বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন৮৯৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ, সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৮৯৯

৩০১.
কোনো এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা হয় কোন আইনের মাধ্যমে? 
  1. পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০
  2. বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫
  3. জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭
  4. জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ :
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনটি পরে সংশোধন করা হয়, যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ নামে পরিচিত।
-  পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তর  প্রধান হবে-  একজন মহাপরিচালক৷
-  এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।
- কোনো এলাকার প্রতিবেশ ব্যবস্থা (ইকো সিস্টেম) সংকটাপন্ন হলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা সে এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করতে পারে।
- জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। 
- সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কাটা যাবে না।

তথ্যসূত্র: Laws of Bangladesh ও প্রথম আলো। 

৩০২.
বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত?
  1. ০.৩ শতাংশ
  2. ০.০৩ শতাংশ
  3. ৩ শতাংশ
  4. ০.০০৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর।
- এর গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।
- বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় এটাও উল্লেখ করেন যে এই বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- বায়ুমন্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত। সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
- বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে।
- তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ, 
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ, 
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ, 
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ, 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ০.০৩ শতাংশ, 
- অন্যান্য গ্যাস ০..০২ শতাংশ, 
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ শতাংশ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৩.
স্তেপ তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. ইউরেশিয়ান অঞ্চল
  3. পশ্চিম আফ্রিকা
  4. দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
ইউরোপের পূর্বাঞ্চল ও এশিয়ার মধ্যভাগ জুড়ে বিস্তৃত তৃণভূমি স্তেপ নামে পরিচিত। একে ইউরেশিয়ান স্তেপ বা গ্রেট স্তেপ নামেও ডাকা হয়।

রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, ইউক্রেন, মোলদাভিয়া, রাশিয়া, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, চীনের জিনজিয়াং প্রভৃতি অঞ্চলজুড়ে স্তেপ তৃণভূমি দেখা যায়।
সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাত সম্পন্ন অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

অন্যদিকে,
- উত্তর আমেরিকান তৃণভূমি : প্রেইরি
- দক্ষিণ আমেরিকার তৃণভূমি : ল্যানোস ও প্যাম্পাস।
- আফ্রিকান তৃণভূমি : সাভানা।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা)
৩০৪.
পোর্ট সৈয়দ অবস্থিত-
  1. ক) সুয়েজ খালে
  2. খ) পারস্য উপসাগরে
  3. গ) লোহিত সাগরে
  4. ঘ) কিয়েল খালে
ব্যাখ্যা
• পোর্ট সৈয়দ উত্তর -পূর্ব মিশরের বন্দর শহর।
- এটি সুয়েজ খালের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত
- শহরটি ১৮৫৯ সালে একটি নিম্ন বালুকাময় পটভূমিতে ভূমধ্যসাগরকে মনজালা (বুসায়রাত আল-মানজিলাহ) থেকে পৃথক করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩০৫.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অয়ন বায়ু
  2. খ) মৌসুমী বায়ু
  3. গ) নিয়ত বায়ু
  4. ঘ) প্রত্যয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয়- অয়ন বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৩০৬.
তিব্বত মালভূমি কোন শ্রেণির মালভূমি?
  1. ক) পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি
  2. খ) পাদদেশীয় মালভূমি
  3. গ) মহাদেশীয় মালভূমি
  4. ঘ) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
ব্যাখ্যা
• পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি:
- পর্বতের মধ্যখানে এই প্রকারের মালভূমি দেখতে পাওয়া যায়।
- এই মালভূমির উচ্চতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ মিটার হয়ে থাকে।
⇒ তিব্বত মালভূমি একটি পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি।
- এই পর্বতের উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত এবং পূর্ব-পশ্চিমের অন্যান্য পর্বত ঘিরে আছে।
- দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো এবং এশিয়ার মঙ্গোলিয়া এ ধরনের মালভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
“হাকালুকি হাওর” কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) নেত্রকোণা
  2. খ) সিলেট
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাওর হলো হাকালুকি হাওর। এটি সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত। এর আয়তন ২১,৫০০ হেক্টর৷
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরের আয়তন ১১,৭০০ হেক্টর।
মৌলভীবাজারে অবস্থিত হাইল হাওরের আয়তন ১৫,৬০০ হেক্টর।
সিলেটে সর্বাধিক ১০৫টি, কিশোরগঞ্জে ৯৭টি এবং সুনামগঞ্জে ৯৫টি হাওর রয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)

৩০৮.
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কফি উৎপন্ন হয় কোন দেশে? [ জুলাই, ২০২৫]
  1. কলম্বিয়া
  2. বলিভিয়া
  3. কিউবা
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
ব্রাজিল: 
- ব্রাজিলের মোট ভূমির ৩২.৯ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়।
- উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে কফি, সয়াবিন, গম, ধান, ভুট্টা, আখ, কোকো, সাইট্রাস ইত্যাদি।
- সাওপাওলোর প্যারাইবা উপত্যকা, রিও জাকুহী উপত্যকা, রিওগ্রান্ডে দোসুল অঞ্চলে অধিক পরিমাণে ধান উৎপাদিত হয়।
- কফি উৎপাদনে ব্রাজিল বিশ্বে প্রথম।
- কফি উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভিয়েতনাম।
- দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিশাল কফি বাগান রয়েছে। 

উৎস: USA agricultre. [Link]
৩০৯.
ভূত্বকের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. সিলিকন
  2. আয়রন
  3. অক্সিজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
• ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।

ভূত্বকের উপাদান: 
- অক্সিজেনের পরিমাণ – ৪৬.১%
- সিলিকনের পরিমাণ – ২৮.২%
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ – ৮.২%
- লোহার (আয়রন) পরিমাণ – ৫.৬%
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ – ৪.১%
- সোডিয়ামের পরিমাণ – ২.৩%
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ – ২.৩%
- পটাসিয়ামের পরিমাণ – ২.০%
- টাইটানিয়ামের পরিমাণ – ০.৫%
- হাইড্রোজেনের পরিমাণ – ০.১%
- অন্যান্য উপাদান – ০.৫%
 
সূত্র: World Economic Forum ওয়েবসাইট।
৩১০.
সিরাজগঞ্জ শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) মেঘনা
  2. খ) যমুনা
  3. গ) পাদ্মা
  4. ঘ) ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা
সিরাজগঞ্জ শহর যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।
৩১১.
দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা বর্তমান কোন জেলায় স্থাপিত হয়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত সিমেন্ট কারখানা হলো ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড
- এটি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৩৭ সালে আসাম-বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি নামে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার এটি জাতীয়করণ করে।
- ১৯৮২ সালে এটিকে বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা এর নিকট ন্যস্ত করা হয়।
- এটি একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ সিমেন্ট কারখানা।

(সূত্র: বিসিআইসি ওয়েবসাইট)
৩১২.
সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন কোনটি?
  1. লাউয়াছড়া
  2. রাতারগুল
  3. রেমা-কালেঙ্গা
  4. টেংরাগিরি বন
ব্যাখ্যা
টেংরাগিরি বন:
- টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল।
- বনটি বরগুনার তালতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বনাঞ্চলের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।
- দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্বাসমূলীয় বন স্থানীয়ভাবে ফাতরার বন নামে পরিচিত।
- পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী-দক্ষিণের এই তিন বড় নদ-নদী এখান থেকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- দেশের নদ-নদীতে সাগর থেকে উঠে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ৬০ ভাগ এখান দিয়ে আসা-যাওয়া করে।
- এই বনাঞ্চলের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দূরে গোড়াপদ্মা উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী এবং ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবস্থিত।
- বনাঞ্চল থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- মাছের প্রজনন ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে শত শত জেলে বন বিভাগকে ম্যানেজ করে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে প্রতিদিন মাছ ধরায় একদিকে দেশের বিশাল মৎস্যভান্ডার শূন্য হচ্ছে, অপর দিকে হুমকির মুখে পড়ছে শ্বাসমূলীয় এই বনাঞ্চল।

উৎস: প্রথম আলো।
৩১৩.
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) টেকনাফ উপজেলা থেকে ৯ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত
  2. খ) স্থানীয় জনসাধারণের কাছে নারিকেল জিনজিরা নামে পরিচিত
  3. গ) সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩.৬ মিটার উপরে
  4. ঘ) বাংলাদেশের সর্ব-উত্তরের ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
- সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ  বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ অংশে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে ৯ কিমি দক্ষিণে গড়ে ওঠা একটি ছোট দ্বীপ।
- মায়ানমারের উত্তর-পশ্চিম উপকূল থেকে ৮ কিমি পশ্চিমে নাফ নদীর মুখে দ্বীপটি অবস্থিত।
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান।
- স্থানীয় জনসাধারণ এটিকে নারিকেল জিনজিরা নামে চেনে।
- সর্বতোভাবে দ্বীপটি সমতল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩.৬ মিটার উপরে।
- ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া এবং এ অংশ ২,১৩৪ মিটার দীর্ঘ ও ১,৪০২ মিটার প্রশস্ত। 

- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের ইউনিয়ন বাংলাবান্ধা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ক) গঙ্গা 
  2. খ) ইয়াংসিকিয়াং
  3. গ) সিন্ধু
  4. ঘ) টাইগ্রীস
ব্যাখ্যা
এশিয়া মহাদেশ:
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং (৫,৯৮০ কিলোমিটার)।
 -
এ মহাদেশের আয়তন ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯২ বর্গকিলোমিটার।
- মহাদেশ ১০º দক্ষিণ অক্ষরেখা থেকে ৮০º  উত্তর অক্ষরেখা এবং ২৫º পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ১৭০º পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা (১৮০º পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করে আরো ১০º দ্রাঘিমারেখা) পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার)।
-এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।
-দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা গঠিত জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এ মহাদেশে অবস্থিত। এগুলোকে খন্ডিত রাষ্ট্রও বলা হয়।
-আয়তনে চীন বৃহত্তম (৯৫,৬১,০০০ বর্গকিলোমিটার) এবং মালদ্বীপ ক্ষুদ্রতম (২৯৮ বর্গকিলোমিটার)। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র,  এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩১৫.
মাইনমুখী ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
বলিশিরা ভ্যালি মৌলভীবাজার জেলায়; মাইনমুখী ভ্যালি রাঙামাটি জেলায় এবং হালদা ভ্যালি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৩১৬.
সুন্দরবনের আয়তন কত?
  1. ক) ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার
  2. খ) ৯৭৫০ বর্গ কিলোমিটার
  3. গ) ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৩৯৮৩ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বনভূমি।
- এ বনের মোট আয়তন ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ , নবম-দশম শ্রেণি এবং বনবিভাগ।
৩১৭.
সম্প্রতি দুটি বড় গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের কোন জেলায় আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
১৯৯৫ সালে বাপেক্স ভোলা দ্বীপে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র শাহবাজপুর আবিষ্কার করে। এখানে ভূগর্ভে পাঁচটি গ্যাসস্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর ২০১৭ সালে ভোলা দ্বীপে দ্বিতীয় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স। এটির নাম দেয়া হয় ভোলা নর্থ এবং এটি প্রথম গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ভোলা দ্বীপের উত্তর অংশে অবস্থিত।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
৩১৮.
বাংলাদেশের কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. পাটগ্রাম
  2. বাগলীবাজার
  3. বিজয়পুর
  4. রাণীগঞ্জ
ব্যাখ্যা
চীনামাটি: 
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের  কর্দম;
- প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভূ-পৃষ্ঠে অথবা অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠে (subsurface) চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে,
- শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়,
- চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া;
- এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩১৯.
'Swatch of No Ground' কী নামে পরিচিত?
  1. ক) গঙ্গা খাদ
  2. খ) মেঘনা খাদ
  3. গ) গিরি খাদ
  4. ঘ) পদ্মা খাদ
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)
• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।যযল
• এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত
• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো। মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
• বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে। বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
• সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা। এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মি।
• সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।
• 'বেঙ্গল ফ্যান' ভূমি রূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
বর্তমানে লৌহ উৎপাদনে পৃথিবীর শীর্ষ দেশ- [জুলাই, ২০২৫]
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. চীন
  3. ব্রাজিল
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
 লৌহ আকরিক উৎপাদন: 
- বিশ্বের শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া। 
- বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৭.৬%।
- প্রধান রপ্তানি বাজার: চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম। 

উল্লেখ্য, 
- লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী শীর্ষ দ্বিতীয় দেশ ব্রাজিল।
- লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী শীর্ষ তৃতীয় দেশ চীন।

উৎস: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ২০২৫। [লিঙ্ক]
৩২১.
'বনা গোলাপ' বাংলাদেশের একমাত্র কোন বনে পাওয়া যায়?
  1. রাতারগুল জলাবন
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল
  3. মধুপুর বনাঞ্চল
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা

•  'বনা গোলাপ'/  Wild Rose:  
- 'বনা গোলাপ' যা বন্য গোলাপ, বুনো গোলাপ বা বন গোলাপ নামেও পরিচিত। 
- বৈজ্ঞানিক নাম: Rosa clinophylla বা Rosa involucrata
- বাংলাদেশের একটি বিপন্ন জলসহিষ্ণু উদ্ভিদ প্রজাতি।
- এই প্রজাতিটি বিশেষভাবে জলাভূমি ও জলাবন পরিবেশে জন্মাতে সক্ষম।
- অন্যান্য সাধারণ গোলাপ গাছ জলাবদ্ধ পরিবেশ সহ্য করতে পারে না, কিন্তু বনা গোলাপ দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকা অবস্থাও সহ্য করতে পারে। 
- বাংলাদেশে বনা গোলাপ প্রধানত সিলেট অঞ্চলের হাওর ও জলাবন এলাকায় জন্মায়।
- বিশেষ করে সিলেটের রাতারগুল জলাবনে এই প্রজাতিটি পাওয়া যায় এবং এটিকে বাংলাদেশের একমাত্র বন্য গোলাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- রাতারগুল হলো বাংলাদেশের একমাত্র স্বাদুপানির জলাবন বন, যা সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- বর্ষাকালে বনটি ২০–৩০ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে থাকে এবং এই ধরনের জলাবদ্ধ পরিবেশে বনা গোলাপসহ বিভিন্ন জলসহিষ্ণু উদ্ভিদ জন্মায়।

তথ্যসূত্র: 
i) IUCN. (Link) 
ii) PLANTLET. (Link) 

৩২২.
'সাকা হাফং' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

সাকা হাফং: 
- সাকা হাফং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত একটি পাহাড়।
- স্থানীয়ভাবে এই শৃঙ্গকে 'মদক তং' নামেও ডাকা হয়।
- এর অবস্থান ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে, যেগুলোর অবস্থান মূলত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকায়।
- এদের মধ্যে তাজিংডং অন্যতম, এটা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত এবং সরকারিভাবে একে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হয়ে থাকে।

সূত্র: প্রথম আলো। 

৩২৩.
বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানই এক বিস্তীর্ণ-
  1. ক) প্লাবন সমভূমি
  2. খ) ক্ষয়ীভূত সমভূমি
  3. গ) অস্তরীভূত সমভূমি
  4. ঘ) পার্বত্যভূমি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি জেলা ব্যতীত মােটামুটি সমগ্র বাংলাদেশই পদ্মা, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমি। প্লাবন সমভূমির মধ্যে অনেক ধরনের সঞ্চয়জাত ভূমিরুপ দেখা যায়।
৩২৪.
বাংলাদেশের কোন স্থানের ভূগর্ভস্থ পানিতে লৌহের উপস্থিতি নির্ণয় করা গিয়েছে?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) পাবনা
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
পাবনা, আটঘড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, আশুগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের ভূগর্ভস্থ পানিতে লৌহের উপস্থিতি নির্ণয় করা গিয়েছে। গভীরতর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণভাবে এই সমস্যার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। 

ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ বর্তমানে ব্যাপক রূপ লাভ করেছে। আর্সেনিক দূষিত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার কারণে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ।
৩২৫.
দেশের কোন বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়?
  1. সুন্দরবন বনাঞ্চল
  2. গাজীপুর বনাঞ্চল
  3. মধুপুর বনাঞ্চল
  4. পার্বত্য বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য বনাঞ্চল যথা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

অন্যদিকে:
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৬.
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) চাপাইনবাবগঞ্জ
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) চুয়াডাঙ্গা
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল যশোর জেলায় অবস্থিত এবং ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩২৭.
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ -
  1. সোনাদিয়া
  2. ভোলা
  3. কুতুবদিয়া
  4. মহেশখালী
ব্যাখ্যা

মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
- ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- এর আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং সহ বেশ কিছু দর্শণীয় স্থান রয়েছে মহেশখালীতে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

৩২৮.
নিচের কোন গ্রহগুলোর কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই?
  1. শনি ও মঙ্গল
  2. শনি ও ইউরেনাস
  3. মঙ্গল ও বৃহস্পতি
  4. বুধ ও শুক্র
ব্যাখ্যা
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

বুধ গ্রহ:
- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

শুক্র গ্রহ:
- পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম।
- শুক্রের গড় তাপমাত্রা অন্যান্য সকল গ্রহ থেকে বেশি।
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। এতে কোন বায়ুমণ্ডল নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৯.
শ্রীহট্ট কোন জেলায় প্রাচীন নাম
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) ভোলা
ব্যাখ্যা

প্রত্নতত্ত্ববিদ্গণ হরিকেল বলতে শ্রীহট্ট বা সিলেট ও চট্টগ্রামের পূর্বাঞ্চলকে নির্দেশ করেন। চীনা পরিব্রাজক ইৎসিং বলেছেন - হরিকেল ছিল পূর্ব ভারতের সীমায়। হরিকেল জনপদের দক্ষিণে অবস্থিত ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্ত -জনপদের প্রাণকেন্দ্র।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব-সভ্যতা।

৩৩০.
বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. ক) তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প
  2. খ) চাঁদপুর সেচ প্রকল্প
  3. গ) কাপ্তাই সেচ প্রকল্প
  4. ঘ) গঙ্গা-কপােতাক্ষ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এটি বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প।
- ১৯৫১ সালে পরিচালিত প্রাথমিক জরিপের পর ১৯৫৪ সালে তৎকালীন  পাকিস্তান সরকার প্রস্তাবিত জি-কে প্রকল্প অনুমোদন করে।

- বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হলো তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প। ১৯৭৯ সালে নীলফামারি-লালমনিরহাট সীমান্তে এটির প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ শুরু হয় যা ১৯৯০ সালে শেষ হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৩৩১.
‘হিলি’ স্থলবন্দরটি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) যশোর
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) সাতক্ষীরা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- সোনা মসজিদ স্থলবন্দর : চাপাই নবাবগঞ্জ
- ভোমরা স্থলবন্দর : সাতক্ষীরা
- দর্শনা স্থলবন্দর : চুয়াডাঙ্গা
- বিরল ও হিলি স্থলবন্দর : দিনাজপুর।
(সূত্র: স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ)
৩৩২.
'সেনকাকু দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো উপসাগর
  2. কোরিয়ান উপসাগর
  3. পূর্ব চীন সাগর
  4. দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা
সেনকাকু দ্বীপ
- চীন, জাপান ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ: সেনকাকু দ্বীপ।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত। 
- দ্বীপটি জাপানের কাছে পরিচিত সেনকাকু দ্বীপ নামে।
- চীনের কাছে ‘দিয়াওউ’ এবং তাইওয়ানের কাছে ‘তিয়াওউতাই’ নামে পরিচিত।
- তবে সেনকাকু নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৩৩৩.
জার্মানির 'ব্ল‍্যাক ফরেস্ট' কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয় পর্বত
  2. ভঙ্গিল পর্বত
  3. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ল্যাকোলিথ পর্বত
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে। আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে।

পর্বতের প্রকারভেদ:
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা-
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
(গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

চ্যুতি-স্তূপ পর্বত:
- ভূ-আলোড়নের সময় ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হলে ভূ-ত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- কালক্রমে ফাটল বরাবর ভূ-ত্বকের উপরের শিলাসমূহ ক্রমে স্থানচ্যুত হয়, যা চ্যুতি নামে পরিচিত।
- ভূ-ত্বকের এ স্থানচ্যুতির ফলে একটি বিশাল শিলা খন্ড উপরে বা নিচের দিকে সরে যায়। চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে। 
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
আগ্নেয় পর্বত: 
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। এটি সঞ্চয়জাত পর্বত নামেও পরিচিত।
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।

ভঙ্গিল পর্বত:
- স্তরীভূত পাললিক শিলা পার্শ্ব ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।

ল্যাকোলিথ পর্বত: 
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে।
- এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। 
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
নিচের কোনটি স্রোতজ বনভূমির বৃক্ষ?
  1. ধুন্দল
  2. তেলসুর
  3. চাপালিশ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- স্রোতময় মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে জন্মে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৫.
একই স্থানে প্রতিদিন কতবার জোয়ার ও ভাটা সংঘটিত হয়?
  1. ক) একবার
  2. খ) চারবার
  3. গ) দুইবার
  4. ঘ) তিনবার
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
• সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
• এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
• উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
• উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
• সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়। সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
প্রতি ১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান কত ঘন্টা?
  1. ১ ঘন্টা
  2. ২ ঘন্টা
  3. ৩ ঘন্টা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
- আবার দ্রাঘিমার পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে গুণ করে স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে। তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
১৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৪ × ১৫)= ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি সাধারণত কোথায় পাওয়া যায়?
  1. সুন্দরবনের দক্ষিণাঞ্চলে
  2. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে
  3. চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
  4. ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ: 
বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।

মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন 

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৩৮.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
  1. নিস 
  2. গ্রানাইট 
  3. গ্রাফাইট
  4. স্লেট 
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন:
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৩৩৯.
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. স্লেট
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. নিস
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- রূপান্তরিত শিলা হলো এমন শিলা যা উচ্চ তাপ, প্রচণ্ড চাপ এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান আগ্নেয় বা পাললিক শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নতুন রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা অত্যন্ত শক্তিশালী ও টেকসই, যা স্ফটিকাকৃতির পুনঃগঠন প্রদর্শন করে।

⇒ রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

⇒ রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪০.
বাংলাদেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র -
  1. মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  2. রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  4. পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি একটি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। 
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচলনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

অন্যদিকে -
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
- রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
- পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৩৪১.
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নাইজার
  2. খ) কানাডা
  3. গ) জিম্বাবুয়ে
  4. ঘ) আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৩৫৫ ফুট। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত জাম্বেসি নদীর প্রবাহে অবস্থিত। এই জলপ্রপাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৩৩ হাজার ঘন ফুট পানি পতিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৩৪২.
পলল কোণ ভূমিরূপ কোথায় গঠিত হয়?
  1. ক) পাহাড়ের পাদদেশে
  2. খ) নদীর মোহনায়
  3. গ) দোয়াব অঞ্চলে
  4. ঘ) নদীগর্ভে
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য অঞ্চল থেকে কোন নদী হঠাৎ করে সমভূমিতে পতিত হলে সেই নদীবাহিত শিলাচূর্ণ, পলিমাটি পাহাড়ের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণ ও হাত পাখা আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি করে যা যথাক্রমে পলর কোণ ও পলর পাখা নামে পরিচিত।
- যেসব অঞ্চলের মাটি অধিক পানি শোষণ করতে পারে সেখানে শিলাচূর্ণ বেশিদূর যেতে না পেরে পাহাড়ের পাদদেশে পলল কোণ সৃষ্টি করে।
- মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা কম হলে সেক্ষেত্রে পলল পাখা ভূমিরূপ গঠিত হয়।
- হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার বিভিন্ন উপনদীর গতিপথে পলল কোণ ও পলল পাখা জাতীয় ভূমিরূপ দেখা যায়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৪৩.
ত্রিভুজ আকৃতির মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) উত্তর মহাসাগর
  2. খ) ভারত মহাসাগর
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগর
  4. ঘ) আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• প্রশান্তমহাসাগর (Pacific Ocean):
- পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রশান্তমহাসাগর।
- এটি পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশের অধিক স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এ মহাসাগরের আয়তন ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা ৪,২৭০ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ১০,৭৯০ মিটার।
- এ মহাসাগর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ দ্বারা বেষ্টিত।
- বিখ্যাত নাবিক ম্যাগেলান (Magellan) এ মহাসাগরের নাম রাখেন প্রশান্তমহাসাগর বা Pacific ocean। 
- প্রশান্তমহাসাগর দেখতে অনেকটা অসম ত্রিভুজের মতো
- প্রশান্তমহাসাগরকে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে বেরিং প্রণালি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৪.
KAFCO কোথায় অবস্তিত?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

চট্টগ্রামে অবস্থিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা কাফকো হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যৌথ প্রকল্প। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সেক্টর, জাপান, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডের যৌথ সহায়তায় ১৯৯৪ সালে কাফকো উৎপাদন শুরু করে। এটি একটি রপ্তানিমুখী সার কারখানা। এটিতে অ্যামোনিয়া সার ও দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়।
(সূত্রঃ কাফকো ওয়েবসাইট)

৩৪৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি শাল গাছ আছে?
  1. বাগেরহাট
  2. রাঙামাটি
  3. টাঙ্গাইল
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ। 
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- তারপর বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।
- গড়ন ও আকৃতির কারণে শালগাছের পাতা আলাদাভাবেই চেনা যায়।

⇒ ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

⇒ ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৪৬.
গ্রানাইট ও গ্যাব্রো কোন ধরনের শিলা? 
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা 
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আগ্নেয়শিলা (Igneous Rocks):
- আদিম অবস্থায় পৃথিবী উত্তপ্ত গলিত অবস্থায় ছিল।
- সেখান থেকে আস্তে আস্তে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়ে যে শিলার উৎপত্তি তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি হয় বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- কারণ ইগনিয়াস (Igneous) শব্দের অর্থ আগুন। সকল প্রকার শিলার মধ্যে আগ্নেয়শিলা সর্ব প্রথম সৃষ্টি হওয়ায় একে প্রাথমিক শিলাও (Primary Rock) বলা হয়।
- ইহার মধ্যে স্তর নাই বলে একে অস্তরীভূত শিলাও (Unstratified) বলা হয়।
- উদাহরণ: ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো।

অন্যদিকে,
• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks): 
- আগ্নেয় এবং পাললিক এই উভয় প্রকার শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে নুতন এক প্রকার শিলায় পরিণত হয়। 
- উদাহরণ: চুনাপাথর (limestone) পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল (marble)
- বেলেপাথর (sandstone) পরিবর্তিত হয়ে  কোয়ার্টজাইটে (Quartgite)
- কাদা (clay)  পরিবর্তিত হয়ে  স্লেটে (slate)
- গ্রানাইট (granite)  পরিবর্তিত হয়ে নীসে (gneiss)
- কয়লা (coal)পরিবর্তিত হয়ে  গ্রাফাইটে (Graphite) পরিণত হয়।

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রাথমিক শিলাগুলো যুগ যুগ ধরে রৌদ্র, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ সাগর তরঙ্গ প্রভৃতির নানা প্রকার ঘাত প্রতিঘাত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খন্ড বিখন্ড ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে বালি, কাঁকর, কাদা প্রভৃতিতে পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা: চুনাপাথর, বেলে পাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবন, খড়িমাটি প্রভৃতি।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের সর্ব নিম্নভাগ হচ্ছে -
  1. ক) হাইল হাওর
  2. খ) হাকালুকি হাওর
  3. গ) টাংঙ্গুয়া হাওর
  4. ঘ) বুরবুক হাওর
ব্যাখ্যা
• হাওড় অঞ্চল:
- হাওড় অঞ্চল মূলত সিলেটের উত্তর পূর্বাংশের পাহাড়ি অঞ্চল ব্যতীত পুরো এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৪৫০৫.২০ বর্গ কি. মি.।
সসার আকৃতির নিম্নভূমি গত ২০০ বছরে প্রায় ৯ থেকে ১২ মিটার নিচে ডেবে গেছে।

• হাওড় অঞ্চলটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: মধ্যভাগ, সুসাং অঞ্চল, মেঘালয়, পাদভূমি অঞ্চল এবং সিলেটের মধ্যভাগের নিম্নভূমি।
- মধ্যভাগের উচ্চতা সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি।
- এ অঞ্চলে বিল ও হাওড়ের বিন্যাস নদীর বিচ্ছিন্ন অংশ, প্রাকৃতিক বাঁধ, নিচু চর ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত।
- উচু পাড়গুলিকে কান্দা বলে। সুসাং অঞ্চলে সুসাং পাদদেশিয় সমভূমি এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র  প্লাবন ভূমির মাঝখানে নিম্নভূমি আছে যা বন্যার সময় গভীর পানিতে মগ্ন হয়।
- মেঘালয় পাদভূমির অঞ্চলে রক্ষা নদী থেকে লুবা নদী পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও হাওড় অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানে সর্বনিম্ন ভাগ হচ্ছে টাঙ্গুয়া হাওড় এলাকা
- মধ্য সিলেটের হাওড় সমূহের মধ্যে হাকালুকি হাওড় অন্যতম।
- জুরি ও কুশিয়ারা নদী বাহিত পলি দ্বারা এ হাওড় দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৮.
সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) সময়
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) উষ্ণতা
  4. ঘ) দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়।
- অক্ষাংশ নির্ণয়ের সূত্রটি হলো - কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০° মধ্যাহ্নে সূর্যের উন্নতি ± বিষুবলম্ব। 

- সূর্য যেদিন যে অক্ষাংশের উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেটিই ঐ দিন উক্ত স্থানের বিষুব লম্ব।
- বিষুব লম্ব ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৯.
In which districts is the 'Tanguar haor' located?
  1. ক) Chittagong
  2. খ) Natore
  3. গ) Sylhet
  4. ঘ) Sunamganj
ব্যাখ্যা
নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল' নামে পরিচিত ও 'রামসার সাইট' হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৩৫০.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে?
  1. ক) নিঝুম দ্বীপ
  2. খ) সন্দ্বীপ
  3. গ) মহেশখালী
  4. ঘ) কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী। এই দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে।
- এছাড়া এখানে আদিনাথ মন্দির রয়েছে।
- মহেশখালী দ্বীপেই মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে।
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্টমার্টিন বা নারিকেল জিঞ্জিরা।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

(সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং জাতীয় দৈনিক)
৩৫১.
ফেরেলের সূত্রানুসারে বায়ু প্রবাহ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে বেঁকে যায়?
  1. ক) পূর্বদিকে
  2. খ) পশ্চিমদিকে
  3. গ) বামদিকে
  4. ঘ) ডানদিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তনশীল হওয়ায় এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এর ফলে ঘূর্ণায়মান ভূপৃষ্ঠে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতসহ যেকোন গতিশীল পদার্থ সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

মার্কিন আবহাওয়াবিদ উইলিয়াম ফেরেল ১৮৫৯ সালে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৩৫২.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় কোথায়?
  1. সিলেটে
  2. মৌলভীবাজারে
  3. কুমিল্লায়
  4. চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা
হরিপুর তেলক্ষেত্র (Haripur Oilfield):
- বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এদেশে খনিজ তেলের আবিষ্কার তুলনামূলকভাবে কম ঘটেছে।
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- সিলেট গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট-৭ কূপ খননের সময় অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে আবিষ্কৃত হয়।
- ১৯৮৭ সনে এই তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশ তেলযুগে পদার্পন করে।
- ১৯৯৪ সালের জুলাই মাস থেকে হরিপুর তেলক্ষেত্রে তেল উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।
- সাতবছরে এই তেলক্ষেটি হতে প্রায় ০.৫৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫৩.
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. সিলিকন (Si) ও আয়রন (Fe)
  2. সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Ma)
  3. সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al)
  4. ম্যাগনেসিয়াম (Ma) ও আয়রন (Fe)
ব্যাখ্যা

অশ্মমন্ডল (Lithosphere) ও ভূ-ত্বক (Earth's Crust):
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ কি.মি. গভীর পর্যন্ত কঠিন স্তরটিকে অশ্মমন্ডল বলা হয়।
​- অশ্মমন্ডলের সর্বাপেক্ষা বাইরের স্তর অর্থাৎ যে স্তরটির উপর আমরা বসবাস করি, তাকে ভূ-ত্বক বলা হয়।
- ভূ-ত্বকের গড় পুরুত্ব ২০ কিলোমিটার, মহাদেশীয় ভূ-ত্বক গড়ে ৩৫ কি.মি. এবং মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক গড়ে মাত্র ৫ কি.মি. পুরু। 
​- মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AL) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়। 
​- অপরদিকে, মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Ma) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৪.
আফ্রিকার মুক্তভূমি বলা হয় কোন দেশকে?
  1. ক) লিবিয়া
  2. খ) লাইবেরিয়া
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা
আফ্রিকার মুক্তভূমি নামে পরিচিত লাইবেরিয়া আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ থেকে ১৮৬২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী স্বাধীনতা লাভ করে। মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর আফ্রিকান ক্রীতদাসদের লাইবেরিয়ায় মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সূত্রে লাইবেরিয়াকে মুক্তভূমি বলা হয়।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৩৫৫.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. ক) বৈলাম
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) চাপালিশ
  4. ঘ) গজারি
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। সুন্দরবনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বৈলাম, তেলসুর ও গজারি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৩৫৬.
Which of the following is known as 'Black Gold'?
  1. Radioactive sand
  2. Shrimp
  3. Uranium
  4. Jute
  5. Gold
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু খনিজ:
- কক্সবাজারে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায় যাকে ‘কালো সোনা’ বলা হয়।
- বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- বাংলাদেশের একমাত্র গন্ধক খনি অবস্থিত চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের White Gold হিসেবে পরিচিত চিংড়ি মাছ।
- পাটকে সোনালী আশ বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩৫৭.
'পৃথিবীর ফুসফুস' বলা হয় কোন বনকে?
  1. সুন্দরবন
  2. আমাজন বন
  3. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
  4. বোর্নিও রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয় আমাজন রেইনফরেস্টকে। এই বিশাল রেইনফরেস্ট থেকে পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় ২০% আসে। 

​আমাজন বন:
- দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল।
- আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- আমাজন নদী সহ অনেক নদী বনের পাশ দিয়ে গেছে।
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

⇒ আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ৯টি দেশ: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: World Atlas.

৩৫৮.
ভরা কটাল বা তেজ কটাল কখন হয়?
  1. চন্দ্র এবং সূর্য এক সরলরেখায় অবস্থান করলে
  2. চন্দ্র পৃথিবীর বিপরীত পাশে অবস্থান করলে
  3. সূর্য পৃথিবীর পাশে অবস্থান করলে
  4. চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে অবস্থান করলে 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা:
- পৃথিবীর সঙ্গে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণের প্রভাবে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটা হলো সমুদ্রপানির সেই ওঠানামা, যা মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে ঘটে।
- সমুদ্রের পানি এক জায়গায় ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলা হয়।
- প্রতিদিন সমুদ্রের একই স্থানে সাধারণত দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা দেখা যায়।

- যদিও সূর্য চন্দ্রের তুলনায় অনেক বড় (চন্দ্র অপেক্ষা প্রায় ২.৬ কোটি গুণ এবং পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ), সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক দূরে (প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার) এবং চন্দ্র পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি (প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার) অবস্থানে থাকে। তাই পৃথিবীতে চন্দ্রের আকর্ষণ সূর্যের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, ফলে জোয়ার-ভাটায় চাঁদের প্রভাব প্রধান।

- জোয়ার-ভাটা প্রধানত চার ধরনের:

ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়ে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় অবস্থান করলে, তাদের মিলিত তীব্র আকর্ষণ শক্তির কারণে সমুদ্রে প্রচণ্ড ও উঁচু জোয়ার সৃষ্টি হয়।
- এই জোয়ারকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলা হয়।
- এই সময়ে ভাটার তীব্রতাও বেশি থাকে। প্রতি মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় এটি ঘটে।
- সিজিগি বা Syzygy অবস্থায়, অর্থাৎ চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকলে, সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক উঁচুতে ওঠে এবং ভাটার সময় জল খুব কমে যায়।
- মূলত মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে সমুদ্রে ব্যাপক জলস্ফীতি ঘটে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের প্রবলতা বৃদ্ধি করে।

• মুখ্য জোয়ার:
- মুখ্য জোয়ার (Direct Tide) হলো সেই জোয়ার, যা পৃথিবীর সেই স্থানে ঘটে যেখানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
- চাঁদ ও পৃথিবীর পারস্পরিক মহাকর্ষের কারণে এই জোয়ার সৃষ্টি হয় এবং চাঁদ যে পাশে অবস্থান করে, সেই পাশেই জলরাশি ফুলে ওঠে।
- মুখ্য জোয়ার সাধারণত প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘটে এবং গৌণ জোয়ারের চেয়ে শক্তিশালী।

• গৌণ জোয়ার: 
- গৌণ জোয়ার (Neap Tide) হলো সেই জোয়ার, যা পৃথিবীর সেই অংশে সৃষ্টি হয় যা মুখ্য জোয়ারের ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থান করে।
- চাঁদের সরাসরি আকর্ষণ না থাকলেও, পৃথিবীর আবর্তনের কারণে তৈরি কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে এই অঞ্চলের জলরাশি ফুলে ওঠে। 
- গৌণ জোয়ার হলো চাঁদের বিপরীত পাশে সৃষ্টি হওয়া জোয়ার, যা পৃথিবীর ঘূর্ণন ও কেন্দ্রাতিগ বলের কারণে ঘটে। 
- এটি মুখ্য জোয়ারের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হয়।

• মরা কটাল:
- অষ্টমী বা সপ্তমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে অবস্থান করলে তাদের বিপরীতমুখী আকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের জলরাশি খুব বেশি ফুলে ওঠে না।
- এই সময়ে সৃষ্টি হওয়া মৃদু বা দুর্বল জোয়ার-ভাটাকে মরা কোটাল বা Neap Tide (নিপ টাইড) বলা হয়।
- সাধারণত শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী বা সপ্তমী তিথিতে এটি ঘটে।
- মরা কোটালে সূর্যের আকর্ষণ চাঁদের আকর্ষণের বিপরীতে কাজ করে, ফলে জলস্তর খুব বেশি উঁচু হয় না এবং ভাটার তীব্রতা কমে যায়, পানি অনেক কম নামে।
- তাই এটি 'মরা জোয়ার' বা 'মৃদু জোয়ার' নামেও পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৫৯.
'তিব্বত মালভূমি' কোন শ্রেণির মালভূমি?
  1. পাদদেশীয় মালভূমি
  2. পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি
  3. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
  4. মহাদেশীয় মালভূমি
ব্যাখ্যা

মালভূমি:
- পর্বত থেকে কম উচ্চতার তবে সমভূমি থেকে অধিক উচ্চতার খাড়া ঢালযুক্ত বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে। 
​- মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। 
​- অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন ধরনের। যথা- 
​(ক) পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি;
​(খ) পাদদেশীয় মালভূমি;
​(গ) মহাদেশীয় মালভূমি।

পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি: 
​- পর্বতের মধ্যখানে এই প্রকারের মালভূমি দেখতে পাওয়া যায়। 
​- এই মালভূমির উচ্চতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ মিটার হয়ে থাকে। 
​- তিব্বত মালভূমি একটি পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি। 
​- এই পর্বতের উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত এবং পূর্ব-পশ্চিমের অন্যান্য পর্বত ঘিরে আছে। 
​- দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো এবং এশিয়ার মঙ্গোলিয়া এ ধরনের মালভূমি।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬০.
চিম্বুক পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) রাঙ্গামাটি
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

- চিম্বুক পাহাড় অবস্থিত বান্দরবান জেলায়।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকের পরিচিত অনেক পুরনো। পাহাড়ের এই দৃশ্যটি অতি চমৎকার। এ পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।
- এটিকে কালাপাহাড়ও বলা হয়।
- এটিকে বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী বলা হয়।

উৎস: bandarban.gov.bd

৩৬১.
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির গড় উচ্চতা কত?
  1. প্রায় ৯ মিটার
  2. প্রায় ১৯ মিটার
  3. প্রায় ২১ মিটার
  4. প্রায় ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্ৰহ্মপুত্ৰ, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
- প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি।
- এ এলাকাতে বিচ্ছিন্নভাবে বিল-ঝিল, হাওড়- বাঁওড় ছড়িয়ে রয়েছে যা দেশের ভূ-প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. দিনাজপুর
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
• কয়লা:
- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৩৬৩.
গন্ডােয়ানাল্যান্ড কোন স্থানের পূর্ব নাম?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) বাগেরহাট
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
- দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত আর গুচ্ছ গুচ্ছ লিচু বাগানের জেলা দিনাজপুর। 
- দিনাজপুর জেলার পুরাতন নাম ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড। 
- এখানে ছোট যমুনা, আত্রাই, পুনর্ভবা, ঢেপা, গর্ভেশ্বরী নদ-নদী বিদ্যমান।
 
উৎস : দিনাজপুর জেলা ওয়েবসাইট 
৩৬৪.
সুন্দরবনে কোন সমুদ্র সৈকত অবস্থিত?
  1. ক) পারকী সমুদ্র সৈকত
  2. খ) কটকা সমুদ্র সৈকত
  3. গ) গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকত
  4. ঘ) ইনানী সমুদ্র সৈকত
ব্যাখ্যা
- "কটকা সমুদ্র সৈকত" সুন্দরবনে অবস্থিত।
 
- কটকা যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে সুন্দরবন অঞ্চলে (খুলনা, বাগেরহাটের মংলা)। কটকায় বেড়াতে যাবার প্রধান মাধ্যম বলতে গেলে শুধুই লঞ্চ। আর পর্যটকদের নিয়ে এই লঞ্চ নোঙ্গর করা হয় কটকা খালে।
 
- সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। তবে বনে বাঘের দেখা মেলা ভার। আর তার ওপর বাঘের দেখা মিললেও নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি তো আছেই।
- বাঘ দেখা ও নিরাপদে থাকা- এ দুই-ই সম্ভব সুন্দরবনের চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র কটকা অভয়ারণ্য থেকে। এখানে প্রায়ই দেখা মেলে সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। এ ছাড়া মনোরম চিত্রা হরিণের দল, বিভিন্ন জাতের পাখি, শান্ত প্রকৃতি এবং বিভিন্ন বন্য প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় কটকা অভয়ারণ্য সব সময়ই আলাদা স্থান দখল করে আছে।
 
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

৩৬৫.
আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় -
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  3. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টাশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- পাহাড়গুলো আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়।
- এসব পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হছে। যথা- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৬.
নিচের কোন স্থানের ভৌগোলিক উপনাম ‘৩৬০ আউলিয়ার দেশ’?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
‘বারো আউলিয়ার দেশ’ হিসাবে পরিচিত - চট্টগ্রাম; ‘৩৬০ আউলিয়ার দেশ’ হিসাবে পরিচিত - সিলেট।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৩৬৭.
সৌরজগতের কোন গ্রহের ভূত্বক বরফে ঢাকা?  
  1. শুক্র
  2. বুধ
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
ব্যাখ্যা
শনি:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর। 
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ২৭৪টি।
- টাইটান শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি শনি গ্রহের চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
- এই আবিষ্কারের ফলে এখন শনির মোট চাঁদের সংখ্যা ২৭৪।

সূত্র: NASA Science (.gov) ও ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৬৮.
প্রাকৃতিক সম্পদে শীর্ষ দেশ কোনটি? [জানুয়ারি,২০২৫]
  1. কানাডা
  2. রাশিয়া
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
-----------------
প্রাকৃতিক সম্পদে শীর্ষ দেশ:

- রাশিয়া প্রাকৃতিক সম্পদের অর্থমূল্যে শীর্ষে।
- রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের মোট মূল্য ৭৫ ট্রিলিয়ন (৭৫ লাখ কোটি) মার্কিন ডলার।
- প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ: কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, বিরল খনিজ ধাতু।
- ২০১৮ সালে রাশিয়ায় খনিজ সম্পদের মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ডলার।
- রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুত রয়েছে।
- রাশিয়া বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০% মজুত করে।

প্রাকৃতিক সম্পদে ধনী ১০টি দেশ:
১. রাশিয়া৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, বিরল খনিজ)
২. যুক্তরাষ্ট্র – ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার (কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, স্বর্ণ, কপার)
৩. সৌদি আরব – ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার (তেল, কাঠ)
৪. কানাডা – ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার (তেল, ইউরেনিয়াম, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, ফসফেট)
৫. ইরান – ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার (তেল, গ্যাস)
৬. চীন – ২৩ ট্রিলিয়ন ডলার (কয়লা, বিরল ধাতু, কাঠ, তেল)
৭. ব্রাজিল – ২২ ট্রিলিয়ন ডলার (স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম, লৌহ, কাঠ, তেল)
৮. অস্ট্রেলিয়া – ২০ ট্রিলিয়ন ডলার (কয়লা, কাঠ, কপার, লৌহ, আকরিক, স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম)
৯. ইরাক – ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার (তেল, ফসফেট)
১০. ভেনেজুয়েলা – ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার (লৌহ, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল)

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
৩৬৯.
এসডিজির অভীষ্টগুলোর মধ্যে কতটি অভীষ্ট সরাসরি ‘পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন’সংক্রান্ত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি):
→ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গৃহীত একটি বৈশ্বিক কর্ম পরিকল্পনা।
→ ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড নেশন্স সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সামিটে এসডিজি গৃহীত হয়।
→ এসডিজি এর প্রধান লক্ষ্যমাত্রা ১৭টি। এসডিজি এর লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনের সময়সীমা ২০১৬-২০৩০ খ্রিস্টাব্দ।

→ ১৩ নং অভীষ্ট: জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি কর্মব্যবস্থা গ্রহণ।
→ ১৪ নং অভীষ্ট: টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার।
→ ১৫ নং অভীষ্ট: স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা প্রদান এবং টেকসই ব্যবহারে পৃষ্ঠপোষণা, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ প্রক্রিয়ার মোকাবেলা, ভূমির অবক্ষয় রোধ ও ভূমি সৃষ্টি প্রক্রিয়ার পুনরুজ্জীবন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধ।

 তথ্যসূত্র: SDG ওয়েবসাইট।
৩৭০.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে হাওর বেসিন অবস্থিত?
  1. ক) উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
  2. খ) দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণাঞ্চল
  4. ঘ) উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জুড়ে হাওর বেসিন অবস্থিত।
এই হাওর বেসিনে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে।
এর মধ্যে সিলেটে ১০৫টি, কিশোরগঞ্জে ৯৭টি এবং সুনামগঞ্জে ৯৫টি হাওর রয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৩৭১.
দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত -
  1. ক) পলল গঠিত সমভূমি
  2. খ) বরেন্দ্রভূমি
  3. গ) চলনবিল
  4. ঘ) পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- ভূ-তাত্তিক সময়পঞ্জি অনুযায়ী আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বে এ সোপান অঞ্চল গঠিত হয়েছে বলে ভূ-বিজ্ঞানীরা মনে করেন।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের সুবিশাল বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই উচ্চভূমি নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
এ অঞ্চলের আয়তন ১৩,৪২৭ বর্গকিলোমিটার। মাটির রং লাল ও ধূসর।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপান এলাকাকে আলোচনার সুবিধার্থে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: ক) বরেন্দ্রভূমি, খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং গ) লালমাই পাহাড়।

বরেন্দ্রভূমি:
- দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত
- এর আয়তন ৯,২৮৮ বর্গকিলোমিটার বা ৩৬,০০ বর্গমাইল।
- বরেন্দ্রভূমি প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু।
- সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলটি পুনর্ভবা, আত্রাই ও যমুনা নদী দ্বারা চারটি অংশে বিভক্ত। মাটির রং লালচে হলুদ।
- বরেন্দ্রভূমির ছোট বিনুনী আকৃতির নদীগুলো খাড়ি নামে পরিচিত। 

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলায় মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এ অঞ্চলের মোট আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের উত্তরাংশকে বলা হয় মধুপুর গড় এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের দক্ষিণাংশকে বলা হয় ভাওয়ালের গড়।
- এ গড়ের পূর্ব ও দক্ষিণাংশের উচ্চতা প্রায় ৬ মিটার কিন্তু পশ্চিম ও উত্তর দিকের উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এই এলাকার মাটির রং সাধারণত লাল ও কঙ্করময়।
- মধুপুর গড়কে আবার ‘নদী সোপান’ বা উত্থিত ব-দ্বীপও বলা হয়।
- এ এলাকার মধ্য দিয়ে বংশী, শীতলক্ষ্যা, বানার, বালু, সুতিয়া, তুরাগ, লৌহজং প্রভৃতি নদী প্রবাহিত হয়েছে। 

লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা জেলা শহর থেকে ৮ কি.মি পশ্চিমে লালমাই পাহাড় অবস্থিত।
- এ এলাকার আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটাার (১৩ বর্গমাইল)।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার তবে কোনো কোনো স্থানে ৪৫ মিটার পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়।
- লালমাই এলাকার ভূমিরূপ কোনো পর্বতশ্রেণির অংশ নয়। এটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ হর্স্ট শ্রেণিভুক্ত।
এ অঞ্চলের মাটির রং লাল। পাহাড়গুলো লাল মাটি, নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।


তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭২.
কোন ধরনের শিলায় স্তর নেই?
  1. পাললিক শিলায়
  2. রূপান্তরিত শিলায়
  3. বিচূর্ণীত শিলায়
  4. আগ্নেয় শিলায়
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):
- পৃথিবী জ্বলন্ত অবস্থা থেকে শীতল হবার সময়ে অর্ধগলিত বিভিন্ন খনিজ অত্যন্ত দ্রুত শীতল ও কঠিনাকার ধারণ করে। এইরূপে সৃষ্ট কঠিন পদার্থগুলো আগ্নেয়শিলা নামে অভিহিত।

- আবার ভূমিকম্পের বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-গর্ভস্থ উত্তপ্ত অর্ধগলিত ম্যাগমা ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে। ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে, তাকে লাভা বলে।
- লাভা শীতল হয়ে জমাট বেঁধে আগ্নেয়শিলার সৃষ্টি হয়।
- পৃথিবী সৃষ্টির আদিতে এই শিলার সৃষ্টি হওয়ায় একে প্রাথমিক শিলা বা আদি শিলা (Primary Rock) বলা হয়। যেমন- ব্যাসল্ট,
গ্রানাইট ইত্যাদি।

• আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। আগ্নেয় শিলার স্তর নেই অর্থাৎ অস্তরীভূত শিলা;
২। আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই;
৩। আগ্নেয় শিলা অপ্রবেশ্য;
৪। আগ্নেয় শিলা সুদৃঢ় ও সুসংহত। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
'গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ব্রাজিল
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা

- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উত্তর-পূর্ব উপকূলে, কোরাল সাগরে। 

​গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হল বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর সিস্টেম।
- এটি উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের তীরে প্রবাল সাগরে অবস্থিত।
- এটি আনুমানিক ৩৪৪,৪০০০ কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি ২,৯০০টিরও বেশি পৃথক রিফ সিস্টেম, ৭৬০টি ফ্রেঞ্জ রিফ, ৩০০টি প্রবাল রশ্মি এবং ৯০০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
- এটি অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট দ্বীপবাসীরা ব্যবহার করত।

সূত্র - Worldatlas.com

৩৭৪.
গ্রাফাইট কোন ধরনের শিলা? 
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা 
  3. জৈব শিলা 
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা

 রূপান্তরিত শিলা:
- গ্রাফাইট  রূপান্তরিত শিলা।

- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

• রূপান্তরিত শিলা: 
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৫.
দেশের কোন বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়?
  1. পার্বত্য বনাঞ্চল
  2. সুন্দরবন বনাঞ্চল
  3. গাজীপুর বনাঞ্চল
  4. মধুপুর বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
> অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
- পাহাড়ি ও বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি দেখা যায়।
- কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি বিরাজমান।
বাংলাদেশে বিস্তার: পার্বত্য জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান), চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশ।
 
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি
> অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
- পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন: ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমি।
- শীতকালে পাতার ঝরা, গ্রীষ্মকালে নতুন পাতা গজায়।
 
• স্রোতজ বনভূমি (সুন্দরবন)
> অবস্থান:
- দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর
- উত্তরে: খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা
- পূর্বে: হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর, বরিশাল জেলা
- পশ্চিমে: রাইমঙ্গল ও হাড়িয়াভাঙ্গা নদী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আংশিক অঞ্চল
- বিস্তার: খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে।
-  বিশেষ বৈশিষ্ট্য: সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, লোনা পানি ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে বৃক্ষ সমৃদ্ধ।


তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩৭৬.
'ব্ল্যাক ফরেস্ট' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মালি
  2. নাইজেরিয়া
  3. জার্মানি
  4. কেনিয়া
ব্যাখ্যা
• ব্ল্যাক ফরেস্ট:
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত জার্মানিতে অবস্থিত। 
- জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি ঘটেছে।
- দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী (২,৮৫০ কি.মি.)।
- ইউরোপের দশটি দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দানিয়ুব নদী কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৭৭.
সবচেয়ে বড় মহাদেশ-
  1. ক) আফ্রিকা
  2. খ) এশিয়া
  3. গ) ইউরোপ
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া।
- এ মহাদেশের আয়তন ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯২ বর্গকিলোমিটার।
- পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার)।
- মহাদেশটির উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে ভ‚-মধ্যসাগর ও ইউরোপ মহাদেশ অবস্থিত।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।  
- এশিয়া মহাদেশে বিভিন্ন আয়তনের ৫০টি দেশ রয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
নিম্নের কোন জেলায় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি দেখা যায়?
  1. সিলেট
  2. খাগড়াছড়ি
  3. দিনাজপুর
  4. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

অন্যদিকে,
⇒ ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

⇒ স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৯.
'হামহাম জলপ্রপাত' কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. মৌলভীবাজার
  3. খাগড়াছড়ি
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
হামহাম জলপ্রপাত:
- হামহাম বা চিতা ঝর্ণা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত।
- এটি একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝর্ণা।
- জলপ্রপাতটি ২০১০ সালের শেষাংশে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সাথে দুর্গম জঙ্গলে ঘোরা একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন। 
- দুর্গম গভীর জঙ্গলে এই ঝরণাটি ১৩৫ মতান্তরে ১৪৭ কিংবা ১৭০ ফুট উঁচু।

উল্লেখ্য,
⇒ কেউ কেউ ঝরণার সাথে গোসলের সম্পর্ক করে "হাম্মাম" (গোসলখানা) শব্দটি থেকে "হাম হাম" হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন।
- কেউ কেউ মনে করেন, সিলেটি উপভাষায় “আ-ম আ-ম" বলে বোঝানো হয় পানির তীব্র শব্দ।
- তবে স্থানীয়দের কাছে এটি "চিতা ঝর্ণা" হিসেবে পরিচিত, কেননা একসময় এজঙ্গলে নাকি চিতাবাঘ পাওয়া যেত।

⇒ হাম হাম যাবার পথ এবং হাম হাম সংলগ্ন রাজকান্দি বনাঞ্চলে রয়েছে সারি সারি কলাগাছ, জারুল, চিকরাশি কদম গাছ। এর ফাঁকে ফাঁকে উড়তে থাকে রং-বেরঙের প্রজাপতি। ডুমুর গাছের শাখা আর বেত বাগানে দেখা মিলবে অসংখ্য চশমাপড়া হনুমানের। এছাড়াও রয়েছে ডলু, মুলি, মির্তিঙ্গা, কালি ইত্যাদি বিচিত্র নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৮০.
শীতকালে দেশের কোন বনভূমির গাছের পাতা ঝড়ে যায়?
  1. ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  2. খ) সুন্দরবন
  3. গ) মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
  4. ঘ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনভূমি
ব্যাখ্যা
টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।

শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর। এই বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী।

(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৩৮১.
এশিয়ার কোন দেশে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. বাংলাদেশ
  3. নেপাল
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখার আশেপাশের অঞ্চলসমূহে অত্যধিক আদ্রতার কারনে যে ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া সারা বছরব্যাপী বিদ্যমান থাকে, তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে।
- আর পৃথিবীর যে সকল অঞ্চলে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান, সে সকল অঞ্চলকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলা হয়। প্রধানত নিরক্ষীয় রেখার উভয় পাশে ৫ ডিগ্রী  অক্ষাংশের মধ্যে এই অঞ্চলের অবস্থান।
- এশিয়ার কয়েকটি দেশে এই ধরনের জলবায়ু বিদ্যমান। দেশগুলো হচ্ছে - মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই, ফিলিপাইনের দক্ষিনের দ্বীপাঞ্চল।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮২.
রবিশস্য চাষের উপযোগী সময় হলো-
  1. ক) বর্ষাকাল
  2. খ) শীতকাল
  3. গ) বসন্তকাল
  4. ঘ) হেমন্তকাল
ব্যাখ্যা
শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু আমাদের দেশে শৈত্যপ্রবাহের আগমন ঘটায়। তাই এই সময় রবিশস্য ও গম চাষের উপযোগী। প্রকৃতি প্রভাবিত কৃষিকাজ ই পরিবেশসম্মত ও কৃষকের জন্য লাভজনক।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৩৮৩.
বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত বলে বাংলাদেশের সময় -
  1. ৬ ঘণ্টা পিছিয়ে
  2. ৬.৩০ ঘণ্টা এগিয়ে
  3. ৬ ঘণ্টা এগিয়ে
  4. ৬.৩০ ঘণ্টা পিছিয়ে
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচের সময়:
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা শূন্য ডিগ্রি (০°) ধরা হয়।
- এখন আমরা যদি গ্রিনিচের সময় এবং অন্য কোনো স্থানের সময় জানতে পারি, তাহলে দুই স্থানের সময়ের পার্থক্য অনুসারে প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্য ধরে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করতে পারি।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকের দেশগুলো সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের চেয়ে এগিয়ে থাকে এবং গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত দেশগুলোর সময় গ্রিনিচের সময় থেকে পিছিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত বলে বাংলাদেশের সময় ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
- এভাবে দ্রাঘিমার সাহায্যে সময় এবং সময়ের মাধ্যমে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৮৪.
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) রামু
  3. গ) কাপ্তাই
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত। এটি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নির্মাণ করে। এতে দৈনিক প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
৩৮৫.
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ক্রমহ্রাসমান তাপমাত্রা হল -
  1. ৫.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
  2. ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
  3. ৭.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
  4. ৮.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
◉ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ক্রমহ্রাসমান তাপমাত্রা হল - ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার। 

ট্রপোমন্ডল (Troposphere):

- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৬.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সবচেয়ে শীতল তাপমাত্রা পাওয়া যায়?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. আয়নোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

মেসোমণ্ডল বা মধ্যমণ্ডল :
- মেসোমণ্ডল হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যবর্তী স্তর।
- এই স্তর স্ট্র্যাটোমণ্ডলের ঠিক উপরে এবং থার্মোমণ্ডলের নিচে অবস্থান করে।
- এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে শুরু হয়ে মেসোবিরতি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, যার উচ্চতা প্রায় ৮০–৮৫ কিলোমিটার।
- এই স্তরেই উল্কাপিণ্ড প্রবেশ করলে ঘর্ষণের ফলে পুড়ে যায়।
- উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় মেসোবিরতি অঞ্চলটি পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান হিসেবে পরিচিত;
- যেখানে তাপমাত্রা প্রায় –100°C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

উৎস :
Britannica;
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৭.
পৃথিবীর মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুউচ্চ ভূভাগ কী নামে পরিচিত?
  1. ভূত্বক
  2. পর্বত
  3. মালভূমি
  4. পাহাড়
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- পৃথিবীর মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুউচ্চ ভূভাগ মালভূমি নামে পরিচিত।
- মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির উচ্চতা ৪,২৭০ থেকে ৪,১৯০ মিটার।
- পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি হলো পামীর মালভূমি।

- অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন প্রকার। যথা:
পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি : তিব্বত মালভূমি, দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো, এশিয়ার মঙ্গোলিয়া ও তারিম।
পাদদেশীয় মালভূমি : উত্তর আমেরিকার কলোরাডো এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া।
মহাদেশীয় মালভূমি : এ ধরনের মালভূমির সাথে পর্বতের কোন সংযোগ থাকে না। স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, গ্রিনল্যান্ড।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৮.
ন‑কাবা ছড়া ঝর্ণা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

ন‑কাবা ছড়া ঝর্ণা:
- এর অবস্থান: বিলাইছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বাংলাদেশ।
- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য মনলোভা দর্শণীয় স্থান হলো ন-কাবা ছড়া ঝর্ণা।
- প্রবাহ: পাহাড়ি ন‑কাবা ছড়া থেকে প্রবাহিত।
- দর্শনীয়তা: পাহাড়ি বন, সবুজ পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
- এই ঝর্ণায় দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক সৌন্দর্য অবলোকন করে চারদিকে তাকালে প্রকৃতির বিচিত্র রুপ ও পাহাড়ি ঢেউ ছাড়া আর কিছুই নজরে পড়ে না।

উৎস: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ওয়েবসাইট।

৩৮৯.
বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মাধবকুণ্ড পাহাড়ে
  2. খ) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
  3. গ) হিমছড়ি পাহাড়ে
  4. ঘ) শুভলং ঝর্ণায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্ণা কক্সবাজারের হিমছড়ি পাহাড়ে অবস্থিত। হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। ভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা অবস্থিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। আর শুভলং ঝর্ণা অবস্থিত রাঙামাটিতে এবং মাধবকুন্ড জলপ্রপাত অবস্থিত মৌলভীবাজারে। উৎস: parjatan.gov.bd
৩৯০.
কোনটি পরিবেশের জড় উপাদান?
  1. গাছ
  2. মানুষ
  3. মাটি
  4. পশু
ব্যাখ্যা

পরিবেশ:
- প্রকৃতির সকল দান মিলেমিশে তৈরি হয় পরিবেশ।
- নদী, নালা, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়, পর্বত, বন, জঙ্গল, ঘর, বাড়ি, রাস্তাঘাট, উদ্ভিদ, প্রাণী, পানি, মাটি ও বায়ু নিয়ে গড়ে ওঠে পরিবেশ।
- কোনো জীবের চারপাশের সকল জীব ও জড় উপাদানের সর্বসমেত প্রভাব ও সংঘটিত ঘটনা হলো ঐ জীবের পরিবেশ।
- পরিবেশ বিজ্ঞানী আর্মসের (Arms) মতে, জীবসম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব ও প্রাকৃতিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে।

পরিবেশের উপাদান:
- পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার; যেমন জড় উপাদান ও জীব উপাদান।
- যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়, যাদের বৃদ্ধি আছে, জন্ম আছে এবং মৃত্যু আছে তাদের বলে জীব।
- গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হলো পরিবেশের জীব উপাদান।
- মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা ও আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯১.
সৌদি আরবের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর কোনটি?
  1. ক) জেদ্দা
  2. খ) রিয়াদ
  3. গ) দাম্মামা
  4. ঘ) খাদিমাহ
ব্যাখ্যা
জেদ্দা সমুদ্রবন্দর সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত।
- এটি সৌদি আরবের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর।

লোহিত সাগরের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরসমূহ:
- পোর্ট সুদান (সুদান)
- পোর্ট সুয়েজ (মিশর)
- পোর্ট হুদাইদাহ (ইয়েমেন)
- পোর্ট আসেব (ইরিত্রিয়া)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস
৩৯২.
পৃথিবীর আহ্নিক গতি সবচেয়ে কম যে অঞ্চলে -
  1. বিষুব অঞ্চলে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে
  4. নিরক্ষ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- মেরু অঞ্চলে আহ্নিক গতি সর্বাপেক্ষা কম।

- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০. 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।

উল্লেখ্য, 
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৩.
শালবন একটি-
  1. চিরহরিৎ বনভূমি
  2. ম্যানগ্রোভ বনভূমি
  3. পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি
  4. সোয়াম্প ফরেস্ট
ব্যাখ্যা
শালবন একটি পত্রপতনশীল বা পর্ণমোচী বৃক্ষের বনভূমি। অর্থাৎ শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝড়ে যায়।

শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ। তাই এটি শালবন নামে পরিচিত।
শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর। এটি টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৩৯৪.
পদ্মা ও যমুনা নদী কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) আজরিমিগঞ্জ
  3. গ) চিলমারি
  4. ঘ) গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল: গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

অন্যদিকে,
• সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল (মেঘনা): আজরিমিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
• পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল: চাঁদপুর
• ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল: চিলমারি (কুড়িগ্রাম)
• পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল: ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৯৫.
খৈয়াছড়া ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. কক্সবাজার
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
খৈয়াছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা হিসেবে বিবেচিত।
খৈয়াছড়া ঝর্ণাতে মোট ৭/৯টি মূল ধাপ ও অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ রয়েছে। অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত গঠনশৈলীর কারণে খৈয়াছড়া কে বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৩৯৬.
ধান চাষের জন্য রোপণের পর মাটির তাপমাত্রা কত থাকা জরুরি?
  1. ১৫° সেলসিয়াস
  2. ১৬° সেলসিয়াস
  3. ৩২° সেলসিয়াস
  4. ৪০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

ধান চাষ:
- ধান একটি আধা-জলীয় ফসল, যার বৃদ্ধি ও উৎপাদনের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।
- বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বেশি হওয়ায় ধান প্রাক-খরিফ, খরিফ এবং রবি—সব মৌসুমেই চাষ করা সম্ভব। - ধানের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা দিনে ২০–৩৬° সেলসিয়াস এবং রাতে ২০–২৩° সেলসিয়াস।
- এর সহনশীল তাপমাত্রার পরিসর ১৯–৪০° সেলসিয়াস।
- বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য ন্যূনতম ১০° সেলসিয়াস, ফুল ফোটার জন্য ২২–২৩° সেলসিয়াস এবং দানা গঠনের জন্য ২০–২১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- ধানের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাতাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২২° সেলসিয়াস উপযুক্ত।
- অত্যধিক তাপমাত্রা বা প্রবল বাতাসে ধানের পাতা পোড়া বা ঝলসানো রোগ দেখা দিতে পারে।
- আবার খুব কম তাপমাত্রা স্পাইকলেট তৈরি, বীজ অঙ্কুরোদগম, কুশি বৃদ্ধি, চারা গজানো ও গাছের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। 
- রোপণের পর মাটির তাপমাত্রা ১৬° সেলসিয়াসের ওপরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

উৎস:
১. বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেনি।

৩৯৭.
পৃথিবীর বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল কোনটি?
  1. সুন্দরবন
  2. কঙ্গোবন
  3. আমাজান
  4. সাভানা
ব্যাখ্যা
আমাজান:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান। 
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত। 
=========
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩৯৮.
সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে বলা হয় -
  1. ক) মালভূমি
  2. খ) সমভূমি
  3. গ) পাহাড়
  4. ঘ) পর্বত
ব্যাখ্যা
সমভূমি
- সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়।
- তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
- সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
- সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি। মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয় ।
- সমগ্ৰ পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত। ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের দিক দিয়ে সমভূমিগুলো যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৯.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে?
  1. কুতুবদিয়া
  2. ভোলা
  3. সোনাদিয়া
  4. নিঝুমদ্বীপ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:
• চুনাপাথর (Limestone): বাংলাদেশ চুনাপাথরে সমৃদ্ধ। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড, কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, নবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট ও জামালগঞ্জ, সিলেট জেলার জাফলং, জকিগঞ্জ, ভাঙ্গারহাট ও চরগাঁ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ঢাকেরঘাট, লালঘাট ও বাগলিবাজার চুনাপাথর পাওয়া যায়। রং ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড, সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, কাগজ, সাবান এবং ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি তৈরিতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়।

• সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু: সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইস্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের যে সকল জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া যায় সেগুলো হলো-
- কুমিল্লা: বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বাতাসিয়া গ্রামে সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে সঞ্চিত বালুর পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টন।
- শেরপুর: শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের নিকটবর্তী বালিজুরিতে সিলিকা বালু পাওয়া যায়। এখানে সঞ্চিত সিলিকা বালুর পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ টন।
- হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের শাহজীবাজার ও নয়াপাড়ায় সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে সঞ্চিত বালুর পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টন। এই বালিতে সিলিকার পরিমাণ প্রায় ৯৭.৯৯-৯৮.৬২% বলে কাঁচ শিল্পে এই অঞ্চলের বালু ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার কুলাইড়া ও সুনামগঞ্জ জেলার টাকেরঘাট অঞ্চলে প্রচুর সিলিকাবালু পাওয়া যায়।
দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানায় কয়লার উপরিভাগে কাঁচবালু পাওয়া গেছে।

• চীনামাটি (China Clay) বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলায় চীনামটি পাওয়া গেছে। চুনামাটি প্রধানত কাগজ, বাসনপত্র, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর ও স্যানিটারি জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কঠিন শিলা বা পাথর (Hard Rock or Stone): বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার কঠিন শিলা পাওয়া যায়। কঠিন শিলা রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ ও নদীর বাঁধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• নুড়ি পাথর (Gravel): বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া এবং সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ ও পিয়ানগঞ্জে নুড়ি পাথর পাওয়া যায়। নুড়িপাথর রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট, রেলপথে ও গৃহনির্মাণে
ব্যবহৃত হয়।

• ইউরেনিয়াম আকরিক বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায়। এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। ইউরেনিয়াম আকরিক প্রধানত পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জন্য ইউরেনিয়াম আকরিক কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

• গন্ধক (Sulphur) বাংলাদেশে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে। সালফিউরিক এসিড, বারুদ ও কীটনাশক তৈরিতে গন্ধক ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০০.
আয়তনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ -
  1. ক) ভানুয়াতু
  2. খ) মালদ্বীপ
  3. গ) মোনাকো
  4. ঘ) ভ্যাটিকান সিটি
ব্যাখ্যা
• আয়তন ও জনসংখ্যা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ হলো ভ্যাটিকান সিটি
- দেশটি ইতালির রাজধানী রোমের অভ্যন্তরে অবস্থিত যার আয়তন ০.৪৯ বর্গ কিলোমিটার।
- ভ্যাটিকান সিটি জাতিসংঘের সদস্য নয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট