বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৭ · ৩০১৪০০ / ২,৬৯২

৩০১.
কোন অধাতু বিদ্যুৎ পরিবাহী?
  1. টাইটেনিয়াম
  2. গ্রাফাইট
  3. ক্লোরিন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
গ্রাফাইট একটি অধাতু হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
অধাতু:
- যেসব মৌলিক পদার্থ সাধারণত নরম, অ-চকচকে, স্বচ্ছ এবং ভঙ্গুর হয়, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে।
- কার্বন, সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।

কিন্তু,
- কার্বন দানাদার রূপভেদ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে
- বিদ্যুৎ পরিবহনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে - কার্বন পরমাণুর চারটি যােজ্যতা ইলেক্ট্রনের মধ্যে তিনটি ইলেক্ট্রন তিনটি কার্বন পরমাণুর সাথে বন্ধন সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়।
- অপর ইলেক্ট্রনটি মুক্ত থাকে।
- এ মুক্ত ইলেক্ট্রনগুলাে গ্রাফাইটের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহন করে।

উৎস: নবম - দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও ব্রিটিনিকা।
৩০২.
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহৃত হবে?
  1. ক) প্লুটোনিয়াম
  2. খ) ইউরেনিয়াম
  3. গ) ডিউটোরিয়াম
  4. ঘ) পলোনিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম।
- বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন মাধ্যমগুলোর একটি হচ্ছে পরমাণু বিদ্যুৎ।
- পৃথিবীতে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে।
- বর্তমানে ৩১টি দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। 
- ৪৫০০ টন উচ্চ গ্রেডের কয়লা থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়, সেই একই পরিমাণ শক্তি মাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে পাওয়া যায়। 
- দীর্ঘ মেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা হিসেবে সারাবিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত।
- আর এজন্যই পৃথিবীর সব উন্নত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এটি।

উৎস: rooppurnpp.gov.bd
৩০৩.
কার্বনের পারমাণবিক ভর কত?
  1. ক) ৬
  2. খ) ১০
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা
- কার্বন (Carbon) এর প্রতীক C ;
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬ ;
- এর পারমাণবিক ভর ১২ ;

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন বই।
৩০৪.
কোনো পানির BOD মান যত বেশি হয়, তখন- 
  1. পানি ক্ষারীয় হয় 
  2. পানি বেশি দূষিত হয় 
  3. পানি কম দূষিত হয় 
  4. পানি নিরপেক্ষ হয় 
ব্যাখ্যা

BOD: 
- BOD এর পূর্ণ রূপ হলো Biological Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, BOD এর বাংলা অর্থ হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD বলে। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

COD: 
- COD এর পূর্ণরূপ হলো Chemical Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, COD এর বাংলা অর্থ হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। 
- কোনো পানির COD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

- BOD ও COD উভয়ই পানির দূষণ মাত্রা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা, পানিতে উপস্থিত শুধু জৈব বস্তুকে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হলো BOD। অপরদিকে, সকল জৈব ও অজৈব দূষক তা অণুজীব দ্বারা পচনযোগ্য হোক বা না হোক তাদের রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণরূপে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। সুতরাং, একই পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৫.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ভিনেগার
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট
  4. ফরমালিন
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
পানি কোন তাপমাত্রায় বরফে পরিণত হয়?
  1. ০ °C
  2. ৪ °C
  3. ৩৯ °C
  4. ১০০ °C
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- ৪°C সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
০°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়। 
- ১০০°C সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩। 
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩০৭.
গাঢ় নাইট্রিক এসিড কোন রঙের কাচের বোতলে রাখা হয়?
  1. কালো
  2. সাদা
  3. বাদামি
  4. লাল
ব্যাখ্যা
গাঢ় নাইট্রিক এসিড: 
- নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে পানিতে দ্রবীভূত করে নাইট্রিক এসিড তৈরি করা হয়। 
- কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে NO2 গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় নাইট্রিক এসিড HNO3 তৈরি করা হয়। 
3NO2 + H2O → 2HNO3 + NO 

- গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। 
- গাঢ় নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের বর্ণ বাদামি হয়। 
- নাইট্রিক এসিড যে বাদামি কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের HNO3 আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। 
- HNO3 যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য HNO3 কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়, কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৮.
এস্টারের কার্যকরী মূলক নিচের কোনটি?
  1. ক) -CHO
  2. খ) -CO
  3. গ) -OH
  4. ঘ) -COOR
ব্যাখ্যা
এস্টার
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধিযুক্ত হয়। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
কোন মৌলটি সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করে?
  1. ক) সিলভার
  2. খ) টিন
  3. গ) কপার
  4. ঘ) গোল্ড
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১০.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  2. নিউক্লিয়ন সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা + পারমাণবিক সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
ভরসংখ্যা/ নিউক্লিয়ন সংখ্যা:

- কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলে।
- অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- ভরসংখ্যাকে 'A' অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক:

- কোনো মৌলের পরমাণুতে যদি P সংখ্যক প্রোটন এবং N সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাহলে, 
- পরমাণুটির ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন সংখ্যা (P) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- যেহেতু, প্রোটন সংখ্যা (P) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z)
- অতএব, ভরসংখ্যা (A) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- অর্থাৎ, A = Z + N
- বা, Z = A - N

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৩১১.
কোনটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. ক) সোডিয়াম কার্বনেট
  2. খ) সোডিয়াম সিলিকেট
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা এবং কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও, সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়। তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১২.
নিউট্রনের প্রকৃত ভর কত?
  1. ৯.১০৮৫ x ১০-২৮ গ্রাম
  2. ১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
একটি নিউট্রনের আপেক্ষিক ভর ১, আপেক্ষিক আধান ০, প্রকৃত ভর ১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম, প্রকৃত চার্জ ০ কুলম্ব এবং অবস্থান হলো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩১৩.
SMOG হচ্ছে-
  1. ক) সিগারেটের ধোঁয়া
  2. খ) কুয়াশা
  3. গ) কালধোঁয়া
  4. ঘ) দূষিত বাতাস
ব্যাখ্যা
SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস। 

- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- ‘SMOG’ শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে। মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

সূত্র- National Geographic Society [লিঙ্ক]
৩১৪.
কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়?
  1. F
  2. Br
  3. Cl
  4. O
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির 17 তম গ্রুপের মৌলগুলো হ্যালোজেন নামে পরিচিত। 
- F, Cl, Br, I ও At এ পাঁচটি মৌল এ গ্রুপের মৌল। 
- হ্যালোজেন শব্দের অর্থ লবণ গঠনকারী। 
- এরা প্রত্যেকেই অতিশয় সক্রিয় ও তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল। 
- প্রত্যেকের সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরে 7টি করে ইলেকট্রন বর্তমান থাকায় অতিরিক্ত একটি ইলেকট্রন লাভ করার প্রবণতা যথেষ্ঠ  থাকে। 
- প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে হ্যালাইড আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন হ্যালাইড যৌগ গঠন করে। 
- হাইড্রোজেন হ্যালাইড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিডে পরিণত হয়। 
- এরা তীব্র জারক। 

অন্যদিকে, 
- অক্সিজেন (O) হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়, এটি গ্রুপ-16 এর মৌল

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৫.
কোন আলোকরশ্মি ত্বকে ভিটামিন 'ডি' তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) এক্স রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি
ব্যাখ্যা
Vitamin D is a hormone, not a vitamin. The skin is responsible for producing vitamin D. During exposure to sunlight, ultraviolet radiation penetrates into the epidermis and photolyzes provitamin D3 to previtamin D3.
Source:ncbi.nlm.nih.gov
৩১৬.
​মাটির এসিডিটি কমাতে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট 
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
  3. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৭.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. যুগপৎ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণী।
৩১৮.
কোন উপাদানটি পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়?
  1. ইউরেনিয়াম
  2. প্যারাফিন
  3. ক্লোরিন
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• প্যারাফিন পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়। 

• জীবাশ্ম জ্বালানি:
- জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে মৃত উদ্ভিদ এবং প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি হয়।

• পেট্রোলিয়াম:

- পেট্রোলিয়াম (Petroleum) হলো একটি প্রাকৃতিক তরল জ্বালানি যা বিভিন্ন হাইড্রোকার্বন যৌগের মিশ্রণ।
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত ৫০০০ ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়।
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল বলা হয়। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। 
- এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাংকের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 

• পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত উপাদান:
- পেট্রোল, 
- ডিজেল, 
- কেরোসিন, 
- প্যারাফিন (Paraffin), 
- টার,
- গ্যাসোলিন, 
- বিটুমিন ইত্যাদি। 

• প্যারাফিন: 
- প্যারাফিন হলো এক প্রকারের মোম বা মোমের মতো পদার্থ, যা প্রধানত পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়। 
- প্যারাফিন একটি স্যাচুরেটেড হাইড্রোকার্বন (alkane)।
- এটি একটি হালকা জ্বালানিসমৃদ্ধ পদার্থ, যা মোম, জ্বালানিতে, ওষুধ তৈরিতে এবং কসমেটিকে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।
৩১৯.
তড়িৎ কোষে কোন পদার্থটি ইলেকট্রন প্রদান করে?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. ইলেকট্রোলাইট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ কোষে (Electrochemical Cell)  অ্যানোড হলো একটি ইলেকট্রোড বা তড়িৎদ্বার যেখানে জারণ বা অক্সিডেশন ঘটে।
অর্থাৎ এখানে পদার্থ ইলেকট্রন প্রদান করে।
• সাধারণভাবে বলা যায়, 
অ্যানোড → অক্সিডেশন → ইলেকট্রন প্রদান

অন্যদিকে,
ক্যাথোড: ক্যাথোডে বিজারণ  (Reduction) ঘটে, যেখানে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
  অর্থাৎ ,  ক্যাথোড → হ্রাস → ইলেকট্রন গ্রহণ

ইলেকট্রোলাইট: এটি আয়ন পরিবহন করে (যেমন: NaCl দ্রবণ), কিন্তু ইলেকট্রন প্রদান করে না।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩২০.
বয়েলের সূত্রে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. তাপমাত্রা
  4. এনট্রপি
ব্যাখ্যা
বয়েলের সূত্র: 
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত। 
- সূত্রটি হলো- "তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক"। 

ব্যাখ্যা: 
- এই সূত্রানুসারে, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের তার আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে তাপমাত্রা T, আয়তন V এবং চাপ p হলে; 
V ∞ 1/p  [যখন T স্থির থাকে] 
বা, pV = K  [এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক] 
- K এর মান গ্যাসের ভর এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
সুতরাং, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন যথাক্রমে V1, V2, V3, V4......... Vn ইত্যাদি এবং চাপ যথাক্রমে P1, P2, P3, P4........ Pn ইত্যাদি হয় তাহলে, 
P1V1 = P2V2 = P3V3 = P4V4 .......= PnVn = ধ্রুবক (K) । 
- অতএব, চাপ দ্বিগুণ হলে আয়তন অর্ধেক হবে, চাপ তিনগুণ হলে আয়তন এক তৃতীয়াংশ হবে, বা চাপ অর্ধেক হলে আয়তন দ্বিগুণ হবে এভাবে একটি বাড়লে অন্যটি কমবে। 

এনট্রপি: 
- তাপগতিবিদ্যায় এনট্রপির গুরুত্ব অপরিসীম। 
- এনট্রপি একটি প্রাকৃতিক রাশি যার মান তাপ ও পরম তাপমাত্রার অনুপাতের সমান। 
- এটি বস্তুর একটি তাপীয় ধর্ম যা তাপ সঞ্চালনের দিক নির্দেশ করে। 
- এটি বস্তুর তাপগতীয় অবস্থা নির্ধারণে সহায়তা করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩২১.
কোন গ্যাসটি ঘনীভূত হয়ে 'ড্রাই আইস' বা 'শুষ্ক বরফে' পরিণত হয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে অতি শীতল ও উচ্চ চাপে রাখলে তা সরাসরি কঠিন বরফে রূপান্তরিত হয়। এই কঠিন রূপটি কোনো তরল না হয়েই সরাসরি গ্যাসে পরিণত হতে পারে বলে একে ড্রাই আইস বলা হয়।

• শুষ্ক বরফ:
- ড্রাই আইস তৈরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- ড্রাই আইস হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইডের শক্ত রূপ।
- ড্রাই আইসকে শুস্ক বরফ ও বলা হয়। 
- হিমায়ক হিসেবে ও স্টেজ শো-তে কুয়াশা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
- আইসক্রিম এর গাডিতে, হিমাগারে এবং পচনশীল ফলমুল,মাছমাংস সংরক্ষনে ব্যবহার করা হয়। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৩২২.
শুষ্ক বরফের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. CO2
  2. N2
  3. H20
  4. CH4
ব্যাখ্যা

শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) কঠিন রূপ।
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়।
- শুষ্ক বরফের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম, প্রায় - 78.5°C বা - 109.3°F।
- এর নাম "শুষ্ক বরফ" কারণ এটি তরল হয় না এবং কোনো জলীয় অবশেষ রাখে না।
-  এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিমায়ন বা শীতলকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহন এবং সংরক্ষণ।
- শুষ্ক বরফ থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস কোনো গন্ধ বা রঙ সৃষ্টি করে না, তবে এটি বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচের দিকে অবস্থান করে।
- মঞ্চের অনুষ্ঠানে এটি কৃত্রিম ধোঁয়া বা কুয়াশা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- শুষ্ক বরফকে খোলা জায়গায় ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ এটি বাতাসের অক্সিজেনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং দম বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩২৩.
নিচের কোনটি ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস? 
  1. 2, 8, 10
  2. 2, 8, 2
  3. 2, 8, 8, 2
  4. 2, 8, 8, 1
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা = ২০। 
∴ প্রথম শক্তিস্তর(K) এ ইলেকট্রন আছে = ২ টি। 
- ২য় শক্তিস্তর(L) এ ইলেকট্রন আছে = ৮ টি। 
- ৩য় শক্তিস্তর(M) এ ইলেকট্রন আছে = ৮ টি। 
- ৪র্থ শক্তিস্তর(N) এ ইলেকট্রন আছে = ২ টি। 
ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 2 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৪.
সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. পলিমারাইজেশন
  2. সালফোনেশন
  3. স্যাপোনিফিকেশন
  4. ফার্মেন্টেশন
ব্যাখ্যা

• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন। 

• সাবান:  
- সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের  (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড)  সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ময়লা ও তেল অপসারণ করে।

• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন।
- এ প্রক্রিয়া তে জৈব এসিডের সাথে ক্ষারের ক্রিয়ায় সাবান তৈরি হয়। 
• বিক্রিয়া:
- জৈব এসিড বা স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH ) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O
- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সবানের রাসায়নিক নাম।

অন্যদিকে, 
•  সালফোনেশন (Sulfonation): কোনো জৈব যৌগে সালফোনিক অ্যাসিড গ্রুপ (-SO3H) যুক্ত করার বিক্রিয়াকে সালফোনেশন বলে। এটি ডিটারজেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সাবান তৈরিতে নয়।

পলিমারাইজেশন: মনোমার থেকে পলিমার গঠন প্রক্রিয়াকে পলিমারাইজেশন বলা হয়।

ফার্মেন্টেশন: enzymes দ্বারা জৈব যৌগের ভাঙ্গন।

তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ,  নবম-দশম শ্রেণি। 
- রসায়ন ২য় পত্র,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

৩২৫.
আদর্শ গ্যাসের জন্য কোন সমীকরণটি সঠিক? 
  1. PV = nK
  2. PV = K
  3. P = nRT
  4. PV = nRT
ব্যাখ্যা
আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না।
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস।
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক। অর্থাৎ PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৬.
অশ্রু বা চোখের জল হল-
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) লবণযুক্ত পানি
  4. ঘ) অ্যাকোয়া রিজিয়া
ব্যাখ্যা

অশ্রু গ্রন্থি:
উপরের চক্ষু পল্লবের কোনায় অশ্রু গ্রন্থি থাকে যা থেকে অশ্রু (Tears) তৈরি হয়।
সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও পানি সমন্বয়ে অশ্রু তৈরি হয়।
অশ্রুতে লাইসোজাইম নামক একটি এনজাইমও থাকে। অশ্রু গ্রন্থিকে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিও বলে।
কাজ: অশ্রু চোখকে সিক্ত রাখে, ধূলা ও ময়লা পরিস্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour) - লেন্সও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।
ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour) - লেন্সও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গোলকের গোলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৭.
ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ইরিডিয়াম
  2. টেকনিশিয়াম-99
  3. আয়োডিন-131
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
-  আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনিশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৩২৮.
জৈব রসায়নের জনক-
  1. ক) রবার্ট বয়েল
  2. খ) জাবির ইবনে হায়ান
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) ফ্রেডারিক উহলার
ব্যাখ্যা

- রসায়নের যে শাখায় হাইড্রোকার্বন ও হাইড্রোকার্বনের বিভিন্ন জাতক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয় তাকে জৈব রসায়ন বলে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত দ্বিমৌল যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।
- ফ্রেডারিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।
- জৈব বস্তুর সম্পূর্ণ দহনে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়।

৩২৯.
মৃৎক্ষার ধাতুর প্রমাণ জারণ সংখ্যা-
  1. +১
  2. +২
  3. -১
  4. -২
ব্যাখ্যা
• জারণ সংখ্যা নির্ণয়:
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল।
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

• বিভিন্ন মৌলের প্রমাণ জারণ মান:
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1.
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2.
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1.

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
চুনের পানির সংকেত কোনটি?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

• চুনের পানির সংকেত হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Ca(OH)2 । 

• চুনের পানি:
- চুনের পানি হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের (Ca(OH)2 একটি স্বচ্ছ জলের দ্রবণ।

• বৈশিষ্ট্য:
- চুনের পানি বর্ণহীন ও স্বচ্ছ দ্রবণ।
- এটির প্রকৃতি ক্ষারীয়।
- চুনের পানি CO2 এর সাথে বিক্রিয়া করে দুধের মতো সাদা হয়ে যায়, কারণ এতে CaCO3​ গঠিত হয়।

• ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয় (lime water test)।
- কৃষি ও মাটির অম্লতা দূর করতে।
- বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষায়।

অন্যদিকে,
• কস্টিক সোডা (Caustic Soda)– এটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)–এর বাণিজ্যিক নাম।
• পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) – এটি কস্টিক পটাশ নামে পরিচিত।
• ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)₂) – এটি সাধারণত অ্যাসিডিটির ওষুধে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩১.
খাবার লবণে কোন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন থাকে?
  1. সমযোজী বন্ধন
  2. আয়নিক বন্ধন
  3. ধাতব বন্ধন
  4. ভ্যান্ডার-ওয়ালস বন্ধন
ব্যাখ্যা

• খাবার লবণে উপস্থিত রাসায়নিক বন্ধন আয়নিক প্রকৃতির। 

• আয়নিক বন্ধন:
- ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়নসমূহ যে আকর্ষণ বল দ্বারা যৌগের বল দ্বারা যৌগের অণুতে আবদ্ধ থাকে তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
 
• আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য:
- ধাতুগুলোর আয়নিকরণ শক্তির মান অনেক কম হওয়ায় এরা অতি সহজেই সর্বশেষ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হয়।
- আবার অধাতুগুলোর ইলেকট্রন আসক্তির মান বেশি হওয়ায় এরা সহজেই সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়।
- এভাবে সৃষ্ট বিপরীত আধানের ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বল কাজ করে। এই আকর্ষণ বলটিই আয়নিক বন্ধন।

NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)-এ একটি আয়নিক বন্ধন থাকে, কারণ:
- Na (সোডিয়াম) একটি ধাতু, যা ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন (Na+) তৈরি করে।
- Cl (ক্লোরিন) একটি অধাতু, যা সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন (Cl-) তৈরি করে।
- ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বা আয়নিক বল দ্বারা গঠিত হয় আয়নিক বন্ধন।
Na → Na+ + e-
Cl + e- → Cl- 
Na + Cl → Na+ + Cl- = NaCl

অন্যদিকে,
সমযোজী বন্ধন: এটি গঠিত হয় যখন দুইটি অধাতু ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন তৈরি করে।
ধাতব বন্ধন: এটি সাধারণত কেবল দুইটি ধাতব পরমাণুর মধ্যে হয়ে থাকে।  
ভ্যান্ডার-ওয়ালস বন্ধন: এটি একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ। এটি আয়নিক বন্ধনের মত শক্তিশালী বন্ধন নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৩৩২.
নিচের কোন উক্তিটি সঠিক? 
  1. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  2. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
  4. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মিশ্রণকে বোঝায়
ব্যাখ্যা
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়। 
- দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোনো অনুপাতে একত্রে মিশ্রিত করলে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়। 
- বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ বায়ুতে এর উপাদানসমূহ যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে। 

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩৩৩.
ভূপৃষ্ঠে যে ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমানে আছে -
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)।
লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।

Source: space.com
৩৩৪.
pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান -
  1. 0
  2. 1
  3. 7
  4. 14
ব্যাখ্যা
- pH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয় এবং ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩৩৫.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অধাতু
  2. মুদ্রা ধাতু
  3. ক্ষার ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা এক কথায় অসাধারণ। 
- বর্তমানেও বাজারে ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে, তবে এগুলো সংকর ধাতুর তৈরি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো -
  1. ক) দূষণের হার বৃদ্ধি
  2. খ) বিশুদ্ধতার হার বৃদ্ধি
  3. গ) দূষণের হার হ্রাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand, COD) :
- পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না ।
- এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়।
এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে।
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বলে।
- উল্লেখ্য যে, কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়।
কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়।
- পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি


উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
সাধারণত অ্যালকোহল বলতে কোন পদার্থকে বোঝায়?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট 
ব্যাখ্যা

- সাধারণত অ্যালকোহল বলতে মূলত ইথানল (C2H5OH) বোঝানো হয়, যা পানীয়, ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৮.
কোন সংকর ধাতুটিতে কপার (তামা) অনুপস্থিত?
  1. পিতল
  2. ব্রোঞ্জ
  3. ডুরালুমিন
  4. মরিচাবিহীন ইস্পাত
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু:
- কতকগুলো ধাতুকে একত্রে গলানোর পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 

• সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করাহয়। যেমন- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু।
- স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- সংকর ধাতু ডুরালুমিনে কপারের পরিমাণ 4% ।
- 21 ক্যারেট ও 22 ক্যারেট স্বর্ণে খাদ হিসেবে কপার ও অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ যথাক্রমে 8.33% ও 12.5% । 
- 24 ক্যারেট স্বর্ণে স্বর্ণের পরিমাণ 100% ।

সংকর ধাতু মরিচাবিহীন ইস্পাতে কপার অনুপস্থিত।
- এর উপাদান গুলো হলো লোহা, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল। অর্থাৎ এতে কপার বা অন্য কোনো খাদ থাকে না। 


তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৩৯.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) কতটি মৌল শনাক্ত করেছে?
  1. 112
  2. 108
  3. 118
  4. 120
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC)
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৩৪০.
স্টেইনলেস স্টিলে ব্যবহৃত হয়-
  1. লোহা + নিকেল + ক্রোমিয়াম
  2. লোহা + দস্তা + ক্রোমিয়াম
  3. লোহা + সিসা +অ্যালুমিনায়াম
  4. লোহা + সিসা + ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
• স্টেইনলেস স্টিলে ব্যবহৃত হয় লোহা(৭৪%) + নিকেল(৮%) + ক্রোমিয়াম(১৮%)

• সংকর ধাতু:

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪১.
কোনটি কৃত্রিম তন্তু?
  1. রেয়ন
  2. লিনেন
  3. রেশম
  4. অ্যাসবেস্টস
ব্যাখ্যা
আমাদের অতিপ্রয়োজনীয় তন্তু উৎস অনুযায়ী দুই রকম হয়।

প্রাকৃতিক তন্তু
সুতি কাপড় তৈরির জন্য তুলা (Cotton), পাট, লিনেন, রেশম, পশম, উল, সিল্ক, অ্যাসবেস্টস, ধাতব তন্তু ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, সেগুলোকে আমরা প্রাকৃতিক তন্তু বলি।

কৃত্রিম তন্তু
অন্যদিকে, পলিস্টার, রেয়ন, ডেক্রন, নাইলন ইত্যাদি যেগুলো বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়, সেগুলো হলো কৃত্রিম তন্তু।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
৩৪২.
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান কোনটি? 
  1. 6.023×10 - 23
  2. 602.3×1023
  3. 6.023×1023
  4. 60.23×10 - 23
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা: 
- অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023। 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৩.
সালফারের যোজনী কত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত সব সময় হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে HCl অণু গঠিত হয়, তাই ক্লোরিনের যোজনীও 1 (এক)। আবার অক্সিজেনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে H2O তৈরি করে, এজন্য অক্সিজেনের যোজনী 2 (দুই)। একটি Na পরমাণু একটি Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে NaCl গঠিত হয়। সুতরাং Na এর যোজনী 1 (এক)।
একটি পরমাণুর সাথে যতটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয় তার সেই সংখ্যার দ্বিগুণ করলে ঐ পরমাণুর যোজনী বা যোজ্যতা হয়। যেমন : ক্যালসিয়াম (Ca) এর একটি পরমাণু একটি অক্সিজেন (O) পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) তৈরি করে। এখানে অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যা 1 এই সংখ্যাকে 2 দ্বারা গুণ করলে হয় 2। কাজেই ক্যালসিয়ামের যোজনী 2 ।
কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3। সালফারের পরিবর্তনশীল যোজনী ২, ৪, ৬। 

কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী এবং সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলা হয়। যেমন: FeCl2 যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 2 কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3 অতএব FeCl2 যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 – 2 = 1। আবার FeCl, যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী ও কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3. অতএব FeCl, যৌগে Fe এর সপ্ত যোজনী 3 - 3=0 |

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
৩৪৪.
কোমল পানীয়তে কোনটি দ্রবীভূত থাকে?
  1. অক্সালিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. কার্বনিক এসিড
  4. ফলিক এসিড
ব্যাখ্যা
কোমল পানীয়:
- কোমল পানীয় হলো অ্যালকোহল মুক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা এবং কার্বনেটেড পানীয়।
- কোমল পানীয়তে কার্বনিক এসিড দ্রবীভূত থাকে।
- কোমল পানীয় পান করার সময় এ থেকে একটি গ্যাস বুদ বুদ আকারে বের হয়।
- এ গ্যাস হচ্ছে CO2 যা উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় দ্রবীভূত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন করে।
- কার্বনিক এসিড একটি মৃদু এসিড, যা পানিতে খুবই অল্প পরিমাণে বিয়োজিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে পরিপাকে সহায়তা করে।

CO2(g) + H2O → [H2CO3]

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
Stainless steel-এর কম্পোজিশনে steel ছাড়া আর কী উপাদান মিশ্রিত আছে?
  1. তামা
  2. নিকেল
  3. সোডিয়াম
  4. ভ্যানাডিয়াম
ব্যাখ্যা

• Stainless steel মূলত লোহা (iron) এবং কার্বনের মিশ্রণ, তবে এটিকে ক্ষয়রোধী এবং শক্তিশালী করতে অন্যান্য উপাদানও মিশ্রিত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিকেল। নিকেল stainless steel-এর ক্রমবর্ধমান জং প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নরম লৌহের তুলনায় দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। এছাড়া কিছু stainless steel-এ ক্রোমিয়ামও মিশ্রিত থাকে, যা পৃষ্ঠকে অক্সিডেশন থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, তামা, সোডিয়াম বা ভ্যানাডিয়াম সাধারণত stainless steel-এর প্রধান কম্পোজিশনে থাকে না। তাই প্রশ্নের চার অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো খ) নিকেল, যা steel-এর সঙ্গে মিশে এটি আরও টেকসই এবং জং-প্রতিরোধী করে।

• সংকর ধাতু:
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়।

যেমন-
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।
 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪৬.
আধান বা চার্জের একককে কী দিয়ে প্রকাশ করে?
  1. ক) C
  2. খ) A
  3. গ) V
  4. ঘ) Hz
ব্যাখ্যা
আধানের একককে কুলম্ব C এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের একককে এম্পিয়ার A দ্বারা প্রকাশ করা হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩৪৭.
সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে কিসের অ্যানোড ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট দন্ড অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। এবং লোহার বলয় ক্যাথোড রূপে কাজ করে।
৩৪৮.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. নমনীয়
  3. ভঙ্গুর
  4. অনুজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য বলতে এমন কিছু গুণ বোঝানো হয় যা বেশিরভাগ ধাতব পদার্থে দেখা যায়। 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- নমনীয়তা (Malleability) – চাপ প্রয়োগ করলে ধাতুকে পাত বা বিভিন্ন আকারে গড়া যায়।
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductivity) – ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে। (উদাহরণ: তামা, রূপা)
- উজ্জ্বলতা (Luster) – অধিকাংশ ধাতু চকচকে বা উজ্জ্বল হয়।
-  প্রসারণযোগ্যতা (Ductility) – ধাতুকে প্রসারিত করে তারে পরিণত করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।  
৩৪৯.
'ড্রাই আইস' (dry ice) হলো -
  1. কঠিন অবস্থায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কঠিন অবস্থায় সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে বরফ
  4. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কঠিন অবস্থা
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5° C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৩৫০.
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকে-
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে প্রায় ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাপ দিয়ে ঝিনুক বা শামুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করা হয়। তাপে ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে গিয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
৩৫১.
এয়ার কন্ডিশনারে শীতক হিসেবে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ক্লোরফ্লোর কার্বন
  2. খ) ফ্রেয়ন
  3. গ) নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

এসিতে ব্যবহার হওয়া গ্যাস রেফ্রিজারেন্ট নামে পরিচিত।
রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।

ফ্রেয়ন হচ্ছে - ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন।

এসি ছাড়াও রেফ্রিজারেটরেও শীতক হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।
রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী। একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে। এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫২.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে কী বলা হয়?
  1. কাপড় কাঁচার সোডা
  2. সাবান
  3. টেস্টিং সল্ট
  4. সৈন্ধব লবণ
ব্যাখ্যা
• উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে বলা হয় সাবান। 

• সাবান:
- উচ্চতর তৈল এসিডের (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড) সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণকে সাবান বলা হয়। 

• সাবানের ব্যবহার:
- সাবান সাধারণত কঠিন পদার্থ, তবে পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে এবং জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।  
- সাবান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ময়লা এবং গ্রিজ অপসারণে সহায়ক।

• এটি এক ধরনের জৈব অ্যাসিডের লবণ। সাবান তৈরির জন্য চর্বি বা তেলকে ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, যা Saponification নামে পরিচিত।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারিন তৈরি হয় এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষারের সাথে মিশে সাবান তৈরি করে।  

• বিক্রিয়াটি হলো:
 স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O

- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সাবানের রাসায়নিক নাম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৫৩.
কোনটি বিশুদ্ধ পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) অ্যালকোহল
  3. গ) গ্লিসারিন
  4. ঘ) খাবার লবণ
ব্যাখ্যা
- সোডিয়ামের যৌগ সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) স্বচ্ছ, বর্ণহীন কঠিন পদার্থ এবং পানিতে দ্রবণীয়।
- গ্লিসারিন পানি এবং অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হয়।
- অ্যালকোহল পানিতে দ্রবীভূত হয়।
- অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রকৃতিতে চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক ও অন্যান্য রূপে বিদ্যমান; যা বিশুদ্ধ পানিতে সম্পূর্ণভাবে অদ্রবণীয়

উৎস: chem.ncbi.nlm.nih.gov & Britannica Encyclopedia
৩৫৪.
সাইকেডেলিক পদার্থের পরিপ্রেক্ষিতে "LSD" এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Linear System Dynamics
  2. Light Sensitive Dye
  3. Lithium Sodium Dichloride
  4. Lysergic Acid Diethylamide
ব্যাখ্যা
• LSD:
- LSD এর পূর্ণ রূপ Lysergic Acid Diethylamide.
- টি একটি শক্তিশালী সাইকেডেলিক পদার্থ, যা ১৯৩৮ সালে সুইস বিজ্ঞানী আলবার্ট হফম্যান আবিষ্কার করেন।
- এটি মানসিক অবস্থায় গভীর পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং সচরাচর হ্যালুসিনেশন তৈরি করে।
- LSD মূলত মানসিক অভিজ্ঞতাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করে এবং ইন্দ্রিয়জনিত বিকৃতি ঘটায়।
- LSD কে "এসিড" নামেও ডাকা হয়।
- এটি একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হত।

সূত্র: National Institutes of Health
৩৫৫.
নিচের কোন গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. সিলভার ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) ।

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৭.
ঋণাত্নক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. ক্যাটায়ন
  2. অ্যানায়ন
  3. একক বন্ধন
  4. সমযোজী বন্ধন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন: 
- নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণের ফলে উৎপন্ন বিপরীতধর্মী আয়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও Cl- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৮.
সাদা ভিট্রিওল এর সংকেত কোনটি?
  1. CuSO4.5H2O
  2. ZnSO4.7H2O
  3. Na2CO3.10H2O
  4. CaSO42.H2O
ব্যাখ্যা
•সাদা ভিট্রিওলের সংকেত ZnSO4.7H2O।
- সাদা ভিট্রিওল একটি রাসায়নিক যৌগ।
- এটি একটি স্ফটিকাকৃত পদার্থ,
- যা প্রধানত কৃষি, ঔষধ, এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• CuSO4.5H2O - ব্লু ভিট্রিওল।
• Na2CO3.10H2O - কাপড় কাঁচা সোডা।
• (CaSO4)2.H2O - জিপসাম (প্ল্যাস্টার অব প্যারিস)।

সূত্র: রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩৫৯.
কোন মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ১৯?
  1. সোডিয়াম
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 19
ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 20
আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা 26
সোডিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১১

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
৩৬০.
সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় তেল বা চর্বির সাথে কোন পদার্থ বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড 
  3. সালফিউরিক অ্যাসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে, n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়, সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬১.
C13 এ নিউট্রন সংখ্যা কতটি? 
  1. 6 টি
  2. 7 টি
  3. 8 টি
  4. 12 টি
ব্যাখ্যা
কার্বনের ৩ টি আইসোটোপ: 
• C12 : 6টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন, 
• C13 : 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14 : 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন। 

কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৩৬২.
নিচের কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিজারক?
  1. Al
  2. Zn
  3. Fe
  4. Li
ব্যাখ্যা

লিথিয়াম (Li) একটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু, যা খুব সহজেই 1 ইলেকট্রন হারিয়ে Li⁺ আয়ন হয়ে যায়।

বিজারকঃ
বিজারক (Reducing agent) হলো এমন পদার্থ যা অন্যকে প্রতি‌-ধারক (oxidize) করতে সাহায্য করে, অর্থাৎ নিজে প্রতি‌-প্রাপ্ত (oxidized) হয়।
- শক্তিশালী বিজারকের ক্ষেত্রে ইলেকট্রন দানের ক্ষমতা বেশি থাকে।
- অন্য পদার্থের তুলনায়, Li এর প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং ইলেকট্রন দানের ক্ষমতা সর্বোচ্চ, তাই এটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিজারক।

- Aluminum (Al): মাঝারি শক্তির বিজারক, Li এর চেয়ে কম শক্তিশালী।
- Zinc (Zn): মাঝারি শক্তির বিজারক।
- Iron (Fe): কম শক্তিশালী বিজারক।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

৩৬৩.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. ক্লোরোফরম 
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. ভিনেগার 
ব্যাখ্যা

• রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

ক্লোরোফরম: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৪.
DDT এক ধরনের-
  1. কীটনাশক
  2. বিস্ফোরক
  3. ঔষধ
  4. টিকা
ব্যাখ্যা
• DDT:
- DDT এর পূর্ণরূপ হলো: DichloroDiphenylTrichloroethane
- এটি একটি প্রচলিত রাসায়নিক কীটনাশক, যা মূলত মশা, মাছি, পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হতো
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪০ সালে DDT আবিষ্কৃত হলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ কীটনাশক হিসেবে অজৈব ও উদ্ভিদজাত পদার্থ থেকে গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
৩৬৫.
উচ্চ ক্ষমতার এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা হয় কোন পদ্ধতির মাধ্যমে-
  1. ক) রেডিওথেরাপি
  2. খ) কেমোথেরাপি
  3. গ) এনজিওগ্রাম
  4. ঘ) এন্ডোসকপি
ব্যাখ্যা

রেডিও থেরাপি (Radio Therapy)
রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজি জধফরধঃরড়হ ঞযবৎধঢ়ু এর সংক্ষিপ্ত রূপ। রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল। এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে। দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।
DNA একটি কোষের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এটি সকল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে DNA ধ্বংস করলে কোষটি সাথে সাথেই ধ্বংস হয়। এক্ষেত্রে তেমন সময়ের প্রয়োজন হয় না। এজন্য যে সকল রোগীর ক্যান্সার নিরাময়ে বা সামান্য সময় পাওয়া যায় তাদের ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপিই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য।
রেডিও থেরাপিকালে রোগীর কিছু ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন রোগীর চুল পড়ে যায়, চামড়া ঝুলে যায়, মুখের ভিতরের অংশ ও গলা শুকিয়ে যায়, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা বদ হজমে দেখা দেয়। রোগী ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে। তাই রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় রোগীকে প্রতিবার একই জায়গায় একই অবস্থানে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। থেরাপি চলাকালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলা উচিৎ।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৬.
‘প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’- মতবাদটির প্রবক্তা?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৮০৩ সালে বিজ্ঞানী জন ডাল্টন বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পরমাণু সম্পর্কে এই মতবাদটি দেন-’ প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩৬৭.
আদর্শ তড়িৎ কোষের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গ্যালভানিক কোষ
  2. খ) ভোল্টার কোষ
  3. গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত-
  1. ক) 2:1
  2. খ) 1:1
  3. গ) 1:2
  4. ঘ) 2:2
ব্যাখ্যা
যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যা 2:1।
৩৬৯.
pH স্কেলের উদ্ভাবক কে?
  1. ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. আরহেনিয়াস
  4. সোরেনসেন
ব্যাখ্যা

• pH :
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে।
- 1909 সালে ড্যানিশ প্রাণ-রসায়নবিদ সোরেনসেন কোনো দ্রবণের H+ ও OH- আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশের জন্য pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH হলো Puissance d' Hydrogen অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়নের প্রাবল্য। 

• pH pOH এর মধ্যে সম্পর্ক-
pH + pOH = 14

• বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7 I অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে এবং ক্ষার যোগ করলে pH এর মান বাড়তে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭০.
অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে?
  1. জর্জেস
  2. ভ্যানহেলমন্ট
  3. যোসেফ প্রিন্টলি
  4. ক্যাভেন্ডিস
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন।
- অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক।

অন্যদিকে, 
- হেনরি ক্যাভেন্ডিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পৃথিবীর ভর নির্ধারণ এবং মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের গণনা।
- জ্যান ব্যাপটিস্ট ভ্যান হেলমন্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার অগ্রণী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, সাধারণত "willow tree experiment" হিসাবে পরিচিত। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে উদ্ভিদ প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মাটির চেয়ে মূলত পানি থেকে তাদের ভর অর্জন করে, উদ্ভিদের দেহতত্ত্ব এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানির ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।
- জর্জেস কুভিয়ার জীবাশ্মবিদ্যার বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য এবং জীবাশ্ম অধ্যয়নের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রজাতির বোঝার জন্য তার অবদানের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩৭১.
আধুনিক রসায়ন অনুসারে প্রকৃতিতে কতটি মৌলিক পদার্থ রয়েছে?
  1. ৮৮
  2. ৯০
  3. ৯২
  4. ৯৮
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- এই মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩৭২.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড
  2. খ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। 

- কার্বন মনোক্সাইড, এছাড়াও কার্বন মনোক্সাইড হিসাবে পরিচিত, একটি খুব শক্তিশালী আণবিক কাঠামো রয়েছে, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য জড় হয় এবং পানিতে দুর্বল দ্রবণীয়।
- এই কার্বন মনোক্সাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস, বর্ণহীন এবং বিস্বাদ, গন্ধহীন হয়। তার রাসায়নিক ফর্মুলা - সিও, এবং একটি একক অণুর ভর 28,01 গ্রাম / Mol হয়।
- কার্বন মনোক্সাইড যেমন অভ্যন্তরীণ জ্বলন ইঞ্জিন যেমন কার্বন, ধারণকারী পদার্থ আংশিক জ্বলন দ্বারা উত্পাদিত হয়।

কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
দুর্বলতা একটি অনুভূতি;
বমি বমি ভাব
মাথা ঘোরা
ক্লান্তি
বিরক্ত
দরিদ্র ক্ষুধা
মাথা ব্যাথা
disorientation
ঝাপসা দৃষ্টি
বমি
অজ্ঞান
খিঁচুনি

সূত্র: Centers of Disease Control and Prevention Website [লিঙ্ক]
৩৭৩.
ইলেকট্রন এর কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কে ধারনা দিতে পারেন নি?
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. মেন্ডেলিভ 
  3. বোর
  4. রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতির ধারণা রাদারফোর্ড দিতে পারেননি।
- পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার ইতিহাসে বিভিন্ন বিজ্ঞানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার, আকৃতি ও অবস্থান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাদারফোর্ডের মডেলে গুরুতর সীমাবদ্ধতা ছিল।
- তার অবদান থাকলেও এই দিকটি তার মডেলে অনুপস্থিত।

• রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল:
রাদারফোর্ড 1911 সালে স্বর্ণপাত (Gold Foil) পরীক্ষা পরিচালনা করে প্রমাণ করেন:
- পরমাণুর অধিকাংশ স্থান ফাঁপা এবং শূন্য।
- কেন্দ্রে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ঘন নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে গ্রহের মতো প্রদক্ষিণ করে।

• রাদারফোর্ডের বড় সীমাবদ্ধতা:
- তিনি ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকৃতি, আকার, শক্তিস্তর, ইলেকট্রনের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
- চলন্ত ইলেকট্রন ক্রমাগত শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, যা বাস্তবে ঘটে না।
- কক্ষপথের বিশেষ আকার (s, p, d, f), শক্তিস্তর, সম্ভাব্য অবস্থান ব্যাখ্যা ছিল অনুপস্থিত।
- ইলেকট্রন কেন ও কীভাবে স্থির থাকে তা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩৭৪.
কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. গ্লিসারিন
  2. ফিটকিরি
  3. সােডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা
• লবণ:
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৫.
সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. নিউক্লিয় ফিউশন
  2. ফটোইলেকট্রিক প্রক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৬.
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
  3. উচ্চ ঘনত্ব ও উজ্জ্বলতা বিশিষ্ট
  4. আঘাত করলে টুনটুন শব্দ করে
ব্যাখ্যা

 • অধাতুগুলোর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় এরা সাধারণত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে না (তবে কার্বনের রূপভেদ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে)।
- অন্যদিকে, উচ্চ গলনাঙ্ক-স্ফুটনাঙ্ক, উচ্চ ঘনত্ব, উজ্জ্বলতা এবং আঘাত করলে শব্দ হওয়া ধাতুর বৈশিষ্ট্য।

 • খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

অধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। 
- আঘাত করলে শব্দ হয় না। 
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়। 
- ঘষলে চকচক করে না। 
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই। 
- ওজনে হালকা হয়। 
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না। 
- পিটিয়ে পাত করা যায় না। 
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ। 
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট। 
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না। 
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩৭৭.
স্কোপোলামিন কোন উদ্ভিদ থেকে তৈরি করা হয়? 
  1. আফিম 
  2. ধুতুরা 
  3. গোলাপ 
  4. কাকডুমুর 
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

৩৭৮.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) জারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) সংযোজক
  4. ঘ) বিজারক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩৭৯.
যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে কী বলে?
  1. অ্যানায়ন
  2. ক্যাটায়ন
  3. নিউট্রন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। যথা:
১। তড়িৎ বিশ্লেষণ:
- কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋনাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।

২। তড়িৎ বিশ্লেষ্য:
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবণের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
-  সকল এসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, এসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। যেমন: H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়।
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলক -এ যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশি ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋনাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে।
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তবে তাতে ধনাত্মক চার্জের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়, এ কারণে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮০.
নিচের কোনটি মূলত সাবান?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  4. গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে।
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রধান উৎপাদ হিসাবে সাবান অর্থাৎ সোডিয়াম স্টিয়ারেট বা পটাশিয়াম স্টিয়ারেট পাওয়া যায় এবং উপজাত হিসাবে পাওয়া যায় গ্লিসারিন। 
- সাবান দুই ধরণের হতে পারে - প্রসাধনী সাবান এবং লন্ড্রি সাবান।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩৮১.
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে তুলনা করা হয় -
  1. সোলার প্যানেলের সাথে।
  2. লুনার মডেলের সাথে।
  3. বোর মডেলের সাথে।
  4. সৌর মডেলের সাথে।
ব্যাখ্যা

রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল: 
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড 1911 সালে α-কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা শেষে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল উপস্থাপন করেন। সেটি হলো- 

i. পরমাণুর দুটি অংশ একটি নিউক্লিয়াস এবং অপরটি নিউক্লিয়াসের বাইরের অংশ।
ii. পরমাণু প্রায় সমস্ত ভর পরমাণুর আয়তনের তুলনায় খুব সূক্ষ্ম স্থানে পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। পরমাণুর কেন্দ্রের এ সূক্ষ্ম অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। নিউক্লিয়াসের আকার গোলাকার এবং ব্যাস 10-12 10-13 cm এর মধ্যে।
iii. ভারী ধনাত্মক আধান যুক্ত কণা প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত নগণ্য। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে।
iv. পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। পরমাণুতে ধনাত্মক আধান যুক্ত প্রোটনের সংখ্যা ও ঋণাত্মক আধান যুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। একটি প্রোটন যে পরিমাণ ধনাত্মক আধান বহন করে, একটি ইলেকট্রন ঠিক ঐ একই পরিমাণ ঋণাত্মক আধান বহন করে।
v. নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতগতিতে আবর্তন করে।

রাদারফোর্ড পরমাণুর মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করা হয়। কারণ-
- রাদারফোর্ড তাঁর পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষ পথে বিভিন্ন গ্রহগুলো যেভাবে পরিভ্রমণ করে ঠিক একইভাবে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষপথে তীব্র বেগে পরিভ্রমণ করে।
- তাঁর ধারণা মতে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের মধ্যে বিদ্যমান স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং অপরটি ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল।
- এ দুই প্রকার বলের মান পরস্পর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী।
- তাই বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করেন।

তথ্যসূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৮২.
অ্যালকেন সমগোত্রীয় শ্রেণির সাধারণ সংকেত কী? 
  1. CnH2n+1
  2. CnH2n
  3. CnH2n-2
  4. CnH2n+2
ব্যাখ্যা
সমগোত্রীয় শ্রেণি (Homologous): 
- যে সকল যৌগের কার্যকরীমূলক একই হওয়ায় তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের গভীর মিল থাকে তারা একই শ্রেণিভুক্ত, এদেরকে সমগোত্রীয় শ্রেণি বলে।
- একই সমগোত্রীয় শ্রেণির সকল সদস্যকে একটি সাধারণ সংকেত দিয়ে প্রকাশ করা যায়। 
যেমন- অ্যালকেন সমগোত্রীয় শ্রেণির সকল যৌগকে CnH2n+2 সংকেত দিয়ে প্রকাশ করা যেতে পারে। 
- নিচে বিভিন্ন সমগোত্রীয় শ্রেণির উদাহরণ দেওয়া হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৩.
পর্যায় সারণিতে নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত নয় কোনটি?
  1. He
  2. Ar
  3. Kr
  4. Br
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিলো।
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন- ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।  
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

নিষ্ক্রিয় মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ তে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ অবস্থান করে। 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) এ ছয়টি পর্যায় সারণির 18তম গ্রুপের মৌল। 
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি। 
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়। 
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
পটাশ অ্যালামে কত অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে? 
  1. 12
  2. 18
  3. 24
  4. 30
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৫.
CH4(g) + 2O2(g) →  CO2 (g) + 2H2O(g) বিক্রিয়াটি কোন ধরণের?
  1. দহন
  2. পলিমারকরণ
  3. বিয়োজন
  4. প্রতিস্থাপন
ব্যাখ্যা
• দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
-  কোনো মৌলকে বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে।
দহন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন এর আদান-প্রদান ঘটে। যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়ায় করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে , এটি দহন বিক্রিয়ার ফলে ঘটে। 

• দহন বিক্রিয়ার উদাহরণ:
CH4(g) + 202(g) →  CO2 (g) + 2H2O(g) + তাপ

• দহন বিক্রিয়া জারন-বিজারন বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৩৮৬.
জিংক এর খনিজ উৎস কোনটি?
  1. গ্যালেনা
  2. ক্যালামাইন
  3. বক্সাইট
  4. সিন্নাবার
ব্যাখ্যা
• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।

• খনিজ সম্পদ:

- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৭.
অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর কত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৩২
  3. গ) ১৬
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের আণবিক ভর হল 32 একক।
- অক্সিজেনের রাসায়নিক সংকেত O2
- এতে ২টি পরমাণু উপস্থিত রয়েছে।
সুতরাং, অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১৬।

উৎস
: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৮.
হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না?
  1. ট্রাইটিয়াম
  2. ডিউটেরিয়াম
  3. প্রোটিয়াম
  4. কুইন্টিয়াম
ব্যাখ্যা

• কুইন্টিয়াম - প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। 

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৯.
কত ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ৯১°
  2. ১০০°
  3. ৯৭°
  4. ৯৫°
ব্যাখ্যা

গলনাংক:
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে।
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়।
- পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়?
- অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস।

স্ফুটনাংক:
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯০.
জৈব যৌগসমূহ সাধারণত কোন বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়?
  1. ক) আয়নিক
  2. খ) ধাতব
  3. গ) সন্নিবেশ
  4. ঘ) সমযোজী
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।
- অজৈব যৌগ: পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি।
-জৈব যৌগ: মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯১.
আইপিএস চালানোর জন্য এবং গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. ফসফরিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH₄)₂SO₄] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH₄)₃PO₄]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO₃), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৩৯২.
উত্তম জারক পদার্থ হচ্ছে -
  1. O3
  2. H2
  3. H2O
  4. Na
ব্যাখ্যা
- জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।
জারক মনে রাখার উপায়:- সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড, ক্যাটায়ন, ইক্ লবণ, অক্সিজেন, ওজোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক।
FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।
বিজারক মনে রাখার উপায়:- সকল আস্ লবণ, ধাতু, C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।
তাছাড়া H2O2, SO2 , O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
O3 হচ্ছে উত্তম জারক পদার্থ। 

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন (২য় পত্র) বোর্ড বই ও মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৩.
এসিড বৃষ্টির ক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান কত হয়?
  1. ৭ এর কম কিন্তু ৬ এর বেশি
  2. ৫.৬ এর কম
  3. ৩.৫ এর কম
  4. ২.৬ এর কম
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান ৫.৬ এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- এসিড বৃষ্টির কারণ হলো মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া।
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান ৫.৬ থেকে ৩.৫ এর মধ্যে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৯৪.
আলট্রাভায়োলেট রশ্মি কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) ব্লাড ক্যান্সার
  2. খ) চর্ম ক্যান্সার
  3. গ) ব্রেন ক্যান্সার
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা

মানুষ তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশন, এ্যারোসল ব্যবহার করে থাকে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এসমস্ত যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
এসমস্ত যন্ত্র থেকে ক্লোরো ফ্লরো কার্বন (CFC) গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংসের সহায়ক।
জানা গেছে CFC-র ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ওজোন স্তরে ছিদ্র দেখা দিয়েছে।
ওজোন স্তরে ছিদ্রের সৃষ্টি হলে সূর্য থেকে ক্ষতিকর অতিবেগুনীরশ্মি পৃথিবীতে চলে আসবে, যা ত্বক ক্যান্সারসহ অন্যান্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৩৯৫.
একটি যৌগে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. নিউট্রনের সংখ্যা
  2. পারমাণবিক ব্যাসার্ধ
  3. অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা
  4. ঐ মৌলের ভর সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৬.
ফস-চেক কি কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. আগুন নেভানো
  2. আগুন জ্বালানো
  3. পানি উঠানো
  4. বালি উঠানো
ব্যাখ্যা
ফস-চেক: 
- ফস-চেক আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হয়
- এটি উজ্জ্বল গোলাপি রঙের পাউডার জাতীয় পদার্থ।
- এটি এক ধরনের গুঁড়া অগ্নিপ্রতিরোধক, এটি পেরিমিটার নামের একটি কোম্পানি এটা বিক্রি করে।

উল্লেখ্য, 
- আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফস-চেকের ব্যবহার হয়ে আসছে। 
- ফস-চেকে রঙের ব্যবহার সম্পর্কে পেরিমিটার জানায়, এর লাল-গোলাপি রং বৈমানিক ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী উভয়ের জন্য দৃশ্যমান থাকে, তাই সহজে তারা এটা দেখতে পান।
- যেসব এলাকায় আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে এটি ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে বিশাল এলাকাজুড়ে আকাশ থেকে এই রঙিন গুঁড়া ছিটানো হয়েছে। 

উৎস: বিবিসি এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।
৩৯৭.
কোন ধাতু তরল অবস্থায় থাকে?
  1. ক) Au
  2. খ) Hg
  3. গ) Cu
  4. ঘ) Na
ব্যাখ্যা
- পারদ (Hg) একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০। 
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস। 
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 

 অন্যদিকে, 
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। 
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৮.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান ব্যবহার কোনটি?
  1. পরিবহন মাধ্যম হিসেবে
  2. রাসায়নিক গবেষণায়
  3. শিল্প কাঁচামাল হিসেবে
  4. রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বহু ব্যবহার আছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে, বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- এছাড়াও গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 

- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির এই উৎসসমূহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, ফলে শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। 
- তাই পরিবেশ বান্ধব নবায়যোগ্য শক্তির যেমন- সৌরশক্তি, পানি প্রবাহ থেকে প্রাপ্ত শক্তি, জোয়ার-ভাটা শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োমাস ইত্যাদি ব্যপকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ উৎসগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের উপর নির্ভরশীল। তাই যতদিন পৃথিবী সূর্যের আলো পেতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত এ সকল উৎস থেকে শক্তির সরবরাহ সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৯.
নিম্নের কোনটি একটি অম্লধর্মী অক্সাইড? 
  1. ZnO
  2. CO2
  3. CaO
  4. H2O
ব্যাখ্যা
অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০০.
নিচের কোন অণুটি এক পরমাণুবিশিষ্ট?
  1. হাইড্রোজেন
  2. ক্লোরিন
  3. হিলিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

- মৌলিক গ্যাসের অণুসমূহ দ্বিপরমাণুক। যেমন- হাইড্রোজেন, ক্লোরিন, অক্সিজেন ইত্যাদি।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অণুসমূহ এক পরমাণুবিশিষ্ট। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ইত্যাদি।
- ফসফরাস এর অণু হলো চার পরমাণুবিশিষ্ট।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি