বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ৭০১৮০০ / ২,৬৯২

৭০১.
কোন প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. শ্বসন
  2. ব্যাপন
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণুর কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে। 
- এ প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে। 
- অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। 
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি শোষণ বুঝতে হলে, অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিসমিস ফুলে ওঠে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০২.
নিচের কোনটি অধাতব খনিজ?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. নিকেল
  3. তামা
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র)
৭০৩.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ট্রিটিয়ামে নিউট্রনের সংখ্যা কয়টি?  
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. কোনো নিউট্রন নেই
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ:

- যেসকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয় তাদের প্রত্যেককে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অর্থাৎ একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যেমন: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ আছে।
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, এবং ট্রিটিয়াম পরস্পরের আইসোটোপ। কারণ এদের প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন।
- প্রোটিয়াম আইসোটোপে কোনো নিউট্রন নেই, কিন্তু একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন রয়েছে। 
- ডিউটেরিয়াম আইসোটোপে ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন রয়েছে।
- ট্রিটিয়াম আইসোটোপে ২ টি নিউট্রন রয়েছে।


উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৭০৪.
প্রভাবকের ধর্ম নয় কোনটি?
  1. বিক্রিয়ার গতি বাড়ানো
  2. বিক্রিয়ার গতি কমানো
  3. বিক্রিয়া শুরু করা
  4. বিক্রিয়া শেষে ভর অপরিবর্তিত থাকা
ব্যাখ্যা
• "বিক্রিয়া শুরু করা" প্রভাবকের ধর্ম নয়। 

• প্রভাবক:
- যেসব পদার্থ বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি বা হ্রাস করে এবং বিক্রিয়া শেষে ভর ও সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত থাকে তাদেরকে প্রভাবক বলা হয়।
- প্রভাবক দ্বারা বিক্রিয়ার গতি হ্রাস-বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে প্রভাবন (Catalysis) বলে।

• প্রভাবকের বৈশিষ্ট্য:
-  প্রভাবক কোনো বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সময় বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে আবার নাও পারে। তবে প্রভাবন শেষে প্রভাবক ভর, ধর্ম, গঠন ও সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত থাকে।
-  কোনো বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে খুব সামান্য পরিমাণে প্রভাবক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
-  প্রভাবক পদার্থ বিক্রিয়া প্রভাবিত করলেও বিক্রিয়া শুরু করতে পারে না।
-   আবার উভমুখী বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থায় অবস্থানও পরিবর্তন করতে পারে না।
-  কোনো নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার প্রভাবকও নির্দিষ্ট অর্থাৎ যেকোনো প্রভাবক যেকোনো বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে না।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৫.
নিচের কোন ক্ষেত্রে স্ববিজারণ ঘটে?
  1. ক) পটাশিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) কপার অক্সাইড
ব্যাখ্যা

সক্রিয়তা সিরিজে নিচের দিকে অবস্থিত কম সক্রিয় ধাতু কপার বা তামা, পারদ, রূপা ধাতুসমূহের অক্সাইড এর ক্ষেত্রে কোনো বিজারক যোগ না করেই শুধু উত্তপ্ত করেও বিজারণ ঘটানো হয়। একে স্ববিজারণ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৭০৬.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরিতে নিচের কোন বিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্ট্রিপিং ও পিক-আপ বিক্রিয়া
  2. খ) ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া
  3. গ) ফিশান বা নিউক্লীয় বিভাজন
  4. ঘ) ফিউশান বা নিউক্লীয় সংযোজন
ব্যাখ্যা
নিউক্লীয় বিক্রিয়ার শ্রেণীবিভাগ Classification of Nuclear Reactions)
- নিউক্লীয় বিক্রিয়া বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন-
(১) ট্রান্সম্যুটেশন
(২) স্ট্রিপিং ও পিক-আপ বিক্রিয়া
(৩) বিক্ষেপণ
(৪) স্প্যালেশন
(৫) ফিশান বা নিউক্লীয় বিভাজন
(৬) ফ্র্যাগমেন্টেশন ও
(৭) ফিউশান বা নিউক্লীয় সংযোজন।
- আইসোটোপ তৈরির জন্য ট্রান্সম্যুটেশন এবং পারমাণবিক শক্তির জন্য ফিউশান ও ফিশান বিক্রিয়া বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া:
- কোন মৌলের স্থায়ী নিউক্লিয়াসকে উচ্চ গতিশীল নিউট্রন, প্রোটন অথবা আল্‌ফা কণা দ্বারা আঘাত করে নতুন মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত করাকে ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া বলে।
- এক্ষেত্রে উৎপাদ নিউক্লিয়াস ও বিক্রিয়ক বা ট্রার্গেট নিউক্লিয়াসের মধ্যে ভর সংখ্যার পার্থক্য ৩ থেকে ৪ এককের বেশি হয় না।
- এ ধরনের বিক্রিয়া প্রধানত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৭০৭.
বিশুদ্ধ পানির pH এর মান কত?
  1. ১২
  2. ৮.৮
  3. ৭.০
  4. ৬.২
ব্যাখ্যা
• pH:
- কোন দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার লগারিদমের ঋণাত্বক মানকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়, এর মান অনুযায়ী দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হবে তা নির্ধারিত হয়।
- pH এর মান ৭ হলে তাকে নিরপেক্ষ দ্রবণ বা প্রশম দ্রবণ বলা হয়।
- pH স্কেলের বিস্তৃতি: ০ – ১৪, 
- বিশুদ্ধ পানির pH হলো ৭;
- pH এর মান ৭ এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় এবং এর বেশি হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।
- মানুষের রক্তের pH এর মান 7.4 (ঈষৎ ক্ষারীয়)। 

উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি রসায়ন বই এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৭০৮.
একটি পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ১১ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১২ হলে, পরমাণুটির ভর সংখ্যা কত? 
  1. ২৩
  2. ৩২
  3. ৪৬
ব্যাখ্যা
- কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। 
- আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে। 
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান। 
- কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা। 
অর্থাৎ, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
বা, ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা 
বা, ভর সংখ্যা = ১১ + ১২ 
∴ ভর সংখ্যা = ২৩ । 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭০৯.
তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1.  নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন থাকে 
  2.  নির্দিষ্ট আকার নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই এবং আয়তনও নেই 
  4. পারস্পরিক আকর্ষণ বল নেই 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১০.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ডায়মন্ড
  2. কপার
  3. সিলভার
  4. কোনোটিই নয়।
ব্যাখ্যা
• অধাতু:
- যেসব মৌলিক পদার্থ সাধারণত নরম, অ-চকচকে, স্বচ্ছ এবং ভঙ্গুর হয়, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে।
- কার্বন, সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- ডায়মন্ড হচ্ছে কার্বনের একটি রূপভেদ তাই ডায়মন্ড অধাতু।

অন্যদিকে,
• ধাতু:
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
-ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭১১.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. কপার
  3. জিংক
  4. লেড
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও,
- IAEA তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩২টি দেশে মোট ৪৪০টি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে।
- এগুলো বিশ্বের ১০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা বাড়বে ৫৬টি।
- এই পারমাণবিক চুল্লি বর্তমানে ১২টি দেশে নির্মাণাধীন রয়েছে।
- নতুন চুল্লিগুলোর ইনস্টলেশন ক্ষমতা হবে মোট ৬২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। 

উৎস: i) রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) IAEA ওয়েবসাইট।
৭১২.
পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে নোবেল গ্যাস অবস্থান করে?
  1. গ্রুপ ১
  2. গ্রুপ ২
  3. গ্রুপ ১৮
  4. গ্রুপ ১৭
ব্যাখ্যা

• নোবেল গ্যাসগুলি পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮-এ অবস্থান করে। এই গ্যাসগুলোকে Inert Gas-ও বলা হয়, কারণ এরা রাসায়নিকভাবে খুবই স্থিতিশীল এবং সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রায় কোনো যৌগ তৈরি করে না। এর প্রধান কারণ হলো এদের বাহ্যিক শক্তস্তর (ভ্যালেন্স শেল) পূর্ণ, যা অন্য পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার বা গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। গ্রুপ ১৮-এ হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন এবং রেডন অন্তর্ভুক্ত। এরা সাধারণত গ্যাস আকারে থাকে, বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অক্রিয়। অন্য গ্রুপের ধাতু বা অ-ধাতুর তুলনায় নোবেল গ্যাসের প্রতিক্রিয়া খুবই সীমিত।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) গ্রুপ ১৮।


• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৭১৩.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
  3. গ) তরল ব্রোমিন
  4. ঘ) ফেরিক ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রাস এসিড, সালফিউরাস এসিড, অধিকাংশ ধাতু, কার্বন, ফেরাস লবণ, সোডিয়াম থায়ো সালফেট, অক্সালিক এসিড ইত্যাদি হলো বিভিন্ন বিজারক পদার্থের উদাহরণ।
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, ওজোন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, পটাশিয়াম ক্লোরেট ইত্যাদি হলো বিভিন্ন জারক পদার্থের উদাহরণ।

৭১৪.
কোন ধাতু পানি অপেক্ষা হালকা?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) পারদ
ব্যাখ্যা
পানিতে ভাসে এবং ছুরি দিয়ে কাটা যায়, সোডিয়ামকে পোড়ালে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের শিখা পাওয়া যায়, এটি পানির থেকেও হালকা হয়।
৭১৫.
এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি 
  2. লবণ ও গ্যাস
  3. পানি ও অক্সিজেন
  4. শুধুই লবণ
ব্যাখ্যা

• এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া: এটি এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে এসিড ও ক্ষার একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ (Salt) এবং পানি (Water) উৎপন্ন হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) + NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) → NaCl (লবণ) + H₂O (পানি)
এখানে, এসিডের H⁺ আয়ন এবং ক্ষারের OH⁻ আয়ন মিলে পানি তৈরি করে, এবং লবণ (NaCl) থাকে।

অপরদিকে, 
- লবণ ও গ্যাস: এটি শুধু কিছু বিশেষ বিক্রিয়ায় ঘটে, যেমন কার্বনেট যৌগ + অ্যাসিড।
- পানি ও অক্সিজেন: সাধারণ এসিড-ক্ষার বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় না।
- শুধুই লবণ: এটি ভুল, কারণ পানিও উৎপন্ন হয়। 

সুতরাং, এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে সর্বদা উৎপন্ন হয় লবণ ও পানি।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

৭১৬.
কোমল পানীয়সমূহে কী দ্রবীভূত থাকে?
  1. বেকিং সোডা
  2. এসিটিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড
  4. সোডিয়াম ফ্লোরাইড
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda) :
বেকিং সোডা (NaHCO3)। বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী। এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 

এটি কখনও কখনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পানীয়গুলিতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে যেখানে বেকিং সোডা পানীয়গুলিতে ব্যবহার করা যেতে পারে:

Alka-Seltzer:
বেকিং সোডা হল কিছু অ্যান্টাসিড পণ্যের মূল উপাদান, যেমন আলকা-সেল্টজার। এই পণ্যগুলি পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড নিরপেক্ষ করে অম্বল, বদহজম এবং পেট খারাপ করতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্পোর্টস ড্রিংকস:
কিছু লোক তীব্র ব্যায়ামের সময় ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করতে বাফার করতে স্পোর্টস ড্রিংক বা জলে এক চিমটি বেকিং সোডা যোগ করে।  এই ব্যবহার  সাবধানতার সাথে করা উচিত, কারণ অত্যধিক বেকিং সোডা খাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত করতে পারে।

অ্যাসিড হ্রাস:
বেকিং সোডা পানীয়গুলিতে অতিরিক্ত অম্লতা নিরপেক্ষ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি পানীয় খুব অ্যাসিডিক হয়, তাহলে পিএইচ ভারসাম্য এবং অম্লতা কমাতে অল্প পরিমাণে বেকিং সোডা যোগ করা যেতে পারে।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৭১৭.
কোনটি সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. লিনোলিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. অক্সালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড(Fatty Acid): 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়, কারণ এ শ্রেণীর উচ্চতর সদস্যকে প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যাট বা চর্বি' থেকে অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণে প্রস্তুত করা হয়। 
যেমন- পামিটিক এসিড [CH3(CH2)14.COOH), স্টেয়ারিক এসিড (CH3(CH2)16.COOH] ইত্যাদি। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1-COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড CH3CH2COOH, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড C17H35COOH
(৩) পামিটিক এসিড C15H31COOH ইত্যাদি। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ: 
(১) অক্সালিক এসিড CH2=CHCOOH, 
(২) অলিয়িক এসিড C17H33COOH, 
(৩) লিনোলিক এসিড C17H31COOH ইত্যাদি। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৭১৮.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি শক্ত ধাতুর নাম কি?
  1. ক) হীরা
  2. খ) রুপা
  3. গ) স্বর্ণ
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন।
অপশনে টাংস্টেন নেই। অপশন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত স্বর্ণ, তারপর যথাক্রমে রুপা এবং তামা।
উল্লেখ্য, প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হীরা (অধাতু)। হীরা কার্বনের একটি রূপ।

৭১৯.
বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দান করার পর কী হয়? 
  1. নিজেই বিজারিত হয়
  2. নিজেই জারিত হয় 
  3. নিজে শক্তিশালী হয় 
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না 
ব্যাখ্যা

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, Br2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে।
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে।

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২০.
নিম্নের কোনটি পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) আংশিক ভর
  4. ঘ) ফাঁকা স্থান
ব্যাখ্যা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। এর ভর অতি সামান্য। একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। ইলেকট্রনের সংকেত e¯। ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C। আপেক্ষিক আধান -1।

প্রোটন
: ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। ইহার সংকেত H+। প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। আপেক্ষিক আধান +1।

নিউট্রন: নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২১.
দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়ায় কোন খনিজ প্রকল্পের কাজ চলছে?
  1. কঠিন শিলা
  2. কয়লা
  3. চুনাপাথর
  4. কাদামাটি
ব্যাখ্যা
- দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। 
- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ। 
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি। 
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত। 
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২২.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1.  ধারক 
  2. ক্যাথোড 
  3. অ্যানোড 
  4. রেজিস্টার 
ব্যাখ্যা

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎ দ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় এবং সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৩.
পরমাণুর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে অবস্থিত ইলেকট্রনকে কী বলে?
  1. নিউক্লিয়ন
  2. ভ্যালেন্স ইলেকট্রন
  3. কোয়ার্ক
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা
• যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence Electron):
- কোন মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলা হয়। 
- এই ইলেকট্রন গুলোই রাসায়নিক বিক্রিয়া ও রাসায়নিক বন্ধন এর জন্য দায়ী। 

• উদাহরণ
সোডিয়াম (Na) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s1
এখানে দেখা যায় যে,  শেষ শক্তিস্তর বা ৩য় শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন আছে, সেটিই ভ্যালেন্স বা যোজ্যতা ইলেকট্রন।  

অন্যদিকে,
• কোয়ার্ক হলো একটি মৌলিক কণা যা প্রোটন ও নিউট্রনের উপাদান। এটি পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে (নিউক্লিয়াসে) অবস্থিত কণাগুলোর অংশ।

• নিউক্লিয়ন বলতে বোঝানো হয় প্রোটন এবং নিউট্রনকে, যেগুলো পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে থাকে। এগুলো ইলেকট্রনের মতো শক্তিস্তরে অবস্থান করে না।

• ফোটন হলো আলোর কণা। এটি পরমাণুর শক্তিস্তরের কোন অংশ নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৪.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক?
  1. ক) ফরমালিন
  2. খ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড  প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক।

খাদ্য সংরক্ষণ:
- খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে
স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। 
- খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয়।

প্রিজারভেটিভস:
- সব রাসায়নিক পদার্থ নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহারের ফলে খাদ্যবস্তুতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, খাদ্যবস্তু রক্ষিত থাকে, এদেরকে ফুড প্রিজারভেটিভস বা
প্রিজারভেটিভস বলা হয়।

• প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো- খাদ্য লবণ।
- রাসায়নিক সংকেত: NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)।

খাদ্য লবণ:
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে খাদ্য লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রিজ আবিষ্কারের পূর্বে এটি বহুল প্রচলিত ছিল।
- খাদ্যদ্রব্যকে খাবার লবণ দ্বারা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কিউরিং বলে।
- এ পদ্ধতিতে মাছ, মাংস, ফল ও শাকসবজিকেও সংরক্ষণ করা যায় ।

 উৎস: রসায়ন-১ম পত্র ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৫.
স্বর্ণের খাদ বের করতে ব্যবহার করা হয়-
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
- 1 মোল HNO3 ও 3 মোল HCl এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে। 
- স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 
স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য তাকে নাইট্রিক এসিড দিয়ে পোড়ানো হয়। 
- আর সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত  হয় সালফিউরিক এসিড। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যেকোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 

উৎস: MIT 
৭২৬.
আইসোটোন তৈরি হয় কোনটির তারতম্যের কারণে?
  1. নিউট্রন সংখ্যা
  2. প্রোটন সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- প্রোটন সংখ্যার তারতম্যের কারণে আইসোটোন তৈরি হয়।

•আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

উল্লেখ্য,
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

উৎসঃ রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৭২৭.
দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. গ্রাম
  2. মোল
  3. গ্রাম-তুল্যভর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৮.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলিকে কী বলা হয়?
  1. উৎপাদ
  2. প্রতিক্রিয়া
  3. সমীকরণ
  4. বিক্রিয়ক
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৯.
পাকা কলায় কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ইথাইল বিউটারেট
  2. খ) অকটাইল অ্যাসিটেড
  3. গ) মিথাইল বিউটারেট
  4. ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা

- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।

৭৩০.
Cl + e → Cl- এই বিক্রিয়ায় কি ঘটেছে?
  1. বিকিরণ
  2. প্রতিস্থাপন
  3. বিজারণ
  4. জারণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 = 2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৭৩১.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৭
  4. ২০
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ( Na) এর পারমানবিক সংখ্যা ১১ ও পারমানবিক ভর ২৩। 
এর তিনটি প্রধান শক্তিস্তর আছে। K শক্তিস্তরে ২ টি, L শক্তিস্তরে ৮ টি ও M শক্তিস্তরে ১ টি ইলেকট্রন আছে। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
৭৩২.
বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণুতে একটি কেন্দ্র আছে তা প্রমাণ করেন?
  1. α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  2. β কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  3. ∞ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  4. γ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন পমানুর একটি কেন্দ্র আছে।
যেখানে থাকে নিউট্রন ও প্রোটন।
বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড এর নাম দেন নিউক্লিয়াস।
সুত্রঃ

৭৩৩.
পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে থাকে—
  1. ক) অ্যাসকরবিক এসিড
  2. খ) অক্সালিক এসিড
  3. গ) মিথানয়িক এসিড
  4. ঘ) টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে মিথানয়িক এসিড বিদ্যমান। 

- মিথানয়িক এসিডের অপর নাম ফরমিক এসিড। 
- মিথানয়িক এসিড কার্বক্সিলিক এসিডের অন্তর্ভুক্ত একটি এসিড যা, টেক্সটাইল শিল্পে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭৩৪.
ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান কত?
  1. 0
  2. − 1
  3. − 2
  4. 1
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা ।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e - .
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 ও -1.60×10-19 Coulomb ।
- আপেক্ষিক আধান -1 .

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৫.
শুষ্ক কোষে কোনটি ইলেকট্রন দান করে?
  1. ক) দস্তার খোল
  2. খ) কয়লার গুড়া
  3. গ) কার্বন দণ্ড
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell):
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ।
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে।   
গঠন:
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। - চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়।
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে।
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে।
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে।
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়।
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে।
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে।
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন দান করে।
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৭৩৬.
মিল্ক অফ লাইম কোন যৌগের রাসায়নিক নাম?
  1. Ca(OH)2
  2. CH3COOH
  3. NaHCO3
  4. CuSO4.5H2O
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৭.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-2'তে অবস্থিত মৌলগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ষার ধাতু 
  2. স্বাভাবিক ধাতু 
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৮.
মোমের প্রধান উপাদান কী? 
  1. কার্বন 
  2. কার্বোহাইড্রেট 
  3. সালফার 
  4. হাইড্রোকার্বন 
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের বিশ্লেষণ: 
- কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, যার ফলে কাঁচা আম টক হয়। 
- কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়, তাই পাকা আম মিষ্টি হয়। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এইগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এইগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

- পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। 
- এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, এই দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৯.
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মিথেন ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে কোন যৌগ তৈরি করে? 
  1. অ্যালডিহাইড
  2. অ্যালকাইল হ্যালাইড
  3. অ্যালকোহল
  4. জৈব এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুতি: 
- পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হচ্ছে হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন) এবং এই হাইড্রোকার্বন থেকেও অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুত করা যায়। 
যেমন- 
(i) সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল হ্যালাইড উৎপন্ন করে। সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে মিথেনের সাথে ক্লোরিন বিক্রিয়া করে। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন হাইড্রোজেন ব্রোমাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল ব্রোমাইড উৎপন্ন করে। অ্যালকাইল হ্যালাইড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জলীয় দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয়। উৎপন্ন অ্যালকোহলকে শক্তিশালী জারক (K2Cr2O7 ও H2SO4) দ্বারা জারিত করলে প্রথমে অ্যালডিহাইড/কিটোন এবং পরবর্তীকালে জৈব এসিডে পরিণত হয়। 

(ii) ফসফরিক এসিডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন 300°C তাপমাত্রায় এবং 60 atm চাপে জলীয় বাষ্পের (H2O) সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। 2% মারকিউরিক সালফেট (HgSO4) এবং 20% সালফিউরিক এসিডের (H2SO4) উপস্থিতিতে অ্যালকাইন (ইথাইন) পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালডিহাইড উৎপন্ন করে। তবে HgSO4 বিষাক্ত হওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত অ্যালকেনকে উচ্চ তাপ ও চাপে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করলে জৈব এসিড উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪০.
ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন যৌগের আবরণ থাকে?
  1. ক) AgCl
  2. খ) AgBr
  3. গ) NH4Cl
  4. ঘ) AgF
ব্যাখ্যা
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। 
সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr
 
Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure. 
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
৭৪১.
সিলিন্ডারে যে গ্যাস বিক্রি হয় তার নাম কি?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ইথেন
  3. গ) প্রোপেন
  4. ঘ) বিউটেন
ব্যাখ্যা
সিলিন্ডারে করে বাজারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তার মূল উপাদান হলো বিউটেন, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে, কিন্তু উচ্চচাপে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করা হয় যা উচ্চচাপ যুক্ত আধারে সংরক্ষণ ব্যবহার ও স্থানান্তরের জন্য সুবিধাজনক।
বিউটেন একটি চার কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন। কক্ষতাপমাত্রায় বিউটেন একটি গ্যাসীয় পদার্থ। বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত C4H10। বিউটেনের দুটি আইসোমার বা সমাণু আছে। n-বিউটেন এবং আইসো বিউটেন। আইসো বিউটেনের আরেকটি নাম মিথাইল প্রোপেন। এটি মূলত জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৭৪২.
'সিলভার ব্রোমাইড' এর রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. AgBr
  2. AgBr2
  3. Ag2Br2
  4. Ag2Br3
ব্যাখ্যা
• 'সিলভার ব্রোমাইড' এর রাসায়নিক সংকেত AgBr।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ সাধারণত সিলভার হ্যালাইডের (ব্রোমাইড বা আয়োডাইড) আবরণ থাকে।
- ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে।
- এটি -১ (Br-) আধান সহ আয়নিত একটি ব্রোমাইড পরমাণু।
- যেমন- সিজিয়াম ব্রোমাইড এর সিজিয়াম ধনাত্মক আয়ন (CS+) বৈদ্যুতিক ভাবে আকর্ষিত হতে পারে ব্রোমাইড অ্যানায়ন (Br-) এর প্রতি।
- ফলে বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ আয়নিক যৌগ CsBr গঠিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৪৩.
ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে পার্থক্য কী? 
  1. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে
  2. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে না
  3. সাবান ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, ডিটারজেন্ট গলে না
  4. ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
ব্যাখ্যা
ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৪.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. Sr
  2. Cs
  3. Fr
  4. Li
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৫.
মাটির পাত্রে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?
  1. মাটির পাত্র পানি থেকে তাপ শোষণ করে
  2. মাটির পাত্র ভালো তাপ পরিবাহী
  3. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
- বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে। 
- গরমের দিনে মাটির কলসীতে পানি রেখে পানি ঠান্ডা করা হয়। 
- মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে সর্বদা পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে। 
- ফলে কলসীর বাইরের গাটি সবসময়ই ভেজা থাকে। 
- এই পানির কণা কলসীর গা এবং সংলগ্ন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় সুপ্ত তাপ সংগ্ৰহ করে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। 
- কলসীর গা ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে, ফলে কলসীর ভেতরের পানিও ঠান্ডা হয়। 
- এছাড়া বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণের নীতিকে কাজে লাগিয়ে রিফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৬.
রাবার নিচের কোন জৈব দ্রাবকে অদ্রবণীয় থাকে?
  1. বেনজিন
  2. ইথার
  3. পেট্রোল
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৭.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেন
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইড
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা 'ড্রাই আইস' হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড-78.5°C উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় বা বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৮.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) বিজারক
  2. খ) জারক
  3. গ) বিকারক
  4. ঘ) প্রভাবক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৭৪৯.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়?
  1. ক) বেনজয়িক এসিড
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। আয়োডিন, বেনজয়িক এসিড কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথলিন, কার্বন, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে উর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৭৫০.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা অভিন্ন কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন তাদেরকে কী বলে?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
ব্যাখ্যা
আইসোবার : প্রকৃতিতে এমন কিছু পরমাণু রয়েছে যাদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু ভর সংখ্যা অভিন্ন। এ ধরনের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোবার বলে।
যেমন- 146C ও 147N পরস্পর আইসোবার। কারণ কার্বন ও নাইট্রোজেন প্রত্যেকেরই ভর সংখ্যা ১৪ করে কিন্তু কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬ ও নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫১.
pH স্কেলের সর্বোচ্চ সীমা কত পর্যন্ত হতে পারে?
  1. 6
  2. 7
  3. 18
  4. 14
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন বা নিরপেক্ষ হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫২.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. তড়িৎ বিভব 
  3. ইলেকট্রোলাইসিস
  4. লেকট্রোফোরেসিস
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং (Electroplating): 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 
যেমন-লোহার উপর কপার ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার জন্য CuSO4 এর একটি দ্রবণ নেওয়া হয় এবং কপার দণ্ডকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে এবং লোহা দণ্ডকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করে দ্রবণে তড়িৎ প্রবাহিত করা হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহকালে Cu দণ্ডের কপার 2টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Cu2+ হিসেবে দ্রবণে চলে যায়। 
• Cu → Cu2+ + 2e-  [জারণ বিক্রিয়া] 
- এবার এই Cu2+ দ্রবণের মধ্য দিয়ে Fe দণ্ড থেকে ২টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cu এ পরিণত হয় এবং Fe দণ্ডের উপর লেগে যায়। 
• Cu2+ + 2e- → Cu  [বিজারণ বিক্রিয়া] । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৩.
কোনটি একমুখী বিক্রিয়া?
  1. অ্যামোনিয়া উৎপাদন 
  2. CO2 উৎপন্ন
  3. এস্টার সংশ্লেষণ
  4. CaCO3 তাপীয় বিয়োজন
ব্যাখ্যা

CO2 উৎপন্ন এটি একমুখী বিক্রিয়া। 

রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিক (Direction of Reaction)
রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিকের উপর ভিত্তি করে বিক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

ক) একমুখী বিক্রিয়া (Irreversible Reaction)
- এই ধরনের বিক্রিয়ায় শুধুমাত্র বিক্রিয়ক পদার্থ বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়।
- উৎপাদসমূহ পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে পরিবর্তিত হয় না।
- সম্মুখ বিক্রিয়ার গতিবেগই বর্তমান থাকে, পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়ার কোনো গতিবেগ নেই।

উদাহরণসমূহ:
1. গাছে পাতা, ফুল, ফল ঝরে পড়া; খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক; জীবদেহের বার্ধক্য ও মৃত্যু।
2. কার্বনকে আগুনে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়: C(s) + O₂(g) → CO₂(g)
3. পটাশিয়াম ক্লোরেট (KClO₃) উত্তাপে KCl ও O₂ উৎপন্ন করে:
2KClO₃(s) → 2KCl(s) + 3O₂(g)
4. আয়নিক বিক্রিয়া: NaCl(aq) + AgNO₃(aq) → AgCl↓ + NaNO₃(aq)

খ) উভমুখী বিক্রিয়া (Reversible Reaction)
- উভমুখী বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থ উৎপাদে পরিণত হয় এবং উৎপাদ পদার্থও পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে ফিরে যায়।
- সম্মুখ ও পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়া একসাথে চলতে থাকে।
- উভমুখী বিক্রিয়ার সমীকরণে ⇌ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণসমূহ:
1. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের বিক্রিয়া অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে:
N₂(g) + 3H₂(g) ⇌ 2NH₃(g)
- উৎপন্ন NH₃ তাপ শোষণ করে পুনরায় N₂ ও H₂ তে পরিণত হয়।

2. আবদ্ধ পাত্রে কঠিন চুনাপাথরের (CaCO₃) তাপীয় বিয়োজন:
CaCO₃(s) ⇌ CaO(s) + CO₂(g)
- উৎপন্ন CaO ও CO₂ পুনরায় CaCO₃ এ ফিরে আসে।

3. এস্টার সংশ্লেষণ (ইথানল + ইথানোয়িক এসিড):
CH₃-CH₂OH + CH₃-COOH ⇌ CH₃-CO-O-CH₂-CH₃ + H₂O

4. হাইড্রোজেন ও আয়োডিনের বিক্রিয়া:
H₂ + I₂ ⇌ 2HI
- দীর্ঘ সময় পরেও বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। কারণ HI গ্যাসও পুনরায় H₂ ও I₂ তে বিয়োজিত হয়।
- উভমুখী বিক্রিয়ায় বদ্ধ পাত্রে H₂, I₂ ও HI তিনটি উপাদানই উপস্থিত থাকে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৪.
কোনটি অম্লীয় যৌগ?
  1. ক) FeCI3
  2. খ) KCI
  3. গ) CH3CI
  4. ঘ) C6H5CI
ব্যাখ্যা
- FeCl3 একটি লুইস এসিড।
- FeCl3 লুইস কাঠামোতে, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে Fe +3 অক্সিডেশন অবস্থা এবং এটির d অরবিটালে পাঁচটি ইলেকট্রন রয়েছে এবং d অরবিটালে সর্বোচ্চ সংখ্যক ইলেকট্রন জমা হয় 10।
- সুতরাং, এটি তার d অরবিটালে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে। এটি লুইস এসিড হিসাবে কাজ করে।
- অর্থাৎ FeCl3 একটি অম্লীয় যৌগ।
৭৫৫.
কোনটি টুথপেষ্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সিডার উড
  2. খ) তারপিনল
  3. গ) লিনানল
  4. ঘ) মেনথল
ব্যাখ্যা
টুথপেস্ট তৈরিতে উপাদান হিসেবে মেনথল ব্যবহৃত হয়। দাঁত ব্রাশ করলে শীতল এবং ফ্রেশ অনুভূতির উৎস মেনথল।
৭৫৬.
কোন মৌলটির আয়নীকরণ শক্তি বেশি?
  1. ক) Li
  2. খ) B
  3. গ) C
  4. ঘ) Ne
ব্যাখ্যা
• আয়নীকরণ শক্তি: গ্যাসীয় অবস্থায় কোন মৌলের নিরপেক্ষ পরমাণু থেকে ইলেকট্রন অপসারণ করে ধনাত্বক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে মৌলটির আয়নীকরণ শক্তি বলা হয়।
- পরমাণুর বাইরের স্তর থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে প্রথম আয়নীকরণ শক্তি, পরের ১টি ইলেকট্রন অপসারণ করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে দ্বিতীয় আয়নীকরণ শক্তি বলা হয়।

- দেখা যাচ্ছে যে পর্যায়ের বাম থেকে ডান দিকে গেলে সাধারণত  ১ম আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- পর্যায় সারণির বাম থেকে ডান দিকে গেলে পরমাণুর আকার ছোট হতে থাকে।
- এতে বাইরের স্তরের ইলেকট্রনের সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বাড়তে থাকে।
- ফলে ইলেকট্রন অপসারণ কষ্টকর হয়, তাই আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৭.
নিচের কোনটি প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষের উদাহরণ নয়?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. শুষ্ক কোষ
  3. লেড–এসিড সঞ্চয়ী কোষ
  4. ভোল্টা কোষ
ব্যাখ্যা

• লেড–এসিড সঞ্চয়ী কোষ সেকেন্ডারি তড়িৎ রাসায়নিক কোষের উদাহরণ।

• তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। - তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ:
যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ:
যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৫৮.
বাতাসে শব্দের বেগ কত?
  1. 330 m/s
  2. 1284 m/s
  3. 1493 m/s
  4. 1450 m/s
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
- পানিতে শব্দের বেগ ১৪৯৩ মি/সে এবং
- লোহাতে শব্দের বেগ ৫১৩০ মি/সে।
- হাইড্রোজেনে  শব্দের বেগ ১২৮৪ মি/সে,
- পারদে শব্দের বেগ  ১৪৫০ মি/সে,

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
৭৫৯.
রেকটিফাইড স্পিরিট কী?  
  1. মিথানলের জলীয় দ্রবণ 
  2. ইথানলের জলীয় দ্রবণ  
  3. মিথোনয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ 
  4. ইথোনয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ 
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 

- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬০.
এসিড বৃষ্টি কেন হয়?
  1. ক) আগ্নেয় গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে
  2. খ) দাবানলের কারণে
  3. গ) গাছপালার পচনের কারণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ি দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে।
একইভাবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইট ভাটা, যানবাহন, চুলা ইত্যাদি উৎস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা এসিডে পরিনত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৭৬১.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. বেরিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই মৌলগুলোর প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 
যেমন- 
• লিথিয়াম (Li), 
সোডিয়াম (Na), 
• পটাসিয়াম (K), 
রুবিডিয়াম (Rb), 
সিজিয়াম (Cs) এবং 
• ফ্রান্সিয়াম (Fr)। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
যেমন- 
• বেরিলিয়াম (Be), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• স্ট্রনসিয়াম (Sr), 
বেরিয়াম (Ba) এবং 
• রেডিয়াম (Ra)। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। 
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬২.
কক্ষতাপমাত্রায় গ্যাসের ঘনত্ব -
  1. অনেক বেশি
  2. তরলের তুলনায় বেশি
  3. খুবই কম
  4. তরল অবস্থার সমান
ব্যাখ্যা

গ্যাসের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Gas):
- কক্ষ তাপমাত্রায় যে সব উপাদান বায়বীয় অবস্থায় থাকে তাকে গ্যাস বলা হয়।
- যেমন- O2, N2, H2, CO2, He এ সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ।

গ্যাসীয় পদার্থগুলো বেশিকিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। যেমন-
১। আকার ও আয়তন: গ্যাসীয় পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। সাধারণত যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন বলে ধরা হয়।
২। সম্প্রসারণশীলতা: গ্যাসের সম্প্রসারণ ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় খুব দ্রুত ঐ পাত্রের সমস্ত জায়গায় গ্যাস বিস্তৃত হয়ে পড়ে।
৩। ব্যাপন: গ্যাসের ব্যাপনের ক্ষমতা খুব বেশি। দুই বা ততোধিক গ্যাস পরস্পরের মধ্যে দ্রুত গতিতে পরিব্যাপ্ত হয়ে সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি করে থাকে। গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক শূন্য স্থান থাকে বলে এটি সম্ভব হয়।
৪। আন্তঃকণা আকর্ষণ বল: গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য। এ বলের মান ততই কম যে সাধারণভাবে একে শূন্য বলে ধরে নেয়া হয়।
৫। ঘনত্ব: কক্ষতাপমাত্রায় গ্যাসের ঘনত্ব খুবই কম। উপাদানের একক আয়তনের ভরকে উপাদানের ঘনত্ব বলা হয়। গ্যাসীয় অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব অধিক হওয়ায় একক আয়তনে গ্যাস অণুর সংখ্যা কম হয়। এ কারণে একক আয়তনের ভর তথা ঘনত্ব কম হয়।
৬। গ্যাসের চাপ: যে পাত্রে গ্যাস রাখা থাকে ঐ গাত্রের দেয়ালের উপর গ্যাস চাপ প্রয়োগ করে। গ্যাস অণুগুলো গতিশীল থাকায় পাত্রের দেয়ালে চাপ বা বল প্রয়োগ করে। গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক আরোপিত এ চাপ পাত্রের উপরে, নিচে, পার্শ্বে সব জায়গায় সমান থাকে। প্রকৃত পক্ষে স্থির তাপমাত্রায় একক ক্ষেত্রফলের উপর পাত্রের দেয়ালে গ্যাস যে বল প্রয়োগ করে তাকে গ্যাসের চাপ বলা হয়।
৭। অণুর গতি: গ্যাস অণুগুলোর গতিশক্তি যথেষ্টভাবে অধিক এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি জনিত কারণে অণুগুলোর গতিশক্তির বৃদ্ধি ঘটে। গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম হওয়ায় অণুগুলো স্বাধীন এবং বিক্ষিপ্তভাবে গতিশীল থাকে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৬৩.
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?
  1. ফিটকিরি
  2. চুন
  3. সেভিং সোপ
  4. কস্টিক সোডা
ব্যাখ্যা
[এলুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি যার রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
(পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট. ২৪ অণু পানি); একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।]

• পটাশ অ্যালাম:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৪.
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
ব্যাখ্যা

যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass number) সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়, তাদেরকে আইসোবার (Isobar) বলা হয়।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

অন্যদিকে,
• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোমার (Isomer): 
- যাদের আণবিক সংকেত একই কিন্তু গাঠনিক সংকেত বা পরমাণুর বিন্যাস ভিন্ন। এটি মূলত জৈব যৌগের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৫.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে কী বলা হয়?
  1. পরমাণু
  2. অণু
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• পরমাণু:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

• অণু:

- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।

• ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।

• নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৬.
ক্ষার ধাতু পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে অবস্থিত? 
  1. গ্রুপ-1
  2. গ্রুপ-2
  3. গ্রুপ-11
  4. গ্রুপ-17
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৭.
২য় শেল (L-শেল) সর্বাধিক কতটি ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে? 
  1. 18
  2. 2
  3. 8
  4. 32
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। 
n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন ( যেখানে, n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (2)2 = 8 টি
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (3)2 = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (4)2 = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৮.
সোডিয়ামের আকরিক নিচের কোনটি?
  1. চুনাপাথর
  2. হেমাটাইট
  3. বক্সাইট
  4. রকসল্ট
ব্যাখ্যা
• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৯.
বজ্রপাতের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন কীভাবে পৌঁছায়?
  1. বাতাসের চাপের মাধ্যমে
  2. বজ্রপাত দ্বারা নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেটে রূপান্তর, বৃষ্টিতে মাটিতে পৌঁছানো
  3. সূর্যালোকের বিকিরণ দ্বারা
  4. অক্সিজেনের সরাসরি আঘাতের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়াম (NH4+) এবং নাইট্রেটে (NO3-) রূপান্তরিত করে, পরে বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে পৌঁছায়।

- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
 - উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার।
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়।
- গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
- যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭০.
পদার্থের চতুর্থ অবস্থাটির নাম কী?
  1. গ্যাস
  2. প্লাজমা
  3. তরল স্ফটিক
  4. বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট
ব্যাখ্যা

• পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
- এই প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। প্লাজমার বড় উৎস হচ্ছে সূর্য। তাছাড়াও অন্যান্য নক্ষত্রগুলোও প্লাজমার উৎস। প্রায় কয়েক হাজার ডিগ্রী সেলসিয়অস তাপমাত্রায় প্লাজমা অবস্থার উৎপত্তি হয়। 

• বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের এই অবস্থাটি আয়নিত রূপে থাকে।
- প্লাজমা অবস্থার মূল উৎস হচ্ছে সূর্য। 
- সূর্য ব্যতীত মহাবিশ্বের তারা বা নক্ষত্র পদার্থের এই চতুর্থ অবস্থার উৎস হিসেবে কাজ করে।
- অত্যাধিক তাপমাত্রায় (প্রায় ১-২ হাজার ডিগ্রী ) প্লাজমা অবস্থার উদ্ভব ঘটে।
- গবেষণাগারে নিম্নচাপে গ্যাসীয় পদার্থকে উত্তপ্ত করে প্লাজমা তৈরি করা যায়। 
- গ্যাসীয় পদার্থের মতো প্লাজমার নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই। 
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায়ও প্লাজমা সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে। 

অন্যান্য অপশন:
- গ্যাস (Gas): এটি পদার্থের তৃতীয় অবস্থা।
- তরল স্ফটিক (Liquid Crystal): এটি পদার্থের একটি মধ্যবর্তী বিশেষ অবস্থা, যা সাধারণত বৈদ্যুতিক ডিসপ্লেতে ব্যবহৃত হয়। এটি পদার্থের মূল অবস্থাগুলোর মধ্যে গণ্য হয় না।
- বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট (BEC): এটি হলো পদার্থের পঞ্চম অবস্থা, যা অতি নিম্ন তাপমাত্রায় তৈরি হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৭৭১.
সর্বোচ্চ গলনাংক বিশিষ্ট ধাতু কোনটি?
  1. টাইটেনিয়াম
  2. প্লাটিনাম
  3. টাংস্টেন
  4. জারকানিয়াম
ব্যাখ্যা
- একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি কারণ টাংস্টেন সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক (৩৪২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বিশিষ্ট, সর্বনিম্ন বাষ্পীয় চাপ বিশিষ্ট এবং ইহা ধাতুগুলোর মাঝে সর্বাধিক প্রসারণযোগ্য। 
- এটি গলে যাওয়ার আগে উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন। 
- টাংস্টেনের (Wolfram) এর সংকেত W. 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭২.
নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
  1. P4O10
  2. MgO
  3. CO
  4. ZnO
ব্যাখ্যা
- ক্ষারকীয় অক্সাইড হলো এমন অক্সাইড যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষার তৈরি করে। 
- এদের মধ্যে (MgO) ধাতব অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয় হয়। 
- MgO পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)2 গঠন করে, যা একটি ক্ষার। 

Magnesium oxide (MgO) is again a simple basic oxide, because it also contains oxide ions.

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৭৩.
দুধের রং সাদা হয় কেন?
  1. ক) প্রোটিনের জন্য
  2. খ) ফ্যাটের জন্য
  3. গ) মিনারেলের জন্য
  4. ঘ) কার্বোহাইড্রেটের জন্য
ব্যাখ্যা
প্রোটিনের জন্য দুধের রং সাদা হয়।
- ক্যাসেন এক ধরনের প্রোটিন।
- দুধে এই প্রোটিনটি-ই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে।
- এই ক্যাসেনে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
- ক্যালসিয়াম দেহের হাড়গুলোকে শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭৭৪.
পানির ঘনত্ব -
  1. ক) 1 gm/cc
  2. খ) 1 gm/m
  3. গ) 1 cm/m2
  4. ঘ) 1 kg/m
ব্যাখ্যা
পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/মিলিলিটার (আসলে 4°C তাপমাত্রায় এই মানটা ১ এর চেয়ে একটু কম, ০.৯৯৯৮৩৯৫ g/ml) অথবা ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার (1 g/cm3)
৭৭৫.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. কঠিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৬.
তুঁতে বা কপার সালফেটের কৃষিতে প্রধান ব্যবহার কী? 
  1. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি
  2. পানি বিশুদ্ধকরণ
  3. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি
  4. ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত এক ধরনের লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৭.
ক্ষার ধাতু সমূহের জারণ সংখ্যা সাধারণত কত?
  1. 0
  2. +1
  3. -1
  4. +2
ব্যাখ্যা

- ক্ষার ধাতুগুলো (যেমন- লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম) পর্যায় সারণির গ্রুপ-১ এর অন্তর্ভুক্ত। এদের ইলেকট্রন বিন্যাসের শেষ কক্ষপথে মাত্র একটি ইলেকট্রন থাকে, যা ত্যাগ করে এরা সহজেই স্থিতিশীলতা অর্জন করে এবং +1 আধানযুক্ত আয়নে পরিণত হয়। 

জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1. 
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্য সব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৮.
দ্রবণে সাধারণত দ্রাবকের পরিমাণ দ্রবের তুলনায় কেমন হয়?
  1. বেশি
  2. কম
  3. সমান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দ্রবণ (Solution) হলো দুই বা ততোধিক পদার্থের মিশ্রণ, যেখানে একটি পদার্থ প্রধানত দ্রাবক (Solvent) এবং অন্যগুলো দ্রব (Solute)। 

দ্রাবক হলো সেই পদার্থ যার পরিমাণ দ্রবণে তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং যেটিতে অন্য পদার্থ (দ্রব) দ্রবীভূত হয়।

• দ্রব হলো সেই পদার্থ যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং যা দ্রাবকে মিশে যায়।

উদাহারণ:-
- সাধারণ লবণ পানি: এখানে পানির পরিমাণ বেশি থাকে (দ্রাবক >> দ্রাব)। 
- চিনির সিরাপ: এখানেও পানি প্রধান উপাদান।   

ব্যতিক্রম:-
- অ্যালকোহল-পানি মিশ্রণ: কখনো কখনো সমান অনুপাতে থাকতে পারে। 
- অম্ল: H₂SO₄ এর ক্ষেত্রে দ্রাব বেশি হতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী।
৭৭৯.
পদার্থের অবিভাজ্য একক সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারনা দেন কে?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) পিথাগোরাস
  4. ঘ) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
• পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 
৭৮০.
সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. তৈল
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
৭৮১.
কৃষিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. CuSO4
  4. NH4NO3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮২.
নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ এক ধরনের- 
  1. শুষ্ক কোষ
  2. ড্যানিয়েল কোষ
  3. সেকেন্ডারি কোষ
  4. প্রাথমিক কোষ
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৮৩.
কোন যৌগটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম গ্লটামেট
  4. সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R- COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট(Na2SiO3) ' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলসমূহ কোন ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে? 
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. যোজন ইলেকট্রন
  4. আয়নীকরণ শক্তি
ব্যাখ্যা

◉ আধুনিক পর্যায় সারণি (Modern Periodic Table) মূলত মোজলি (Henry Moseley, 1913)-এর প্রস্তাবিত নীতি অনুসারে সাজানো। তিনি প্রমাণ করেন যে, মৌলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে পারমাণবিক সংখ্যা (proton সংখ্যা) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে।
- আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার ক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে।
- ১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।
- এর পূর্বে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজানো ছিলো। 

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
- পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) অনুসারে সাজানো হয়।
- পর্যায় সারণিতে 18টি গ্রুপ এবং 7টি পর্যায় রয়েছে।
- একটি গ্রুপ হল পর্যায় সারণীর উল্লম্ব কলাম, যা মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- একটি পর্যায় হল পর্যায় সারণীর অনুভূমিক সারি।
- প্রতিটি পর্যায় বামদিকের গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌল হিসেবেও দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে ৬ এবং ৭ পর্যায়ের অংশ।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৭৮৫.
সিমেন্টে চুনের পরিমাণ কত?
  1. ক) ৪০ - ৫০%
  2. খ) ৫০ - ৬০%
  3. গ) ৬০ - ৭০%
  4. ঘ) ৭০ - ৭৫%
ব্যাখ্যা
সিমেন্টে বিভিন্ন উপাদানের সংযুক্তিঃ
৭৮৬.
কোনো মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান-
  1. বাড়ে
  2. কমে
  3. একই থাকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 

- গ্যাসীয় অবস্থায় কোন মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 

- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌল। 
- এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। 
আবার, Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭৮৭.
স্যাকারিন প্রস্তুত হয়-
  1. বেনজিন থেকে
  2. টলুইন থেকে
  3. ফেনল থেকে
  4. এলডিহাইড থেকে
ব্যাখ্যা
• স্যাকারিন:
- স্যাকারিন হলো একটি কৃত্রিম মিষ্টি, যা প্রকৃত চিনি থেকে প্রায় ৩০০-৪০০ গুণ বেশি মিষ্টি।
- এটি সাধারণত টলুইন (Toluene) থেকে প্রস্তুত করা হয়।
- রাসায়নিক নাম: o-Benzosulfimide
- ব্যবহার: ডায়েট খাবার, ডায়াবেটিকদের জন্য বিকল্প মিষ্টি, সফট ড্রিঙ্ক, ওষুধে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৮৮.
তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) নাইট্রিক এসিড
  3. গ) কপার সালফেট
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা

যেসব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না, ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না তাদেরকে তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। যেমন- পানি, চিনি, কেরোসিন ইত্যাদি।
যেসব পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। যেমন- সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, কপার সালফেট।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির বই।

৭৮৯.
নিচের কোনটির ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন?
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা
• আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।

• আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

• আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯০.
স্টার্চ থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় কোনটি উৎপাদন করা হয়?
  1. ক) বেনজিন
  2. খ) ইথানল
  3. গ) অ্যালডিহাইড
  4. ঘ) ফ্যাটি এসিড
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 

- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯১.
হাইড্রোজেন অপেক্ষাকৃত হালকা হয়া সত্ত্বেও কেন হিলিয়াম দ্বারা বেলুন ভর্তি করা হয়?
  1. হিলিয়াম সহজলভ্য
  2. হিলিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস
  3. হিলিয়াম গ্যাসের দাম কম
  4. উপরের সবকটিই
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন অপেক্ষাকৃত হালকা হয়া সত্ত্বেও হিলিয়াম দ্বারা বেলুন ভর্তি করা হয় কারণ হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 

- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা। 
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।
৭৯২.
কোনটি  জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ?
  1. Cycas
  2. Pinus
  3. Netum
  4. Royal Plam
ব্যাখ্যা

• জীবন্ত জীবাশ্ম বা “living fossil” হলো এমন উদ্ভিদ বা প্রাণী যা পৃথিবীতে বহু মিলিয়ন বছর ধরে কম পরিবর্তিত অবস্থায় টিকে আছে। এই প্রজাতিগুলি প্রায় প্রাচীন রূপে বর্তমানেও বিদ্যমান থাকে। প্রশ্নে যে চারটি উদ্ভিদ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে Cycas জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। Cycas উদ্ভিদটি প্রায় ২ কোটি বছরের বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে রয়েছে এবং এর গঠন ও জীবনচক্র প্রায় অপ্রচলিত অবস্থায় রয়ে গেছে। অন্যদিকে Pinus, Netum এবং Royal Palm তুলনামূলকভাবে আধুনিক উদ্ভিদ এবং জীবন্ত জীবাশ্মের সংজ্ঞায় পড়ে না। তাই প্রাচীন গঠন ও ইতিহাসের কারণে Cycas পরিচিত জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে।

• জীবন্ত জীবাশ্ম :
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ:
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত।
- এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৩.
ড্রাই সেলে ধনাত্মক পাত হিসেবে কাজ করে -
  1. ক) কার্বন দণ্ড
  2. খ) সীসার কৌটা
  3. গ) দস্তার কৌটা
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।

শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়। দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
এতে সাধারণত ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৭৯৪.
টিংচার আয়োডিন কোন ধরনের পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. জৈব সার 
  2. কীটনাশক 
  3. চেতনানাশক
  4. অ্যান্টিসেপটিক 
ব্যাখ্যা

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৫.
দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি? 
  1. শুষ্ক কোষ
  2. গ্যালভানিক কোষ
  3. ড্রাই সেল
  4. সরল ভোল্টায়িক কোষ
ব্যাখ্যা
দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 

- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৯৬.
কোন বিষয়ে অবদানের জন্যে ২০২০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়?
  1. ক) ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপির বিকাশ
  2. খ) লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
  3. গ) জিনোম এডিটিং পদ্ধতি
  4. ঘ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত
ব্যাখ্যা

রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা। জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

৭৯৭.
কিসমিস পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফুলে ওঠার কারণ কী? 
  1. গলন
  2. বাষ্পীভবন
  3. বহিঃঅভিস্রবণ
  4. অন্তঃঅভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দু'ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৮.
এসিডীয় দ্রবণের pH কত?
  1. 7 এর কম
  2. 7 এর বেশি
  3. 7 এর সমান
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোনো দ্রবনের pH = 7 তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি
কোনো দ্রবনের pH < 7 তা এসিডীয় দ্রবণ হবে
কোনো দ্রবনের pH > 7 তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে।

[উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণি বিজ্ঞান ,পৃষ্ঠা -১৪৫]
৭৯৯.
সোডিয়ামের প্রতীক কোনটি?
  1. ক) Na
  2. খ) S
  3. গ) N
  4. ঘ) Sa
ব্যাখ্যা
প্রতীক লেখার নিয়ম:
১। মৌলিক পদার্থের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর টিকে বড় হরফে লিখে মৌলটির চিহ্ন প্রকাশ করা হয়।
যেমন হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O)
২। একই প্রথম অক্ষর বিশিষ্ট একাধিক মৌল থাকলে ওই গুলোর চিহ্ন প্রকাশ করা হয়। প্রথম অক্ষরের সঙ্গে পরের অক্ষর যোগ করে কিংবা প্রথম অক্ষরের সঙ্গে উচ্চারিত অক্ষর যোগ করে। যেমন:
ক্যালসিয়াম (Ca), বেরিয়াম (Ba)
৩। কতক গুলো মৌলের চিহ্ন মৌলের ল্যাটিন নামের প্রথম বা প্রথম দুই অক্ষর অথবা উচ্চারণ ধ্বনিতে প্রাধান্য পাওয়া অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেমন: 
সোডিয়াম (Sodium) (ল্যাটিন- natirum)-প্রতীক-Na
পটাশিয়াম Potassium (ল্যাটিন Kalium)-প্রতীক-K
৮০০.
নিচের কোনটি গ্যালভানাইজিংয়ের বিকল্প ধাতু হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
  1. সোনা 
  2. টিন
  3. কপার 
  4. লোহা 
ব্যাখ্যা

- গ্যালভানাইজিংয়ে সাধারণত দস্তা (জিঙ্ক) ব্যবহার করা হয়। গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় টিন (Tin) ধাতুটিকে একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।