বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৮ / ২৭ · ১,৭০১১,৮০০ / ২,৬৯২

১,৭০১.
কে পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন?
  1. ক) থমসন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) চ্যাডউইক
  4. ঘ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
ব্যাখ্যা
- পরমাণু আবিষ্কার করেন ডেমোক্রিটাস
- পরমাণুর প্রোটন, নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন লর্ড রাদারফোর্ড।
- পরমাণুর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে. জে. থমস।।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান নিউট্রন আবিষ্কার করেন চ্যাডউইক।

-১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, এই তত্ত্ব ব্যবহার করে পরবর্তীতে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০২.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? 
  1. ইলেকট্রনের অস্তিত্ব
  2. প্রোটনের উপস্থিতি
  3. নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব প্রমাণ
  4. পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- প্রস্তাবগুলো হলো- 
১। পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র থাকে এবং এটি পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর বহন করে যার নাম নিউক্লিয়াস কিন্তু আয়তন খুবই নগণ্য। 
২। নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। পরমাণু মোট আধান নিরপেক্ষ, অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
৩। ইলেকট্রনের ঘূর্ণনকে সূর্যের চারপাশে গ্রহের ঘূর্ণনের সাথে তুলনা করা হয়। ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যে কেন্দ্রমুখী ও কেন্দ্রবিমুখী বল সমান ও বিপরীতমুখী, যা ইলেকট্রনকে স্থিতিশীলভাবে আবর্তন করতে সাহায্য করে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২। তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান চার্জযুক্ত ইলেকট্রন অবিচ্ছিন্ন শক্তি বিকিরণ করবে। এভাবে শক্তি হারালে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। 
৩। ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণা মডেলে নেই। 
৪। একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ নেই। 
৫। পরমাণুর বর্ণালী সম্পর্কেও কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এই মডেলটি দিতে পারেনি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৩.
’ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আগ্নেয় শিলা:
-  
গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ব্যাসল্ট, পিউমিস, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিখ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:

- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭০৪.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ হচ্ছে- 
  1. কপার সালফেট
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এই তুঁতে বা কপার সালফেট শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭০৫.
কোন দুইটি ধাতুর সংকরায়ণের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ তৈরি করা হয়?
  1. ক) তামা ও দস্তা
  2. খ) দস্তা ও টিন
  3. গ) কপার ও টিন
  4. ঘ) কপার ও নিকেল
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। যেমন:
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭০৬.
বিশুদ্ধ পানির pH মান কত? 
  1. 0
  2. 7
  3. 10
  4. 14
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো জলীয় দ্রবণের প্রকৃতি অম্লীয় নাকি ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ প্রকৃতির ইত্যাদি জানার জন্য pH একক ব্যবহার করা হয়। 
- কোনো দ্রবণের pH হলো ঐ দ্রবণে উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের (H+) ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+
- বিশুদ্ধ পানির pH মান = 7 । 
- যদি বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হয় এবং এসিড যোগের কারণে যদি H+ এর সংখ্যা 10 গুণ বেড়ে গিয়ে প্রতি লিটারে 10-6 মোল হয়, তাহলে দ্রবণের pH কমে যাবে।
• pH = -log[10-6] = 6
- H+ আয়নের ঘনমাত্রা যত বেশি হবে pH এর মান তত কমতে থাকবে। 

- যদি বিশুদ্ধ পানির মধ্যে ক্ষার যোগ করা হয় তবে ক্ষারের OH- বিশুদ্ধ পানির H+ এর সাথে বিক্রিয়া করে ঐ দ্রবণে বিশুদ্ধ পানির তুলনায় H+ এর সংখ্যা কমে যাবে।
যেমন: পানির মধ্যে ক্ষার যোগ করার কারণে যদি H+ এর সংখ্যা কমে গিয়ে প্রতি লিটারে 10-10 মোল হয় তাহলে তার pH হবে- 
• pH = -log[10-10] = 10 
- pH এর মান 7 থেকে বেড়ে যাবে, অর্থাৎ ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান 7 থেকে বেশি। 
- pH এর মান 7 হওয়ার অর্থ এটি ক্ষারও নয় আবার এসিডও নয়, এটি নিরপেক্ষ দ্রবণ। 
- যদি কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 থেকে কম হয় তাহলে সেই দ্রবণটি এসিডিক দ্রবণ এবং যদি কোনো দ্রবণের pH মান 7 থেকে বেশি হয় তবে সেই দ্রবণটি ক্ষারীয় দ্রবণ। 
- বাস্তব জীবনে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে pH এর মান 0 থেকে 14 পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭০৭.
লোহায় মরিচা ধরার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. পানি
  2. অক্সিজেন
  3. কেরোসিন
  4. পানি ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের জন্য এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
উদাহরণ: পানি এবং অক্সিজেনের সংযোগে লোহায় মরিচা ধরা, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে পানি তৈরি হওয়া, দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 

মরিচা: 
- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা। 
- মরিচা সৃস্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো সম্ভব - 
লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা। 
- মরিচার সংকেত Fe2O3.nH2
- মরিচায় পানির অণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। 
এখানে, n এর মান 1, 2, 3 ইত্যাদি যে কোন পূর্ণ সংখ্যা হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৮.
প্রাকৃতিকভাবে গঠিত কার্বনের তিনটি আইসোটোপের ভর সংখ্যা-
  1. ১০, ১১, ১২
  2. ১১, ১২, ১৩
  3. ১২, ১৩, ১৪
  4. ১১, ১২, ১৪
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:

- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ, কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়।
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা মৌলটিকে অনন্য রূপে শনাক্ত করে।
- কিন্তু নীতিগতভাবে একটি মৌলের যে কোনো সংখ্যক নিউট্রন থাকতে পারে।
- মৌলের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি হলো এর ভরসংখ্যা।
- এ কারণেই কোনো মৌলের প্রত্যেকটি আইসোটোপের ভরসংখ্যা বিভিন্ন হয়।

• কার্বনের আইসোটোপ:

- কার্বনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে। 
- যাদের ভরসংখ্যা যথাক্রমে 12,13,14.
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6, অর্থাৎ প্রত্যেকটি কার্বন পরমাণুতে ছয়টি প্রোটন আছে, যার ফলে কার্বনের আইসোটোপগুলোতে যথাক্রমে 6, 7 এবং ৪ টি নিউট্রন রয়েছে।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে 'পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্রধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৯.
কয়টি মৌলক উপাদান নিয়ে পরমাণু গঠিত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

পরমাণু তিনটি মৌলিক উপাদান নিয়ে গঠিত।
যথা: ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন।

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মূল কণিকা যার আধান ঋণাত্মক। ইলেক্ট্রনকে সর্ব প্রথম নাম করণ করেন স্টোনি। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে স্যার জে. জে. থমসন সর্বপ্রথম ইলেকট্রনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।

- প্রোটন ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট কণিকা যা নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকে। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটনের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।

- ইলেকট্রন ও প্রোটনের ন্যায় নিউট্রনও একটি মৌলিক কণিকা তবে এটি আধানবিহীন। আধানবিহীন (neutral) হওয়ায় এর এই নাম দেয়া হয়েছে।


উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

১,৭১০.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কী উৎপন্ন করে? 
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও ক্ষার
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. অক্সিজেন ও লবণ
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে।

- এ ছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। 
- এই লবণগুলোর মধ্যে কোনটি অম্লীয়, আবার কোনো কোনটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
i) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3
(ii) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
(iii) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭১১.
ফায়ার এক্সটিংগুইশারে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কার্বনডাই অক্সাইড
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা
অগ্নি নির্বাপনের জন্য মূলত চার ধরনের এক্সটিংগুইসার ব্যবহার হয়ে থাকে।
১. ওয়াটার টাইপ এক্সটিংগুইসার
2. ফোম টাইপ এক্সটিংগুইসার
3. গ্যাস টাইপ এক্সটিংগুইসার
4. পাউডার টাইপ এক্সটিংগুইসার

তার মধ্যে গ্যাস টাইপ এক্সটিংগুইসারে কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
১,৭১২.
'ডুরালুমিন' সংকর ধাতুতে কোন উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. ক্রোমিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতুতে "অ্যালুমিনিয়াম" উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে, যা শতকরা ৯৫ ভাগ। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৩.
কোন খনিজটি কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত? 
  1. ডলোমাইট
  2. জিপসাম
  3. সোনা
  4. বক্সাইট
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, 'প্রকৃতিপ্রদ ও অজৈব কঠিন পদার্থ, যাদের মধ্যে কতিপয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংযুক্তি থাকে তাদেরকেই খনিজ পদার্থ বলে'। 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোনা, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়।
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ: 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ: 
- রাসায়নিক অধাতব খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের অধাতব খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ: 
- কঠিন জ্বালানি খনিজ, যথা- কয়লা। 
- তরল জ্বালানি খনিজ, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয় জ্বালানি খনিজ, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক জ্বালানি খনিজ, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১,৭১৪.
ক্ষতিকারক গ্যাস 'সিএফসি' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) ডাই ক্লোরো ডাই ফ্লোরো কার্বন
  2. খ) ক্লোরোফ্লোরো ইথেন
  3. গ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. ঘ) ক্লোরোফ্লোরো মিথেন
ব্যাখ্যা
সিএফসি 
- সিএফসি এর পূর্ণরূপ হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- সিএফসি হলো ওজনস্তররের ক্ষতি সাধনকারী কতগুলো গ্যাস।
- এগুলোর মধ্যে রয়েছে- কার্বন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, মিথেন, ফ্রেয়ন ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে ক্লোরিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
- গন্ধহীন, অদাহ্য, অবিষাক্ত এবং নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট এসব যৌগের বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন।

সিএফসি'র ক্ষতিকর দিকসমূহ-
১. প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। 
২. ত্বকের ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি। 
৩. খাদ্যশস্যের ক্ষতি করে এবং উৎপাদন কমিয়ে দেয়। 
৪. কৃষিক্ষেত্রে পোকামাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি করে। 
৫. খাদ্য উৎপাদনকারী শৈবাল ও প্লাঙ্ককটন ধ্বংস করে।

সিএফসি এর ব্যবহারের দিকসমূহ
১। কীটনাশক ও পােকামাকড় দমনের জন্য বিষাক্ত দ্রবণ তৈরিতে দ্রাবক হিসাবে CFC ব্যবহার করা হয়।
২। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইনহেলার, মেডিক্যাল স্প্রে-প্রভূতি ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার করা হয়।
৪। সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে CFC ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: American Chemical Society এবং দ্য ওজনহোল ওয়েবসাইট
১,৭১৫.
তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় ধাতুর প্রলেপ কোথায় পড়ে? 
  1. অ্যানোডে 
  2. ক্যাথোডে 
  3. ব্যাটারিতে 
  4. ইলেকট্রোলাইটে 
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন (Electroplating): 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ করে একটি ধাতুর ওপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে। 
- সাধারণত কোনো কম দামি ধাতু (যেমন- তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি জিনিসকে জলবায়ু থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা সুন্দর দেখানোর জন্য সেগুলোর ওপর সোনা, রুপা, নিকেল এরকম মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- যে ধাতব বস্তুটিকে প্রলেপ দিতে হবে, সেটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পাত্রে রাখতে হবে। এটি হবে ক্যাথোড ইলেকট্রোড।
- যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়।
- তড়িৎ দ্রব হিসেবে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তার কোনো একটি লবণের দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।
- ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে রাখা ধাতব বস্তুর ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭১৬.
STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা কত ধরা হয়?
  1. 0° C
  2. 25° C
  3. 298 K
  4. - 298° C
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে।
যেমন-

(১) STP পদ্ধতি:
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure.
- STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol-1

(২) SATP পদ্ধতি: 
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure.
- এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 25°C বা 298K ও চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়।
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, V = 24.789 Lmol-1

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
১,৭১৭.
কোন পদার্থটি বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. টলুইন
  2. ফরমালিন
  3. গ্লুটারাল্ডিহাইড
  4. গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

• বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। ফরমালিন মূলত পানিতে দ্রবীভূত ফরমালডিহাইড, যা জীবন্ত কোষ ও টিস্যুর প্রোটিনকে কঠিন করে দেয় এবং জীবাণু নিধন করে। এর ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে পচনরোধী অবস্থায় রাখা যায়। ফরমালিন নমুনার আকার, রঙ এবং কাঠামো বেশি পরিবর্তন না করে সংরক্ষণ করে, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিকল্প যেমন টলুইন, গ্লুটারাল্ডিহাইড বা গ্লিসারিনও ব্যবহৃত হয়, তবে প্রধান ও প্রচলিত সংরক্ষক হিসেবে ফরমালিনই সর্বাধিক কার্যকর এবং জনপ্রিয়। এটি বায়োলজি ল্যাবে নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে।
 
• উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত পদার্থ (Preservative in Biology Lab):
- বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণ করার জন্য একটি রসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যা পচন রোধ করে।
- এটি কোষ এবং টিস্যুর কাঠামো দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত রাখে।
- সাধারণত ব্যবহৃত কিছু সংরক্ষণকারী পদার্থ হলো: টলুইন, ফরমালিন, গ্লুটারাল্ডিহাইড, এবং গ্লিসারিন। 
- তবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং কার্যকরী পদার্থ হলো ফরমালিন।  
- ফরমালিন হলো ৩-৪% ফর্মালডিহাইড সমাধান যা জীবদেহের প্রোটিনকে স্থিতিশীল করে এবং পচন প্রক্রিয়া রোধ করে।  
- টলুইন মূলত রঙিন পদার্থের জন্য, গ্লুটারাল্ডিহাইড মাইক্রোবায়োলজি বা টিস্যু ফিক্সেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং গ্লিসারিন শোষণীয় বা আর্দ্রতা রোধে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি সংরক্ষণের জন্য নয়।  

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১,৭১৮.
নিচের কোনটি ধাতু?
  1. ফসফরাস
  2. টিন
  3. আয়োডিন
  4. কার্বনেট
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কপার/তামা, রূপা, সোনা, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ, দস্তা, টিন, সীসা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু।
- হাইড্রোজেন, ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, সালফার, কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অধাতু।
- অ্যামোনিয়াম, হাইড্রোক্সিল, নাইট্রাইট, নাইট্রেট, কার্বনেট, সালফেট, ফসফেট ইত্যাদি হলো যৌগমূলক।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

১,৭১৯.
ফিটকিরি কত অণু কেলাস পানি ধারণ করে?
  1. 10
  2. 12
  3. 24
  4. 18
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২০.
অম্লের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সত্য নয়?
  1. ক) লিটমাসকে নীল করে
  2. খ) টক স্বাদ যুক্ত
  3. গ) ক্ষয়কারী পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সকল লঘু এসিড টক স্বাদযুক্ত, এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ হিসাবে পরিচিত, এসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে, এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে, লঘু এসিড ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৭২১.
অধাতুর তুলনায় ধাতুর ঘনত্ব সাধারণত- 
  1. বেশি 
  2. কম
  3. সমান 
  4. অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২২.
তরল পদার্থের কোন বৈশিষ্ট্যটি সত্য? 
  1. আকার ও আয়তন উভয়ই নেই
  2. নির্দিষ্ট ওজন থাকে, কিন্তু কোনো পাত্র ধারণ করতে পারে না
  3. নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে
  4. নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৩.
কোনটি WHO কর্তৃক অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ নয়?
  1. লবণের দ্রবণ
  2. ভিনেগার
  3. সোডিয়াম বেনজোয়েট
  4. ফরমালডিহাইড
ব্যাখ্যা
ফুড প্রিজারভেটিভ (Food preservative):
- খাদ্যদ্রব্যে অনেক সময় কিছু রাসায়নিক পদার্থ মিশানো হয় যাতে খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে না পারে, খাবার দুর্গন্ধযুক্ত না হয় এবং পচন না ধরে।
- এই রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
- কিছু ফুড প্রিজারভেটিভ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) কর্তৃক অনুমোদিত।
- যে সব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং যেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে, তাদেরকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
- যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, ইত্যাদি অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ।

অন্যদিকে,
- যেগুলো আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়, সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়।
যেমন- ফরমালডিহাইড বা ফরমালিন।

উৎস: ৮ম শ্রেণি, বিজ্ঞান ও WHO ওয়েবসাইট।
১,৭২৪.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক পলিমার নয়?
  1. পলিস্টারিন
  2. স্টার্চ
  3. উল
  4. সিল্ক
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভর বিশিষ্ট বৃহদাকার যে অণু তৈরি হয় তাকে বোঝায়। 
- যে প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মনোমার যুক্ত হয়ে উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয়, তাকে পলিমারকরণ বলে।
- পিভিসি (PVC) পাইপ ভিনাইল ক্লোরাইড মনোমার থেকে তৈরি করা হয়। 
- পলিমার দুই ধরনের। 
যথা - 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে প্রাপ্ত পলিমারকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে।
যেমন - প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার:
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায় তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে।
যেমন - পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্টারিন, টেফলন, টেরিলিন,নাইলন ইত্যাদি কৃত্রিম পলিমার। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৫.
পঁচা ডিমের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ইথেন
  2. অ্যাসিটিলিন
  3. হাইড্রোজেন সালফাইড
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন সালফাইড পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী। 

হাইড্রোজেন সালফাইড: 
- হাইড্রোজেন সালফাইড গন্ধ পঁচা ডিম প্রতিম, সমস্ত পরিচিত। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় অধীনে, পদার্থ বায়বীয় অবস্থায় রয়েছে। 
- এটা কোন রঙ আছে, জলে দুর্বল দ্রবণীয়, বিষাক্ত হয়। 
- গড়ে, 20 ডিগ্রীর সেলসিয়াস 2.4 হাইড্রোজেন সালফাইড জল আয়তনের অবসান ঘটাবে। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড ব্যবহার করে মিথেন থাইয়ল, ইথেন থাইয়ল ও থায়োগ্লাইকোলিক এসিডসহ বেশ কিছু জৈব যৌগ প্রস্তুত করা হয়। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড দ্বারা গ্যাস অথবা পানি দূষিত হলে ধাতব সালফাইডে রূপান্তরিত করে দূষণমুক্ত করা হয়। 
- ডিউটেরিয়াম অক্সাইড বা সাধারণ পানি থেকে ভারী পানি পৃথকীকরণে গার্ডলার সালফাইড পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন সালফাইড ব্যবহার করা হয়। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, বায়োগ্যাস এবং তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে (এলপিজি) পাওয়া যায়। একে কয়েকটি উপায়ে সরিয়ে ফেলা যায়। 

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
১,৭২৬.
নিচের কোনটি একটি ধাতু? 
  1. ক্লোরিন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি।

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৭.
অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) টিংচার আয়োডিন
  2. খ) ক্লোরোফরম
  3. গ) নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. ঘ) ইথার
ব্যাখ্যা
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন MRI, CT-Scan, X-Ray এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন - সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদিতে রয়েছে রসায়নের অবদান।
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে।
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৭২৮.
বাহ্যিক চাপের প্রভাবে সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে একমুখী বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) শ্বসন
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) অভিস্রবন
  4. ঘ) নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ:
- নিঃসরণ শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্গমন বা বাইরে বেরিয়ে আসা। 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়।
- রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৯.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয় কোনটি?
  1. কুইন্টিয়াম
  2. প্রোটিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ট্রাইটিয়াম
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৩০.
রেডক্স বিক্রিয়ায় বিজারণ কীভাবে ঘটে?
  1. নিউট্রন দান করে
  2. প্রোটন দান করে
  3. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  4. ইলেকট্রন দান করে
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া। 
- এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৩১.
মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত লবণ কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
  3. গ) সিলভার ক্লোরাইড
  4. ঘ) অ্যামোনিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন - 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন - 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন - 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৭৩২.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ক) লোহা
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- এলুমিনিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি হলো ধাতু। ধাতুসমূহ দেখতে চকচকে, তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি হলো অধাতু। সাধারণত এরা তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী এবং ধাতুর মতো চকচকে হয় না। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১,৭৩৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. ইউরেনিয়াম
  3. কয়লা
  4. গ্রাফিন
ব্যাখ্যা
• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন ।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।

- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো: 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,৭৩৪.
পরমাণুর কেন্দ্রকে কী বলা হয়?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস বলা হয়।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৫.
রঞ্জক পদার্থ সাধারণত কোন উৎস থেকে তৈরি করা হয়? 
  1. লৌহ থেকে
  2. তামা থেকে
  3. মাইকা থেকে
  4. জিংক থেকে
ব্যাখ্যা
রঞ্জক পদার্থ: 
- রঞ্জক পদার্থ বিশেষ এক ধরনের জৈব যৌগ। 
- এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা না পানিতে দ্রবণীয় না তেলে দ্রবণীয়। এ বিশেষ গুণের কারণে রঞ্জকসমূহ ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের আরও একটি বিশেষ গুণ হলো এরা শরীরের মিউকাস পর্দার উপর কোনো প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। 
- বিভিন্ন উপাদানের বর্ণ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থকে ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এর সাথে TiO2 ব্যবহার করা হয়। 
- সাধারণত মাইকা থেকে রঞ্জক তৈরি করা হয় এবং এর উপর TiO2 এর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- ইয়োসিন (Eosin) একটি বহুল পরিচিত রঞ্জক পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৬.
সিলিন্ডার কোন গ্যাস দ্বারা পূর্ণ থাকে?
  1. ক) অকটেন 
  2. খ) প্রোপেন
  3. গ) পেন্টেন
  4. ঘ) ইথেন
ব্যাখ্যা

বাসাবাড়ীতে আমরা যে সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকি সেইটা মূলত প্রোপেন এবং বিউটেন গ্যাসকে উচ্চচাপে সংকোচিত করে তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয়।
আমাদের দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ রান্নার কাজে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকেন, যা এলপিজি বা এলপি গ্যাস নামে পরিচিত।
এটি মূলত দাহ্য হাইড্রোকার্বন গ্যাসের মিশ্রণ এবং জ্বালানি হিসাবে রন্ধন কার্যে, গাড়িতে ও ভবনের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়।
১৯১০ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১৯১২ সালে এ গ্যাস বাণিজ্যিকরূপে উৎপাদন শুরু হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির রসায়নবিজ্ঞান, যুগান্তর পত্রিকা ১০ই অগাস্ট, ২০২২ (ব্যাখ্যা)

১,৭৩৭.
পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) প্লুটনিয়াম
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) ক্যাডমিয়াম
  4. ঘ) ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক বােমা তৈরি হয় ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239 ধাতু দিয়ে।
বােমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রিপ্টনে পরিণত হয়।
Verified From: Britannica Encyclopaedia.

১,৭৩৮.
নিচের কোনটি উপধাতু?
  1. ক) আর্সেনিক
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) বেরেলিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

যে মৌলের মধ্যে ধাতু ও অধাতু উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাকে উপধাতু বা অপধাতু বলে।
যেমন-বােরন (B), সিলিকন (Si), আর্সেনিক (As), টেলুরিয়াম (Te) ইত্যাদি।
সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৭৩৯.
ইথানল জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কী ধরনের ইঞ্জিনে প্রয়োগ করা হয়? 
  1. বাষ্প ইঞ্জিন
  2. বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিন
  3. তাপ ইঞ্জিন
  4. হাইড্রোলিক ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানলের রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH. 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা ১০ ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৪০.
ক্লোরোপিকরিন এর রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. CH₃CHOHCH₃
  2. CCl3-NO2
  3. H-CHO
  4. CH₃ -CHO
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপিকরিন 
- কাঁদুনে গ্যাস/টিয়ার গ্যাস ক্লোরোপিকরিন CCl3-NO2। রাসায়নিক নাম ট্রাইক্লোরো নাইট্রোমিথেন।
- এটি একটি জৈব। কারণ এটি মিথেন CH4 এর ৪টি H পরমাণু ১ নাইট্রো মূলক -NO2 ও ৩টি ক্লোরিন পরমাণু -Cl দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে গঠিত হয়েছে।
- নাইট্রোক্লোরোফর্মের এই ব্যবহারের জন্য এটিকে ‘রায়ট কন্ট্রোল এজেন্ট’ও বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশে ‘অবৈধ’ জমায়েত হটাতে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- এই গ্যাসের কারণে চোখ দিয়ে অবিরত জল পড়া, চোখ জ্বালা করা, চামড়ায় দাগ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে অধিক মাত্রায় এই গ্যাস ব্যবহার করা হলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।
- সিডব্লিউসি অনুযায়ী, যুদ্ধে ক্লোরোপিকরিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- ওপিসিডব্লিউ-এর তালিকায় এটি ‘চোকিং এজেন্ট’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

সূত্র-  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর  রসায়ন প্রথম পত্র। 
১,৭৪১.
স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগের মান কত? 
  1. 0.0366°C-1
  2. 36.66° C-1 
  3. 1/273° C-1
  4. -1/273° C-1
ব্যাখ্যা

1/273 Degree C-1

প্রসারণ সহগ:
- স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগ হলো গ্যাসের আয়তন পরিবর্তনের হার যা প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ঘটে, যখন চাপ স্থির থাকে।
- চার্লসের সূত্র অনুযায়ী, স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রার সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।

নিখুঁত গ্যাসের জন্য:
β=1/T​
T = কেলভিন তাপমাত্রা
স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় (0°C = 273° K)
β= 1 / 273 C-1

- পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, 0°C তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক আয়তনের 1/273 অংশ বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই

১,৭৪২.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাই হচ্ছে ঐ মৌলের- 
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. পজিট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. ইলেকট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা, Z= 11 । 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = 17 । 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটায়; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটায় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১,৭৪৩.
Which of the following in not a metal ?
  1. ক) Gold
  2. খ) Diamond
  3. গ) Silver
  4. ঘ) Copper
  5. ঙ) None of these
ব্যাখ্যা
Diamond বা হীরা মূলত কার্বনের একটি রুপভেদ।
কার্বন একটি অধাতু। তাই হীরাও অধাতু।

গ্রাফাইট কার্বনের আরেকটি রুপভেদ।

অন্যদিকে, Gold, Silver, Copper ধাতু।
১,৭৪৪.
নিচের কোন ধাতুটি পানির চেয়ে হালকা নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) পটাসিয়াম
  4. ঘ) হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

অপশনে তিনটি ধাতু এবং একটি গ্যাস আছে।

- ক্যালসিয়াম ধাতুটি পানি চেয়ে ভারি।

- লিথিয়াম, পটাসিয়াম এবং সোডিয়াম এই তিনটি ধাতু পানির চেয়ে হালকা।
অর্থাৎ, অপশনগুলোর মধ্যে খ) সোডিয়াম ও গ) পটাশিয়াম দুটিই পানির চেয়ে হালকা।

- হিলিয়াম একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস; ধাতু নয়।

১,৭৪৫.
তাপ প্রয়োগে রাবারের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. রঙ বদলায়
  2. আয়তন কমে যায়
  3. আয়তন বেড়ে যায়
  4. আয়তন কমে আবার বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৪৬.
কোনটি চার্লসের সূত্রকে সমর্থন করে?
  1. ক) PV = ধ্রুবক
  2. খ) TV = ধ্রুবক
  3. গ) T/V = ধ্রুবক
  4. ঘ) V/T = ধ্রুবক
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র:
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় ।
- গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
- গাণিতিকভাবে, V ∝ T বা, V/T = ধ্রুবক।

বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
- গাণিতিকভাবে, P ∝ 1/V বা, PV = ধ্রুবক।

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক ।
- গাণিতিকভাবে, P ∝ T বা, P/T = ধ্রুবক।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১,৭৪৭.
ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে কিভাবে সাহায্য করে? 
  1. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
  2. খাদ্যের তাপমাত্রা কমায়
  3. খাদ্যের প্রোটিন বৃদ্ধি করে 
  4. pH কমিয়ে অণুজীবের বংশ বিস্তার রোধ করে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়।
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৮.
ঘরের টিউবলাইটের ভেতর কোন অবস্থা তৈরি হয়? 
  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. প্লাজমা
  4. কঠিন
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা (প্লাজমা): 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হতে পারে, এর নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। 
- ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়। 
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, আবার নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে। 
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে। 
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৪৯.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. পানি (H20)
  2. চিনি (C12H22O11)
  3. মিথেন (CH4)
  4. সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
ব্যাখ্যা
পানি, চিনি ও সালফিউরিক এসিড - প্রত্যেক যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকলেও মিথেনে নেই।
সকল চিনির রাসায়নিক নাম সুক্রোজ। এবং এর রাসায়নিক সংকেত = C12H22O11
গ্লুকোজ(C6H12O6) ও ফ্রুক্টোজ এর সমন্বয়ে সুক্রোজ গঠিত হয়।
[ ফ্রুক্টোজ হলো ৬ কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। এর আণবিক সংকেত হল C6H12O6 যা গ্লুকোজের মতই।
এটিও একটি রিডিউসিং শ্যুগার।
এর গঠনে কিটো গ্রুপ থাকায় একে কিটোহেক্সোজও বলা হয়। ]
পানির সংকেত = H20
সালফিউরিক এসিড সংকেত = H2SO4
মিথেন এর সংকেত = CH4
১,৭৫০.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?
  1. ক) 0°C
  2. খ) -100°C
  3. গ) -273°C
  4. ঘ) 273K
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে।
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
১,৭৫১.
নিচের কোনটি অধাতু? 
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. জিংক
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫২.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম কী?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) অণু
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) ইলেক্ট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম পরমাণু ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৭৫৩.
গ্যাসীয় পদার্থে কোনটি বিদ্যমান থাকে?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন
  2. নির্দিষ্ট ভর
  3. নির্দিষ্ট আকার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বায়বীয় পদার্থ:
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে।
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম।

• উদাহরণ:
- অক্সিজেন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- হাইড্রোজেন,
- নাইট্রোজেন,
- অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৫৪.
সরিষার তেলে কোন এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) পাইরুভিক এসিড
  2. খ) ইরোসিক এসিড
  3. গ) হাইপোক্লোরাস এসিড
  4. ঘ) হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি
ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
১,৭৫৫.
স্বল্পমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম ক্লোরাইড
  3. ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব।

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন- 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), 
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), 
• সিলভার আয়োডাইড (AgI), 
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), 
• ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), 
ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), 
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), 
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), 
পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI), 
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3), 
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI), 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৬.
মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে নিচের কোন উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. লোহা
  2. নিকেল
  3. ক্রোমিয়াম
  4. কপার
ব্যাখ্যা
- মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে 'কপার' উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না।

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
- আবার, লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। 
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৭.
নিচের কোনটিতে নিউট্রন নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৮.
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ৩৩
  2. ৩৮
  3. ৩৬
  4. ৪৪
ব্যাখ্যা
- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11  । 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17  । 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- স্ট্রনসিয়ামের (Sr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮। 
- ক্রিপটনের (Kr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৬। 
- রুথেনিয়াম (Ru) পারমাণবিক সংখ্যা ৪৪। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৭৫৯.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. K
  2. Ca
  3. Li
  4. Na
ব্যাখ্যা
মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬০.
ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ ধর্ম উভয়ই বিদ্যমান- এই তত্ত্ব প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা

- বোর পরমাণু মডেলে ইলেকট্রনকে শুধু কণা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
- ১৯২৪ সালে বিজ্ঞানী লুই ডি ব্রগলি মত প্রকাশ করেন যে, ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ উভয় ধর্ম আছে।
- লুই ডি ব্রগলির এ বক্তব্যকে ১৯২৬ সালে বিজ্ঞামী ই. স্রোডিঞ্জার আরও সংশোধন ও পরিমার্জন করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৭৬১.
হাইড্রোজেনের তুলনায় কোন মৌল কম সক্রিয়? 
  1. সোডিয়াম 
  2. সিলভার 
  3. লিথিয়াম 
  4. আয়রন 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন অপেক্ষা কম সক্রিয় মৌল- সিলভার (Ag)। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। - মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬২.
ওয়াটার গ্যাসের উপাদানগুলো কি কি?
  1. হাইড্রোজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন ও কার্বন-মনোঅক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- ওয়াটার গ্যাস হলো একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ যা হাইড্রোজেন (H₂) এবং কার্বন-মনোঅক্সাইড (CO) দ্বারা গঠিত।
- এটি সাধারণত কোক বা কোলে স্টিম (বাষ্প) দ্বারা উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয়।
- এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কোক বা কাঠের কার্বন গ্যাসের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কার্বন-মনোঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে, যা ওয়াটার গ্যাস হিসেবে পরিচিত।
- রাসায়নিক সমীকরণ: C + H2O → CO + H2

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৭৬৩.
আচার সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৪.
শিলার বৈশিষ্ট্য কোনটি সঠিক?
  1. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায় না
  2. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায়
  3. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয় এবং গাছ পালা জন্মে
  4. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে না
ব্যাখ্যা
মাটি: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 

শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৫.
রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে কী উপাদান যোগ করা হলে এটি পানের অযোগ্য হয়ে যায়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. ফসফেট
  3. অ্যামোনিয়া
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৬.
পানির ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করার কারণ কী? 
  1. প্লবতা
  2. বায়ুচাপ
  3. পৃষ্ঠটান
  4. স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
তলটান বা পৃষ্ঠটান: 
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে। 
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘটনা ঘটে তা হলো- 
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা। 
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা। 
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া। 

- পানির ছোট ফোঁটা পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকৃতির হয়। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৭.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি?
  1. ক) কালো
  2. খ) সাদা
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
- কালো রংয়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি। 
- তাই গ্রীষ্মকালে কালো রংয়ের জামা পরিধান করলে এতে গরম বেশি অনুভূত হয়। 
- গরমের সময় কালো রং ব্যবহার করার ফলে অনেক সময় ঘামাচি বা  র‌্যাশ দেখা দেয়।
-  তাই গ্রীষ্মকালে কালো রং ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
 
অপরদিকে,
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক; কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম।
 
উৎস: বিডিনিউজ 


১,৭৬৮.
পদার্থের এটম নামক অবিভাজ্য একক রয়েছে- উক্তিটি কার?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) পিথাগোরাস
  3. গ) থেলিস
  4. ঘ) লোডস্টোন
ব্যাখ্যা

- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 

১,৭৬৯.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি? 
  1. মলটেস
  2. জাইমেস
  3. ডায়াস্টেস 
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট (Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭০.
জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হওয়া এসিডকে কী বলা হয়?
  1. তীব্র এসিড
  2. দুর্বল এসিড 
  3. অজৈব এসিড 
  4. জৈব এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এটি নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৭১.
রঙ্গিন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সালফার
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) জিঙ্ক
  4. ঘ) নিয়ন
ব্যাখ্যা
রঙ্গিন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন নামক নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

- নিয়ন একটি গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থ। এটি একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস।
- এর প্রতীক Ne এবং এর পারমাণবিক সংখ্যা ১০।
- নিয়ন পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৮ এবং পর্যায়-২ অবস্থিত।

নিয়ন গ্যাসের ব্যবহার-  
১. নিয়ন বাতি ও নিয়ন চিহ্ন প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।
২. আলোকসজ্জার জন্য নিয়ন গ্যাস ইলেকট্রিক বাল্বে ব্যবহৃত হয়।
৩. সবুজ ঘরে উদ্ভিদ ও ফুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৪. টেলিভিশন সেট, বেতার চিত্র এবং শব্দ চলচ্চিত্র ইত্যাদি’তে নিয়ন ব্যবহার করা হয়।
৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে নিয়ন ও হিলিয়াম এর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- ৬৬ পৃষ্ঠা, রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭২.
H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত?
  1. 74
  2. 72
  3. 96
  4. 98
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক আণবিক ভর
- কোন অণুর ভর ও কার্বন-১২ পরমাণুর ভরের ১/১২ অংশের অণুপাত কে সেই অণুর আপেক্ষিক আণবিক ভর বলা হয় (যা ডাল্টন নামেও পরিচিত)।
- এটি এককবিহীন হয়। 

আণবিক ভর
- আণবিক ভর (M) হল কোন পদার্থের একটি অণুর ভর।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ পদার্থের আণবিক ভর একটি ভৌত ধর্ম। 
- একাধিক পদার্থের আপেক্ষিক আনবিক ভর সমান হতে পারে কিন্ত আনবিক ভর প্রত্যেক পদার্থের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র।

H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর : 

- সালফিউরিক এসিড(H2SO4) এর অণুতে 2 পরমাণু হাইড্রোজেন, পরমাণু  সালফার ও 4 পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1, সালফার এর পারমাণবিক ভর 32 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 

সুতরাং, H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = (1×2 + 32×1+ 16 x 4) 
 = 98. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৩.
'অ্যাটম' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) অবিভাজ্য
  2. খ) খন্ডিত
  3. গ) বিভক্ত
  4. ঘ) বিস্ফোরক
ব্যাখ্যা
- খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন পদার্থ কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘অ্যাটম' । 
- গ্রীক শব্দ ‘অ্যাটমের’ অর্থ হচ্ছে অবিভাজ্য। ডেমোক্রিটাসের ধারণা অনুযায়ী বিশ্বের যাবতীয় বস্তু অ্যাটম নামক খুবই ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং এই অ্যাটমকে আর কোনক্রমেই ভাগ করা সম্ভব নয়।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৪.
চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা কী নির্দেশ করে?
  1. ইলেকট্রনের ঘূর্ণন
  2. ইলেকট্রনের শক্তিস্তর
  3. অরবিটালের ত্রিমাত্রিক অবস্থান বিন্যাস
  4. নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রনের দূরত্ব
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম সংখ্যা: 
- কোনো পরমাণুতে একটি ইলেকট্রনের অবস্থান অর্থাৎ ইলেকট্রন কক্ষপথের আকার-আকৃতি তথা নিউক্লিয়াস হতে কক্ষপথটির দূরত্ব, কক্ষপথটি বৃত্তাকার না উপবৃত্তাকার, কক্ষপথের ত্রিমাত্রিক দিক বিন্যাস, কক্ষপথে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন ইত্যাদি জানার জন্য যে চারটি রাশি ব্যবহার করা হয়, সেই রাশিগুলোকে কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।
- পরমাণুতে কোনো ইলেকট্রনকে সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করার জন্য যে চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার প্রয়োজন তা হলো- 
১. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (Principal Quantum Number), 
২. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (Subsidiary Quantum Number), 
৩. চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা (Magnetic Quantum Number) এবং 
৪. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা (Spin Quantum Number)। 

- পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন সম্পর্কে জানতে হলে চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার প্রয়োজন হয়। 
- পরমাণুতে প্রত্যেকটি কোয়ান্টাম সংখ্যা ইলেকট্রন সম্পর্কে যে তথ্য প্রদান করে তা নিম্নরূপ- 
১. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) হতে ইলেকট্রন কক্ষপথের আকার এবং ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াস হতে কত দূরে অবস্থিত তা জানা যায়। 
২. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে অবস্থান করে তার আকৃতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। 
৩. চৌম্বক কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে অবস্থান করে তার ত্রিমাত্রিক অবস্থান জানা যায়। 
৪. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনের ঘূর্ণন সম্পর্কে জানা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৫.
শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত?
  1. 5.5
  2. 7.0
  3. 7.5
  4. 8.5
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৬.
অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা কত?
  1. 6.023 × 1021
  2. 6.023 × 1022
  3. 6.023 × 1023
  4. 6.023 × 1024
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা:
- অ্যাভোগাড্রোর সূত্র অনুসারে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের মোলার আয়তন সমান এবং একই তাপমাত্রা ও চাপে সমান আয়তনের সকল গ্যাসে সমান সংখ্যাক অনু থাকে। অর্থাৎ সকল গ্যাসের ১ মোলে সমান সংখ্যক অণু আছে।
- ২ গ্রাম হাইড্রোজেনে যত সংখ্যক অণু আছে, ৩২ গ্রাম অক্সিজেনের একই সংখ্যক অণু আছে।
- তেমনি ৪৪ গ্রাম কার্বন দাই অক্সাইডে যে সংখ্যক অণু আছে, ১৮ গ্রাম পানিতেও একই সংখ্যক অণু আছে। 
- অ্যাভোগাড্রোর এই সংখ্যা কঠিন বা তরলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
- এই সংখ্যাকে অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা বলে যাকে N দ্বারাপ্রকাশ করা হয়।
- N এর মান হলো 6.023 × 1023 .
- কোনো বস্তুতে এই সংখ্যক অণু থাকলে সেটি হবে ১ মোল।
- অর্থাৎ ১ মোল Na অর্থাৎ ২৩ গ্রাম সোডিয়ামে 6.023 × 1023 সংখ্যক অণু আছে।
- যেকোনো মৌলের একতি অণুর ভর বের করতে হলে আনবিক ভরকে অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা দ্বারা ভাগ করতে হবে।



উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৭.
প্লাজমা অবস্থার জন্য প্রয়োজন কী? 
  1. সাধারণ তাপমাত্রা 
  2. খুব নিম্ন তাপমাত্রা 
  3. প্রায় শূন্য তাপমাত্রা 
  4. অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়, তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৭৮.
ঝালাই প্রক্রিয়ায় অক্সিডেশন প্রতিরোধ করতে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নিয়ন গ্যাস
  2. আর্গন গ্যাস
  3. ক্রিপ্টন গ্যাস
  4. রেডন গ্যাস
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় আর্গন গ্যাসের ব্যবহার: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়
- আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৯.
আলকেমিস্টদের মধ্যে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা কে শুরু করেন? 
  1. জন ডাল্টন 
  2. রবার্ট বয়েল 
  3. জাবির-ইবনে-হাইয়ান 
  4. অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে 
ব্যাখ্যা

Chemistry শব্দের উৎপত্তি: 
- মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন যেগুলো ছিল মূলত রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা। 
- মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)। 
- আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। আল-কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন। 

- আলকেমিস্ট জাবির-ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা করেন, তাই তাঁকে অনেক সময় রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জাবির-ইবনে-হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তিনি এসব নিয়ে গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। 
- তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। 
- অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৮০.
ব্যাটারিতে সাধারণত কোন অংশটি থাকে?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. ইলেকট্রোলাইট
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V।
- সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V। 
- আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
১,৭৮১.
লেড (Pb) আহরণের জন্য কোন আকরিক ব্যবহৃত হয়? 
  1. চুনাপাথর 
  2. ক্যালামাইন 
  3. গ্যালেনা 
  4. কপার পাইরাইট 
ব্যাখ্যা

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
ধাতু ⇒ আকরিক: 
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS), 
লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS)
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3), 
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O), 
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3), 
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং 
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮২.
পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড 
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড 
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
ক্লোরিন একটি অধাতু এবং হ্যালোজেন গ্রুপভুক্ত মৌল। 
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় কারণ ক্লোরিন পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে। 
১,৭৮৩.
নিচের কোনটি ধাতুর ধর্ম নয়?
  1. ক) উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  2. খ) এদের দ্যুতি আছে
  3. গ) এরা ঘাতসহ নয়
  4. ঘ) এরা নমনীয় প্রকৃতির
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।
- ঘাতসহ।
- এদের ছুরি বা চাকু দিয়ে সহজেই কাটা যায়। অর্থাৎ এরা নরম প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৪.
প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন শতকরা কী পরিমাণে থাকে?
  1. ৪০ - ৫০%
  2. ৬০ - ৭০%
  3. ৮০ -৯০%
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার আছে।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় এর ব্যবহার রয়েছে। এর ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে।
- বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও ব্যবহার রয়েছে অনেক সার কারখানায়।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়

• প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলো হলো:

- মিথেন - ৮০% - ৯০%,
- ইথেন - ১৩%,
- প্রোপেন - ৩%1
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে।
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫% - ৯৯%।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা
১,৭৮৫.
চাক্রিক অ্যালকেনকে পেট্রোলিয়াম শিল্পে কী বলে?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) কলিচুন
  3. গ) সিরকা
  4. ঘ) নিশাদল
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম:
- ল্যাটিন শব্দ ‘পেট্রো’ অর্থ পাথর এবং ‘অলিয়াম’ অর্থ তেল। এ দুটি শব্দ থেকে পেট্রোলিয়াম শব্দের উৎপত্তি।
- পেট্রোলিয়াম শব্দের অর্থ পাথুরে তেল।
- ভূ-অভ্যন্তরের বিভিন্ন গভীরতায় ৫০০০-১৫০০০ ফুট বা তার চেয়েও বেশি গভীরতায় কঠিন শিলাস্তরের মাঝে উচ্চ তাপ ও চাপে পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদান সঞ্চিত থাকে।
- উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক প্রাণির দেহাবশেষ হাজার হাজার বছর পরিবর্তিত হয়ে এ জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে।
- পেট্রোলিয়াম হচ্ছে হাইড্রোকার্বনসহ শতাধিক যৌগের একটি জটিল মিশ্রণ।
- এর প্রধান উপাদান হিসেবে অ্যালকেন, চাক্রিক অ্যালকেন ও অ্যারোমেটিক যৌগ।
- এছাড়াও সামান্য পরিমাণে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও সালফার যৌগ পেট্রোলিয়ামে উপস্থিত থাকে।
- চাক্রিক অ্যালকেনকে পেট্রোলিয়াম শিল্পে ন্যাপথালিন বলে।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৬.
কম্পোজিট কণিকা কোনটি? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. প্রোটন 
  3. আলফা কণিকা 
  4. পাইওন 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে। 
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। 
যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়। 
- মূল উপাদানরূপে যেসব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। 
যথা: 
১। স্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
- স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

২। অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। 
- অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়। 

৩। কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। 
যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

১,৭৮৭.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয় কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড 
  2. স্টিয়ারিক এসিড 
  3. পামিটিক এসিড 
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড।

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১,৭৮৮.
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়- 
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোটোন 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

◉ যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass number) সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়, তাদেরকে আইসোবার (Isobar) বলা হয়।

আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

অন্যদিকে, 
আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৯.
পতিত জমিতে নিম্নের কোন উপাদান মিথেন উৎপাদন করে?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) লেবাইল জৈব কার্বন
  3. গ) ইথাইল ব্রোমিন
  4. ঘ) ফার্মামেন্ট
ব্যাখ্যা
- মিথেন হলো কৃষির কারণে নির্গত আরেকটি গ্রিনহাউস গ্যাস। 
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ জমিতে ধানচাষ হয়। 
- ধান চাষাবাদের কারণে একদিকে যেমন গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরিত হয়, তেমনি ধানগাছ তার শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ফর্মে এসব গ্যাস শোষণ করে থাকে। 
- তা ছাড়া ধানের জমি থেকে নিঃসরণকৃত গ্যাস আধুনিক ও ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তার সিংহভাগ প্রশমন করা সম্ভব।
- গবেষণায় দেখা গেছে, ধান চাষাবাদে ধানগাছ মাত্র ৫-১০% মিথেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে বাকি ৯০-৯৫% মিথেন মাটি থেকে আসে। 
- জলাবদ্ধ জমিতে লেবাইল জৈব কার্বন  (Labile organic carbon) এবং মিথানোজেনিক ব্যাক্টেরিয়া মিথেন উৎপন্ন করে। 
- অতএব, দেখা যায়, ধান চাষের চেয়ে পতিত জমি মিথেন নিঃসরণের জন্য বেশি দায়ী।

উৎস: www.ais.gov.bd
১,৭৯০.
একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায়-
  1. 1840 গুণ ভারী
  2. 1840 গুণ হালকা
  3. 1640 গুণ হালকা
  4. 1640 গুণ ভারী
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- এর ভর অতি সামান্য, একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e-
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯১.
সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) সালফার
  2. খ) জিপসাম
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ ব্যবহার
সিলভার - গহনা ও ধাতব মুদ্রা তৈরিতে।
মাইকা - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে।
কোয়ার্টজ - কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে।
জিপসাম - সিমেন্ট ও প্লাস্টার অফ প্যারিস তৈরীর কাঁচামাল।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।

১,৭৯২.
প্লাস্টার অফ প্যারিস বলা হয়-
  1. শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. শুষ্ক ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেটের অণুকে
  4. দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অণুকে
ব্যাখ্যা
• প্লাস্টার অফ প্যারিস (Plaster of Paris - POP) হলো শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট।
- এটি ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট বা জিপসাম (Gypsum) কে গরম করে পানি মুক্ত করলে তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
- শুষ্ক ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) → এটি চুনাপাথর (Limestone) বা মার্বেল নামে পরিচিত।
- দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO₄·2H₂O) → এটি জিপসাম (Gypsum), যা POP তৈরির মূল উপাদান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৭৯৩.
রাবার কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়? 
  1. ওজোন 
  2. পানি 
  3. অ্যামোনিয়া 
  4. মিথেন 
ব্যাখ্যা

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার কর, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবকে (যেমন-এসিটোন, মিথানল) অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী, তবে আজকাল বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে। কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৯৪.
নিচের কোনটি স্ল্যাক লাইম নামে পরিচিত? 
  1. CaO
  2. CaCO3
  3. CaCl2
  4. Ca(OH)2
ব্যাখ্যা
- চুনে পানি যোগ করার ফলে, চুন ও পানির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
CaO + H2O → Ca(OH)2
অর্থাৎ, ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি →  ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
- উৎপন্ন Ca(OH)2 স্ল্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত
- এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে।
- স্ল্যাক লাইম বা Ca(OH)2 পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
- আর পানিতে Ca(OH)2 এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১,৭৯৫.
পিঁপড়ার কামড়ে কোন এসিড থাকে?
  1. টারটারিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. ফরমিক এসিড
  4. এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৭৯৬.
নিচের কোনটি বেকিং পাউডার হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম বাই কার্বনেট আর আর্দ্র রূপ
  2. সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট এর শুষ্ক রূপ
  3. সোডিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা।
- সোডিয়াম কার্বনেট হলো কাপড় কাচার সোডা
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭৯৭.
কোন যৌগটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করে?
  1. ক) ইথানল
  2. খ) ইথার
  3. গ) পানি
  4. ঘ) বিউটেন
ব্যাখ্যা
পানির অণু, H2O:
- দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রত্যেকে তাদের একটি করে ইলেকট্রন দিয়ে অক্সিজেনের একটি ইলেকট্রন শেয়ার করলে অক্সিজেন পরমাণুটি তার শেষ কক্ষপথে আটটি এবং উভয় হাইড্রোজেন পরমাণু তাদের একমাত্র কক্ষপথে দুটি করে ইলেকট্রন পেয়ে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মত সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস (হিলিয়ামের মত) অর্জন করতে পারে। 
- ফলে একটি অক্সিজেন পরামানু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে দুই জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে দুটি সমযোজী বন্ধন গঠন করে এবং এভাবে H2O অণু সৃষ্টি হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৮.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমারের উদাহরণ? 
  1. উল 
  2. সিল্ক 
  3. পলিস্ট্যারিন 
  4. রেশম 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল-আলু এ সব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯৯.
পানি কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে?
  1. ক) ০°C
  2. খ) ৪°C
  3. গ) ৫০°C
  4. ঘ) ১০০°C
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন।
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক।
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- পানির স্ফুটনাংক হলো ১০০° সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০০.
বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের হচ্ছে:
  1. NaHCO3
  2. CaCO3
  3. (NH4)2CO3
  4. NH4HCO3
ব্যাখ্যা

• বেকিং পাউডারের মূল উপাদান হলো NaHCO3 (সোডিয়াম বাইকার্বনেট), অর্থাৎ সঠিক উত্তর ক)। বেকিং পাউডার সাধারণত সোডিয়াম বাইকার্বনেট, একটি অম্লীয় লবণ (যেমন টারটারিক অ্যাসিড) এবং শোষক পদার্থের মিশ্রণ। NaHCO3 উত্তাপ বা অম্লের সংস্পর্শে এলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাসের কারণে কেক, পাউরুটি বা বিস্কুট ফুলে ওঠে ও নরম হয়।

বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 

- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডা বা বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।