বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন৮৯৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৮৯৯

৪০১.
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে কোন উপাদানের প্রাধান্য বেশি?
  1. অক্সিজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. সিলিকন
  4. আয়রন
ব্যাখ্যা

অশ্মমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ কি.মি. গভীর পর্যন্ত কঠিন স্তরটিকে অশ্মমন্ডল বলা হয়।
- অশ্মমন্ডলের সর্বাপেক্ষা বাইরের স্তর অর্থাৎ যে স্তরটির উপর আমরা বসবাস করি, তাকে ভূ-ত্বক বলা হয়।
- ভূ-ত্বকের গড় পুরুত্ব ২০ কিলোমিটার, মহাদেশীয় ভূ-ত্বক গড়ে ৩৫ কি.মি. এবং মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক গড়ে মাত্র ৫ কি.মি. পুরু।
- মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AL) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়।
- অপরদিকে, মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Ma) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০২.
'দেখার হাওর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. ফরিদপুর
  4. শরীয়তপুর 
ব্যাখ্যা

দেখার হাওর:
- দেখার হাওর' সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

- সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম হাওর 'দেখার হাওর'।
- দেখার হাওরকে বলা হয় বোরো ভান্ডার।
- সম্প্রতি, দেখার হাওরের ১২৫ একর জমি ভরাট করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।]

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

৪০৩.
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস একত্রে শতকরা কতভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে?
  1. ক) ৯০.৭১ শতাংশ
  2. খ) ৯৩.৯৮ শতাংশ
  3. গ) ৯৭.৭৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৯৮.৭৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকারের গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের নাম নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই দুটি গ্যাস একত্রে মিলে বায়ুমন্ডলের ৯৮.৭৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে এবং বাকি ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান। এই ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকা গ্যাসীয় উপাদানগুলো হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেমন- ওজোন, জেনন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্রিপটন, হিলিয়াম, নিয়ন ইত্যাদি। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪০৪.
বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. মেসোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল: 
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫০ সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৫.
পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি প্রাপ্ত ধাতু হলো-
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. পারদ
  3. তামা 
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা

অ্যালুমিনিয়াম: 
- অ্যালুমিনিয়াম (প্রতীক: Al) একটি হালকা, রুপালি সাদা রঙের ধাতু, যা পর্যায় সারণীর ১৩ নম্বর গ্রুপে (বোরন গ্রুপ) অন্তর্ভুক্ত।
- এটি পৃথিবীর ভূত্বকের সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- যা ভূত্বকের ওজনের প্রায় ৮.১%- ৮.২%।
- ব্যবহৃত অ-আয়রন ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- আবিষ্কার: ১৮২৫ সালে ডেনিশ পদার্থবিদ হ্যান্স খ্রিস্টিয়ান ওর্স্টেড অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডকে পটাশিয়াম অ্যামালগাম দিয়ে রিডিউস করে অশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম আলাদা করেন।
- ১৮২৭ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিডরিখ ওয়োলার পটাশিয়াম ব্যবহার করে অ্যালুমিনিয়াম পাউডার এবং ছোট গোলক তৈরি করেন।
- ১৮০৯ সালে ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার হামফ্রি ডেভি ফিউজড অ্যালুমিনা ইলেকট্রোলাইসিস করে আয়রন-অ্যালুমিনিয়াম মিশ্রধাতু তৈরি করেন এবং এটিকে "অ্যালুমিনিয়াম" নাম দেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৪০৬.
'শেখ হাসিনা ধরলা সেতু' কোন কোন জেলার সেতুবন্ধন করেছে?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ_মানিকগঞ্জ
  2. খ) টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
  3. গ) কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি - বন্দরবান
ব্যাখ্যা
'শেখ হাসিনা ধরলা সেতু' কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট জেলার সেতুবন্ধন করেছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৪০৭.
'ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?  
  1. অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
  2. বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা

১. আগ্নেয় শিলা:
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়।
- এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

২. পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে। উদাহরণ: চুনাপাথর, বেলেপাথর, কয়লা, শেল, কাদাপাথর ইত্যাদি।

৩. রূপান্তরিত শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪০৮.
ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল 'রিং অফ ফায়ার' কোন মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে আছে?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire):
- রিং অফ ফায়ার হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে থাকা অশ্বখুরাকৃতি ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল। 
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার (২৪,৯০০ মাইল)।
- পুরো অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকায় একে “রিং অফ ফায়ার” বলা হয়।
- এই অঞ্চল দ্বীপমালার সারি যেমন টোঙ্গা ও নিউ হেব্রিডিস, ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন, জাপান, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ও আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, এবং আর্ক-আকৃতির ভূ-আকৃতি যেমন উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ও আন্দেস পর্বতমালা অনুসরণ করে বিস্তৃত। 

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প, সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় সবকটি এবং বিশ্বের প্রায় ৭৫% সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই অঞ্চলে ঘটে। 
- ১৮০০ সালের পর থেকে রিং অফ ফায়ারের ভেতরে সংঘটিত প্রধান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের মধ্যে রয়েছে মাউন্ট টাম্বোরা (১৮১৫), ক্রাকাতোয়া (১৮৮৩), নোভারুপটা (১৯১২), মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স (১৯৮০), মাউন্ট রুইজ (১৯৮৫) ও মাউন্ট পিনাতুবো (১৯৯১)। 
- এছাড়া এই অঞ্চলে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চিলি ভূমিকম্প (১৯৬০, ২০১০), আলাস্কা ভূমিকম্প (১৯৬৪), জাপান ভূমিকম্প (২০১১) এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্প।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪০৯.
কোন কোন জেলা নিয়ে সুন্দরবনের বিস্তৃতি?
  1. ক) সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
  2. খ) বরগুনা, খুলনা ও সাতক্ষীরা
  3. গ) বাগেরহাট,বরগুনা ও খুলনা
  4. ঘ) সাতক্ষীরা, খুলনা ও পটুয়াখালি
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ বা ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে। সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি এবং বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৪১০.
'ভাওয়ালের গড়' অবস্থিত কোন জেলায়? 
  1. গাজীপুর 
  2. রাজশাহী
  3. নীলফামারী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
 - টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

• বরেন্দ্রভূমি:
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১১.
রকি, আল্পস ও আন্দিজ  ______ পর্বত।
  1. ল্যাকোলিথ
  2. ক্ষয়জাত
  3. ভঙ্গিল
  4. আগ্নেয়
ব্যাখ্যা
• পর্বত :
- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০মিটারের বেশি উঁচু, সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে যায়।

পর্বতের প্রকৃতির ভিত্তিতে প্রধান গঠন ও উৎপত্তি:
পর্বত প্রধানত ৪ প্রকার, যা হলো:
 - ভঙ্গিল পর্বত,
 - আগ্নেয় পর্বত,
 - চ্যুতি-স্তুপ পর্বত, ও
 - ল্যাকোলিথ পর্বত।

• ভঙ্গিল পর্বত:
 - ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
 - এটি কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে এবং এ প্রকার পর্বত গঠিত হয়।
 - ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভাঁজ বা ভঙ্গ।
 - পৃথিবীর উচ্চতম অধিকাংশ পর্বত এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
 -  উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১২.
কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের আর একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটন অনুকূল সমুদ্র সৈকত-
  1. ক) নোয়াখালীর ছাগলনাইয়া
  2. খ) চট্টগ্রামের বাঁশখালি
  3. গ) খুলনার মংলা
  4. ঘ) পটুয়াখালীর কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
উৎসঃ পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট।
৪১৩.
সবচেয়ে বেশি রাবার বাগান রয়েছে কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) টাংগাইল-শেরপুর
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৯ সালে  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং এদেশের জলবায়ু ও মাটি রাবার চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী তাই বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ করার সুপারিশ করে।
- ১৯৬১ সালে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পার্বত্য এলাকায় রাবার চাষ শুরু করা হয়।
- বনবিভাগ ১৯৬০ সালে ২৮৭ হেক্টর জমিতে রাবার চাষের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের রামুতে ৩০ একর এবং চট্টগ্রামের রাউজানে ১০ একর মোট ৪০ একর বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে এদেশে রাবার চাষের যাত্রা শুরু হয়।

- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রাবার বাগান আছে চট্টগ্রাম জোনে।
- এই অঞ্চলে রাবার বাগানের সংখ্যা ৮ টি। 
- সিলেট জোন (৪টি বাগান
- টাংগাইল-শেরপুর জোন (৫টি বাগান)

- বর্তমানে বিএফআইডিসির ১৮ টি বাগানে ৩,৮৬,০০০ টি রাবার গাছের মধ্যে ২ লক্ষাধিক গাছ উৎপাদনশীল।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ রাবার বোর্ড এবং সমকাল।
৪১৪.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোন খাল?
  1. ক) গ্র্যান্ড খাল
  2. খ) পানামা খাল
  3. গ)  সুয়েজ খাল
  4. ঘ) গোটা খাল
ব্যাখ্যা
• পানামা খাল:
- আটালান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- পানামা খালটির নির্মাণ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল এবং ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
- ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।

সূত্র- ব্রিটানিকা।
৪১৫.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরটি ভূ-ত্বকের সবচেয়ে নিচে অবস্থিত?
  1. ক) মেসোমন্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) এক্সোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
• এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
• ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
• ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
• ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৪১৬.
'আল্পস' কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয়
  2. চ্যুতি-স্তূপ
  3. উত্থিত ক্ষয়জাত
  4. ভঙ্গিল
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountain):
- ভূ-পৃষ্ঠের অতি উচ্চ, সুবিস্তৃত এবং খাড়া ঢাল বিশিষ্ট শিলাস্তুপকে পর্বত বলে।
- পর্বত সাধারণত ৬০০ মিটারের বেশি উচ্চতা সম্পন্ন হয়।
- তবে পর্বতের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- পর্বত গঠনের প্রক্রিয়াকে ওরোজেনেসিস (Orogenesis) বলে।
- পৃথিবীর প্রতিটি পর্বত দেখতে বাহ্যিকভাবে স্বতন্ত্র হলেও উৎপত্তিগত ও গঠন প্রকৃতির দিক দিয়ে এদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা-
ক. ভঙ্গিল পর্বত,
খ. আগ্নেয় পর্বত,
গ. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং,
ঘ. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত।

উল্লেখ্য,
⇒ ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪১৭.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত সাধারণত কোথায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে?
  1. ক) বায়ুতুল মোকাররম -ঢাকা
  2. খ) শাহ মখদুম মসজিদ -রাজশাহী
  3. গ) জাতীয় ঈদগাহ্ -ঢাকা
  4. ঘ) শোলাকিয়া -কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
শোলাকিয়া ঈদ জামাত
- বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর    উত্তর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঐতিহ্যবাহী এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট
৪১৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় রেলপথ নেই?
  1. ক) মাদারিপুর
  2. খ) ভৈরববাজার
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মাদারীপুর জেলায় রেলপথ নেই
এছাড়াও, আরও যেসব অঞ্ছলে কোন রেলপথ নেই - 
   - খাগড়াছড়ি
   - রাঙামাটি
   - বান্দরবান
   - বরিশাল
  - পটুয়াখালী
  - শরীয়তপুর
  - মেহেরপুর
  - কক্সবাজার 
  - লক্ষ্মীপুর

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম - দশম শ্রেণি)
৪১৯.
উত্তর গোলার্ধের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ক) জুলাই
  2. খ) এপ্রিল
  3. গ) মার্চ
  4. ঘ) ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- উত্তর গোলার্ধে উষ্ণতম মাস - জুলাই
- উত্তর গোলার্ধে শীতলতম মাস - জানুয়ারী
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস - জানুয়ারী
- দক্ষিণ গোলার্ধে শীতলতম মাস - জুলাই

অতিরিক্ত:
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত সূর্যের উত্তর গোলার্ধে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সূর্য রশ্মি খাড়াভাবে পতিত হয়। ফলে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই সময়কালকে গ্রীষ্মকাল বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস, বাংলাপিডিয়া & নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বই ।
৪২০.
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) হাতিয়া
ব্যাখ্যা
পতেঙ্গা চট্টগ্রাম শহরের ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি সমূদ্র সৈকত। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামে অবস্থিত। গুলিয়াখালি, পারকি সমুদ্র সৈকতও চট্টগ্রামে অবস্থিত। আর ইনানী, লাবনী, হিমছড়ি, টেকনাফ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে অবস্থিত। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। নিঝুমদ্বীপ নোয়াখালীতে অবস্থিত। উৎস: parjatan.gov.bd
৪২১.
বরেন্দ্রভূমির আয়তন কত?
  1. ১০,৩২০ বর্গকিলোমিটার
  2. ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার
  3. ৮,৯০৩ বর্গকিলোমিটার
  4. ৭,৯০৩ বর্গকিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
‘প্যারা বন’ নামে কোন ধরণের বন পরিচিত?
  1. চিরহরিৎ বন
  2. পাতাঝরা বন
  3. উপকূলীয় বন
  4. বাঁশঝাড় বন
ব্যাখ্যা

• উপকূলীয় বনায়ন:
- অবস্থান: নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা। উপকূলীয় এলাকায় জেগে উঠা চর ভূমিতে ১৯৬৫ সাল থেকে এ বন সৃষ্টি করা হচ্ছে।
- এ বনকে প্যারা বনও বলা হয়।
- এ বন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা হতে উপকূলীয় এলাকার জান-মাল রক্ষা করে।
- পরিমাণ: প্রায় ১,৯৬,০০০ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ১.৩৬% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ১২.৫০%।
- উদ্ভিদ প্রজাতি: কেওড়া, ছৈলা, বাইন, গোলপাতা ইত্যাদি। প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের মত এ বন জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়।
- বন্যপ্রাণী: হরিণ, মেছোবাঘ, শিয়াল ইত্যাদি।
- বনের পাখি: কালালেজ জৌরালী, দেশি গাঙচষা, কালামাথা কাস্তেচরা, খয়রাপাখ মাছরাঙা ইত্যাদি।
- মাছ: এ বন উপকূলীয় মৎস্য ভান্ডারেরও একটি বিরাট উৎস। ভেটকি, পারসে, গলদা, বাগদা ইত্যাদি।

 তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। Link

৪২৩.
কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কোন ভূতাত্ত্বিক যুগের?
  1. ক) টারশিয়ারি যুগের
  2. খ) প্লাইস্টোসিন যুগের
  3. গ) ক্রিটেশাস যুগের
  4. ঘ) সাম্প্রতিককালের
ব্যাখ্যা

আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
এই অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টির বিস্তৃতি।
এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি

৪২৪.
সুন্দরবনের আয়তন বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের কত শতাংশ?
  1. ৩.৯%
  2. ৪.২%
  3. ৪.৬%
  4. ৫.৪%
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা দেশের আয়তনের ৪.২%, সমগ্র বনভূমির প্রায় ৪৪% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৩৮.১২%, এর মধ্যে ৬৯% স্থলভাগ ও ৩১% জলভাগ।
- এর অন্য নাম বাদাবন।

⇒ সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- তন্মধ্যে খুলনা জেলাস্থ সুন্দরবনের আয়তন ২০৭২.২৪ বর্গ কিলোমিটার।

⇒ ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ইউনেস্কো ৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে ৭৯৮তম 'World Heritage site' বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

৪২৫.
বাংলাদেশে জি-কে প্রকল্প একটি-
  1. জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
  2. নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
  3. জল পরিবহন প্রকল্প
  4. সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
জি. কে. প্রকল্প:
- বাংলাদেশের প্রথম 'সেচ প্রকল্প' গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প।
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- প্রকল্পের আওতায় সেচযোগ্য এলাকা রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১০৭ হেক্টর।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করা।
- প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে শস্যের অধিক ফলন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ছিল অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৫১ সালে প্রাথমিক জরিপের পর ১৯৫৪ সালে জি-কে সেচ প্রকল্প অনুমোদন পায়।
- চালু হয় ১৯৬২-৬৩ সালে।
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তম যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার খরিপ মৌসুমে অর্থাৎ রোপা আমন মৌসুমে সেচ প্রদান করা হয়ে থাকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৪২৬.
পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান থাকে -
  1. ২১ মার্চ ও ২২ ডিসেম্বর
  2. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• দিন-রাত্রি সমান:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৭.
সমভূমি থেকে মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এর গড় উচ্চতা কত?
  1. প্রায় ৬ মিটার
  2. প্রায় ১২ মিটার
  3. প্রায় ২১ মিটার
  4. প্রায় ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৮.
বাংলাদেশের কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. রাজশাহী
  2. পাবনা
  3. দিনাজপুর
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
চীনামাটি:
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের  কর্দম; প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪২৯.
নিচের কোন প্রক্রিয়া রূপান্তরিত শিলা গঠনে সাহায্য করে?
  1. ভূ-আন্দোলন
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. উপরোক্ত সব
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।

যেমন:
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য:
- তাপ ও চাপে আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তন হয়ে রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয় বলে উহা সাধারণত কেলাসিত।
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয় বলে এর কাঠিন্যতা বৃদ্ধি পায়। ফলে অন্যান্য শিলার তুলনায় রূপান্তরিত শিলা বেশি শক্ত ও মজবুত হয়।
- ইহা জীবাশ্মবিহীন শিলা। পাললিক শিলা অতিরিক্ত তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হবার সময় উহার মধ্যকার জীীশ্মগুলির অস্তিত্ব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিলুপ্ত হয়।
- সমান্তরাল গঠন এই শিলার একটি বৈশিষ্ট্য। কারণ ইহার উপাদানগুলি সাধারণত সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। এই সমান্তরাল অবস্থান আনুভূমিক, তির্যক বা বক্র যে কোন ভাবেই হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৪৩০.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ নয়? 
  1. গ্রাফাইট
  2. গ্রানাইট 
  3. কোয়ার্টজাইট 
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

- গ্রানাইট রূপান্তরিত শিলা নয়। এটি আগ্নেয় শিলার অন্তর্ভুক্ত। 
- অন্যদিকে, গ্রাফাইট, কোয়ার্টজাইট, মার্বেল রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ। 

• রূপান্তরিত শিলা:

- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

• রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

• আগ্নেয় শিলা: 
- পৃথিবীর সৃষ্টির আদি পর্যায়ের উত্তপ্ত অবস্থা ক্রমান্বয়ে তরল ও কঠিন আকার ধারণ করে যে শিলা গঠিত হয়েছে তা আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত।
বিভিন্ন আগ্নেয় শিলার মধ্যে রয়েছে:
- ব্যাসল্ট
- গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ডলোরাইট
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল
- রায়োলাইট
- অ্যান্ডিসাইট প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী। 

৪৩১.
সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় -
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের সমুদ্রবক্ষে একমাত্র উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশেষ ও পরিত্যক্ত হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর।
- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করে।
- ২০০৭-০৮ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদনে ধস নামে।

উল্লেখ্য,
-  পেট্রোবাংলার এমআইএস রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৪৮৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়।

উৎস: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
৪৩২.
রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ হচ্ছে -
  1. চুনাপাথর
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. বেলেপাথর
  4. গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
- কোয়ার্টজাইট রূপান্তরিত শিলা। 

• রূপান্তরিত শিলা:

- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।

উল্লেখ্য
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ। যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান - হবিগঞ্জ।
- এর আয়তন - ২৪২.৯১ হেক্টর।

অন্যদিকে, 
- খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান - সিলেট।
- বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান - চট্টগ্রাম।
- কাদিগর জাতীয় উদ্যান - ময়মনসিংহ।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর।  
৪৩৪.
আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছাড়ি জেলায়
  2. খ) রাঙ্গামাটি জেলায়
  3. গ) বান্দরবান জেলায়
  4. ঘ) কক্সবাজার জেলায়
ব্যাখ্যা

আলুটিলা গুহা বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক গুহা।
- খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার মূল শহর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্র সমতল থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট আলুটিলা বা আরবারি পাহাড়ে আলুটিলা গুহা বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ অবস্থিত।
- স্থানীয়রা একে বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা। আলুটিলা খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে উঁচু পর্বত।
উৎসঃ যুগান্তর রিপোর্ট।

৪৩৫.
দুই কোরিয়া ও চীনের মধ্যে কোন সাগর অবস্থিত?
  1. কারা সাগর
  2. ব্যারেন্ট সাগর
  3. নরওয়েজিয়ান সাগর
  4. পীত সাগর
ব্যাখ্যা

পীত সাগর:
- পীত সাগর (Yellow Sea) পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক সাগর।
- এটি চীনের মূল ভূখণ্ড ও কোরীয় উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত।
- এটি মূলত বোহাই উপসাগরসহ পূর্ব চীন সাগরের উত্তরাংশ নিয়ে গঠিত।
- গোবি মরুভূমি থেকে উড়ে আসা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও পলিমাটি সাগরের পানিতে মিশে পানিকে হলুদাভ রঙ প্রদান করে—এ কারণেই এর নাম হয়েছে “পীত সাগর”।
- ভূ-অবস্থান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চল।
--------------------------------------- 
অন্যদিকে,
- রাশিয়ার উত্তর পূর্বে রাশিয়ান নোভাইয়া জিমলিয়া দ্বীপপুঞ্জের পূর্বে কারা সাগর অবস্থিত।
- নোভাইয়া জিমলিয়া দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম থেকে নরওয়ে পর্যন্ত ব্যারেন্ট সাগর অবস্থিত।
- নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের মাঝে নরওয়েজিয়ান সাগর অবস্থিত। 

উৎস: Britannica. 

৪৩৬.
পৃথিবীর বৃহত্তম আগ্নেয় দ্বীপ কোনটি? 
  1. কৃষ্ণ দ্বীপ
  2. সুমাত্রা দ্বীপ
  3. জাভা দ্বীপ
  4. আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি
- ভূ-ত্বকের শিলাস্তর সর্বত্র একইরকম না হওয়ায় শিলাস্তরের দুর্বল অংশ ভূ-গর্ভের চাপে ফেটে ভূ-গর্ভ হতে ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত বিশাল নলাকৃতির ছিদ্রপথের সৃষ্টি হয়।
- এই ছিদ্রপথে গলিত ম্যাগমা, উত্তপ্ত প্রস্তর খন্ড, কর্দম, ধুম, ভস্ম, গলিত ধাতব পদার্থ ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-পৃষ্ঠে নির্গত হয়ে সুরঙ্গপথের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে একে অগ্ন্যুৎপাত বলে।

আগ্নেয় দ্বীপ:
- সমুদ্র তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত লাভা সঞ্চিত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি করে।
যেমন- আইসল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম আগ্নেয় দ্বীপ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও Guinnessworldrecords ।
৪৩৭.
মসজিদের শহর বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) রিয়াদ
  2. খ) জাকার্তা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) ইস্তানবুল
ব্যাখ্যা
ঢাকাকে মসজিদের শহর বলা হয়। তবে সম্প্রতি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে বাগেরহাটকে মসজিদের শহর বলে আখ্যায়িত করেছে।
৪৩৮.
ভূ-ত্বকের নিচের দিক থেকে প্রতি কি.মি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় কত?
  1. ক) ২৫° সেলসিয়াস
  2. খ) ২০° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• অশ্মমন্ডল (Lithosphere):
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত প্রথম স্তরকে অশ্মমন্ডল বলে।
- ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায় যে, এ স্তরটি মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম উপাদান দিয়ে গঠিত যা সিয়াল ((Sial) নামে পরিচিত।
- ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- অশ্বমন্ডলের নিচে গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল নামে আরো দুটি প্রধান স্তর রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৯.
শাল বৃক্ষের জন্যে বিখ্যাত বনভূমি- 
  1. পার্বত্য চট্রগ্রাম বনাঞ্চাল
  2. মধুপুর বনাঞ্চাল
  3. সুন্দরবন বনাঞ্চাল
  4. উপকূলীয় বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
• মধুপুর বনাঞ্চাল:
 -বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনাঞ্চল মধুপুর বনাঞ্চাল।
- মধুপুর বনাঞ্চাল  টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহয়ে অবস্থিত।
- এটি বন বিভাগের অধীনে আসে ১৯৬২ সালে।
 - ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনের আওতায় মধুপুর বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় ১৯৮২ সালে।
- মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বংশী নদী।
- মধুপুর বনাঞ্চাল মধুপুর গড় বা শালবন নামে পরিচিত।
- এ জাতীয় উদ্যান উল্লেখযোগ্য গাছপালায় হল- শাল, বহেড়া, আমলকী, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বত্থ, বট, সর্পগন্ধা, শতমূলী, জায়না, বিধা, হাড়গোজা, বেহুলা ইত্যাদি। 

উৎস:  মধুপুর উপজেলা।
৪৪০.
The most abundant element in the earth's crust is -
  1. ক) Nitrogen
  2. খ) Silicon
  3. গ) Hydrogen
  4. ঘ) Oxygen
ব্যাখ্যা
ভূত্বক:
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।

- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ - ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ - ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ - ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ - ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ - ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ - ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ - ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ - ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪১.
একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে -
  1. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  2. ৪৫০ নটিক্যাল মাইল
  3. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩০০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
UNCLOS:
- UNCLOS-এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention on the Law of the Sea.
- UNCLOS জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিষয়ক আইন।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৮২ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মৎস্য শিকার, নৌচলাচল, মহীসােপান, গভীর সমুদ্রতল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমুদ্র দূষণের মত বিষয়গুলাে এ চুক্তির মূল বিষয়।
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৪৪২.
'​দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ' কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত ছিল?
  1. মেঘনা
  2. কর্ণফুলী
  3. হাড়িয়াভাঙ্গা
  4. নাফ
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলে, হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। 
​- এটি ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহীসোপানে জেগে ওঠে। দ্বীপটি গঙ্গা-পদ্মা নদীপ্রণালীর পলল অবক্ষেপণের ফলে গঠিত হয় এবং এর অবস্থান ছিল বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড তালপট্টির দক্ষিণে।
​- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিভাজক হিসেবে কাজ করে, এবং নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতির (Thalweg Doctrine) ভিত্তিতে দ্বীপটির অধিকারের প্রশ্ন ওঠে। 
​- বাংলাদেশ দ্বীপটিকে “দক্ষিণ তালপট্টি” নামে অভিহিত করে, আর ভারত একে “নিউমুর দ্বীপ” বলে দাবি করে। দ্বীপটি ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আশপাশে তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ছিল।
​- ২০১০ সালের পর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্বীপটি সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়। এই দ্বীপটি বাংলাদেশ-ভারতের সামুদ্রিক সীমা বিরোধের কারণ ছিলো।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৪৪৩.
নিচের কোন স্থানের ভৌগোলিক উপনাম 'বারো আউলিয়ার দেশ?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) বগুড়া
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বারো আউলিয়ার দেশ’ হিসাবে পরিচিত - চট্টগ্রাম; ৩৬০ আউলিয়ার দেশ’ হিসাবে পরিচিত - সিলেট।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৪৪৪.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. চুনাপাথর
  2. ব্যাসল্ট
  3. গ্রানাইট
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

অন্যদিকে -
- আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট।
- রূপান্তরিত শিলা: মার্বেল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৪৫.
অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা

মালভূমি (Plateaus):
- পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
- মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। পৃ
- অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন ধরনের। যথা-
(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau) ও
(গ) মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau)।

(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি:
- এই মালভূমিপর্বতবেষ্টিত থাকে।
- তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি, যার উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত এবং পূর্ব-পশ্চিমেও পর্বত ঘিরে আছে।
- দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো এবং এশিয়ার মঙ্গোলিয়া ও তারিম এ ধরনের মালভূমি (চিত্র ৪.১৮)।

(খ) পাদদেশীয় মালভূমি:
-উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এর পাদদেশে তলানি জমে যে মালভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া পাদদেশীয় মালভূমি।

(গ) মহাদেশীয় মালভূমি:
- সাগর বা নিম্নভূমি পরিবেষ্টিত বিস্তীর্ণ উচ্চভূমিকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির সঙ্গে পর্বতের কোনো সংযোগ থাকে না।
- স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, গ্রিনল্যান্ড, এন্টার্কটিকা এবং ভারতীয় উপদ্বীপ এর অন্যতম উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৬.
কোনটি কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশ নয়?
  1. ক) জর্ডান
  2. খ) ইউক্রেন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) জর্জিয়া
ব্যাখ্যা
• Black Sea /কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশ মোট ৬ টি।
• দেশগুলো হলোঃ
- রাশিয়া,
- জর্জিয়া,
- তুরস্ক,
- বুলগেরিয়া,
- রোমানিয়া এবং
- ইউক্রেন।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৪৪৭.
বাংলাদেশের কমপক্ষে কত ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার?
  1. ১৫ ভাগ
  2. ১৭ ভাগ
  3. ২০ ভাগ
  4. ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
বনজ সম্পদ:
- বনভূমি ও বনজ সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
- প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো রাখার জন্য যেকোনো দেশের কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার।
- কিন্তু বাংলাদেশের মোট বনভূমি মোট ভূখণ্ডের প্রায় শতকরা ১৭.৬২ ভাগ যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।
- যেমন আমেরিকায় শতকরা ৩৩.৮৪ ভাগ, জাপানে শতকরা ৬৭ ভাগ, বার্মায় শতকরা ৬৩ ভাগ এবং ভারতে শতকরা ২৩.৭০ ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে।

উৎস: অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৪৮.
দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমির নাম কী?
  1. ভেল্ডস
  2. প্রেইরি
  3. ভেন্ডিকো
  4. সাভানা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমি:
- ভেল্ডস দক্ষিণ আফ্রিকার চারণভূমি এবং কৃষিজমির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ভেলড বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন:  উঁচু মাঠ,  মাঝারি মাঠ, নিচু মাঠ, কাঁটাঝোপ ইত্যাদি।
- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা শীতকাল এবং নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত গরম বা খুব গরম গ্রীষ্মকাল দেখা যায়।

অন্যদিকে,
- উত্তর আমেরিকার তৃণভূমিকে প্রেইরি বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৪৪৯.
নিম্নের কোন জেলায় চুনাপাথরের মজুদ রয়েছে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. জয়পুরহাট
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর:
- ১৯৬১ সালে গন্ডোয়ানা কোল অনুসন্ধানের সময় জয়পুরহাটে চুনাপাথরের খনির অনুসন্ধান মেলে।
- দেশের খনিজ সম্পদের জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ৬০ বছর আগে খোঁজ পাওয়া সেই খনির চুনাপাথর অত্যন্ত উঁচুমানের।
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখান থেকে চুনাপাথর উত্তোলন সম্ভব।
- ভারতসহ অনেক দেশই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক গভীরের খনি থেকে চুনাপাথর তুলছে। কিন্তু অর্থায়নের উৎস না পাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা ও ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জের কারণে খনি থেকে চুনাপাথর উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
- তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের খনিতে ৫১৮ থেকে ৫৪৯ মিটার গভীরতায় ১৫ মিটার গড় পুরুত্বের চুনাপাথর মজুদ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৫০.
মার্বেল কোন ধরনের শীলা? 
  1. আন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. মিশ্র শীলা 
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা

- মার্বেল রূপান্তরিত শিলা।

রূপান্তরিত শিলা:

- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয়।
- এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:

- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

অন্যদিকে,

• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: 
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫১.
ভূ-পৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ভূমিকম্প
  2. সুনামি
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:

আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- ভূ-গর্ভস্থ গলিত ম্যাগমাসমূহ ভূ-গর্ভে তাপ ও চাপের তারতম্য এবং অন্যান্য ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তির প্রভাবে প্রচন্ড আলোড়িত হয়।
- এইরূপ আকস্মিক আলোড়নের ফলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-কম্পন, ভূ-অভ্যন্তরে সংকোচন ও প্রসারণ ইত্যাদি নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। 
- ফলে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, স্বল্প সময়ের জন্য, অপেক্ষাকৃত স্বল্প বিস্তৃত স্থান জুড়ে যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া বলা হয়। 
- অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি আকস্মিক পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়া।

ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘ সময় জুড়ে ভূমিরূপের যে পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে ধীর পরিবর্তন বলা হয়। 
- যেমন: পর্বত, সমভূমি, ব-দ্বীপ ইত্যাদি দীর্ঘ সময় ব্যাপী বিশাল অঞ্চল জুড়ে সৃষ্টি হয়। 
- ধীর পরিবর্তন মূলত: দুইভাবে কাজ করে। যেমন: (ক) নগ্নীভবন ও (খ) অবক্ষেপন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫২.
বাংলাদেশের প্লাবন সমভূমিগুলো কোন যুগের?
  1. ক) টারশিয়ারি
  2. খ) প্রাগৈতিহাসিক
  3. গ) সাম্প্রতিক
  4. ঘ) প্লাইস্টোসিন
ব্যাখ্যা

ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ ৩ ভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলোঃ
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের চত্বর সমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত।
মধুপুর ও ভাওয়াল গড়, বরেন্দ্রভূমি এবং লালমাই পাহাড় হলো প্লাইস্টোসিনকালের চত্বর ভূমি।
এ ব্যতীত দেশের বাদবাকি অঞ্চল সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

৪৫৩.
কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে কি বলে?
  1. ক) আগ্নেয় পর্বত
  2. খ) ভঙ্গিল পর্বত
  3. গ) চ্যুতি পর্বত
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত
ব্যাখ্যা
ভঙ্গিল পর্বত : ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। উত্তর এশিয়ার হিমালয়, ইউরােপের আল্পস, আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
৪৫৪.
ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর?
  1. সর্বোচ্চ স্তর
  2. তাপীয় স্তর
  3. সর্বনিম্ন স্তর
  4. মধ্য স্তর
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere):
- এই স্তরটি বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা -সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল।
স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৫.
'সীতাকোট বিহার' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) সোনারগাঁও
  4. ঘ) পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
সীতাকোট বিহার
সীতাকোট বিহার একটি বৌদ্ধ বিহার।
• বিহারটি দিনাজপুর জেলার নওয়াবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
• প্রায় বর্গাকৃতির এ স্থাপত্যটির পরিমাপ পূর্ব-পশ্চিমে ৬৫.২৩ মি এবং উত্তর-দক্ষিণে ৬৪.১১ মি।
• বিহারটির উত্তর এবং দক্ষিণ বাহুদ্বয় বহির্দিকে প্রক্ষিপ্ত ছিল। প্রশস্ত প্রবেশদ্বারের তোরণ কমপ্লেক্সটি উত্তর বাহুর মধ্যাংশে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবনের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
  2. খ) সিলেট অঞ্চলের বনভূমি
  3. গ) উপকূলীয় বনভূমি
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনভূমিকে প্রধানত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি ও গরান বা স্রোতজ বনভূমি (সুন্দরবন) এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
- শাল জাতীয়
এক ধরনের গজারী এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ।
• পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
• উপকূলীয় অঞ্চল যেমন -  খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ বন বিভাগের ওয়েবসাইট।
৪৫৭.
আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখাটি কোন মহাসাগর বরাবর কল্পনা করা হয়?
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. ব্রুনাই
  3. ফিলিপাইন
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - মেক্সিকো।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৯.
পৃথিবীতে কয়টি দেশ আছে যারা অপর দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৩টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে তিনটি দেশ আছে যারা অপর একটি দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত। দেশগুলো হলোঃ
১. লেসোথো,
২. সানমারিনো এবং
৩. ভ্যাটিকান সিটি।
৪৬০.
কোন রেখায় দিন-রাত্রি সর্বত্র সমান থাকে?
  1. ক) নিরক্ষরেখায়
  2. খ) উত্তর গোলার্ধে
  3. গ) দক্ষিণ গোলার্ধে
  4. ঘ) মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ায় এ রেখাও বৃত্তাকার।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাবে ভাগ করেছে।
- এ রেখার উত্তরে পৃথিবীর অর্ধাংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অর্ধাংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।
- এই রেখাটির মান ০ ডিগ্রি। তাই নিরক্ষরেখায় দিন রাত সর্বত্র সমান।
- নিরক্ষরেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব স্থির করা হয়।

উৎস: ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬১.
তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে কী বলা হয়?
  1. মেসোস্ফিয়ার
  2. ওজোন স্তর
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. আয়নমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল:
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল বলা হয়।
- এটি মেসোবিরতির উপরের তাপমণ্ডলের অংশ, যেখানে তীব্র সৌর বিকিরণ বায়ুর অণু ও পরমাণুকে আঘাত করে তাদের আয়নে পরিণত করে।
- এই কারণে এই স্তরে বায়ু আয়নিত থাকে, অর্থাৎ এতে পজিটিভ ও নেগেটিভ আয়ন সৃষ্টি হয়।
- আয়নমণ্ডল মূলত তাপমণ্ডলের ৬০ কিলোমিটার থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনে সহায়তা করে বলে রেডিও যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- আয়নমণ্ডল সৌর রশ্মি ও মহাকাশীয় বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে আংশিকভাবে রক্ষা করে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬২.
ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে কোন ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. ক) অগ্ন্যুৎপাত
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) কালবৈশাখি ঝড়
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে।
• এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে। যেমন- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে। এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে।
• আবার ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়। মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ
দেখা দেয়। সুতরাং বলা যায় যে, ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগসমূহ দূষণের কারণ হিসেবে কাজ করে।   

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৬৩.
প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা পরিবর্তিত হয়ে কী তৈরি হয়?
  1. আগ্নেয় শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. অবক্ষেপিত শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা:
- প্রচণ্ড তাপ ও চাপের প্রভাবে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন ধরনের শিলায় পরিণত হয়, যা রূপান্তরিত শিলা নামে পরিচিত।
- এই শিলা আগের তুলনায় আরও কঠিন ও স্ফটিকযুক্ত হয়ে ওঠে।
- আগের গঠন ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় একে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়।
- এটি মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- ভূ-গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আগ্নেয় শিলার সঙ্গে মিলে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৮৫% তৈরি করেছে।
- ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন, মহাদেশীয় সঞ্চারণ ও প্লেট গতিবিধির তথ্য বিশ্লেষণে এই শিলা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়।
- এতে মার্বেল, শ্লেট, গার্নেটসহ বিভিন্ন মূল্যবান খনিজ পাওয়া যায়, যা বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এটি স্ফটিকযুক্ত ও ঘন কাঠামোর হয়ে থাকে।
- অত্যন্ত কঠিন এবং আগের শিলার তুলনায় শক্তিশালী হয়।
- এতে জীবাশ্ম পাওয়া যায় না, কারণ তাপ ও চাপে জীবাশ্ম নষ্ট হয়ে যায়।
- কিছু রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর বা ব্যান্ড দেখা যায়, যা চরম তাপ ও চাপের ফলে তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
- আগ্নেয় শিলা: ম্যাগমা থেকে সরাসরি সৃষ্ট শিলা, যা উত্তপ্ত হয়ে রূপান্তরিত হয় না।
- পাললিক শিলা: নদী, হ্রদ বা সমুদ্রে পলির স্তূপীকরণের মাধ্যমে তৈরি হয়, যা রূপান্তরিত শিলায় পরিবর্তিত হতে পারে
- অবক্ষেপিত শিলা: এটি পাললিক শিলার আরেক নাম, যা সাধারণত সঞ্চিত পলির স্তর থেকে তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
'হামহাম' জলপ্রপাত অবস্থিত-
  1. বান্দরবানে
  2. খাগড়াছড়িতে
  3. কক্সবাজারে
  4. মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা

- হামহাম ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৪৬৫.
বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪৬৬.
‘দেবতাখুম’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
দেবতাখুম:
- 'খুম' অর্থ হচ্ছে জলাধার।
- দেবতাখুম বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।
- দেবতাখুম মূলত তারাছা নামের একটি খালের অংশ, যার দুই পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এবং গভীর পানির পাথুরে জায়গা।
- স্থানীয়দের মতে, খুমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০-৬০০ ফুট এবং এই খুমের কিছু জায়গা প্রায় ৫০ ফুট গভীর।
- এই খুমের দুইপাশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল।
- উঁচু পাহাড়ের কারণে খুমের ভিতর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তাই খুমের যত ভিতরে যাওয়া যায় ততই শীতল মনে হয়।
- দেবতাখুম বান্দরবানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬৭.
কোন অঞ্চলে সারাবছর পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
  2. উপক্রান্তীয় অঞ্চল
  3. নিরক্ষীয় অঞ্চল
  4. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সারাবছর বৃষ্টিপাত হয়।
পরিচলন প্রক্রিয়ায় দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সরাসরি উপরে উঠে উপরের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে।

ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকেল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬৮.
কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি বেশি দেখা যায়?
  1. কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  2. উপকূলীয় অঞ্চলে
  3. বরেন্দ্র অঞ্চলে
  4. পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়। 
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

এছাড়াও,
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৯.
'গিবসন মরুভূমি' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

গিবসন মরুভূমি: 
- গিবসন মরুভূমি (Gibson Desert) অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল মরু অঞ্চল,
- যা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত।
- অবস্থান: পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত;
- লিটল স্যান্ডি মরুভূমি, গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি এবং গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি দ্বারা ঘেরা।
- আয়তন: প্রায় ১৫৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার (১৫৬,০০০ কিমি²);
- অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম মরুভূমি, যা দেশের মোট আয়তনের ২.০%।
জলবায়ু: সাধারণত গরম; গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪০°সে-এর উপরে, শীতকালে ন্যূনতম ৬°সে।
- ১৮৭৪ সালে অন্বেষণকারী অ্যালফ্রেড গিবসনের নামে নামকরণ, যিনি এই মরুভূমিতে হারিয়ে যান এবং কখনো পাওয়া যায়নি।

•বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি: 
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি: দক্ষিণ আমেরিকা (আর্জেন্টিনা)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া  মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

৪৭০.
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পটি কোন জেলাগুলোতে বিস্তৃত রয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর
  2. সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা
  4. রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প: 
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট)  গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ  সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এর মধ্যে ১,৪২,০০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
- উপজেলাগুলি হলো - কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং দৌলতপুর।
- প্রকল্পের ভৌগোলিক সীমারেখা উত্তরে গঙ্গা ও  গড়াই নদী, পূর্বে গড়াই-মধুমতি, দক্ষিণে  নবগঙ্গা এবং পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ  খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ 

উল্লেখ্য,
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- পর্ব-১ এর আওতাভুক্ত এলাকা ৮৫,০২০ হেক্টর যার মধ্যে ৪৮,৭০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- পর্ব-২ এর আওতাভুক্ত এলাকা ১,১৭,৮১৪ হেক্টর যার মধ্যে ৯৩,৩০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- প্রকল্পটির আওতায় সর্বমোট সেচযোগ্য ভূমির পরিমাণ ১,৪২,০০০ হেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৪৭১.
কোন ঘটনাটি বার্ষিক গতির ফলে ঘটে?
  1. ক) দিবারাত্রির সংগঠন
  2. খ) বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি
  3. গ) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যকে একবার পরিক্রমণকে বলে বার্ষিক গতি।

বার্ষিক গতির ফলাফলঃ
১. ঋতু পরিবর্তন,
২. দিবারাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি

• পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করাকে বলা হয় আহ্নিক গতি। আহ্নিক গতির ফলাফলঃ
১. জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি,
২. পৃথিবীতে দিবারাত্রির সংগঠন,
৩. তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
৪. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি,
৫. সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭২.
’ক্রাশেনিনিকভ’ আগ্নেয়গিরি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জাপান 
  2. রাশিয়া
  3. ইউক্রেন
  4. বেলারুশ
  5. আর্মেনিয়া 
ব্যাখ্যা
’ক্রাশেনিনিকভ’ আগ্নেয়গিরি:
- ’ক্রাশেনিনিকভ’ আগ্নেয়গিরি রাশিয়ায় অবস্থিত।
- গত ৩০ জুলাই রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে কামস্কটকা উপদ্বীপে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
- ১৯৫২ সালের পর ওই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
- ভূমিকম্পের পরপরই কামস্কটকায় সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ক্লুচেভস্কয়েতে অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- এর প্রভাবে একই অঞ্চলের ক্রাশেনিনিকভআগ্নেয়গিরিতে ৬০০ বছর পর অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
- ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির উচ্চতা ১ হাজার ৮৫৬ মিটার।
- অগ্ন্যুৎপাতের পর সেখানে সর্বোচ্চ ছয় কিলোমিটার উঁচুতে ছাই উড়তে দেখা যায়।

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]
৪৭৩.
'নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল' নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) হাইল হাওড়
  2. খ) টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. গ) নিকলি হাওর
  4. ঘ) হাকালুকি হাওর
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধরমপাশা ও তাহিরপুর উপজেলায় মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। 
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি এবং দ্বিতীয় রামসার সাইট। 
- টাঙ্গুয়ার হাওর ‘নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল’ নামে পরিচিত। 
-  এ হাওরে জীববৈচিত্র্যের মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন জাতের পাখি। 
 
উৎস: প্রথম আলো 
৪৭৪.
বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির বিস্তৃতি কোন জেলা জুড়ে?
  1. ক) সিলেট ও সুনামগঞ্জ
  2. খ) সিলেট ও মৌলভীবাজার
  3. গ) ব্রাহ্মণ বাড়িয়া ও হবিগঞ্জ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে।
- এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাওর হলো হাকালুকি হাওর।
- এটি সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত। এর আয়তন ২১,৫০০ হেক্টর৷

উৎসঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৪৭৫.
গারো পাহাড় বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড়: 
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল।
- এটি মূলত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বিস্তৃত।
- গারো পাহাড় পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত এবং তিনটি ভাগে বিভক্ত – পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ গারো পাহাড়।
- এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার এবং এটি পালিজ সমৃদ্ধ পাদদেশীয় এলাকা।
- পাহাড়টির উত্তরে আসাম, পূর্বে ভারতের মেঘালয়ের খাসি পাহাড় অবস্থিত।
- গারো পাহাড় মূলত মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসি পর্বতশ্রেণীর অংশ এবং এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য খুবই সমৃদ্ধ।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের ওয়েবসাইট।

৪৭৬.
বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) সিলেটে
  2. খ) কক্সবাজারে
  3. গ) হবিগঞ্জে
  4. ঘ) মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দুটি খনিজ তৈল ক্ষেত্র রয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি হরিপুর তেলক্ষেত্র। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে। ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।
উৎসঃ সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৪৭৭.
কোনটি পাললিক শিলার উদাহরণ নয়?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) লবণ
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) মার্বেল
ব্যাখ্যা
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা।
- এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণঃ
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণঃ
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৮.
সবচেয়ে বেশি চাল রপ্তানিকারক দেশ-
  1. ক) চীন
  2. খ) ভারত
  3. গ) পাকিস্তান
  4. ঘ) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
২০২০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে চাল রপ্তানিকারক দেশ:
১. ভারত - ৮ বিলিয়ন USD (বিশ্বের চাল রপ্তানির ৩২%)
২. থাইল্যান্ড - ৩.৭ বিলিয়ন USD 
৩. পাকিস্তান - ২.১ বিলিয়ন USD
৪. যুক্তরাষ্ট্র - ১.৯ বিলিয়ন USD
৫. ভিয়েতনাম - ১.৮ বিলিয়ন USD
৬. চীন - ০.৯১৬ বিলিয়ন USD

উৎস: ওয়ার্ল্ড এক্সপোর্টার ওয়েবসাইট
৪৭৯.
‘সাফারী পার্ক’ কি?
  1. ক) ফলের বাগান
  2. খ) খোলা উদ্যান
  3. গ) পশু পালনের স্থান
  4. ঘ) জীবজন্তুর অভয়ারণ্য
ব্যাখ্যা
• চিড়িয়াখানায় জীবজন্তুসমূহ আবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং দর্শনার্থীগণ মুক্ত অবস্থায় থেকে জীবজন্তু পরিদর্শন করেন।
- কিন্তু সাফারী পার্কে বন্যপ্রাণীসমূহ উন্মুক্ত অবস্থায় বনজঙ্গলে বিচরণ করবে এবং মানুষ সতর্কতার সহিত চলমান যানবাহনে আবদ্ধ অবস্থায় জীবজন্তুসমূহ পরিদর্শন করেন।
- তাই সাফারি পার্ককে জীবজন্তুর অভয়ারণ্য বলা হয়। 

সূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, ডেইলি স্টার। 
৪৮০.
মহাকাশে গ্রহ, নক্ষত্র, ধূলিকণা, ধূমকেতু বাষ্পকুন্ডের এক বিশাল সমাবেশকে কী বলে?
  1. গ্যালাক্সি
  2. নীহারিকা
  3. মহাজাগতিক বলয়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

গ্যালাক্সি (Galaxy):
- মহাকাশে গ্রহ, নক্ষত্র, ধূলিকণা, ধূমকেতু বাষ্পকুন্ডের এক বিশাল সমাবেশকে গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ বলে।
- মহাকাশে একশত বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে।
- এদের বিভিন্ন আকার ও আকৃতি রয়েছে, তবে এদের অধিকাংশই সর্পিলাকার বা উপবৃত্তাকার।
- সর্পিলাকার গ্যালাক্সিগুলো বৃহৎ আকৃতির এবং উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিগুলো বেশি উজ্জ্বল।
- এরা পরস্পর ব্যাপক ব্যবধানে অবস্থিত।
- কোনো একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ বলে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৮১.
নিরক্ষরেখার অপর নাম কী?
  1. ক) বিষুবরেখা
  2. খ) ২৩.৫° অক্ষরেখা
  3. গ) ০° অক্ষরেখা
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।

• নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো-
- বিষুবরেখা (Equator),
- ০° অক্ষরেখা ( ০° Latitude),
- মহাবৃত্ত (Great circle)।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮২.
কোন নদীতে বাঁধ দিয়ে পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে?
  1. মেঘনা
  2. কর্ণফুলী
  3. সাঙ্গু
  4. মাতামুহুরি
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী। কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা এবং বোয়ালখালী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১৯৬১ সনে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়।
- কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪৮৩.
নিচের কোন উপাদানটি ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮৪.
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ১২ ভাগ
  2. খ) ১৫.৮ ভাগ
  3. গ) ১৯ ভাগ
  4. ঘ) ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়।
তবে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ।
সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮৫.
The largest water falls system in the world is
  1. ক) Angel Falls
  2. খ) Havasupai Falls
  3. গ) Victoria Falls
  4. ঘ) Niagara Falls
ব্যাখ্যা
Victoria Falls is one of the largest waterfalls in the world that is situated about midway on the course of the Zambezi River along the boundary between Zambia and Zimbabwe in southern Africa.
- It is to be noted that the Victoria Falls is the world’s “largest” waterfall and not the “tallest” nor the “widest” falls. This spectacular waterfall is also considered one of the 7 natural wonders of the world.
 
Source: World atlas Website 
৪৮৬.
বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) সোনারগাঁও
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প যাদুঘর:
- সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর রাজধানী ঢাকা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ  ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরার জন্য ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার বিশাল এলাকা নিয়ে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।
- সোনারগাঁয়ের “বড়সর্দারবাড়ি” নামে পরিচিত একটি প্রাচীন জমিদার প্রাসাদে এই জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক।
তথ্যসূত্র: নারায়ণগঞ্জ জেলার ওয়েবসাইট।
৪৮৭.
বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কঠিন শিলার খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. জয়পুরহাট
  3. পঞ্চগড়
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা বলে।
- বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কঠিন শিলার খনি মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি।
- এটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত।
- এটি একটি ভূ-গর্ভস্থ খনি যা থেকে গ্রানাইট বা কঠিন শিলা উত্তোলন করা হয়।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়: ২০০৭ সালের ২৫ মে। 
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য,
- দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত মধ্যপাড়া খনির ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন তিন শিফটে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর সফলতার সাথে উত্তোলন করা যায়।
- দেশে এই কঠিন শিলা থেকে উত্তোলিতে পাথর খুবই উন্নত মানের এবং দেশের উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য মজবুত ও টেকসই।

উৎস: i) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

৪৮৮.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে বাধা পেয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. এক্সোমণ্ডল
  2. আয়নমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলে।
- এই মণ্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলে।

তাপমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
- তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় স্থির থাকে।
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৯.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর অতিক্রম করা রেখাটি কী নামে পরিচিত?
  1. ক) কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. খ) মকরক্রান্তি রেখা
  3. গ) ৯০ ডিগ্রি দক্ষিণ-পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  4. ঘ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
• সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) দেশের মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর অতিক্রম করেছে।
• রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯০.
পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট কয়টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ৬টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট আমাজন।
- এই বনাঞ্চল দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- আমাজন নদী সহ অনেক নদী বনের পাশ দিয়ে গেছে।
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

⇒ আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ৯টি দেশ: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: World Atlas.
৪৯১.
Mount Kinabalu পর্বতমালা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ভারত
  2. খ) চীন
  3. গ) মালয়েশিয়া
  4. ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা

কিনাবালু পর্বত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত একটি বিশিষ্ট পর্বত।
পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে এটির অবস্থান।
কিনাবালু বোর্নিও দ্বীপের ক্রোকার পর্বতশ্রেনীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, মালয় দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বত এবং মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ পর্বত।

৪৯২.
একটি দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৫-২০%
  2. ২০-২৫%
  3. ৩০-৩৫%
  4. ৩৫-৪০%
ব্যাখ্যা

❐ একটি দেশের মোট আয়তনের ২০-২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

বন:
- বন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
- একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের কমপক্ষে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কারণ ভূমির ক্ষয়রোধ, ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা, বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতির জন্য বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

⇒ বাংলাদেশের বনভূমিকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়; যথা- ১। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি; ২। সিলেটের বনাঞ্চল; ৩। সুন্দরবন; ৪। মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং ৫। দিনাজপুর ও রংপুরের বনভূমি।
- বাংলাদেশের বনভূমিতে যেসব বৃক্ষ দেখা যায় তার মধ্যে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গর্জন, সেগুন, চাপালিস, গামারি, শিরীষ, শাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া সুন্দরবনে গোলপাতা এবং সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে প্রচুর বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়।
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নৌকা, রেলওয়ের স্লিপার, খুঁটি প্রভৃতি তৈরিতে এসব গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়।
- বন থেকে আমরা জ্বালানি কাঠও পেয়ে থাকি। বন হতে মধু, মোম, গোলপাতা, কাঠ প্রভৃতি সংগ্রহ করে অনেক লোক জীবিকা নির্বাহ করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।

উৎস: i) অর্থনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
iii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো -
  1. এক্সোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৪.
বাংলাদেশের কোন জেলা আসামের অন্তর্গত ছিল?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

দেশভাগের পূর্বে বৃহত্তর সিলেট জেলা আসামের সাথে যুক্ত ছিলো।
কিন্তু সিলেট ছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান ইস্যুতে সিলেটে গণভোট হয়।
১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত গণভোটে সিলেটের অধিকাংশ জনগণ পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে রায় দিলে সিলেট দেশভাগের সময় পাকিস্তানে যোগ দেয়।
(সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)

৪৯৫.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে কোন উপাদান প্রায় অনুপস্থিত?
  1. মিথেন
  2. ইথেন
  3. প্রোপেন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস অধিক বিশুদ্ধ যার মধ্যে প্রায় ৯৫% থেকে ৯৯%-ই মিথেন এবং সালফার প্রায় অনুপস্থিত।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় গঠন হচ্ছে মিথেন ৯৭.৩৩ ভাগ, ইথেন ১.৭২ ভাগ, প্রোপেন ০.৩৫ ভাগ এবং অবশিষ্ট ০.১৯ ভাগে রয়েছে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনসমূহ।
- অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসই শুষ্ক, তবে অল্প কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কনডেনসেটের উপস্থিতিসহ আর্দ্র গ্যাস পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪৯৬.
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
  1. ইউরেনাস
  2. মঙ্গল
  3. শনি 
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র। এটি একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক।

উল্লেখ্য,
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা কম উজ্জ্বল যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৯৭.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. চুনাপাথর
  3. বায়ু
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
নবায়নযোগ্য সম্পদ:
- নবায়নযোগ্য সম্পদ (Renewable Energy) হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে,
⇒ অনবায়নযোগ্য সম্পদ:
- অনবায়নযোগ্য সম্পদ (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, খনিজ তেল ইত্যাদি।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
‘বেন নেভিস’ কীসের নাম বোঝায়?
  1. পর্বত
  2. সাগর
  3. মালভূমি
  4. জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা

বেন নেভিস: 
- স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড কাউন্সিল এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি গ্র্যাম্পিয়ান পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
- এর চূড়াটি প্রায় ১০০ একর (৪০ হেক্টর) আয়তনের একটি মালভূমি , যার দক্ষিণে সামান্য ঢাল এবং উত্তর-পূর্বে একটি নিছক মুখ রয়েছে।
- বেন নেভিসের চূড়ার উচ্চতার পরিমাপ বছরের পর বছর ধরে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।
- ২০১৬ সালে ব্রিটেনের ম্যাপিং সংস্থা অর্ডন্যান্স সার্ভে ১,৩৪৪.৫২৭ মিটার জরিপ করা উচ্চতা ঘোষণা করে এবং বলে যে এটি তার মানচিত্রে ১,৩৪৫ মিটার (৪,৪১৩ ফুট) ব্যবহার করবে।

তথ্যসূত্র - Britannica.

৪৯৯.
বরিশাল এর প্রাচীন নাম কি?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) শাহবাজপুর
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল। এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
[সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৫০০.
'সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) বরগুনা
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাগর তীরে অবস্থিত।
যেখানে মােট জমির পরিমান ১০৪১ একর।
পাহাড় ও সাগরের বৈচিত্রময় দৃশ্য, সুদীর্ঘ বালুকাময় সৈকত এ স্থানকে সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত করেছে ।
সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক হবে বাংলাদেশের ট্যুরিজমের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান ও বিনােদনের কাঙ্ক্ষিত স্থান।
সাবরাং ট্যুরিজম পার্কটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ট্যুরিজম খাতে এক নতুন দিগন্ত উম্মােচন হবে এবং
প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে প্রায় ৭০,০০০ লােকের কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হবে। 
উৎস : https://www.beza.gov.bd/