বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৯ / ২৭ · ১,৮০১১,৯০০ / ২,৬৯২

১,৮০১.
একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে কয়টি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০২.
বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড কত সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন? 
  1. ১৯০৮ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল: 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলা হয়। 
- এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৩.
এসিড সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য?
  1. pH মান 7-এর বেশি
  2. স্বাদ তিক্ত
  3. ধাতুর সাথে বিক্রিয়ায় CO2 উৎপন্ন করে
  4. নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
ব্যাখ্যা

◉ এসিড সাধারণত নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। 

এসিড: 
এসিড হলো সেই পদার্থ, যা জলে দ্রবীভূত হয়ে H+ (প্রোটন বা হাইড্রোজেন আয়ন) উৎপন্ন করে।

এসিডের ধর্ম: 
১। প্রায় সকল এসিড টক স্বাদযুক্ত। 
২। এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩। এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে। 
৪। এসিড ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
৫। ধাতব কার্বনেট বা হাইড্রোজেন কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে থাকে। 
৬। pH মান 7-এর কম হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮০৪.
তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয় কেন? 
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
  2. খুব দ্রুত চার্জের ভারসাম্য বজায় রাখতে
  3. আয়নগুলো দ্রবণের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
লবণ সেতু: 
- ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন এর আয়নীয় গতিবেগ সমান এমন একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের জলীয় দ্রবণে আগর আগর জেলি মিশিয়ে উত্তপ্ত করে পরে ঠান্ডা করে লবণ সেতু বা সল্ট ব্রিজ তৈরি করা হয়। 
- লবণ সেতু ছাড়া যদি কোনও পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ তৈরি করা হয়, তবে একটি দ্রবণ দ্রুত ধনাত্মক চার্জ সংগ্রহ করবে এবং অন্যটি নেগেটিভ চার্জ জমা করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন থামিয়ে দেবে। 
- লবণ সেতুর উদ্দেশ্য হলো বৈদ্যুতিক রাসায়নিক বিক্রিয়াকে খুব দ্রুত ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে বিরত রাখা। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয়। 
- লবণ সেতুর লবণের আয়নগুলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষের উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলাচল করে। 
- আয়নগুলো দ্রবণের সাথে কোন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। 
- জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ঋণাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- একইভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ঋণাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ধনাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৮০৫.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৬.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-
  1. -1
  2. 0
  3. +1
  4. +2
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়:

- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল।
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2. 

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৭.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. লেড সঞ্চয়ী কোষ
  2. ড্যানিয়েল কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৮০৮.
জাল টাকার নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় কোন রশ্মি?
  1. IR-Ray
  2. X-Ray
  3. y-Ray
  4. UV-Ray
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি: 
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে। 
- অতিবেগুনী রশ্মি এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ছোটো এবং রঞ্জন রশ্মির চেয়ে বড়। 
- এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ন্যানোমিটার থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার এবং শক্তি ৩ ইলেকট্রন-ভোল্ট থেকে ১২৪ ইলেকট্রন-ভোল্ট। 
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না। 
 - প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না। এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়। 
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি। 
 
উৎস: দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা এবং ব্রিটানিকা।
১,৮০৯.
মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. কপার সালফেট
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte): 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Strong Electrolyte): 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Weak Electrolyte): 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১০.
পেট্রোলিয়ামে শতকরা কত ভাগ কেরোসিন থাকে? 
  1. ৬ ভাগ
  2. ৫ ভাগ
  3. ১৮ ভাগ
  4. ১৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়। 
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে, যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে। 
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে। 
- এই অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ, এতে কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 
- পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, এদের স্ফুটনাঙ্কও বিভিন্ন। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 
- অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের উপযুক্ত নয়, কিন্তু একে যদি আংশিক পাতনের সাহায্যে পৃথক করা হয় তবে এ অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, ন্যাপথা, কেরোসিন, ডিজেল, প্যারাফিন মোম এবং পিচ প্রভৃতি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। 
- এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। 
- পেট্রোলিয়ামে শতকরা ১৩ ভাগ কেরোসিন থাকে। 
- পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১১.
মৌলিক পদার্থ সনাক্তকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি? 
  1. IUPC
  2. IUPAC
  3. NASA
  4. UN
ব্যাখ্যা

• মৌলের নাম, সংকেত এবং সনাক্তকরণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সর্বাধিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো IUPAC।

• পূর্ণরূপ ও পরিচয়:
- IUPAC এর পূর্ণরূপ International Union of Pure and Applied Chemistry।
- এটি বিশ্বব্যাপী রসায়ন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- রসায়ন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গবেষক সবার জন্য মৌল, রাসায়নিক যৌগ, প্রতিক্রিয়া ও পরিমাপের মানক রূপ স্থির করে IUPAC।

• IUPAC এর কাজ:
- নতুন কোনো মৌল আবিষ্কৃত হলে সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য কিনা তা যাচাই করে IUPAC।
- গবেষণা, প্রমাণ, বিকিরণ বৈশিষ্ট্য, স্থিতিশীলতা এবং নিউক্লিয়ার বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে মৌলটি সনাক্ত করা হয়।
- IUPAC মৌলের নাম, প্রতীক (Symbol), পারমাণবিক সংখ্যা ইত্যাদি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন করে। যেমন: Og → Oganesson (নতুন মৌল)
- নতুন মৌল যুক্ত হলে IUPAC Periodic Table আপডেট করে এবং বিশ্বব্যাপী একীকরণ নিশ্চিত করে।
- বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা একই পরিভাষা ব্যবহার করে যেন গবেষণায় বিভ্রান্তি না ঘটে, সে জন্য শব্দভাণ্ডার ও নিয়ম তৈরি করে।

• IUPAC এর গুরুত্ব:
- একই মৌল বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- IUPAC এই বিশৃঙ্খলা দূর করে একক আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে।
- নতুন মৌলের পরমাণু গঠন, ভর সংখ্যা, ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারিত নিয়মে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়।
- গবেষণা ও শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৮১২.
(Cl) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 17
  3. 35
  4. 52
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ক্লোরিন (Cl) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- ক্লোরিনের নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 35 এবং 
- ক্লোরিনের প্রোটন সংখ্যা = 17 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (35 - 17) = 18  ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৩.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৮০% ইথাইল এলকোহল + ২০% পানি
  2. ৯০% ইথাইল এলকোহল + ১০% পানি
  3. ৯২% ইথাইল এলকোহল + ৮% পানি
  4. ৯৫% ইথাইল এলকোহল + ৫% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৪.
শেভিং ফোমে থাকে নিচের কোনটি?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. খ) পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) পটাশ অ্যালাম
ব্যাখ্যা

- আমরা কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করি তা হলো মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট।
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট।
- কাপড় কাচার সোডা হিসাবে সোডিয়াম কার্বনেট ব্যবহার করা হয়।
- পটাশ অ্যালাম হলো ফিটকিরি যা পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৮১৫.
নিচের কোনটি ফরমালিন?
  1. ক) মিথানলের ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. খ) ফরমিক এসিডের ৪% জলীয় দ্রবণ
  3. গ) মিথান্যাল এর ৪০% জলীয় দ্রবণ
  4. ঘ) মিথেনের ০.৪% অ্যালকোহলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথন্যাল আর ৬০ ভাগ পানি থাকে। বিভিন্ন মৃত প্রাণীদেহ সংরক্ষণ করার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: মাধমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৮১৬.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্য ধাতুর নয়?
  1. ঘাতসহনীয়তা 
  2. নমনীয়তা
  3. অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. উচ্চ ঘনত্ব 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর সাধারণ ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ঘাতসহনীয়তা, নমনীয়তা এবং উচ্চ ঘনত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা ধাতুর সাধারণ কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে।আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৭.
কোনটি জৈব যৌগ?
  1. CO2
  2. CO
  3. Na2CO3
  4. CH4
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৮.
বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা কেক বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

প্রাত্যহিক জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- বোলতা বা বিচ্ছু হুল ফুটালে প্রচণ্ড জ্বালা করে কারণ বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে হিস্টামিন (Histamine) নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ। তাই এসব ক্ষেত্রে জ্বালা নিবারণের জন্য এসিড কিংবা এসিডজাতীয় মলম ব্যবহার করা হয়, যাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা।  এসিড কিংবা এসিডজাতীয় ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে, ফলে জ্বালা আর থাকে না। 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর খাবার হজম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান করা হয়, কারণ পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এই মাত্রার হেরফের হলে পরিপাকে অসুবিধা হয়। কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় পরিপাকে সাহায্য করে। 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি নানা রকম ফলের মাঝে আছে নানা রকমের জৈব এসিড যেগুলো খুবই প্রয়োজনীয় এবং রোগ প্রতিরোধ করে। যেমন- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড। ভিটামিন সি ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 
- বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড হজমে সহায়তা করে। 

- বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 
- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যেসব পরিষ্কারক ব্যবহার করা হয় তার মূল উপাদান হলো শক্তিশালী এসিড, যেমন- HCl, HNO3 কিংবা H2SO4 । 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য বা বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার অন্যতম উপাদান হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট (NH4)2SO4 ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4 । সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) দিয়ে। 
- এসিড কাপড়ে লাগলে কাপড় পুড়ে যায় কিংবা ছিদ্র হয়ে যায়। একইভাবে ধাতব পদার্থসমূহ এসিডের সংস্পর্শে এলে তাও ক্ষয় হয়ে যায়। অতএব এসিডের ব্যবহারে খুবই সাবধান হতে হবে। কোনো কারণে গায়ে এসিড পড়লে সাথে সাথে প্রচুর পানি দিয়ে সেই জায়গাটা ধুয়ে ফেলতে হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১৯.
নিচের কোন পরমাণুতে নিউট্রন অনুপস্থিত? 
  1. হিলিয়াম 
  2. অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন 
  4. নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের।
যেমন- 
স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২০.
কোন পদ্ধতিতে কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়?
  1. ঘনত্ব মাপার মাধ্যমে
  2. গলনাঙ্কের মাধ্যমে
  3. স্ফুটনাঙ্কের মাধ্যমে 
  4. আয়ন সংখ্যা নির্ণয়ের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

গলনাঙ্ক: 
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২১.
সেমিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.১ মোল
  2. খ) ০.৫ মোল
  3. গ) ০.০১ মোল
  4. ঘ) ০.০০১ মোল
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২২.
পানিতে কোন কোন মৌল থাকে?
  1. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন
  3. সোডিয়াম ও অক্সিজেন
  4. সোডিয়াম ও ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
- পানির অনুর সংকেত H2O
- ভর : ১৮
- হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত: ২ : ১।
- পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমযোজী বন্ধনে গঠিত একটি যৌগ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন বই।
১,৮২৩.
বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সালফার
  2. রক ফসফেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আমরা নানা কাজে ব্যবহার করি।
- এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউরিয়া সার উৎপাদন।
- শতকরা প্রায় ২১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিদ্যুৎও উৎপন্ন করা হয় প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে।
- শতকরা প্রায় ৫১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- প্রায় শতকরা ২২ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় শিল্পকারখানায়, ১১ ভাগ বাসাবাড়িতে এবং ১১ ভাগ জ্বালানি হিসেবে।
- এছাড়া প্রায় শতকরা ১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত হয়।
- বাকি শতকরা ৫ ভাগ অপচয় (System Loss) হয়।
- আমাদের দেশে ২০০৩ সাল থেকে যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা শুরু হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৮২৪.
পেট্রোলিয়াম বিশোধন করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) পাতন
  2. খ) আংশিক পাতন
  3. গ) কেলাসন
  4. ঘ) উর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক তরল মিশ্রণ যার উপাদান তরলের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য 40° সে. বা তার বেশি হলে সাধারণ পাতন প্রক্রিয়ায় এদেরকে পৃথক করা যায়। 
- কিন্তু যদি মিশ্রণের উপাদানগুলোর স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম হয় তখন সাধারণ পাতন প্রণালিতে এদের পৃথক করা যায় না। 
- এক্ষেত্রে পাতন ফ্লাস্কের এবং শীতকের মধ্যে ‘অংশ কলাম' ব্যবহার করে পাতন প্রক্রিয়ায় মিশ্রিত তরলের উপাদানগুলো পৃথক করা হয়। 
- ‘অংশ কলাম’ ব্যবহার করে পাতন প্রক্রিয়ায় মিশ্রণের তরল উপাদানসমূহকে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে আংশিক পাতন বলে।
 
বর্তমানে আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় পেট্রোলিয়াম বিশোধন, আলকাতরার অংশ পাতন, রেকটিফাইড স্পিরিট উৎপাদনসহ অসংখ্য পৃথকীকরণ করা হয়।
 
উৎস : রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮২৫.
ধাতুর যে ধর্মের কারণে পিটিয়ে পাত (Sheet) এ পরিণত করা যায় তা হলো
  1. Ductility
  2. Brittleness
  3. Malleability
  4. Toughness
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম:
১. ধাতুসমূহ ঘাতসহনশীল। এদের যে কোন আকার দেওয়া যায়। [ঘাতসহনশীলতাকে Malleability বলে]
২.ধাতু নমনীয়। একে পিটিয়ে সরু তারে পরিণত করা যায়।
৩. ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
৪. আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়।
৫. ধাতুর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক উচ্চ হয়।
৬. ধাতুসমূহের ঘনত্ব অধাতুর তুলনায় অনেক বেশি।
৭. বিশুদ্ধ ধাতুকে ছুরি দিয়ে কাটা যায়।

উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, রসায়ন ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৬.
পর্যায় সারণির একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে পরমাণুর আকার- 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায় 
  3. হঠাৎ কমে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ: 
- পরমাণুর আকার তথা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- যেকোনো একটি পর্যায়ের যতই বামদিক থেকে ডান দিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ তত কমতে থাকে এবং যেকোনো একটি গ্রুপের যতই উপর দিক থেকে নিচের দিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ তত বাড়তে থাকে। 
- একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে যত ডান দিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক সংখ্যা তত বাড়তে থাকে কিন্তু প্রধান শক্তিস্তরের সংখ্যা বাড়ে না। 
- পারমাণবিক সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ইলেকট্রন সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। 
- নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন সংখ্যা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিক ইলেকট্রন সংখ্যার মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয় ফলে ইলেকট্রনগুলোর শক্তিস্তর নিউক্লিয়াসের কাছে চলে আসে, ফলে পরমাণুর আকার ছোট হয়ে যায়। 

- আবার, একই গ্রুপে যতই উপর থেকে নিচের দিকে যাওয়া যায় ততই বাইরের দিকে একটি করে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হয়, একটি করে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায়। 
- একই গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে গেলে নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা এবং বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আকর্ষণ বৃদ্ধি হয়ে পরমাণুর আকার যতটুকু হ্রাস পায়, নতুন একটি শক্তিস্তর যোগ হওয়ার কারণে পরমাণুর আকার তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। যে কারণে উপরের মৌলের চেয়ে নিচের মৌলের আকার বড় হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮২৭.
নিচের কোনটির প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন? 
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৮.
পরমাণুর M কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ৩২টি
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ কক্ষপথ গুলোকে যথাক্রমে K, L, M, N কক্ষপথ বলে।
পরমাণুর যে কোন কক্ষপথে 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।
এখানে, n = কক্ষপথের সংখ্যা।

তাহলে, M তথা ৩য় কক্ষপথে থাকবে = ২ × ৩ = ২ × ৯ = ১৮টি ইলেকট্রন।

উৎস:  অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
১,৮২৯.
পানির ঘনত্ব সর্বাধিক কোন তাপমাত্রায়?
  1. 0°C
  2. 4°C
  3. 25°C
  4. 100°C
ব্যাখ্যা

• পানির ঘনত্ব: সাধারণভাবে, পদার্থের ঘনত্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে কমে যায়, কারণ তাপের প্রভাবে পদার্থ প্রসারিত হয়।

পানির ব্যতিক্রম:
- 0°C এ পানি বরফে রূপান্তরিত হয় এবং বরফের ঘনত্ব পানি থেকে কম।
- পানি 4°C এ সর্বাধিক ঘন হয়।
- 4°C এর উপরে তাপমাত্রা বাড়লে পানি প্রসারিত হয় এবং ঘনত্ব কমতে থাকে।
- এটি পানির অস্বাভাবিক সম্প্রসারণ নামে পরিচিত।
- তাই পানির ঘনত্ব সর্বাধিক হয় 4°C তাপমাত্রায়, যা জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেমন হ্রদ বা নদীর জল বরফের তলায় তরল থাকে।

সুতরাং, পানির ঘনত্ব সর্বাধিক 4°C তাপমাত্রায়।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।   

১,৮৩০.
নিচের কোন ক্ষেত্রে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) কালি ব্যবহার করা হয়? 
  1. পাসপোর্টে
  2. ট্রাভেলারস চেকে
  3. ক্রেডিট কার্ডে
  4. উপরোক্ত সবকটিতে
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
উল্লেখ্য যে,
- কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩১.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত-
  1. 1 : 2
  2. 2 : 1
  3. 1 : 1
  4. 2 : 3
ব্যাখ্যা
• পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1। 

যৌগিক পদার্থ:

- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে।
যেমন - যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৩২.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট
  2. আইসোপ্রোপানল
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. পাইন অয়েল
ব্যাখ্যা

- ডেটলের প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ক্লোরোজাইলিনল (Chloroxylenol)। এই রাসায়নিক যৌগটির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা জীবাণু মেরে ফেলতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে। 
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 

ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩৩.
অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে কী বলে?
  1. ক) গলন
  2. খ) নিঃসরণ
  3. গ) ঊর্ধ্বপাতন
  4. ঘ) ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 

নিঃসরণ: 

- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নি:সরণ বলা হয়। 

গলন

- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়। 

ঊর্ধ্বপাতন
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৪.
স্বল্পমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. NaCl
  2. KCI
  3. NaNO3
  4. AgBr
ব্যাখ্যা
• স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 0-01 molL-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
- যেমন- সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (Agl), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম অক্সালেট (CaCO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2 ) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব।

• অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
- যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনকে বুঝায়
  2. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  4. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
ব্যাখ্যা
মিশ্র পদার্থ: 
- যে মিশ্রণে একের অধিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে তাকে বলা হয় মিশ্র পদার্থ। 
- বায়ু এক ধরনের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। 
- বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরনের পদার্থ রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৮৩৬.
কিউরিং করে খাদ্য সংরক্ষন পদ্ধতিতে কী ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) তেল 
  2. খ) চিনি 
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
- কিউরিং করে খাদ্য সংরক্ষন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় লবণ।

প্রিজারভেটিভস:
- প্রিজারভেটিভসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
- প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল ফুড প্রিজারভেটিভস এবং কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস ।
- প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল ফুড প্রিজারভেটিভস - খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত যেসব পদার্থ ব্যবহৃত হয় তাদেরকে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল ফুড প্রিজারভেটিভস বলে। যেমন - অ্যালকোহল, ভিনেগার, লবণ, চিনি প্রভৃতি। এগুলোকে বাসাবাড়িতে জ্যাম, জেলি, আচার, সস, জুস ইত্যাদির সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও হিমায়ন, তাপ প্রয়োগ, ধোঁয়া প্রদান এবং সল্টিংকে প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস - খাদ্য সংরক্ষণে যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় তাদেরকে কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস বলে। খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে এদের চাহিদা ও ব্যাপকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারণ এরা খাদ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে খাদ্য সংরক্ষণের আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয় এবং খাদ্যের অণুজীব কার্যকরীভাবে ধ্বংস করে ফেলে। কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে সোডিয়াম বেনজোয়েট ও বেনজোয়িক এসিড, সোডিয়াম নাইট্রাইট, সরবেট প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক তিন ধরনের রয়েছে। যথা - এন্টিঅক্সিডেন্ট এজেন্ট,এন্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট এবং কিলেটিং এজেন্ট।

তথ্যসূত্র - রসায়ন,প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৭.
লবণ কোন ধরনের পদার্থ?
  1. ক) বেসিক
  2. খ) নিরপেক্ষ
  3. গ) ক্ষারীয়
  4. ঘ) অম্লীয়
ব্যাখ্যা
লবণ নিরপেক্ষ পদার্থ। তবে কিছু কিছু লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হতে পারে। বেকিং সোডার জলীয় দ্রবণ এসিডিক, সোডিয়াম কার্বনেটের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৮৩৮.
খনিজ পদার্থ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাচঁ
ব্যাখ্যা
মৌল ও যৌগ বিবেচনায় খনিন পদার্থ দুই প্রকার। মৌলিক ও যৌগিক খনিজ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৮৩৯.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
  4. অর্ধেক ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা

আর্কিমিডিসের সূত্র (Archimedes' Law): 
- সিসিলির বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস আবিষ্কার করেন পানিতে নিমজ্জিত বস্তু তার আয়তনের সমান পরিমাণ পানি অপসারণ করে এবং কিছু ওজন হারায়। তার এই আবিষ্কার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি সূত্রের আকারে প্রকাশ করা হয় যা আর্কিমিডিসের সূত্র নামে পরিচিত। 
- সূত্রটি হল "কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান"। 
ব্যাখ্যা: 
- কোনো বস্তুকে যখন তরলে ডুবানো হয় তখন একই সাথে ঐ বস্তুর উপর দুটি বল কাজ করে। 
- একটি বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল, যা বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টানে। একে বলে বস্তুর ওজন। দ্বিতীয়টি বস্তুর উপর তরল পদার্থের ঊর্ধ্বমুখী চাপ বা বল, একে বলা হয় প্লবতা। 
- দুটি বিপরীতমুখী বলের লব্ধি বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল হয়। ফলে বস্তুটির ওজন কমে যায়। 
- বস্তুটি তরলে নিমজ্জিত হলে কিছু জায়গা দখল করে। তখন এই জায়গার তরল সরে যায় বা অপসারিত হয়। তরলের ঊর্ধ্বমুখী বল এই অপসারিত তরলের ওজনের সমান হয়। 
- বস্তু যত বেশি জায়গা দখল করবে অপসারিত তরলের আয়তনও তত বেশি হবে। আবার বস্তুটি যত বেশি তরল অপসারণ করবে তার ওজন তত বেশি কমবে যা আর্কিমিডিসের সূত্রের মূল কথা। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
- ধরা যাক, একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হলে বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।
এখন- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪০.
পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-১৩১
  2. কার্বন-১৪
  3. ফসফরাস-৩২
  4. কোবাল্ট-৬০
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়।
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়।
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক।
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার:
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন-
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

• এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪১.
'হেমাটাইট' কোন খনিজ পদার্থের একটি আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. আয়রন
  3. সোডিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪২.
PH হলো-
  1. এসিড নির্দেশক
  2. এসিড ও ক্ষার নির্দেশক
  3. ক্ষার নির্দেশক
  4. এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৩.
বরফের গলনাংক কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ২৫° সেলসিয়াস
  2. ০° সেলসিয়াস
  3. - ৪° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪৪.
হাইড্রেজেন পরমাণুর আইসোটোপ ট্রিটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. 0
  2. 1
  3. 2
  4. 3
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : গ) 2

• আইসোটপ (Isotopes):

- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম হাইড্রেজেন পরমাণুর আইসোটোপ।
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়।



উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।  

১,৮৪৫.
যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি কোন খনিজ পদার্থ?
  1. লৌহ
  2. তামা
  3. গ্রাফাইট
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
যেমন- লৌহ (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

লৌহ আকরিক (Iron Ore): 
- লৌহ যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি। 
- কলকব্জা, রেলপথ, রেলগাড়ি, মোটর, জাহাজ, গৃহের কাঠামো প্রভৃতি নির্মাণে লৌহ অত্যাবশ্যক। 
- লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতির সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি জড়িত, কিন্তু প্রচুর লৌহ না থাকলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠা খুবই কষ্টকর। 
- এ লৌহ কিন্তু সরাসরি খনি হতে পাওয়া যায় না, এটা অন্যান্য খনিজ পদার্থের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। 
- এ মিশ্রিত লোহাকে লৌহ আকরিক (Iron Ore) বলা হয়। 
- আকরিকে শতকরা ৪০ ভাগের কম লৌহ থাকলে তা উত্তোলন করা লাভজনক নয়। 
- পৃথিবীর মোট উৎপাদনের প্রায় ৯৮% চীন, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, রাশিয়া, ইউক্রেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা হতে উত্তোলিত হয়। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
যেমন- কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica), গ্রাফাইট, জিপসাম, কয়লা, খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১,৮৪৬.
নিম্নের কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয়?
  1. ক) CaCO3
  2. খ) Ag2SO4
  3. গ) AgCl
  4. ঘ) NaCl
ব্যাখ্যা
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C₅H₈NO₄Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO₃) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH₄)3PO₄), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO₄) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪৭.
১ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট =_________ জুল।
  1. ১০০০ জুল
  2. ১০২৫ জুল
  3. ১০৫৫ জুল
  4. ১১০০ জুল
ব্যাখ্যা
কয়লার জ্বালানি মান বা ক্যালরিফিক মান: 
- কয়লার জ্বালানি মানকে ক্যালরিফিক মান (calorific value) বলে। 
- এ ক্যালরিফিক মান BTU এককে প্রকাশ করা হয়। 
- এক পাউন্ড কয়লাকে পোড়ালে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে সে কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা বা জ্বালানি মান বলে। 
- কয়লার জ্বালানি মানকে BTU তাপ এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- বড় পুকুরিয়া কয়লার ক্যালরিফিক মান হলো 11040 BTU/Ib. 
- রেলওয়ে লোকোমোটিভ ও বয়লারের জ্বালানিরূপে পিট কয়লা ব্যবহার করা হয়। 

ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (BTU): 
- এক পাউন্ড পানির (453.59 g) তাপমাত্রা 1° ফারেনহাইট (1°F) বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপ-শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে এক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (IBTU) বলে। 
- ক্যালরিফিক মান (1 BTU) = 1055 J = 252.145 (calorie)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৮৪৮.
কোনটি সমযোজী বন্ধনের উদাহরণ?
  1. NaCl
  2. Cl2
  3. KBr
  4. KCl
ব্যাখ্যা

• সমযোজী বন্ধনের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হলো Cl2, যেখানে দুটি সমজাতীয় অণু এক জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে বন্ধন গঠন করে।
- এটি একটি সরল আণবিক যৌগ।
- দুটি ক্লোরিন পরমাণু একটি জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে সমযোজী বন্ধন তৈরি করে।

• সমযোজী বন্ধন:
- সমযোজী বন্ধন হলো এমন একটি রাসায়নিক বন্ধন যেখানে দুটি বা তার বেশি অ-ধাতব পরমাণু তাদের ইলেকট্রন শেয়ার করে শক্তিশালী সংযুক্তি তৈরি করে।
- এই বন্ধনে ইলেকট্রন এক বা একাধিক জোড়ায় ভাগ করা হয়।

• আয়নিক বন্ধন:
- আয়নিক বন্ধন হলো এমন একটি রাসায়নিক বন্ধন যেখানে একটি ধাতু তার ইলেকট্রন সম্পূর্ণভাবে একটি অ-ধাতুর কাছে স্থানান্তর করে।
- এর ফলে ধাতু একটি ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু একটি ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই আয়নগুলো পারস্পরিক বৈদ্যুতিক আকর্ষণে শক্তভাবে যুক্ত থাকে।

• অপশন আলোচনা:
NaCl:
- এটি একটি আয়নিক যৌগ।
- এখানে ইলেকট্রন সম্পূর্ণভাবে সোডিয়াম থেকে ক্লোরে স্থানান্তরিত হয়, সমযোজী বন্ধন নয়।
KCl / KBr:
- এটিও একটি আয়নিক যৌগ।
- পটাসিয়াম ও ক্লোরাইড / ব্রোমাইড আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন স্থানান্তর ঘটে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৮৪৯.
মিথেন অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণুর অনুপাত কত?
  1. 1 : 1
  2. 1 : 2
  3. 1 : 3
  4. 1 : 4
ব্যাখ্যা

হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।
- জৈব যৌগের মধ্যে সরলতম যৌগ হলো এ হাইড্রোকার্বন। 

• অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• মিথেন (Methane) হলো একটি সরল হাইড্রোকার্বন যার রাসায়নিক সংকেত: CH4
এখানে- 
কার্বন (C) = ১টি
হাইড্রোজেন (H) = ৪টি

সুতরাং, মিথেনের অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত = ১ : ৪

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫০.
Which of the following is the main nutrient in tea?
  1. ক) Folate
  2. খ) Polyphenols
  3. গ) Iron
  4. ঘ) Zinc
ব্যাখ্যা
- Polyphenols, or flavonoids, are likely a key component to what makes tea a healthful drink.
- These chemical compounds act as antioxidants, which control the damaging effects of free radicals in the body. 

Tea is a source Of:
- Caffeine (traditional teas, not herbal)
- Polyphenols
1)Flavonols – myricetin, quercetin, kaempferol
2) Theaflavins – formed when black tea leaves are oxidized
3) Catechins – found in green tea; epigallocatechin-3 gallate (EGCG) is the main form

Source: www.hsph.harvard.edu
১,৮৫১.
হাইড্রোজেন বোমার জনক -
  1. আন্দ্রে দিমিত্রিভিচ শাখারভ
  2. রবার্ট ওপেন হেইমার
  3. এডওয়ার্ড টেলার
  4. স্যামুয়েল টি কোহেন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন বোমার জনক: এডওয়ার্ড টেলার 
- পারমাণবিক বোমার জনক: রবার্ট ওপেন হেইমার 
- নিউট্রন বোমার জনক: স্যামুয়েল টি কোহেন 
- সোভিয়েত হাইড্রোজেন বোমার জনক: আন্দ্রে দিমিত্রিভিচ শাখারভ
১,৮৫২.
H+ সংকেত দ্বারা কোনটি বুঝায়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) পজিট্রন
  3. গ) ইলেকট্রন
  4. ঘ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - 
• ইলেকট্রন, 
• প্রোটন ও 
• নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- এর ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e¯ । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C। 
- আপেক্ষিক আধান -1। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের সংকেত H+। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C. 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। 
- আপেক্ষিক আধান +1. 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৫৩.
হাইড্রোজেনের কয়টি আইসোটোপ ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়?
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: যে সকল পরমানুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়। 

• হাইড্রোজেন পর্যায় সারণির প্রথম মৌল যার পারমানবিক সংখ্যা ১। 
• হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে। ( 1Η, 2Η, 3Η, 4Η, 5Η, 6Η, 7H )
• যার মধ্যে তিনটি প্রকৃতি তে পাওয়া যায়। এগুলো হলো প্রোটিয়াম ( 1Η ), ডিউটেরিয়াম ( 2Η ) , ট্রিটিয়াম ( 3Η )। 
অন্য ৪ টি ( 4Η, 5Η, 6Η, 7H ) প্রস্তুত করা হয় ল্যাবরেটরি তে। 

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১,৮৫৪.
সোডিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. Na2CO3
  2. NaCO3
  3. NaCO2
  4. Na2CO2
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম (Na) একটি ধনাত্মক একমাত্রায়ন: Na⁺
- কার্বনেট (CO₃²⁻) একটি ঋণাত্মক দ্বিমাত্রায়ন.
- সঠিক আনুপাতিক সংযোজন করতে হলে:
- ২টি Na⁺ + ১টি CO₃²⁻ = Na₂CO₃

কিছু গুরুত্বপূর্ণ যৌগের সংকেত:
- HCl - হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। 
- H₂SO₄ - সালফিউরিক অ্যাসিড। 
- HNO₃ - নাইট্রিক অ্যাসিড। 
- CH₃COOH - অ্যাসিটিক অ্যাসিড (ভিনেগার)। 
- H₂CO₃ - কার্বনিক অ্যাসিড। 

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ শ্রেণি
১,৮৫৫.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3.  প্রশমন বিক্রিয়া
  4. দহন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
 প্রশমন বিক্রিয়া :
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে।
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l)

পানি যোজন বিক্রিয়া:
আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে।
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে।

বিয়োজন বিক্রিয়া:
বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়। প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়।

দহন বিক্রিয়া :
এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৬.
কোয়ার্টজ নিচের কোনটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. কাঁচ তৈরিতে
  2. সিরিজ কাগজ তৈরিতে
  3. রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৭.
নিচের কোনটি গ্লুবার লবণ?
  1. টেবিল সল্ট
  2. আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম থায়োসালফেট
  4. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
- আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট হলো গ্লুবার লবণ।
- সোডিয়াম থায়োসালফেটকে বলা হয় হাইপো।
- মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট কে বলা হয় টেস্টিং সল্ট।
- খাবার লবণ বা টেবিল সল্ট হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১,৮৫৮.
Ca(OH)2 কোন যৌগটির রাসায়নিক সংকেত?
  1. ক্যালামিন
  2. ফিটকিরি
  3. বেকিং সোডা
  4. মিল্ক অফ লাইম
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সংকেত: 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O. 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O]. 
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো- C17H35COOK. 
- কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৯.
টিট্রিয়ামে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 0
  2. 1
  3. 2
  4. 3
ব্যাখ্যা
আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 



উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬০.
ব্যাপনের হার কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. তাপমাত্রা
  2. মাধ্যমের ঘনত্ব
  3. অর্ধভেদ্য পর্দা
  4. অণুর ভর
ব্যাখ্যা
• ব্যাপনের হার অর্ধভেদ্য পর্দার উপর নির্ভর করে না। 

• ব্যাপন:
- যে প্রক্রিয়ায় একই তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসীয় বা তরল পদার্থ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্য কোনো গ্যাসীয় বা তরল মাধ্যমের উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলে। 

• ব্যাপনের গুরুত্ব:
-  সালোকসংশ্লেষণে CO2 গ্রহণ ও O2 ত্যাগ ব্যাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
-  শ্বসনে গ্লুকোজ জারণে O2 ব্যবহৃত হয় যা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। CO2-এ প্রক্রিয়ায় কোষ থেকে বের হয়ে যায়।
- উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি দেহ থেকে প্রস্বেদনের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
- প্রাণী দেহে শ্বসন ও রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, O2 প্রভৃতি লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে।

• ব্যাপনের হার অনুর ভর, মাধ্যমের ঘনত্ব ও তাপমাত্রা প্রভৃতির উপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে,
• অর্ধভেদ্য পর্দা:
- যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু আচলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয়। 
- অর্ধভেদ্য পর্দা অভিস্রবন নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যাপনের হার এটির উপর নির্ভর করে না।

তথ্যসূত্র:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
১,৮৬১.
Dry ice বলা হয়-
  1. ক) হিমায়িত অক্সিজেনকে
  2. খ) ক্য্যালসিয়াম অক্সাইডকে
  3. গ) হিমায়িত কার্বন মনোঅক্সাইডকে
  4. ঘ) হিমায়িত কার্বন ডাইঅক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস’ হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -৭৮.৫° সেলসিয়াস উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
১,৮৬২.
এর নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 8
  3. 10
  4. 26
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) 10

এটম সংখ্যা (Z) = 8 → প্রোটনের সংখ্যা = 8
ভর সংখ্যা (A) = 18 → প্রোটন + নিউট্রন = 18

নিউট্রনের সংখ্যা:
নিউট্রন = A−Z = 18−8 = 10

পারমাণবিক সংখ্যা
- কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।
- যেমন- হিলিয়াম (He) এর একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে দুটি প্রোটন থাকে। তাই হিলিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হলো দুই।
- অক্সিজেন (০) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আটটি প্রোটন থাকে। তাই অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো আট।
- প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে Z দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

ভরসংখ্যা 
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে।
- ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

নিউট্রন 
- ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। 
- অক্সিজেন (O) ভরসংখ্যা হলো 18, এর প্রোটন সংখ্যা 8, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 18 - 8 = 10

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১,৮৬৩.
পর্যায় সারণির প্রথম পর্যায়ে কয়টি মৌল অবস্থান করতে পারে?
  1. আঠারটি
  2. আটটি
  3. দুইটি
  4. বত্রিশটি
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর (Bohr) মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন, এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামে পরিচিত। 
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- এ সারণিতে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ রয়েছে। 
- পর্যায় গুলোকে ১ম পর্যায়, ২য় পর্যায়, তৃতীয় পর্যায়, ৪র্থ পর্যায়, ৫ম পর্যায়, ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায় এভাবে ভাগ করা হয়েছে। আর গ্রুপগুলোকে যথাক্রমে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ গ্রুপ এ হিসেবে সাজানো হয়েছে। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 

পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য: 
- পর্যায় সারণি মৌল গুলোকে সাজানোর এমন একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। 
- পর্যায় সারণির মাধ্যমে আবিষ্কৃত মৌলগুলোকে এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে একজন নবীন বিজ্ঞানী বা শিক্ষানবিশ রসায়নবিদ আবিষ্কৃত মৌল সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারেন। 
- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) কর্তৃক স্বীকৃত আধুনিক পর্যায় সারণির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূলভিত্তি। 
২. সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
৩. প্রতিটি পর্যায়ের বামদিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
৪. পর্যায় সারণি প্রথম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল থাকে। যেমন- একটি H অপরটি He । H-এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ এবং He এর অবস্থান গ্রুপ-১৮ এ। 
৫. দ্বিতীয় পর্যায় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে আটটি করে মৌল বর্তমান। এ আটটি মৌল গ্রুপ-১ থেকে গ্রুপ-২ এবং গ্রুপ-১৩ থেকে গ্রুপ-১৮ এর মধ্যে অবস্থিত। 
৬. ৪র্থ পর্যায় ও ৫ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপের প্রত্যেকটিতে একটি করে ১৮টি মৌল অবস্থান করে থাকে। 
৭. ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ও ৭ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপে মৌলের সংখ্যা ৩২টি। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্রুপ-৩ এ ১৫টি করে মৌল অবস্থান করে। বাকী ১৭টি গ্রুপে ১৭টি মৌল অবস্থান করে পর্যায়ে মোট মৌলের সংখ্যা (১৫ + ১৭) = ৩২টি হয়। 
৮. মূল পর্যায় সারণির নিচে ২টি অনুভূমিক সারি এবং ১৪টি খাড়া স্তম্ভ বিশিষ্ট আরো একটি ছক উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায়ের অংশবিশেষ মাত্র। 
৯. সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়। 
১০. পর্যায় তালিকায় কোনো মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার ওপর। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৪.
ফরমালিন তৈরি করতে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিথেন
  2. মিথান্যাল
  3. এসিটোন
  4. ইথানল
ব্যাখ্যা
• ভিনেগার: 
- ৬ -১০% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে।

• ফরমালিন: 
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে ৪০% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৮% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

• রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

• মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

• পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে ৩০% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৫.
নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
  1. ক) P4O10
  2. খ) MgO
  3. গ) CO
  4. ঘ) ZnO
ব্যাখ্যা
Magnesium oxide (MgO) is again a simple basic oxide, because it also contains oxide ions.
Source: britannica.com
১,৮৬৬.
থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়
  1. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
  2. ফসফরাস আইসোটোপ
  3. আয়োডিন আইসোটোপ
  4. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি।
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬৭.
পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ______ ।
  1. বরফ গলা
  2. পানি ফোটানো
  3. কাঠ পোড়ানো
  4. গ্লাস গলানো 
ব্যাখ্যা

পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ হল কাঠ পোড়ানো। 

রাসায়নিক পরিবর্তন:
- যে পরিবর্তনে নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় এবং পদার্থের আণবিক গঠন বা রাসায়নিক ধর্ম পরিবর্তিত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
- এই পরিবর্তন সাধারণত অপরিবর্তনযোগ্য (Irreversible)। অর্থাৎ একবার ঘটলে আগের অবস্থায় ফেরানো যায় না।
- যেমন: কাঠ পুড়ে ছাই হওয়া। 
ভৌত পরিবর্তন:
- যে পরিবর্তনে কোনো নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় না এবং পদার্থের কেবল আকার, অবস্থা বা রূপ পরিবর্তিত হয়, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে।
- এই পরিবর্তন সাধারণত পরিবর্তনযোগ্য (Reversible)। অর্থাৎ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। 
- যেমন: বরফ গলে পানি হওয়া। 

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮৬৮.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত বস্তু নয়?
  1. বেনজয়িক এসিড
  2. বেনজিন
  3. নিশাদল
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা

বেনজিন উর্ধ্বপাতিত বস্তু নয় ।
- উর্ধ্বপাতন হ'ল তরল অবস্থায় প্রবেশ না করেই পদার্থের কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে রূপান্তর।
- যেমন কর্পূর, গন্ধক, আয়োডিন, ন্যাপথলিন, নিশাদল, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্সেনিক ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি

১,৮৬৯.
ইলেকট্রনের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. এটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা
  2. এটি পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা
  3. এটির আপেক্ষিক আধান -1
  4. এটি একক ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রন:
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন।
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা
- ইলেকট্রনের সংকেত e-.
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60 ×10-19 C.
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান (-1)।

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭০.
গ্লাস ক্লিনারে কোন ক্ষার থাকে?
  1. NH4OH
  2. Fe(OH)2
  3. CaO
  4. KOH
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭১.
পানিতে উপস্থিত জৈব বর্জ্য পদার্থসমূহের বিয়োজনের জন্য কোনটি সর্বাধিক প্রয়োজন?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological Oxygen Demand, BOD):
- পানিতে উপস্থিত জৈব বর্জ্য পদার্থসমূহের বিয়োজনের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়
- পানিতে যতো বেশি পারিমাণে বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থ উপস্থিত থাকে তার জন্য অক্সিজেন চাহিদাও ততো বেশি।
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা BOD বলে।
- ভালো মান সম্পন্ন পানির BOD মান 6 ppm এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
- অর্থাৎ প্রতি 1000 mL পানিতে বর্তমান জৈব বর্জ্য দূষকের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন 6 mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি ঐ পানির দূষকের মাত্রা ততো বেশি।
- পানিতে BOD এর মান যতো বেশি হবে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর পরিমাণ ততো হ্রাস পায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭২.
নিচের কোনটি মৌল নয়, আবার যৌগও নয়?
  1. ক) গোল্ড
  2. খ) নিকেল
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা

যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, তামা, সোনা (গোল্ড), নিকেল, রূপা, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ইত্যাদি।
যে সব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলা হয়।
যেমন- পানি, লবণ, চিনি, ইস্পাত, শর্করা ইত্যাদি।
বায়ু এক ধরণের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরণের পদার্থ রয়েছে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা

১,৮৭৩.
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড কোন রঙের হয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) বর্ণহীন তরল
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনী
ব্যাখ্যা
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৮৭৪.
‘আয়োডিন’ পাওয়া যায়?
  1. ক) লাইকেনে
  2. খ) মিউকরে
  3. গ) এগারিকাসে
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
- হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
- তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
১,৮৭৫.
ইলেকট্রন কী? 
  1. পরমাণুর কেন্দ্রস্থ কণা
  2. একক ধনাত্মক কণা
  3. নিরপেক্ষ বস্তুকণা
  4. একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e-
- ইলেকট্রনের আসল ভর ৯.১১×১০-২৮ গ্রাম ও প্রকৃত আধান - ১.৬০×১০-১৯ কুলম্ব. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান - ১ । 

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৬.
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কোন ধাপে ক্রোমিয়াম ধাতু তরল বর্জ্যে যুক্ত হয়?
  1. ট্যানিং
  2. লাইমিং
  3. সিক্তকরণ
  4. কিউরিং
ব্যাখ্যা
চামড়া শিল্পের দূষকসমূহ: 
- সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণকারী শিল্প কারখানার মধ্যে চামড়া শিল্প অন্যতম। 
- চামড়া শিল্পের বিভিন্ন ধাপে উৎপন্ন দূষক পদার্থ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো - 

১। সিক্তকরণ (Soaking): 
- এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তরল বর্জ্যে প্রচুর পরিমাণ NaCl দ্রবীভূত প্রোটিন, জৈব পদার্থ, ধূলা-বালি, ময়লা, গোবর ইত্যাদি মিশ্রিত থাকে। 
- এগুলো পঁচে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে ফলে বায়ু দূষণ ঘটে। 
- অধিকন্তু বর্জ্যে বিদ্যমান NaCl ও রাসায়নিক দ্রব্য পানি ও মাটির দূষণ ঘটায়। 

২। লাইমিং (Liming): 
- এ ধাপে বর্জ্যে ক্ষার, সালফাইড, CaCO3 প্রোটিন, কতিপয় ধাতব আয়ন উপস্থিত থাকে এবং পানিকে দূষিত করে। 

৩। ডিলাইমিং (Deliming): 
- এ ধাপে বর্জ্যে অ্যামোনিয়াম দ্রবণের আধিক্যের ফলে পানি দূষণ ঘটে। 

৪। ট্যানিং (Tanning): 
- এ ধাপে বর্জ্য অম্লীয় প্রকৃতির হয় এবং Cr এর পরিমান বৃদ্ধি পায় ফলে পানি দূষণ ঘটে। 

৫। রংকরণ (Colouring): 
- এ ধাপে বর্জ্যে বিভিন্ন প্রকার রঞ্জক পদার্থ, তৈল, গ্রিজ ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে ফলে মাটি দূষণ ও পানি দূষণ ঘটে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৭.
নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হবে?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) দস্তা
  3. গ) রূপা
  4. ঘ) সোনা
ব্যাখ্যা

ধাতু ক্ষয় হওয়ার সাধারণ পদ্ধতি হলো মরিচা পড়া।
কোন ধাতু বা ধাতু সংকর পরিবেশের উপাদান, যেমন অক্সিজেন ও পানির সাথে রাসায়নিক ক্রিয়ায় ক্ষয় হয়।
এই ক্ষয় হওয়ার হার নির্ভর করে ধাতুর সক্রিয়তার উপর।
সাধারণত সক্রিয় ধাতুসমূহ দ্রুত ক্ষয় হয়।

অপশনগুলোতে বিদ্যমান ধাতুগুলোর সক্রিয়তার ক্রম-
অ্যালুমিনিয়াম (Al) >দস্তা (Zn) > লোহা (Fe) > তামা (Cu) >সিলভার (Ag) > সোনা (Au).

• এখানে অ্যালুমিনিয়াম (Al) এর সক্রিয়তা বেশি হওয়া সত্বেও দস্তা বা জিঙ্কের ক্ষয় বেশি হয়। 
কারণ, আলুমিনিয়াম বাতাসের সংস্পর্শে আসলে বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে এর উপর অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের একটি আস্তরণ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বাতাসের অক্সিজেন উক্ত আস্তরন ভেদ করে আর অ্যালুমিনিয়াম এর সংস্পর্শে আসতে পারে না। কপারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
ফলে, বাতাসের সংস্পর্শে অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে দস্তার ক্ষয় বেশি হয়।

তবে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যালুমিনিয়াম বিভিন্ন পরিবেশে দস্তার চেয়ে দ্রুত ক্ষয় হয়।
উদাহরণস্বরূপ,
> ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নোনা জলের পরিবেশে অ্যালুমিনিয়াম দস্তার চেয়ে বেশি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
> আমেরিকান ওয়াটার ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে পানীয় জলের সিস্টেমে অ্যালুমিনিয়াম জিঙ্কের চেয়ে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

[যেহেতু প্রশ্নে কোন পরিবেশে ক্ষয়প্রাপ্ত হবে সেটা উল্লেখ নেই, তাই স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সংস্পর্শে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
সে অনুসারে সঠিক উত্তর হবে দস্তা বা জিঙ্ক।]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। (২০১৫ শিক্ষাবর্ষ)

১,৮৭৮.
পানিতে কোনটি কলয়েড তৈরি করবে?
  1. ক) চিনি
  2. খ) অ্যালকোহল
  3. গ) সাবান
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
কলয়েড:
- যে ধরনের মিশ্রণে অতি ক্ষুদ্র কোনো বন্তকণা অপর বস্তকণার মাঝে সাসপেন্ডেড বা ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং রেখে দিলে কখনই কোনো তলানি পড়ে না তাকে বলা হয় কলয়েড।
- কলয়েডে বিদ্যমান উপাদানগ্তলো একটি আরেকটিতে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু ছড়িয়ে থাকে।
- কলয়েডে যেটি প্রধান উপদান বা পরিমাণে বেশি থাকে, তাকে বলে অবিচ্ছিন ফেজ বা দশা।
- আর যেটি কম পরিমাণে থাকে বা ছড়িয়ে থাকে, তাকে বলে ডিসপারসড ফেজ বা দশা।
- উদাহরণ: ধোঁয়া, কুয়াশা, মেঘ, দুধ, সাবানের ফেনা, চা, কফি, রক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
১,৮৭৯.
ফরমালিনের জলীয় দ্রবণে মিথান্যালের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ৪০ ভাগ
  2. ৬০ ভাগ
  3. ৭৫ ভাগ
  4. ৯০ ভাগ
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে ফরমালিনে ৪০% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে ৩০% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহন বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮০.
গ্যাসীয় পদার্থ নয় কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অ্যামোনিয়া
  3. অক্সিজেন
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮১.
নিচের কোন পরিবেশে লোহার ক্ষয় সবচেয়ে দ্রুত হয়?
  1. শুষ্ক বায়ু
  2. আর্দ্র বায়ু
  3. তেলের আবরণ
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাসে
ব্যাখ্যা
• লোহার মরিচা ধরা একটি ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল করোশন প্রক্রিয়া। 
- লোহা (iron) যখন আর্দ্র বায়ু বা আর্দ্র পরিবেশে থাকে, তখন তার ক্ষয় (corrosion) সবচেয়ে দ্রুত হয়। এই প্রক্রিয়াকে মরিচা বা জং ধরা বলা হয়।
- আর্দ্র বায়ুতে পানি ও অক্সিজেন উপস্থিত থাকে, যা লোহার সাথে প্রতিক্রিয়া করে লোহা অক্সাইড (Fe₂O₃·xH₂O) বা জং তৈরি করে।
- আর্দ্রতা বা পানি উপস্থিত থাকলে, লোহা দ্রুত অক্সিডাইজড হয়, যার ফলে ক্ষয় আরও দ্রুত হয়।


ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি: 
- অ্যানোডিক সুরক্ষা: জিংক প্রলেপ (গ্যালভানাইজিং)।
- ক্যাথোডিক সুরক্ষা: বিদ্যুৎপ্রবাহ প্রয়োগ। 
- অ্যালয় গঠন: স্টেইনলেস স্টিল (Cr + Ni মিশ্রণ)। 

অন্যদিকে, 
শুষ্ক বায়ু: এখানে আর্দ্রতা নেই, তাই ক্ষয় কম হয়।

তেলের আবরণ: তেল লোহার উপর একটি আবরণ সৃষ্টি করে, যা লোহাকে বাতাস এবং আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করে।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসে: এখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় লোহা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন,  নবম-দশম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
১,৮৮২.
ইথার সম্বন্ধে কোনটি মিথ্যা?
  1. এটি একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ
  2. এটি একটি কাল্পনিক মাধ্যম যা মহাবিশ্বে সর্বত্র বিরাজমান ছিল
  3. এ মাধ্যম ছাড়া তাড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়
  4. এ কাল্পনিক মাধ্যমটির স্থিতিস্থাপক ধর্ম ছিলো
ব্যাখ্যা

• অপশন বিশ্লেষণ: 
ক) সত্য: ইথার একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ। (Chemistry).
- ডাই-ইথাইল ইথার (C4H10O) একটি বাস্তব রাসায়নিক যৌগ।
- এটি অতীতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যানেস্থেটিক (চেতনানাশক) হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- এটি একটি উড়নশীল (volatile), দাহ্য (flammable) তরল দ্রাবক।
 
খ) সত্য: ইথার ছিল একটি কাল্পনিক মাধ্যম যা মহাবিশ্বে সর্বত্র বিদ্যমান বলে ধরা হতো। (Physics).
- ১৯ শতকে বিজ্ঞানীরা "লুমিনিফেরাস ইথার" নামক ধারণা দেন।
- তারা বিশ্বাস করতেন এটি সমগ্র মহাবিশ্বে বিরাজমান।
- ধারণা করা হতো আলো ও তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য এটি অপরিহার্য।
 
ঘ) সত্য: কাল্পনিক মাধ্যমে স্থিতিস্থাপক ধর্ম ছিল বলে মনে করা হতো। (Physics).
- বিজ্ঞানীরা তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে ইথারের স্থিতিস্থাপক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- এর ফলে তরঙ্গ সঞ্চালিত হতে পারত।
- যেমন শব্দ তরঙ্গ চলাচলের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যম (বায়ু) প্রয়োজন হয়।
 
গ) মিথ্যা: এ মাধ্যম ছাড়া তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়। (Physics).

• কেন মিথ্যা?

• ঐতিহাসিক প্রমাণ:
- মাইকেলসন–মর্লে পরীক্ষা (১৮৮৭) ইথারের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
- এতে প্রমাণিত হয় যে ইথার বাস্তবে নেই।
- এই পরীক্ষাই পরবর্তীকালে বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পথ তৈরি করে।

• আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণা:
- ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ প্রমাণ করে যে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্যতায়ও চলতে পারে।
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতাবাদ (১৯০৫) ইথারের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করে দেয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ হলো বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের স্ব-প্রসারিত বিচ্যুতি।

• পরীক্ষামূলক প্রমাণ:
- নক্ষত্র থেকে আলো শূন্য মহাশূন্য পেরিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
- মহাকাশযানের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ শূন্য মহাশূন্যে সম্ভব।
- সব ধরনের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, ইনফ্রারেড, দৃশ্যমান, আল্ট্রাভায়োলেট, এক্স-রে, গামা) শূন্যতায় ভ্রমণ করতে সক্ষম।

• বিস্তারিত আলোচনা: 
- তড়িৎচৌম্বক (EM) তরঙ্গ, যেমন দৃশ্যমান আলো, শূন্য মহাশূন্যের মধ্য দিয়েই চলতে পারে এবং এদের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।

• ইথার ধারণা:
- ১৯শ শতকে পদার্থবিদরা মনে করতেন যে সব তরঙ্গের জন্য একটি মাধ্যম দরকার। যেমন শব্দ তরঙ্গের জন্য বায়ু ও জলতরঙ্গের জন্য পানি লাগে, তেমনি তারা ধারণা করেন যে আলোও শূন্যতায় ছড়াতে হলে কোনো এক বিশেষ মাধ্যম লাগবে। এই কাল্পনিক, অদৃশ্য ও সর্বব্যাপী মাধ্যমকে বলা হয় লুমিনিফেরাস ইথার।

• ইথার তত্ত্বের পতন:
- মাইকেলসন–মর্লে পরীক্ষা (১৮৮৭): তাঁরা পৃথিবীর গতির কারণে "ইথার বায়ু" (aether wind) শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
- ফল: কোনো দিকেই আলোর গতির পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এটি ছিল ইথারের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে প্রথম শক্ত প্রমাণ।
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা (১৯০৫): এ তত্ত্ব প্রমাণ করে যে শূন্যতায় আলোর গতি সব পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং কোনো মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে ইথার ধারণা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।

সূত্র:
- NASA. [link]
- Britannica. [link]
- European Journal of Applied Physics. [link]

১,৮৮৩.
সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন কে? 
  1. মোসলে 
  2. রাদারফোর্ড 
  3. থমসন
  4. চ্যাডউইক 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের অবস্থান। 
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। 
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী মোসলে সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। 
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = ৮। 
সুতরাং, অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 
- পারমাণবিক সংখ্যা প্রোটন সংখ্যার সমান।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮৪.
নিচের কোনটি কাপড় কাচার সোডা হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা।
- সোডিয়াম কার্বনেট হলো কাপড় কাচার সোডা
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৮৮৫.
কলের পানিতে সাধারণত কোন রাসায়নিক উপাদান থাকে?
  1. ক) ব্রোমিন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

সাধারণত কলের পানিতে বিভিন্ন ধাতুর লবণ আয়নিত অবস্থায় থাকে।
যেমন- সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, কোবাল্ট, ক্লোরাইড ইত্যাদি।
যেহেতু ক্লোরাইড আয়ন ক্লোরিন থেকে সৃষ্টি, তাই বলা যায় কলের পানিতে ক্লোরিন থাকে।

১,৮৮৬.
তরল অবস্থায় সোডিয়ামের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কম সক্রিয়
  2. কঠিন অবস্থার তুলনায় বেশি সক্রিয়
  3. সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়
  4. পানি শোষণ করে না
ব্যাখ্যা

তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫°C (২৫৭°F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।

সোডিয়াম:
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু।
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে।
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে।
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
 - সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়।
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না।
 - তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫° C (২৫৭° F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৮৮৭.
নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে সর্বপ্রথম ধারণা দেন-
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৮.
"Octet rule" অনুসরণ করে না কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস?
  1. জেনন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og)।
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়াম "Octet rule" অনুসরণ করে না।

- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ধর্মসমূহ- 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৮৮৯.
মরিচা প্রতিরোধের উপায় কোনটি?
  1. তৈল বা গ্রীজ ব্যবহার
  2. সাবান ব্যবহার
  3. ভলকানাইজিং
  4. আয়োনাইজিং
ব্যাখ্যা

লোহা ও ইস্পাতের মরিচা: 
- লোহা ও ইস্পাতের জিনিস অনেকদিন খোলা বাতাসে রেখে দিলে এর গায়ে কালচে বাদামী রংয়ের আবরণ পড়ে। একেই মরিচা বলে।
- স্থানীয় ভাষায় এর নাম জং।
- এই মরিচার ফলে লোহা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং পরিশেষে লোহা নষ্ট হয়ে যায়।

মরিচা প্রতিরোধের উপায়: 
বিভিন্ন উপায়ে মরিচা প্রতিরোধ করা যায়-
১. রং-এর প্রলেপ দিয়ে: লোহা বা ইস্পাতের উপরে রং, বার্ণিশ ইত্যাদির প্রলেপ দিয়ে মরিচা রোধ করা যায়।

২. তৈল বা গ্রীজ ব্যবহার করে: মেশিনের ঘূর্ণনশীল অংশে তৈল বা গ্রীজ লাগিয়ে মরিচা রোধ করা যায়।

৩. গ্যালভানাইজিং করে: লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়। ঘরের টিনে সহজে মরিচা পড়তে পারে না। গুড়া দুধের টিন বা টিনজাত খাবারের টিনগুলো মূলত লোহা ও ইস্পাতের তৈরি। এর উপর টিনে ধাতুর পাতলা প্রলেপ দেয়া থাকে ফলে এতে মরিচা ধরে না এবং ভিতরকার খাবার নষ্ট হয় না। এক ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেয়াকেই গ্যালভানাইজিং বলে।

৪. ইলেক্ট্রোপ্লেটিং করা: লোহা বা ইস্পাত সামগ্রীর উপর তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এক ধরনের প্রলেপ দেয়া হয়। একে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং বলে। ইলেক্ট্রোপ্লেটিং পদ্ধতিতে লোহার উপর নিকেল, ক্রোমিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম এমনকি সোনা এবং প্লাটিনামের প্রলেপও দেয়া দেয়া হয়। এতে লোহা বা ইস্পাতের উপর মরিচা পড়ে না।

৫. ইস্পাতের সঙ্গে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশিয়ে যে বিশেষ ইস্পাত তৈরি হয় তাকে স্টেইনলেস স্টিল বলে। এতে মরিচা পড়ে না।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮৯০.
STP-তে গ্যাসের মোলার আয়তন কত লিটার?
  1. 22.414 Lmol- 1
  2. 19.210 Lmol- 1
  3. 27.502 Lmol- 1
  4. 24.112 Lmol- 1
ব্যাখ্যা
• মোলার আয়তন:
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। যথা:
১. STP পদ্ধতি:
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure.
- এ পদ্ধতিতে আদর্শ তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও আদর্শ চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়।
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol- 1.

২. SATP পদ্ধতি:
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure.
- Ambient শব্দের অর্থ হলো পারিপার্শ্বিক বা আবহমণ্ডল বা কক্ষ।
- এ পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপি গ্যাসের কক্ষ তাপমাত্রা 25°C বা 298 K (কেলভিন) এবং বায়ুমণ্ডল চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়।
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, Vθm = 24.789 Lmol- 1 ধরা হয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ড. হাজারী ও নাগ।
১,৮৯১.
সিরকা হিসেবে বেশ পরিচিত কোনটি?
  1. ক) সাইট্রিক এসিড
  2. খ) অ্যাসিটিক এসিড
  3. গ) ল্যাকটিক এসিড
  4. ঘ) ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে।  
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
১. মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
২. যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
৩. ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
৪. পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
৫. দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৯২.
ভর বর্ণালী বিক্ষেপণ পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায় -
  1. আধান
  2. পরমাণুর ভর
  3. অণুর ভর
  4. তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে (ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে) পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন যে, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
সুতরাং, পরমাণুর প্রকৃত ভরের এ মানগুলো এত ক্ষুদ্র যে রাসায়নিক গণনার ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনক। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয়। একেই সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের জন্য অ্যামিটার ব্যবহৃত হয়। 
- তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয়। 
- অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা ব্যবহার করে কোনো পদার্থের একটি অণুর ভর নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৩.
ক্ষার হতে হলে কোন শর্তগুলি পূরণ করতে হবে?
  1. যৌগে OH⁻ মূলক থাকতে হবে
  2. যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে
  3. ক) ও খ) উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে-
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 

- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৯৪.
উড়োজাহাজের বডি তৈরিতে কোন সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইটিনল
  2. খ) ক্রায়োলাইট
  3. গ) ডুরালমিন
  4. ঘ) গান মেটাল
ব্যাখ্যা
উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলে পার্টস ইত্যাদিতে সংকর ধাতু ডুরালমিন ব্যবহৃত হয়৷
ডুরালমিনে আছে ৯৫% এলুমিনিয়াম, ৪% কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা ১%৷

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৮৯৫.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ? 
  1. ক্লোরিন 
  2. ব্রোমিন 
  3. হাইড্রোজেন
  4. অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, Br2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

১,৮৯৬.
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?
  1. ক) পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. খ) দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. গ) সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. ঘ) সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন (Sodium Chloride Structure):
- সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসে Na+ আয়ন ও CI- আয়নসমূহ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ দ্বারা সুবিন্যস্থ থাকে।
- গোলক আকারের এসব আয়নের ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 95 ও 181 pm (পিকোমিটার, 1 x 10-12m)।
- এক্ষেত্রে ক্যাটায়ন (Na+) ও অ্যানায়ন (Cl-) এর ব্যাসার্ধ অনুপাত হল (95 ÷ 181) = 0.525, যা ব্যাসার্ধ-অনুপাত নিয়মে 0.4140.72 এর মধ্যে অবস্থিত।
- সুতরাং ব্যাসার্ধ অনুপাত ও ক্যাটায়নের সন্নিবেশ সংখ্যার সম্পর্ক মতে, Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা হল 6 ও NaCl এর কেলাস গঠন হবে অষ্টতলকীয়।
- বাস্তবে দেখা যায় যে, উভয় আয়নের গোলকের ব্যাসার্ধ অনুসারে একই তলে Na+ আয়নের চারদিকে চারটি CI- আয়ন স্পর্শ করে থাকে, কিন্তু নিজেরা বিকর্ষণের কারণে স্পর্শ করে না।
- একই তলে এ পাঁচটি আয়ন থাকে এবং ঠিক উপরে ও নিচে আরো দুটি Cl- আয়ন অবস্থান নিতে পারে।
- এ ছয়টি CI- আয়ন ও একটি Na+ আয়নের কেন্দ্রের অবস্থানকে দেখানো হয়েছে; এতে Na+ আয়নটি একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং ছয়টি CI- আয়ন ঐ অষ্টতলকের ছয়টি শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত।
- সুতরাং এ গঠনে Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা 6 হয়েছে।
- স্থূল সংকেত NaCl অনুসারে প্রতিটি CI- আয়নের চারদিকে ছয়টি Na+ আয়ন থাকতে হবে, তাই CI- আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যাও 6 হবে। 
- এ ছয়টি Na+ আয়ন ও একটি সুষম অষ্টতলক সৃষ্টি করে, যার কেন্দ্রে CI- আয়নটি অবস্থিত।
- এ প্রকার Na+ আয়ন কেন্দ্রিক ও Cl- আয়ন কেন্দ্রিক অসংখ্য অষ্টতলক কেলাস জালিতে বিন্যস্ত হয়ে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকীয় NaCl এর কেলাস
গঠন করে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৮৯৭.
প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- 
  1. তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
প্যাসকেলের সূত্র: 
- প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি যা তরলের গতিবিদ্যা (fluid dynamics) এর অন্তর্গত। 
- এই সূত্রটি প্রথম ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেজ প্যাসকেল প্রস্তাব করেছিলেন। 
- প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- বায়বীয় ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে। 

প্যাসকেলের সূত্রটি নিম্নরূপ: 
- "কোনো আবদ্ধ তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তন হলে, সেই পরিবর্তনটি তরলের সব দিকেই সমানভাবে সঞ্চারিত হয়"। 
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়- 
P = F/A 
এখানে, 
- P হলো চাপ (Pressure), 
- F হলো বল (Force), 
- A হলো ক্ষেত্রফল (Area). 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৯৮.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস:
১। রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
২। পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৮৯৯.
ম্যাক্সওয়েল কত সালে আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন?
  1. ১৮৬৪ সালে
  2. ১৮৭৪ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৮৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০০.
Which atom does not contain any neutrons?
  1. Chlorine
  2. Hydrogen
  3. Oxygen
  4. Carbon
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ আইসোটোপ হলো প্রোটিয়াম। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১। আমরা জানি যে - কোনো পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা বের করার সূত্র হলো:
নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা)
- প্রোটিয়ামের ক্ষেত্রে: ১ - ১ = ০। অর্থাৎ, এর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
অন্যদিকে, 
- ক্লোরিন, অক্সিজেন এবং কার্বন প্রত্যেকটি মৌলের নিউক্লিয়াসকে স্থিতিশীল রাখার জন্য এবং পারমাণবিক ভর গঠনের জন্য অবশ্যই নিউট্রন প্রয়োজন।

• মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।