বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সমাস

মোট প্রশ্ন২,৫০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সমাস

PrepBank · পাতা ২৩ / ২৫ · ২,২০১২,৩০০ / ২,৫০১

২,২০১.
সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম কী?
  1. ক) সমাসবাক্য
  2. খ) ব্যাসবাক্য
  3. গ) বিগ্রহবাক্য
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। 

সমাস:
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। 
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। 
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। 
- সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। 
- সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশকে বলা উত্তরপদ বা পরপদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০২.
‘নীলাকাশ’ কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব 
  2. তৎপুরুষ 
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস: 
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।  
২,২০৩.
কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. পঞ্চবটী
  2. দশগজি
  3. দোনলা
  4. পাঁচহাতি
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। প্র-দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
- চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা,
- তিন পায়া যার = তেপায়া,
- দুই নল যার = দোনলা।

এরকম: দশহাতি, একগুঁয়ে, দ্বিচক্র, একতারা, দশানন, দ্বিমাত্রিক, দ্বীপ, একরোখা, দুমুখো, পঞ্চানন, চতুর্ভুজ, পাঁচহাতি, চতুষ্কোণ, দোতলা, চতুষ্পদী, সেতার, দোপেয়ে, চারপেয়ে, চৌপায়া, তেতলা, ত্রিলোচন, ত্রিশূল, সাতনরি, শতমূলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২০৪.
'সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন' এখানে পরপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) চিহ্নিত
  3. গ) আসন
  4. ঘ) সিংহাসন
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা।
ক. সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৫.
'নয়নপদ্ম' শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ? 
  1. রূপক
  2. উপমিত
  3. মধ্যপদলোপী
  4. উপমান
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২০৬.
"চিরস্থায়ী" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চিরকাল হতে স্থায়ী
  2. চিরকালে স্থায়ী
  3. চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী
  4. চিরকাল ধরে স্থায়ী হয়েছে যা
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন বিপদাপন্ন।

- ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী।
চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = চিরস্থায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,২০৭.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) ধোয়ামোছা
  2. খ) বিদ্যাহীন
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) বিলাতফেরত
ব্যাখ্যা

কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদে কর্মধারয় সমাস হয়৷
যেমন - আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।
বিদ্যাহীন, বিয়েপাগলা, বিলাতফেরত হলো তৎপুরুষ সমাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি

২,২০৮.
‘কঙ্কালসার’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

স্বপনবিলাসী = সপ্ন নিয়ে বিলাস করে। (উপপদ তৎপুরুষ।)

কঙ্কালসার - বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
কলুর-বলদ হচ্ছে অলুক তৎপুরুষ।
উৎকণ্ঠিত প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২,২০৯.
'চোখে ও মুখে' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব
  3. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে।
- এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে।
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে।
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২১০.
বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কাজল কালো
  2. খ) বেঈমান
  3. গ) শশব্যস্ত
  4. ঘ) দম্পতি
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

• নঞ বহুব্রীহি সমাস:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবােধক) অব্যয়যােগে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- বে (নাই) ঈমান যার = বেঈমান,
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা,
- অ (নাই) আদি যার = অনাদি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১১.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্য?
  1. দুই এবং নব্বই
  2. ক্ষুধা ও পিপাসা
  3. শান্ত অথচ শিষ্ট
  4. কাঁচা অথচ মিঠা
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।

যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

অন্যদিকে,
নিত্য সমাস: - দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
কর্মধারয় সমাস - শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২,২১২.
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চারহাতি
  2. চৌচালা
  3. তেপায়া
  4. তেমাথা
ব্যাখ্যা

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় - তেমাথা
তেমাথা = তিন মাথার সমাহার, এটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। 

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়।
- এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়।
যথা -
• দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি,
• চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা

এরূপ - চারহাতি, তেপায়া ইত্যাদি।

কিন্তু, সে (তিন) তার (যে যন্ত্রের) = সেতার (বিশেষ্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২১৩.
‘মমতারস’ কোন সমাস?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত;
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া;
- মমতা মিশ্রিত রস = মমতারস;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
২,২১৪.
নিচের কোন শব্দটি সমাসবদ্ধ নয়?
  1. গাছপাকা
  2. বিদ্যালয়
  3. সিংহাসন
  4. দিলদরিয়া
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যালয় 'শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ নয়।
- এটি সন্ধিবদ্ধ শব্দ (বিদ্যা + আলয়) । 

অন্যদিকে, 
- গাছে পাকা = গাছপাকা - (৭মী তৎপুরুষ সমাস),
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন — (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস),
- দিল রূপ দরিয়া — দিলদরিয়া (রূপক কর্মধারয় সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৫.
'প্রীতি সূচক উপহার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতি সূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৬.
"পরাণপ্রিয়" কোন প্রকার সমাস?
  1. তৎপুরুষ 
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয় 
  4. দ্বিগু 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
যথা:
খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, 
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

⇒ সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন 
স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
জেল থেকে মুক্ত  =জেলমুক্ত ইত্যাদি।
- এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি। 

⇒ কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর' 'চেয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যথা- পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২১৭.
'অপুত্রক' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২১৮.
'বেপরোয়া’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস?
  1. নঞ বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. নঞ তৎপুরুষ সমাস  
ব্যাখ্যা

বেপরোয়া’ শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস। 
--------------------
• নঞ্ বহুব্রীহি সমাস:
নঞ্ বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: ন, না, নেই, নাই, অ, আ) এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত অন্য কোনো বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে।
- সাধারণত এই সমাসে  ব্যাসবাক্যে ‘যার’, ‘যাতে’ ব্যবহৃত হয়।
- গঠন: না-বাচক অব্যয় + বিশেষ্য পদ।

- উদাহরণ:
- অজ্ঞান = নেই জ্ঞান যার,
- নির্বোধ = নেই বোধ যার,
- বেতাজ = নেই তাজ (মুকুট) যার, 
- নির্ভুল = নাই ভুল যার।
- বেপরোয়া = নেই পরোয়া (উদ্বেগ বা ভীতিহীন) যার।
---------------------------------
উল্লেখ্য,
- বহুব্রীহি সমাস ও প্রকারভেদ:
- বহুব্রীহি সমাস সেই সমাস যা সমস্যমান পদগুলোর সরাসরি অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো নতুন পদ বা গুণ/বস্তুকে নির্দেশ করে।
- যেমন: 
- নীলকণ্ঠ = নীল (বিষ) কণ্ঠ যার। 

• প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
১. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে।
- উদাহরণ: আয়ত লোচন যার → আয়তলোচনা। 

২. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ এবং পরপদ দুটোই বিশেষ্য।
- উদাহরণ: বীণা পাণিতে যার → বীণাপাণি। 

৩. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়।
- উদাহরণ: সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার → সোনামুখী। 

৪. নঞ্ বহুব্রীহি: না-বোধক অব্যয়ের সঙ্গে বিশেষ্য পদ।
- উদাহরণ: নেই জ্ঞান যার → অজ্ঞান। 

৫. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদে সংখ্যা এবং পরপদে বিশেষ্য থাকলে সমাসবদ্ধ পদটি একটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ্য নয়।
- উদাহরণ: দশ আনন (মুখ) যার → দশানন। 

৬. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: সমস্ত পদের শেষে আ, এ, ও প্রত্যয় থাকে।
- উদাহরণ: ঘরে ও বাইরে → ঘরমুখো

৭. ব্যতিহার বহুব্রীহি: কাজের পারস্পরিক বিনিময় বোঝায়।
- উদাহরণ: হাতে হাতে যে যুদ্ধ → হাতাহাতি। 

৮. অলুক বহুব্রীহি: পূর্বপদের বিভক্তি সমস্তপদেও লোপ পায় না।
- উদাহরণ: মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি।
--------------------------------------
অন্যদিকে, 
নিত্য সমাস:  
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এই সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে- ‘অন্য’ বা ‘কেবল' শব্দটি বসে।
- যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর।
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র। 
- আবার, নিত্য সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে অনেক সময় ‘তুল্য’ শব্দটি থাকে।
- যেমন- দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ। 
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- কালসাপ, আমরা, গ্রামান্তর, বিরানব্বই, উপায়ান্তর, দিগন্তর, ধর্মান্তর, লোকান্তর, দেখামাত্র, নামমাত্র ইত্যাদি। 

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু, ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে যদি কৃদন্ত পদ বা নামপদের সমাস হয় তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
- যেমন-
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ। 

• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
- নঞ্ তৎপুরুষ সমাস হলো তৎপুরুষ সমাসের এক বিশেষ প্রকার, যেখানে পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় (যেমন: না, নেই, নাই, নয়) বসে এবং পুরো সমাসের অর্থ মূলত পরপদকে নির্দেশ করে।
- এই সমাসে সাধারণত ‘ন’ বা না-বাচক অব্যয় পরের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিপরীতার্থক অর্থ বা কোনো অভাব বোঝায়।
- উদাহরণ:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- ন জানা = অজানা। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২,২১৯.
নিচের কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. অনুতাপ
  2. গৃহস্থ
  3. শয়নমাত্র
  4. আমৃত্যু
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
-অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, কালসাপ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

অন্যদিকে,
- অণুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ (প্রাদি সমাস)। 
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- মৃত্যু পর্যন্ত = আমৃত্যু(অব্যয়ীভাব সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২২০.
মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ
  1. ক) গায়েপড়া
  2. খ) কানেখাটো
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) সেতার
ব্যাখ্যা

'হাতেখড়ি' পদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। অপশন অনুযায়ী কাছাকাছি উত্তর হিসেবে 'হাতেখড়ি' নেয়া হয়েছে। 

• পদলোপী বহুব্রীহি: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি ।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন -
- ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত,
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
- হাতে খড়ি হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২,২২১.
‘প্রবন্ধ’ শব্দটি কোন সমাস সাধিত?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) প্রাদি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) নিত্য
ব্যাখ্যা
প্রাদি = প্র + আদি। এখানে ‘প্র’ একটি উপসর্গ। এই ‘প্র’ ২০ টি সংস্কৃত উপসর্গকে নির্দেশ করছে।
অর্থাৎ প্র, প্রতি, পরি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের (উপসর্গ) সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হলে তাকে প্রাদি সমাস বলে।  
যেমন : প্রবচন = প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
২,২২২.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. মনগড়া
  2. জলদ
  3. স্মৃতিসৌধ
  4. আশীবিষ
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
-গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- জল দেয় যে = জলদ, উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২২৩.
নিত্য সমাসটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) দুগ্ধফেননিভ
  2. খ) চৌচালা
  3. গ) একতারা
  4. ঘ) দশানন
ব্যাখ্যা
দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ হলো নিত্য সমাস।
যে সমাসে সমস্যমান পদসমূহের দ্বারা ব্যাসবাক্য গঠিত হয় না, ব্যাসবাক্য গঠনের জন্য অন্য পদের প্রয়োজন পড়ে, তাকে নিত্য সমাস বলে।
যথা - দর্শনমাত্র, বিরানব্বই, তন্মাত্র, গ্রামান্তর, কালসাপ ইত্যাদি।
চৌচালা, একতারা, দশানন হলো বহুব্রীহি সমাস।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২২৪.
বিলাতফেরত কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
বিলাত থেকে ফেরত= বিলাতফেরত, পঞ্চম তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্যরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাই তৎপুরুষ সমাস।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার। যথা- 
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
তৃতীয়া তৎপুরুষ
চতুর্থী তৎপুরুষ
পঞ্চমী তৎপুরুষ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সপ্তমী তৎপুরুষ
নঞ তৎপুরুষ
উপপদ তৎপুরুষ
অলুক তৎপুরুষ সমাস

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস : না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
২,২২৫.
‘পূর্বাহ্ণ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• ‘পূর্বাহ্ণ’ - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।
----------------------------
কালের কোন অংশ-বোধক শব্দ পরে থাকলে তা পূর্বে বসে।
যথা - অহ্নের (দিনের) পূর্ব ভাগ = পূর্বাহ্ণ।
এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৬.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস নির্দেশ করে?
  1. সিংহাসন
  2. সিংহপুরুষ
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. ক্রোধানল
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

অন্যদিকে,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল; বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২২৭.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. অল্পপ্রাণ
  3. পাঁচকম
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ - অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২২৮.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. বউভাত
  3. লাঠালাঠি
  4. অল্পপ্রাণ
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।  ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২২৯.
"পােড়াকপাল" কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৩০.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. বাহুলতা
  2. করপল্লব
  3. যৌবনবন
  4. নয়নপদ্ম
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- যৌবন রূপ বন = যৌবনবন;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
---------------
• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম। 
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি। 
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব। 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ। 
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা। 
- ব- এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ। 
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৩১.
'নীলপদ্ম' কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন - 
• নীল যে অম্বর = নীলাম্বর। 
• নীল যে আকাশ = নীলাকাশ। 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। 
• রক্ত যে কমল = রক্তকমল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
২,২৩২.
'পদ্মগন্ধি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'গন্ধ' শব্দ স্থানে 'গন্ধি' বা গন্ধা' শব্দ যুক্ত হয়। 
যেমন: 
সুগন্ধ যার - সুগন্ধি।
পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার - পদ্মগন্ধি।
মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার - মৎস্যগন্ধা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২,২৩৩.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ঘরমুখো
  2. বিয়েপাগলা
  3. প্রবচন
  4. যুগান্তর
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
তৎপুরুষ সমাস  - বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস - ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২,২৩৪.
"যথারীতি" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. যথা ও রীতি
  2. যথাকে রীতি
  3. রীতিকে অতিক্রম না করে
  4. যথা দ্বারা রীতি
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৩৫.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বেতার
  2. অকাতর
  3. অনন্ত
  4. অগোচর
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা -
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ - অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন -
ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অগোচর, অনন্ত, বেতার - নঞ্‌ বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৩৬.
নিচের কোনটি নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস?
  1. নাচার
  2. নাছোড়
  3. বেতাল
  4. অকাতর
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নাছোড়, বেতাল, এবং অকাতর নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৩৭.
'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনটি?
  1. সম্‌ + √ অ + মস্‌
  2. সম্‌ + √ অ + অস্‌
  3. সম্‌ + √ অস্‌ + অ
  4. সম্‌ + √ অস্‌
ব্যাখ্যা

• 'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি - সম্‌ + √ অস্‌ + অ।

• সমাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২,২৩৮.
‘করকমল’ কোন সমাস?
  1. ক) উপমিত
  2. খ) রূপক
  3. গ) মধ্যপদলোপী
  4. ঘ) উপমান
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
যেমন—
চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ
কর কমলের ন্যায় = করকমল

তেমনই—
রক্তকমল, ফুলবাবু, মুখচন্দ্র, চরণতল, চন্দ্রমুখ, পদ্মচক্ষু, হাঁড়িমুখ, চাঁদবদন প্রভৃতি।

উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য :
১. এ সমাসের ব্যাসবাক্যের দুটি পদই বিশেষ্য হয়।
২. সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে সমাস হয়।
৩. উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
৪. এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,২৩৯.
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. একোন
  2. পাঁচকম
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৪০.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. গায়ে হলুদ
  2. চালকুমড়া
  3. ছয়ানি
  4. ছায়াছবি
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা= সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চাল কুমড়া।

অন্যদিকে:
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ - এটি অলুক বহুব্রীহি সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৪১.
'গোলাপফুল' সমাসবদ্ধ পদটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. গোলাপি রঙের ফুল
  2. গোলাপের ফুল
  3. গোলাপি ফুল
  4. গোলাপ নামের ফুল
ব্যাখ্যা
• সমাস:
সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়। বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস। 
সমাস মূলত চার প্রকার। যথা:
১. দ্বন্দ্ব,
২. কর্মধারয়,
৩. তৎপুরুষ ও
৪. বহুব্রীহি।
 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।
 
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল।
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
 
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
 
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,২৪২.
'মহাকীর্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'মহাকীর্তি' শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো - মহতী যে কীর্তি।
- এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম।

• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৩.
‘উদ্বেল’ শব্দটি কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে?
  1. অতিক্রান্ত
  2. সাদৃশ্য
  3. বিরোধ
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন: 
অতিক্রান্ত (উৎ):
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৪.
অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) আসমুদ্রহিমাচল
  2. খ) নিরামিষ
  3. গ) আরক্তিম
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
'আসমুদ্রহিমাচল = সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত,
নিরামিষ = আমিষের অভাব,
আরক্তিম = ঈষৎ রক্তিম' ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৪৫.
‘তোমরা’ এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) তুমি ও সে
  2. খ) তুমি ও তারা
  3. গ) তারা ও সে
  4. ঘ) সে ও তুমি
ব্যাখ্যা
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কেবল একটি পদের প্রাধান্য থাকে এবং সেই পদের সাহায্যে অন্য পদের অর্থ প্রকাশ পায় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- সে, তুমি ও আমি = আমরা;
- সে ও তুমি = তোমরা;
- জয়া ও পতি = দম্পতি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,২৪৬.
‘গণতন্ত্র’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

‘গণতন্ত্র’ শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। 
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়। 
- উদাহরণস্বরূপ- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র; এখানে ‘নিয়ন্ত্রিত’ মধ্যপদটি লোপ পেয়েছে। 

- কিছু মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী, 
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত, 
 - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, 
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
----------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ: চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ: বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু, মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।

২,২৪৭.
'প্রগতি' কোন সমাস?
  1. প্রাদি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।

এরূপ- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ - অনুতাপ, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, প্র
(প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,২৪৮.
'বাংলাদেশ' শব্দটি কোন ধরনের সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) কর্মধারয়। 

ব্যাখ্যা: "বাংলাদেশ" শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো- যে দেশ বাংলা (ভাষা/জনগোষ্ঠীর) সেই দেশ বা বাংলা নামক দেশ বা যা বাংলা তা-ই দেশ।
এখানে ‘বাংলা’ শব্দটি ‘দেশ’-কে বিশেষণ হিসেবে নির্দিষ্ট করছে। তাই এটি কর্মধারয় সমাস।

এখানে:
"বাংলা" = বিশেষণ বা উপমান/বিশেষণভাবাপন্ন পদ। 
"দেশ" = বিশেষ্য বা পরপদ। 
এটি কর্মধারয় সমাস (বিশেষ করে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস), কারণ বিশেষণ-বিশেষ্যের সম্পর্কে "নামক", "যে", "যা...তা-ই" ইত্যাদি মধ্যপদ লোপ পেয়ে একপদ হয়েছে এবং পরপদের ("দেশ") অর্থই প্রধান।

অন্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়?
ক) দ্বন্দ্ব: দুই পদের সমান প্রাধান্য (যেমন: মা-বাবা, হাত-পা)। এখানে "বাংলা" ও "দেশ" সমান নয়।
গ) তৎপুরুষ: বিভক্তি লোপে পরপদ প্রধান (যেমন: রাজপুত্র = রাজার পুত্র; ষষ্ঠী তৎপুরুষ)। এখানে "বাংলা" বিভক্তিযুক্ত নয়, বরং বিশেষণ।
ঘ) বহুব্রীহি: সমস্ত পদের অর্থ প্রধান নয়, বরং অন্য কোনো অর্থ প্রধান (যেমন: পীতাম্বর = যার পীত বস্ত্র)। "বাংলাদেশ" নিজের অর্থই বোঝায় (বাংলা নামের দেশ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,২৪৯.
'প্রভাত' শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
ব্যাখ্যা

প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।

যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি, 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন, 
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৫০.
'রাজমিস্ত্রী' শব্দের ব্যাসবাক্য –
  1. রাজার মিস্ত্রী
  2. মিস্ত্রীর রাজা 
  3. রাজ যে মিস্ত্রী
  4. মিস্ত্রী যার রাজা
ব্যাখ্যা

• 'রাজমিস্ত্রি' শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো-  মিস্ত্রীর রাজা = রাজমিস্ত্রি।

[এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস, যেখানে 'রাজ' শব্দের সাথে মিস্ত্রীর সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে, যার অর্থ 'রাজার মিস্ত্রী' নয়, বরং 'যে মিস্ত্রী সবচেয়ে দক্ষ বা সেরা'।]

---------------------
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। আর যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
রাজকুমার = রাজার কুমার;
রাজদণ্ড = রাজার দক্ষ;
রাজনীতি = রাজার নীতি;
রাজপথ = পথের রাজা;
রাজপুত্র = রাজার পুত্র;
রাজহংস = হংসের রাজ্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।  

২,২৫১.
‘জনৈক’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর;
- অন্য দেশ - দেশান্তর;
- কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র;
- কেবল যাওয়া - যাওয়ামাত্র;
- এক জন - জনৈক;
- প্রতিমাথা - মাথাপিছু;
- ঈষৎ ঘোলা - ঘোলাটে;
- কেবল বলা - বলামাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৫২.
'চালাক-চতুর' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৫৩.
‘অনুক্ত’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. অব্যয়ীভাব
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় উক্ত = অনুক্ত,
- নয় কাতর = অকাতর,
- নয় বুঝ = অবুঝ,
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,২৫৪.
'গরুরগাড়ি' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. অলুক দ্বন্দ্ব
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা, 
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৫৫.
কোন সমাসে পূর্বপদে বিভক্তির লোপ হয় না?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. অলুক সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
অলুক সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লােপ পায় না, তাকে অলুক সমাস বলে।
- অলুক সমাস কোনো স্বতন্ত্র সমাস নয়, যে কোনো শ্রেণির সমাস অলুক হতে পারে।
যেমন - অলুক দ্বন্দ্ব, অলুক তৎপুরুষ, অলুক বহুব্রীহি।

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস: দুধে-ভাতে, হাতে-কলমে, জলে-স্থলে ইত্যাদি।
• অলুক তৎপুরুষ সমাস: কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, ঘোড়ার ডিম ইত্যাদি।
• অলুক বহুব্রীহি সমাস: মাথায়পাগড়ি, গলায়গামছা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৬.
সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. উর্দু
  2. ফার্সি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
- 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৫৭.
সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হলো-
  1. রাজপথ 
  2. ধানক্ষেত
  3. গ্রামছাড়া
  4. তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

বিভক্তিলোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসঃ 
- দুঃখকে প্রাপ্ত= দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত 
- পথের রাজা = রাজপথ 
- গোলায় ভরা =গোলাভরা 
 -গাছে পাকা = গাছপাকা

সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া

অলুক তৎপুরুষ সমাসঃ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমনঃ
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]


 
২,২৫৮.
খোশমেজাজ যে ধরনের সমাসের উদাহরণ -
  1. ক) সাধারণ কর্মধারয়
  2. খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।
এছাড়াও, হতশ্রী, হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, নীলকন্ঠ - ইত্যাদি এই সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণি : বাংলা ২য় পত্র

২,২৫৯.
'নরাধম' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
- বিশেষণ পদ পূর্বে এবং বিশেষ্য পদ পরে হলে হয় সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- কু যে আচার - কদাচার,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,২৬০.
'কাঁচকলা' কোন সমাসভুক্ত?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) উপপদ তৎপুরুষ দ্বন্দ্ব
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
  5. ঙ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
• কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৬১.
'গজনীরাজ' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. ষষ্ঠী
  4. পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট, 
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৬২.
কোন সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য পদকে বোঝায়?
  1. কর্মধারয়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৬৩.
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস নয় কোনটি?
  1. অন্তরীপ
  2. জীবন্মৃত
  3. দোনলা
  4. দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা -
বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

• বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যথা -
আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা।

নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
কোনো নিয়মের অধীন নয়, অথচ বহুব্রীহি সমাস বলে গণ্য।
যেমন -
অন্তরীপ = অন্তর্গত অপ যার,
জীবন্মৃত = জীবিত থেকেও যে মৃত,
দ্বীপ = দুই দিকে অপ যার।

অন্যদিকে,
দোনলা - প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৬৪.
‘নীল যে অম্বর = নীলাম্বর' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

অন্যদিকে,
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।
- দশ আনন যার = দশানন।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৫.
পাপমুক্ত (পাপ হতে মুক্ত) কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পাপ হতে মুক্ত = পাপমুক্ত,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

কোনাে কোনাে সময় পঞ্চমী তৎপুরুষের ব্যাসবাক্য এর চেয়ে ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহার হয়।
যেমন- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
পরাণের চেয়ে প্রিয় = পরাণপ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৬.
রূপক কর্মধারায় সমাস নয় কোনটি?
  1. মোহনিদ্রা
  2. দিলদরিয়া
  3. কবিগুরু
  4. জীবনবারি
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারায় সমাস নয়- কবিগুরু।
- কবির গুরু = কবিগুরু; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

---------------------
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- মোহ রূপ নিদ্রা = মোহনিদ্রা;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- জীবন রূপ বারি = জীবনবারি;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৬৭.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) মাটিরময়না
  2. খ) কলেরগান
  3. গ) মনেরমানুষ
  4. ঘ) ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা
অলুক অর্থ হলো বিভক্তি লোপ পাবে না অর্থাৎ ব্যাসবাক্যে এবং সমস্ত পদে বিভক্তি বজায় থাকবে। মাটিরময়না, কলের গান, মনের মানুষ (অলুক তৎপুরুষ সমাস) পূর্বে ভূত= ভূতপূর্ব ( ৭মী তৎপুরুষ সমাস। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২,২৬৮.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. কাজলকালো
  2. মুখচন্দ্র
  3. শশব্যস্ত
  4. তুষারপুত্র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুখচন্দ্র

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
- যেমন সোনার মতো মুখ সোনামুখ, বাস্তু লতার ন্যায় বাতুলতা। 
- এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন-
ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৬৯.
‘মণিমাণিক্য’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. তৃতীয় তৎপুরুষ সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- হাসি ও খুশি = হাসিখুশি।
- মাণি ও মাণিক্য = মণিমাণিক্য।

এরূপ- ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৭০.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. বাগদত্তা
  2. দেশান্তর
  3. ক্ষুৎপিপাসা
  4. অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র।

অন্যদিকে,
• 'বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা'; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
• 'ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা'; দ্বন্দ্ব সমাস।
• 'ক্ষণ ক্ষণ' = অনুক্ষণ; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৭১.
সমাসের জ্ঞান/প্রতীতি অংশ কোনটি? 
  1. ব্যাসবাক্য
  2. সমস্তপদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে।
- সমাসের জ্ঞান বা প্রতীতি ৫টি-
ব্যাসবাক্য,
• সমস্তপদ,
• সমস্যমান পদ,
• পূর্বপদ ও
• পরপদ

- উদাহরণ
- সিংহ চিহ্নিত আসন → সিংহাসন। 

• ব্যাসবাক্য / বিগ্রহবাক্য / সমাসবাক্য:
- “সিংহ চিহ্নিত আসন” — এটি বিস্তৃত রূপ, যেখানে একাধিক পদ আলাদা আলাদা অবস্থায় আছে।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলা হয়।

• সমস্তপদ / সমাসবদ্ধ পদ / সমাসনিষ্পন্ন পদ:
- “সিংহাসন” — এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত একপদ।
- অর্থাৎ, “সিংহ চিহ্নিত আসন” এই বিস্তৃত রূপ সংক্ষেপ হয়ে এক শব্দে পরিণত হয়েছে। এটিই সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ।

• সমস্যমান পদ:
- সমাস গঠনে অংশ নেওয়া পদ অর্থাৎ যে পদগুলো মিলিত হয়ে সমাস গঠন করে, সেগুলোকে সমস্যমান পদ বলে।
- এখানে সমস্যমান পদ দুটি হলো—
- সিংহ ও আসন।  

• পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাসে প্রথম পদকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ পদকে বলা হয় পরপদ।
- এখানে—
- সিংহ = পূর্বপদ ও আসন = পরপদ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,২৭২.
‘সেতার' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৭৩.
'বিদ্যাহীন' - কোন তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ৷

- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
- যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, 
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,২৭৪.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. আমরণ
  2. আলুসিদ্ধ
  3. ঘিভাত
  4. তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।
- উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। 

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

অন্যদিকে,
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা; অলুক তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৭৫.
‘সহোদর’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ;
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে,
- সমান উদর যার = সহোদর,
- বদ রাগ যার = বদরাগী,
- সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৭৬.
‘তুষার শুভ্র’- এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) তুষার শুভ্রের ন্যায়
  2. খ) শুভ্র যে তুষার
  3. গ) তুষার রূপ শুভ্র
  4. ঘ) তুষারের ন্যায় শুভ্র
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে-
উপমান কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝে যে আসে। তুলনাটি বিশেষ্য + বিশেষণ এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্ক সত্য হয়। যেমন: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র।
উপমিত কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে যে আসে। তুলনাটি বিশেষ্য + বিশেষ্য এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্ক মিথ্যা হয়। যেমন: পুরুষসিংহ = পুরুষ সিংহের ন্যায়।
রূপক কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝে রূপ আসে। তুলনাটি কাল্পনিক, বিশেষ্য + বিশেষ্য এবং পূর্বপদটি অদৃশ্যমান ও পরপদটি দৃশ্যমান হবে। যেমন: মনমাঝি = মন রূপ মাঝি।
২,২৭৭.
'সমাস' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

'সমাস' ব্যাকরণের রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়। 

সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। 
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,২৭৮.
'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনটি?
  1. সম্‌ + √ অস্‌
  2. সম্‌ + √ অস্‌ + অ
  3. স + √ অস্‌ + অ
  4. সম্‌ + √ অ + মস্‌
ব্যাখ্যা
• 'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি - সম্‌ + √ অস্‌ + অ।

• সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,২৭৯.
‘উপকথা’ শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• উপকথা - কথার সদৃশ্য। 
- এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- এছাড়াও উপকূল, উপকণ্ঠ, উপশহর, উপগ্রহ এসব অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯)।
২,২৮০.
'নির্বিঘ্ন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারায় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়। তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৮১.
‘তুষারধবল’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ কর্মধারয়
  2. খ) উপমান কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে এবং কোনো উপমেয় পদের উল্লেখ থাকে না। যেমন:
শশকের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত, কাজলের মতো কালো = কাজলকালো, কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল ।
তেমনই গোবেচারা, তুষারধবল, রক্তলাল, হস্তিমূর্খ, বজ্রকণ্ঠ, বকধার্মিক প্রভৃতি।

উপমান কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য:
- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাস হয়। যেমন- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল। এখানে 'লাল' সাধারণ ধর্ম ।
- উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে। যেমন: তুষারের ন্যায় ধবল = তুষারধবল। এখানে ‘ধবল' হচ্ছে বিশেষণ ৷
- উপমান কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উপস্থিতি আবশ্যক। যেমন— মিশির মতো কালো। এখানে 'কালো' হলো সাধারণ ধর্ম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,২৮২.
'সাম্যবাদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস 
  2. বহুব্রীহি সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস 
  4. কর্মধারয় সমাস 
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয়:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে। বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৮৩.
'অস্থির' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২,২৮৪.
'তুষারশুভ্র' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধার‍য় সমাস
  4. উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৮৫.
'অগ্ন্যুৎপাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা উন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৮৬.
'মহাকীর্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. দ্বন্দ্ব
  3. কর্মধারয়
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা

• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমনঃ
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা,
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৮৭.
বহুব্রীহি সমাস কয় প্রকার?
  1. ক) তিন প্রকার
  2. খ) আট প্রকার
  3. গ) ছয় প্রকার
  4. ঘ) দশ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এই বইয়ে আছে বহুব্রীহি সমাস নয় প্রকার। ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা বই দুটিতে বলা আছে আট প্রকার।
২,২৮৮.
নিচের কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. স্কুলপালানো
  2. শ্রমলব্ধ
  3. গাছপাকা
  4. রাজপুত্র
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস - রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস - গাছে পাকা = গাছপাকা।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস - স্কুল থেকে পালানো= স্কুলপালানো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮৯.
উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ঘরে আশ্রিত জামাই
  2. খ) বিষাদ রূপ সিন্ধু
  3. গ) পুরুষ সিংহের ন্যায়
  4. ঘ) কাজলের মতো কালো
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
• গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল, 
• যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা ইত্যাদি। 

ক. কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে' যোজক থাকে। 
যেমন- 
- খাস যে জমি = খাসজমি, 
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা, 
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা, 
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর ইত্যাদি। 

খ. কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে। 
যেমন- 
- তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা, 
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 

গ. কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। 
যেমন- 
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত, 
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই, 
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা। 

ঘ. যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। 
যেমন- 
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো, 
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত, 
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

ঙ. যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। 
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। 

চ. কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৯০.
'আলোছায়া' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'আলোছায়া' = 'আলো ও ছায়া' - দ্বন্দ্ব সমাস।

• দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
-এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
যেমন- মাতা ও পিতা মাতাপিতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৯১.
'নদীমাতৃক' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নিত্য সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯২.
'উপকণ্ঠ' - শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. কণ্ঠ পর্যন্ত
  2. কণ্ঠের সমীপে
  3. কণ্ঠের সদৃশ
  4. উপ যে কণ্ঠ
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস: 
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

সামীপ্য (উপ) অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
কূলের সমীপে = উপকূল,
নগরীর সমীপে = উপনগরী,
শহরের সমীপে = উপশহর,
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
অক্ষির সমীপে =সমক্ষ,
ক্ষুদ্র মহাদেশ =উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৩.
'গৃহস্থ' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯৪.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. অক্ষয়কীর্তি
  2. আগাগোড়া
  3. আত্মনিয়ন্ত্রণ
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অক্ষয়কীর্তি’ কর্মধারয় সমাস।
• ব্যাসবাক্য: অক্ষয় যে কীর্তি = অক্ষয়কীর্তি। 

অন্যদিকে,
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
যেমন:
⇒ আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া (৫মী তৎপুরুষ সমাস)।
⇒ আত্মকে নিয়ন্ত্রণ = আত্মনিয়ন্ত্রণ (২য়া তৎপুরুষ সমাস)।
⇒ অগ্নি দ্বারা উৎপাত= অগ্ন্যুৎপাত (৩য়া তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯৫.
"সুবর্ণ" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য - 
  1. সু বর্ণ যার
  2. সমান বর্ণ যার
  3. সুন্দর বর্ণ যার
  4. সুন্দর রূপ বর্ণ
ব্যাখ্যা

• "সুবর্ণ" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য - সুন্দর বর্ণ যার।
--------------
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে,
- সমান উদর যার = সহোদর,
- বদ রাগ যার = বদরাগী,
- সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৯৬.
"ক্ষুধার্ত" কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. চতুর্থী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত,
- ক্ষুধা দ্বারা আর্ত = ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯৭.
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস সাধিত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. জনাকীর্ণ
  2. মধুমাখা
  3. খেয়াঘাট
  4. রক্তসিক্ত
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

অন্যদিকে,
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জন দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ;
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ;
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা;
- রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত;
- ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা;
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার;
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৯৮.
সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে কোন সমাস হয়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
যে-সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বােঝায় তাকে ‘দ্বিগু সমাস' বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়।
যেমন :
সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।
----------------------
আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য:
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯৯.
উপমান কর্মধারয় সমাসে পরপদ কী হয়?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩০০.
'মশা মারতে কামান দাগা' বাক্যে 'মশা' কোন কারক?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্তায় সপ্তমী
  3. করণে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক। যেমন-সেলিম বই পড়ে- এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম-
১. মুখ্য কর্ম: কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয় মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।

২. গৌণ কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম। যেমন- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল। এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।

যেমন:
- মশা মারতে কামান দাগা। 
[ বাক্যে মারার ক্রিয়া মশাকে অবলম্বন করে সম্পাদন হয়েছে। সুতরাং, 'মশা' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।