বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ৫০১৬০০ / ২,৬৯২

৫০১.
ইটিপি কোন বর্জ্য পরিশোধন করে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বস্তুকণা
  4. গ্যাসীয়
ব্যাখ্যা
- রাসায়নিক শিল্প কারখানার তরল বর্জ্যকে effluent বলে। 
- এ সকল বর্জ্যে বিভিন্ন দূষক পদার্থ থাকে যা বাতাস, পানি ও মাটি তথা সমগ্র পরিবেশ দূষিত করে। 
- তাই শিল্প কারখানার এ সব বর্জ্য পদার্থকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে পরিত্যাগের পূর্বে এদের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থসমূহকে পৃথক করা প্রয়োজন। 
- শিল্পজাত তরল বর্জ্যের বিশোধনকল্পে প্রতিটি শিল্প কারখানায় তরল বর্জ্য বিশোধন প্লান্ট (Effluent Treatment Plant, ETP) স্থাপন করা আবশ্যক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০২.
কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাট স্কেল সমান তাপমাত্রা প্রদর্শন করে?
  1. ক) - ৪০ ডিগ্রি
  2. খ) ৪০ ডিগ্রি
  3. গ) ১০০ ডিগ্রি
  4. ঘ) ০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো -
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]

এখন, সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/ 9
Or, 9x = 5x - 160
Or, 4x = -160
Or, x = -40

অর্থাৎ, - 40 ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।
৫০৩.
পাকা আনারসে কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) অকটাইল অ্যাসিটেড
  2. খ) মিথাইল বিউটারেট
  3. গ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
  4. ঘ) ইথাইল বিউটারেট
ব্যাখ্যা

- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।

৫০৪.
খর পানি বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) যে পানি ঘোলা ও লবণাক্ত
  2. খ) যে পানিতে সাবানের ফেনা ভালো হয় না
  3. গ) যে পানি ঘোলা ও জোয়ারভাটা সম্পন্ন
  4. ঘ) যে পানিতে চিনির শরবত তৈরি করা যায় না
ব্যাখ্যা
যে পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, অনেক সাবান খরচ করার পর ফেনা উৎপন্ন করে তাকে খর পানি বলে।
খর পানিতে সাবান ফেনা না দিলেও ডিটারজেন্ট উত্তম ফেনা দেয়।
৫০৫.
পরমাণুর N শেলে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. 2 টি
  2. 8 টি
  3. 18 টি
  4. 32 টি
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর শক্তিস্তর:
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি।

এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
- K শেল বা প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 12) টি = 2 টি। 

- দ্বিতীয় বা L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 হলে, 
- L শেল বা দ্বিতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 22) টি = 8 টি। 

- তৃতীয় বা M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 হলে, 
- M শেল বা তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 32) টি = 18 টি। 

- চতুর্থ বা N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 হলে, 
- N শেল বা চতুর্থ শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = ( 2 x 42) টি = 32 টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৬.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. Mg
  2. Rb
  3. Na
  4. Li
ব্যাখ্যা
মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৭.
সেলুলোজ থেকে কোনটি প্রস্তুত করা হয়?
  1. ক) তুলা
  2. খ) রেশম
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) পশম
ব্যাখ্যা
রেয়ন
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক উদ্ভিজ সেলুলোজ থেকে রেয়ন প্রস্তুত করা হয়। 
- কৃত্রিম তন্তুর মধ্যে রেয়ন হলো প্রথম ও প্রধান তন্তু। 
- রেয়ন বস্ত্র মোটামুটি টেকসই হলেও বেশ সুন্দর, উজ্জ্বল, অভিজাত ও মনোরম।
- অধিক তাপে রেয়ন গলে যায়। তাই রেয়ন বস্ত্র কম তাপে সতর্কতার সাথে ইস্ত্রি করা উচিত। 
- রেয়ন তৈরির উপজাত পরিবেশের জন্য হুমকি। রেয়ন শিল্পে পরিবেশ বান্ধব প্রস্তুতি নিতে হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৮.
লোহা, কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে কোন সংকর ধাতু প্রস্তুত করা হয়?
  1. পিতল
  2. কাঁসা
  3. ডুরালুমিন
  4. মরিচাবিহীন ইস্পাত
ব্যাখ্যা

• মরিচাবিহীন ইস্পাত লোহা, কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় এবং এটি মরিচা প্রতিরোধী ও অধিক টেকসই।

• সংকর ধাতু:
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- সাধারণ বিশুদ্ধ ধাতুর অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়।
- যেমন—বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গহনা তৈরির উপযোগী নয়, তাই স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমাণ রূপা মিশিয়ে গহনা তৈরি করা হয়।
- আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়, যা লোহার তুলনায় অধিক শক্ত ও টেকসই।

• উল্লেখযোগ্য সংকর ধাতু ও ব্যবহার:
- ইস্পাত → লোহা ৯৯%, কার্বন ১%; ব্যবহার—যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, ছুরি, কাঁচি, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
- মরিচাবিহীন ইস্পাত → লোহা ৭৪%, ক্রোমিয়াম ১৮%, নিকেল ৮%; ব্যবহার—যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, ছুরি, কাঁচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
- পিতল (ব্রাস) → তামা ৬৫%, জিঙ্ক ৩৫%; ব্যবহার—অলংকার, বৈদ্যুতিক সুইচ, দরজার হাতল, পাত্র ইত্যাদি।
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ) → তামা ৯০%, টিন ১০%; ব্যবহার—যন্ত্রাংশ, ঘণ্টা, তৈজসপত্র ইত্যাদি।
- ডুরালুমিন → অ্যালুমিনিয়াম ৯৫%, কপার ৪%, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম ও লোহা ১%; ব্যবহার—উড়োজাহাজের কাঠামো, বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।
- স্বর্ণ → ২৪ ক্যারেটে ১০০% স্বর্ণ; ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫% স্বর্ণ ও ১২.৫% অন্যান্য ধাতু; ২২ ক্যারেটে ৯১.৬৭% স্বর্ণ ও ৮.৩৩% অন্যান্য ধাতু; ব্যবহার—অলংকার প্রস্তুতিতে।

• অন্যান্য অপশন:
- পিতল → তামা ও জিঙ্কের সংকর ধাতু।
- কাঁসা → তামা ও টিনের সংকর ধাতু।
- ডুরালুমিন → অ্যালুমিনিয়ামভিত্তিক সংকর ধাতু, উড়োজাহাজ নির্মাণে ব্যবহৃত।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৯.
নিচের কোনটি পদার্থ? 
  1. বিদ্যুৎ 
  2. তাপ 
  3. আলো 
  4. বাতাস 
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- পদার্থের ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং জড়তা আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- বাতাস হচ্ছে একটি মিশ্র পদার্থ যা পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। 
১। কঠিন পদার্থ: 
- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 

২। তরল পদার্থ: 
- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 

৩। বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ: 
- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- তাপ, বিদ্যুৎ ও আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১০.
নিরাপদ কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম নাইট্রেট
  2. ক্যালসিয়াম প্রোপানয়েট
  3. সোডিয়াম বেনজ্যোয়েট
  4. ক্যালসিয়াম কার্বাইড
ব্যাখ্যা
• নিরাপদ কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে পরিচিত সোডিয়াম বেনজ্যোয়েট।

• খাদ্য সংরক্ষক:
- খাদ্যবস্তুর পচন রোধকরূপে নির্দিষ্ট স্বল্প মাত্রায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থসমূহকে কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস্ বলা হয়।
- আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভসসমূহ তিন শ্রেণিভুক্ত। যেমন,
(ক) অ্যান্টি মাইক্রোবায়েল এজেন্ট,
(খ) অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এজেন্ট,
(গ) কিলেটিং এজেন্ট। 

ক) অ্যান্টি মাইক্রোবায়েল:
- অ্যান্টিমাইক্রোবায়েল রাসায়নিক প্রিজারভেটিভস্ ব্যাকটেরিয়া, ঈস্ট ও মোল্ডস-এর বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- এসব রাসায়নিক পদার্থ মাইক্রো অর্গানিজম কোষের মেমব্রেন ফাটিয়ে দেয়, এনজাইমের ক্রিয়া রোধ করে থাকে।
- এ সব প্রিজারভেটিভ অম্লধর্মী হয়। যেমন-
১) সোডিয়াম বেনজোয়েট ও বেনজয়িক এসিড,
২) পটাসিয়াম সরবেট, সোডিয়াম সরবেট ও ক্যালসিয়াম সরবেট, (
৩) সায়ট্রিক এসিড,
৪) অ্যাসিটিক এসিড,
৫) ক্যালসিয়াম প্রোপানোয়েট,
৬) নাইট্রেট ও নাইট্রাইট লবণ,
৭) সালফাইট, SO2 গ্যাস (পটাসিয়াম মেটা বাইসালফাইট)।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
৫১১.
কার্বলিক এসিডের রাসায়নিক নাম কী ?
  1. ক) ফেনল
  2. খ) ডয়টেরিয়াম অক্সাইড
  3. গ) ট্রাইক্লোরো মিথেন
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
কার্বলিক অ্যাসিড, যেটি ফেনল হিসেবেও পরিচিত, একটি অ্যারোমেটিক জৈব যৌগ।
• ফেনলের আণবিক সংকেত: C6H5OH ।
• এটি সাদা দানাদার কঠিন পদার্থ এবং সহজে উদ্বায়ী।
• ফেনলের অণুতে একটি ফিনাইল মূলক থাকে (-C6H5) যা একটি হাইড্রোক্সিল মূলক (-OH) এর সাথে বন্ধনে যুক্ত থাকে।

অপরদিকে -
» মার্বেল পাথর এর  রাসায়নিক নাম   ---ক্যালসিয়াম কার্বনেট
» ভারী জল এর  রাসায়নিক নাম   - --ডয়টেরিয়াম অক্সাইড
» ক্লোরোফর্ম  এর  রাসায়নিক নাম  - -----ট্রাইক্লোরো মিথেন

SOURCE: রসায়ন বিজ্ঞান, এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৫১২.
খাবার সোডার রাসায়নিক নাম কী? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সংকেত: 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 

- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- মরিচার রাসায়নিক নাম - Fe2O3.nH2O. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৩.
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. ক) বক্সাইট
  2. খ) কোরান্ডাম
  3. গ) ক্রায়োলাইট
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৪.
নিচের কোনটিতে ক্লোরিন এর জারণ সংখ্যা বেশি?
  1. ক) KCI
  2. খ) KCIO
  3. গ) KCIO
  4. ঘ) KCIO
ব্যাখ্যা
ধরি,
Cl এর জারণ সংখ্যা x

KCI এ, Cl এর জারণ সংখ্যা -1

KCIO এ,
+ 1 + x - 2 = 0
⇒ x - 1 = 0
∴ x = 1

KCIO2 এ,
+ 1 + x - (2 × 2) = 0
⇒ 1 + x - 4 = 0
∴ x = 3

KClO3 এ,
+1 + x - (2 × 3) = 0
⇒ x - 5 = 0
∴ x = 5

অতএব, KClO3 এ Cl এর জারণ সংখ্যা বেশী।
৫১৫.
নিচের কোনটি প্যারাফিন নামে পরিচিত?
  1. বিউটেন
  2. প্রোপাইন
  3. ইথিন
  4. এসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
অ্যালকেনের বন্ধন ভাঙা অনেক কঠিন। তাই অ্যালকেন রাসায়নিকভাবে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এজন্য এদেরকে প্যারাফিন বলে। প্যারাফিন অর্থ আসক্তিহীন।
মিথেন, ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ইত্যাদি হলো অ্যালকেন। ইথিন একটি অ্যালকিন, প্রোপাইন একটি অ্যালকাইন এবং এসিটিক এসিড একটি কার্বক্সিলিক এসিড।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বই, নবম-দশম শ্রেণি

৫১৬.
মানবদেহে কোন ধাতুর আধিক্য রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা প্রদান করে?
  1. Cd
  2. Pb
  3. Fe
  4. As
ব্যাখ্যা
লেডের উৎস: 
- লেড-এসিড স্টোরেজ ব্যাটারির ইলেকট্রোড তৈরিতে লেড পারঅক্সাইড PbO2 ব্যবহৃত হয়। 
- পরিত্যক্ত স্টোরেজ ব্যাটারির PbO2 মাটিতে ও সারফেস ওয়াটারে Pb2+ আয়নরূপে মিশে থাকে। 
- কয়লার দহনকালে কয়লার মধ্যস্থ লেড যৌগ থেকে লেড বাষ্পরূপে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এছাড়া হার্বিসাইড লেড আর্সেনেট যুক্ত পাউডার এবং স্প্রে থেকেও লেড বাতাসে সংক্রমিত হয়। 
- পরে অধঃক্ষেপরূপে বাতাস থেকে এসব লেড যৌগ ও লেড কণা মাটিতে পুকুর ও জলাভূমিতে মিশে থাকে। 
- মাটি ও পানি থেকে লেড (II) আয়নরূপে উদ্ভিদ দেহে প্রবেশ করে। 
- পরে উদ্ভিদ থেকে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির দেহে চর্বিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- পেট্রোল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত জ্বালানির অকটেন নাম্বার বৃদ্ধির জন্য এখনও টেট্রাঅ্যালকাইল লেড (PbR4) ব্যবহৃত হয়। 
- মোটর ইঞ্জিনে জ্বালানির দহনে সৃষ্ট বর্জ্য গ্যাসে লেড বাষ্প লেড অক্সাইডে পরিণত হয়ে মাটিতে অধঃক্ষিপ্ত হয়। 
- এ উভয় উৎসের Pb2+ আয়ন মাটিসহ পুকুর, নদী ও হ্রদের পানিতে মিশে থাকে। 

খাদ্য শৃঙ্খলে Pb-এর প্রবেশ পথ: 
- মাটি থেকে উদ্ভিদে এবং উদ্ভিদ থেকে গরু, ছাগল ও পোল্ট্রির হাঁস-মুরগির দেহে তিন ধাপে সঞ্চিত হয়।
- এ সব প্রাণীর মাংস খাদ্যরূপে তৃতীয় স্তরের খাদক মানুষ গ্রহণ করলে মানুষের দেহে লেডের বিষক্রিয়া ঘটায়।
- আবার পুকুর, নদী ও হ্রদের পানি লেড দ্বারা দূষিত হলে ঐ লেড প্রথমে প্লাঙ্কটনে এর পরে মাছ ও পাখির দেহে সঞ্চিত হয়। 
- সবশেষে ঐ মাছ ও পাখির মাংস লেড দূষিত হওয়ায় তা খাদ্য শৃঙ্খলের তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত খাদক মানুষের দেহে লেডের বিষক্রিয়া ঘটায়। 

লেডের বিষক্রিয়ার প্রভাব: 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর রিপোর্ট মতে, দেহে লেডের পরিমাণ 50 ppb এর বেশি হলে লেডের বিষক্রিয়া দেখা দেয়। 
- লেডের বিষক্রিয়ায় দাঁতের মাড়ি নীলাভ হয়। 
- এছাড়া লেড হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা দেয়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- লেড দূষণের ফলে গর্ভবতী মহিলা মৃত সন্তান প্রসব করেন। 
- সাত বছরের কম বয়সের শিশুর লেড বিষাক্ততায় মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়; শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি বা IQ হ্রাস পায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫১৭.
ক্ষারক মূলত কী কাজ করে? 
  1. অক্সিজেন মুক্ত করে
  2. তাপ বৃদ্ধি করে 
  3. এসিডকে প্রশমিত করে 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

• ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

• তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

• মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৮.
পারমাণবিক চুল্লীতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি: 
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়। 
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য,
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং IAEA ওয়েবসাইট।
৫১৯.
মশা বা পিঁপড়া মারার অ্যারোসল স্প্রে করলে গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়া কোন প্রক্রিয়ার উদাহরণ? 
  1. ব্যাপন 
  2. নিঃসরণ 
  3. সংকোচন 
  4. বাষ্পীভবন 
ব্যাখ্যা

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
• কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২০.
নিচের কোন মৌলটি বহুরূপতা প্রদর্শন করে?
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. হিলিয়াম 
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

বহুরূপতা: 
- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- অদানাদার রূপভেদ হলো কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের একটি দানাদার রূপভেদ হলো গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৫২১.
ক্ষারের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে কমলা করে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

• ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২২.
বাসাবাড়ির আইপিএস এর অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো -
  1. ক) নাইট্রিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগারের হলো অ্যাসিডটক এসিড (CH3-COOH) এর 6-10% জলীয় দ্রবণ।
সার কারখানায় নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক এসিড (HPO,) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড  (HCI), নাইট্রিক এসিড (HNO3) বা সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী এসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৩.
নিচের কোন বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যা পরিবর্তন ঘটে না? 
  1. নন-রেডক্স বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া 
  3. রেডক্স বিক্রিয়া 
  4. দহন বিক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- সংযোজন বিক্রিয়া, বিয়োজন বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৪.
কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. লেড
  2. কয়লা
  3. কার্বন
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৫.
সাধারণত আম বা যেকোনো ফল পাঁকাতে ব্যবহৃত হয়-
  1. অ্যাসিটিলিন
  2. ইথিলিন
  3. ক্যালসিয়াম কার্বাইড
  4. ওপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• কাঁচা ফল পাকানো:
- অসাধু ব্যবসায়ী অনেক সময় কাঁচা আম বা ফল কিনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়, ফলে আমের গায়ে দাগ পড়ে না।
- এরপর এই কাঁচা আমের উপর অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইডের জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করে, ফলে আম পেকে যায়।
- ক্যালসিয়াম কার্বাইড (CaC₂) এর মধ্যে পানি যোগ করে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করা হয়।
- এই অ্যাসিটিলিন গ্যাস ফল পাকাতে সাহায্য করে।
      CaC2 + 2H2O → C2H2 + Ca(OH)2

- এছাড়া ইথিলিন গ্যাস দ্বারাও কাঁচা আম পাকানো হয়।
- ইথিলিনও আমদের শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
- কার্বাইড দিয়ে আম পাকানো বলতে অ্যাসিটিলিন দ্বারা আম পাকানোর পদ্ধতিকেই বোঝানো হয়।
- সাধারণত পাকা ফল থেকে ইথিলিন (প্রকৃতিক হরমোন) গ্যাস নিঃসৃত হয়ে আশপাশের কাঁচা ফলকেও পাকিয়ে ফেলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৬.
তাপমাত্রার প্রভাবমুক্ত ঘনমাত্রার একক কোনটি? 
  1. মোলার দ্রবণ
  2. নরমাল দ্রবণ
  3. মোলাল দ্রবণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মোলাল দ্রবণ (Molality) হলো সেই একক, যা তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্রভাবিত হয় না।

মোলালিটি: 

মোলালিটি (m) = দ্রাবিত পদার্থের মোল সংখ্যা/দ্রাবকের কিলোগ্রামে ভর 
- মোলালিটি নির্ণয়ে ভলিউমের পরিবর্তে ভর ব্যবহার করা হয়। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ভলিউম বদলাতে পারে, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে। 

মোলার দ্রবণ: 

- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

- কোনো দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশে বিভিন্ন একক ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
• মোলার দ্রবণ, 
• মোলাল দ্রবণ, 
• নরমাল দ্রবণ, 
• শতকরা পরিমাণ এবং 
• মোল ভগ্নাংশ। 
- মোলার দ্রবণ ও নরমাল দ্রবণ তাপমাত্রা নির্ভরশীল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ) এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৭.
অধাতব খনিজ পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. গ্রাফাইট
  2. সোনা
  3. জিপসাম
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
সোনা (Au)
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz)
• মাইকা (Mica), 
গ্রাফাইট
জিপসাম
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫২৮.
কোন ধাতুকে পোড়ালে ইটের ন্যায় লাল বর্ণের শিখা দেখা যায়?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. পটাসিয়াম
  4. কপার
ব্যাখ্যা
• যখন ক্যালসিয়াম (Calcium) ধাতুকে পুড়ানো হয়, তখন তা ইটের ন্যায় লাল বর্ণের শিখা উৎপন্ন করে।
- এটি মূলত ক্যালসিয়াম আয়ন দ্বারা নির্গত তাপের কারণে।
- ক্যালসিয়ামের জন্য এই শিখার বর্ণ বিশেষভাবে চিহ্নিতকরণ এবং এটি কেমিক্যাল পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- সোডিয়াম → সোডিয়াম ধাতু আম্বর (Yellow) বা কমলা রঙের শিখা উৎপন্ন করে।
- পটাসিয়াম → পটাসিয়াম ধাতু হালকা বেগুনি (Lilac) শিখা উৎপন্ন করে।
- কপার → কপার ধাতু সবুজ (Green) রঙের শিখা উৎপন্ন করে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৫২৯.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
  1. ক) আলফ্রেড নোবেল
  2. খ) ওপেনহেইমার
  3. গ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট; ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল।
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
৫৩০.
সোনার গহনা তৈরিতে নিচের কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. কার্বোলিক এসিড 
  3. সালফিউরিক এসিড 
  4. নাইট্রিক এসিড 
ব্যাখ্যা

- সোনার গহনা তৈরি ও পরিশোধনের কাজে প্রধানত নাইট্রিক এসিড (Nitric Acid) ব্যবহার করা হয়। স্বর্ণকাররা সোনার খাদ (যেমন- তামা বা রূপা) আলাদা করতে বা সোনা পরিষ্কার করার কাজে এই এসিডটি ব্যবহার করেন। উল্লেখ্য, খাঁটি সোনা এককভাবে কোনো শক্তিশালী এসিডে গলে না, তবে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিডের ৩ : ১ অনুপাতের মিশ্রণ 'অ্যাকুয়া রেজিয়া' বা 'রাজকীয় অম্ল' সোনাকে দ্রবীভূত করতে সক্ষম। 

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৫৩১.
যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদেরকে কী বলা হয়?
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোটোন
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩২.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কেমন হয়?
  1. শূন্য
  2. কম
  3. সর্বাধিক
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৫৩৩.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) আরগন
  4. ঘ) জেনন
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
- এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

৫৩৪.
ব্যাটারী থেকে কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
  1. AC
  2. DC
  3. ADC
  4. TC
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়।
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে ব্যাটারি থেকে ডিসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৫.
অ্যাকোয়া রেজিয়া কোনটি? 
  1. 2NO3 + 3HCl
  2. 3HNO3 + 3HCl
  3. 1HNO3 + 3HCl
  4. 3HNO3 + 1HCl
ব্যাখ্যা
- এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং তিন মোল গাঢ় হাইডোক্লোরিক এসিডের (HCl) মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল বলে। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 
- সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির ক্ষেত্রে নাইট্রিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৩৬.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বৃদ্ধি পেলে কী ঘটবে? 
  1. তাপমাত্রা কমে যাবে
  2. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমবে
  3. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বাড়বে
  4. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যাবে
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 
যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
নিচের কোন মৌলটি খাদ্য শৃঙ্খলের জন্য অনিরাপদ নয়?
  1. Ar
  2. Cr
  3. Pb
  4. Fe
ব্যাখ্যা
লোহা (Fe): 
- লোহা (Fe) খাদ্য শৃঙ্খলের জন্য অনিরাপদ নয়। 
- লোহা(Fe) একটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান যা শরীরের বিভিন্ন প্রাথমিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

অন্যদিকে, 
আর্গন (Ar): 
- আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- এটি মানব শরীরে প্রবেশ করলে নানা সমস্যা যেমন- বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি হতে পারে। 

ক্রোমিয়াম (Cr): 
- অতিরিক্ত ক্রোমিয়াম শরীরে প্রবেশ করলে এটি বিষাক্ত হয়ে পড়ে এবং নানা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
- ক্রোমিয়াম আয়ন মানুষের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী 'কারসিনোজেন' হিসেবে গণ্য।
- ক্রোমিয়াম দূষণ দ্বারা মানুষের পরিপাকতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ সিস্টেম প্রভৃতি আক্রান্ত হয়। 

লেড (Pb): 
- দেহে লেডের পরিমাণ 50 ppb এর বেশি হলে লেডের বিষ ক্রিয়া দেখা দেয়। 
- লেডের বিষক্রিয়ায় দাঁতের মাড়ি নীলাভ হয়। 
- লেড হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা দেয়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- এটি নানা স্নায়ুতন্ত্রীয় সমস্যা ও মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫৩৮.
ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা কত ভাগ? 
  1. ৪৬ ভাগ
  2. ৬৪ ভাগ
  3. ৪০ ভাগ
  4. ৫৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়। 
- নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়। 
- অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয়। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা ৪৬ ভাগ। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওইয়েবসাইট।
৫৩৯.
'Alkaline Earth Metals' নিচের কোনটি? 
  1. বেরিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪০.
কাপড়ে কালি পড়লে দাগ সহজে উঠে -
  1. ক) সঙ্গে সঙ্গে দুধ দিয়ে ভিজিয়ে পরে ধুলে
  2. খ) সঙ্গে সঙ্গে সাবান দিয়ে কেচে ফেললে
  3. গ) সঙ্গে সঙ্গে লেবুর রসে ভিজিয়ে দিলে
  4. ঘ) সঙ্গে সঙ্গে সিরকা দিয়ে ভিজিয়ে ফেললে
ব্যাখ্যা
- জামাকাপড় থেকে কালির দাগ অপসারণের সবচেয়ে সাধারণ এবং সহজ উপায় হলো দাগের জায়গাটি ভিজিয়ে তার উপর অল্প পরিমাণে লবণ দিয়ে দেওয়া।
- বেশি পরিমাণে লেবুর রস দিয়েও দাগ দূর করা যায়। এক্ষেত্রে দাগের স্থানে লেবুর রস দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঘসে দাগ তুলে ফেলুন। এরকম কয়েকবার করতে পারেন।
- নেলপলিশ তোলার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত যে রিমুভার ব্যবহার করা হয় সেই রিমুভার ব্যবহার করে আপনি কালির দাগ তুলতে পারবেন। 
- ভুট্টার পেস্টও কালির দাগ অপসারণ করতে ব্যবহার করতে পারেন। 

 উৎস : আরটিভি
৫৪১.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. রাজ কাঁকড়া
  2. স্ফেনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. স্লো লোরিস
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম:
- যে সকল জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনাে রকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনও পৃথিবীতে টিকে আছে অথচ এদের সমসাময়িক ও সমগোত্রীয় সকলেরই বহু পূর্বে বিলুপ্তি ঘটেছে তাদেরকে জীবন্ত জীবাশ্ম  বা লিভিং ফসিল বলে।

জীবন্ত জীবাশ্মের উদ্ভিদ:
- ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা।
জীবন্ত জীবাশ্মের প্রাণী:
- সন্ধিপদ প্রাণী: লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া,
- সরীসৃপ প্রাণী: স্ফেনোডন নামক,
- স্তন্যপায়ী প্রাণী: প্লাটিপাস নামক.

উল্লেখ্য,
রাজ কাঁকড়া:
- অশ্বক্ষুরের ন্যায় দেখতে উপবৃত্তাকার এই কাঁকড়াটি হলো Horseshoe Crab লিমুলাস।
- প্রকৃত পক্ষে এরা কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড। 
- প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে এটির।
- এরা লিমুলিডি গোত্রের অন্তর্গত সামুদ্রিক সন্ধিপদী।
- প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ’জীবন্ত জীবাশ্ম' বলা হয়।
- কারণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে এরা উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পূর্ণ জোয়ারের সময় এরা প্রজনন করে।
- তখন এরা কক্সবাজার, সোনাদিয়া, মহেশখালি এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিকটে খাড়ি বা জলাভূমির বালুময় সৈকতে ফিরে আসে।
- সুন্দরবনের চর এলাকা হচ্ছে  রাজ কাঁকড়া এর প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৪২.
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. গ্যালেনা
  2. লিমোনাইট
  3. চালকোসাইট
  4. বক্সাইট
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৪৩.
অণুর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অণু খালি চোখে দেখা যায় না।
  2. অণুর স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
  3. অণুর চার্জ আছে।
  4. অণু বস্তুর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে।
ব্যাখ্যা
অণু: 
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। 
- দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে। 
আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে। 

অণুর বৈশিষ্ট্য: 
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে। 
- বস্তুর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। 
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু। 
- খালি চোখে দেখা যায় না। 
- কোনো চার্জ নাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
৫৪৪.
কোন শক্তিস্তরের d অরবিটালে সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা
যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি d অরবিটালে প্রবেশ করে তাদের d-ব্লক মৌল বলে।
পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের স্ক্যানডিয়াম, Sc( 21 ) থেকে জিঙ্ক, Zn(30) এবং পঞ্চম পর্যায়ের ইট্রিয়াম, Y(39) থেকে ক্যাডমিয়াম, Cd(48) হলো d-ব্লক মৌল।
এছাড়া ষষ্ঠ পর্যায় ও সপ্তম পর্যায়ে d-ব্লক মৌল আছে।
পর্যায় সারণির ‘3' থেকে গ্রুপ 12 এর মৌলসমূহ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
এ শ্রেণিতে সর্বমোট 40টি মৌল আছে।
এ ব্লকের মৌলের পরমাণুর d1 থেকে d10 পর্যন্ত ইলেকট্রন থাকতে পারে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৪৫.
কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ধর্ম নয়?
  1. পানিতে সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
  2. গলনাংক এবং স্ফুটনাংক অত্যন্ত বেশি।
  3. বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং এক পরমাণুক।
  4. একই পর্যায়ে অবস্থিত অন্য মৌলগুলির তুলনায় এদের আয়নীকরণ শক্তি অনেক বেশি হয়। 
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির শূন্য (০) গ্রুপের অন্তর্গত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন এবং র‍্যাডন-এ ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস (noble gases) বলা হয়।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ভৌত ধর্ম: 
- সকল নিষ্ক্রিয় মৌল বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং এক পরমাণুক গ্যাস হিসেবে অবস্থান করে।
- এরা পানিতে সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
- নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির পরমাণুসমূহের মধ্যে দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস্ বল ছাড়া অন্য কোন আকর্ষণ বল কাজ করে না।
- ফলে এদের গলনাংক এবং স্ফুটনাংক অত্যন্ত কম।
- নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির গলনাংক এবং স্ফুটনাংকের মান গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে (হিলিয়াম থেকে র‍্যাডন পর্যন্ত) নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পায়। 
- নিম্নচাপে নিয়ন গ্যাসে বিদ্যুৎক্ষরণ ঘটালে লাল আলো পাওয়া যায়।
- একইভাবে ক্রিপটন গ্যাসে সবুজ আলো পাওয়া যায়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ইলেকট্রন বিন্যাস অত্যন্ত সুস্থিত। ফলে এদের পরমাণু হতে ইলেকট্রন অপসারণ করতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়।
- এ কারণে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের আয়নীকরণ শক্তি একই পর্যায়ে অবস্থিত অন্য মৌলগুলির আয়নীকরণ শক্তি হতে অনেক বেশি হয়। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৪৬.
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতরে সাধারণত কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
- সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরে সাধারণত নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
(পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো)। 
- বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ক্রিয়া প্রয়োগে বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বৈদ্যুতিক বাতিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. কার্বন ফিলামেন্ট, 
২. ধাতব ফিলামেন্ট ও 
৩. গ্যাসপূর্ণ বাতি। 

উল্লেখ্য,
- প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকায় নাইট্রোজেন উত্তর হবে। 

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৭.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের ত্রুটিগুলো সংশোধন করেন কে?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) নীলস্‌ বোর
  3. গ) রবার্ট হুক
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন যার মধ্যে কিছু ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা ছিল। 
- পরে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের ত্রুটিসমূহ সংশোধন করে ১৯১৩ সালে নীলস বোর পরমাণুর একটি মডেল প্রদান করেন যা বোর পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- বোর পরমাণু মডেলটি বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাঙ্কের বিকিরিত শক্তির কোয়ান্টাম তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫৪৮.
কোন বস্তুর ভেসে থাকার যে প্রবণতা তাকে কি বলে? 
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) প্লবতা
  3. গ) জড়তা 
  4. ঘ) ভরবেগ 
ব্যাখ্যা
প্লবতা: কোনো বস্তু সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে নিমজ্জিত করলে তরল বা বায়বীয় পদার্থের চাপের জন্য বস্তুটি উপরের দিকে যে লব্ধি বল অনুভব করে তাকে প্লবতা বলে। প্লবতার একক নিউটন।
৫৪৯.
'শুষ্ক বরফ' বলা হয় - 
  1. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
  2. হিমায়িত অক্সিজেনকে
  3. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৫৫০.
আয়রণের পারমানবিক সংখ্যা কত?
  1. ২২
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৬
ব্যাখ্যা
আয়রণের পারমানবিক সংখ্যা ২৬।
• পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা - ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ১২,
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা - ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা - ৩৩,
- সিলভারের পারমাণবিক সংখ্যা ৪৭, 
- টাইটেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ২২, 
- ক্রোমিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ২৪, 
- ম্যাঙ্গানিজের পারমাণবিক সংখ্যা - ২৫। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৫৫১.
বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯২৮ সালে
  2. খ) ১৯৩২ সালে
  3. গ) ১৯৩১ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৫২.
মরিচাবিহীন ইস্পাত সংকর ধাতুতে কোন উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. নিকেল
  2. লোহা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
- মরিচাবিহীন ইস্পাত সংকর ধাতুতে লোহার পরিমাণ বেশি থাকে যা শতকরা ৭৪ ভাগ। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
- আবার, লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। 
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৩.
কোন লবণ পানিতে দ্রবণীয় নয়? 
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3)
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৪.
নিচের কোনটির স্ফুটনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি?
  1. পেট্রোল
  2. ডিজেল
  3. কেরোসিন
  4. ন্যাপথা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- পেট্রোল (গ্যাসোলিন) এর স্ফুটনাঙ্ক ২১° - ৭০° C পর্যন্ত
- ন্যাপথা এর স্ফুটনাঙ্ক ৭১° - ১২০° C পর্যন্ত
- কেরোসিনের স্ফুটনাঙ্ক ১২১° - ১৭০° C পর্যন্ত
- ডিজেলের স্ফুটনাঙ্ক ১৭১° - ২৭০° C পর্যন্ত
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বই, নবম-দশম শ্রেণি

৫৫৫.
"সব পদার্থই অবিচ্ছিন্ন এবং অন্তহীনভাবে তাদের বিভক্তি সম্ভব" - উক্তিটি প্রদান করেন কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) ল্যাভয়সিয়ে
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) অ্যারিষ্টটল
ব্যাখ্যা
- খ্যাতনামা গ্রীক দার্শনিক অ্যারিষ্টটলের ধারণা ছিলো সব পদার্থই অবিচ্ছিন্ন এবং অন্তহীনভাবে তাদের বিভক্তি সম্ভব।

- খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন পদার্থ কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘অ্যাটম' ।
- গ্রীক শব্দ ‘অ্যাটমের’ অর্থ হচ্ছে অবিভাজ্য। ডেমোক্রিটাসের ধারণা অনুযায়ী বিশ্বের যাবতীয় বস্তু অ্যাটম নামক খুবই ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং এই অ্যাটমকে আর কোনক্রমেই ভাগ করা সম্ভব নয়।
- ডেমোক্রিটাসের মতবাদ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়া স্বত্ত্বেও অ্যারিস্টটলের মতবাদ বিরোধী হওয়ায় সে সময় খুব সাড়া জাগাতে পারেনি।
- ডেমোক্রিটাসের মতবাদ দু'হাজার বছরের অধিককাল উপেক্ষিত ছিলো। ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে ডাল্টনের পরমাণুবাদের মাধ্যমে ধারণাটি আবার পুনর্জীবন লাভ করে।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৫৬.
ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে কত ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ৫ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৩ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ:
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন-

• সম্পৃক্ত দ্রবণ:
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না।

• অসম্পৃক্ত দ্রবণ:
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়।

• অতিপৃক্ত দ্রবণ:
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৭.
pH-এর মান যত কম, তত বেশি- 
  1. ক্ষারীয় 
  2. এসিডিক 
  3. লবণাক্ত 
  4. নিরপেক্ষ 
ব্যাখ্যা
pH: 
- pH হলো এমন একটি রাশি, যেটি দ্বারা বোঝা যায় পানি বা অন্য কোনো জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ। 
- নিরপেক্ষ হলে pH হয় ৭, এসিডিক হলে ৭-এর কম, আর ক্ষারীয় হলে ৭-এর বেশি। 
- এসিডের পরিমাণ যত বাড়বে, pH-এর মান তত কমে। অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়ে, pH-এর মানও তত বাড়ে। 
- নদ-নদী, খালবিল ইত্যাদির জন্য pH-এর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত নদ-নদীর পানি ক্ষারীয় হয়। 
- গবেষণা করে দেখা গেছে, নদ-নদীর পানির pH যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা জলজ উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না। 
- তবে pH-এর মান যদি এর চাইতে কমে যায় বা বেড়ে যায়, তাহলে ঐ পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী আর উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। 
- মাছের ডিম, পোনা মাছ পানির pH খুব কম বা বেশি হলে বাঁচতে পারে না। 
- পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে, অর্থাৎ pH-এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বাইরে চলে আসে, যার ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৮.
পারমাণবিক চুল্লিতে কোন মৌল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. পেট্রোলিয়াম
  2. অক্সিজেন
  3. ইউরেনিয়াম-২৩৫
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়। 
Liquid sodium is used as a coolant in fast breeder reactors on account of its excellent heat transfer properties. 
It must, however, be in the pure form to be compatible with structural materials. 
- অন্যদিকে, জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৫৯.
বেরিলিয়াম কোন ধরনের মৌল?
  1. মুদ্রা ধাতু
  2. হ্যালোজেন 
  3. মৃৎক্ষার ধাতু
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাস
ব্যাখ্যা

বেরিলিয়াম একটি মৃৎক্ষার ধাতু।

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals)
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম মৌলগুলো রয়েছে।
- এই মৌলগুলো মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায় এবং ক্ষার তৈরি করে।

অন্যদিকে,
মুদ্রা ধাতু (Coin Metals)
- গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হলো কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম।
- প্রথম দুটি মৌল কালের জন্য মুদ্রা তৈরি ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হতো।

হ্যালোজেন গ্রুপ (Halogen)
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌল হলো ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (As) এবং টেনেসিন (Ts)।
- এই মৌলগুলোকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠন করে, যেমন F + Na → NaF এবং Cl + Na → NaCl।
- হ্যালোজেন মৌল নিজেই ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে, যেমন Cl₂, I₂ ইত্যাদি।

নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases)
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌল হলো হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে ইলেকট্রন পূর্ণ থাকে, তাই এরা যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় এরা গ্যাস আকারে থাকে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি।  

৫৬০.
বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে নিচের কোনটি বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. জিংক কার্বোনেট
  2. অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. ক্যালামিন
ব্যাখ্যা
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- ক্যালামিন হলো(Calamine) লোশন, যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO3)। 
- ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড (Al(OH)3) নামের ক্ষার এসিডিটি দূর করে।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
 
৫৬১.
জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় এমন এসিডকে কী বলা হয়? 
  1. তীব্র এসিড
  2. জৈব এসিড
  3. দুর্বল এসিড
  4. লবণীয় এসিড
ব্যাখ্যা

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এটি নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬২.
মশা ও আরশোলা নিধনে ব্যবহৃত অ্যারোসলের গন্ধ কোন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে? 
  1. ব্যাপন
  2. পাতন
  3. অভিস্রবণ
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৩.
পরমাণুর গ্রিক প্রতিশব্দ 'অ্যাটোমোস' (Atomos) এর বাংলা অর্থ কী?
  1. ক) ক্ষুদ্র
  2. খ) অবিভাজ্য
  3. গ) অতিক্ষুদ্র
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- পরমাণু এর ইংরেজি হলো অ্যাটম (atom)।
- অ্যাটম কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ অ্যাটোমোস (Atomos) থেকে।
- Atomos এর অর্থ অবিভাজ্য (uncuttable)।
- বিজ্ঞানী ডালটন পরমাণুর অবিভাজ্যতা বিষয়ক ধারণার প্রবক্তা। উনবিংশ শতাব্দিতে এই ধারণার বিকাশ হয়েছিলো।
- কিন্তু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন আবিষ্কার হওয়ার পর এই ধারণা পরিত্যক্ত হয়েছে।

৫৬৪.
অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় শতকরা কত ভাগ কার্বন থাকে? 
  1. প্রায় ৫০ ভাগ
  2. প্রায় ৬০ ভাগ
  3. প্রায় ৭৫ ভাগ
  4. প্রায় ৯৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা-
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়। 
- এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কয়লা। 
- এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কয়লা। 
- এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬৫.
নিচের কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয়?
  1. ক) কেরোসিন
  2. খ) এলকোহল
  3. গ) গ্লিসারিন
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

গ্লিসারিন ও এলকোহল পানিতে দ্রবীভূত হয়।
কিন্তু কেরোসিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না।

৫৬৬.
রেডিয়াম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) পিয়ারে কুরি
  2. খ) মেরি কুরি
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে পিয়ারে কুরি এবং মেরি কুরি সর্বপ্রথম রেডিয়াম আবিষ্কার করেন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
৫৬৭.
কাচ শিল্পে প্রধানত কোন খনিজ উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. সিলিকা বালু 
  3. তেজস্ক্রিয় বালু 
  4. নুড়ি পাথর
ব্যাখ্যা

- কাচ শিল্পের প্রধান এবং মৌলিক খনিজ উপাদান হলো সিলিকা বালু (Silica Sand)। সাধারণত কাচের অধিকাংশ অংশই এই সিলিকা দিয়ে গঠিত। 

অধাতব খনিজ (Non-Metallic Minerals):

১। চুনাপাথর: 
- সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, সাবান, কাগজ, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি প্রস্তুত করার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজন হয়। এছাড়া গৃহনির্মাণে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও রং তৈরি করতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। 

২। সিলিকা বালু: 
- এটি এক ধরনের বালু যা কাচ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, রং, অগ্নিচুল্লির ইষ্টক নির্মাণে এর দরকার হয়। 

৩। চীনামাটি: 
- বাসনপত্র, কাগজ, রাবার বস্তু, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র প্রভৃতি নির্মাণের জন্য চীনামাটি ব্যবহৃত হয়। 

৪। কঠিন শিলা: 
- মধ্যপাড়া কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-গর্দস্থ খনি। এই গ্রানাইট পাথর আধুনিক সুউচ্চ ভবন, সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট, নদী-শাসন, রেললাইন, ফ্লাইওভার ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 

৫। খনিজ বালু/ভারী মানিক: 
- এই খনিজ বালুর মধ্যে জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল, ইলমেটাইট এবং ম্যাগনেটাইট প্রধান। 

৬। পাথর বা কঠিন শিলা: 
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ, নদীর বাঁধ তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে কঠিন শিলার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় কঠিন শিলা পাওয়া যায়। 

৭। নুড়ি পাথর: 
- নুড়ি পাথর প্রধানত রাস্তাঘাট, গৃহ, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণে প্রয়োজন হয়। সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, পিয়ানগঞ্জ, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া; লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম প্রভৃতি স্থানে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। 

৮। ইউরেনিয়াম আকরিক: 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম নামক তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। এছাড়া কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এক ভূ-বিজ্ঞানী কক্সবাজার উপকূলে এ তেজস্ক্রিয় বালুর অবস্থান আবিষ্কার করেন। 

৯। গন্ধক: 
- রাসায়নিক শিল্পে গন্ধকের ব্যবহার অধিক। সালফিউরিক এসিড, বারুদ, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে গন্ধকের উৎপাদন নেই বললেই চলে, কেবল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।

৫৬৮.
কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থের উদাহরণ?
  1. জিপসাম (Gypsum)
  2. মাইকা (Mica)
  3. লোহা (Fe)
  4. কোয়ার্টজ (Quartz)
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন-
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
লোহা (Fe)
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম (Gypsum), 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৬৯.
মার্কারির প্রধান আকরিক কোনটি?
  1. গ্যালেনা
  2. কপার পাইরাইট
  3. বক্সাইট 
  4. সিন্নাবার
ব্যাখ্যা

- মার্কারির প্রধান আকরিক হলো সিন্নাবার (Cinnabar), যার রাসায়নিক সংকেত হলো HgS । এই আকরিকটিকে বাতাসে গরম করে (রোস্টিং প্রক্রিয়ায়) মার্কারি বা পারদ নিষ্কাশন করা হয়।

আকরিক: 

- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
ধাতু ⇒ আকরিক: 
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS), 
• লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS), 
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3), 
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O), 
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3), 
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং 
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭০.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. সোনা
  3. বক্সাইট
  4. গন্ধক
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources): 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, 'প্রকৃতিপ্রদ ও অজৈব কঠিন পদার্থ, যাদের মধ্যে কতিপয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংযুক্তি থাকে তাদেরকেই খনিজ পদার্থ বলে।' 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোন, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়।
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ (Metallic Mineral): 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ (Nonmetallic Mineral): 
- রাসায়নিক খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ (Fuel Mineral): 
- কঠিন, যথা- কয়লা। 
- তরল, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয়, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৫৭১.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. এক
  2. দুই
  3. শূন্য
  4. তিন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা শূন্য। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭২.
নিচের কোন পদার্থটি উর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) ন্যাপথলিন
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কোনাে কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্প এ পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। নিশাদল (NH4Cl), কপূর (C10H16O), ন্যাপথলিন(C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়ােডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) এই পদার্থগুলােকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলােকে উধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। যেমন-কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।
সূত্র: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান।
৫৭৩.
ক্যালরি এককে গ্যাস ধ্রুবকের মান কত?
  1. 1.987 cal mol-1K-1
  2. 0.082 cal mol-1K-1
  3. 8.314 Jmol-1K-1
  4. 8.32×107 erg mol-1K-1
ব্যাখ্যা
মোলার গ্যাস ধ্রুবক: 
- আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT এর ধ্রবক R কে সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক বা মোলার গ্যাস ধ্রবক বলে। 
কারণ, একই তাপমাত্রা ও চাপে এক মোল যেকোনো গ্যাসের মোলার আয়তন সমান হওয়ায় সব গ্যাসের বেলায় ঐ গ্যাস ধ্রুবকের মান একই হয়। 

গ্যাস ধ্রুবক R এর মান নির্ণয়: 

- ক্যালরি (calorie) এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 1.987 cal mol-1K-1

অন্যদিকে, 
- লিটার অ্যাটমসফিয়ার চাপ এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 0.082 L.atm.mol-1K-1
- এস. আই. (S. I) এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 8.314 Jmol-1K-1
- সি. জি. এস (CGS) এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 8.32×107 erg mol-1K-1

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫৭৪.
পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের দ্রবণকে বলা হয়-
  1. ক) সোডা ওয়াটার
  2. খ) মিল্ক অব লাইম
  3. গ) ওয়াটার গ্যাস
  4. ঘ) মার্ক পারহাইড্রল
ব্যাখ্যা

কোন পানিতে উচ্চচাপে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে দ্রবীভূত করলে যে দ্রবণ পাওয়া যায়, তাকে সোডা ওয়াটার বলে।
যেমন- সেভেন আপ, স্প্রাইট, কোকাকোলা ইত্যাদি পানীয়।

৫৭৫.
নিচের কোনটি বহুরূপী মৌল নয়?
  1. সোডিয়াম
  2. কার্বন
  3. গন্ধক
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
যদি কোন মৌল ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকৃতিতে থাকতে পারে তার এ ধর্মকে বহুরূপতা বলে।

কার্বনের রূপভেদ:
কার্বন একটি বহুরূপী মৌল। এর অনেক রূপভেদ আছে। কার্বনের রূপভেদকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা- স্ফটিকাকার বা দানাদার এবং অদানাদার।

- স্ফটিকার কার্বনের রূপভেদ হচ্ছে ডায়মন্ড ও গ্রাফাইট। 
- অদানাদার কার্বন প্রকৃতিতে নানা রূপে থাকে। যেমন: কাঠ কয়লা, প্রাণিজ কয়লা, ভুসা কয়লা, কোক কার্বন, কয়লা, গ্যাস কার্বন। 

সালফারের বহুরূপতা: প্রকৃতিতে সালফারের অনেকগুলো রূপভেদ আছে।
যেমন: দানাদার, অদানাদার এবং তরল সালফার।
- দানাদার সালফারের দুটি রূপভেদ আছে- রম্বিক বা আলফা সালফার এবং মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার।
- অদানাদার সালফারের দুটি বহুরূপতা হচ্ছে- প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার এবং দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার।
- তরল সালফারের রূপভেদ হচ্ছে - ল্যামডা সালফার এবং মিউ সালফার।
- এছাড়াও সালফারের আরেকটি বহুরূপতা হচ্ছে কোলয়ডাল সালফার।

অক্সিজেনের বহুরূপতা: প্রকৃতিতে অক্সিজেনের দুইটি বহুরূপতা বিদ্যমান আছে।
- যার একটি হচ্ছে ডাই অক্সিজেন বা অক্সিজেন নামে পরিচিত। এর সংকেত O₂। অপরটি হচ্ছে ট্রাই অক্সিজেন যা ওজন নামে পরিচিত। এর সংকেত O₃।

ফসফরাসের বহুরূপতা: প্রকৃতিতে ফসফরাসের দুটি বহুরূপতা আছে।
- একটি হল শ্বেত ফসফরাস এবং অপরটি হচ্ছে লোহিত ফসফরাস।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৫৭৬.
ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করতে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নিয়ন
  2. রেডন
  3. আর্গন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ব্যবহার: 

হিলিয়াম: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

নিয়ন: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায়, সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

আর্গন: 
১। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
২। রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

ক্রিপটন: 
১। বৈদ্যুতিক আলোর টিউবে নিয়নের সাথে ক্রিপটন গ্যাস মিশ্রিত করে নীল আলো সৃষ্টি করা হয়। 
২। সিনেমাটোগ্রাফীতে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য ক্রিপটন ফ্লাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। মহাজাগতিক রশ্মি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আয়নীকরণ চেম্বার যন্ত্রে ক্রিপটন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

জেনন: 
১। ইলেকট্রোনিক টিউব লাইটে সবুজ আলো সৃষ্টি করার জন্য জেনন ব্যবহার করা হয়। 
২। ফটোগ্রাফিক ফ্লাসটিউবে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য জেনন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

রেডন: 
- রেডন একটি তেজস্ক্রিয় মৌল যা আলফা কণা বিচ্ছুরণ করে। 
- ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য রেডন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করে খাদ্যের কোন উপাদানটি নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
- আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করে কোনো খাদ্যে শর্করা আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
- শর্করা আয়োডিন দ্রবণের রঙ পরিবর্তন করে।
- স্বাদ ও গুণাগুণ বিচার করে খাদ্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। প্রোটিন বা আমিষ ,শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য।
- এ তিন প্রকার খাদ্য আমাদের দেহ গঠন, ক্ষয়পূরুণ, বৃদ্ধিসাধন ও শক্তি যোগায়।
- ভিটামিন হলো খাদ্যের আরেকটি উপাদান যা কিনা দেহের রোগমুক্ত ও সবল রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

সূত্র:  ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৫৭৮.
কোন পদার্থটিকে তাপ দিলে কঠিন পদার্থ থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) নিশাদল
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

যে প্রক্রিয়ায় কোনাে কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
নিশাদল (NH4Cl), কপূর (C10H16O), ন্যাপথলিন(C6H6), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়ােডিন (I), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) - এই পদার্থগুলােকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলােকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।

৫৭৯.
ধাতব পদার্থে মরিচা পড়া রোধ করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. তামা
  2. সীসা
  3. লোহা
  4. টিন
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

গ্যালভানাইজিং: 

- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫৮০.
কোণটির আণবিক ভর ৩২?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) হিলিয়াম
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেনের আণবিক ভর ২, হিলিয়ামের আণবিক ভর ৪, নাইট্রোজেনের আণবিক ভর ২৮, অক্সিজেনের আণবিক ভর ৩২৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৫৮১.
নিম্নের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. উজ্জ্বলতা
  2. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করা 
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
  4. ঘনত্ব কম হওয়া 
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮২.
STP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0° C 
  2. 25° C 
  3. 373° K 
  4. 100° C 
ব্যাখ্যা

SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- SATP এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25° C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- STP এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0° C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৩.
পৃথিবীর বাইরে কোথায় প্লাজমার আধিক্য দেখা যায়? 
  1. পাহাড়ের চূড়ায়
  2. ভূগর্ভস্থ স্থানে
  3. সমুদ্রের গভীরে
  4. মহাবিশ্বে এবং সূর্যে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা: 
- পদার্থের কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি অবস্থা হচ্ছে 'প্লাজমা'। 
- এটিও পদার্থের চতুর্থ একটি অবস্থা। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- এ অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 
- শিল্প কারখানায় প্লাজমা টর্চ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৪.
নিচের কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. ফেনল
  2. অ্যামোনিয়া
  3. বেনজিন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত হাইড্রোকার্বন এবং হাইড্রোকার্বন থেকে উদ্ভূত যৌগসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
অ্যামিনো এসিড, ফেনল, বেনজিন ইত্যাদি হলো জৈব যৌগ।

- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
অ্যামোনিয়া, কার্বনিক এসিড, ভারী পানি ইত্যাদি সবই অজৈব যৌগ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৮৫.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) তরল পদার্থে কোন বস্তু দ্রবীভূত থাকলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়
  2. খ) চাপ বাড়লে তরলের স্ফুটনাংক বেড়ে যায় এবং চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে
  3. গ) বায়বীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরকে ঘনীভবন বলে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১. তরল পদার্থে কোন বস্তু দ্রবীভূত থাকলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। যেমনঃ যে তাপমাত্রায় পানি ফুটবে, চিনির পানি সে তাপমাত্রায় ফুটবে না। তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ফুটবে।
২. চাপ বাড়লে তরলের স্ফুটনাংক বেড়ে যায় এবং চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে। স্বাভাবিক চাপে পানির স্ফুটনাংক ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
৩. বায়বীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরকে ঘনীভবন বা তরলীকরণ (Liquification) বলে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৬.
কোন এসিডের সোডিয়াম লবণকে ডিটারজেন্ট বলা হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড
  2. খ) বেনজিন সালফোনিক এসিড
  3. গ) বেনজোয়িক এসিড
  4. ঘ) সাইট্রিক এসিড
ব্যাখ্যা

সাবানঃ দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ৷
ডিটারজেন্টঃ দীর্ঘ কার্বন শিকল বিশিষ্ট বেনজিন সালফোনিক এসিডের সোডিয়াম লবণ৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

৫৮৭.
একটি পরমাণুর তৃতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেক্ট্রন থাকতে পারে?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ১৬টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ৩৬টি
ব্যাখ্যা
পরমাণুর কক্ষপথে 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।
এখানে, n = কক্ষপথের সংখ্যা।

তাহলে, তৃতীয় কক্ষপথে থাকবে = ২ × 32 = 18টি ইলেকট্রন।

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৮৮.
ফিউজ তার কিসের সংকর?
  1. টিন ও লোহা
  2. টিন ও সীসা
  3. সোনা ও রূপা
  4. সীসা ও ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক ফিউজ তার: 
- তড়িৎ যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। 
- অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। 
- এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বর্তনীতে এক ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা হলো ফিউজ তার ব্যবহার করা। 
ফিউজ সাধারণত টিন ও সীসার একটি সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। 
- এটি একটি চিনামাটির কাঠামোর উপর দিয়ে আটকানো থাকে। 
- এই তারটি সরু এবং গলনাঙ্ক কম। 
- এই তারের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। 
- ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৮৯.
সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি?
  1. ক) তৈল
  2. খ) সাবান
  3. গ) ডিটারজেন্ট
  4. ঘ) চর্বি
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়।
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)। 
৫৯০.
অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ কোনটি? 
  1. প্রোপেন 
  2. ইথিন 
  3. বিউটেন 
  4. বেনজিন 
ব্যাখ্যা

হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbons): 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন- মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- এই যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন: 
- অ্যালিফেটিক কথাটির অর্থ হলো চর্বিজাত। 
- এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বন মূলত প্রাণীর চর্বি থেকে পাওয়া গিয়েছিল, তাই এ ধরনের হাইড্রোকার্বনের নাম অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দেওয়া হয়েছে। 
- অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দুই ধরনের। যথা- (i) মুক্ত শিকল হাইড্রোকার্বন এবং (ii) বদ্ধ শিকল হাইড্রোকার্বন। 
যেমন- বিউটেন (CH3-CH2-CH2-CH3), ইথিন (CH2=CH2), ইথাইন (CH=CH) ও প্রোপেন (CH3-CH2-CH3) ইত্যাদি। 

২। অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন: 
- গ্রিক শব্দ অ্যারোমা (Aroma) থেকে অ্যারোমেটিক শব্দটি এসেছে। 
- অ্যারোমেটিক শব্দের অর্থ হলো সুগন্ধ। 
- প্রথমে যে অ্যারোমেটিক যৌগগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল সুগন্ধযুক্ত, তাই এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে। 
যেমন- বেনজিন (C6H6) বা ন্যাপথলিন (C10H8) হচ্ছে অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। 
- অ্যারোমেটিক যৌগগুলো সাধারণত 5, 6 কিংবা 7 সদস্যের সমতলীয় যৌগ (planar compounds)। এগুলোতে একান্তর (alternate) দ্বিবন্ধন থাকে, অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে কার্বন-কার্বন একটি একক বন্ধন এবং তারপর একটি দ্বিবন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯১.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি প্রযোজ্য
  1. ক) জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।
  2. খ) জারণ বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন এবং নিউট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।
  3. গ) জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই।
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:

- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।
- যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে জারণ-বিজারণ বা রেডক্স বিক্রিয়া বলে।
- যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ হয় তাকে জারণ বিক্রিয়া বলে।
- যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন গ্রহণ হয় তাকে বিজারণ বিক্রিয়া বলে। তবে এই জারণ ও বিজারণ একই সাথে সংঘটিত হয়।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় যখন ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তখন একটি বিক্রিয়ক ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং অপর আরেকটি বিক্রিয়ক সেই ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯২.
স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের চাপ ও আয়তন-এর গুণফল কী? 
  1. ধ্রুবক 
  2. শূন্য 
  3. পরিবর্তনশীল
  4. অসীম 
ব্যাখ্যা

আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না।
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস।
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক
অর্থাৎ, PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবহনকারী ধাতু হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. জিংক
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক চুল্লিতে (Nuclear Reactor) নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বিশাল পরিমাণ তাপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য শীতলকারক বা তাপ পরিবাহক (Coolant) হিসেবে তরল সোডিয়াম (Sodium) ধাতু ব্যবহৃত হয়।
- সোডিয়ামের উচ্চ তাপ পরিবাহিতা এবং এটি অনেক উচ্চ তাপমাত্রায়ও তরল থাকার ক্ষমতা (উচ্চ স্ফুটনাঙ্ক) থাকার কারণে এটি তাপ স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

পারমাণবিক চুল্লি: 
- নিউক্লিয়ার রিয়‍্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়। 
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়‍্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং IAEA ওয়েবসাইট।

৫৯৪.
ক্ষারধর্মী অক্সাইড কোনটি? 
  1. NO2
  2. SO2
  3. CaO
  4. N2O
ব্যাখ্যা

অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৫.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) সমুদ্রের পানি
  4. ঘ) পেট্রোল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে আসলে জ্বালানি হবে না, শক্তির উৎস হবে। তবে, প্রশ্নের ধরণ দেখে বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়।

যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার আশংকা নেই তাই নবায়নযোগ্য শক্তি৷
যেমনঃ সূর্যের আলো, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, নদীর বহমান পানি, বায়ুশক্তি, জিওথার্মাল ইত্যাদি।
অনবায়নযোগ্য শক্তি হলো, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ।
যেমনঃ তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৫৯৬.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 40°C হলে ফারেনহাইট স্কেলে তা কত হবে?
  1. ক) 40°F
  2. খ) 104°F
  3. গ) 102°F
  4. ঘ) 72°F
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 
C/5 = (F-32)/9
বা, 40/5 = (F-32)/9
বা, (F-32)/9 = 8
বা, (F-32) = 72
বা, F = 72+32
∴ F = 104
৫৯৭.
কত ডিগ্রী সেলসিয়ায় তাপমাত্রাকে কক্ষ তাপমাত্রা হিসেবে ধরা হয়? 
  1. 0°C
  2. 25°C
  3. 100°C
  4. 272°C
ব্যাখ্যা
কক্ষ তাপমাত্রা: 
- সাধারণ অবস্থা বলতে 25°C (298K) তাপমাত্রা ও এক বায়ুমণ্ডল (1 atm) চাপকে বোঝায়। 
- 25°C তাপমাত্রাকে কক্ষ তাপমাত্রা হিসেবে ধরা হয়। 
- আমরা জানি যে, কক্ষ তাপমাত্রায় পানি তরল, অথচ লবণ কঠিন, নাইট্রোজেন গ্যাসীয়। 
- যে সব পদার্থের গলনাঙ্ক কক্ষ তাপমাত্রার উপরে তা কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ হিসেবে থাকে। 
- যে সব পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক কক্ষ তাপমাত্রার নিচে তা কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে। 
- যে সব পদার্থের গলনাঙ্ক কক্ষ তাপমাত্রার নিচে ও স্ফুটনাঙ্ক কক্ষ তাপমাত্রার উপরে সে সব পদার্থ কক্ষ তাপমাত্রায় তরল হিসেবে থাকে। 
- NaCl লবণের গলনাঙ্ক (815°C) কক্ষ তাপমাত্রার উপরে। সুতরাং তা কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন। 
- নাইট্রোজেনের স্ফুটনাঙ্ক (– 196°C) কক্ষ তাপমাত্রার নিচে। সুতরাং তা কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাস। 
- অন্যদিকে পানির স্ফুটনাঙ্ক (100°C) কক্ষ তাপমাত্রার চেয়ে বেশি এবং গলনাঙ্ক (0°C) কক্ষ তাপমাত্রা অপেক্ষা কম হওয়ায় পানি কক্ষ তাপমাত্রায় তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৫৯৮.
তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে নির্গত আলফা কণা একটি-
  1. ঋণাত্মক কণা
  2. হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
  3. হাউড্রোজেন নিউক্লিয়াস
  4. তড়িৎ নিরপেক্ষ কণা
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
- আলফা রশ্মি দুইটি প্রোটন ও দুইটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত। যা মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে। 
- এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়। 
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
- আয়নিত করার ক্ষমতা অনেক বেশি। 
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
- জিঙ্ক সালফাইডে আলফা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৯.
কোন এনজাইমের প্রভাবে গ্লুকোজ ইথানলে পরিণত হয়?
  1. মন্টেজ
  2. জাইমেজ
  3. ইনভাটেজ
  4. ডায়াসটেজ
ব্যাখ্যা

• গ্লুকোজ থেকে ইথানল রূপান্তর:
- গ্লুকোজ থেকে ইথানল তৈরির প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন (Fermentation) বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ইস্ট (Yeast) এর উপস্থিতিতে ঘটে।
- ফারমেন্টেশনের সময় গ্লুকোজ ভেঙে ইথানল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
- এই জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট এনজাইমের প্রয়োজন হয়।

• জাইমেজ (Zymase):
- জাইমেজ হলো এক ধরনের এনজাইম কমপ্লেক্স যা ইস্ট কোষে পাওয়া যায়।
- এটি গ্লুকোজকে ধাপে ধাপে ভেঙে ইথানলে রূপান্তর করে।
- অ্যালকোহলিক ফারমেন্টেশনের জন্য জাইমেজ অপরিহার্য।
- জাইমেজের উপস্থিতিতেই গ্লুকোজ থেকে ইথানল উৎপাদন সম্ভব হয়।

• ইনভাটেজ (Invertase):
- ইনভাটেজ এনজাইম সুক্রোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে ভেঙে দেয়।
- এটি সরাসরি গ্লুকোজকে ইথানলে রূপান্তর করে না।
- তাই ইথানল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি প্রধান এনজাইম নয়।

• ডায়াসটেজ (Diastase):
- ডায়াসটেজ স্টার্চকে মালটোজ বা গ্লুকোজে রূপান্তর করে।
- এটি হজম ও অঙ্কুরোদ্গম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
- তবে এটি গ্লুকোজকে ইথানলে পরিণত করে না।

• মন্টেজ (Montase):
- মন্টেজ নামে কোনো পরিচিত এনজাইম নেই যা গ্লুকোজকে ইথানলে রূপান্তর করে।
- এটি এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সুতরাং, গ্লুকোজকে ইথানলে রূপান্তরের জন্য দায়ী এনজাইম হলো জাইমেজ।
সঠিক উত্তর: খ) জাইমেজ।

সূত্র - sciencedirect journal.

৬০০.
ইস্পাতে কী কী উপাদান থাকে?
  1. লোহা ও কার্বন
  2. লোহা ও জিংক
  3. লোহা ও ক্রোমিয়াম
  4. লোহা ও নিকেল
ব্যাখ্যা
⚪ সঠিক উত্তর: ক) লোহা ও কার্বন।

- ইস্পাত (Steel) হলো একটি মিশ্রধাতু, যার প্রধান উপাদান:
- লোহা (Iron),
- কার্বন (Carbon)।

- কার্বন যোগ করার ফলে লোহার মজবুতি, দৃঢ়তা ও নমনীয়তা বেড়ে যায়।

⚪ অপশন আলোচনা:
লোহা ও জিংক → এটি গ্যালভানাইজড লোহা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়, ইস্পাত নয়।

লোহা ও ক্রোমিয়াম → এতে তৈরি হয় স্টেইনলেস স্টিল, কিন্তু সাধারণ ইস্পাত নয়।

লোহা ও নিকেল → ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরণের সংকর ধাতুতে, কিন্তু এগুলোও সাধারণ ইস্পাত নয়।

তাই, ইস্পাত তৈরি হয় লোহা ও কার্বনের সংমিশ্রণে।

⚪ সংকর ধাতু:

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।