ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন-
অভাব অর্থে (নিঃ = নির)-
উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ
আমিষের অভাব = নিরামিষ,
ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা,
জলের অভাব = নির্জল।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৪ / ২৫ · ২,৩০১–২,৪০০ / ২,৫০১
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: কালো বরণ যার = কালোবরণ; পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে।
এরকম
বিশেষণ + বিশেষ্য:
অন্যমনস্ক, সুকণ্ঠ, অল্পবয়সি, খ্যাতনামা, সুহৃদয় (সুহৃদ), গৌরাঙ্গ, ছিন্নমূল, মধ্যবয়সি, স্বল্পায়ু, তীক্ষ্ণবুদ্ধি, হতশ্রী, হতভাগ্য, হতবুদ্ধি, সুদর্শন, উচ্চশির, কদাকার, দ্রুতগতি, করিতকর্মা, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, শীর্ণকায়, নতজানু, শুদ্ধচিত্ত, সঙ্কীর্ণচিত্ত, কৃতকার্য ইত্যাদি।
বিশেষ্য + বিশেষণ :
কানকাটা, ঠোঁটকাটা, লেজকাটা, লেজঝোলা, ইঁচড়েপাকা, শান্তিপ্রিয়, কর্মনিষ্ঠ, শীতপ্রধান, সঙ্গীতপ্রিয়, ঘরপোড়া, রাশভারি, পেটমোটা ইত্যাদি।
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পর পর অন্বিত দুটি বিশেষ্য পদে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়; অর্থাৎ বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য-বিশেষ্য হলে এবং এর যেকোনো একটি পদ ব্যাসবাক্যে অধিকরণ সম্পর্ক বোঝালে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- এক কথায় বলা যায় যে, বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয় তবে তাকে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: শূল পাণিতে যার = শূলপাণি; বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি। এরকম: অশ্রুমুখী, অন্যমনা, ক্ষণজন্মা, খড়গহস্ত, বিয়োগান্ত, আশীবিষ, ঊর্ণনাভ, পদ্মনাভ, কর্ণফুলি, চশমা-নাকে, চুড়ি-হাতে, ছাতা-হাতে, জুতা-পায়ে ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
----------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য:
- সন্ধি ও সমাস—উভয়ই শব্দগঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলেও এদের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
১) সন্ধি ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব শাখায় আলোচিত হয়, কারণ এতে মূলত ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনির মিলন ঘটে।
- অন্যদিকে, সমাস আলোচিত হয় শব্দতত্ত্বে, কারণ এতে ধ্বনির নয়, বরং পদের মিলন ঘটে।
২) সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ করা এবং ভাষায় ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা। ফলে সন্ধিতে শব্দের অর্থের চেয়ে ধ্বনির পরিবর্তনই মুখ্য হয়ে ওঠে।
- সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে সংক্ষেপ করা—অর্থাৎ পরস্পর অর্থসঙ্গত একাধিক পদকে একপদে রূপান্তর করা। এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হয়।
৩) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—
- সন্ধিবদ্ধ পদ সবসময়ই সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ সেখানে ধ্বনির মিলনের পাশাপাশি অর্থগত সংযোগও থাকতে পারে।
- কিন্তু সমাসবদ্ধ পদ সব সময় সন্ধিবদ্ধ নাও হতে পারে; অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধ্বনিগত পরিবর্তন ছাড়াই কেবল পদের সংযোগে সমাস গঠিত হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• দ্বিগু সমাস:
- দ্বিগু সমাসে প্রথম পদটি হবে সংখ্যাবাচক আর পরপদটি হবে বিশেষ্য।
- অর্থাৎ, যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
- যেমন:
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- আবার, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- উদাহরন্সরুপ:
- দশ চক্রের সমাহার = দশচক্র।
- চার রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা।
- তিন নদীর মোহনা =তেমহনা।
- ত্রি পদের সমাহার = ত্রিপদী
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী;
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী।
- চার অঙ্গের সমাহার = চতুরঙ্গ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
- ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।
তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত।
অন্যদিকে,
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস - প্রাণের বধ = প্রাণবধ।
অব্যয়ীভাব সমাস: - অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'অলুক তৎপুরুষ' সমাস নয়- মাথায়পাগড়ি।
----------------------------------------------
- চিনির বলদ = চিনির বলদ,
- তেলে ভাজা = তেলে ভাজা,
- ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা- অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি (দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী) সমস্তপদেও লোপ পায়না তাই অলুক তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাসের যতগুলি শ্রেণি আছে, অলুক তৎপুরুষ তার সর্বকম শ্রেণিরই হতে পারে।
- যেমন:
- ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম,
- খসে পড়া = খসে পড়া,
- ছাঁটে চালা = ছাঁটে চালা,
- আইনের প্যাঁচ = আইনের প্যাঁচ,
- ভাগের-মা = ভাগের মা,
- সোনার-বাংলা = সোনার বাংলা,
- সোনার-তরী = সোনার তরী,
- হাতের-পাঁচ = হাতের পাঁচ,
- সাপের-পা = সাপের পা,
- মনের-মানুষ = মনের মানুষ,
- কলের-গান = কলের গান,
- হাতে-কাটা = হাতে কাটা,
- চোখের-বালি = চোখের বালি।
---------------------------------
• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- মুখে ভাত দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখেভাত,
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে-হলুদ।
- হাতে খড়ি দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
• অলুক বহুব্রীহি সমাসের কিছু উদাহরণ-
- কথায় পটু, মাথায় ছাতা, চশমা-নাকে, মুখে-মধু,পায়ে-বেড়ি ইত্যাদি।
উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ‘পদ্মানদী' শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত।
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' 'নাম্নী' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়।
- উদাহরণস্বরূপ- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী; এখানে ‘নাম্নী’ মধ্যপদটি লোপ পেয়েছে।
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী,
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত,
- রাষ্ট্র সম্পর্কীয় নীতি = রাষ্ট্রনীতি,
- চিনি নির্মাণের কল = চিনিকল,
- চালে জন্মানো কুমড়া = চালকুমড়া,
- গো (ক্ষুরের) পরিমিত পদ বা স্থান = গোষ্পদ,
- প্রাণ যাওয়ার তরে ভয় = প্রাণভয়,
- ধর্মবিহিত ধার্য = ধর্মধার্য,
- এক অধিক বিংশতি = একবিংশতি,
- রেলের ওপর চলে যে গাড়ি = রেলগাড়ি,
- আয়ের ওপর কর = আয়কর,
- হস্ত দ্বারা চালিত শিল্প = হস্তশিল্প,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
-----------------------------------------------
অন্যদিকে,
• উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ:
- তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র।
• উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ:
- চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।
• রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ:
- বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু,
- মনমাঝি = মন রূপ মাঝি।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
• খাস যে মহল = খাসমহল;
• ক্ষুধিত যে পাষাণ = ক্ষুধিত-পাষাণ;
• অক্ষয় যে কীর্তি = অক্ষয়কীর্তি;
• অর্ধ যে পথ = অর্ধপথ;
• নব যে অন্ন = নবান্ন ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
যে সমাসে পুর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন-, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে= হাতেখড়ি।
চিরুনির মতো দাঁত যার= চিরুনদাঁতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ,
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী,
- পুণ্য আত্মা যার = পুণ্যাত্মা ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ‘একোন’- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়।
--------------------------
• তৎপুরুষ সমাস:
- তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি হারিয়ে যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- এটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম বিভক্তি পর্যন্ত যেকোনো বিভক্তি লোপের মাধ্যমে গঠিত হতে পারে।
- বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদের নামকরণ করা হয়।
- তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকারের-
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ,
- তৃতীয়া তৎপুরুষ,
- চতুর্থী তৎপুরুষ,
- পঞ্চমী তৎপুরুষ,
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ,
- সপ্তমী তৎপুরুষ,
- নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক),
- উপপদ তৎপুরুষ,
- অলুক তৎপুরুষ (বিভক্তি লোপ পায় না)।
----------------------------
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হলো সেই সমাস যেখানে পূর্বপদের দ্বিতীয় বিভক্তি (যেমন—কে, রে) বিলীন হয়ে যায়;
- এবং পরপদের অর্থই মূলভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
- ‘বিপদকে আপন্ন’ → ‘বিপদাপন্ন’; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'আত্মকে রক্ষা' → 'আত্মরক্ষা'; এখানে ‘কে’ বিভক্তি বিলীন হওয়ায় এটি দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
- 'চিরকাল ধরে সুখ' → 'চিরসুখ'; (ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়)।
------------------------------
- ‘একোন’- তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তি (যেমন—দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক) মিলিয়ে যায় এবং শেষের পদই মূল অর্থ প্রকাশ করে, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
- উদাহরণ:
- এক দ্বারা ঊন = একোন।
- গুণহীন = গুণ দ্বারা হীন।
- মনগড়া = মন দিয়ে তৈরি।
- বিদ্যাহীন = বিদ্যা দ্বারা হীন।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি
- চিরুনির মত দাঁত যার = চিরুনি দাঁত
- সে ( তিন) তারের যে যন্ত্র = সেতার
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লোপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা।
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি।
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ।
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি।
- মালের জন্য গুদাম = মালগুদাম।
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য।
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সুখসাগর = সুখ রূপ সাগর- রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র;
- যৌবন রূপ বন = যৌবনবন।
অন্যদিকে,
- বিড়াল তপস্বী = বিড়ালের ন্যায় তপস্বী ও কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল। - উপমান র্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- রাজর্ষি = রাজ + ঋষি সন্ধি যোগ্যা গঠিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- জাদু করে যে - জাদুকর,
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা,
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য,
- পকেট মারে যে - পকেটমার,
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
- অন্য কাল = কালান্তর;
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর;
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর;
- ঈষৎ ঘোলা = ঘোলাটে;
- কেবল চড়া = চড়ামাত্র;
- এক জন = জনৈক;
- কেবল তা = তন্মাত্র;
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র;
- সারা দিন = দিনভর;
- অন্য দেশারা = দেশান্তর;
- অন্য দ্বীপ = দ্বীপান্তর;
- অন্য ভাষা = ভাষান্তর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে।
বিপরীতার্থক শব্দযোগে:
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।
সংখ্যাবাচক শব্দযোগে:
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
অব্যয়ীভাব সমাস:
- যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
সামীপ্য (উপ) অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- নগরীর সমীপে = উপনগরী,
- শহরের সমীপে = উপশহর,
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- অক্ষির সমীপে =সমক্ষ,
- ক্ষুদ্র মহাদেশ =উপমহাদেশ ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
• যেমন- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন (২য় তৎপুরুষ সমাস)।
• আবার পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
• যেমন- দেশের সেবা = দেশসেবা, চায়ের বাগান = চাবাগান, রাজার পুত্র= রাজপুত্র, খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
• অনুরূপভাবে- ছাত্রসমাজ, দিল্লীশ্বর, বাঁদরনাচ, পাটক্ষেত, ছবিঘর, শ্বশুরবাড়ি, বিড়ালছানা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার,
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- চা-বিস্কুট।
-----------------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
----------------------------------------------------
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে দুটি বা তার বেশি পদ সমান প্রাধান্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিল প্রকাশ করে।
- এই সমাসের ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর'-এর মতো সংযোজক অব্যয় থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হলো-
• মা-বাপ (মা ও বাপ),
• চা-বিস্কুট (চা ও বিস্কুট),
• জ্বিন-পরি (জ্বিন ও পরি),
• ভাই-বোন (ভাই ও বোন),
• চাল-ডাল (চাল ও ডাল),
• দিন-রাত (দিন ও রাত),
• তাল-তমাল (তাল ও তমাল),
• ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ),
• মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা)।
------------------------------------------------
অন্যদিকে,
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, খাতা-পত্র - সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
• সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে দুটি একই বা সমান অর্থের শব্দকে ‘ও’ বা ‘এবং’ দিয়ে একসাথে মিলিয়ে লেখা হয়।
- এই সমাসে দুইটি শব্দের গুরুত্ব সমানভাবে থাকে।
- যেমন:
- ‘জন ও মানব’ → জনমানব;
- ‘ধন ও দৌলত’ → ধনদৌলত;
- ‘কাগজ ও পত্র’ → কাগজ-পত্র;
- 'বই ও পুস্তুক' → বইপুস্তুক;
- 'কল ও কারখানা' → কল-কারখানা।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
⇔ দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন - নদীমাতৃক (নদী মাতা যার) ,
- সবান্ধব: বান্ধবসহ বর্তমান,
- বিপত্নীক: বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার,
- নীলবসনা: নীল বসন যার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস - যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য, সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা;
- বহু ব্রীহি যার = বহুব্রীহি;
- ত্রিনয়ন যার = ত্রিনয়ন;
- দশানন যার = দশানন।
অন্যদিকে,
∗ বিরানব্বই নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো: কালসাপ, আমরা, দেশান্তর, গ্রামান্তর, দর্শনমাত্র, কেবল জল, এবং বিরানব্বই।
∗ নীলকণ্ঠ: নীল (নীল) কণ্ঠ (গলা) যার (এখানে 'নীল' বিশেষণ এবং 'কণ্ঠ' বিশেষ্য) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই পদকে বিশেষিত করে এবং সমাস নিষ্পন্ন পদটি একটি তৃতীয় পদের অর্থ প্রকাশ করে।
- যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, ("হত" (বিশেষণ) এবং "শ্রী" (বিশেষ্য) একসাথে মিলিত হয়ে "হতশ্রী" শব্দটি তৈরি করেছে),
- পীতাম্বর: পীত অম্বরা যার (এখানে 'পীত' বিশেষণ এবং 'অম্বর' বিশেষ্য)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।