বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৭ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৬৯২

১,৫০১.
ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। কারণ এতে-
  1. বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে
  2. সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
  3. লোহাকে টেম্পারিং করা হয়েছে
  4. সব বিজাতীয় দ্রব্য বের করে দেয়া হয়েছে
ব্যাখ্যা
- সাধারণ লোহার সাথে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা হয়, তাই এটি সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। 
- ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যার মধ্যে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে। 
- এছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম এবং ট্যাংস্টেন লোহার সাথে মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০২.
তড়িৎ বিশ্লেষণে কোন তড়িৎদ্বার ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়?
  1. ক্যাথোড
  2. অ্যানোড
  3. ক্যাথোড ও অ্যানোড উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যেমন- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৩.
বেকিং পাউডার মূলত-
  1. বেকিং সোডা + পটাশ এলাম
  2. বেকিং সোডা + এসকরবিক এসিড
  3. বেকিং সোডা + গ্লুকোজ
  4. বেকিং সোডা + টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
• বেকিং পাউডার:
- বেকিং পাউডার বেকিং সোডা বা খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3)।
- বেকিং সোডা (NaHCO3) তৈরি করে তার মধ্যে টারটারিক এসিড (C₂H₂O) মিশালে বেকিং পাউডার তৈরি হয়।
- সাধারণত কেক বানানোর কাজে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।

• বেকিং সোডা প্রস্তুতি:
- অ্যামোনিয়া গ্যাস, খাদ্য লবণ, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে বেকিং সোডা প্রস্তুত করা যায়।
- প্রথমে পানির মধ্যে NaCl কে দ্রবীভূত করে NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়।
- এবার এই সম্পৃক্ত দ্রবণের মধ্যে NH₃ গ্যাস প্রবাহিত করে NH₃ দ্বারা সম্পৃক্ত করা হয়।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে NH₃ সম্পৃক্ত NaCl দ্রবণের মধ্যে প্রবাহিত করা হয়।
- এক্ষেত্রে CO2, NH3, H2O একত্র হয়ে প্রথমে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NH4HCO3) উৎপন্ন হয়।
- এরপর অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট সোডিয়াম ক্লোরাইড-এর সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) বা বেকিং সোডা উৎপন্ন করে।

CO2 + NH3 + H2O → NH4HCO3
NH4HCO3 + NaCl→ NaHCO3 + NH4Cl

- বেকিং সোডাকে বিক্রিয়া পাত্র থেকে পৃথক করে তার সাথে টারটারিক এসিড মেশানো হয়।
- এ মিশ্রণকে বেকিং পাউডার বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০৪.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০৫.
নিউক্লিয়াসে কোন কণিকাগুলো অবস্থান করে? 
  1. নিউট্রন এবং পজিট্রন 
  2. প্রোটন এবং নিউট্রন 
  3. প্রোটন এবং ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন এবং ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকা তিনটি। 
যথা- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটিকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য হয়। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৬.
1 a.m.u =?
  1. 1.66 × 10-23 গ্রাম
  2. 1.66 × 10-24 গ্রাম
  3. 1.66 × 10-27 গ্রাম
  4. 1.66 × 10-28 গ্রাম
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়।
• আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয় ।
1 a.m.u (atomic mass unit) = 1.66 × 10-24 গ্রাম । 
• আণবিক ও পারমাণবিক ভর পরিমাণ বস্তুকে গ্রাম-এ ওজন করা হলে তাকে গ্রাম আণবিক ভর ও গ্রাম পারমাণবিক ভর বলা হয় ।
• কোন বস্তুর এক গ্রাম আণবিক ভর পরিমাণকে ঐ বস্তুর মোল বলা হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৭.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।

- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০৮.
জিংক ধাতুর আকরিক কোনটি? 
  1. ক্যালামাইন 
  2. চালকোসাইট 
  3. গ্যালেনা
  4. সিন্নাবার 
ব্যাখ্যা

- 'ক্যালামাইন' জিংক ধাতুর আকরিক। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। 
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৯.
কোনটি সবচেয়ে ভারী ধাতু?
  1. ক) লিথিয়াম
  2. খ) পারদ
  3. গ) প্লাটিনাম
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা

ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।

- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।

- অপশনে যেগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে মার্কারি/পারদ (Mercury) সবচেয়ে বেশি ভারি। এর আনবিক ভর - ২০০.৫৯।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮

- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

১,৫১০.
পদার্থ সাধারণত কয়টি অবস্থায় থাকে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকে।কঠিন, তরল এবং বায়বীয়। এর চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন এবং পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫১১.
'জিপসাম' কোন খনিজের আকরিক? 
  1. আয়রন
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১২.
মিথেন কোন ধরণের যৌগ?
  1. মুক্ত শিকল ও অসম্পৃক্ত যৌগ
  2. বদ্ধ শিকল ও সুষমচাক্রিক যৌগ
  3. বদ্ধ শিকল ও বিষমচাক্রিক যৌগ
  4. মুক্ত শিকল ও সম্পৃক্ত যৌগ
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Organic Compounds): 
- কার্বন শিকলের গঠনের উপর ভিত্তি করে জৈব যৌগসমূহকে প্রধান দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১। মুক্ত শিকল যৌগ (Open chain compounds), 
২। বদ্ধ শিকল যৌগ (Closed chain or cyclic compounds)। 

১। মুক্ত শিকল বা অ্যালিফেটিক যৌগ :
- যে সব জৈব যৌগের কার্বন শিকলের দুই প্রান্ত পরস্পর যুক্ত হয় না তাদেরকে মুক্ত শিকল বা অ্যালিফেটিক জৈব যৌগ বলা হয়।
যেমন- প্রোপেন, ইথিন ইত্যাদি। 

- বন্ধন প্রকৃতি অনুযায়ী অ্যালিফেটিক যৌগসমূহকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- (i) সম্পৃক্ত যৌগ ও (ii) অসম্পৃক্ত যৌগ। 

(i) সম্পৃক্ত যৌগ: যে সব যৌগের কার্বন শিকলের কার্বন পরমাণুসমূহ পরস্পর একক বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে তাদেরকে সম্পৃক্ত যৌগ বলে।
যেমন-  মিথেন, ইথানল ইত্যাদি। 

(ii) অসম্পৃক্ত যৌগ: যে সব যৌগের কার্বন শিকলে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণু দ্বি-বন্ধন বা ত্রি-বন্ধন দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে তাদেরকে অসম্পৃক্ত যৌগ বলে । যেমন- ইথিন, প্রোপাইন ইত্যাদি। 

২। বদ্ধ শিকল যৌগ:
- যে সব জৈব যৌগের অণুর কার্বন শিকলের দু'প্রান্তের কার্বন নিজেদের মধ্যে সরাসরি যুক্ত হয়ে অথবা অপর মৌলের পরমাণু যেমন- N, O, S ইত্যাদির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলয় বা চক্র গঠন করে তাদেরকে বদ্ধ শিকল যৌগ বলে।
যেমন- সাইক্লো প্রোপেন। 
- বদ্ধ শিকল যৌগসমূহকে তাদের বলয় গঠনকারী পরমাণুর প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে দু'টি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- (ক) কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক বা সুষমচাক্রিক যৌগ ও (খ) হেটারোসাইক্লিক বা বিষমচাক্রিক যৌগ।

(ক) কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক যৌগ: যে সব বদ্ধ শিকল যৌগের কাঠামো বলয় কেবলমাত্র কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত তাদেরকে কার্বোসাইক্লিক যৌগ বলে । যেমন- সাইক্লোপ্রোপেন, বেনজিন ইত্যাদি। 

(খ) হেটারোসাইক্লিক যৌগ: যে সব বদ্ধ শিকল যৌগে কার্বন পরমাণুর সাথে ভিন্ন মৌল যেমন-N, O, S ইত্যাদি যুক্ত হয়ে বলয় গঠন করে তাদেরকে হেটারোসাইক্লিক বা বিষমচাক্রিক যৌগ বলে। 
যেমন- ইথিলিন অক্সাইড, থায়োফিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৩.
ভিনেগার ব্যবহারের ফলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কেমন হয়? 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. প্রথমে বাড়ে পরে কমে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫১৪.
ফটো- ইলেকট্রিক কোষে শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৫১৫.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস?
  1. ক) জলীয় বাষ্প
  2. খ) ওজোন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলােকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
কয়েকটি উল্লেখযােগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরােফ্লোরাে কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরােক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।
উৎসঃ ভূগােল, নবম-দশম শ্রেণি - বাের্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry।

১,৫১৬.
পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত হয় কোনটি? 
  1. ক) K2SO4AL2(SO4)3.24H2O
  2. খ) CaCO3
  3. গ) CO2
  4. ঘ) Ca(OCl)Cl
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি বা পটাশ এলাম: এক প্রকার অর্ধস্বচ্চ কাচ সদৃশ কঠিন পদার্থ। রাসায়নিক নাম আর্দ্র পটাসিয়াম সালফেট অ্যালুমিনিয়াম সালফেট K2SO4AL2(SO4)324H2O
পানি পরিশোধনে এটি ব্যবহৃত হয়। ফিটকিরি এন্টিসেপ্টিক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
১,৫১৭.
কাঁসা কিসের সংকর ধাতু?  
  1. তামা ও নিকেল
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও টিন
  4. তামা ও লোহা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার (তামা) ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1%; এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
- আবার কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%; এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%; এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১৮.
পরমাণুর তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ১৮
  2. ৩২
ব্যাখ্যা

প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তর বা শেলে সর্বাধিক ২n2
সংখ্যক ইলেকট্রন (n = ১, ২, ৩ ..............) থাকতে পারে।
এই সূত্রানুসারে,
১ম শেলে অর্থাৎ n = ১ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ১
= ২ টি
২য় শেলে অর্থাৎ n = ২ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ২
= ৮ টি
৩য় শেলে অর্থাৎ n = ৩ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ৩
= ১৮ টি
৪র্থ শেলে অর্থাৎ n = ৪ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ৪
= ৩২ টি

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫১৯.
পিতলের উপাদান হলো-
  1. তামা ও টিন
  2. তামা ও নিকেল
  3. তামা ও সিসা
  4. তামা ও দস্তা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে। 
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২০.
কোন এস্টারটি আনারসে ঘ্রাণ তৈরি করে?
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  3. মিথাইল বিউটাইরেট
  4. অ্যামাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২১.
নিচের কোনটি ধাতু নয়?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) সিলভার
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথাঃ ধাতু ও অধাতু।
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।
- আবার কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ই্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।
- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়।
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়।
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে।
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)।
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১,৫২২.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ উদাহরণ নয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) লোহা
  3. গ) পানি
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। অক্সিজেন, লোহা, কার্বন এগুলো মৈলিক পদার্থ। এ পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ৯৮ টি। পানিকে ভাঙলে ২ মোল হাইড্রোজেন ও ১ মোল অক্সিজেন পাওয়া যায়। তাই পানি যৌগিক পদার্থ। [সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর রসায়ন]
১,৫২৩.
ক্রোমিয়াম এর ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন কেন?
  1. s উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ থাকা সুবিধাজনক
  2. অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
  3. সব ইলেকট্রন সমানভাবে স্থিতিশীল হয়
  4. p উপ-স্তর পূর্ণ হওয়া সহজ
ব্যাখ্যা

• ক্রোমিয়াম ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন, কারণ অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল, যা তাদের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

- সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস নিয়ম অনুসারে: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2.
- Cr এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d5 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d4 4s2। 
- তবে 3d উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ (5 ইলেকট্রন) হলে এটি অধিক স্থিতিশীল হয়। 
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d5 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

একইভাবে Cu এর জন্যও, 
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d9 4s2
- Cu এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- 3d উপ-স্তর পূর্ণ (10 ইলেকট্রন) হলে এটি সবচেয়ে স্থিতিশীল।
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d10 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫২৪.
তরল-গ্যাস দ্রবণ বলতে কী বোঝায়? 
  1. যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
  2. যে সমস্ত দ্রবণে গ্যাস দ্রাবকে তরল পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে
  3. যে সমস্ত দ্রবণে কঠিন দ্রাবকে তরল দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
  4. যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে তরল পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
ব্যাখ্যা

তরল-গ্যাস দ্রবণ: 
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। 
যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)। 
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। 
অর্থাৎ, কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ। 
- অপরদিকে লেবুর শরবত, ভিনেগার, স্যালাইন হলো তরল-তরল দ্রবণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৫২৫.
ক্ষারক কোনটিকে প্রশমিত করতে পারে? 
  1. লবণ
  2. এসিড
  3. পানি
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৬.
যেসব এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদের কী বলা হয়? 
  1. দুর্বল এসিড
  2. নিরপেক্ষ এসিড
  3. তীব্র এসিড
  4. জৈব এসিড
ব্যাখ্যা

- যেসব অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়, তাদের তীব্র এসিড (Strong Acid) বলা হয়, যা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)-এর মতো অ্যাসিডগুলির বৈশিষ্ট্য, যেখানে দুর্বল অ্যাসিডগুলি আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 

 এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৭.
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বায়ুর -
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন
- রাইজোবিয়াম একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া। শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে এক ধরনের গুটলি দেখা যায়, যার ভিতর রাইজোবিয়াম জাতীয় ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট সারে রূপান্তরিত করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২৮.
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে। সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক) ভূতুরে কণা
  2. খ) কম্পজিট কণা
  3. গ) ঈশ্বর কণা
  4. ঘ) দ্বৈত কণা
ব্যাখ্যা
পরমাণূর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা

১.স্থায়ী মূল কণিকাঃ
ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়। (হাইড্রোজেন-১ পরমাণুতে শুধু ১.০টি ইলেকট্রন ও ১.০টি প্রোটন আছে) এতে কোন নিউট্রন নেই।

২.অস্থায়ী মূল কণিকা:
কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।।

৩.কম্পোজিট কণিকা (Composite Particles):
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১,৫২৯.
What is the chemical formula for alum, a commonly used compound in various applications?
  1. KAlO2
  2. Al(OH)3
  3. Al2O3
  4. [K2S4.Al2(SO4)3. 24H2O]
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• ফিটকিরি বা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরি এর রাসায়নিক সংকেত হলো [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
- [ অপশন 'ঘ' তে SOসালফেটের অবস্থানে শুধু S, সালফার রয়েছে, তাই None of the above উত্তর হবে]

- ফিটকিরি সাধারণ মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
নিচের কোন মৌলটি সবচেয়ে ভারী?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. তামা
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত মৌলগুলোর মধ্যে সোনা সবচেয়ে ভারী। 
- সোনার পারমাণবিক ওজন 196.967; 
- লোহার পারমাণবিক ওজন 55.84।
- তামা (কপার) এর পারমাণবিক ওজন  63.557
- দস্তা (জিঙ্ক) এর পারমাণবিক ওজন  65
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৫৩১.
কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে?
  1. ক) পারদ
  2. খ) ফ্লোরিন
  3. গ) ব্রোমিন
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- পারদ একটি ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- ফ্লোরিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।
- ব্রোমিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- আয়োডিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৩২.
Si এর পারমাণবিক সংখ্যা 14, এর ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 10
  2. খ) 13
  3. গ) 14
  4. ঘ) 15
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
• আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।

Si এর পারমাণবিক সংখ্যা 14, তাই এর ইলেকট্রন সংখ্যাও 14.

উৎস: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি। 
১,৫৩৩.
চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার সময় শুয়ে পড়লে চাপ কম হয়, কারণ- 
  1. ওজন কমে যায়
  2. ঘর্ষণ বেড়ে যায়
  3. বালির ঘনত্ব বেড়ে যায়
  4. ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- যখন একটা পাথরকে এক হাতে দিয়ে বা দুই হাতে দিয়ে অথবা সারা শরীর দিয়ে ঠেলা হয়, তখন প্রত্যেকবার সমান পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও চাপ কিন্তু ভিন্ন হয়। 
- প্রথম ক্ষেত্রে যদি প্রয়োগকৃত বল F এবং হাতের তালুর ক্ষেত্রফল A হয়, তাহলে চাপ P হচ্ছে, 
• P = F/A 
- কাজেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুই হাত ব্যবহার করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ বেড়ে যাবে বলে চাপ অর্ধেক হয়ে যাবে, তৃতীয় ক্ষেত্রে সারা শরীর ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল আরো বেড়ে যাবে; তাই চাপ আরো কমে যাবে। 
- চাপের একক হচ্ছে N/m2 । 
- চাপের এককের আরেক নাম প্যাসকেল (Pa), 1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ করলে 1 Pa (1 প্যাসকেল) চাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- চাপের মাত্রা হচ্ছে [P] = ML-1T-2  । 
- বল একটি ভেক্টর কিন্তু চাপ একটি স্কেলার রাশি। 
- চাপ স্কেলার হওয়ার কারণে এর কোনো দিক নেই। এটি খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ চাপ ধারণাটি কঠিন পদার্থ থেকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে। তরল বা বায়বীয় পদার্থ যখন চাপ প্রয়োগ করে তখন আসলে সেটি দিকের উপর নির্ভর করে না। 
- একজন ব্যক্তি শুয়ে থাকা অবস্থায় চাপ অনেক কম দেয়। এজন্য মানুষ যখন চোরাবালিতে পড়ে, তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবসময় শুয়ে পড়তে হয় যেন সে অনেক কম চাপ দেয় এবং চোরাবালিতে সহজে ডুবে না যায়। 
- আবার, বল প্রয়োগ করার অংশটুকুর ক্ষেত্রফল যদি কম হয়, তাহলে চাপ বেড়ে যায়। 
যেমন- একটি পেরেকের সুচালো মুখের ক্ষেত্রফল খুবই কম, তাই এটি যখন কাঠ বা দেয়ালে স্পর্শ করে পেছনের চওড়া মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়, তখন বলটি সুচালো মাথা দিয়ে কাঠ বা দেয়ালে চাপ দেয়। সুচালো মাথার ক্ষেত্রফল যেহেতু খুবই কম তাই চাপটি খুবই বেশি এবং অনায়াসে পেরেক কাঠ বা দেয়ালে ঢুকে যেতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৩৪.
নিচের কোনটি ধনাত্মক যৌগমূলক?
  1. কার্বনেট
  2. ফসফেট
  3. ডাইক্রোমেট
  4. অ্যামোনিয়াম
ব্যাখ্যা
• অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) হল একটি ধনাত্মক আয়ন যা অ্যামোনিয়া (NH₃) এর সঙ্গে একটি প্রোটন (H⁺) যুক্ত হয়ে তৈরি হয়।

- ধনাত্মক যৌগমূলক (positive radical বা cationic radical) বলতে এমন আয়ন বা মৌলিক গোষ্ঠীকে বোঝায় যার উপর ধনাত্মক চার্জ থাকে।

অন্যদিকে,
• কার্বনেট (CO₃²⁻):
- এটি একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক (anion)।
- চার্জ: -2

• ফসফেট (PO₄³⁻):
- এটিও একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক।
- চার্জ: -3

• ডাইক্রোমেট (Cr₂O₇²⁻):
- এটিও ঋণাত্মক যৌগমূলক।
- চার্জ: -2

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৩৫.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী নয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) নিকেল
  3. গ) কপার
  4. ঘ) কপার সালফেট
ব্যাখ্যা
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় সেসব পরিবাহীকে ইলেকট্রনীয় পরিবাহী বলে। যেমনঃ লোহা, কপার, নিকেল, গ্রাফাইট ইত্যাদি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী। কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, পানি, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী অর্থাৎ এরা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১,৫৩৬.
খাবারের কৌটায় লোহার উপর সাধারণত কোন ধাতুর ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়? 
  1. রূপা 
  2. দস্তা
  3. টিন 
  4. ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,৫৩৭.
ফস-চেক কী?
  1. ক্ষতিকারক গ্যাস
  2. অগ্নি প্রতিরোধক
  3. সারজাতীয় কীটনাশক
  4. শক্তিবর্ধক রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
ফস-চেক: 
- ফস-চেক এক ধরনের অগ্নিপ্রতিরোধক উপাদান যা পেরিমিটার নামের একটি কোম্পানি বিক্রি করে। 
- সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দাবানল ঠেকাতে শহরটির লাল-গোলাপি এই গুঁড়া ব্যবহার করা হয়েছে। 
- ফস-চেক মূলত আগুনের চারপাশে স্প্রে করা হয়, যাতে এটি আগুনের গতিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮০ শতাংশ পানি, ১৪ শতাংশ সারজাতীয় লবণ এবং ৬ শতাংশ রঙিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী উপাদান। এটি জ্বালানির তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। 
- ফস-চেক-এর মূল উপাদান হচ্ছে অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা অ্যামোনিয়াম সালফেট (যা আগুন প্রতিরোধে সাহায্য করে)। 

- আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফস-চেক ব্যবহার করে আসছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগও দীর্ঘদিন ধরে আগুন নেভানোর প্রধান উপাদান হিসেবে এটা ব্যবহার করছে। 
- বিশ্বে আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি হচ্ছে এই ফস-চেক। 
- ফস-চেকের গুঁড়া যত শুকিয়ে যাবে, পুরোপুরি পরিষ্কার করা তত কঠিন হতে পারে। ছোট কোনো জায়গা থেকে গরম পানি ও অল্প ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে এটা উঠিয়ে ফেলা যাবে। আর পৃষ্ঠটি বড় হলে পানির উচ্চচাপ ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে। 
- ফস-চেকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান জলাশয়ের ক্ষতি করে। 
- তাই যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা জলপথ ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলের মতো পরিবেশগত সংবেদনশীল এলাকায় আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফস-চেকের ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা, (১৪ জানুয়ারি, ২০২৫), ব্রিটানিকা এবং সময় নিউজ।
১,৫৩৮.
মোবাইল ফোনের ব্যাটারি এক প্রকার -
  1. প্রাইমারি কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. শুষ্ক কোষ
  4. ড্যানিয়েল কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
- যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
- প্রাথমিক কোষের চার্জ একবার শেষ হিয়ে গেলে আর ব্যাবহার করা যায় না। যেমন : পেন্সিল ব্যাটারি।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 
- সেকেন্ডারি বা সঞ্চয়ী কোষ চার্জ দিয়ে বারবার ব্যাবহার করা যায়। যেমন : চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৩৯.
নিচের কোনটিকে 'সোডা অ্যাস' বলা হয়?
  1. ক) সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) কে সোডা অ্যাস বলা হয়।
- সোডা অ্যাসের 1 অণুর সাথে 10 অণু পানি রাসায়নিকভাবে যুক্ত হলে তাকে কাপড় কাঁচা বা ওয়াশিং সোডা বলে। 
- কাপড় কাঁচা সোডার রাসায়নিক নাম সোডীয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট (Na2CO3.10H2O)। 

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪০.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে শতকরা কত ভাগ মিথেন থাকে? 
  1. ৬০-৬৫ ভাগ
  2. ৬৫-৭০ ভাগ
  3. ৭৫-৮৫ ভাগ
  4. ৯৫-৯৯ ভাগ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪১.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় মাটি হতে পানি শোষণ করে?
  1. ব্যাপন
  2. অভিস্রবণ
  3. শোষণ
  4. ক ও খ উভয় প্রক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
• অভিস্রবণ:
- দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণু কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে।
-  প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে।
- অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া।
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি হতে পানি শোষণ করে।

- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিকতর ঘন স্থান হতে কম ঘন স্থানে বিস্তার লাভ প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মাটি থেকে খনিজ লবণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শোষণ করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪২.
বিশুদ্ধ জলের pH মান কত?
  1. ৮ 
  2. ৫ 
ব্যাখ্যা

pH মান: 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়। 
- অর্থাৎ, pH = –log[H⁺].
- pH- এর ‘p’ এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে যার অর্থ হলো ক্ষমতা;
- এবং ‘H’ দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ক্ষমতা।
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন (Sorensen) pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয়, ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- সাধারণভাবে pH এর মান ০ থেকে ১৪ এর মধ্যে থাকে।
- pH মান ৭-এর সমান হলে তা নিরপেক্ষ হিসেবে গণ্য হয়।
- বিশুদ্ধ জল একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ, তাই এর pH মান ৭।

উল্লেখ্য,
- কোনো দ্রবণের pH মান ৭-এর কম হলে তা অ্যাসিডিক; এর অর্থ- দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনত্ব বেশি থাকে।
- pH মান ৭-এর বেশি হলে  দ্রবণটি ক্ষারীয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৩.
বাংলাদেশের চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
  1. রানীগঞ্জে
  2. বিজয়পুরে
  3. টেকেরহাটে
  4. বাগালীবাজারে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে — নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুরে। 
----------------- 
• 'চীনামাটি':
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের কর্দম; প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৪.
কখন ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়?
  1. কপার আকরিকের ক্ষেত্রে
  2. জিংক আকরিকের ক্ষেত্রে
  3. লোহার আকরিকের ক্ষেত্রে
  4. সালফাইড আকরিকের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
আকরিক ঘনীকরণ: 
- বিচূর্ণকৃত আকরিক থেকে খনিজমল সাধারণত ভৌত পদ্ধতিতে দূর করে আকরিক ঘনীকরণ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। 
- আকরিকের প্রকৃতি অনুসারে আকরিক ঘনিকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
যেমন- 
অভিকর্ষ বলের সাহায্যে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিকের আপেক্ষিক গুরুত্ব খনিজমল থেকে আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে বেশি হয় তবে এ পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়। 
- বিচূর্ণকৃত আকরিককে প্রবাহমান পানি দ্বারা আলোড়িত বা ধৌত করা হয়। ফলে হালকা খনিজমল প্রবাহমান পানির সাথে চলে যায় এবং ভারি আকরিক সঞ্চিত থাকে। এতে আকরিক ঘনীভূত হয়। 

ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক সালফাইড হিসেবে থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- একটি বড় পাত্রে বিচূর্ণকৃত সালফাইড আকরিক নিয়ে তাতে পানি ও অল্প পরিমাণ উপযুক্ত তেল যোগ করা হয়। অতপর পানির মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, ফলে সালফাইড আকরিকসমূহ তেলে সিক্ত হয়ে পানির উপর ফেনা আকারে ভেসে উঠে। এবার ফেনাসহ আকরিক পৃথক করে নেওয়া হয় এবং পাত্রে খনিজমল পড়ে থাকে। 

চৌম্বক পৃথকীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক অথবা খনিজমল কোন একটির চৌম্বক ধর্ম থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- এই পদ্ধতিতে দুইটি চাকতিতে স্থাপিত একটি চলমান বেল্টে উপর থেকে বিচূর্ণকৃত আকরিক ফেলা হয়। বেল্টটি চলমান হওয়ায় বিচূর্ণকৃত আকরিক বাহিরের দিকের চাকতিটি পার হয়ে ছিটকে পড়তে থাকে। 
- বাহিরের চাকতিটি চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট রাখা হয়। ফলে চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতির কাছে এবং অচৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতি থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। 

রাসায়নিক পদ্ধতি: 
- কিছু কিছু আকরিকের বৈশিষ্ট্য যদি এমন হয় যে, এর সাথে মিশ্রিত খনিজমল কোন দ্রাবকের সাহায্যে দ্রবীভূত করে দূরিভূত করা যায় তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোন একটি উপযুক্ত দ্রবক দ্বারা দ্রবীভূত করে আকরিকের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত একটি উপাদানকে পৃথক করা হয়।
- পরবর্তিতে দ্রবণ থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে আকরিক পৃথক করা হয়।
যেমন- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক থেকে খনিজমল দূর করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) যোগ করে ১২০০-২০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে বক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং খনিজমল অদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অতপর দ্রবণ ছেঁকে খনিজমল দূর করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৫.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর নিচের কোন সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়?
  1. ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র
  2. তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র
  3. তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র
  4. তাপগতিবিদ্যার তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর: 
- কোনো পদার্থের অণু বা আয়নসমূহ পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্ন ধরনের শক্তির প্রভাবে যুক্ত থাকে, এ শক্তি আন্তঃআণবিক শক্তি নামে পরিচিত।
- এ শক্তির প্রভাবেই পদার্থের উপাদানসমূহ পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি থেকে পদার্থের একটি সুনির্দিষ্ট (যেমন-কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) অবস্থার সৃষ্টি করে।
- পদার্থের মধ্যে আন্তঃআণবিক শক্তির পরিমাণ বেশি হলে কঠিন অবস্থা, কম হলে তরল অবস্থা এবং একেবারে কম হলে গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থ অবস্থান করে।
- একই পদার্থের অবস্থা ভেদে আন্তঃআণবিক শক্তি ভিন্ন হয়।
যেমন- কঠিন বরফকে তাপদিলে শক্তি শোষণ করে তরল পানিতে পরিণত হয়। আরো তাপ দিলে তরল পানি শক্তি শোষণ করে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠান্ডা করলে শক্তি হারিয়ে তরল পানি এবং তরল পানিকে আরো ঠান্ডা করলে শক্তি হারিয়ে কঠিন বরফে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সাথে শক্তি জাড়িত।
- আবার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও শক্তির পরিবর্তন ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শক্তির যে পরিবর্তন ঘটে তা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়
- সূত্রটি হচ্ছে 'শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু একে কোনো অবস্থাতেই সৃষ্টি বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়' যা শক্তির নিত্যতা সূত্র নামে পরিচিত।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৬.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ?
  1. Quartz
  2. NaCl
  3. Au
  4. Mica
ব্যাখ্যা
ধাতব খনিজ পদার্থ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে পাওয়া গেছে।

• ধাতব খনিজ:
- ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো: লোহা (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), রূপা (Ag)।

• অধাতব খনিজ:
- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ (NaCl) আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৭.
হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা শূন্য?
  1. ট্রিটিয়াম
  2. হিলিয়াম 
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. প্রোটিয়াম
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): 
- ডালটনের পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী একটি মৌলের সব পরমাণু সমান ভর বিশিষ্ট। 
- কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে, একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভিন্ন ভিন্ন ভর হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। 
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না। 
যেমন- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে যাদের ভর যথাক্রমে 1, 2, 3, 4, 5, 6 ও 7 । 
- এই সাতটি আইসোটোপের মধ্যে হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এই স্থায়ী আইসোটোপ তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। - হাইড্রোজেনের আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, কিন্তু প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির ভর সংখ্যা 2 এবং তৃতীয়টির ভর সংখ্যা 3। 
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে 1 টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২ টি নিউট্রন আছে। 
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। 
যেমন- এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৮.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই? 
  1. ইট
  2. কেরোসিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যথা- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৯.
ফ্লোরিন পরমাণুর যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 2
  2. খ) 5
  3. গ) 6
  4. ঘ) 7
ব্যাখ্যা
যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা: 
- কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা বলা হয়।
যেমন - পটাসিয়াম ও অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যথাক্রমে ১টি ও ৬টি করে ইলেকট্রন বিদ্যমান। 
সুতরাং, পটাসিয়ামের যোজ্যতা ইলেকট্রন ১টি এবং অক্সিজেনের যোজ্যতা ইলেকট্রন ৬টি। 

নিচের কিছু মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস হতে যোজ্যতা ইলেকট্রনের সংখ্যা দেখানো হলো - 


এখানে, 
- ফ্লোরিনের (F) K কক্ষপথে 2 টি এবং L কক্ষপথে 7 টি ইলেকট্রন আছে। 
- ফ্লোরিনের ক্ষেত্রে L কক্ষপথই হলো সর্বশেষ কক্ষপথ। 
- যেহেতু সর্বশেষ কক্ষপথে ৭ টি ইলেকট্রন আছে, সুতরাং ফ্লোরিনের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 7 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৫৫০.
জারন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়-
  1. অ্যানোডে
  2. ক্যাথোডে
  3. অ্যানোড ও ক্যাথোড উভয়টিতে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
• জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
• যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
• জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়।
• বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
• বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে। 
• জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে। 

এভাবে মনে রাখতে হবে,
• জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ।
• জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ।
• বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ।
• বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৫৫১.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কী?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. চুনাপাথর
  3. মিথেন গ্যাস
  4. ইলমেনাইট
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। 
- এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে - ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।



ইউরিয়া উৎপাদনের মূলনীতি:
• বাংলাদেশে ৭টি সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদনে কাঁচামাল (Raw Material) হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।




ইউরিয়া উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল তথা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে প্রাপ্ত মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উভয়ই ব্যবহৃত হয় এবং উভয়ই প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান।
যেহেতু মিথেন ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যান্য উপাদানও ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই, কাঁচামাল তথা Raw Material হিসেবে 'প্রাকৃতিক গ্যাস' অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। অপশনে প্রাকৃতিক গ্যাস না থাকলে মিথেন উত্তর হবে।


সূত্র:
১. কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান: American Energy Information Administration [Link]
২. রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
১,৫৫২.
প্লাজমা তৈরি করার জন্য সাধারণত কী প্রয়োগ করতে হয়?
  1. নিম্ন তাপমাত্রা
  2. প্রচণ্ড তাপ
  3. উচ্চ শব্দ তরঙ্গ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা (প্লাজমা): 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হতে পারে, এর নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। 
- ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়। 
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, আবার নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে। 
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে। 
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৫৩.
দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় কোন রাসায়নিক উপাদান থাকে?
  1. শ্বেত ফসফরাস
  2. লোহিত ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
• লোহিত ফসফরাস:
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
- তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি।
- ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।

• ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
১,৫৫৪.
HCl কোন প্রকার যৌগ?
  1. অজৈব
  2. জৈব
  3. পলিমার
  4. ধাতব
ব্যাখ্যা

• অজৈব যৌগ: অজৈব যৌগ হলো সেইসব যৌগ যেগুলো সাধারণত কার্বন-হাইড্রোজেন (C-H) বন্ধন ধারণ করে না।

- এগুলো মূলত ধাতু, অধাতু বা অধাতু-ধাতুর যৌগ দ্বারা গঠিত হয়।
- HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ, যার পূর্ণরূপ Hydrogen Chloride।
- এটি হাইড্রোজেন (H) এবং ক্লোরিন (Cl) এই দুইটি মৌলের সমন্বয়ে গঠিত অজৈব যৌগ।

• HCl কেন অজৈব যৌগ:
- HCl-এ কার্বন (C) নেই, তাই এটি জৈব যৌগ নয়।
- এটি অধাতু হাইড্রোজেন এবং অধাতু ক্লোরিনের সমন্বয়ে তৈরি।
- পানিতে দ্রবীভূত হলে এটি একটি অম্লীয় দ্রবণ (acidic solution) তৈরি করে, যাকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বলা হয়।
HCl(g) + H2O → H3O+ + Cl
- এই অ্যাসিডটি শিল্পক্ষেত্রে, পরীক্ষাগারে ও জীববিজ্ঞানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং, HCl হলো একটি অজৈব যৌগ (Inorganic Compound)।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মধ্যমিক রসায়ন
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১,৫৫৫.
বয়েলের সূত্রে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে? 
  1. চাপ
  2. তাপমাত্রা
  3. আয়তন
  4. এনট্রপি
ব্যাখ্যা
বয়েলের সূত্র: 
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত। 
- সূত্রটি হলো- "তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক"। 

ব্যাখ্যা: 
- এই সূত্রানুসারে, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের তার আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে তাপমাত্রা T, আয়তন V এবং চাপ p হলে; 
V ∞ 1/p [যখন T স্থির থাকে] 
বা, pV = K [এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক] 
- K এর মান গ্যাসের ভর এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন যথাক্রমে V1, V2, V3, V4......... Vn ইত্যাদি এবং চাপ যথাক্রমে P1, P2, P3, P4........ Pn ইত্যাদি হয় তাহলে, 
P1V1 = P2V2 = P3V3 = P4V4 .......= PnVn = ধ্রুবক (K) । 
- অতএব, চাপ দ্বিগুণ হলে আয়তন অর্ধেক হবে, চাপ তিনগুণ হলে আয়তন এক তৃতীয়াংশ হবে, বা চাপ অর্ধেক হলে আয়তন দ্বিগুণ হবে এভাবে একটি বাড়লে অন্যটি কমবে। 

এনট্রপি: 
- তাপগতিবিদ্যায় এনট্রপির গুরুত্ব অপরিসীম। 
- এনট্রপি একটি প্রাকৃতিক রাশি যার মান তাপ ও পরম তাপমাত্রার অনুপাতের সমান। 
- এটি বস্তুর একটি তাপীয় ধর্ম যা তাপ সঞ্চালনের দিক নির্দেশ করে। 
- এটি বস্তুর তাপগতীয় অবস্থা নির্ধারণে সহায়তা করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৫৬.
অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর কত?
  1. ক) ৩২
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা

কোন মৌলের একটি পরমাণুর ভর কার্বন 12 আইসোটোপের 1/12 অংশের তুলনায় যত গুণ ভারী,সেই সংখ্যাকে ওই মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর (বা সংক্ষেপে পারমাণবিক ভর) বলা হয়।

আণবিক ভর (ইংরেজি: Molecular mass, সংক্ষেপে m) হল সংশ্লিষ্ট কোন পদার্থের একটি অণুর ভর: এটিকে ডাল্টন এককে (Da বা u) পরিমাপ করা হয়। একই যৌগের বিভিন্ন অণুর বিভিন্ন আণবিক ভর থাকতে পারে, কারণ তারা একটি পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন আইসোটোপ দ্বারা গঠিত হয়ে থাকতে পারে।

বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের আণবিক ভর হল 32 একক। অক্সিজেনের রাসায়নিক সংকেত O2 এতে ২টি পরমাণু উপস্থিত রয়েছে। সুতরাং, অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১৬।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন

১,৫৫৭.
বেশিরভাগ ফসলের ক্ষেত্রে মাটির pH কত হলে ফলন সর্বোচ্চ হয়?
  1. ৫ থেকে ৬ এর কাছাকাছি
  2. ১৪ এর কাছাকাছি
  3. ৭ এর কাছাকাছি
  4. ০ এর কাছাকাছি
ব্যাখ্যা
মাটির pH:
ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি মানদণ্ড হলাে এর pH। মাটির pH মান জানা থাকলে এটি এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ সেটি বােঝা যায়।

বেশির ভাগ ফসলের বেলাতেই মাটির pH নিরপেক্ষ হলে অর্থাৎ এর মান ৭ বা তার খুব কাছাকাছি হলে সর্বোচ্চ উৎপাদন পাওয়া যায়। তাই, কোনাে একটি জমির মাটি পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় এর pH ৭-এর চেয়ে বেশ কম বা অনেক বেশি তাহলে এর pH ৭ করার জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

তবে কিছু কিছু ফসল আছে, যেমন: আলু এবং গম— এরা মাটির pH ৫-৬ হলে সর্বোচ্চ উৎপাদন দেয়। অন্যদিকে কিছু ফসল যেমন: যব, মাটির pH ৮ হলে ভালাে উৎপাদন হয়। তাহলে বুঝতেই পারছ ভালাে ফলনের জন্য মাটির pH অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাটির pH অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করা বেশ জরুরি।

সুত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম, ২০২১
১,৫৫৮.
'স্থির আয়তনে কোনো গ্যাসের চাপ তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক' -এটি দ্বারা নিচের কোন সূত্রটিকে বুঝায়? 
  1. বয়েলের সূত্র
  2. চার্লসের সূত্র
  3. গে-লুস্যাকের সূত্র
  4. আর্গনের সূত্র
ব্যাখ্যা

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোনো নির্দিষ্ট ভরের যেকোনো গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0(273 + t)/273; 
- এই সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোনো গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

১,৫৫৯.
সোডা অ্যাসের সাথে কত অনু পানি যুক্ত হলে কাপড় কাচার সোডা তৈরি হয়?
  1. ক) ৩ অনু
  2. খ) ৭ অনু
  3. গ) ১০ অনু
  4. ঘ) ১২ অনু
ব্যাখ্যা
কাপড় কাচা সোডা:
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) কে সোডা অ্যাস বলা হয়।
- সোডা অ্যাসের 1 অণুর সাথে 10 অণু পানি রাসায়নিকভাবে যুক্ত হলে তাকে কাপড় কাচা বা ওয়াশিং সোডা বলে।
- কাপড় কাচা সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট (Na2CO3.10H2O)।

উৎপাদন প্রনালী: 
- গাঢ় NaOH এর দ্রবণের মধ্যে CO2 কে অধিক পরিমাণে চালনা করলে সোডিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয় যা পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- বিক্রিয়া পাত্রের মধ্যে Na2CO3 এবং পানি থাকে। সোডিয়াম কার্বনেট 10 অণু পানির সাথে যুক্ত হয়ে কাপড় কাচা সোডা (Na2CO3.10H2O) উৎপন্ন হয় ৷



উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
১,৫৬০.
নিচের ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছে
  2. ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
  3. কিসমিস পানি শোষণ করে ফুলে উঠেছে
  4. গাছ মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করছে
ব্যাখ্যা
• ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
- ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

অন্যদিকে,
- গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছে নিঃসরণের উদাহরণ।
- কিসমিস পানি শোষণ করে ফুলে উঠেছে  অভিস্রবণের উদাহরণ।
- গাছ মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ অভিস্রবণের উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬১.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত মৌলিক পদার্থ কয়টি? 
  1. ৭৮টি
  2. ৯০টি
  3. ৯৮টি
  4. ১১৮টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৫৬২.
বরফ পানিতে ভাসে কেন?
  1. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
  2. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে বেশি
  3. বরফের দ্রবণীয়তা পানির চেয়ে কম
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

◉ বরফ হলো পানির কঠিন রূপ। পানি বরফে পরিণত হলে তার অণুগুলো স্ফটিক আকারে সাজানো হয়, ফলে ফাঁকা জায়গা (empty spaces) তৈরি হয়। এই কারণে বরফের ঘনত্ব (Density ≈ 0.917 g/cm3) পানির ঘনত্বের (Density ≈ 1 g/cm3) চেয়ে কম হয়। কম ঘনত্বের কারণে বরফ পানির উপরে ভেসে থাকে।

ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

১,৫৬৩.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাকে বলা হয় - 
  1. ইলেকট্রন সংখ্যা
  2. পজিট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. প্রোটন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 

- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৬৪.
তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যদি কোনো আয়নের ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. অণু
  2. নিউক্লিয়াস
  3. ক্যাটায়ন
  4. অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষণ:
- কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্নক ও ঋণাত্নক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ।
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি।

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়।
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশি ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬৫.
নিম্নের কোনটিতে ল্যাকটিক এসিড পাওয়া যায়?
  1. পালংশাক
  2. তেঁতুল
  3. লেবু
  4. দই
ব্যাখ্যা

দই:
- দইতে ল্যাকটিক এসিড পাওয়া যায়।

- দই তৈরির প্রক্রিয়ায় ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিড এ রূপান্তরিত করে।
- এই ল্যাকটিক এসিডই দইয়ের টক স্বাদ এবং ঘন গঠনের জন্য দায়ী।

⇒ ল্যাকটিক এসিড:
- ল্যাকটিক এসিড হলো এক ধরনের জৈব যৌগ, যা একটি কার্বোক্সিলিক এসিড।
- এটি সাধারণত দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) এবং অন্যান্য শর্করা থেকে গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়।
- এটি দই ও অন্যান্য গাঁজনকৃত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
- এটি খাদ্যকে জমাট বাঁধাতে এবং স্বাদ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- তীব্র শারীরিক কাজের সময় (যেমন: ব্যায়াম), শরীরে অক্সিজেন সীমিত হলে গ্লুকোজ ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি দেয়।
- ল্যাকটিক এসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

অন্যদিকে,
- পালংশাকে থাকে অক্সালিক এসিড।
- লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।

উৎস: i) বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) Britannica.

১,৫৬৬.
কক্ষ তাপমাত্রায় নিম্নের কোনটি তরল?
  1. ক) Fe
  2. খ) CI2
  3. গ) Br2
  4. ঘ) I2
ব্যাখ্যা
- ব্রোমিন সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে। 
- এর সংকেত Br2। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
১,৫৬৭.
কোনটি পলিমার যৌগ?
  1. পলিথিন
  2. ইথিলিন
  3. বিউটেন
  4. ফরমালিন
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer):
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরােস (Meros) থেকে।
- পলি শব্দের অর্থ হলাে অনেক (Many) এবং মেরােস শব্দের অর্থ অংশ (Part)।
- অর্থাৎ অনেকগুলাে একই রকম ছােট ছােট অংশজোড়া দিয়ে যে একটি বড় জিনিস পাওয়া যায়, সেটি হচ্ছে পলিমার।

•পলিথিন: 
-  পলিথিন ইথিলিনের পলিমার।
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়।
- এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৫৬৮.
মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা

যে সকল রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির সাহায্য দরকার হয় না বা অন্য রাশি পরিমাপের জন্য যে রাশিগুলাে দরকার হয় সেইসব রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
মৌলিক রাশি সাতটি।
যথাঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই

১,৫৬৯.
নিচের কোন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির হয়?
  1. FeCl3
  2. Na2CO3
  3. CH3COONa
  4. Na2SO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে। তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয় মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে। তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 

- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন— FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 

- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭০.
কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়-
  1. ক) মোমে
  2. খ) পারদে
  3. গ) কর্পূরে
  4. ঘ) লবণে
ব্যাখ্যা
তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। হাইড্রোজেন ও কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। মোম জ্বালালে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে কঠিন মোমে পরিণত হয়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৫৭১.
নিউট্রনের চার্জ কেমন? 
  1. ধনাত্মক 
  2. ঋণাত্মক 
  3. শূন্য 
  4. পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর সাংগঠনিক কণা: 
- একমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়া সকল পদার্থের পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 
- এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundmental) বা মৌলিক কণা বলে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। 

ইলেকট্রন: 
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মৌলিক কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক (নেগেটিভ)। 
- এ আধানের পরিমাণ -1.60×10-19 কুলম্ব। 
- একে e প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একটি ইলেকট্রনের ভর 9.11×10-28 g। 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ধরা হয় এবং এর ভর প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের তুলনায় 1840 গুণ কম। তাই এর আপেক্ষিক ভরকে শূন্য ধরা হয়। 

প্রোটন: 
- প্রোটন হলো পরমাণুর অপর একটি মৌলিক কণিকা যার চার্জ বা আধান ধনাত্মক (পজেটিভ)। 
- এ আধানের পরিমাণ +1.60×10-19 কুলম্ব। 
- একে p প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একটি প্রোটনের ভর 1.67×10-24 g। 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 এবং আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন হলো পরমাণুর আরেকটি মৌলিক কণিকা যার কোনো আধান বা চার্জ নেই। 
- হাইড্রোজেন ছাড়া সকল মৌলের পরমাণুতেই নিউট্রন রয়েছে। 
- একে n প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- এর ভর প্রোটনের ভরের চেয়ে সামান্য বেশি। 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান 0 আর আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭২.
নিচের কোন যৌগটি একটি লবণ?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) কার্বনিক এসিড
  4. ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

- প্রশমন বিক্রিয়ার সাহায্যে এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয় মূলক বলে।
- আর লবণের ঋণাত্মক অংশটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে। তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক বলে৷
- ক্যালসিয়াম অক্সাইড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড হলো ক্ষার।
- কার্বনিক এসিড হলো একটি অম্ল।
- পটাশিয়াম নাইট্রেট হলো একটি লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৭৩.
ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে?
  1. ক) নিঃসরণ
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) ঊর্ধপাতন
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।


উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
১,৫৭৪.
পর্যায় সারণিতে কয়টি পর্যায় বিদ্যমান?
  1. ক) ১৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৫.
কার্বোহাইড্রেট এ কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এর অনুপাত কত?
  1. ক) ১:১:২
  2. খ) ১:২:১
  3. গ) ১:৩:২
  4. ঘ) ১:৩:১
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ যেখানে কার্বন ও হাইড্রোজেন বন্ধন এর মাধ্যমে যৌগটি গঠিত। কার্বোহাইড্রেট এক ধরনের জৈব যৌগ যেখানে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেনের অনুপাত-১:২:১।
১,৫৭৬.
নিচের কোনটি আয়রনের আকরিক?
  1. ম্যাগনেটাইট
  2. জিপসাম
  3. ডলোমাইট
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৭.
সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে কোন ধরনের কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সাবান তৈরির উপাদান
  2. খ) পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ
  3. গ) উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- দেহ, কাপড়-চোপড় এবং দ্রব্য সামগ্রীর উপর জমা ময়লা পরিষ্কার করার জন্য যে সব দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয় তাদেরকে পরিষ্কারক সামগ্রী বলে।
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়।
- সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল যেমন: পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়াও ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং জীবাণুনাশক পদার্থ।
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৭৮.
কোন প্রাণির দুগ্ধে ক্যালরি শক্তি বেশি থাকে?
  1. ভেড়া
  2. গাভী
  3. মহিষ
  4. ছাগল
ব্যাখ্যা
- 'মহিষ' প্রাণীর দুগ্ধে ক্যালরি শক্তি বেশি থাকে। 

দুধের শতকরা সংযুক্তি: 

- প্রাকৃতিক খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দুধ অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। 
- দুধ হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাতৃ প্রজাতির দুগ্ধ গ্রন্থি বা mammary glands থেকে নিঃসৃত সাদা বর্ণের তরল পদার্থ। 
- দুধে প্রাণিদেহের প্রয়োজনীয় সব প্রকার পুষ্টি উপাদান সুষমভাবে থাকে বলে, একে আদর্শ খাদ্য বলে। 
- নবজাতক ও শিশুর দৈহিক প্রবৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনের জন্য দুধ অপরিহার্য, এ কারণে শিশুর জন্য মায়ের দুধের অন্য কোনো বিকল্প নেই। 
- বড় হলে সকলের জন্য গরুর দুধ আদর্শ খাদ্য। 
- দুধে রয়েছে চর্বি, প্রোটিন বা আমিষ, শর্করা ল্যাকটোজ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও পানি। 
- গাভীর দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব হলো 1.029-1.039  । 
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব ল্যাকটোমিটারের সাহায্যে মাপা হয়। 
- দুধের pH মান হলো 6.6-6.9 । 
- দুধকে সংরক্ষণের জন্য 10°C তাপমাত্রা ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পরিবেশ দরকার। 
- তাই ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পাস্তুরিত দুধকে প্যাকেটজাত করে রেফ্রিজেরেটরে সংরক্ষণ করা হয়। 
- পানি হলো দুধের প্রধান উপাদান; প্রাণিভেদে দুধে পানির পরিমাণ 82 - 88% হয়। 
- দুধের চর্বিতে অল্প পরিমাণে কোলস্টেরল ও ফসফোলিপিড থাকে, প্রাণিভেদে চর্বির পরিমাণ 3.5-7.4% হয়। 

- দুধের প্রধান খনিজ উপাদানসমূহ হলো: Ca2+(0.12%), K+(0.13%), Na+(0.05%, Mg2+(0.02%) P(0.09%), Cl-(0.11%)। 
- প্রতিগ্রাম চর্বি, প্রোটিন ও শর্করার খাদ্য মান যথাক্রমে 9 ক্যালরি, 4 ক্যালরি, 4 ক্যালরি। 
- দেহের ক্যালরির চাহিদা = দেহের ওজন (কি. গ্রাম) × 30 ক্যালরি। 
- খাদ্য গ্রহণের অনুমোদিত অনুপাত হলো চর্বি : প্রোটিন : শর্করা = 1g : 1.36g : 5.4g . 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৫৭৯.
কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  2. মাটিতে লবণাক্ততা বাড়াতে
  3. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়াতে
ব্যাখ্যা

কৃষি জমিতে চুন (সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বনেট CaCO3 বা ডলোমাইট CaMg(CO3)2 ব্যবহার করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মাটির অম্লতা বা অ্যাসিডিটি হ্রাস করা।
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫৮০.
মশা, আরশোলা ও পিঁপড়া মারার জন্য ব্যবহৃত অ্যারোসলের গন্ধ কোন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে?
  1. অভিস্রবণ
  2. নিঃসরণ
  3. ব্যাপন
  4. পাতন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮১.
কোন প্রকার বন্ধনের ক্ষেত্রে পোলারায়ন ঘটে? 
  1. ধাতব বন্ধন
  2. আয়নিক বন্ধন
  3. কোভালেন্ট বন্ধন
  4. ভ্যানডার-ওয়ালস বন্ধন
ব্যাখ্যা
পোলারায়ন বা আয়নের বিকৃতি (Polarization): 
- যখন কোনো ধাতব পরমাণু এবং অধাতব পরমাণুর মধ্যে বন্ধন গঠিত হয় তখন ধাতব পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং অধাতব পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের কাঠামো অর্জন করে। 
- ইলেকট্রন ত্যাগ করার ফলে ধাতব পরমাণু ধনাত্মক চার্জযুক্ত ক্যাটায়নে পরিণত হয় এবং অধাতব পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়। 
- পরবর্তীতে ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়ন ইলেকট্রোস্ট্যাটিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আয়নিক বন্ধন গঠন করে। 

- আয়নিক বন্ধন গঠনের সময় কোনো ক্যাটায়ন যখন কোনো অ্যানায়নের খুব নিকটে আসে তখন ক্যাটায়নের নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জ দ্বারা অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, একই সাথে ক্যাটায়নের নিউক্লিয়াস কর্তৃক অ্যানায়নের নিউক্লিয়াসকে বিকর্ষণ করে। 
- এ আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ বলের সম্মিলিত প্রভাবে উভয় পরমাণু নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে কিন্তু অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘ ক্যাটায়নের দিকে সরে আসে, একে ক্যাটায়ন দ্বারা অ্যানায়নের বিকৃতি বা পোলারায়ন বলে।
- এক্ষেত্রে অ্যানায়নটি পোলারায়িত হয়েছে বলা হয়। 
- ক্যাটায়ন দ্বারা এভাবে অ্যানায়নের পোলারায়িত হওয়ার ক্ষমতাকে ক্যাটায়নের পোলারায়ন ক্ষমতা বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮২.
নিচের কোন লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়?
  1. AgCl
  2. CaCO3
  3. CuSO4
  4. Ag2SO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3)
সিলভার সালফেট (Ag2SO4)
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।  

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৩.
ফলের রং লাল হয় কিসের জন্য ?
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) প্রপিন
  3. গ) লাইকোপেন
  4. ঘ) মিথিলিন
ব্যাখ্যা
ফল পাকানোর জন্য দায়ী ফাইটোহরমোনের নাম ইথিলিন। লাইকোপেনের কারণে ফলের রং লাল হয়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৮৪.
পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) স্ফুটন
  2. খ) পাতন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) ক্লোরিনেশন
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৫.
এক ঘনমিটার গ্যাসের আয়তন = কত? 
  1. 103 cm3
  2. 108 cm3
  3. 106 cm3
  4. 109 cm3
ব্যাখ্যা
গ্যাসের আয়তন (Volume of Gas): 
- গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য হওয়ায় যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রকে গ্যাস পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে ঐ গ্যাসের আয়তন বলা হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে গ্যাস রক্ষিত পাত্রের আয়তনকে গ্যাসের আয়তন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- গ্যাসের আয়তনকে SI এককে ঘনমিটার (Cubic metre) বা m3 এ প্রকাশ করা হয়। 
- এছাড়া ঘন ডেসিমিটার (Cubic decimetre) বা dm3 এবং ঘন সেন্টিমিটার (Cubic Centimetre) বা cm3 এ প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 1 m3 = 1000 L = 103 dm3 = 106 cm3

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৬.
কোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের -
  1. ক) সমান
  2. খ) অর্ধেক
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
ব্যাখ্যা

যে কোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের দ্বিগুন।
সূত্র: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৫৮৭.
ডিটারজেন্টকে পাউডার হিসেবে তৈরি করার জন্য কোন পদার্থ যোগ করা হয়? 
  1. H2SO
  2. Na2SO4 
  3. NaOH 
  4. C12H26O
ব্যাখ্যা

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট সাবানের মতোই এক প্রকার পরিষ্কারক দ্রব্য। 
- ডিটারজেন্ট সাধারণত পাউডারের মতো হয় এবং তরল আকারেও পাওয়া যায়। 
- লরাইল অ্যালকোহলের (C12H26O) সাথে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) বিক্রিয়া করে লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট (C12H26SO4) এবং পানি উৎপন্ন করে। 
- এই লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট (C12H26SO4) এর সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বিক্রিয়া করে সোডিয়াম লরাইল সালফেট (C12H25SO4Na) এবং পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
- সোডিয়াম লরাইল সালফেট (C12H25SO4Na) ডিটারজেন্ট নামে পরিচিত। 
• C12H26O + H2SO4  → C12H26SO4 + H2
• C12H26SO4 + NaOH → C12H25SO4Na + H2
- ডিটারজেন্টকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ডিটারজেন্টের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থ যোগ করা হয়। 
- ডিটারজেন্টকে পাউডার আকৃতির করার জন্য সোডিয়াম সালফেট (Na2SO4) যোগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৮৮.
গ্যালভানিক কোষ এক ধরনের -
  1. তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
  2. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ
  3. ইলেকট্রোলাইটিক কোষ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ কোষ (Electric Cell):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তি থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তড়িৎ শক্তি পাওয়া যায় তাকে তড়িৎ কোষ বলে।
- প্রতিটি বৈদ্যুতিক কোষের দুটি প্রান্ত থাকে।
- একটি হলো পজেটিভ বা ক্যাথোড (Cathode) এবং অন্যটি নেগেটিভ বা অ্যানোড (Anode)।
- বৈদ্যুতিক কোষ সর্বপ্রথম ১৮০০ সালে আবিষ্কার সবন ইটালির বিজ্ঞানী আলেকসান্দ্রো ভোল্টা।
- তড়িৎ কোষ দুই প্রকার।
যথা-
• তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বা গ্যালভানিক সেল: যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। একে গ্যালভানিক কোষ বা ভোল্টার কোষও বলা হয়।

• তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ:
- যখন কোন তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থের দ্রাবকে দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থার মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করা হয়, তখন ঐ তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের রাসায়নিক বিয়োজন ঘটে এবং নতুন রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়, এই পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) বলে।
- যে পাত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণ চালানো হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলা হয়।
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি খনিজ পদার্থ থেকে বিভিন্ন ধাতু উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
- হামফ্রে লেভি তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম অনেকগুলো মৌলিক পদার্থ আলাদা করতে সক্ষম হন।
- তন্মধ্যে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, বেরিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১,৫৮৯.
তাপ প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় -
  1. ক) গ্যাসীয় পদার্থ
  2. খ) তরল পদার্থ
  3. গ) কঠিন পদার্থ
  4. ঘ) এটি নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• তাপ প্রয়োগে করলে সব ধরনের পদার্থই প্রসারিত হয়।
- তবে যে পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ যতো কম সে পদার্থ ততো বেশি প্রসারিত হয়।
- কঠিন বা তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম।
- তাই তাপ প্রয়োগে বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯০.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয় না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয় না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৫৯১.
সিলিকা বিদ্যমান আছে কোনটিতে?
  1. চুনাপাথর
  2. হেমাটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

অক্সিজেনের পরই প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার দিক দিয়ে সিলিকনের অবস্থান। অক্সিজেনের প্রতি সিলিকনের প্রবল আসক্তি থাকায় প্রকৃতিতে সিলিকন অক্সাইড যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়।
বালি, পাথর ও কোয়ার্টজে সিলিকা রূপে সিলিকন বিদ্যমান থাকে।
এছাড়া সিলিকন ফেল্ডস্পার, মাইকা, এ্যাসবেসটস ইত্যাদিতে সিলিকেট রূপে থাকে।
উৎসঃ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫৯২.
Rubber এর অপর নাম
  1. Plastomer
  2. Elastomer
  3. Resin
  4. Soft Plastic
ব্যাখ্যা
Rubber এর অপর নাম Elastomer.
Elastomer হলো এমন উপাদান যা রাবারের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত। যেমন: প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা, বিকৃতির পরে পূনরায় আসল আকারে ফিরে আসার ক্ষমতা।
১,৫৯৩.
১ কিউবিক মিটার পানির ভর কত?
  1. ১০ কেজি
  2. ১০০ কেজি
  3. ১০০০ কেজি
  4. ১০০০০ কেজি
ব্যাখ্যা
গলনাঙ্ক: 
- পানি যখন কঠিন অবস্থায় থাকে তখন তা বরফ। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাঙ্ক: 
- য়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে বলে স্ফুটনাঙ্ক। 
- পানির স্ফুটনাঙ্ক ৯৯.৯৮০ সেলসিয়াস যা ১০০° সেলসিয়াসের খুবই কাছাকাছি, তাই সাধারণভাবে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস। 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীন আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি আর তা হচ্ছে ১ গ্রাম/সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৪.
দ্রবণের মধ্যে যা কম পরিমাণে থাকে এবং দ্রবীভূত হয় তাকে কী বলা হয়? 
  1. দ্রব 
  2. যৌগ 
  3. অণু 
  4. দ্রাবক 
ব্যাখ্যা

দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়।

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
ক) সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

খ) অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

গ) অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯৫.
প্রস্বেদন বলতে বোঝায়- 
  1. পানি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া 
  2. উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া 
  3. উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
  4. উদ্ভিদদেহে পানি শোষণ প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: 
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'. 
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 
- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: ১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, ২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং ৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৯৬.
অ্যালকোহল কী ধরনের পদার্থ? 
  1. দাহ্য
  2. বিস্ফোরক
  3. বিষাক্ত 
  4. উত্তেজক 
ব্যাখ্যা

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। 
- এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

বিস্ফোরক পদার্থ: 
- এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। 
- তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। 
- এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে, তাই এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। 
- এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করতে হবে। 

উল্লেখ্য,
- কিছু অ্যালকোহল (যেমন- মিথানল) বিষাক্ত হলেও, "অ্যালকোহল" শব্দটি সাধারণভাবে সবসময় বিষাক্ত বোঝায় না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৯৭.
নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়?
  1. ক) প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
  2. খ) ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
  3. গ) পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
  4. ঘ) ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।  

ইলেকট্রন: পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। এর ভর অতি সামান্য। একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। ইলেকট্রনের সংকেত e¯। ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10 -19 C। আপেক্ষিক আধান -1।

প্রোটন: ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। ইহার সংকেত H+। প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। আপেক্ষিক আধান +1।

নিউট্রন: নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৮.
নিচের কোন পদার্থটির নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. অ্যামোনিয়া 
  2. পানি 
  3. কয়লা 
  4. অ্যালকোহল 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯৯.
হিলিয়াম ভর্তি বেলুন বাতাসে উপরে উঠে যায়, কারণ- 
  1. হিলিয়াম বিস্ফোরণযোগ্য গ্যাস
  2. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
  3. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে বেশি
  4. হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্বের সমান
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক হচ্ছে কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার বা কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm-3)। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা [ρ] = ML-3 পাওয়া যায় । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
-  পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 

দৈনন্দিন জীবনে ঘনত্বের ব্যবহার: 
- দেহের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে বেশি বলে মাটিতে হাটতে, বসতে বা চলাফেরা করা যায়। পানিতে ভাসার ক্ষেত্রে দেহের অভ্যন্তরের বাতাস সহায়তা করে। বাতাসের ঘনত্ব পানির ঘনত্ব থেকে কম। নৌকা, ভেলা, পানিতে ভাসমান দ্রব্য নির্মাণে পানি থেকে কম ঘনত্ব সম্পন্ন বস্তু ব্যবহৃত হয় বা এমন কৌশল ব্যবহৃত হয় যাতে ভাসমান বস্তুকে পানি থেকে হালকা করে দেয়। 
- বেলুন ওড়ানোর জন্য এর মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস পূর্ণ করা হয়। হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে কম তাই বেলুন বাতাসের মধ্যে উপরে উঠে যায়। 
- কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস, এর মধ্যে শ্বাস নেয়া যায় না। কিন্তু এরা অক্সিজেন, নাইট্রোজেন থেকে ভারি বলে বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিচে অবস্থান করে, ফলে বায়ুতে স্বচ্ছন্দে শ্বাস নেওয়া যায়। 
- পানি থেকে পানির বাষ্প বা গরম বাতাসের ঘনত্ব কম বলে খাবার রান্না করার সময় বা তপ্ত খাবার ঠান্ডা করার জন্য পাত্রের মুখ খোলা রাখা হয়। 
- জলীয় বাষ্প কম ঘনত্বের কারণে আকাশে উঠে, যা মেঘের সৃষ্টি করে। আবার, বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে পানির ঘনত্ব বেশি বলে বৃষ্টির পানি পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে। তাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাতাসের ঘনত্বের তারতম্য হয় বলেই পৃথিবীতে বায়ু প্রবাহ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
'Alkaline Earth Metals' নিচের কোনটি? 
  1. রুবিডিয়াম
  2. সিজিয়াম
  3. বেরিয়াম
  4. লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।