বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জসীম উদ্‌দীন

মোট প্রশ্ন৩৭৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জসীম উদ্‌দীন

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩৭৪

২০১.
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. রাখালী
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
রাখালী:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০২.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford. ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৩.
'রাখালী' কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. ১৫টি
  2. ১৯টি
  3. ২১টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- কবি জসীমউদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৪.
’নক্সী কাঁথার মাঠ’ কোন জাতীয় কাব্য?
  1. গীত কাব্য
  2. গাথাঁকাব্য
  3. উপাখ্যান
  4. চম্পুকাব্য
ব্যাখ্যা

 • নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাঁকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০৫.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. সোজন
  2. মোহন
  3. রূপাই
  4. সাজন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।
------------------ 
জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালে ১ লা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় 'কবর' কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- তাঁর বিখ্যাত গাথা কাব্যগুলো হলো: নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
- 'সুচয়িনী' জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- জসীমউদ্দীন 'জারীগান' ও 'মুর্শীদি গান' নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৬.
পল্লীকবি জসিমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) পল্লীবধু
  3. গ) মাটির কান্না
  4. ঘ) মধূমালা
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ - বালুচর, রাখালী, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না, সুচয়নী।
নাট্যগ্রন্থ - পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধূমালা, পল্লীবধূ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২০৭.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৯ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা:

- কবি জসীম উদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৮.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন এর কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গাথাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রূপককাব্য
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০৯.
"আসমানী" কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. এক পয়সার বাঁশি
  4.  মা যে জননী কান্দে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতা।
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের এই ‘আসমানী’ কবিতাটি ১৯৪৬ সালে রসুলপুরে বসেই রচনা করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৪৯ সাল তাঁর ‘এক পয়সার বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও এক পয়সার বাঁশি কাব্যগ্রন্থ।

২১০.
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'জীবন কথা' কি ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) আত্মকথা
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'জীবন কথা' একটি আত্মকথা।

• 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীম উদ্দীন একদম অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায়, পরিবার এবং বিয়োগান্ত দৃশ্যে, একদম সাবলীল ভাষায় তিনি বিশেষ আলোচিত কবিতা কবর লিখেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এই কবিতাটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী (১৯২৭)
- নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
- বালুচর (১৯৩০)
- ধানখেত (১৯৩৩)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
- হাসু (১৯৩৮)
- রুপবতি (১৯৪৬)
- মাটির কান্না (১৯৫১)
- এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
- সখিনা (১৯৫৯)
- সুচয়নী (১৯৬১)
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
- মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
- হলুদ বরণী (১৯৬৬)
- জলে লেখন (১৯৬৯)
- পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
- কাফনের মিছিল (১৯৭৮)
- মহরম
- দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭)

নাটক
- পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬)
- গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯)

আত্মকথা
- যাদের দেখেছি (১৯৫১)
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১)
- জীবন কথা ( ১৯৬৪)
- স্মৃতিপট (১৯৬৪)
- স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮)

উপন্যাস
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২১১.
'বোবা কাহিনী’ কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রহসন
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• বোবা কাহিনী:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১২.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত আত্মকথা নয়? 
  1. সুচয়িনী
  2. ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়
  3. যাদের দেখেছি
  4. স্মৃতির পট
ব্যাখ্যা
• 'সুচয়িনী' জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত আত্মকথা:

- জীবনকথা,
- স্মৃতির পট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়

• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৪ই মার্চ ১৯৭৬ সালে তাঁর জীবনাবসান হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১৩.
'এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে, গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।' পঙক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন ও কবর কবিতা সম্পর্কে তথ্য: 
- কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

'এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।'
- পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের 'কবর' কবিতা থেকে নেওয়া।

কবর কবিতা,
--------জসীমউদ্‌দীন। 

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।

এমন করিয়া জানিনা কখন জীবনের সাথে মিশে,
ছোট-খাট তার হাসি-ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা,
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালা এক ছড়া নিতে কখনও হতনা দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধ্যাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুর বাড়ির বাটে !
হেস না–হেস না–শোন দাদু সেই তামাক মাজন পেয়ে,
দাদী যে তোমার কত খুশি হোত দেখিতিস যদি চেয়ে।
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, ‘এতদিন পরে এলে,
পথপানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখি জলে।’

আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ্ দাদু, ‘আয় খোদা, দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নাজেল হয়।’

তার পরে এই শুন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি,
যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের শত কবরের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি
গনিয়া গনিয়া ভুল করে গনি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কতসোনা মুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে লাগায়ে বুক,
আয় আয় দাদু, গলাগলি ধরে কেঁদে যদি হয় সুখ। (সংক্ষেপিত) 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, কবর কবিতা ও বাংলাপিডিয়া।
২১৪.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৫ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৪ সালে
ব্যাখ্যা

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- কবি জসীম উদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৫.
জসীম উদ্‌দীনের 'আসমানী' চরিত্রটির বাড়ি কোথায়?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. ফরিদপুর
  3. রাজবাড়ী
  4. মাদারীপুর
ব্যাখ্যা
- 'আসমানী' কবিতাটি পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন এর 'এক পয়সার বাঁশী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কবিতায় 'আসমানী' চরিত্রটির বাড়ি ফরিদপুর সদরের ইষান গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম।

কবিতাটির কিছু অংশ নিম্নরূপ:

'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমন্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী।
- হাসু।
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।
• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৬.
'রঙিন ফুলের সোহাগ জড়ানো ফুল-মালঞ্চ ধরি।' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'রঙিন ফুলের সোহাগ জড়ানো ফুল-মালঞ্চ ধরি।' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন
- এটি তাঁর রচিত 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'প্রতিদান' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

প্রতিদান,
- জসীম উদ্‌দীন

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান,
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি
রঙিন ফুলের সোহাগ জড়ানো ফুল-মালঞ্চ ধরি।
যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী,
আমি লয়ে সখি, তারি মুখখানি,
কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি,সাজাই নিরন্তর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১৭.
জসীমদ্‌দীন রচিত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. ধানক্ষেত
  3. বালুচর
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা
• জসীমদ্‌দীন রচিত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি ধানক্ষেত কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।
 
• জসীমউদ্দীন:
- জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 

• ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 
নিমন্ত্রণ, 
– জসীম উদ্‌দীন। 

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়।

উৎস: ধানখেত, জসীমউদ্‌দীন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।।
২১৮.
"তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;" - পঙক্তিদ্বয় জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) রাখালী
  2. খ) বালুচর
  3. গ) ধানক্ষেত
  4. ঘ) মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিদ্বয় পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের 'ধানক্ষেত' কাব্যগ্রন্থের 'নিমন্ত্রন' কবিতার অন্তর্গত।  
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া। (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: নিমন্ত্রন, জসীমউদ্দীন।
২১৯.
কবি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক কোনটি ?
  1.  বোবা কাহিনী
  2.  বেদের মেয়ে
  3.  ডালিম কুমার
  4. সুচয়নী
ব্যাখ্যা

• জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।
 • 'বোবা কাহিনী' কবি জসিমউদ্দিনের রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২২০.
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) কবর
  2. খ) রূপাই
  3. গ) পল্লিজননী
  4. ঘ) আসমানী
ব্যাখ্যা
কবর
– জসীম উদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!


• পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত 'কবর' কবিতাটি 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে। 

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাসমূহ হলো-
- রাখাল ছেলে,
- পল্লিজননী প্রভৃতি।

পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী,
- মা যে জননী কান্দে।

উৎস: ‘কবর’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২১.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকার নাম কী?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) রূপাই
  3. গ) সাজু
  4. ঘ) দুলী
ব্যাখ্যা
• 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা - সাজু
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ই. এম. মিলফোর্ড।
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২২.
কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থটি ''Folk Tales of Bangladesh' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে? 
  1. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. বাঙালীর হাসির গল্প
  4. মুর্শীদা গান
ব্যাখ্যা

• বাঙালীর হাসির গল্প: 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বাঙালীর হাসির গল্প' গ্রন্থটি 'Folk Tales of Bangladesh' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

- জসীম উদ্‌দীন রচিত বাঙালীর হাসির গল্পের দুটি খণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের অনেকগুলো গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পই হাস্যরসাত্মক। কূটবুদ্ধি, বোকামী, সরলতা, অজ্ঞতা, দুষ্টুমি, গোঁড়ামি সবকিছুর মিশেলে বাঙালীর জীবন-যাপন আর তাদের কাণ্ডকারখানা নিয়ে গল্পগুলো রচিত। মাছ, আয়না, তেলের শিশি, বেলপাতা, পুত, নুন এসব সামান্য আটপৌরে জিনিস নিয়ে তিনি এমন সব গল্প বলেছেন যা না পড়লে বিশ্বাস হবে না। 

অন্যদিকে, 
------------------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।  কবি জসীম উদ্দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন। রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

• জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান।  জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

উৎস: 'বাঙালীর হাসির গল্প' সংকলন; 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

২২৩.
পল্লীকবি জসীম উদদীন রচিত কবর কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
• 'কবর' কবিতা:
- রচয়িতা পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায় ।
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ।
- কবিতাটিতে ১১৮টি পংক্তি আছে ।

- কবি কলেজে পড়ার সময় কবিতাটি রচনা করেন ।
- কবি ছাত্রাবস্থাতেই কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য- তালিকাভুক্ত হয় ।
- প্রিয়জন হারানোর মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ কবিতাটির বিষয়বস্তু ।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ  ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
------------------ 
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তাঁকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর রচিত কবিতাগুলোতে কুশলতার সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গাথাকাব্যটি E.M. Millford কর্তৃক ' The Field of the Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- সুচয়নী,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- রূপবতী।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৪.
জসীম উদ্‌দীন পল্লিগীতি সংগ্রাহক পদে নিযুক্তি লাভ করেন কার আনুকূল্যে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লিগীতি সংগ্রাহক পদে নিযুক্তি লাভ করেন 'ড. দীনেশচন্দ্র সেনের' আনুকূল্যে

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৫.
নিচের কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি? 
  1. দেশে বিদেশে 
  2. চলে মুসাফির
  3. ইউরোপের পথে ঘাটে 
  4. ভলগার তীরে
ব্যাখ্যা

​জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

​অন্যদিকে,
- ​দেশে বিদেশে: সৈয়দ মুজতবা আলী।
- ​ভল্‌গার তীরে : নির্মলেন্দু গুণ। 

​• জসীমউদ্‌দীন:

- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- তিনি ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

​তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: ​বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৬.
নিচের কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস?
  1. কুহেলিকা
  2. বোবাকাহিনী
  3. টুনি মেম
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
• বোবা কাহিনী:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত  উপন্যাস ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) ।
- উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২২৭.
'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীম উদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।

কবর,
- জসীম উদ্‌দীন

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
------------------------------------------
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে,
এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজীদ হইছে আজান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুর,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দুর!
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর্, ‘আয় খোদা, রহমান,
ভেস্ত নাজেল করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত প্রাণ!’

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২২৮.
জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. হলদে পরীর দেশে
  2. ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  3. মাটির কান্না
  4. ডালিম কুমার
ব্যাখ্যা
• 'ডালিম কুমার' জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

• তারঁ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• জসীম উদ্দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস
পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত:
- বোবাকাহিনী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- যাঁদের দেখেছি (স্মৃতিকথা, ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (স্মৃতিকথা),
- জীবন কথা (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৯.
'মাটির কান্না' কাব্যগ্রন্থটি রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী, 
-  নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- মাটির কান্না
- সুচয়নী, 
- পদ্মা নদীর দেশে, 
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, 
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে, 
- স্মরণের সরণী বাহি, 
- ডালিম কুমার, 
- পদ্মাপার, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বোবাকাহিনী। 

গল্পগ্রন্থ: 
- বাঙ্গালীর হাসির গল্প। 

গানের সংকলন: 
- জারীগান ও 
- মুর্শীদা গান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩০.
নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদদীন:
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।

♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।

♦ নকশী কাঁথার মাঠ: 
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'The Field of Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
- ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় বাংলা সাহিত্যের এই অনবদ্য আখ্যানকাব্যটি।
- 'নকশী কাঁথার মাঠ' কবির শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এই কাব্যোপন্যাসটি দুজন বাস্তব চরিত্র রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

তথ্যসূত্র:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. Who's who in Bangladesh art, culture, literature, আবু ফজল শামসুজ্জামান।
৫. বাংলাপিডিয়া।
২৩১.
‘বালুচর’ কবিতাটি জসীমউদ্‌দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাখালী
  2. মাটির কান্না
  3. মাটির
  4. ধানখেত
ব্যাখ্যা
- ‘বালুচর’ কবিতাটি জসীমউদ্‌দীনের 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থ, জসীমউদ্‌দীন।
২৩২.
জসীম উদ্‌দীন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যাল
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীম উদ্‌দীন অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা:
- জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮) অর্জন করেন।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৩.
'বছির ও রহিমুদ্দিন' জসীমউদ্‌দীন রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. মালঞ্চ
  3. বোবা কাহিনী
  4. ডালিমকুমার
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

অন্যদিকে:
- 'ডালিমকুমার' হচ্ছে জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ।
- কবি জসীম উদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- ‘মালঞ্চ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।

জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনের 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৪.
জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. যে দেশে মানুষ বড়
  2. হলদে পরীর দেশে
  3. চলে মুসাফির
  4. দুয়ার হতে অদূরে
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনিগুলো হলো:
- যে দেশে মানুষ বড়,
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে।

অন্যদিকে,
- দুয়ার হতে অদূরে - বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।

জসীমউদ্দীন:

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩৫.
'এক পয়সার বাঁশি' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ কাব্য-
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিমকুমার।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২৩৬.
জসীমউদ্দিনের 'কবর' কবিতাটি কোন্ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. তত্ত্ব-বোধিনী
  2. ধূমকেতু
  3. কালি ও কলম
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
কবর
-জসীম উদ্‌দীন
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এ
তটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

• তাঁর রচিত নাটক:
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• তার রচিত আত্মকথা:
যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, জীবন কথা ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনি:
চলে মুসাফির, হলদে পরির দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থটি 'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে?
  1. জারীগান
  2. বাঙালীর হাসির গল্প
  3. মুর্শীদা গান
  4. নক্সী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন রচিত বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি 'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

• জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান।  জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২৩৮.
পল্লীকবি জসীম উদদীন এর 'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়' একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. আত্মকথা
  4. ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদদীন: 
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত, দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে জসীম উদ্‌দীন কাজ করেন।
- তিনি পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও।
- জসীমউদ্দীন জারীগান ও মুর্শীদা গান নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।

♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

♦ নাটক: 
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

♦ আত্মকথা: 
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

♦ গান:
- আমার সোনার ময়না,
- আমার হাড় কালা করলাম রে,
- আমায় ভাসাইলি রে,
- আমায় এতো রাতে,
- নদীর কূল নাই কিনার নাই,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে, রে ভোমরা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র -
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. Who's who in Bangladesh art, culture, literature, আবু ফজল শামসুজ্জামান।
৫. বাংলাপিডিয়া।
২৩৯.
'পদ্মা নদীর দেশে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- জসীমউদ্‌দীন কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী, 
- নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- মাটির কান্না, 
- সুচয়নী, 
- পদ্মা নদীর দেশে
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, 
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে, 
- স্মরণের সরণী বাহি, 
- ডালিম কুমার, 
- পদ্মাপার, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বোবাকাহিনী। 

গল্পগ্রন্থ: 
- বাঙ্গালীর হাসির গল্প। 

গানের সংকলন: 
- জারীগান ও 
- মুর্শীদা গান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ’কবর’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. কল্লোল
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. কবিতা 
ব্যাখ্যা

• 'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর- কবিতা,
--------জসীমউদ্‌দীন।
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
-----------------

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪১.
‘জারীগান’ লোকসঙ্গীত গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ‘জারীগান ও মুর্শীদা গান’ সংকলন গ্রন্থ:
জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

অন্যদিকে,
• চন্দ্রকুমার দে ছিল পালা গানের সংগ্রাহক। ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকার অনেক পালাগানের সংগ্রাহক ছিলেন তিনি।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• দীনেশচন্দ্র সেন 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪২.
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে _____________।
  1. ক) আঁখির জলে
  2. খ) চোখের জলে
  3. গ) নয়ন জলে
  4. ঘ) অশ্রুজলে
ব্যাখ্যা
"এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।"

   - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

• কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
- কলেজজীবনে ‘কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
• নক্সী কাঁথার মাঠ,
• সোজন বাদিয়ার ঘাট,
• রঙিলা নায়ের মাঝি,
• মাটির কান্না,
• সুচয়নী,
• পদ্মা নদীর দেশে,
• ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
• পদ্মাপার,
• বেদের মেয়ে,
• পল্লীবধূ,
• গ্রামের মায়া,
• ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়,
• জার্মানীর শহরে বন্দরে,
• স্মরণের সরণী বাহি,
• বাঙালীর হাসির গল্প,
• ডালিম কুমার ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৩.
বাপের বাড়ীতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা “আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।” পংক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. ক) জসীম উদ্দীন
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
'বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।' ____পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।
 
'কবর' কবিতা
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে

কবর- কবিতা 
জসীমউদ্দীন
 
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, কবর- কবিতা: জসীমউদ্দীন। 
২৪৪.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. ভোলা
  2. বরিশাল
  3. ফরিদপুর
  4. মাদারীপুর
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
-তার পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- এম. এ.  অধ্যয়নকালে তিনি ড. দীনেশ্চন্দ্র সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লিগীতি সংগ্রাহক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ই মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ ( E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন),
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২৪৫.
'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন

• জসীম উদ্‌দীন:

- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৬.
'রুপাই' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'রুপাই' কবিতাটির রচয়িতা - কবি জসীমউদ্‌দীন।

মূলত পৃথক ভাবে রুপাই নামে কোন কবিতা নেই। 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে 'রুপাই' শিরোনামে খানিকটা কবিতা সংকলিত হয়েছে।

• ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা,  শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
• গাঁথাকাব্য:
- নকশীকাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট
- মা যে জননী কান্দে

• খণ্ড কবিতা:

- রাখালীবালুচর
- ধানক্ষেত
- রূপবতী 
- মাটির কান্না
- সূচয়নী

• নাটক:

- পদ্মাপাড়
- বেদের মেয়ে
- মধুমালা
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশ
- যে দেশে মানুষ বড়

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৭.
'জার্মানির শহরে ও বন্দরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সানাউল হক
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'জার্মানির শহরে বন্দরে' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লেখেন-
অবশেষে 'জার্মানির শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মোঃ রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে ম্লান করিতে চাহি না।

উল্লেখ্য, 
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
• দুয়ার হতে অদূরে - বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বেদের মেয়ে, 
- পদ্মাপাড়,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ। 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বোবাকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৮.
তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মেছিলেন কোন কবি?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আবুল হাসান
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

- তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে আবুল হাসানের জন্ম। 
• ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় শহীদ কাদরীর জন্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৯.
জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের চিঠি
  2. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  3. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  4. মা যে জননী কান্দে
ব্যাখ্যা
• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।
- কবি জসীম উদ্‌দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন।
- রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- বঙ্গ-বন্ধু,
- কি কহিব আর,
- মুক্তি-যোদ্ধা,
- হবে হবে জয়,
- স্বাধীনতার দিনে,
- জাগায়ে তুলিব আশা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• "একাত্তরের চিঠি" একটি সংকলন গ্রন্থ, যেখানে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা বিভিন্নজনের চিঠি সংকলিত হয়েছে। এই সংকলনের সম্পাদনা পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন সালাউদ্দীন আহমদ, আমিন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ।  
 
• 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
• 'মা যে জননী কান্দে' জসীম উদ্‌দীন রচিত কাহিনি কাব্য। 

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ কবি জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৫০.
'বছির ও আজহার' চরিত্র দুটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) বোবা কাহিনি
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
'বছির ও আজহার' চরিত্র দুটি জসিম উদ্‌দীন  এর ‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাসের অন্তর্গত।

‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাস
- জসীম উদ্দীন রচিত ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।। 
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই । নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।
• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র :
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

• ‘মধুমালা’, ‘বেদের মেয়ে’, ‘পদ্মাপাড়’ তাঁর রচিত নাটক সমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫১.
জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত 'কবর' কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
  1. মুক্তাক্ষর
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্‌দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থ থেকে 'কবর' কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে।
- জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কবর
জসীম উদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। এবং দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫২.
জসিমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনী নয় নিম্নের কোনটি?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) জলে-ডাঙায়
  3. গ) হলদে পরীর দেশে
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন:
- কবি, শিক্ষাবিদ জসীমউদ্দীন এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে । তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। 
- ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯২১), রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই.এ (১৯২৪) ও বি.এ (১৯২৯) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তিনি এম.এ (১৯৩১) পাস করেন।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী
- চলে মুসাফির (১৯৫২)
- হলদে পরীর দেশে ( ১৯৬৭)
- যে দেশে মানুষ বড় (১৯৬৮)
- জার্মানীর শহরে বন্দরে (১৯৭৫)

উল্লেখ, 'জলে-ডাঙায়' সৈয়দ মুজতয়া আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৩.
'জীবন কথা' স্মৃতিগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ জসীমউদ্দীন:  
- পল্লিকবি বলা হয়।   
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- এমএ পাস করার পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে  রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী ছিলেন। 
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।

⇒ তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:   
• রাখালী (প্রথম),  
• নক্সী কাঁথার মাঠ,
• সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
• মা যে জননী কান্দে,
• বালুচর,
• ধানক্ষেত,
• মাটির কান্না,
• সুচয়নী ইত্যাদি। 

⇒ তাঁর স্মৃতিকথা: 

• যাঁদের দেখেছি,
• ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়,  
• জীবন কথা।   

⇒ ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।    

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৪.
"আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।" - কোন কবির রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত কবিতা 'প্রতিদান' -এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি কবির 'বালুচর' কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে।
- এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ  ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

জসীমউদ্‌দীনের কবিতার প্রধান উপজীব্য পল্লিজীবন।
তাঁর বিখ্যাত 'নকসী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৫৫.
পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন জন্মগ্রহণ করেন-
  1. মজুপুর গ্রাম, ফেনি
  2. গোবিন্দপুর গ্রাম, ফরিদপুর
  3. কাশবন গ্রাম, নেত্রকোনা
  4. তাম্বুলখানা গ্রাম, ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীম উদদীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২৫৬.
কবি জসীম উদ্​দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর কোন কবিতা বিশেষ প্রশংসা পায়?
  1. রুপাই
  2. আমার বাড়ি
  3. নিমন্ত্রণ
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• কবি জসীম উদ্​দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর 'কবর' কবিতাটি বিশেষ প্রশংসা পায়। 
-----------------
কবর কবিতা: 
- কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- 'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে।
- এটি কবি জসীম উদ্দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা।
- এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।
--------------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৭.
নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি? 
  1. সাজু 
  2. রুপাই 
  3. দুলী 
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
“আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্‌ঝুম নিরালায়!”
পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

“আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।”

পঙ্‌ক্তিগুলো কবি জসীমউদ্দিনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। জসীমউদ্দিন কলেজজীবনেই ‘কবর’ কবিতাটি রচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২৫৯.
'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধানখেত
  2. বালুচর
  3. মা যে জননী কান্দে
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা

• 'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
- জসীমউদ্দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, 
​তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
​ এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, 
​পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক

​------------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবর' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬০.
জসীমউদ্‌দীন রচিত নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি কতটি সর্গে বর্ণিত হয়েছে?
  1. চোদ্দটি
  2. পনেরটি
  3. তেরটি
  4. বারটি
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ  একটি কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ।
- রচয়িতা কবি  জসীমউদ্দীন রচনাকাল ১৯২৯।
- নক্সী কাঁথার মাঠ একটি  শিল্পসফল কাহিনি কাব্য।
- কাব্যটি চোদ্দটি সর্গে বর্ণিত।
- কাব্যিকভাবে সবকটি দৃশ্য মিলে এতে একটি সামগ্রিক জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে অসাধারণ শৈল্পিকতার সঙ্গে।
- এর প্রতিটি দৃশ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, বাস্তবধর্মী ও কবিত্বময়।
- রূপা ও সাজুর এ কাহিনিকে কবি ‘করুণ গাথা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কারণ মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে দুটি প্রাণ প্রেমের জন্যে প্রায়শ্চিত্ত করেছে। 
===============

জসীমউদ্‌দীন
- জসীমউদ্‌দীন ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবি তাঁর কবিতায় বাংলাদেশের পল্লিপ্রকৃতি ও মানুষের সহজ স্বাভাবিক রূপটি তুলে ধরেছেন।
- পল্লির মাটি ও মানুষের জীবনচিত্র তাঁর কবিতায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।
- পল্লির মানুষের আশা-স্বপ্ন- আনন্দ-বেদনা ও বিরহ- মিলনের এমন আবেগ-মধুর চিত্র আর কোনো কবির কাব্যে খুঁজে পাওয়া ভার ।
- এ কারণে তিনি ‘পল্লিকবি' নামে খ্যাত কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কিছুকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

• জসীমউদ্‌দীনের উল্লেখযোগ্য কাব্যের মধ্যে রয়েছে -
→ নক্সী- কাঁথার মাঠ,
→ সোজনবাদিয়ার ঘাট,
→ রাখালী,
→ বালুচর,
→ হাসু,
→ এক পয়সার বাঁশি,
→ মাটির কান্না ইত্যাদি।

- তাঁর নক্সী-কাঁথার মাঠ কাব্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- চলে মুসাফির তাঁর ভ্রমণকাহিনী।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
- এছাড়া সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৪ই মার্চ কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
২৬১.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যের দ্বিতীয় অংশের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. রূপাই ও সাজুর বিচ্ছেদ
  2. রূপাই ও সাজুর মিলন
  3. রূপাই ও সাজুর অনুষ্ঠান
  4. রাজপরিবারের যুদ্ধবিগ্রহ
ব্যাখ্যা

নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৬২.
'রঙিলা নায়ের মাঝি' এর রচয়িতা -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' এর রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন
- এটি একটি গানের সংকলন।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলনের নাম:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. রাখালী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। 

- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।

- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের এক ছিন্নমূল কৃষকসন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

-----------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৪.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০১ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৯০৪ সালে
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীম উদদীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২৬৫.
তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৬৬.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. মাটির কান্না
  3. ধানক্ষেত
  4. মায়া কাজল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মায়া কাজল’ সুফিয়া কামাল রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

 • জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।

 • জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৬৭.
রূপা ও সাজু চরিত্র দুটি জসীমউদ্দিনের কোন কাহিনিকাব্যের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. নকশি কাঁথার মাঠ
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন: 
- ১লা জানুয়ারি, ১৯০৩ সালে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় “কবর” কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অনর্গত।

- তাঁর বিখ্যাত গাথা কাব্যগুলো হলো: নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

- “সুচয়িনী” জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- জসীমউদ্দীন “জারীগান” ও “মুর্শীদা গান” নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford; ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি গুলো হলো: 
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

 উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২৬৮.
‘কবর’ কবিতায় কতটি পঙ্‌ ক্তি রয়েছে?
  1. ১০২টি
  2. ৯৬টি
  3. ১৩২টি
  4. ১১৮টি
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে

কবর
  জসীম উদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৯.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. নকশী কাঁথার মাঠ
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. রাখালী
  4. ধানখেত
ব্যাখ্যা
• 'রাখালী':
- 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• জসীমউদ্‌দীন:
- পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭০.
নিচের কোনটি জসীম উদ্‌দীনের রচিত গানের সংকলন নয়?
  1. গাঙের পাড়
  2. জারিগান
  3. রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। এবং 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'রাখালী' - জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় - ১৯২৭ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৭১.
‘কবর’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীমউদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিত।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।

• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তাঁকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর রচিত কবিতাগুলোতে কুশলতার সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গাথাকাব্যটি E.M. Millford কর্তৃক ' The Field of the Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- সুচয়নী,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- রূপবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭২.
রূপসী বাংলার কবি-
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) কালিদাস রায়
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
জীবননান্দ দাশএকজন কবি, শিক্ষাবিদ।
তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- রূপসী বাংলা,
- বনলতা সেন,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- সাতটি তারার তিমির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো ‘কবিতার কথা’।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- মাল্যবান 
- সতীর্থ  

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
২৭৩.
'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়' আত্মকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জসীমউদ্দিন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
কবি, শিক্ষাবিদ জসীমউদ্দীন এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে । তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।

তাঁর আত্মকথামূলক গ্রন্থ সমূহ: 
- যাদের দেখেছি (১৯৫১)
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১)
- জীবন কথা ( ১৯৬৪)
- স্মৃতিপট (১৯৬৪)
- স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮) 

- ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ; বাংলাপিডিয়া।
২৭৪.
নিচের কোন কবি পল্লীসাহিত্যের অন্যতম সংগ্রাহক ছিলেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
কবি জসীমউদ্‌দীন:
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:  
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে।

কবির স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ - ঠাকুরবাড়ির আঙিনা।

অন্যদিকে, 
- 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'ময়নামতির চর'- বন্দে আলী মিয়ে রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২৭৫.
'তুজম্বর আলি' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনাম ব্যবহার করে জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে'। 

অন্যদিক,
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি বা অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• অমিয় চক্রবর্তী "বঙ্গনারী" ছদ্মনামে প্রবন্ধ-নিবিন্ধ প্রকাশ করতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৬.
‘জারীগান’ ও ‘মুর্শীদা গান’ লোকসঙ্গীতের গ্রন্থদ্বয় সংকলন ও সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
‘জারীগান ও মুর্শীদা গান’ সংকলন:
• জসীমউদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
• ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্‌দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।
• দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে।

• ভ্রমণকাহিনি: জার্মানীর শহরে বন্দরে।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- জীবনকথা (আত্মজীবনী),
- যাঁদের দেখেছি (স্মৃতিকথা),
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (স্মৃতিকথা)।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. বালুচর
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. বেদের মেয়ে
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা

• ‘বেদের মেয়ে’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• ‘বোবা কাহিনী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত প্রশত উপন্যাস।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭৮.
জসীম উদ্‌দীনের 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৫ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭৯.
কবি জসীমউদ্‌দীনের ভ্রমণ কাহিনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) হলদে পরীর দেশে
  2. খ) চাচা কাহিনী
  3. গ) বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  4. ঘ) দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
পল্লী কবি জসিম উদ্দিন কর্তৃক রচিত ভ্রমণকাহিনী হলো- চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।
২৮০.
'চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি' - পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীনের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. কিশোরী
  2. পল্লী জননী
  3. মা
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা
• 'চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি' - পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীনের 'পল্লী জননী' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

পল্লী জননী,
- জসীম উদ্‌দীন
রাত থম থম স্তব্ধ, ঘোর-ঘোর-আন্ধার,
নিশ্বাস ফেলি, তাও শোনা যায়, নাই কোথা সাড়া কার।
রুগ্ন ছেলের শিয়রে বিসয়া একেলা জাগিছে মাতা,
করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা।
শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে,
তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে।

ভন্ ভন্ ভন্ জমাট বেঁধেছে বুনো মশকের গান,
এঁদো ডোবা হতে বহিছে কঠোর পচান পাতার ঘ্রাণ?
ছোট কুঁড়ে ঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু,
শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু।

ছেলে কয়, “মারে, কত রাত আছে? কখন সকাল হবে,
ভাল যে লাগে না, এমনি করিয়া কেবা শুয়ে থাকে কবে?”
মা কয়“বাছারে ! চুপটি করিয়া ঘুমা ত একটি বার, ”
ছেলে রেগে কয় “ঘুম যে আসে না কি করিব আমি তার ?”
পান্ডুর গালে চুমো খায় মাতা, সারা গায়ে দেয় হাত,
পারে যদি বুকে যত স্নেহ আছে ঢেলে দেয় তারি সাথ।
নামাজের ঘরে মোমবাতি মানে, দরগায় মানে দান,
ছেলেরে তাহার ভাল কোরে দাও, কাঁদে জননীর প্রাণ।
ভাল করে দাও আল্লা রছুল। ভাল কোরে দাও পীর।
কহিতে কহিতে মুখখানি ভাসে বহিয়া নয়ন নীর।

বাঁশবনে বসি ডাকে কানা কুয়ো, রাতের আঁধার ঠেলি,
বাদুড় পাখার বাতাসেতে পড়ে সুপারীর বন হেলি।
চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি,
দুর ছাই। কিবা শঙ্কায় মার পরাণ উঠিছে ভরি।
যে কথা ভাবিতে পরাণ শিহরে তাই ভাসে হিয়া কোণে,
বালাই, বালাই, ভালো হবে যাদু মনে মনে জাল বোনে।
ছেলে কয়, “মাগো! পায়ে পড়ি বলো ভাল যদি হই কাল,
করিমের সাথে খেলিবারে গেলে দিবে না ত তুমি গাল?
আচ্ছা মা বলো, এমন হয় না রহিম চাচার ঝাড়া
এখনি আমারে এত রোগ হোতে করিতে পারি ত খাড়া ?”
মা কেবল বসি রুগ্ন ছেলের মুখ পানে আঁখি মেলে,
ভাসা ভাসা তার যত কথা যেন সারা প্রাণ দিয়ে গেলে।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; রাখালী, জসীম উদ্‌দীন।
২৮১.
নিচের কোনটি জসিম উদ্দীন রচিত ভ্রমণ কাহিনী ?
  1. জার্মানীর শহরে বন্দরে
  2. হলদে পরীর দেশ
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- জসিম উদ্দীন রচিত ভ্রমণ কাহিনী
- জার্মানীর শহরে বন্দরে
- হলদে পরীর দেশ 
- যে দেশে মানুষ বড় 
- চলে মুসাফির 
তাঁর বিখ্যাত কাব্য 
- নকশী কাঁথার মাঠ 
[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

২৮২.
জসীম উদ্‌দীনের ‘কবর’ কবিতায় দাদু শাপলার হাটে কী বেচাকেনা করতেন?
  1. শাপলা
  2. সবজি
  3. তরমুজ
  4. ধান
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত 'কবর' কবিতায় দাদু শাপলার হাটে তরমুজ বেচাকেনা করতেন।
-----------------
• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- এটি কবি জসীম উদ্‌দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা।
- এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।

'কবিতা' কবিতার অংশবিশেষ, 
লেখক: জসীম উদ্‌দীন।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু’পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবিতা' কবিতা; এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮৩.
'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বালুচর
  3. রাখালী
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা

• কবি  জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানক্ষেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

নিমন্ত্রণ
  জসীম উদ্‌দীন

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৮৪.
"কাঁচা ধানের পাতার মত কচি মুখের মায়া"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
"কাঁচা ধানের পাতার মত কচি মুখের মায়া।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জসীমউদ্‌দীন।
এটি জসীমউদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'নক্সী কাথার মাঠ' এর পঙক্তি।

• নক্সী কাথার মাঠ:
- নক্সী কাথার মাঠ"- কাব্য গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ "The Field of The Embroidered Quilt".
- অনুবাদটি করেছেন,-E.M. Milford.
- 'নকশী কাঁথার মাঠ' কবি জসীমউদ্‌দীনের এক অনবদ্য সৃষ্টি।
- 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি মূলত বাংলাদেশের পল্লীজীবনের কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এর মূল চরিত্র সাজু এবং রূপাই -এর প্রেম কাহিনী।
- তাদের জীবনসংগ্রাম এবং সামাজিক বাধা-বিপত্তির প্রতিফলন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটে উঠেছে এ কাব্যে।
- সাজুর মৃত্যু এবং রূপবান তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে নকশী কাঁথার সেলাইয়ে মগ্ন থাকে- এ ব্যথাতুর কাহিনিই আখ্যানকাব্যের কেন্দ্রবিন্দু।
- পুরো কাহিনীতে গ্রামীণ সমাজের সরল জীবনযাপন, প্রেমের ব্যর্থতা ও করুণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষায়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৮৫.
'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও' পংক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

আসমানী

- জসীম উদ্‌দীন---এক পয়সার বাঁশী

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমন্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।

২৮৬.
'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• "আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
--------------------- 
আসমানী - কবিতা,
– জসীম উদ্‌দীন।

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
--------------------- 
জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) আসমানী - কবিতা।
২৮৭.
কোনটি শিশুতোষ গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কুচবরণ কন্যা
  2. খ) হলদে পরীর দেশে
  3. গ) ডালিম কুমার
  4. ঘ) হাসু
ব্যাখ্যা
'হলদে পরীর দেশে' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
'কুচবরণ কন্যা' বন্দে আলী মিয়াঁ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

 জসীমউদ্দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু
- এক পয়সার বাঁশী
- ডালিমকুমার


 জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৮.
জনপ্রিয় হাস্যরসাত্নক 'বাঙালির হাসির গল্প' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. শিবরাম চক্রবর্তী
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• জনপ্রিয় হাস্যরসাত্নক 'বাঙালির হাসির গল্প' গ্রন্থের রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮৯.
কোন সাহিত্যিকের রচিত গ্রন্থ "The Field of the Embroidered Quilt" নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছিলো?
  1. আল মাহমুদ 
  2. আহসান হাবীব 
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য — নক্সী কাঁথার মাঠ।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- কবর কবিতাটি কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে ,
- মাটির কান্না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯০.
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) হলদে পরীর দেশ
  3. গ) যে দেশে মানুষ বড়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন রচিত কয়েকটি ভ্রমণকাহিনী:
- যে দেশে মানুষ বড়,
- হলদে পরীর দেশ ও
- চলে মুসাফির

আত্মজীবনী
- জীবন কথা

স্মৃতিকথা
- যাঁদের দেখেছি ও ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়

জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯১.
"বোবা কাহিনী" জসীম উদ্‌দীন রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাহিনি কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
-  বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯২.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. রহিমুদ্দিন
  2. আজহার
  3. বছির
  4. রূপাই
ব্যাখ্যা
• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্য:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীম উদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

অন্যদিকে, 
• জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৯৩.
'প্রতিদান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে? 
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. ধানখেত
  3. বালুচর
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা
• ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের — ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলােকপাত করেছেন।

কবিতাটির অংশবিশেষ:

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
------------------ 
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯৪.
জসীম উদ্‌দীন সম্পাদিত লোকসঙ্গীত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. লালন গান
  3. জারীগান
  4. ভাটিয়ালি গান
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন 'জারীগান' (১৯৬৮) ও 'মুর্শীদা গান' (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

• জসীম উদ্‌দীনের সম্পাদনায় এবং বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় জারীগান বইটি ১৯৬৭ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়। বইটির মুদ্রণ অবিকৃত রাখার উদ্দেশ্যে প্রথম মুদ্রিত বইটি 'ফিল্ম' করে দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশ করা হয়েছে।

• জারী গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারী গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীম উদ্‌দীন জারী গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লিখেন-
জারীগান, বিষাদের গান। এই গান স্বাধীনতাপূর্ব বঙ্গদেশের মুসলিম সংস্কৃতির একটি সাফল্যজনক নিদর্শন। মুসলমানেরাই এদেশে জারীগানের প্রথম প্রবর্তন করেন। এই গানের বিষয়বস্তু মুসলমানী পৌরাণিক ঘটনাবলী হইলেও মুহব্রমের করুণ কাহিনি ইহাতে প্রধান অংশ গ্রহণ করিয়াছে। কোন কোন জারীগানের দলে চণ্ডীদাস-রজকিনী, নিমাই-সন্ন্যাস প্রভৃতি কাহিনিও জারীর সুরে গাওয়া হয়। ইহা হয়ত আসরের হিন্দু-শ্রোতাদের মনোরঞ্জনের জন্য।
এখানে একটি কথা বলিয়া রাখি। স্বাধীনতাপূর্ব বালা দেশে হিন্দু-মুসলমানের সংখ্যা প্রায় সমান সমান ছিল। যে কোন গানের আসরে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের শ্রোতাই থাকিত। সেই জন্য এ দেশের ধর্মকাহিনিকে কতকটা সার্বজনীন করিয়া লইতে না পারিলে শ্রোতাদের মন পাওয়া যাইত না। তাই এদেশের উভয় সম্প্রদায়ের পৌরাণিক কাহিনিগুলি অনেকটা মানবীয় ধর্মে অনুরঞ্জিত হইয়া উঠিয়াছে। এ কথা আমরা অন্যত্র বিশদভাবে আলোচনা করিব।
পূর্বেই বলিয়াছি, জারীগানে নানারকম কাহিনি বর্ণিত হইলেও মুহরমের করুণ গাথা এই গানের প্রধান বিষয়বস্তু। প্রথমে মুহরমের কাহিনি লইয়াই জারীগানের আরম্ভ হইয়াছে। পরবর্তীকালে অন্যান্য শ্রোতার চাহিদা অনুসারে অন্যান্য কাহিনি এই গানে প্রবেশ করিয়াছে। সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক মিঃ খোদা-বশের একটি প্রবন্ধ হইতে মুহৱম কাহিনির ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর উল্লেখ করি।

উল্লেখ্য, 
• জসীম উদ্‌দীনের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে গবেষণার ফসল মুর্শীদা গান বইটি। যা বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ১৯৬৬ সালে প্রকাশনার জন্য হাতে নিয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের বিলুপ্তির পর বাংলা একাডেমি প্রচণ্ড অবহেলার সাথে কবির মৃত্যুর পর "মুর্শীদা গান" বইটি প্রকাশ করে।

উৎস: 'জারীগান' গ্রন্থের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯৫.
'বছির এবং আজহার' - চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র: 
- বছির, 
- আজহার
- আরজান, 
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯৬.
কবি জসীম উদ্‌দীনকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি প্রদান করেন-
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
-  জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- 'সুচয়নী' জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
- কবি জসীম উদ্দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

জসীম উদ্‌দীন অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা:
- জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮) অর্জন করেন।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

•  তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' একটি - 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

- ১৯২৯ সালে প্রকাশিত তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।
------------

• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯৮.
"বছির" - কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. আগুনের পরশমণি
  2. লালসালু
  3. বোবা কাহিনী
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

"বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী - উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

অন্যদিকে,
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের চরিত্র - বদিউল আলম।
'লালসালু' উপন্যাসের চরিত্র - মজিদ, জমিলা, আমেনা।
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র - জয়গুন, হাসু, মায়মুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯৯.
‘আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়……’ পঙক্তিটি কার?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) তুলসী দাস
ব্যাখ্যা

কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।''

 - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

৩০০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. পদ্মাপার
  2. সুচয়নী
  3. পল্লীবধূ
  4. মধুমালা
ব্যাখ্যা
• কবি জসীম উদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ- সুচয়নী।
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউ দদীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- 'সুচয়নী' জসীম উদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।