বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা৭৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২৭ / ২৭ · ২,৬০১২,৬৭৫ / ২,৬৯২

২,৬০১.
কোন ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বাধিক পরিমানে ব্যবহৃত হয়?
  1. শিল্পখাতে
  2. গৃহস্থালী কাজে
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  4. ক্যাপটিভ পাওয়ারে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
দেশের মোট ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪৩.২৮ ভাগ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিম্নরুপঃ
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪৩.২৮ ভাগ

- সার উৎপাদনে ৫.৪৮ ভাগ,
- শিল্পখাতে ১৫.৭৯ ভাগ,
- গৃহস্থালী কাজে ১৫.২৫ এবং
- ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৫.১১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

(সূত্র: পরিসংখ্যান পকেটবুক-২০১৯)
২,৬০২.
কোন কোন সংকর ধাতুর মিশ্রণে বৈদ্যুতিক ফিউজ তার তৈরি হয়? 
  1. তামা ও সীসা
  2. টিন ও সীসা
  3. নিকেল ও টিন
  4. তামা ও নিকেল
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক ফিউজ তার: 
- তড়িৎ যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। 
- অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। 
- এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বর্তনীতে এক ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা হলো ফিউজ তার ব্যবহার করা। 
- ফিউজ সাধারণত টিন ও সীসার একটি সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। 
- এটি একটি চিনামাটির কাঠামোর উপর দিয়ে আটকানো থাকে। 
- এই তারটি সরু এবং গলনাঙ্ক কম। 
- এই তারের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। 
- ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬০৩.
ড্রাই সেল হলো-
  1. ক) শুকনো কোষ
  2. খ) এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ
  3. গ) কোষাগার
  4. ঘ) এক ধরনের ইলেকট্রোডস
ব্যাখ্যা
ড্রাই সেল এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। আমরা সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করি৷
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২,৬০৪.
লেন্টিকুলার প্রস্বেদন উদ্ভিদের কোন অংশে হয়?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয়বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- উদ্ভিদ তার মূল দিয়ে মাটি হতে পানি শোষণ করে থাকে এবং এ পানিই কান্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গে স্থানান্তরিত হয়। কা
- উদ্ভিদের অভ্যন্তরস্থ পানি বাষ্প হয়ে সাধারণত তিনটি পথে বায়ুমন্ডলে নির্গত হয়। এ তিনটি পথই হচ্ছে প্রস্বেদন অঙ্গ। যথা-

• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে যে প্রস্বেদন হয়, তাকে বলে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন।
- কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ হয়ে থাকে পত্ররন্ধ্র দিয়ে। 

• কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- কিউটিক্লের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন হয় বলে একে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।

• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- পরিণত উদ্ভিদ কান্ডে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে স্থানে স্থানে ত্বক ফেটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রের সৃষ্টি হয়।
- এ ছিদ্রকে বলা হয় লেন্টিসেল।
- উদ্ভিদের কিছু পরিমাণ প্রস্বেদন লেন্টিসেলের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে সংঘটিত প্রস্বেদনকে বলা হয় লেন্টিকুলার প্রস্বেদন

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৫.
অ্যামোনিয়ার একটি অণুতে কয়টি পরমাণু থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অ্যামোনিয়া হলো নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাসায়নিক যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত NH3.
অর্থাৎ, এর একটি অণুতে একটি নাইট্রোজেন ও তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। 
সুতরাং, মোট চারটি পরমাণু রয়েছে।
২,৬০৬.
নিচের সংকেতটিতে মৌলের -
  1. প্রোটন সংখ্যা 13
  2. ভর সংখ্যা 27
  3. নিউট্রন সংখ্যা 14
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংকেতটিতে মৌলের 
প্রোটন সংখ্যা
= ইলেকট্রন সংখ্যা
= পারমানবিক সংখ্যা
= 13

ভর সংখ্যা
= পারমানবিক ভর
= 27

নিউট্রন সংখ্যা
= ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা
= 27 - 13
= 14
২,৬০৭.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. NaOH
  2. KOH
  3. ZnO
  4. KNO3
ব্যাখ্যা
• লবণ হলো অম্ল (Acid) ও ক্ষার (Base) এর মধ্যে নিরপেক্ষীকরণ বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন যৌগ।

• KNO3(পটাশিয়াম নাইট্রেট):
- এটি একটি প্রকৃত লবণ।
- এটি নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) এবং পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) এর নিরপেক্ষীকরণ বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।

HNO₃ + KOH → KNO₃ + H₂O

অন্যদিকে,
• NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড):
এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার।
লবণ নয়, কারণ এটি অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করে।
NaOH + HCl → NaCl + H₂O (এখানে NaCl লবণ)

• KOH (পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড):
এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার।
লবণ নয়, তবে এটি অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করতে পারে।
KOH + HNO₃ → KNO₃ + H₂O (এখানে KNO₃ লবণ)

• ZnO (দস্তা অক্সাইড):
- এটি একটি উভধর্মী অক্সাইড, যা অম্ল এবং ক্ষার উভয়ের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।
- এটি লবণ নয়, তবে লবণ তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৬০৮.
যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে? 
  1. যৌগিক পদার্থ
  2. মৌলিক পদার্থ
  3. বহুমৌলিক পদার্থ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়ার যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, কার্বন, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রূপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ। 

যৌগিক পদার্থ: 
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে যা যৌগিক পদার্থ নামে পরিচিত। 
অর্থাৎ, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৬০৯.
নিচের কোনটিতে কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও তা জৈব যৌগ নয়?
  1. গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড
  2. এবসোলিউট এলকোহল
  3. ব্লু ভিট্রিওল
  4. খাবার সোডা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন, অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যামিনো এসিড, কার্বক্সিলিক এসিড প্রভৃতি হলো জৈব যৌগ। এজন্য গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড, এবসোলিউট এলকোহল হলো জৈব যৌগ।
- ব্লু ভিট্রিওল হলো ৫ অণু পানি বিশিষ্ট কপার(II) সালফেট কেলাস। এটি জৈব যৌগ নয় এবং এতে কোনো কার্বন পরমাণুও নেই।
- খাবার সোডা হলো সোডিয়াম বাই কার্বনেট। এতে কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও এটি জৈব যৌগ নয়। এটি একটি অজৈব যৌগ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৬১০.
নিচের কোনটি অ্যারোমেটিক যৌগ?
  1. ইথাইন
  2. ফরমালিন
  3. মাস্টার্ড গ্যাস
  4. এসিট্যামিনোফেন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যেসকল চাক্রিক যৌগে সঞ্চারণশীল পাই ইলেক্ট্রন আছে তাদেরকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে। এদের অণুতে সাধারণত বেনজিন বলয় এবং একান্তর দ্বি-বন্ধন বিদ্যমান থাকে।
- ইথাইন, ফরমালিন ইত্যাদি কোনো চাক্রিক যৌগ নয়। এরা অ্যালিফ্যাটিক জৈব যৌগ।
- মাস্টার্ড গ্যাস বা সালফার মাস্টার্ড ত্বক এবং ফুসফুসে তীব্র প্রদাহ ও জ্বালা সৃষ্টিকারী একটি গ্যাস। এটি প্রথম ব্যবহার হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। এর গঠন হলো:

এখানে কোন বেনজিন বলয় বা একান্তর দ্বি-বন্ধন নেই। তাই এটি অ্যারোমেটিক যৌগ নয়।
- প্যারাসিটামল এর রাসায়নিক নাম হলো এসিট্যামিনোফেন। এই চাক্রিক যৌগে বেনজিন বলয় এবং একান্তর দ্বি-বন্ধন বিদ্যমান। তাই এটি অ্যারোমেটিক জৈব যৌগ। এর গঠন হলো-

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৬১১.
ভিনেগারে থাকে -
  1. ট্যানিক এসিড
  2. ইথানয়িক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ল্যাকটিক এসিড
ব্যাখ্যা
আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার গ্রহণ করে থাকি তার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের এসিড থাকে।
যেমন-
• ভিনেগারে থাকে ইথানয়িক এসিড,
• দুধে থাকে ল্যাকটিক এসিড,
• সফট ড্রিংকসে থাকে কার্বনিক এসিড,
• কমলালেবু বা লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড,
• তেতুলে থাকে টারটারিক এসিড,
• চায়ে থাকে ট্যানিক এসিড।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২,৬১২.
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ কোনটি? 
  1. HCl
  2. Na2CO3
  3. KMnO4
  4. H2SO4
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়, বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের জলীয় বাষ্প বা কোনো উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে না, ওজনকালে রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় করে না এবং উৎপন্ন দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, সেসব পদার্থকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- Na2CO3, H2C2O4.2H2O, K2Cr2O7

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- প্রাইমারি পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনো বৈশিষ্ট্যের অভাব ঘটলে সে সব রাসায়নিক পদার্থকে সেকেন্ডারি পদার্থ বলে। 
যেমন- গাঢ় H2SO4, HCl এসিড, NaOH ট্যাবলেট, KMnO4

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,৬১৩.
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?
  1. ৭৯.০২%
  2. ৭৫.০২%
  3. ৮১.০২%
  4. ৭৮.০২%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের উপাদান (Elements of Atmosphere ):
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং
- অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমন্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত।
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমন্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমন্ডল (Heterosphere) বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৪.
What substance is commonly formed during a combustion reaction?
  1. Carbon dioxide
  2. Sodium chloride
  3. Argon gas
  4. Nitrogen gas
  5. All of the above
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া, 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি।

দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- সালফারকে বায়ুতে পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ালে মিথেনের উপাদান মৌল কার্বন পরিবর্তিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পরিবর্তিত হয়ে উহার অক্সাইড পানি উৎপন্ন করে। এ দহন বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ রান্নাসহ অন্যান্য কাজ বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৫.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. গ্যালভানাইজিং
  2. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  3. অ্যানিলিং
  4. পেইন্টিং
ব্যাখ্যা

• অ্যানিলিং (Annealing) হলো ধাতুর তাপীয় চিকিৎসা বা হিট ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ধাতুকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করা হয় যাতে এর নমনীয়তা বাড়ে এবং অভ্যন্তরীণ চাপ কমে। এটি ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
- ধাতুর ক্ষয়রোধ করার জন্য সাধারণত ধাতুর ওপর প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এটি বিভিন্নভাবে করা যায়,
- যেমন:
(i) রং করে
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।
- লোহার তৈরি দরজা-জানালা রং করা হয় যেন লোহা বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে।

- আমরা জানি কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না।
- কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়।
যথা-
- ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
- গ্যালভানাইজিং।

উৎস: রসায়ন, নবম- দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

২,৬১৬.
রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের একক কোনটি?
  1. ক) গ্রাম
  2. খ) কিলোগ্রাম
  3. গ) মোল
  4. ঘ) লিটার
ব্যাখ্যা
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়।
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৭.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. পটাস
  2. লৌহ
  3. নিকেল
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন-  
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ: 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ: 
- রাসায়নিক খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ: 
- কঠিন, যথা- কয়লা। 
- তরল, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয়, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
২,৬১৮.
নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আয়রন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৯.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
  1. 4K
  2. 277K
  3. 273K
  4. 286K
ব্যাখ্যা
পানি(H2O):
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে ৪° সেলসিয়াস বা ২৭৭ কেলভিন তাপমাত্রায়।
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে,সেটা হচ্ছে বরফের গলনাংক।
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হওয়া শুর করে, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬২০.
পর্যায় সারণির গ্রুপ–11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক্ষার ধাতু
  2. মৃৎক্ষার ধাতু
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির গ্রুপ–১১ তে অবস্থিত মৌলগুলো (যেমন: কপার, সিলভার ও গোল্ড) প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো, এ কারণে আধুনিক পর্যায় সারণিতে এই গ্রুপের মৌলগুলোকে মুদ্রা ধাতু (Coinage Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

• হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ–17 এর মৌলগুলোকে (যেমন: F, Cl, Br, I) হ্যালোজেন বা লবণ উৎপাদনকারী বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬২১.
বাংলাদেশের পানীয় জলে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা হলো-
  1. ০.০৬ পিপিএম
  2. ০.০১ পিপিএম
  3. ০.০৫ পিপিএম
  4. ০.০৯ পিপিএম
ব্যাখ্যা
আর্সেনিকের নিরাপদ মাত্রা: 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম। 
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। 
- বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ০.০৫ পিপিএম বা মিলিগ্রাম/ লিটার। 
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা। 

উৎস: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
২,৬২২.
বিস্ফোরক ‘TNT’ এর অর্থ কি?
  1. ক) Trinitrozentoluene
  2. খ) Trinitrotoluene
  3. গ) Tetranitrotoluene
  4. ঘ) Tetranitrozentoluene
ব্যাখ্যা

‘TNT’ এর পূর্ণরূপ Trinitrotoluene,
সূত্রঃ ব্রিটানিকা

২,৬২৩.
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করে, তাকে কী বলে? 
  1. Evolution
  2. Fossilogy
  3. Paleobotany
  4. Anthropology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- Paleobotany হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়, এটি জীবাশ্মবিদ্যার (Paleontology) একটি উপশাখা। 

অন্যদিকে 
- Evolution হলো জীবের ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করে। 
- Fossilogy শব্দটি বিজ্ঞানে প্রচলিত বা স্বীকৃত কোনো শাখা নয়। 
- Anthropology হলো মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।
২,৬২৪.
বরফ গলে পানি হওয়াকে কী ধরনের পরিবর্তন বলা হয়?
  1. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন
  2. সাময়িক পরিবর্তন
  3. ভৌত পরিবর্তন
  4. রাসায়নিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
• বরফ গলে পানি হওয়া, 
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• লোহায় মরিচা ধরা, 
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬২৫.
মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে কোন মৌল সাহায্য করে?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) জিংক
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে মৌল সাহায্য করে।
- মাটিতে নাইট্রোজেন (N) এর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় রাইজোবিয়াম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- মাটিতে নাইটোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ ইত্যাদি বায়ুবীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন।
- বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে নাইট্রোজেন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৬.
নিচের কোন গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. H2
  2. N2
  3. O2
  4. CO2
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO2 বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO2 উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৭.
ইস্পাতে কার্বনের পরিমান কত শতাংশ?
  1. ১.০%
  2. ১০.০%
  3. ৫%
  4. ১২%
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 

নিচে কতকগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার দেওয়া হলো- 

• ইস্পাত: 
- লোহা ৯৯% এবং কার্বন ১%। 
- ব্যবহার: যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, ছুরি, কাচি, কৃষি যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। 

• মরিচাবিহীন ইস্পাত:
- লোহা ৭৪%, ক্রোমিয়াম ১৮%, নিকেল ৮%। 
- ব্যবহার: যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন, ছুরি, কাচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। 

• পিতল (ব্রাস):
- কপার ৬৫%, জিংক ৩৫%। 
- ব্যবহার: অলংকার, বৈদ্যুতিক সুইচ, দরজার হাতল, পাতিল, ইত্যাদি। 

• কাসা (ব্রোঞ্জ): 
- কপার ৯০%, টিন ১০%। 
- ব্যবহার: যন্ত্রাংশ, থালা, তৈজসপত্র ইত্যাদি। 

• ডুরালুমিন: 
- অ্যালুমিনিয়াম ৯৫%, কপার ৪%। 
- ডুরালুমিন, ম্যাগনেসিয়াম,ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা ১%। 
- ব্যবহার: উড়োজাহাজের কাঠামো (বডি), বাই সাইকেলের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। 

• স্বর্ণ: 
- ২৪ ক্যারেট = ১০০% স্বর্ণ। 
- ২২ ক্যারেট = ৯১.৬৭% স্বর্ণ ও ৮.৩৩% কপারসহ অন্যান্য ধাতু। 
- ২১ ক্যারেট = ৮৭.৫% স্বর্ণ ও ১২.৫% কপারসহ অন্যান্য ধাতু। 
- ব্যবহার: অলংকার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৮.
যে তিনটি মুখ্য বর্ণের সমন্বয়ে অন্যান্য বর্ণ সৃষ্টি করা যায় সেগুলো হলো-
  1. ক) লাল, হলুদ, নীল
  2. খ) লাল, কমলা, বেগুনী
  3. গ) হলুদ, সবুজ, নীল
  4. ঘ) লাল, নীল, সবুজ
ব্যাখ্যা
তিনটি মৌলিক রং হচ্ছে লাল, নীল, সবুজ
এই ৩টি রং এর সমন্বয়ে বাকী রং গুলো তৈরি করা যায়।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
২,৬২৯.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কী বলা হয়?
  1. বিজারক
  2. জারক
  3. ক্ষারক
  4. জারিত
ব্যাখ্যা
• বিজারক:
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান/ত্যাগ করে সেগুলোকে বিজারক বলে।
- ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
- বিজারক - সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

• জারক:
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
- ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
- জারক - অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

• ক্ষারক:
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৩০.
কৃষি জমিতে প্রধানত চুন ব্যবহার করার কারণ কোনটি?
  1. ক) ক্ষারধর্মী মাটির pH কমানো
  2. খ) অম্লধর্মী মাটির pH বাড়ানো
  3. গ) ক্ষারধর্মী মাটির pH বাড়ানো
  4. ঘ) অম্লধর্মী মাটির pH কমানো
ব্যাখ্যা
অম্লধর্মী মাটির pH বাড়াতে চুন এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতির কার্বনেট ব্যবহৃত হয়।
এখানে pH বাড়ানোর অর্থই হচ্ছে মাটির অম্লতা হ্রাস করা।

উৎসঃ রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী স্যার ও নাগ স্যার।
২,৬৩১.
গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে কোন প্রক্রিয়া ঘটে?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) নিঃসরণ
  3. গ) অভিস্রবণ
  4. ঘ) প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- এ প্রক্রিয়াকে অনুব্যাপন প্রক্রিয়াও বলা হয়ে থাকে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৬৩২.
পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) লর্ড রাদারফোর্ড
  3. গ) জে. জে. থমসন
  4. ঘ) গোল্ডস্টাইন
ব্যাখ্যা

- পরমাণু আবিষ্কার করেন ডেমোক্রিটাস
- পরমাণুর প্রোটন, নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন লর্ড রাদারফোর্ড।
- পরমাণুর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে. জে. থমসন
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান নিউট্রন আবিষ্কার করেন চ্যাডউইক।

২,৬৩৩.
সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনটি ঘটে না?
  1. গ্যাসের উৎপাদন
  2. তাপের উৎপাদন
  3. পারমাণবিক ভাঙন
  4. বর্ণ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• রসায়নিক বিক্রিয়া: এটি এমন প্রক্রিয়া যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস পরিবর্তিত হয়, নতুন পদার্থ গঠিত হয়, কিন্তু পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন ও নিউট্রন) অপরিবর্তিত থাকে।

সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ার সময় দেখা যায়:
- গ্যাসের উৎপাদন: যেমন সোডিয়াম বায়ারাইটের সাথে পানি প্রতিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস নিঃসৃত হয়।
- তাপের উৎপাদন: যেমন লৌহের জ্বালানি অগ্নিসংযোগে তাপ নিঃসৃত হয়।
- বর্ণ পরিবর্তন: যেমন আয়রনকে অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়ায় লাল মরিচা তৈরি হয়।

• পারমাণবিক ভাঙন (Nuclear fission): এটি কেবল পারমাণবিক বিক্রিয়ায় ঘটে, যেখানে নিউক্লিয়াস ভাঙে এবং প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ার অংশ নয়।

সুতরাং, সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ায় পারমাণবিক ভাঙন ঘটে না।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন। 

২,৬৩৪.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ১.২৫ - ২.৫%
  2. ১০- ১২.৫%
  3. ৫.৫ - ৬.৪৫%
  4. ০.২৫ - ১.৫%
ব্যাখ্যা
• ইস্পাত বা স্টিল এর গুণাগুণ: 
- কার্বনের পরিমাণ: ০.২৫ - ১.৫%।
- গঠনাকৃতি : স্ফটিকাকার।
- নমনীয়তা ও ঘাতসহতা উভয় ধর্ম বিদ্যমান তবে পেটা লোহার থেকে কম।
- চুম্বক ধর্ম: চুম্বকে পরিণত করা যায়।
- গলনাংক: ১৩০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস.।
- কাঠিন্য: কঠিন, ভঙ্গুরও নয় আবার নরমও নয়।

ব্যবহার: 
কোনো দেশ কতটা উন্নত তা সে দেশের ইস্পাতের ব্যবহার দেখে আন্দাজ করা যায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো-
- গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করতে।
- শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি নির্মাণে।
- যানবাহন, যেমন- গাড়ি, প্লেন, জাহাজ, রেললাইন, ইত্যাদি নির্মাণে।
- ডাক্তারী ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে।

উল্লেখ্য, ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ ২.৫% ও পেটা লোহায় কার্বনের পরিমাণ ০.১২ - ০.২৫%। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৩৫.
নিচের কোনটি 'স্ল্যাক লাইম' নামে পরিচিত?
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
চুনের পানি বা ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে বলা হয় স্ল্যাক লাইম।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,৬৩৬.
বিরঞ্জক হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম কার্বনেট
  2. ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
  3. সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ব্লিচ বা বিরঞ্জক: 
- কাপড়ে কোন দাগ লেগে গেলে অনেক সময় সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে তা দূর করা যায় না। এক্ষেত্রে বিরঞ্জন ক্রিয়ার মাধ্যমে তা দূর করা যায়। 
- যে রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে বিরঞ্জন করা হয় তাকে বিরঞ্জক বা ব্লিচ বলা হয়। 
- বিরঞ্জক হিসেবে ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট ব্যবহৃত হয়। 
- সবচেয়ে পরিচিত ব্লিচ হল ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)Cl] । 
- 40° সে. তাপমাত্রায় Ca(OH)2 এর ভিতর দিয়ে Cl2 গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার (ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট) উৎপন্ন হয়। 
  Ca(OH)2 + Cl2 → [Ca(OCl)Cl] + H2O  

ব্লিচিং পাউডারের দাগ উঠানোর কৌশল: 
- ব্লিচিং পাউডার, CO2 ও পানির সাথে বিক্রিয়ায় হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপন্ন করে। 
- উৎপন্ন হাইপোক্লোরাস এসিড তাৎক্ষণিক বিয়োজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- এই জায়মান অক্সিজেনের জারণ ক্রিয়ায় কাপড়ের দাগ দূর হয়। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৩৭.
নিচের কোনটি বারুদ ও দেয়াশলাই তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কপার
  2. খ) জিঙ্ক
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
সালফার: প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় 
- একে খনি থেকে উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত না করেই ব্যবহার করা যায়।
- সাধারণত মাটির গভীরে সালফারের খনি অবস্থান করে। 

সালফারের ব্যবহার
-সালফারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
-রসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিড উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে সালফার ব্যবহার করা হয়।
-তাছাড়া বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগসহ বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৬৩৮.
অকটেনের সংকেত -
  1. C8H16
  2. C8H14
  3. C8H18
  4. C8H20
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়। 
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণূ দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2। 
- অকটেন একটি অ্যালকেন, যেখানে ১টি পরমাণুতে ৮ টি কার্বন থাকে।
- অকটেনের সংকেত C8H18

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অন্যদিকে, 
CnH2n  হচ্ছে অ্যালকিনের সাধারণ সংকেত।
CnH2n - 2 হচ্ছে অ্যালকাইনের সাধারণ সংকেত। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৩৯.
গ্লিসারিন মিশ্রনের অপর নাম কী?
  1. ক) স্পেন্ট লাই
  2. খ) স্পিরিট অব লাইম
  3. গ) ক্লোরোপিক্রিন
  4. ঘ) সোডিয়াম এসিটেট
ব্যাখ্যা
- তেল বা চর্বির সাথে সােডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়।
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে।
- সাবান উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারল (গ্লিসারিন) পাওয়া যায়।
- তেল ও চর্বি অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত।
- স্নেহ পদার্থ পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
- গ্লিসারিন মিশ্রনের অপর নাম স্পেন্ট লাই।
- 'স্পেন্ট লাই' এর মধ্যে ৩ -৫% গ্লিসারিন থাকে।

- সােডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং
- পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK। 

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়নবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
২,৬৪০.
আমলকি ফলে কোন এসিড বিদ্যমান? 
  1. অক্সালিক এসিড
  2. এসকরবিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ল্যাকটিক এসিড 
ব্যাখ্যা

• আমলকি হলো ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অন্যতম প্রধান উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।

• এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- আমলকীতে পেয়ারার তুলনায় ৩ গুণ এবং কমলার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড থাকে।
- এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের জন্য উপকারী।

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 
- এছাড়া কঠোর পরিশ্রমের সময় আমাদের পেশিতেও ল্যাকটিক এসিড জমা হয়, যার ফলে শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়।

• অক্সালিক এসিড (Oxalic Acid):
- রাসায়নিক সংকেত: C2H2O4 ,
- এটি সাধারণত কচুশাক, পালং শাক, টমেটো এবং কামরাঙায় পাওয়া যায়। এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।

• টারটারিক এসিড (Tartaric Acid):
- এটি মূলত তেঁতুলে পাওয়া যায়। আঙ্গুরেও এটি থাকে। এটি খাবারে টক স্বাদ যোগ করে এবং বেকিং পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

​উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৪১.
নিচের কোনটি ডিটারজেন্টের বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. ঠান্ডা পানিতে গলে যায়
  2. সিনথেটিক পদার্থ থেকে তৈরি 
  3. উত্তম ফেনা তৈরি করে 
  4. লবণের সাথে বিক্রিয়া করে চুন তৈরি করে
ব্যাখ্যা

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়, এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৪২.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. লেকল্যান্স কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
২,৬৪৩.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) পানি
  2. খ) ইথানল
  3. গ) বেনজিন
  4. ঘ) ইথার
ব্যাখ্যা

যে পদার্থ অন্যান্য পদার্থকে দ্রবণে দ্রবীভূত করতে পারে তাকে দ্রাবক বলে।
আর যে পদার্থটি দ্রাবক দ্বারা দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, তাকে বলা হয় দ্রব।
- পানি, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি হলো অজৈব দ্রাবক পদার্থ।
- ইথানল, বেনজিন, ইথার, ক্লোরোফর্ম ইত্যাদি হলো জৈব দ্রাবক পদার্থ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৬৪৪.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) জেনন
  4. ঘ) ভাইব্রেনিয়াম
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।

- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।



উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৪৫.
ক্যালসিয়াম কার্বনেটের বাণিজ্যিক নাম-
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) ব্লিচিং
  3. গ) খাবার লবণ
  4. ঘ) চক
ব্যাখ্যা

- চক এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
- চুনের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম অক্সাইড।
- খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড।
- ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইড।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৪৬.
কয়লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা

• কয়লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কার্বন (গ)। কয়লা মূলত জীবাশ্ম উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়, যা বহু কোটি বছর ধরে চাপ ও তাপের প্রভাবে রূপান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জীবাশ্ম উদ্ভিদের অর্গানিক যৌগগুলি নষ্ট হয়ে প্রায় সম্পূর্ণ কার্বনে পরিণত হয়। কার্বনই কয়লাকে শক্তি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে। যখন কয়লা দহিত হয়, তখন কার্বনের জ্বালানি শক্তি তাপ ও বিদ্যুতের উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়। অন্য উপাদান যেমন হাইড্রোজেন, সালফার বা সিলিকনও উপস্থিত থাকে, কিন্তু এদের পরিমাণ কম এবং মূলত কার্বনের সাথে রাসায়নিক ক্রিয়ায় ছোটখাটো প্রভাব ফেলে। তাই কয়লার মূল কার্যকারিতা নির্ভর করে কার্বনের উপর।

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - ১। অ্যানথ্রাসাইট, ২। বিটুমিনাস এবং ৩। লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৪৭.
আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে নিচের কোনটি করা যায়?
  1. বরফ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়
  2. ধাতুর ভেজাল নির্ণয় করা যায়
  3. লোহা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতি: 
- বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। 
- বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্ব চাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। 
- তাই কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে- 
ধাতুর ভেজাল নির্ণয় করা সম্ভব
বরফ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায় এবং 
লোহা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,৬৪৮.
আইসোটোনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
  2. নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  3. প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  4. ভরসংখ্যা সমান থাকে
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৪৯.
যে বিক্রিয়ায় ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা নিউক্লিয়াস তৈরি হয় তাকে কী বলে? 
  1. ফিশন বিক্রিয়া 
  2. ফিউশন বিক্রিয়া
  3. রাসায়নিক বিক্রিয়া 
  4. আয়োনাইজেশন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে, নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া অন্যতম। 

নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- নিচে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো- 


নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে।
- নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো- 


উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৫০.
মোলার দ্রবণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1.  প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক কেজি দ্রবীভূত থাকে 
  2. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল লিটার দ্রবীভূত থাকে 
  3. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক গ্রাম দ্রবীভূত থাকে 
  4. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল দ্রবীভূত থাকে 
ব্যাখ্যা

মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে মোলার দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার হবে। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- মোলার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৫১.
পলিথিন কোন বিক্রিয়ার মধ্যমে তৈরি হয়?
  1. সংযোজন
  2. ঘনীভবন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. বিয়োজন
ব্যাখ্যা

• পলিথিন হলো একটি পলিমার, যা ইথিলিন বা ইথিন (CH2=CH2) নামক মনোমার থেকে তৈরি হয়।
- যে প্রক্রিয়ায় অসংখ্য ইথিলিন অণু উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ চেইন পলিমার (পলিথিন) তৈরি করে, তাকে পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া বলে।
- এই পলিমারাইজেশন বিক্রিয়াটি একটি সংযোজন বিক্রিয়ার (Addition Reaction) উদাহরণ।

 • সংযোজন বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে সে বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়। 

• সংযোজন পলিমার:
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন ক্ষুদ্র অণুর অপসারণ ব্যাতিত মনোমার অণুসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে এবং গঠিত পলিমারের আণবিক ভর মনোমারের আণবিক ভরের পূর্ণ গুণিতক হয় তাকে সংযোজন পলিমার বলে।
- সাধারণত দ্বিবন্ধন যুক্ত যৌগসমূহ যেমন অ্যালকিন, প্রতিস্থাপিত অ্যালকিন ও ভিনাইল যৌগসমূহে সংযোগ পলিমারকরণ (addition polymerization) ঘটে।

• পলিথিন:
- ১০০০ - ১২০০ বায়ু চাপে ইথিন গ্যাসকে তরলীকৃত করে সমান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ২০০০০ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ইথিনের অসংখ্য অণু পরপর যুক্ত হয়ে যুত পলিমার পলিথিন গঠন করে।
- পলিথিন তৈরির এই প্রক্রিয়া টি সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। 
- পলিথিন একটি সাদা অসচ্ছ ও শক্ত প্লাস্টিক পদার্থ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৫২.
সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত কোনটি?
  1. C17H35CONa
  2. C17H35COONa
  3. C17H35COOK
  4. C15H33COONa
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রসাধনী সাবান (Cosmetic soap): 
- ত্বককে পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে প্রসাধনী সাবান বলে। 

২। লন্ড্রি সাবান (Laundry soap): 
- কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে কাপড় কাচা সাবান বা লন্ড্রি সাবান বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৫৩.
নাইট্রিক এসিডে নিচের কোন মৌলিক পদার্থটি উপস্থিত?
  1. ক) গন্ধক
  2. খ) দস্তা
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

নাইট্রিক এসিডের সংকেত হলো HNO3। অর্থাৎ নাইট্রিক এসিডের একটি অণুতে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু, একটি নাইট্রোজেন পরমাণু এবং তিনটি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান।

সুতরাং নাইট্রিক এসিডে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন এই তিনটি মৌলিক পদার্থ উপস্থিত।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৬৫৪.
কোনটি তেজষ্ক্রিয় মৌল?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) আর্গন
  3. গ) র‍্যাডন
  4. ঘ) ক্রিপটন
ব্যাখ্যা
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের প্রধান উৎস হলো বাতাস। বাতাসে এ গ্যাসসমূহের পরিমাণ বাতাসের সর্বমোট আয়তনের প্রায় 1.0% এবং এর বেশির ভাগই আর্গন। -বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আর্গন, নিয়ন, ক্রিপটন এবং জেননের প্রধান উৎস বাতাস।
- বাতাসকে তরল করে আংশিক পাতনের মাধ্যমে এর উপাদানগুলিকে পৃথক করার সময় নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলি পাওয়া যায়। 
- হিলিয়ামের প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। কোন কোন প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ (আনুমানিক 5% পর্যন্ত ) হিলিয়াম পাওয়া যায়। 
- কিছু তেজষ্ক্রিয় আকরিক - যেমন পিচব্লেন্ড, মোনাজাইট, থোরিয়ানাইট এবং ক্লিভাইট-এর মধ্যে হিলিয়াম এবং আর্গন আবদ্ধ থাকে।
-  এ আকরিকগুলিকে উত্তপ্ত করলে হিলিয়াম এবং আর্গন বের হয়ে আসে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে উষ্ণ প্রস্রবনের পানিতে হিলিয়াম এবং নিয়ন দ্রবীভূত থাকে।
-  কয়েকটি তেজষ্ক্রিয় মৌল, যেমন- রেডিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়ামের বিভাজন কালে হিলিয়াম গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- র‍্যাডন একটি তেজষ্ক্রিয় মৌল; রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজনের সময় এটি উৎপন্ন হয়। 
 
উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৬৫৫.
নিচের কোনটি ম্যাঙ্গানিজ এর প্রতীক?
  1. Mg
  2. Mo
  3. Mt
  4. Mn
ব্যাখ্যা
- ম্যাঙ্গানিজ এর রাসায়নিক প্রতীক Mn.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ২৫।
- এটি পর্যায় সারণীর চতুর্থ পর্যায়ে, সপ্তম গ্রুপে অবস্থিত।
- এটি একট ডি-ব্লক মৌল।

figure: periodic table (image source: ptable.com)

অপশন আলোচনা:
- Mg - ম্যাগনেসিয়ামের প্রতীক।
- Mo - মলিবডেনামের প্রতীক।
- Mt - মাইটনেরিয়ামের প্রতীক।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৬৫৬.
নিচের কোনটি সবচেয়ে শক্ত ধাতু?
  1. Gold
  2. Iron
  3. Platinum
  4. Tungsten
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- টাংস্টেন নামটি সুইডিশ নাম টাংস্টেন থেকে এসেছে যার অর্থ ভারী পাথর।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪
২,৬৫৭.
কোনটি অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. মরিচা
  3. চুন
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

• অপশন গুলোর মধ্যে ইউরিয়া অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত। অর্গানিক যৌগ হলো সেই যৌগ যেটিতে প্রধানত কার্বন এবং হাইড্রোজেন থাকে, এবং প্রায়ই নাইট্রোজেন, অক্সিজেন বা সালফারও থাকতে পারে। ইউরিয়া হলো একটি নাইট্রোজেনযুক্ত অর্গানিক যৌগ। 

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- 
• মিথেন, 
• ইথেন, 
• বেনজিন, 
• ইউরিয়া, 
• প্রোপিন, 
• পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

অজৈব যৌগ: 
- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
যেমন- 
• পানি, 
• খাবার লবণ, 
• খাবার সোডা, 
• কাপড় কাচার সোডা, 
• কস্টিক সোডা, 
• চুন, 
• মরিচা ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৫৮.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. চাকচিক্য বেশি
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
  3. নমনীয়তা
  4. ঘনত্ব কম
ব্যাখ্যা
• "ঘনত্ব কম" ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ধাতুর ঘনত্ব বেশি হয়। 

• ধাতু:
- যে সকল পদার্থের বিশেষ দ্যুতি আছে, আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বিদ্যমান, পিটিয়ে পাতলা পাত বানানো যায়, টেনে সরু ও লম্বা করা যায়, আঘাত করলে বিশেষ ধাতব শব্দ হয় এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 

• ধাতুর বৈশিষ্ট্য:  
→ চকচকে: ধাতু সাধারণত উজ্জ্বল এবং চকচকে হয়।  
→ নমনীয়: এগুলো সহজে বাঁকানো বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।  
→ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী: ধাতু বিদ্যুৎ এবং তাপের ভাল পরিবাহী।  
ধাতব বন্ধন: ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হতে পারে এবং ধাতব বন্ধন গঠন করে। 
ঘাতসহিষ্ণু: ধাতু আঘাত পেলে সহজে ভাঙ্গে না।  
→ ঘনত্ব: অধিকাংশ ধাতুর ঘনত্ব বেশি। 

উদাহরণ - লোহা, তামা, সোনা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২,৬৫৯.
নিচের কোন ধরণের বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম?
  1. ধাতব
  2. হাইড্রোজেন
  3. সমযোজী
  4. আয়নিক
ব্যাখ্যা

• বন্ধনগুলির মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণ সবচেয়ে কম। হাইড্রোজেন বন্ধন অন্যান্য বন্ধনের তুলনায় খুব দুর্বল এবং কম স্থায়ী। আয়নিক, সমযোজী বা ধাতব বন্ধনের তুলনায় হাইড্রোজেন বন্ধনের শক্তি কম হওয়ায় অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণও সর্বনিম্ন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জল অণুর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন থাকলেও, এটি কেবল অপেক্ষাকৃত সামান্য শক্তি প্রদান করে এবং সহজে ভেঙে যায়। তাই বন্ধনের শক্তির ক্রম হয়: আয়নিক > সমযোজী > ধাতব > হাইড্রোজেন। এই কারণে হাইড্রোজেন বন্ধন অণুগুলিকে একে অপরের সাথে সবচেয়ে কম টান ধরে রাখে।

 • বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক বন্ধন:
- রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরমাণু বা অণু একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
- বন্ধনের শক্তি নির্ভর করে পরমাণু বা আয়নের মধ্যে আকর্ষণ বলের উপর।
- বিভিন্ন বন্ধনের ক্ষেত্রে এই আকর্ষণ শক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়।

• আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond):
- আয়নিক বন্ধনে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে শক্তিশালী তড়িৎস্থিতিক আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ বল খুব শক্তিশালী হওয়ায় আয়নিক বন্ধন অত্যন্ত স্থিতিশীল।
- তাই আয়নিক বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে বেশি।

• সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond):
- সমযোজী বন্ধনে পরমাণুগুলি ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে।
- ইলেকট্রন ভাগাভাগির কারণে পরমাণুগুলির মধ্যে যথেষ্ট শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আয়নিক বন্ধনের তুলনায় এটি কিছুটা দুর্বল হলেও যথেষ্ট স্থিতিশীল।

• ধাতব বন্ধন (Metallic Bond):
- ধাতব বন্ধনে ধাতব আয়ন ও মুক্ত ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ সমযোজী ও আয়নিক বন্ধনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবুও এটি হাইড্রোজেন বন্ধনের চেয়ে শক্তিশালী।

• হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond):
- হাইড্রোজেন বন্ধন একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল।
- এটি মূলত অণুর মধ্যে সৃষ্টি হয়, পরমাণুর মধ্যে নয়।
- এই বন্ধনের স্থায়িত্ব কম এবং বন্ধন শক্তি তুলনামূলকভাবে খুব দুর্বল।
- তাই সকল বন্ধনের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম।

• বন্ধনের আকর্ষণ শক্তির ক্রম:
- আয়নিক বন্ধন > সমযোজী বন্ধন > ধাতব বন্ধন > হাইড্রোজেন বন্ধন। 

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

২,৬৬০.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. রেডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

২,৬৬১.
কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়ায় কী উপাদান থাকে যা এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
-  জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬২.
কোয়ার্ক কণিকা দ্বারা গঠিত হয় নিচের কোনটি??
  1. ইলেক্ট্রন
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. খ + গ
ব্যাখ্যা

কোয়ার্ক (Quark) : কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে।
দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো আপ (u), ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৬৩.
কোন উপ-স্তরে সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. s
  2. p
  3. d
  4. f
ব্যাখ্যা

• s, p, d, f উপ-স্তরের মধ্যে d-উপ-স্তর সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে।

- কোনো অণুতে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট শক্তি স্তর বা শেল (n) অনুযায়ী বিভক্ত থাকে।
- d-উপ-স্তরের 10 ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা transition metals এবং তাদের রাসায়নিক ও চৌম্বক বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- d-উপ-স্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, মৌলের রং, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং চৌম্বকীয়তা প্রভাবিত হয়।
- প্রতিটি শেলের ভিতরে থাকে বিভিন্ন উপ-স্তর (s, p, d, f)।
- প্রতিটি উপ-স্তরের ইলেকট্রনের ধারণক্ষমতা নির্ধারিত হয় 2(2l + 1) সূত্র অনুযায়ী, যেখানে ( l )হলো উপ-স্তরের কোয়ান্টাম সংখ্যা।

প্রত্যেক উপ-স্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা:
⇒ s-উপ-স্তর: l = 0 → 2(2×0 + 1) = 2 ইলেকট্রন,
⇒ p-উপ-স্তর: l = 1 → 2(2×1 + 1) = 6 ইলেকট্রন,
⇒ d-উপ-স্তর: l = 2 → 2(2×2 + 1) = 10 ইলেকট্রন,
⇒ f-উপ-স্তর: l = 3 → 2(2×3 + 1) = 14 ইলেকট্রন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৬৪.
কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ অল্পমাত্রায় মানবদেহের জন্য নিরাপদ?
  1. রেডিয়াম-২২৬
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. টেকনিশিয়াম-৯৯ 
  4. প্লুটোনিয়াম-২৩৯ 
ব্যাখ্যা

  তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99) তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- এটি কম শক্তির বিকিরণ উৎপন্ন করে, গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এর লাইফটাইম ৬ ঘণ্টা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- তেজস্ক্রিয় মৌল বা ইসোটোপ তার নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ (অ্যালফা, বেটা, গামা) নির্গত করে।
- এতে শক্তি মুক্ত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- তেজস্ক্রিয়তা হালকা বা শক্তিশালী হলে বিপদজনক, তাই নিরাপদ ব্যবহার নির্ভর করে বিকিরণের ধরণ ও শক্তির ওপর।

• টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99):
- তেজস্ক্রিয়, তবে কম শক্তির বেটা বিকিরণ করে।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
- নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহৃত হলে মানবদেহে ক্ষতি করে না।

অপশন আলোচনা:
• রেডিয়াম-২২৬ (Ra-226):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়।
- শক্তিশালী অ্যালফা বিকিরণ করে।
- সরাসরি মানবদেহে বিপজ্জনক; নিরাপদ নয়।

• ইউরেনিয়াম-২৩৮ (U-238):
- ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু, দীর্ঘ জীবনকাল থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক।
- পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত।

• প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (Pu-239):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ও ভারী।
- পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহৃত।
- মানবদেহে খুবই বিপজ্জনক।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৬৬৫.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) সকল ক্ষারকই ক্ষার কিন্তু সকল ক্ষার ক্ষারক নয়।
  2. খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
  3. গ) সকল ক্ষারকই পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
২,৬৬৬.
আয়রনের আকরিক নয় কোনটি
  1. ক) ম্যাগনেটাইট
  2. খ) লিমোনাইট
  3. গ) হেমাটাইট
  4. ঘ) চালকোসাইট
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিকঃ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O), হেমাটাইট (Fe2O3)। কপারের আকরিকঃ কপার পাইরোইট (CuFeS2), চালকোসাইট(Cu2S)।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২,৬৬৭.
পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব কত?
  1. ক) ১৩.৬
  2. খ) ০.৮
  3. গ) ১
  4. ঘ) ৬৫
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিক গুরুত্ব বলতে কোন বস্তুর ঘনত্ব এবং অন্য একটি প্রসঙ্গ বস্তুর ঘনত্বের অনুপাত অথবা কোন বস্তুর ভর এবং একই আয়তনের অন্য একটি বস্তুর ভরের অনুপাতকে বোঝায়।
পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১৩.৬  এর অর্থ হচ্ছে একই পরিমাণ আয়তনের পানির চেয়ে পারদ ১৩.৬ গুণ বেশি ভারী।

২,৬৬৮.
বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?
  1. ক) সরাসরি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে
  2. খ) ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
  3. গ) পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
  4. ঘ) মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে
ব্যাখ্যা
বিদুৎ উৎপাদনে প্রকল্পে ও মোটর কারে নাইট্রোজেন গ্যাস ও অক্সিজেন গ্যাসের বিক্রিয়ায় NO গ্যাস উৎপন্ন হয়। পরে বায়ুর অক্সিজেনসহ NO বিক্রিয়া করে NO2 এবং ওজোন ও পানির সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিডরুপে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়।উদ্ভিদ নাইট্রেট লবণ গ্রহণ করে। এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৬৬৯.
যে মূল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কি বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. ক্ষারক
  4. ক্ষারিত
ব্যাখ্যা
বিজারক:
• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান/ত্যাগ করে সেগুলোকে বিজারক বলে। আর ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
• বিজারক - সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

জারক:
• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে। আর ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
• জারক - অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

ক্ষারক:
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৭০.
কোন উপাদানটি এন্টাসিডে থাকে?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

আমাদের পাকস্থলীতে এসিডিটি হলে যে এন্টাসিড ঔষধ খাই তা আসলে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] যা সাসপেনশন ও ট্যাবলেট দুইভাবেই পাওয়া যায়।
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] এর সাসপেনশন মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া নামেই অধিক পরিচিত।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

২,৬৭১.
নিম্নের কোন দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) অ্যাসিড দ্রবণে
  2. খ) বাফার দ্রবণে
  3. গ) ক্ষারীয় দ্রবণে
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা

যে দ্রবণে সামান্য দুর্বল অম্ল বা ক্ষার যােগ করার পরও দ্রবণের pH- মান অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
অর্থ্যাৎ বাফার দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না।

২,৬৭২.
নিচের কোনটি চেতনানাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইথার
  2. ফেনল
  3. অ্যালকোহল ও ইথারের মিশ্রন
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
ইথার:
- একটি দ্বি-যোজী অক্সিজেন পরমাণু দু'টি একক বন্ধনের মাধ্যমে তার উভয় দিকে দুটি কার্বনকে সংযুক্ত করে যে জৈব যৌগ তৈরী করে তাকে ইথার বলে।
- ইথার বলতে ডাই ইথাইল ইথার (ইথোক্সিইথেন) CH3CH2-O-CH2CH3 বুঝায় ।
- অ্যালকোহল থেকে পানি অপসারণ (dehydration) করে ইথার প্রস্তুত করা যায়।
- ইথার ও অ্যালকোহল উভয় প্রকার যৌগের অক্সিজেনে দুই জোড়া করে মুক্ত ইলেকট্রন আছে।
- অপেক্ষাকৃত কম কার্বন যুক্ত ইথার সাধারণ চেতনানাশক (general anaesthetics) হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- ইথার ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ পেট্রোলের বিকল্প জ্বালানীরূপে ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৩.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. লিথিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. পারদ
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।
২,৬৭৪.
উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা 
  3. পর্সেলিন
  4. কাঠ
ব্যাখ্যা

উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন উপাদান ব্যবহৃত হয়। 
- উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন বা চীনামাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদান।
- এটি অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট, কোয়ার্টজ এবং ফেল্ডস্পারের মিশ্রণে তৈরি একটি শক্ত এবং টেকসই সিরামিক উপাদান।
- পর্সেলিন চমৎকার বৈদ্যুতিক অন্তরক বৈশিষ্ট্য এবং যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে, যা উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলিকে খুঁটি বা টাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুতের ফুটো রোধ করে। 

অন্যদিকে, 
ক) কোয়ার্টজ: কোয়ার্টজ নিজে একটি ইনসুলেটিং উপাদান হলেও, উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক শক্তি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অর্জনে এটি সাধারণত পর্সেলিন তৈরির একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি ইনসুলেটর হিসেবে নয়।

খ) সোনা: সোনা একটি চমৎকার পরিবাহী (Conductor), ইনসুলেটর (অন্তরক) নয়। এটি বিদ্যুৎ প্রবাহকে সহজেই যেতে দেয়।

ঘ) কাঠ: কাঠ একটি প্রাকৃতিক ইনসুলেটর, কিন্তু এর ইনসুলেশন ক্ষমতা পরিবর্তনশীল এবং এটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি (যেমন আর্দ্রতা) দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়।
আধুনিক উচ্চ ভোল্টেজের লাইনগুলিতে নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বের জন্য কাঠের পরিবর্তে উন্নত উপাদান যেমন পর্সেলিন বা পলিমার ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৭৫.
নিচের কোন কয়লাতে কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (O2) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)।
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তীসময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

- কয়লা তিন রকমের হয়। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো আর এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।