বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ৬০১৭০০ / ২,৬৯২

৬০১.
রেকটিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৯৫% মিথানল + ৪% পানি
  2. ৯০% গ্লিসারলের দ্রবণ
  3. ইথানলের ৫০% জলীয় দ্রবণ
  4. ৯৫.৬% ইথানল + ৪.৪% পানি
ব্যাখ্যা

• রেকটিফাইড স্পিরিট হলো ৯৫.৬% ইথানল + ৪.৪% পানি।

• অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়।
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে।
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০২.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাধিক? 
  1. 0° C
  2. 4° K
  3. 4° C
  4. 100° C
ব্যাখ্যা

ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব 4° C তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি হয়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবলমাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৩.
নিচের কোনটি দুর্লভ গ্যাস?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।

--------------------------
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
- আবার বায়ুতে এদের পরিমাণ খুবই কম (<1%); এ কারণে এদেরকে বিরল বা দুর্লভ গ্যাসও বলা হয়।
- এই গ্যাসগুলো খুব একটা ক্ষতিকরও নয়; তাই এদেরকে ‍উত্তম গ্যাসও বলা হয়।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৪.
বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH কত? 
ব্যাখ্যা

পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 

• গলনাংক: 
- শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

• স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

• অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

• দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

• ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৫.
ফোটন কণা -
  1. ক) ভর সম্পন্ন
  2. খ) গতিশীল
  3. গ) তড়িৎ নিরপেক্ষ
  4. ঘ) প্রতিটি ফোটন কণা শব্দের বেগে চলে
ব্যাখ্যা

আলাে যে ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট রুপে নির্গত হয় তাকে ফোটন বলে।
ফোটন ভরহীন, তড়িৎ নিরপেক্ষ স্থিতিশীল/সুস্থিত। ফোটন এর দুইটি সম্ভাব্য সমবর্তন দশা রয়েছে।
ফোটন এর কোনো চার্জ না থাকার কারনে তড়িৎ বা চুম্বক ক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা।
কোয়ান্টাম তত্ত্বের অপর নাম ফোটন তত্ত্ব।

৬০৬.
যেসব নিউক্লিয়াসের ভরসংখ্যা ভিন্ন কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা সমান তাদের কী বলে?
  1. আইসোমার
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোটোন
ব্যাখ্যা
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

অন্যদিকে,
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৭.
একটি পরমাণুর দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ৩২
  2. ১৮
ব্যাখ্যা

⚪ ইলেকট্রন বিন্যাস:
- পরমাণুর কক্ষপথগুলোতে 2n² (যেখানে n = 1, 2, 3. ..কক্ষপথের ক্রমিক নম্বর) সূত্রানুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক ইলেকট্রন বিন্যাস্ত থাকতে পারে।
- সে সূত্রানুযায়ী, ১টি লিথিয়াম পরমাণুতে ৩টি ইলেকট্রন আছে। এদের মধ্যে ২টি ইলেকট্রন প্রথম কক্ষপথে থাকে আর তৃতীয়টি দ্বিতীয় কক্ষপথে থাকে।
- একইভাবে কার্বন পরমাণুতে ৬টি ইলেকট্রন থাকায় এদের ২টি ইলেকট্রন প্রথম কক্ষপথে এবং বাকি ৪টি ইলেকট্রন দ্বিতীয় কক্ষপথে থাকে।
- এভাবে প্রথম কক্ষপথে সর্বোচ্চ ২টি, দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৮টি এবং তৃতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ১৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।

⚪ সঠিক উত্তর: ক) ৮

একটি পরমাণুর নির্দিষ্ট কক্ষপথে (শেল বা shell) সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে, তা নির্ধারণ করা হয় এই সূত্র দিয়ে:

সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা = 2n2

যেখানে,

n = কক্ষপথের ক্রমসংখ্যা (shell number)

দ্বিতীয় কক্ষপথে (L-shell):

n = 2

2n2 = 2 × 22 = 2 × 4 = 8

তাই, দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।

অন্যান্য শেল উদাহরণ:

প্রথম কক্ষপথ (K-shell): 2 × 12 = 2

তৃতীয় কক্ষপথ (M-shell): 2 × 32 = 18

চতুর্থ কক্ষপথ (N-shell): 2 × 42 = 32

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬০৮.
মল্ট থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি?
  1. মলটেস
  2. ডায়াস্টেস
  3. জাইমেস
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন (Manufacture of alcohol): 

মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit)। 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাঁচামালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন - শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট(Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত?
  1. ক) ৯৯.৯৮
  2. খ) ৯৯.৯৯
  3. গ) ১
  4. ঘ) ১.০০৮
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেনের তিন ধরনের আইসোটোপের শতকরা পর্যাপ্ততার পরিমাণকে গড় করলে এর ভর পাওয়া যায় ১.০০৮।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬১০.
নিচের কোনটি সেকেন্ডারী দূষক? 
  1. CO
  2. O3
  3. CO2
  4. SO2
ব্যাখ্যা
দূষক (Pollutant): 
- কোনো পদার্থ পরিবেশে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রাচুর্য অপেক্ষা অধিক পরিমাণে উপস্থিত থেকে মনুষ্যজাতি অথবা অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে ঐ পদার্থটিকে দূষক বলা হয়। 
- বায়ুতে সল্পমাত্রায় (0.1 ppm) CO থাকে। 
- কিন্তু এর পরিমাণ বেড়ে (40 ppm) বা তার বেশি হলে এটি দূষক হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- দূষক দুই প্রকার। 
যথা - 
১। প্রাথমিক (প্রাইমারী) দূষক ও 
২। গৌণ (সেকেন্ডারী) দূষক। 

প্রাইমারী দূষক: 
- যেসব দূষক কোনো উৎস হতে নির্গত হয়ে সরাসরি অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে আসে তাদের প্রাইমারী দূষক বলা হয়। 
যেমন- SO2, CO, CO2, NOx হাইড্রোকার্বনসমূহ, ছাই, ধূলিকণা ইত্যাদি। 

সেকেন্ডারী দূষক: 
- এই প্রকারের দূষক কোনো উৎস থেকে সরাসরি পরিবেশে আসে না। 
- পরিবেশেস্থিত দূষকগুলির পারস্পরিক বিক্রিয়ায় বা প্রাথমিক দূষকের সঙ্গে পরিবেশের কোনো একটি উপদানের বিক্রিয়ায় যেসব ক্ষতিকারক পদার্থ সৃষ্টি হয় তাদের গৌণ দূষক বলে। 
যেমন- পারঅক্সি অ্যাসাইল নাইট্রেট (PAN), ডাই মিথাইল মার্কারি [(CH3)2Hg], SO3, NO2, O3, H2SO4 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১১.
মিথেনের অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত কত?
  1. ১ : ২
  2. ১ : ৩
  3. ১ : ৪
  4. ১ : ৫
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।
- জৈব যৌগের মধ্যে সরলতম যৌগ হলো এ হাইড্রোকার্বন। 

• অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• মিথেন (Methane) হলো একটি সরল হাইড্রোকার্বন যার রাসায়নিক সংকেত: CH₄
এখানে- 
কার্বন (C) = ১টি
হাইড্রোজেন (H) = ৪টি

সুতরাং, মিথেনের অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত = ১ : ৪

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১২.
নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শক্তিস্তর কোনটি?
  1. K-শেল 
  2. L-শেল
  3. N-শেল
  4. M-শেল
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। 
n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 

- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন ( যেখানে, n = 1, 2, 3 ......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = {2 × (1)2} = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = {2 × (2)2} = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = {2 × (3)2} = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = {2 × (4)2} = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৩.
প্রোপেনের রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী কার্বনের সংখ্যা কত?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা

• প্রোপেন একটি হাইড্রোকার্বন যা অ্যালকেন পরিবারে অন্তর্ভুক্ত। এর রাসায়নিক সূত্র হলো C3H6, যা নির্দেশ করে এতে ৩টি কার্বন পরমাণু এবং ৬টি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। প্রোপেনের কাঠামোতে তিনটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে দুটি কার্বন একত্রে সাধারণ একক বন্ধনে এবং একটি কার্বন দ্বিগুণ বন্ধনে যুক্ত থাকে। এই দ্বিগুণ বন্ধনটি প্রোপেনকে আলাদা করে সাধারণ অ্যালকেন থেকে এবং এটি রাসায়নিকভাবে সক্রিয় করে তোলে। সুতরাং, প্রোপেনের রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী কার্বনের সংখ্যা হলো ৩, যা অপশন গ-তে দেওয়া হয়েছে।

- সঠিক উত্তর: গ) ৩ টি। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• প্রোপেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। প্রোপেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C3H8
অর্থাৎ এটি হলো ৩ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। যাতে ৩ টি কার্বনের সাথে ৮ টি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৪.
নিচের কোনটি এসিডের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. এসিড টক স্বাদযুক্ত।
  2. এসিড ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
  3. এসিড নীল বর্ণের লিটমাস লাল করে।
  4. এসিড লাল বর্ণের লিটমাস নীল করে।
ব্যাখ্যা
এসিড:
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
- যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড।
-এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ - 
১. এসিড টক-স্বাদযুক্ত। 
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী। 

অন্যদিকে, 
- ক্ষারক লাল বর্ণের লিটমাস নীল করে। 

তথ্যসূত্র - রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৫.
পানির ঘনত্ব থেকে পারদের ঘনত্ব কতগুণ বেশি?
  1. ক) ১১.৬
  2. খ) ১২.৬
  3. গ) ১৩.৬
  4. ঘ) ১৪.৬
ব্যাখ্যা

কোন বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। ঘনত্ব পদার্থের একটি সাধারণ ধর্ম । ঘনত্ব বস্তুর উপাদানের ও তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

পানির ঘনত্ব থেকে পারদের ঘনত্ব  ১৩.৬ গুণ বেশি।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান। 

৬১৬.
কোন বস্তু যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তার পরিমাণকে কী বলে?
  1. ক) ভর
  2. খ) ওজন
  3. গ) ঘনত্ব
  4. ঘ) মোলারিটি
ব্যাখ্যা

ভর: প্রত্যেক বস্তু পদার্থ দ্বারা গঠিত। ভর হলো কোনো বস্তুতে পদার্থের পরিমাণ। বস্তুর ধর্ম এর অবস্থান, আকৃতি ও গতি পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তিত হয় না। যে পরমাণু ও অণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর বস্তুটির ভর নির্ভর করে।

ওজন: কোনো বস্তুকে বা কোনো বস্তুর ভরকে পৃথিবী যে বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তাকে বস্তুটির ওজন বলে।

ঘনত্ব: কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে ঘনত্ব বলে।

মোলারিটি: কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যা বা গ্রাম আণবিক ভর সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলে। এক কথায় বলা যায় যে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রব্যের মোল সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৭.
কোনটি প্রমাণ তাপমাত্রা হিসাবে গণ্য করা হয়? 
  1. 0°C
  2. 25°C
  3. 100°C
  4. 273°C
ব্যাখ্যা
মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৮.
নিচের কোনটি সাবানের ক্ষেত্রে মিথ্যা?
  1. খর পানিতে ভাল কাজ করতে পারে।
  2. সাবান উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে সাপনিফিকেশন বলে।
  3. সাবান তৈরির মূল উপাদান চর্বি।
  4. সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাবান হলো দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি খর পানিতে ভাল কাজ করতে পারে না।
- ডিটারজেন্টের চেয়ে পরিষ্কারকরণের ক্ষমতা কম।
- অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে ক্ষার হাতের ক্ষতি করে।
- সাবানের রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa.
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।
- চর্বি বা ট্যাল্লো, ক্ষার, অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি যেমন সোডিয়াম-বাই-কার্বনেট, সোডিয়াম সিলিকেট এবং বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি ও রঞ্জক পদার্থ সাবান তৈরির মূল উপাদান।
- সাবান উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বা সাপনিফিকেশন (Saponification) বলে।

উৎস: 
১. রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি[২০১৯ সংস্করণ]
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৯.
বেকিং সোডা হচ্ছে মূলত-
  1. ক) পটাশিয়াম বাই-টারটারেট
  2. খ) সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda):
বেকিং সোডা (NaHCO3) বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন  উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী।
- এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে।

বেকিং পাউডার :
বেকিং পাউডার হচ্ছে NaHCO3 ও পটাশিয়াম বাই-টারটারেটের অথবা সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট এর মিশ্রণ।
- উত্তপ্ত করলে বেকিং পাউডার থেকে CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা কেক বা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২০.
পর্যায় সারণিকে কতটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি:

- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন।
- এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২১.
কোন পরমাণু মডেলটি সৌর মডেল নামে পরিচিত?
  1. অ্যাভোগেড্রোর পরমাণু মডেল
  2. বোর পরমাণু মডেল
  3. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
  4. ডাল্টনের পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা
পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২২.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে নিচের কোন ধাতুর বিজারণ সম্পন্ন করা হয়?
  1. Ca
  2. Cu
  3. Ag
  4. Au
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে 'ক্যালসিয়াম (Ca)' ধাতুর বিজারণ সম্পন্ন করা হয়। 

ধাতব অক্সাইডকে মুক্ত ধাতুতে রূপান্তর: 

- আকরিককে ভষ্মীকরণ বা তাপজারণ করায় যে ধাতব অক্সাইড পাওয়া যায় তাদেরকে বিজারিত করলে ধাতু পাওয়া যায়। 
- বিভিন্নভাবে এ বিজারণ সম্পন্ন করা যায়। 
যেমন- তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজারণ, কার্বন বিজারণ পদ্ধতি, স্ববিজারণ ইত্যাদি।
- ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে তাদের অবস্থানের উপর কোন পদ্ধতিতে বিজারণ সম্পন্ন করা হবে তা নির্ভর করে।
যেমন- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৩.
ভালো মান সম্পন্ন পানির BOD এর মান কত হওয়া উচিত?
  1. 10 ppm
  2. 15 ppm
  3. 6 ppm
  4. 20 ppm
ব্যাখ্যা
প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological Oxygen Demand, BOD): 
- পানিতে উপস্থিত জৈব বর্জ্য পদার্থসমূহের বিয়োজনের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। 
- পানিতে যতো বেশি পারিমাণে বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থ উপস্থিত থাকে তার জন্য অক্সিজেন চাহিদাও ততো বেশি। 
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা BOD বলে। 
- ভালো মান সম্পন্ন পানির BOD মান 6 ppm এর বেশি হওয়া উচিত নয়। 
অর্থাৎ, প্রতি 1000 mL পানিতে বর্তমান জৈব বর্জ্য দূষকের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন 6 mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি ঐ পানির দূষকের মাত্রা ততো বেশি। 
- পানিতে BOD এর মান যতো বেশি হবে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর পরিমাণ ততো হ্রাস পায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৪.
সার তৈরিতে কোনটি ব্যাবহৃত হয় না?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, ফসফরাস ইত্যাদি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগের সমন্বয়ে সার তৈরি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬২৫.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি: 
- নিউক্লিয়ার রিয়‍্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়। 
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়‍্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং IAEA ওয়েবসাইট।
৬২৬.
হীরক ও গ্রাফাইটের সাধারণ উপাদান কী?
  1. কার্বন
  2. আর্গন 
  3. নিয়ন 
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা

- হীরক ও গ্রাফাইটের সাধারণ উপাদান হলো কার্বন। 

হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২৭.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) জারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) সংযোজক
  4. ঘ) বিজারক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬২৮.
বিশুদ্ধ কপার বা কাঁসা বা পিতলের তৈরি জিনিসপত্র দীর্ঘদিন বাতাসে থাকার ফলে এদের উপর কালো বা বাদামী বা সবুজ বর্ণের একটি আস্তরণ পড়ে। এই আস্তরণকে কী বলা হয়?
  1. ক) মরিচা
  2. খ) মরীচিকা
  3. গ) তাম্রমল
  4. ঘ) ধাতুমল
ব্যাখ্যা
তাম্রমল:
বিশুদ্ধ কপার বা কাঁসা বা পিতলের তৈরি জিনিসপত্র দীর্ঘদিন বাতাসে থাকার ফলে এদের উপর কালো বা বাদামী বা সবুজ বর্ণের একটি আস্তরণ পড়ে। এই আস্তরণকে কপারের তাম্রমল বলা হয়। তাম্রমল তৈরির মাধ্যমে তামা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

মরিচা:
আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা। মরিচা লোহার রং নষ্ট করে। লোহার সামগ্রীতে মরিচা পড়লে তা ক্রমশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে ভঙ্গুর হয়ে যায়।

মরীচিকা:
মরীচিকা হচ্ছে আলাের পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল। আলােকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে। প্রবেশ করে তখন প্রতিসরণের দরুণ অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আর আলাে যখন ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে বিভেদতলে আপতিত হয় তখন প্রতিসরিত হয়ে প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে। আর এভাবেই ঘটে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় মরীচিকার। মরুভূমিতে দিনের বেলায় দেখা যায় এই মরীচিকা।

• ধাতুমল:
শিলাস্তূপে প্রচুর পরিমাণ যৌগ বা মুক্ত মৌল হিসেবে মূল্যবান ধাতু ও অধাতু পাওয়া যায়। এ বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় রূপান্তর করা হয়।  পরবর্তীতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ধাতু নিষ্কাশন করা হয়। শিলা থেকে অপদ্রব্যসহ প্রাপ্ত ধাতুকে ধাতুমল বলে।
৬২৯.
ভিনেগার তৈরি করার সময় কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 


খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩০.
সোডিয়ামের ভর সংখ্যা ২৩ হলে এর নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৩
ব্যাখ্যা
যেহেতু ভরসংখ্যা হলাে প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বিয়ােগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।
সােডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলাে 23, এর প্রােটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে = 23 -11= 12।
৬৩১.
কোন কারণে পরমাণু আধান নিরপেক্ষ থাকে?
  1. পরমাণুর মধ্যে শুধু ইলেকট্রন থাকে
  2. পরমাণুর মধ্যে শুধু প্রোটন থাকে
  3. নিউট্রনের সংখ্যা বেশি থাকে 
  4. প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
সোডিয়ামের (Na) নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ২৩
  2. ১২
  3. ১১
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- কোনো একটি মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৩.
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে তাহলে সেটি-
  1. ক) ক্ষার
  2. খ) অম্ল
  3. গ) ক্ষারক
  4. ঘ) খর
ব্যাখ্যা
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে তাহলে সেটি হচ্ছে অম্ল।
কারণ এসিড বা অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে।
৬৩৪.
হিউমাস কী?
  1. ক) মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ
  2. খ) মাটিতে বিদ্যমান অজৈব পদার্থ
  3. গ) মাটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন পদার্থ
  4. ঘ) মাটিতে বিদ্যমান উপকারি জীব
ব্যাখ্যা
- মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ হিউমাস নামে পরিচিত।
 -হিউমাস আসলে এমিনো এসিড, প্রোটিন, চিনি, এলকোহল, চর্বি, তেল, লিগ্নিন, ট্যানিন ও অনন্য এরোমেটিক যৌগ নিয়ে গঠিত বিশেষ জটিল পদার্থ।
 -এই হিউমাস তৈরি হয় গাছপালা ও মৃত প্রানির দেহাবশেষ থেকে। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৬৩৫.
প্রশমন বিক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) লবণ
  2. খ) পানি
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) শক্তি
  5. ঙ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড এবং ক্ষার একত্রে মিশালে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৬৩৬.
টয়লেট্রিজ ও ভ্যাসলিন তৈরিতে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গ্যাসোলিন 
  2. পিচ
  3. ন্যাপথা 
  4. প্যারাফিন মোম 
ব্যাখ্যা

পেট্রোলিয়াম গ্যাস: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 0°C থেকে 20°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 1 থেকে 4 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা দুই ভাগ পেট্রোলিয়াম গ্যাস থাকে। এ গ্যাসকে চাপ প্রয়োগ করে তরলে পরিণত করে সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয় এবং LPG (Liquefied Petroleum Gas) নামে রান্নার কাজে ও অন্যান্য কাজে তাপ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। 

পেট্রোল (গ্যাসোলিন): 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 21°C থেকে 70°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 5 থেকে 10 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 5 ভাগ পেট্রল থাকে। একে গ্যাসোলিনও বলা হয়। যানবাহনের ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসোলিন ব্যবহার করা হয়। 

ন্যাপথা: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 71°C থেকে 120°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 7 থেকে 14 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 10 ভাগ ন্যাপথা থাকে। জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য অনেক ব্যবহার্য দ্রব্য তৈরি করা হয়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 13 ভাগ কেরোসিন থাকে। পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

ডিজেল: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 171°C থেকে 270°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 17 থেকে 20 পর্যন্ত। যানবাহনের জ্বালানি, পিচ্ছিলকারক পদার্থ ও দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

প্যারাফিন মোম: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 271°C থেকে 340°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 20 থেকে 30 পর্যন্ত। প্যারাফিন মোম টয়লেট্রিজ এবং ভ্যাসলিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

পিচ: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 340°C থেকে উচ্চ তাপমাত্রা পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 30 এর বেশি। রাস্তা তৈরিতে এটি কাজ লাগে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩৭.
কয়লা কোন ধরনের শিলা?
  1. ক) জৈব শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)।
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। যথা: অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট।
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে।
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৩৮.
কোনটির ভর সবচেয়ে নগন্য?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের ভর 9.1093837015 × 10−31 kg
নিউট্রনের ভর 1.67493 × 10−27 kg
প্রোটনের ভর 1.67262 × 10−27 kg


সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান। 

৬৩৯.
নিম্নের কোন ফলে ম্যালিক এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) কমলা
  2. খ) আনারস
  3. গ) আমলকি
  4. ঘ) টমেটো
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড;
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড;
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড;
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড;
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৪০.
নিচের কোন মৌলটি যৌগ গঠন করে না? 
  1. N
  2. Kr
  3. H
  4. Fe
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) এ ছয়টি মৌল পর্যায় সারণিতে 18তম গ্রুপের মৌল। 
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়। 
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪১.
ভিনেগার প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে কিভাবে কাজ করে? 
  1. খাদ্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে
  2. খাদ্যের রঙ পরিবর্তন করে 
  3. খাদ্যের pH কমিয়ে অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে
  4. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্যদ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগার ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায় ফলে অণুজীবগুলো বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- 
- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে, তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪২.
কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের অন্তর্ভুক্ত?
  1. pH = 2
  2. pH = 5
  3. pH = 8
  4. pH = 7
ব্যাখ্যা
বিশুদ্ধ পানির pH = 7 
 pH এর মান কমতে থাকলে এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। 
 pH এর মান বাড়তে থাকলে ক্ষারের মাত্রা বেড়ে যায়।
যে দ্রবনের বা বস্তুর pH এর মান সবচেয়ে কম উক্ত দ্রবন বা বস্তুর এসিডের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। 
তাই অপশনের ক) সঠিক

সূত্র - রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৬৪৩.
পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন -
  1. কমবে
  2. বাড়বে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন বাড়বে। এই কারণে পানির তুলনায় বরফের ঘনত্ব কম। 
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়। 
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে। 
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি। 

উৎস:
ব্রিটানিকা।
৬৪৪.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস গ্যাস?
  1. মিথেন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউস:
- গ্রিন হাউস গ্যাস (Greenhouse gases) বলতে বুঝায় যেসব গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সূর্যের তাপ শোষণ করে এবং তা আটকে রাখে, ফলে পৃথিবী উষ্ণ থাকে।
- এই গ্যাসগুলো গ্রিন হাউস ইফেক্টের জন্য দায়ী।
- গ্রিন হাউস ইফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।

⇒ গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC),
- ফ্লোরিনেটেড গ্যাস (CFCs, HFCs, PFCs),
- ওজোন (O₃)।

উৎস: i) U.S. Environmental Protection Agency (.gov)।
ii) Britannica.
৬৪৫.
সর্বপ্রথম পরমাণু সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) জেমস রেনেল 
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেয়া হয়েছিল এটম। তবে, সে সময় তার ধারনাটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ করবার জন্য কোন উপায় ছিল না বলে, সবার কাছে উনার মতবাদটি গ্রহণযোগ্য হয়নি।
ডেমোক্রিটাসের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় যে কারণে তা হলো তার পারমাণবিক তত্ত্ব।
সৌভাগ্যক্রমে তার এই তত্ত্বটি অনেকটাই মৌলিকরূপে টিকে আছে বিভিন্ন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীর লেখায়।
বিশেষ করে অ্যারিস্টটলের লেখায় ডেমোক্রিটাসের পারমাণবিক তত্ত্বের মৌলিক অংশটিই পাওয়া যায়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
৬৪৬.
কোন ধাতু তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে হালকা?
  1. হিলিয়াম
  2. পারদ
  3. লিথিয়াম
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো গ) লিথিয়াম।
লিথিয়াম একটি ধাতু যা খুবই হালকা। এটি প্রধানত ব্যাটারি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগে ব্যবহৃত হয়। হিলিয়াম ধাতু নয়, এটি একটি গ্যাস। পারদ এবং সোডিয়াম ধাতু হলেও ওদের ঘনত্ব লিথিয়ামের তুলনায় অনেক বেশি। তাই তুলনামূলকভাবে লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা ধাতু হিসেবে পরিচিত। এটি খুব কম ঘনত্বের কারণে সহজে ভাসতে পারে এবং বিভিন্ন হালকা যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার করা যায়। লিথিয়ামের এই বৈশিষ্ট্য এর ব্যবহারকে আরো কার্যকরী করে তোলে।

 
 • লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।

৬৪৭.
কোনটি ১০০% স্বর্ণ?
  1. ক) ২০ ক্যারেট
  2. খ) ২১ ক্যারেট
  3. গ) ২২ ক্যারেট
  4. ঘ) ২৩ ক্যারেট
  5. ঙ) ২৪ ক্যারেট
ব্যাখ্যা
খাটি স্বর্ণ হলো ১০০ ভাগ স্বর্ণ সম্বলিত ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৬৪৮.
প্রোটনের ভর প্রায় কোনটির ভরের সমান?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
প্রোটন:
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা।
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়।
- ইহার সংকেত H+
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক।
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P।
- আপেক্ষিক আধান +1।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৯.
সূর্য ও অধিকাংশ নক্ষত্র কোন অবস্থার পদার্থ দিয়ে গঠিত?
  1. বায়বীয়
  2. প্লাজমা
  3. তরল 
  4. কঠিন 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়াও পদার্থের আর একটি অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয় অর্থাৎ, গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫০.
ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়-
  1. আপেলে
  2. কমলাতে
  3. টমেটোতে
  4. কাঁঠালে
ব্যাখ্যা

- আপেল, আনারসে ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।
অন্যদিকে,
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক অ্যাসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।
- স্ট্রবেরিতে থাকে স্যালিসাইলিক এসিড।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী

৬৫১.
হিলিয়াম (He) পরমাণুর যোজ্যতাস্তর পূর্ণ হতে কয়টি ইলেকট্রন প্রয়োজন?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৬ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন ও রাসায়নিক বন্ধন গঠনের কারণ: 
- কোনো একটি পরমাণুর বন্ধন গঠনের ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা বলে।
- নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar) এসব মৌলের বন্ধন গঠনের ক্ষমতা নেই, ফলে এদের যোজ্যতা শূন্য। 
- আবার H এর যোজ্যতা এক, O এর যোজ্যতা দুই, N এর যোজ্যতা তিন ও C এর যোজ্যতা সাধারণত চার হয়। 
- কোনো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলোকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে। 
- এ ইলেকট্রনগুলোই বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। 
- পরমাণুর সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরকে যোজ্যতাস্তর বলে। 
- রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক মতবাদ অনুসারে রাসায়নিক বন্ধন গঠনকালে পরমাণুগুলো সর্বাধিক স্থায়ী ইলেকট্রন গঠন কাঠামো অর্জনের চেষ্টা করে। - নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন গঠনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় He ভিন্ন প্রত্যেকেরই যোজ্যতা স্তরে আটটি করে ইলেকট্রন বর্তমান। 
- He পরমাণুর যোজ্যতা স্তর প্রথম শক্তি স্তর, এখানে মাত্র দুটি ইলেকট্রন বর্তমান থেকেই যোজ্যতাস্তরকে ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫২.
গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?
  1. ক) জিংক
  2. খ) কার্বন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
গ্রাফিন কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। সহজভাবে বললে, এটা কার্বনের একটি ষড়ভুজাকৃতির স্ফটিক স্তর বা স্তর বিন্যাস যেখানে প্রতিটি স্তরের পুরুত্ব এক পরমাণুর সমান।

এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

Britannica থেকে:
Graphene, a two-dimensional form of crystalline carbon, either a single layer of carbon atoms forming a honeycomb (hexagonal) lattice or several coupled layers of this honeycomb structure. The word graphene, when used without specifying the form (e.g., bilayer graphene, multilayer graphene), usually refers to single-layer graphene. Graphene is a parent form of all graphitic structures of carbon: graphite, which is a three-dimensional crystal consisting of relatively weakly coupled graphene layers; nanotubes, which may be represented as scrolls of graphene; and buckyballs, spherical molecules made from graphene with some hexagonal rings replaced by pentagonal rings.
৬৫৩.
যদি হাইড্রোজেনের 1H, 2H এবং 3H একে অপরের আইসোটোপ হয়, তাহলে তাদের মধ্যে ভরসংখ্যা কেমন হবে? 
  1. ভিন্ন
  2. সমান
  3. প্রোটন সংখ্যার সমান
  4. নিউট্রন সংখ্যার সমান
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের 1H, 2H এবং 3H একে অপরের আইসোটোপ হলে তাদের মধ্যে ভরসংখ্যা ভিন্ন হবে 

আইসোেটাপ (Isotopes): 

- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এদের মধ্যে শুধু তিনটি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি আইসোটোপগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৪.
কাঁদুনে গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত কী? 
  1. CCl3NO2
  2. CCl2NO2
  3. CCl3NO3
  4. CCl2NO3
ব্যাখ্যা
• কাঁদুনে গ্যাস:
- কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম ক্লোরোপিকরিন।
- অশ্রু উৎপাদক বলে একে কাঁদুনে গ্যাস বলা হয়।
- এর রাসায়নিক নাম হলো নাইট্রোক্লোরোফরম।
- কাঁদুনে গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত CCI3NO2 .

উৎস: ব্রিটানিকা
৬৫৫.
কোন ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়?
  1. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

ক্ষার: 
- যে সব ক্ষারক পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়।
- ক্ষার আসলে এক বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- NaOH, NH₂OH, Ca(OH)₂ এরা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) দান করে তাই এরা ক্ষার আবার ক্ষারকও।
- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক তবে পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়।
- ক্ষার বা ক্ষারক অ্যাসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারক এর জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয় এবং এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক সাধারণত কটু স্বাদযুক্ত হয়।

তীব্র ক্ষার: 
যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। যেমন- পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3, ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৫৬.
নিচের কোনটি ক্ষারের বৈশিষ্ট্য?
  1. পানিতে দ্রবণীয়
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্ষার:
ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৭.
৬ - ১০% ইথানোয়িক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলা হয়?
  1. ফরমালিন
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. ভিনেগার
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা

• ৬ - ১০% ইথানোয়িক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।

• ভিনেগার:
- (৬ - ১০)% ইথানোয়িক অ্যাসিডের (Ethanoic acid) জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।
- এটি খাদ্য সংরক্ষণ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

• ফরমালিন:
- ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল (Methanal)-এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- অর্থাৎ এতে থাকে ৪০ ভাগ মিথান্যাল এবং ৬০ ভাগ পানি।
- এটি একটি সংরক্ষণকারী পদার্থ, যা বিভিন্ন মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

• রেকটিফাইড স্পিরিট:
- এটি ৯৫.৬% ইথানল এবং ৪.৪% পানির মিশ্রণ।
- এটি সাধারণত জীবাণুনাশক, ঔষধ প্রস্তুতি এবং পরীক্ষাগারে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• মিথানল:
- এটি সবচেয়ে সরল অ্যালকোহল এবং বর্ণহীন, হালকা, দাহ্য তরল।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৮.
 ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 17
  2. খ) 18
  3. গ) 35
  4. ঘ) 70
ব্যাখ্যা
কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন + নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।
এখানে, Cl- এর ভরসংখ্যা 35 এবং প্রোটন সংখ্যা 17।
সুতরাং, নিউট্রন সংখ্যা= 35-17 = 18।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৬৫৯.
দুধের প্রধান প্রোটিন কোনটি?
  1. লিপিড
  2. ক্যাজিন
  3. ক্যারোটিন
  4. ল্যাক্টোবুমিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন (Protein): 
- দুধে তিন শ্রেণির প্রোটিন থাকে। 
যেমন- ক্যাজিন (casein), ল্যাক্ট এলবুমিন (lact albumin) ও ল্যাক্টো গ্লোবুলিন (lactoglobulin). 
- ল্যাক্ট এলবুমিন ও ল্যাকটোগ্লোবুলিনকে সেরাম বা হোয়ে-প্রোটিন (whey protein or serum) বলে। 
- দুধের মোট প্রোটিন (0.9-4.6%) এর মধ্যে 82% হলো ক্যাজিন এবং 18% হলো হোয়ে-প্রোটিন। 
- ক্যাজিন হলো দুধের প্রধান প্রোটিন উপাদান। 
- গ্লুটামিন ও এস্পারাজিন অ্যামাইনো এসিড বাদে অন্য সব অ্যামাইনো এসিড ক্যাজিনে আছে, তাই তরুণ-তরুণীদের দেহ বৃদ্ধির জন্য প্রায় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ দুধের প্রোটিন উৎকৃষ্ট প্রোটিন খাদ্যরূপে বিবেচিত হয়। 
- ক্যাজিন হলো এক প্রকার ফসফোপ্রোটিন। 
- আর্দ্রবিশ্লেষণের ফলে ক্যাজিন ফসফরিক এসিড ও অ্যামাইনো এসিডে বিভক্ত হয়। 
- ক্যাজিন পানিতে অদ্রবণীয়; দুধে এসিড মিশালে ক্যাজিন অধঃক্ষেপরূপে পৃথক হয়ে পড়ে। 
- মায়ের দুধে 0.9% এবং পশুর দুধে 3.2-4.6% প্রোটিন থাকে। 
- আবার দুধের প্রধান প্রোটিন ক্যাজিন চার ধরনের হয়। 
যেমন- αS1 ক্যাজিন, αS2 ক্যাজিন, β ক্যাজিন ও Κ (kappa) ক্যাজিন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৬৬০.
প্রাকৃতিকভাবে স্টার্চ কোন মনোমারের পলিমার?
  1. ইউরিক অ্যাসিড
  2. ফ্যাটি অ্যাসিড
  3. গ্লুকোজ
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো উদ্ভিদের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য, যা হাজার হাজার গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি পলিস্যাকারাইড। এটি মূলত দুই ধরণের (অ্যামাইলোজ এবং অ্যামাইলোপেক্টিন) পলিমারের মিশ্রণ। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অতিরিক্ত গ্লুকোজ উদ্ভিদদেহে স্টার্চ হিসেবে জমা থাকে। 

পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়।
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়।
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬১.
নিচের কোন খনিজের মধ্য দিয়ে আলো প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু কিছু দেখতে পাওয়া যায় না?
  1. কোয়ার্টজ
  2. ক্যালসাইট
  3. অ্যারাগনাইট
  4. সিলিকা
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থের ভৌত ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত দানাদার বা কেলাসাকার হয়। 
- অনেক খনিজ পদার্থ আছে, যাদের রাসায়নিক সংযুক্তি একই কিন্তু তাদের কেলাস গঠন ভিন্ন যে কারণে তাদের ভৌত ধর্মও ভিন্ন। যেমন- গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড। 
- যদিও দুটি পদার্থই কার্বন দিয়ে গঠিত, কিন্তু গঠনের ভিন্নতার কারণে গ্রাফাইট (যা পেন্সিলে ব্যবহার করা হয়) নরম হয় কিন্তু ডায়মন্ড বা হীরা এখন পর্যন্ত জানা খনিজের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ। 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম। 
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। 
- কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয় এবং সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। 
- খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে। ধাতব খনিজ যেমন- পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে। খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

- কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যেগুলো খুব স্বচ্ছ এবং এর মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে। যেমন- কোয়ার্টজ বা সিলিকা। 
- আবার কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যার মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশ করলেও এর মধ্য দিয়ে কোনো বস্তু দেখা যায় না। যেমন- অ্যারাগনাইট। 
- অন্যদিকে এমন খনিজও আছে, যার মধ্য দিয়ে মোটেই আলো প্রবেশ করতে পারে না। যেমন- ক্যালসাইট (Calcite) বা চুনাপাথর। 
- সাধারণত প্রতিটি খনিজ পদার্থেরই একটা নির্দিষ্ট বর্ণ আছে, যা দিয়ে একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করা যায়। 
- বেশির ভাগ খনিজ পদার্থে ফাটল থাকে, যা দেখে অনুমান করা যায় এটি ভাঙলে কী ধরনের আকার-আকৃতিবিশিষ্ট ছোট ছোট টুকরা পাওয়া যাবে। 
- বেশির ভাগ খনিজ পদার্থের আপেক্ষিক গুরুত্ব ২.৫-৩.৫-এর মধ্যে হয়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। 

খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম নির্ভর করে এতে বিদ্যমান উপাদানের উপর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬২.
মাটির pH এর মান কত হলে সবচেয়ে ভালো হয়?
  1. ক) <3
  2. খ) 4.0-6.0
  3. গ) 6.0-8.0
  4. ঘ) 10.0>
ব্যাখ্যা
মাটির pH এর মান 6.0 থেকে 8.0 হলে সবচেয়ে ভালো। এর pH এর মান 3.0 থেকে কমে গেলে বা 10.0 থেকে বেড়ে গেলে উপকারী অণুজীব মারা যায়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৬৬৩.
ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা? 
  1. স্তরীভূত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৪.
পদার্থের কঠিন অবস্থার ধর্ম নয় কোনটি?
  1. সুনির্দিষ্ট বিন্যাস
  2. আলোক ধর্ম
  3. দৃঢ়তা
  4. আকৃতিবিহীন
ব্যাখ্যা
• "আকৃতিবিহীন" পদার্থের কঠিন অবস্থার ধর্ম নয়, এটি তরল অবস্থার ধর্ম। 

• পদার্থ:
- যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধাদান করে তাকে পদার্থ বলা হয়।

• অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা:
- কঠিন পদার্থ, তরল পদার্থ ও বায়বীয় পদার্থ। 
এই ৩ টি অবস্থা ছাড়াও পদার্থের আরো ২ টি অবস্থা দেখা যায়।
যথা 
- তরল স্ফটিক অবস্থা ও প্লাজমা অবস্থা। 

• কঠিন অবস্থা (Solid state):
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে।
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য।
- গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

• কঠিন অবস্থার ধর্ম:
- সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
- দৃঢ়তা ও আলোক ধর্ম ,
- নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে।

অন্যদিকে,
প্রবাহ ধর্ম, পৃষ্ঠতলটান, আকৃতি বিহীন ইত্যাদি পদার্থের তরল অবস্থার ধর্ম।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৫.
পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. সীসা
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. পারদ
ব্যাখ্যা
• কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক।
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল‍্যাক।

• গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক/মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এ ছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গলিত ধাতব লবণের তড়িৎ বিশ্লেষণে গ্রাফাইট অ্যানোড ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ- NaCl-এর তড়িৎ বিশ্লেষণ থেকে সোডিয়াম নিষ্কাশনে, KCI থেকে K, MgCl₂ থেকে Mg, CaCl₂ থেকে Ca প্রভৃতি ধাতু আহরণে গ্রাফাইট ইলেকট্রোড ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৬৬৬.
বাষ্পায়ন কোন বিষয়টির উপর নির্ভর করে না?
  1. তরলের প্রকৃতি
  2. পদার্থের ঘনত্ব
  3. তরলের উপর চাপ
  4. তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল
ব্যাখ্যা
- পদার্থের ঘনত্ব বাষ্পায়ন প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তাই এটি প্রভাবিত করে না। 

বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 

- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা, এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন- 
তরলের প্রকৃতি: 
- বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 

বায়ু প্রবাহ: 
- তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 

তরলের উপর চাপ: 
- তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 

তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: 
- বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 

তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 

তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: 
- বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৭.
সোনায় মরিচা ধরে না কেন?
  1. ক) সোনা সক্রিয় ধাতু
  2. খ) সোনা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ধাতু
  3. গ) সোনা মূল্যবান ধাতু
  4. ঘ) সোনা অত্যন্ত উজ্জ্বল ধাতু
ব্যাখ্যা
সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, রোডিয়াম, প্যালাডিয়াম প্রভৃতি ধাতু সমূহ বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা সহজে জারিত হয় না।
অর্থাৎ এরা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এইজন্য এদেরকে অভিজাত ধাতু বলা হয়।
সবচেয়ে মূল্যবান ভারী ধাতু‌ প্লাটিনাম।
৬৬৮.
ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা হলো -
  1. কঠিন
  2. গ্যাসীয়
  3. তরল
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ৯০
  2. খ) ৯১
  3. গ) ৯২
  4. ঘ) ৯৩
ব্যাখ্যা

ইউরেনিয়াম পর্যায় সারণীর ৯২তম মৌল এবং পর্যায় সারণীর ৭ম পর্যায়ের ৩য় শ্রেণির B উপশ্রেনিতে অবস্থিত। ইউরেনিয়াম দেখতে নীলচে সাদা বর্ণের এবং ষ্টীল হতে অপেক্ষাকৃত নমনীয়।
ইউরেনিয়ামের একটি আইসোটোপ আলফা কণা বিকিরণ করে থোরিয়ামের একটি আইসোটোপে পরিণত হয়।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৬৭০.

বিক্রিয়াটি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
  1. সমানুকরণ
  2. অপসারণ
  3. প্রতিস্থাপন
  4. সংযোজন
ব্যাখ্যা
সমানুকরণ বিক্রিয়া(Isomerization reaction): 
- যে বিক্রিয়ার কোন যৌগের উপস্থিত পরমাণু বা মূলক সমূহ পূর্ণবিন্যাস্ত হয়ে ভিন্ন গাঠনিক কাঠামো বিশিষ্ট নতুন যৌগ উৎপন্ন করে, তাকে সমানুকরণ বিক্রিয়া বলে। 
যেমন - 
1. অ্যামোনিয়াম সায়ানেটকে উত্তপ্ত করলে ইউরিয়া পাওয়া যায়। 


2. অনার্দ্র AICI3 এর উপস্থিতিতে n -বিউটেনকে উত্তপ্ত করলে iso -বিউটেন উৎপন্ন হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭১.
টুথপেস্টের প্রধান উপাদান-
  1. জেলী ও মশলা
  2. ভোজ্য তেল ও সোডা
  3. সাবান ও পাউডার
  4. ফ্লোরাইড ও ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা
• টুথপেস্ট:
- টুথপেস্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলির উপাদানের পরিমাণের তালিকা নিচে দেওয়া হল। 

এখানে, সোডিয়াম লরেল সালফেট হচ্ছে সাবান যা দাত ব্রাশ করার সময় ফেনা তৈরি করে।

• অন্যদিকে,
জেলী ও মশলা: এগুলি টুথপেস্টের প্রধান উপাদান নয়।
ভোজ্য তেল ও সোডা: এগুলি টুথপেস্টে ব্যবহৃত হয় না।
ফ্লোরাইড ও ক্লোরোফিল: এগুলি সহায়ক উপাদান, প্রধান উপাদান নয়।
৬৭২.
কোনটি গ্যালভানিক কোষ?
  1. ক) ল্যাকলেন্স কোষ
  2. খ) ড্রাই সেল
  3. গ) ডেনিয়েল সেল
  4. ঘ) লেড স্টোরেজ ব্যাটারি
ব্যাখ্যা
ডেনিয়েল সেল একটি গ্যালভানিক কোষ কারণ এখানে বাহির থেকে শক্তির দরকার হয় না এবং রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬৭৩.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. স্ট্রনসিয়াম
ব্যাখ্যা

• স্ট্রনসিয়াম (Sr) মৃৎক্ষার ধাতু। এটি পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮।

ক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে।
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে।
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়।

মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৪.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) NaOH
  2. খ) NaCl
  3. গ) Na2SO4
  4. ঘ) CuCl
ব্যাখ্যা
নিচের সারণিতে পানিতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় কিছু নমুনা লবণের উদাহরণ দেয়া হলোঃ

সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৭৫.
কোন দ্রবণ অম্লীয় হবে? 
  1. যার pH > ৭
  2. যার pH = ৭
  3. যার pH < ৭
  4. যার pH = ১৪
ব্যাখ্যা
pH-এর মান জানার প্রয়োজনীয়তা: 
- কোনো একটি পদার্থ এসিড, ক্ষার না নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। 
- কিন্তু তাতে কী পরিমাণ এসিড বা ক্ষার আছে, সেটি বোঝা যায় pH-এর মান পরিমাপ করে। 
- নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি যেখানে কোনো এসিড বা ক্ষার থাকে না, তার pH হয় ৭ । 
- আর যদি এতে এসিড যোগ করা হয় তাহলে pH-এর মান কমে যায়। যত বেশি এসিড যোগ করা যায়, pH-এর মান ততই কমে যায়। 
- পক্ষান্তরে যদি বিশুদ্ধ পানি বা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণে ক্ষার যোগ করা হয়, তাহলে এর pH বাড়তে থাকে। যত বেশি ক্ষার যোগ করা হয়, pH-এর মান ততই বাড়তে থাকে। 
সুতরাং বলা যায়, 
• কোনো দ্রবণের pH = ৭ হলে তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি হবে। 
কোনো দ্রবণের pH < ৭ হলে (৭ থেকে কম হলে) তা অম্লীয় বা এসিডিয় দ্রবণ হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH > ৭ হলে (৭ থেকে বেশি হলে) তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে। 
- pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি কম হবে, এসিডটি তত শক্তিশালী, আবার pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি হবে, ক্ষারকত্বও তত বেশি শক্তিশালী হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৬.
In which year Maddhapara hard rock mine was discovered?
  1. In 1971
  2. In 1973
  3. In 1974
  4. In 1976
  5. In 1978
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৬৭৭.
বায়ুর চাপ নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. ক) জলীয়বাষ্প
  2. খ) উষ্ণতা
  3. গ) উচ্চতা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ সব জায়গায় একরকম থাকে না। কোনাে স্থানে বায়ুর তাপ বেড়ে গেলে বায়ু আয়তনে বেড়ে যায় ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুহালকা হয় এবং ওজন কমে যায়। তখন সেখানকার বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার কোথাও বায়ুর তাপ কমে গেলে সেখানকার বায়ুর ওজন বেড়ে যায়। ফলে বায়ুর চাপও বেড়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়ুর তাপ কমলে চাপ বাড়ে এবং বায়ুর তাপ বাড়লে, চাপ কমে।

এছাড়া জলীয়বাষ্প বায়ুর চেয়ে হালকা। এ কারণে বায়ুতে যদি জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হয় তখন সেই বায়ুর ওজন অনেক কমে যায়। ফলে বায়ুর চাপও কম থাকে। বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ বলে। আবার বায়ুর চাপ কম থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলে।

নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষরেখা থেকে ৫ ডিগ্রি উত্তর ও ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই নিম্নচাপ বলয় বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য বৎসরে দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ অঞ্চল ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতম অঞ্চল। অত্যধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলের বায়ু অত্যন্ত হালকা ও প্রসারিত হয়ে উর্ধ্বমূখী হয়। ফলে বায়ুর ওজন কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এভাবেই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উত্তপ্ত বায়ুউর্ধ্বমুখী হয় এবং যতই উপরে ওঠে ততই ধীরে ধীরে শীতল হয়। শীতল বায়ু ভারী হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তী ও মকরক্রান্তীর কাছাকাছি) স্থান করে নেয়। এভাবে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুইটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। উত্তর গােলার্ধে এর নাম কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় এবং দক্ষিণ গােলার্ধে এর নাম মকরীয় উচ্চচাপ বলয়।

উৎসঃ ভূগােল, এসএসসি প্রােগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৮.
ক্ষার জলীয় দ্রবণে কোন আয়ন দান করে? 
  1. Cl
  2. Na
  3. H
  4. OH-
ব্যাখ্যা

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, KOH, Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)2, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৯.
জৈব যৌগের প্রধান রসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. লোহা
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

• জৈব যৌগের প্রধান রসায়নিক উপাদান হলো কার্বন। কারণ জীবজগতে উপস্থিত সব প্রজাতির অণু মূলত কার্বন দ্বারা গঠিত। কার্বন বিভিন্ন পরমাণুর সঙ্গে স্থায়ী বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে, যা জটিল ও বড় অণু তৈরিতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, প্রোটিন, লিপিড, শর্করা এবং নিউক্লিক অ্যাসিড- কার্বনের ভিত্তিতে গঠিত। কার্বনের এই বৈশিষ্ট্য জৈব যৌগকে স্থিতিশীল এবং বৈচিত্র্যময় করে তোলে। লোহা, সোডিয়াম বা ক্যালসিয়াম জীবকোষে থাকা খনিজ উপাদান হলেও, জৈব যৌগের মূল কাঠামো গঠনে তারা ভূমিকা রাখে না। তাই জৈব রসায়নে কার্বনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ধরা হয়।

- সঠিক উত্তর: ঘ) কার্বন।
 
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

• কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮০.
ইপসম লবণের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. ZnSO4.7H2O
  2. CuSO4.5H2O
  3. FeSO4.7H2O
  4. MgSO4.7H2O
ব্যাখ্যা
• ইপসম লবণের সংকেত MgSO4.7H2O ।

• বিভিন্ন যৌগের রাসায়নিক সংকেত:
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O,
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl.
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3,
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3,
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O,
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa,
- সাদা ভিট্রিওলের সংকেত - ZnSO4.7H2O।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৮১.
সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের পরিবর্তন হয়?
  1. তাপীয় পরিবর্তন
  2. বৈদ্যুতিক পরিবর্তন
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. ভৌত পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন, ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
উদাহরণস্বরূপ: 
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 
উদাহরণস্বরূপ: 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানির (H2O) সৃষ্টি হয়। এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়, যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
কোন মৌল হাইড্রোকার্বনের মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কেরোসিন
  3. মোম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোকার্বন হলো কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর সংমিশ্রণে গঠিত যৌগ। প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন, এবং মোম—এই সবই মূলত হাইড্রোকার্বন থেকে তৈরি। প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত মিথেনের সমন্বয়ে গঠিত, যা সহজ একটি হাইড্রোকার্বন। কেরোসিন তেল থেকে প্রাপ্ত একটি ফ্র্যাকশন, যা লম্বা চেইনের হাইড্রোকার্বন নিয়ে গঠিত। মোমও বিশেষ ধরনের লিপিড এবং হাইড্রোকার্বনের বড় চেইন দ্বারা গঠিত। সুতরাং, এই তিনটি পদার্থই হাইড্রোকার্বনের উপর নির্ভরশীল। তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো “ঘ) সবগুলোই”, কারণ সবগুলোই হাইড্রোকার্বনকে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে।

হাইড্রোকার্বন: 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন - মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা - 
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও 
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৩.
নিচের কোন আয়নটি শিখা পরীক্ষায় পোড়া ইটের মতো লাল বর্ণ সৃষ্টি করে?
  1. Ca2+
  2. Cu2+
  3. Na+
  4. K+
ব্যাখ্যা

• ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) শিখায় পোড়া ইটের মতো লাল বর্ণ প্রদর্শন করে।

• শিখা পরীক্ষা:
- শিখা পরীক্ষা হলো একটি গুণগত বিশ্লেষণ পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোনো অজৈব লবণে উপস্থিত ধাতব আয়ন (Cation) শনাক্ত করা হয়।
- লবণের সাথে গাঢ় HCl মিশিয়ে বুনসেন বার্নারের শিখায় ধরলে নির্দিষ্ট ধাতু নির্দিষ্ট বর্ণ প্রদর্শন করে।
- যেমন: 
• ক্যালসিয়ামের জন্য পোড়া ইটের মতো লাল।
• সোডিয়াম আয়ন থেকে সোনালী হলুদ।
• পটাশিয়াম আয়ন থেকে হালকা বেগুনি।
• কপার আয়নের থেকে নীল-সবুজ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 

৬৮৪.
‘মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া’ - নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ফেরিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাসপেনশন ‘মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া’ নামেই অধিক পরিচিত।
আমাদের পাকস্থলীতে এসিডিটি হলে আমরা যে এন্টাসিড ওষুধ খাই তা মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা সাসপেনশন ও ট্যাবলেট দুইভাবে পাওয়া যায়।কখনো কখনো এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও থাকে।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
৬৮৫.
যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদের বলা হয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোমার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন:
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।

• আইসোবার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৬.
মূদ্রণ-কালি এবং কালো ও ধূসর রং প্রস্তুতিতে প্রচুর ব্যবহার রয়েছে কোনটির?
  1. ক) কোক
  2. খ) চারকোল
  3. গ) গ্রাফাইট
  4. ঘ) ভুসা কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা, কোক, চারকোল ইত্যাদি অনিয়তাকার কার্বন। চারকোলের গ্যাস পরিশোষনের ক্ষমতা থাকায় বিষাক্ত গ্যাস পরিশোষনের জন্য নির্মিত গ্যাস প্রতিরোধক মুখোশে চারকোল ব্যবহৃত হয়। কার্বনের বিজারণ ক্ষমতা বেশ উল্লেখযোগ্য। সক্রিয়তা শ্রেণীতে অ্যালুমিনিয়ামের নিচের অনেক ধাতুর অক্সাইড থেকে বিজারণের মাধ্যমে ধাতু নিষ্কাশনের জন্য কোক ব্যবহৃত হয়। বাত্যাচুল্লীতে আয়রন অক্সাইডকে কোকের সাহায্যে বিজারিত করে লোহা উৎপাদন করা যায়। কার্বনের একটি রূপ ভুসা কয়লা (lamp black)। মূদ্রণ-কালি এবং কালো ও ধূসর রং প্রস্তুতিতে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত]
৬৮৭.
কোনো দেশের শিল্পোন্নয়ন নিরূপণে কোন এসিডের ব্যবহারকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য।
যেমন-
• সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় তাতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় সেটি হলো কার্বোলিক এসিড। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে এসিড অত্যাবশ্যকীয় এবং সেটি হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহৃত হয়। 
কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড (HNO3) এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬৮৮.
পোকামাকড় দমনে কোন ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়? 
  1. ব্লিচিং পাউডার
  2. লাইম ওয়াটার
  3. মিল্ক অফ লাইম
  4. মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া
ব্যাখ্যা
প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারের ব্যবহার: 
- কাপড় কাচার সাবান তৈরি হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- সেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরিতে পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল ব্যবহার করা হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডারে যে উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলো মূলত ক্ষারীয়। 
- এন্টাসিড অ্যাসিড মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)2 ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 নামের ক্ষার যা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা অ্যাসিডিটির কারণে খাওয়া হয়। 
- মৌমাছির হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ের জ্বালা কমানোর জন্য ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা হয় যা আসলে জিংক কার্বোনেট। অনেকে বেকিং সোডাও ব্যবহার করে থাকেন। কারণ, পিঁপড়ার কামড়ে মূলত ফরমিক অ্যাসিড এবং মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড, মেলিটিন, ও অ্যাপামিন নামক অ্যাসিডডক পদার্থ নিঃসৃত হয়।  ফলে ঐ স্থান জ্বালা-পোড়া করে ও ফুলে যায় । এই অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে এ জাতীয় ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়। 
- মাটির অ্যাসিডিটি বাড়লে এর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়, তাই মাটির উর্বরতা শক্তি ফেরাতে চুন (CaO), চুনাপাথর জাতীয় ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
- 'মিল্ক অফ লাইম' নামক ক্ষারীয় বস্তু পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৯.
পর্যায় সারণির বামদিকের মৌলগুলো সাধারণত -
  1. ধাতু
  2. অধাতু
  3. অপধাতু
  4. অর্ধধাতু
ব্যাখ্যা
- পর্যায় সারণির যেকোনো একটি পর্যায়ের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, বামদিকের মৌলগুলো সাধারণত ধাতু, মাঝের মৌলগুলো সাধারণত অর্ধধাতু বা অপধাতু এবং ডানদিকের মৌলগুলো সাধারণত অধাতু। 

- পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে।
যেমন-ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি, এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।

ধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
Li → Li+ + e
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (CI) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
Cl + e- → Cl
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু: 
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়। 
- আবার আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে অপধাতু বলে। 
যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯০.
এসিড লিটমাস কাগজে কী পরিবর্তন করে? 
  1. নীল থেকে লাল করে
  2. লাল থেকে নীল করে
  3. নীল থেকে সবুজ করে
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯১.
কোয়ার্টজ অধাতব খনিজ পদার্থ কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. মাটির প্রশমনে 
  2. কাচ ও সিরিজ কাগজে 
  3. লোহা উৎপাদনে 
  4. ঘরবাড়ি নির্মাণে 
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯২.
ক্যালসিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাস কোনটি?
  1. [Ne] 3s1
  2. [Ar] 4s1
  3. [Ar] 4s2
  4. [Ne] 3s2
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Calcium) পর্যায় সারণির ২০তম মৌলিক পদার্থ।
- ক্যালসিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক Ca.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ২০।
- ক্যালসিয়াম পর্যায় সারণির ৪র্থ পর্যায়ের গ্রুপ ২ - এ অবস্থিত।
- ক্যালসিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাস 1s2 2s22p6 3s23p6 4s2.
- ক্যালসিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাসকে সংক্ষেপে [Ar] 4s2 লেখা যায়।
- Ar (আর্গন) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস 1s2 2s22p6 3s23p6.
- Ne (নিয়ন) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস 1s2 2s22p6.

অপশন আলোচনা:
- [Ne] 3s1 - সোডিয়ামের (Na) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস।
- [Ar] 4s1 - পটাশিয়ামের (K) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস।
- [Ne] 3s2 - ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৩.
pH স্কেলে দ্রবণের সীমা কোনটি?
  1. 0–7
  2. 7–14
  3. 0–14
  4. 1–10
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয় 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৪.
নিচের কোনটির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না?
  1. পানি
  2. জিংক
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
এসিডের রাসায়নিক ধর্মে পানির ভূমিকা: 
- এসিডের ধর্ম কার্যকর হয় পানির উপস্থিতিতে। 
- পানির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস ভর্তি গ্যাসজারের মধ্যে শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ ধরলে দেখা যাবে লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত আছে। 
- এ গ্যাসজারের মধ্যে কঠিন ক্যালসিয়াম কার্বনেটের টুকরা ফেললে দেখা যায় কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- আবার গ্যাসজারের মধ্যে আয়রন ধাতুর টুকরা বা জিংক ধাতুর টুকরা রাখলেও কোনো রূপ বিক্রিয়া সংগঠিত হয় না। 
• HCl(g) + শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ → নীল লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। 
• HCl(g) + CaCO3(s) → কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
• HCl(g) + Fe → কোন বিক্রিয়া ঘটে না এবং H2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
লোহার কোন যৌগটি মরিচা নামে পরিচিত?
  1. সালফেট
  2. কার্বনেট
  3. আর্দ্র অক্সাইড
  4. হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
মরিচা: 
- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ যা মরিচা নামে পরিচিত। 
- মরিচা সৃস্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো যায়- 
    লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা। 
- মরিচার সংকেত Fe2O3.nH2O. 
- মরিচায় পানির অণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। 
এখানে, n এর মান 1, 2, 3 ইত্যাদি যে কোন পূর্ণ সংখ্যা হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৬.
পিভিসি প্লাস্টিক পোড়ালে কোন গ্যাসটি নিঃসৃত হয়? 
  1. ওজোন
  2. হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  3. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. হাইড্রোজেন সায়ানাইড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাচঁযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছেমতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করা যায়। 
- প্লাস্টিক জাতীয় সবকিছুই পলিমার পদার্থ, বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয়। 
- প্লাস্টিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হলো এরা বিদ্যুৎ এবং তাপ পরিবহন করে না তাই বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে এদের বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোন আকার দেয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্ছাদের খেলনা- এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়, এদেরকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, বাকেলাইট এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না, এসব প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়। 
যেমন: পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) গ্যাস নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন প্লাস্টিক পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবেশ যথেষ্ট নিষ্ক্রিয়, এরা বাতাসের জলীয় বাষ্প এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। 
- প্লাস্টিক কোন পচনশীল বস্তু নয়, এরা দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও পচে না। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৭.
পদার্থের কোন অবস্থায় কণিকাগুলো সর্বাধিক গতিশীল থাকে? 
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. গ্যাসীয় 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পদার্থের আণবিক গতিতত্ত্ব: 
- পদার্থ কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং প্লাজমা চারটি অবস্থায় থাকতে পারে। এই চার অবস্থায় থাকার কারণ পদার্থের মধ্যকার তাপমাত্রা বা শক্তির পার্থক্য। 
- পদার্থের আণবিক গতি তত্ত্ব পদার্থের অবস্থা রূপান্তরের একটি মডেল হতে পারে। এই তত্ত্বটি অতি সরল কিন্তু পদার্থের ভৌত ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। 
- এই তত্ত্বের মূল কথা হলো বস্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে গঠিত যা হলো মূলত পরমাণু। 
- কতগুলো পরমাণু মিলে গঠিত হয় একটি অণু, এই অণুগুলো নিয়ত গতিশীল। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আয়তন বজায় থাকে।

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৮.
জীবাশ্ম জ্বালানি নিচের কোনটি? 
  1. জিও থার্মাল 
  2. জল বিদ্যুৎ 
  3. পারমাণবিক শক্তি 
  4. পেট্রোলিয়াম 
ব্যাখ্যা

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 
যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম। 
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত ''পেট্রো + অলিয়াম''। 
- পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। 
অর্থাৎ, পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়। 
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি। 

অন্যদিকে, 
- পারমাণবিক শক্তি, জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল বা ভূ-তাপীয় শক্তি হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৯.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় মৌল কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় মৌল হচ্ছে নাইট্রোজেন।

====================
যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিস্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিস্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে। নিস্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি। এগুলো হলো : হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।

নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ধর্মসমূহ- 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

সূত্র:
১. রসায়ন ১য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
২. ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭০০.
এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় বলে তাদের বলা হয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোমার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।