বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২২ / ২৭ · ২,১০১২,২০০ / ২,৬৯২

২,১০১.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ কোনটি ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়?
  1. যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে
  2. যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে
  3. ব্যাটারি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ইলেকট্রোপ্লেটিং বা তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হয়, সেটিকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের বা ক্যাথোডের সাথে যুক্ত করা হয়। যেহেতু দ্রবণে থাকা ধাতব আয়নগুলো ধনাত্মক চার্জযুক্ত থাকে, তাই সেগুলি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং সেখানে জমা হয়ে স্তরের সৃষ্টি করে। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এই প্রক্রিয়ায় যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- আর যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- ব্যাটারি হলো শক্তির উৎস, এটি নিজে কোনো প্রান্তের সাথে যুক্ত হয় না বরং এর মাধ্যমেই সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১০২.
উইলিয়াম হার্শেল কত শতাব্দীতে infrared তরঙ্গ আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ১২০০
  2. খ) ১৩০০
  3. গ) ১৪০০
  4. ঘ) ১৭০০
  5. ঙ) ১৮০০
ব্যাখ্যা
১৮০০ শতাব্দীতে infrared তরঙ্গ আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্শেল।
উৎসঃতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি- মোঃ মজিবুর রহমান।
২,১০৩.
ফুলের সুগন্ধ বাতাসে কোন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে?
  1. অভিস্রবণ
  2. প্রস্বেদন
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপনের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,১০৪.
নিম্নের কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ক্রিপ্টন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
ক্রিপ্টন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এছাড়াও হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, জেনন, রেডন এবং ওগানেসন- মোট সাতটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস রয়েছে। 


যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিস্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিস্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে। নিস্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি। এগুলো হলো : হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।

নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ধর্মসমূহ- 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২,১০৫.
পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর আকরিক উৎপন্নকারী মৌলসমূহকে কী বলা হয়?
  1. ক) মুদ্রা ধাতু
  2. খ) অবস্থান্তর মৌল
  3. গ) ল্যান্থানাইড
  4. ঘ) চ্যালকোজেন
ব্যাখ্যা
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১০৬.
কার্বনের এক অণু সমান পুরু একটি স্তরকে কী বলা হয়?
  1. গ্রাফিন
  2. কার্বন-১৪ ডেটিং
  3. গ্রাফাইট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রাফিন
- বিজ্ঞানের জগতে সুপারম্যাটেরিয়াল তথা বিস্ময় বস্তু গ্রাফিন।
- মূলত কার্বনের এক অণু সমান পুরু একটি স্তরকেই বলা হয় গ্রাফিন।
- এর গঠন এমন যে, নমনীয় হলেও এটি দুর্দান্ত মজবুত, টেকসই ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- ২০০৪ সালে আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে এর নানামুখী ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েই চলেছে।
- আর সেই চাহিদা পূরণে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। চীনের নতুন উৎপাদনশীল শক্তি বিকাশেও ভূমিকা রাখছে গ্রাফিন।
- গ্রাফিন উৎপাদনে বড় অগ্রগতি অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হলো পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের নিংবো শহরের ন্যাশনাল গ্রাফিন ইনোভেশন সেন্টার বা এনজিআইসি।

অপরদিকে, 
• কার্বন-১৪ ডেটিং হচ্ছে জৈব উপাদান ধারণকারী বস্তুর বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি। 
• গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ এর স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। 

সূত্র- ব্রিটানিকা।
২,১০৭.
তামার সাথে নিচের কোনটি মেশালে পিতল হয়?
  1. নিকেল
  2. টিন
  3. সিসা
  4. দস্তা (জিঙ্ক)
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে, যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১০৮.
ব্লিচিং পাউডার এর সংকেত কী ?
  1. KClO3
  2. NaCl
  3. Ca(OCl)Cl
  4. NaClO2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ব্লিচিং পাউডার এর সংকেত কী ?

সমাধন:
ব্লিচিং পাউডার:
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরাে হাইপােক্লোরাইট, Ca(OCl)Cl.
- বলপেন এর কালি বা অন্য কোনাে রং যেগুলাে সাবান এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে তােলা যায় না সেগুলােকে কাপড় থেকে উঠানাের জন্য তথা বর্ণহীন করার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া মেঝে, কমােড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজেও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি।

২,১০৯.
নিচের কোন অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে?
  1. Na2O
  2. CO2
  3. Al2O3
  4. CaO
ব্যাখ্যা

- 'CO2' অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 

- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১০.
ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিয়ন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) আর্গন
  4. ঘ) রেডন
ব্যাখ্যা
• আর্গন (Argon):
আর্গন প্রধানত ইলেকট্রিক বাল্বে ব্যবহৃত হয়। বাল্বে আর্গন থাকার কারণে টাংস্টেন ফিলামেন্ট সহজে  বাষ্পীভূত হয় না।
- রেডিও-এর বাল্ব ও রেকটিফায়ার-এ আর্গন ব্যবহৃত হয় ৷
- ঝালাই-এর কাজে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে আর্গন ব্যবহৃত হয়।
-গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফিতে এর ব্যবহার আছে। 
তেজস্ক্রিয়তা মাপার যন্ত্র আর্গন গ্যাস ব্যবহার হয়।

• ক্রিপটন (Krypton):
- আর্গনের মত ক্রিপটনও টিউব বাতিতে ব্যবহৃত হয়।
- কসমিক রশ্মি পরিমাপে আয়নীকরণ প্রকোষ্ঠে ক্রিপটন ব্যবহৃত হয়।
- খনি-শ্রমিকদের ‘ক্যাপ-ল্যাম্পে' ক্রিপটন ব্যবহার করা হয়৷
- তীব্র আলো সৃষ্টির জন্য ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ বাল্বে ক্রিপটন ব্যবহার করা হয়।
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক পরিমাপক যন্ত্রে ক্রিপটন ব্যবহার করা হয়।

• জেনন (Xenon):
- দ্রুত গতিসম্পন্ন ফ্লাশ-লাইটে জেনন ব্যবহার করা হয়।
- গামা রশ্মি, নিউটন ও ও অন্যান্য নিউক্লিয় কণা শনাক্তকরণের জন্য বুদবুদ প্রকোষ্ঠে জেনন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

• রেডন (Radon):
- রেডিও-থ্যারাপি চিকিৎসায় শরীরে ক্ষতিকর বৃদ্ধি নাশে এটি ব্যবহৃত হয়।
- ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার কাজে রেডন ব্যবহার করা হয়।
- তেজস্ক্রিয় গবেষণার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: LiveMCQ Lecture.
২,১১১.
এক গ্রাম তৈল বা চর্বি = কত?
  1. ক) 9.0 cal
  2. খ) 9.2 cal
  3. গ) 9.4 cal
  4. ঘ) 9.3 cal
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
সয়াবিন তৈল (অসম্পৃক্ত গ্লিসারাইড) + H2 ⇒ মার্জারিন (সম্পৃক্ত গ্লিসারাইড)। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
২,১১২.
স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিতে কী থাকে?
  1. নাইট্রিক অ্যাসিড 
  2. ক্লোরিন
  3. সোডা
  4. কার্বনিক অ্যাসিড
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

স্বাভাবিক বৃষ্টির পানি:
- স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিতে কার্বনিক অ্যাসিড থাকে।

• স্বাভাবিক (প্রাকৃতিক, অদূষিত) বৃষ্টির পানিতে সামান্য কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) থাকে।
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বৃষ্টির পানির সাথে মিশে দুর্বল কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে।
- এ কারণে স্বাভাবিক বৃষ্টির pH প্রায় ৫.৬ (সামান্য অম্লীয়), যেখানে বিশুদ্ধ পানির pH ৭ (নিরপেক্ষ)।

উৎস: USGS Publications Warehouse (.gov) ওয়েবসাইট।

২,১১৩.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) আর্গন
  4. ঘ) জেনন
ব্যাখ্যা
- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন এবং রেডন হচ্ছে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ। 
- পর্যায় সারণীর গ্রুপ-১৮ তে অবস্থিত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন, রেডন এই ৬টি গ্যাসকে একত্রে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।
- হিলিয়াম ব্যতীত অন্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলির বহিঃস্থ শক্তিস্তরে অষ্টক পূর্ণ থাকে; অর্থাৎ, ৮টি করে ইলেক্ট্রন থাকে।
- হিলিয়ামের কেবল একটিই শক্তিস্তর রয়েছে এবং সেটাতে দুইটি ইলেক্ট্রন থাকে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলি অন্য কোন মৌলের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।

** রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় মৌলিক গ্যাসকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। অর্থাৎ পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না, তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।  

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৪.
'জিপসাম' কোন খনিজের আকরিক?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১৫.
নিচের কোন মৌলিক কণিকাটি আধানহীন? 
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. পজিট্রন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৬.
নিচের কোন জৈব যৌগটিতে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি নেই?
  1. ক) ফরমালিন
  2. খ) বিউটিন
  3. গ) ক্লোরোপিক্রিন
  4. ঘ) ইথাইন
ব্যাখ্যা
- গ্যামাক্সিন, হেক্সাক্লোরো ইথেন, ফসজিন, পাইরিন, ক্লোরোপিক্রিন, ফ্রেয়ন ইত্যাদি হলো হাইড্রোজেনবিহীন জৈব যৌগ।
- ফরমালিন, বিউটিন, ফরমিক এসিড, বিউটেন, ইথাইন ইত্যাদি বেশিরভাগ জৈব যৌগতেই হাইড্রোজেন উপস্থিত থাকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,১১৭.
শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে কোন ধরনের পলিমার তৈরি করা হয়? 
  1. পলিস্টারিন
  2. পলিথিন
  3. ম্যালামাইন
  4. টেফলন
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া (Urea): 
- ইউরিয়া একটি মূল্যবান পদার্থ। 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়া গ্যাসের মিশ্রণকে উচ্চ চাপে এবং 130°-150° C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট (NH2COONH4) উৎপন্ন হয়। 
- পরবর্তীতে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট ভেঙে ইউরিয়া (NH2-CO-NH2) প্রস্তুত হয়। 


- শিল্পক্ষেত্রে এবং কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়ার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে ম্যালামাইন পলিমার তৈরি করা হয়। 
- কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়াকে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- জমিতে ইউরিয়া সার দেওয়া হয় যাতে গাছ ইউরিয়া সার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে। 
- উদ্ভিদ সরাসরি N2 গ্রহণ করে না। 
- মাটিতে ইউরিয়েজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ইউরিয়া পানির সাথে বিক্রিয়া করে NH4+, OH- এবং CO2 তৈরি করে।
- উদ্ভিদ এই NH4+ শোষণ করে। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৮.
ড্রাই সেলে ধনাত্মক তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) কার্বন দন্ড
  3. গ) দস্তার কৌটা
  4. ঘ) ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
- টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
- শুষ্ক কোষে দস্তার কৌটা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারে বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে।
- ধাতব টুপিঁ দিয়ে ঢাকা কার্বন দন্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 

সূত্র: বিজ্ঞান বই, অষ্টম শ্রেণি।
২,১১৯.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয় কোনটি? 
  1. হিলিয়াম 
  2. ডিউটেরিয়াম 
  3. প্রোটিয়াম 
  4. ট্রিটিয়াম 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয়- হিলিয়াম। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি মৌল এবং নোবেল গ্যাস, যার পারমাণবিক সংখ্যা ২ । 

আইসোটোপ: 
- 1912 সালে সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থে আইসোটোপ থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। 
- 1916 সালে জে.জে. থমসন (J.J.Thomson) নিয়নের একটি নমুনায় 22 amu ভরের অতি সামান্য পরিমাণে এবং 20 amu ভরের অধিকাংশ নিয়ন অণু শনাক্ত করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা করেন, নিয়ন নমুনায় 22 amu (atomic mass unit) ভরের কোনো নতুন মৌল থাকতে পারে। 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে। 
- যেহেতু আইসোটোপগুলোর প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই তাই এরা একই মৌলের পরমাণু। 
- হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। 
- আইসোটোপসমূহের (গ্রিক শব্দ iso = একই, top = স্থান) প্রোটন সংখ্যা একই হওয়ায় পর্যায় সারণিতে এদের স্থান একই জায়গায় নির্ধারিত। 

আইসোবার: 
- প্রকৃতিতে এমন কিছু পরমাণু রয়েছে যাদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু ভর সংখ্যা অভিন্ন। এ ধরনের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোবার বলে। 
- আইসোবারসমূহের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। 
- এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন। 

আইসোটোন: 
- প্রকৃতিতে এমন কতিপয় পরমাণু রয়েছে যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা এবং ভর সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন, এসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 
- আইসোটোনসমূহের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এরা ভিন্ন ভিন্ন পরমাণুর হয়ে থাকে। 
- পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। 
- এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২০.
জৈব যৌগের মূল উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।

• উদাহরণ:  মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।
- কার্বন জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় কারণ কার্বন ক্যাটেনেশন ধর্ম সম্পন্ন মৌল। 
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়।
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
- জৈব যৌগের দহনের পর কোন অবশেষ থাকে না।
- জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
- জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর প্রকৃতির হয়। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২১.
নিচের কোনটি চার্লসের সূত্র?
  1. V ∝ T
  2. PV = K
  3. V ∝ n
  4. P ∝ T
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/273 ; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

অ্যাভোগেড্রোর সূত্র: 
- ১৮১১ সালে ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভোগেড্রো গ্যাসের আয়তন ও অণুর সংখ্যার মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশকারী যে সূত্র প্রদান করেন তাকে অ্যাভোগেড্রো সূত্র বলে। 
- স্থির তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের মোল সংখ্যা বাড়লে তার আয়তনও বৃদ্ধি পায় এবং মোল সংখ্যা হ্রাস করলে আয়তনও হ্রাস পায়। 
অর্থাৎ, "স্থির তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের আয়তন তার মোল সংখ্যার সমানুপাতিক”। 
সুতরাং কোনো গ্যাসের আয়তন V এবং মোল সংখ্যা n হলে অ্যাভোগেড্রোর সূত্রানুসারে, V ∝ n (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)। 
বা, V = Kn (K সমানুপাতিক ধ্রুবক)। 
- একে NA দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যার পরীক্ষালব্ধ মান NA = 6.023 × 1023  । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ) এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২২.
ডায়াবেটিক চকলেট তৈরীতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ভিনেগার
  2. TBHQ
  3. সরবিটল
  4. লেসিথিন
ব্যাখ্যা

• ডায়াবেটিক চকলেট তৈরিতে সাধারণত সরবিটল ব্যবহৃত হয়, তাই সঠিক উত্তর হলো গ) সরবিটল। সরবিটল একটি সুগার অ্যালকোহল, যা সাধারণ চিনির তুলনায় ধীরে রক্তে শোষিত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মিষ্টিকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ভিনেগার সংরক্ষণ বা স্বাদে ব্যবহৃত হলেও চকলেট তৈরিতে নয়, TBHQ একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা তেলজাত খাদ্যে ব্যবহৃত হয়, আর লেসিথিন ইমালসিফায়ার হিসেবে চকলেটের টেক্সচার উন্নত করতে ব্যবহৃত হলেও এটি মিষ্টি উপাদান নয়।

• ডায়াবেটিক চকলেট তৈরীতে ব্যবহৃত উপাদান:
- ডায়াবেটিক চকলেট হলো এমন একটি চকলেট যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- সাধারণ চকলেটে চিনি ব্যবহৃত হলেও ডায়াবেটিক চকলেটে চিনি ব্যবহার করা হয় না।
- এর পরিবর্তে এমন সুইটেনার ব্যবহার করা হয় যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না।
- এই ধরনের চকলেটে সাধারণত সরবিটল ব্যবহৃত হয়।
- সরবিটল হলো একটি সুগার অ্যালকোহল, যা মিষ্টি স্বাদ দিলেও গ্লুকোজের মতো দ্রুত রক্তে মিশে যায় না।
- তাই এটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযোগী হিসেবে বিবেচিত।

• অপশন আলোচনা:
- ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হলেও চকলেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না।
- TBHQ একটি কৃত্রিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা তেল বা চর্বি সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
- লেসিথিন একটি ইমালসিফায়ার, যা চকলেটের গঠন মসৃণ করতে সাহায্য করে, তবে এটি মিষ্টি উপাদান নয়।

সুতরাং, ডায়াবেটিক চকলেট তৈরীতে ব্যবহৃত উপাদান হলো সরবিটল
সঠিক উত্তর: গ) সরবিটল। 

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

২,১২৩.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. গলন
  2. বাষ্পীভবন
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক পরিবর্তন:  
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যেমন: 
• লোহায় মরিচা ধরা,
• দুধ থেকে দই হওয়া,
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া,
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি,
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া,
• সালোকসংশ্লেষণ, ইত্যাদি।

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। যেমন:
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা (বাষ্পীভবন),
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া,
• বরফ গলে পানি হওয়া,
• তাপ দ্বারা মোম গলানো (গলন) ইত্যাদি। 

→ সালোকসংশ্লেষণ হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে আলোক শক্তি শর্করার আকারে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলোক শক্তি দ্বারা চালিত একটি প্রক্রিয়ায়, গ্লুকোজ অণু (বা অন্যান্য শর্করা), পানি এবং কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে তৈরি হয় এবং অক্সিজেন একটি উপজাত হিসাবে নির্গত হয়।

উৎস:
১) রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২) ব্রিটানিকা।
২,১২৪.
SATP এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Standard Air Temperature and Pressure
  2. Standard Absolute Temperature and Pressure
  3. Standard Actual Temperature and Pressure
  4. Standard Ambient Temperature and Pressure
ব্যাখ্যা
SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৫.
অ্যারোসল কোন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে? 
  1. নিঃসরণ 
  2. ব্যাপন 
  3. বাষ্পীভবন 
  4. পাতন 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
- যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

বাষ্পীভবন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
- যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। 

পাতন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
- অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৬.
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, সেটি কী?
  1. এন্ট্রপি
  2. চাপ
  3. ওজন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
এন্ট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। 
- অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে, ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এন্ট্রপি। 
- কোনো বস্তুর এন্ট্রপির মান আজো জানা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো বস্তু যদি তাপ গ্রহণ বা বর্জন করে, তাহলে বস্তুর এন্ট্রপির পরিবর্তন হয়। 
- কোনো বস্তুর তাপমাত্রার সাপেক্ষে গৃহীত বা বর্জিত তাপ পরিবর্তনের হার দ্বারা এন্ট্রপির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, তাকে এন্ট্রপি বলে। 
অর্থাৎ, এন্ট্রপি হলো বস্তুর এমন একটি ভৌত ধর্ম যা রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় স্থির থাকে। এন্ট্রপিরকে s দ্বারা সূচিত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৭.
NH4Cl কোন ধরনের এসিড ও ক্ষার থেকে উৎপন্ন লবণ?
  1. মৃদু এসিড ও তীব্র ক্ষার
  2. মৃদু এসিড ও মৃদু ক্ষার
  3. তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষার
  4. তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষার
ব্যাখ্যা
লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis of Salts): 
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন হয়। 
- বেশির ভাগ লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়। আবার কোনো কোনো লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয় না, এসব লবণের পানিতে দ্রাব্যতা গুণ নেই। 
- লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তা নিরপেক্ষ, অম্লীয় বা ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়। 
- কোনো লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণটি জলীয় দ্রবণে H3O+ বা OH- আয়নের পরিমাণে বৃদ্ধি ঘটিয়ে দ্রবণটির প্রকৃতি অম্লীয় বা ক্ষারীয় করে, সে বিক্রিয়াকে লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণ বলে। 
- লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণে লবণটি পানির সাথে বিক্রিয়া করে ওই লবণের উৎপাদন এসিড ও ক্ষার উৎপন্ন করে। 
- যে লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয় না সে লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণ হয় না। 
- বিভিন্ন প্রকার এসিড ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ নিম্নরূপ: 
যেমন- 
i. তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: NaCl, KCl, NaNO3, KNO3, Na2SO4, K2SO4 ইত্যাদি। 
ii. তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: NH4Cl, NH4NO3, (NH4)2SO4, CuSO4, FeSO4, FeCl3, AlCl3 ইত্যাদি। 
iii. মৃদু এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: Na2CO3, CH3-COONa, KCN, H-COONa, K2CO3 ইত্যাদি। 
iv. মৃদু এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: (NH4)2CO3, H-COONH4, CH3-COONH4 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৮.
বায়বীয় পদার্থ অত্যন্ত সংকোচনশীল হওয়ার প্রধান কারণ কী? 
  1. কণিকাগুলোর গতি কম
  2. কণিকাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থাকে
  3. কণিকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব কম
  4. কণিকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি
ব্যাখ্যা

- বায়বীয় পদার্থ অত্যন্ত সংকোচনশীল হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে কণিকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি 

কঠিন পদার্থ: 

- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২৯.
নিচের কোনটির জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির?
  1. ক) CH3COONa
  2. খ) NaCl
  3. গ) Na2SO4
  4. ঘ) FeCl3
ব্যাখ্যা

FeCl3  এর জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 

অপরদিকে, NaCl হল জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ এবং Na2SO4,   CH3COONa জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির।

সূত্র: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২,১৩০.
ভূপৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. ক) তামা
  2. খ) সীসা
  3. গ) দস্তা
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
অ্যালুমিনিয়াম:
- ভূপৃষ্ঠে অ্যালুমিনিয়াম ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় শতকরা ৮ ভাগ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়। 
- কিন্ত প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায় না।
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে।
- এগুলো হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩১.
পর্যায় সারণীতে কোন মৌলের অবস্থানে ব্যতিক্রমতা পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা

পর্যায় সারণীতে হাইড্রোজেনের অবস্থানে ব্যতিক্রমতা পরিলক্ষিত হয়।
আধুনিক পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনকে IA শ্রেণিতে স্থান দেয়া হয়েছে। গ্রুপ IA এর সদস্যরা তীব্র ক্ষার ধাতু, কিন্তু হাইড্রোজেন একটি অধাতু।

পর্যায় সারণীতে হাইড্রোজেনের অবস্থান:
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির অনেক ত্রুটির সংশোধন করা সম্ভব হলেও এখনও হাইড্রোজেনের স্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। 

• আধুনিক পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনকে IA শ্রেণীতে স্থান দেয়ার পক্ষে যুক্তিগুলো হলো:
i) IA শ্রেণীর অন্যান্য ক্ষার ধাতুগুলোর ন্যায় (Li-1s2 2s1) হাইড্রোজেন পরমাণুর সর্ব:বহিস্থ স্তরের (এক মাত্র শক্তি স্তরে) s অরবিটালে 1টি মাত্র ইলেকট্রন রয়েছে (H-1s1)।
ii) ক্ষার ধাতুগুলোর মতই হাইড্রোজেন তীব্র তড়িৎধনাত্নক গুণ সম্পন্ন। ঐ ধাতুগুলোর মত হাইড্রোজেন ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে ধনাত্নক আয়ন সৃষ্টি করে।
iii) ক্ষার ধাতুর মৌলগুলোর মত হাইড্রোজেনের যোজনীও এক।
iv) Li, Na ইত্যাদি ক্ষার ধাতুর মতই হাইড্রোজেন হ্যালোজেন, অক্সিজেন, সালফার ইত্যাদি অধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে যৌগ গঠন করে।
v) ক্ষার ধাতুর মত হাইড্রোজেনের তীব্র বিজারণ গুণ রয়েছে।

• অন্যদিকে VII-A শ্রেণীতে হাইড্রোজেনের স্থান সম্পর্কে নিচের যুক্তিসমূহের উল্লেখ করা যায়:
i) হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, সুতরাং হিলিয়ামের (পারমাণবিক সংখ্যা 2) ঠিক আগের শ্রেণীতে অর্থাৎ VIIA শ্রেণীতে ফ্লোরিনের উপর এর স্থান হওয়া উচিৎ।
ii) হ্যালোজেন মৌলসমূহের মত হাইড্রোজেনও দ্বি-পরমাণুক ও অধাতু। হাইড্রোজেন ফ্লোরিন ও ক্লোরিনের ন্যায় সাধারণ তাপমাত্রায় একটি গ্যাস।
iii) Si, C ইত্যাদি অধাতব মৌলের সাথে হ্যালোজেন SiX4, CX4 যৌগ উৎপন্ন করে, হাইড্রোজেনও অনুরূপ যৌগ SiH4 ও CH4 উৎপন্ন করে।
iv) Na, Ca, Al এই সব ধাতুর সাথে হ্যালোজেন বিক্রিয়া করে যথাক্রমে NaX, CaX2 এবং AIX3, প্রভৃতি হ্যালাইড উৎপন্ন করে । হাইড্রোজেনও NaH, CaH2, ও AlH3, ইত্যাদি সাদৃশ্যপূর্ণ হাইড্রাইড উৎপন্ন করে।
v) হ্যালোজেন মৌলসমূহের মতই পরবর্তী নিষ্ক্রিয় গ্যাস অর্থাৎ হিলিয়াম থেকে হাইড্রোজেনের একটি ইলেকট্রন কম থাকে।
vi) LiH সহ অন্যান্য কোন কোন ধাতুর গলিত হাইড্রাইড থেকে তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় হ্যালোজেনের মতই হাইড্রোজেন উৎপন্ন হয়ে অ্যানোডে জমা হয়।


# উপরের আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, IA ও VIIA এই উভয় শ্রেণির যে কোনটিতে হাইড্রোজেনের স্থান দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেয়া যায়। হাইড্রোজেন একটি s-ব্লক মৌল এবং প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই +1 জারণ অবস্থা প্রাপ্ত হয় বলে একে IA শ্রেণিতে স্থান দেয়া হয়।

# কোন কোন বিজ্ঞানী উভয় শ্রেণীতে হাইড্রোজেনের স্থান দেওয়ার পক্ষে যুক্তি থাকায় হাইড্রোজেনকে পর্যায় সারণির উপরে আলাদাভাবে একটি বিশেষ স্থান দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

২,১৩২.
বায়োগ্যাস তৈরির পর যে অবশিষ্টাংশ থাকে তা-
  1. সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
  2. জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা য়ায়
  3. হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
  4. কোনো কাজে লাগে না
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস: 
- গোবর ও অন্যান্য পঁচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে (অবায়বীয় অবস্থায়) পঁচানোর ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- বায়োগ্যাসে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ মিথেন থাকে, তাই একে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- মিথেন ছাড়া বায়োগ্যাসে থাকে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)।
- সাধারণত অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতায় গোবর ও অন্যান্য আবর্জনা পঁচে বায়োগ্যাস সৃষ্টি হয়।
- এ গ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট অংশ উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
[এখানে অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে সার হিসেবে ব্যবহার করাকে নেয়া হয়েছে কারণ অবশিষ্ট অংশ সার হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।] 


বায়োগ্যাস তৈরির সময় রেসিডিউ (অবশিষ্টাংশ) নিম্নলিখিত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে - 
১. উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়। 
২. মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
৩. মাশরুম চাষ করা যায়। 
৪. মুক্তা চাষে ব্যবহার করা যায়। 

উৎস: ৩৯৫ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৩.
নিচের কোনটি সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয়?
  1. অক্সালিক এসিড
  2. পামিটিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. প্রোপানোয়িক এসিড
ব্যাখ্যা

- অক্সালিক এসিড একটি ডাই-কার্বক্সিলিক এসিড, যা কোনো ফ্যাটি এসিড নয়। ফ্যাটি এসিড সাধারণত দীর্ঘ কার্বন শিকলযুক্ত মনো-কার্বক্সিলিক এসিড হয়ে থাকে। অক্সালিক এসিডের সংকেত  (COOH)2, যেখানে কোনো দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল নেই। 

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
১। সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
• প্রোপানোয়িক এসিড, 
• স্টিয়ারিক এসিড, 
• পামিটিক এসিড। 

২। অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
• অক্সালিক এসিড, 
• অলিয়িক এসিড, 
• লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

২,১৩৪.
চকচকে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে কী বলে? 
  1. উপধাতু
  2. ধাতু
  3. অধাতু
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা
- চকচকে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে ধাতু বলে।

পদার্থ: 
- সকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু।
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৫.
ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী কোনটি? 
  1. এস্টার
  2. গ্লুকোজ 
  3. ইথার
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফলের সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৬.
কোন পদ্ধতিতে গ্যাস পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বাইরে বের হয়ে যায়?
  1. ঊর্ধ্বপাতন
  2. পাতন
  3. নিঃসরণ
  4. ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে।
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে।
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক।

নিঃসরণ:
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়।
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৭.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
◉ জীবাশ্ম জ্বালানি কয়েক মিলিয়ন বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশেষ থেকে গঠিত হয়, যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম। বায়োগ্যাস জৈব বর্জ্য (গোবর, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি) পচিয়ে উৎপাদিত হয়, তাই এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস।

বায়োগ্যাস: 
- বায়োগ্যাস হল জৈব পদার্থের পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন গ্যাসীয় জ্বালানি।
- এটি মূলত মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মিশ্রণ।
- বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য, কারণ জৈব পদার্থ ক্রমাগত উৎপাদিত হতে থাকে এবং এটি পচিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়। 
- অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বর্জ্য ভেঙে মিথেন উৎপন্ন করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 
২,১৩৮.
লোহার সাথে কী মিশিয়ে ইস্পাত তৈরি করা হয়?
  1. ক) ক্রোমিয়াম
  2. খ) তামা
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যাতে মান ভেদে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে। ম্যাংগানিজ, ক্রোমিয়াম, ভ্যানাডিয়াম এবং ট্যাংস্টেন লোহার সাথে মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী যায়।
২,১৩৯.
ফরমালিন কী?
  1. ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. ফরমালডিহাইডের ৩০% জলীয় দ্রবণ
  3. ফরমালডিহাইডের ১০% জলীয় দ্রবণ
  4. ফরমালডিহাইডের ৬০% জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
• ফরমালিন:
- মিথান্যাল বা ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- ফরমালিনে শতকরা ৪0% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৮% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে।
 
এছাড়াও
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

উৎস: রসায়ন, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
২,১৪০.
প্রোটনের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. প্রোটনের ভর হাইড্রোজেনের ভরের চেয়ে বেশি।
  2. আপেক্ষিক আধান -1.
  3. প্রোটনের সংকেত n.
  4. প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে।
ব্যাখ্যা
প্রোটন:

- প্রোটন সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা।
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়।
- ইহার সংকেত H+
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান।
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24g ও 1.60×10-19 C
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক।
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P
- আপেক্ষিক আধান +1

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪১.
কোনটি পানিতে অদ্রবণীয়?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক:

- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।

- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH)4 OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।

- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,১৪২.
রাজঅম্লে কোন এসিড থাকে না?
  1. ক) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. খ) নাইট্রিক অ্যাসিড
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) সবগুলোই থাকে
ব্যাখ্যা
১ মোল নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCL) এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে।
স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 

Aqua regia dissolves gold, though neither constituent acid will do so alone, because, in combination, each acid performs a different task.
Nitric acid is a powerful oxidizer, which will actually dissolve a virtually undetectable amount of gold, forming gold ions (Au3+). The hydrochloric acid provides a ready supply of chloride ions (Cl-), which react with the gold ions to produce chloroaurate anions, also in solution.

Source: MIT
২,১৪৩.
কোনো পদার্থের এক মোলের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপকে কী বলা হয়? 
  1. আপেক্ষিক সুপ্ততাপ 
  2. সুপ্ততাপ 
  3. আপেক্ষিক তাপ 
  4. মোলার আপেক্ষিক তাপ 
ব্যাখ্যা

গ্যাসের মোলার আপেক্ষিক তাপ: 
- কোনো পদার্থের এক মোলের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপকে মোলার আপেক্ষিক তাপ বলে
- কোনো পদার্থের এক মোলের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপকে ঐ পদার্থের মোলার আপেক্ষিক তাপ বা মোলার তাপীয় ক্ষমতা বলে।
- তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য পদার্থের চাপ এবং আয়তনের পরিবর্তন ঘটে।
- চাপ স্থির রেখে এক মোল গ্যাসের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপশক্তিকে স্থির চাপে গ্যাসের মোলার আপেক্ষিক তাপ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৪.
ডায়মন্ডের কঠোরতার প্রধান কারণ কী?
  1. দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ
  2. কার্বন পরমাণুর শক্তিশালী কোভালেন্ট বন্ধন
  3. ভ্যান ডার ওয়ালস বল
  4. হাইড্রোজেন বন্ধন
ব্যাখ্যা
- ডায়মন্ড হলো কার্বনের একটি স্ফটিক রূপভেদ, যা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন পদার্থ হিসেবে পরিচিত।
- এর কঠোরতার প্রধান কারণ হলো কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শক্তিশালী কোভালেন্ট বন্ধন।

• কোভালেন্ট বন্ধন:
- প্রতিটি  কার্বন পরমাণু তার চারটি ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের মাধ্যমে চারটি অন্যান্য কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তিশালী C-C কোভালেন্ট বন্ধন তৈরি করে।
- ফলে এটি একটি ত্রিমাত্রিক (3D) জালিকা কাঠামো তৈরি করে।
- এই বন্ধনগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী, তাই ডায়মন্ড খুব কঠিন এবং এটি সহজে ভাঙে না বা চ্যাপ্টা হয় না।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,১৪৫.
চতুর্থ শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা রয়েছে?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ১৮ টি
  4. ঘ) ৩২ টি
ব্যাখ্যা
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়।
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n² । যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
এ সূত্রানুসারে,
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1, অতএব
K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n² = ( 2 x 1²) টি = 2 টি
- দ্বিতীয় বা L শক্তিস্তরের জন্য n = 2, অতএব
L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n² = ( 2 x 2²) টি = 8 টি
- তৃতীয় বা M শক্তিস্তরের জন্য n = 3, অতএব
M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n² = ( 2 x 3²) টি = 18 টি
- চতুর্থ বা N শক্তিস্তরের জন্য n = 4, অতএব
N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n² = ( 2 x 4²) টি = 32 টি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১৪৬.
খর পানিতে উত্তম ফেনা তৈরি করে কোনটি? 
  1. সাবান
  2. ইমালশান
  3. লবণ
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৭.
জৈব রসায়নের জনক-
  1. ক) জাবির ইবনে হায়ান
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) ফ্রেডারিক উহলার
  4. ঘ) রবার্ট বয়েল
ব্যাখ্যা

- রসায়নের যে শাখায় হাইড্রোকার্বন ও হাইড্রোকার্বনের বিভিন্ন জাতক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয় তাকে জৈব রসায়ন বলে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত দ্বিমৌল যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।
- ফ্রেডারিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।
- জৈব বস্তুর সম্পূর্ণ দহনে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়।

২,১৪৮.
জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণার শাস্ত্রকে কী বলা হয়?
  1. Paleontology
  2. Archaeology
  3. Fossilogy 
  4. Anthropology
ব্যাখ্যা

- প্যালিওন্টোলজি (Paleontology) হলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে জীবাশ্ম বা ফসিল (fossil) নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়নের শাস্ত্র

জীবাশ্ম: 

- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- Paleobotany হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়, এটি জীবাশ্মবিদ্যার (Paleontology) একটি উপশাখা। 

অন্যদিকে, 
- Fossilogy শব্দটি বিজ্ঞানে প্রচলিত বা স্বীকৃত কোনো শাখা নয়। 
- Archaeology হলো প্রাচীন মানুষের বস্তু, স্থাপনা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা। 
- Anthropology হলো মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার শাস্ত্র।। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।

২,১৪৯.
নিচের কোন ধাতু ইলেকট্রোপ্লেটিংয়ে সাধারণত ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক্রোমিয়াম
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. লোহার অক্সাইড
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,১৫০.
কোনটি হ্যালোজেন মৌল নয়? 
  1. আয়োডিন
  2. ব্রোমিন
  3. আর্গন
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫১.
সালফিউরিক এসিডে সালফার এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. ক) - ৬
  2. খ) + ২
  3. গ) - ২
  4. ঘ) + ৬
ব্যাখ্যা
ধরি, H2SO4 এ সালফারের জারণ সংখ্যা x 

অতএব, (+ 1) 2 + x + (- 2) × 4 = 0
⇒ 2 + x - 8 = 0
∴ x = + 6

সালফারের জারণ সংখ্যা +6

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি 
২,১৫২.
চুনের পানিতে লিটমাস পেপার ডুবালে কী হয়?
  1. ক) লাল লিটমাস নীল হয়
  2. খ) নীল লিটমাস লাল হয়
  3. গ) লাল লিটমাস সাদা হয়
  4. ঘ) নীল লিটমাস কালো হয়
ব্যাখ্যা
CaO + H2O = Ca(OH)2
ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি --> ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
Ca(OH)2, স্ন্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে। স্ন্যাক লাইম বা Ca(OH)2, পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
আর, পানিতে Ca(OH)2, এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়।

লিটমাস পেপার এসিডে ডুবালে নীল লিটমাস লাল হয়।
আবার, ক্ষারকের দ্রবণে ডুবালে লাল লিটমাসকে নীল করে।

চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার ক্ষারকীয় দ্রবণ। তাই এতে লিটমাস পেপার ডুবালে লাল লিটমাস নীল হবে।
২,১৫৩.
জিঙ্ক সালফেটকে কী বলা হয়?
  1. ব্লু ভিট্রিওল
  2. হোয়াইট ভিট্রিওল
  3. চাইনিজ হোয়াইট
  4. গ্রিন ভিট্রিওল
ব্যাখ্যা
• জিঙ্ক সালফেটকে বলা হয় হোয়াইট ভিট্রিওল।

• হোয়াইট ভিট্রিওল:
- জিঙ্ক সালফেট একটি অজৈব লবণ, যা হোয়াইট ভিট্রিওল নামে পরিচিত। এর রাসায়নিক সংকেত ZnSO4·7H2O।

• "ভিট্রিওল" শব্দটি ল্যাটিন vitriolum (কাচের মতো) থেকে এসেছে, কারণ এই লবণগুলি কাচের মতো স্বচ্ছ স্ফটিক গঠন করে।

অন্যদিকে,
• ব্লু ভিট্রিওল (কপার সালফেট):  

- আর্দ্র কপার সালফেটকে বলা হয় ব্লু ভিট্রিওল। 
- এর রাসায়নিক সংকেত CuSO4·5H2O
- এটি সাধারণত ছত্রাকনাশক, কীটনাশক এবং ইলেক্ট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহৃত হয়।

• গ্রিন ভিট্রিওল :  
- আর্দ্র ফেরাস সালফেটকে বলা হয় গ্রিন ভিট্রিওল। এর রাসায়নিক সংকেত FeSO4·7H2O।
- এটি একটি সবুজ রঙের স্ফটিক।
- এটি আয়রনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং কিছু শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

• চাইনিজ হোয়াইট:
- জিঙ্ক অক্সাইড ZnO কে চাইনিজ হোয়াইট বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২,১৫৪.
কোন কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হবে?
  1. ক) কপার
  2. খ) আয়রন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) বরফ
ব্যাখ্যা
যে সকল কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাদেরকে উদ্বায়ী পদার্থ বলে। যেমন আয়োডিন, নিশাদল, কর্পূর, ন্যাপথালিন, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২,১৫৫.
রাদারফোর্ডের কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণুর কেন্দ্রের অস্তিত্ব জানা যায়? 
  1. β কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  2. α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  3. ∞ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  4. γ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল: 
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড 1911 সালে α-কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা শেষে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল উপস্থাপন করেন। সেটি হলো- 

i. পরমাণুর দুটি অংশ একটি নিউক্লিয়াস এবং অপরটি নিউক্লিয়াসের বাইরের অংশ।
ii. পরমাণু প্রায় সমস্ত ভর পরমাণুর আয়তনের তুলনায় খুব সূক্ষ্ম স্থানে পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। পরমাণুর কেন্দ্রের এ সূক্ষ্ম অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। নিউক্লিয়াসের আকার গোলাকার এবং ব্যাস 10-12 10-13 cm এর মধ্যে।
iii. ভারী ধনাত্মক আধান যুক্ত কণা প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত নগণ্য। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে।
iv. পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। পরমাণুতে ধনাত্মক আধান যুক্ত প্রোটনের সংখ্যা ও ঋণাত্মক আধান যুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। একটি প্রোটন যে পরিমাণ ধনাত্মক আধান বহন করে, একটি ইলেকট্রন ঠিক ঐ একই পরিমাণ ঋণাত্মক আধান বহন করে।
v. নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতগতিতে আবর্তন করে।

• রাদারফোর্ড পরমাণুর মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করা হয়। কারণ-
- রাদারফোর্ড তাঁর পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষ পথে বিভিন্ন গ্রহগুলো যেভাবে পরিভ্রমণ করে ঠিক একইভাবে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষপথে তীব্র বেগে পরিভ্রমণ করে।
- তাঁর ধারণা মতে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের মধ্যে বিদ্যমান স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং অপরটি ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল।
- এ দুই প্রকার বলের মান পরস্পর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী।
- তাই বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করেন।

তথ্যসূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,১৫৬.
অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে? 
  1. রাদারর্ফোড
  2. এডিসন
  3. জোসেফ প্রিস্টলে
  4. ভ্যান হেলমন্ট
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। 
- অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক। 

অন্যদিকে, 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন। 
- জ্যান ভ্যান হেলমন্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার অগ্রণী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, সাধারণত "willow tree experiment" হিসাবে পরিচিত। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে উদ্ভিদ প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মাটির চেয়ে মূলত পানি থেকে তাদের ভর অর্জন করে, উদ্ভিদের দেহতত্ত্ব এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানির ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং ব্রিটানিকা।
২,১৫৭.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) বিজারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) জারক
  4. ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,১৫৮.
কয়লার মূল উপাদান কোনটি?
  1. O
  2. C
  3. Ca
  4. Na
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা- ১। অ্যানথ্রাসাইট,  ২। বিটুমিনাস এবং ৩। লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৫৯.
পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কোনটি?
  1. বায়বীয়
  2. কঠিন
  3. গ্যাসীয়
  4. তরল
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬০.
পরমাণুর অস্থায়ী কণিকার উদাহরণ কোনটি?
  1. নিউট্রন
  2. নিউট্রিনো
  3. ইলেকট্রন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের। 
যেমন- 
(১) স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

(২) অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

(৩) কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬১.
ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখায় কোন মৌলটি?
  1. ক) Zn
  2. খ) Cr
  3. গ) Fe
  4. ঘ) Ca
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখায় Cr মৌলটি। 

• ইলেকট্রনের প্রবেশক্রম অনুসারে Cr এর ইলেকট্রন বিন্যাস হওয়ার কথা ছিলো- Cr(24) = 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2.
-  কিন্তু প্রচলিত নিয়মানুযায়ী অরবিটাল গুলো পূর্ণ বা অর্ধপূর্ণ অবস্থায় অধিক স্থিতিশীল হয়। তাই শেষদিকে শুধু একটি অরবিটাল (4s) পূর্ণ রাখার চেয়ে, দুটি অরবিটাল (3d, 4s) অর্ধপূর্ণ রাখলে ক্রোমিয়াম অধিকতর সুস্থিতি অর্জন করে।
- এই সুস্থিতি অর্জন করতেই ক্রোমিয়াম সাধারণ নিয়ম ভঙ্গ করে 4s থেকে একটি ইলেকট্রন 3d-তে পাঠিয়ে দেয় এবং নিম্নোক্ত বিন্যাস অর্জন করে: Cr(24) = 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d5 4s1.
- ফলে ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬২.
খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য কোন লবণ ব্যবহৃত হয় যা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে পরিচিত?
  1. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৬৩.
হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনটি নেই?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H এবং সংকেত H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৬৪.
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ক) ১৮ ভাগ
  2. খ) ২২ ভাগ
  3. গ) ২৫ ভাগ
  4. ঘ) ২৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫% গাছপালা-বন থাকা দরকার। [সূত্র: ais.gov.bd]
২,১৬৫.
প্রাকৃতিক রাবার কোন জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয় নয়?
  1. এসিটোন
  2. পেট্রোল
  3. বেনজিন 
  4. ইথার
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। যেমন- এসিটোন (acetone) এবং মিথানলের (methanol) মতো জৈব দ্রাবকে প্রাকৃতিক রাবার অদ্রবণীয়। 

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার ইরেজার এক ধরনের রাবার। সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি রাবারের তৈরি। পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপলও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৬৬.
জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান কোনটি?
  1. ১০
  2. ১৪
  3. ২০
ব্যাখ্যা
• জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান 14 এবং pH এর সর্বনিম্ন মান 0.

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয় 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৭.
ঘনত্বের S.I একক কী? 
  1. g/mL
  2. kg/m3
  3. kg/L
  4. g/cm3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব (Density): 
- একই আয়তনের সকল পদার্থের ভর সমান নয়, তাই পদার্থের একক আয়তনের ভরকে তার ঘনত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
যেমন- দশ একক আয়তনের বস্তুর ভর বিশ একক হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব দুই একক। 
অর্থাৎ, বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V  । 
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m3), তাই ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)
- ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার (সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা g/cm3) বহুল প্রচলিত, এটি S.I এককের উপগুণিতক। 

- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3  । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৮.
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তি কী করে? 
  1. বাড়ে
  2. কমে যায়
  3. শূন্য হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৬৯.
কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল?
  1. সালফার
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. মার্কারী
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- পারদ (Hg - মার্কারী) একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০।
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস।
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে।
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭০.
কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
  1. ইউরিয়া
  2. কয়লা
  3. জিপসাম
  4. বিটুমিন
ব্যাখ্যা

• জিপসাম (CaSO4.2H2O) হলো সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল।

- সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামালসিমেন্ট শিল্পের সহায়ক উপাদানসমূহ:
- চুনাপাথর, কাদামাটি, জিপসাম প্রভৃতি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- যেসব দেশে এসব উপাদান বেশি পাওয়া যায় সেসব দেশ সিমেন্ট শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে এসব কাঁচামালের অভাব রয়েছে।
- ফলে এদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।
 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,১৭১.
সুষম খাদ্যের উপাদান-
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য।
- সুষম খাদ্যের উপাদান হচ্ছে ৬টি।
- এগুলো হলোঃ
১. শর্করা বা শ্বেতসার,
২. আমিষ বা প্রোটিন,
৩. ফ্যাট বা চর্বি,
৪. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ,
৫. খনিজ লবণ ও
৬. পানি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৭২.
Which of the following is not a metal?
  1. Gold
  2. Diamond
  3. Silver
  4. Copper
  5. None of these
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার (Silver), গোল্ড (Gold), কপার (Copper) ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু। 
- আবার কার্বন (গ্রাফাইট ও হীরক-Diamond), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ই্যাদি হচ্ছে অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১৭৩.
পটাশ অ্যালামের অপর নাম কী? 
  1. ব্লিচিং পাউডার
  2. বেকিং সোডা
  3. চুন
  4. ফিটকিরি
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

অন্য অপশনগুলো-
ক) ব্লিচিং পাউডার - Ca(OCl)2, আলাদা রাসায়নিক পদার্থ।
খ) বেকিং সোডা - NaHCO3, রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
গ) চুন - CaO বা Ca(OH)2, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭৪.
অম্লীয় মাটির pH কত হলে গাছপালা জীবিত থাকতে পারে না?
  1. 3
  2. 6
  3. 7
  4. 9
ব্যাখ্যা

• গাছপালা সাধারণত মধ্যম বা হালকা অম্লীয় মাটিতেই ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। মাটির pH যদি অত্যন্ত অম্লীয় হয়, যেমন pH ৩, তাহলে মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম গাছের জন্য গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকে না। এছাড়া, অতিরিক্ত অম্লত্ব অনেক ধরনের ক্ষতিকারক ধাতু যেমন অ্যালুমিনিয়ামকে দ্রবীভূত করে, যা গাছের মূলের ক্ষতি করতে পারে। ফলে গাছপালা যথাযথভাবে বৃদ্ধি পায় না বা মৃত্যুবরণ করতে পারে। অন্যদিকে, pH ৬, ৭ বা ৯-এর মাটি সাধারণত গাছপালার জীবনের জন্য সহনীয় এবং পুষ্টি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। তাই অত্যন্ত অম্লীয় মাটিতে (pH ৩) গাছপালা বাঁচতে পারে না।

- সঠিক উত্তর: ক) 3

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- অম্লীয় মাটিতে pH 4.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা মারা যায়। pH 5.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭৫.
কোনটি তরল ধাতু হিসেবে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. পারদ
  4. ওসমিয়াম
ব্যাখ্যা
কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
• সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।
• সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
• সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
• উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
• লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
• লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
• সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
• সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম (Na) ধাতুকে ব্যবহার করা হয়।
• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি থাকে অ্যালুমিনিয়াম (Al) ধাতু (ভূত্বকের প্রায় ৭%)।
• কাস্ট আয়রন/ ঢালাই লোহা: এটি সবচেয়ে অবিশুদ্ধ লোহা, এতে প্রায় ২-৪.৫% কার্বন থাকে।
• ইস্পাত বা স্টিল: এতে লোহার সাথে ০.১৫- ১.৫% কার্বন থাকে।
• অ্যান্টমনি ধাতুকে আঘাত করলে শব্দ হয় না।
• মুদ্রা ধাতু: তামা বা কপার, সিল্ভার, গোল্ড ইত্যাদি।
• কালো সোনা: জিরকন, ম্যাগনেটাইট, ইলমোনাইট, কোরান্ডাম, মোনানজাইট, রিটাইল প্রভৃতির সমন্বয়ে গঠিত মূল্যবান খলিজ কালো সোনা নামে পরিচিত।
• পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী ধাতু- ওসমিয়াম (প্লাটিনাম জাতীয়)।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
২,১৭৬.
এসিডের ভুল উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ভিনেগার বা বেকিং সোডা এসিড জাতীয়
  2. খ) আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক
  3. গ) টুথপেস্ট এসিড জাতীয়
  4. ঘ) সার তৈরিতে এসিড ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা
১. ভিনেগার বা বেকিং সোডা এসিড জাতীয়।
২. বাজারে মুখ ধােয়ার জন্য যেসব প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়, তাতে লেখা থাকে pH-এর মান ৫.৫। এর কারণ আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক হয় এবং এর pH ৪-৬ এর মধ্যে থাকে। তবে নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান ৭ এর কাছাকাছি থাকে। তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহৃত হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযােজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
৩. টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার আমাদের নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত আমাদের মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রােধ হয়।
৪. ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলাে অতি প্রয়ােজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে আমরা যেগুলাে ব্যবহার করি তার অন্যতম হলাে অ্যামােনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামােনিয়াম সালফেট ও অ্যামােনিয়াম ফসফেট। আর সার কারখানায় এগুলাে তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিড দিয়ে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭৭.
পাইপলাইনের কোথাও ছিদ্র হয়ে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. দহন
  2. বিকিরণ
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
১। রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
২। পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
৩। শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
১। কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
২। রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৩। ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৮.
কোনটি কার্বনের কঠিন ক্রিস্টালাইন রূপ?
  1. অরূপ কার্বন
  2. কার্বন ন্যানোটিউব
  3. ডায়ামন্ড
  4. কাচ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ডায়ামন্ড

Carbon-এর বৈশিষ্ট্য
- পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে ১৯তম সর্বাধিক প্রচুর মৌল।
- মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নিয়ন ও নাইট্রোজেনের পরেই কার্বন প্রচুর।
- মহাকাশে হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের ফিউশন থেকে কার্বন তৈরি হয়।

কার্বনের রূপ
- Crystalline forms: Diamond, Graphite.
- Fullerenes: Buckyballs, Nanotubes.
- Q-carbon: নতুন ক্রিস্টালাইন ও চৌম্বকীয় রূপ। 
- Amorphous carbon: কোনো নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন নেই। 
- অন্যান্য: Carbon black, Charcoal, Coke.

ব্যবহার
- Coal ও Coke: জ্বালানি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- Charcoal: শোষণকারী পদার্থ, ফিল্টার, জ্বালানি, গানপাউডারে হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
- Carbon black: কালি, রং, রাবার (টায়ার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
- Bone black (Animal charcoal): গ্যাস ও রং শোষণ এর কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২,১৭৯.
প্রমাণ চাপে বরফ কোন তাপমাত্রায় গলে যায়?
  1. ক) ০° সেলসিয়াস
  2. খ) ৪° সেলসিয়াস
  3. গ) ২৫° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্ত শীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 

পানির রাসায়নিক গঠন: 
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। 
- পানির আনবিক সংকেত H2O এবং আণবিক ভর ১৮। 

গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
- অর্থাৎ পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- অর্থাৎ পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার অর্থাৎ ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৮০.
নিচের কোন আয়নটি শিখা পরীক্ষায় সোনালী হলুদ বর্ণ দেখায়?
  1. ক) Na
  2. খ) K
  3. গ) Ca
  4. ঘ) Cu
ব্যাখ্যা
- প্রত্যেক মৌলের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রেখা বর্ণালী আছে।
- বর্ণালীর প্রতি রঙিন রেখা নির্দিষ্ট তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যের বা নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলো শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত।
- তাই বিভিন্ন উদ্বায়ী ধাতব ক্লোরাইডকে বুনসেন বার্নারের শিখায় উত্তপ্ত করলে বিভিন্ন ধাতব আয়ন বিভিন্ন বর্ণযুক্ত শিখা সৃষ্টি করে।
যেমন-
সোডিয়াম আয়ন থেকে সোনালী হলুদ
• পটাশিয়াম আয়ন থেকে হালকা বেগুনি এবং 
• ক্যালসিয়াম আয়ন থেকে ইটের মত লাল শিখা উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
২,১৮১.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. পানিতে ধৌতকরণ
  3. রং করা
  4. গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
• পানিতে ধৌতকরণ ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতুর ক্ষয়:

- ধাতু যখন বাতাসের অক্সিজেন, আর্দ্রতা বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তাকে ধাতুর ক্ষয় বলা হয়।

• এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ধাতু বাতাসের অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প, বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজড (জারিত) হয় এবং ক্ষয়ে যায়। 
- এটিকে মরিচা পড়া বা ক্ষয়ে যাওয়া বলা হয়। 

• ধাতুর ক্ষয় বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:  
→ রাসায়নিক বিক্রিয়া:
- যখন ধাতু বাতাসের অক্সিজেন বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা ধাতুর ক্ষয় ঘটায়।
→ বায়ু দূষণ:
- বায়ু দূষণের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টি বা অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ ধাতুর সংস্পর্শে এলে, তা দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
(i) রং করা,
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং,
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।

• ধাতু বা সংকর ধাতু যদি বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে তবে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
 • কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না। কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়। যথা-ইলেকট্রোপ্লেটিং ও গ্যালভানাইজিং।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,১৮২.
নিচের কোনটি কার্বনের চৌম্বকীয় রূপ?
  1. হীরা
  2. ফুলারিন
  3. কার্বন ব্ল্যাক
  4. Q-কার্বন
ব্যাখ্যা

Q-কার্বন হচ্ছে কার্বনের একটি চৌম্বকীয় রূপ। 

কার্বনের বিভিন্ন রূপ
কার্বনের বিভিন্ন রূপ রয়েছে এবং প্রতিটি রূপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিচে কয়েকটি রূপ আলোচনা করা হলো:

হীরা
- এটি কার্বনের একটি রূপ যা খুব কঠিন।
- হীরা সাধারণত অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফাইট
- এটি কার্বনের আরেকটি রূপ যা নরম এবং পিচ্ছিল।
- এটি পেন্সিল এবং পিচ্ছিলকারক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ফুলারিন
- এটি কার্বনের একটি রূপ যা C₆₀ নামক অণু দ্বারা গঠিত।
- এই অণুগুলো দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো।

কার্বন ন্যানোটিউব
- এগুলো হলো কার্বনের নলাকার গঠন।
- ন্যানোপ্রযুক্তি এবং নতুন যৌগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

Q-কার্বন
- এটি কার্বনের একটি কঠিন এবং চৌম্বকীয় রূপ।

অরূপ কার্বন
- এই কার্বনের কোনো নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন নেই।
- উদাহরণ: কার্বন ব্ল্যাক, কাঠকয়লা এবং কোক।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২,১৮৩.
সালফার-ট্রাই-অক্সাইড এর সংকেত কোনটি?
  1. ক) H2O
  2. খ) SO3
  3. গ) H2SO4
  4. ঘ) O2
ব্যাখ্যা
H2O-পানি, SO3-সালফার-ট্রাই-অক্সাইড, H2SO42-অক্সিজেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,১৮৪.
নিচের কোনটিকে মৌলিক কণিকা বলা হয়? 
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন 
  3. নিউট্রন 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮৫.
দ্রবণের pH মান কোন সীমার মধ্যে থাকে?
  1. 0 থেকে 7 এর মধ্যে
  2. 0 থেকে 14 এর মধ্যে
  3. 7 থেকে 14 এর মধ্যে
  4. 6 থেকে 14 এর মধ্যে
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। 
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৬.
প্রশমন বিক্রিয়া একটি -
  1. তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া
  2. তাপহারি বিক্রিয়া
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৮৭.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ৮ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণি (Periodic Table):
- পর্যায় সারণি হলো এমন একটি সারণি, যেখানে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য-
- পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি রয়েছে।
- সারণিতে ১৮ টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বাম দিকে গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

২,১৮৮.
কোনটি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. রাবার
  3. লোহা
  4. রূপা
ব্যাখ্যা
• সুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
- যেমন- লোহা, তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

• কুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
- যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, রাবার, কাঁচ, পাস্টিক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৮৯.
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা -
  1. ক) হিগস-বোসন
  2. খ) ফোটন
  3. গ) পজিট্রন
  4. ঘ) মেসন
ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা হলো হিগস-বোসন ।
- ২০১২ সালের ৪ জুলাই LHC (Large Hadron Collider ) এর বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছিলেন যে তারা একটি আকর্ষণীয় সংকেত সনাক্ত করেছেন যা সম্ভবত হিগস বোসন থেকে।

সূত্র- ব্রিটানিকা
২,১৯০.
নিচের কোনটি পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য -
  1. মাটির অনেক গভীরে থাকে
  2. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
  3. শুষ্ক এবং শক্ত
  4. ভিজা ও নরম
ব্যাখ্যা
পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্নমানের কয়লা।
যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়।
পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে।

উৎসঃ রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৯১.
1 atm = কত প্যাসকেল?
  1. 1.01325 × 102
  2. 1.01325 × 10- 2
  3. 1.01325 × 10- 5
  4. 1.01325 × 105
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- গ্যাসপাত্রে গ্যাসের অণুসমূহ অবিরত ইতস্তত ছুটাছুটি করার ফলে গ্যাস পাত্রের একক ক্ষেত্রফলের ওপর গ্যাস অণুসমূহ যে বল প্রয়োগ করে, তাকে গ্যাসের চাপ বলে। 
- বহুকাল থেকে গ্যাসের চাপের একক বায়ুচাপ বা বায়ুমণ্ডল বা অ্যাটমসফিয়ার (atmosphere, সংক্ষেপে atm) ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
- ০°C তাপমাত্রায় 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে যে পরিমাণ বায়ুচাপ 760 mm পারদ স্তম্ভের চাপের সমান হয়, তাকে এক বায়ুমণ্ডল চাপ বা এক বায়ুচাপ (atm) বলে।
- মি.মি. পারদ mm (Hg) এককেও চাপ প্রকাশ করা হয়। 
- বিজ্ঞানী টরিসেলির (E.Torricelli) নামানুসারেও নিম্নচাপের ক্ষেত্রে টর (torr) একক ব্যবহৃত হয়। 
∴ 1 torr = 1 mm (Hg)। 
- সাধারণভাবে বিভিন্ন গণনার কাজে চাপের একক atm, mm (Hg) বা torr ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে S.I এককে গ্যাসের চাপ নিম্নরূপে প্রকাশ করা হয়। 
- S.I এককে গ্যাসের চাপকে নিউটন/মিটার2 বা প্যাসকেল (Pa) এককে প্রকাশ করা হয়। 
- প্রতি বর্গমিটারে এক নিউটন বলকে প্যাসকেল (Pascal) বলা হয়।
[1Pa = 1 Nm-2 [Nm-2 = kgms-2.m-2 = kgm-1.s-2]. 

1 বায়ুমণ্ডল চাপ = 1 atm = 0.76 m (Hg) স্তম্ভের ভর। 
= 0.76 m x (13.5951 x 103 kgm-3) x 9.80665 ms-2
1 atm = 101.325 x 103 Nm-2 = 101.325 × 103 Pa = 101.325 kPa. 
1 atm = 101.325 kPa = 1.01325 × 105 Pa = 1.01325 × 105 Nm-2 = 760 mm (Hg). 

চাপের বিভিন্ন এককের সম্পর্ক: 
- গ্যাসের চাপকে নিম্নোক্ত বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 
1 atm = 76.0 cm (Hg) = 760 mm (Hg) = 101.325 kPa = 101.325× 103 Pa = 760 torr = 1 bar. 
উল্লেখ্য,
- S.I এককে যে পরিমাণ বল এক কিলোগ্রাম ভর বিশিষ্ট কোন বস্তুর ওপর প্রযুক্ত হয়ে এক মিটার/(সেকেন্ড)2 ত্বরণ সৃষ্টি করে, তাকে এক নিউটন (N) বলে। 
∴ 1 N বল = 1 kgms-2

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,১৯২.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) পটাশ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) সবুজ সার
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামােনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয় এবং অ্যামােনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন করা হয়।
তাই উদ্ভিদ খাদ্য উপাদান হিসেবে ইউরিয়া সার হতে নাইট্রোজেনই গ্রহণ করে।
ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেন থাকে ৪৬%।

২,১৯৩.
ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের ___।
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার 
ব্যাখ্যা

• ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন পরমাণুগুলোকে বলা হয় আইসোবার। 

আইসোবার:
- এটি হলো সেই পরমাণু বা নিউক্লিয়াস, যেগুলোর ভর সংখ্যা (A) সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা (Z) এবং নিউট্রন সংখ্যা (N) ভিন্ন।
- অর্থাৎ, এগুলোতে মোট নিউক্লিয়ন সংখ্যা একই থাকলেও, মৌলিক পরিচয় বা পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা।
- এই কারণে সমপরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ:
- 14C (কার্বন-14) এবং 14​N (নাইট্রোজেন-14)।
- উভয়ের ভর সংখ্যা 14 সমান।
- কার্বনের প্রোটন সংখ্যা 6 এবং নিউট্রন সংখ্যা 8।
- নাইট্রোজেনের প্রোটন সংখ্যা 7 এবং নিউট্রন সংখ্যা 7।
- তাই এগুলো আইসোবার।

• অপশন আলোচনা:
আইসোটোপ: প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 12C ও 14C.
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 14C ও 15N.
আইসোমার: একই নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন উত্তেজিত বা স্থিতিশীল অবস্থার পার্থক্য।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯৪.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমার নয়?
  1. টেফলন
  2. নাইলন
  3. স্টার্চ
  4. পলিস্ট্যারিন
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা - 

১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল-আলু এ সব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৫.
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিড বিক্রিয়া করলে কী উৎপন্ন হয়? 
  1. অক্সাইড ও গ্যাস 
  2. ক্ষার ও পানি 
  3. লবণ ও পানি 
  4. লবণ ও হাইড্রোজেন 
ব্যাখ্যা

এসিড (Acid): 
- রাসায়নিক দ্রব্যাদির মধ্যে এসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এসিড এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য যা পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে (ভেঙে) হাইড্রোজেন আয়ন বা প্রোটন (H+) দান করে। 
যেমন- 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এরা তীব্র এসিড; অতএব, এরা জলীয় দ্রবণে নিম্নরূপে বিয়োজিত হয়- 
• HCl(aq) → H+(aq) + Cl-(aq) 
• H2SO4(aq) → 2H+(aq) + SO42-(aq) 
- কার্বনিক এসিড (H2CO3), এসিটিক এসিড (CH3COOH) এরা মৃদু এসিড; অতএব, এরা জলীয় দ্রবণে নিম্নরূপে বিয়োজিত হয়- 
• H2CO3(aq) ⇔ 2H+(aq) + CO32-(aq) 
• CH3COOH(aq) ⇔ H+(aq) + CH3COO-(aq) 

- এসিড ও পানির দ্রবণে এসিডের পরিমাণ যদি বেশি থাকে তবে তাকে গাঢ় এসিড বলে। আবার, এসিডের জলীয় দ্রবণে পানির পরিমাণ যদি এসিডের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে তাকে লঘু এসিড বলে।
- এসিড টক স্বাদযুক্ত। 
- এসিড দ্রবণ নীল রঙের লিটমাস পেপারকে লাল রঙের লিটমাস পেপারে রূপান্তরিত করে। 
- এসিড ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
• CaO + 2HCl  → CaCl2 + H2
- এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে। 
• 2Na + 2HCl → 2NaCl + H2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯৬.
2NaOH + H₂SO₄ বিক্রিয়ায় কী কী উৎপন্ন হয়?
  1. Na2SO₄ ও 2H2O
  2. NaO2 ও 2H2
  3. Na2SO4 ও 2H2
  4. NaOH ও 2SO2
ব্যাখ্যা

2NaOH + H₂SO₄ বিক্রিয়ায় Na₂SO₄ ও 2H₂O উৎপন্ন হয়। 

এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া (প্রশমন বিক্রিয়া)
- আমরা জানি, এসিড জলীয় দ্রবণে H⁺ আয়ন দান করে এবং ক্ষার জলীয় দ্রবণে OH⁻ আয়ন দান করে।
- তাই, এসিড ও ক্ষার একত্রে মিশ্রিত হলে এসিডের H⁺ এবং ক্ষারের OH⁻ বিক্রিয়া করে পানি উৎপন্ন করে।
- উদাহরণ: HCl পানিতে H⁺ দেয় এবং NaOH পানিতে OH⁻ দেয়। এই দ্রবণ দুটিকে একত্রিত করলে পানি উৎপন্ন হয়।

এসিড-ক্ষার সমতা
- এসিডের বাকি ঋণাত্মক আয়ন Cl⁻ এবং ক্ষারের ধনাত্মক আয়ন Na⁺ বিক্রিয়া করে লবণ (NaCl) উৎপন্ন করে।
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। কারণ, এই বিক্রিয়ায় এসিড তার এসিডত্ব এবং ক্ষার তার ক্ষারকত্ব হারায় এবং প্রশম পদার্থ লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

উদাহরণসমূহ:
2NaOH(aq) + H₂SO₄(aq) → Na₂SO₄(aq) + 2H₂O(l)
- এক মোল সালফিউরিক এসিড দুই মোল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করে।
- এটি প্রমাণ করে যে, কোনো নির্দিষ্ট এসিডের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অপর কোনো নির্দিষ্ট ক্ষারের নির্দিষ্ট পরিমাণকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করতে পারে।

NaOH(aq) + HCl(aq) → NaCl(aq) + H₂O(l)
- এখানে এক মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড এক মোল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করে।
- দুই মোল HCl দুই মোল NaOH কে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করবে।

উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,১৯৭.
নিচের কোন গ্যাসটির ব্যাপনের হার সবচেয়ে কম?
  1. সালফার
  2. কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
♦ ব্যাপন:
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিকতর ঘনস্থান হতে কম ঘন স্থানে বিস্তার লাভ প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম সে গ্যাসের ব্যাপন হার তত বেশি হয়।
- বিপরীতভাবে যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি সে গ্যাসের ব্যাপন হার তত কম হয়। 
• অক্সিজেনের আণবিক ভর ৩২
• কার্বন ডাই অক্সাইডের আণবিক ভর ৪৪
• ক্লোরিনের আণবিক ভর ৭০
• সালফারের আণবিক ভর ৬৪

- ক্লোরিনের আণবিক ভর সবচেয়ে বেশি, তাই ক্লোরিনের ব্যাপনের হারও সবচেয়ে কম হবে।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৮.
ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২ হলে, Mg2+ এর ইলেক্ট্রন সংখ্যা কত?
  1. ১৬
  2. ১৪
  3. ১২
  4. ১০
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
• আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।

• কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা।
অর্থাৎ,
ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।

- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২।
- অর্থাৎ ম্যাগনেসিয়ামের ইলেট্রন সংখ্যা ১২।
- Mg2+ এর মানে হচ্ছে - ম্যাগনেসিয়াম ২টি ইলেক্ট্রন ত্যাগ করেছে।
- তাই, Mg2+ এর ইলেক্ট্রন সংখ্যা ১০।

সূত্র: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
২,১৯৯.
কার্বনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপে প্রোটন কতটি?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) কোনটাই না
ব্যাখ্যা
৬ টি প্রোটন এবং ৮ টি নিউট্রন সমৃদ্ধ কার্বনের C14 আইসোটোপটি তেজস্ক্রিয়।উল্লেখ্য যে প্রোটন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে আইসোটোপে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,২০০.
সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়? 
  1. কোয়ার্টজ
  2. চুনাপাথর
  3. মাইকা
  4. ম্যাগনেটাইট
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
- ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো - 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে - 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।