ব্যাখ্যা
- এই যৌগগুলো প্রধানত কার্বন ঘটিত যৌগ।
- তাই তাদের প্রধান উপকরন হলো কার্বন( C)।
উৎস: নবম দশম শ্রেনীর বিজ্ঞান বই।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৫ / ২৭ · ১,৪০১–১,৫০০ / ২,৬৯২
কোন কোন আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়।
An exceptionally useful radioactive isotope is iodine-131, which has a half-life of eight days. It is employed in medicine to monitor thyroid gland functioning, to treat goitre and thyroid cancer, and to locate tumours of the brain and of the liver.
সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান ও Britannica
পদার্থ:
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ।
- পদার্থের ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং জড়তা আছে।
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে।
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- বাতাস হচ্ছে একটি মিশ্র পদার্থ যা পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তর ঘটে।
১। কঠিন পদার্থ:
- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি।
২। তরল পদার্থ:
- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি।
৩। বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ:
- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- তাপ, বিদ্যুৎ ও আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন: পানির এক অণুর হাইড্রোজেন ও অন্য অণুর অক্সিজেন এর মধ্যে আকর্ষণ কাজ করে। এই মধ্যবর্তী বন্ধনকে দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন বলা হয়।
সমযোজী বন্ধন: এটি একই অণুর ভেতরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগির মাধ্যমে গঠিত। এই বন্ধন পানির অণুর ভেতরের বন্ধন, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে মধ্যবর্তী (intermolecular) বন্ধন।
আয়নিক বন্ধন: এটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে হয়।
ধাতব বন্ধন: এটি ধাতুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের সমবন্টনের মাধ্যমে গঠিত।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা [লিংক ]
- হাইড্রোক্লোরিক এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়।
শক্তিশালী এসিড:
- বেশ কিছু জৈব এসিড পানিতে বিযোজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। আবার খনিজ এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে, তার সবগুলোই বিয়োজিত হয়।
যেমন-
• সালফিউরিক এসিড (H2SO4),
• নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ।
দুর্বল এসিড:
- তবে কিছু কিছু এসিড বিশেষ করে জৈব এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত হয় না। সেজন্য এই এসিডগুলোকে দুর্বল এসিড বলে।
- তবে কিছু এসিড আছে যেমন- কার্বোনিক এসিড (H2CO3) যেটি জৈব এসিড না হলেও দুর্বল এসিড।
যেমন-
• সাইট্রিক এসিড (C6H8O7),
• এসিটিক এসিড (CH3COOH) এবং
• অক্সালিক এসিড (HOOC-COOH) ।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ইলেকট্রনের স্থানান্তর:
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়।
- প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত।
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন-এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত।
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ।
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কার্বন:
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক।
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক।
গ্রাফাইটের ব্যবহার:
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান।
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
- রেডিও এবং ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ (Quartz) ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে পাইজোইলেকট্রিক এফেক্ট বলা হয়। যখন কোয়ার্টজ স্ফটিকের ওপর যান্ত্রিক চাপ বা বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কম্পিত হয়। ঘড়িতে এই কম্পন ব্যবহার করে নির্ভুল সময় নির্ধারণ করা হয় এবং রেডিওতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়।
খনিজ পদার্থ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব ও অধাতব দুটোই হতে পারে।
যথা-
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি।
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি।
- মাইকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাগনেটাইট লোহা বা আয়রন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- চুনাপাথর ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মাটি এসিডিক হলে এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়।
- কোয়ার্টজ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
এস্টার:
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R ।
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- গলনাঙ্ক হলো যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে। একটি পদার্থ বিশুদ্ধ কিনা তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। বিশুদ্ধ পদার্থ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায় বা বিস্তৃত হয়।
গলনাঙ্ক:
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়।
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না।
অপরদিকে,
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ:
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।
◉ টলেন বিকারক (Tollens' reagent) মূলত অ্যালডিহাইড শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
টলেন বিকারক:
- অতিরিক্ত NH4OH দ্রবণে AgNO3 যোগ করলে যে বর্ণহীন দ্রবণ উৎপন্ন হয় তাকে টলেন বিকারক বলা হয়। এতে [Ag(NH3)2]+ আয়ন থাকে। এটি একটি মৃদু জারক।
AgNO3 + NH4OH→ [Ag(NH3)2]OH + NH4NO3 + H2O
টলেন বিকারকসহ অ্যালডিহাইডকে একটি কাঁচের টেস্টটিউবে উত্তপ্ত করলে টেস্টটিউবের গায়ে কাঁচের মত ধাতব সিলভারের প্রলেপ পড়ে দর্পণের মত দেখায়। ইহাকে সিলভার দর্পন বলে। কিটোন এ বিক্রিয়া প্রদর্শন করে না। এ বিক্রিয়াটি তাই অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণের বিক্রিয়া।
CH3CHO (অ্যালডিহাইড) + 2[Ag(NH3)2] OH→ H3C-COONH4 + 2Ag↓ + 3NH3↑ + H2O
এছাড়াও, অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণে ফেহলিং দ্রবণ ব্যাবহার করা হয়।
অন্যান্য অপশনসমূহ,
ক) অ্যালকোহল - অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড পরীক্ষা অথবা লুকাস বিকারক দ্বারা অ্যালকোহল শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়।
গ) কিটোন - আইডোফর্ম টেস্ট অথবা 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন (2,4-DNPH) টেস্ট দ্বারা কিটোন শনাক্ত করা হয়।
ঘ) কার্বোক্সিলিক এসিড - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট টেস্ট দ্বারা শনাক্ত করা হয়।
উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- অজৈব এসিড বা খনিজ এসিড হলো সেই সকল এসিড যা সাধারণত খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং এদের অণুতে কার্বন পরমাণুর উপস্থিতি থাকে না (ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে)। সালফিউরিক এসিড (H2SO4) একটি শক্তিশালী অজৈব এসিড যা শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত হয়।
জৈব এসিড:
- জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়া ও লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকে।
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড।
- বাজারে কাঁচের বোতলে যে ভিনেগার পাওয়া যায় তা মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH3-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ।
- বাজারে বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় যেগুলো প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবন।
- পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। আবার পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করে থাকি। তখন আবার অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকি।
অজৈব এসিড:
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও সালফিউরিক এসিড (H2SO4) হলো অজৈব এসিড।
- পানিতে বিভিন্ন অনুপাতে যোগ করে তাদের দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়েছে।
- জলীয় দ্রবণে থেকেই এরা তাদের এসিড ধর্ম প্রদর্শন করে।
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের কোনো এসিড ধর্ম থাকে না। হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• মৌলিক পদার্থ (Elements):
- মৌলিক পদার্থ হলো সেই পদার্থ যা একধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত, এবং সাধারণ রাসায়নিকভাবে ভাঙা যায় না।
- যেমন: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), কার্বন (C) ইত্যাদি।
• প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মৌলিক পদার্থ:
- পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মৌলিক পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি।
- যেসব মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে নেই, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছেন।
- উদাহরণ: টেকনেশিয়াম (Tc), প্লুটোনিয়াম (Pu), অস্টেটিন (At) ইত্যাদি।
• কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা:
- বর্তমান পর্যন্ত ২০টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।
- এই মৌলিক পদার্থগুলো সাধারণত পরমাণু সংখ্যার দিক থেকে 93 বা তার বেশি (যেমন: Neptunium, Californium, Fermium, Oganesson)।
- এদের অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত জীবনকালযুক্ত এবং দ্রুত বিঘ্নিত হয়।
উৎস: NCTB, সাধারণ বিজ্ঞান।
অ্যালকোহল:
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ।
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়।
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়।
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়।
- ইথানলের 96% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে।
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়।
- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়। একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়।
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়।
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়।
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।
প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।
- সালফিউরাস এসিড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড, ফসফরিক এসিড ইত্যাদি হলো অম্ল।
- সোডিয়াম অক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক।
- সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম টারটারেট ইত্যাদি সবই হলো লবণ।
টারটারিক এসিড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় সোডিয়াম টারটারেট লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
অ্যালকেন:
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম:
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর।
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়।
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল।
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন।
অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম:
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত।
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি, তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ।
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত।
- এই কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। আবার এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• জারক পদার্থ (Oxidizing Agent) হলো এমন একটি রাসায়নিক সত্তা যা কোনো জারণ-বিজারণ (Redox) বিক্রিয়ায় অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ক্লোরিন একটি শক্তিশালী জারক পদার্থ কারণ এর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি।
• জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ।
• বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।
- জিংকের (Zn) প্রধান খনিজ উৎস হলো ক্যালামাইন। জিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া, ইমিউন সিস্টেম, কোষের বৃদ্ধিসহ নানা শারীরিক কাজের জন্য অপরিহার্য। প্রাকৃতিকভাবে জিংক বিভিন্ন খনিজের মধ্যে পাওয়া যায়। সিন্নাবার সাধারণত পারদ (Hg) সমৃদ্ধ, বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের উৎস, আর গ্যালেনা সীসার (Pb) প্রধান খনিজ। ক্যালামাইন হলো একটি জিংক-অক্সাইড সমৃদ্ধ খনিজ, যা ধাতব জিংক উৎপাদনের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জিংকের জন্য কেবল ক্যালামাইনকে প্রধান খনিজ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।
• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।
২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।
৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।
• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।
উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
• রেডিয়াম একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় মৌল, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত করে।
• তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল (Radioactive element) হলো সেইসব মৌল, যাদের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি (যেমন: আলফা, বিটা, গামা) নির্গত করে।
- এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলা হয়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th),
ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়।
- এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য,
- লোহা: একটি স্থিতিশীল এবং অ-তেজস্ক্রিয় ধাতু।
- হিলিয়াম: একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং স্থায়ী মৌল।
- অক্সিজেন: একটি স্থায়ী মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
এক অনু সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4 । এতে পরমাণু সংখ্যা 2+1+4 = 7 টি।
তুঁতের রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে CuSO₄·5H₂O।
রাসায়নিক সংকেত:
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত - CuSO4.5H2O.
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত - ZnCO3.
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত - Ca(OH)2.
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত - NaHCO3.
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো - C17H35COOK.
- কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত - C17H35COONa.
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত - Na2CO3.10H2O.
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত - [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O].
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- গ্যালেনা হলো সীসা বা লেড-এর প্রধান আকরিক, এর রাসায়নিক সংকেত PbS (লেড সালফাইড)। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যাওয়া সালফাইড খনিজগুলোর মধ্যে একটি এবং বাণিজ্যিক সীসা উৎপাদনের প্রধান উৎস।
খনিজ (Minerals):
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়।
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে।
আকরিক (Ores):
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে।
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়।
- আবার, বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়।
- কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়।
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে।
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য হলো-
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে।
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
দস্তা, সোডিয়াম, স্ক্যান্ডেনিয়াম এবং লোহার মধ্যে একমাত্র লোহাই অবস্থান্তর মৌল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
এসিডের ব্যবহার:
- ফলমূলে যে অ্যাসিড থাকে সেগুলো জৈব অ্যাসিড।
- এর মধ্যে অনেক অ্যাসিড আছে যা আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।
- এসকরবিক অ্যাসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি তার অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- ভিটামিন 'সি' ক্ষত সারাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- পাকস্থলীতে খাদ্যবস্তু হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এর প্রয়োজন হয় যা আমাদের দেহের গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয়।
- সফট ড্রিংকসের মত দই বা বোরহানি খেলে দই বা বোরহানিতে বিদ্যমান ল্যাকটিক অ্যাসিড খাবার হজমে সহায়তা করে।
- সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
- টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।