বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৫ / ২৭ · ১,৪০১১,৫০০ / ২,৬৯২

১,৪০১.
নিচের কোনটি জৈবযৌগের প্রধান উপকরণ?
  1. ক) Na
  2. খ) Cl
  3. গ) C
  4. ঘ) N
ব্যাখ্যা
- সাধারনত যে সব যৌগ জীবদেহে পাওয়া যায় তাদেরকে জৈবযৌগ বলে।
- এই যৌগগুলো প্রধানত কার্বন ঘটিত যৌগ। 
- তাই তাদের প্রধান উপকরন হলো কার্বন( C)।

উৎস: নবম দশম শ্রেনীর বিজ্ঞান বই।
১,৪০২.
নিচের কোনটিতে রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  2. খ) পিত্ত পাথর গলাতে
  3. গ) কিডনির পাথর গলাতে
  4. ঘ) পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে
ব্যাখ্যা

কোন কোন আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়।

An exceptionally useful radioactive isotope is iodine-131, which has a half-life of eight days. It is employed in medicine to monitor thyroid gland functioning, to treat goitre and thyroid cancer, and to locate tumours of the brain and of the liver.

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান ও Britannica

১,৪০৩.
নিচের কোনটি পদার্থ? 
  1. আলো
  2. বাতাস
  3. বিদ্যুৎ
  4. তাপ
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- পদার্থের ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং জড়তা আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- বাতাস হচ্ছে একটি মিশ্র পদার্থ যা পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। 

১। কঠিন পদার্থ: 
- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 

২। তরল পদার্থ: 
- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 

৩। বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ: 
- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- তাপ, বিদ্যুৎ ও আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০৪.
জলীয় দ্রবণে প্রোটন দান করে -
  1. ক) ক্ষারক
  2. খ) অম্ল
  3. গ) অম্ল এবং ক্ষারক উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জলীয় দ্রবণে অম্ল প্রোটন দান করে। 

- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
যেমন—এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড।
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
- এসিড স্বাদে টক।
- এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
- এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
- এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
- প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
- যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।
- দ্রবণ ছাড়া ঘন এসিড অত্যন্ত বিপজ্জনক, এটি মানুষের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

সূত্র: ২৩৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
১,৪০৫.
এক গ্রাম তৈল বা চর্বিতে কত ক্যালরি শক্তি থাকে? 
  1. 9.0 cal
  2. 9.3 cal
  3. 9.5 cal
  4. 9.9 cal
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
- সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
- তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
- তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 × 4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
১,৪০৬.
নিচের কোনটি ক্ষারকের উদাহরণ?
  1. HCl
  2. NaOH
  3. CO2
  4. NaCl
ব্যাখ্যা
• NaOH ক্ষারকের একটি উদাহরণ। 

• ক্ষারক:
- ক্ষারক (Base) হল এমন একটি রাসায়নিক যৌগ যা জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH-) দান করে বা প্রোটন (H+) গ্রহণ করে। 

• ক্ষারকের বৈশিষ্ট্য:
- তিক্ত স্বাদ. 
- ক্ষারক লিটমাস পেপার নীল করে। 
- ক্ষারকের pH মান ৭-এর বেশি, অর্থাৎ pH > 7।  

• সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) একটি শক্তিশালী ক্ষারক, যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে Na+ ও OH- আয়ন তৈরি করে।
• NaOH-এর রাসায়নিক বিক্রিয়া:
NaOH → Na++ OH 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৪০৭.
নিম্নোক্ত কোন ধাতু পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
  1. সিলিকন
  2. পারদ
  3. তামা
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
-------------------
যেহেতু অ্যালুমিয়াম অপশনে নেই, তাই সঠিক উত্তর লোহা।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
১,৪০৮.
জাইলিন কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
  2. তেজস্ক্রিয় 
  3. বিস্ফোরক 
  4. উত্তেজক 
ব্যাখ্যা
বিস্ফোরক পদার্থ: 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ: 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ: 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। তাই শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪০৯.
পটাসিয়ামের প্রতীক কোনটি?
  1. ক) P
  2. খ) K
  3. গ) Pa
  4. ঘ) Ka
ব্যাখ্যা
প্রতীক লেখার নিয়ম:
১। মৌলিক পদার্থের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর টিকে বড় হরফে লিখে মৌলটির চিহ্ন প্রকাশ করা হয়।
যেমন হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O)
২। একই প্রথম অক্ষর বিশিষ্ট একাধিক মৌল থাকলে ওই গুলোর চিহ্ন প্রকাশ করা হয়। প্রথম অক্ষরের সঙ্গে পরের অক্ষর যোগ করে কিংবা প্রথম অক্ষরের সঙ্গে উচ্চারিত অক্ষর যোগ করে। যেমন:
ক্যালসিয়াম (Ca), বেরিয়াম (Ba)
৩। কতক গুলো মৌলের চিহ্ন মৌলের ল্যাটিন নামের প্রথম বা প্রথম দুই অক্ষর অথবা উচ্চারণ ধ্বনিতে প্রাধান্য পাওয়া অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেমন: 
সোডিয়াম (Sodium) (ল্যাটিন- natirum)- প্রতীক-Na
পটাশিয়াম Potassium (ল্যাটিন Kalium)- প্রতীক-K
১,৪১০.
কোনটি পানির স্ফুটনাঙ্ক তাপমাত্রা?
  1. ক) 80°F
  2. খ) 100°F
  3. গ) 180°F
  4. ঘ) 212°F
ব্যাখ্যা
স্বভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে পানির স্ফুটনাংক তাপমাত্রা 100°C, যেটা ফারেনহাইট স্কেলে 212°F।
Source: britannica.com
১,৪১১.
পানির অণুর মধ্যবর্তী বন্ধনকে কি বলে?
  1. আয়নিক বন্ধন
  2. দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
  3. ধাতব বন্ধন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন: পানির এক অণুর হাইড্রোজেন ও অন্য অণুর অক্সিজেন এর মধ্যে আকর্ষণ কাজ করে। এই মধ্যবর্তী বন্ধনকে দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন বলা হয়।

সমযোজী বন্ধন: এটি একই অণুর ভেতরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগির মাধ্যমে গঠিত। এই বন্ধন পানির অণুর ভেতরের বন্ধন, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে মধ্যবর্তী (intermolecular) বন্ধন।

আয়নিক বন্ধন: এটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে হয়।

ধাতব বন্ধন: এটি ধাতুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের সমবন্টনের মাধ্যমে গঠিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা [লিংক ]

১,৪১২.
পরমাণুকে ভাঙলে কী ঘটে?
  1. নতুন যৌগ তৈরি হয়
  2. নতুন মৌল তৈরি হয়
  3. মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
  4. কোনো পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪১৩.
নিম্নের কোনটির মান সর্বদা ঋণাত্মক?
  1. ক) দহন তাপ
  2. খ) বিক্রিয়া তাপ
  3. গ) সংঘটন তাপ
  4. ঘ) দ্রবণ তাপ
ব্যাখ্যা
• যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় তাদের তাপােৎপাদী বিক্রিয়া বলে। 
• এখানে দহন তাপ হচ্ছে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া
• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কসমূহের মোট অভ্যন্তরীণ শক্তি E1 উৎপাদসমূহের মোট অভ্যন্তরীণ শক্তি E2 থেকে বেশি।
• কাজেই এ বিক্রিয়াতে বিক্রিয়ায় তাপ শক্তির পরিবর্তন AH = E2 - E1 এর মান ঋণাত্মক হয়।
তাই সঠিক উত্তর (ক) হবে।
১,৪১৪.
কোন এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়?
  1. এসিটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোক্লোরিক এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়। 

শক্তিশালী এসিড: 
- বেশ কিছু জৈব এসিড পানিতে বিযোজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। আবার খনিজ এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে, তার সবগুলোই বিয়োজিত হয়। 
যেমন- 
• সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
• নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) । 

দুর্বল এসিড: 
- তবে কিছু কিছু এসিড বিশেষ করে জৈব এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত হয় না। সেজন্য এই এসিডগুলোকে দুর্বল এসিড বলে। 
- তবে কিছু এসিড আছে যেমন- কার্বোনিক এসিড (H2CO3) যেটি জৈব এসিড না হলেও দুর্বল এসিড। 
যেমন- 
• সাইট্রিক এসিড (C6H8O7), 
• এসিটিক এসিড (CH3COOH) এবং 
• অক্সালিক এসিড (HOOC-COOH) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪১৫.
কোন অধাতুটি প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়?
  1. ফসফরাস
  2. সিলিকন
  3. সালফার
  4. টিন
ব্যাখ্যা
- আমরা প্রাকৃতিক উৎস থেকে যে সকল সম্পদ আহরণ করি তার মধ্যে খনিজ অধাতু অন্যতম।
- অধাতুসমূহের মধ্যে সালফার, কয়লা, ফসফরাস, সিলিকন ইত্যাদি খনি থেকে উত্তোলন করা হয়।
- প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ফ্লাস পদ্ধতিতে খনি থেকে উত্তোলন করা হয়
- সালফারের গলনাঙ্ক মাত্র ১১৯° সেন্টিগ্রেড হওয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার উত্তপ্ত জলীয় বাস্পের সংস্পর্শে তা গলে যায়।
- রাসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিডসহ বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৬.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে - 
  1. ভেসে থাকবে
  2. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  3. ডুবে যাবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৭.
বরফ গলতে শুরু করে কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়?
  1. ক) ০° সেন্টিগ্রেড
  2. খ) ৪° সেন্টিগ্রেড
  3. গ) ১০° সেন্টিগ্রেড
  4. ঘ) ১০০° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন।
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক।
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪১৮.
কোনটি প্রাইমারি সেল নয়?
  1. ডেনিয়েল কোষ
  2. লেড সঞ্চয়ী কোষ
  3. লেকল্যান্স কোষ
  4. ভোল্টার কোষ
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি সেল বা প্রাথমিক কোষ: 
- যে বিদ্যুৎ কোষ নিজেই নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বা মৌলিক কোষ বলে।   যেমন - ভোল্টার কোষ, লেকল্যান্স কোষ, ডেনিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ ইত্যাদি। 
- শুষ্ক কোষে কোন তরল ব্যবহৃত হয় না। 

গৌণ কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ বা সেকেন্ডারি কোষ:
- যে বিদ্যুৎ কোষে বাইর থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বিদ্যুৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চিত রাখা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে গৌণ কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ বা সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
- সাধারণত লেড সঞ্চয়ী কোষ ও নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ নামক দুটি সঞ্চয়ী কোষ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
১,৪১৯.
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম সম্মেলন হয়েছিল কোন শহরে?
  1. ক) প্যারিস
  2. খ) জেনেভা
  3. গ) হেগ
  4. ঘ) লন্ডন
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।
- সাধারণ বা উদ্ভূত পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং দিন দিন জৈব যৌগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এদের নামকরণের সার্বজনীন পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ১৮৯২ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রসায়নবিদদের এক সম্মেলনে সর্ব প্রথম জৈব যৌগের নামকরণের একটি সহজ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। 
-  জৈব যৌগের নামকরণের এই নীতিমালা আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) পদ্ধতি নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিটি আধুনিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও শ্রেষ্ঠ।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২০.
নিচের কোনটি অপধাতু?
  1. হিলিয়াম
  2. সিলিকন
  3. ব্রোমিন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা
অপধাতু বা উপধাতু:

- যে সকল মৌল ধাতু ও অধাতু উভয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে তাদেরকে অপধাতু বলে।
- উদাহরণ: সিলিকন, আর্সেনিক, বোরন, জার্মেনিয়াম, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম ইত্যাদি।

• ট্রানজিস্টর ও মাইক্রোচিপস তৈরিতে সিলিকন ব্যবহৃত হয়।
• ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশলাইটে জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ডুবুরিদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন গ্যাসের সাথে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ব্রোমিন (Br) একমাত্র মৌলিক অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১,৪২১.
চিপ তৈরিতে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
চিপ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিয়ন গ্যাস।
লেজারের মাধ্যমে চিপের সেমিকন্ডাক্টরে সিলিকনের ক্ষুদ্র অংশগুলোকে জোড়া দেওয়া হয়। আর এই লেজার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় নিয়ন গ্যাস।
সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট
১,৪২২.
বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- 
  1. বিকিরণ করে
  2. শোষণ করে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- বিকিরণ করে। 

বোর মডেলের স্বীকার্যসমূহ: 
(১) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রন আবর্তন করে। 
(২) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার এসব কক্ষপথে আবর্তনকালে ইলেকট্রনসমূহ কোন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। এসব কক্ষপথকে শক্তিস্তর (energy level) বা অরবিট বলা হয়। 
(৩) ইলেকট্রন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে নিম্নতর শক্তিস্তর যেমন n = ১ থেকে উচ্চ শক্তিস্তর যেমন n = ২ তে গমন করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে উচ্চতর শক্তিস্তর যেমন n = ২ থেকে নিম্ন শক্তিস্তর যেমন n = ১ এ গমন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৩.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেনকে
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ: 
- শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপের সাধারণ নাম। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২৪.
পদার্থের কোন অবস্থায় আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতি শক্তি প্রায় সমান হয়?
  1. গ্যাসীয় অবস্থায়
  2. প্লাজমা অবস্থায়
  3. কঠিন অবস্থায়
  4. তরল অবস্থায়
ব্যাখ্যা
তরল অবস্থা:

- এ অবস্থায় পদার্থের ভর ও আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু আকার নির্দিষ্ট থাকে না।
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয়, তার ভর ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সে পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- এ অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অবস্থার তুলনায় কম বলে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না।
- অণুগুলোর গতিশক্তি কঠিন অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট বেশি বলে অতি সহজে চলাচল করতে পারে। এ কারণে তরল অবস্থায় পদার্থের প্রবাহ গুণ থাকে এবং আকৃতি সহজে পরিবর্তনশীল হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতিশক্তি প্রায় সমান হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৫.
ক্রাফট প্রসেস (Kraft Process) কোন শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সিমেন্ট
  2. খ) সাবান
  3. গ) কাগজ
  4. ঘ) বস্ত্ৰ
ব্যাখ্যা
• ক্রাফ্ট প্রক্রিয়া, যা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং সোডিয়াম সালফাইড (Na2S) সজ্জা কাঠের জন্য ব্যবহার করে, এটি সজ্জা এবং কাগজ শিল্পে প্রভাবশালী pulping প্রক্রিয়া।
• বিশ্বব্যাপী প্রায় 130 মিলিয়ন টন/বছর ক্রাফ্ট পাল্প উত্পাদিত হয়।
• ক্রাফ্ট পাল্পের উচ্চ শক্তি শক্ত কাঠকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়ার ক্ষমতা এবং উচ্চ রাসায়নিক পুনরুদ্ধারের দক্ষতার (প্রায় 97%) জন্য অনুকূল ।
• এটি ক্রাফ্ট প্রক্রিয়াটিকে অন্যান্য পাল্পিং প্রক্রিয়াগুলির তুলনায় একটি সুবিধা দেয়। ক্রাফ্ট প্রক্রিয়ায়, কাঠের প্রায় অর্ধেক দ্রবীভূত হয় এবং ব্যয়িত পাপিং রাসায়নিকের সাথে একত্রে দুর্বল কালো  একটি তরল ধারা তৈরি করে ।
• দুর্বল কালো তরল ধোয়ার মাধ্যমে সজ্জা থেকে আলাদা করা হয় এবং ক্রাফ্ট রিকভারি সিস্টেমে পাঠানো হয়, যেখানে অজৈব পাল্পিং রাসায়নিকগুলি পুনঃব্যবহারের জন্য উদ্ধার করা হয়।

উৎস: রিসার্চগেট
১,৪২৬.
জারণ বিক্রিয়ায় কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রনের দান
  2. ইলেকট্রনের গ্রহণ 
  3. প্রোটন গ্রহণ 
  4. নিউট্রন দান
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। 
- প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন-এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২৭.
অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্লতে নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সংযুক্তি পরিমান -
  1. ক) ১ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. খ) ২ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৩ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) ৩ মোল নাইট্রিক এসিড ও ১ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  4. ঘ) ২ মোল নাইট্রিক এসিড ও ৫ মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- ১ মোল HNO3 ও ৩ মোল HCL এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে।
- স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়।

Source: MIT
১,৪২৮.
গ্যালভানাজিং কী?
  1. লোহার উপর তামার প্রলেপ
  2. লোহার উপর সীসার প্রলেপ
  3. লোহার উপর দস্তার প্রলেপ
  4. দস্তার উপর সীসার প্রলেপ
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর দস্তার প্রলেপ দেয়া হয়।

• গ্যালভানাইজিং:
- যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- এটি ধাতুকে ক্ষয় ও জারক বিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে, বিশেষ করে জলীয় বাষ্প, অক্সিজেন এবং অ্যাসিডিক পরিবেশে।
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৪২৯.
পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়?
  1. - ৫° সেলসিয়াস
  2. ০° সেলসিয়াস
  3. ১০° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়? 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩০.
H2 দ্বারা বুঝায়-
  1. ক) হাইড্রোজেনের অণু
  2. খ) হাইড্রোজেনের পরমাণু
  3. গ) হাইড্রোজেন এর যৌগ
  4. ঘ) হাইড্রোজেনের প্রতীক
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেনের একটি অণুকে প্রকাশ করতে H2 ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ হলাে একটি হাইড্রোজেনের অণুতে দুটি হাইড্রোজেনের পরমাণু (H) আছে।
১,৪৩১.
Na + Cl  → NaCl এই বিক্রিয়ায় জারক কে?
  1. Na
  2. Cl
  3. Na+
  4. Cl-
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

Na + Cl  → NaCl
জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)।
বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)।

জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ, অর্থাৎ সোডিয়ামের ইলেক্ট্রন ছাড়া হলো জারণ বিক্রিয়া।
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে যে, এখানে ক্লোরিন ইলেক্ট্রন গ্রহণ অরেছে।
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ, এখানে ক্লোরিনের ইলেক্ট্রন গ্রহন করা বিজারন বিক্রিয়া।
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ, এখানে সোডিয়াম ইলেক্ট্রন ত্যাগ করেছে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৪৩২.
পারমাণবিক চুল্লিতে গ্রাফাইটের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বিক্রিয়াশীলতা বাড়ানোর জন্য
  3. ইলেকট্রোলাইট হিসেবে
  4. নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে
ব্যাখ্যা

কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক।
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক।

গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১,৪৩৩.
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর আন্তঃআণবিক দূরত্ব কম তাই তাদের আন্তঃআণবিক শক্তি ____।
  1. ক) কম
  2. খ) বেশি
  3. গ) নেই
  4. ঘ) গ্যাসীয় পদার্থের আন্তঃআণবিক শক্তির সমান।
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সর্বাধিক থাকে।
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন থাকে।
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়লে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কিছুটা বাড়ে ও অণুর কম্পন বাড়ে; সেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কঠিন পদার্থের আয়তন কিছুটা বাড়ে, তবে এ বৃদ্ধি খুবই কম।

 তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ ও অণুর স্থানান্তর গতি প্রায় সমান থাকে।
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই।
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ালে অণুসমূহের স্থানান্তর, আবর্তন ও কম্পন গতি বৃদ্ধি পায়, তাই তরল পদার্থের আয়তনও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে।
- কিন্তু এক্ষেত্রেও আয়তন বৃদ্ধি খুব বেশি নয়; কেননা, তিন প্রকার গতি বৃদ্ধি পেলেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে অবস্থান করে।

 গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে।
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে।
- তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই।
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৪৩৪.
সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন থাকে নিচের কোনটিতে?
  1. পিতল
  2. কাঁসা
  3. ইস্পাত
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন/স্টেইনলেস স্টিল (ইস্পাত) প্রস্তুত করা হয়।
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।
- ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যাতে মান ভেদে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে।
- এর অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ - লােহা74%, ক্রোমিয়াম 18%, নিকেল ৪%
- রসায়ন শিল্পের বিক্রিয়ার পাত্র, ছুরি, কাঁচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়।

আরো কয়েকটি সংকর ধাতুর উপাদান:
- পিতল (ব্রাস): কপার 65%, জিংক 35%
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কপার 90%, টিন 10%

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান বই।
১,৪৩৫.
রেডিও ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা 
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

- রেডিও এবং ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ (Quartz) ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে পাইজোইলেকট্রিক এফেক্ট বলা হয়। যখন কোয়ার্টজ স্ফটিকের ওপর যান্ত্রিক চাপ বা বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কম্পিত হয়। ঘড়িতে এই কম্পন ব্যবহার করে নির্ভুল সময় নির্ধারণ করা হয় এবং রেডিওতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। 

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব ও অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট লোহা বা আয়রন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মাটি এসিডিক হলে এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৪৩৬.
ফলের সুগন্ধি মূলত কোন যৌগের কারণে হয়? 
  1. কার্বনেট 
  2. এস্টার 
  3. অ্যামাইনো এসিড 
  4. অ্যালকোহল 
ব্যাখ্যা

এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৪৩৭.
গলনাঙ্কের মাধ্যমে কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. পদার্থের চাপ
  2. পদার্থের ঘনত্ব
  3. পদার্থের বিশুদ্ধতা
  4. পদার্থের আয়তন
ব্যাখ্যা

- গলনাঙ্ক হলো যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে। একটি পদার্থ বিশুদ্ধ কিনা তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। বিশুদ্ধ পদার্থ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায় বা বিস্তৃত হয়

গলনাঙ্ক: 
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অপরদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৩৮.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-  
  1. 0
  2. + 2
  3. - 1
  4. + 1
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩৯.
পর্যায় সারণিতে রয়েছে -
  1. ক) ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ
  2. খ) ১৮টি পর্যায় ও ৭টি গ্রুপ
  3. গ) ৭টি পর্যায় ও ১৭টি গ্রুপ
  4. ঘ) ১৮টি পর্যায় ও ৬টি গ্রুপ
ব্যাখ্যা
আধুনিক পর্যায় সারণী সাতটি পর্যায় নিয়ে গঠিত। 

পর্যায় সারণী হচ্ছে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থকে একত্রে উপস্থাপনের একটি আন্তর্জাতিক গৃহীত ছক।
এই ছকের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌলের মধ্যে ভৌত ও রাসয়নিক ধর্মের মিল এবং এসব ধর্মের ক্রমপরিবর্তন দেখানো হয়।
ল্যাভয়সিয়ে (Antoine Lavoisier) সর্বপ্রথম ১৭৮৯ সালে ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে মৌলসমূহকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন।

 আধুনিক পর্যায় সারণির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি (row) ও 18 টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ (column) রয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায় বাম দিক থেকে গ্রুপ–1 হিসেবে শুরু করে গ্রুপ–18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে 2 টি আনুভূমিক সারি এবং 14 টি খাড়া স্তম্ভবিশিষ্ট একটি ছোট ছক প্রদর্শিত হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির পর্যায়–6 ও পর্যায়–7 এর অংশবিশেষ।
- পর্যায়-1 এ শুধু দুটি মৌল রয়েছে, যারা গ্রুপ-1 ও গ্রুপ–18 তে অবস্থিত। একইভাবে পর্যায়–2 ও পর্যায়-3 এ আটটি করে মৌল আছে যারা গ্রুপ–1 থেকে গ্রুপ–2 এবং গ্রুপ–13 থেকে গ্রুপ–18 এর মধ্যে অবস্থিত।
- পর্যায়–4 থেকে পর্যায়–7 পর্যন্ত সবগুলো পর্যায়ের প্রতিটি গ্রুপই মৌল দ্বারা পূর্ণ।
- পর্যায়–4 ও পর্যায়–5 এই পর্যায় দুটির ক্ষেত্রে 18টি গ্রুপে 18টি মৌল রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক গ্রুপে একটি করে মৌল জায়গা দখল করে নিয়েছে।
- সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসয়নিক ধর্ম প্রায় একই রকমের হয়। 
- পর্যায় তালিকায় কোন মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার উপর।  

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৪০.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

১,৪৪১.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ম্যানিস
  2. ভেড়া
  3. তেলাপোকা
  4. লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৪২.
নিচের কোনটি অপধাতু-
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) বোরন
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
যে মৌলের মধ্যে ধাতু ও অধাতু উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাকে উপধাতু বা অপধাতু বলে। যেমন-বোরন (B), সিলিকন (Si), আর্সেনিক(As), টেলুরিয়াম(Te) ইত্যাদি। সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৪৪৩.
PH এর মান দ্বারা পানিতে কিসের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
PH স্কেল:
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন PH স্কেল ব্যবহার করেন।
- PH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- PH এর মান দ্বারা পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।  
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর ঘনমাত্রার ঋনাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের PH বলে। অর্থাৎ PH= -log[H+
- PH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের PH মাপা হয়।
- PH মিটারে PH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের PH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের PH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৪.
টলেন বিকারক কোন শ্রেণির জৈব যৌগকে শনাক্ত করে?
  1. অ্যালকোহল
  2. অ্যালডিহাইড
  3. কিটোন
  4. কার্বোক্সিলিক এসিড
ব্যাখ্যা

◉ টলেন বিকারক (Tollens' reagent) মূলত অ্যালডিহাইড শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

টলেন বিকারক:
- অতিরিক্ত NH4OH দ্রবণে AgNO3 যোগ করলে যে বর্ণহীন দ্রবণ উৎপন্ন হয় তাকে টলেন বিকারক বলা হয়। এতে [Ag(NH3)2]+ আয়ন থাকে। এটি একটি মৃদু জারক।
AgNO3 + NH4OH→ [Ag(NH3)2]OH + NH4NO3 + H2O

টলেন বিকারকসহ অ্যালডিহাইডকে একটি কাঁচের টেস্টটিউবে উত্তপ্ত করলে টেস্টটিউবের গায়ে কাঁচের মত ধাতব সিলভারের প্রলেপ পড়ে দর্পণের মত দেখায়। ইহাকে সিলভার দর্পন বলে। কিটোন এ বিক্রিয়া প্রদর্শন করে না। এ বিক্রিয়াটি তাই অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণের বিক্রিয়া।
CH3CHO (অ্যালডিহাইড) + 2[Ag(NH3)2] OH→ H3C-COONH4 + 2Ag↓ + 3NH3↑ + H2O

এছাড়াও, অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণে ফেহলিং দ্রবণ ব্যাবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) অ্যালকোহল - অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড পরীক্ষা অথবা লুকাস বিকারক দ্বারা অ্যালকোহল শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। 
গ) কিটোন - আইডোফর্ম টেস্ট অথবা 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন (2,4-DNPH) টেস্ট দ্বারা কিটোন শনাক্ত করা হয়। 
ঘ) কার্বোক্সিলিক এসিড - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট টেস্ট দ্বারা শনাক্ত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৪৪৫.
কোন বিক্রিয়াটি ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সকল জারন বিজারন বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে-
১। সংযোজন বিক্রিয়া 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
৪। দহন বিক্রিয়া 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৬.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন চক্রের শুরু হয়?
  1. নাইট্রিফিকেশন
  2. ডিনাইট্রিফিকেশন
  3. ফিক্সেশান
  4. এসিমিলেশন
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন চক্র: 
- নাইট্রোজেন চক্র পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
- নাইট্রোজেন জীবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কিন্তু বায়ুমণ্ডলে এটি বিপুল পরিমাণে থাকলেও কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ এটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন একটি জৈবভূরাসায়নিক প্রক্রিয়া যেটি প্রায় নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাসকে জীবের ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তরিত করে তুলে। 
- এই চক্রের মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুমণ্ডল থেকে মাটিতে আসে এবং চক্র শেষে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। 
- নাইট্রোজেন চক্রের কয়েকটি সক্রিয় প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো- 

নাইট্রোজেন ফিক্সেশান (Fixation): 
- নাইট্রোজেন চক্র শুরু হয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশান দিয়ে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দিয়ে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত হয়। 
- এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মাটিতেই থাকে এবং এটি হচ্ছে উদ্ভিদের সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর একধরনের সিম্বিওটিক সম্পর্ক। 

নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): 
- এই প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া প্রথমে নাইট্রাইট পরে নাইট্রেট আয়নে রূপান্তরিত হয়। 
- একবার নাইট্রেটে পরিণত হলে উদ্ভিদ খুব সহজে সেটি পুষ্টির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

এসিমিলেশন (Assimilation): 
- এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রেট গ্রহণ করে সেগুলো ব্যবহার করে নাইট্রোজেন গঠিত অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য অণু গঠন করে যেগুলো হচ্ছে ডিএনএ এবং প্রোটিন তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- প্রাণী তাদের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকে। 

এমোনিফিকেশন (Armonification): 
- যখন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর মৃত্যু ঘটে তখন ব্যাকটেরিয়া এবং ফানজাই তাদের দেহাবশেষ পচিয়ে আবার অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত করে দেয়। 
- নাইট্রোজেন ফিক্সেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়া যেভাবে নাইট্রেটে পরিণত হয়, ঠিক একইভাবে অ্যামোনোফিকেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়াও নাইট্রেটে পরিণত হয়। 

ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): 
- অক্সিজেনের ঘাটতি আছে এরকম এলাকায় এই প্রক্রিয়ায় ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে ভেঙে আবার নাইট্রোজেনে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়। 

উল্লেখ্য যে, 
- অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে মাটিতে নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সেটি একধরনের পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করেছে। 
- কাজেই নাইট্রোজেন চক্রটির সঠিক নিয়ন্ত্রণ মানুষের জন্য একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি।
১,৪৪৭.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে কী বলা হয়?
  1. ক) আণবিক সংকেত
  2. খ) প্রতীক
  3. গ) রাসায়নিক সমীকরণ
  4. ঘ) এখানে সঠিক উত্তর দেয়া নেই
ব্যাখ্যা
- প্রতীক, সংকেত বা চিহ্নের সাহায্যে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়।
- অন্যভাবে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। 
- অর্থাৎ একটি বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশের সহজতম উপায় হলো রাসায়নিক সমীকরণ।
- সঠিক রাসায়নিক সমীকরণ লিখে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের সাথে বিক্রিয়ক পদার্থের মাত্রিক সম্পর্ক বের করা যায়।
 
উৎস: রসায়ন , এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৪৮.
নিম্নের কোনটি অজৈব এসিড?
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অ্যাসিটিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- অজৈব এসিড বা খনিজ এসিড হলো সেই সকল এসিড যা সাধারণত খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং এদের অণুতে কার্বন পরমাণুর উপস্থিতি থাকে না (ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে)। সালফিউরিক এসিড (H2SO4) একটি শক্তিশালী অজৈব এসিড যা শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত হয়। 

জৈব এসিড: 
- জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়া ও লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড। 
- বাজারে কাঁচের বোতলে যে ভিনেগার পাওয়া যায় তা মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH3-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ। 
- বাজারে বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় যেগুলো প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবন। 
- পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। আবার পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করে থাকি। তখন আবার অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকি। 

অজৈব এসিড: 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও সালফিউরিক এসিড (H2SO4) হলো অজৈব এসিড।
- পানিতে বিভিন্ন অনুপাতে যোগ করে তাদের দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- জলীয় দ্রবণে থেকেই এরা তাদের এসিড ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের কোনো এসিড ধর্ম থাকে না। হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৪৯.
অ্যাসিটিক এসিড কি কাজে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
  2. খ) চামড়া সংরক্ষণে
  3. গ) আইপিএস এর ব্যাটারিতে
  4. ঘ) ফল পাকানোতে
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয় । - ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) এর 6 -10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 
- এর আরেক নাম সিরকা। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতিসহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
তা ছাড়াও এর তেমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
 
এটি যেভাবে কাজ করে তা হলো খাদ্যদ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়।  এ মান 5 থেকে 4 এর মধ্যে নেমে আসে। 
তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন, অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6-5-7-5 এর মধ্যে। তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না এবং এটি বহুল প্রচলিত।
 
উৎস : রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৫০.
কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 20
  4. 22
ব্যাখ্যা

• মৌলিক পদার্থ (Elements):
- মৌলিক পদার্থ হলো সেই পদার্থ যা একধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত, এবং সাধারণ রাসায়নিকভাবে ভাঙা যায় না।
- যেমন: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), কার্বন (C) ইত্যাদি।

• প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মৌলিক পদার্থ:
- পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মৌলিক পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি।
- যেসব মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে নেই, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছেন।
- উদাহরণ: টেকনেশিয়াম (Tc), প্লুটোনিয়াম (Pu), অস্টেটিন (At) ইত্যাদি।

• কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা:
- বর্তমান পর্যন্ত ২০টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।
- এই মৌলিক পদার্থগুলো সাধারণত পরমাণু সংখ্যার দিক থেকে 93 বা তার বেশি (যেমন: Neptunium, Californium, Fermium, Oganesson)।
- এদের অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত জীবনকালযুক্ত এবং দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

উৎস: NCTB, সাধারণ বিজ্ঞান।

১,৪৫১.
পর্যায় সারণির কোন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে? 
  1. ক্ষারধাতু
  2. মৃৎক্ষার
  3. হ্যালোজেন
  4. নিষ্ক্রিয় ধাতু
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে- 
• ফ্লোরিন (F), 
• ক্লোরিন (Cl), 
• ব্রোমিন (Br), 
• আয়োডিন (I), 
• অ্যাস্টাটিন (At) এবং 
• টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫২.
প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত কোনটি?
  1. অ্যালকিন
  2. অ্যালকেন
  3. অ্যালকাইন
  4. প্রোপাইন
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150° - 180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৩.
বর্তমানে কোন অ্যালকোহলকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. প্রোপান 
  2. গ্যাসোলিন 
  3. মিথানল 
  4. ইথানল 
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের 96% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 
- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়। একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 

- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৫৪.
আল-কিমিয়া কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) স্প্যানিশ
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
আল-কেমি শব্দটি আরবি 'আল-কেমিয়া' থেকে উদ্ভুত, যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৪৫৫.
আইভরি ব্ল্যাক কি?
  1. ক) রক্ত কয়লা
  2. খ) সক্রিয় কয়লা
  3. গ) কালো রঙ
  4. ঘ) অস্থিজ কয়লা
ব্যাখ্যা

'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।

প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

১,৪৫৬.
ডেনিয়েল সেলে রাসায়নিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. শব্দ শক্তিতে
  2. তাপ শক্তিতে
  3. আলোক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
ডেনিয়েল সেল: 
- বাস ও ট্রাকে যে ব্যাটারি দেখা যায় তা মূলত ডেনিয়েল সেল। 
- জিংক সালফেট লবণের দ্রবণের মধ্যে জিংক ধাতুর দণ্ড এবং কপার সালফেট লবণের দ্রবণের মধ্যে কপার ধাতুর দণ্ড ব্যবহার করে ডেনিয়েল সেল তৈরি করা হয়। 
- ডেনিয়েল সেলে নিচের বিক্রিয়া ঘটে- 
• Zn(s) + CuSO4(aq) → ZnSO4 (aq) + Cu(s) 
- এ বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫৭.
‘অলিয়াম’ বলতে বুঝায়-
  1. ক) লঘু সালফিউরিক এসিড
  2. খ) কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিড
  3. গ) ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) গাঢ় সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
১০০% সালফিউরিক এসিড (SO3) গ্যাস শোষণ করে ধূমায়িত সালফিউরিক এসিড বা অলিয়াম [H2S2O7] উৎপন্ন করে। উৎপন্ন অলিয়ামকে প্রয়োজনমত পানির সাথে মিশ্রিত করে লঘু এসিডে পরিণত করা হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রম, উন্মুক্ত]
১,৪৫৮.
স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে -
  1. কার্বন
  2. লোহা
  3. নিকেল
  4. ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
- স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে - লোহা (৭৪%)। 

সংকর ধাতু: 

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫৯.
  1. ১৭
  2. ২৫
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- তবে ভারী আইসোটোপের স্ফুটনাংক ও গলনাঙ্ক একটু বেশি হবে, যা অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যায়।
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০।

• কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন (Z) + নিউট্রন (n) সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভর সংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে,
O এর ভরসংখ্যা ১৭ এবং প্রোটন সংখ্যা ৮
∴ নিউট্রন সংখ্যা= ১৭ - ৮ = ৯

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬০.
নিচের কোন পদার্থটি একটি লবণ?
  1. সালফিউরাস এসিড
  2. পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. সোডিয়াম টারটারেট
ব্যাখ্যা

- সালফিউরাস এসিড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড, ফসফরিক এসিড ইত্যাদি হলো অম্ল।
- সোডিয়াম অক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক।
- সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম টারটারেট ইত্যাদি সবই হলো লবণ।
টারটারিক এসিড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় সোডিয়াম টারটারেট লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৪৬১.
সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো—
  1. R3NH+
  2. SO3-Na+
  3. R2NH2+
  4. COO-Na+
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলাে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সােডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK). 
- সাবানের রাসায়নিক নাম হলাে সােডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa). 
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে। 
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৪৬২.
পর্যায় সারণির কত নম্বর গ্রুপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোর অবস্থান?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।

১,৪৬৩.
অ্যালকেন প্রস্তুত করার সময় কোন ধাতু প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. কোবাল্ট
  2. নিকেল
  3. পলাডিয়াম
  4. প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা

অ্যালকেন:
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম:
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর।
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়।
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল।
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন।

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম:
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত।
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি, তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ।
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত।
- এই কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। আবার এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৬৪.
কোন পদার্থটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অন্য পদার্থকে জারিত করে?
  1. সোডিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. সালফার ডাই অক্সাইড
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ (Oxidizing Agent) হলো এমন একটি রাসায়নিক সত্তা যা কোনো জারণ-বিজারণ (Redox) বিক্রিয়ায় অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ক্লোরিন একটি শক্তিশালী জারক পদার্থ কারণ এর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি।

জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ।

বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 

১,৪৬৫.
প্রাকৃতিক কোন উৎস হতে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?
  1. ক) নদী
  2. খ) সাগর
  3. গ) হ্রদ
  4. ঘ) বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
The principal Source of fresh water comes from evaporation. Once that evaporated water returns to earth as rain, snow or fog it ultimately flows into streams, rivers, lakes and seas where it can be evaporated (distilled) again.
১,৪৬৬.
জিংকের (Zn) খনিজ উৎস হচ্ছে - 
  1. সিন্নাবার
  2. বক্সাইট
  3. গ্যালেনা
  4. ক্যালামাইন
ব্যাখ্যা

• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।
- জিংকের (Zn) প্রধান খনিজ উৎস হলো ক্যালামাইন। জিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া, ইমিউন সিস্টেম, কোষের বৃদ্ধিসহ নানা শারীরিক কাজের জন্য অপরিহার্য। প্রাকৃতিকভাবে জিংক বিভিন্ন খনিজের মধ্যে পাওয়া যায়। সিন্নাবার সাধারণত পারদ (Hg) সমৃদ্ধ, বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের উৎস, আর গ্যালেনা সীসার (Pb) প্রধান খনিজ। ক্যালামাইন হলো একটি জিংক-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ, যা ধাতব জিংক উৎপাদনের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জিংকের জন্য কেবল ক্যালামাইনকে প্রধান খনিজ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।

• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৬৭.
নিউক্লিয়াসে নিউট্রনবিহীন একমাত্র মৌল কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ফ্লোরিন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

নিউট্রন (Neutron): 
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n । 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g । 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান ০(শূন্য)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৮.
নিচের কোন মৌলটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ?
  1. লোহা
  2. হিলিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. রেডিয়াম
ব্যাখ্যা

রেডিয়াম একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় মৌল, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত করে।

তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল (Radioactive element) হলো সেইসব মৌল, যাদের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি (যেমন: আলফা, বিটা, গামা) নির্গত করে। 
- এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলা হয়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th),
ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়।
- এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য,
- লোহা: একটি স্থিতিশীল এবং অ-তেজস্ক্রিয় ধাতু।
- হিলিয়াম: একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং স্থায়ী মৌল।
- অক্সিজেন: একটি স্থায়ী মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৪৬৯.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ?
  1. ক) জিপসাম
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ
  4. ঘ) অভ্র
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- কয়লা
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র
১,৪৭০.
প্রোটনের প্রকৃত চার্জ কত?
  1. ক) 1.602 × 10- 19
  2. খ) - 1.602 × 10- 19
  3. গ) 1.672 × 10- 27
  4. ঘ) 9.11 × 10- 21
ব্যাখ্যা
স্থায়ী মূল কণিকা:
ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়।


উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭১.
কোন উপাদানটি সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম সিলিকেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা পটাশিয়াম লবণ (R- COOK) I
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) I
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3)' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৭২.
দ্রবণে সাধারণত কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা
দ্রবণ
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দুই বা ততোধিক কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যার প্রতিটি উপাদানের আপেক্ষিক পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিবর্তিত করা যায়, তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের সাধারণত দুইটি অংশ থাকে। একটি হলো দ্রাবক আর অপরটি হলো দ্রব।
         দ্রবণ= দ্রাবক + দ্রব।
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়।
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয়, তাকে দ্রাবক বলা হয়।
- দ্রব ও দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের দ্রবণ হয়। যথা: 
দ্রাবক        দ্রব          উদাহরণ
গ্যাস           গ্যাস        বায়ু: সাধারণভাবে 78% N2 ও 21% O2। অধিক পরিমাণে N2 এর মধ্যে কম পরিমাণে O2                                        এর মিশ্রণ।
তরল           গ্যাস        সোডা ওয়াটার: পানিতে উচ্চ চাপে CO2 কেন্দ্রীভূত করা হয়।
তরল           তরল        পানি-অ্যালকোহলের দ্রবণ: পানিতে কিছু পরিমাণ অ্যালকোহল দ্রবীভূত করা হয়।
কঠিন          কঠিন       ধাতু সংকর: কপার ও জিংকের সমসত্ত্ব মিশ্রণ।
কঠিন          তরল        পারদ সংকর বা জিংক অ্যামালগাম
কঠিন          গ্যাস        কঠিন প্যালাডিয়াম ধাতু দ্বারা H2 গ্যাস শোষিত হয়।
গ্যাস            তরল        মেঘ: বায়ুতে জলীয় বাষ্প।

উৎস
: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৩.
ডেকেনে হাইড্রোজেনের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১২
  2. খ) ১৮
  3. গ) ২২
  4. ঘ) ২৬
ব্যাখ্যা
অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত CnH2n + 2

ডেকেন হলে, n = 10

CnH2n + 2
= C10 H2 × 10 + 2
= C10H22


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৭৪.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৭৫.
গ্লুবার লবণ এবং তুঁতের মধ্যে অবস্থিত পানির অনুপাত কত?
  1. ৩ : ২
  2. ১ : ২
  3. ২ : ১
  4. ৪ : ৩
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

- গ্লুবার লবণে পানি রয়েছে - ১০ অণু,
- তুঁতেতে পানি রয়েছে - ৫ অণু,

সুতরাং, গ্লুবার লবণ এবং তুঁতেতে অবস্থিত পানির অনুপাত হচ্ছে: ২ : ১।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৬.
এক অনু সালফিউরিক এসিডে কতটি পরমাণু আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৯
ব্যাখ্যা

এক অনু সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4 । এতে পরমাণু সংখ্যা 2+1+4 = 7 টি।

১,৪৭৭.
SMOG সৃষ্টির উৎস কোনটি?
  1. ক) তুষারপাত ও ধোঁয়া
  2. খ) কুয়াশা ও বৃষ্টি
  3. গ) ধোঁয়া ও কুয়াশা
  4. ঘ) কালোধোঁয়া ও বাতাস
ব্যাখ্যা
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- ‘SMOG’ শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভূতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়।

 উৎস : National Geographic Society.
১,৪৭৮.
তুঁতের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. Ca(OH)2
  2. Na2CO3.10H2O
  3. CuSO4.5H2O
  4. C17H35COOK
ব্যাখ্যা

তুঁতের রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে CuSO₄·5H₂O।

রাসায়নিক সংকেত:
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত - CuSO4.5H2O.
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত - ZnCO3.
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত - Ca(OH)2.
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত - NaHCO3.
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো - C17H35COOK.
- কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত - C17H35COONa.
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত - Na2CO3.10H2O.
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত - [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O].

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৭৯.
কোনো জলীয় দ্রবণে pH = 0 দ্রবণটির প্রকৃতি হবে-
  1. প্রশম
  2. অম্লীয়
  3. ক্ষারীয়
  4. উভধর্মী
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে। 
অর্থাৎ pH = -log[H+
- একইভাবে, কোনো দ্রবণের হাইড্রোক্সাইড আয়নের [OH-] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pOH বলে। 
অর্থাৎ, pOH = -log[OH-
- 25° C তাপমাত্রায় পানির [H+] ও [OH-] এর গুণফল হবে = 10-14
- যেকোনো নিরপেক্ষ দ্রবণে [H+] = [OH-] = 10-7 mol L-1, তাই নিরপেক্ষ দ্রবণের pH = pOH = 7. 
- বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7. তাই বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে অর্থাৎ pH < 7 হয়। আবার বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করা হলে pH এর মান বাড়তে থাকে অর্থাৎ pH > 7 হয়। 
সুতরাং, কোনো জলীয় দ্রবণের pH বা pOH = 7 হলে উক্ত দ্রবণ নিরপেক্ষ। pH < 7 হলে উক্ত দ্রবণ অম্লীয় এবং pH > 7 হলে উক্ত দ্রবণ ক্ষারকীয় হবে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮০.
গ্যালেনা (PbS) কোন ধাতুর আকরিক?
  1. সীসা 
  2. তামা
  3. লোহা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

- গ্যালেনা হলো সীসা বা লেড-এর প্রধান আকরিক, এর রাসায়নিক সংকেত PbS (লেড সালফাইড)। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যাওয়া সালফাইড খনিজগুলোর মধ্যে একটি এবং বাণিজ্যিক সীসা উৎপাদনের প্রধান উৎস। 

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়।
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে।

আকরিক (Ores): 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে।
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়।
- আবার, বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়।
- কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়।
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে।
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৮১.
3717Cl এবং 3718Ar কে বলা হয় পরস্পরের-
  1. ক) আইসোমার
  2. খ) আইসোবার
  3. গ) আইসোটোন
  4. ঘ) আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
Isobar, in nuclear physics, any member of a group of atomic or nuclear species all of which have the same mass number—that is, the same total number of protons and neutrons. Thus, chlorine-37 and argon-37 are isobars. Chlorine-37 has 17 protons and 20 neutrons in its nucleus, whereas argon-37 has a nucleus comprising 18 protons and 19 neutrons. In beta decay, mother and daughter nuclei are always isobars, because either a neutron is converted to a proton or a proton is converted to a neutron in the process. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৪৮২.
নিচের সংকেতটি কোন যৌগের?
  1. বেনজিন
  2. ন্যাপথলিন
  3. প্যারাসিটামল
  4. সাইক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা
সংকেতটি ন্যাপথলিন এর।
এটি অ্যারোমেটিক যৌগ। 
অ্যারোমেটিক যৌগ গুলো সাধারনতঃ ৫, ৬ বা ৭ সদস্যর সমতলীয় যৌগ। 

উৎস - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১,৪৮৩.
যে সকল যৌগ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু আহরণ করা যায়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. শিলা
  2. আকরিক
  3. খনিজ
  4. খনিজমল
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮৪.
কিসের সংস্পর্শে এলে লোহায় মরিচা ধরে?
  1. ক) বাতাস
  2. খ) পানি
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা
লোহার পৃষ্ঠ বায়ুর সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়ায় আয়রন অক্সাইড বা মরিচা উৎপন্ন হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৪৮৫.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপন হার বেশি?
  1. CO2
  2. NH3
  3. H2SO4
  4. HCl
ব্যাখ্যা
• CO2 এর আনবিক ভর = 44
• NH3 এর আনবিক ভর = 17 
• H2SO4 এর আনবিক ভর = 98
• HCl এর আনবিক ভর = 36.5
• NH3 এর আনবিক ভর সবচেয়ে কম। তাই এর  ব্যাপন হার বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৪৮৬.
নিচের কোন জেলায় কঠিন-শিলা খনি পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. নেত্রকোনা
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:

• কঠিন শিলা (Hard Rock):
- রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার  পার্বতীপুর, কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- রংপুরের রানীপুকুর থেকে বৈদেশিক সহযোগিতায় শিলা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, এখান থেকে বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ টন শিলা উত্তোলন করা যাবে। 

• খনিজ তেলঃ
- দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- এ তেলক্ষেত্রে তেলের মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
- ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরুর পরবর্তী সাড়ে ছয় বছরে এ তেলক্ষেত্র থেকে ০.৫৬ মিলিয়ন ব্যারেল খনিজ তেল উৎপাদন করা হয়।
- ১৯৯৪ সালের জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদন স্থগিত হয়ে যায়।
- বিশেষজ্ঞগণের মতে, হরিপুর তেলক্ষেত্রটিকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয় নি এবং সঠিক উপায়ে মূল্যায়নকার্য পরিচালনার পর পূর্ণমাত্রায় তেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

* প্রাকৃতিক গ্যাসঃ
- মোট বানিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের ৭১% পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে
- আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি
- সর্বশেষে গ্যাসক্ষেত্র- ভোলা জেলার ইলিশা-১।
- সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র- তিতাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো
১,৪৮৭.
কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. ক) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  2. খ) মাটির ক্ষয়রোধ করার জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
ব্যাখ্যা
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪৮৮.
ধনাত্মক আধান বা পজিটিভ চার্জ বিশিষ্ঠ আয়নকে কি বলে?
  1. অ্যানায়ন
  2. ক্যাটায়ন
  3. সমযোজী
  4. আয়নিক
ব্যাখ্যা
- সাধারনত পরমানুর নিউক্লিয়াসে যতটি ধনাত্মক আধান বা প্রোটন থাকে, এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ঠিক ততটি ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রন থাকে। এভাবেই একটি পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয়। এরকম একটি আধান নিরপেক্ষ পরমাণুর বাইরের শক্তি স্তর থেকে এক বা একাধিক ইলেক্ট্রন সরিয়ে নিলে সেটি নিরপেক্ষ না থেকে সামগ্রিকভাবে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট আয়নে পরিণত হয়।
ধনাত্মক আধান/পজিটিভ চার্জ বিশিষ্ট এরূপ আয়নকে ক্যাটায়ন বলে।

সূত্রঃ উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৪৮৯.
কোনটিতে তামা অনুপস্থিত থাকে?
  1. ব্রোঞ্জ
  2. ২১ ক্যারেট স্বর্ণ
  3. ২২ ক্যারেট স্বর্ণ
  4. ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ২৪ ক্যারেট স্বর্ণে তামা বা অন্য কোনো খাঁদ থাকে না। 

• সংকর ধাতু:
- কতকগুলো ধাতুকে একত্রে গলানোর পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 

• সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
• সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
• প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করাহয়। যেমন- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু।
• স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• সংকর ধাতু মরিচাবিহীন ইস্পাতে কপার অনুপস্থিত।
- এর উপাদান গুলো হলো লোহা, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
• সংকর ধাতু ডুরালুমিনে কপারের পরিমাণ 4% ।
• 21 ক্যারেট ও 22 ক্যারেট স্বর্ণে খাদ হিসেবে কপার ও অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ যথাক্রমে 12.5% ও 8.33%। 
• 24 ক্যারেট স্বর্ণে স্বর্ণের পরিমাণ 100% । অর্থাৎ এতে তামা বা অন্য কোনো খাঁদ থাকে না। 

তথ্যসুত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৪৯০.
সালফিউরিক এসিডে ভরের অনুপাতে প্রায় কত ভাগ সালফিউরিক এসিড থাকে?
  1. ক) ৯৮ ভাগ
  2. খ) ৬৭ ভাগ
  3. গ) ৪৫ ভাগ
  4. ঘ) ৫৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৪৯১.
নিচের কোনটি পানির ঘনত্ব? 
  1. 1000 gm-3
  2. 1000 kgm-3
  3. 1280 kgm-3
  4. 10000 kgm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, p = m/V. 

ঘনত্বের একক: 
- কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm)। 
4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1g/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯২.
নিচের কোন মৌলটির অক্সাইড এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে?
  1. C
  2. Fe
  3. P
  4. S
ব্যাখ্যা
দূষক হচ্ছে সে সকল পদার্থ যার উপস্থিতি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে মানুষ তথা প্রাণিকূলের স্বাভাবিক জীবন যাপন হুমকি হয়ে উঠে। 

সিমেন্ট শিল্পের দূষক সমূহ (Pollutants in cement industry)
সিমেন্ট তৈরীর প্রতিটি ধাপে দূষক পদার্থ উৎপন্ন হয় যা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। নিম্নে সিমেন্ট শিল্পে উৎপন্ন কতিপয় উল্লেখযোগ্য দূষকের বর্ণনা দেয়া হলো :
১। সিমেন্ট তৈরীতে CaCO3 কে তাপ দিয়ে CaO এ পরিণত করা হয় এতে প্রচুর CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুকে দুষিত করে।
২। সিমেন্ট কারখানায় ঘুর্নায়মান চুল্লীতে উচ্চ তাপ প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন রকমের জ্বালানী যেমন- কোক, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ইত্যাদি দহন করা হয়। এ সব জ্বালানি দহনে প্রচুর পরিমাণে CO2, SO,NOx ইত্যাদি বায়ু দূষক গ্যাস উৎপন্ন হয় ফলে বায়ু দূষিত হয়। অধিকন্তু নাইট্রোজেন ও সালফারের অম্লীয় অক্সাইডসমূহ অম্ল-বৃষ্টি সৃষ্টি করে যার প্রভাবে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় ও গাছ-পালা বিনষ্ট হয়।
৩। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের থ্যালিয়াম (T1), ক্যাডমিয়াম (Cd), মারকারী (Hg) প্রভৃতি উদ্বায়ী ভারী ধাতু অপদ্রব্য হিসেবে থাকে । চুল্লীর উচ্চ তাপমাত্রায় এসব বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৩.
রাবার কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়?
  1. পানি
  2. এসিড
  3. দুর্বল ক্ষার
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার কর, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবকে (যেমন-এসিটোন, মিথানল) অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী, তবে আজকাল বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে। কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯৪.
আর্কিমিডিসের সূত্র কোন অবস্থায় প্রযোজ্য? 
  1. কেবল বায়ুর জন্য
  2. কেবল কঠিন বস্তুর জন্য
  3. কেবল সম্পূর্ণ নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
  4. তরল বা বায়ুতে নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। 
এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৫.
সেন্টিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিলিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত?
  1. ১ মোল
  2. ০.১ মোল
  3. ০.০১ মোল
  4. ০.০০১ মোল
ব্যাখ্যা
- সেন্টিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিলিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ হচ্ছে- ০.০১ মোল । 

মোলার দ্রবণ: 

দুই বা ততোধিক কঠিন তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমস্বত্ত্ব মিশ্রনকে দ্রবণ বলে। 
- দ্রবণের দুটি অংশ-একটি দ্রাবক ও অপরটি দ্রব, অর্থাৎ দ্রবণ = (দ্রাবক + দ্রব)। 
- দ্রবণে যে উপাদান অপর উপাদানকে দ্রবীভূত করে তাকে দ্রাবক বলে। যেমন- পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, এসিড প্রভৃতি দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- পানিকে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত দ্রবণকে জলীয় দ্রবণ বলে। 
- সাধারণত দ্রবণের ভৌত অবস্থা নির্ধারিত হয় দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর। 
- দ্রবণে যে উপাদানাটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে তাকে দ্রব বলে। 
- দ্রব, দ্রাবকের মধ্যে দ্রবীভূত হয়। 
- সাধারণভাবে দ্রবণের ঘনমাত্রা বলতে দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট আয়তনে কী পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত আছে তা বোঝা যায়। 
- প্রতি একক আয়তন দ্রবণে একই দ্রবের বিভিন্ন পরিমাণ দ্রবীভূত থাকলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বিভিন্ন হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার, মোলার দ্রবণকে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৬.
কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসর মধ্যে নিউট্রন কণিকাটি অনুপস্থিত?
  1. হাইড্রোজেন
  2. লিথিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- ডালটনের পরমাণুবাদে পরমাণুকে অবিভাজ্য বলা হয়েছে কিন্তু  উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে প্রমাণিত হয়, পরমাণু অনেকগুলো সূক্ষ কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- এ সব অতি সূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না, এদেরকে পরমাণুর মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
অর্থাৎ, যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

ইলেকট্রন (Electron): 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন। 
- পরমাণুর ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e- । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 Coulomb । 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 । 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- ইহার সংকেত H+। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60× 10-19 Coulomb । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

নিউট্রন (Neutron): 
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n । 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675× 10-24 g । 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য (০)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৭.
নিচের কোন মৌলটি রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. দস্তা
  2. সোডিয়াম
  3. স্ক্যান্ডেনিয়াম
  4. লোহা
ব্যাখ্যা

অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য হলো-
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে।
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
দস্তা, সোডিয়াম, স্ক্যান্ডেনিয়াম এবং লোহার মধ্যে একমাত্র লোহাই অবস্থান্তর মৌল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৪৯৮.
যদি Al এর প্রোটন সংখ্যা ১৩ এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা ২৭ হয় তাহলে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ২৭
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা
যদি Al প্রোটন সংখ্যা ১৩ এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা ২৭ হয় তাহলে নিউট্রন সংখ্যা (২৭-১৩) = ১৪৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৪৯৯.
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. HNO2
  2. H3PO4
  3. H2SO4
  4. HCl
ব্যাখ্যা

- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।

এসিডের ব্যবহার:

- ফলমূলে যে অ্যাসিড থাকে সেগুলো জৈব অ্যাসিড।
- এর মধ্যে অনেক অ্যাসিড আছে যা আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।
- এসকরবিক অ্যাসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি তার অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- ভিটামিন 'সি' ক্ষত সারাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- পাকস্থলীতে খাদ্যবস্তু হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এর প্রয়োজন হয় যা আমাদের দেহের গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয়।
- সফট ড্রিংকসের মত দই বা বোরহানি খেলে দই বা বোরহানিতে বিদ্যমান ল্যাকটিক অ্যাসিড খাবার হজমে সহায়তা করে।
- সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
- টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০০.
'শেভিং ফোম' এর উপাদান কোনটি?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. খ) সোডিয়াম গ্লুটামেট
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) - সাধারণ লবণ, খাবার লবণ বা টেবিল লবণ 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট - টেস্টিং সল্ট
• সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) - কাপড় কাচার সাবান
• পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) - শেভিং ফোম বা জেল

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই