দের অর্থ হলো চির সবুজ। উদ্ভিদবিদ্যায় চিরহরিৎ বৃক্ষ হলো সেসব উদ্ভিদ, যাদের পাতা প্রত্যেক ঋতুতেই সবুজ থাকে। এরা উষ্ণ ও আর্দ্রভূমিতে কিছু এলাকাজুড়ে বন আকারে জন্মে। অল্প ঠাণ্ডা শীতপ্রধান জলবায়ুর অধিকাংশ উদ্ভিদ প্রজাতিই চিরহরিৎ। যেসব অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেন্টিমিটারের বেশি, সেসব অঞ্চলেও চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি দেখা যায়। অত্যধিক বৃষ্টিপাতের জন্য এখানকার গাছপালা সারা বছরই সবুজ পাতায় ভরা থাকে। শিশু, গর্জন, মেহগিনি, সেগুন, চাপালিশ, পাইন, লোহাকাঠ, কাঁঠাল, জাম, ডুমুর ইত্যাদি চিরহরিতের প্রধান বৃক্ষ। এসব বৃক্ষের কাঠ খুবই শক্ত ও ভারী। এ কাঠ গৃহনির্মাণ ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গুল্ম ও বৃক্ষ উভয় ধরনের উদ্ভিদের মধ্যেই চিরহরিৎ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
- বাকিরা পর্ণমোচী উদ্ভিদ। পর্ণমোচী হলো সেসব উদ্ভিদ, যাদের পাতা শীতকালে অথবা শুষ্ক ঋতুতে সম্পূর্ণ ঝরে যায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
'বগালেক' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বগালেক:
- বগাকাইন লেক, যা সাধারণভাবে বগালেক নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে, কেওক্রাডং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এটি অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই প্রাকৃতিক হ্রদ।
- এই হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত।
- ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই হ্রদটি প্রায় ২০০০ বছর আগে একটি মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ অথবা উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি অনেকের কাছে ড্রাগন লেক নামেও পরিচিত।
- একে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার মিঠাপানির হ্রদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১৭.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে গন্ধক (Sulphur) এর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে?
  1. ক) মহেশখালী দ্বীপ
  2. খ) সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ
  3. গ) কুতুবদিয়া দ্বীপ
  4. ঘ) সোনাদিয়া দ্বীপ
ব্যাখ্যা
গন্ধক (Sulphur) : 
বাংলাদেশে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে।
সালফিউরিক এসিড, বারুদ ও কীটনাশক তৈরিতে গন্ধক ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬১৮.
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৮ সালে
  4. ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি: 
- বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক ১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্রে এম/এস ওয়ার্ডেল আর্মস্ট্রং (ইউকে ভিত্তিক সংস্থা) একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা ষ্টাডি সম্পন্ন করে।
- উক্ত ষ্টাডির অন্তর্ভুক্ত প্রধান কাজ গুলো হ‘ল ৩৩ টি বোরহোল খনন,
- চাইনিজ কোম্পানি সিএমসি-এর সাথে ৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ সালে খনি উন্নয়নের জন্য টার্ন-কি ভিত্তিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ৪ জুন ২০০৫ সালে বিসিএমসিএল ও চাইনিজ কনসোর্টিয়াম (এক্সএমসি-সিএমসি) এর মধ্যে ৪.৭৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলনের জন্য ৭১ মাস মেয়াদী প্রথম ম্যানেজমেন্ট এন্ড প্রডাকশন (এমএন্ডপি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির কার্যক্রম সেপ্টেম্বর ২০০৫ হতে শুরু হয় এবং আগস্ট ২০১১ সালে শেষ হয়।
- উক্ত সময়ের আওতায় ৩.৬৫১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা সেন্ট্রাল পার্ট হতে উত্তোলন করা সম্ভব হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১৯.
নিম্নলিখিত দেশগুলির মধ্যে কোনটি ইন্দোচীন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মালয়েশিয়া
  2. থাইল্যান্ড
  3. কম্বোডিয়া
  4. মিয়ানমার
ব্যাখ্যা
ইন্দোচীন:
- ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত ভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়া। 

- ফ্রান্স অষ্টাদশ শতকে ইন্দোচীন হিসাবে পরিচিত বর্তমান ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বােডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অঞ্চলটির উপর শাসন অব্যাহত রাখে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপান ইন্দোচীন দখল করে নেয়।
- ১৯৪৫ সালে ভিয়েতনাম স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- ফ্রান্স ভিয়েতনামকে ফরাসি ইউনিয়নের অধীনে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৪৬ সালে দেশটির উপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬২০.
সার্ক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গুজরাট
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) কাঠমান্ডু
  4. ঘ) থিম্পু
ব্যাখ্যা

- সার্ক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র - ঢাকা, বাংলাদেশ।
- সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র অবস্থিত ভারতের গুজরাট রাজ্যের গান্ধীনগরে। পূর্বে এটি ভারতের নয়াদিল্লিতে ছিল।
- সার্ক বন কেন্দ্র - থিম্পু, ভুটান।
- সার্কের সদর দপ্তর কাঠমন্ডুতে অবস্থিত।
উৎসঃ উৎসঃ সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রর ওয়েবসাইট।

৬২১.
বাংলাদেশের প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. ক) মেঘনা
  2. খ) কর্ণফুলি
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী ও প্রশস্ততম নদী। চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার মিলিত ধারার নাম মেঘনা। উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী। ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
সূত্র : মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণী।
৬২২.
'সাগরকন্যা' বাংলাদেশের কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) সেন্টমার্টিন
  3. গ) কুয়াকাটা
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
Source: patuakhali.gov.bd
৬২৩.
বাংলাদেশে প্রধানত কত ধরনের কয়লা পাওয়া যায়?
  1. ৩ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৫ ধরনের
  4. ২ ধরনের
ব্যাখ্যা

কয়লা উৎপাদন ও বণ্টন:
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধান পাঁচটি কয়লা খনিতে প্রধানত তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়।
- যথা-বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পীট।
- বিটুমিনাস ও লিগনাইট শ্রেণির কয়লায় ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি এবং কার্বনের পরিমাণ খুবই কম।
- পীট কয়লার উদ্ভব হয় উদ্ভিদ হতে কয়লায় পরিণত হবার প্রাথমিক পর্যায়ে।
- বাংলাদেশের প্রধান কয়লা ক্ষেত্রগুলো হলো: বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর), জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট), ফুলবাড়ী (দিনাজপুর), খালাসপীর (রংপুর) এবং দিওপাড়া (দিনাজপুর)।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৪.
নিচের কোন জেলাতে প্লাস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে?
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) পিরোজপুর
  3. গ) মাদারীপুর
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায় অবস্থিত মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৬০)
৬২৫.
'আলোকবর্ষ' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ভর
  2. দূরত্ব
  3. সময়
  4. তীব্রতা
ব্যাখ্যা
- 'আলোকবর্ষ' দূরত্ব সাথে সম্পর্কিত। 

নক্ষত্র (Stars):

- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্‌টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৬.
'বাইক্কা বিল' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) নাটোর
  4. ঘ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
শ্রীমঙ্গলে অবস্থতি বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এই শ্রীমঙ্গল উপজেলা অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলায়। উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬২৭.
নিচের কোনটি ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষ নয়?
  1. শাল
  2. কড়ই
  3. হিজল
  4. গরান
ব্যাখ্যা
- গরান ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষ নয়। 

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:

- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।                                     
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:

- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।           
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।
   
স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।    
- স্রোতময় মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে জন্মে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
• কাপ্তাই বাঁধ:
- কাপ্তাই বাঁধ বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত।
- কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে সৃষ্ট কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত এটি।
- ১৯৬২ সালে চালু হয়।

- এটি মাটি ভরাট করে নির্মিত ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ।
 - বাঁধটি ৪৫.৭ মিটার উঁচু যা  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬ মিটার (এম.এস.এল) উচ্চতার সমান।
- এর চূড়ার সর্বোচ্চ প্রস্থ ৭.৬ মিটার ও পাদদেশের প্রস্থ ৪৫.৭ মিটার। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬২৯.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে স্রোতের গতিবেগ সর্বাধিক থাকে?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) ঊর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি
- মধ্যগতি এবং
- নিম্নগতি

উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।

সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৩০.
মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার কারণ কী?
  1. ক) বৃষ্টিহীনতা
  2. খ) অধিক তাপমাত্রা
  3. গ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
  4. ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা বেশি
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকার গঠন বা বুনট সূর্যতাপ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রস্তর বা বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। এজন্য তা দ্রুত উত্তপ্ত এবং দ্রুত শীতল হয়। তাই মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৬৩১.
থর মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  2. খ) চীন ও মঙ্গোলিয়া
  3. গ) ভারত ও পাকিস্তান
  4. ঘ) দক্কিণ আফ্রিকা ও সোমালিয়া
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
• থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান
• গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
• মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
• সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৬৩২.
বাংলাদেশে প্রথম কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
  2. চট্টগ্রামের সাতকানিয়া
  3. নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুর
  4. নওগাঁর পত্নীতলা
ব্যাখ্যা

চীনামাটি:
- চীনামাটি বা কেওলিন (Kaolin) হলো একধরণের উন্নতমানের সাদা কর্দম খনিজ, যা মূলত সিরামিক, টাইলস এবং তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তৈরি করা হয়, ফলে এটি অত্যন্ত শক্ত, অভেদ্য এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির হয়। 
- একে সাদা মাটিও বলা হয়। 
- এটি সিরামিক শিল্প, টেবিলওয়্যার (চায়ের সেট), স্যানিটারি ওয়্যার (টয়লেট), এবং কাগজ শিল্পে ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৫৭ সালে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় চীনামাটি বা সাদামাটির খনি অবস্থিত।
- এছাড়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী, চট্টগ্রামের হাইদগাঁও ও সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত এবং দিনাজপুরের মধ্যপাড়া, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

৬৩৩.
নিচের কোনটি সাত পাহাড়ের শহর হিসেবে পরিচিত?
  1. রোম
  2. এথেন্স
  3. ভেনিস
  4. কিটো
ব্যাখ্যা
দেশ:
• রাজধানী:
- ইতালির রাজধানী রোম।

• সাতটি পাহাড়:
- এ নগরীতে সাতটি পাহাড় রয়েছে, যা হলো অ্যাভেনটাইন, কেইলিয়ান, ক্যাপিটোলাইন, ইসকুইলিন, প্যালেটাইন, কুইরিনাল ও ভিমিনাল।

• পাহাড়গুলোর গুরুত্ব:
- এই পাহাড়গুলো নগরীর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে, এজন্য রোম নগরীকে সাত পাহাড়ের শহর বলা হয়

• বিশেষত্ব:
- রোম চির শান্তির শহর এবং নীরব শহর ও বলা হয়।

অন্যদিকে,
- ভেনিস: নিশ্চুপ সড়কের শহর।
- কিটো: চির বসন্তের শহর।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬৩৪.
প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. কক্সবাজার 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

প্রান্তিক হ্রদ — বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

প্রান্তিক হ্রদ:
- বান্দরবান জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের হলুদিয়ার সন্নিকটে প্রায় ২৫.২৯ একর এলাকা নিয়ে প্রান্তিক হ্রদ গঠিত।
বান্দরবানে অবস্থিত আরো কয়েকটি হ্রদ:
- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক,
- কিয়াচলং হ্রদ ইত্যাদি।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।

৬৩৫.
টারশিয়ারি যুগের অর্ন্তভুক্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) টিলা
  2. খ) জঙ্গল
  3. গ) পাহাড়
  4. ঘ) উচু ভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বর্ণনা
• ভূমির অবস্থা এবং গঠনের সময়ানুক্রমিক দিক হতে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা -
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
• ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
• উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত
• এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
• এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৬.
'রিছাং ঝর্ণা' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- আলুটিলার ঝর্ণা 'রিছাং ঝর্ণা' নামে পরিচিত।
- 'রিছাং ঝর্ণা' বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। 
- জেলা সদর থেকে আলুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থানের দূরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১কিঃ মিঃ।
- মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ঝর্ণা, ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থ গড়িয়ে পড়া। 

উৎসঃ খাগড়াছড়ি জেলা ওয়েবসাইট।
৬৩৭.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কোন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়?
  1. বিটুমিনাস
  2. অ্যানথ্রাসাইট
  3. পিট
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

কয়লা:
- শক্তির অন্যতম উৎস কয়লা।
- বর্তমানে দেশে প্রধান পাঁচটি কয়লা খনি রয়েছে।
- এসব কয়লা খনি থেকে প্রধানত তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়। যথা-বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পীট।
- বিটুমিনাস ও লিগনাইট শ্রেণির কয়লায় ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি এবং কার্বনের পরিমাণ খুবই কম।
- পীট কয়লার উদ্ভব হয় উদ্ভিদ হতে কয়লায় পরিণত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে। 

• বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিটুমিনাস ধরনের কয়লা পাওয়া যায়।
- উত্তরবঙ্গের বড়পুকুরিয়া, খালাসপীর, ফুলবাড়ী, দিঘিপাড়া এবং জামালগঞ্জ-এই পাঁচটি প্রধান কয়লা ক্ষেত্রে এ জাতীয় উচ্চমানের কয়লার মজুদ রয়েছে।
- বাংলাদশে বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন হয়।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি হতে প্রাপ্ত কয়লার মান উচ্চ উদ্ধায়ী বিটুমিনাস শ্রেণী হতে সাব বিটুমিনাস শ্রেণীর অন্তর্গত। যার মূল উপাদান হচ্ছে ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%, এ্যাশ- ১২.৪০%, ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, মোট ময়েশ্চার-১০%, ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে মোট পাঁচটি কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- এগুলো হলো- জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট), বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর), খালাশপীর (রংপুর), দিঘীপাড়া (দিনাজপুর) ও ফুলবাড়ি (দিনাজপুর)। এর মধ্যে চারটি কয়লা ক্ষেত্র (জামারগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া, খালাশপীর ও দিঘীপাড়া) আবিষ্কার করেছে জিএসবি। 
- এছাড়াও বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামের কুচমা, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।
iii) প্রথম আলো।

৬৩৮.
নিচের কোন জ্বালানিটি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হচ্ছে?
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) তেল
  3. গ) কয়লা
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত।
- এতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লা।
- ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৩৯.
বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট কোনটি?
  1. রাতারগুল
  2. শালবন
  3. সুন্দরবন
  4. টাঙ্গুয়ার হাওর
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট হলো রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।
- এটি সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- এই বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর।
- বনের ৫০৪ একরকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

⇒ সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে।
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি।
- এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।

উল্লেখ্য,
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৪০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) চুয়াডাঙ্গা
  2. খ) হবিগঞ্জ
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল যশোর জেলায় অবস্থিত এবং ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬৪১.
হাইফা কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) জর্ডান
  2. খ) ইসরাইল
  3. গ) বেলজিয়াম
  4. ঘ) সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
হাইফা ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত ইসরাইলের প্রধান সমুদ্রবন্দর।
জর্ডানের সমুদ্রবন্দরের নাম আকাবা।
আন্টওয়ার্প বেলজিয়ামের সমুদ্রবন্দর।
জেদ্দা সৌদি আরবের সমুদ্রবন্দর।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৬৪২.
নিম্নের কোনটি রূপান্তরিত শিলা?
  1. কয়লা
  2. চুনাপাথর
  3. গ্রানাইট
  4. নিস
ব্যাখ্যা

শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ, রাসায়নিক ক্রিয়া প্রভৃতির ফলে রূপ পরিবর্তন করে যে নতুন শিলায় পরিণত হয় তা রূপান্তরিত শিলা নামে পরিচিত।

বিভিন্ন রূপান্তরিত শিলা:
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট, 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, 
- বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস।

অন্যদিকে,
- গ্রানাইট : আগ্নেয় শিলা
- কয়লা ও চুনাপাথর : পাললিক শিলা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি। 

৬৪৩.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. স্লেট 
  3. গ্রানাইট 
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন:
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৬৪৪.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ কী দ্বারা গঠিত?
  1. চুনাপাথর, শেল ও বেলেপাথর
  2. মাটি, পাথর ও শিলা
  3. বেলেপাথর, শেল ও কর্দম
  4. চুনাপাথর, মার্বেল ও গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ন
- বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- রাজশাহী অঞ্চলের চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার হাওড় ও বিল উল্লেখযোগ্য।
- মেঘনা নদীর মোহনায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, শাহবাজপুর এবং ভোলা জেলায় বেশ কিছু দ্বীপ অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলে আরও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনাঞ্চল (Forest of Bangladesh): 
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭.৪৭৯১ ভাগ।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা: 
১। ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা গাছের বনভূমি (দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়), 
২। ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি (মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, বরেন্দ্রভূমি), 
৩। স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৪৬.
‘গারুদা’ কোন দেশের বিমান সংস্থা?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) লিবিয়া
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) ওমান
ব্যাখ্যা
গারুদা ইন্দোনেশিয়ার বিমান সংস্থার নাম।
Source: World Atlas
৬৪৭.
বাংলাদেশের একমাত্র খনিজ তেল আবিষ্কৃত হয় কবে?
  1. ১৯৯৪ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
খনিজ তেল: 
- ১৯৮৬ সালে সিলেট জেলার হরিপুরে প্রাকৃতিক গ্যাসের সপ্তম কূপে তেল পাওয়া গেছে।
- এ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হচ্ছে।
- অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের তেল শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়।
- পরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, কেরোসিন, বিটুমিন ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়।
- মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত।
- এ ক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১,২০০ ব্যারেল তেল উত্তোলিত হয়।

উৎস: ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৮.
'সালদা' গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের কোথায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. খাগড়াছড়ি
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

- সালদা গ্যাসক্ষেত্র, তিতাস গ্যাসক্ষেত্র গ্যাসক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত।
- সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রটি খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রটি নোয়াখালীতে অবস্থিত।
- 'কামতা' গ্যাসক্ষেত্র অবস্থিত গাজিপুরে।
- এটি ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করে।
- মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র অবস্থিত মৌলভীবাজারে।

৬৪৯.
'নরওয়েস্টার' বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. কালবৈশাখী
  3. ঝড়ো বাতাস
  4. সুনামি
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী ঝড়: 
- কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- তীব্র গতি সম্পন্ন কালবৈশাখী ঝড় দেশের প্রচুর ক্ষতি করে।
- দেশে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বজ্রঝড় হয়।
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, সব কালবৈশাখীই বজ্রঝড়।
- কিন্তু সব বজ্রঝড় কালবৈশাখী নয়।
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত যেসব বজ্রঝড় হয় সেগুলো আসলে কালবৈশাখী।
- এর ইংরেজি প্রতিশব্দের সঙ্গে মিলিয়ে বলা যায়, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা বায়ুর কারণে এই ঝড়বৃষ্টি হয়।
- তাই একে ইংরেজিতে ‘নরওয়েস্টার’ বলে।
- বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত কালবৈশাখীর দ্বারা সংঘটিত হয়।
-গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত ধান, পাট ও আখ চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৬৫০.
মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বনভূমি কোনটি?
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
  2. স্রোতজ বনভূমি
  3. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন: পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শালবন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫১.
বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট অবস্থিত -
  1. সিলেট
  2. বাগেরহাট
  3. রাঙামাটি
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হলো রাতারগুল জলাবন।
- এটি সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর।
- বনের ৫০৪ একরকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাদুপানির জলাবন আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।
- বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে।
- আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে।
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৫২.
পিকো দ্বীপ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর 
ব্যাখ্যা

পিকো দ্বীপ(Pico Island):
- Pico Island উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত পর্তুগালের একটি আগ্নেয়গিরিময় দ্বীপ। 
- এটি Azores দ্বীপপুঞ্জের কেন্দ্রীয় গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং আয়তনের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
- দ্বীপটি তার কালো লাভাপাথরের ভূপ্রকৃতির কারণে ‘ব্ল্যাক আইল্যান্ড’ নামেও পরিচিত।
- এখানেই অবস্থিত পর্তুগালের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ Mount Pico (উচ্চতা ২,৩৫১ মিটার বা ৭,৭১৩ ফুট), যা আজোরেস অঞ্চলেরও সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি।
- দ্বীপটির মোট আয়তন প্রায় ১৬৩ বর্গমাইল (৪৩৩ বর্গকিলোমিটার)।
- এটি Faial দ্বীপ থেকে ফায়াল চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন।
- এবং পর্তুগালের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এর অবস্থান।
- পিকো দ্বীপের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর—বিশেষ করে দুগ্ধ উৎপাদন, গবাদিপশু পালন ও আঙ্গুর চাষ উল্লেখযোগ্য।
- এখানকার ঐতিহ্যবাহী দ্রাক্ষাক্ষেত্রের অনন্য লাভাপাথরঘেরা ভূদৃশ্যকে ২০০৪ সালে UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- দ্বীপের প্রধান নগরকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদালেনা, সাও রোক দো পিকো, সাও মাতেউস ও লাজেস।
- লাজেসে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি তিমি শিকার জাদুঘর ও গ্রন্থাগার রয়েছে।

উৎস: Britannica. 

৬৫৩.
ওশেনিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম কী?
  1. পুসাক জায়া 
  2. ভিনসন ম্যাসিফ
  3. অ্যাকাঙ্কাগুয়া
  4. মাউন্ট ডেনালি
ব্যাখ্যা

• ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া মহাদেশ মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত একটি বিশাল দ্বীপ অঞ্চল।
-  এই মহাদেশকে অস্ট্রেলিয়া, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়া—এই চারটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
- বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম দেশ: এই মহাদেশের বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরু (যা একটি দ্বীপ রাষ্ট্র)।
- দ্বীপ মহাদেশ: অস্ট্রেলিয়াকে একই সাথে একটি দেশ এবং একটি মহাদেশ বলা হয়।
- মাউন্ট কসিয়াসকো: এটি অস্ট্রেলিয়া মূল ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ,
- ওশেনিয়া অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিন্দু হলো  পুসাক জায়া।
- দীর্ঘতম নদী: অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং এই মহাদেশের দীর্ঘতম নদী ব্যবস্থা।
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ: এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর, যা অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে অবস্থিত।
-  ক্যাঙ্গারু, কোয়ালা, ইমু এবং প্লাটিপাসের মতো অদ্ভুত সব প্রাণীর আদি নিবাস এই মহাদেশে।
- ১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেছিল।
- এই মহাদেশের প্রাচীন বাসিন্দাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার 'অ্যাবোরিজিন' এবং নিউজিল্যান্ডের 'মাওরি'রা বিশেষভাবে পরিচিত।

অন্যদিকে -
- এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট।
- উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট ডেনালি।
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম অ্যাকাঙ্কাগুয়া।
- ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম পুসাক জায়া।
- এন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম ভিনসন ম্যাসিফ।

উৎস: i) World Atlas. ii) National Geographic Society.

৬৫৪.
কত সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক ১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় বাংলাদেশের একমাত্র কয়লাখনি ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করে ২০০৫ সালে। 
- কয়লাখনিটি বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে কয়লার জোগান দিয়ে থাকে।

• বড়পুকুরিয়া কোল বেসিনের বিস্তৃতি ৬.৬৮ বর্গকিলোমিটার।  
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- সমগ্র কয়লা ক্ষেত্রের উপরিভাগ বারিন্ড ক্লে স্তর (মধুপুর ক্লে) দ্বারা আবৃত রয়েছে। 
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি হতে প্রাপ্ত কয়লার মান উচ্চ উদ্ধায়ী বিটুমিনাস শ্রেণী হতে সাব বিটুমিনাস শ্রেণীর অন্তর্গত, যার মূল উপাদান হচ্ছে ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%, এ্যাশ- ১২.৪০%, ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, মোট ময়েশ্চার-১০%, ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড।

উৎস: i) বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৬৫৫.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল-
  1. ক) অপরিশোধিত তেল
  2. খ) ক্লিংকার
  3. গ) এমোনিয়া
  4. ঘ) মিথেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
- ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো মিথেন গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ইউরিয়া সার জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে।
- বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন সারের মধ্যে ইউরিয়া সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়।

(তথ্যসূত্রঃ ভুগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিসিআইসি ওয়েবসাইট)
৬৫৬.
দেশের একমাত্র পাথর খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মধ্যপাড়া, দিনাজপুর
  2. খ) লালাখান, সিলেট
  3. গ) থানচি, বান্দরবান
  4. ঘ) দুলালপুর, নরসিংদী
ব্যাখ্যা
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি।
- ১৯৭৪ সালে মাটির নিচে ১২৮-১৩৬ মিটার গভীরতায় খনিটি আবিষ্কৃত হয়।
- মধ্যপাড়া খনির ১ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় শিলা মজুদের পরিমাণ ২০ কোটি ১৬ লাখ টন এবং উত্তোলনযোগ্য শিলার পরিমাণ ১০ কোটি ১৩ লাখ টন।
- ২০০৭ সাল থেকে এ খনির পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে উন্নতমানের এ কঠিন শিলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
- মধ্যপাড়া খনিটির দায়িত্বে নিয়োজিত পেট্রোবাংলার অঙ্গসংগঠন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি।
- জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) নামের একটি কোম্পানি চুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে খনি পরিচালনা ও পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- যুগান্তর এবং বনিক বার্তা।
৬৫৭.
সুন্দরবন সংলগ্ন ভারতের কোন রাজ্যে রয়েছে?
  1. আসাম
  2. পশ্চিম বঙ্গ
  3. মেঘালয়
  4. মিজোরাম
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি।
- যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম।
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা।
- এটি ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে স্থিত।

 উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৫৮.
জুম চাষ হয়---
  1. ক) বরিশালে
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) খাগড়াছড়িতে
  4. ঘ) দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা
জুষ চাষ হলো স্থানান্তর চাষাবাদ যা সাধারণত পাহাড়ী এলাকায় করা হয়। এ পদ্ধতিতে ঢালু পাহাড়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা হয়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এখনো কিছু কিছু এলাকায় জুষ চাষ করে।
- এছাড়া সিলেট অঞ্চলে খাসিয়া এবং ময়মনসিংহে গারোদের মধ্যেও জুম চাষ প্রচলিত ছিলো।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬৫৯.
তিন বিঘা করিডোরের আয়তন কত?
  1. ক) ১৭৮ মিটার X ৮৫ মিটার
  2. খ) ১৮৩ মিটার X ৮৭ মিটার
  3. গ) ১৮৭ মিটার X ৯৩ মিটার
  4. ঘ) ১৭৫ মিটার X ৭১ মিটার
ব্যাখ্যা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আর একটি অনন্য উদাহরণ হচ্ছে তিন বিঘা করিডোর। বিশ্বের কোথাও এমন আরেকটি নজির নেইযেখানে কোন দেশের একটি অংশ তার অপর অংশের সাথে অন্য একটি দেশের করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে। এটি হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবংবাংলাদেশ সীমান্তের ১৭৮ মিটার x ৮৫ মিটার পরিমাপের একটি ভূ-খন্ড। করিডোরটি, যেটি দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা (বাংলাদেশ) ছিটমহলগুলোকে বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ডের (পাটগ্রাম থানা) সঙ্গে এবং কুচলিবাড়িকে (ভারত) মেখলিগঞ্জ শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেবন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির একটি সত্যিকারের সংযোগস্থলে পরিণত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের জনগণ সমানভাবে করিডোরটি ব্যবহার করে, যা প্রকৃতপক্ষে দুটি দেশের জনগণের বন্ধুতা ও সৎ প্রতিবেশীসুলভ পরিবেশে একত্রে বসবাস করার একটি মূর্ত প্রতীক।
উৎসঃ ভারতীয় সরকারের ওয়েবসাইট [click here]

৬৬০.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. শিলা ও কাঁকর
  2. কাদা ও কংক্রিট
  3. চুনাপাথর ও বালু
  4. বেলেপাথর, শেল ও কর্দম
ব্যাখ্যা
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

২। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬১.
নিচের কোন পাহাড় টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. তাজিং ডং
  2. কেওক্রাডং
  3. লালমাই
  4. ছাতক 
ব্যাখ্যা

- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের অন্তর্গত পাহাড়।
- অন্যদিকে তাজিং ডং, কেওক্রাডং ও ছাতক পাহাড় টারশিয়ারী যুগের পাহাড়।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, লালমাই পাহাড় এই ভূমিরূপের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়: 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার। 
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬২.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) কেওলন
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) নিস
  4. ঘ) কোয়াটজাইট
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
⇒ যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজারের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. আধুনিক যুগের
  2. প্লাইস্টোসিনকালের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. টারশিয়ারি যুগের
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
- এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ;
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উল্লেখ্য,
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
সিলিকন ভ্যালি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জার্মানি
  3. ইতালি
  4. চীন
ব্যাখ্যা
সিলিকন ভ্যালি:
- সিলিকন ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত একটি জরুরি উপাদান সিলিকন।
- এই সিলিকন থেকেই সারাবিশ্বের প্রযুক্তির রাজধানী সিলিকন ভ্যালির নামকরণ করা হয়েছে।
- আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত সিলিকন ভ্যালিতে আছে প্রায় কয়েক হাজার প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।
- ফেসবুক, গুগল ও অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি দানবের সদরদপ্তরও এই সিলিকন ভ্যালিতে।
- বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করা হয় সরাসরি সিলিকন ভ্যালি থেকে।

উৎস: Britannica.
৬৬৫.
নিচের কোনটি বলকান দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নেদারল্যান্ডস
  2. ক্রোয়েশিয়া
  3. কসোভো
  4. রােমানিয়া
ব্যাখ্যা
বলকান রাষ্ট্র:
- বলকান হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি পার্বত্য অঞ্চল।
- বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ হলো:
- ক্রোয়েশিয়া,
- স্লোভেনিয়া,
- কসোভো,
- মন্টিনিগ্রো,
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা,
- রােমানিয়া,
- বুলগেরিয়া,
- সার্বিয়া,
- উত্তর মেসিডোনিয়া,
- আলবেনিয়া।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস এবং তুরস্কের কিছু অংশও বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা
৬৬৬.
উইলিয়াম মরিস ডেভিসের ভূমিরূপ মতবাদ কে গাণিতিক মডেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন?
  1. স্ট্রাবো
  2. কে জে. গ্রেগরী
  3. আল-কিন্দি
  4. আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্‌ড্‌ট্
ব্যাখ্যা
ভূমিরূপ মতবাদ:
- উইলিয়াম মরিস ডেভিসের মতে, ভূমিরূপ হলো ভূ-প্রাকৃতিক উপাদান সমূহের গঠন আকৃতি (Structure), গঠন প্রক্রিয়া (Process) ও সময়ের (Time) এক সমন্বয়।
- কে জে. গ্রেগরী ডেভিসের এই মতবাদকে একটি গাণিতিক মডেল (Mathematical Model) এর সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন।
মতবাদটি হল: F = ƒ(MP)t, যেখানে, F = ভূমিরূপ (Landform), f =অপেক্ষক (Function of), M=পদার্থ (Geomaterials), P=প্রক্রিয়া (Process), t = সময় (Time) সাথে পরিবর্তনের।

- উপরের গাণিতিক সমীকরণটি থেকে বোঝা যায় যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে যে সকল ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য গুলো পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো মূলত ঐ অঞ্চলের নানা ধরনের ভূ-পদার্থ সমূহের মধ্যকার নানা প্রক্রিয়ায় সংঘটিত রূপ।
- একটি দীর্ঘ সময় ব্যাপী এই ভূমিগঠন প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।লিঙ্ক 
৬৬৭.
কোন গ্যাসক্ষেত্র থেকে স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হয়?
  1. তিতাস
  2. বিয়ানীবাজার
  3. কৈলাশটিলা
  4. বিবিয়ানা
ব্যাখ্যা
বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র:
- ১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়।
- আমেরিকান তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি ইউনিকল উপমহাদেশের বৃহত্তম এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে।

উল্লেখ্য,
- পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২২টি গ্যাসক্ষেত্রের ১১৩টি কূপ দিয়ে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
- এসব কূপ থেকে ১ হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হয়েছে।
- স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হয় সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
- মার্কিন কোম্পানি শেভরনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই গ্যাসক্ষেত্রের ২৬টি কূপ দিয়ে দৈনিক ৭৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে,
- দেশীয় কোম্পানি বাপেক্স আটটি গ্যাসক্ষেত্রের ১৫টি কূপ দিয়ে ১১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করছে, এই গ্যাসক্ষেত্রগুলো হচ্ছে সালদা, ফেঞ্চুগঞ্জ, শাহবাজপুর, সেমুতাং, শ্রীকাইল, বেগমগঞ্জ ও রূপগঞ্জ।
- সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি (এসজিএফএল) সিলেট, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, রশিদপুর ও বিয়ানীবাজার এই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের ১১টি কূপ দিয়ে দৈনিক ১১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করছে।
- বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি (বিজিএফসিএল) পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের ৪৪টি কূপ দিয়ে দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করছে। গ্যাসক্ষেত্রগুলো হচ্ছে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী এবং ম্যাগনামা। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি সবচেয়ে পুরোনো।

উৎস: i) ১৯ এপ্রিল ২০২৪, কালবেলা।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৬৮.
লাউয়াছড়া কী ধরনের বন?
  1. ম্যানগ্রোভ বন
  2. পর্ণমোচী বন
  3. চিরহরিৎ বন
  4. তৈগা বন
ব্যাখ্যা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- লাউয়াছড়া মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি চিরহরিৎ বা মিশ্র চিরসবুজ ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৬৯.
সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম কোন মহাদেশে?
  1. আফ্রিকা
  2. এশিয়া
  3. ইউরোপ
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• সমভূমি:
→ সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
→ সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
→ সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
→ পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
→ মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয়।
→ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
 → আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
→ ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
নিচের কোন অঞ্চলে 'কালিজিরা' ধান বেশি উৎপাদিত হয়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা

- 'কালিজিরা' ধান মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাই আবাদ হয়।
- 'বিরই' ধান মূলত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে আবাদ হয়।
- 'বালাম' ধান মূলত বাংলাদেশের বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে আবাদ হয়।
- 'চিনিগুড়া' ধান মূলত বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় আবাদ হয়।
- 'হরিধান' মূলত বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলায় আবাদ হয়।
- কাটারিভোগ বাংলাদেশের একটি সুগন্ধি চাল। এটি প্রধানত দিনাজপুর এলাকায় পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র:- কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং dinajpur.gov.bd.

৬৭১.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. জলীয়বাষ্প
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান:
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলো নাইট্রোজেন।
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, এটি শতকরা ৭৮.০২%।
- এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হলো অক্সিজেন, এর পরিমাণ ২০.৭১%। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ হলো-
• নাইট্রোজেন (৭৮.০২%),
• অক্সিজেন (২০.৭১%),
• আর্গন (০.৮০%),
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড (০.০৩%),
• জলীয় বাষ্প (০.৪১%) ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭২.
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ কোনটি?  
  1.  সুপিরিয়র হ্রদ
  2. বৈকাল হ্রদ  
  3. ভিক্টোরিয়া হ্রদ 
  4. টাঙ্গানিকা হ্রদ 
ব্যাখ্যা

বৈকাল হ্রদ: 
- যা দক্ষিণ সাইবেরিয়ার বুরিয়াত প্রজাতন্ত্র ও ইরকুতস্ক ওব্লাস্ট-এর মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- বিশ্বের গভীরতম হ্রদ বৈকাল হ্রদ।
- যা আয়তনের দিক থেকে নয় বরং পানির পরিমাণ বা আয়তন (volume) অনুসারে প্রথম।
- পৃথিবীর মোট ভূপৃষ্ঠের কমপক্ষে ২২% মিঠা পানি এই হ্রদে সংরক্ষিত।
- উত্তর আমেরিকার সমস্ত গ্রেট লেকসের পানির পরিমাণ একত্র করলেও তা লেক বৈকাল পূর্ণ করতে পারে - 
- বৈকাল হ্রদ সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের অন্যতম স্বচ্ছ (clearest) হ্রদ হিসেবেও পরিচিত।

অপরদিকে,
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশুদ্ধ পানির আধার।
- টাঙ্গানিকা হ্রদ এটি বিশ্বের দীর্ঘতম স্বাদু পানির হ্রদ।
- সুপিরিয়র হ্রদ উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ হ্রদ। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

৬৭৩.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার উদাহরণ?
  1. কোয়ার্টজাইট
  2. কয়লা
  3. গ্রানাইট
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

- কয়লা পাললিক শিলা। 

• ভুত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
- যথাঃ আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।

• পাললিক শিলা: 
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 

৬৭৪.
'দারফুর' অঞ্চলটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) মিশর
  2. খ) মরক্কো
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) লিবিয়া
ব্যাখ্যা
- দারফুর সুদানের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
- অঞ্চলটি তিনটি স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ নিয়ে গঠিত।
- এই তিনটি প্রদেশ হচ্ছেঃ পশ্চিম দারফুর, দক্ষিণ দারফুর এবং উত্তর দারফুর।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস
৬৭৫.
ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত -
  1. ক) হিমালয় পর্বতমালা
  2. খ) আল্পস পর্বতমালা
  3. গ) দক্ষিণ আমেরিকা
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
আল্পস পর্বতমালা ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত। 

অন্যদিকে,
• হিমালয় পর্বতমালায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত। 
• পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী হলো দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা।
• দ্বিতীয় দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী হলো উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস
৬৭৬.
পৃথিবীর আকাশে সর্বশেষ কত সালে 'হ্যালির ধূমকেতু' দেখা গিয়েছিল?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ পৃথিবীর আকাশে ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

ধূমকেতু (Comet): 

- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে যাদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে, এসব জ্যোতিকে ধূমকেছূ বলে। 
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিক। 
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উপয় হরে পাবার অদৃশ্য হয়ে যায়। 
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এর লেজ লম্বা হতে থাকে। 
- এরা অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে অনেক বছর পর পর এরা আবির্ভূত হয়। 
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত। 
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়। 
- মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
 
৬৭৭.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কে ইউনেস্কো কত সালে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ১৯৮৫
  2. ১৯৮১
  3. ১৯৮২
  4. ১৯৮৩
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাগেরহাট জেলায় খান জাহান আলী বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নির্মাণ করেন।
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে ৩২১-তম বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
উৎসঃ ইউনেস্কো ওয়েবসাইট
৬৭৮.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা-
  1. প্রায় ৫৫০ মিটার
  2. প্রায় ৮৭০ মিটার
  3. প্রায় ৭৬২ মিটার
  4. প্রায় ১০০০ মিটার
ব্যাখ্যা

• চিম্বুক পাহাড়:
- চিম্বুক পাহাড় বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
- এটি দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়।
- পাহাড়টি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এই পাহাড়টি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট (৭৬২ মিটার) উঁচু।
- চিম্বুককে "বাংলার দার্জিলিং" নামেও ডাকা হয়।
- এখান থেকে বিস্তৃত পাহাড়ের সারি দেখা যায়, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো মনে হয়।
- এছাড়া, মেঘে ঢাকা উপত্যকার দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
- চিম্বুককে "পাহাড়ের রানী" নামেও সম্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬৭৯.
'সোনাদিয়া দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) টেকনাফ
  2. খ) কুতুবদিয়া
  3. গ) পেকুয়া
  4. ঘ) মহেশখালী
ব্যাখ্যা
- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

উৎসঃ কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট।
৬৮০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প 'তিস্তা সেচ প্রকল্পের' নির্মাণ কাজ শুরু হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৭৯ সালে
  3. গ) ১৯৮৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হলো তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প।
- ১৯৭৯ সালে নীলফামারি-লালমনিরহাট সীমান্তে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৯০ সালে বাঁধ নির্মাণসহ এর প্রথম পর্যায়ের কাজ সমাপ্ত হয়।
- এই প্রকল্পের আওতায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় সাড়ে সাত লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ভারত কর্তৃক ভারতীয় অংশে গজলডোবা বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির অভাবে তিস্তা প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না।
- সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার তিস্তায় স্থায়ী জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সূত্র:- রংপুর বিভাগীয় ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো।
৬৮১.
স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ কোনটি?
  1. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  2. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  3. ভিয়েতনামের ঘূর্ণিবাত বায়ু
  4. আরব মালভূমির সাইমুম
ব্যাখ্যা
• স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।

• স্থানীয় বায়ুর ‍উদাহরণ:
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা অবস্থিত?
  1. ক) হিমছড়ি পাহাড়ে
  2. খ) মাধবকুন্ড পাহাড়ে
  3. গ) শুভলং ঝর্ণায়
  4. ঘ) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা অবস্থিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। আর বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্ণা অবস্থিত কক্সবাজারের হিমছড়ি পাহাড়ে।
সূত্র : মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণী।
৬৮৩.
পৃথিবীর নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে-
  1. ক) ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
  2. খ) ২৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড
  3. গ) ২৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড
  4. ঘ) ২৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী (Earth):
- আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো - আমাদের বাসস্থান ‘পৃথিবী’।
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)।
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আবর্তন করে।
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র।
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্ৰহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৪.
নিচের কোনটি বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. সমুদ্রের পানিতে গতি সঞ্চার হয়
  2. ঋতু পরিবর্তন
  3. তারিখ পরিবর্তন হয়
  4. তাপমাত্রার তারতম্য হয়
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি:
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।
- একবার সূর্যকে পূর্ণ পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। একে সৌরবছর বলে।
- কিন্তু আমরা ৩৬৫ দিনকে এক বছর ধরি। এতে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা অতিরিক্ত থেকে যায়। এ অতিরিক্ত সময়ের সামঞ্জস্য আনার জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন বাড়িয়ে সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়।
- এভাবে যে বছর ফেব্রুয়ারি মাসকে ১ দিন বাড়িয়ে ২৯ দিন করা হয় এবং ঐ বছরটিকে ৩৬৬ দিন ধরা হয়। সেই বছরকে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ বলে।
- সাধারণত কোনো বছরকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে যদি ভাগশেষ না থাকে, তবে ঐসব বছরকে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) ধরা হয়।

বার্ষিক গতির ফল হলো-
(১) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৫.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. একটি সামুদ্রিক গিরিখাত
  2. একটি দ্বীপ
  3. একটি চর
  4. একটি পর্বতশৃঙ্গ
ব্যাখ্যা

→ 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' হলো বঙ্গোপসাগরের-একটি গিরিখাত।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত।
- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে "গঙ্গা খাদ" নামেও ডাকা হয়।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে এটি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৬৮৬.
বিশ্বের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ক) আমাজন
  2. খ) নীলনদ
  3. গ) হোয়াংহো
  4. ঘ) ইয়াংসিকিয়াং
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীলনদ
• এর দৈর্ঘ্য ৪১৩২ মেইল বা ৬৬৫০ কিমি। 
• এর অবস্থান পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায়।
• বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রশস্ততম নদী আমাজন।
• এশিয়ার দীর্ঘতম এবং পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং। 
• হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি কুয়েনলুন পর্বত থেকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৬৮৭.
নিচের কোনটি চিরহরিৎ বনভূমি?
  1. সুন্দরবন
  2. লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  3. শালবন
  4. গরান বনভূমি 
ব্যাখ্যা

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২৫০ হেক্টর আয়তনের বন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ।

অন্যদিকে,
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- শালবন হলো ক্রান্তীয় আর্দ্র পাতাঝরা বনভূমি,
- বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাংশে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার–ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায়, তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৮৮.
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) হবিগঞ্জ
  2. খ) গোপালগঞ্জ
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) মুন্সীগঞ্জ
ব্যাখ্যা
Very Low Land: The land consists of haors, bills, canals and other low lying areas which looks like large lakes during rainy season. Depth of water may rise as high as 30 feet. In winter, waters dry up except in the centre. Most of the haors and bills lie in Sylhet division and in Kisoreganj and Netrokona district.
Source: bbs.gov.bd
৬৮৯.
বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘ গণনায় ব্যবহৃত পদ্ধতির নাম -
  1. ফুটমার্ক
  2. ক্যামেরা ট্র্যাপিং
  3. জিআইএস
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবনের বাঘ গণনায় ব্যবহৃত পদ্ধতির নাম ক্যামেরা ট্র্যাপিং।

উৎস: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
         ii) ৩১ মার্চ ২০২২, প্রথম আলো।
৬৯০.
জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে কোনটির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কয়লা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি:
- জীবাশ্ম জ্বালানি এমন এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর লাগে, সাধারণত ৬৫০ মিলিয়ন বছর বা ৬৫০০০০০০০ বছর সময় লাগে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পৃথিবীর সকল জায়গায় পাওয়া যায় না। যে দেশে পাওয়া যায় তার উপর অন্যান্য দেশ নির্ভর করে।

কয়লা:
- জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে কয়লার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কয়লা একটি জৈব পদার্থ। পৃথিবীতে একসময় অনেক গাছপালা ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনে সেই সব গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং জমতে থাকে। গাছের পাতা ও কাণ্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি)। [link]
৬৯১.
কোথায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. পঞ্চগড়
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- কঠিন শিলা (Hardrock)  পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- বাংলাদেশে চার ধরনের কঠিন শিলা পাওয়া যায়:
(ক) মধ্যপাড়া ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা
(খ) ভোলাগঞ্জ-জাফলং এর কঠিন শিলার নুড়ি
(গ) তেতুলিয়া-পঞ্চগড়-পাটগ্রাম কঠিন শিলা কনক্রিশন (concretion) এবং
(ঘ) চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রামের কনক্রিশন নুড়ি।
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির মজুদ ১৭১ (মি.টন)। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া। 
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো। 
৬৯২.
বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের সাথে ভারতের কোন রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
  1. আসাম
  2. পশ্চিমবঙ্গ
  3. ত্রিপুরা
  4. উপরোক্ত কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত: 

- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি। 
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে। 
- একমাত্র রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। 
- ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলা রাঙামাটি। 
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।
- বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের জেলা ৯টি। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৯৩.
নিম্নের কোন অঞ্চল বিশ্বের রুটির ঝুড়ি নামে খ্যাত?
  1. ক) চেনাব ভ্যালি
  2. খ) সান জোয়াকিন ভ্যালি
  3. গ) লোগার ভ্যালি
  4. ঘ) ব্রহ্মপুত্র ভ্যালি
ব্যাখ্যা
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট কৃষি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগানদাতা।
এই উৎপাদনের বেশিরভাগই আসে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত সান জোয়াকিন ভ্যালি (San Joaquin Valley) থেকে, যাকে বিশ্বব্যাপী ব্রেডবাস্কেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
এজন্য সান জোয়াকিন ভ্যালি (San Joaquin Valley)কে বিশ্বের রুটির ঝুড়ি (ব্রেডবাস্কেট) বলা হয়ে থাকে। 
 
- ইউরোপের শস্য ভাণ্ডার খ্যাত ইউক্রেনের উর্বর ভূমিতে গম, সানফ্লাওয়ার এবং অন্যান্য দানাদার জাতীয় শস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
- ইউক্রেন বিশ্ববাজারে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রপ্তানি কর থাকে।
- এজন্য ইউক্রেনকে ইউরােপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়। 
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস
৬৯৪.
কোন শিলা রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল হয়?
  1. গ্রানাইট
  2. কাঁদা
  3. চুনাপাথর
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল তৈরি হয়।

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
→ চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
→ কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
→ গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
→ বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, 
→ কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
বাংলাদেশের সবোর্চ্চ পবর্তশৃঙ্গ তাজিওডং কী নামে পরিচিত?
  1. সুউচ্চ
  2. বিজয়
  3. পাহাড়ের রানি
  4. পিরামিড
ব্যাখ্যা
• তাজিওডং:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়।
- একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
- বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় এর অবস্থান।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি।
৬৯৬.
আগ্নেয়গিরির বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত পদার্থগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. ম্যাগমা
  2. লাভা
  3. গ্রীবা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
- আগ্নেয়গিরির বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত এই পদার্থগুলো ম্যাগমা (Magma) নামে পরিচিত। 

• আগ্নেয়গিরি:

- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত, ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ, যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে।
- এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে।
- এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।

উল্লেখ্য: 
- আগ্নেয়গিরি থেকে যে পদার্থগুলো বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে লাভা (Lava) বলে।
- বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত এই পদার্থগুলো ম্যাগমা (Magma) নামে পরিচিত।
- আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরে বিশাল এলাকা জুড়ে ম্যাগমা অর্থাৎ উত্তপ্ত ও গলিত শিলা, কাঁদা, ভষ্ম ও বাষ্প জমাকৃত হয়ে থাকে, যাকে ম্যাগমা চেম্বার বলা হয়।
- লাভা বের হবার মুখটিকে জ্বালামুখ (Crater) বলা হয়।
- যে পথে লাভা বের হয় সেটিকে আগ্নেয় গ্রীবা (Vent) বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৭.
সাম্প্রতিক বাংলাদেশে কোথায় ভূগর্ভে তেলের সন্ধান মিলেছে?
  1. সিলেটে জকিগঞ্জ উপজেলায়
  2. সিলেট সদর উপজেলায়
  3. সিলেটে গোয়াইনঘাট উপজেলায়
  4. ওসমানী নগর উপজেলায়
ব্যাখ্যা
সিলেট তেলের সন্ধান:
সাম্প্রতিক বাংলাদেশে সিলেটে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ভূগর্ভে তেলের সন্ধান মিলে।

- সিলেট তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের পাশে গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের বাঘের সড়ক এলাকায় অবস্থিত এই অনুসন্ধান কূপে দুই মাস আগে খননকাজ শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড কোম্পানি। 
- বাংলাদেশে ৩৭ বছর পর আবারও ভূগর্ভে তেলের সন্ধান মিলেছে।
- সিলেটে একটি গ্যাসক্ষেত্রে কূপ খননের সময় সেখানে তেল পাওয়া যায়। ৮ই ডিসেম্বর তেলের উপস্থিতি মিলেছে।
- ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ বিষয়টি জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

⇒ উল্লেখ্য,
- ১৪ নভেম্বর, ২০২৩ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূপটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
- এখান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে।
- এই কূপ থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল হারে তেল পাওয়া যাবে।
- এ গ্যাস ও তেলের আর্থিক মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
- এছাড়া ওই কূপের তিনটি স্তরে নতুন গ্যাসের সন্ধানও পাওয়া গেছে।
- এ কূপে জ্বালানির মোট ৪টি স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে। 
- আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২০ বছর এখান থেকে সুফল পাওয়া যাবে।
- এর আগে ১৯৮৬ সালে দেশে প্রথম তেলের সন্ধান পাওয়া যায় সিলেটের হরিপুরে। এটি পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: Live MCQ সালতামামি ২০২৩।
৬৯৮.
বাংলাদেশের যে জেলায় সবচেয়ে বেশি চর রয়েছে -
  1. ক) লক্ষীপুর
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) ভোলা
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চর রয়েছে ভোলা জেলায় (দ্বীপ জেলা)।
- চরফ্যাশন,
- চর নিজামউদ্দিন,
- চর বোরহানউদ্দিন
- চর কুকরী মুকরী,
- ঢালচর,
- লতার চর ও
- চর নিজাম সহ অসংখ্য চর।

বিভিন্ন জেলার চর:

• লক্ষীপুর জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চর:
- চর আলেকজান্ডার,
- চর গজারিয়া,
- তেলিয়ার চর,
- চরশাহী,
- চর আবদুল্যাহ,
- চর আবাবিল ইত্যাদি।

• নোয়াখালী জেলার কয়েকটি চর:
- ভাসানচর,
- সুবর্ণ চর,  
- চর মটুয়া,
- চর জববর, 
- চর ওয়াপদা, 
- চরজুবলী ইত্যাদি।

• কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চল:
 - চর রাজিবপুর।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ওয়েবসাইট।
৬৯৯.
নিচের কোন জেলায় শালবনের বিস্তৃতি রয়েছে?
  1. নেত্রকোনা
  2. গোপালগঞ্জ
  3. গাজীপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। শীতকালে এই বনভূমির গাছের পাতা ঝড়ে যায়। শালবনের প্রধান বৃক্ষ শাল বা গজারি।

গাজীপুর জেলার ভাওয়াল গড়, টাঙ্গাইলের জেলার মধুপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, দিনাজপুর, রংপুর, নওগা, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা জুড়ে শালবন বিস্তৃত। শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২০ লক্ষ হেক্টর।

(তথ্যসূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৭০০.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে বাতিঘর আছে?
  1. ক) নিঝুম
  2. খ) হাতিয়া
  3. গ) কুতুবদিয়া
  4. ঘ) সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

কুতুবদিয়া বাতিঘর

১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে চট্টগ্রাম নৌবন্দর গড়ে তোলে। প্রাথমিকভাবে দুটি অস্থায়ী জেটি তৈরি করা হয়েছিল। এরও বহ আগে থেকে চট্টগ্রামে জাহাজ চলাচল করতো। এই কারণে ব্রিটিশদের চট্টগ্রাম নৌবন্দর উন্নয়নের বেশ আগে থেকে কুতুবদিয়ায় বাতি ঘর তৈরি করা হয়েছিল।

বর্তমান বাতিঘর
১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে কর্ণফুলি নদীর মোহনার ৪০ মাইল দূরে কুতুবদিয়াতে এই বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। ক্যাপ্টেন হেয়ার-এর পরিচালনায় এবং ইঞ্জিনিয়র জে,এইচ,টুগুড -এর নকশায় এই বাতিঘর নির্মাণ করা হয়। ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে এই বাতিঘরটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সেই সময়ে এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৪৪২৮ টাকা।
পাকিস্তান আমলে এই টাওয়ারটি নতুন করে নির্মাণ করা লৌহ কাঠামোর উপর। এই টাওয়ারের প্রাচীন আলোক-উৎপাদন প্রক্রিয়া বাতিল করে আধুনিক পদ্ধতি চালু করা হয়। পরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাকিস্তান আমলেই এই বাতিঘরটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। পরে ক্রমাগত সমুদ্রের ভাঙ্গনের মুখে এই বাতিঘরটি বিলীন হয়ে যায়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে একটি নতুন বাতিঘর নির্মিত হয়েছে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে। এই বাতিঘরটি তৈরি করা হয়েছে ইস্পাতের কৌণিক দণ্ড ব্যবহার করে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ঘূর্ণিঝড়ে একমাত্র ওয়্যারলেস যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে।

বর্তমানে ডিজেল চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে ১৫টি ব্যাটারিতে চার্জ করা হয়। এবং ওই ব্যাটারির মাধ্যমে বাতিঘরে আলো জ্বালনো হয়।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন