• শত্রুঘ্ন = শত্রুকে হত্যা করে যে।- উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস: :
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: অগ্রে গমন করে যে = অগ্রগামী
- এখানে 'গামী'র স্বতন্ত্র প্রয়োগ নেই। অগ্রে গামী বললে চলবে না, ব্যাসবাক্য হবে 'অগ্রে গমন করে যে'।
- এরূপ ধামা ধরে যে = ধামাধরা; ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা ইত্যাদি।
- কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে।
অথবা, যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ:
অগ্রজ, আত্মজ, পঙ্কজ; মাছিমারা, ইঁদুরমারা (কল); ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকার, জলচর, খেচর, নিশাচর, নভশ্চর; স্বর্ণকার, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, গণিতজ্ঞ, শাস্ত্রজ্ঞ; গাঁটকাটা, পকেটকাটা; পদস্থ, তটস্থ, গৃহস্থ, দ্বারস্থ, মুখস্থ, প্রকৃতিস্ব, পাত্রস্থ, ছন্নছাড়া, জলদ [জল দেয় যে), দলছাড়া, ঘরছাড়া; পরজীবী, চিরজীবী, বুদ্ধিজীবী, শত্রুঘ্ন [শত্রুকে হত্যা করে যো, শ্রমজীবী; পথহারা, গৃহহারা, বাস্তুহারা, দিশাহারা; চিত্রকর, মধুকর, বাজিকর, জাদুকর, আকাশচারী; সুবিধাভোগী, বেতনভোগী, ভুক্তভোগী, অস্ত্রধারী, ভেকধারী, জটাধারী; পারদর্শী, দুস্থ [দুঃখে থাকে যে), দূরদর্শী; অস্তগামী, ধীরগামী, দ্রুতগামী।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।